ঢাকা, বুধবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৮ ১৪:৫১:৫৪

বিচারের দাবিতে সাংবাদিক পত্নীর ২৮ বছরের লড়াই (ভিডিও)

বিচারের দাবিতে সাংবাদিক পত্নীর ২৮ বছরের লড়াই (ভিডিও)

রাজপথে গাড়ি চাপা পড়ে মারা গেছেন স্বামী। এরপর ২৮ বছর ধরে বিচারের দাবিতে একাই লড়াই করে চলেছেন স্ত্রী। শেষ পর্যন্ত রায় মিলেছে, কিন্তু সেই রায় কার্যকর করতে শুরু হয়েছে আরেক লড়াই। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেন মন্টু’র স্ত্রীর একাকী লড়াইয়ের চিত্র উঠে এসেছে একুশের প্রতিবেদনে।
তাবিথ আউয়ালকে দুদকে তলব   

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিমশন (দুদক)। মঙ্গলবার বিকেলে দুদকের উপ-পরিচালক আখতার হামিদ ভূঁইয়া তাবিথ আউয়ালকে দুদকে হাজির হয়ে অভিযোগ সম্পর্কে বক্তব্য দেয়ার জন্য চিঠি পাঠিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিমশন। চিঠিতে তাকে ৮ মে সকাল ১০টায় সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে। দুদক সূত্র জানায়, চলতি বছরই তাবিথ আউয়ালের বিরুদ্ধে এ অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২ এপ্রিল তাবিথ আউয়াল এবং বিএনপির জ্যেষ্ঠ সাত নেতাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং, সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেনসহ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাবিথ আউয়াল ছাড়া যেসব জ্যেষ্ঠ নেতার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে, তারা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির চার সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও মির্জা আব্বাস; দুই ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু ও এম মোর্শেদ খান; যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল। এসি  

‘নাগরিকত্ব বর্জনেও তারেককে ফেরাতে বাধা হবে না’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যদি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জনও করে থাকেন, তবুও তাকে দেশে ফেরাতে ‘নাগরিকত্ব বর্জন’ কোনও বাধা হবে না বলে জানিয়েছেন সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। তিনি বলেন, ব্রিটিশ নাগরিক হলেও বাংলাদেশি নাগরিক থাকা অবস্থাতেই তিনি অপরাধ করেছেন এবং সেই অপরাধের বিচার শেষে রায় হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে নিজের চেম্বারে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। পাসপোর্ট জমা দিলেই নাগরিকত্ব চলে যায় কি না, প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, ‘উনি (তারেক রহমান) ভিসা নিয়ে গিয়েছিলেন। সেই ভিসার একটি মেয়াদ আছে। ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলে, তিনি সেখানে কীভাবে থাকছেন, তা নিয়ে কিন্তু প্রশ্ন এসে যায়। সেজন্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী একথা বলেছেন যে, উনি পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। এখন বলা যেতে পারে, এর উদ্দেশ্য কী? হতে পারে, তিনি মেয়াদ বাড়ানোর জন্য পাঠিয়েছেন, অথবা পাসপোর্ট সারেন্ডার (ত্যাগ) করেছেন। এ সম্পর্কে আমার মনে হয়— আরও কিছু তথ্য দরকার। সত্যতা যাচাই করা দরকার, উনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পেয়েছে কিনা এবং সেই প্রেক্ষিতেই বাংলোদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন কিনা, সেটা এখন জানার বিষয়। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা জানতে চাইলে সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, পাসপোর্টে একটি মেয়াদ থাকে। মেয়াদ শেষ হলে পাসপোর্ট ইস্যু করবে কে? বাংলাদেশের সরকারের কাছ থেকেই তো পাসপোর্ট নিয়েছে। ব্রিটিশ সরকার তো পাসপোর্ট ইস্যু করবে না। সেক্ষেত্রে উনি (পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী) হয়তো প্রিজাম্পশন (ধারণা) করেছেন। এটাতো ধারণা হয় যে, বাংলাদেশে উনার (তারেক রহমান) নাগরিত্ব নেই। সেটা দেখাতেই ব্রিটিশ সরকারকে পাসপোর্ট দিয়েছেন। সুতরাং সেই পাসপোর্ট তিনি কেন দিলেন, সেটি কিন্তু প্রশ্নের বিষয়। তিনি আরও বলেন, পাসপোর্ট জমার মাধ্যমে এখন তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন এবং ব্রিটিশ নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন কি না, তা দেখার বিষয়। এটি না জেনে আমাদের মনে হয় কোনও মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তিনি (তারেক রহমান) যদি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে তার স্ট্যাটাস কী হবে, জানতে চাইলে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, যদি বাংলাদেশের পাসপোর্ট জমা দিয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে তিনি আর এ দেশের নাগরিক থাকবেন না। তবে নাগরিকত্ব বর্জনের বিষয়টি এখনও জানার বিষয়। এটি একটি আলোচনার বিষয়। এবিষয়ে পরিষ্কার ধারণা আসবে যদি ব্রিটিশ সরকার থেকে বিবৃতি দেয়। আর বাংলাদেশ সরকার যদি তদন্ত করে বিষয়টি নিয়ে পরিষ্কার একটি ধারণা দেয় তবে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। তাহলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ধারণার ওপর নির্ভর করে কথা বলছেন কিনা, জানতে চাইলে শফিক আহমেদ বলেন, উনি (পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী) শুধু বলেছেন পাসপোর্ট জমা হয়েছে। কিন্তু সিকোয়েন্স (পরিণাম) কী হয়েছে, তা কিন্তু বলেননি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীসহ তিনজনকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশটির গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিন্তু তথ্যভিত্তিক বক্তব্য দিয়েছেন। এখন তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা যদি তথ্যভিত্তিক না হতো, তাহলে কিন্তু লিগ্যাল নোটিশের গ্রহণযোগ্যতা থাকতো। নোটিশের জবাব না পেলে দেওয়ানি বা ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন তারেক রহমান যদি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন, সেক্ষেত্রে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার পদ্ধতির বিষয়ে শফিক আহমেদ বলেন, তিনি (তারেক রহমান) কিন্তু এখনও বলেননি যে, তিনি এদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন। তবে তিনি ব্রিটিশ নাগরিক হলেও বাংলাদেশি নাগরিক থাকা অবস্থাতেই অপরাধ করেছেন এবং সে অপরাধে বিচার হয়ে রায় হয়েছে। এখন বাংলাদেশ সরকার চাইতে পারে— বন্দি বিনিময় চুক্তি না থাকলেও সরকারের কূটনৈতিক পর্যায়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারে। কেন তাকে (তারেক রহমান) দেশে ফিরিয়ে আনতে চাইছেন, আর তারা (ব্রিটিশ সরকার) কেন তাকে (তারেক রহমান) ফিরিয়ে দিতে চান না, সে বিষয়েও এখন আলোচনা হবে। এসএইচ/

কারাগারে আসিফ

মডেল ও অভিনেতা কাজী আসিফ রহমানকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। স্ত্রী শামীমা আক্তার অর্নির করা নারী নির্যাতন মামলায় সোমবার তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক শফিউল আজম এ আদেশ দেন। আসিফের গ্রেফতার এবং মামলা সম্পর্কে জানতে চাইলে সরকারি কৌঁসুলি আলী আকবর গণমাধ্যমকে জানান, আসামি কাজী আসিফকে আজ গ্রেফতারের পর আদালতে হাজির করা হলে তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। বিচারক আগামী ২৫ এপ্রিল জামিন শুনানির জন্য দিন ধার্য করে কাজী আসিফকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বাদীর কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন কাজী আসিফ । ওই ঘটনায় চলতি বছরের ৬ মার্চ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ অর্নি বাদী হয়ে মামলা করেন। সে মামলা বিচার বিভাগীয় তদন্ত শেষে বিচারক শফিউল আজম গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে আজ সকালে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকা থেকে আসিফকে আটক করে পুলিশ। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর কানাডা প্রবাসী শামীমা আক্তার অর্নির সঙ্গে কাজী আসিফের বিয়ে হয়। বরিশালের বাসিন্দা অর্নি পেশায় নার্স। একবছর আগে থেকেই তারা একজন আরেকজনকে জানতেন। বিয়ের পর মাঝে-মধ্যে দেশে আসতেন। তাদের ৮ মাস বয়সী একজন কন্যা সন্তান রয়েছে। এমএইচ/

খালেদা জিয়া ‘আনফিট’

খালেদা জিয়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দী রয়েছেন। তাকে ‘আনফিট’ জানিয়ে আজ রোববার আদালতে হাজির করেনি কারা কর্তৃপক্ষ। তার (খালেদা জিয়া) অনুপস্থিতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার পরবর্তী যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য আগামী ১০ মে দিন ধার্য করেছেন আদালত। রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান এই দিন ধার্য করেন। এই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। শুনানির শুরুতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল আদালতকে বলেন, এই মামলায় আজ রোববার যুক্তিতর্ক শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। কিন্তু খালেদা জিয়াকে হাজির করা হয়নি। কারাগার কর্তৃপক্ষ যে কাগজ আদালতকে দিয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, খালেদা জিয়া আদালতে আসার জন্য ‘আনফিট’। মোশাররফ হোসেন আরও বলেন, কারা কর্তৃপক্ষেরই উচিৎ তাকে আদালতে হাজির করা। এ নিয়ে তিনটি তারিখে তাকে (খালেদা জিয়া) হাজির করা হয়নি। আমরা হতাশ হচ্ছি। ভিডিও কনফারেন্স বিষয়ে আজও দুদকের এই আইনজীবী আদালতকে বলেন, আমরা দুই পক্ষই যদি একমত হই, তাহলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম চলতে পারে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে এর মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম চলছে। ভারতেও সম্প্রতি লালু প্রসাদ যাদবের বিচারপ্রক্রিয়া এভাবে হয়েছে। তবে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া দুদকের এই আবেদনের বিরোধিতা করে আদালতকে বলেন, ভিডিও কনফারেন্সের বিষয়ে আমাদের ঘোর আপত্তি রয়েছে। এভাবে বিচার পরিচালনা হতে পারে না। প্রসিকিউশন থেকে বলা হচ্ছে খালেদা ‌‌`আনফিট`। কী কারণে `আনফিট`, তা বলা হয়নি। সানাউল্লাহ মিয়া খালেদা জিয়ার জামিন বাড়ানোর আবেদন করলে দুদক তার বিরোধিতা করে। এ সময় দুদক আইনজীবী বলেন, খালেদা জিয়া বর্তমানে কারাগারে আছেন। তার বিরুদ্ধে আদালতে হাজির করার পরোয়ানা রয়েছে। এমন অবস্থায় তার জামিন বাড়ানোর সুযোগ নেই। দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ আগামী ১০ মে পর্যন্ত বাড়ানোর আদেশ দেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এসএইচ/

ব্যাংক পরীক্ষায় ডিভাইস ব্যবহার: গ্রেফতার ৫  

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ সোনালী ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার সকাল পৌনে ১০টা থেকে ১১টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে ডিবি উত্তর বিভাগের ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিম অভিযান চালিয়ে রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ, মোহাম্মদপুর থানাধীন লালমাটিয়া উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় এবং তেজগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে তাদের গ্রেফতার করে। ডিভাইস ব্যবহারের ঘটনায় গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. আহসানুজ্জামান, মমিনুল ইসলাম ওরফে মমিন (২৯), রিয়াশদ হোসেন সেতু (৩০), শামসুজ্জামান ওরফে পলাশ (২৯) ও রাশিদুল ইসলাম ওরফে তাজুল (৩১)। গ্রেফতারকৃতরা বিশেষ ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও মোবাইল ফোন ব্যবহার করেছিল উল্লেখ করে গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে তারা বিশেষ ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করেছে। এছাড়াও তারা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে হলের বাইরে থেকে প্রশ্নের উত্তর সরবরাহ করত। এর ফলে তাদের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এমএইচ/এসি  

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-র‌্যাবের ডিজি পালকিতে চড়ে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে

বাংলা নববর্ষ নানাভাবে পালিত হয়ে থাকে আমাদের বাংলাদেশে। এবারের পহেলা বৈশাখ হয়েছে বেশ কয়েকদিন হলো কিন্তু এখনও এর রেশ কাটেনি। তাইতো র্যাবের বর্ষববরণ অনুষ্ঠানে নতুন চমক দেখা গেলো। পালকিতে চড়ে র‌্যাবের সদর দফতরে বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে গেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ। এসময় ‘হু-হুমনা, হু-হুমনা’ ধ্বনিতে তাদের মঞ্চে নিয়ে যান গাঢ় নীল পোশাক পরা বেহারারা। তারাও কিন্তু র‌্যাব সদস্য। শনিবার দুপুরে বিমানবন্দরে র‌্যাব সদর দফতরে ১৪২৫ বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে দেখা গেলো এই দৃশ্য। র‌্যাব সদর দফতরের শহীদ লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুল কালাম আজাদ মেমোরিয়াল হলে এবারের বৈশাখী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দুপুর ১টার দিকে র‌্যাব-৩ এর পালকিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর নেওয়া হয় র‌্যাব ডিজি বেনজীর আহমেদকে। মঞ্চে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান র‌্যাবের ডিজি। সোনালী ময়ূরপঙ্খী পালকিতে মন্ত্রী ও ডিজির মঞ্চে যাওয়ার দৃশ্য উপস্থিত লোকজন উপভোগ করেন। এসএইচ/

গোয়েন্দা টুলস এর মাধ্যমে দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করছে দুদক   

গোয়েন্দা টুলস বা গোয়েন্দা উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে ঘরে-বাইরে সব ধরনের দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির গোয়েন্দা শাখা দুর্নীতিবাজদের পাশাপাশি নিজেদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তথ্যও সংগ্রহ করছে।    আজ বৃহস্পতিবার দুদক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এমনটাই জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।     দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের সব সমন্বিত জেলা কার্যালয়, বিভাগীয় কার্যালয় এবং প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় গোয়েন্দা শাখার এক কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সংগৃহীত একটি গোয়েন্দা তথ্য সবাইকে অবহিত করেন। ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুদক শুধু দুর্নীতিবাজদের পেছনেই গোয়েন্দাগিরি করবে না, কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়েও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করবে। প্রতিটি অনুসন্ধান বা তদন্তের গুণগতমান এমন হবে যাতে প্রতিটি মামলায় প্রকৃত অপরাধীদের শতভাগ সাজা নিশ্চিত করা যায়। ইকবাল মাহমুদ বলেন, মামলা দায়েরের সঙ্গে সঙ্গে এজাহারের কপি কমিশনের আইন অনুবিভাগের মহাপরিচালক বরাবর পাঠাতে হবে, যাতে কমিশন মামলা দায়ের পরবর্তী সকল প্রকার আইনানুগ প্রক্রিয়া কার্যকরভাবে মনিটরিং করতে পারে। কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এখন থেকে প্রতিটি অনুসন্ধান বা তদন্ত নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে। একটি লোককেও হয়রানির জন্য দুদকের মামলার আসামি করা যাবে না। চূড়ান্ত অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিলের সময় নথিতে এজাহারে কপি সংযুক্ত করতে হবে। নির্ধারিত ছক অনুসারে অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রণয়ন করতে হবে। দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, প্রতারক চক্রের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন স্থানে কমিশনের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করছে। এ প্রতারক চক্রের সদস্যরা কমিশনের ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা করছে। তাই এ বিষয়ে তৃণমূল পর্যায়েও সচেতনতা তৈরি করতে হবে। পর্যালোচনা সভায় বক্তৃতা করেন দুদকের মহাপরিচালক (আইন) মঈদুল ইসলাম, মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী, মহাপরিচালক (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান, মহাপরিচালক (মানি লন্ডারিং) আতিকুর রহমান খান, মহাপরিচালক (বিশেষ তদন্ত) জয়নুল বারী, পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলী, ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক নাসিম আনোয়ার, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক আক্তার হোসেন ও পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন প্রমুখ। এসি   

তারেক রহমানকে দেশে ফেরানোর আইনি উপায়

একাধিক দুর্নীতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের সম্মেলনে যোগদানের জন্য বর্তমানে লন্ডনে অবস্থানরত শেখ হাসিনা এক সেমিনারে প্রশ্নোত্তরের সময় এ কথা বলেন। তারেক রহমান ২০০৮ সাল থেকে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেফতার হওয়ার পর জামিন পেয়ে তিনি চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্য যান। সেখানে তিনি এখন স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন বলে জানা যায়। তারেক রহমান দুটি মামলায় কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। এর একটি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা, অপরটি মুদ্রাপাচার মামলা। তারেক রহমানের মা খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে জেলে যাওয়ার পর এখন তারেক রহমানই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য সংবাদমাধ্যমে আসার পর বাংলাদেশে বিএনপির নেতারা এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, এ বক্তব্য হচ্ছে তার ভাষায় `প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার রোডম্যাপ।` তাকে যদি বিচারের জন্য বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার কথা শেখ হাসিনার সরকার ভেবে থাকে- তাহলে দুই দেশের বর্তমান আইনি কাঠামোতে কি আসলে কাউকে এভাবে ফেরত পাঠানো সম্ভব? এ ব্যাপারে ব্রিটেনের আইনে কি বলা হয়েছে- বিবিসির কাছে তা ব্যাখ্যা করেছেন ইংল্যান্ডে সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী সৈয়দ ইকবাল। তিনি বলেন, তারেক রহমান সফলভাবে ব্রিটেনে আশ্রয় এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন। তিনি প্রমাণ করতে পেরেছেন যে বাংলাদেশে ফেরত গেলে তার ওপর জুলুম হবে রাজনৈতিক কারণে। ইকবাল জানান, তবে শেখ হাসিনা যে কথা বলেছেন সেটা হলো এক্সট্রাডিশন বা বিচারের জন্য প্রত্যর্পণ। এর প্রক্রিয়া হলো যদি কোনও সরকার ব্রিটিশ হোম অফিস বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক্সট্রাডিশনের আবেদন পাঠায় তাহলে ব্রিটেনের ২০০৩ সালের এক্সট্রাডিশন আইন আলোকে করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে গ্রেফতারের পরোয়ানা দেওয়া হবে আদালতের মাধ্যমে। আদালত দেখবে যে এ ক্ষেত্রে কোনও আইনী বাধা আছে কি-না। এর একটি হলো- যে অপরাধের জন্য তাকে বাংলাদেশে নেওয়া হবে তার জন্য তার মৃত্যুদণ্ড হতে পারে কি-না। দ্বিতীয়টি হলো যে সাজার জন্য তাকে নিয়ে যাওয়া হবে- তার বাইরে অন্য কোনও সাজা যেন না হয়। ওই আইনজীবী বলেন, তারেক রহমান বা তার আইনজীবীরা যদি এটি চ্যালেঞ্জ করতে চান তাহলে তারা আপিলের প্রক্রিয়ায় শরিক হতে পারেন, হাইকোর্টে বা সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারবেন বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, তা ছাড়াও তারা যদি মনে করেন যে এতে মানবাধিকারের লংঘন হচ্ছে, বা রানৈতিক প্রতিহিংসামূলকভাবে তাকে নেওয়া হচ্ছে, তাহলে তারা জুডিশিয়াল রিভিউর মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন। তারা বলতে পারবেন যে যে কনভেনশনের আওতায় তাকে ব্রিটেনে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে- দেশে ফিরিয়ে নিয়ে গেলে তার লংঘন হবে- তারা তা করতে পারবেন। ২০০৩ সালের এক্সট্রাডিশন আইন, এবং ২০০২ সালের কমনওয়েলথ দেশগুলোর এক্সট্রাডিশন সংক্রান্ত আইনগুলোতে এ প্রক্রিয়াগুলো পরিষ্কারভাবে বলা আছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী ইকবাল। তথ্যসূত্র: বিবিসি। একে// এসএইচ/

লক্ষ্মীপুরে দীপ্ত হত্যায় ১৪ জনের যাবজ্জীবন

লক্ষ্মীপুরে কলেজছাত্র দীপ্ত পাল হত্যা মামলায় ১৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও প্রত্যেক আসামিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। বুধবার দুপুরে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নাজমুল হুদা তালুকদার এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় পাঁচ আসামি আদালতে ছিলেন। বাকি নয়জন পলাতক রয়েছে। লক্ষ্মীপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদলতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ২ জুলাই রাতে সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের কাজীর দীঘির পাড় এলাকার কার্তিক পালের ঘরে সংঘবদ্ধ ডাকাতদল হানা দেয়। তারা ঘরের দরজা ভেঙে ডাকাতির চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে কলেজ ছাত্র দীপ্ত পালের বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে ডাকাতরা। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান দীপ্ত। এসময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন দীপ্ত’র চাচা সঞ্জয় পাল। এ ঘটনায় নিহত দীপ্ত’র বাবা কার্তিক পাল পরদিন ৩ জুলাই ১৪ জনকে আসামি করে  লক্ষ্মীপুর সদর থানায় হত্যা ও ডাকাতি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে ১৪ জনকেই অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। পরে আদালত দীর্ঘ শুনানিতে ২২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এ রায় দেন। তবে, মামলার বাদী কার্তিক পাল এ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। আরকে//

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি