ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ মে, ২০১৮ ১০:২৮:২৭

মাদ্রাসার আইসিটি শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির আদেশ জারি

মাদ্রাসার আইসিটি শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির আদেশ জারি

মাদ্রাসা শিক্ষার গুনগতমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসারে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সেলক্ষ্যে বেসরকারি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (দাখিল ও আলিম) ১৩,১১,২০১১ খ্রিস্টাব্দের প্রজ্ঞাপনের পরে অতিরিক্ত শ্রেণি শাখা ও বিষয়ের বিপরীতে নিয়োগপ্রাপ্ত একহাজার ২২৮ এমপিওবিহীন কর্মরত সহকারী শিক্ষক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), সহকারী শিক্ষক (বিজ্ঞান) এবং প্রভাষক (বিজ্ঞান) আলিম স্তরের এমপিওভুক্তির আদেশ জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (২২ মে) কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে জারিকৃত এ আদেশে বলা হয় অবিলম্বে এমপিওভুক্তির এ আদেশ কার্যকর হবে।  গত ৮ সেপ্টম্বর ২০১৫ খ্রি তারিখে জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী স্ব স্ব অঞ্চলের মাধ্যমে ১ হাজার ২২৮ টি শিক্ষককে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। টিআর / এআর  
৩৯তম বিশেষ বিসিএসের পরীক্ষা জুলাইয়ে

চলতি বছরের জুলাই মাসের মধ্যে স্বাস্থ্য ক্যাডারের ৩৯তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা আয়োজন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে । পিএসসির জরুরি সিন্ডিকেট সভায় ৩৮ ও ৩৯ তম বিসিএস পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা হবে।’ মঙ্গলবার পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি’র) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক এই তথ্য নিশ্চিত করেন।  পিএসসি’র চেয়ারম্যান  ড. মোহাম্মদ সাদিক গণমাধ্যমকে  বলেন,  একসঙ্গে অনেকগুলো কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে এর মধ্যে ৩৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের কাজ, ৪ হাজার নার্স নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১০ হাজার প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার কাজ করা হচ্ছে। এ কারণে ৩৮তম ও ৩৯তম বিসিএস পরীক্ষার সময় এখনও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। আগামি এক সপ্তাহের মধ্যে এসব পরীক্ষার সময় ঘোষণা করা হবে। পিএসসি সূত্রে গেছে, চিকিৎসক নিয়োগের জন্য ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের আবেদন শেষ হয় গত ৩০ এপ্রিল। গত ১০ এপ্রিল এই বিসিএসের আবেদন কার্যক্রম শুরু হয়। এতে প্রায় ৪০ হাজার চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেন। ৩৯তম বিসিএসে ৪ হাজার ৫৪২ সহকারী সার্জন আর ২৫০ সহকারী ডেন্টাল সার্জন নিয়োগ দেওয়া হবে। সব মিলে প্রায় পাঁচ হাজার চিকিৎসক নেওয়া হবে এই বিসিএসে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ৩৯তম বিশেষ বিসিএসে এমসিকিউ ধরনের লিখিত পরীক্ষা হবে। এতে ২০০ নম্বরের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। এছাড়া ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা হবে। মেডিকেল সায়েন্স বা ডেন্টাল সায়েন্স বিষয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। এছাড়া বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ বিষয়াবলি ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে ২০ নম্বর করে এবং মানসিক দক্ষতা ও গাণিতিক যুক্তিতে ১০ নম্বর করে মোট ২০০ নম্বরের দুই ঘণ্টার এমসিকিউ ধরনের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রতিটি এমসিকিউ প্রশ্নের সঠিক উত্তরের জন্য এক নম্বর। তবে প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য কাটা হবে শূন্য দশমিক ৫০ নম্বর। লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর পিএসসি নির্ধারণ করবে। মৌখিক পরীক্ষার পাস নম্বর ধরা হয়েছে ৫০। লিখিত পরীক্ষা শুধু ঢাকায় হবে। এ দিকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে পিএসসি। এতে ১৬ হাজার ২৮৬ জন ৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হন। তারা এখন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেবেন। সূত্র আরও জানায়, ৩৮তম বিসিএসের মাধ্যমে জনপ্রশাসনে ২ হাজার ২৪ জন ক্যাডার কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে। প্রশাসন ক্যাডারে ৩০০, পুলিশ ক্যাডারের ১০০টি পদসহ ৩৮তম বিসিএসে সাধারণ ক্যাডারে মোট ৫২০টি, কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারে ৫৪৯টি এবং শিক্ষা ক্যাডারে ৯৫৫টি পদ রয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে ৩৭তম বিসিএসে অংশ নেন ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪৭৬ পরীক্ষার্থী। ৩৮তম বিসিএসে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৪৬৮ প্রার্থী আবেদন করেন।  কেআই/ টিকে

জাতীয়করণ হলো আরও ২৪ প্রতিষ্ঠান

শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করায় নতুন করে আরও ২৪টি  মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, জাতীয়কৃত ২৪ টি প্রতিষ্ঠানের কাউকে অন্যত্র বদলি করা যাবে না। সরকারি হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে সুনামগঞ্জের ছাতক বহুমুখী মডেল বিদ্যালয়, সিরাজগঞ্জের জামতৈল ধোপাকান্দি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, রাজবাড়ীর পাংশা জর্জ পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, মুন্সীগঞ্জের গজাররিয়া পাইলট মডেল হাই স্কুল, ভোলার বোরহান উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের সাবের মিয়া জসিমুদ্দীন (এস জে) মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, মেহেরপুরের গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নওগাঁর বদলগাছী মডেল পাইলট হাই স্কুল। নেত্রকোণার শালিদীঘা গোপাল গোপীনাথ উচ্চ বিদ্যালয়, নেত্রকোণার মদন উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর টি আমিন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, সাতক্ষীরার কলারোয়া জি কে এম কে পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়। এছাড়া সিলেটের কাসিম আলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, ময়মনসিংহের ত্রিশাল নজরুল একাডেমী, নাটোরের বেগম রোকেয়া উচ্চ বিদ্যালয়, চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদা পাইলট হাই স্কুল, বগুড়ার কাহালু মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানা সদর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, মাদারীপুর রাজৈর গোপালগঞ্জ কে জে এস পাইলট ইনস্টিটিউশন।   কুড়িগ্রামের রৌমারী সি জি জামান উচ্চ বিদ্যালয়, সুনামগঞ্জের পাগলা মডেল হাই স্কুল এন্ড কলেজ, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ জে কে মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, কুড়িগ্রামের রাজিবপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এবং নেত্রকোণার বানিয়াজান সি টি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। টিআর/ এআর  

বিবিসি জানালাকে ছড়িয়ে দিতে যুক্ত হলো এসএসডি টেক

উন্নয়নের পথ ধরে সহজ জীবন প্রণয়নের লক্ষ্যে বাংলার সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় ইংরেজি শিক্ষার সবচেয়ে যুগোপযোগী প্লাটফর্ম বিবিসি জানালা নিয়ে বিবিসি মিডিয়া একশন চুক্তিবদ্ধ হল স্বনামধন্য টেকনোলজি কোম্পানী এসএসডি টেকের সাথে।    “বিবিসি মিডিয়া একশন” ২০০৯ সালে তাদের যাত্রা শুরু করে ইংরেজি শিক্ষার বিশেষ প্রোগ্রাম “বিবিসি জানালা” নিয়ে। সাধারণ মানুষের কাছে ইংরেজিকে কতটা উন্নত ও সহজভাবে উপস্থাপন করা যায় তার নিদর্শন সৃষ্টিকারী এই প্লাটফর্ম ইতিমধ্যেই সারা দেশের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের মাঝে উদাহরণ স্বরূপ নিজের স্থান করে নিয়েছে। বিগত সাত বছরে এদেশের দুই কোটি আশি লক্ষাধিক মানুষ এই প্লাটফর্মটি ব্যবহার করেছেন ইংরেজি শিক্ষার জন্যে।    “বিবিসি জানালা” ২০১৬ সালে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে। জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা এই প্রোগ্রাম হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও সমসাময়িককালে কোন বিকল্প মাধ্যম তাদের জায়গা করে নিতে পারেনি। ‘বিবিসি জানালা’ কি ,কেন এবং কাদের জন্য তার গুরুত্ব বুঝে এগিয়ে আসে এস এস ডি টেক এবং বিবিসি মিডিয়া একশনের সাথে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়।   ‘বিবিসি জানালা’ প্রোগ্রামটি যে লক্ষ্য নিয়ে এগিয়েছিল তার পরিসর আরো বড়, আরো উন্নত, প্রযুক্তিসমৃদ্ধ করে তুলতেই এসএসডি টেক এই কার্যক্রমে অংশ নেয়। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে আমাদের জনগোষ্ঠীর বিশাল একটা অংশ ইংরেজির শিক্ষায় অংশ নিতে পারবে সহজেই। মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেট মাধ্যমের প্রযুক্তিগত সাহায্য নিয়ে ‘বিবিসি জানালা’ ইংরেজি শিক্ষাকে গণমানুষের কাছে আরো সহজ এবং সাবলীলভাবে উপস্থাপন করার প্রত্যয় রাখে, যা পরবর্তীতে উন্নত চাকরি ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সহায়তা করবে। ২০২১ সালের মধ্যে আড়াই কোটি মানুষকে ইংরেজি শিক্ষায় দক্ষ করে তোলাই এই অঙ্গীকারের লক্ষ্য। এসএসডি টেকের চেয়ারম্যান মাহবুবুল মতিন বলেন, এসএসডি টেকের প্রযুক্তিগত সহযোগিতার হাত ধরে বিবিসি জানালা সর্বনিম্ন সময়েই পৌছে যেতে পারে দেশের সর্বোচ্চ জনগোষ্ঠীর দ্বারে। তিনি এর মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষের জনজীবনে অগ্রগতি সুনিশ্চিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ২০ এপ্রিল, সকাল ১০টায় এসএসডি টেক এবং বিবিসি মিডিয়া একশনের মধ্যকার এই অঙ্গীকারনামা স্বাক্ষরিত হয় ঢাকাস্থ এসএসডি টেক হেড কোয়ার্টারে। এই সময় উপস্থিত ছিলেন উভয় প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ; স্বাক্ষর করেন এসএস ডিটেকের পক্ষে এসএসডি টেকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মেহদি এবং বিবিসি মিডিয়া একশনের বাংলাদেশ শাখার প্রধান রিচার্ড লেস। এসি    

ঢাবি ছাত্রীকে হয়রানির অভিযোগে বাস আটকে প্রতিবাদ

রাজধানীতে চলাচলরত ট্রাস্ট পরিবহনের একটি বাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর প্রতিবাদে ওই পরিবহনের পাঁচটি বাস আটকে রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আজ রোববার দুপুর আড়াইটা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনের সড়কে ওই বাসগুলো আটকে রাখা হয়। শিক্ষার্থীরা জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের মোড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের এক ছাত্রীকে ট্রাস্ট পরিবহনের একটি বাসের হেলপার যৌন হয়রানি করে এবং আজেবাজে কথা বলে হুমকি দেয়। এর প্রতিবাদে এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীরা ওই পরিবহনের চার-পাঁচটি বাস ক্যাম্পাসে আটকে রেখেছে। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বলেন, শিক্ষার্থীরা কয়েকটি বাস আটকে রেখেছে। তবে কে যৌন হয়রানি করেছে তা জানা যায়নি। বাস কর্তৃপক্ষ আসছে। ওই মেয়েকে (ঢাবি ছাত্রী) আসতে বলা হয়েছে। তিনি বিস্তারিত অভিযোগ করলে আমরা ব্যবস্থা নেব। এসব বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শুনেছি। এরই মধ্যে শাহবাগ থানাকে জানিয়েছি। তারাও বিষয়টি দেখছে।এর আগে গত ২১ এপ্রিল রাজধানীর বাড্ডার নর্দ্দা এলাকায় তুরাগ পরিবহনের একটি বাসে উত্তরা ইউনিভার্সিটির একজন ছাত্রী যৌন হয়রানির শিকার হন। পরে তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলন্ত বাস থেকে লাফ দিয়ে নেমে নিজেকে রক্ষা করেন। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর স্বামী বাদী হয়ে গুলশান থানায় একটি মামলা করেন। কিন্তু পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার না করায় উত্তরা ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা তুরাগ পরিবহনের কয়েকটি বাস আটক রাখে এবং ১৬ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয়। এরপর পুলিশ রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তুরাগ পরিবহনের ওই বাসের চালক, চালকের সহকারী ও সুপারভাইজারকে গ্রেফতার করে। এসএইচ/

কোটা সংস্কার আন্দোলন: একান্ত সাক্ষাৎকারে যা বললেন নুর

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৫৬% কোটা সংস্কারের দাবিতে সম্প্রতি গড়ে উঠে কোটা সংস্কার আন্দোলন। একপর্যায়ে আন্দোলনটি শুধু ঢাকায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। ছড়িয়ে পড়ে দেশের প্রত্যেকটি বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরে। বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা নেমে আসে রাস্তায়। এমন প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি চাকরিতে সব ধরনের কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিলেও আন্দোলনকারীরা এক মাস সময় বেঁধে দিয়ে এর মধ্যে প্রজ্ঞাপন না আসলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। গত ১১ মে আন্দোলনের এক মাস পূর্তি হয়। কিন্তু এর মধ্যেও প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় আন্দোলনকারীরা আবার রাস্তায় নামে। এরই মধ্যে গত ১৫ মে রাতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে একত্রিত হয় কোটা আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার ও সংরক্ষণ পরিষদের কয়েকজন নেতা। তাদের অন্যতম এ সংগঠনের যুগ্ম আহবায়ক নুরুল হক নুর। নুরুল হক নুর কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে উঠা আন্দোলনে প্রথম থেকেই আলোচিত মুখ। ঢাকা সহ সারাদেশে আন্দোলনটি ছড়িয়ে দিতে যারা কাজ করছেন তাদের অন্যতম নুরুল হক নুর। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজী সাহিত্যে এমএ পড়ছেন। হাজী মুহাম্মদ মহসীন হল ছাত্রলীগের গত কমিটিতে তিনি মানবসম্পদ বিষয়ক উপ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী এ তরুণ ছাত্রনেতা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী অতি শিগগিরই কোটা সংস্কার বা বাতিলের প্রেক্ষিতে প্রজ্ঞাপন আসবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইনের জন্য নুরুল হক নুর-এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন প্রতিবেদক আলী আদনান। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: গত ১৫ মে রাতে প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো প্রতিনিধি দলের সাথে আপনাদের বৈঠক হয়। বৈঠকটি সম্পর্কে বলুন। নুরুল হক নুর: সরকার আগেও আমাদের দাবি মেনে নিয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে প্রজ্ঞাপন না আসায় আমরা রাজপথে নেমেছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি দল পনেরো থেকে ২০ শতাংশ কোটা রাখার পক্ষে তাদের যুক্তি তুলে ধরেছিল। কিন্তু আমরা সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ কোটা রাখার পক্ষে মত দিয়েছি। আমরা বলেছি সেটা পাঁচ দফা দাবির আলোকে কোটা সংস্কার করতে হবে। ওনারা আমাদের কথায় সায় দিয়েছেন। পাশাপাশি আশ্বস্ত করেছেন, যতো দ্রুত সম্ভব সবকিছু বাস্তবায়িত হবে। তারা জানিয়েছেন, কাগজ পত্র সবকিছু রেডি। শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর দরকার। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা পোষণ করে আমরা রাজপথের কর্মসূচী আপাতত স্থগিত করেছি। তবে এটাও বলেছি, প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত আমরা ক্লাস- পরীক্ষা দেবোনা। সেজন্য আমাদের ক্লাস- পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচী চলছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আন্দোলনে সাধারণ ছাত্রদের অংশগ্রহণের কথা বলা হলেও অনেক বিভাগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ বিষয়ে কী বলবেন? নুরুল হক নুর: দেখুন, খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট ১০০ ভাগ পড়েনি। ভোট পড়েছে ৬২. ৫ শতাংশ। কিন্তু আমরা ধরে নিই, এটা ফলপ্রসূ নির্বাচন। কোনো জায়গায় শতভাগ পরিপূর্ণতা পাওয়া যাবেনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ সাবজেক্টের ছাত্র ছাত্রীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছে। শুধুমাত্র দু`তিনটি ডিপার্টমেন্টর শিক্ষকরা জোর করে ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে পরীক্ষা আদায় করছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন কোটা থাকবে না। এখন আবার তাঁর পাঠানো প্রতিনিধি দল পনের থেকে বিশ পার্সেন্ট কোটা রাখার কথা বলছেন। বিষয়টা কি সাংঘর্ষিক হয়ে গেলোনা? নুরুল হক নুর: সেটা নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছিনা। তিনি মহান সংসদে দাঁড়িয়ে পুরো জাতির সামনে বলেছেন, সরকারী চাকরীতে কোনো কোটা থাকবেনা। কিন্তু তার পাঠানো প্রতিনিধি দল বলছেন, পনেরো ভাগ কোটা থাকবে। তারা এর পক্ষে নানা ধরনের যুক্তিও দেখাচ্ছেন। আমরা বলেছি, কোটা থাকলেও ১০-১০ পার্সেন্ট এর বেশি হবে না। এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপর নির্ভর করবে, কোটা কী সম্পূর্ণ বাতিল হয়ে যাবে নাকি ১৫% থাকবে। আমরা দুটোতেই রাজি। কোটা পুরোপুরি বাতিল করা হলেও আমাদের আপত্তি নেই। আর যদি সংস্কার করে ১৫% রাখা হয় আমরা সেটাকেও স্বাগত জানাবো। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: যদি কোটা সংস্কার করে ১৫% রাখা হয় তাহলে কী সেক্ষেত্রে আপনারা কোনো সুপারিশ বা কাঠামোর প্রস্তাব করবেন? নুরুল হক নুর: এটা সম্পূর্ণ সরকারের বিষয়। সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর এব্যাপারে ভালো বলতে পারবে। বা তারা এ ব্যাপারে এখতিয়ার রাখে। তবে যদি সরকার যদি চায় তাহলে আমরা কিছু প্রস্তাবনা বা সুপারিশ করতে পারি। যেহেতু আমরাও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছি বা দেশের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে ধারণা রাখি। এখনো পর্যন্ত বিভিন্ন শিক্ষাবিদ ও গুণী ব্যক্তিত্বরা কোটা নিয়ে নানা প্রস্তাব করেছেন। মু্ক্তিযোদ্ধ কোটা ৫%, নারী কোটা ৫% এভাবে কিছু প্রস্তাবনা কিন্তু এসেছে। আবার কেউ কেউ সব মিলিয়ে কোটা ১০% রাখার পক্ষপাতি। তবে এখন কোটা নিয়ে প্রস্তাব করার কোনো সুযোগও আসলে নেই। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে তার প্রতিনিধি দল বলেছেন আমাদের পাঁচ দফা দাবি মেনে নিয়েই কোটা সংস্কার করবেন। সেক্ষেত্রে আর কোনো সুযোগ আছে বলে আমার মনে হয় না। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি দলে কারা কারা ছিলেন? নুরুল হক নুর: দেখুন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী প্রধান। তাঁর প্রতিনিধি দল বলেছেন, আলোচনার স্বার্থে আমরা যেন কিছু ক্ষেত্রে গোপনীয়তা রক্ষা করি। আমরা তাদের সে প্রস্তাবের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: যারা কোটা সংস্কারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, অভিযোগ আছে তারা জামাত- শিবিরের রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট। এ ব্যাপারে কী বলবেন? নুরুল হক নুর: আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিটা এমন এক আবহে চলে বা চলছে যখনই সরকারকে প্রেসার ক্রিয়েট করে কোনো আন্দোলন গড়ে উঠে বা কোনো দাবি দাওয়ার আওয়াজ উঠে তখন বলা হয় সরকারকে বিপাকে ফেলার জন্য বা বিব্রত করার জন্য এ আন্দোলন। তখন কেউ কেউ অতি উৎসাহী হয়ে এ ধরনের কথা বলেন। আন্দোলনের গায়ে রাজনৈতিক দলের সীল লাগানোর অপচেষ্টা করেন। কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে উঠা আন্দোলনে প্রথম সারিতে থেকে আমরা যে চারজন নেতৃত্ব দিয়েছি- আমি ( নুর), রাশেদ, ফারুক, মামুন- আমি চারজনই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। মামুন আমাদের আহবায়ক। বর্তমানে মামুন মহসীন হল ছাত্রলীগের সহ সভাপতি। আমি ( নুর) মহসীন হল ছাত্রলীগে গত কমিটিতে মানব সম্পদ বিষয়ক উপ-সম্পাদক ছিলাম গত কমিটিতে। ফারুক এস এম হলের আন্তর্জাতিক সম্পাদক ছিল। রাশেদ দরিদ্র পরিবারের সন্তান। সে কখনো সক্রিয় ভাবে রাজনীতি না করলেও, ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচীতে তাকে অংশ নিতে দেখা গেছে। এটা তো অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই, এখন হলে থাকতে হলে ছাত্রলীগ করেই থাকতে হয়। সুতরাং সে ছাত্রলীগ করেই হলে থাকে। যারা আমাদেরকে জামাত- শিবির বলছে তারা পাগলের প্রলাপ বকছে ও ভিত্তিহীন কথা বলছে। আরেকটি বিষয় না বললেই নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ছাত্রদের দাবি মেনে নিয়ে কোটা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। তার মানে তিনি ছাত্রদের এ আন্দোলনকে সমর্থন দিলেন। মাননীয় মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ছাত্রদের প্রতিনিধি দলের সাথে সচিবালয়ে বৈঠক করেছেন। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম দাবি দাওয়ার ব্যাপারে ছাত্রদের সাথে বৈঠক করেছেন। যদি আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীরা জামাত- শিবির বা তাদের এজেন্ট হয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রী কেন এ দাবি মেনে নিলেন বা ওবায়দুল কাদের, জাহাঙ্গীর কবীর নানক ও এনামুল হক শামীম- এর মতো সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতারা কেন ছাত্রদের সাথে বসলেন, এ প্রশ্ন কী এসে যায়না? এ কথা সত্য, ৯০- এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের পর এই প্রথম সাধারণ ছাত্রদের দাবি নিয়ে আন্দোলনে একটা গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সুতরাং এটাকে থামানোর জন্য, এ আন্দোলনকে বিতর্কিত করার জন্য রাজনীতির গন্ধ লাগানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিল করবেন, এমন ঘোষণা দিয়েছেন। প্রজ্ঞাপন জারির ব্যাপারেও সকলেই আশাবাদী। কিন্তু আন্দোলন করতে গিয়ে যারা মামলার শিকার হয়েছেন- তাদের মামলাগুলোর কী হবে? বা মামলাগুলো এখন কী অবস্থায় আছে? নুরুল হক নুর: যে মামলাগুলো হয়েছে তার প্রত্যেকটিতেই অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট কারো বিরুদ্ধে মামলা হয়নি। দ্বিতীয়ত, ভিসি স্যারের বাসায় কারা হামলা করেছিল তা এতোদিনে নিশ্চয় প্রশাসন অবগত হয়েছেন। গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে নিশ্চয় ঘটনার সাথে জড়িতদের চেহারা ধরা পড়েছে। কিন্তু আমার মনে হয়, তারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। আগেও বলেছি, যদিও এ আন্দোলনকে সরকার সমর্থন দিচ্ছে, তথাপি একটি গোষ্ঠী এ আন্দোলনকে ব্যবহার করে একদিকে আন্দোলনের নামে অছাত্রদের ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে সরকারকে বিব্রত করে আন্দোলনের গায়ে নানা ধরণের তকমা লাগিয়ে আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। সেই গোষ্ঠীটি ভিসি স্যারের বাসভবনে হামলা চালিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো খুব সক্রিয় ও দক্ষ। তারা অবশ্যই ইতোমধ্যে অবগত হয়েছেন কারা এই হামলায় জড়িত। তারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন না হয়তো অন্য কোনো কারণে। আর অজ্ঞাতনামা মামলাগুলো দেওয়া হয়েছিল আন্দোলনে নেতৃত্ব যারা দিয়েছিল তাদের হয়রানি করার জন্য। তবে আমি বলবো, যারা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে বা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে তারা একা নন। সারা বাংলার ছাত্র সমাজ তাদের সাথে আছে। সুশীল সমাজ, নাগরিক সমাজ তাদের সাথে আছে। যদি এদের একজনকেও অন্যায় ভাবে হয়রানি করা হয় তাহলে আন্দোলনের দাবানল সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া হবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: এ আন্দোলন করতে গিয়ে শুরু থেকে আজ পর্যন্ত কেমন হুমকী বা হয়রানীর শিকার হয়েছেন বা হচ্ছেন? নুরুল হক নুর: চরম হুমকির সম্মুখীন হয়েছি। আপনারা অবগত আছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে, রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে, বিভিন্ন ব্যক্তি বিশেষের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছে, হচ্ছে। মেসেনজারে হুমকি আসছে খুন করা হবে। পরশুদিন রাতে আমার রুমে আমাকে ও আমার সহযোদ্ধা রাশেদকে আমাদের রুমে হামলা করতে যায়। কিন্তু আমাদের রুমে ও পার্শ্ববর্তী রুমে কয়েকজন থাকায় তারা আমাদের উপর হামলা করতে পারেনি। চলে এসেছিল। এর আগেও আমাকে `কুপিয়ে মেরে ফেলা হবে` এমন হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ফেসবুকে গ্রুপ খোলা হয়েছে, যেখানে আমাকে ও আমার সহযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক লিখা হচ্ছে। তবে এসব হুমকিতে আমাদের মনোবল নষ্ট হয়নি। এখনো আমরা বলছি, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সারা বাংলার ছাত্র সমাজ নিয়ে আমাদের আন্দোলন চলবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আপনারা কী এসব হুমকির বিষয়টি সরকারের নজরে আনার চেষ্টা করেছেন? নুরুল হক নুর: যখনই সরকারের যে কর্তৃপক্ষের সাথে আমরা বসেছি সেখানেই আমরা বিষয়গুলো সরকারের নজরে আনার চেষ্টা করেছি। তারা আমাদেরকে আশ্বস্তও করেছেন। তবে আমি মনে করি, তারা সেভাবে ব্যবস্থা নেননি। শুধু মুখেই আশ্বস্ত করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে যারা আমাদের সাথে বসেছেন তাদেরও আমরা বলেছি, আন্দোলনকারীদের যেনো নিরাপত্তা দেওয়া হয়। কারণ, ছাত্র সমাজ এখন ঐক্যবদ্ধ। এদের একজনকেও যদি হয়রানি করা হয় তাহলে সারা বাংলার ছাত্র সমাজ তার পাশে দাঁড়াবে। সেটা সবার জন্য বিপদের কারণ হবে। ছাত্ররা একটি যৌক্তিক বিষয় নিয়ে আন্দোলন করছে। তাই কোনো ভাবে যেনো তাদের হয়রানি করা না হয়। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের দাবি দাওয়া উথাপনের জন্য কোনো প্লাটফর্ম না থাকা, রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনগুলোর পেশী শক্তির অপব্যবহার- এসবের জন্য ডাকসু নির্বাচন দাবি করা হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। আপনারা কী এ দাবির পক্ষে আওয়াজ তুলবেন? নুরুল হক নুর: একথা স্বীকার করতেই হবে যে, বর্তমানে জাতীয় রাজনীতিতেও নেতৃত্বের একটা সংকটকাল চলছে। আওয়ামী লীগ- বিএনপি`র বড় বড় নেতারা সবাই ছাত্র জীবনে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদের দাবি দাওয়া নিয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তারা তা করার সুযোগ পেয়েছিলেন কারণ ছাত্র সংসদ নির্বাচন তখন ছিল। আমি মনে করি, শুধু ডাকসু নয়, বরং দেশের প্রত্যেকটি কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন চালু করা দরকার। এটা আরো অনেক আগেই হওয়া দরকার ছিল। ছাত্রদের অধিকার আদায়সহ সব জায়গায় গণতান্ত্রিক চর্চা থাকতে হবে। সহমর্মিতা থাকতে হবে। ভিন্ন মতের প্রতি শ্রদ্ধা থাকতে হবে। ডাকসু থাকলে এসবের চর্চা হতো এবং সত্যিকারের মেধাবী ছেলেরা রাজনীতিতে উৎসাহী হতো। কিন্তু যেহেতু ছাত্র সংসদ নির্বাচন নাই, সেহেতু সাধারণ ছাত্রদের মতামতের কোনো মূল্যায়ন নাই। এর ফলে পেশী শক্তির দৌরাত্ম্য যারা দেখাতে পারছে তারা রাজনীতিতে জায়গা করে নিচ্ছে। ছাত্রনেতারা তাদের আদর্শের জায়গা থেকে সরে যাচ্ছে। ফলে সাধারণ ছাত্রদের কাছেও তারা গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে। তাই সাধারণ ছাত্রদের প্রতিনিধি দ্বারা শুধু ডাকসু নয় বরং প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হওয়া আজ সময়ের দাবি। আপনি জানতে চেয়েছেন, আমরা এ দাবির পক্ষে আওয়াজ তুলবো কিনা? এর উত্তরে বলবো, আমরা দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রসমাজের যে দাবি, কোটা সংস্কারের লক্ষে যে দাবি নিয়ে আন্দোলন দানা বেঁধেছে আমরা আপাতত সে আন্দোলন নিয়েই থাকবো। আপাতত আমরা অন্য কিছু নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি না। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আপনারা যখন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করছেন, তখন একই সময়ে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স সীমা ৩৫ করার দাবিতেও আন্দোলন করছেন অনেকে। তাদের এ আন্দোলনকে আপনি/ আপনারা কতোটা যৌক্তিক মনে করছেন? নুরুল হক নুর: বাংলাদেশ একটা গণতান্ত্রিক দেশ। মত প্রকাশের অধিকার সকলের রয়েছে। আপনি আপনার একটা দাবি ব্যক্ত করতে পারেন। সেটা যদি কর্তৃপক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয় তাহলে সেটা তারা একসেপ্ট করবে। গ্রহণযোগ্য মনে না হলে তারা রিজেক্ট করবে। যারা ৩৫- নিয়ে আন্দোলন করছে আমি জানি না এটা কতোটুকু যৌক্তিক। সেটা সরকার ভালো বুঝবেন। তাদের আন্দোলনের সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা তাদের সমর্থন দেবো না। আমরা একটা যৌক্তিক দাবি নিয়ে আন্দোলন করছি। সেটা পূরণ হোক। আমাদের সাথে যারা আছে তারা এটাই চাচ্ছে। তাই তাদের আন্দোলন নিয় কোনো মন্তব্য করবো না। আমাদের আন্দোলন যৌক্তিক বিধায় সরকার মেনে নিয়েছে। তাদের আন্দোলন যৌক্তিক হলে সরকার বিবেচনা করবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আপনাকে ধন্যবাদ আমাদের সময় দেওয়ার জন্য। নুরুল হক নুর: আপনাকেও ধন্যবাদ। পাশাপাশি ধন্যবাদ একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে যারা শুরু থেকে আমাদের আন্দোলনের সংবাদ প্রকাশ করে আসছে। এমজে/

২২ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে সতর্কতা জারি

আইন  অমান্যকারী ২২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না হতে সতর্কতা জারি করবে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। ইতোমধ্যে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এসব  বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ থাকার কারণে এমন বিজ্ঞপ্তি জারি করতে বাধ্য হচ্ছে ইউজিসি। বিবৃতি জারি হওয়ার পরে এসব বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে সার্বিক তথ্য ইউজিসির ওয়েবসাইটে রয়েছে বলেও জানা গেছে। এবিষয়ে জানতে চাইলে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান একুশে টিভি অনলাইনকে বলেন, আইন  অমান্যকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে শিক্ষার্থীরা যাতে  প্রত্যারিত না হয় সেই কারণে সর্তকতামূলকভাবে এই বিজ্ঞাপ্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দ্রুত এ সর্তকতা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন, কেউ অনুমোদনবিহীন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কিংবা অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অননুমোদিত ক্যাম্পাস বা প্রোগ্রাম বা কোর্সে ভর্তি হলে তার অর্জিত সেই সনদ কাজে লাগে না। এব্যাপারে মন্ত্রণালয় বা ইউজিসি ভবিষ্যতে কোনো দায়-দায়িত্ব নেবে না। এ তথ্য অনেকেই জানেন না। এসব  বিষয়ে অভিভাবক-শিক্ষার্থীদেরকে জনাতেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরিকল্পনা গ্রহণ করছে ইউজিসি। তিনি আরো বলেন, প্রতি বছর শিক্ষাবর্ষের আগেই ইউজিসি থেকে এ তথ্য জানানোর ব্যবস্থা করা হয়। আরএ কারণেই এই গণবিজ্ঞপ্তি। ইউজিসি থেকে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে ১০১টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। এর মধ্যে ৯২টি কার্যক্রম চালচ্ছে। আর এর মধ্যে ২২টির ব্যাপারে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে। তবে এগুলোর মধ্যে অবশ্য ৯টি নতুন। এগুলো এখনও কার্যক্রম শুরু করেনি। ভর্তি হয়ে শিক্ষার্থীরা যাতে প্রতারিত না হয় সেজন্য সতর্ক করতে সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ইউজিসিকে বিজ্ঞপ্তি দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর আলোকে গণবিজ্ঞপ্তি দেয়ার প্রস্তুতি চলছে। এই বিজ্ঞপ্তিতে ভিসি, প্রো-ভিসি ও কোষাধ্যক্ষ না থাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ব্যাপারেও সতর্ক করা হবে। আনিত অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, অবৈধ ক্যাম্পাস চালানো, অননুমোদিত প্রোগ্রাম চালানো, কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের নির্দেশপ্রাপ্ত, সনদ বাণিজ্যসহ নানা অপরাধে অভিযুক্ত এবং বন্ধ ঘোষিত। তবে উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে এগুলো পরিচালিত হচ্ছে। আবার মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বের অভিযোগ রয়েছে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে। এগুলোর মধ্যে ইউএসটিসির এমবিসিএসে শিক্ষার্থী ভর্তি সংক্রান্ত নানা অভিযোগ আছে। এই ইস্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে দিনের পর দিন আন্দোলন হয়েছে। অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়টি ঢাকার ক্যাম্পাস বন্ধ করেছে বলে ১৪ মে ইউজিসিকে জানিয়েছে। এ ছাড়া ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়ার বিরুদ্ধে প্রায় ২০০ কোটি টাকা মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন। গণবিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে উচ্চ আদালতে একাধিক মামলা চলমান। এমন ২২বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা উল্লেখ করে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না হতে নিশেধাজ্ঞা জারি করা হবে। টিআর/টিকে

বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য ও অষ্ট্রেলিয়ায় পড়ার সুযোগ

গোটা বিশ্বের মেধাবীদের আকাঙ্খা থাকে বিদেশে বৃত্তি নিয়ে পড়তে যাওয়া। এশিয়ার বিশেষ করে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও এই আকাঙক্ষায় ভিন্নতা নেই। আর যদি সেই বৃত্তি হয় যুক্তরাষ্ট্রের ফুলব্রাইট কিংবা যুক্তরাজ্যেও চেভেনিং তবে তো কথাই নেই। এসব বৃত্তি একদিকে যেমন মর্যাদার অন্যদিকে বিশ্বমানের ডিগ্রির সঙ্গে নানান সুযোগ সুবিধাও থাকে এগুলোতে।ফুলব্রাইট, চেভেনিং বেশ কিছু মর্যাদার সুযোগ এসেছে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য। বিশ্বের কয়েকটি দেশে দারুণ কিছু বৃত্তি চালু রয়েছে। কিন্তু আমাদেও শিক্ষার্থীদেও কম সংখ্যকই এসব বিষয়ে জানে। সম্মানজনক পাঁচটি বৃত্তির বিষয়ে তথ্য দেওয়া হলো। ফুলব্রাইট স্কলারশিপ (যুক্তরাষ্ট্র)অনেকেই স্বপ্ন দেখেন যুক্তরাষ্ট্রে পড়বেন। কিন্তু সেখানে বৃত্তি কোথায় পাবেন? যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি বৃত্তি আপনার জন্য দারুণ সহায়ক হতে পারে। ফুলব্রাইট নামের এ বৃত্তি বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। এটি যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও ১৫৫টি দেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক বৃত্তি বিনিময় কার্যক্রম। ১৯৪৬ সালের ১ আগস্ট ফুলব্রাইট বৃত্তি কার্যক্রম শুরু হয়। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ২৫ হাজার ৪০০ শিক্ষার্থী ফুলব্রাইট বৃত্তি পেয়েছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ২২ হাজার ৮০০ জন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এবং অন্যান্য দেশ থেকে ২ লাখ ২ হাজার ৬০০ জন এই কার্যক্রমে অংশ নেন। এই কার্যক্রম থেকে প্রতিবছর প্রায় ৮ হাজার জন বৃত্তি পান।যারা আবেদন করতে পারবেন ঢাকার মার্কিন দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য চলতি বছর `ফুলব্রাইট স্টুডেন্ট প্রোগ্রাম` ঘোষণা করেছে। এ প্রোগ্রামের আওতায় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থী, বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা, থিঙ্ক ট্যাঙ্ক, এনজির জুনিয়র ও মিডলেভেল কর্মকর্তা এবং পাবলিক ও প্রাইভেট সেক্টরের পেশাজীবীরা অগ্রাধিকার পাবেন। ফুলব্রাইট প্রোগ্রামের আওতায় টিউশন, বিমান যাতায়াত ভাড়া, বসবাসের জন্য মাসিক স্টাইপেন্ড এবং স্বাস্থ্য বীমা বহন করা হয়। আর এ খরচ বহন করা হয় পুরো কোর্স সময়কালে।গ্রান্টসের আওতাধীন বিষয়বেশ কিছু বিষয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি করার সুযোগ দেওয়া হয় ফুলব্রাইট স্কলারশিপের আওতায়। বিজনেসের ক্ষেত্রে এমবিএ ইন হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট/ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস/অপারেশনস ম্যানেজমেন্ট/হেলথ কেয়ার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। আর বিজ্ঞানের বিষয়গুলোতে- বায়োলজি/কেমিস্ট্রি/ফিজিক্স/ফার্মাসি। ইকোনমিকসে- ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিকস/ট্রেড অ্যান্ড ফিন্যান্স/পলিসি/এনভায়রনমেন্টাল/ন্যাচারাল রিসোর্সেস ইকোনমিকস। এডুকেশনে- হায়ার এডুকেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন/ এডুকেশন পলিসি, প্ল্যানিং এবং ম্যানেজমেন্ট/ কারিকুলাম অ্যান্ড ইনস্ট্রাকশনস। এনভায়রনমেন্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট, ফ্যাশন অ্যান্ড টেক্সটাইল ডিজাইন পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন/ পাবলিক পলিসি সাইকোলজি :ক্লিনিক্যাল/কাউন্সেলিং সিকিউরিটি স্টাডিজ, সোশ্যাল সায়েন্সেস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ- পলিটিক্যাল সায়েন্স/ সোশিওলজি/ হিস্টোরি/ লিটারেচার আরবান প্ল্যানিং :জেনারেল প্ল্যানিং/ ল্যান্ড ইউজ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল প্ল্যানিং/ ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেম/ আরবান/কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট।ফুলব্রাইট স্কলারশিপের আওতায় সুবিধাযাতায়াতের জন্য বিমান ভাড়া, টিউশন এবং সংশ্নিষ্ট একাডেমিক ফি, কক্ষ, বোর্ড এবং আকস্মিক ব্যয়ের জন্য মাসিক স্টাইপেন্ড, বইয়ের জন্য অ্যালাউন্স, হেলথ অ্যান্ড অ্যাকসিডেন্ট ইন্স্যুরেন্স, ভ্রমণ অ্যালাউন্স এবং অতিরিক্ত ব্যাগেজ অ্যালাউন্স দেওয়া হয়ে থাকে। ফুলব্রাইট স্টুডেন্ট প্রোগ্রামটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। বিগত বছরগুলোতে শত শত আবেদন পর্যবেক্ষণের পর ৭-৮টি করে গ্রান্ট দেওয়া হয়েছে।আবেদনের যোগ্যতাউঁচুমানের মেধাক্রমসহ কমপক্ষে চার বছরের স্নাতক ডিগ্রি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো ডিগ্রি থাকা যাবে না, অথবা চলতি ডিগ্রি প্রোগ্রামে কোনো নেরোলড থাকা যাবে না (যাদের বাংলাদেশি মাস্টার্স ডিগ্রি গ্রহণযোগ্য)। স্টাডির জন্য প্রস্তাবিত বিষয়ের ক্ষেত্রে কমপক্ষে দুই বছরের পূর্ণকালীন পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। iBT TOEFL-এ কমপক্ষে ৮০ স্কোর বা আইইএলটিএসে ৭ স্কোর থাকতে হবে। ইংরেজি ভাষায় পারদর্শিতা থাকতে হবে। স্বাস্থ্যগত দিক দিয়ে ভালো থাকতে হবে। আবেদনকারীকে বাংলাদেশি হিসেবে বাংলাদেশে বসবাসকারী হতে হবে। নির্ধারিত ডিগ্রি অর্জন না করেই যদি কোনো প্রার্থী দেশে ফিরতে চান, সে ক্ষেত্রে তাকে একটি রিটার্ন টিকিটের মূল্যের সমপরিমাণ অর্থ ফেরত দিতে সম্মত থাকতে হবে।আবেদন যেভাবেনিচে উল্লেখিত লিংক থেকে অনলাইন আবেদন ফরম সংগ্রহ ও তা পূরণের বিস্তারিত নির্দেশাবলি পাওয়া যাবে। সম্ভাবনাময়ী প্রার্থীদের আবেদনপত্র পূরণের আগে আবেদনপত্র পূরণের নির্দেশাবলি ভালোভাবে পড়ে বুঝে নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। https://bd.usembassy.gov/education-culture/student-exchange-programs/ আবেদনে আগ্রহীদের আগামী ৩১ মের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। চেভেনিং স্কলারশিপ (যুক্তরাজ্য)যুক্তরাজ্যের চেভেনিং স্কলারশিপ আরও একটি সম্মানজনক বৃত্তি কার্যক্রম। যুক্তরাজ্যের ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিস (এফসিও) এবং অংশীদার সংগঠনগুলো এটি প্রতিষ্ঠা করে। যুক্তরাজ্য সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৃত্তি প্রোগ্রাম এটি। ১৯৮৩ সালে এই বৃত্তি কার্যক্রম শুরু হয়। এর আওতায় চেভেনিং স্কলারশিপ ও চেভেনিং ফেলোশিপ দেওয়া হয়। যুক্তরাজ্যের দূতাবাস ও হাইকমিশন বৃত্তি নির্ধারণ করে। চেভেনিং স্কলারশিপ প্রোগ্রামের আওতায় রাজওয়ান নাবিন ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা (ইন্টারন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট) বিভাগে পড়াশোনা করছেন। চেভেনিংয়ের বিভিন্ন ধরনের স্কলারশিপে আবেদনের পদ্ধতি বিভিন্ন। কিছু স্কলারশিপ একাডেমিক রেজাল্টের ওপর ভিত্তি করে, আর কিছু স্কলারশিপ কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়। আবার শিক্ষার্থীদের কাজের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা বিবেচনা করেও স্কলারশিপ দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের আবেদন প্রক্রিয়ার বিষয়ে ভালো করে জানা দরকার।চেভেনিং স্কলারশিপে আবেদনের ক্ষেত্রে কেন তাঁরা স্কলারশিপের জন্য আবেদন করছেন, এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের কিছু প্রশ্নের জবাব দিতে হয়। প্রশ্নের জবাবটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। স্কলারশিপে আবেদনের জন্য পর্যাপ্ত সময় নিয়ে আবেদন করতে হবে। দয়া করে তড়িঘড়ি ফরম পূরণ করবেন না। স্কলারশিপ প্রোগ্রামের জন্য আপনার আগ্রহ ও আবেগটাও তারা দেখতে চায়।কমনওয়েলথ স্কলারশিপকমনওয়েলথ স্কলারশিপ এবং ফেলোশিপ কমনওয়েলথভুক্ত দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য। যুক্তরাজ্যে উচ্চতর শিক্ষা সম্পন্ন শেষে কমনওয়েলথভুক্ত দেশের শিক্ষার্থীরা নিজের দেশে ফিরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন, সেই লক্ষ্যে এই বৃত্তি দেওয়া হয়। তারা এক বছরের মাস্টার্স বা সমমান কোর্স এবং তিন বা চার বছরমেয়াদি ডক্টরেট ডিগ্রি সম্পন্ন করার সুবিধা দেয়। এই প্যাকেজে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, টিউশন ফি, প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য ভাতা অন্তর্ভুক্ত। এই বৃত্তির অধীনে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, বিজ্ঞান (বিশুদ্ধ ও ফলিত) কৃষি, মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। এই স্কলারশিপের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিল ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ওয়েবসাইটে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।ইরাসমাস মুন্ডাস প্রোগ্রামযাঁরা ইউরোপে পড়াশোনা করতে চান, তাঁদের জন্য ইরাসমাস মুন্ডাস প্রোগ্রাম নামের বৃত্তি কাজে লাগতে পারে। ইরাসমাস মুন্ডাস ইউরোপে পড়াশোনার জন্য বেশ জনপ্রিয় একটি বৃত্তি কার্যক্রম। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এটি চালু করে। এর লক্ষ্য উচ্চতর শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানো এবং একাডেমিক সহযোগিতার মাধ্যমে জনগণ ও সংস্কৃতির মধ্যে যোগাযোগ এবং বোঝাপড়া উন্নত করা। এটি শিক্ষার্থীদের ইউরোপের অন্তত দুটি দেশে যৌথ মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য পড়ালেখার সুবিধা দেয়। এই বৃত্তির আওতায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১৩০টির বেশি মাস্টার্স প্রোগ্রাম রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কৃষি ও ভেটেরিনারি, প্রকৌশল, উৎপাদন ও নির্মাণ, স্বাস্থ্য ও কল্যাণ, মানবিক ও কলা, বিজ্ঞান, গণিত ও গণনা, সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসায়, আইন বিষয় ইত্যাদি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতক করা আবদুল আজিজ এ বৃত্তি লাভ করেছেন। তিনি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিজিটাল মিডিয়া বিষয়ে অধ্যয়ন করছেন। যৌথ মাস্টার্স প্রোগ্রামের আওতায় আজিজ অস্ট্রিয়ার সালজবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেলজিয়ামের ব্রাসেলস ভ্রিজি ইউনিভার্সিটিয়েটেও পড়ালেখা করেন।আবদুল আজিজ বলেন, ইউরোপে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এ বৃত্তি দারুণ সুযোগ। প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতির কারণে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই এই সুযোগ হাতছাড়া করেন। এ বৃত্তির জন্য আইইএলটিএসে ভালো স্কোর গুরুত্বপূর্ণ।অস্ট্রেলিয়ান অ্যাওয়ার্ডসঅস্ট্রেলিয়া সরকার পরিচালিত একটি সম্মানজনক বৃত্তি কার্যক্রম হচ্ছে ‘দ্য অস্ট্রেলিয়ান অ্যাওয়ার্ডস’। দেশটির পররাষ্ট্র বিভাগ, শিক্ষা বিভাগ এবং অস্ট্রেলিয়ান সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল রিসার্চ (এসিআইএআর) স্কলারশিপ ও ফেলোশিপসহ একযোগে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ পরিচালনা করে। অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা, গবেষণা এবং পেশাগত উন্নয়ন করতে এবং সমমানের দেশে উচ্চপর্যায়ের সাফল্য অর্জনে অস্ট্রেলিয়ান অ্যাওয়ার্ডস প্রোগ্রাম সহায়তা করে। বৃত্তির আওতায় টিউশন ফি, আকাশপথে ভ্রমণ, প্রতিষ্ঠান ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাসহ শিক্ষার্থীকে পাঁচ হাজার ডলার সহায়তা দেওয়া হয়ে থাকে।/ এআর /

‘হুমকিতে নিরাপত্তা শঙ্কায় কোটা আন্দোলনকারীরা’

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন ধরনের হুমকিতে নিরাপত্তা শঙ্কায় আছেন বলে দাবি করেছে আন্দোলনকারীদের প্লাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা শিক্ষার্থীদের জিডি পুলিশ নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করা হয়।  আজ শনিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেনি পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক নুরুল হক নুর।তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে আমাদেরকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে, প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত আমরা এ আশ্বাসের কোনো বাস্তবায়ন দেখছি না। বরং দেখা যাচ্ছে একদিকে সরকার আমাদের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসছে, আশ্বাস দিচ্ছে, অন্য দিকে সরকারী দলের ছাত্র সংগঠনের নেতা কর্মীরা বিভিন্ন ভাবে আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছাত্র ছাত্রীদের হুমকি দিচ্ছে, ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।নুরুল হক নুর দাবি করেন, ১৬ মে  রাতে তার রুমে হামলা করা হয়। নিরাপত্তাহীণতায় ভুগে তিনি শাহবাগ থানায় জিডি করতে যান। শাহবাগ থানায় ডিউটিরত কর্মকর্তা তার জিডি নেননি, বরং তিনি বলেন জিডি নিতে হলে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগবে এবং তিনি জানাবেন।নুরুল হক নুর বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আমাদের নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। নুরুল হক নুর এ সময় বলেন, বাংলাদেশ সংবিধানের ৩১ নং অনুচ্ছেদে সব নাগরিকের নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারের কথা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু আমাদেরকে সে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এটা শুধু বাংলাদেশের ছাত্র সমাজের জন্য নয় বরং দেশ ও জাতির জন্য লজ্জাজনক।২৫ শিক্ষার্থী কারণ দর্শানোর সমালোচনা করে নুরুল হক নুর বলেন, ৯ এপ্রিল রাতে সুফিয়া কামাল হলে যে অনাকাংখিত ঘটনা ঘটেছে তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টর নিজেরা বলেছেন এশা নির্যাতনকারী। সে সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে। তার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর স্যার ও ভিসি স্যার তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করেছিলেন। কিন্তু কী অদৃশ্য কারণে রাতের বেলা যে কথা বলেছেন সকাল বেলা সে কথাকে ঘুরিয়ে নিয়ে বললেন, না এটা সে করেনি। বরং দেখলাম এশাকে হেনস্থা করার অভিযোগে ২৫ জন ছাত্রীকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে ওই শিক্ষার্থীদের নোটিশ দিয়েছে।নুরুল হক নুর বলেন, বলা হচ্ছে অসত্য ও গুজব ছড়ানোর জন্য ফেসবুক স্ট্যাটাস দিচ্ছে ছাত্রীরা। আমি বলব, ছাত্রীরা যদি গুজব ছড়ায় তাহলে আমাদের ভাইস চ্যান্সেলর স্যার ও প্রক্টর স্যার গুজবের মহানায়ক। তারা সব মিডিয়ায় শিকার গিয়েছিলেন যে, এই ছাত্রী নির্যাতন করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহিষ্কার করেছে। প্রশ্ন থেকে যায় তাহলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটা প্রতিষ্ঠাণ সত্য তথ্য উদঘাটন না করে কিসের ভিত্তিতে সেদিন বহিষ্কার করেছিল? নাকি ভিসি স্যার ও প্রক্টর স্যার কোনো বিশেষ মহলের চাপে সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করছে তা জাতির সামনে পরিষ্কার করতে হবে।/আআ/ এআর

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি