ঢাকা, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০:২৬:২৯

বইমেলায় ‘স্ফটিক অন্ধকার’

বইমেলায় ‘স্ফটিক অন্ধকার’

এবারের একুশের গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয়েছে আশরাফুল আযম খান-এর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘স্ফটিক অন্ধকার’। ধ্রুব এষের আঁকা নান্দনিক প্রচ্ছদসমৃদ্ধ এ গ্রন্থটি পাওয়া যাচ্ছে গ্রন্থমেলার আবিষ্কার প্রকাশনীর ৫৯০-৫৯১ নম্বর স্টলে।  ১৫০ টাকা মূল্যের চৌষট্টি পৃষ্ঠার এ কাব্যগ্রন্থটিতে বিচিত্র স্বাদের পঞ্চাশটি কবিতা স্থান পেয়েছে। গ্রন্থটির অধিকাংশ কবিতা প্রেমবিষয়ক। নর-নারীর চিরায়ত প্রেম-আকাঙ্খাকে আধুনিক নানা অনুষঙ্গে কবি ব্যক্তিক অনুভবের বর্ণিল রঙে অসামান্য দক্ষতায় রূপায়িত করেছেন গ্রন্থটিতে। প্রেমের কবিতাগুলোতে নিটোল প্রেমের অনুভূতিই মুখ্য। এছাড়াও গ্রন্থটিতে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নির্যাতন, সামাজিক বৈষম্য, ধর্মীয় ক‚পমণ্ডুকতা, পরিবেশচেতনার সমকালের নানা প্রসঙ্গ অসামান্য শিল্পদক্ষতায় প্রকাশিত হয়েছে আঙ্গিকগত বৈচিত্র্যে। গ্রন্থটির বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড নিয়ে দুটি অসাধারণ কবিতা কবির দেশপ্রেম ও প্রগতিচেতনার প্রাতিস্বিক পরিচয়কে ধারণ করে রয়েছে। চিত্রকল্প নির্মিতি, ভাষার সহজ-সরল মাধুর্য্য, দৃশ্যময় শব্দপ্রয়োগ এবং আঙ্গিক-প্রকৌশলে এ কবির কবিতা সকল শ্রেণির পাঠকের জন্য বোধগম্য। রয়েছে প্রতীক, কূটভাষের উপস্থিতিও। বিষয়চেতনা ও আঙ্গিক নির্মাণে তিনি আধুনিকতার অনুসারী হয়েও ভাষা ও প্রকাশগুণে স্বতন্ত্র বৈশিষ্টে উজ্বল। স্বভাবতই তার কবিতা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠককে মোহাচ্ছন্ন করে রাখে। গ্রন্থটির পশ্চাৎ-প্রচ্ছদে কবি ও তার কাব্য পরিচয়ে বলা হয়েছে-‘আশরাফুল আযম খান। শৈশব কেটেছে গ্রামে। গ্রামে তখনও বিশ্বায়ন আর মুক্ত বাজার অর্থনীতির বাতাস লাগেনি। গ্রামের প্রকৃতির রূপময়তা আর সারল্যভরা প্রতিবেশ ছোটবেলায় তাঁর জীবনে বুনে দিয়েছিল শুভচেতনার বীজ। এ বীজ যখন অঙ্কুরোদগম হয়ে পল্লবিত হতে শুরু করে তখনই কালের প্রবহমান জীবন স্রোত তাকে টেনে এনেছে আরেক চরাচরে, নাগরিক প্রতিবেশে। যেখানে রয়েছে জীবনের জঙ্গমতা, কট‚গন্ধ, স্বপ্নের ফসিল, মৃত ঝিনুকের চূর্ণি, হারিয়ে ফেলা সময়ের পদচিহ্ন, ভালোবাসার ভস্ম, পাণ্ডুর চোখের জল এবং জীবনের ক্লেদ আর কপট সময়। কবির চৈতন্যজুড়ে এই দুই বিপরীত প্রতিবেশের দ্বান্দ্বিক অস্তিত্ব। নির্সগপ্রীতি, প্রকৃতি চেতনা, দেশপ্রেম, জগৎ-জীবনবীক্ষা, মানবিক প্রেমের বিরহ-মিলন-মধুরতা অসামান্য শিল্পভাষ্যে কবিতায় রূপায়িত হয়েছে। কবিতার শিল্প-প্রকৌশলে বিশেষত শব্দনির্বাচন, চিত্রকল্প সৃষ্টি, আঙ্গিক নির্মিতিতে তিনি স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এম এ পাস করেন কবি আশরাফুল আযম। পেশায় তিনি একজন শিক্ষক। অনিয়মিত হলেও জাতীয় দৈনিকেও প্রবন্ধ-নিবন্ধ লিখেন। একটি বেসরকারি টেলিভিশনের এক টক-শো এর উপস্থাপনার সাথেও জড়িত আছেন তিনি। বিগত শতকের নব্বই দশকের শুরুতে কবিতা লেখার হাতেখড়ি। কলেজ জীবনের প্রারম্ভেই একের পর এক কবিতা প্রকাশিত হতে থাকে চালচিত্র, প্রাবৃট, প্রসঙ্গ, লোকায়তসহ নানা সাহিত্য পত্রিকায়। সে সময়ে লিখতেন আশরাফ সেবু নামে। //এস এইচ এস// এআর
‘পরকীয়ায় ভড়কে যাওয়ার কিছু নেই’

তরুণ কবি ও কথাসাহিত্যিক ফারজানা মিতু। সুন্দর গল্প ও মর্মস্পর্শী বর্ণনা যার উপন্যাসের প্রধান অনুসঙ্গ। লেখার প্রতি রয়েছে তার নিরন্তর ভালোবাসা। গ্রন্থভুক্ত তার পঙক্তির পরতে পরতে পাওয়া যায় ভিন্নমাত্রা। সম্পর্কের বিশ্লেষণ এবং অভিজ্ঞতার বিচিত্র প্রভাব পাওয়া যায় তার লেখায়। বিষয় বৈচিত্র্যেও তা হয়ে উঠে অনন্য। লেখনির মাধ্যমে তার বিস্তার ও দিক অন্বেষণ যথার্থই সাড়া জাগিয়েছে। প্রথম জীবনে ফারজানা মিতু কবিতা দিয়েই সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। এরপর গল্প ও উপন্যাস। অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৮-এ প্রকাশিত হয়েছে তার চারটি বই। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য দেশ পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত উপন্যাস ‘পরকীয়া’। এটি পাঠক হৃদয় ছুঁয়েছে। এতে পাওয়া যাবে ভিন্ন জীবনের চিত্র, বৈচিত্রতা। জীবনের নানাচিত্রে নান্দনিক উপন্যাসে রূপান্তর করেছেন ‘পরকীয়া’। সাম্প্রতিক সময়ের সাহিত্য, লেখালেখি, একুশে বইমেলার নানাদিক নিয়ে মিতুর সঙ্গে কথা হয় একুশে টেলিভিশন অনলাইনের। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আলী আদনান। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ সাহিত্যে কেন এলেন, কিভাবে  এলেন? ফারজানা মিতুঃ সাহিত্যের ধারায় কীভাবে চলে এলাম সেটা নিজেও সেভাবে বলতে পারবো না। নানা সময়ে ছোট করে ২-৩ লাইনের কথা লিখতাম, কখনও বন্ধুদের কার্ডে কিংবা চিঠিতে। আমার আম্মা যেহেতু লেখালেখি করতেন তাই সেগুলো পড়া হতো। আর ওই বয়সেই মনে হতো, এই লাইনটা না হয়ে অন্যটা হলে ভালো হতো। সাহিত্য তখন থেকেই বুঝা শুরু। ক্লাস নাইন টেনে থাকতেই পড়া শুরু হয়েছিলো কঠিন সব বই। সমরেশ, শীর্ষেন্দু, সুনীল সবই একে একে পড়া শুরু। তারপর হুমায়ূন আহমেদ। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ মেলায় এবার আপনার কি বই এসেছে? ফারজানা মিতুঃ মেলায় এবার ৪টি বই এসেছে। দিব্যপ্রকাশ থেকে এসেছে ‘প্রযত্নে সে’ এবং ‘তোমার মুঠোয় বন্দী আমার আকাশ’। দেশ পাবলিকেশন্স থেকে ‘পরকীয়া’ আর অন্বয় প্রকাশ থেকে ‘ফেরা না ফেরার গল্প’। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ নতুন বই সম্পর্কে বলুন? ফারজানা মিতুঃ আমি বরাবরই রোমান্টিক ঘরানার কাহিনী লিখি। তাতে কষ্ট, প্রেম, বিরহ আর না পাওয়াগুলোই উঠে আসে। এবারও তাই। তবে কাহিনীর বৈচিত্র্য অবশ্যই আছে। একেকটি বইয়ে একেক রকম স্বাদ দিতে চেয়েছি আর পাঠক সেই স্বাধটুকু পুরোটাই পাবে বলেই আমার বিশ্বাস। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ পরকীয়ার পাঠক সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী? ফারজানা মিতুঃ পরকীয়া বইটি ইতোমধ্যে অনেক পাঠকের হাতে পৌঁছেছে। রিভিউ যা পেয়েছি পাঠকের কাছে সেটা খুবই পজিটিভ। আমি বরাবরই বলেছি বই নিয়ে সমালোচনা করার আগে বইটি পড়ুন। পরকীয়া নাম দেখে ভড়কে যাবার কিছু নেই। বইটি না পড়লে কখনই জানতে পারবে না আমি বইটিতে কী বলতে চেয়েছি। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ বছরের অন্য সময় প্রকাশ না করে মেলায় কেন বই প্রকাশ করেন? ফারজানা মিতুঃ আমি ২০১৫-২০১৬ সালে অনেকগুলো বই মেলার বাইরের সময়ে এনেছি; কিন্তু মেলায় যেভাবে পাঠকের আগ্রহ আর উদ্দীপনা দেখতে পাই সেটা অন্য সময়ে দেখা ভার। লেখক হিসেবে আমাদের কাছে পাঠকই প্রধান। তাই এখন চেষ্টা করি মেলাতেই বই নিয়ে আসার। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ লেখালেখি চর্চার ক্ষেত্রে প্রেরণা বা প্রভাব কার কাছ থেকে বা কীভাবে? ফারজানা মিতুঃ আমি সবসময়ই বলে থাকি কারও প্রেরণা কিংবা প্রভাবে আমি লেখালেখিতে আসিনি। আমাকে সেভাবে প্রেরণা প্রথম অবস্থায় কেউ দেয়নি। এখন অনেকেই দিয়ে থাকে কাছের মানুষেরা ছাড়াও দূরের মানুষেরাও। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ একুশে বইমেলার প্রাপ্তি নিয়ে আপনার মূল্যায়ন… ফারজানা মিতুঃ একটা জাতি কখনোই শিক্ষা ছাড়া এগিয়ে যেতে পারে না। আর বই প্রতিটা মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসে মতোই অপরিহার্য। একটা ভালো বই একজন মানুষের জীবনে নানাভাবে প্রভাব ফেলতে পারে। আর আমাদের দেশে যেহেতু বই কেনার প্রচলনটা বইমেলাতেই বেশি। তাই বইমেলার গুরুত্ব অপরিসীম। আর এই সময়েই লেখক আর পাঠক এভাবে কাছাকাছি আসতে পারে। লেখক আর পাঠকের এমন সেতুবন্ধন বইমেলা ছাড়া পাওয়া সম্ভব না। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ লেখালেখি নিয়ে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি? ফারজানা মিতুঃ লেখালেখি আমার সবটুকু জুড়েই, তাই লিখে যাবো যতোদিন পারি। এবার পরকীয়া নিয়ে বড় পরিসরে যেমন লিখেছি তেমনি সামনেও এমনকিছু আরও লেখার আশা রাখছি। প্রতিটা মুহূর্তে প্রতিটি লেখায় আমি নিজেকে ভাঙি আর গড়ি। আগামীতেও আরও সমৃদ্ধশালী লেখা দিতে পারবো বলেই আশা করছি। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ আপনার জন্য শুভ কামনা রইল। ফারজানা মিতু : আপনার জন্যও শুভকামনা। / এআর /

বই মেলায় পার্থ প্রদীপের জলরঙ কাব্য

এবারের বই মেলায় পার্থ প্রদীপ সরকারের প্রথম কাব্যগ্রন্থ জলরঙ কাব্য প্রকাশিত হয়েছে অন্যপ্রকাশ থেকে। পেশাদার কবি না হলেও পার্থ তার কাব্যগ্রন্থে অসাধারণ কাব্য-প্রতিভার ছোঁয়া রেখেছেন। প্রেম, বিরহ, প্রতিবাদ, ফেলে আসা সময়, প্রকৃতি, সমকালীন ঘটনা, দেশপ্রেম সবই আছে তার কবিতায়। আধুনিকতার পাশাপাশি তার কবিতায় রয়েছে সনাতন ধারার ছোঁয়া। পেশা বিবেচনায় নিরস একটা ক্ষেত্রে বিচরণ করলেও পার্থ প্রদীপ কল্পনার ফানুসে ভেসে, স্মৃতির পাতা উল্টে, প্রেম-বিরহ, সমাজ-সংসার আর প্রতিদিনের বাস্তবতার জলছবিতে রঙ দেয়ার চেষ্টা করেছেন তার প্রথম কাব্যগ্রন্থে। পার্থ প্রদীপ সরকারের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ময়মনসিংহ শহরে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগ থেকে স্নাতোক শেষে বিশ্ব ব্যাংকের বৃত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকিউরমেন্ট ও সাপ্লাই ম্যানেজমেন্টে এমবিএ সম্পন্ন করেছেন তিনি। বর্তমানে এ প্রকৌশলী স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। আরকে// এআর

একা এবং অদৃশ্য

থেমসের পাড়ে দাঁড়ানো অট্টালিকাগুলো ভেঙে ভেঙে পরছে। এইচএসবিসি, সিটি ব্যাংক এনএ, ক্রেডিট সুইজ সব, সেঁধিয়ে যাচ্ছে থেমসের পেটে। নানান রঙে ভাসছে জল। মৃত এবং আহত মানুষের রক্ত, শ্বাসের নীলাভ অংশ, কারো কারো বুকে জমিয়ে রাখা ক্ষোভ, ঘৃণা ও ভালোবাসা সব, সব ভাসছে। মাছেরা তৃপ্তি পাচ্ছে,  এতো সুগন্ধি রক্ত আর কখনো পাওয়া যায়নি। এতো এলকোহল কোথা থেকে এলো! থেমসের সাথে মিশে সব পানি নেশা নেশা হয়ে ভাসছে। মাছেরা নেশায় বুদ হয়ে যাচ্ছে। রমনীর বুক থেকে শুঁকে নিচ্ছে আফিমের ঘ্রাণ। ছুঁয়ে দিচ্ছে, ডুবে যাচ্ছে নদীর নাভী বেয়ে তপ্ত উনুন। এভাবে আহত রমনীরা মাছের মা হয়ে উঠছে আর আহত পুরুষেরা নিজেদের জনক ভাবতে শুরু করেছে। মাছেরা ঠোঁট কেলিয়ে হাসে আর ভাবে,’যাক বাবা দূর্নামের হাত থেকে বাঁচা গেলো।’ মৃতদের দেখে আহতরা হাসছে আর বলছে, ’কি বোকা ওরা বাঁচতে পারলো না, মরে গেলো, হাঃ হাঃ হাঃ, আমরা বাঁচলাম কি করে। বাঁচলাম বলেই এতো এতো গিনি সোনা আর এতো রমনের রঙমহলে ভাসছি। রক্ত কোথায়? সব দেখি মৌতাতের নেশাজল। আরে কত কত পাউন্ড ভাসে জলে! প্রতিদিন এক একটি দেশ কিনে নেবো। বসাবো তান্ডব বাজার। হি: হি: হি:। ঘুম ভেঙে গেলো সিহানের। জানালার পাশে বৃক্ষরা পাতাবাহার পাতাবাহার খেলছে। কোথাও মেঘ নেই। ওয়াপিং থেকে দেখা যায় দাঁড়িয়ে আছে এইচএসবিসি, সিটি ব্যাংক এনএ, ক্রেডিট সুইজ। তাহলে কি দেখেছে সে! ভাবতেই অবাক লাগে। কি বাজে স্বপ্ন! হায়! হায়! কি অমঙ্গল। গত পাঁচ বছরে একবারও দেখেনি এমন স্বপ্ন। এর মানে কি? আহা! কত কত রমনীরা ভেসে যাচ্ছিলো। এলসেসেসিয়ান কুকুরের মত জিহ্Ÿাও দেখা গেলো ভেসে যাওয়া পুরুষদের। তাদের মধ্যে সিহানও কি ছিলো! ভেবেই জিব কাটে সিহান। থাকলেও মন্দ হতো না! বড়লোকদের সাথে কিছু সময় ভেসে থাকতে পারলে মোটাতাজা হবার কিছু কড়ি জুটেও যেতে পারতো। একটু আফিমের ঘ্রাণ, একেবারে মন্দ হতো না। সিহান আবার ভেবে হতাশ হয়। আহা, সেতো ছিলো স্বপ্ন। কিন্তু ওই যে ভেঙে যাবার দৃশ্য! কোন মতেই ভুলা যাচ্ছে না। সত্যিই যদি ভেঙে যায় কি হবে? ব্রিটিশ লাইব্রেরীতে ওই এলাকার একটা ছবি আছে। ওই ছবি ১৮০৮ সালে তোলা। কিছুই ছিলো না সেখানে। ছিলো বাঁক নেয়া নদী আর ভাসমান কিছু ইঞ্জিনবোট। স্বপ্নের মত সব ভেঙে গেলে কি দুই’শ বছর পিছনে ফিরে যাবে কেনারি ওয়ার্ফ বা ইস্ট ইন্ডিয়া ডক? তাতে কি ভালো হতো? না । কারণ তখন তো ব্রিটিশরা দস্যুবৃত্তি করে বেড়াতো। ওই ডাকাতরা এখন বিশ্বের সবচেয়ে সভ্য জাতি হিসেবে নিজেদের দাবি করে। অথচ তাদের ডাকাতির ধরনটা পোশাক বদলেছে মাত্র। আমি যা আয় করি তা যে কিভাবে শালারা আমার পকেট থেকে নিয়ে নেয় টেরই পাই না। আমাদের দেশে পকেট থেকে টাকা নেয়ার সময় ঝগড়া করা যায়। কিন্ত এখানে বুঝা যায় যে পকেট থেকে টাকা নিয়ে যাচ্ছে কিন্তু কিছু বলা যায় না। কারণ পদ্ধতি। ইংরেজীতে যাকে বলে ’সিস্টেম’। ইচ্ছে করে পুঁদের ওপর কষে একটা লাথি মারি। আহা! দিয়া’র পাশে বসলেই সব কষ্ট বাতাসের মত ফুৎকারিয়া যায়। বুক পকেটে জমে যায় আধুলি আধুলি সুখ। ওই সিস্টেমের কথা আর মনে পড়ে না। দিয়া বড় পয়োমন্তর। চোখ দিয়ে চেকে নিয়ে যায় সব চিন্তা আর টন টন ব্যাথা। ওই সুখের জন্য একটা রাজ্য দিতেও আমি রাজি। কিন্তু সমস্যাতো অন্য। ধ্যাৎ সমস্যার কথা আর ভাবতে ইচ্ছে করে না। আজ দিনটাই শুরু হলো এভাবে। বাসা থেকে বেরিয়ে ওয়াপিং ডকের রাস্তা ধরে হাটতে শুরু করেছে সিহান। কাজে যেতে ভালো লাগছে না। প্রায় দুইশ’(১৮০৫) বছরের পুরনো ওয়াপিং ডক এখনো কতো সাজানো গোছানো। এখানে নাকি বাংলাদেশ থেকে একবার একটি শীপ এসেছিলো। যে জলপথে ব্রিটিশ বেনিয়ারা ভারতবর্ষে লুটপাটে গিয়েছিলো, ওই পথেই এসেছিলো কি সে জাহাজ! যেভাবেই আসুক, অবাক করা ব্যাপার হলো,এ জলই পুরো পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠকে অখন্ড করে রেখেছে। কী দীর্ঘ জলের শরীর! শঙ্খ, কর্ণফুলীর জল কি থেমসে এসে মিশে? সিহান ভাবে, এই ডকের পাশে যদি তার ঘর হতো। তাহলে প্রতিদিন জলের শব্দ শুনতে পেতো। যে জল ভেসে এসেছে তার দেশের প্রিয় নদী কিংবা সমুদ্র থেকে। ঠিক জলের ওপর একটি ঘর। ওখানে দিয়া আর সিহান কান পেতে থাকতো। জলের শরীরে বিদ্যুৎ প্রবাহের মত ইথারে ভেসে আসতো ভাটিয়ালী, ভাওয়াইয়া, মুর্শিদী। কিন্তু এ মুহূর্তে ভাবেতও আর ভালো লাগছে না। রাতের স্বপ্ন আর দিয়া, দু`টোই কেমন যেনো ভেজা মেঘের মত ধোঁয়াশা হয়ে যাচ্ছে। স্বপ্ন তো স্বপ্নই, কিন্তু দিয়া? তাকে স্বপ্ন ভাববে কেনো! তার ঘ্রানতো সারাক্ষণ লেগে থাকে শরীর আর মনে। আন্ধারমানিক কানিচরার জল যখন সাপের মত ভাটির দিকে যায়, তখন তো ঘুমায় না বইন্যাকোরা কিংবা চালতা আঁটির ঝাড়। থেমসের জল ভাটিতে গেলে কেনো মরে যাবে দিয়া দিয়া সুখ? এ এক অবাক করা ব্যাপার। বিলেতের বাতাসে আফিম কিংবা এলকোহলের ঘ্রাণ থাকতেই পারে। সাদা গোলাপ বাগানে উর্কাবগা সাপ কিছু সময় বিলি কাটলে কি করার থাকে? দিয়া তো আর মেঘ হয়ে যায়নি। বরং আকাশের পশ্চিম রেখা থেমসের নাভিতে ডুব দিলে জেগে ওঠে দিয়ার মোলায়েম ঘ্রাণ। সিহানের মনে পড়ে প্রথম বিলেতে প্রবেশের কথা। সেদিন থার্টিফাস্ট নাইট। ভারী মেটালের সাথে দুলে দুলে উঠছিলো বিলেতি কইন্যারা। কিন্তু শরীর কিংবা মনের কোন অঙ্গে কাঁপন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মনে মনে ওই দিয়ার মত কাউকেই খুঁজেছিলো সিহান। এখনতো সে আছে। আজ গ্রামের কথা খুব মনে পড়ছে সিহানের। তাদের বাড়ির পুকুর ঘাটে বসলেই সামনে দাঁড়িয়ে যায় কালো পাহাড়। পেছন থেকে ভোরের সূর্য রশ্নি ছড়াতে থাকলে ওই পাহাড়ও হেসে ওঠে। কিন্তু কানিচরা থেকে আন্ধার মানিক-দোচাইল­া-একপাইয়া হয়ে মাটির শরীর বেয়ে বাঁকা পথটি কোথায় চলে গেছে তার সন্ধান পাওয়া যায়নি কখনো। সেই কৈশোর থেকে ওই পথের শেষ খুঁজছে সে। ওই পথে তো আর সমুদ্র নেই যে পৃথিবীতে ব্যপ্ত হয়ে গেছে। সত্যিই এই রহস্য নারীর মতই! দিয়াকে কত কাছে ধরে রাখে সারাক্ষণ, কিন্তু প্রায়ই তাকে অচেনা মনে হয়। বিলেতের আবহাওয়ার মত মুহুর্তেই সে মেঘ, রোদ কিংবা বৃষ্টি হয়ে যায়। কিন্তু কোন রঙেই তাকে দূরের মনে হয় না। তবে থাকে মাঝ সমুদ্রে জেগে ওঠা একটা চর। ওখানে সব প্রশ্ন নির্বাসনে থেকে যায়। কোন প্রশ্নেরই আর উত্তর মেলে না। ও হেনরি’র ’প্রাইজ’ গল্পের প্রধান চরিত্রটির মতই প্রশ্নরা বিনা অপরাধে নির্বাসন প্রাপ্ত হয়। হাটতে হাটতে রাতের স্বপ্নের সাথে দিয়া’র অন্তমিল খোঁজে সিহান। কোথাও একটা সূতো বান্ধা না থাকলে স্বপ্নের সাথে দিয়া কেনো আসবে? কিন্তু পরক্ষনেই এ চিন্তা ঠাঁই পায় না। স্বপ্ন বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে না সিহানের। তবুও কখনো কখনো কিছু স্বপ্ন নোঙর ফেলে বসে থাকে বুকের মাঝখানে। ভাগ্যিস দিয়াকে মাছের মা হতে দেখেনি সিহান। তাহলে বিলেত যাপন ভারী হয়ে যেতো। অজান্তে বা অদেখায় যা কিছুই হয় তা ’না দেখে বলবো কিভাবে’র মত প্রশ্নই থেকে যায়। চতুর না হলে এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া যায় না আর। ঠিক ওই ইংরেজী ’সিস্টেম’ এর মত একটা ব্যাপার। সিহান ভাবে, তাহলে কি দিয়া ব্রিটিশ কায়দা রপ্ত করে ফেলেছে? ভারতবর্ষের যে মানুষগুলো উড়ে চলে এসেছে এদেশে, সবাই কি একই কায়দা রপ্ত করছে? তাহলেতো একটা কাজ হবে। ওই যে ভারতবর্ষে বেনিয়াদের শাষন-শোষনের কাল, তার পূণঃ প্রবর্তন হবে ব্রিটেনে। এটাকে প্রাকৃতিক নিয়মও বলা যেতে পারে। কিন্তু ভারতবর্ষের মানুষগুলো ওই শোষনের জন্য মানষিকভাবে সামর্থবান কিনা তাতেও সন্দেহ রয়েছে। ওই এলাকার মানুষেরা কেনো যেনো দুঃখ বিলাসী হয়। দুঃখের গান কিংবা কবিতা তাদের ভালো লাগে। মুখে সহজে হাসি লাগে না। এর প্রধান কারণ কি দারিদ্র? হতেও পারে। দিয়া’র তো অর্থ-কড়ির টান নেই। বাবার রেখে যাওয়া অঢেল সম্পদ। তবুও কখনো কখনো তার মুষড়ে যাওয়া পরিদৃশ্যমান হয়ে ওঠে। বিলেতের নদীগুলো ভাঙ্গে না পদ্মা-মেঘনার মত। নিরন্তর বহমান যৌবন। দিয়ার বাল্য বন্ধু রূপনের কথা মনে হয় সিহানের। যে কিনা ঢাকায় বসে প্রতিনিয়ত মনে করতো  তার গ্রাম সাভারচালায় শীতলক্ষ্যা ভাঙছে আর বুড়িয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ভুল ভাঙে পাঁচ বছর পর যখন শীতলক্ষ্যার জলে পা রাখে। টের পায় শীতলক্ষ্যা নয়, রূপনই বুড়িয়েছে। ইদানিং এ গল্প বলে দিয়া। কেনো বলে?  আজ আর কাজে যাওয়া হবে না। ওয়াপিং পার্কে ওক গাছের গুঁড়িতে হেলান দিয়ে বসে সিহান। ওকের চ্যাপ্টা পাতার ফাঁক গলে গড়িয়ে পরছে কখনো রোদ, কখনো মেঘ। এ এক অদ্ভুদ আবহাওয়া। সামার যাই যাই করছে। গাছের পাতারা হলুদ হচ্ছে। তাপমাত্রা এখন চৌদ্দ ডিগ্রী তো কতক্ষণ পর আঠারো ডিগ্রী। তবে বৃষ্টির আশংকা নেই মনে হচ্ছে। অদূরে ম্যাপেল গাছে বসে আছে ব্লু টিট পাখি। বুকের হলুদ রঙ আর নীল পাখনায় এ পাখিটির আঁকার বাংলাদেশের দোয়েলের কথা মনে করিয়ে দেয়। কখনো কখনো দিয়া পাখি হয়ে যায়। উড়তে থাকে লন্ডন শহরের এ প্রান্ত থেকে সে প্রান্তে। পাখি হিসেবে কি নাম দেয়া যায় তার? ব্লু টিট নাকি দোয়েল? ওকে জিজ্ঞেস করলে নির্ঘাত বলবে দোয়েল। বাংলাদেশের অনেক পাখির নাম তার মুখস্ত। দেশের প্রতি তার ভালোবাসা যে কাউকেই মুগ্ধ করবে। এক সময় কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে তার দেশ নিয়ে বক্তব্য শুনার জন্য অনেক শিক্ষকও ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকতেন। কখনো কখনো ভাড়াটে বক্তা হিসেবে কাজ করার গল্পও সে করেছে। মুখে বাক্য থাকলে যে কোনো দেশে গিয়ে খাপ খাওয়ানো সহজ। দিয়া কে দেখলে তা বুঝা যায় অনায়াসে। ব্রিটিশদের নানা অকর্ম নিয়ে তার তিরস্কারের সীমা নেই। অথচ সেই পথেই পা রেখে সব ভুলে যায় দিয়া। কাজ করে যায়। হাতের মুঠো পুরে ফিরে আসে। এসে বলে ’বুঝলে এ হলো ক‚টনীতি’। বাংলাদেশের কোনো একটি মিশনে যদি সরকার তাকে নিয়োগ দিতো তাহলে নিশ্চয় একটি ঐতিহাসিক দৃশ্য তৈরী করতে পারতো। আজকাল বাংলাদেশের রাজনীতিক বা ক‚টনীতিক-আমলারা ছিচকে চোর। তাদের দিয়ে আর যাই হোক দিয়া’র মত ক‚টনীতি হবে না। প্রায়ই দেশে ফেরার কথা বলে সে। বেশ কয়েক বছর যাওয়া হয়না। লাল পাসপোর্টটা যতেœ রাখে। যাদের নাই তারা ওটা পর্দাফাই করে দিতে পারে সে ভয় তাকে তটস্থ রাখে। সবুজ পাসপোর্টটিও রিনিউ করে রাখে। তবে ওটার প্রতি তার তেমন মায়া দেখা যায় না। কাছে থাকলে তাকে রাতের স্বপ্নের কথা বলা যেতো। ও আবার এলকোহল খুব পছন্দ করে। নিমিষেই ভোতকা সাফাই করে দেয়। আহা, তখন দিয়ার চোখে ঘোড়া ছুটতে থাকে। লিপিস্টিক ছাড়াই অধর লাল হয়। কাঁপতে থাকে আর টান টান করে কথা বলে। একবার তো এ অবস্থায় পুরো ওয়েস্টমিনিস্টার নিজের দাবি করে বসেছিলো। আর বলেছিলো একবার যদি ছোট প্রিন্সের সাথে দেখা হতো! সিহানের তখন বলতে ইচ্ছে করেছিলো, ইস একবার যদি মিডলটনের সাথে দেখা হতো! এ কথা মনে হবার সাথে সাথে রাতে দেখা স্বপ্নের সাথে দিয়া এবং নিজের কোথায় যেনো একটা মিল পাওয়া যায়। কোথায়? দু’জনের মধ্যেই ফ্রয়েডীয় মনোবিকলন কাজ করছে। কাজ করছে স্থান দখলের ইচ্ছা। ব্রিটিশ আর মার্কিনীরা তো পুরো বিশ্বে থাবা ফেলে বসে আছে।  আর এলকোহল না হলে দু’জনেরই এখন আর চলে না। পুরো সপ্তাহের অন্তত একদিন দু’জনে বসে পান করতে করতে মাতাল হবে আর ঢলে পরবে এটা তো রুটিন হয়ে গেছে। কি অবলীলায় মৌজ করার দেশ ব্রিটেন। দিয়া অন্য দিনগুলো পাখির মত উড়তে থাকে। সিহানের কাছে এসময়  বিলেতের আকাশকে দিয়াময় মনে হয়। খুব কাছে পেতে ইচ্ছে করলে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। ছোট বেলায় মেঘের ঘোড়া কিংবা হাতি দেখার মত পেয়ে যায় দিয়াকে। কিন্তু কখনো কখনো ওই মেঘের দেশে দিয়ার সাথে অন্য একজনকে দেখা যায়। তখন সিহানের মুখ খিচে খিস্তি আওড়াতে ইচ্ছে করে। আবার দমে যায়। এদেশে এসব নিয়ে কথা বলা যায় না। যার যা ইচ্ছে করবে। বাঁধা দিলে বিপদ। অধিকার খুন্নের অভিযোগে আইনের ফাঁস গলায় বিঁধে যাবে। সিহান ওকের গুঁড়ি থেকে টান টান করে উঠে দাঁড়ায়। থেমসের দিকে হাটে। পাশের অফ লাইসেন্স থেকে একটি স্ট্রংবো’র ক্যান টেনে নেয়। রাতের একটি স্বপ্ন পরো দিনটিকে চমৎকার কিংবা দুরূহ ভাবনার আধার করে দিলো। বিয়ারের ক্যানে কয়েক টান দিয়ে বিরক্তিতে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। মাত্র ৫ ভাগ এলকোহল! শালা এতেতো নেশাই হবে না। মাঝে মাঝে সিহানের এমন নেশা করতে ইচ্ছে করে যে, চোখে যেনো শুধু সবুজ দেখা যায়। ওই বাংলাদেশের মত সবুজ মানচিত্র। ওই মানচিত্রের শিরায় শিরায় মিশে যাবে দিয়া আর তার দেহগত সুখ। এরকম চিন্তা মাথায় কুন্ডুলী পাকাতে থাকলে থেমসের পাড়ে দাঁড়িয়ে একটু স্থির হয় সিহান। পাশের বেঞ্চিতে বসে খালি পা রাখে বেঞ্চের ওপর। মেজাজ আবার সিঁটিয়ে ওঠে। মনে পড়ে বাড়ির পাশে দূর্বাঘাসের ওপর পা রাখলে কেমন শিউরে উঠতো পুরো শরীর। আর এখানে পা রেখে মনে হচ্ছে মরা কার্পেটের ওপর পা রেখেছে। কেনারি ওয়ার্ফের দিকে আর তাকাতে ইচ্ছে করে না। থেমসের বুকে জেগে ওঠা ওই বাণিজ্যিক শহরটি তাবৎ বিশ্বের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে। এখান থেকে কত অন্নের যোগ-বিয়োগ হয় তা কে জানে। ওখানে নাকি বিশাল বাজেটের ছবিরও শ্যূটিং হয়। একবার নাকি আমাদের নায়িকা ববিতা শ্যূটিং করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু একদিনে নব্বই হাজার পাউন্ড দিতে হবে শুনে পালিয়ে গিয়েছিলেন। তারপরও ওই এলাকাটি স্বপ্নের মত ভেঙে যাক তা সিহান চায় না। ধরা যাক ওখানে যা কিছু মঙ্গলের জন্য হয় তা-ই মানুষের জন্য। আর অমঙ্গল তো সব সময়ই অস্পৃশ্য। সিহান তাকায় সম্মুখে। থেমসের বুক দ্বিখন্ডিত করে চলে যাচ্ছে রিভার ক্রুইজ। ওখানে লাফাচ্ছে সাফ কিংবা অক্টোপাস। ওরা ছোবল দেয় ওরা ঘিরে রাখে। ওদের বিষ অনেক সুস্বাদু হবার কথা নয়। মাঝে মাঝে দিয়া’র চোখে মুখে ওই বিষের সন্তরণ দেখা যায়। তবুও যে কেনো দিয়াকে এতো ভালো লাগে! কাছে পেতে ইচ্ছে করে। বুক থেকে এক গুচ্ছ বেলিফুলের ঘ্রান নিতে ইচ্ছে করে। কিন্তু ইদানিং প্রায়ই ওর ফোন বন্ধ থাকে। বেশ ক’দিন দেখা হয় না। মাঝে মাঝে ও সময় পাল্টাতে চায়। রিফিল করতে চায় নতুন সময়। সিহান ঠিক করে এবার পেলে দিয়াকে নিয়ে অনেক দূরে চলে যাবে। এ অঞ্চল ছেড়ে অন্য অঞ্চলে। সেখানে থেমস নয়, লী’র মত ছোট্ট একটি নদী থাকবে। থাকবে ছোট্ট ডিঙ্গী নৌকো। ওখানেই জলের ওপর হবে বসত। চারদিকে থাকবে জলপদ্মের বজরা। মাঝে মাঝে শাপলা থাকলেও মন্দ নয়। প্রতিদিন দিয়ার পুঁজো দিতে সংগ্রহে থাকবে এক লক্ষ গোলাপ। ভাবতে ভাবতে দিয়ার নাম্বারে ফোন করে সিহান। আগে ভাগেই বলে নেয়া যাক ভাবনার কথা। দিয়া নিশ্চয় এসব শুনার পর মেঘের ঘোড়ায় চাপবে না। কিন্তু মোবাইল যথারীতি বন্ধ। মাথা নীচু করে বসে থাকে সিহান। দেখে পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুল কামড়ে ধরেছে একটি বিলেতি পোকা। ওটাকে হাতে তুলে ছুঁড়ে দেয় থেমসের স্রোতে। থেমস ভেসে যাচ্ছে। দিয়া ভেসে যাচ্ছে। থেমস বহুগামী হয়ে আছে এ লন্ডন শহরে। অত গমণ পথে দিয়া যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে, যাত্রা ভঙ্গ এড়াতে কিংবা নিজের ভেঙ্গে যাওয়া গোপনে লালন করতে। সিহান আর দাঁড়ায় না। নিজের ছায়া সাথে করে কর্ণের দুল খোঁজে নদী কর্ণফুলীতে।     / এআর /

বইমেলায় বাবা-ছেলের ৪ বই

অমর একুশে গ্রন্থমেলায় লেখক হায়দার বসুনিয়া এবং শাহজাদা বসুনিয়ার দুইটি করে কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে। সাবেক শিক্ষক হায়দার বসুনিয়ার ছেলে শাহজাদা বসুনিয়া। হায়দার বসুনিয়া রচিত কবিতার বই দুইটির নাম হল ‘অমোঘ সায়াহ্ন’ এবং ‘হংস সংলাপ ও রঙিন চশমা’। আর শাহজাদা বসুনিয়ার লেখা কবিতারগ্রন্থ দুইটির নাম ‘জলতরঙ্গের ছোয়া’ এবং ‘সাতকাহন’। নিজের বই দুইটি সম্পর্কে হায়দার বসুনিয়া বলেন, “হংস সংলাপ ও রঙিন চশমা” তে আমি বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে, হংসকে অবহেলা করা যায় না। তাদের অবহেলা করলেও তারা মানুষের চেয়েও বেশি সুখি। আর, অমোঘ সায়াহ্ন মানব জীবনে আসবেই। উপায় নাই, এটা মেনে নিতে হবে। চারটি বইই প্রকাশিত হয়েছে বিশ্ব সাহিত্য ভবন থেকে। এ বছরের বই মেলার ৪৭৫-৪৭৮ নং স্টলে পাওয়া যাবে বইগুলো। প্রসঙ্গত, হায়দার বসুনিয়া দীর্ঘ চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় শিক্ষকতা করেছেন। ২০০৩ সালে শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত তার লেখা ১৮টি সাহিত্য বই প্রকাশিত হয়েছে। অন্যদিকে শাহজাদা বসুনিয়া একজন ঊর্ধ্বতন ব্যাংক কর্মকর্তা। বর্তমানে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কর্মরত আছেন। এসএইচএস/টিকে

মীর হুমায়ূন কবীরের গবেষণাগ্রন্থ “আনিস চৌধুরীর নাটক:জীবন ও শিল্প”

আনিস চৌধুরী (১৯২৯-১৯৯০) বাংলাদেশের বাংলাসাহিত্যের একজন স্বনামধন্য কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার। আটাশিটি ছোটগল্প ও দশটি উপন্যাসের সফল রচয়িতা হলেও নাট্যকার হিসেবেই তিনি অর্জন করেছেন সমধিক খ্যাতি। এমনকি বাংলাদেশের নাট্যসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে বাংলা একাডেমি পুরস্কারও লাভ করেছেন তিনি। তবে দুঃজনক হলেও সত্য যে, এই দীর্ঘ সময় পর্বে আনিস চৌধুরীর সমগ্র নাট্যবিষয় নিয়ে মূল্যায়নধর্মী কোনো গবেষণাগ্রন্থ তো নয়-ই, কোনো গবেষণা-প্রবন্ধও রচিত হয়নি। যাকে বাংলা নাটক গবেষণার দৈন্যতা হিসেবেও চিহ্নিত করা চলে। যা-ই হোক, নাট্যকারের মৃত্যুর প্রায় পঁচিশ বছর পর এই দৈন্যদশার পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছেন বিশিষ্ট গবেষক, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক, মীর হুমায়ূন কবীর (জন্ম : ৩০ অক্টোবর ১৯৮৬)। সম্প্রতি অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮-কে সামনে রেখে  প্রকাশিত হয়েছে তাঁর গবেষণাগ্রন্থ “আনিস চৌধুরীর নাটক : জীবন ও শিল্প”। গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে বেঙ্গল পাবলিকেশন্স। মূল্য ৩৬০ টাকা। “আনিস চৌধুরীর নাটক : জীবন ও শিল্প” মূলত মীর হুমায়ূন কবীর-এর এমফিল অভিসন্দর্ভের (২০১৫) পরিমার্জিত গ্রন্থরূপ। গবেষক প্রধানত তিনটি অধ্যায়ে ভাগ করে এই গবেষণাকর্মটি সম্পাদন করেছেন। প্রথম অধ্যায়ের শিরোনাম দিয়েছেন ‘আনিস চৌধুরীর জীবন ও মানসগঠন’। এ অংশে তিনি নাট্যকার আনিস চৌধুরীর জন্ম ও বেড়ে ওঠার সূত্রধরে পারিবারিক ঐতিহ্য, অধ্যয়ন-সূত্র, কর্ম-পরসর, সংসার-পর্ব, সাহিত্য-সাধনা ও রাজনৈতিক সচেতনা চিহ্নিতকরণ সহ সামগ্রিক জীবন-পরিসর তুলে ধরেছেন। সাবলীল ভাষায় গ্রন্থবদ্ধ করেছেন নাট্যকারের জীবনের প্রতিটি পর্যায়ের তথ্য-নির্ভর উপস্থাপনা। জীবন-পরিক্রমা ও মানসবিকাশের সূত্রে শিশু ‘আনিসুজ্জামান কামরুদ্দীন’ কীভাবে হয়ে উঠলেন নাট্যকার ‘আনিস চৌধুরী’, তা বিশদ ব্যাখ্যা ও গভীর বিশ্লেষণ সহযোগে গ্রন্থের প্রথম অধ্যায়ে লিপিবদ্ধ করেছেন এই গ্রন্থের লেখক।     গ্রন্থটির দ্বিতীয় অধ্যায় বিন্যস্ত করা হয়েছে ‘বাংলা নাট্যধারায় আনিস চৌধুরীর অবস্থান’ শিরোনামে। এ অধ্যায়ে গবেষক প্রাচীন সংস্কৃত নাট্যশাস্ত্রের নাট্যব্যাখ্যার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে শুরু করে বাংলা নাটকের পথযাত্রার ইতিবৃত্ত, আনিস চৌধুরীর পূর্ববর্তী ও তাঁর সমসাময়িক বিশিষ্ট নাট্যকারদের নাটক ও নাট্যপ্রবণতা, নাটকে জীবন-উপস্থাপনের কলাকৌশল ও রীতি-পদ্ধতির অনুপুঙ্খ ব্যাখ্যা করেছেন; এবং দেশ-কাল-প্রতিবেশের প্রেক্ষাপটে বাংলা নাট্যচেতনার রূপান্তরের একটি পরিপ্রেক্ষিত-পরিক্রমা উপস্থাপন করে চিহ্নিত করেছেন বাংলা নাট্যসাহিত্যের ধারায় আনিস চৌধুরীর স্বাতন্ত্র্য ও স্বকীয়তা। বাংলা নাট্যধারার বিশিষ্ট নাট্যকারদের নাটক ও নাট্যপ্রবণতার সারবক্তব্য উপস্থাপন করে আনিস চৌধুরীর নাট্যপ্রবণতা সম্পর্কে যে মন্তব্য গবেষক উপস্থাপন করেছেন, তা এখানে উল্লেখকরণের দাবি রাখে : “বাংলা নাটকে আনিস চৌধুরীর স্বাতন্ত্র্য এখানেই যে, সমকালীন অন্য নাট্যকারদের মতো ইতিহাস, পুরাণ কিংবা হৃত-ঐতিহ্যের ধূসর জগতে বিচরণ করেননি তিনি; বরং তাঁর সমস্ত নাট্যকর্ম জুড়েই বাংলার নিম্ন-মধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত জনশ্রেণির জীবন-যন্ত্রণার বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হয়েছে এবং এক্ষেত্রে তাঁর শিল্পদৃষ্টি প্রখর প্রতিবাদী না-হলেও এ শ্রেণির প্রতি তাঁর সমবেদনা প্রকাশ পেয়েছে যথেষ্ট।”   ‘আনিস চৌধুরীর নাটকে উপস্থাপিত জীবনের স্বরূপবৈশিষ্ট্য’ শিরোনামে গ্রন্থের তৃতীয় অধ্যায়টি সাজিয়েছেন লেখক। অধ্যায়টি শুরু করা হয়েছে এভাবে “আনিস চৌধুরীর নাট্যভাবনা মূলত আবর্তিত হয়েছে সমকালকে কেন্দ্র করে। বিভাগোত্তর পর্যায়ে পূর্ববাংলার রাজধানী ঢাকাকে কেন্দ্র করে যে নবীন সমাজের গোড়াপত্তন হয়, যে ভাঙাগড়াময় জীবনবৃত্তে তিনি বিচরণ করেছেন, সেই জীবন ও সমাজের ঘনিষ্ঠ রূপকার তিনি। নাটকের কাহিনি নির্বাচনে তিনি ইতিহাসের দ্বারস্থ হননি, দূর কিংবা নিকট অতীতকে গ্রহণ করেননি, বরং সমকালীন। ... বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধের প্রারম্ভে মধ্যবিত্ত সমাজে যে নাগরিক পরিমণ্ডল গড়ে ওঠে  তারই বাস্তব চিত্র রূপায়িত হয়েছে তাঁর নাটকে। মধ্যবিত্ত জনজীবনের বিচিত্র আশা-আকাক্সক্ষা, দুঃখ-দাহ, হতাশা-বেদনা, নৈরাশ্য-যন্ত্রণার রূপচিত্রাঙ্কনে তাঁর পারদর্শিতা বিস্ময়কর। গ্রামীণ ভূস্বামী, শাহরিক ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শ্রমজীবী নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রা রূপায়ণে তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর নাটকের মজিদ মাস্টার, ইনাম, কবির, আলিম, কলিম, কাইউম, রাশিদা, কিংবা মিনু সকলেরই বিচরণ মধ্যবিত্ত পরিবৃত্তে। দারিদ্র্যের কঠিন নিপীড়ন এবং উত্তরণের আকাক্সক্ষায় তারা সংগ্রামলিপ্ত। এ সংগ্রামে কেউ বিজয়ী হয়েছে, কেউ জীবনযুদ্ধে পরাজয় বরণ করে তলিয়ে গেছে অতল গহ্বরে।” এমনিভাবে আনিস চৌধুরীর নাটকের চারিত্র্য, নাট্যনির্মাণের কলাকৌশল ও রীতিপ্রকৃতি, বিভিন্ন নাটকে উপস্থাপিত প্রতিনিধিত্বশীল চরিত্রসমূহের সৃজনকৌশল, জীবন-বৃত্তান্ত ও জীবনপ্রবণতা চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে নাট্যকারের সামগ্রিক প্রবণতার বিশদব্যাখ্যা একের পর এক তথ্য, তত্ত্ব ও যুক্তির মালা গেঁথে উপস্থাপন করেছেন গবেষক মীর হুমায়ূন কবীর। অতঃপর তিনি একটি একটি করে নাটক ধরে ধরে প্রতিটি নাটকের চুলচেরা পর্যালোচনা করেছেন। পর্যালোচনার এই প্রক্রিয়ায় স্থান-দেয়া বারোটি নাটককে সাজানো হয়েছে দুটো পৃথক পরিচ্ছেদে। ‘বিভাগোত্তরকালের নাটক’ শিরোনামের প্রথম পরিচ্ছেদে আলোচিত হয়েছে দেশ-বিভাগের পরে এবং মুক্তিযুদ্ধের পূর্ববর্তী সময়ে রচিত পাঁচটি নাটক : ‘মানচিত্র’ (১৯৬৩), ‘এ্যালবাম’ (১৯৬৫), ‘প্রত্যাশা’ (১৯৬৭), ‘ছায়াহরিণ’ (১৯৬৮) এবং ‘যখন সুরভী’ (১৯৬৯)। অন্যদিকে ‘স্বাধীনতা-উত্তরকালের নাটক’ শিরোনামের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে বিশ্লেষিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে রচিত ‘যেখানে সূর্য’ (১৯৭৪), ‘চেহারা’ (১৯৭৯), ‘তবু অনন্য’, ‘নীলকমল’ (১৯৮৬), ‘তারা ঝরার দিন’, ‘বলাকা অনেক দূরে’ এবং ‘রজনী’ শীর্ষক সাতটি নাটক। প্রতিটি নাটক বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নাটক রচনায় নাট্যকারের প্রবণতা ও স্বাতন্ত্র্য, উপস্থাপিত নাট্যকাহিনির প্লট-বিন্যাস ও ঘটনা-পরিপ্রেক্ষিত, চরিত্র-পরিচয় এবং চরিত্র-সৃজনের যৌক্তিকতা সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা, চরিত্রানুগ সংলাপ তৈরির কারিশমা, ভাষা-শৈলী ও অলংকার উপস্থাপনের অভিনবত্ব অত্যন্ত সহজ-সরল ভাষায়, অথচ সুগভীর বিশ্লেষণী দৃষ্টি দিয়ে পর্যালোচনা করেছেন গবেষক। এ-গ্রন্থ সম্পর্কে গ্রন্থের ‘প্রস্তাবনা’ অংশে গবেষণাকর্মটির তত্ত্বাবধায়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর গিয়াস শামীম যথার্থই বলেছেন “... এ-গ্রন্থে আনিস চৌধুরীর জীবনের বিভিন্ন পর্যায় সনিষ্ঠ আন্তরিকতায় বিশ্লেষণ করেছেন লেখক। বিশেষত পারিবারিক ঐতিহ্য, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, আকাঙ্ক্ষিত কর্মপরিসর এবং অনুকূল সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিবেশ তাঁর জীবন ও মানস গঠনে কতটুকু কার্যকর ও ফলপ্রসূ হয়েছে তা তথ্যপ্ রমাণযোগে বিশ্লেষণ করেছেন তিনি। সর্বমোট বারোটি নাটকের পর্যালোচনাসূত্রে তিনি দেখিয়েছেন, আনিস চৌধুরী মূলত মধ্যবিত্ত জীবনের নিপুণ রূপকার এবং সমকাল-পরিসরে তিনি ছিলেন দলছুট ও স্বতন্ত্র। প্রকৃতপক্ষে আনিস চৌধুরীর নাট্যবিষয়ে প্রণীত এ-গ্রন্থ বাংলাদেশের গবেষণা-সাহিত্যে একেবারেই অভিনব। ইতঃপূর্বে তাঁর সমগ্র নাট্যবিষয়ে মূল্যায়নধর্মী একটি প্রবন্ধও রচিত হয়নি। সেই বিবেচনায় এই গবেষণাকর্ম নিঃসন্দেহে তাৎপর্যবহ। গবেষণা-অভিসন্দর্ভ প্রণয়নে লেখক তাঁর সর্বোচ্চ অভিনিবেশ প্রয়োগ করেছেন; প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তযোগে সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। বক্তব্যবিন্যাসে ও বিশ্লেষণে তিনি ছিলেন পূর্বাপর তথ্যনিষ্ঠ ও বিশ্লেষণধর্মী। আমার বিবেচনায় বাংলা সাহিত্যবিষয়ক ‘গবেষণায় আনিস চৌধুরীর নাকট : জীবন ও শিল্প’ একটি প্রশংসনীয় কাজ।”   অধ্যাপক ডক্টর গিয়াস শামীম-এর সাথে সহমত প্রকাশ করে বলা যায়, গবেষক মীর হুমায়ূন কবীর-এর “আনিস চৌধুরীর নাটক : জীবন ও শিল্প” প্রকৃতবিচারেই বাংলা সাহিত্যবিষয়ক গবেষণায় একটি প্রশংসনীয় কাজ। নাট্যকার আনিস চৌধুরীর জীবন-পরিসর, নাট্যদৃষ্টি ও নাট্যকর্ম বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে গবেষকের স্বতন্ত্র অনুসন্ধিৎসু শ্যেনচক্ষু সর্বত্রই সজাগ থেকেছে। লেখক: সহযোগী সম্পাদক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি গবেষণা পত্রিকা (বাংলা ও ইংরেজি)          e-mail: [email protected]

যে প্রবন্ধগুলো রয়েছে ‘কবি শহীদ কাদরী ও অন্যান্য প্রবন্ধ‘ প্রন্থে

তান্ত্রিকগণ। আটটি প্রবন্ধের একটি বৃক্ষ। তবে এটি কোনো একজাতীয় বৃক্ষ নয়। এর রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রের ডালপালা। রয়েছে বাংলা এবং বিশ্বসাহিত্যের গুণিনদের উপস্থিতি। রয়েছে তাঁদের কাজ এবং অবস্থানের কথা। প্রতিটি রচনায় আমি সময়কে ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। এই সময় হয়তো একদিন নতুন সময়ের হাতে তার উত্তরাধীকারের স্বীকৃতি দেবে। বাংলা গদ্য সাহিত্যে এমন কাজ প্রচুর রয়েছে। তাই প্রায় প্রতিটি প্রবন্ধে আমি প্রেক্ষাপট এবং রচনার ভাষাভঙ্গী ও রীতি প্রয়োগে স্বকীয় অবস্থান চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছি। বাকিটুকু পাঠক আবিস্কার করে নিতে পারবেন। ‘যাদুরবংশীবাদক মার্কেজ‘। ল্যাটিন আমেরিকান সাহিত্যের অন্যতম প্রধান লেখক গার্বিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ এর সাহিত্য কর্মের বিষয়ে রচিত এই প্রবন্ধ। ম্যাজিক রিয়েলিজমের এই যাদুকরকে আমি নানান দিক থেকে আলো ফেলে দেখার চেষ্টা করেছি। তাঁর লেখক জীবনের সূচনা থেকে শেষ পর্যন্ত যেসব রচনা তিনি রেখে গেছেন, প্রায় প্রত্যেকটি লেখা ও সময়কে ধরার চেষ্টা করেছি। উঠে এসেছে মার্কেজের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক চিন্তা ও দর্শন। আমি মনে করি এই প্রবন্ধে পাঠক একসাথে পেয়ে যাবেন তাঁকে। যে কোন পাঠক মার্কেজকে পাঠের পূর্বে এই প্রবন্ধ পাঠ করলে তাঁর রচনা বুঝতে অনেক সহজ হবে বলেও মনে করি। কেননা যে কোন সাহিত্যিকের বই পাঠের পূর্বে তাঁকে চেনা এবং তাঁর পারিপার্শ্বিক পরিবেশ-প্রতিবেশের সাথে পরিচিত হওয়া জরুরি বলে মনে করি। ‘তখন টেড হিউজ অন্য নারী শয্যায় ছিলেন‘। ব্রিটিশ কবি টেড হিউজ এবং আমেরিকান-ব্রিটিশ কবিসিলভিয়া প্লাথ সম্ভবত ইংরেজি সাহিত্যের সবেচেয় বেশি আলোচিত নিজেদের ব্যক্তিগত এবং সাহিত্যের কারণে। আত্মবিধ্বংসী কবি সিলভিয়াপ্লাথের মৃত্যুর এতো বছর পরও রহস্যের খোলস উন্মোচনে এখনো চলছে আলোচনা-সমালোচনা। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ওরসেস্টার কলেজের শিক্ষক, গবেষক স্যার জোনাথন বেট, ‘টেড হিউজ: দি আনঅথরাইজড লাইফ‘ নামে এই গ্রন্থ রচনা করেছেন। গ্রন্থটি ২০১৫ সালের ৮ অক্টোবর প্রকাশিত হয় (আমার রচনাটি এই গ্রন্থ প্রকাশের কয়েকদিন পূর্বে রচিত)। সেখানে তিনি সিলিভিয়া প্লাথ আত্মহত্যার সময় স্বামী টেড হিউজ কোথায় ছিলেন এবং সেই মুহুর্তের দৃশ্য উপস্থাপন এবং তা নিয়ে আলোকপাত করেছেন। গ্রন্থটি প্রকাশের আগেই ব্রিটেন, আমেরিকাসহ পুরো বিশ্বে আলোচনার ঝড় ওঠে। তারই প্রেক্ষাপট আমার আগ্রহের স্থান। ইংরেজি সাহিত্যের প্রভাবশালী এই দুই কবি সব সময় আমার আগ্রহের কেন্দ্রে ছিলো। সেজন্যেই এ রচনায় আমি প্রসঙ্গের সাথে তুলে এনেছি আরো বিস্তারিত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একমাত্র ইংরেজি কাব্যগ্রন্থ ‘স্ট্রে বার্ড‘স‘ এর চায়না অনুবাদ নিয়ে তুমুল বিতাণ্ডা শুরু হয়েছিলো একবার। গ্রন্থটির অনুবাদ করেছিলেন চীনের তরুণ লেখক ফ্যাং টাং। তাঁর রচনার প্রেক্ষাপটে আমার প্রবন্ধ ‘ তীব্র সমালোচনায় রবীন্দ্রনাথের স্ট্রে বার্ড‘স এর চায়না অনুবাদ‘। এই অনুবাদ গ্রন্থ নিয়ে ব্রিটেন-আমেরিকা থেকে শুরু করে ভারত-চীনসহ পুরো বিশ্বে সমালোচনা চলে। তবে এ নিয়ে বাংলাদেশে সমালোচনা তো দূরে থাক বেশ কয়েকজন তুখোড় সাহিত্যকর্মীর সাথে আলোচনা করে বুঝি তারা এ বিষয়ে কিছুই জানে না। ব্রিটেনের দি গার্ড়িয়ান, ডেইলী মেইল, ডেইলি টাইম, বিবিসি থেকে শুরু করে আমেরিকার প্রভাবশালী পত্রিকাগুলো এ নিয়ে মেতে ওঠে। বাংলাদেশে একমাত্র দৈনিক সমকাল এর ‘কালোর খেয়া‘ তে আমার এ সংক্রান্ত প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয়। প্রবন্ধটি প্রকাশের পর অনেকেই বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চান। সেই আগ্রহ থেকেই প্রবন্ধটি এই গ্রন্থভুক্ত করলাম। ‘নীলপদ্মের উদ্যান জিংকি বয়েস‘। নোবেল বিজয়ী বেলারুশের সাংবাদিক সেটলানা আলেক্সিয়ভিস এর রিপোর্টিংধর্মী উপন্যাস ‘জিংকি বয়েস‘ বিষয়ে আমার এই প্রবন্ধের অবতারণা। ২০১৫ সালে তাঁর নোবেল বিজয়ের পর পরই এটি রচনা করি। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানের যুদ্ধক্ষেত্র এই উপন্যাসের পটভূমি। তাতে যুদ্ধবিরোধী এই সাংবাদিক মানবিকতা ভুলণ্ঠিত হওয়ার দৃশ্য তুলে এনেছেন অনুপুঙ্খ। সাংবাদিকের চোক যখন ঔপন্যাসিকের চোখ হয়ে ওঠে তখন দৃশ্য কেমন হয়, সেই বিষয়টি উঠিয়ে আনার জন্যই আমার এই রচনা। আমি কবি আবুল হাসান-এর রচনাকে সব সময় বুকে আগলে রেখেছি। এখানে সেখানে চিরিকুটের মত অসংখ্য কথা তাঁকে নিয়ে লিখেছি। এই গ্রন্থভুক্ত প্রবন্ধ ‘অনন্তযাত্রার কবি আবুল হাসান‘ সম্ভবত পূর্ণাঙ্গ রচনা। তাঁকে নিয়ে অসংখ্য রচনা রয়েছে। তবে কোন রচনা আমার দেখার দৃষ্টির সাথে এক নয়। আমি আবুল হাসানকে পাশ্চাত্যের আলো ফেলে নতুনভাবে আবিস্কার করেছি। এতে করে আমি আবারো বুঝতে পেরেছি সব ভাষার কবিতার সুর কিন্তু এক। এর চিন্তা, দর্শনও এক। কেবল কবির ভৌগোলিক অবস্থান ভিন্ন। এটি আবুল হোসেনকে দিয়ে আমি আবিস্কার করেছি। শহীদ কাদরী দীর্ঘ প্রবাস জীবনের কবি। রচনার বহর খুব বেশি নয়, কিন্তু জনপ্রিয়। তাঁকে নিয়ে রচিত আমার প্রবন্ধ ‘পাখি জীবনের কবি শহীদ কাদরী‘। এতে আমি মূলত বলতে চেয়েছি নতুন কোন কবিতা রচনা না করার ভেতর দিয়ে কবি কিভাবে কাব্য রচনা করে গিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে আমি বলতে চেয়েছি একজন কবি সব সময় কবিতা রচনা করেন। এমন কি কবি মৃত্যুর পরেও কবিতা রচনা করেন। অনেকেই বলে থাকেন শহীদ কাদরী প্রবাস জীবনে তেমন কোর কবিতা রচনা করেন নি। এই কথাটিকে আমি ভুল প্রমাণ করেছি। বলেছি তিনি কখনো কাব্য রচনা থেকে বিরত থাকেন নি। এটি গভীর নীরিক্ষণের বিষয়। কবি শামীম আজাদ এর কাব্যগ্রন্থ ‘জিয়ল জখম‘ নিয়ে আমার রচনা ‘দীর্ঘ সহবাসের জিয়ল জখম‘। কবির অনেকগুলো কাব্যগ্রন্থ থেকে আমি বিশেষ কারণে এটি নির্বাচন করেছি। আমার মনে হয়েছে এখানে কবি শামীম আজাদ নিজেকে মেলে ধরেছেন। এখানে তিনি চিন্তা, ভাষা, দর্শন, পারিপার্শ্বিকতা, প্রকৃতি নিয়ে নতুন কাব্যভাষা তৈরি করেছেন। কবি বিলেতে অবস্থান করেন বলে তাঁর কাব্যভঙ্গি যে নতুন বাঁক নিতে দেখেছি তাকে তুলে ধরার জন্যই আমার এই রচনা। বহুমাত্রিক জ্যোতির্ময় হুমায়ূন আজাদ বিষয়ে আমার রচনা ‘তান্ত্রিক হুমায়ুন আজাদ‘। এতে হুমায়ুন আজাদ এর সাথে আমার ব্যক্তিগত স্মৃতিতর্পণের মাধ্যমে তুলে এনেছে তাঁর অভিব্যক্তিক চেহারা। যেখানে একজন হুমায়ুন আজাদকে আমি দেখেছি বাংলা সাহিত্যের একজন প্রভাব বিস্তারি ব্যক্তিত্ব হিসেবে। সম্ভবত হুমায়ুন আজাদই একমাত্র সাহিত্যিক যাঁর মধ্যে কোনো রকম রাগঢাক ছিলো না। তিনি স্পষ্টভাষী এবং চিন্তুক। আমার এই প্রবন্ধের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে তাঁর রাজকীয় চেহারা উপস্থাপন করতে চেয়েছি।   লেখক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক টিকে

সাধনা ও পরিশ্রম

সাধনা ও পরিশ্রম ব্যতীত জগতে কোনো উন্নতি হয় না। কপালের জোরে লক্ষ টাকা পাবে-এ কখনও বিশ্বাস করো না। যে – কোনো কাজই করো না, সম্যক পারদর্শিতা লাভ করতে হলে বহু বছর সাধনা করতে হবে। ছোট নগণ্য ক্ষুদ্রকে ঘৃণা করো না। ক্ষুদ্রের সাহায্যেই বিরাটের সুষ্টি। ক্ষুদ্র মুহূর্তগুলি কাজে লাগালে জীবনে সোনা ফলাতে পারবে। রাতারাতি কেউ বড় মানুষ হয় না। হঠাৎ কোনো সুবিধা কারো হয় না। হলেও তা বিশ্বাস করে নিজেকে দুর্বল করো না। যারা কাপুরুষ তারাই ভাগ্যের দিকে চেয়ে থাকে। পুরুষ চায় নিজের শক্তির দিকে। তোমার বাহু, তোমার মাথা তোমাকে টেনে তুলবে- তোমার কপাল নয়। একদিন দুইদিন করে জীবনের দীর্ঘ সময় চলে যাচ্ছে-জগতে যারা বড়, তাঁরা অপচয় সহ্য করবেন না। ওয়াট যে-সময় দোকানে বসে বেঁচাকেনা করতেন, সেই সময় তিনি রসায়নশাস্ত্র ও জার্মান ভাষা আলোচনা করে উভয় বিষয়েই পন্ডিত হয়েছিলেন। তুমি এ কথা শুনে হয়তো বিস্মিত হবে- স্টিফেনস ইঞ্জিনে কয়লা যোগাতেন আর অঙ্ক করতেন। যত সময় তুমি হাসিগল্পে ও ঠাট্টায় কাটিয়ে দাও তার ভিতর থেকে বেশি নয়, এক ঘন্টা সরিয়ে রাখো। সমস্ত দিনে রাতেও মাত্র এক ঘন্টা যদি তুমি কোনো কোনো বিষয়ে আলোচনা কর- দেখতে পাবে দশ বছর পরে তুমি একজন বড় পন্ডিত হয়েছে। বন্ধু ও সঙ্গীদের কাছে তোমার সম্মান বেড়েছে। হয়তো তুমি সমস্ত জগতের ইতিহাস জেনে ফেলেছ- অঙ্কশাস্ত্রে প্রভূত পান্ডিত্য লাভ করেছ, একজন বিখ্যাত হোমিওপ্যাথিক চিবিৎসক হয়ে পড়েছ কিংবা অর্থসহ সমস্থ কোরআন শরিফ বা গীতাখানা মুখস্থ করে ফেলেছ। ডাক্তার ডারউইন বেড়াবার সময়েই তাঁর অধিকাংশ বই লিখতেন। ডাক্তার বার্নে গান শিখাবার জন্য যখন এক ছাত্রের বাড়ি ছেড়ে অন্য ছাত্রের বাড়িতে যেতেন, তখন তাঁর সাথে দেখা যেত ফরাসি ও ইতালীয় ভাষার ব্যাকরণ। এক উকিলের কেরানি বাসা থেকে অফিসে যাবার পথে শিখেছিলেন গ্রিক ভাষা। ভাত খেতে ডাকলে ডিজুসে সব সময়েই দেরি করতেন। তার মানে, সে সময় তিনি বই লিখতে । খাবার আগের সময়টুকু ও বিনা কাজে ফেঁসে যেতে দিতেন না কামার ইলিহু বুরিট দোকানঘরের ঠকঠকির মাধ্যে বসে আধুনিক ও পুরাতন ত্রিশটি ভাষায় পন্ডিত হয়েছিলেন। পথে যদি ৫০০ টাকা পাও, তাহলে তোমার আনন্দের সীমা থাকে না। সময়রুপ অমূল্য রত্ন তোমার পায়ে জড়িয়ে পড়েছে, সেদিকে তোমার ভ্র ‍ুক্ষেপ নাই। মানুষের কাছে টাকা চাও, সে তোমাকে ঘৃণা করবে। সময় সম্পদ নিয়ে তোমার দরজায় দাঁড়িয়ে দয়া করে তার রত্ন উপহারগুলি গ্রহণ কর। কতকগুলি যুবক বাক্সটারের কাছে দেখা করতে যেয়ে বলেছিল-মহাশয়. আমাদের ভয় হচ্ছে, আপনার সময় নষ্ট করছি। অভদ্র(?)জ্ঞানী বাক্সটার বললেন-নিশ্চয়ই। জ্ঞানী যাঁরা তাঁরা নিরন্তর সময়ের প্রান্তর হতে মণি-মুক্তা কুড়িয়ে নিচ্ছেন। তুমি আমি সুযোগের আশায়, সময় নাই বলে বা দারিদ্র্যের মিথ্যা অজুহাতে বোকার মতো দাঁড়িয়ে আছি। কাজ কর-কাজ কর- সব অবস্থায় সকল সময় -কোনো কাজ কর, তার ফল পাবে। প্রথম প্রথম হয়তো তোমার পরিশ্রম সার্থক হবে না, তাতে নিরাশ হয়ো না। বিখ্যাত সাহিত্যিক এডিসন স্পেকটেটর লিখে গৌরব অর্জন করবার আগে বস্তা বস্তা কাগজ লিখেছিলেন। সেইগুলি অকেজো ঘরের মধ্যে পড়ে থাকলেও , সেইসব রাবিশ লেখার ভিতরেই তাঁর গৌরব –উন্নতির ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত ছিল। **লেখাটি ডা. লুৎফর রহমানের উন্নত জীবন গল্পগ্রন্থ সংকলিত।

একুশের তথ্যভাণ্ডার

পাচার করে পাচারকারী পালালো দূর দেশে, পুলিশ-রাজা সুযোগ বুঝে ধরলো তাকে শেষে। ক্রাইম ঘটিয়ে ক্রিমিনাল তুই যেখানেই যাস ভাই, `একুশের চোখ`- এর নজর থেকে মিলবে না রেহাই।   টেকনোলোজি ফার্স্ট হয়েছে, রিমোট টিপে ঘরেই বসে- জানতে পারবে কোন গ্রহ উঠেছে কোন মহাকাশে।   বিজনেস যদি করতে চাও, তাও করতে পারো- `ই-কমার্স` হেল্প করবে, চিন্তা এখন ছাড়ো। ঘরেই বসে ` আউট সোর্সিং` কেমন করে হয়! টেকনোলোজির কাছে এসব ইম্পসিবল নয়।   সরল সঠিক পুণ্য পথে গড়তে জীবন বিধান, জিজ্ঞাসাতেই পাবে ধর্মের সঠিক সমাধান।   ইন্টারেস্টিং ক্রিকেট ম্যাচে সাকিব মারে ছয়, পল্টু মিয়া খাটেই বসে বলে ` বাংলা জয়`। `লাইফস্টাইল` দেখে খোলো জীবনের নতুন ফাইল, `ইটিভি ভ্রমণ` দেখে ঘুরে আসো পৃথিবীর শত মাইল।   `এন্টারটেইনমেন্ট` দেখো সুযোগে, অবসরে শুনো গান, `ইটিভি স্বাস্থ্য` দেখে গড়ে তুলো জীবনের প্রাণ। পাহাড়-চূড়ায়, কুটির ঘরে তোমার বসবাস তবুও একুশে টিভি পুরায় তোমার মনের আশ।   লেখক : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী। / এআর /

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি