ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ৫:২৬:৩২

মন ও মস্তিষ্ক: চির অচ্ছেদ্য এক বন্ধন

দেহঘড়ি

মন ও মস্তিষ্ক: চির অচ্ছেদ্য এক বন্ধন

মন ও মস্তিষ্কের বিচিত্র সম্পর্ক আর এ দুয়ের পারস্পরিক প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচালিত হয়েছে অসংখ্য গবেষণা। এ গবেষণায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের প্রফেসর ও ম্যাসাচুসেট্স জেনারেল হাসপাতালের মাইন্ড বডি ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা ডা. হার্বাট বেনসন। এ বিষয়ে তার রয়েছে ১৭৫ টি গবেষণা-প্রতিবেদন এবং ১১টি বই। যার মধ্যে দু’টি উল্লেখযোগ্য বই হচ্ছে ‘ট্রেইন ইয়োর ব্রেন চেঞ্জ ইয়োর মাইন্ড’ ও  ‘দি মাইন্ড বডি ইফেক্ট’। মন যেহেতু মস্তিষ্ক ও মাস্তিষ্কের কাজকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখে, নিরাময় ও সুস্থতার জন্যে এই মন নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব তাই অনেক বেশি। সাধারণভাবে আমরা অধিকাংশ মানুষই মনকে আমাদের কথা শোনতে পারি না, মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারি না, সেক্ষেত্রে অবস্থাটি দাঁড়ায় ‘মনের আমি’, আর একজন সত্যিকারের সাধক বা প্রজ্ঞাবান যিনি, তিনিই শুধু বলতে পারেন- ‘আমার মন’। মন ও দেহ আসলে মানুষের জন্মসূত্রেই অবিচ্ছেদ্য আর পরস্পরিক সম্পর্কযুক্ত। একে চাইলেও আলাদা করা যায় না। দেহ ও মন পরস্পর স্নায়ুগুচ্ছ ও বার্তাবাহক রাসায়নিক অণু (নিউরোট্রান্সমিটার) দ্বারা সারাক্ষণ সংযোগ রেখে চলছে। বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত আমাদের দেহে প্রায় ৬০ ধরনের বার্তাবাহক রাসায়নিক অণু আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন। মন ও দেহের মধ্যে যোগসূত্র হিসেবে কাজ করে ব্রেনের হাইপোথ্যালামাস। এই হাইপোথ্যালামাস বার্তাবাহক রাসায়নিক অণু নিঃসরণের মাধ্যমে দৈহিক অবস্থাকে প্রভাবিত করে। যেমন, কোনো কারণে আপনি মনে ভীষণ কষ্ট পেলেন। আপনজন কষ্ট দিয়েছে। আপনি কিছুতেই ভুলতে পারছেন না। কষ্ট ধীরে ধীরে বেড়েই চলছে। আপনি কষ্ট পেলেন, এটি মনের বিষয়। এই কষ্টের তথ্য অবচেতন মনের মাধ্যমে আপনার ব্রেনের হাইপোথ্যালামাসে পৌঁছে গেল। তখন কী ঘটে? হাইপোথ্যালামাস থেকে কষ্টের বার্তাবাহক রাসায়নিত অনু নিঃসৃত হয় এবং তা আপনার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রতঙ্গে এবং হৃদযন্ত্রে। তেমনিভাবে রাগ ক্ষোভ দুঃখ হতাশা বিষন্নতার মতো নেতিবাচক আবেগের প্রতিক্রিয়াতেও একই ধরনের বার্তাবাহক রাসায়নিক অণু শরীরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত করে হৃৎপিণ্ডকেও। যার অন্যতম পরিণতি করোনরি হৃদরোগ।   এম/টিকে
ফুলকপির পায়েস রেসিপি

শীত আসলেই ফুলকপির দেখা মেলে। ফুলকপি অন্য কোন সবজি মিলিয়ে রান্না করে খাওয়া হয়। তবে সবজির আইটেম ছাড়াও ফুলকপি দিয়ে বিভিন্ন মজাদার খাবার তৈরি করা যায়। তেমনি একটি সুস্বাদু খাবার হচ্ছে ফুলকপির পায়েস। আমরা সব সময় চালের পায়েস খেয়ে এসেছি কিন্তু কখনও ফুলকপির পায়েসের কথা শুনিনি। আজ ফুলকপির পায়েস কিভাবে বানাতে হবে তার রেসিপি একুশে টিভি অনলাইনে তুলে ধরা হলো- উপকরণ : ১) বড় ফুলকপি একটি। ২) দুধ দুই লিটার। ৩) পোলাওয়ের চাল আধা কাপ তবে চাল হতে হবে আধা ভাঙা। ৪) কনডেন্সড মিল্ক এক টিন। ৫) খেজুরের গুড় এক কাপ। ৬) এলাচ গুঁড়া, দারুচিনি গুঁড়া এক চামচ। ৭) পেস্তা ও বাদাম কুচি চার টেবিল চামচ। ৮) কিশমিশ কয়েকটি। ৯) স্বাদ বাড়ানোর জন্য মাওয়া গুঁড়া এক কাপ। প্রণালি- প্রথমে আধা ভাঙা পোলাওয়ের চাল দুধ দিয়ে সেদ্ধ করতে হবে। এরপর ফুলকপি ছোট ছোট করে কেটে আধা লিটার দুধ দিয়ে সেদ্ধ করে নিতে হবে। সিদ্ধ হয়ে গেলে এখন চালের সঙ্গে মিশিয়ে গুড়, বাকি আধা লিটার দুধ, দারুচিনি, এলাচ গুঁড়া দিয়ে রান্না করতে হবে। এরপর ঘন হয়ে এলে কনডেন্সড মিল্ক, মাওয়া গুঁড়া কিশমিশ, পেস্তা ও বাদাম কুচি দিতে হবে। ফুলে উঠলে চুলা থেকে নামিয়ে ফেলুন। এখন পরিবেশন পাত্রে ঢেলে আবারও অল্প অল্প করে মাওয়া গুঁড়া ও বাদাম দিয়ে সাজিয়ে অতিথিকে আপ্যায়ন করুন এবং নিজেও খান। সূত্র : রান্নাবান্না। /কেএনইউ/এসএইচ

কাঠের বাসন পরিষ্কার রাখার উপায়

প্রাচীনকালে রান্না ঘরে ব্যবহারকৃত বাসনপত্র ছিল সবই কাঠের তৈরি। কিন্তু আজকাল কেউই কাঠের বাসনপত্র ব্যবহার করে না। কেননা কাঠের বাসনপত্র পরিষ্কার করা অনেক ঝামেলা বলে। তবে এখনও অনেকেরই রান্নাঘরে কাঠের বাসনপত্র ব্যবহার করতে দেখা যায়। কাঠের বাসনপত্রে রান্নার দাগ লেগে গেলে সহজেই উঠতে চায় না। তবে কাঠের বাসনপত্র পরিষ্কার করার কিছু নিয়ম বা উপায় আছে। সেগুলো একুশে টিভি অনলাইনে দেওয়া হলো-   লেবুর রস গরম পানিতে লেবুর রস মেশান। ওই মিশ্রণের মধ্যে কাঠের বাসনগুলি ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। তারপর লেবুর জল থেকে তুলে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে রোদে শুকোতে দিলেই বাসনের দাগ, গন্ধ সব দূর হয়ে যাবে। লবণ গরম পানির সঙ্গে লবণ মিশিয়ে কাঠের বাসনগুলি পাঁচ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এবার জল থেকে তুলে কাপড় দিয়ে ভালো করে মুছে সূর্যের আলোতে শুকিয়ে নিলেই বাসন অনেকদিন ভালো থাকবে। হলুদ প্রথমে কাঠের বাসনগুলি পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর লেবুর রস ও হলুদ দিয়ে ঘষলেই কাঠের বাসন পরিষ্কার হয়ে যাবে। বেকিং সোডা লেবুর রসের সঙ্গে বেকিং সোডা মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। এবার এই পেস্টটি কাঠের বাসনগুলিতে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রোদে শুকোতে দিন। এবার গরম পানি দিয়ে ভালো করে বাসন ধুয়ে ফেললেই কাঠের বাসনের দাগ উঠে যাবে। ভিনিগার প্রথমে একটি বাটিতে এক চামচ ভিনিগার ও এক টেবিল চামচ মধু মেশান। এরপর এতে একটি সুতির কাপড় ভিজিয়ে বাসনগুলি মুছে নিন। এবার বাসনগুলি শুকিয়ে নিলেই বাসনগুলি নতুনের মতো মনে হবে।  গরম পানি কাঠের চামচে রান্না করার সময় অনেকটা খাবার লেগে যায় চামচে। তাই এগুলি দিয়ে রান্না করার পর গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে আপনাকে এর জন্য আর বাড়তি ঝামেলায় পড়তে হবে না। শিরিষ কাগজ যদি কাঠের বাসনের নাছোড়বান্দা দাগ একদমই উঠতে না চায় তাহলে শিরিষ কাগজ দিয়ে ঘষলেই দাগ উঠে যাবে। কিন্তু বারবার শিরিষ কাগজ ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ এতে বাসন পাতলা হয়ে যেতে পারে। সূত্র : কলকাতা টুয়েন্টিফোর। /কেএনইউ/এসএইচ

অসীম শক্তির আধার মন

মন এমন একটি কিছু, যাকে ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না। আজ পর্যন্ত কোনো বিজ্ঞানী একে টেস্টটিউব নিয়ে নিরীক্ষণ করতে পারেনি, অনুবীক্ষণ যন্ত্রের আওতার মধ্যেও আনতে পারেন নি। মন সম্পর্কে আমাদের অতীতের সাধকরা যেভাবে বলেছেন বর্তমান কালের বিজ্ঞানীরাও ঠিক একইভাবে বলেন, Mind is the source of all power. অর্থাৎ একজন মানুষের আসল শক্তির উৎস কিন্তু তার হাত নয়, পা নয়, তার পেশি মন, এ শক্তির উৎস হচ্ছে তার মন। আর মনের এই শক্তি রহস্যকে যদি বুঝতে পারি, তাহলে আমরা এই শক্তিকে চমৎকারভাবে ব্যবহারও করতে পারবো। মনের এই শক্তিকে সুপরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করতে পারলে আপনি যা চান, সেই প্রতিটি যুক্তিসঙ্গত চাওয়াকে আপনি পাওয়ার রূপান্তরিত করতে পারবেন। মনের শক্তি যে কী অসীম, তার প্রমাণ আধুনিক কালের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং। কথা বলতে পারেন না; কিন্তু এই মানুষটিই তার মনের শক্তি দিয়ে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড পরিভ্রমণ করে লিখলেন সাড়া জাগানো বই ‘দি ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম’। মানব মনের অসীম শক্তি এভাবে দেহের সীমাদ্ধতাকেও ছাড়িয়ে যায়। আমাদের মনের রয়েছে তিনটি স্তর: সচেতন মন সবিকিছুর নিজের ধরণা, যুক্তি ও বিশ্বাসের প্রেক্ষিতে বিচার-বিবেচনা করে। অবচেতন মন অবচেতন মন ভালোমন্দ কোনোকিছুই বিচার করে না। পূর্বে প্রাপ্ত তথ্য, পরিকল্পনা বা ধারণা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সে কাজ করে। অবচেতন মন আবার সচেতন মনের কথা সহজেই শোনে। অবচেতন মন সবসময়ই কাজ চায় । সে প্রায়শই প্রভাবিত হয় পরিপার্শ্বিকতা দ্বারা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যার কাঁচামাল হয় ভয়-ভীতি, নানা অমূলক আশঙ্কা কিংবা অন্যান্য অযাচিত বিষয় ইত্যাদি। কিন্তু সচেতন প্রচেষ্টায় অবচেতন মনকে কাজে লাগিয়ে অনেক আপাত অসম্ভবকেও সম্ভব করে তোলে যায়। অবচেতন মনের এই শক্তিভাণ্ডারকে ব্যবহার করেই ফরাসি মনোবিজ্ঞানী ও সাইকোথেরাপিস্ট এমিল কুয়ে গত শতাব্দীর শুরুতে অটোসাজেশনের মাধ্যকে বহু রোগীকে সুস্থ করে তোলেন। ১৯২০ সালে এ নিয়ে প্রকাশিত হয় তার বই-Self-Mastery Through Conscious Autosuggestion.   অচেতন বা অতিচেতন মন বিজ্ঞানীরা যাকে বলছেন অচেতন মন, সাধকরা তাকেই বলেন অতিচেতন মন। অবচেতন ও অতিচেতন মনের মাঝখানের দরজাটি খুলতে পারলেই সচেতন মন সংযোগ স্থাপন করতে পারে মহাচেতনার সাথে।   এম/টিকে

টানা টিভি দেখার নেশা সিগারেটের মতোই ক্ষতিকর : গবেষণা

যারা রোজ গড়ে তিন ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ধরে টিভি দেখেন, তারা সাধারণত দ্রুত মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছেন। সম্প্রতি এক গবেষণায় এমন তথ্য পাওয়া গেছে।  মূলত টানা বসে টিভি দেখার সঙ্গে দুর্বল স্বাস্থ্যের সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক। তাঁদের সমীক্ষা বলছে, আশি শতাংশ প্রাপ্ত বয়স্ক আমেরিকান দিনে গড়ে সাড়ে তিন ঘণ্টা করে টিভি দেখেন। গবেষকদের দাবি, এক টানা বেশি সময় ধরে টিভি দেখলে ক্যানসার বা কার্ডিওভ্যাসকুলার অসুখে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। টিভি দেখার নেশা ডেকে আনতে পারে ডায়াবেটিস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া, পারকিনসন্স এবং লিভারের একাধিক সমস্যা। এই সমীক্ষার ফল আমেরিকান জার্নাল অব প্রেভেনটিভ মেডিসিনে প্রকাশিত হয়েছে।সূত্র : জিনিউজ।

বেগুন কাবাবের রেসিপি

বেগুন সাধারণত শীতকালীন সবজি। সবজি হিসেবে বেগুন  অনেকের কাছিই বেশ জনপ্রিয়। বিভিন্ন রান্নার আইটেমে বেগুন ব্যবহার করা হয় যেমন- বেগুন ভর্তা, বেগুন পোড়া, বেগুনী। আজ আমরা বেগুনের ভিন্ন স্বাদের নতুন আইটেম দেখবো। সেটি হলো বেগুনের কাবাব। অনেকেই বিভিন্ন প্রকারের কাবাব খেয়েছে কিন্তু বেগুনের কাবাবের কথা হয়তো কখনও শোনেনি। এই কাবাব খুব মজাদার একটি  খাবার। এর রেসিপি একুশে টেলিভিশন অনলাইনে তুলে ধরা হলো- উপকরণ-     ১) বেগুন তিন থেকে চারটি। ২) গরুর কিমা আধা কেজি। ৩) দুধ এক পোয়া। ৪) পেঁয়াজকুচি এক কাপ। ৫) আদা বাটা, গরম মশলা বাটা এক চামচ। ৬) কাবাব মশলা এক টেবিল চামচ। ৭) গোল মরিচ ও শুকনা মরিচের গুঁড়ো এক চামচ। ৮) অলিভ অয়েল এক চামচ। ৯) টমেটো দুই থেকে তিনটা ও টমেটো সচ এক চামচ। ১০) পাওরুটি দুই পিস। ১১) লেবুর রস। ১২) গরম পানি ও ১৩) তেল। প্রণালি- প্রথমে বেগুনকে ধুয়ে গোল গোল করে কেটে দুই চামচ লবণ পানিতে ভিজিয়ে নিন। এ্খন দুধে পাউরুটি ভিজিয়ে রাখুন নরম করার জন্য। এটি গরুর কিমায় মাখালে স্বাদ ভালো হবে। তারপর একটি পাত্রে গরুর কিমা, পেঁয়াজ কুচি, আদাবাটা, গরম মশলা বাটা, কাবাব মশলা, লাল শুকনো মরিচের গুঁড়া, গোলমরিচের গুঁড়া, লেবুর রস ও লবণ দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন। এখন নরম পাউরুটি এর সঙ্গে মিশিয়ে নিন। এরপর সব মাখানো হয়ে গেলে কাবাবের মতো চ্যাপ্টা চ্যাপ্টা করে ৩০ মিনিট ফ্রিজে রেখে দিন। ৩০ মিনিট হয়ে গেলে এখন ওভেনের ট্রেতে দুটি বেগুনের মাঝে একটি করে কাবাব দিয়ে দিন। এখন কাবাব সচ তৈরি করে নিন। টমেটোর সচ, গোলমরিচের গুঁড়ো, লবণ এবং এক কাপ গরম পানি মিশিয়ে নিন। এর সঙ্গে অলিভ অয়েল দিয়ে দিন। সম্পূর্ণ সসটি বেগুন এবং কাবাবের ওপর ঢেলে দিন। টমেটো টুকরো করে কেটে ট্রেতে রাখা কাবাবের পাশে দিয়ে দিন। এখন ওভেনে ২০০ সেলসিয়াস তাপমাত্রা দিয়ে ৪৫ মিনিট টাইম সেট করে বেকিং ট্রেতে রেখে ওভেন চালু করেন। ৪৫ হয়ে গেলে বেক বের করুন। ব্যচ হয়ে গেল মজাদার বেগুন কাবাব। এখন নিজেও খেতে পারেন এবং অতিথিদেরকেও পরিবেশন করতে পারেন। /কেএনইউ/এসএইচ  

মস্তিষ্কই নিয়ন্ত্রণ করে সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ

আমাদের সব শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্ক। আর মস্তিষ্ক এটি করে মূলত নার্ভাস ও এন্ডোক্রাইন সিস্টেমের মাধ্যমে। তাই এ দুটি হলো শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি সিস্টেম। এন্ডোক্রাইন সিস্টেমের সব গ্ল্যান্ডের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে পিটুইটারি গ্ল্যান্ড। এ কারণে পিটুইটারি গ্ল্যান্ডকে বলা হয় মাস্টার গ্ল্যান্ড। এই পিটুইটারি গ্ল্যান্ডকে আবার নিয়ন্ত্রণ করে হাইপোথ্যালামাস। হাইপোথ্যালামাস যেহেতু মস্তিষ্কেরই অংশ; তাই বলা যায়, এন্ডোক্রাইন সিস্টেমের মাধ্যমে মস্তিষ্ক পুরো শরীরকেই নিয়ন্ত্রণ করছে। এছাড়াও, স্পাইনাল কর্ড এবং তা থেকে শাখা-প্রশাখার মতো বের হওয়া ৩১ জোড়া নার্ভের মাধ্যমেও নিয়ন্ত্রিত হয় শরীরের যাবতীয় অঙ্গ-প্রতঙ্গ। অর্থাৎ সবদিক বিবেচনায় মস্তিষ্কই আমাদের দেহের মূল নিয়ন্ত্রক। তাহলে কেন আমরা মস্তিষ্ককে বেশি ব্যবহার করছি না? এতো শক্তিশালী আর মহামূল্যবান মস্তিষ্ক, এটি কিন্তু একা কোনো কাজ করতে পারে না। এর কাজকে নানাভাবে প্রভাবিত ও পরিচালিত করে আমাদের মন। মন এবং মস্তিষ্কের সম্পর্ক নিয়ে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি নতুন ধারা ‘সাইকো-নিউরো-ইমিউনোলজি’। ‘সাইকো’ মানে মন; ব্রেনের নিউরোন এবং সেইসঙ্গে নার্ভাস সিস্টেমকে বোঝানো হয়েছে ‘নিউরো’ শব্দটি ব্যবহার করে আর ‘ইমিউনোলজি’ হলো শরীরের রোগ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। অর্থাৎ মনের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ব্রেন ও নার্ভাস সিস্টেমকে প্রভাবিত করার মাধ্যমে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে উজ্জীবিত ও কর্মক্ষম করে তোলাই হলো সাইকো- নিউরো-ইমিউনোলজির মূল লক্ষ্য। ১৯৭০ সাল থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সাইকো-নিউরো-ইমিউনোলজি নিয়ে গবেষণা ‍শুরু হয়। গবেষণা করেন ড. অ্যালেন গোল্ডস্টেইন এবং ড. জন মোটিল। দুজনই সাইকিয়াট্রিস্ট এবং নিউরোলজিস্ট। এদের সঙ্গে ছিলেন দুজন নিউরোসার্জন ডা. ওয়াইল্ডার পেনফিল্ড এবং ড. ই রয় জন। দীর্ঘ গবেষণার পর তারা বলেছেন, একজন প্রোগ্রামার যেভাবে কম্পিউটারকে পরিচালিত করে মনও ঠিক সেভাবেই ব্রেনকে পরিচালিত করে। আসলে কম্পিউটারের কিন্তু নিজে কিছু করার ক্ষমতা নেই। কম্পিউটার হচ্ছে কিছু হার্ডওয়্যারের সমন্বয়ে একটি যন্ত্র মাত্র। এজন প্রোগ্রামার সেটিকে যেভাবে প্রোগ্রাম দেন তা সেভাবেই চলে। মনও তেমনি মস্তিষ্ককে যেভাবে প্রভাবিত করে, ব্রেন ঠিক সে অনুসারেই কাজ করে। তাই নিরাময়, সুস্বাস্থ্য আর সাফল্যের জন্যে মনের শক্তিকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করে ব্রেনকে সঠিক প্রোগ্রামিং বা তথ্য দিতে হবে।   এম/এসএইচ        

সন্তানের সামনে নেতিবাচক আচরণ নয়

শিশুরা অনুকরণ প্রিয় হয়। বড়দের দেখেই অনেক কিছুই শিখে থাকে। তাই সন্তানের সামনে দুঃখ-কষ্ট বা হাসি-আনন্দ যা-ই করুন না কেন সেটাই তার ওপর প্রভাব পড়বে। সুতরাং শিশুদের সামনে কোন রকম নেতিবাচক কিছু কথা বা ব্যবহার করা যাবে না। তাহলে সেও নেতিবাচক হয়ে যাবে। তারা যেটা করতে চাইছে না সেটা জোর করে করানো যাবে না। এতে তার জেদি হয়ে উঠবে। অনেক সময় সন্তানরা ছোটখাট ভুল করে থাকে, তাই বলে তাকে ধমক দিলে তার মানসিক দিকে নেগেটিভ হয়ে পড়তে পারে। এ কারণে ওই কাজটি করা যাবে না। বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে তার সঙ্গে ইতিবাচক ব্যবহার করতে হবে। সন্তানের সামনে যেটা তুলে ধরা হবে সেটাই শিখবে। কোন বিষয়ে অবহেলা করলে সে কষ্ট পাবে। আর উৎসাহ দিলে সে আগ্রহী হয়ে উঠবে। সন্তানের সামনে যেসব ‍তুলে ধরা যাবে না সেগুলো একুশে টিভি অনলাইনের পাঠকদের জন্য দেওয়া হলো- ১) আপনার সন্তানকে কোন বিষয়ে উপযোগী করার জন্য সেই বিষয়ে তাকে সবসময় মেজাজ দেখাচ্ছেন, এতে সন্তানের ক্ষতি হতে পারে। এমনকি সন্তান বদমেজাজী হয়ে উঠতে পারে। সুতরাং মেজাজ না দেখিয়ে আন্তরিকতা দেখাতে হবে। সবসময় পজেটিভ বা ইতিবাচক কথা বলতে হবে। ২) সন্তান কোন একটি বিষয়ে অপরাধ করেছে সেই অপরাধের কথা আপনি সন্তানের বাবার কাছে নালিশ করবেন কিংবা তার টিচারের কাছে নালিশ করবেন এমনটি শোনালে সে নেতিবাচক আচরণ করতে পারে। এ বিষয়ে একটু সতর্ক থাকবেন। ৩) আপনার সন্তান পড়াশোনায় একটু খারাপ কিংবা রেজাল্ট একটু খারাপ করেছে এ বিষয়ে কখনই তাদের সামনে বলা যাবে না যে সে খারাপ। এতে পড়াশোনার প্রতি তাদের আগ্রহ কমে যাবে। ৪) আপনার সন্তান দেখতে সুন্দর হোক বা না হোক তান সমানে কখনই বলা যাবে না সে অসুন্দর। তার সামনে সমসময় গুণগুলো তুলে ধরবেন। কখনই খারাপ দিকটা বলবেন না। ৫) শিশুর সামনে কখনই তার খারাপ স্বাস্থ্য নিয়ে কথা তুলবেন না। আপনি নিজ দায়িত্বে তাকে সঠিক খাবার খেতে দিবেন। সন্তানের সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনে যাতে কোন ব্যাঘাত না ঘটে সেজন্য তার সামনে কখনও নেতিবাচক কথা বলা যাবে না। না হলে সন্তান দুশ্চিন্তা করবে এবং নিজেকে খুব অসহায় মনে করবে। সূত্র : কলকাতা টুয়েন্টিফোর।   /কেএনইউ/এসএইচ         

ডিএনএ রহস্য

আমরা খুব কমই নিজের দিকে তাকাই, নিজের প্রতি মনোযোগ দেই। যদি মনোযোগ দেই তবে দেখবো-কী অভূতপূর্ব আর অতুলনীয় এক সৃষ্টি এই মানবদেহ। আমাদের দেহ গঠিত হয়েছে প্রায় ৭০ থেকে ১০০ টিলিয়ন দেহকোষের সমন্বয়ে। প্রতিটি কোষে খাবার পৌঁছানোর জন্য রয়েছে শিরা-ধমনীর প্রায় ৬০ হাজার মাইলের পাইপলাইন। আছে ফুসফুসের মতো রক্ত শোধনাগার। নিদ্রাহীন কাজ করে যাচ্ছে হৃৎপিন্ডের মতো শক্তিশালী পাম্প, যা একজন মানুষের জীবদ্দশায় প্রায় সাড়ে চার কোটি গ্যালনের চেয়ে বেশি রক্ত পাম্প করে থাকে। আছে চোখের মতো ছোট্ট একটি ক্যামেরা ও লেন্স, যা দিয়ে সুবিশাল এই পৃথিবীর অপার সৌন্দর্য আমরা অবলোকন করি। আর দেহের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্যে রয়েছে স্নায়ুতন্ত্র, এন্ডোক্রাইন, রক্ত সংবহনতন্ত্রের মতো সূক্ষ্ম ও স্বয়ংক্রিয় একাধিক ব্যবস্থা । জীবনের শুরুতে যদি আমরা তাকাই তাহলে দেখবো, মাতৃগর্ভে একটি ডিম্বাণুর (Ovum) সাথে একটি শুক্রাণু (Sperm) এসে মিলিত হচ্ছে। শুক্রাণু এবং ডিম্বাণু-এ দুয়ের ডিএনএ মিলে তৈরি হচ্ছে একটি নতুন ডিএনএ। তৈরি হচ্ছে একটি নতুন কোষ। সেই নতুন কোষটি থেকে স্ব-বিভাজন পদ্ধতিতে ১ টি থেকে ২টি , ২ টি থেকে ৪ টি, ৪ টি থেকে ৮ টি, ৮ টি থেকে ১৬ টি, ১৬ টি থেকে ৩২ টি-এভাবে কোষের সংখ্যা বাড়ছে। কোষের সংখ্যা যত বাড়ছে তত নতুন নতুন অঙ্গ-প্রতঙ্গ তৈরি হচ্ছে । এক সময় মানবশিশু পূর্ণাঙ্গ রূপ ধারণ করে এবং সে ভূমিষ্ঠ হয়। মাতৃগর্ভে একটি ভ্রুণের ধীরে ধীরে বেড়ে-ওঠা, একপর্যায়ে মানবশিশুতে রূপ নেওয়া এবং তারপর জন্ম থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত একজন মানুষের সকল শরীরবৃত্তিয় কার্যক্রম-এ সবকিছুই কিন্তু পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড (ডিএনএ) দ্বারা। আমাদের শরীরে যতগুলো কোষ আছে প্রত্যেকটি কোষের কেন্দ্রে থাকে এই ডিএনএ। ডিএনএ নিয়ে গবেষণা করে প্রথম যিনি নোবেল পুরস্কার পান তিনি ড. জন কেনড্রু। ডিএনএ-কে তিনি এককথায় খুব চমৎকারভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ডিএনএ হচ্ছে জীবনের ব্লু-প্রিন্ট বা জীবনের নীল নকশা। ডিএনএ এত সূক্ষ্ম যে, পূর্ণবয়স্ক একজন মানুষের শরীরের প্রতিটি কোষ থেকে যদি ডিএনএ-কে আলাদা করে ফেলা হয়, তবে এই ডিএনএগুচ্ছ একটি চা-চামচে রেখে দেওয়া যাবে। চামচের তলানিতে এটি পড়ে থাকবে, চামচ ভরবে না। ডিএনএ দেখতে সিঁড়ির মতো পেঁচানো একটি ফিতা। দৈর্ঘ্যে এটি এক মিটার পরিমাণ লম্বা হতে পারে। একজন মানুষের শরীরের সবগুলো কোষে যে পরিমাণ ডিএনএ টেপ থাকে, সেগুলোকে যদি একটানা সাথে একটা জোড়া লাগানো হয়, তবে পৃথিবী থেকে সূর্য পর্যন্ত আপনি কমপক্ষে ১০০ বার প্যাঁচ দিতে পারবেন। তারপরও এই টেপ ফুরাবে না। কী আছে এই ডিএনএ টেপে? প্রতিটি ডিএনএ টেপে রয়েছে তিন বিলিয়ন জেনেটিক কোড এবং এই কোডগুলোকে যদি ভাষান্তরিত করা হয়-বাংলা, ইংরেজি যেকোনো ভাষায় তাহলে এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার মতো কমপক্ষে হাজার খণ্ডের বিশ্বকোষ প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষ হচ্ছে হাজার খণ্ডের এনসাইক্লোপিডিয়া বা বিশ্ববোষের তথ্যমালায় সমৃদ্ধ একেকটি তথ্যভাণ্ডার। আর আমাদের সকল শরীরবৃত্তিয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এই তথ্যমালা দিয়ে । শুধু যে দেহের বেড়ে-ওঠা আর শারীরবৃত্তিয় কার্যক্রম পরিচালনা তা নয়, যখন আপনার ত্বক কেটে যায়, হাড় ভেঙে যায়, তখন কে জোড়া লাগায়? কে নিরাময় করে? ডাক্তার ত্বকটাকে কাছাকাছি এনে সেলাই করে দেন, ভাঙা হাড় জায়গামতো বসিয়ে দেন; কিন্তু জোড়া লাগায় আপনার ডিএনএ’র মধ্যে বসে থাকা ডাক্তার অর্থাৎ ডিএনএ-তে সঞ্চিত নিরাময়ের তথ্যমালা। শুধু মানুষ নয়, যেখানে প্রাণ সেখানেই ডিএনএ। গাছপালা পশুপাখি ব্যাকটেরিয়া ভাইরাস-যেখানেই প্রাণ সেখানেই ডিএনএ। একটা গাছের কথাই ধরা যাক। হয়তো গাছের একটা ডাল মচকে গেছে। এখানে কে জোড়া লাগালো? কোন ডাক্তার? জোড়া লাগালো সেই গাছের ডিএনএ’র জেনেটিক কোডে সঞ্চিত তথ্যমালা। আগেই বলা হয়েছে, ডিএনএ হচ্ছে জীবনের ব্লু-প্রিন্ট বা নীল নকশা। কেমন নীল নকশা? ধরুন, আপনি শো-রুমে গিয়েছেন, একটি গাড়ি কিনবেন। কিন্তু দেখা গেল, আপনি গাড়ি না কিনে গাড়ির একটি ব্লু-প্রিন্ট কিনে নিয়ে এলেন। তারপর সেটি রেখে দিলেন আপনার গ্যারেজে। এবার কল্পনা করুন, সেই গ্যারেজে ব্লু-প্রিন্ট নিজে নিজে মোটরগাড়ির চেসিস তৈরি করছে, ইঞ্জিন তৈরি করছে, সিট তৈরি করছে, সিট-কভার তৈরি করছে, উইন্ডশিল্ড তৈরি করছে, তারপর নিজে নিজে স্প্রে করে রঙিন ঝকঝকে তকতকে হয়ে যাচ্ছে। একসময় পেট্রোল ভরে নিজে নিজেই গাড়িটি চলতে শুরু করেছে। এই পুরো বিষয়টিকে যদি কল্পনা করতে পারেন, তাহলে প্রাণের বিকাশে ডিএনএ’র ভূমিকাকে আপনি চমৎকারভাবে বুঝতে পারবেন, উপলব্ধি করতে পারবেন। বাবার শুক্রাণু আর মায়ের ডিম্বাণু মিলে যে একটি নতুন ডিএনএ ও নতুন কোষ তৈরি হয়েছিলো, তা থেকেই আমাদের পুরো শরীর গঠিত হয়েছে। আর সেই সাথে পরিচালিত হচ্ছে সব ধরনের শারীরবৃত্তিয় কার্যক্রম। সুতরাং আমরা বলতে পারি, ডিএনএ হলো চেতনা বা তথ্যমালার সমষ্টি। আর এই চেতনা যদি দেহ সৃষ্টি করতে পারে, চেতনা যদি কাটা ত্বক জোড়া লাগাতে পারে, ভাঙা হাড় জোড়া লাগাতে পারে, তবে চেতনা কেন নিরাময় করতে পারবে না? চেতনা কেন তথাকথিত নিরাময়-অযোগ্য রোগব্যাধি থেকে মুক্ত করে আপনাকে নিরাময়ের পথে নিয়ে যেতে পরবে না? এটি তখনই সম্ভব-যখন আপনি বিশ্বাস করবেন।   এম/টিকে

চিংড়ির  স্যুপ

স্যুপ বিভিন্নভাবে তৈরি করা যায়। বর্তমানে স্যুপের জনপ্রিয়তা অনেক। এছাড়া স্যুপ একটি পুষ্টিকর খাবার। কেননা স্যুপ তৈরি করা হয় মাছ, মাংস, সবজি এবং বিভিন্ন ফলমূল দিয়ে। তাই স্যুপ শরীরের জন্য বেশ উপকারী। এছাড়া স্যুপ বেশিরভাগই রোগীদের খাওয়ানো হয়। স্যুপ খেতে ছোট-বড় সবারই পছন্দ করে। ঠাণ্ডা স্যুপও রয়েছে গরম স্যুপও রয়েছে। শীতকালে গরম স্যুপ খাওয়া হয়। অধিকাংশ লোকই রেস্টুরেন্টে গিয়ে স্যুপ খেয়ে থাকেন। এখন রেডিমেট স্যুপের প্যাকেট বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। যদি রেসিপি জানা থাকে তাহলে বাসায় বসে খুব সহজে নিজেই স্যুপ বানাতে পারেন। আজ চিংড়ি মাছের স্যুপের রেসিপি একুশে টিভি অনলাইনের পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো- উপকরণ - ১) চিংড়ি মাছ মাঝারি সাইজের ১৫ থেকে ২০টা। ২) চিকেন স্টক চার কাপ। ৩) বিভিন্ন প্রকার সবজি (আপনার পছন্দমতো)। ৪) এক ইঞ্চি লম্বা সাইজে কুচি করা পেঁয়াজ। ৫) ফিস সস-৪ টেবিল চামচ। ৬) স্লাইস করা আদা কয়েক টুকরা। ৭) মাশরুম এক থেকে দুই কাপ। ৮) সয়া সচ ও টমেটো সচ এক টেবিল চামচ। ৯) লেবুর রস তিন টেবিল চামচ। ১০) গন্ধরাজ লেবুর পাতা দুই-তিনটি। ১১) চিলি রোস্টেট ওয়েল ২ টেবিল চামচ। ১২) কর্ন ফ্লাওয়ার এক চামচ। প্রণালি : প্রথমে চিংড়ি মাছের খোসা ছাড়িয়ে লেজ ফেলে ভাল করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। এরপর একটি কড়াইতে চিকেন স্টক ফোটাতে থাকুন। এতে একটু সয়া সচ দিন। এখন ফুটতে থাকলে ওর মধ্যে চিলি রোস্টেট ওয়েলসহ পেঁয়াজকলি, আদার টুকরো, সবজিগুলো এবং গন্ধরাজ লেবুর পাতা দিন। একটু ফুটিয়ে সুন্দর গন্ধ বেরোলে মাশরুম, ফিস সস ও লেবুর রস মিশিয়ে ফোটাতে থাকুন। এবার চিংড়ি মাছ দিন এবং টমেটো সচ দিয়ে নিন। এরপর কর্ন ফ্লাওয়ার দিয়ে নিন। চিংড়ি মাছে লাল রঙ হতে শুরু করলে বুঝতে হবে সুপ তৈরি। এখন একটি পাত্রে নামিয়ে পরিবেশন করুন এবং নিজেও খান। সূত্র : রান্নাবান্না /কেএনইউ/এসএইচ

শিশুদের জন্য চিকেন নুডুলস স্যুপ

বিকেল হলেই বাচ্চাদের নাস্তা নিয়ে চিন্তায় পড়ে যান মায়েরা। রোজ রোজ একই নাস্তা বাচ্চারা খেতে চায় না। মায়েদের মাথায় রাখতে হয় যে তাদের শিশুদের জন্য নতুন আইটেমের নাস্তা তৈরি করতে হবে। তাই তারা খুব চিন্তায় পড়ে যায়। এই চিন্তার অবসান ঘটাতেই আজ একুশে টেলিভিশন অনলাইনে তুলে ধরছে নতুন আইটেম চিকেন নুডুলস স্যুপ। এর রেসিপি নিচে দেওয়া হলো- উপকরণ : ১) ছোট ছোট টুকরো করা মুরগীর মাংস। তবে মাংস হতে হবে হাড় ছাড়া। ২) নুডুলস এক প্যাকেট। ৩) চিকেন স্টক এক কাপ। ৪) মিহি করা পিঁয়াজের কুচি। ৫) রসুন কুচি, আদা কুচি এক টেবিল চামচ। ৬) লাল কাঁচা মরিচ এক থেকে দুইটি (বাচ্চারা ঝাল যেমন খাবে)। ৭) লেবুর রস এক টেবিল চামচ। ৮) লেমন গ্রাস এক মুঠো ৯) লবণ পরিমাণ মতো। ১০) তেল ও পানি। প্রণালি - প্রথমে মুরগীর মাংসগুলো পানি দিয়ে সেদ্ধ করে নিতে হবে। এখন অন্য একটি প্যানে নুডুলস গরম পানিতে সেদ্ধ করে নিবেন। এরপর একটি কড়াইতে তেল গরম করে নিয়ে সেখানে রসুন কুচি, আদা কুচি ও লেবুর রস দিয়ে নেড়ে নিন। এখন এতে চিকেন স্টক ও পানি দিয়ে সেদ্ধ করা মাংস ঢেলে দিন। স্বাভাবিক সেদ্ধ মাংসের থেকেও বেশি সেদ্ধ করতে হবে অর্থাৎ মাংসটা যাতে খুবই নরম হয়ে যায়। সেদ্ধ হয়ে গেলে নুডুলস দিয়ে দিন এবং বাকি উপকরণগুলে দিয়ে একটু নেড়ে দিন। এরপর পাঁচ মিনিট অল্প আঁচে রেখে নামিয়ে ফেলুন। নামানোর পর চামচের সাহায্যে স্যুপ থেকে লেমন গ্রাস তুলে ফেলে দিন। যে পাত্রে বাচ্চাকে খাওয়াবেন সেই পাত্রে ঢেলে একটু ঠাণ্ডা করে বাচ্চাকে খাওয়ান। এই স্যুপটি বাচ্চার জন্য খুবই উপকারী। তাছাড়া শিশুরা এই স্যুপ খেতেও খুব ভালোবাসে।   /কেএনইউ/এসএইচ      

রাত জেগে কাজ করার পরিণতি মৃত্যু : গবেষণা

মেয়েরা রাত জেগে কাজ করলে তাদের ব্রেস্ট, স্কিন এবং স্টামাক ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। ফলে মৃত্যু বিষ জীবনকে গ্রাস করতে একেবারেই সময় নেয় না। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে এমনটা দাবি করা হয়েছে। চীনের সিচুয়ান ইউনির্ভাসিটির গবেষকদের করা এই মেটা-অ্যানালিসিস অনুসারে দিনের পর দিন রাত জেগে কাজ করলে দেহের ভেতরে কোষের বিভাজন ঠিক মতো হতে পারে না। ফলে ক্যান্সার সেলের জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা প্রায় ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। গবেষকরা দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া এবং এশিয়ার একাধিক দেশ থেকে সংগ্রহ করা প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার ৬২৮ টি ক্যান্সার স্টাডি বিশ্লেষণ করেন জানতে পারেন, নাইট শিফট করতে থাকলে স্কিন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে ৩২ শতাংশ বৃদ্ধি পায় ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা। আমাদের শরীরের ভিতরে একটি বায়োলজিকাল ক্লক রয়েছে। এই ঘড়িটি ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে শুতে যাওয়া পর্যন্ত সব কাজের সময় নথিভুক্ত করে থাকে। অর্থাৎ শরীরকে কখন কোন কাজটা করতে হবে, তা মূলত এই বায়োলজিকাল ক্লকই নির্দেশ দিয়ে থাকে। যদি কেউ রাতে ঘুমনোর জায়গায় জেগে থেকে কাজ করা শুরু করেন, তাহলে বায়োলিজকাল ক্লক বুঝে উঠতে পারে না যে, এমন পরিস্থিতিতে কী করা উচিত। ফলে শরীর নিজ নিয়মের বাইরে গিয়ে কাজ করা শুরু করে, যে কারণে বিরূপ প্রভাব পরতে শুরু করে শরীরের উপর। আর এমনটা দিনের পর দিন হওয়ার কারণে প্রথমেই অনিদ্রা রোগ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। সেই সঙ্গে ধীরে ধীরে আরও সব জটিল রোগ শরীরে এসে বাসা বাঁধে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই হঠাৎ মৃত্যু হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। সম্প্রতি বায়োলিজকাল ক্লকের উপর গবেষণা চালিয়ে তিন মার্কিন গবেষক নবেল প্রাইজে ভূষিত হয়েছেন। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে বায়োলজিকাল ক্লককে মন মতো চালালে যে যে ঘটনাগুলি ঘটার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়, সেগুলি হল: ১. ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়: এই বিষয়ক হওয়া একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে দীর্ঘ সময় ধরে রাত জেগে কাজ করে গেলে দেহের ভেতরে এমন কিছু পরিবর্তন হতে শুরু করে যে তার প্রভাবে ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা কমতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে শুরু করে। সেই সঙ্গে বাড়ে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা। ২. ওজন বাড়তে থাকে: দিনের পর দিন রাতে জেগে থাকলে খাবার ঠিক মতো হজম হতে পারে না। ফলে একদিকে যেমন গ্যাস-অম্বলের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়, তেমনি ওজনও বাড়তে শুরু করে। আর ওজন বাড়লে ধীরে ধীরে সুগার, প্রেসার এবং কোলেস্টেরলের মতো মারণ রোগ এসে শরীরে বাসা বাঁধে। ৩. মা হতে সমস্যা হতে পারে: শরীরের নিজস্ব ছন্দ বিগড়ে গেলে দেহের ভেতরে এমন কিছু নেতিবাচক পরিবর্তন হতে থাকে যে, তার সরাসরি প্রভাব পরে মা হওয়ার ক্ষেত্রে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে যে সব মেয়েরা নিয়মিত নাইট শিফট করেন তাদের মিসক্যারেজ এবং প্রিটার্ম ডেলিভারি হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। ৪. ব্রেন পাওয়ার কমে যায়: রাতের বেলা মস্তিষ্কের আরাম নেওয়ার সময়। তাই তো এই সময় দিনের পর দিন কাজ করলে ধীরে ধীরে ব্রেন পাওয়ার কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে ডিপ্রেশন, হাইপোলার ডিজঅর্ডার, স্লো কগনিটিভ ফাংশন, স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া সহ আরও সব সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। ৫. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়: গবেষণায় দেখা গেছে রাত জেগে কাজ করলে কর্টিজল হরমোনের মতো স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ মারাত্মক বেড়ে যায়। ফলে সারা রাত কাজ করার ক্ষমতা জন্মালেও রোগ প্রতিরোধ ক্ষণতা একেবারে কমে যায়। ফলে নানাবিধ রোগ ঘাড়ে চেপে বসতে সময়ই লাগে না। ৬. চোট-আঘাট লাগার প্রবণতা বেড়ে যায়: সারাদিন যতই ঘুমোন না কেন, রাতে ঘুম আসতে বাধ্য। এমন পরিস্থিতিতে মনোযোগ যেমন হ্রাস পায়, তেমনি শরীরের সচলতাও কমতে শুরু করে। ফলে অফিসে চোট-আঘাত লাগার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। সূত্র: বোল্ডস্কাই একে// এআর

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি