ঢাকা, শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭ ১৭:১৮:৪৮

আত্মপক্ষ সমর্থনে আদালতে খালেদা জিয়া

আত্মপক্ষ সমর্থনে আদালতে খালেদা জিয়া

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করতে আদালতে হাজির হয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ।তিনি আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে পুরান ঢাকার বকশীবাজারের কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে পৌঁছেন। দুপুর ১২টার দিকে এখানে পঞ্চম বিশেষ জজ ড. আক্তারুজ্জামানের অস্থায়ী আদালতে খালেদা জিয়া হাজিরা দেবেন বলে জানান তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তাঁর ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে  রমনা থানায় একটি মামলা করে।   একে// এআর  
ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি: ঢাবির সাত শিক্ষার্থী রিমান্ডে

ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এর সাত শিক্ষার্থীর একদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। বুধবার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম গ্রেফতারকৃতদের ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম মাহমুদুল হাসানের আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত সাত শিক্ষার্থী হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর আহম্মেদ মল্লিক, মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রথমবর্ষের বায়জিদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রথমবর্ষের নাহিদ ইফতেখার, অর্থনীতি বিভাগের প্রথমবর্ষের ফারদিন আহম্মেদ সাব্বির, সংস্কৃত বিভাগের প্রথমবর্ষের প্রসেনজিৎ দাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রথমবর্ষের রিফাত হোসাইন এবং ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী আজিজুল হাকিম। উল্লেখ্য, গত ২০ অক্টোবর ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ও ঢাবির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রথমবর্ষের ছাত্র মহিউদ্দিন রানাসহ ১৫ জনকে আটক করে পুলিশ। এদের মধ্যে রানাসহ তিনজনকে চারদিনের রিমান্ডে দেন আদালত। রিমান্ডে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তারা তাদের সহযোগীদের নাম জানান। রানার দেয়া তথ্যমতে ও সিইআইডির অনুসন্ধানে ওই জালিয়াতি চক্রের আরও কিছু সদস্যের নাম পাওয়া যায়।

ইবির ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত আপিলেও অবৈধ

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা বাতিলে সিন্ডিকেটের নেওয়া সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে এ আপিল করা হয়েছিল। এর ফলে ওই পরীক্ষার মাধ্যমে দুটি বিভাগে ভর্তি হওয়া ১০০ শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন। তাদের সামনে আর কোনো আইনী জটিলতা আর থাকছে না বলে জানিয়েছেন তাদের আইনজীবীরা। চলতি বছর এপ্রিলে ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এর পরিপ্রেক্ষিতেই আপিল করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ । আপিলে অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি আব্দুল ওয়াহ্হাব মিয়ার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারক বুধবার মামলার নিষ্পত্তি করে দেন।  আদালতে ছাত্রছাত্রীদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। উল্লেখ্য গত বছরের ৭ ডিসেম্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ ইউনিটের (গণিত ও পরিসংখ্যান) দুটি বিভাগে পরীক্ষা হয়। ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৬ জানুয়ারি ১০০ শিক্ষার্থী বিভাগ দুটিতে ভর্তি হন। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠলে চলতি বছর ৬ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট বৈঠকে ওই পরীক্ষা বাতিল করা হয়। এর পরপরই এই সিদ্ধান্তের  বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ৮৮ শিক্ষার্থী হাই কোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ১৩ মার্চ হাইকোর্ট সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে রুল জারি করে।  কিন্তু এর মধ্যে ১৬ মার্চ এফ ইউনিটের পরীক্ষা নতুন করে নেয় কর্তৃপক্ষ। আর রুলের শুনানি শেষে গত ১৭ এপ্রিল হাইকোর্ট রুল যথাযথ (অ্যাবসুলেট) ঘোষণা করে। ফলে আগের ১০০ শিক্ষার্থীর ভর্তিই বহাল থাকে। / এআর /    

যুদ্ধাপরাধ : ঘোড়ামারা আজিজের রায়ের অপেক্ষা

মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা, হত্যা, আটক, অপহরণ, লুণ্ঠন ও নির্যাতনের তিনটি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গাইবান্ধার সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল আজিজ বা ঘোড়ামারা আজিজের বিরুদ্ধে মামলার রায় আজ। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মামলার রায়ের জন্য এ দিন নির্ধারণ করেন।  এর আগে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের দ্বিতীয় দফা ‍যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ২৩ অক্টোবর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রাখা হয়েছিল। ২০১০ সালে ট্রাইব্যুনাল গঠনের মধ্য দিয়ে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরুর পর এটি হবে ২৯তম রায়। এ মামলায় অন্য আসামীরা হলেন- মো. রুহুল আমিন ওরফে মঞ্জু (৬১), মো.আব্দুল লতিফ (৬১), আবু মুসলিম মোহাম্মদ আলী (৫৯), মো. নাজমুল হুদা (৬০) ও মো. আব্দুর রহিম মিঞা (৬২)। অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে গতবছর ২৮ জুন এই ছয় আসামির বিচার শুরু করে আদালত। এদের মধ্যে আব্দুল লতিফ ছাড়া সবাই পলাতক। এর আগে ৯ মে রায়টি হওয়ার কথা থাকলেও জন্য বিচারপতি আনোয়ারুল হকের মৃত্যুতে মামলাটির কার্যক্রম থমকে যায়। তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে বিচারপতি হক ছিলেন প্রধান। পরবর্তীতে বিচারপতি শাহিনুরকে চেয়ারম্যান করে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দী ট্রাইব্যুনাল থেকে হাই কোর্টে ফিরে যান। তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে নতুন যুক্ত হন বিচারপতি আমির হোসেন ও আবু আহমেদ জমাদার। ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন হওয়ায় বিচারকরা রায় দেওয়ার আগে আবারও এ মামলার যুক্তিতর্ক শোনার সিদ্ধান্ত দেন গত ১২ অক্টোবর। সে অনুযায়ী ২২ অক্টোবর নতুন করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। দুই দিন শুনানির পর মামলাটি আবারও রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তিতর্কের শুনানি করেন সায়েদুল হক সুমন ও সৈয়দ হায়দার আলী। তাদের সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর শেখমুশফিক কবির। অন্যদিকে আসামিদের মধ্যে লতিফের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন খন্দকার রেজাউল এবং পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী গাজী এমএইচ তামিম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। আজিজসহ গাইবান্ধার এই ছয় জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত শুরু হয় ২০১৪ সালের ২৬ অক্টোবর। এক বছরের বেশি সময় তদন্তের পর ছয় খণ্ডে ৮৭৮ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা, যাতে ২৫ জনকে সাক্ষী করা হয়। তদন্ত সংস্থা ২০১৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর ওই প্রতিবেদন চূড়ান্ত করলে প্রসিকিউশন শাখা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। এর ওপর শুনানি নিয়ে ট্রাইব্যুনাল গতবছর জুনে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। এর আগে ছয় আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য ২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু পাঁচজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব না হওয়ায় তাদের পলাতক দেখিয়েই এ মামলার কার্যক্রম চলে। তদন্ত সংস্থা বলছে, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ৯ থেকে ১৩ অক্টোবর বর্তমান গাইবান্ধা সদর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটান আসামিরা।   / এমআর /

সারাদেশে প্রায় ৩০ লাখ মামলা বিচারাধীন: আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বর্তমানে দেশের আদালতগুলোতে প্রায় ৩০ লাখ মামলা বিচারাধীন আছে। এ মামলার জট কমিয়ে আনা বিচার বিভাগ ও সরকারের জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার উল্লেখযোগ্য কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি বলেন,‘দেওয়ানি কার্যবিধি এবং অর্থঋণ আদালত আইন সংশোধনের মাধ্যমে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতির বিধান অন্তর্ভুক্ত করে দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির সহায়ক আইন করা হয়েছে। বিচার বিভাগের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন এবং শত বছরের পুরনো আইন ও বিধিগুলো সংস্কার করে বিচার ব্যবস্থার যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’ মঙ্গলবার ঢাকায় বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং সমপর্যায়ের জুডিশিয়াল কর্মকর্তাদের জন্য আয়োজিত ১৩৭তম রিফ্রেশার কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, ‘মামলার জট কমিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিদ্যমান আইন অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে বিচারকদেরও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।’আনিসুল হক বলেন, ‘সরকার দুর্নীতির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। কারণ, দুর্নীতি বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্যতম শত্রু।’ সেজন্য দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলার বিচারকালে বিচারকদের অত্যন্ত সজাগ এবং মামলার প্রতিটি পর্যায়ে সততা ও দক্ষতার সঙ্গে আইনানুগ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। তাছাড়া, বিচারপ্রার্থী জনগণ যাতে স্বল্প খরচে, স্বল্প সময়ে ন্যায়বিচার পান এবং আইনি প্রক্রিয়া বা আইনি ব্যবস্থার জটিলতা কিংবা মামলায় অযথা দীর্ঘসূত্রতার শিকার না হন, তাও নিশ্চিত করতে বলেন তিনি। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী বিচারকরা প্রত্যেকেই স্বাধীন, একথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘স্বাধীন বিচার ব্যবস্থায় একজন বিচারক যদি সৎ, দক্ষ ও নিরপেক্ষ হন, তাহলে তার ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে কোনও ভয় থাকবে না।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘বিচারকরা মামলার প্রতিটি পর্যায়ে সততা, দক্ষতা,নিরপেক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে এবং বিচার বিভাগের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।’ আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট মানসম্মত প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে সৎ, নিষ্ঠাবান, দক্ষ ও মেধাবী বিচারক গড়ে তোলার কাজটি করে থাকে। তাই এটিকে একটি উন্নতমানের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার জন্য সরকার আন্তরিক।’ তিনি বলেন, ‘সরকার ইনস্টিটিউটটিকে বিচার বিভাগীয় শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ প্রদানের ক্ষেত্রে সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।’ আইনমন্ত্রী বলেন, ‘একবিংশ শতাব্দীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য বিচার বিভাগকে আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে শেখ হাসিনার সরকার ইতোমধ্যেই বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে এবং করছে। পাশাপাশি বিচারকদের বেতন-ভাতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং ভিশন ২০২১-এর লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য আইন মন্ত্রণালয় বিচার বিভাগকে সব ধরনের সহায়তা প্রদানের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের ৪২টি জেলায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি জেলায় নবনির্মিত ভবনে বিচারিক কাজ চলছে। জেলা জজ আদালতগুলোর ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। বিচারকদের আবাসন ও পরিবহন সমস্যা সমাধানেও সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। বিচারকদের অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও জাপানে প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’ বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হকও বক্তব্য রাখেন। এসএইচ/

৭ মার্চ কেন জাতীয় দিবস নয় : হাইকোর্ট

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বিশাল জনসমাবেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যুগান্তকারী ভাষণ গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। সেই ভাষণের দিন ৭ মার্চকে কেন ‘ঐতিহাসিক জাতীয় দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সেইসঙ্গে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যেখানে সেদিন বঙ্গবন্ধু ভাষণ দিয়েছিলেন সেখানে কেন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন করা হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। আইনজীবী ড. বশীর আহমেদ আজই রিটটি দায়ের করেন। আগামী ১২ ডিসেম্বর এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে এবং ওইদিন সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

লেকহেড স্কুল বন্ধের মেয়াদ বাড়ল

রাজধানীর গুলশান ও ধানমন্ডির লেকহেড গ্রামার স্কুলের দু’টি শাখা খুলে দেওয়ার জন্য হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশ আগামী ১০ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর আগে গত ১৫ নভেম্বর হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ আজ রোববার পর্যন্ত স্থগিত করেছিলেন চেম্বার জজ আদালত। আজ আপিল বিভাগের নিয়মিত পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানির পর আরও ১০ দিন হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত দেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে লিভ টু আপিল করার জন্য বলা হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী ৩০ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। লেকহেড স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের কেউ জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত কি না সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে একটি প্রতিবেদন দিতেও বলা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা নেৃতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের আপিল বেঞ্চ এসব আদেশ দেন। আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অন্যদিকে রিটের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী এ এফ হাসান আরিফ, ব্যারিস্টার আখতার ইমাম ও ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। উল্লেখ্য, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে গত ৬ নভেম্বর ধানমন্ডি ও গুলশানের দু’টি শাখাসহ লেকহেড স্কুলের সব শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। / এমআর / এআর

দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থন ২৩ নভেম্বর

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় চতুর্থ দিনের মতো আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে বক্তব্য উপস্থাপন করেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী। পরে বিচারক আগামী ২৩ নভেম্বর এ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন রেখেছেন। এর আগে গত ৯ নভেম্বর খালেদা জিয়া তৃতীয় দিনের মতো আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দেন। এদিন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির অভিযোগে করা মামলায় খালেদা জিয়া স্থায়ী জামিনের জন্য আবেদন করলে তা খারিজ করে দেন আদালত। পরে বিচারক আজ এ মামলার পরবর্তী সময়ে শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করে দেন। গত ২ নভেম্বর খালেদা জিয়া দুই মামলায় স্থায়ী জামিনের আবেদন করলে বিচারক তা নাকচ করে দেন। ফলে এখন প্রতি সপ্তাহেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী আদালতে হাজিরা দিতে যাচ্ছেন। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন। ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক হারুন-অর-রশিদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন - খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (পলাতক), হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। এছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক হারুন আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়। মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন - মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।   / এমআর / এআর

রাষ্ট্রপতি যখন চাইবেন, তখনই প্রধান বিচারপতি নিয়োগ : আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, কত দিনের মধ্যে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা হবে, সে ব্যাপারে সময়ের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এটি রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার। তিনি যখন চাইবেন, তখনই নিয়োগ দিতে পারেন। আজ বুধবার রাজধানীর বারিধারায় প্রত্যয় মেডিকেল ক্লিনিক আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ‘আর মাদক নয়, এই হোক প্রত্যয়’ স্লোগান সামনে রেখে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে প্রত্যয় মেডিকেল ক্লিনিক। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইনমন্ত্রী। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। বর্তমানে প্রধান বিচারপতি নেই। এটা কোনো সংকট কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, এটি কোনো সমস্যা না। সংবিধানে প্রধান বিচারপতি অনুপস্থিতিতে বা পদত্যাগ করলে কী হবে বা কে দায়িত্ব পালন করবেন, তা বলা আছে।

লেকহেড গ্রামার স্কুল খুলে দেওয়ার নির্দেশ

রাজধানীর লেকহেড গ্রামার স্কুলের ধানমন্ডি ও গুলশান শাখা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুলে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। এছাড়া জঙ্গিবাদসহ যে কোনো বিষয়েই সরকারকে সকল প্রকার সহযোগিতা করার জন্য লেকহেড স্কুল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এর আগে সোমবার (১৩ নভেম্বর) এ বিষয়ে শুনানি হয়। জঙ্গি কার্যক্রমে পৃষ্ঠপোষকতা, ধর্মীয় উগ্রবাদে উৎসাহ দেওয়াসহ কয়েকটি অভিযোগে ৫ নভেম্বর ঢাকার লেকহেড গ্রামার স্কুল বন্ধে ব্যবস্থা নিতে আদেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরে প্রতিষ্ঠানের ভবন সিলগালা করে দেওয়া হয়। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে স্কুল মালিক ও দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবক পৃথক রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ৯ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল দেন। রুলে লেকহেড গ্রামার স্কুলের গুলশান ও ধানমন্ডি শাখা বন্ধের আদেশ কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। একইসঙ্গে স্কুল মালিককে স্কুল খোলা ও পরিচালনা করতে দিতে বিবাদীদের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না এবং কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছাড়া শিক্ষার্থীদের সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়। শিক্ষাসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, ঢাকার জেলা প্রশাসক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এমআর / এআর

সিনহার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। আজ মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন। এর আগে শনিবার দুপুরে সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগপত্র বঙ্গভবনে পৌঁছেছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর পূর্ণাঙ্গ রায় নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয় প্রধান বিচারপতি। এর মধ্যে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার কথা বলে গত ৩ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত এক মাসের ছুটি নেন এস কে সিনহা। পরে ১৩ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বিদেশে অবস্থান করতে চান জানিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ১০ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির কাছে একটি চিঠি পাঠান তিনি।

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি