ঢাকা, শুক্রবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৮ ৩:০৬:৫৯

কন্যাশিশু হয়ে গেল মৃত ছেলে!

কন্যাশিশু হয়ে গেল মৃত ছেলে!

দুই দিনের একটি কন্যাশিশুর শ্বাসকষ্টসহ শারীরিক নানা জটিলতার কারণে চিকিৎসার জন্য ক্লিনিকে ভর্তি করেছিলেন মা। আশা ছিল সুস্থ সন্তানকে নিয়ে ঘরে ফিরবেন তিনি। কিন্তু পাঁচ দিনের মাথায় গত মঙ্গলবার মায়ের কোলে তুলে দেওয়া হলো মৃত শিশু। বুকে পাথর বেঁধে সন্তানের লাশ নিয়ে ঘরে ফিরলেন তিনি। বেগমগঞ্জ উপজেলায় গ্রামের বাড়ি নিয়ে যাওয়ার পর দাফনের সময় দেখা যায় ছেলে শিশুর লাশ। তাতেই গণ্ডগোলটি ধরা পড়ে। তবে অনেক নাটকীয়তার পর মেয়েকে ফিরে পান মা রোকসানা আক্তার। এমন ঘটনার জন্ম দিয়েছে চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানার গোলপাহাড় মোড়ের চাইল্ড কেয়ার ক্লিনিক।  বেসরকারি এ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে নবজাতক নিয়ে লুকোচুরির অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে শিশুটি বেসরকারি রয়েল হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।      জানা যায়, গত ১৩ এপ্রিল প্রথম সন্তানের জন্ম দেন রোকসানা আক্তার। অসুস্থতার কারণে ওইদিনই তিনি কন্যাশিশুটিকে প্রথমে নোয়াখালীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে নগরীর গোলপাহাড়ের চাইল্ড কেয়ার ক্লিনিকে নিয়ে ভর্তি করা হয়। গত মঙ্গলবার সকালে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করে তুলে দেওয়া হয় মায়ের হাতে। পরে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে মৃত শিশুটিকে দাফনের আগে গোসল করানোর সময় তারা দেখতে পান ছেলের লাশ। তারপর ফের তারা ওই রাতেই মৃত শিশুকে নিয়ে আবার চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয়। রাত ১২টার দিকে চাইল্ড কেয়ার হাসপাতালে পৌঁছায় তারা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ভুল বুঝতে পারে। ওই ছেলে নবজাতকটি ছিল আরেকজনের। পরে মৃত ছেলেটিকে তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়। রোকসানার কন্যাসন্তানটি বেঁচে আছে। রোকসানা আক্তার বলেন, শিশুটির লাশ নিয়ে আমরা সারারাত অ্যাম্বুলেন্সে বসেছিলাম থানার সামনে। বুধবার ভোরে মেয়ে পাওয়ার কথা জানানো হয়। পরে সকালে একটি অ্যাম্বুলেন্সে এসে ছেলের লাশ নিয়ে যায়, পরে আমার মেয়েকে ফেরত দেয় চাইল্ড কেয়ার ক্লিনিক।   ওই ঘটনায় দুই পক্ষই হাসপাতালের ওপর ক্ষুব্ধ। এমন ঘটনার পর বুধবার রোকসানা চাইল্ড কেয়ার হাসপাতাল থেকে শিশুটিকে বেসরকারি অন্য একটি হাসপাতালে নিয়ে যান।  তিনি আরও বলেন, চাইল্ড কেয়ার নাম দিলেও সেটি টাকা বানানোর মেশিন ছাড়া কিছু নয়। আমার সঙ্গে যা হয়েছে তা যেন আর কোনও মায়ের সঙ্গে না হয়। এ ঘটনায় চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, এ ঘটনায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালককে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছি। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।     চাইল্ড কেয়ার ক্লিনিকের পরিচালক ডা. ফাহিম হাসান রেজা বলেন, ভুল বোঝাবুঝির কারণে ঘটনাটি ঘটেছে। পরে আমরা প্রকৃত ঘটনা জানতে পেরে যার মেয়ে তাকে ফেরত দিয়েছি। একে//এসি    
রাশেদকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবার   

সৌদিতে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলে রাশেদকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবার। বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন রাশেদের মা কুলফুরের নেছা ও স্ত্রী শিখা মজুমদার। আর বাবা রফিকুল ইসলামের অবস্থা তো পাগলপ্রায়। বুধবার সৌদিতে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৬ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে মো. মহিউদ্দিন রাশেদের (৩৫) বাড়ি ফেনী শহরের উত্তর বিরিঞ্চি এলাকায়। তার বাড়িতে চলছে এখন শোকের মাতম।    জীবিকার তাগিদে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে সৌদি পাড়ি জমান মো. মহিউদ্দিন রাশেদ। দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে রাশেদ সবার ছোট। নিহত রাশেদের তিনটি সন্তান রয়েছে। তারা হলো- জিহান (৭), সাফওয়া (৫) ও আলিফ। ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন নিহত রাশেদের বাবা রফিকুল ইসলাম। সৌদি আরবের হাইল জেলার হোলাইফা শহর এলাকায় বুধবার স্থানীয় সময় ভোরে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে বলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার রাতে খাবার খেয়ে ফেনীর রাশেদসহ ৭ বাংলাদেশী ঘুমিয়ে পড়েন। ভোর রাতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ আগুনে রাশেদ ছাড়াও চৌদ্দগ্রামের বাতিসা ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা এমরানুল হক সোহেল (৩৪), তার ভাই ইমামুল হক মুন্না (২২), গুণবতী ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্রীপুর গ্রামের মো. সোহেল (৩০), লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার করইতোলা বাজার সংলগ্ন চর লরেন্স গ্রামের নেছার আহম্মদের ছেলে জসিম উদ্দিন (২৬) ও মো. ইব্রাহিম (২৩) নিহত হয়। আগুনে আহত হয়েছে আরো এক বাংলাদেশী। তাকে ওই দেশের হাইল কিং ফাহাদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   ভিডিও:  

আ. লীগের পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আজমত উল্লাহ

গাজীপুর সিটি করপোরেশন (জিসিসি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের নির্বাচনি কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খানকে চেয়ারম্যান করে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। একইসঙ্গে আজমত উল্লাহ খানকে উক্ত নির্বাচনের ‘প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট’ মনোনীত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৮ এপ্রিল বুধবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডি রাজনৈতিক কার্যালয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে এক বিশেষ সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সভায় গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী জাহাঙ্গীর কবির নানক। অন্যান্য সদস্যরা হলেন- ডা. দীপু মণি, আহমদ হোসেন, আখতারুজ্জামান, অ্যাড. আফজাল হোসেন, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী (নওফেল), শামসুন নাহার চাঁপা ও অসীম কুমার উকিল। এসএইচ/

মাটির নিচে মিলল দুইশ’বছরের পুরোনো জাহাজ

দুইশ’ বছরের পুরোনো একটি জাহাজের সন্ধান মিলেছে লক্ষ্মীপুরে। মেঘনা উপকূলে মাটি চাপায় থাকা জাহাজটি পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার রামগতি উপজেলার চর রমিজ ইউনিয়নের চর আফজল গ্রামে পুকুর খনন করতে গিয়ে এ জাহাজের খোঁজ পান শ্রমিকরা। বিষয়টি জানিয়ে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় প্রত্নতত্ত্ব ও ইতিহাস বিষয়ের লেখকদের ধারণা, এটি দুইশ’বছরের পুরোনো ‘পর্তুগিজ জাহাজ’হতে পারে। সম্প্রতি নদী ভাঙা এক কৃষক পরিবার চর আফজল গ্রামে জমি কিনে বাড়ি করেন। নিজ পরিবারের ব্যবহারের জন্য জমির মালিক মাহফুজ বসতঘরের পাশে পুকুর খনন করছিলেন। খননের এক পর্যায়ে জাহাজের ‘মাস্তুলের’ দেখা মেলে। মুহূর্তে এ খবর ছড়িয়ে পড়ে গ্রাম থেকে গ্রামে। স্থানীয় সচেতন মহলের ধারণা, প্রায় দুইশ’ বছর আগে নদীতে ডুবে যায় এ জাহাজ। কেউ কেউ ধারণা করছেন, পর্তুগিজ বণিকদের ব্যবহৃত জাহাজ এটি। এতে ধনরত্ন ও অস্ত্রসস্ত্রসহ মূল্যবান সম্পদ থাকতে পারে। মাটি খুঁড়ে জাহাজ পাওয়ার খবর লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালীসহ আশপাশের জেলায় ছড়িয়ে পড়ায় কৌতূহলী লোকজন দেখতে ভিড় করছেন। জাহাজ কি-না তা নিশ্চিত হতে এলাকার লোকজন টিউবওয়েল মিস্ত্রি দিয়ে ঘটনাস্থলে পাইপ বোরিং করায়। আশপাশের দুই থেকে তিনশ’ফুট এলাকাজুড়েই এ বোরিং করানো হয়। দেখা যায় ১২-১৪ ফুট গভীরে গেলে পাইপ আটকা পড়ে। একইভাবে বেশ কয়েকবার ভিন্ন ভিন্ন স্থানে বোরিং করে এলাকার লোকজন ধারণা করেন, এটি বিশাল আকৃতির ‘জাহাজ’। / এআর /

মুক্তিযোদ্ধা সামসেদুল হক আর নেই

মুক্তিযোদ্ধা সামসেদুল হক খোকন বুধবার ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর।  সামসেদুল হক খোকন নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার পাঁচগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। আমাদের গৌরবোজ্জ্বল স্বাধীনতা সংগ্রামে তার অনবদ্য ভূমিকা ছিল সবার জন্য অনুকরণীয়। তিনি জীবনবাজি রেখে শসস্ত্র সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ পূর্বকালে বঙ্গবন্ধু পুত্র শেখ কামালের সঙ্গে তার যোগাযোগ ও বন্ধুত্ব ছিল। তিনি সেনাবাহিনীর লং কোর্সের অফিসার ছিলেন। তিনি মুক্তিকামী বাঙালি হওয়ায় তাকে সে সময় সেনাবাহিনীর চাকরি হারাতে হয়েছিল। মরহুম খোকন ছিলেন পারিবারিকভাবে একজন সফল ব্যক্তি। তার স্ত্রী, পুত্র, পুত্রবধূ এবং কন্যা নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। তার স্ত্রী ট্র্যাস্ট ব্যাংকের উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা। পুত্র মিউচুয়্যাল ব্যাংকে এবং পুত্রবধূ একই ব্যাংকের কর্মকর্তা। একমাত্র কন্যা ডেন্টাল কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী। তিনি উত্তরাধিকারী সবাইকে উপযুক্ত স্থানে রেখে যেতে সক্ষম হয়েছেন। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন। এসএইচ/  

কয়লাবাহী জাহাজটি এখনো উদ্ধার হয়নি ( ভিডিও )

সুন্দরবনের পাশে পশুর নদে ডুবে যাওয়া কয়লাবাহী জাহাজটি এখনো উদ্ধার সম্ভব হয়নি। বেধে দেওয়া সময়ের মধ্যে উত্তোলন করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন মালিকপক্ষ। এদিকে বার বার নৌযান দুর্ঘটনায় ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে মংলা বন্দরের নৌ চ্যানেল। ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে সুন্দরবনে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ আর আইডব্লিউটিএ’র দায়িত্ব অবহেলার কারণে ঘটছে নৌযান ডুবি। সুন্দরবনের পাশে পশুর নদে ৭৭৫ মেট্রিকটন কয়লা নিয়ে ডুবে যায় কার্গো জাহাজ এমভি বিলাস। সাহারা এন্টারপ্রাইজের আমদানি করা কয়লা নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাবার কথা ছিল জাহাজটির। বিধি অনুযায়ী ১৫ দিনের মধ্যে চ্যানেল থেকে ডুবে যাওয়া জাহাজ অপসারণ করতে হবে। কিন্তু বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শুরুই হয়নি উদ্ধার কাজ। মালিকপক্ষ বলছে, বন্দরের বেঁধে দেয়া সময়েও জাহাজ উদ্ধার সম্ভব নয়। ধারাবাহিকভাবে সুন্দরবনের সংরক্ষিত এলাকায় ২০১৭ সালে ১ হাজার মেট্রিকটন কয়লা নিয়ে এম ভি আইচগতি, ২০১৬ সালে ১ হাজার ২৩৫ মেট্রিকটন কয়লা নিয়ে এমভি জাবেলা নুর, ২০১৫ সালে ৫’শ ১০ মেট্রিকটন কয়লা নিয়ে এমভি জিয়রাজ এবং একই বছরে সিমেন্টের কাঁচামাল জিপসাম নিয়ে ডুবে যায় কার্গো জাহাজ এমভি সি হর্স। বড় বিপর্যয় ঘটে ২০১৪ সালে। সেময় সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে ডুবে যায় তেলবাহী ট্যাংকার। নিয়মিত এসব দুর্ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ জানিয়েছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। চ্যানেলে নিয়মিত খনন না করায় ডুবচরে আটকা পড়ে বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছে নৌযান শ্রমিক নেতারা। বন্দরকর্তৃপক্ষ এবং আইডব্লিউটিএ কে এ ব্যাপারে আরো সক্রিয় হবার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

গাজীপুরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে (ভিডিও)

গাজীপুরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সিটি করপোরেশনের নাগরিকদের। ড্রেনের কারণে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। এলাকায় ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। কে বলবে, দেশের বৃহত্তম সিটি করপোরেশন এলাকার দৃশ্য এটি। একদিকে ময়লার স্তুপ, অন্যদিকে নিস্কাশনের অভাবে জমে থাকা পানিতে দুর্গন্ধ। গাজীপুরে দেড় হাজার কিলোমিটার রাস্তায় ড্রেন মাত্র ৩১০ কিলোমিটার। তাও সংস্কার করা হচ্ছে না দীর্ঘদিন ধরে। জনসংখ্যা, অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ নানা পারিপার্শ্বিক চাপের কারণে নতুন ড্রেন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তাও দেখা দিচ্ছে। বর্ষার এই সংকট আরও তীব্রতর হয়। বৃষ্টির পানির সাথে নর্দমার জমে থাকা ময়লা পানি মিশে যাতায়াতের অনুপোযোগী হয়ে ওঠে সড়কগুলো। এই ড্রেনেজ সংকটই এবারের প্রধান নির্বাচনী ইস্যু। ভোটাররা বলছেন, আশ্বাস দেয়ার পরও গতবার সমস্যার সমাধান করতে পারেননি জনপ্রতিনিধিরা। নগরবাসীর এই্ ভোগান্তি লাঘবে কাজ করবে, এমন প্রার্থীকেই বেছে নেয়ার প্রত্যাশা সাধারন ভোটারদের।  

ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস-বিদ্যুত্যের সংযোগ, বাড়ছে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা (ভি)

বস্তিগুলোতে অগ্নিকাণ্ডের পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিকদের হিসাব-নিকাশ জড়িত বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। আর বস্তিবাসীকে নগর পরিকল্পনার বাইরে রাখায়, ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস-বিদ্যুত্যের সংযোগের কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে হরহামেশা। এরফলে উচ্ছেদ হচ্ছে বস্তি আর পরবর্তীতে মাথাগোজার ঠাঁই হারায় নিন্মবিত্তের মানুষ। বস্তির সাথে রাজনীতির যোগসূত্র এবং অর্থ-ক্ষমতার প্রভাব যুক্ত থাকায় অগ্নিকাণ্ডের বেশিরভাগ ঘটনা মনুষ্য সৃষ্ট বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। আর বস্তিগুলোতে অবৈধভাবে গ্যাস- বিদ্যুতের সংযোগ নেয়ার কারণে বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটে বলে মনে করেন নগরবিদ ইকবাল হাবিব। ঘিঞ্জি পরিবেশের কারণে অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঠিকমতো কাজ করতে পারেন না বলেও জানান তিনি। সরকারি জমিতে গড়ে উঠা বস্তি উচ্ছেদ করে ছিন্নমূল মানুষের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণের পরামর্শ দিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।  

চুয়াডাঙ্গায় কৃষককে কুপিয়ে হত্যা

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বাবু নামে এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার গড়চাপড়া গ্রাম থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত বাবু হোসেন গ্রামের মৃত শুকুর আলীর ছেলে। এলাকাবাসী জানান, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার থেকে বাবু (৪৫) নিখোঁজ ছিলেন। রাতেই পুলিশ ও স্থানীয়রা গ্রামের মাঠে তাকে খোঁজাখুঁজি করেন। গভীর রাত পর্যন্ত বাবুর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পর দিন বৃহস্পতিবার সকালে তার লাশ পাওয়া যায়। একই গ্রামের উজির আলীর বাড়ির একটি টিনের চালার ভেতরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা বলে জানান গ্রামবাসী। বৃদ্ধ উজির আলী জানান, ঘটনার সময় বুধবার সন্ধ্যায় তিনি টিনের ঘরে শুয়ে ছিলেন। এ সময় কয়েকজন দৌড়াতে দৌড়াতে আমার ঘরে ঢুকে পড়ে। তারা আমার সামনেই একজনকে কুপিয়ে হত্যা করে চলে যায়। ভয়ে আতঙ্কে রাতে ঘটনা কাউকে জানাইনি। বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামবাসীকে জানালে তারা পুলিশে খবর দেয়। আলমডাঙ্গা থানার ওসি (তদন্ত) লুৎফুল কবীর জানান, খুনের কারণ জানা যায়নি। তবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি কারা এবং কেন বাবুকে হত্যা করেছে। এসএইচ/

রাজীবের নামে সড়ক ও স্কুল নির্মাণ করা হবে: চীফ হুইপ

পটুয়াখালীর বাউফলে রাজীব হোসেনের নামে একটি স্কুল নির্মাণ করবেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ ও বাউফল আসনের সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজ। অপরদিকে তার বাড়ির সামনের আধাপাকা সড়ক পুরো পাকা, রাজীবের নামে নামকরণ এবং বাড়িতে গভীর নলকূপ স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন বাউফল উপজেলা চেয়ারম্যান এবং দাসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। রাজীবের খালা জাহানারা বেগম একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বুধবার দুই দফা জানাজার পর পারিবারিক কবরস্থানে রাজীবকে সমাহিত করে তার পরিবার। এর আগে ঢাকায় হাইকোর্ট মসজিদে রাজীবের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার সকাল ৯টায় বাউফল সদরের পাবলিক মাঠে দ্বিতীয় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায়  রাজীবের ছোট দুই ভাই মেহেদি ও আবদুল্লাহ, বাউফলের সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজ, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো. মাসুমুর রহমান, পু‌লিশ সুপার মো. মাঈনুল হাসনসহ স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জানাজায় অংশ নেন, স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা বিভিন্ন পেশাজীবী, রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। জানাজার আগে চীফ হুইপ গণমাধ্যমকে জানান, ‘রাজীবের মৃত্যুর ঘটনায় পুরো জাতি মর্মাহত।সরকার রাজীবের পাশে ছিলো, ভ‌বিষ্যতেও তার পরিবারের সদস্যদের পাশে থাকবে।রাজীবের দুই ভাইকে সরকার সর্বোচ্চ সহায়তা করবে। এরপর সকাল ১০টায় দাসপাড়া গ্রামে রাজীবের নানা বা‌ড়িতে তৃতীয় নামাজে জানাজা অনু‌ষ্ঠিত হয়। রাজীবের তৃতীয় জানাজার নামাজ পড়ান তার ছোট ভাই হাফেজ মো.মেহে‌দি হাসান এবং মোনাজাত করান আরেক ছোট ভাই মো. আব্দুল্লাহ। এরপর রাজীবের নানা-নানীর কবরের পাশে তার দাফন সম্পন্ন হয়। উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারার কাছে দুই বাসের চাপায় ডান  হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তিতুমীর কলেজের মাস্টার্সের ছাত্র রাজীব হোসেনের। দুই সপ্তাহ ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ১৬ এপ্রিল সোমবার রাত পৌনে একটায় মৃত্যুবরণ করে রাজিব। কেআই/ টিকে

`স্মৃতির মিনারে শায়েস্তাগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়’

বিদ্যালয়টির শতবর্ষ উদযাপনে এসে ৪৭ বছর আগে ১৯৭০ সালে, পাকিস্তনের নির্বাচনের কথা খুব বেশি মনে পড়ে। আমাদের উলুকান্দি গ্রামের আঙিনায় সভা করে মিছিল যাচ্ছে বহরমপুর গ্রামে। আমি সেই মিছিলকারীদের সঙ্গে স্লোগান ধরেছিলাম।‘আমার ভাই তোমার ভাই, মানিক ভাই, শহীদ ভাই’। আর সেই বছরই ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির মাধ্যমে শুরু হয়েছিল আমার দ্বিতীয় শিক্ষাঙ্গন ‘শায়েস্তাগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়’এ যাত্রা। জাতীয় সঙ্গীতের কঠোর নিয়ম-নীতি, দিকনির্দেশনাপূর্ণ বক্তব্যের মাধ্যমে নতুন শিক্ষার্থীদের বরণ করা হলো। সেই থেকে আজও হৃদয়ের মণিকোঠায় লালন ও ধারণ করে আছি আমার পরম শ্রদ্ধেয় ও প্রিয় প্রধান শিক্ষক মরহুম আব্দুর নূর চৌধুরীর জীবনাদর্শ। ১৯৭০ সালে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র হিসেবে প্রথমেই মনে পড়ে ধর্মীয় শিক্ষক শ্রদ্ধেয় রশিদ স্যারের কথা, স্যার ক্লাসে এলেই মাথায় টুপি, নইলে বেতের বাড়ি, আর এরই মধ্যে কেউ যদি বলছে, ‘স্যার, সে আজ নামাজে যায় নাই’, তাহলে আর উপায় নাই। তাই আজও পকেটে টুপি নিয়ে বেড়াই। তবে মজার ব্যাপার ছিল, পড়া শিখো নাই, নামাজে যাও নাই, মাথায় টুপি দেও নাই-সব মাফ হয়ে যেত ‘স্যার মাথা ব্যথা করে’ বললেই। স্যার আদর করে কাছে নিয়ে মাথায় ফুঁ দিয়ে দিতেন। স্যারের এই আদরের কথা মনে হয় কেউ ভুলতে পারবে না। সম্ভবত আমি ষষ্ঠ শ্রেণির ‘খ’ শাখায় ভর্তি হয়েছিলাম। সেই শ্রেণিকক্ষটি প্রধান শিক্ষক স্যারের কক্ষ বরাবর ছিল। মনে পড়ে, একদিন কোনো এক স্যার ক্লাস করিয়ে চলে গেছেন, আর আমি টেবিলের ওপর থাকা চকের টুকরো দিয়ে শ্রেণিকক্ষের দরজায় কিছু লিখছি, আর তখনই আমাদের সবার প্রিয় করিম হোসেন ভাই এসে বলল, হেড স্যার তোমাকে ডাকছেন, কী আর করা, আকাশ ভেঙে মাথায়। করিম হোসেন ভাই স্যারের সামনে রুমের ডান পাশে দাঁড় করিয়ে দিল, কতক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম জানি না। স্যার নিজের কাজে ব্যস্ত, আর আমি দাঁড়িয়ে ঘামছি আর কাঁপছি। ত্রাণকর্তা হিসেবে অতিশয় নম্র ও ভদ্র স্যার হিসেবে যাকে পরে চিনেছি, আমাদের শ্রদ্ধেয় সেই নিপেন্দ্র স্যার হাজির। তিনি এসে আমাকে দেখেই হেড স্যারকে বললেন, ‘ও কী করেছে, স্যার’? তখন হেড স্যার আমার দিকে রুদ্রমূর্তি ধারণ করে বলেছিলেন, ‘আর ইত্তা করবায় নি’? আমি বলেছিলাম, ‘না, স্যার’। সাথে সাথে নৃপেন্দ্র স্যার বলেছিলেন, আর এমন করবে না। সে যাত্রায় মুক্তি পেয়েছিলাম আর ভেবেছিলাম, আমার কোনো শাস্তি হয়নি। কিন্তু আমি যখন হেড স্যার হলাম, তখন বুঝলাম, হেড স্যারের কক্ষে কোনো ছাত্রকে দাঁড় করিয়ে রাখা কত বড় শাস্তি। যাক সে কথা। ১৯৭১ সালে সপ্তম শ্রেণিতে উঠলাম। আর সংগ্রাম শুরু হলো। কত দিন ক্লাস চলেছিল মনে করতে পারছি না। তবে মনে হয়, মার্চ মাসের ২৬ তারিখ পর্যন্ত হবে। এরই মধ্যে আবার দুষ্টুমি। শ্রদ্ধেয় সুরেশ বাবু স্যারের ক্লাস। স্যার ক্লাসে যাচ্ছেন আর আমি বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ মাঠের মধ্যখানে দোলনায় দুলছি। সেদিকে আমার নজর নেই। বেশ কিছুক্ষণ পর ক্লাসের দিকে তাকিয়ে দেখি, ক্লাসে স্যার। দৌড়ে গেলাম। ঢোকা মাত্রই স্যার পড়া ধরলেন। আমি পারলাম না। আর তখনই স্যার অফিস থেকে বেত আনিয়ে কতটি বেত দিয়েছিলেন, মাথা থেকে পা পর্যন্ত, মনে নেই। তখন হয়তো কষ্ট পেয়েছিলাম। কিন্তু আজ মনে হয়, স্যারদের শাসন ছাত্রজীবনে কত প্রয়োজন। যাক, মুক্তিযুদ্ধের বছর ১৯৭১ সাল পেরিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের ছাত্র হিসেবে যখন ১৯৭২ সালে আমরা স্কুলে গেলাম, তখন আমরা অটোপ্রমোশনে অষ্টম শ্রেণিতে উঠে গেছি, সবাই কত খুশি। সমগ্র স্কুলের সব শিক্ষার্থী আনন্দের বন্যায় ভাসছে। সবার বিনা পরীক্ষায় ওপরের ক্লাসে অটোপ্রমোশন। অষ্টম শ্রেণিতে এসে শ্রদ্ধেয় স্যারদের সঙ্গে পরিচিত হলাম। এর মধ্যে মালেক স্যার, আপিল উদ্দিন স্যার, মহেশ্বর স্যার, ওমর আলী স্যার, রহিম আলী স্যার, বেঁটে খালেক স্যার, জলিল স্যার, মোল্লা তাহের আলী স্যার, তাহের আলী স্যার, সৈয়দ স্যারদের নাম জানলাম, তাদের ক্লাস পেলাম। মালেক স্যারকে দেখলে মনে হতো হেভিওয়েট স্যার। যদিও স্যারের কিল খাইনি। তথাপি অনেককে বলতে শুনেছি, ‘মালেক স্যারের কিল বৈশাখ মাসের শিল।’ তবে আমরা যখন স্যারকে পেয়েছি, তখন তিনি বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে গেছেন। কিন্তু সৈয়দ স্যার ও ওমর আলী স্যার, যাদের হাতে কখনও বেত দেখিনি, তারা কথার মাধ্যমে শাসন করতেন। সৈয়দ স্যারের কথা শুনলে শরীরে জ্বর উঠে যেত। আর ওমর আলী স্যার সব সময় উপমা দিয়ে কথা বলতেন। এত উপমা স্যার কোথা থেকে জোগাড় করতেন, আল্লাহ জানেন। মহেশ্বর স্যার পড়া না শিখলে ভীষণ রাগ করতেন। অনেক সময় ডাস্টার দিয়ে মাথায় আঘাত করতেন। কিন্তু কোনো দিন কারও কোনো স্যারের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল না। তারপর ১৯৭৩ সালে যখন নবম শ্রেণিতে উঠলাম, বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়া আরম্ভ করলাম, তখন পরিচয় হলো সহকারী প্রধান শিক্ষক শ্রদ্ধেয় খালেক স্যার, নৃপেন্দ্র স্যার, বিজ্ঞান বিভাগের ফরিদ স্যার, রঞ্জিত স্যার, সাইফুল ইসলাম স্যার ও শফিক স্যারের সঙ্গে। সহকারী প্রধান শিক্ষক খালেক স্যার ইংরেজি পড়াতেন, বানান উচ্চারণের সময় আমরা ওনার মুখের দিকে থাকিয়ে থাকতাম, কিভাবে উচ্চারণ করেন তা দেখার জন্য। এখনো মনে হয়, স্যারের উচ্চারণভঙ্গি শিখতে পারিনি। স্কুলজীবনের পুরোটাই মনে হয় স্যারকে দেখেছি, একটি হালকা হলুদ কেরোলিন শার্ট ও একটি ঘিয়ে রঙের প্যান্ট পরে আসতে। সম্ভবত তখন কেরলিন ও গ্যাবার্ডিন কাপড় বাজারে নতুন এসেছে। সম্ভবত এই রং স্যারের খুব প্রিয় ছিল। স্যারকে দেখলে মনে হতো একজন Man Of Principle। সত্যিই এ রকম স্যার পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। একদম ব্যতিক্রমধর্মী। প্রয়োজনের অতিরিক্ত কথা কোনো দিন স্যারের মুখ থেকে বের হতো না। মজার বিষয় ছিল, সুরেশ বাবু আর রশিদ স্যারকে আমরা প্রায়ই ভগবান আর আল্লাহ নিয়ে বাগবিতণ্ডা করতে দেখতাম। একজন আল্লাহর ক্ষমতা প্রদর্শন করতেন আরেকজন ভগবানের ক্ষমতা প্রদর্শন করতেন। কিন্তু কখনও ঝগড়ায় লিপ্ত হতেন না। ৯ম শ্রেণিতে প্রমোশন পাওয়ার পর এসব উপলব্ধি করতাম। কারণ আমরা তখন স্যারদের কমনরুমের পাশে বসতাম। সমগ্র স্কুলজীবনে যে বিষয়টি লক্ষ করেছি, ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সম্মান ও স্নেহ প্রদর্শন। নিচের ক্লাসের ছেলে-মেয়েরা ওপরের ক্লাসের দিকে কখনও যেত না, ঠিক তেমনিভাবে ওপরের ক্লাসের শিক্ষার্থীরা কোনো বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া নিচের ক্লাসে আসত না, যা বর্তমানে বিদ্যালয়গুলোতে তেমনভাবে প্রযোজ্য নয়। ১৯৭৪ সালে দশম শ্রেণিতে ওঠার পর বুঝলাম, স্যারেরা ছাত্রদের প্রতি অনেকটা নমনীয় আচরণ করছেন। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা কিছুদিন পর চলে যাবে বলে মনে হয় স্যারেরা এমন আচরণ করতেন। ১৯৭৫ সালে ম্যাট্রিক পরীক্ষা; কিন্তু দুর্ভাগ্য! সে বছর আমার ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেওয়া হলো না। কারণ আমার বয়স তখনও ১৩ বছর পূর্ণ হয়নি। পরের বছর ম্যাট্রিক পাস করলাম। প্রধান শিক্ষক স্যার আমাকে আবুল ফারুক বলে ডাকতেন। শিক্ষাজীবন শেষ করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে যখন শায়েস্তাগঞ্জ সিনিয়র মাদরাসায় বিএসসি শিক্ষক হিসেবে চাকরি নিলাম এবং সেখান থেকে বি-এড করলাম, তখন বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে চাকরির অফার আসে। কিন্তু আমার শ্রদ্ধেয় মাদরাসাপ্রধান আমাকে যেতে দেবেন না। সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে তিনি এভাবে বলেছেন। কিন্তু আমার শ্রদ্ধেয় প্রধান শিক্ষক মরহুম আব্দুন নূর চৌধুরী স্যার এই কমিটির একজন সদস্য হিসেবে সেদিন বলেছিলেন, ও সরকারি অর্থ ব্যয় করে বি-এড করেছে এবং এই সরকারেরই আরেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে। অতএব, ওকে যেতে দেওয়া উচিত। স্যারের এই যুক্তির কারণে আমাকে ছাড়পত্র দিতে হয়েছে। মরহুম আব্দুন নূর চৌধুরী স্যার শুধু আমার প্রধান শিক্ষক নন, তিনি আমার অভিভাবক ও পথের দিশারী ছিলেন। সেদিন আমাকে বলেছিলেন। ফরুক, তুমি যে পদে যাচ্ছ, জেনে রাখো, সেটি খুবই স্পর্শকাতর একটি পদ। আমার উপদেশ রইল, কখনো দুনম্বরি করবে না, আর অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবে না। তাহলে যত ঝড়-তুফান আসুক, তোমাকে স্পর্শ করতে পারবে না। আমি স্যারের কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে চলেছি। সে কারণে মনে হয় আমার নূরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মরহুম কাজী শফিকুল ইসলাম আমার নিয়োগের প্রায় ১০ বছর পর আমেরিকা যাওয়ার সময় প্রকাশ্যে সভায় বলেছিলেন, আপনি নিজেকে আমাদের সবার প্রধান শিক্ষক আব্দুন নূর চৌধুরী স্যারের মতো এই নূরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের আব্দুন নূর চৌধুরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবেন। আমি তাদের কথা রাখার চেষ্টা করেছি। জানি না কতটুকু পেরেছি তা এলাকাবাসী জানেন। ২২ বছর ছয় মাস প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে সপরিবারে আমেরিকায় বসবাস করছি। কিন্তু সব সময়ই স্যারদের কথা মনে হয়। আর প্রধান শিক্ষক স্যারের কথা কখনও ভুলার নয়, স্যার মাঝেমধ্যে অংকের ক্লাস নিতেন। তখন ক্লাসে পিনপতন নীরবতা বিরাজ করত। স্যারকে দেখলেই ভয়ে শরীর শিউরে উঠত। স্যার যখন বারান্দা দিয়ে হাঁটতেন, তখন স্যারের চশমা নাকের ডগায় ঝুলত। আর স্যার চশমার ওপর দিয়ে তাকাতেন। তখন মনে হতো এই বুঝি আমাকে ডাকবেন। তাই ক্লাস ভিজিট করতে যখন বের হতেন, তখন বিদ্যালয়ে নিঝুম-নীরবতা বিরাজ করত। ছাত্র-শিক্ষক সবাই নীরব। ক্লাসে স্যারেরা ভয় দেখাতেন, প্রধান শিক্ষক স্যার আসতেছেন বলে। আমার সহকারী শিক্ষকতার জীবনে তিনি ছিলেন আমার আলোকবর্তিকা ও প্রধান শিক্ষকতার জীবনে সরাসরি পথপ্রদর্শক ও পরামর্শদাতা ছিলেন। আমি দিনে-রাতে যখনই স্যারের কাছে গিয়েছি, শত ব্যস্ততা ও পরবর্তীতে অসুস্থতার মাঝেও আমাকে সময় দিয়েছেন। তাই বলতে দ্বিধা নেই যে ওনার জ্বালানো প্রদীপ বংশপরম্পরায় চলতেই থাকবে। নিভবে না কোনো দিন। ওনার শারীরিক মৃত্যু হতে পারে; কিন্তু আদর্শের মৃত্যু কখনও হতে পারে না। আল্লাহ অবশ্যই তাকে শান্তিতে রাখবেন। আমার দৃঢ়বিশ্বাস, এ রকম মানুষ গড়ার কারিগরদের আল্লাহ জান্নাতুল ফেরদৌস দান করবেন। আমার দ্বিতীয় শিক্ষাঙ্গনে স্যার হিসেবে যাদের পেয়েছিলাম, তারা প্রত্যেকেই একেকজন আলোকবর্তিকা। তাদের এই মশাল এখন সমগ্র পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে। তাই মহৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মহান শিক্ষকদের কখনও মৃত্যু নেই। তাদের প্রজ্বালিত আলো যুগে যুগে জ্বলতেই থাকবে। আর জ্ঞান জ্যামিতিক হারে বাড়তেই থাকবে। তাই সমগ্র পৃথিবীতে অগণিত বিদ্বান ও বিদুষী ব্যক্তিত্ব স্ব-স্ব ক্ষেত্রে অবদান রেখে শায়েস্তাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাক্ষ্য বহন করে চলছেন। তাই সব শেষে সৃষ্টিকর্তার কাছে এটাই কামনা করি, আমাদের শিক্ষাগুরুদের মধ্যে যারা ইন্তেকাল করেছেন, আল্লাহ যেন তাদের আত্মার মাগফেরাত নসিব করেন। আর যারা বেঁচে আছেন তাদেরও যেন নেক হায়াত দান করেন। আমিন! লেখক: মো. আমির ফারুক তালুকদারসাবেক প্রধান শিক্ষক,নূরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়,শায়েস্তাগঞ্জ, হবিগঞ্জ।ঠিকানা : তালুকদার মহলমহলুল সুনাম, শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভা, হবিগঞ্জ, বাংলাদেশ।৪০০৭, ৬৭ স্ট্রিট, অ্যাপার্টমেন্ট, ৩১ উডসাইড, নিউ ইয়র্ক, ১১৩৭৭, আমেরিকা।

গাজীপুরে পাসপোর্ট করতে এসে এক রোহিঙ্গা নারী আটক

গাজীপুরে ভুয়া নাম ঠিকানা ব্যবহার করে পাসপোর্ট করতে এসে এক রোহিঙ্গা নারী পুলিশের হাতে আটক হয়েছে। বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করে সে কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে কৌশলে পালিয়ে এসেছে বলে পুলিশ জানায়। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে গাজীপুর পাসপোর্ট অফিস থেকে জয়দেবপুর থানা পুলিশ তাকে আটক করে। আটককৃত নারীর নাম ছনুয়ারা (১৮)। তার পিতার নাম সকিল আহমেদ। জয়দেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ওসি জানান, মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে ছনুয়ারা নামে এক রোহিঙ্গা নারী গাজীপুরে পাসপোর্ট অফিসে এসে আবেদন করে। ওই নারীর কথাবার্তা ও আচার আচরণে পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে তারা জয়দেবপুর থানা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে জয়দেবপুর থানার একদল পুলিশ ওই পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে ছনুয়ারাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। গাজীপুর পাসপোর্ট অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, পাসপোর্টের আবেদন ফরমে ওই রোহিঙ্গা নারী গাজীপুরের কাপাসিয়ার ঠিকানা ব্যবহার করে পাসপোর্ট করার চেষ্টা করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজেকে একজন রোহিঙ্গা বলে দাবী করে। এছাড়া সে কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ছিল বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে উখিয়ার ওই ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হবে বলে পুলিশ জানায়। বাসস আর/টিকে

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি