ঢাকা, শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২২:৩৩:৫১

ফেসবুকে ভুয়া সংবাদ চিনবেন যেভাবে

ফেসবুকে ভুয়া সংবাদ চিনবেন যেভাবে

বর্তমানে সোশাল মিডিয়ায় `ফেক নিউজ` এর ছড়াছড়ি। ভুয়া নিউজের ভিড়ে কোনটা সঠিক নিউজ চেনার উপায় নেই। আর এসব ‘ফেক নিউজের’ কারণে বারবার প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে ফেসবুক, গুগল বা টুইটারের মতো সোশাল মিডিয়াকে। অবশ্য গত  কয়েক বছর ধরেই ফেসবুক `ফেক নিউজ` এর দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে উদ্যোগ নিয়েছে।`ফেক নিউজ` ছড়ানোর দায়ে অনেক দেশে ফেসবুক-এর বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। চলতি বছর ইতালিতে `ফেক নিউজ` বিরোধী  বিশ্ব সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবার ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ভুয়া নিউজ চেনার উপায় নিয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছে ফেসবুক। জেনে নিন আপনি কীভাবে চিনবেন ভুয়া নিউজ - সন্দেহপ্রবণ হেডলাইন: ফেক নিউজের ক্ষেত্রে হেডলাইন হবে বেশি চিত্তাকর্ষক। এ ধরনের হেডলাইনে বিস্ময় সূচক বা প্রশ্ন চিহ্ন থাকলেই সতর্ক হন। আবার হেডলাইনের শব্দগুলি যদি অত্যাধিক বোল্ড বা অবিশ্বাস্য কিছু দাবি করা হয়, তাহলে নিশ্চিত থাকুন সেটি ভুয়া নিউজ। ইউআরএলটি চেক করুন: যদি আপনার কোন ধরণের সন্দেহ হয় তাহলে ইউআরএলটি ভালো করে চেক করুন। অনেক সময় অন্যকোনো সাইটের ইউআরএল-এ সামান্য শব্দের পরিবর্তন করে ফেক নিউজ আপলোড করে। তাই আপনি অবশ্যই নিশ্চিত হওয়ার জন্য ইউআরএলটি ইন্টারনেটের সার্চ করুন। দেখুন ওই ইউআরএল-এ এমন কোনো খবর আর কেউ করেছে কি না। খবরের উৎস: যে খবরটি প্রকাশ করেছে, সেই খবরটির উৎস আপনাকে যাচাই করতে হবে। দেখতে হবে কোনো প্রতিষ্ঠিত স্থান থেকে খবরটি প্রকাশ হয়েছে কিনা। অস্বাভাবিক ফরম্যাটিং: মনে রাখবেন, ভুয়া নিউজে ভুল বানান এবং অদ্ভুত লে-আউট দেখা যায়। তাই আপনি এটি দেখেই বুঝে নিতে পারেন এটি ফেক নিউজ। ফটো, ভিডিও যাচাই করুন: আপনাকে ফটো বা ভিডিও অবশ্যই যাচাই করে দেখতে হবে। কারসাজি করা চিত্র বা ভিডিও দেখলে সতর্ক হন। পাশাপাশি এই ছবি বা ভিডিওগুলো কোনো ব্র্যান্ডেড সোর্স-এ ব্যবহার হয়েছে কি না ভাল করে দেখে নিন। খবরের তারিখ: তারিখগুলো কবে প্রকাশ হয়েছে ভালোভাবে দেখুন। এমন খবর বলা হয়েছে, যেটা অন্য কোথাও দেখেননি তাহলে নিউজে বলা তারিখগুলো দেখে নিন ভাল করে। পাশাপাশি সার্চ ইঞ্জিনে দেখুন ওই খবর আর কেউ করেছে কি না। মনে রাখবেন জাল খবরের সাইটগুলো খবরের তারিখ বদলে দেয়। প্রমাণ যাচাই: খবরের উৎস ভালো করে দেখুন। এটি সত্য কিনা না সেটি অন্য সাইটে প্রকাশ হয়েছে কিনা যাচাই করুন। একই খবর  অন্য কোথাও আছে কিনা দেখুন: নিবউজটি অন্য কোনো সংবাদের উৎস কিনা দেখুন ভাল করে। সঙ্গে  কোনো প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যম এ খবর করেছে কি না সেটিও দেখে নিন। খবর না কৌতুক: ফেক নিউজে অনেক সময় হাস্যরস বা কৌতুকের উদ্রেক টেনেপ্রকাশ করা হয়। এই হাস্যরস বা কৌতুক ভালোভাবে খতিয়ে দেখুন। এটি থাকলে আপিন নিশ্চিত হতে পারেন যে এটি ফেক নিউজ। ইচ্ছাকৃত জাল: পাঠক আকর্ষণে এমন কিছু নিউজ প্রকাশ করা হয়, যা  ইচ্ছাকৃতভাবে জাল বানানো।   /আর/এআর
মেদ-ভুরি ও ওজন নিয়ন্ত্রণে মেডিটেশন

বাড়তি মেদ কি আপনার জন্যে সমস্যা? আপনার ওজন কি বেশি? আপনি কি দেখতে স্থুলকায়? বাড়তি ওজনের ফলে আপনার চলাফেরা ও কাজকর্মে অসুবিধা হচ্ছে? আপনি কি খুব ভোজনবিলসী? উচিত নয় জেনেও কি আপনি মজাদার খাবারের লোভ সংবরণ করতে না পারায় দিন দিন মোটাই হয়ে চলছেন? আপনার ওজন বৃদ্ধির কারণ কি অতিরিক্ত পানাহার, না ঠিক মতো ব্যায়াম না করা? অথবা ব্যায়াম করার পরও কি আপনার ওজন কমছে না? ডায়েটিং ও ব্যায়াম করার পর দুই থেকে তিন কেজি ওজন কমার পরই কি করেকদিনে আপনার ওজন তিন থেকে চার কেজি ওজন বেড়ে যায়? অবশ্য আপনার ওজন বাড়ার কারণ অতিভোজন না হয়ে ক্ষতিকর খাবার গ্রহণ করার প্রবণতাও হতে পারে। এ জন্যে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তান চমৎকার ফল নিয়ে আসতে পারে। কিন্তু খাবার কমানো বা খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন নি:সন্দেহে একটি কঠিন কাজ। শুধু ইচ্ছে শক্তি প্রয়োগ করে এক্ষেত্রে সাফল্য লাভের সম্ভাবনা খুব কম। তবে মনছবি প্রয়োগ করে আপনি এক্ষত্রেও অসাধ্য সাধান করে পারেবন। খাবারের ব্যাপারে আমাদের সাধারণ ধারণা একেবারে অবৈজ্ঞানিক। আমরা যাকে স্ট্যান্ডার্ড খাবার তালিকা বলি তেমন স্ট্যান্ডার্ড খাবার বলে কিছু নেই। প্রত্যেক মানুষের খাবারের স্ট্যান্ডার্ড নিধার্রিত হয় তার দেহ মনের কোয়ান্টাম লেভেল থেকে। যে কারণে একজন প্রচুর খেয়েও শরীরের মেদ জমাতে পারে না, আর একজন পানি খেয়েও মেদ বাড়িয়ে ফেলে। অবচেতনে তথ্যের পুনর্বিন্যাস দ্বারা একজন মানুষ খুব কম খেয়েও সুন্দর স্বাথ্যের অধিকারী হতে পারেন। আমাদের দেহ মন প্রক্রিয়া আসলে পরিবেশ ও প্রয়োজনের সাথে চমৎকার খাপ খাইয়ে নিতে পারে। ডায়েট বিশেষজ্ঞ ডা. পল রোয়েন খাবার নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করেছেন। দীর্ষ ৩০ বছর গবেষণার পর তিনি বলেছেন, রাতে ভুরিভোজ হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং হঠাৎ মৃত্যুর জন্যে এক আদর্শ ব্যবস্থা। তিনি সকালে ও রাতে খাবারের ফলাফলের বর্ণনায় একটি সমীক্ষার কথা উল্লেখ করেছেন। এতে ৭ জন স্বেচ্ছাসেবক সকালে নাস্তায় দুই হাজার ক্যালোরি খাবার গ্রহণ করার পার দেখা যায় যে, তাদের ওজন কমে গেছে। আবার এই সাত জনই রাতে দুই হাজার ক্যালোরি খবার গ্রহণ করার পর দেখা যায় যে, তাদের ওজন কমার পরিবর্তে বেড়ে গেছে। গ্রাম বাংলায় এ ব্যাপারে একটা চমৎকার প্রবাদ প্রচলিত আছে-নাস্তা করো রাজার মতো, দুপুরে খাও রাজপুত্রের মতো আর রাতে খাও ভিখারীর মতো। ডা. পল রোয়েন তাই পরামর্শ ছিলো এরকম। ১. সকালে ভরপেটে নাস্তা করুন। ২. দুপুরে তৃপ্তির সাথে খান। ৩. রাতে হালকা খাবার গ্রহণ করুন। এটাই হচ্ছে খাবার গ্রহণের স্বাস্থ্যসম্মত পন্থা। আর কী পরিমাণ খাবার খাবেন, তা নির্ধারণ করবে আপনার পাকস্থলীর আয়তন। আর পাকস্থলী কতটুকু খাবারে পূর্ণ করবেন, সে ব্যাপারে ইসলাম ধর্মের মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এর একটি বাণী প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেছেন, তুমি তোমার পাকস্থালীর এক তৃতীয়াংশ খাবার এবং এক তৃতীয়াংশ পানিতে পূর্ণ করো। আর বাকি এক তৃতীয়াংশ ফাঁকা রাখে। খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে এই নিয়ম পালন করে মনের তথ্যভাণ্ডার পুনর্বিন্যাস করলে আপনি যেমন দেহ চান ঠিক তেমন দেহেরই অধিকারী হতে পারবেন।   খাবার নিয়ন্ত্রণে মেডিটেশন অতিভোজন বা খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের জন্যে আপনি প্রথমে প্রত্যয়ন রচনা করুন। প্রথমে বর্তমান অবস্থায় বিবরণ লিখুন। ওজন কত? কী কী খান? কী কী খাওয়া পছন্দ করেন তার তালিকা তৈরি করুন। কেন আপনি ওজন কমাতে চান বা কেন খাদ্যাভাস পরিবর্তন করতে চান তার কারণগুলো এক এক করে বিস্তারিত লিখুন। কত ওজন কমাতে চান তা লিখুন। মেদ আপনার স্বাস্থ্য হানির কতটা কারণ তা লিখুন। অথবা আপনি কি শুধু আকর্ষনীয় হওয়ার জন্যে স্লিম হতে চাচ্ছেন? কী কারণে আপনি খাবর নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছেন তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা লিপিবদ্ধ করুন। তাহলেই অবচেনের তথ্যভাণ্ডারকে আপনি পুনর্বিন্যাস্ত করতে পারবেন। মেডিটেশনে বসে আপনার মন ছবি মনিটরে দেখুন। আপনার ওজন কমিয়ে দেহকে যে অবস্থায় নিয়ে যেত চান তার ছবি দেখুন। ওজন কমলে আপনাকে কেমন লাগবে তা ভিজুয়ালিইজ করুন, অনুভব করুন। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করে নতুন যে খাবার খেতে চাচ্ছেন, সেগুলো খুব ভালোভাবে ভিজুয়ালাইজ করুন এবং নিজেকে বুলন এইকুটু খেলেই আমার চলে যাবে। মনকে বলনু ও অনুভব করুন, নির্ধারিত খাবার খেলে আর আপনার ক্ষুধা লাগবে না। যে খাবারগুলো আপনি বর্জন করতে চান, এক এক করে স্কিনে এন ক্রস চিহ্ন দিয়ে বাতিল করে দিন অথবা তা এমন আজেবাজে জিনিস হিসেবে কল্পনা করুন, যেন তা খেতে নিলেই আপনার বমি ভাব চলে আসে। আপনার ওজন কমে গিয়ে নির্ধারিত ওজন এসে দাঁড়িয়েছে তা অবলোকন করুন। বাস্তবে এরকম সুন্দর ও অর্কণীয় হয়ে উঠলে আপনার মনে যে আনন্দানুভূতি হতো, তা সবগুলো ইন্দ্রিয় ও পূর্ণ আবেগ দিয়ে অনুভব করুন। ‍পূর্ণ আবেদন দিয়ে আপনার সাফল্যের অনুভূতির সাথে সবকিছুকে সম্পৃক্ত করুন। শরীরের ওজন কমানো ক্ষেত্রে সবসময়ই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন এবং ধাপে ধাপে লক্ষ্য পানে অগ্রসর হোন। এক নাগাড়ে ৪০ দিন অনুশীলন অব্যাহত রাখুন। প্রয়োজনে সময় বাড়িয়ে দিন। আপনার ওজন সুনিশ্চিতভাবে হ্রাস পাবে। খাদ্যাভাস পরিবর্তনে আপনি অবশ্যই সফল হবে। আর ওজন বাড়াতে চাইলে ঠিক এর উল্টোটা করুন।   টিকে

ফেসবুকে বন্ধু হওয়ার আগে যা জানা জরুরি

সামাজিক যোগাযোগের শীর্ষ মাধ‍্যমে পরিণত হয়েছে ফেসবুক। ফেসবুকের মাধ্যমে প্রতিদিনই অনেক মানুষই আপনার বন্ধু তালিকায় যুক্ত হতে চান। নিজেরাও অনেক সময় পরিচিত মানুষকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে থাকি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধু হওয়ার আগে কিছু বিষয় জানা জরুরি। কারণ ফেসবুক এখন একটি ব‍্যক্তিগত ভার্চুয়াল ডায়েরিতে পরিণত হয়েছে। তাই বন্ধু হওয়ার আগে জেনে নিন কিছু বিষয়। বন্ধু হওয়ার আবেদন :  অনেক অচেনা মানুষই আপনার বন্ধু হবার জন্য রিকোয়েস্ট পাঠায়। তাদের সবার উদ্দেশ্যই ভালো হবে এমন নিশ্চয়তা নেই। কারো বন্ধু হওয়ার আবেদন গ্রহণ করার আগে তার প্রোফাইলটি ভালো করে দেখে নিন। অপরিচিতদের রিকোয়েস্ট না পাঠানো : সাধারণত ফেইসবুকের সচেতন ব‍্যবহারকারীরা অপরিচিত মানুষের রিকোয়েস্ট গ্রহণ করেন না। আবার অপরিচিত মানুষকে রিকোয়েস্ট পাঠালে অনেকেই বিরক্ত হতে পারেন। তাই অচেনা মানুষকে রিকোয়েস্ট না পাঠিয়ে চেনা মানুষকে পাঠান। শেয়ার করুন সাবধানে : সামাজিক যোগাযোগ মাধ‍্যম এখন ব‍্যক্তিগত ডায়েরি। এখানে প্রতি মুহূর্তে ব‍্যক্তিগত জীবনের অনেক তথ্য, স্মৃতি ও ছবিসহ অনেক কিছুই শেয়ার করা হয়। তাই একান্ত ব‍্যক্তিগত কোনো পোস্ট অচেনার বন্ধুদেরকে দেখাতে চান কিনা তা ভেবে দেখা উচিত। কেন রিকোয়েস্ট : কী কারণে রিকোয়েস্ট পাঠাচ্ছেন এটি খেয়াল রাখবেন। আপনি অনেককেই চিনতে পারেন কিন্তু তারাও যে আপনাকে চিনবে এমন কোনো কথা নেই। তাই কি কারণে রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছেন তা জানিয়ে একটি বার্তাও পাঠাতে পারেন। আর/ডব্লিউএন

পাসপোর্ট হারালে কী করবেন…

পাসপোর্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। এটি হারালে বেশ ঝক্কি ঝামেলা পোহাতে হয়। এটি হারিয়ে গেলে বিড়ম্বনা তো আছেই, বড় ধরনের অনিশ্চয়তায়ও পড়তে হয় মাঝেমধ্যে। বিদেশ ভ্রমণকালে দুর্ঘটনাবশত আপনার মূল্যবান পাসপোর্ট হারিয়ে গেছে, তো বিপদের শেষ নেই। বিদেশে পাসপোর্ট হারানো গেলে দ্রুত ওই দেশের পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করতে হবে কিংবা পাসপোর্টটি যে এলাকায় হারিয়ে গেছে সেই থানায় পাসপোর্ট হারানোর সাধারণ ডায়েরি করতে হবে। অন্যথায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সঠিক প্রমাণাদির অভাবে আপনাকে কারাগারেও যেতে হতে পারে। দ্রুত আপনি বাংলাদেশের দূতাবাসে যোগাযোগ করবেন। আপনি যদি পাসপোর্টের ফটোকপি ও রোডপাস বা রাস্তায় চলাচলের প্রত্যয়নপত্র  নিয়ে দূতাবাসে যোগাযোগ করেন তাহলে নতুন পাসপোর্ট তৈরিতে তারা আপনাকে সহায়তা করবে। কোনো ট্র্যাভেল এজেন্সি যদি আপনার ভ্রমণে সহায়তা করে থাকে তারাও আপনাকে বাংলাদেশ হাই কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সাহায্য করবে। তারপর বাংলাদেশের পাসপোর্ট অফিস ও ইমিগ্রেশন অফিস আপনার সব তথ্য পর্যবেক্ষণ করে একটি প্রতিবেদন পাঠাবে যা আপনাকে দেশে ফেরত আসতে সাহায্য করবে। বিদেশে অবস্থান করার সময় আপনার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। এ ব্যাপারে আপনাকে সাহায্য করবে সেদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস । দূতাবাসের কনস্যুলার শাখা থেকে আপনার পাসপোর্ট নবায়ন করতে পারবেন। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার ছয় মাসের আগেই নবায়ন করা ভালো। //এম//এআর    

নিঃসঙ্গদের মৃত্যুঝুঁকি ৫০ ভাগ বেশি

একাকিত্বের অনুভূতি আমাদের মানসিক ও শারীরিক ভাবে দুর্বল করে দেয়। ব্যস্ততা, সময়ের অভাব ও সোশ্যাল মিডিয়ার ভার্চুয়াল রিয়্যালিটির মধ্যে ক্রমশই একা হয়ে পড়ছে মানুষ। কোথাও বাড়তে থাকা ডিভোর্স রেটের কারণে সিঙ্গলহুড, কখনও সময়ের সঙ্গে তাল রাখতে গিয়ে হারিয়ে ফেলা বন্ধুত্ব, পারিবারিক সম্পর্ক বাড়িয়ে দিচ্ছে নিঃসঙ্গতা, একাকিত্ব। যার প্রভাব আমাদের জীবনে মুটিয়ে যাওয়া থেকেও মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে সতর্ক করছেন গবেষকরা। স্বাস্থ্যের উপর সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও নিঃসঙ্গতার প্রভাব নিয়ে ২১৮টি গবেষণার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা জানাচ্ছেন, যাদের সোশ্যাল কানেকশন বা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ কম, যাদের বন্ধুহীনতার সমস্যা রয়েছে, তাদের অল্পবয়সে মৃত্যুর সম্ভাবনা অন্যদের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি। যেখানে অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা এই সম্ভাবনা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। ব্রিংহ্যাম ইয়ঙ্গ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও এই বিষয়ের মুখ্য গবেষক জুলিয়ান হল্ট-লানস্টাড বলেন, যোগাযোগ, সম্পর্ক, বন্ধুত্ব রাখা মানুষের বেঁচে থাকার সাধারণ প্রয়োজনের মধ্যে পড়ে। যা শুধু বেঁচে থাকা নয়, ভাল থাকার জন্য অত্যন্ত জরুরি। একাকিত্ব ও নিঃসঙ্গতার কারণে অল্পবয়সী, এমনকী শিশুদের মধ্যেও অপরাধ প্রবণতা, নিজেকে আঘাত করা, এমনকী আত্মহননের প্রবণতাও দেখা যায়। এই সমস্যা অত্যন্ত গুরুতর। অথচ প্রতি দিনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ প্রায় সারা বিশ্বেই বেড়ে চলেছে নিঃসঙ্গতায় ভুগতে থাকা মানুষের সংখ্যা। একাকিত্বের অনুভূতি আমাদের মানসিক ও শারীরিক ভাবে দুর্বল করে দেয়। যারা নিঃসঙ্গ জীবন কাটান তারা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি অসুস্থতায় ভোগেন। মোট ৫০টি সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ঘেঁটে করা গ্রানসেটের এই সমীক্ষা বলছে, এই মুহূর্তে ব্রিটেনের তিন চতুর্থাংশ বয়স্ক মানুষ একাকিত্বের সমস্যায় ভুগছেন। এবং তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই নিজেদের সমস্যা নিয়ে কখনও কারও সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনা করেননি। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয়, এদের মধ্যে ৭০ শতাংশই জানিয়েছেন পরিবার, বন্ধুরা তাঁদের একাকিত্বের কথা জানলে বিশ্বাসই করতে পারবে না। রিসেন্ট অফিস অব ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্স অনুযায়ী, এই মুহূর্তে ব্রিটেন ইউরোপের সবচেয়ে নিঃসঙ্গ দেশ। ক্যাম্পেন টু এন্ড লোনলিনেস অনুযায়ী, একাকিত্বের কারণে অসুস্থতা মোকাবিলায় প্রতি বছর ব্রিটেনে ২ কোটি ৬০ লক্ষ মার্কিন ডলার খরচ হয়। ব্রিটেনের মতোই এই সমস্যা বিশ্বের অন্যান্য বহু দেশেই ক্রমবর্ধমান বলে সতর্ক করেছেন হল্ট লানস্টাড। এখন থেকেই স্কুলের পাঠক্রমের সঙ্গেই একাকিত্ব মোকাবিলা ও সোশ্যাল স্কিল বাড়ানোর পাঠ দেওয়া হলে তা ভবিষ্যতে এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারা যাবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।সূত্র : আনন্দবাজার।//এআর

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি। সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা নিজেদের ভালো লাগা-মন্দ লাগা সবকিছু শেয়ার করি। আমাদের আনন্দ, বেদনা সবকিছুই জুড়েই যেন আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে আছে ফেসবুক, টুইটার। তবে অনেকে আবেগী হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহারে ভুল করে বসেন। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে দরকার একটু সতর্কতা, একটু কৌশল। চলুন, জেনে নিই। *ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম ইত্যাদি সোশ্যাল মিডিয়া খুব পছন্দনীয় আমাদের কাছে। নিয়মিত আপডেট করতেও সবাই ভালোবাসি। কিন্তু প্রতিদিন খুব বেশি আপডেট না করাই ভালো, এতে করে আপনার অনুসারীরা বিরক্ত বোধ করেন। *আপনার যদি অনলাইনভিত্তিক কোনো ব্যবসা থাকে তবে অবশ্যই একটি বিশেষ পেইজ তৈরি করে রাখুন। ব্যক্তিগত প্রোফাইলের সঙ্গে ব্যবসা মিলিয়ে ফেললে একটা হ-য-ব-র-ল হবার সম্ভাবনা থাকে। *ফেসবুক টুইটার কেন্দ্রিক আমাদের অনেক বন্ধুবান্ধব ও অনুসারী থাকে। আমরা অনেকে তো আবার কার কতজন অনলাইন বন্ধু আছে সেটি নিয়েই তর্কে-বিতর্কে মেতে যাই। বাস্তব জীবনের মতই সামাজিক মাধ্যমে বন্ধু পছন্দ করার সময় সতর্ক হোন। এমন বন্ধুদের সঙ্গেই সংযুক্ত হোন যারা আপনার নেটওয়ার্কের মান বাড়াবে ও ওজনদার করবে। *আপনার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট কিন্তু অনেকটা আহ্বানকারীর মতন। যেকোনো সাফল্য, অগ্রগতি এবং প্রশংসা সময়মতন আপডেট করতে ভুলবেন না। সেগুলো দিয়েই কিন্তু আপনার কর্মক্ষমতা বিচার করা হয়ে থাকে। *মনে রাখবেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন বয়সী ও বিভিন্ন মননের ফ্রেন্ডস থাকে। তাই এমন কিছু পোস্ট করবেন না যা অন্যের বিরক্তির কারণ হয়। এতে আপনার ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। *সামাজিক মাধ্যমের পুরোটাই খাবারের ছবি দিয়ে ভরিয়ে ফেলা কিন্তু মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়! আপনি যদি ফুড ব্লগার না হয়ে থাকেন তবে ঘন ঘন খাবারের ছবি আপলোড করা এক ধরণের বোকামিই বটে। *বিভিন্ন ধরণের সোশ্যাল মিডিয়া কিন্তু বিভিন্ন রকম উদ্দেশ্যে সাধন করে। যেমন- ফেসবুক ও টুইটার মূলত নেটওয়ার্কিং বা যোগাযোগের জন্য, ইন্সটাগ্রামে প্রধাণত জাকজমকপূর্ণ ছবি আপলোড করা হয়। *লিংকড ইন প্রফেশনাল কাজে ব্যবহারের জন্যই অধিক প্রচলিত। এর সঠিক ব্যবহারসমূহ আপনাকে পরিপূর্ণভাবে জানতে হবে। ইন্সটাগ্রামে চাকরির আবেদন খুঁজলে আবার লিংকড ইনে প্রিয় বেড়ালের ছবি দিয়ে ভরে ফেললে চলবেনা একদম। *সোশ্যাল মিডিয়াতে যদি আপনার কোনো ব্র্যান্ড তৈরি করার মনোকামনা থেকে থাকে তবে ব্যক্তিগত জীবনের অনেক কিছু সেখানে শেয়ার না করাই ভালো। এতে করে ভারিক্কি একটা ভাব থাকবে আপনার প্রোফাইলে। ব্র্যান্ডিং করতে খুব একটা ঝামেলা পোহাতে হবে না। *পরিশেষে মনে রাখবেন, সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনার অ্যাকাউন্ট নিতান্তই আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার। সেখানে কেউ যদি আপনাকে নূন্যতম বিরক্ত কিংবা উত্যক্ত করার চেষ্টা করে তাহলে কোন বাকবিতণ্ডা ছাড়াই মানুষটিকে `ব্লক` করে দিন। এতে কার্পণ্য করার কোন মানে নেই। //এআর

এলার্জি সর্দি ও হাপানিতে কী করবেন

বিভিন্ন ধরণের এলার্জেন যেমন-ধূলা-বালি-ধোঁয়া, ফুলের রেণু, কলকারখানার নির্গত বিষাক্ত গ্যাস, গাড়ির ধোঁয়া, বিশেষ কিছু খাবার, ওষুধ ইত্যাদি এলার্জি ও এজমার সৃষ্টি করে। যেকোনো সুস্থ্য ব্যক্তিরও এলার্জি হতে পারে। সামান্য উপসর্গ থেকে শুরু করে মারাত্মক উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে, এমন কি হঠাৎ তীব্র আকারে আক্রমণ করতে পারে। মোট কথা বর্ষার ধূলাবালি, ধোঁয়া, গাড়ির বিষাক্ত গ্যাস, কলকারখানার সৃষ্ট পদার্থ, শীতের কুয়াশা, ফুলের রেণু, বিশেষ কয়েকটি খাবার যেমন-চিংড়ি, ইলিশ, বোয়াল, গজার, গরুর মাংস, হাঁসের ডিম, পাকা কলা, আনারস, নারিকেল, কসমেটিকস ও অগনিত জানা-অজানা জিনিস আমাদের শরীরে কাশি, শ্বাসকষ্ট এলার্জি ও এজমার সৃষ্টি করতে পারে। হাঁপানিতে আক্রান্ত হওয়ার সময় শ্বাসনালীতে নিন্মোক্ত পরিবর্তনগুলো দেখা যায়- ১. শ্বাসনালী লাল ও ফুলে যাওয়ার ফলে সরু হয়। ২. শ্বাসনালীর চারপাশের মাংসপেশীগুলো সংকুচিত হয়ে শ্বাসনালীকে আরো সরু করে দেয়।  ৩. শ্বাসনালীতে প্রচুর শ্লেষা তৈরি হয়ে শ্বাসনালীতে বায়ুপ্রবাহ আংশিকভাবে বন্ধ করে দেয়। চিকিৎসা: চিকিৎসার বিষয়ে জাতীয় কিডনি ও ইউরোলজী ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আনোয়ার হোসেন খান বলেন, হাঁপানি একটি দীর্ঘ মেয়াদী রোগ। সঠিক চিকিত্সা এবং ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে হাঁপানি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। যে সব উত্তেজকের (ট্রিগার) কারণে হাঁপানির তীব্রতা বেড়ে যায়, রোগীকে সেগুলো সণাক্ত করতে হবে এবং পরিহার করতে হবে। এছাড়া সব হাঁপানি রোগীকে নিন্মোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি নজর রাখতে হবে- ১. ধূমপান এবং তামাকের ধোঁয়ার সংস্পর্শ পরিহার করতে হবে ২. ঠান্ডা বাতাস হাঁপানির তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়। এই সময় চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে ওষুধের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে হবে। ৩. ব্যয়াম এবং শারীরিক পরিশ্রম নিরুত্সাহিত করা উচিত নয়। ব্যায়াম শরীর ভাল রাখে এবং উচ্চ রক্তচাপ ও অন্যান্য জটিল রোগ বালাই থেকে শরীরকে রক্ষা করে। সঠিক ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যায়ামের সময় বা পরে হাঁপানিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা পরিহার করা সম্ভব। বাড়ির পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং বাড়িতে অবাধ বিশুদ্ধ বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে। হাঁপানি প্রতিরোধক: যেসব ওষুধের ব্যবহার হাঁপানি রোগে আক্রান্ত হওয়া প্রতিরোধ করে তাদেরকে হাঁপানি প্রতিরোধক বলা হয়। ১. এন্টি ইনফ্লামেটরী ওষুধসমূহ; এইসব ওষুধ শ্বাসনালীর প্রদাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে হাঁপানি প্রতিরোধ করে। এই শ্রেণীর বহুল ব্যবহৃত বুসোনাইড, ক্লোমিথাসেন এবং ফ্লুটিকাসোন ইত্যাদি। ২. ব্রঙ্কোডাইলেটর বা শ্বাসনালী প্রসারক; এইসব ওষুধসমূহ দ্রুত শ্বাসনালীকে প্রসারিত করে হাঁপানির তীব্রতা প্রতিরোধ করে। হাঁপানি উপশমে: ব্রঙ্কোডাইলেটরসমূহ উপশম কারক হিসেবে কাজ করে। ব্রঙ্কোডাইলেটর সমূহ শ্বাসনালীকে দ্রুত প্রসারিত করে ফলে ফুসফুসে সহজে বায়ু চলাচল করতে পারে এবং এর মাধ্যমে হাঁপানি আক্রান্ত রোগীর উপসর্গসমূহ দ্রুত উপশম হয়। দুই ধরণের ব্রঙ্কোডাইলেটর বা শ্বাসনালী প্রসারক আছে, যেমন; ১. ক্ষণস্থায়ী ব্রঙ্কোডাইলেটর যেমন- সালবিউটামল। এইসব ওষুধ দিনে ৩-৪ বার ব্যবহার করতে হয়। ২. দীর্ঘস্থায়ী ব্রঙ্কোডাইলেটর যেমন-ব্যামবিউটামল। এসব ওষুধ দিনে একবার ব্যবহার করতে হয়। মৃদু বা মাঝারী হাঁপানিতে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষণস্থায়ী ব্রঙ্কোডাইলেটর ব্যবহার করলে কোন ধরণের ক্লিনিক্যাল সুবিধা পাওয়া যায় না। তাই এইসব ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী ব্রঙ্কোডাইলেটর ব্যবহার করতে হবে। রাত্রিকালীন হাঁপানিতে মোডিফাইড রিলিজড থিওফাইলিনের বিকল্প হিসাবে ব্যামবিউটামল ব্যবহার করে ভাল সুফল পাওয়া যায়। হাঁপানির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অনেক রোগীই হাঁপানি চিকিৎসার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার কথা বলে কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত হাঁপানি ভয়াবহ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। ২. সঠিক চিকিত্সা ও ওষুধের ব্যবহারের মাধ্যমে হাঁপানি  নিয়ন্ত্রণ না করলে বয়স বাড়ার সাথে সাথে ফুসফুসের কর্মক্ষমতা  হ্রাস পাবে এবং অকেজো হবে। ৩. শিশুদের হাঁপানির ঠিকমত চিকিত্সা না করালে বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং মায়েদের বেলায় গর্ভস্থ ভ্রণের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। আরকে//এআর

ফেসবুকে ‘নকল লাইক’পাওয়া যায় যেভাবে!

ফেসবুকে ‘নকল লাইক’! জোকস নয়, একদম সত্যি। সম্প্রতি ফেসবুকের একটি ভুলের কারণেই এমনটা হচ্ছে বলে জানা গেছে। লোয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও লাহোর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের চোখে প্রথম ধরা পড়ে ফেসবুকের এই গড়মিল। বিজ্ঞানীরা তদন্ত করে জানতে পেরেছেন ‘কলিউশান নেটওয়ার্ক’-এর মাধ্যমে বিনামুল্যে কোটি কোটি নকল লাইক পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। প্রযুক্তিবিদরা জানিয়েছেন এই নেটওয়ার্কের অন্তর্ভুক্ত হতে আপনার অ্যাকাউন্টেরর প্রায় সব অ্যাকসেস গ্র্যান্ট করতে হবে। এটা করে ফেললেই আপনি যুক্ত হয়ে যাবেন ওই নেটওয়ার্কে। নোকিয়া ৬, গ্যালাক্সি নোট ৮, মটো জি৫এস প্লাস, এলজি ভি৩০ সহ আরও কিছু ট্রেন্ডিং ফোনে অ্যাপল আইমুভি, স্পোটিফাই- এর মতো কিছু অ্যাপে ফেসবুক দিয়ে লগ ইন করলে এই নেটওয়ার্কে ঢুকে পড়বেন। এরপর আপনি কিছু পোস্ট করলে তাতে শুরু হবে কোটি কোটি লাইক। সিবিএস নিউজ এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ব্যাবহৃত হয়েছিলো এই পদ্ধতি। তবে তা রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীর ভালোর জন্য নাকি ক্ষতি করতে করা হয়েছিল তা জানা যায়নি। তবে এই নেটওয়ার্কে যোগ দেওয়াটা কোন বুদ্ধিমানের কাজ নয় কারন বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন এর মাধ্যমে খুব সহজেই আপরাধ করা যায়। তখন আপনি আপরাধ না করেই ফেঁসে যেতে পারেন এই কারণে। তথ্যসূত্র: গিজবট//এআর

রাগ নিয়ন্ত্রণে যা করবেন

কথায় আছে রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন। তবুও আমাদের চারপাশে অনেকেই আছেন যারা হুট করেই মেজাজ খারাপ করে বসেন। রেগে যান। আর অনেকে সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। ফলে রাগের মাথায় এমন কিছু করে বসেন যে পরবর্তী সময়ে সমূহ বিপদের মধ্যে পড়তে হয়। দেখা যায় পরে নিজেও অনুভব করেন যে অমন আচরণ না করাই উচিত ছিল৷ ফলে ক্রোধের মূহুর্তে নিজেকে নিয়ন্ত্রিত রাখা উচিত। আর নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য নিজের উপায়গুলো অনুস্মরণ করতে পারেন-*যত দ্রুত সম্ভব স্থান পরিবর্তন করুন।*মাটির দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকুন।*একবার নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করুন, তারপর কথা বলুন।*জোর জোরে শ্বাস নিন।*কাজের মধ্য থাকলে একটু বিরতি নিয়ে নিন।*সম্ভাব্য সমাধানের কথা চিন্তা করুন।* নিয়মিত মেডিটেশন করুন।*রাগের পরিণতি সম্পর্কে ভাবুন। *বিদ্বেষ নিজের মধ্যে আটকে রাখবেন না।*রাগের মাথায় কিছু বলার আগে একবার চিন্তা করে নিন*কিছুক্ষণ নিজের সঙ্গে কথা বলুন

মাইগ্রেন ব্যাথায় যা করবেন

মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হলে কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। মাঝে মাঝে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে মাইগ্রেনজনিত মাথাব্যথা। মেয়েদের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা যায়। সাধারণত ২৫-৩০ বছর বয়সে এই রোগের শুরু হয়। মাইগ্রেন কীমাইগ্রেন এক বিশেষ ধরনের মাথাব্যথা। মাথার যেকোনো এক পাশ থেকে শুরু হয়ে তা বিস্তৃত আকার ধারণ করে। মস্তিষ্কে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয়। মস্তিষ্কের বহিরাবরণে যে ধমনিগুলো আছে, সেগুলো মাথাব্যথার প্রারম্ভে স্ফীত হয়ে ফুলে যায়। মাথাব্যথার সঙ্গে সঙ্গে বমি এবং বমি বমি ভাব। এতে রোগীর দৃষ্টিবিভ্রম হতে পারে।সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. বিল্লাল আলম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সব মাথাব্যথাই মাইগ্রেন নয়, দৃষ্টিস্বল্পতা, মস্তিষ্কের টিউমার, মাথায় রক্তক্ষরণ প্রভৃতি কারণেও মাথাব্যথা হতে পারে। মনে রাখতে হবে, মাইগ্রেন এক ধরনের প্রাইমারি হেডেক, যা নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময় সম্ভব। চিকিৎসকের অধীনে এবং নিয়মিত চেকআপের মাধ্যমে এ রোগের চিকিৎসা করা উচিত।’ মাইগ্রেনের ব্যথা চোখের কোনো সমস্যার জন্য হয় না। কেন এবং কাদের মাইগ্রেন হয়মাইগ্রেনের কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে এটি বংশগত বা অজ্ঞাত কোনো কারণে হতে পারে। এটি সাধারণত পুরুষের চেয়ে নারীদের বেশি হয়। পুরুষ ও নারীদের এই অনুপাত ১: ৫। চকলেট, পনির, কফি ইত্যাদি বেশি খাওয়া, জন্মবিরতিকরণ ওষুধ, দুশ্চিন্তা, অতিরিক্ত ভ্রমণ, ব্যায়াম, অনিদ্রা, অনেকক্ষণ টিভি দেখা, দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারে কাজ করা, মোবাইলে কথা বলা ইত্যাদি কারণে এ রোগ হতে পারে। মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, কোষ্ঠকাঠিন্য, অতি উজ্জ্বল আলো এই রোগকে ত্বরান্বিত করে। লক্ষণমাইগ্রেন বয়ঃসন্ধিকাল থেকে শুরু হয় এবং মাঝ বয়স পর্যন্ত কিছুদিন বা কয়েক মাস পরপর হতে পারে। মাথাব্যথা শুরু হলে তা কয়েক ঘণ্টা, এমনকি কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। মাথাব্যথা, বমি ভাব এ রোগের প্রধান লক্ষণ। তবে অতিরিক্ত হাই তোলা, কোনো কাজে মনোযোগ নষ্ট হওয়া, বিরক্তিবোধ করা ইত্যাদি উপসর্গ মাথাব্যথা শুরুর আগেও হতে পারে। মাথার যেকোনো অংশ থেকে এ ব্যথা শুরু হয়। পরে পুরো মাথায় ছড়িয়ে পড়ে। চোখের পেছনে ব্যথার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। শব্দ ও আলো ভালো লাগে না। কখনো কখনো অতিরিক্ত শব্দ ও আলোয় মাথাব্যথা বেড়ে যায়। মাইগ্রেন থেকে রেহাই পাওয়ার কিছু উপায়*মাইগ্রেন চিকিৎসায় তাৎক্ষণিক এবং প্রতিরোধক ওষুধের পাশাপাশি কিছু নিয়মকানুন মেনে চললে সমস্যা অনেকাংশে কমে যায়।*অতিরিক্ত বা কম আলোতে কাজ না করা।*কড়া রোদ বা তীব্র ঠান্ডা পরিহার করতে হবে।*রোজ নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে হবে এবং সেটা হতে হবে পরিমিত।*উচ্চ শব্দ ও কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে বেশিক্ষণ না থাকা।*বেশি সময় ধরে কম্পিউটারের মনিটর ও টিভির সামনে না থাকা।*মাইগ্রেন শুরু হয়ে গেলে, প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা (বিশেষ করে বমি হয়ে থাকলে), বিশ্রাম করা, ঠান্ডা কাপড় মাথায় জড়িয়ে রাখা উচিত। মাইগ্রেন প্রতিরোধী খাবার *সবুজ, হলুদ ও কমলা রঙের শাকসবজি নিয়মিত খেলে উপকার হয়।*ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি মাইগ্রেন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। তিল, আটা ও বিট ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম রয়েছে।*ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার, যেমন ঢেঁকি ছাঁটা চালের ভাত, আলু ও বার্লি মাইগ্রেন প্রতিরোধক।*বিভিন্ন ফল বিশেষ করে খেজুর ও ডুমুর ব্যথা উপশম করে।*আদার টুকরো বা রস দিনে দুবার জিনজার পাউডার পানিতে মিশিয়ে খেতে পারেন।কী ধরনের খাবার এড়িয়ে চলবেন*টমেটো ও টকজাতীয় ফল খাবেন না*গমজাতীয় খাবার, যেমন রুটি, পাস্তা, ব্রেড ইত্যাদি*আপেল, কলা ও চিনাবাদাম*পেঁয়াজ*চা, কফি ও কোমলপানীয়*চকলেট, আইসক্রিম, দই*দুধ, মাখনব্যথা বেশি হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। //এআর

স্বামী বা স্ত্রী দ্বিতীয় বিয়ে করলে কী করবেন?

আমাদের সমাজে দ্বিতীয় বিয়ের প্রচলন এখনও রয়ে গেছে। কেউ দ্বিতীয় বিয়ে করলে ওই পরিবারে নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়। এমতাবস্থায় আইনে স্বামী বা স্ত্রী উভয়ের জন্যই প্রতিকারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেসব প্রতিকার নিয়ে একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইনের পাঠকদের আইনি পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রভাষক আশরাফ উজ জামান। স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করলে স্ত্রী কী করবেন উপমহাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে স্ত্রীরা মূলত স্বামীর ওপর নির্ভরশীল। তাই স্বামীর দ্বিতীয় বিয়েতে তারা খুবই অসহায় হয়ে পরেন। ভরনপোষন দেবে না-স্বামীর এমন হুমকিতে তাদের অসহায়ত্ব আরও বেড়ে যায়। তবে এমন পরিস্থিতিতে আমাদের দেশের আইন সেসব অবহেলিত নারীদের জন্য আইনী সহায়তা নিশ্চিত করেছে। মানসিক সাহস জড়ো করে আইনের দরজায় কড়া নাড়লে প্রতিকার পাওয়া যাবে। প্রতিকার ১) স্ত্রী’র সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকাবস্থায় যদি স্বামী অন্য এক বা একাধিক বিয়ে করেন তবে ওই স্ত্রী তার স্বামীর কাছ থেকে সম্পূর্ণ দেনমোহর (যদি বাকি থাকে) সঙ্গে সঙ্গেই পাওয়ার অধিকার রাখেন। মুসলিম পরিবার আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ এর ধারা ৬ অনুযায়ী, স্বামী ১ম স্ত্রী থাকা অবস্থায় আরও এক বা একাধিক বিয়ে করলে, তাতক্ষণিকভাবে প্রথম স্ত্রীকে পাওনা যেকোনো ধরনের দেনমোহর পরিশোধ করে দিবেন। যদি তিনি তা পরিশোধে ব্যর্থ হন তবে স্বামীর সব সম্পত্তি থেকে ওই স্ত্রীর দেনমোহরের টাকা পরিশোধ করতে হবে। ২) একই সঙ্গে আগের স্ত্রী তার ভরনপোষনের জন্যও স্বামীকে বাধ্য করতে পারেন। পূর্বের স্ত্রী যদি আলাদাও থাকেন এবং সেখানে যদি কোনো নাবালক/নাবালিকা সন্তান থাকে তবে স্ত্রী ও সন্তানের ভরনপোষনের দায়িত্ব ওই স্বামীর। যদি সে ভরনপোষনে ব্যর্থ হন তাহলে আগের মতই তার সম্পত্তি থেকে এই খরচ মেটানো হবে। ৩) সেইসঙ্গে, পূর্বের স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে ওই স্বামীকে ১ বছর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। ৪) এমনকি পূর্বের স্ত্রী তার স্বামীর থেকে বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারেন। মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন ১৯৩৯ অনুযায়ী ভুক্তভোগী ওই স্ত্রী তার এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করতে পারবেন। ভরণপোষন, দেনমোহর ও বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য ওই নারীকে পারিবারিক আদালতে মামলা করতে হবে। তবে স্বামী যদি আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি নিয়ে দ্বিতীয় বা পরবর্তী আর কোন বিয়ে করে থাকেন তাহলে তার বিরুদ্ধে এসব পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। কোন মুসলিম পুরুষ যদি তার স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বা তারও বেশি বিয়ে করতে চান তাহলে প্রথম স্ত্রী (দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে) অথবা সর্বশেষ যে স্ত্রী আছেন (তৃতীয় বা পরবর্তী বিয়ের ক্ষেত্রে) তার এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করবেন। চেয়ারম্যান তখন আরবিট্রেশন কাউন্সিল গঠন করবেন। আরবিট্রেশন কাউন্সিল যদি ঐ স্বামীকে দিতীয় বা পরবর্তী বিয়ে করতে অনুমতি দেন তাহলে স্বামীর বিরুদ্ধে আর কোন আইনী ব্যবস্থা নেয়া যাবে না। তবে আরবিট্রেশন কাউন্সিল স্বামীকে বিয়ের অনুমতি দিতে কিছু বিষয় অবশ্যই বিবেচনা করবে। আরব্রিটেশন কাউন্সিলের কোন সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ পক্ষ সহকারি জাজের আদালতে আপিল করতে পারেন। স্ত্রী যদি দ্বিতীয় বিয়ে করেন মুসলিম আইন অনুযায়ী, প্রথম স্বামীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকাবস্থায় কোনো মুসলিম নারী যদি আরেকটি বিয়ে করেন তবে সেই বিয়ে অবৈধ। এক্ষেত্রে প্রথম স্বামী স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী, ওই স্ত্রীকে সর্বোচ্চ ৭বছর মেয়াদের যে কোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দন্ডিত করা যাবে। সেইসঙ্গে আর্থিক জরিমানাও করা যাবে। তবে সেই স্ত্রী যদি তার পূর্বের স্বামীর ৭বছর যাবত কোন খোঁজ না পান, অথবা তিনি জীবিত থাকতে পারেন এমন কোন তথ্য জানা না থাকে তাহলে পরবর্তী স্বামীকে অবস্থা বর্ণনা করে তার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগীকে আইনজীবীর সাহায্য নিতে পরামর্শ দেন প্রভাষক আশরাফ উজ জামান। //এস এইচ/এআর

মা-বাবাকে ভরণপোষণ না দেওয়ার শাস্তি কি?

বৃদ্ধ মা-বাবার দেখাশোনা স্বভাবতই করে থাকেন তাঁদের সন্তানরা। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই এটা এক ধরনের সামাজিক রীতি। তবে প্রাপ্তবয়স্ক ও উপার্জনে সক্ষম এমন বহু সন্তান আছে, যারা তাদের মা-বাবার দেখভাল করে না। সে ক্ষেত্রে মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হন অনেক মা-বাবা। এমন ঘটনায় যথাযথ কারণ দেখিয়ে আইনি প্রতিকার পাওয়া যেতে পারে। এই বিষয়ে আইনি পরামর্শ দিয়েছেন - আইনজীবী মুস্তাফিজুর রহমান ।   মা-বাবার ভরণপোষণ আইন কী? মা-বাবার ভরণপোষণের বিধানটি একটি জনকল্যাণকর আইন। বাংলায় প্রণীত এ আইনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ‘যেহেতু সন্তান কর্তৃক পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়, সেহেতু আইনটি প্রণয়ন করা হলো। অর্থাৎ কোনো সন্তান যদি কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া পিতা-মাতার ভরণপোষণ না করে, তাহলে তাঁরা ভরণপোষণের জন্য এ আইনের অধীনে লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে তাঁদের অধিকার আদায় করতে পারবেন।’ যাদের ওপর ভরণপোষণের দায়িত্ব আইনে ভরণপোষণ প্রদানের দায়িত্ব বলতে শুধু পুত্রকেই বোঝানো হয়নি, বরং কন্যাকেও বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ মা-বাবার ভরণপোষণের দায়িত্ব শুধু ছেলের একার নয়, বরং মেয়েকেও নিতে হবে। এর মাধ্যমে নারী-পুরুষের মধ্যে সমতা আনা হয়েছে। আর ভরণপোষণ শুধু কোনো বিশেষ সন্তান নেবে তা নয়, বরং সবাইকে নিতে হবে। তবে একাধিক সন্তান থাকলে তারা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে তাদের মা-বাবার ভরণপোষণ নিশ্চিত করবে। কোনো সন্তান মা-বাবাকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো বৃদ্ধাশ্রম বা অন্য কোথাও একত্রে বা আলাদাভাবে বসবাস করতে বাধ্য করতে পারবে না। প্রত্যেক সন্তানকেই তাদের মা-বাবার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে এবং চিকিৎসাসেবা দিতে হবে। মা-বাবা একত্রে বা আলাদা থাকলে প্রত্যেক সন্তানকে সাধ্যমতো তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হবে। ভরণপোষণের পরিমাণ কী হবে মা-বাবা যদি সন্তানের সঙ্গে বসবাস না করেন, তবে তাদের প্রত্যেক সন্তান নিজ নিজ উপার্জন থেকে যুক্তিসংগত পরিমাণ অর্থ  দিতে হবে ।  মা-বাবার ভরণপোষণ না দিলে শাস্তি  মা-বাবার ভরণপোষণ কেউ যদি না দেয় বা কেউ যদি এই বিধানাবলি লঙ্ঘন করে, তবে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড হতে পারে। অনাদায়ে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড দিতে পারে আদালত। এ ছাড়া কোনো সন্তানের স্ত্রী বা স্বামী কিংবা ছেলে মেয়ে বা অন্য কোনো নিকটাত্মীয় যদি মা-বাবা বা দাদা-দাদি বা নানা-নানির ভরণপোষণ দিতে বাধা দেয় বা অসহযোগিতা করে, তবে তার সাজাও উল্লেখিত দণ্ডের মতোই হবে। এ ছাড়া এ অপরাধ আমলযোগ্য। এই আইনের অধীনে দায়েরকৃত মামলায় জামিনও পাওয়া যেতে পারে। মামলায় আপস-মীমাংসারও সুযোগ রয়েছে। / কে আই//এআর

মেয়েদের বয়:সন্ধি, যে ৮টি বিষয় অভিভাবকদের জানা উচিত

নবজাতকের দেখভাল করা প্রতিটি অভিভাবকের জন্যই চ্যালেঞ্জিং। তাই অনেকেই ভাবেন কবে যে সন্তান বড় হবে। কিন্তু সন্তান হড় হতে থাকলে দায়িত্ব এবং বিড়ম্বনা কমতে থাকে না। বরং বাড়তে থাকে। আর মেয়ে সন্তানের অভিভাবকদের দায়িত্ব বেড়ে যায় বহুগুণে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে মেয়েদের বয়:সন্ধির সময়ে তাদের মধ্যে যে শারীরিক এবং মানসিক পরিবর্তন হয় সেসময় সন্তানদের সবথেকে কাছের বন্ধু হতে পারে তাদের অভিভাবকেরাই। তাই মেয়ের অভিভাবক হিসেবে আপনাকে এই ৮টি বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। ১) শারীরিক পরিবর্তনঃ বয়:সন্ধির সময় মেয়েদের শরীরে আমূল পরিবর্তন ঘটে। দেহের বিভিন্ন হরমোনের পরিবর্তনের জন্যই এমনটা হয়। দেহের বিভিন্ন অংশ নির্দিষ্ট আকার ও আকৃতিতে না আসা পর্যন্ত এই পরিবর্তন ধীরে ধীরে শরীরে পরিলক্ষিত হয়। এসময় মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় বেশি মোটা হয়। ২) লোমঃ বয়:সন্ধির সময় মেয়েদের দেহে অল্প কিছু লোম হতে দেখা যায়। স্বাভাবিকের থেকে এ লোম হবার প্রবণতা বেশি। হাত, পা এমনকি ঠোটের উপরেও ছেলেদের মোছের মত লোম হতে দেখা যায়। হরমোনের পরিবর্তনের কারণে এমনটা হয়। ৩) গোপন লোমঃ বয়:সন্ধির সময় দেহের গোপন ও স্পর্শকাতর অঙ্গগুলোতে লোম হওয়া খুবই স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। তবে কিশোর-কিশোরীদের এতে খুবই বিব্রত হতে দেখা যায়। তবে এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। এ লোমগুলো সাধারণত কোকড়ানো হয়। সাধারণত ২-৩ বছর সময় লাগে এগুলো পরিপূর্ণভাবে বেড়ে উঠতে। ৪) ব্রণঃ বয়:সন্ধির আরেকটি লক্ষণ ব্রণ হওয়া। সাধারণত টিনেজ মেয়েদেরকে ব্রণ নিয়ে সবথেকে বেশি বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। তবে ব্রণ হবার প্রধান কারণও হরমোনের পরিবর্তন। বয়:সন্ধির সময় ত্বকে ও চুলে এক ধরনের তেলের দরকার হয় যা বিভিন্ন হরমোন যোগান দিয়ে থাকে। তবে সেই তেলের মাত্রা যখন বেশি হয়ে যায় তখন তা ত্বকের মৃত কোষের সাথে ব্রণ আকারে বের হয়ে আসে। ব্রণ ছাড়াও এ সময় ত্বকের আরও কিছু সমস্যা দেখা দেয়। ৫) স্তনের বৃদ্ধিঃ বয়:সন্ধির সময় যে ব্যাপারটি সবথেকে পরিলক্ষিত হয় তা হল মেয়েদের স্তনের আকারের পরিবর্তন। সাধারণত এসময় মেয়েদের বক্ষপৃষ্ঠ আকারে বৃদ্ধি পায়। এসময় এস্ট্রোজেন হরমোন নির্গমনের হার বেড়ে যায় ফলে ম্যামারি গ্ল্যান্ড আকারে বেড়ে যায়। সেসাথে সেখানে ফ্যাট জমতে থাকে। এতে মেয়েদের বুকের আকার বৃদ্ধি পায়। ৬) জননাঙ্গের পরিবর্তনঃ নারীরাই কিন্তু সন্তানের জন্ম দেয়। তাই বয়:সন্ধির সময়ই নারীদের জননাঙ্গ সন্তান জন্মদানে সক্ষম হতে প্রয়োজনীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়। এসময় যোনির বাইরের অংশে লোম উঠতে শুরু করে। যোনিমুখ এবং ইউটেরাস আকারে বেড়ে যায়। ৭) যোনি স্রাবঃ বয়:সন্ধির সময় যোনি স্রাব হওয়া খুবই স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। মেয়েদের মাসিক শুরু হবার পূর্ব লক্ষণ এই যোনি স্রাব। তবে এসময় মেয়েদেরকে অনেক বেশি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা উচিত। কেননা অপরিষ্কার থাকলে তা থেকে ইনফেকশন হতে পারে। ৮) মাসিক বা ঋতুস্রাবঃ মেয়েদের যখন বয়:সন্ধি এবং স্তনের আকার পরিবর্তন হতে শুরু করে সাধারণত তখন থেকেই মাসিক বা ঋতুস্রাব শুরু হয়। ঋতুস্রাব মেয়েদেরকে পূর্ণ ‘নারী’তে পরিণত করে। বয়:সন্ধির সময় মেয়েরা এই মাসিক নিয়ে খুবই বিব্রত বোধ করে। বিষন্নতায় ভুগতে থাকে। কম শিক্ষিত পরিবারের মেয়েদের মধ্যে এসময় স্কুল থেকে ঝরে পরার প্রবণতা দেখা যায়। অনেক পরিবারে এসময় মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়। উপমহাদেশে আবহাওয়া অনুযায়ী ৯-১২ বছর বয়সেই মেয়েদের মাসিক শুরু হয়। মাসিকের সময় মেয়েদের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভুগতে হয় যেমন শারীরিক ব্যাথা, মাথা ব্যথা কিংবা হাঁচি ওঠা। বয়:সন্ধির সময় মেয়েরা খুবই বিষন্নতায় ভোগে। নিজেদের মধেকার এসব অপরিচিত পরিবর্তন নিয়ে তারা কারও সাথে কথা বলতে পারে না। তাই অভিভাবকই হতে পারে সবথেকে কাছের বন্ধু। তাই অভিভাবকদেরকেও এ বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। সূত্রঃ দ্য হেলথ সাইট এসএইচ/ডব্লিউএন

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি