ঢাকা, শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭ ১২:০০:২৭

মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং

সময়ের চাহিদাসম্পন্ন পেশা

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৬:৪৪ পিএম, ১৬ আগস্ট ২০১৭ বুধবার | আপডেট: ০৫:৩০ পিএম, ১৮ আগস্ট ২০১৭ শুক্রবার

মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা যন্ত্রপ্রকৌশল দুনিয়ার অন্যতম বৃহৎ ও বিস্তুৃত ক্ষেত্র। যন্ত্রপ্রকৌশলকে অনেকে মাদার অব অল ইঞ্জিনিয়ারিংও বলে থাকেন। কারণ প্রকৌশল শিক্ষার ভিত রচিত হয়েছিল যন্ত্রপ্রকৌশল প্রযুক্তির মাধ্যমে। বর্তমানে বিভিন্ন দেশের শিল্প ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে যন্ত্রপ্রকৌশল অপরিহার্য উপাদানে পরিণত হয়েছে। ফলে যন্ত্রপ্রকৌশলীদের জন্য বিস্তৃত কর্মক্ষেত্রও তৈরি হয়েছে। ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রি, ফার্মাসিউটিকেল ইন্ডাস্ট্রি, টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি, আইটি সেক্টরসহ অন্যান্য সব ধরণের মেনুফ্যাকচারিং শিল্পে যন্ত্রপ্রকৌশলীদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট এবং সমুদ্র থেকে সম্পদ আহরণে প্রযুক্তির ব্যবহারেও যন্ত্রকৌশলীদের দরকার হচ্ছে।

মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা যন্ত্রপ্রকৌশলের গ্রাজুয়েটদের জব প্রসপেক্ট নিয়ে সম্প্রতি একুশে টেলিভিশন অনলাইনের (ইটিভি অনলাইনের) সঙ্গে কথা হয় ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আরেফিন কাওসারের। তিনি যন্ত্রপ্রকৌশলের ওপর জাপানের সাইতামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এর আগে বুয়েট থেকে একই বিষয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে মাস্টার্স এবং ডুয়েট থেকে বিএসসিতে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হন। এই যন্ত্রপ্রকৌশলী ২০০৪ সালে ডুয়েটের লেকচারার পদে যোগ দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যাপনার পাশাপাশি ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। এইচএসসি পাশ করে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাদেও সাবজেক্ট চয়েজের (কোন বিষয়ে পড়বেন) সুবিধার্থে আরেফিন কাওসারের সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হল। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আতাউর রহমান

মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের চাকরির সুযোগ অবারিত

------অধ্যাপক ড. আরেফিন কাওসার


ইটিভি অনলাইন: মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার বা যন্ত্র প্রকৌশলীদের প্রসপেক্ট সম্পর্কে জানতে চাই?  
ড. আরেফিন : দেখুন, প্রকৌশল শিক্ষার ভিত্তি রচিত হয়েছিল যন্ত্রকৌশল প্রযুক্তির মাধ্যমে। কালক্রমে আজ বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে যন্ত্রপ্রকৌশল অপরিহার্য উপাদান হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। উৎপাদনমুখী বিভিন্ন শিল্প কারখানা, জ্বালানী শক্তির বিভিন্ন বিকল্প সৃষ্টি, নানা ধরণের ব্যবহারোপযোগি ম্যাটেরিয়াল উৎপাদন, খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সমুদ্র খনি ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থ আহরণ, মেশিন ডিজাইন, জাহাজ নির্মাণ, এ্যারো স্পেস ইন্ডাস্ট্রি, বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ্য পদার্থ প্রক্রিয়াজাত করণের মাধ্যমে জ্বালানী তেল, গ্যাস ও মানব দেহের বিভিন্ন অঙ্গ প্রতঙ্গ প্রতিস্থাপন, রোবটিক্স টেকনোলজিসহ সর্বক্ষেত্রেই যন্ত্রপ্রকৌশলীদের অবদান রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন উৎপাদনমুখী শিল্প কারখানায় শিল্পের গুণগত মান অক্ষুন্ন রাখা এবং রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেপলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে পণ্যের উৎকর্ষতা সাধনে যন্ত্রপ্রকৌশলীরা কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বর্তমানে চলমান প্রকল্প যেমনÑ নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট এ প্রায় শতকরা ৫০-৬০ ভাগ যন্ত্রপ্রকৌশলী প্রয়োজন, যারা দেশের বিদ্যুতের চাহিদা মিটাতে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে কাজ করবে। আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশের প্রযুক্তি ব্যবহার করে সমুদ্র থেকে সম্পদ আহরণে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতে যন্ত্রপ্রকৌশলীদের বিরাট একটা অংশকে সম্পৃক্ত করার দরকার হবে। বিশেষ করে বর্তমানে ফুড ইন্ডাস্ট্রি, ফার্মাসিটিকেল ইন্ডাস্ট্রি, টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি, আইটি সেক্টরসহ অন্যান্য সব ধরণের মেনুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রিতে যন্ত্রপ্রকৌশলীদের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া বিদেশের বিভিন্ন কল-কারখানায় এবং পৃথিবীর উন্নত দেশে গুলোতে উচ্চশিক্ষায় অবারিত সুযোগ রয়েছে। যন্ত্রপ্রকৌশল এমন একটি প্রযুক্তি শিক্ষা যার প্রয়োজন কখনোই শেষ হবে না। এছাড়া বিভিন্ন দেশীয় ও বহুজাতিক কোম্পানীতে যন্ত্রপ্রকৌশলীরা পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমুখী পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন যন্ত্রপ্রকৌশলীরা।

ইটিভি অনলাইন: দেশের চাকরির বাজারে যন্ত্র প্রকৌশলীদের চাহিদা আছে কতটা?
ড. আরেফিন : উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বর্তমানে দেশে যন্ত্রপ্রকৌশলীদের প্রচুর চাহিদা আছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডাসহ প্রায় সব দেশেই যন্ত্রপ্রকৌশলীরা কাজ করে যাচ্ছেন এবং দিনে দিনে এর চাহিদা বাড়ছে। দেশে বর্তমানে টেক্সটাইল সেক্টরসহ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, স্টীল ইন্ডাস্ট্রি, বিভিন্ন ব্যবহার্য মালামাল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে যন্ত্রপ্রকৌশলীদের বিভিন্ন মেশিনারী সরবরাহের পর তা বসানো থেকে শুরু করে মেইনটেনেন্সের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যন্ত্রপ্রকৌশলীদের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। সাম্প্রতিক বাংলাদেশের শিল্পক্ষেত্রে যে ধরণের পরিবর্তন ও উন্নয়ন দেখা যাচ্ছে তাতে করে যন্ত্রপ্রকৌশলীদের সুযোগ বাড়ছে।

ইটিভি অনলাইন: সরকারি চাকরিতে যন্ত্রপ্রকৌশলীদের সুযোগ কতটা আছে? সরকারি কোন কোন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ আছে?

ড. আরেফিন : সরকারি চাকরিতে যন্ত্রপ্রকৌশলীদের যথেষ্ট সুযোগ আছে। যেমন- রেলওয়ে, বিমান, বিভিন্ন পাওয়ার প্ল্যান্ট, বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড একচেঞ্জ কমিশন, ড্রাইডক, স্টীল মিল, ওয়াসা, গ্যাস ফিল্ড, কোল মাইনিং, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, বিটাক, বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যন্ত্রপ্রকৌশলীদের চাকরির সুযোগ রয়েছে। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমুখী প্রকল্পে ও পরিকল্পনায় কাজ করার ক্ষেত্রে যন্ত্রপ্রকৌশলীদের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।


ইটিভি অনলাইন: বেসরকারি সেক্টরে যন্ত্র প্রকৌশলীদের চাহিদা কতটা আছে? বেসরকারি কোন কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাচ্ছে?
ড. আরেফিন : বেসরকারি সেক্টরে যন্ত্র প্রকৌশলীদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিভিন্ন বেসরকারী পাওয়ার প্লান্ট, গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিসট্রিবিউশন কোম্পানী, কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি এবং অন্যান্য গ্রুপ যেমন- যমুনা গ্রুপ, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপসহ বিভিন্ন বহুমাত্রিক পণ্য উৎপাদনের শিল্প কারখানায় যন্ত্র প্রকৌশলীদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ভবিষ্যতে এ্যারোস্পেস, ম্যাটেরিয়াল, লুব্রিকেন্ট, জাহাজ, ওষুধ উৎপাদন ইন্ডাস্ট্রীসহ বিভিন্ন সেক্টরে যন্ত্র প্রকৌশলীদেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে।

ইটিভি অনলাইন: যন্ত্র প্রকৌশলীদের বেসিক জব ফিল্ড কোনটি?
ড. আরেফিন: ডিজাইন, ড্রইং, ইনফ্রাকচারাল কমিশনিং অ্যান্ড মেইনটেইনেন্স অব মেশিনারী, ম্যানুফ্যাকচারিং, রিসার্চ ও ডেভেলপমেন্টসহ শিক্ষাক্ষেত্রে ও অবকাঠোমোগত উন্নয়ন প্রকল্প যন্ত্রপ্রকৌশলীদের বেসিক জব ফিল্ড।
ইটিভি অনলাইন: বিশেষায়িত জব ফিল্ড আছে কিনা, যেখানে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদেরই অগ্রাধিকার দেয়া হয়?


ইটিভি অনলাইন:  যন্ত্র প্রকৌশলীদের মধ্যে উদ্যোক্তা হয়ে নিজে প্রতিষ্ঠান গড়ার প্রত্যয় আছে কিনা?
ড. আরেফিন : অবশ্যই আছে। পৃথিবীর উন্নত দেশসহ বিভিন্ন দেশে যন্ত্রপ্রকৌশলীরা উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়া সাইন্টেফিক ম্যানেজমেন্টসহ বিভিন্ন থিওরি এফ ডব্লিউ টেইলরের মতো প্রতিষ্ঠান যন্ত্রপ্রকৌশলীরাই দিয়েছেন।


ইটিভি অনলাইন:  সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে একজন যন্ত্র প্রকৌশলী চাকরির শুরুতে কোন পজিশনে যোগ দেয়?
ড. আরেফিন : সাধারনত সহকারী প্রকৌশলী পদে শুরুতে যোগ দিয়ে থাকেন। এরপর ক্রমান্বয়ে প্রমোশন পেয়ে প্রধান প্রকৌশলী পর্যন্ত হয়ে থাকেন। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জেনারেল ম্যানেজার, প্রেসিডেন্ট ও নীতিনির্ধারক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান।


ইটিভি অনলাইন:  একজন যন্ত্রপ্রকৌশলী প্রধানত কোন কাজগুলো করে থাকেন ?
ড. আরেফিন : বিভিন্ন মেশিন ইনষ্টল, রক্ষণাবেক্ষণ, কোয়ালিটি ইন্সপেকশন, স্পেয়ার পার্টস পরিবর্তনের কাজ/ অটোমেশন, ডিজাইন, ডইং, লে-আউট ডিজাইন সহ মেনুফ্যাকচারিং এর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা সংক্রান্ত কাজ করে থাকেন।


ইটিভি অনলাইন: বিদেশের শ্রমবাজারে আমাদের যন্ত্র প্রকৌশলীদের কাজের সুযোগ হচ্ছে কিনা?
ড. আরেফিন :  বর্তমানে প্রচুর সুযোগ রয়েছে। যেমন- মধ্যপ্রাচ্যে এ বিদ্যুৎ সেক্টরে, কার মেনুফ্যাকচারিং, ম্যাইসিং, এ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার, প্রেট্রোলিয়াম ও কেমিক্যাল শিল্প কারখানায় যন্ত্রপ্রকৌশলীদের কাজের সুযোগ রয়েছে।


ইটিভি অনলাইন: যন্ত্রপ্রকৌশলের গ্রাজুয়েটদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ কতটা প্রশস্ত?
ড. আরেফিন  : বর্তমানে প্রায় ২০-৪০% গ্রাজুয়েট আমেরিকা, কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানীসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করছে। যেখানে তাদের কেউ কেউ মৌলিক ও ফলিত গবেষণাসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবেও কাজ করছেন।


ইটিভি অনলাইন: একজন সফল যন্ত্রকৌশলীর কোন কোন গুনাবলী থাকে?  
ড. আরেফিন: একজন যন্ত্রপ্রকৌশলী হবেন একজন দার্শনিকের মতো। তার পণ্যের ধারণা তৈরি থেকে উৎপাদন, বাজারজাতকরণ সবক্ষেত্রে জানাশোনা ও ভ‚মিকা থাকবে।

ইটিভি অনলাইন: কারা এই পেশায় শাইন করেন?
ড. আরেফিন: যারা মৌলিক জ্ঞান অনুসরণ করে আর কঠোর পরিশ্রম করতে পারবে তারা এই পেশায় শাইন করবে। তবে এক্ষেত্রে সৃজনশীলতা ও উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।

ইটিভি অনলাইন: আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

ড. আরেফিন : আপনাকেও ধন্যবাদ। ্িটিভি অনলাইনের প্রতি শুভ কামনা রইল।

  //এআর


 
 

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি