ঢাকা, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০:২১:৫৯

দুর্নীতি মামলায় খালেদাকে আদালতে হাজিরের আবেদন

দুর্নীতি মামলায় খালেদাকে আদালতে হাজিরের আবেদন

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় কারাগার থেকে আদালতে হাজির করার জন্য আবেদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত–৫-এর বিচারক আখতারুজ্জামানের আদালতে এ আবেদন করেন দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। এ বিষয়ে মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজা পেয়ে খালেদা জিয়া। ২৫ ফেব্রুয়ারি জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার শুনানির দিন ধার্য হয়েছে। খালেদাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করার জন্য, তার বিরুদ্ধে হাজিরা পরোয়ানা জারি করতে আদালতের কাছে আবেদন করা হয়েছে। তবে দুর্নীতি দমন কমিশনের এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এখনো পর্যন্ত আদালত কোনো আদেশ দেননি। আদালত সূত্র এ খবর নিশ্চিত করেছে। এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার যুক্তি উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। ওই দিন আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুদক। এই মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি খালেদাসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ এ মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়। এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (পলাতক), বিআইডব্লিউটি এর সাবেক নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। ৮ ফেব্রুয়ারি দুদকের দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ পাঁচজনের ১০ বছর কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত। এ মামলায় দণ্ডিত অপর আসামিরা হলেন সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক সাংসদ ও ব্যবসায়ী কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও প্রয়াত জিয়াউর রহমানের ভাগনে মমিনুর রহমান। এসি/
‘বিমার সিইও নিয়োগের প্রবিধান কেন সংশোধন হবে না’

দেশে চলমান বিমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হওয়ার ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন বয়স ৪০ বছর করার বিধান রয়েছে। এই বিধান কেন অবৈধ ও বেআইনি নয়, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আজ বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রুল জরি করেন। জনস্বার্থে বৃহস্পতিবার রিট দায়ের করেন অ্যাডভোকেট তনয় কুমার সাহা। এরপর শুনানি শেষে এই রুল জারি করেন আদালত। একই সঙ্গে আদালতে বিমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ ও অপসারণ সংক্রান্ত প্রবিধান কেন সংশোধন করা হবে না, তাও রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ), আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান, আইডিআরএ’র সদস্য (আইন), আইডিআরএ’র সদস্য (জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ডিপার্টমেন্ট)-কে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। অ্যাডভোকেট তনয় কুমার সাহা জানান, ব্যাংক কোম্পানির সিইও নিয়োগের ক্ষেত্রে আইনে বলা হয়েছে ৬৫ বছর অতিক্রম করলে কেউ ব্যাংকের সিউও হতে পারবেন না। তবে সর্বনিম্ন বয়সের কোনো সিমা নির্ধারণ করা নেই। কিন্তু বিমা কোম্পানির সিইও হতে হলে সর্বনিম্ন বয়স ৪০ বছর হতে হবে বলে আইনে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। বিমা কোম্পানির সিইও নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন বয়সের এমন বাধ্যবাধকতা থাকায় অনেক যোগ্যব্যক্তিই সিইও হতে পারছেন না।ফলে বিমা খাতে যোগ্যতাসম্পন্ন ও মেধাবি সিইও’র এক ধরনের সংকট দেখা দিচ্ছে। আরকে// এআর

খালেদার আপিল গ্রহণ, জরিমানা স্থগিত

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে দেওয়া অর্থদণ্ড স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বিশেষ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে করা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপিল আবেদন গ্রহণ করে শুনানি শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আপিল আবেদন গ্রহণের পরই খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের উপর শুনানি শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শুনানি শুরু হয়। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আপিল গ্রহণের জন্য আবেদন জানালে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম প্রস্তুতির জন্য দুই ঘণ্টা সময় চান। আদালত তখন দুপুর ১২টায় শুনানি শুরুর আদেশ দেন। দুপুরে শুনানি শুরুর পর আদালতে খালেদা জিয়ার প্যানেল আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী খালেদার জামিন চেয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। আদালতে উপস্থিত আছেন খালেদা জিয়ার প্যানেল আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, আবদুর রেজাক খান, খন্দকার মাহবুব হোসেন প্রমুখ। শুনানি শুরুর পরই আাদলত জানায়, খালেদা জিয়ার আপিল আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁকে দেওয়া অর্থদণ্ড স্থগিত করা হয়েছে বলে আদালত ঘোষণা করেন। এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেলে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল দায়ের করেন খালদা জিয়ার আইনজীবীরা। গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বিশেষ আদালত। এ ছাড়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। গত সোমবার খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের রায়ের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এমজে/ এআর

ফের পেছালো ডিএনসিসির আপিল শুনানি

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠানে হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশের ওপর করা আপিল শুনানি ফের এক সপ্তাহের জন্য মুলতবি করেছে আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপনির্বাচন ও ১৮টি নতুন ওয়ার্ডের নির্বাচনের ওপর হাইকোর্টের দেয়া স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি দুই সপ্তাহ মুলতবি করে সর্বোচ্চ আদালত। এরপর আজ ২২ ফেব্রুয়ারি শুনানির দিন ধার্য করা হয়। আদালতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষে ছিলেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ফিদা এম কামাল। রিট আবেদনকারী জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী। এর আগে গত ১ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করে ইসি। পরে গত ৪ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বৃহস্পতিবার পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে বিষয়টি শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। গত ১৭ জানুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচন ও সম্প্রসারিত অংশের কাউন্সিলর নির্বাচন ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল কেন ‘আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত’ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। এমজে/  

‘খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন বৃহস্পতিবার’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে করা আপিলের শুনানির জন্য আগামী বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছেন আদালত। ওইদিনই খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন করবেন তার আইনজীবীরা। মঙ্গলবার আপিল আবেদনের শুনানির দিন ধার্য হওয়ার পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, আমরা আজ আদালতে আপিল করেছি। আদালত শুনানির জন্য আগামী বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছেন। ওইদিনই আমরা জামিন আবেদনও করবো। আশা করছি সেদিন জামিন শুনানিও অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল (সোমবার) বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের অনুলিপি পেয়ে মঙ্গলবার আপিল করেন আইনজীবীরা। জানা গেছে, আপিল শুনানি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার দুপুরে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল করেন খালেদার আইনজীবীরা। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে আপিলে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম। ৬০ পৃষ্ঠার মূল আবেদনের সঙ্গে ১২২৩ পৃষ্ঠার নথিপত্র জমা দেয়া হয়েছে। এর আগে আবেদনের কপি নিয়ে খালেদার আইনজীবী আব্দুর রেজাক খানসহ অন্যরা হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় যান। রায়ের বিরুদ্ধে আপিলে মোট ২৫টি যুক্তি দেখানো হয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো- যে অভিযোগে খালেদা জিয়াকে দণ্ড দেয়া হয়েছে সেটা দুর্নীতির মধ্যে পড়ে না। যে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে খালেদার সাজা হয়েছে ওই টাকা এখনও ব্যাংকে রয়েছে বলেও যুক্তি দেখানো হয়েছে। আদালতের দেওয়া সাজার বিরুদ্ধে আপিলে খালেদা জিয়ার খালাসও চেয়েছেন তার আইনজীবীরা। উল্লেখ্য, দুর্নীতি  দমক কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গেল ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। কেআই/ এআর

জরুরি বৈঠকে খালেদার আইনজীবীরা

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের বিষয়ে আলোচনা করতে জরুরি বৈঠকে বসেছেন তাঁর আইনজীবীরা। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনের হলরুমে এ বৈঠক শুরু হয়। অপরদিকে রায়ের আপিল মোকাবেলা করতে প্রস্তুত রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)। বৈঠকে অংশ নিয়েছেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, আবদুর রেজাক খান, ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, সানাউল্লাহ মিয়া, আমিনুল ইসলাম ও মাসুদ আহমেদ তালুকদার। ব্যারিস্টার রাগীর রউফ চৌধুরী জানান, আপিল দায়েরের বিষয়ে সিনিয়র আইনজীবীরা মিলিত হয়েছেন। আপিলের ত্রুটি-বিচ্যুতি উপস্থাপন ও পর্যালোচনা করা হবে। গতকাল সোমবার খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের রায়ের সত্যায়িত কপি প্রকাশিত হয়। রায়ের অনুলিপি আদালত থেকে বুঝে নেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া। এরপর রায়ের বিরুদ্ধে আপিল এবং জামিন আবেদনের কথা জানান তাঁর আইনজীবীরা। এদিকে আপিল মোকাবেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। তিনি মঙ্গলবার সকালে জানান, খালেদা জিয়ার রায়ের জন্য আপিল করা হলে তা মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছর এবং তারেক রহমানসহ বাকি আসামিদের ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। রায়ের পর খালেদা জিয়াকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে। একে// এআর

খালেদার জামিন অাবেদন: প্রস্তুত দু পক্ষই

দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আজ আপিল করবেন তিনি। রায়ের সার্টিফাইড কপি হাতে পাওয়ার একদিন পরই আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন খালেদার আইনজীবীরা। অন্যদিকে খালেদার জামিন আটকাতে কড়া প্রস্তুতি নিচ্ছে দুদক। আজ মঙ্গলবার হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে আপিল দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। এদিকে বিএনপি চেয়ারপরসন বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জামিনের পাশাপাশি বিশেষ আদালতের দেওয়া রায় স্থগিতাদেশও চাইতে পারেন বলে জানা গেছে। খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার রায়ের সার্টিফায়েড কপি আমরা হাতে পেয়েছি। আজ মঙ্গলবার উচ্চ আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে আবেদন করবো। উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাচঁ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে রায় দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। রায়ের পরই তাকে ঢাকার পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি সেখানে কারাবন্দি রয়েছেন। এর ১২ দিন পর আদালত এ মামলার এক হাজার ১৭৪ পৃষ্ঠার রায় প্রকাশ করেন। এদিন খালেদা জিয়াসহ মামলার আসামিদের ও দুদককে রায়ের কপি সরবরাহ করা হয়। এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) খালেদার জামিন আবেদন আটকাতে প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানা গেছে। গতকাল রাতে রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পরই পুরো রায় পড়ে ফেলেছেন দুদকের আইনজীবীরা। দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়া যদি আজ জামিন আবেদন ও রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন, তা হলে তা মোকাবেলার জন্য দুদক প্রস্তুত আছে। আজ মঙ্গলবার সকালে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। এমজে/

১৩৯ বন্দির মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ

বিলম্বিত বিচারে দেশের ৬৮টি কারাগারে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ার কারণে ৭ বছরের বেশি সময় ধরে আটক রয়েছে ১৩৯ জনের বিচার। এসব বন্দিদের বিচার আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত এক আবেদনের শুনানি শেষে সোমবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহবুব মোর্শেদ। আদেশে ওই ১৩৯ বন্দির বিচার শেষ করে একটি প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের বিষয়ে বিচারকালীন মামলার সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে সহায়তা করতে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা বা বিলম্ব বিচারে সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে আটক ব্যক্তিদের তথ্য চেয়ে দেশের আটটি বিভাগের ৬৮টি কারাগারে গত বছরের ১৯ নভেম্বর চিঠি দেয় সুপ্রিম কোর্টের লিগ্যাল এইড। এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর কারা কর্তৃপক্ষ ২৫৬ জনের তালিকা পাঠালে সে তালিকা যাচাই-বাছায়ের পর ১৩৯ কারাবন্দির বন্দিদশা নজরে আনে লিগ্যাল এইড। ফলে লিগ্যাল এইডের আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট আজ এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশের পর লিগ্যাল এইডের আইনজীবী কুমার দেবুল দে সাংবাদিকদেরকে এসব তথ্য জানান। একে// এআর

খালেদার রায়ের অনুলিপি বিকেলে

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ১২ দিন ধরে কারাগারে রয়েছেন। রায়ের অনুলিপি না পাওয়ায় জামিন আবেদন করতে পারেননি তিনি। অবশেষে তার জামিন আবেদনের পথ সুগম হচ্ছে আজ সোমবার। ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়টি অনুলিপির পর দলিলের কাগজে প্রিন্ট হয়ে পৃষ্ঠার সংখ্যা হয়েছে ১১৬৮।  প্রতিটা পৃষ্ঠায় বিচারকের সীল ও স্বাক্ষরের কাজ শেষ হবে আজ দুপুরের পর।  বিচারকের তত্ত্বাবধানে ৩/৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী পুরোদমে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর পেশকার মোকাররম হোসেন জানান, আজ সোমবার বিকেলের মধ্যে এ মামলার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি আইনজীবীদের হাতে তুলে দেয়া হবে। এর আগে গত রোববার বিচারক খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের বলেন, সোমবার আপনাদের রায়ের অনুলিপি দেয়া হবে। উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। এই মামলায় অন্য আসামি খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয় হয়। দণ্ডবিধি ১০৯ ও ৪০৯ ধারায় খালেদা জিয়াসহ সকলকে সাজা দেওয়া হয়। কারাদণ্ডের পাশাপাশি সব আসামিকে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন আদালত। একে// এআর

আনসার বিদ্রোহে খালাস ৬৭৪ জনের চাকরি পুর্নবহালের নির্দেশ

১৯৯৪ সালের ৩০ নভেম্বর আলোচিত আনসার বিদ্রোহের অভিযোগ থেকে খালাস পাওয়া ৬৭৪ জনের মধ্যে যাদের বয়স ও শারীরিক-মানসিক সক্ষমতা আছে তাদেরকে চাকরিতে পুর্নবহালের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। রায়ের অনুলিপি পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। রবিববার এ বিষয়ে জারি করা পৃথক দুটি রুল যথাক্রমে ঘোষণা করেন বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের হাই কোর্ট বেঞ্চ। আদালতে আনসার সদস্যদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সৈয়দ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও মো. সাহাবুদ্দিন খান লার্জ ও রাশেদুল হক খোকন। অপর দিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল প্রতিকার চাকমা ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সূচীরা হোসাইন। আনসার সদস্যদের আইনজীবীরা গণমাধ্যমকে বলেন, ১৯৯৪ সালের ৩০ নভেম্বর সংগঠিত  আনসার বিদ্রোহের ঘটনায় চাকরিচ্যুত ৬৭৪ জন আনসারকে চাকরিতে পুনর্বহালের রায় দিয়েছেন হাই কোর্ট। তবে এদের মধ্যে যাদের শারীরিক-মানসিক সক্ষমতা আছে তারাই চাকরি ফিরে পাবেন। আর যাদের সক্ষমতা নেই তারা যতদিন চাকরিতে ছিলেন ততদিনের পেনশন সুবিধা দিতে বলা হয়েছে। গত বছরের ১৩ এপ্রিল একটি ও ১০ জুলাই পৃথক দুইটি রিটের রুল নিষ্পত্তি করে একই রায় দেয় হাই কোর্টের একই বেঞ্চ। ১৩ এপ্রিল দেওয়া রায়ে ২৮৯ জনকে আর ১০ জুলাইয়ের রায়ে এক হাজার৪৪৭ জনকে চাকরিতে পুনর্বহালের রায় দেয় আদালত। দুই হাজার ৪৯৬ জন চাকরিচ্যুত আনসারের মধ্যে পৃথক পাঁচটি রিটের রায়ে এ নিয়ে ২৪১০ জন আনসার চাকরিতে পুনর্বহালের আদেশ পেলেন উচ্চ আদালত থেকে। উল্লেখ্য, বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে ১৯৯৪ সালের ৩০ নভেম্বর আনসার বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়, যা পরবর্তীতে বিদ্রোহে রূপ নেয়। সেনাবাহিনী, বিডিআর ও পুলিশের সহযোগিতায় ৪ ডিসেম্বর বিদ্রোহ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এ ঘটনায় পরবর্তীতে ২ হাজার ৬৯৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে কর্মকর্তারা চাকরিতে পুনর্বহাল হলেও বাকি ২ হাজার ৪৯৬ আনসারকে চাকরিচ্যুত করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে পৃথক ৭টি ফৌজদারি মামলা করা হয়। এর মধ্যে ১৩২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। অভিযুক্তরা বিচারে খালাস পান। এ অবস্থায় তারা চাকরি ফিরে পেতে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেন। কিন্তু তাদের চাকরিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়নি। এ কারণে ২৮৯ জন চাকরি পুর্নবহাল ও প্রাপ্ত সুযোগ সুবিধা চেয়ে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন। আনসার সদস্যদের চাকরিচ্যুত কেন অবৈধ ও বেআইনী ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে ২০১৫ সালের ১২ অক্টোবর রুল জারি করেন আদালত। এ রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ১৩ এপ্রিল প্রথম রায় ঘোষণা করেন হাই কোর্ট। কেআই/টিকে

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি