ঢাকা, শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২২:৩২:০১

কৃষি ব্যাংকের সাবেক ডিজিএম গ্রেপ্তার

কৃষি ব্যাংকের সাবেক ডিজিএম গ্রেপ্তার

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক ইকবাল হোসেন মোল্লাকে (৬০) গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জালিয়াতির মাধ্যমে ৪৯ কোটি ২৬ লাখ ২৪ হাজার ৯৭৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে রাজধানীর উত্তরা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেন দুদকের উপপরিচালক সামসুল আলমের নেতৃত্বাধীন একটি দল। দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে বন্ধক দেখিয়ে কৃষি ব্যাংক কারওয়ান বাজার করপোরেট শাখার কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজশে ঋণ সুবিধা নিয়ে ৪৯ কোটি ২৬ লাখ ২৪ হাজার ৯৭৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ইকবালের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে চলতি বছরের ৪ আগস্ট তেজগাঁও থানায় দুদকের উপপরিচালক সামসুল আলম মামলা করেন। ওই দিনই এ মামলার আসামি ফেয়ার ইয়ার্ন প্রসেসিং লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জসিম আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার বাকি পাঁচ আসামি হলেন মেসার্স রোজবার্গ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হজরত আলী, কৃষি ব্যাংকের সাবেক সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (এসপিও) আবুল হোসেন ও গোলাম রসুল, সাবেক এজিএম সারোয়ার হোসেন, সাবেক ডিজিএম ও শাখা ব্যবস্থাপক জুবায়ের মনজু।
মুচলেকায় ইমরানের জামিন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটূক্তি করে স্লোগান দেয়ার অভিযোগে করা মামলায় জামিন পেয়েছেন ইমরান এইচ সরকার। বৃহস্পতিবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন পান গণজাগরণ মঞ্চের একাংশের মুখপাত্র ইমরান ও তার সহযোগী সনাতন উল্লাহ। ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ছাবিদুল ইসলাম আগামী ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।  আদালতে আসামিদের পক্ষে জামিন আবেদনের শুনানি করেন অ্যাডভোকেট প্রকাশ বিশ্বাসসহ কয়েকজন আইনজীবী। মামলার বাদী গোলাম রব্বানী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বুধবার একই আদালত ইমরান-সনাতনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ২৬ অক্টোবর অভিযোগ গঠনে শুনানির দিন ধার্য করেন। মামলার ধার্য তারিখে আসামিরা উপস্থিত না হওয়ায় আদালত এই পরোয়ানা জারি করে। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, চলতি বছরের ২৮ মে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত মিছিল নিয়ে যায় গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা। ভাস্কর্য নিয়ে অপরাজনীতির প্রতিবাদে করা মশাল মিছিলে নেতৃত্ব দেন ইমরান এইচ সরকার। এছাড়া সনাতন উল্লাহ মিছিলে শ্লোগান দেন। মিছিলে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করা হয়। ওই ঘটনায় মানহানি হয়েছে বলে ৩১ মে ঢাকা মহানগর হাকিম এস এম মাসুদ জামানের আদালতে মামলাটি করেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও পাঠ চক্র বিষয়ক সম্পাদক গোলাম রব্বানী।  

ইমরান সরকারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তি করে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার ও সনাতন উল্লাস মালোর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম ছাবিদুল ইসলাম এ আদেশ দেন। ইমরান এইচ সরকারের আইনজীবী নোমান হোসেন জানান, আদালত আগামী ২৬ অক্টোবর মামলার অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য করেছেন। মামলার নথি থেকে জানা গেছে, গত ২৮ মে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত মিছিল নিয়ে যান গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা। ভাস্কর্য নিয়ে অপরাজনীতির প্রতিবাদে করা মশাল মিছিলে নেতৃত্ব দেন ইমরান এইচ সরকার। এছাড়া সনাতন উল্লাস মালো মিছিলে স্লোগান দেন। মিছিলে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করা হয়। এ ঘটনায় মানহানি হয়েছে অভিযোগ করে ৩১ মে ঢাকা মহানগর হাকিম এস এম মাসুদ জামানের আদালতে মামলাটি করেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও পাঠচক্রবিষয়ক সম্পাদক গোলাম রব্বানী। গত ১৬ জুলাই ঢাকা মহানগর হাকিম এস এম মাসুদ জামানের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন ইমরান ও সনাতন।//এআর

রোহিঙ্গা সংকট : শরণার্থী বিষয়ক আইন চেয়ে আদালতে রিট

মিয়ানমারের রাখাইনে দেশটির সেনাবাহিনী গণহত্যার প্রেক্ষাপটে লাখ লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাই কোর্টে আবেদন করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানজিম আল ইসলাম রোববার হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট চেয়ে এ আবেদন করেন। রিটের পক্ষে শুনানি করবেন আইনজীবী রাশিদুল হক খোকন। বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর অবকাশকালীন বেঞ্চে চলতি সপ্তাহেই আবেদনটির শুনানি হতে পারে বলে তিনি জানান। বাংলাদেশ সরকার, আইন মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিবাদী করা হয়েছে আবেদনে। রিটকারী আইনজীবী তানজিম আল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে লক্ষাধিক শরণার্থী আমাদের দেশে বাস করে আসছে। এর মধ্যে সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে লাখ লাখ শরণার্থী আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে এদেশে আসছে। বাংলাদেশ সরকার মানবিক দিক থেকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ ১৯৫১ সালের শরণার্থী বিষয়ক কনভেনশন এবং ১৯৬৭ সালের শরণার্থী বিষয়ক প্রটোকল স্বাক্ষর করেনি। এ কনভেনশন এবং প্রটোকল স্বাক্ষর না করায় সরকারের পক্ষে শরণার্থী সংকট মোকাবেলা করা অনেকটা দুরূহ। এছাড়া দেশে শরণার্থী সংক্রান্ত কোনো নির্দিষ্ট আইন নেই। ফলে শরণার্থীরা কীভাবে বসবাস করবে তারও কোনো বিধি-বিধান নেই। তিনি বলেন, সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশের প্রত্যেক নাগরিকের পাশাপাশি সমসাময়িক বাংলাদেশে অবস্থানরত অপরাপর ব্যক্তিদেরও প্রত্যেকের আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। কিন্তু সংবিধানের এ বিধান মতে শরণার্থীরা কীভাবে এবং কোন আইনে আশ্রয় নেবে তা আইন দ্বারা নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে শরণার্থী সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করা জরুরি। এ কারণেই আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে এ রিটটি করা হয়েছে বলে জানান রিটকারী এই আইনজীবী তানজিম আল ইসলাম। ডব্লিউএন      

স্ত্রীর মামলায় স্ট্যামফোর্ডের শিক্ষক কারাগারে

স্ত্রীকে ভরণপোষণ ও খোরপোষ না দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক অরূপ সাহার জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। শনিবার ঢাকার মহানগর হাকিম নুরুন্নাহার ইয়াসমিন এই আদেশ দেন। বাদী ও অরূপ সাহার স্ত্রী নিটল সাহার আইনজীবী আনোয়ারুল কবির বাবুল জানান, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে নরসিংদীর পারিবারিক ও সহকারী জজ  আদালতের বিচারক মেহের নিগার সূচনা বিবাদী অরূপ  সাহার বিরুদ্ধে আদেশ দেন। সেই আদেশ স্ত্রী নিটল সাহার ভরণপোষণ বাবদ  ৫৩ মাসে পাঁচ লাখ ৩০ হাজার টাকা  দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু টাকা না দেওয়ায় ওই আদালতের বিচারক অরূপ সাহার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে বিচারক অরূপ সাহাকে ছয় মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেন। আনোয়ারুল কবির আরও জানান, এ গ্রেফতারি পরোয়ানা পাওয়ার পর অরূপ সাহাকে ঢাকা থেকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁকে আজ আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার মহানগর হাকিম নুরুন্নাহার ইয়াসমিন জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠান। ২০১৩ সালের ২০ মার্চ নিটল তাঁর স্বামী অরূপের বিরুদ্ধে নরসিংদীর পারিবারিক ও সহকারী জজ আদালতে ভরণপোষণ ও খোরপোষের দাবিতে মামলা করেন। সে মামলায় বাদী নিটল সাহার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে মামলার রায় প্রদান করেন বিচারক। ২০১২ সালের ২৭ জানুয়ারি বিয়ে হয়েছিল নিটল ও অরূপের।//এআর

ফাঁদ পেতে তিন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার

ফাঁদ পেতে ঢাকা, টাঙ্গাইল ও নরসিংদী থেকে তিন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ২৪ ঘণ্টায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন বিআরটিএর নরসিংদী কার্যালয়ের মেকানিক সুমন কুমার সাহা, ঢাকার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক সুলতান হোসেন তালুকদার ও টাঙ্গাইলের নির্বাহী হাকিম আদালতের পেশকার জাকির হোসেন। দুদক আজ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এই তিনজন ব্যক্তির অপরাধ সম্পর্কে দুদক জানিয়েছে, লাইসেন্স করিয়ে দেওয়ার নাম করে ইয়াছিন আরাফাতের কাছে বিআরটিএর সুমন কুমার সাহা ২৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষের কিস্তি বাবদ আজ বৃহস্পতিবার সকালে ইয়াছিনের কাছ থেকে এক হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সুমনের বিরুদ্ধে নরসিংদী থানায় মামলা করেছে দুদক। ঢাকার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক সুলতান হোসেন তালুকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তিনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মিজানুর রহমানকে চাকরি দেওয়ার নাম করে তাঁর কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা ঘুষ নেন। দীর্ঘদিন পার হলেও তিনি চাকরি দেননি। গত ২৫ আগস্ট আসামি সুলতান টেলিফোনে মিজানুরকে বলেন, ঈদের পর তাঁকে চাকরি দেবেন। গতকাল রাতে মিজানুরের মিরপুরের বাসায় এসে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার পর তাঁকে হাতে নাতে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে শাহ আলী থানায় মামলা হয়েছে। টাঙ্গাইলের নির্বাহী হাকিম আদালতের পেশকার জাকির হোসেন স্বপন মিয়া নামের এক ব্যক্তির মামলা নিষ্পত্তি করিয়ে দেওয়ার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে তিনি স্বপনের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ নেন। পরে আজ বৃহস্পতিবার সকালে আদালত চত্বরে ঘুষ নেওয়ার সময় দুদক পেশকার জাকিরকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধ টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা হয়েছে। কেআই/ডব্লিউএন

মুফতি হান্নানের ভগ্নিপতির আত্মসমর্পণ

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ হাসিনার সমাবেশে ৭৬ কেজি বোমা পুঁতে রাখার ঘটনায় দায়ের করা এক মামলার দণ্ডিত আসামি সারওয়ার হোসেন মিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। তিনি মুফতি আবদুল হান্নানের ভগ্নিপতি। আজ মঙ্গলবার আত্মসমপর্ণের পর ঢাকার ২ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আবদুর রহমান সরদার তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ২০০০ সালের জুলাই মাসে কোটালীপাড়ায় শেখ হাসিনার সমাবেশকে সামনে রেখে বোমা পুতে রাখার ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইন এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে দু’টি মামলা দায়ের করে পুলিশ। চলতি বছরের ২০ আগাস্ট ওই মামলার রায়ের একটিতে (বিস্ফোরক মামলায়) জঙ্গিনেতা মুফতি আবদুল হান্নানের ভগ্নিপতি সারওয়ার হোসেন মিয়ার খালাস পেলেও বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। পাশাপাশি তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করেন আদালত। তার আইনজীবী ফারুক আহমদ এবং শেখ লুৎফর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিনে ছিলেন সারওয়ার। এ মামলায় তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে পালিয়ে তিনি যান। উল্লেখ্য, ২০০০ সালের ২০ জুলাই কোটালীপাড়ার একটি কলেজের কাছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভামঞ্চের নির্ধারিত স্থান ও হ্যালিপ্যাডে মাটিতে পুঁতে রাখা হয় ৭৬ ও ৮০ কেজি ওজনের দুটি বোমা। বোমা উদ্ধারের পর মামলা করে পুলিশ। বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে নাশকতা ও গুরুতর অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতার অভিযোগ আনা হয়েছিল। এ মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল মৃত্যুদণ্ড। মামলায় আসামিদের মধ্যে অন্য একটি মামলায় হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানের ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় তার নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়। মুফতি হান্নান বাদে মামলার বাকি ২৪ আসামির মধ্যে ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড, একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, সারওয়ারসহ তিনজনকে ১৪ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আর অপরাধে সংশ্লিষ্টতা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলার ১০ আসামি খালাস পান।   আর/টিকে

মেডিকেলে ভর্তি পরিক্ষায় নম্বর কাটার সিদ্ধান্ত স্থগিত

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় দ্বিতীয়বার অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ৫ নম্বর কেটে নেয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। নম্বর কেটে নেয়ার সিদ্ধান্ত ২০১৭-১৮ সেশনের জন্য এ স্থগিতাদেশ দেন আদালত। মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের ৫ নম্বর কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল চেয়ে গত ২৭ আগস্ট দায়ের করা রিটের শুনানি শেষ আদালত আজ এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে ৫ নম্বর কেটে নেয়া কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে আদালত। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ও পরিচালক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও ডেন্টাল কাউন্সিলের চেয়ারম্যানকে আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। উল্লেখ্য, ২১ আগস্ট স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস/বিডিএস ভর্তি পরীক্ষায় পূর্ববর্তী বছরের এইচএসসি উত্তীর্ণদের পরীক্ষার্থীদের প্রাপ্ত সর্বমোট নম্বর থেকে ৫ নম্বর কর্তন করে মেধা তালিকা তৈরি করা হবে।   আর/টিকে

ভোক্তার আইনগত অধিকার

সাধারণ অর্থে ভোক্তা বলতে আমরা বুঝি ‘যিনি কিছু ভোগ করেন বা উপভোগ করেন’। আর আইনের ভাষায়, ভোক্তা হচ্ছেন সেই ব্যক্তি যিনি পুনঃবিক্রি বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য ব্যতীত (আত্ম কর্মসংস্থানের মাধ্যমে জীবিকা অর্জন ছাড়া) কোনো বিক্রেতার থেকে আংশিক বা সম্পূর্ণ পরিশোধিত মূল্যে কোনো সেবা পণ্য ক্রয় করেন। আর একজন ভোক্তা হিসেবে কোনো ব্যক্তির অধিকার আছে তিনি যে পণ্য বা সেবা ক্রয় করেছেন তা কা  কাঙ্ক্ষিত  রূপে পাওয়া। তবে যদি তিনি না পান তাহলে তার জন্য আছে আইনী প্রতিকার। এসব প্রতিকারের ব্যাপারে বিস্তারিত জানিয়েছেন হাইকোর্টের আইনজীবী এডভোকেট মাহবুবুর রহমান সুজন। ভোক্তাদের অধিকার ভঙ্গের ঘটনায় এবং তাদের অধিকার সংরক্ষণে ২০০৯ সালে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন পাস করা হয়। স্থাপন করা হয় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। একজন ভোক্তার কোনো অধিকার লংঘনের ঘটনায় এই অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করে প্রতিকার পাওয়া যাবে। একজন ভোক্তা হিসেবে আপনিও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারবেন খুবই সহজে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের বিশেষ কিছু অংশ কোনো ব্যক্তি কোনো আইন বা বিধি দ্বারা কোনো পণ্য মোড়কাবদ্ধভাবে বিক্রয় করিবার এবং মোড়কের গায়ে সংশ্লিষ্ট পণ্যের সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয় মূল্য, উৎপাদনের তারিখ, প্যাকেটজাতকরণের তারিখ এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ করিবার বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করিয়া থাকিলে তিনি অনূর্ধ্ব এক বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন। যা বলা আছে এই আইনের ৩৭ ধারায়। গ্রাহক বা ভোক্তার দায়িত্ব সবকিছু দেখে পণ্য ক্রয় করা। সচেতনতা গ্রাহকের শক্তি। আইনের ল্যাটিন ভাষায় একে বলে ‘ক্যাভিয়েট এম্পটর’ বা সহজ বাংলায় ‘ক্রয়কারীর দায়িত্ব’। পণ্য ক্রয়ের আগে কিছু বিষয় খেয়াল করে নেয়া একজন গ্রাহক বা ভোক্তার দায়িত্ব। তবে একজন গ্রাহক যেন সেসব বিষয়ে জানতে পারেন তার জন্য পণ্যের মূল্য ও সেবার মূল্যের তালিকা প্রদর্শন ও অন্যান্য তথ্য উল্লেখ একজন বিক্রেতার আইনগত দায়িত্ব। ভেজাল ও নকল পণ্য উৎপাদন, বিক্রয় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। ওজনে কারচুপি, পরিমাপে কম দেয়া, ভুল বাটখাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ; যার শাস্তি এক বছর কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ড হতে পারে। মানুষের জীবন বা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিকারক কোনো দ্রব্য কোনো খাদ্যপণ্যের সহিত যাহার মিশ্রণ কোনো আইন বা বিধির অধীন নিষিদ্ধ করা হইয়াছে, কোনো ব্যক্তি উক্তরূপ দ্রব্য কোনো খাদ্যপণ্যের সহিত মিশ্রিত করিলে তিনি অনূর্ধ্ব তিন বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন। তবে এর ফলে মৃত্যুবরণ করলে শাস্তির কোনো তারতম্য এই আইনে ব্যাখা করা হয়নি। সেবাগ্রহীতার জীবন বা নিরাপত্তা বিপন্নকারী কার্য করিবার ও অবহেলা ইত্যাদি দ্বারা সেবাগ্রহীতার অর্থ, স্বাস্থ্য, জীবনহানি ইত্যাদি ঘটালেও একই দণ্ডের বিধান রয়েছে। প্রায়ই দেখা যায়, বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ১৫ টাকার পানি ৩০ টাকা, ১৬ টাকার কোল্ড ড্রিংক্স ২০ টাকা রাখে। হাইওয়ে রেস্টুরেন্টগুলোতে আরও খারাপ অবস্থা। আমরা দিতেও বাধ্য হই। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ আইনবিরোধী। পঁচা-বাসি খাবার পরিবেশন করে অনেক হোটেলে, মানসম্মত বা মেয়াদোত্তীর্ণ জিনিসপত্র বা সেবার নামে হয়রানি করছে ভোক্তাদের অনেক প্রতিষ্ঠান। এ ধরনের অপরাধের কারণে আপনি ভোক্তা হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে অভিযোগ দিয়ে প্রতিকার পাবেন মাত্র ১৫ দিনের মাধ্যমে। তার জন্য আপনাকে সহজ কয়েকটি কাজ করতে হবে। কোনো ক্ষতিগ্রস্ত ভোক্তা, কোনো আইনের অধীন নিবন্ধিত কোনো ভোক্তা সংস্থা, সরকার বা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অথবা সংশ্লিষ্ট পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী উক্ত অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন। কারণ উদ্ভব হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগ দায়ের করতে হবে। তবে কোনো মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলা করলে উল্টো আপনার শাস্তি হতে পারে। অভিযোগ দায়েরের পদ্ধতি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ধারা ৭৬ (১) অনুযায়ী, “যেকোনো ব্যক্তি, যিনি, সাধারণভাবে একজন ভোক্তা বা ভোক্তা হইতে পারেন, এই অধ্যাদেশের অধীন ভোক্তা-অধিকারবিরোধী কার্য সম্পর্কে মহাপরিচালক বা এতদুদ্দেশে মহাপরিচালকের নিকট ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে অবহিত করিয়া লিখিত অভিযোগ দায়ের করিতে পারিবেন।” অভিযোগ দেয়ার জন্য আপনার প্রয়োজন হবে কিছু প্রমাণ। যে রেস্টুরেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেবেন সেখানে খাবারের বিল বা সেবার জন্য ক্যাশ মেমো। যদি দৃশ্যমান জিনিস হয় তাহলে ছবি থাকলে তা আরও জোরালো প্রমাণ হিসেবে উপস্থিত করা যায় প্রয়োজনীয় সময়। প্রথমে dncrp.portal.gov.bd এই ঠিকানা হতে অভিযোগ দায়েরের জন্য ফর্মটি ডাউনলোড করে নিন। প্রিন্ট করে তাতে তথ্য ও বিবরণগুলো লিপিবদ্ধ করুন। ফর্মটি পূরণের পর তার একটি ছবি নিন অথবা স্ক্যান করুন যেন লেখা স্পষ্ট বোঝা যায়। বিলের কাগজটির একটি ছবি নিন মোবাইলে অথবা স্ক্যান করুন। অভিযোগ এবং বিল যদি ছবি থাকে পণ্যের বা বোতলটি বা জিনিসটির তাহলে তা সংযুক্ত করে ই-মেইল করুন- [email protected] এই ঠিকানায়। অথবা সরাসরি ডাকযোগে পাঠাতে পারবেন জাতীয় ভোক্তা অভিযোগ কেন্দ্র, টিসিবি ভবন (৯ম তলা), কারওয়ানৎবাজার, ঢাকা-১২১৫ ঠিকানায়। অথবা আপনার জেলার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালকের স্থানীয় অফিসেও অভিযোগ করতে পারবেন একই পদ্ধতিতে। ১৫ দিনের মধ্যে আপনার অভিযোগ বিষয়ে শুনানি করে তথ্য-প্রমাণ দেখে অভিযোগের সত্যতা পেলে শাস্তি প্রদান করা হবে। এই আইন মতে অভিযোগ প্রমাণ হলে জরিমানার টাকার ২৫ শতাংশ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত ভোক্তার হাতে তুলে দেয়া হয়। তাই নিজের অধিকার বিষয়ে সচেতন হোন, আইন জানুন, কাজে লাগান, সচেতন থাকুন। এসএইচ/ডব্লিউএন

মুসার মুদ্রা পাচার মামলার প্রতিবেদন দাখিল পিছিয়েছে

ধনকুবের মুসা বিন শমসেরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মুদ্রা পাচার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় পিছিয়েছে। গুলশান থানায় মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ আইনে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত দিন ছিল আজ ১১ সেপ্টেম্বর। এদিন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় ঢাকা মহানগর হাকিম নূর নাহার ইয়াসমীন আগামী ১৮ অক্টোবর নতুন দিন ধার্য করেন। এর আগে গত ১ আগস্ট ঢাকা মহানগর হাকিম নুর নবী’র আদালতে মামলাটির এজাহার দাখিল করলে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে একটি গাড়ি ব্যবহারের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের দুই মাস পর মুসা বিন শমসেরের বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশান থানায় মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ আইনে ওই মামলা দায়ের করেন শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) মো. জাকির হোসেন। ‘কারনেট ডি প্যাসেজ’ সুবিধায় জনৈক ফারুক উজ-জামান চৌধুরীর নামে নিবন্ধিত ওই রেঞ্জ রোভার গাড়ি গত ২১ মার্চ মুসার ছেলের শ্বশুর বাড়ি থেকে উদ্ধার করেন শুল্ক গোয়েন্দারা। তারপর মুসাকে কাকরাইলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কার্যালয়ে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি বা বিআরটিএ এর ভোলা জেলা কার্যালয়ের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজসে ভুয়া কাগজ দিয়ে ওই গাড়ি রেজিস্ট্রেশন এবং বেনামে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছিল শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ থেকে বলা হয়, মুসা বিন শমসের ১৭ লাখ টাকা শুল্ক পরিশোধ দেখিয়ে ভুয়া বিল অব এন্ট্রি প্রদর্শন করে গাড়িটি বেনামে রেজিস্ট্রেশন করেন। কিন্ত শুল্ক গোয়েন্দার অনুসন্ধানে দেখা যায়, ওই গাড়িতে ২ কোটি ১৭ লাখ টাকার শুল্ক প্রযোজ্য। শুল্ক গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে মুসা লিখিতভাবে জানান, সুইস ব্যাংকে তার ৯৬ হাজার কোটি টাকা গচ্ছিত আছে। “কিন্তু তিনি এই টাকার কোনো ব্যাংক হিসাব বা বৈধ উৎস দেখাননি। কয়েকবার নোটিস দিলেও তিনি তা জমা দেননি,” মামলার পর বলেছিলেন শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের মহাপরিচালক মঈনুল। ওই তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে মুসার বিরুদ্ধে মামলা করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে সুপারিশও করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। পাশাপাশি ফাঁকি দেওয়া অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলার অনুমতি চাওয়া হয় রাজস্ব বিভাগের কাছে। সেই অনুমতি পাওয়ার পর মুদ্রা পাচারের মামলাটি হয়। জনশক্তি রপ্তানি দিয়ে মুসার ব্যবসার শুরু হলেও তার পরিচয় দিতে গিয়ে অস্ত্র ব্যবসার কথাই বেশি আসে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে। বিলাসি জীবন-যাপনের কারণে বিদেশি গণমাধ্যমে অনেক সময় তাকে বলা হয় ‘প্রিন্স অব বাংলাদেশ’। ১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্যে নির্বাচনে লেবার পার্টির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী টনি ব্লেয়ারের নির্বাচনী প্রচারের জন্য ৫ মিলিয়ন ডলার অনুদান দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে আলোচনায় আসেন বাংলাদেশের এই ব্যবসায়ী। একটি দৈনিকে সুইস ব্যাংকে মুসা বিন শমসেরের ৫১ হাজার কোটি টাকা থাকার খবর ছাপা হয়েছিল। তবে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গত বছর মুসা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বাংলাদেশে বসে কেউ এত অর্থ উপার্জন করতে পারবে না। এসএইচ/ডব্লিউএন

বিজিএমইএ’র সময়  আবেদনের শুনানি ৫ অক্টোবর

তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ হাতিরঝিলে গড়ে তোলা তাদের ১৬ তলা ভবনটি ভাঙার জন্য আরও এক বছর সময় চেয়ে যে আবেদন করেছে আপিল বিভাগে তার শুনানি হবে ৫ অক্টোবর। সোমবার চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বিজিএমইএ-এর কার্যালয় সরিয়ে নেওয়ার আবেদন শুনে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে শুনানির জন্য এই দিন ঠিক করে দেন তিনি। এর আগে কার্যালয় সরিয়ে নিতে তিন বছর সময় চাইলেও আপিল বিভাগ বিজিএমইএকে ছয় মাসের সময় দেন। আজ সোমবার সেই ছয় মাস সময় শেষ হওয়ার আগেবিজিএমইএ আরও এক বছর সময় চেয়ে গত ২৩ আগস্ট এই আবেদন জমা দেয়। বিজিএমইএ-এর পক্ষে অ্যাডভোকেট কামরুল হক সিদ্দিকী ও ছিলেন ইমতিয়াজ মঈনুল ইসলাম চেম্বার আদালতে শুনানি করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। ইমতিয়াজ মঈনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, উচ্চ আদালতে বর্তমান অবকাশ চলায় চেম্বার আদালত ছুটির পরে শুনানির তারিখ ঠিক করে দেন। এর ফলে বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে আপিল বিভাগের নির্ধারণ করে দেওয়া সময়ের পরও আরও প্রায় এক মাস সময় পেল। জলাধার আইন ভেঙে বিজিএমইএর নির্মিত ১৬ তলা ওই ভবন হাই কোর্ট অবৈধ ঘোষণা করার পর আপিল বিভাগেও ওই রায় বহাল থাকে। বিজিএমইএ রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করলে তাও খারিজ হয়ে যায়। শনিবার বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, আদালতের বেঁধে দেওয়া ছয় মাস সময়ের মধ্যে কার্যালয় সরিয়ে নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় বিজিএমইএ আরও এক বছর সময় চেয়ে তারা আবেদন করেছে। তিনি বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হলেই আমরা চলে যাব। যেহেতু নতুন ভবন সম্পন্ন হতে আরও এক বছর সময় লাগবে। তাই আমরা মহামান্য আদালতের কাছে আরও এক বছরের সময় চেয়ে আবেদন করেছি। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য রাজধানীর উত্তরার ১৭ নাম্বার সেক্টরে অর্ধেক মূল্যে সাড়ে ৫ বিঘা বিজিএমইএকে বরাদ্দ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গত ৭ সেপ্টেম্বর টাকা পরিশোধ করে সেই জমির দলিল বুঝে পেয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান সিদ্দিকুর।   //আর//এআর

৫ নম্বর কাটার বৈধতার রিটের আদেশ কাল

চলতি শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি পরীক্ষায় দ্বিতীয়বার অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর থেকে ৫ নম্বর কেটে তালিকা তৈরির সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের ওপর আদেশ আগামীকাল মঙ্গলবার। সোমবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ শুনানি শেষে আদেশের এই দিন ধার্য্ করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আবেদনকারী আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ নিজে। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শশাঙ্ক শেখর সরকার। রিট আবেদন থেকে জানা যায়, প্রথম বর্ষে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তির আবেদন (২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষ) আহ্বান করে ২১ আগস্ট পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বিজ্ঞপ্তির ৬ নম্বর প্যারায় বলা হয়, ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস বা বিডিএস ভর্তি পরীক্ষায় পূর্ববর্তী বছরের এইচএসসি উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের সর্বমোট নম্বর থেকে ৫ নম্বর কর্তন করে মেধাতালিকা তৈরি করা হবে। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করা হয়। রিটে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মেধাতালিকা থেকে ৫ নম্বর কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, এ মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ওই সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক, পরিচালক (চিকিৎসাশিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন), বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে বিবাদী রাখা হয়েছে।//এআর

দুই সপ্তাহের জন্য দেশের বাইরে যাচ্ছেন প্রধান বিচারপতি

জাপানে এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান বিচারপতিদের সম্মেলন ও কানাডায় অসুস্থ্য মেয়েকে দেখার জন্য দুই সপ্তাহের জন্য বিদেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তার অনুপস্থিতকালীন সময়ের জন্য রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞাকে কার্যভার পালনের দায়িত্ব প্রদান করেছেন। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক ৬ সেপ্টেম্বর বুধবার এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রধান বিচারপতির অনুপস্থিতিকালীন সময়ে অর্থাৎ ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অথবা প্রধান বিচারপতির যাত্রার তারিখ থেকে স্বীয় কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত আপিল বিভাগের কর্মে প্রবীণতম বিচারক বিচারপতি মো.আবদুল ওয়াহহাব মিঞা ওই দায়িত্ব পালন করবেন।  এর আগে সুপ্রিম কোর্টের এক প্রশাসনিক আদেশে বলা হয়,  কানাডায় বসবাসরত শারীরিকভাবে অসুস্থ কন্যাকে দেখার জন্য প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা আগামী ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কানাডায় এবং জাপানের প্রধান বিচারপতির আমন্ত্রণে ১৮ সেপ্টেম্বর হতে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টোকিওতে অনুষ্ঠেয় ‘কনফারেন্স অব চিফ জাস্টিস অব এশিয়া এন্ড দ্যা প্যাসিফিক’ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন। প্রধান বিচারপতির সহধর্মিনী সুষমা সিনহা ও আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার মো. জাকির হোসেন জাপান ভ্রমণকালে প্রধান বিচারপতির সফরসঙ্গী হবেন। কানাডা ভ্রমণের জন্য ১০ সেপ্টেম্বর বা এর নিকটবর্তী তারিখে ঢাকা ত্যাগ করবেন প্রধান বিচারপতি। সেখান থেকে তিনি ১৭ সেপ্টেম্বর বা তার নিকটবর্তী তারিখে জাপানের উদ্দেশ্যে কানাডা ত্যাগ করবেন। জাপানে সম্মেলন শেষে ২২ সেপ্টেম্বর বা তার নিকটবর্তী তারিখে দেশে প্রত্যাবর্তন করবেন প্রধান বিচারপতি। ডব্লিউএন

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি