ঢাকা, শনিবার, ২৩ জুন, ২০১৮ ২৩:২২:১৩

রাজধানীতে বিনামূল্যে হজ প্রশিক্ষণ

রাজধানীতে বিনামূল্যে হজ প্রশিক্ষণ

হজে গমনেচ্ছুদের সার্বিক সহযোগিতা ও কোরআর-হাদিসের আলোকে হজ যথাযথভাবে পালনের জন্য ব্যাক্তি উদ্যোগে বিনামূল্য হজের সহজ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজধানীর বননীর কেন্দ্রীয় জামে মাসজিদে তিন সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু হয় আজ। সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে এই প্রশিক্ষণ চলে ১.৪৫ মিনিট পর্যন্ত। প্রশিক্ষণে হজ গমনেচ্ছু প্রায় শতাধিক লোক উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আগামী মাসের ২৩ তারিখ ওমরা পালন। আগামী ৩০ তারিখ শনিবার মদিনা জিয়ারাত ও হজ পরবর্তী করণীয় বিষয় আলোচনা করা হবে। প্রশিক্ষণ সবার জন্য উন্মক্ত এবং এতে অংশগ্রহণের জন্য কোনো প্রকার ফি দিতে হবে না। এই প্রশিক্ষণ নারী ও পুরুষ আলাদা আলাদাভাবে বসার সুব্যবস্থা রয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন সময় এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। এর ধারাহিকতা আগামী মাসের ১৩-১৪ তারিখ বাদশা ফয়সাল মসজিদ শ্যামলী রিংরোডে দু’দিনব্যাপী হজ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিদিন বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই প্রশিক্ষণের পরিচালনা করা হবে। হজ প্রশিক্ষণ প্রদান ও সার্বিক বিষয় পরিচালনা করছেন মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন এবং মীর লুৎফল কবীর সাদী। আজ প্রশিক্ষণকালীন মীর লুৎফুল রহমান সাদী বলেন, মানব জীবনকে সফল করার জন্যে অন্যতম একটি ইবাদত হলো হজ্। হজ্জ এর মধ্যে দৈহিক, মানসিক, আর্থিক, আত্মিক বিষয়ে উন্নতির ব্যবস্থা আছে। যথাযথ প্রশিক্ষণ না করলে হজ খুব কমই সফল হয়। তিনি আরও বলেন, আল্লাহ ও তার রাসূল যেভাবে হজ্জ পালন নির্দেশ দিয়েছে আমরা অনেকেই জানি না।যে কারণে হজ্জ আমাদের জীবনে তেমনকিছু পরিবর্তন করতে পারে না। আমার ব্যক্তি উদ্যোগে এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি। কিছু হলেও মানুষের উপকারে আসে। তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে থেকে প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ ৩৭ হাজার লোক হজে যান। কিন্তু হজে কি কি পালণীয় কি কি বর্জনীয় এমনকি হজ থেকে ফিরে হাজীদের আচরণ কি হবে এ বিষয় অনেকের-ই বহু কিছু অজানা থাকা। হজের গুরুত্ব হজ পালনের আগে যদি লোকজন জানে তবে জীবনে অনেক পরিবর্তন আসবে।  টিআর/        
রাজধানীতে জলাশয় দখলের ফলেই জলজটের সৃষ্টি

রাজধানীর ৫০টিরও বেশি খাল দখল হয়ে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন স্থাপনা। নদী, খাল, লেকসহ জলাশয় দখল আর ভরাট হওয়ার কারণেই অল্প বৃষ্টিতেই জলজটের সৃষ্টি হয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তবে জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল উদ্ধারসহ বিভিন্ন প্রকল্প চলছে বলে জানিয়েছে ওয়াসা ও সিটি করপোরেশন। চারশ বছরেরও বেশি পুরোনো ঢাকা শহরের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন সমস্যাও প্রকট হয়ে উঠছে। রাজধানীতে যানজটের ভোগান্তিতো আছেই। সেইসঙ্গে যোগ হয়েছে বর্ষা মৌসুমের জলজট। অনুসন্ধানে জানা গেলো, ৫০টির বেশি খাল ভরাট ও দখল হয়ে গেছে। চারপাশের চারটি নদী দখল-ভরাটে জর্জরিত, নদীর সঙ্গে খালগুলোর সংযোগ বিচ্ছিন্ন, শহরের খোলা জায়গাগুলোও দখল, দখল করা জায়গায় গড়ে উঠেছে পাকা দালান, জলাশয় ভরাট, কংক্রিটের আবরণে বৃষ্টির পানি ভূগর্ভে যেতে না পারা, যথাযথ ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা, ময়লা অর্বজনা আর পলিথিন দিয়ে ড্রেনেজ ভরাট, পলিথিনের অধিক ব্যবহারে জলজটের শহরে পরিণত হয় ঢাকা। ঘণ্টায় দশ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হলেই ঢাকার রাস্তার অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া ভার। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই সম্প্রতি অল্প বৃষ্টিতেই ঢাকার রাজপথে চলেছে নৌকা। নগরীর জলজট নিরসণে দ্রুততম সময়ে খালগুলো উদ্ধারের তাগিদ দিলেন বিশেষজ্ঞরা। তবে খাল দখল হয়ে যাওয়ার কথা অস্বীকার করছে না সিটি করপোরেশন। খাল উদ্ধারসহ জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ চলছে বলেও জানান কর্মকর্তারা। মহানগরীর ৪৩টি খালের মধ্যে ২৬টি খালের রক্ষাণাবেক্ষণের দায়িত্ব ওয়াসার।  জানতে চাইলে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, মহাপরিকল্পনা অনুসারেই কাজ চলছে। সব খাল-বিল, ড্রেন, বক্স কালভার্ট, জলাধার পরিষ্কার করে নদী পর্যন্ত সচল রাখা গেলেই জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব বলেই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। একে//

রাজধানীতে ট্রেনের ধাক্কায় একজনের মৃত্যু

রাজধানীর মালিবাগ রেলগেট এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তার বয়স আনুমানিক ৫৫। শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রমনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যত নিশ্চিত করেছেন। এসআই আমিনুল ইসলাম জানান, মালিবাগ ও ওয়ারলেস রেলগেটের মধ্যবর্তী স্থানে এক ব্যক্তি ট্রেন ধাক্কায় আহত হন। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাকে রেললাইন থেকে রাস্তায় নিয়ে আসে। পরে পুলিশ সংবাদ পেয়ে রাস্তা থেকে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক ওই ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ  মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান এসআই। একে//

রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ২৪

রাজধানীর পুরান ঢাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ২৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এই মাদক বিরোধী অভিযান চালানো হয়। পুলিশের ভাষ্য মতে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন তালিকাভূক্ত মাদক ব্যবসায়ী রয়েছেন। অভিযান নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার (এডিসি) ইব্রাহিম খান গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা শাঁখারীবাজার, রাজার দেউড়ি, বাসা বাড়ি লেনের সুইপার কলোনি এসব জায়গায় অভিযান চালিয়ে ২৪ জনকে আটক করেছি। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দুইজন তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে ২০৫ পিচ ইয়াবা, ২ হাজার ৫০০ পুরিয়া হেরোইন, ৬ কেজি গাঁজা, প্যাথেড্রিন ইনজেকশন ৪০টি এবং প্রায় ৫০ লিটার দেশি মদ জব্দ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।   এমএইচ/ এসএইচ/    

বিহারি ক্যাম্পে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ৫১

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বিহারিদের ক্যাম্পে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে সন্দেহভাজন ৫১ জনকে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। প্রায় আড়াই ঘণ্টার অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও কয়েকটি ধারালো ছুরি-চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার সকাল ১১টা থেকে থানার পুলিশসহ ডিএমপির বিভিন্ন ইউনিটের সমন্বয়ে এই অভিযান চালানো হয়। পরে দুপুর ১টার দিকে অভিযানটি শেষ হয়। মোহাম্মদপুর জোনের এডিসি ওয়াহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেন মোহাম্মদপুর, আদাবর থানা পুলিশসহ বিপুল পরিমাণ পুলিশ সদস্য। মহানগর গোয়ান্দা পুলিশ (ডিবি) ও কে-৯ ডগ স্কোয়াডের একাধিক দলও অভিযানে অংশ নেয়। অভিযানের সময় একটি তিন তলা ভবনের তালা ভেঙে বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। অভিযান শেষে মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) ওয়াহিদুল ইসলাম জানান, প্রতিদিনের মতো রুটিন মাফিক এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে প্রাথমিকভাবে ৫১ জন আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৭০০ পিস ইয়াবা ও কয়েকটি ধারালো ছুরি-চাকু। উল্লেখ্য, এর আগে রমজানে ওই ক্যাম্পে র‌্যাব একটি মাদকবিরোধী অভিযান চালায়। অভিযানে আটক হয় বেশ কয়েকজন মাদক বিক্রেতা। উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা। একে//

একটি ছিনতাই, অনেক প্রশ্ন...

রাজধানীতে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন জার্মান তরুণী সুইন্ডে ভিডারহোল্ড৷ হতাশা এবং ক্ষোভ নিয়েই দেশে ফিরেছেন তিনি৷ বিষয়টি নিয়ে একরকম তোলপাড়ই চলছে৷ বিদেশিদের নিরাপত্তার বিষয়টিও উঠে এসেছে আলোচনায়৷ ফটোগ্রাফির প্রতিষ্ঠান ‘পাঠশালা`র শিক্ষার্থী ভিডারহোল্ড গত বৃহস্পতিবার ভোরে ধানমন্ডির শংকর বাসস্ট্যান্ড থেকে রিকশায় করে তার এলিফ্যান্ট রোডের বাসায় ফিরছিলেন৷ জিগাতলা সীমান্ত স্কয়ারের সামনে একটি সাদা প্রাইভেটকারে আসা ছিনতাইকারীরা তার ব্যাকপ্যাক টান দিয়ে নিয়ে যায়৷ ওই ব্যাগে তার ল্যাপটপ, ক্যামেরা, ক্রেডিট কার্ড এবং দুটি হার্ডডিস্কসহ অন্যান্য জিনিস ছিল৷ ছিনতাইয়ের ঘটনা তার বন্ধু শশাঙ্ক সাহা গণমাধ্যমের কাছে বর্ননা করেছেন৷ তিনি বলেন, সুইন্ডে তার বন্ধুদের জানিয়েছেন, তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দুটি হার্ডডিস্ক৷ দীর্ঘ সময় কষ্ট করে তোলা ছবি এতে রয়েছে৷ দু`টি হার্ডডিস্কের জন্য বৃহস্পতিবার সারা দিনই কেঁদেছেন৷ তাকে কিছু খাওয়ানোও যায়নি৷ শুক্রবার ভোরবেলা বন্ধুরা তাকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিয়ে আসেন৷ তিনি আরো বলেন, গত জানুয়ারিতে ধানমন্ডির পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটে ফটোগ্রাফি কোর্স করতে ঢাকায় আসেন সুইন্ডে৷ তিনি চট্টগ্রামে জাহাজভাঙা শিল্প, সুন্দরবন, কুয়াকাটাসহ অনেক জায়গায় প্রচুর ছবি তুলেছিলেন৷ ছিনতাইকারী যে গাড়িতে ছিল, সেই গাড়ির নম্বরপ্লেট বাংলায় থাকায় তিনি সেটি বুঝতে পারেননি৷ রিকশাচালকও সেটি খেয়াল করেননি৷ এ ঘটনায় হতবিহ্বল হয়ে পড়েন সুইন্ডে৷ সুইন্ডে  ঘটনার পর ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, আমি পাঁচ মাসে এখানে অনেক জায়গায় গিয়েছি৷ অনেক অভিজ্ঞতা৷ অনেক সহযোগিতা পেয়েছি৷  কিন্তু একটি ঘটনা পুরো বাংলাদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতাটি কালো মেঘে ঢেকে দিলো৷ না, এটা (বাংলাদেশ) ভ্রমণের জন্য নিরাপদ নয়৷ একা ভ্রমণ না করাই ভালো৷ আমি কেবল একটি কথাই বলতে পারি, দেখে-শুনে চলো, নিজের ক্ষেত্রে সাবধানে থেকো৷ আমার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে৷ কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি বাংলাদেশ ছাড়ছি৷ পাঠশালার অধ্যক্ষ তানভির মুরাদ তপু ডয়চে ভেলেকে বলেন, সুইন্ডে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ার পরই আমরা জানতে পারি৷ এরপর তাকে নিয়ে আমরা থানায় যাই৷ সে একটি মামলা করেছে৷ ঢাকায় থাকাকালে সে একবার দেশের বাইরেও গিয়েছিল৷ আর বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে সে ছবি তুলেছে৷ সেই সব ছবিই হার্ডডিস্কে ছিল৷ সে ওই ছবিগুলোর জন্যই বেশি কাতর হয়ে পড়ে৷ অবশেষে মনভরা দুঃখ নিয়ে সে বাংলাদেশ ছেড়েছে, যা আমাদেরও কষ্ট দেয়৷ তিনি জানান, হানোফারের সঙ্গে আমাদের এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম আছে৷  তার আওতায়ই সুইন্ডে পাঠশালায় ফটোগ্রাফি কোর্স করতে এসছিলেন৷  আমাদেরও তিন জন এখন হানোভারে আছে৷ সুইন্ডে বাংলাদেশ সম্পর্কে উচ্ছ্বসিত ছিলেন৷ সবার সঙ্গে মিশতেন৷ ক্লাসেও ছিলেন মনোযোগী৷ কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি দুঃখ নিয়ে বাংলাদেশ ছাড়লেন৷ ধানমন্ডি থানা পুলিশ এখন সুইন্ডের ছিনতাই হওয়া জিনিসপত্র উদ্ধারের চেষ্টা করছে৷ শুধু থানা পুলিশ নয়, ডিবি, পিবিআইসহ পুলিশের আরো কয়েকটি সংস্থা মাঠে নেমেছে ব্যাগ উদ্ধারে৷ ধানমন্ডি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) পারভেজ হাসান ডয়চে ভেলেকে বলেন, আমরা আশপাশের এলকার সিসি ক্যামেরার সব ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছি৷ সীমান্ত স্কোয়ারের  ভিডিও ফুটেজের জন্য পুলিশ সদরদপ্তরে আবেদন করেছি৷ ৪-৫টি প্রাইভেট কার চিহ্নিত করেছি৷ আশা করি, ফুটেজ দেখে আমরা ছিনতাইকারীদের চিহ্নিত করতে পারবো৷ আমরা আশাবাদী, সুইন্ডে তার ছিনতাই হওয়া জিনিসপত্র ফেরত পাবেন৷ বাংলাদেশে এর আগেও একাধিক বিদেশি ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন৷ ২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অনুষ্ঠান চলাকালে মঞ্চ থেকে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত লিওনি কুলেনারার ভ্যানিটি ব্যাগ চুরির ঘটনা ঘটে৷ পরে অবশ্য ওই ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধারে সক্ষম হয় পুলিশ৷ ঢাকা মেট্রেপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার মাসুদুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ সুইন্ডের ব্যাগ উদ্ধারে তৎপর আছে৷ অতীতেও  এরকম ঘটনা ঘটেছে৷ বিদেশি নাগরিকদের ছিনতাইয়ের ঘটনায় ছিনতাইকারী আটক এবং মালামাল উদ্ধারে সক্ষম হয়েছি৷ আশা করি, এবারও সক্ষম হবো৷ হোলি আর্টিজান হামলার পর বাংলাদেশে বিদেশি নাগরিক এবং  দূতাবাসের বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয় সরকার৷ বিদেশি নাগরিকরা এরপর থেকে বাংলাদেশ ভ্রমনে আস্থা ফিরে পায়৷ সেই নিরাপত্তা এখনো অব্যাহত আছে কি-না জানতে চাইলে মাসুদুর রহমান বলেন, বিদেশি দূতাবাস এবং নাগরিকদের  নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা এখনো কার্যকর আছে৷ আমরা নিরাপত্তার জন্য বিদেশি নাগরিক যারা বাংলাদেশে আসেন, তাদের চলাচলের ওপর খেয়াল রাখি৷ তবে নানা কাজে তারা আসেন৷ কেউ ভ্রমণ করতেও আসেন৷ সবার জন্য সমান নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব হয় না৷ সুইন্ডের বিদেশ ভ্রমণের নেশা আছে৷ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ  করে ছবি তুলেছেন৷ ঢাকায় গ্যোয়েটে (বানানভেদে গোয়েটে) ইন্সটিটিউটের সামনেও বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতেন তিনি৷ পাঠশালার জনসংযোগ কর্মকর্তা ইমরান আহমেদের ভাষায়, অত্যন্ত বন্ধু বৎসল সুইন্ডে আমাদের সবাইকে আপন করে নিয়েছিলেন৷ কিন্তু আমরা তাকে হাসিমুখে তার দেশে পাঠাতে পারলাম না৷ এটা আমাদের দুঃখ৷ এখন যদি পুলিশ তার ছিনতাই হওয়া জিনিসপত্র উদ্ধার করে তাকে ফেরত দিতে পারে, তাহলে আমরা সবাই খুশি হবো৷ সূত্র: ডয়চে ভেলে একে//

কমলাপুরে বাথরুমে ভারতীয় নারীর সন্তান প্রসব

কমলাপুর রেলওয়ে থানার বাথরুমে সন্তান প্রসব করেছে রোকসানা আক্তার (৩০) নামে এক ভারতীয়। সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন ওই নারী। মা-ছেলেকে উদ্ধার করে প্রথমে মুগদা জেনারেল হাসপাতাল এরপর ঢামেকে ভর্তি করা হয়। রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াসিন ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ওসি ইয়াসিন ফারুক বলেন, সোমবার রাতে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকার কমলাপুরে আসছিলেন রোকসানা। পথে গেন্ডারিয়া স্টেশনে ব্যথা অনুভব করেন। তার সঙ্গে কেউ ছিল না। কমলাপুর স্টেশনে এলে ট্রেন কর্তৃপক্ষ রোকসানাকে ঢাকা রেলওয়ে থানা পুলিশের কাছে বুঝিয়ে দেন। থানায় আসার পর রোকসানা বাথরুমে যেতে চান। বাথরুমে গিয়ে তিনি বেশ কিছুটা সময় নেন। পরে বাথরুম থেকে পুলিশ সদস্যরা বাচ্চার কান্নার আওয়াজ শুনতে পান। বাথরুমের দরজা খুললে রোকসানাসহ তার সন্তানকে উদ্ধার করা হয়। ওসি জানান, রোকসানা ভারতীয় নাগরিক। তার স্বামীর নাম আবদুল। তিনি বাংলাদেশি নাগরিক। রোকসানা বাংলায় কথা বলতে পারেন না। ওসি আরও বলেন, বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। সুস্থ হওয়ার পর মা ও ছেলেকে পুলিশের নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা হবে। এরপর সরকারিভাবে ভারতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি। এদিকে, ঢামেকে ভর্তির সংবাদ শুনে মঙ্গলবার দুপুরে প্রসূতি ও নবজাতককে দেখতে আসেন হাসপাতালের উপপরিচালক শাহ আলম তালুকদার। জানতে চাইলে তিনি বলেন, সন্তান ও মা দুই জনই ভালো আছে। মা আছেন গাইনি ওয়ার্ডে। শিশুটিকে নবজাতক ইউনিটে রাখা হয়েছে। জানা গেছে, রোকসানার বাবার নাম রাসুল এবং মায়ের নাম খারুন্নেসা। তাদের গ্রামের বাড়ি ভারতের মাইসুর জেলার বেঙ্গল থানা এলাকায়। এক সপ্তাহ আগে সন্তানসম্ভবা স্ত্রী রোখসানা আক্তারকে নিয়ে ভারত থেকে দেশে ফেরেন আবদুল। ছয় দিন ঢাকায় থাকার পর সোমবার সকালে স্ত্রীকে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে যান তিনি। ওই দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্ত্রীকে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী ট্রেনে উঠিয়ে দিয়ে পালিয়ে যান। ট্রেনের মধ্যে প্রসব বেদনা ওঠে রোখসানার। ট্রেনের অন্য যাত্রীদের সহায়তায় কমলাপুর রেলস্টেশনের নারায়ণগঞ্জ প্লাটফর্মে নামেন। প্রসব বেদনা আরও তীব্র হয়। লোকজন তাকে নিয়ে যায় কমলাপুর রেলওয়ে থানায়। পরে থানার বাথরুমে ছেলে সন্তান জন্ম দেন ভারতের এই নাগরিক। স্বামী আবদুল তাকে ফেলে পালিয়ে যাওয়ায় সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তান নিয়ে বিপাকে পড়েন তিনি। তবে অসহায় এই নারী ও সন্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে ঢাকা (কমলাপুর) রেলওয়ে থানা পুলিশ। সন্তানসহ তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ পাহারায় সেখানে মা-ছেলের চিকিৎসা চলছে। তাদের শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে। কিন্তু তার স্বামীর বাড়ির ঠিকানা তিনি সঠিকভাবে বলতে পারছেন না। কখনও বলছেন নারায়ণগঞ্জে, কখনও চাঁদপুরে। স্বামীর ফোন নম্বরও নেই তার কাছে। স্বামী তার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। ট্রেনে তুলে দিয়ে পালিয়েছেন। একে//

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি