ঢাকা, শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭ ১১:৫৩:৩১

আহসান হাবীবের জন্মশত বর্ষ উদযাপিত

আহসান হাবীবের জন্মশত বর্ষ উদযাপিত

স্মৃতিচারণ, গান ও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে কবি আহসান হাবীবের জন্মশতবর্ষ উদযাপন করেছে আবৃত্তি একাডেমি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এই উপলক্ষে শুক্রবার  সন্ধ্যা ৭ টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ‘জাতীয় সংগীত, নৃত্যকলাও আবৃত্তি মিলনায়তনে আলোচনা আবৃত্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সংগঠনটি। অনুষ্ঠানে কবি আহসান হাবীবের কবিতা নিয়ে আবৃত্তি প্রযোজনা ‘এই দেশ এই মৃত্তিকা’ পরিবেশন করা হয়। আবৃত্তিশিল্পীরা নৈপুণ্যময় আবৃত্তির মাধ্যমে শ্রোতাদের শ্রুতি-অনুভবে এবং চোখের সামনে কবিতার রূপায়িত দৃশ্যকে উপস্থাপন করেন। আবৃত্তিশিল্পীরা আহসান হাবীবের জীবন ও কর্মের মূল্যায়ন এবং বাংলাদেশের সমাজ ও সাহিত্যের উপর তার প্রভাব নিয়ে গবেষণার জন্য তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে কবি আহসান হাবীবকে নিয়ে চর্চা করতে উদ্যেগী হওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।   অনুষ্ঠানে ‘আবৃত্তি একাডেমি’ সংগঠনের বাহিরে থেকেই এসেছিল আমন্ত্রিত আবৃত্তিশিল্পীরা। / এআর /    
যাত্রাশিল্প উন্নয়নে দল বাছাইয়ের আজ দ্বিতীয় দিন

আবহমান বাংলার ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে যাত্রাদল নিবন্ধনের লক্ষে ৯ম যাত্রানুষ্ঠান ২০১৭ এর আজ দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হয়েছে কাশের মালা, কলঙ্কিনি বধু এবং বাহরাম বাদশা। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের ব্যবস্থাপনায় তিন দিনব্যাপী জাতীয় নাট্যশালা ‍স্টুডিও থিয়েটার হলে গতকাল মঙ্গলবার শুরু হওয়া অনুষ্ঠানের শেষ হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। যাত্রাপালাগুলো প্রতিদিন বিকাল ৪ টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট পযর্ন্ত প্রদর্শিত হয়। যাত্রাপালাগুলো দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। সেট ডিজাইনার সমন্বয়কারী পূর্ণলাক্ষ চাক্‌মা ইটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘যাত্রাপালা আবহমান বাংলার ঐতিহ্য সংস্কৃতির অংশ। কিন্তু মাঝখানে ধোঁয়শার সৃস্টি হয়েছিলো। অর্থাৎ যাত্রার এ ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছিল। তাই আমরা প্রতি বছর এই ‍সময় সারা বাংলাদেশ থেকে যাত্রাদল খুঁজে নিবন্ধন দিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকি।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘যাত্রাকে কিভাবে আরও উন্নত করা যায় সেটা আমরা চেষ্টা করছি। তাই ২০১২ সালে যাত্রা বিষয়ে যে নীতিমালা তৈরি হয়েছে আমরা সে নীতিমালা অনুসরণ করেই আমরা আমাদের কাযর্ক্রম পরিচালনা করছি।’ যাত্রাশিল্পী উন্নয়ন কমিটির প্রতিপালায় তিনজন সম্মানিত সদস্য উপস্থিত থেকে যাত্রাপালা মূল্যায়ন করে এবং তাদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে যাত্রাদলগুলোকে নিবন্ধন প্রধান করা হয়। সম্মানিত বিচারক হিসেবে থাকছেন, রামেন্দু কান্তি দে, এস এম মহসীন, তাপস সরকার, ভিক্টর ড্যানিয়েল এবং মো: বদরুল আনম ভূঁইয়া প্রমুখ। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ইতোমধ্যে ৮টি পর্যায়ে ১০১টি যাত্রাদলকে নিবন্ধন প্রধান করেছে।   টিকে

পালিত হলো ওয়ার্ল্ড টয়লেট ডে

সারাবিশ্বে এখনও ৩৭ শতাংশ জনগণ পরিচ্ছন্ন টয়লেট-এর সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাই সুবিধাবঞ্চিত এ সব মানুষদের পরিচ্ছন্ন টয়লেট এর সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে ২০০১ সাল থেকে ওয়ার্ল্ড টয়লেট অর্গ্যানাইজেশন দিবসটি পালন করছে ওয়ার্ল্ড টয়লেট ডে। ২০১৩ সাল থেকে জাতিসংঘও দিনটিকে ‘ওয়ার্ল্ড টয়লেট ডে’ হিসেবে ঘোষণা দেয়। আর এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও পরিচ্ছন্ন টয়লেটের ব্যবহার এবং সুষ্ঠু পয়ঃনিষ্কাশন-এর প্রয়োজনীয়তা ও সুবিধা সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘টয়লেট ডে ২০১৭-এ আমাদের অঙ্গীকার, পারফেক্ট হোক টয়লেট ব্যবহার’ স্লোগান নিয়ে রোববার কাজী এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেডের পণ্য হারপুন লিকুইড টয়লেট ক্লিনার-এর উদ্যোগে পালিত হলো ‘ওয়ার্ল্ড টয়লেট ডে’। দিনের শুরুতেই ঢাকা ইউনিভার্সিটির টিএসসি মিলনায়তনের সামনে থেকে শুরু হয় গণসচেতনতামূলক র‌্যালি। বেলুন এবং কবুতর উড়িয়ে উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। প্রোক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী এবং টি.এস.সি মিলনায়তন-এর পরিচালক এ. এম. এম. মহিউজ্জামান চৌধুরী (ময়না), কাজী এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেডের হেড অফ সেলস সোহেল হাওলাদার এবং ব্র্যান্ড ম্যানেজার সাজফিনা সিরাজসহ আরও অনেকে এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান কাজী বলেন, বাংলাদেশে সবাই যাতে সচেতনভাবে টয়লেট ব্যবহার করতে পারে সেই জন্যই বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবার বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে ওয়ার্ল্ড টয়লেট ডে। যাদের বাসার টয়লেট পরিষ্কার থাকে তারা জানে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে জীবনযাপনের উপায়। এ ধরনের দিবস পালনের মধ্যে দিয়েই সবাই আস্তে আস্তে সচেতন হয়ে উঠবে পরিবেশ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে। তাই তিনি আবারও উপস্থিত কাজী এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেড এর সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে দিবসটির অন্যান্য কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন স্থানের বেশকিছু পাবলিক টয়লেট-এর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলে সকাল থেকে দিনের শেষ পর্যন্ত। দিনব্যাপী সচেতনতামূলক স্টিকার বিতরণের মাধ্যমে ঘরে ঘরে, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, লঞ্চ ও বাস টার্মিনালসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেওয়া হয় পরিচ্ছন্ন টয়লেট ব্যবহার এবং সুষ্ঠ পয়ঃনিষ্কাশন-এর বার্তা। এসএইচ/

ভাঙল বিশ্ব সাহিত্যের মিলনমেলা

তিন দিনের নানা কর্মসূচি শেষে আজ শনিবার সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক সাহিত্যের অন্যতম আসর ৭ম ঢাকা লিট ফেস্টে’র পর্দা নেমেছে। এ সময় দেশি-বিদেশী লেখক, কবি, চিন্তাবিদ, পাঠক, দর্শনার্থীসহ আয়োজকদের চোখ অনেকটা অশ্রুসজল হয়ে উঠে। তবুও সময়ের গতিধারা মেনে নিয়ে সবাই বিশ্ব সাহিত্যের মেলবন্ধনের আনন্দঘন পরিতৃপ্তি নিয়ে বাসায় ফিরেন। রাজধানীর বাংলা একাডেমির বিভিন্ন মিলনায়তনে আজ দিনভর ৩১টি সেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৯টায় সঙ্গীতানুষ্ঠানের মাধ্যমে লিট ফেস্টের তৃতীয় তথা শেষ দিনের যাত্রা শুরু হয়। এরপর দিনভর আলোচনা, আড্ডা ও কবিতা আবৃত্তি চলে। আড্ডা অনুষ্ঠানের মধ্যে শিশু-কিশোরদের জন্য গল্পের আসরটি অনেকেরই দৃষ্টি কেড়েছে। এতে বিভা সিদ্দিকি ও ফারজানা আহমেদের স্নিগ্ধ কণ্ঠে রঙিন বইয়ে পাতায় চোখ রেখে মুগ্ধ হয়ে গল্প শোনে শিশুরা। বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে সকাল ১০টায় এ আসর শুরু হয়। নজরুল মঞ্চের বটতলায় পাখ-পাখালির কাকলিতে শিশুদের পড়ে শোনানো হয় ‘বংকু দা সুপার ডগ’ ও  বনের গল্প’। কথকদের উপস্থাপনায় শিশুরা এ সময় গল্পের ভুবনে হারিয়ে যান। গল্প শেষে শিশুদের জন্য ছিল প্রশ্নোত্তর পর্ব। অনুষ্ঠানে আগত বিভিন্ন স্কুলের শিশুরা এ সময় লেখকদের মজার মজার সব প্রশ্ন করে। শিশুদের জন্য আরেকটি সেশনও সবাইকে মুগ্ধ করে।  ম্যাজিক অব ম্যাথ শীর্ষক এ সেশনে খুবই মজার এবং খেলার ছলে অঙ্ক শিখে শিশুরা। বাংলা একাডেমির কসমিক টেন্টে এ সেশন অনুষ্ঠিত হয়। শাহরিয়ার রহমানের উপস্থাপনায় এতে অংশ নেন ইমরান আহমেদ ও শ্রাবন্তী দত্ত। সকাল সোয়া ১১টা থেকে সোয়া ১২টা পর্যন্ত ‘টকি টাম্বল’ নামের আরেকটি সেশনে গল্প শুনিয়ে শব্দের খেলায় শিশুদের চমৎকার কিছু সময় উপহার দেন ভারতীয় অভিনেত্রী, লেখক ও শিশু অধিকারকর্মী নন্দনা দেবসেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি শিশুতোষ কার্টুন দেখানো হয়। এরপর নন্দনা শিশুদের জন্য তার লেখা ‘টকি টাম্বল অব জামবেল ফার্ম’ থেকে গল্প ও গল্প বলার ছলে শব্দ শেখার খেলায় সবাইকে মাতিয়ে রাখেন। এ সেশনে নন্দনা তার পরিবারের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক অনেক পুরনো উল্লেখ করে বলেন, ‘বাবা অর্মত্য সেন ঢাকায় অনেক বছর ছিলেন।’ লিট ফেস্টের মঞ্চে আগত এক শিশুর সঙ্গে নন্দনা দেবসেন আজকের সেশনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল ‘উইমেন, আর্ট অ্যান্ড পলিটিকস’। সকাল ১০টায় বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ‘উইমেন, আর্ট অ্যান্ড পলিটিকস’ শীর্ষক সেশনটি অনুষ্ঠিত হয়। সেশনটি সঞ্চালনা করেন বি রাওলাট। এতে অংশ নেন লেখক ও অভিনেতা এস্থার ফ্রয়েড, স্পোকেন ওয়ার্ড আর্টিস্ট বিগো চিওল, লেখক ও অভিনেতা নন্দনা সেন এবং কবি-লেখক ও লিট ফেস্টের অন্যতম উদ্যোক্তা সাদাফ সায্। সেশনের শুরুতেই বাংলাদেশের সমাজে-রাজনীতিতে নারীদের অবস্থান নিয়ে কথা বলেন সাদাফ।। তিনি বলেন, ‘যত দিন যাচ্ছে, বাংলাদেশের নারীরাও তত কর্মমুখী হয়ে উঠছেন। ১৯৭১ সালে এ দেশের নারীদের সবচেয়ে বড় ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর কাছে চার লাখ নারী ধর্ষণের শিকার হন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাষ্ট্র সম্মানজনক স্বীকৃতি দিলেও সামাজিক অবস্থানের কারণে তাদের সমস্যার মুখে পড়তে হয়। তাই এ বিষয়ে আমাদের আরো সচেতন হতে হবে।’ বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান মিলনাতায়নে ‘ভাষার রাজনীতি, ভাষার অর্থনীতি’ শিরোনামে আরেকটি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। কথাসাহিত্যিক হামীম কামরুল হকের সঞ্চালনায় এ সেশনের আলোচনায় অংশ নেন পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ লেখক কিন্নর রায়, সেবন্তি ঘোষ প্রমুখ। সেবন্তি ঘোষ বলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশে বাঙালি রয়েছে। কিন্তু তারাও সেখানে বাংলার চর্চা করছে না। সবাই ইংরেজিমুখী। কিন্তু মাতৃভাষাকে ভুলে গেলে চলবে না। নিজের ভাষাকে সঠিক চর্চার মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।’ বিকাল ৪টায় নজরুল মঞ্চে ‘স্বরচিত কবিতা’ সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এ সেশনে প্রায় ১০ জন কবি কবিতা আবৃত্তি করেন। এদের মধ্যে ছিলেন কলকাতার জনপ্রিয় কবি জহির সেন মজুমদার, জুয়েল মাজাহার, সজল আহমেদ প্রমুখ। বিকাল ৫টায় আরেক জনপ্রিয় কবি হেলাল হাফিজ তার অপ্রকাশিত দুটি কবিতা পাঠ করেন। তিনি অনেকটা অশ্রুসজল নয়নে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বিদায় নেন। এ সময় অগ্রিম আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী বছর আবারও লিট ফেস্টে আপনাদের সঙ্গে দেখা হবে। আপনারা এভাবে উপস্থিত হয়ে বৃহত্তর এ সাহিত্য আসরকে সাফল্যমন্ডিত করবেন।’   /ডিডি/ এআর    

সুরের মূর্ছনায় গানে গানে মুগ্ধতা ছড়ালেন আতিকুর রহমান

হেমন্তের সোনাঝরা সন্ধ্যায় সুরের মূর্ছনায়  গানে গানে মুগ্ধতা ছড়ালেন বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী আতিকুর রহমান। আজ শুক্রবার,১৭ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭ টায় রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে একক এ সংগীত সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে গুণী এ শিল্পীকে উত্তরীয় পড়িয়ে দেন আরেক কিংবদন্তী শিল্পী ফেরদৌস আরা।শিল্পীকে  ফুলেল শুভেচ্ছা জানান ভক্ত শ্রোতারা। আতিকুর রহমানের গাওয়া ১৭টি  গান নিয়ে হারমোনিয়াম নামে একটি সিডির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। আবদুল জব্বারের বিখ্যাত গান তুমি কি দেখেছো কভু জীবনের পরাজয়... কালজয়ী এই গান দিয়ে শুরু করেন অনুষ্ঠান। এরপর  মিলয়ানতন জুড়ে দর্শকের সুনসান নীরবতায় কাটে পুরো অনুষ্ঠান। অত্যন্ত আবেগ ঘন কিছু মুহুত্তে স্রোতারা ফিরে যান পুরনো দিনে। এরপরে একের পর এক গান গায়তে থাকেন শিল্পী। `` একটি মনের আশিক কাছে যখন এলে/ মেরা জীবন সাথী/ এত সুর আর এত গান/ সেদিনের সোনা ঝরা সন্ধ্যা/ ভালোবাসো তুমি/ ভোমরা ফুলের বনে মধু নিতে। কালজয়ী এসব গান শুনে দর্শকদের মোহিত করেন শিল্পী। নূরুজ্জামান মুন্নার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি বিচারপতি আশীষ রন্জন দাশ অনুভুতি প্রকাশ করে বলেন-`` ষাটের দশক থেকে এই শিল্পী আমাদের শুধু দিয়েই গেছেন।তার প্রতিভার আলোয় এদেশের  সুর -সংগীত আরও দীর্ঘজীবী হোক এই কামনা করছি। 

সব শ্রেণির পাঠকের জন্য ইংরেজিতে `মুজিব`: রেদোয়ান মুজিব

`ঢাকা লিট ফেস্টের` মঞ্চে উন্মোচিত হয়েছে গ্রাফিক নভেল `মুজিব`-এর ইংরেজি সংস্করণ। বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে `লিট ফেস্ট`র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন সিরিয়ার কবি আদোনিস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বইটির প্রকাশক ও বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র রেদোয়ান মুজিব সিদ্দিক। তিনি বলেন, `নতুন প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে গ্রাফিক নভেল মুজিবের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সব শ্রেণির পাঠকের কথা মাথায় রেখে এই নভেলের তিনটি বাংলা পর্ব প্রকাশের পর এবার প্রথম পর্বটি প্রকাশ করা হয়েছে ইংরেজিতে। বইটির ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় উভয় শ্রেণির পাঠকের কথা ভাবা হয়েছে।` একই স্থানে এর পর অনুষ্ঠিত হয় `মুজিব: টেকিং হিস্টোরি টু দ্য নেক্সট জেনারেশন` শীর্ষক আলোচনা পর্ব। এতে রেদোয়ান মুজিব সিদ্দিক ছাড়াও অংশ নেন গ্রাফিক নভেল `মুজিব`-এর কার্টুনিস্ট সৈয়দ রাশেদ ইমাম তন্ময়, যুক্তরাজ্যের `গ্রান্টা` জার্নালের অনলাইন সম্পাদক লুক নেইমা এবং ইউল্যাবের শিক্ষক আর্জু ইসমাইল। সঞ্চালনা করেন ভারতের কবি ও শিশুসাহিত্যিক জেরি পিন্টো। বঙ্গবন্ধুর `অসমাপ্ত আত্মজীবনী` অবলম্বনে গ্রাফিক নভেল `মুজিব` বারো পর্বে প্রকাশিত হবে জানিয়ে শেখ রেহানা তনয় বলেন, `আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন আমার স্কুলের বন্ধুদের কাছে নানার (বঙ্গবন্ধু) সম্পর্কে বিভিন্ন কথা বলতাম। কিন্তু তারা সেই সময় তার সম্পর্কে কোথাও কিছু খুঁজে পেত না। ছয় বছরের একটা ছোট শিশুর জন্য বিষয়টা মোটেও স্বস্তিদায়ক ছিল না। সে সময় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বা ইন্দিরা গান্ধী সম্পর্কে গ্রাফিক নভেল ছিল। আমিও ভাবতাম, আমার নানা সম্পর্কে এমন কিছু থাকলে বন্ধুদের হাতে তুলে দিতে পারতাম। কিন্তু তখন আমি অনেক ছোট। এর অনেক বছর পর ২০১১ সালে দেশে ফিরে এলাম। তখন আবারও আমার মাথায় এই ভাবনাটি উঁকি দেয়। নতুন প্রজন্মের কাছে তাকে তুলে ধরার এর থেকে ভালো আর কী উপায় হতে পারে?` রেদোয়ান মুজিব আরও বলেন, "গ্রাফিক নভেল তৈরি প্রসঙ্গে আমি প্রথমে আমার মা ও খালাকে (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) জানাই। তারা আমাকে কাজটি শুরু করতে বলেন। কাজটি সহজ ছিল না। এমন বড় মাপের একজন ব্যক্তি সম্পর্কে গ্রাফিক নভেল তৈরির ক্ষেত্রে আমাদের বেশ সাবধান থাকতে হয়েছিল। এর সবচেয়ে বড় `ক্রিটিক্যাল দুই পাঠক` হলেন বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে। আমাদের প্রাথমিক কাজ শেষে তাদের কাছে গ্রাফিক নভেলটি উপস্থাপন করা হলে অধিকাংশ বিষয়ে তারা সম্মতি দিলেও, বঙ্গবন্ধুর পিতার চুলের গঠন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। বর্তমানে আমরা যারা আছি, তারা কেউ কখনও বঙ্গবন্ধুর পিতার চুল দেখিনি। এমন বেশ কিছু সংশোধন শেষে আমরা গ্রাফিক নভেলের কাজটি শেষ করতে পেরেছি।" সৈয়দ রাশেদ ইমাম তন্ময় বলেন, `বিষয়টি স্বপ্নের মতো ছিল। এত বড় মাপের একজন মানুষকে আঁকতে গিয়ে নিজস্ব আঁকার স্টাইল পরিবর্তন করতে হয়েছে। সাধারণত কার্টুন চরিত্র আঁকি আমি। কিন্তু এখানে বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন বয়সের ছবির সঙ্গে মিলিয়ে আঁকার চেষ্টা করেছি। এর জন্য দীর্ঘদিন কাজ করতে হয়েছে আমাকে।` এসএইচ/

চলচ্চিত্রের মহরতে কুয়েতের রাষ্ট্রদূত

‘ভালোবাসি কতো বোঝাবো কেমনে’ ছবির মহরত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাভারে ডিপজলের শুটিং বাড়িতে এ মহরত অনুষ্ঠিত হয়। মহরতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কুয়েতের রাষ্ট্রদূত আদেল মোহাম্মদ হায়ৎ। তিনি কেক কাটার মাধ্যমে এ মহরতের শুভ উদ্ভোধন করেন। অনুষ্ঠানের ফাঁকে কুয়েতের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের ছবির মহরতে উপস্থিত হওয়া আমার জন্য বিশাল অভিজ্ঞতা। সংস্কৃতি মানুষের জন্য খুবই প্রয়োজন। এর মাধ্যমেই দেশ এগিয়ে যেতে পারে। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল। দীর্ঘ দিন চিকিৎসার জন্য দেশের বাহিরে ছিলেন অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল। বর্তমানে তিনি নিজ বাড়ীতে অবস্থান করছেন। মহরতে উপস্থিত থেকে তিনি ছবির সাফল্য কামনা করেন। এ ছবির নায়ক চরিত্রে অভিনয় করছেন জয় চৌধুরী। এ ছবি সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি এ পর্যন্ত অনেকগুলো ছবি করেছি। কিন্তু এই ছবির গল্পটি অনেক ভাল। বর্তমান সময়ে সিনেমার একটা সংকট চলছে। এই সংকটে ছবিটি ভাল করবে বলে আশা করি। নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করছেন রোমানা নীড়। তিনি বলেন, এটি আমার তৃতীয় ছবি। চেষ্টা করছি ভাল কিছু করার। বর্তমানে আমরা গানের শুটিং করছি। এ ছবির গল্পে আমাকে গ্রামের একজন মর্ডাণ মেয়ে হিসেবে দেখা যাবে। চেষ্টা করছি ভাল কিছু করার। বাকিটা দর্শক বলবে। গোল্ডেন ফিল্মস এর প্রযোজনায় ‘ভালোবাসি কতো বোঝাবো কেমনে’ চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করছেন এ কিউ খোকন। ছবিতে জয় চৌধুরী ও রোমানা নীড় ছাড়াও অভিনয় করছেন, সাদেক বাচ্চু, শিমুল খান, টাইগার রবি, সাংকো পাঞ্জা, খালেদা আখতার কল্পনা, রেবেকা, আনোয়ার সিরাজী, সোনা পাখিসহ আরো অনেকে। ডিপজলের বাড়িতে আগামী ২২ তারিখ পর্যন্ত টানা শুটিং চলার কথা রয়েছে।   এসি/          

জেমকন সাহিত্য সম্মাননা পেলেন মোহাম্মদ রফিকসহ চার লেখক

বাংলাদেশের সাহিত্য অঙ্গনের সবচেয়ে বড় সম্মাননা ‘জেমকন সাহিত্য পুরস্কার’ পেলেন চার লেখক। প্রবীণ কথাসাহিত্যিক মোহাম্মদ রফিক এবং তিন তরুণ লেখক ও কবি আশরাফ জুয়েল, মামুন অর রশিদ ও নুসরাত নুসিন পেয়েছেন এ বছরের ১২তম জেমকন পুরস্কার। আগের বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় এ বছরেও জেমকন পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে ‘ঢাকা লিট ফেস্টে’। আজ বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘ঢাকা লিট ফেস্ট ২০১৭’-এর প্রথম দিনের সন্ধ্যায় এ পুরস্কার ঘোষণা করেন জেমকন গ্রুপের পরিচালকও ও সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পুরস্কার পর্ষদের সদস্য সচিব কবি শামিম রেজা। প্রবীণ কথাসাহিত্যিক মোহাম্মদ রফিককে তার ‘দু’টি গাথাকাব্য’ কাব্যগ্রন্থের জন্য এ বছর পুরস্কৃত করা হয়েছে। পুরস্কার হিসেবে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় ৮ লাখ টাকার চেক, বই, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র; পরিয়ে দেওয়া হয় উত্তরীয়। এ বছর ‘তরুণ সাহিত্য পুরস্কার-২০১৭’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন যৌথভাবে আশরাফ জুয়েল ও মামুন অর রশিদ। তাদের প্রত্যেকেই পেয়েছেন ৫০ হাজার টাকার চেক, উত্তরীয়, বই, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র। আর প্রথমবারের মতো জেমকন পুরস্কারে যুক্ত হওয়া ‘তরুণ কবিতা’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয়েছেন তরুণ কবি নুসরাত নুসিন। ‘দীর্ঘ স্বরের অনুপ্রাস’ কাব্যগ্রন্থের পাণ্ডুলিপির জন্য তিনি পেয়েছেন ১ লাখ টাকার চেক, উত্তরীয়, বই, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন কাজী নাবিল আহমেদ । অনুষ্ঠানের শুরুতেই তিনি বলেন, ‘এই স্বনামধন্য চার সাহিত্যিক এই পুরস্কার গ্রহণ করেছেন- এতে জেমকন নিজেকে ধন্য মনে করছে। ভবিষ্যতেও আমরা এই ধারা অব্যাহত রাখব।’ কাজী নাবিল আরও বলেন, ‘জুরি বোর্ডের সদস্যদের মতামত নিয়ে এ বছর প্রথমবারের মতো তরুণ কবিতা শাখায় পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। তরুণদের জন্য এটা উৎসাহব্যঞ্জক হবে বলে আমরা আশা করি।’ জেমকন তরুণ কথাসাহিত্য পুরস্কারের জুরি ছিলেন কবি জহর সেন মজুমদার, কথাশিল্পী জাকির তালুকদার, কথাশিল্পী আকতার হোসেন, অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ ও কথাশিল্পী বল্লরী ঘোষ। জেমকন সাহিত্য পুরস্কারের জুরি ছিলেন অধ্যাপক সৈয়দ আকরম হোসেন, নন্দনতাত্ত্বিক তপোধীর ভট্টাচার্য, কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন, কথাশিল্পী কিন্নর রায় ও কথাশিল্পী মইনুল আহসান সাবের। জেমকন তরুণ কবিতা পুরস্কারের জুরি ছিলেন কবি খালেদ হোসাইন, কবি কুমার চক্রবর্তী, কবি আসাদ মান্নান, কবি সেবন্তি ঘোষ ও কবি বিভাস রায় চৌধুরী ।   একে//  

নগরে এলো নবান্ন

নগর জীবনে ব্যস্ততার ভিড়ে গ্রাম-বাংলার ফসল তোলার ‘নবান্ন উৎসব’ উদযাপনের কথা কজনেই বা মনে রাখে। ইট কাঠের দালানে বেড়ে উঠা  তরুণ প্রজন্মকে দেশজ সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং লোকজ উপাদানগুলোকে নাগরিক জীবনে আরও বেশি কি করে আপন করে নেওয়া যায় সেই প্রত্যয় এসেছে এবারের জাতীয় নবান্নোৎসবে। আজ পহেলা অগ্রহায়ণ বুধবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় এই জাতীয় নবান্নোৎসব উদযাপন পর্ষদ আয়োজন করে ২০তম নবান্ন উৎসবের। প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও সাড়ম্বরে জাতীয় নবান্ন উৎসব ১৪২৪ উদযাপিত হয়। সকাল ৭টা ১ মিনিটে প্রথমে হান মিয়া বেহালা এবং পরে গাজী আবদুল হাকিমের বাঁশীর সুরে উৎসবের শুরু হয় চারুকলার বকুলতলায়।  সকালে নবান্ন শোভাযাত্রা চারুকলা থেকে টিএসসি চত্বর প্রদক্ষিণ করে চারুকলায় গিয়ে শেষ হয়। এরপর মঞ্চে একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন শাহিন সামাদ, শামা রহমান, ফারিদা পারভিন ও সুমা রানী রায়। সকালের  আয়োজনে সম্মেলক গান পরিবেশন করে উদীচী, বহ্নিশিখা, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী এবং দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে কাদাঁমাটি, নৃত্যম, নটরাজ, নৃত্যজন, নন্দন কলাকেন্দ্র, আচিকসহ প্রভৃতি সংগঠন। সাংস্কৃতিক পর্বে লোকগানের সঙ্গে নৃত্যের পাশাপাশি অগ্রহায়ণে গ্রাম বাংলার প্রধান ফসল ধান কাটা নিয়ে ছিল বিভিন্ন গান। পটগান, ধামাইয়া গানসহ বিভিন্ন ধরনের লোকগানের সঙ্গে শিল্পীরা গেয়ে শোনান দেশের গান ও লালনগীতি আর রবীন্দ্র সংগীতের মূর্ছনায় আগত অতিথিদের মাতিয়ে রাখেন। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, “হাজার বছরের চিরায়ত এ উৎসবটি নগরায়নের প্রভাবে হারিয়ে যেতে বসেছিল। নাগরিক তরুণরা আমাদের এ সর্বজনীন উৎসবের সঙ্গে পরিচিত নয়। গ্রামীণ পিঠাপুলি তো তারা অনেকেই চিনে না। তরুণদের শেকড়ে ফেরাতে হলে আমাদের এ গ্রামীণ উপাদানগুলো নগরে আরও বেশি করে তুলে ধরতে হবে।” জাতীয় নবান্নোৎসব উদযাপন পর্ষদের সভাপতি লায়লা হাসান বলেন, “এই বৃষ্টির মধ্যে এখনও অনুষ্ঠান চলছে, মানুষ অনুষ্ঠান দেখছে, এই থেকে প্রমাণিত হয় নবান্ন উৎসবের সঙ্গে আমাদের শেখরের টান রয়েছে।এ উৎসবে আমরা লোকজ সংস্কৃতি উপস্থাপনের পাশাপাশি এ অস্থির সময়ে বাঙালিকে আমরা সম্প্রীতির বন্ধনে বাঁধতে চাই। এ আয়োজন ১৯ বছর ধরে চলছে। আমি মনে করি বাঙ্গালির এ আয়োজন সার্থক হয়েছে।” নবান্ন উৎসব উদ্বোধন করে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, “এই নবান্ন উৎসব একটি উদার, সর্বজনীন ও অসাম্প্রদায়িক উৎসব। গ্রামীণ সম্প্রদায়ের মানুষের এ উৎসব গণমানুষের উৎসব, খেটে খাওয়া মানুষের উৎসব। আশ্বিন মাসকে আমাদের এলাকায় বলা হত দারুণ আশ্বিন, এ মাসে অভাব অনটন লেগেই থাকত। গুটিকয়েক ধনাঢ্য পরিবার ছাড়া আর কারো ঘরে ধানই থাকত না। পরে আসত অগ্রহায়ণ। সবার ঘরে সোনালী আমন ধান। সে ধান সার্বজনীন।” অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, “গণমুখী,মানবতাবাদী মানুষ হতে গেলে, একটি উদার-নৈতিক সমাজ গড়তে গেলে আমাদের গণমানুষের উৎসব নবান্নে সামিল হতেই হবে।” অনুষ্ঠানটি সকাল ১০টায় শুরু হয় বিশিষ্ট চিত্রশিল্পীদের অংশগ্রহণে নবান্ন বিষয়ক আর্ট ক্যাম্প চলে রাত অবধি। এতে  আর্ট ক্যাম্পে সমরজিৎ রায় চৌধুরী, আবদুশ শাহ, আবদুল মান্নান, রেজাউল নবী, কামাল পাশা চৌধুরী, মনিরুজ্জামান, জাহিদ মুস্তফা, অশোক কর্মকার, এফ আর ভূটান, শামসুল আলম আজাদ, নাসিম কুইনি, হিরন্ময় চন্দ, কিরিটি বিশ্বাসসহ বিশিষ্ট চিত্রশিল্পীরা অংশ নেন। বিকেল ৩টায় চারুকলার বকুলতলার মঞ্চে অনুষ্ঠান শুরু হয় ঢাক-ঢোলের মাধ্যমে। বিকেলের পর্বে চারুকলার বকুলতলায় মানিকগঞ্জের চানমিয়া ও তার দলের লাঠিখেলা, নড়াইলের পটগান, নেত্রকোনার দিলু বয়াতি ও তার দলের মহুয়ার পালা ছাড়াও সঙ্গীত, আবৃত্তি, নৃত্য পরিবেশন করেন বুলবুল মহলানবীশ, আবদুল ওয়াদুদ, অনিমা মুক্তি গোমেজ, মহাদেব ঘোষ, নাসিম মাহীন ফেন্সি, মাহমুদুল হাসান, কল্পনা রাজবংমী, খগেন্দ্রনাথ সরকার, শান্তা সরকার, কাননবালা সরকারসহ নবীন ও বিশিষ্ট  শিল্পীরা। সম্মেলক গানে অংশ নেন  মুক্তধারা, ঢাকা স্বরকল্পন, তামান্না তিথি, রেজিনা ওয়য়ালী লীনা, ফয়জুল আলম পাপ্পু, আজিজুল বাশার প্রমুখ।    

ঢাকা লিট ফেস্টের উদ্বোধন কাল

আগামীকাল (১৬ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসব তথা ‌ঢাকা লিট ফেস্ট-২০১৭’র শুভ উদ্বোধন। সকাল ১০টায় বাংলা একাডেমীতে এ উৎসবের উদ্বোধন করবেন সিরিয়ান কবি আলী আহমেদ সাইদ ইসবার। ৭ম বারের মতো আয়োজিত এ উৎসব ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। উৎসবে ২৪ দেশের দুই শতাধিক সাহিত্যিক অংশ নেবেন। লিট ফেস্ট প্রাঙ্গণে প্রথমবারের মতো ব্রিটিশ সাহিত্য জার্নাল ‘গ্রান্টা’র মোড়ক উন্মোচন হবে। ‘ঢাকা লিট ফেস্ট’-এর সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ঢাকা লিট ফেস্টের পরিচালক সাদাফ সাজ বলেন, এবার দেশের বাইরে থেকে ৭৫ জন লেখক, গবেষক এবং চিন্তাবিদ অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশ থেকে অংশ নিচ্ছেন দেড় শতাধিক লেখক, গবেষক, শিক্ষক ও পারফর্মার। তিনি বলেন, আমাদের বরাবরের প্রচেষ্টা ছিল দেশীয় ঐতিহ্যকে তুলে ধরা। তারই অংশ হিসেবে এবার থাকছে মেয়েদের লাঠি খেলা, কবি গান, মনিপুরী ঢোলসহ নানা আয়োজন। তিনি আরও বলেন, লিট ফেস্ট যেমন একদিকে বিশ্ব সাহিত্যের সঙ্গে বাংলাদেশকে পরিচয় করে দিবে, তেমনি নিজেদের ঐতিহ্যকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরবে। সাজ আরও বলেন, ‘এবারের লিট ফেস্টে আলোচনা, পারফরম্যান্সসহ নানা আয়োজনে ৯০টির বেশি সেশন থাকছে।’ ঢাকা লিট ফেস্টের আরেক পরিচালক আহসান আকবর বলেন, ‘বিদেশি অতিথিদের প্রায় সবারই বাংলাদেশে আসার আগ্রহ আছে। কিন্তু উপলক্ষ ছিল না। ঢাকা লিট ফেস্টকে তারা একটি সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তারা এখানে বাংলাদেশের সাহিত্যিক ও লেখকদের সঙ্গে নিজেদের মনের কথা বলবেন। তিনি আরো বলেন, এ উৎসবে উইলিয়াম ডালরিম্পল আসছেন কোহিনূর নিয়ে একটি সেশন করতে। অস্কার বিজয়ী অভিনেত্রী টিলডা সুইন্টোন আসছেন লেখক বন্ধু জন বার্জারকে স্মরণ করতে। বিশ্বখ্যাত সাহিত্য ম্যাগাজিন গ্রান্টার সম্পাদক আসছেন তাদের পত্রিকার একটি মোড়ক উন্মোচন করতে। পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত নবনীতা দেবসেন আসছেন তার সাহিত্য জীবন নিয়ে আলোচনা করতে। উপন্যাসিক ডেভিড হেয়ার, বুকার জয়ী বেন ওক্রিসহ অসংখ্য ব্যক্তি আসছেন বাংলাদেশের সঙ্গে নিজেদের সাহিত্যকর্ম তুলে ধরতে। বিদেশি অতিথিদের মধ্যে এবার অংশ নেবেন সিরিয়ার কবি আদোনিস, নাইজেরিয়ার সাহিত্যিক বেন ওক্রি, অভিনেত্রী টিল্ডা সুইন্টন, মার্কিন সাহিত্যিক লিওনেল শ্রিভার, পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত ভারতীয় কথাসাহিত্যিক নবনীতা দেব সেন, কথাসাহিত্যিক উইলিয়াম ড্যালরিম্পেল, লেখক এসথার ফ্রয়েড প্রমুখ। বাংলাদেশ থেকে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, মঈনুল আহসান সাবের, আলী যাকের, সেলিনা হোসেন, শামসুজ্জামান খান, আনোয়ারা সৈয়দ হক, আসাদ চৌধুরী, আনিসুল হক, সলিমুল্লাহ খান, কায়সার হক, খাদেমুল ইসলামসহ দেড় শতাধিক সাহিত্য ব্যক্তিত্ব থাকবেন। সম্ভাব্য সেশনের আনুষ্ঠানিক তালিকা ইতিমধ্যেই লিট ফেস্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ও এসব দেশের বংশোদ্ভূত লেখকদের ইংরেজি ভাষায় লেখা বা অনুবাদ করা সাহিত্যের সম্মানজনক ডিএসসি পুরস্কারও ঘোষণা দেওয়া হবে লিট ফেস্ট প্রাঙ্গণে। তাছাড়া বাংলাদেশে সাহিত্য জগতে স্বনামধন্য ‘জেমকন সাহিত্য পুরস্কার’ লিট ফেস্টের প্রথম দিনে ঘোষণা করা হবে।   /ডিডি/এআর

রাজধানীতে শুরু হচ্ছে ‘তীর্যক নাট্যমেলা’

তীর্যক নাট্যদলের ৪৪ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে শুক্রবার থেকে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হচ্ছে তিনদিনব্যাপী ‘তীর্যক নাট্যমেলা’। এতে তির্যক নাট্যদলটি তাদের নিজস্ব প্রযোজনার ‘বিসর্জন’, ‘ইডিপাস’ ও ‘তরঙ্গভঙ্গ’ নাটক তিনটি মঞ্চস্থ করবে। এছাড়া এ মেলায় নাট্যব্যক্তিত্ব ফেরদৌসী মজুমদার ও নাসির উদ্দিন ইউসুফকে সম্মাননা দেওয়া হবে। এ প্রসঙ্গে দলপ্রধান আহমেদ ইকবাল হায়দার জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় এ নাট্যমেলার উদ্বোধন করবেন নাট্যজন আলী যাকের। একই আসরে নাট্যাঙ্গনে তার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে দেওয়া হবে ‘তির্যক সম্মাননা’। উদ্বোধনী আসরে শিক্ষাবিদ ও সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. অনুপম সেনের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আকতারুজ্জামান। বক্তৃতা ও সম্মাননা প্রদান শেষে জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনের মঞ্চস্থ হবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাটক ‘বিসর্জন’। এছাড়া শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে ‘নাট্যভাবনা আদান প্রদান’ শীর্ষক এক সেমিনারে অংশ নেবেন নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার ও নাসির উদ্দিন ইউসুফ। এদিন সন্ধ্যায় সক্রেটিসের গ্রিক ট্র্যাজেডি ‘ইডিপাস’ মঞ্চস্থ হবে। রোববার বিকাল সাড়ে ৫টায় সমাপনী আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। এদিন নাট্যব্যক্তিত্ব ফেরদৌসী মজুমদারকে সম্মাননা জানানো হবে। এদিন দলটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর নাটক ‘তরঙ্গভঙ্গ’ পরিবেশন করবে। নাটক মঞ্চায়নের পাশাপাশি শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চে সংগীত, আবৃত্তি, নৃত্য, মুকাভিনয় ও চট্টগ্রামের লোকগান অনুষ্ঠিত হবে। /ডিডি/ এআর

হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে আছেন পাঠক হৃদয়ে

বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী লেখক হুমায়ূন আহমেদ। নন্দিত এ কথাসাহিত্যিকের ৬৯তম জন্মবার্ষিকী ছিল গতকাল। এদিন নানা আয়োজনে পালিত হয় দিবসটি। হুমায়ূন আহমেদ তরুণদের মাঝে কতটা সারা ফেলেছেন, তাকে নিয়ে তরুণদের চিন্তা কী এ বিষয়ে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় বেশ কয়েকজনের। তারা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। তাদের প্রায় সবাই মনে করেন, হুমায়ূন আহমেদের শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। তিনি বেঁচে থাকলে আরও কিছু সৃষ্টি বেরিয়ে আসতো। পাঠক হৃদয় তৃপ্তিবোধ করত। হুমায়ূন মরেননি, বেঁচে আছেন পাঠকের হৃদয়ে।   ৭০তম জন্মদিরে গতকাল শাহবাগের পাবলিক লাইব্রেরি চত্বরে শুরু হয়েছে ‘হুমায়ূন আহমেদের একক বইমেলা’। এ মেলার উদ্বোধন করেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন ও কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আশীষ কুমার সরকার, সাহিত্যিক যতিপ্রকাশ দত্ত, প্রকাশক আলমগীর রহমান, সাহিত্যিক আসলাম সানী প্রমুখ। হুমায়ূন আহমেদের বই প্রকাশকারী ১৮টি প্রকাশনা সংস্থার প্রকাশকরা ৯ম বারের মত এই মেলার আয়োজন করেছে। ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত রোজ সকাল সাড়ে ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে এই মেলা। মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলার আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর আরিফুল ইসলাম ইটিভি অনলাইনকে বলেন, হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে আমাদের আগ্রহের শেষ নেই। শুরু থেকেই তাকে নিয়ে আমাদের উন্মদনা ব্যাপক ছিলো। তিনিও গল্প-উপন্যাস, নাটক ও চলচ্চিত্র দিয়ে আমাদের খুব গভীরে প্রবেশ করেছেন। আরিফুল ইসলাম আরও বলেন, হুমায়ূন আহমেদ স্যার মরেন তিনি বেচেঁ আছেন, প্রতিটি ভক্তের হৃদয়ে। এমনকি আজীবন থাকবেন। ভক্তরা তাকে আজীবন ভালোবাসবেন বলেও মনে করে তিনি। বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুর আজিজ ইটিভি অনলাইনকে বলেন, সাহিত্যিকরা কখনো মরেন না। সাহিত্য কর্ম দিয়ে সামাজের মধ্যে আজীবন বেঁচে থাকেন। তেমনি আমার কাছে মনে হয় হুমায়ুন আহমেদ তার  সাহিত্য, নাটক-চলচ্চিত্র সব মাধ্যমে ভক্তদের হৃদয় বেঁচে আছে, আর আজীবন থাকবেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি একজন সফল মানুষ। সফল মানুষদের ক্ষয় নেই। নাছিম নামের আর এক ভক্ত জানান, সবাই বছরের নিদিষ্ট দিনগুলোতে হুমায়ুন আহামেদ স্যারকে স্মরণ করলেও  আমি স্মরণ করি প্রতিদিন। একদিন তার লেখা বই না পড়তে পারলে মনে আজ কি যেন একটা কাজ বাকি আছে। আমার কাছে হুমাযুন এক অন্য রকম নাম। মেলায় কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, হুমায়ুন আহমেদ কর্মের মাধ্যমে মৃত্যুকে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি ছিলেন বহুমাত্রিক সৃজনশীল মানুষ। তিনি সাহিত্যের মাধ্যমে আমাদের মাঝে প্রবেশ করেছেন।সাহিত্যের পাশাপাশি তিনি গল্প, নাটক, সিনেমা, উপন্যাসসহ সব জায়গায় সম্রাটের মত বিচরণ করেছেন। মেহের আফরোজ শাওন বলেন, হুমায়ূনের অসমাপ্ত কাজকেগুলো এগিয়ে নিতে চেষ্টা করছি। এই বইমেলা আজীবন চলবে এবং এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কাছে হুমায়ূন আহমেদকে পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, ১৯৪৮ সালের আজকের এই দিনে নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে জন্মগ্রহণ করেন বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী এ লেখক। পড়ালেখা শেষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। নব্বই দশকের মাঝামাঝি স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করে লেখালেখিতে পুরোপুরি মনোযোগ দেন। উপন্যাস, নাটক, শিশুসাহিত্য, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি, চলচ্চিত্র পরিচালনা থেকে শিল্প-সাহিত্যের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি রেখে গেছেন নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর। বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক একুশে পদক লাভ করেন। হুমায়ূন আহমেদের শরীরে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মরণব্যাধি ক্যান্সার ধরা পড়ে। উন্নত চিকিত্সার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যান। সেখানে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁকে সমাহিত করা হয়েছে তাঁরই গড়ে তোলা নন্দনকানন নূহাশ পল্লীর লিচুতলায়। আমি প্রতিটি দিনই হুমায়ূন আহমেদের শূন্যতা অনুভব করি। তাকে ছাড়া আমার পৃথিবী অসম্পূর্ণ। তার সঙ্গের প্রতিটি দিন আমার স্মৃতিময়। সেই দিনগুলোর কোনোটি ভুলে থাকার মতো নয়। তার সন্তানরা তাকে ছাড়া বড় হচ্ছে। প্রতিটি দিন তারাও তাদের বাবাকে মিস করছে। সত্যি বলতে পরিবারের মানুষদের শূন্যতা কোনো ভাষা দিয়ে বোঝানো যায়না। / এআর /          

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি