ঢাকা, রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৬:০৯:৩০

রাজধানীর আবাসিক এলাকায় রাতে হর্ন বাজানোয় নিষেধাজ্ঞা

রাজধানীর আবাসিক এলাকায় রাতে হর্ন বাজানোয় নিষেধাজ্ঞা

রাজধানীর আবাসিক ও ভিআইপি এলাকায় রাত ১০টার পর ২০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে আদালত। সেই সঙ্গে যেসব কারাখানা হাইড্রোলিক হর্ন তৈরির সঙ্গে জড়িত সেগুলো বন্ধেরও নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এছাড়াও স্কুল, কলেজ, হাসপাতালের পাশ দিয়ে চলার সময় হর্ন বাজানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে আদালতের ওই নির্দেশে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেয়। রিট আবেদনকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেছেন, হর্ন বাজানো ও গতি নিয়ন্ত্রণ এবং উৎপাদন বন্ধের বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে যারা কাজ করছেন, তাদের জন্য এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করতে বলা হয়েছে স্বরাষ্ট্র সচিব ও পুলিশ মহাপরিদর্শককে। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি আবার শুনানিতে আসবে বলে জানানো হয়। উল্লেখ্য, গত ২৩ আগস্ট এই রিট আবেদনের শুনানি করে রুল দেয় হাইকোর্ট। হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুলে দেওয়া হয়। গত ৮ অক্টোবর প্রতিবেদন দাখিল করে ঢাকা মহানগর পুলিশসহ (ডিএমপি) সংশ্লিষ্টরা। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সেই রিট মামলার শুনানিতেই হাইকোর্টের এই নির্দেশনা।   একে//এসএইচ
রোগীকে ৯ লাখ টাকা দিতে হবে : আদালত

পটুয়াখালীর নিরাময় ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসার শিকার প্রসূতি মা মাকসুদা বেগমকে নয় লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বাদীপক্ষের আবেদনের শুনানি শেষে আজ পটুয়াখালীর বাউফলের কথিত চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে এ নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ। বাদীপক্ষের আইনজীবী ইমরান সিদ্দিকী জানিয়েছেন, আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে রোগীকে এই ক্ষতিপূরণ দিতে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পর ২৮ জানুয়ারি এ ব্যাপারে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর অপারেশনকারী কথিত চিকিৎসক রাজন দাসকে (অর্জুন চক্রবর্তী) কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সেইসঙ্গে ভুয়া ডাক্তার, পটুয়াখালীর বাউফলের নিরাময় ক্লিনিকের মালিকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মাকসুদার মা রোকেয়া বেগম জানিয়েছেন, গত মার্চে সন্তান প্রসবের জন্য মাকসুদাকে বাউফলের নিরাময় ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার করা হয়। তার একটি মেয়ে হয়। কয়েকদিন ক্লিনিকে থাকার পর তারা বাড়ি ফেরেন। কিন্তু এক মাস পর মাকসুদা পেটে তীব্র ব্যথা অনুভব করায় আবারও ওই ক্লিনিকে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। দুই মাস পর খিঁচুনি দিয়ে জ্বর ওঠে এবং খাওয়া-দাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। পরে গত জুনে বরিশাল মেডিকেলের বহির্বিভাগে আলট্রাসনোগ্রাফিতেও কিছু ধরা পড়ে না। এরপর পটুয়াখালীতে এক চিকিৎসককে দেখানোর পর তিনি বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেন। ১২ জুলাই হাসপাতালে মাকসুদার অস্ত্রোপচার হয়। তখন তাঁর পেটের ভেতর থেকে বের করা হয় গজ। উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিকে ‘সাড়ে তিন মাস পর পেট থেকে বের হলো গজ!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. শহিদ উল্লাহ আদালতের নজরে এনে রুলসহ হাইকোর্ট আদেশ দেন। ২৩ জুলাই পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ও বরিশাল মেডিকেলের গাইনি বিভাগের প্রধানসহ তিনজনকে তলব করেন হাইকোর্ট। এ ছাড়াও পটুয়াখালীর বাউফলের নিরাময় ক্লিনিকের মালিককে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়।   একে/এমআর

সংবিধান নিয়ে অনেক ফুটবল খেলা হয়েছে : আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সংবিধান নিয়ে অনেক ফুটবল খেলা হয়েছে। আর কোনো খেলা খেলতে দেওয়া হবে না। সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি করা হয়েছে। বিচার বিভাগ ও বেসামরিক প্রশাসনের আচরণবিধির মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য হলে সেটা কারও কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন। নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে উচ্চ আদালতের ক্ষমতা ক্ষুন্ন হয়নি বরং একটু বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী। আচরণবিধির সমালোচকদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, তাদের যে পরিকল্পনা ছিল তা নষ্ট হয়ে গেছে। এখন খড়কুটো ধরে সমালোচনা করছেন। তাদের বলব গঠনমূলক সমালোচনা শুনতে আপত্তি নেই। সে জন্য পড়াশোনা করতে হবে। পড়াশোনা করলে দেখবেন এখানে সমালোচনা করার মতো কিছু নেই।

বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রকাশ

নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাবিধি গেজেট আকারে প্রকাশ হয়েছে।আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবের এ তথ্য জানান। সোমবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসের দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে তিনি এ কথা বলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে মন্ত্রী আরও জানান, আজই নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাবিধি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হচ্ছে। আর মাত্র ৪৫ মিনিট পর এটা প্রকাশ হবে বলে ওই সময় তিনি জানান। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও বলেন, আইন শৃঙ্খলাবাহিনী আইন লঙ্ঘন করে, এটা ঢালাওভাবে আমি মানতে রাজি নই।তবে কিছু কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা যে ঘটে সেটা আমরা বলতে পারি। তার জন্য তো আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করে করি। তিনি আরও বলেন,  প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়ার একমাত্র মালিক রাষ্ট্রপতি।আমি এ বিষয়ে কিছু  বলতে পারবো না। তবে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের আগ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তিনি বলেন, গেজেটে ‘সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হয়েছে।সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে ঐকমত্যে পৌঁছে এ শৃঙ্খলাবিধি গেজেট করা হয়েছে। এ শৃঙ্খলাবিধি নিয়ে অনেক নাটক হয়েছে। কিন্তু আমি আজকে আপনাদের বলছি, বিচার বিভাগের সঙ্গে নির্বাহী বিভাগের কোনো দ্বন্দ্ব ছিল না। একজন ব্যক্তি এটাকে রাজনীতিকরণ করার চেষ্টার কারণে এটা বিলম্বিত হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা গেজেটটা করতে পেরেছি। আজই গেজেটটা লিখিতভাবে প্রকাশ পাচ্ছে। সাইবার ক্রামই ট্রাইব্যুনাল চালুর পর আজও নির্ধারিত কোনো এজলাস পায়নি। প্রধান বিচারপতি নিয়োগ কবে নাগাদ হবে এবং প্রধান বিচারপতি না থাকার কারণে অন্য কোনো বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, একজন প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেওয়ার এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির। তিনি কখন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেবেন তা তিনি আমাকে বলবেন না। এটা আমিও বলতে পারি না। তবে বাংলাদেশের সংবিধানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি, প্রধান বিচারপতির অনুরূপ কার্যভার পালন করতে পারেন। এতেই পরিষ্কার যে, তিনি বিচারপতি নিয়োগ দিলে বা তার পরামর্শে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিলে সংবিধানের কোনো অনুচ্ছেদ লঙ্ঘিত হয় না। মানবাধিকার সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, জাতীয় মানবাধিকার ২০০৯ সালে আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মানবাধিকার লঙ্ঘন করে তা আমি পুরো বিশ্বাস করি না। তবে কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে বাড়াবাড়ি করেন, অপরাধ করেন। তবে এজন্য প্রত্যেকটি বাহিনী সব জায়গায় ইন্টারনাল তদন্ত করে। নালিশ আসা মাত্র সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌদজারি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মানবাধিকার কমিশন যখনই যে কোনো বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আমরা সেসব ব্যাপারে ব্যবস্থা নিয়েছি। রোহিঙ্গা ইস্যুতে আনিসুল হক বলেন, ৭ লাখ রোহিঙ্গাকে আমরা আশ্রয় দিয়েছি। এটা কিন্তু মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় মাইলফলক। প্রধানমন্ত্রী এ মানবতা দেখিয়েছিন। মানবাধিকার কমিশন কর্তৃক গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার ১৬৯টি অভিযোগের তদন্তের ও ব্যাখ্যা চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে যা বছরখানেক ধরে পেন্ডিং আছে। গত বছর এসব তদন্তের জন্য ওয়াদা করেছিলেন। এ ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, এসব অভিযোগের তদন্ত হচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এসব ব্যাপারে আপনাদের ব্রিফ করা হবে। রোববার রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ। এর আগেও গেজেট প্রকাশে দফায় দফায় সময় নেয় সরকার পক্ষ। তারও আগে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়ন না করায় আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে ২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর তলবও করেছিলেন আপিল বিভাগ। ২০১৬ সালের ৭ নভেম্বর বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বিধিমালা ২৪ নভেম্বরের মধ্যে গেজেট আকারে প্রণয়ন করতে সরকারকে নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেওয়া হয়। ওই রায়ের আলোকে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল। ১২ দফার মধ্যে ইতোমধ্যে কয়েক দফা বাস্তবায়ন করেছে সরকার। এ জন্য বারবার আদেশ দিতে হয়েছে আপিল বিভাগকে। এমনকি ২০০৪ সালে আদালত অবমাননার মামলাও করতে হয়েছে বাদীপক্ষকে। এরপর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর  তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক ঘোষণা করেন। এ অবস্থায় ২০১৫ সালের ১৫ মার্চ আপিল বিভাগ চার সপ্তাহ সময় দেন সরকারকে। এরপর গত বছরের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় থেকে একটি খসড়া শৃঙ্খলাবিধি তৈরি করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো হয়। কিন্তু তা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে না হওয়ায় সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষ একটি কমিটি গঠন করে আলাদা একটি শৃঙ্খলাবিধি তৈরি করেন। গত ২ জানুয়ারি এ বিষয়ে আপিল বিভাগে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৭ সালের ১০ জানুয়ারি আপিল বিভাগ বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ-সংক্রান্ত চারটি বিধিমালা সাতদিনের মধ্যে গেজেট আকারে প্রকাশের নির্দেশ দেন। তবে এ সংক্রান্ত মামলাটি এখনও আপিল বিভাগে বিচারাধীন। ১২ দফা নির্দেশনার যেসব দফা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি, সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য তাগিদ রয়েছে। অনুষ্ঠানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রেজাউল হক, সুইজারল্যান্ডের বিনতে কে ইলসেজার, সুদীপ্তি মুখার্জী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। আরকে//এসএইচ        

সেই ভুয়া ডাক্তার কারাগারে

সন্তান প্রসবকালীন এক নারীর পেটে গজ রেখে অস্ত্রোপচার শেষ করা ভুয়া চিকিৎসক রাজন দাস ওরফে অরজুন চক্রবর্তীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে পটুয়াখালী জেলার বাউফলের নিরাময় ক্লিনিকের মালিকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে গত ৬ নভেম্বর ওই ডাক্তারের সার্টিফিকেট ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন হাইকোর্ট। গত মার্চে অস্ত্রোপচারের মধ্যমে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন মাকসুদা। এসময় তাঁর পেটে গজ রেখেই সেলাই কাজ শেষ করেন ওই চিকিৎসক। বিষয়টি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়। গত ২২ জুলাই ‘সাড়ে তিন মাস পর পেট থেকে বের হলো গজ!’ শিরোনামে ওই প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরই প্রতিবেদনটি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. শহিদ উল্লাহ আদালতের নজরে আনেন। এরপর হাইকোর্ট এ বিষয়ে একটি রুল জারি করেন। রুলে পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ও বরিশাল মেডিকেল কলেজের গাইনি বিভাগের প্রধানসহ তিনজনকে তলব করেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া পটুয়াখালীর বাউফলের নিরাময় ক্লিনিকের মালিককেও হাজির হতে বলা হয়। আদালত সূত্রে জানা যায়,মাকসুদা বেগম (২৫) নামের ওই নারীর পেট থেকে অস্ত্রোপাচারের সাড়ে তিন মাস পর অস্ত্রোপাচার করে একটি গজ বের করা হয়েছে।  চিকিৎসকরা বলেন, দীর্ঘদিন পেটের ভেতর গজ থাকায় খাদ্যনালীতে অনেক ছিদ্র হয়ে গেছে। মাকসুদা বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ওইদিন রাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। মাকসুদা পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বিলবিলাস গ্রামের মো. রাসেল সরদারের স্ত্রী। এমজে / এআর  

রাজধানীতে ভাবী হত্যার দায়ে দেবরের ফাঁসি

রাজধানীর পল্লবীতে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে ভাবীকে হত্যার দায়ে দেবর রাব্বি হোসেন মনাকে ফাঁসির দণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোবরার ঢাকার ৪ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবদুর রহমান চার বছর আগের এ হত্যা মামলার রায় দেন।   ২০১৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সায়েরা খাতুন আলো নামের ওই নারীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।   মামলার নথি থেকে জানা যায়, সায়েরা খাতুন আলো তার স্বামী সোহেলকে নিয়ে পল্লবীর একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। আলো সেলাইয়ের কাজ করতেন। তার দেবর রাব্বি ওই বাসতেই থাকতেন।   রাব্বির কাজকর্ম না থাকায় ভাবীর সঙ্গে প্রায়ই তার ঝগড়া হত। ঘটনার দিন বিকেলে আলো তার বন্ধক রাখা একটি সোনার চেইন ফেরত আনার জন্য ২০ হাজার টাকা নিয়ে বাসা থেকে বের হন। এসময় নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে রাব্বিকেও সঙ্গে নিয়ে যান তিনি।   পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে পল্লবীর আব্বাস উদ্দিন স্কুলের ঢালে আলোর লাশ পাওয়া যায়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল।   আলোর ভাই মো. শাহজালাল এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ গ্রেপ্তার করলে রাব্বি  ভাবীকে খুনের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।   তদন্ত শেষে পল্লবী থানার এসআই আবদুল বাতেন ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ওই বছর ১৫ জুলাই অভিযোগ গঠন করে রাব্বির বিচার কাজ শুরু করে আদালত। সাতজনের সাক্ষ্য নিয়ে আজ আদালত এই রায় ঘোষণা করলেন। একে//এএ

বিবাহ-বিচ্ছেদ, আইন কী বলে

মানুষ বিয়ে করে একটি সুন্দর সংসার ও পরিবারের জন্য। কিন্ত স্বপ্নের সে পরিবার অনেক সময়ই পূরণ হওয়ার আগেই ভেঙ্গে যায়। বর্তমান সময়ে বিবাহ বিচ্ছেদের সংখ্যা যেন দিন দিন বাড়ছে। তবে বিষয়গুলোর সঙ্গে আইনি মারপ্যাচ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আইনের এসব বিধান ইটিভি অনলাইনের কাছে তুলে ধরেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি অধ্যাপক নুরুন্নাহার মজুমদার। নুরুন্নাহার মজুমদার বলেন, একজন মুসলিম স্বামী তার স্ত্রীকে যেকোনো সময় তালাক দিতে পারেন। অন্যদিকে কাবিননামার ৯(১) অনুচ্ছেদে যদি স্ত্রীকে অনুমতি দেওয়া থাকে তাহলে অনুরূপভাবে স্ত্রীও তালাক দিতে পারেন। তবে অনুমতি দেওয়া না থাকলেও কিছু কারণে স্ত্রী তালাক চেয়ে আদালতের কাছে আবেদন করতে পারেন। তবে বাংলাদেশে হিন্দু আইনের দয়াভাগা আইনগুলো বলবত থাকায় হিন্দুদের ক্ষেত্রে বিবাহ বিচ্ছেদ স্বীকৃত নয়। তবে মিতাক্ষারা আইনে কিছু বিচ্ছেদ হয়। মুসলিম আইনে বিবাহ বিচ্ছেদ মুসলিমদের মধ্যে একটি ভুল ধারণা প্রায়ই দেখা যায় যে, স্বামী মুখ দিয়ে তিন তালাক উচ্চারণ করলেই বুঝি তালাক হয়ে যায়। তবে এটি অজ্ঞতা ছাড়া কিছুই না। মুসলিম আইনের কোথাও এমন বিধান নেই। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় আইনেও একে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশে বিদ্যমান মুসলিম ফ্যামিলি ল’স অর্ডিন্যান্স ১৯৬১ অনুসারে স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দিলে লিখিত নোটিশ দিতে হবে। সেইসঙ্গে স্ত্রী যে এলাকায় বসবাস করেন সেই এলাকার জনপ্রতিনিধিকে (যেমন-ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর) বিষয়টি অবহিত করে নোটিশ দিতে হবে। উক্ত আইনের ৭(১) ধারার আওতায়, স্বামীর প্রতি এ বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, জনপ্রতিনিধির কাছে নোটিস প্রদানের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে চেয়ারম্যান স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে মধ্যস্ততা করার উদ্যোগ নিবেন। এরজন্য স্বামী ও স্ত্রী উভয় পক্ষের মনোনীত একজন করে সদস্য এবং সিটি কর্পোরেশন কিংবা ইউনিয়ন পরিষদের একজন করে সদস্যদের নিয়ে একটি সালিশি পরিষদ করা হবে। সালিশি পরিষদ যদি তাদের মধ্যে আপোষ করতে ব্যর্থ হয় এবং বিচ্ছেদ বাতিল না হয় তাহলে নোটিশ প্রদানের পরবর্তী ৯০ দিন পর বিবাহবিচ্ছেদ কার্যকর হবে। তবে স্বামী যদি স্ত্রীকে নোটিশ না দেন তাহলে তার এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় প্রকার দণ্ড হতে পারে। অন্যদিকে এই আইনেরই ৯ ধারায় আছে, কোনো স্বামী তার স্ত্রীকে পর্যাপ্ত ভরণ-পোষণ বা খোরপোষ দানে ব্যর্থ হলে বা একাধিক স্ত্রীর ক্ষেত্রে তাদের সমান খোরপোষ না দিলে, স্ত্রীরা চেয়ারম্যানের কাছে দরখাস্ত করতে পারে। এক্ষেত্রে চেয়ারম্যান বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য সালিশি পরিষদ গঠন করবেন এবং ওই পরিষদ স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে ভরণ-পোষণ প্রদানের জন্য টাকার পরিমাণ নির্দিষ্ট করে সার্টিফিকেট জারি করবেন। স্বামী যদি ভরণ পোষণের কোনো টাকা যথা সময়ে বা সময়মতো পরিশোধ না করেন তাহলে তা পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি এক্টের আওতায় তার সম্পত্তি থেকে আদায় করা হবে। যদি শালিসে কোনো সমঝোতা না হয় তবে তালাক হয়ে যাবে। স্ত্রী আদালতে তার ভরণপোষন ও অন্যান্য চাহিদা চাইবেন। হিন্দু আইনে বিবাহ বিচ্ছেদ বাংলাদেশে হিন্দু আইনের দায়াভাগা বিধান বলবত থাকায় বিবাহ বিচ্ছেদ স্বীকৃত নয়। কারণ হিন্দু ধর্মে মনে করা হয়, বিবাহ একটি আমৃত্যু বন্ধন। তবে মিতাক্ষারা আইনে কিছু বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এছাড়া ডিভোর্স এক্ট-১৮৬৯ এর ধারা-১০ অনুযায়ী একজন হিন্দু স্ত্রী কিছু যুক্তিসংগত কারণে স্বামীকে তালাক দিতে পারেন। এরজন্য তাকে জেলা জাজ আদালতে পিটিশন দাখিল করতে হবে। এর বাইরে ১৯৫৫ সালের হিন্দু বিবাহ আইনের আওতায়ও একজন হিন্দু ব্যক্তি, স্বামী বা স্ত্রী, বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করতে পারেন। ১৩(১) ধারা অনুযায়ী স্বামী ও স্ত্রীর যে কেউ আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের আজ্ঞপ্তি (ডিক্রি অন ডিভোর্স) পাওয়ার জন্য আবেদন (পিটিশন) দাখিল করতে পারেন। শুধু তাই নয়, ওই আইনের ধারা ১৩(২)(৪) অনুযায়ী একজন হিন্দু নারী বিবাহবিচ্ছেদের জন্য পিটিশন দায়ের করতে পারেন, যেখানে তার ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে এবং সে ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর বিবাহ বাতিল করেছে। তবে ১৮ বছর পূর্ণ হবার পূর্বেই এ ধরনের আবেদন করতে হবে। তবে বিবাহ বিচ্ছেদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়াকে সামাজিক বন্ধনের জন্য ‘হুমকি’ হিসেবে দেখছেন সমাজবিজ্ঞানীরা। সমাজে ব্যাভিচার, নৈতিক শিক্ষার অভাব, পারস্পরিক মেল বন্ধরের অভাব এবং প্রযুক্তি কারণে ঘর বিমুখীতাকে দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা। //এস এইচ এস// এআর    

বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাবিধির গেজেট আগামী সপ্তাহে : আইনমন্ত্রী

নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি সম্পর্কিত গেজেট আগামী সপ্তাহেই প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। আনিসুল হক বলেন, শৃঙ্খলা বিধিমালা নিয়ে উচ্চ আদালতের সঙ্গে আর কোনো বিরোধ নেই। শৃঙ্খলা বিধিমালাটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গতকাল রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে চলে গেছে। আশা করছি, আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকেই এই গেজেট প্রকাশিত হবে। এ ছাড়া ইতিহাস বিকৃতি আইন সম্পর্কিত খসড়া প্রস্তুতির পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। প্রসঙ্গত, গত ৩ ডিসেম্বর এক আদেশে গেজেট প্রকাশের জন্য সরকারকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর আগে আইন ও বিচার বিভাগ থেকে শৃঙ্খলা বিধিমালার যে খসড়া সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হয়েছিল, সেটি গত ৩০ জুলাই তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা গ্রহণ না করে কয়েকটি শব্দ ও বিধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। শৃঙ্খলাবিধির ওই খসড়া আর ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে সমালোচনায় থাকা বিচারপতি সিনহা ছুটি নিয়ে ১৩ অক্টোবর দেশ ছাড়েন। ছুটি শেষে তিনি গত ১০ নভেম্বর পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন। পরে বিচারকদের চাকরিবিধির বিষয়টি আপিল বিভাগে উঠলেও ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। এটি নিয়ে গত ১৬ নভেম্বর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞার সঙ্গে বৈঠক করেন আইনমন্ত্রী। বৈঠক শেষে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ওই খসড়া নিয়ে মতপার্থক্য দূর হয়েছে। এর আগে মাসদার হোসেন মামলার চূড়ান্ত শুনানি করে ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করতে রায় দেয়। ওই রায়ে আপিল বিভাগ বিসিএস (বিচার) ক্যাডারকে সংবিধান পরিপন্থি ও বাতিল ঘোষণা করেন। পাশাপাশি জুডিশিয়াল সার্ভিসকে স্বতন্ত্র সার্ভিস ঘোষণা করা হয়। বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করার জন্য সরকারকে ১২ দফা নির্দেশনা দেয় সর্বোচ্চ আদালত। রায়ের পর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা হয়ে বিচার বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর গত বছরের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালার একটি খসড়া প্রস্তুত করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়। খসড়াটি ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার অনুরূপ হওয়ায় তা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থি বলে গত বছরের ২৮ আগস্টে শুনানিতে জানায় আপিল বিভাগ। ওই খসড়া সংশোধন করে সুপ্রিম কোর্ট আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। একই সঙ্গে তা চূড়ান্ত করে প্রতিবেদন আকারে আদালতে উপস্থাপন করতে আইন মন্ত্রণালয়কে বলা হয়। পরে কয়েকবার সময় দেওয়া হলেও সরকার-আদালতের মতপার্থক্যের কারণে গেজেট প্রকাশের বিষয়টি ঝুলে থাকে।     আর

ফরহাদ মজহার দম্পতির বিরুদ্ধে মামলার অনুমতি

কবি ও প্রাবন্ধিক ফলহাদ মজহার দম্পতির বিরুদ্ধে মামলার অনুমতি পেয়েছে পুলিশ। তার অন্তর্ধানের ঘটনাটি ‘সাজানো বলে নিশ্চিত’ হওয়ার পর তার এবং অপহরণের অভিযোগকারী তার স্ত্রী ফরিদা আখতারের বিরুদ্ধে মামলার অনুমতি চেয়ে গত ১৪ নভেম্বর আদলতের কাছে আবেদন করেন পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার সকালে মামলার শুনানি নিয়ে বিকালে এই আদেশ দেন ঢাকার মহানগর হাকিম খুরশিদ আলম । সংশ্লিষ্ট আদালতের নিবন্ধন কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক নিজামউদ্দিন এঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করেন। সকালে শুনানিতে হাজির হয়ে ফরিদা আখতার এই মামলায় পুলিশের দেওয়া প্রতিবেদনে আপত্তি জানিয়ে নারাজি আবেদন দাখিলের অনুমতি চাইলে বিচারক তাতে সায় দিয়েছিলেন বলে তার অন্যতম আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ জানিয়েছিলেন। তিনি  বলেন, বাদী বলেছেন, চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বাদীর বিরুদ্ধে শাস্তির আবেদন করেছেন, এর কোনো যুক্তি নেই। তিনি সঠিক মামলাই করেছিলেন। নারাজি আবেদনে মামলার সত্যতা তুলে ধরে দেখানো হবে- ওই চূড়ান্ত প্রতিবেদন কতটা অসার। প্রয়োজনে আমরা উচ্চ আদালতে যাব। এরপর বিচারক ৯ জানুয়ারি নারাজি আবেদন দাখিলের দিন ঠিক করে দেন বলে জানিয়েছিলেন এই আইনজীবী। আদালত পুলিশের কর্মকর্তা নিজামউদ্দিনও দুপুরে আদালতের ওই মৌখিক আদেশের কথা জানিয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ জানতে চাইলে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, মিথ্যা ওই অপহরণের ঘটনায় তিনিই মূল ব্যক্তি। অপহরণের ঘটনা সাজিয়ে পুলিশকে হয়রানি করা হয়েছে। এছাড়া পরেও তিনি পুলিশ ও আদালতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেছেন। গত ৩ জুলাই সকালে রাজধানীর শ্যামলীর বাসা থেকে বেরিয়ে ফরহাদ মজহারের নিখোঁজ হওয়ার খবর আসে। ওই দিনই ফরিদা আখতার তার স্বামীকে অপহরণের অভিযোগ এনে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন, যা পরে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। এই অন্তর্ধান নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সব মহলে আলোচনার মধ্যে ১৮ ঘণ্টা পর গভীর রাতে নাটকীয়ভাবে যশোরে বাস থেকে ফরহাদ মজহারকে উদ্ধার করে র‌্যাব-পুলিশ।   টিআর/এমআর

অ্যাটর্নি জেনারেলকে হত্যার হুমকি

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে হত্যার হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে অজ্ঞাত পরিচয়ের দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সুপ্রিম কোর্টে অ্যাটর্নি জেনারেল এর কাযার্লয়ে এই চিঠি পাঠানো হয়। হুমকি দিয়ে পাছানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আপনার দিন ফুরিয়ে আসছে। জাহান্নামে যাওয়ার জন্য তৈরি হোন।’ অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম গণমাধ্যমকে বলেন, হত্যার হুমকি পেয়ে শাহবাগ থানায় জানানো হয়েছে। এর আগেও একাধিকবার এ ধরনের হুমকি পেয়েছিলাম। হত্যার হুমকির পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২২ নভেম্বর সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তার মেয়ে শিশির কণাকে হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা।   আর

নাইকো চুক্তি মামলার পরবর্তী শুনানি ১১ জানুয়ারি

গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহের জন্য রাষ্ট্রা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের সঙ্গে কানাডাভিত্তিক আন্তর্জাতিক কোম্পানি নাইকোর ও পেট্রোবাংলার সঙ্গে নাইকোর চুক্তি অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে শুনানি মুলতবি করেছে আপিল বিভাগ। রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ২০১৮ সালের ১১ জানুয়ারি। বৃহস্পতিবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগেও এ বিষয়ে দু’দফা শুনানি মুলতবি করে আদালত। গত ২৪ আগস্ট রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের সঙ্গে গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহের জন্য কানাডাভিত্তিক আন্তর্জাতিক কোম্পানি নাইকোর ও পেট্রোবাংলার গ্যাস সরবরাহ চুক্তি অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয় হাইকোর্ট। এছাড়া ১০ নভেম্বর বাপেক্সের সঙ্গে করা চুক্তি অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায় স্থগিতের জন্য কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর করা আবেদন আজ ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। নিম্নআদালতে নাইকোর বিরুদ্ধে বিচারাধীন দুর্নীতি ও ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত দুটি মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নাইকোকে কোনো অর্থ পরিশোধ করা যাবে না বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে দুই চুক্তির অধীনে যেসব সম্পত্তি আছে তা জব্দের পাশাপাশি নাইকো বাংলাদেশের সম্পত্তিও বক্ল-৯ এর সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দেয় আদালত। একে//

মোমিন হত্যা মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ডসহ আট আসামির সাজা বহাল

রাজধানীর কাফরুলে ছাত্রলীগ (জাসদ) নেতা কলেজছাত্র মোমিন হত্যা মামলার আসামি সাখাওয়াত হোসেন জুয়েল ও তারেক ওরফে জিয়াকে নিম্ন আদালতের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন হাবিবুর রহমান তাজ, জাফর আহমেদ, মনির হাওলাদার, ঠোঁট উচা বাবু, আসিফুল হক জনি ও শরিফ উদ্দিন। মামলার অন্যতম আসামি ওসি রফিক মৃত্যুবরণ করায় তার সাজা অকার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশিরউল্লাহ, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ ও নির্মল কুমার দাস। মামলার অন্যতম আসামি মতিঝিল থানার সাবেক ওসি একেএম রফিকুল ইসলাম কারাবন্দি অবস্থায় ২০১৫ সালের ২২ ডিসেম্বর মারা যান। উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর খুন হন কলেজ ছাত্র মোমিন। এ ঘটনায় ওই দিনই নিহতের বাবা আবদুর রাজ্জাক বাদী হয়ে ওসি রফিকসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।   //এমআর  

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি