ঢাকা, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০:১৯:৩৫

কথাসাহিত্যিক আব্দুর রউফ এর মৃত্যুবার্ষিক শুক্রবার

কথাসাহিত্যিক আব্দুর রউফ এর মৃত্যুবার্ষিক শুক্রবার

আগামীকাল শুক্রবার কথা সাহিত্যিক আব্দুর রউফ চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিক। তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্য জগতে দ্রোহী কথাসাহিত্যের শুদ্ধ আধুনিকোত্তরক। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণার পর থেকেই তিনি মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালনসহ স্বাধীনতা লাভের জন্য নানাভাবে কাজ শুরু করেন। ২৫ মার্চের রাত ও ২৬ মার্চের ভোর রাতের পৈশাচিকতার সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশের মুক্তির পক্ষে সোচ্চার হয়ে উঠেন তিনি। সে সময় তিনি ইংল্যান্ডের ‘পাকিস্তান সোসাইটি’র সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করে ‘সেন্ট আলব্যানস বাংলাদেশ অ্যাকশন কমিটি’ গঠন করেন এবং আহবায়ক নির্বাচিত হন। বিশ্বজনমত গঠনের জন্য ইংল্যান্ডের বিভিন্ন শহর ভ্রমণ ও বক্তৃতা দিয়ে তহবিল সংগ্রহ করেন। ১৯৯৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তার প্রিয় সংগঠন ‘হবিগঞ্জ সাহিত্য পরিষদ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত হবিগঞ্জ মুক্ত স্কাউট ভবনে ‘মহান একুশের স্মরণে’ আয়োজিত আলোচনা মঞ্চে বাঙালি সংস্কৃতি ও বাংলা ভাষার অবমাননার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী বক্তব্য দেওয়ার সময় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে নতুন দিগন্ত, পরদেশে পরবাসী, অনিকেত, মা (উপন্যাস), গল্পসম্ভার, গল্পভুবন, বিদেশি বৃষ্টি, গল্পসল্প (ছোটগল্পের সংকলন), ৭১-এ কবিতা, কবিতাগুচ্ছ, স্মৃতিতে একাত্তর, বাঙালির উৎস সন্ধানে, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, প্রবন্ধগুচ্ছ, প্রবন্ধনিবন্ধ প্রভৃতি। বিজ্ঞপ্তি আরকে/টিকে
বিলুপ্তির পথে মেটাল ক্রাফট শিল্প

আধুনিকতার ছোয়াঁয় হারিয়ে যেতে বসেছে অনেক পুরানো শিল্প। যুগ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে চাহিদাতে আসছে পরিবর্তন। ধাতুর তৈরি পণ্য থেকে বেরিয়ে মানুষ এখন প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের পণ্যে অভ্যস্থ  হয়ে পড়েছে। ফলে শতাব্দীর পুরানো অনেক শিল্পের মতোই হারিয়ে যেতে বসেছে মেটাল ক্রাফট শিল্প। ঢাকার অদূরে ধামরাই বাসস্ট্যান্ড থেকে রিকশা যোগে ভুলিভিটাতে যেতেই চোখে পড়ে বিশাল রথ। পূজায় ব্যবহার করার পর সারা বছর এখানেই ফেলে রাখা হয় বিশাল এই রথটি। রথ পার হতেই দেখা যায় মেটাল ক্রাফট তৈরির কারখানাগুলো। কারখানাগুলো চোখে পড়লেও খুজে পাওয়া যায়নি কারিগরদের। অনেকে কারখানার মাল সড়িয়ে ঘরে আবার বসবাসও শুরু করেছে। বিদায় জানিয়েছে ২০০ বছরের পুরানো এ শিল্পকে। ফলে মেটাল ক্রাফট কারখানা এলাকাতে আসার পরও ধামরাই মেটাল ক্রাফট থেকে দুই থেকে তিনটি কাসার থালা তৈরির আওয়াজ কানে আসলেও আর কোন শব্দ শোনা যায়নি। ধামরাই মেটাল ক্রাফটের মালিক সুকান্ত ভূষণ বণিক বলেন, ২০০ বছরের পুরানো শিল্প এটা। ১৯৭৩ সালে জন্মের পর থেকেই দেখে আসছি বাবা-দাদারা এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বাবা ফণি ভূষণ বণিকের পর আমিই এ ব্যবসা পরিচালনা করছি। বাবা যখন জীবিত ছিলেন তখন কারখানায় দৈনিক ২২/২৫ জন শ্রমিক কাজ করতো। পণ্যের চাহিদা দিন দিন কমে যাওয়ায় ব্যবসা পরিচালনা করে শ্রমিকের মজুরির টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব না হওয়ায় শ্রমিকের সংখ্যা কমিয়ে বর্তমানে পাঁচজন করা হয়েছে। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এ এলাকায় দুই শতাধিক কারখানা ছিল। বন্ধ হতে হতে যার সংখ্যা বর্তমানে ১০টিতে এসে দাড়িয়েছে। পূর্বে ধামরাই ছাড়াও সাভারের শিমুলিয়াতেও বেশ কয়েকটি কারখানা ছিল কিন্তু বর্তমানে সেগুলোর সবগুলোই বন্ধ রয়েছে। মেটাল ক্রাফট প্রবীণ নকশাকারী রঞ্জন দাশ জানান, স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এই ব্যবসা রমরমা ছিল। সপ্তাহে শুক্র ও সোমবার স্থানীয় হাটের দিন শ্রমিকদের মজুরির সব বকেয়া টাকা পরিশোধ করা হতো। মজুরির টাকা পেয়ে হাটে গিয়ে কেনাকাটা করতাম আমরা অনেকেই। ব্লাস মেটাল সমবায় নামে এই শিল্পের একটি সমিতির কার্যক্রমও শুরু হয় সে সময়। কিন্তু কালক্রমে তা বন্ধ হয়ে যায়। এখন আমাদের মত প্রবীণ নকশাকারীরা সারাদিন নকশা কেঁটে ২০০-২৫০ টাকা আয় করতে পারে না। অথচ একজন সারা দিন রিকশা চালিয়ে ৫০০ টাকা আয় করে। ফলে নতুন করে কেউই এ শিল্পের সঙ্গে জড়াতে চাচ্ছে না। শুধু রঞ্জন দাশ নয় সব কারখানার শ্রমিকই একই সুরে সরকারকে এ শিল্প রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। ধামরাই মেটাল ক্রাফটের মালিক সুকান্ত ভূষণ বণিকের কাছে মেটাল ক্রাফট তৈরির পদ্ধতি জানতে চাইলে তিনি জানান, পূর্বে বিদেশ থেকে কাঁচামাল হিসেবে তামা, কাসা, পিতল ও বোঞ্জ নিয়ে এসে কাজ করা হলেও এখন ব্যবসার অবস্থা খারাপ হওয়ায় রাজধানীর মিডফোর্ড  ও বন্দন নগরী চট্টগ্রাম শিপইয়ার্ড এলাকা থেকেই কিনে পানিপথে ধামরাই আনার পর ভ্যানযোগে কারখানায় নিয়ে আসা হয়। কাঁচামালের দাম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমরা রাজধানীর মিডফোর্ড থেকেই কাঁচামাল নিয়ে আসি। সেখানে প্রতি কেজি পিতল ৩৫০-৪০০ টাকা, প্রতি কেজি তামা ৫৫০-৬০০ টাকা, প্রতি কেজি কাসা ৯০০ টাকা ও প্রতি কেজি এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকা। তবে বর্তমানে কেউই বোঞ্জ কিনে না সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমানে কাসা ও কপার মিশিয়ে বোঞ্জ তৈরি করে ব্যবহার করে থাকে। এছাড়াও মিডফোর্ড থেকে ধামরাই পর্যন্ত কাঁচামাল নৌকা প্রতি ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা খরচ হয়। তারপর ধামরাই থেকে কারখানা পর্যন্ত ভ্যানে করে কাঁচামাল আনতেও কিছু খরচ করতে হয়। কাঁচামাল আনার পর মোম, কাদা ঢালাই, বালি কাস্টিং ও হ্যামারিং এ চার পদ্ধতিতে মেটাল ক্রাফটগুলো তৈরি করা হয়। তবে পদ্ধতিগুলোর মধ্যে মোম পদ্ধতি অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময় সাপেক্ষ হওয়ায় এ পদ্ধতিতে তৈরিকৃত ক্রাফটের দাম অনেক বেশি হয়। বর্তমানে মাসে ১০/১২টা কাসার থালার অর্ডার ছাড়া আর কোন অর্ডার না থাকায় হ্যামারিং ছাড়া অন্য তিন পদ্ধতিতে ক্রাফট তৈরি নেই বললেই চলে। মাঝে মধ্যে কিছু ক্রেতা ছোট ছোট মেটাল হাতি-ঘোড়া কিনতে আসলে কাঁদা ঢালাই ও বালি কাস্টিং পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। এছাড়াও লোহার তৈরি কলমের ওপর হাতুরি পিটিয়ে মেটাল ক্রাফটের বাইরের গায়ে বিভিন্ন নকশা কাটা হয়। এ শিল্পের সহায়ক জলবায়ু সম্পর্কে তিনি বলেন, মোম পদ্ধতির জন্য গরমের সময়টা ভালো, কারণ শীতে মোম দ্রুত জমাট বেঁধে যায়। আবার কাঁদা ঢালাই ও বালি কাস্টিং পদ্ধতির জন্য শীতের সময়টা ভালো তাতে ঢালাই দ্রুত জমাট বাঁধে। ব্যবসার জন্য সবচেয়ে খারাপ হলো বর্ষাকাল। এসময় এ শিল্পের প্রয়োজনীয় অন্যান্য উপকরণ যেমন ধানের তুষ, খড়, পাটের আঁশ ইত্যাদি ভিজা থাকে। তাছাড়া কাদা ঢালাই ও বালি কাস্টিং এর পণ্য শুকানোর জন্য রোদ অবশ্যই দরকার। বৃষ্টির মধ্যে এগুলো শুকানো কষ্টকর ব্যাপার। এ সব পণ্যেও ক্রেতাদের সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, আগে এ সব পণ্য বিদেশে রফতানি করা সহজ ছিল। বর্তমানে কাস্টমস কর্মকর্তারা মাসের পর মাস ফেলে রাখার পরও পণ্য রফতানি করতে দিতে চায় না। বিদেশি ক্রেতারা অধৈর্য হয়ে আমাদের পণ্য কেনা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বর্তমানে আমাদের একমাত্র ভরসা দেশীয় ক্রেতারা। এখন দেশি বাজারে সস্তায় প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের সব পণ্যই হাতের নাগালেই পাওয়া যায় বলে দুএকজ কাসার থালার ক্রেতা ছাড়া তেমন কোন ক্রেতাই নেই। তিনি আরও জানান, কাঁচামালের দাম বেশি হওয়ায় উৎপাদিত পণ্যের সর্বনিম্ন মূল্য এক হাজার ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত। এ শিল্প সম্পর্কে তিনি আরও জানান, আমার পাঁচ পুরুষ এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। পূর্বে এটা অবৈধ ব্যবসা না হলেও বর্তমানে মাঝে মাঝে প্রশাসনের লোক এসে আমাদের ব্যবসা বন্ধ করার কথা বলে। জানতে চাইলে বলে এ ব্যবসা অবৈধ। এ রকম হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে ব্যবসায়িক ট্রেড লাইসেন্স, ট্যাক্স দেওয়ার রসিদসহ সব কাগজপত্র নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে গেলে তিনি এ ব্যবসাকে অবৈধ উল্লেখ করে বলেন, আগে কিভাবে ট্যাক্স নিতো জানি না। এ ব্যবসার মাধ্যমে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ বিদেশে রফতানি হয়ে যায়। এ ব্যবসা অবৈধ। সেক্ষেত্রে আমাদের বাবা-দাদার পুরানো ব্যবসা বুঝি আর টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। তবে বাণিজ্য মেলায় এ পণ্যের সুবিধা তুলে ধরাসহ ব্যাংক হতে এ ব্যবসার জন্য সুদমুক্ত ঋণের ব্যবস্থা করা, পণ্য উৎপাদনে প্রশাসনের বাধা বন্ধ করা, রফতানি ক্ষেত্রে কাস্টমস এর হয়রানি বন্ধ করা ও বিশ্বের দরবারে এ সব পণ্যের সুবিধা তুলে ধরলে মৃত প্রায় শিল্পটি পুনজীবিত হতে পারে।    আরএ /এসএইচ/

সিলেটে ১২ দিনব্যাপী নাট্যোৎসব শুরু বৃহস্পতিবার

সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেট শাখার আয়োজনে ১২ দিনব্যাপী নাট্যোৎসব শুরু হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে। নগরীর রিকাবীবাজারস্থ কবি নজরুল অডিটোরিয়াম মুক্তমঞ্চে বিকেল ৫টায় নাট্য প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দ সৈনিক ও সংগীত পরিচালক, একুশে পদকপ্রাপ্ত গুণী ব্যক্তিত্ব সুজেয় শ্যাম। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে নাট্য পরিষদ গুণীজন সম্মাননা প্রদান করা হবে। সম্মাননা পাবেন নাট্যাঙ্গনের বিশেষ অবদানের জন্য (মরণোত্তর) মোমিন উদ্দিন ভূঁইয়া (সুরুজ), সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিশেষ অবদানের জন্য প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব থোকচোম অনিল কিষণ সিংহ। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় নাট্য প্রদর্শনী আগামী ৫ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় কবি নজরুল অডিটোরিয়াম মঞ্চে সিলেটের নাট্যমোদী দর্শকরা হল কাউন্টার থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করে নাটক দেখতে পারবেন। উদ্বোধনী দিন নবশিখা নাট্যদলের প্রযোজনায় ‘কবর’, ২৩ ফেব্রুয়ারি কথাকলি সিলেট প্রযোজনায় ‘দুর্ব্বিনশাহ’, ২৪ ফেব্রুয়ারি নাট্যমঞ্চ সিলেট প্রযোজনায় ‘বধ্যভূমিতে শেষদৃশ্য’, ২৫ ফেব্রুয়ারি নান্দিক নাট্যদল, সিলেট প্রযোজনায় ‘হাসন রাজা’, ২৬ ফেব্রুয়ারি নাট্যালোক সিলেট (সুরমা) প্রযোজনায় ‘মুল্লুক’, ২৭ ফেব্রুয়ারি থিয়েটার বাংলা, সিলেট প্রযোজনা ‘এই রোদ এই বৃষ্টি’, ২৮ ফেব্রুয়ারি থিয়েটার মুরারিচাঁদ প্রযোজনায় ‘রঙমহাল’, ১ মার্চ নাট্যনিকেতন সিলেট এর প্রযোজনায় ‘ভূমিকন্যা’, ২ মার্চ নাট্যালোক সিলেট (আম্বরখানা) প্রযোজনায় ‘এখন দুঃসময়’, ৩ মার্চ লিটল থিয়েটার, সিলেট প্রযোজনায় ‘ভাইবে রাধারমণ’, ৪ মার্চ দিগন্ত থিয়েটার সিলেট প্রযোজনায় ‘পেজগী’নাটক মঞ্চস্থ হবে। উৎসবের শেষ দিন ৫ মার্চ মঞ্চস্থ হবে দর্পণ থিয়েটার সিলেট প্রযোজনায় ‘হট্টমালার ওপারে’।   আর

কমছে লালবাগ কেল্লার দর্শণার্থীর সংখ্যা

ইট-পাথরের কর্মব্যস্ত নগরীর মানুষগুলো ছুটির দিনে প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পরিদর্শণ করে। সময়ের সল্পতায় অনেকেই আবার রাজধানীর মধ্যে অবস্থিত বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলোই পরিদর্শণ করে। রাজধানীর দর্শনীয় স্থান গুলোর মধ্যে রয়েছে পুরানো ঢাকায় অবস্থিত লালবাগ কেল্লা। ১৬৭৮ সালে নির্মিত বিশাল জায়গা জুড়ে কয়েকটি স্থাপনা রয়েছে এর ভেতরে। প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকে সামনের জায়গা জুড়ে কয়েকটি স্থাপনাই রয়েছে এর ভেতরে। প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকে একটু সামনে গেলেই চোখে পড়ে একটি সমাধি। সমাধিটি পরী বিবির। বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খাঁ’র আদরের কণ্যা। রহমান বানু নামে পরী বিবির অপর নাম থাকলেও অনেকেই সেটা জানতো না। দেখতে পরীর মত সুন্দরী হওয়ায় নাম রাখা হয়েছিল পরী বিবি। পরী বিবির অকাল মৃত্যু হলে সুবেদার শায়েস্তা খাঁ দু:খে ‘অপয়া’ ভেবে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয় লালবাগ কেল্লার। কেল্লার ভেতরে সমাধি করার পর পরী বিবির অন্তিম শয্যার ওপর যে সৌধ নির্মাণ করা হয় সেটা সৌন্দর্যময় একটি মুঘল স্থাপত্যের নিদর্শণ। শায়েস্তা খাঁ সমাধি নির্মাণের জন্য সুদূর রাজমহল থেকে কালো ব্যাসল্ট পাথর ও জয়পুর থেকে এনেছিলেন সাদা মার্বেল পাথরের বড় বড় ফলক। এছাড়াও শ্বেত চন্দন কাঠ এনেছিলেন দরজা ও খিলান নির্মাণের জন্য। সমাধি ফলকগুলো রাখা হয় আস্ত। তার ওপর কাটা হয় নকশা। সমাধি সৌধের বিভিন্ন অংশ নির্মাণ করা হয় ফুলের নকশা খচিত জালি ও ফলক দিয়ে। গত শতকের আশির দশকে কেল্লাটি যথা সম্ভব সংস্কার করে এর আগের রুপ ফিরিয়ে এনে শনিবার ছাড়া সপ্তাহের ছয় দিন দেশী দর্শনার্থীদের জন্য ১০ টাকা ও বিদেশী দর্শনার্থীদের জন্য ১০০ টাকা প্রবেশ মূল্য নির্ধারণ করে টিকিটের ব্যাবস্থা করে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। কেল্লাটি ১৯১০ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে প্রাচীণ সংরক্ষিত স্থাপত্য হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে নেওয়া হয়। রাজধানীর মিরপুর থেকে স্বপরিবারে ঘুরতে আসা ফায়সাল আহমেদ বলেন, শহরের ইট-পাথরের মধ্যে থাকতে থাকতে দম বন্ধ হয়ে আসে। তাই ছুটির দিনে এখানে ঘুরতে আসি। স্থানটি দেখতে অনেক সুন্দর হলেও এখানে স্থানীয় কিছু ছেলে আছে যারা খুবই বিরক্ত করে। অনেক সময় মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এখানে এসে অনেককে অপদস্ত হতে হয়। কখনো কখনো মেয়েদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করা হয়। কিছু বলতে গেলে উল্টা মারতে আসে। প্রশাসনের লোকদের চোখ ফাকি দিয়েই এরা এ সব কাজ করে বেড়ায়। এদের জন্য দিন দিন দর্শনার্থীর সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। কেল্লার পাশের এলাকার লোকমান নামে এক প্রবীণ ব্যক্তির সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, আগে এখানে অনেক দর্শনার্থী আসতো কিন্তু এখন তাদের সংখ্যা অনেক কম।  আরএ/এসি   

ঢাবি ভাস্কর্য বিভাগের ৫৫ বছর পূর্তিতে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য বিভাগের ৫৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দিনব্যাপী পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।শুক্রবার সকালে চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।বিভাগের অনারারি অধ্যাপক হামিদুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।দিনব্যাপী অন্যান্য অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে  প্রদর্শনী, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি।উল্লেখ্য, চারুকলা অনুষদের ভাস্কর্য বিভাগ ১৯৬৩ সালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের উৎসাহে অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে যাত্রা শুরু করে। আধুনিক ভাস্কর্যশিল্প শিক্ষা চর্চার ক্ষেত্রে এ বিভাগটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। এ বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে দেশে-বিদেশে ভাস্কর হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন।কেআই/  

চারুকলায় ছাপচিত্রের আন্তর্জাতিক মেলা শুরু

ছাপচিত্রে আঁকা যায় যা খুশি তা-ই। টেবিলে বিছিয়ে রাখা হয়েছে অসংখ্য ক্যানভাস। গ্যালারির দেয়ালেও ঝুলছে অজস্র ছবি। সে সব চিত্রপটে উদ্ভাসিত হয়েছে বিচিত্র বিষয়। দেশের নবীন-প্রবীণ ও প্রখ্যাত শিল্পীদের সেসব সৃষ্টিকর্ম সংগ্রহে কাউন্টারে ভিড় জমিয়েছে শিল্পানুরাগীরা। চারপাশে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। এভাবেই সূচনা দিনেই জমে ওঠে সাধারণের জন্য স্বল্পমূল্যে শিল্পকর্ম সংগ্রহের আয়োজনটি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদের জয়নুল গ্যালারিতে বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে সপ্তম আন্তর্জাতিক কিবরিয়া ছাপচিত্র মেলা। প্রধান অতিথি সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এ মেলার উদ্বোধন করেন। তিন দিনব্যাপী আয়োজিত এ মেলা চলবে ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। মেলা প্রতিদিন বিকাল তিনটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছাপচিত্র শিল্পী কালিদাস কর্মকারকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়। এসময় সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর তার হাতে পঞ্চাশ হাজার টাকার চেক ও ক্রেস্ট তুলে দেন। মেলায় অংশ নিয়েছে চারুকলা বিভাগ চালু থাকা দেশের সব কটি বিশ্ববিদ্যালয়। সেই সঙ্গে আছে ছাপচিত্র স্টুডিওসমূহ এবং দেশের বাইরের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানসহ মোট ২২টি প্রতিষ্ঠান। এতে উৎসাহিত হচ্ছে তরুণ ছাপচিত্রীরা। ঘটছে নবীনের সঙ্গে প্রবীণের সমন্বয়। সব মিলিয়ে দেশের ছাপচিত্রীদের প্রধানতম উৎসবে পরিণত হয়েছে এই মেলা। চারুকলা অনুষদের করিডরসহ ১ ও ২নং গ্যালারিতে সাজানো হয়েছে এই মেলা। সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকায় শিল্পানুরাগীরা সংগ্রহ করতে পারছেন নবীন থেকে প্রখ্যাতদের সৃজিত ছাপাই ছবি। বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, স্পেন ও অস্ট্রেলিয়ার ছাপচিত্রীদের ছাপচিত্র ঠাঁই পেয়েছে মেলায়। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মেলায় অংশ নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ছাপচিত্র বিভাগ, ভারতের শান্তিনিকেতনের বিশ্ব-ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিক্স আর্ট ডিপার্টমেন্ট ও কলকাতার রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাপচিত্র বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ছাপচিত্র বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাপচিত্র বিভাগ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাপচিত্র বিভাগ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাপচিত্র বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগ, ইউডা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাপচিত্র বিভাগ। সংগঠনের মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ইমপ্রেস প্রিন্টমেকিং স্টুডিও ও ব্রিসবেন গ্যালারি, দিল্লির মাল্টিপল এনকাউন্টার, স্পেনের সিডি এডিশন্স, সফিউদ্দীন বেঙ্গল প্রিন্টমেকিং স্টুডিও, ঢাকার কারখানা আর্ট স্পেস, কসমস আতেলিয়ার ৭১ , বাংলাদেশ প্রিন্টমেকারস স্টুডিও ইত্যাদি। একে/

ঋতু রাজ বসন্তের আগমন

পহেলা ফ্লাগুন আজ। প্রকৃতি সেজে উঠছে নানা রঙে। ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে প্রকৃতির মতো মানুষের মনেও ছড়িয়ে পড়ে বসন্তের রঙ। বসন্তকে বরণ করে নিতে তাই প্রকৃতির রঙে রঙ মিলিয়ে সবাই মেতে ওঠে উৎসবে। ‘ফুল ফুটুক-আর নাই বা  ফুটুক-আজ বসন্ত।’ বাঙালির প্রিয় কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় বসন্তকে প্রতিভাত করে গেছেন এই একটি বাক্যেই। বসন্ত আজ এসেছে ফুলবনে, পাতায় পাতায় পল্লবে, পল্লবে।  ডালে ডালে পলাশ, শিমুল আর বকুলের সৌরভে শীতের ঝড়া পাতার মর্মরে মর্মরে আজ থেকে ধ্বনিত হবে বসন্তের কোকিলের কহু কহু  তান। পৌষ আর মাঘের শীতার্ত দিনগুলোর পরে ফ্লাগুন মাসের প্রথম দিনে বাঙালি বরণ করে নেবে তাদের প্রিয় বসন্তকে। বাঙালি ললনার পরনে হলুদ রঙের শাড়ীতে লাল পাড় আর তরুণ-যুবাদের হলুদ পাঞ্চাবী, কোর্তা গায়ে দিয়ে বসন্তের প্রথম দিনে আজ জমজমাট হয়ে উঠবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির চত্বর, শাহবাগ আর রমনার সবুজ প্রান্তর। ‘আজি নব বসন্তের প্রভাতের লেশমাত্র ভাগ আনন্দের / লেশমাত্র ভাগ, আজিকার কোনো ফুল/ বিহঙ্গের কোনো গান/ আজিকার কোনো রক্তরাগ/ অনুরাগে সিক্ত করি পারিবো কি পাঠাইতে তোমাদের তরে!’ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালি জাতির কাছে  বসন্তের প্রথম দিনটিকে এভাবেই সম্বোধন করে গেছেন আজ থেকে এক শ’ বছর আগে। আজ বেজে উঠবে সুরে সুরে  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের  সেই গান‘ফুলে ফুলে দুলে দুলে বহে কে বা মৃদু বায়ে/ কে জানে কিসের লাগি প্রাণ করে হায় হায়।’ রেকর্ডে বেজে উঠবে লতা মুঙ্গেশকরের সেই গান-‘পাখি আজ কোন সুরে গায়/ কোকিলের ঘুম ভেঙে যায়/ আজ কোনো কথা নয়/ শুধু গান/ আরো গান/ আজ বুঝি দু’জনের মন/ কতো সুরে করে আলাপন/ আজ কোনো কথা নয়/ শুধু গান আরো গান...।’   আর/টিকে

একুশের চেতনায় কবিতা আবৃত্তি ও সাহিত্য সভা

ভালবাসার গান কবিতা ও গল্পকথা সংগঠনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে "অমর একুশের চেতনায় কবিতা আবৃত্তি ও আলোচনা সভা” অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে চট্টগ্রামের চকবাজারস্থ চারচক্কা রেস্টুরেন্টে  এ সভার আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি লেখক, মাসিক দ্বীন দুনিয়ার গবেষক ও সম্পাদক জাফর উল্লাহ বলেন, শুদ্ধ সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চা ও বিকাশ সাধনের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ভালবাসার গান কবিতা ও গল্পকথা পরিবার। গ্রামে গঞ্জে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কবি ও সাহিত্যিকদের তুলে আনার এক সেতু বন্ধন তৈরি করেছে এই সংগঠনটি। আমি এই সংগঠনের উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করছি। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির পরিচালক মাসুদ পারভেজ বলেন, ভালবাসার গান কবিতা ও গল্পকথা পরিবর “শুদ্ধ সংস্কৃতির চর্চা ও বিকাশ সাধন আমাদের লক্ষ্য” এই স্লোগানকে  সামনে রেখে বহুমুখী স্বপ্নযাত্রা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এই স্বপ্নযাত্রার সহযাত্রীরা সারা দেশে এমনকি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থেকে স্বপ্ন বুনে যাচ্ছে। এই সংগঠন সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি মানবিক কাজেও এগিয়ে যাচ্ছে। যার ধারাবাহিকতায় রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বিতরন ও শীতার্থ মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ সহ বিভিন্ন আর্তমানবতার সেবাই এগিয়ে যাচ্ছে ভালবাসার গান, কবিতা ও গল্পকথা পরিবার। উক্ত সংগঠনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সমন্বয়ক সিনিয়র শিক্ষিকা ও কবি আবেদা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে  অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির পরিচালক তুষার আহাম্মেদ, পরিচালক তফসির কিং, প্রকৌশলী রফিক, এডভোকেট মুজিবুর রহমান, বশির আহমেদ সহ অন্যান্য সদস্য বৃন্দ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে আগামী মাসে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান কিভাবে সম্পন্ন করা যায় এই নিয়ে একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়। এমএইচ/টিকে

বই মেলায় পেন্সিলের নয় বই

অমর একুশে গ্রন্থমেলায় নয়টি বই নিয়ে এসেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকভিত্তিক গ্রুপ পেন্সিল। এর মধ্যে জাগৃতি প্রকাশনীর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার পুরস্কারপ্রাপ্ত বই সাতটি। এছাড়া একটি পেন্সিল-উদ্যোগে মেলায় এসেছে গ্রুপ এডমিন তরুণ কথাসাহিত্যিক মাহরীন ফেরদৌসের গল্পগ্রন্থ- গল্পগুলো বাড়ি গেছে ও গ্রুপ সদস্যদের লেখা নিয়ে সংকলন গ্রাফাইটের গুঞ্জন। সংকলনটিতে প্রায় দেড় শতাধিক সদস্যের লেখা-কবিতা, গল্প, ভ্রমণকাহিনী, নিবন্ধ ও শিশুতোষ লেখা স্থান পেয়েছে। পেন্সিল-উদ্যোগের বই নয়টি পাওয়া যাচ্ছে একুশে বইমেলায় জাগৃতি প্রকাশনীর স্টলে। আর ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাওয়া যাবে চট্টগ্রাম বইমেলায়, মুসলিম হল প্রাঙ্গণে পেন্সিল স্টলে। পুরস্কারপ্রাপ্ত বই সাতটি হলো নাঈমা পারভীন অনামিকা`র গল্পগ্রন্থ বনলতা নই, দেবদ্যুতি রায়ের আড়াল, স্মৃতি ভদ্রের অলোকপুরীর ডাক, সালমা সিদ্দিকা`র গল্পটা কাল্পনিক, ইমরান নিলয়ের ইঙ্গিত, নুরুল চৌধুরী`র এক মুঠো গল্প এবং শেখ মুকিতুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ ফিরতে হবে? নবীন এই সাত লেখকের মধ্যে সালমা সিদ্দিকা পেয়েছেন প্রথম ফয়সল আরেফিন দীপন স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার। এমন স্বীকৃতিতে অভিভূত পেন্সিল গ্রুপের জনপ্রিয় এই গল্পকার বলেন, `লেখা জমা দেওয়ার সময় একবারও মনে হয়নি পাণ্ডুলিপিটি নির্বাচিত হবে। বিভিন্ন সময়ে লেখা পুরানো গল্প আর একেবারে নতুন কিছু লেখা এই সুযোগে একসাথে গোছানো হবে সেটাই ছিলো মূল উদ্দেশ্য। সেজন্য পুরস্কার ঘোষণার মুহূর্তে এতটাই অবাক হয়েছিলাম যে কি বলবো বুঝতে পারিনি। নতুন লেখকদের জন্য এমন অভাবনীয় সুযোগ করে দিয়েছে পেন্সিল এবং জাগৃতি। আমি শুধুই লেখাটা জমা দিয়েছি, বাকি সব কাজ করেছে পেন্সিল। পেন্সিল যদি এভাবে কাজ করতে থাকে ভবিষ্যতে আরো অনেক প্রতিভা আমরা খুঁজে পাবো, আমি নিশ্চিত।` প্রাণের মেলায় প্রথম বই প্রকাশ- অনুভূতি জানাতে গিয়ে পুরস্কারপ্রাপ্ত যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী তরুণ গল্পকার স্মৃতি ভদ্র বলেন, `ছাপাঘরের আঁধার পেরিয়ে নিজের লেখা যখন নতুন বইয়ের সোঁদা গন্ধ গায়ে মেখে, মলাটবদ্ধ হয়ে লেখকের সামনে হাজির হয়; তখন সেই অনুভূতির ছবি আঁকতে ঠিকঠাক শব্দ খুঁজে পাওয়া যায় না। আর নতুন লেখক হিসেবে তো তা পৃথিবী জয়ের শামিল। পেন্সিল-জাগৃতি প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা এক্ষেত্রে আমার মতো নতুন লেখকের স্বপ্নপুরণে সারথী হয়ে কাজ করেছে।` শেখ মুকিতুল ইসলাম- কবি। পুরস্কারপ্রাপ্ত সাত বইয়ের মধ্যে একটাই কাব্যগ্রন্থ, সেটি তার- ‘ফিরতে হবে?’। তিনি বলেন, `পেন্সিল নামের সাহিত্য গ্রুপের জমিনে যে অনুভুতি বৃক্ষের শেকড়টা ছড়িয়ে পড়েছে সে অনুভুতির বৃক্ষ ডাল পালা ছড়িয়ে মহীরুহ হয়ে উঠছে এবং উঠবে। কারণ, জমিনটা যে খুব উর্বর। তাই সেই ভালবাসার শেকড়ে আটকে থেকেই ভালো লাগা এখন আকাশ ছোঁয়ার পথে।` পুরস্কারপ্রাপ্ত গল্পগ্রন্থ ইঙ্গিত-এর লেখক ইমরান নিলয় বলেন, `নিজের প্রথম বই প্রকাশের সঙ্গে ফয়সাল আরেফিন দীপনের নামটা জড়িয়ে আছে, এটা একটা ভালোবাসার ব্যাপার। পেন্সিলের মতো চমৎকার একটা জগতকে সাথে পাওয়াটাও ভীষণ আবেগের। সবমিলিয়ে এই আনন্দটুকু প্রকাশের শব্দ খুঁজে পাওয়াই একটু জটিল। ভালো লাগা মাপার কোনো যন্ত্র নেই।` এই নবীন লেখকদের প্রথম বই প্রকাশের স্বপ্ন পূরণের চিন্তা থেকেই একুশে বই মেলায় `একটি পেন্সিল উদ্যোগ`- এমনটা জানান দেড় বছর বয়সী অর্ধলক্ষাধিক সদস্যের ফেসবুক গ্রুপ পেন্সিল-এর এডমিন মোহাম্মদ আনোয়ার। একুশে টিভি অনলাইনকে তিনি বলেন, `জাগৃতি প্রকাশনীর আন্তরিক সহায়তায় `পেন্সিল-জাগৃতি প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার` মাধ্যমে প্রায় দেড়শ` পান্ডুলিপির মাঝ থেকে সাতজন লেখকের বই উপহার দেয়া এবারের একুশে বইমেলার পাঠকদের। বইমেলার একেবারে শুরুতেই পেন্সিল ফতুয়া, কবিতা লেখা শাড়ি পরা পাঠকরা প্রমাণ করেছে একটি বই বিপ্লবের সূচনা হয়ে গেছে গ্রুপ সদস্যদের মাধ্যমে। পেন্সিল এনেছে পেন্সিলের কবি-লেখকদের গল্প-কবিতা নিয়ে সংকলন গ্রাফাইটের গুঞ্জন। এই লেখকদের অনেকেই পরের বইমেলায় একক বই উপহার দেবেন আশা করে ইতালী প্রবাসী এই তরুণ সাহিত্য অনুরাগী সংগঠক স্বপ্ন দেখেন, বইবিপ্লবের; আলোর পথে সম্মিলিত যাত্রার।` এমজে/

এখনও জমে ওঠেনি বইমেলা

১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া অমর একুশে গ্রন্থমেলা আজ পাঁচদিন অতিক্রম করলেও এখনো আশানুরূপভাবে জমে উঠেনি বলে জানালেন মেলায় অনেক প্রকাশক। এজন্য কর্তৃপক্ষের ভুল সিদ্ধান্তকেই দায়ি করলেন প্রকাশনীগুলো। মেলা শুরু হওয়ার পাঁচদিন অতিক্রম করলেও এখনো পর্যন্ত অনেক স্টল নির্মাণ ও আলোকসজ্জার কাজ শেষ হয়নি। যা মেলার সৌন্দর্য নষ্ট করছে বলে বিভিন্ন স্টল কর্তৃপক্ষের অভিমত। মেলায় কোন তথ্যকেন্দ্র নেই। একটি মাত্র তথ্য কেন্দ্র আছে বাংলা একাডেমীর বর্ধমান হাউসে। এটি দূরত্বের কারণে মেলায় আগত ক্রেতাদের কোন উপকারে লাগছে না বলে অভিযোগ করলেন ইত্যাদি প্রকাশনের জিতু। জিতু আরও বলেন, তথ্যকেন্দ্রের অভাবে একদিকে যেমন ক্রেতারা স্টল নির্দিষ্ট স্টল খুঁজে পায় না তেমনি কোন কোন প্রকাশনী এবার কী কী বই আনছে তা নিয়ে সহজে জানার কোন উপায় নেই। তবে বাঙালি প্রকাশনের নুসরাত জাহানের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন রকম। তিনি বলেন, রাত সাড়ে আটটায় মেলার গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে কর্মজীবী মানুষ মেলায় আসতে পারছে না। অথচ রাত ৯টার পরেই সবচেয়ে ভাল বেচা কেনা হওয়ার কথা। জোনাকী প্রকাশনির কাজী গিয়াস উদ্দিনও মেলার গেট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার পক্ষে।  একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে কাজী গিয়াস উদ্দিন বলেন, অন্যান্য বছর এরকম দিনে দৈনিক ১৫ থেকে ২০ হাজার  টাকার বই বিক্রি হলেও এবার এখনো সাত আট হাজার টাকার বেশি বই বিক্রি করতে পারছি না। কেন পারছেন না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলা একাডেমী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহবাগের আশেপাশের এলাকা ছাড়া অন্যান্য এলাকার মানুষ এখনো জানেই না বইমেলার কথা। খান ব্রাদার্সে কর্মরত তোতামিয়ার চোখে মুখেও অনেকটা হতাশা। তিনি বলেন, আমাদের একাডেমিক বই বেশি। অন্যান্যবার এসময়ে মেলা যতোটা জমজমাট থাকতো এবার এখনো তেমন হচ্ছে না। তবে আমি আশা করছি খুব শিগগিরই মেলা জমজমাট হয়ে উঠবে। গ্রন্থমেলা নিয়ে বাংলা একাডেমীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন বাতিঘর প্রকাশনীর দীপঙ্কর। তিনি বলেন, বাণিজ্য মেলা বা সরকারি-বেসরকারি অন্যান্য ইভেন্ট নিয়ে বিভিন্ন প্রচারমাধ্যম যতোটা ব্যস্ত থাকে বইমেলা সে বিবেচনায় কোন প্রচার থাকে না। ঢাকা শহরে বইমেলা নিয়ে কোন ব্যানার বিলবোর্ড নেই। টিভি চ্যানেলগুলোতে নির্দিষ্ট খবরের বাইরে বইমেলা নিয়ে কোন আলাদা অনুষ্ঠান নেই। ফলে বইমেলা আশানুরূপ জমে উঠছে না। মেলায় বই কিনতে এসেছেন ফৌজিয়া হাসনাত ও মিষ্টি বড়ুয়া। কাকলী প্রকাশনীর সামনে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় তাদের। তারা মনে করেন এখনো হুমায়ুন আহমেদ তাদের পছন্দের শীর্ষে। তবে সবজায়গায় মাত্র ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ায় সন্তুষ্ট নন তারা। দুজনেই একসঙ্গে বলেন, বাইরে সব লাইব্রেরিতে সারা বছর ২৫ শতাংশ ছাড় দেয়। তাহলে মেলার বিশেষত্ব কী? তবে মেলায় বিকাশে লেনদেন করার সুবিধা থাকাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন তারা। ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শুধু অমর একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে ঢাকায় এসেছেন। তিনি বলেন,  ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে দেশের প্রতিটি জেলা উপজেলায় বড় পরিসরে বইমেলা আয়োজনে উদ্যোগ নেওয়া উচিত। বাংলা একাডেমীর পরিচালক মোবারক হোসেন কে মেলার গেট তাড়াতাড়ি বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাত ৯টার আগে কখনো বন্ধ হয় না। এরপরও প্রকাশক বা ক্রেতারা অভিযোগ করলে বিবেচনা করে দেখা হবে। বর্ধমান হাউসের তথ্যকেন্দ্রটি মেলার জন্য পর্যাপ্ত নয়- এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, এ বিষয়টি আমি মেলা কমিটি ও বাংলা একাডেমীকে জানাব।   আর/এসএইচ

‘ছোট মানুষ দিয়ে বড় জাতি হয়না’

ছোট মানুষ দিয়ে কখনো বড় জাতি তৈরী হয়না। মানুষ কে বড় হতে হলে তার হৃদয় বড় হতে হয়। আর হৃদয় বড় করার জন্য বই পড়ার বিকল্প নেই। সোমবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় যাদুঘরে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আলোচক হিসেবে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, মানুষ আলাদা আলাদা ভাবে চিন্তা করেছে, লিখেছে। কিন্তু সব ধারণ করেছে লাইব্রেরী। তাই মহাকালকে ধারন করার জন্য লাইব্রেরীর বিকল্প নেই। তিনি বলেন, ঢাকা শহরে সবচেয়ে বেশি দোকান হচ্ছে খাবারের। মাঠ, ঘাট, পার্ক নেই। বিনোদনের জন্য মানুষ ছুটছে খাবারের দোকানে, কাপড়ের দোকানে। এটা সভ্যতার জন্য ভাল লক্ষণ নয়। মানুষের চিন্তার আশ্রয় হতে পারে বই। তিনি আরো বলেন, পাঠকরাই পৃথিবীর পরিবর্তন ঘটায়। বই হচ্ছে সেটাই যেটা মানুষকে তার চাইতে বড় করে। দূরকে দেখতে পায়। পৃথিবীকে পরিবর্তন করে। উল্লেখ্য দেশে প্রথমবারের মতো পালিত হচ্ছে জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস। গত ৩০ অক্টোবর মন্ত্রীসভা দিনটিকে গ্রন্থাগার দিবস হিসেবে পালনের জন্য অনুমোদন দেয়। পরে মন্ত্রীপরিষদ সেটি গেজেট আকারে প্রকাশ করে।    

অসাম্প্রাদায়িকতা রুখতে কবিতা

জঙ্গিবাদ ও  অসাম্প্রাদায়িকতা রুখতে কবিতার মাধ্যমে সোচ্চার হওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কবি, সাহিত্যিক ও লেখকরা। এসময় তারা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের আর্দশে দেশ গড়তে  কবিতা, গল্প ও সাহিত্যের কোনো বিকল্প নেই। ‘দেশহারা মানুষের সংগ্রামে কবিতা’ এই শ্লোগানে  গত বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি চত্বরে শুরু হয় দুই দিনব্যাপী জাতীয় কবিতা উৎসব। আজ রাত ১০টার দিকে অনুষ্ঠাটি শেষ হতে যাচ্ছে। এবছরও বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১০টি দেশের বিশিষ্ট কবিগণ এতে অংশ নিয়েছেন। কবিতা পাঠ, আবৃত্তি ও মুক্ত আলোচনা মাধ্যমে শেষ হয় প্রথম দিন। দ্বিতীয় দিন আজ শুক্রবার  সকালে ১১টায় নূহ-উল- আলম লেনিন এর সভাপতিত্বে ‘আমদের মুক্তিযুদ্ধ ও আমাদের কবিতা’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগরে শিক্ষক অধ্যাপক ড. রফিকউল্লাহ খান। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, কবি আবুল হাসনাত, সৈয়দ আজিজুল হক প্রমুখ। শৃঙ্খল মুক্তির ডাক দিয়ে সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানিয়ে কবিরা বলেন, দেশহারা মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা বাংলাদেশসহ বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই এবারের কবিতা উৎসবের শ্লোগান-দেশহারা মানুষের সংগ্রামে কবিতা। জাতীয় কবিতা উৎসবের মর্মবাণীতে, কবিতায়, গানে ও কথামালায় তুলে ধরা হয়েছে দেশহারা মানুষের সংগ্রামের কথা, থাকছে তাদের প্রতি সকলের গভীর সহমর্মিতার । মুক্ত আলোচনায় ভারত, সুইডেন, যুক্তরাজ্য, ক্যামেরুনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা বিশিষ্ট কবিরা জানান কবিতা উৎসব নিয়ে তাদের ভালবাসার কথা। এ উৎসবে প্রবন্ধ উপস্থাপন, আলোচনা, সেমিনারসহ ছিলো কবিতা পাঠের আয়োজন। ভিনদেশীদের স্বরচিত কবিতা পাঠ এবং বাংলা ভাষা ব্যবহারের চেষ্টাও মুগ্ধ করে দর্শক শ্রোতাদের।   টিআর/টিকে

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি