ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ মে, ২০১৮ ১০:২৯:১১

অভিনেত্রী তাজিন আহমেদের অপ্রকাশিত সাক্ষাৎকার

অভিনেত্রী তাজিন আহমেদের অপ্রকাশিত সাক্ষাৎকার

‘আমরা কিন্তু বেশ মৃত্যু নিয়ে উৎসবমুখর জাতিতে পরিণত হচ্ছি। অথচ মূল্যবান জীবিত মানুষটা ভুলে হোক, অভিমানে, অবহেলায় হোক, হারিয়ে গেলে খুঁজি না একবারও! সময় কোথায়! অথচ হাঁটা চলা মানুষটার জন্য একটু থমকে দাঁড়ালে, একটু ভাবলেই কিন্তু নড়ে চড়ে দম ফেলে সে। জীবিত অবস্থায় একটা ছবি দিয়ে যদি এমন নিউজ হতো, এই ধরেন- ‘তুখোড় অভিনেত্রী ছিলেন তাজিন, এখন দেখছি না কেন।’ আবার ধরেন, ‘একটা ফোন করে কেউ যদি বলে উঠতো, ‘তুমি কই, তুমি ছাড়া এই চরিত্র কেউ করতে পারবে না, আসো তো!’ আমার বিশ্বাস বেঁচে উঠতো এমন অনেক তাজিন/মিতারা। কেউ সেটা করবে না কোনোদিনই। কারণ তখন সমাজ এবং পরিবারের গল্প থাকতে হবে, সংলাপ থাকতে হবে, প্রকৃত শিল্পী লাগবে! শিল্পের খোঁজ হবে পুরাদস্তুর। দরকার কি এসবের? পুরনো পাতাটা কেবল সাহস করে ছিঁড়ে ফেললেই ব্যস, ল্যাটা চুকে যায়। এখন নাটকে মিতা, তাজিনদের লাগে না, কিছু অসাধারণ কাজিন আর চড়া মূল্যের পেছনে ভুলে যাওয়া, কিছু অর্বাচীন হলেই হলো! শিল্পী ছাড়াই শিল্পের বড্ড বেশি জয়জয়কার। কথা কোনো একজন তাজিনের নয়। অসংখ্য তাজিনরা বিলুপ্ত হচ্ছে নিদারুন উদাসিনতায়। আমরা বেশ বিবেক কে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে টক শো’র বিবেকের ভূমিকায় দিব্যি অভিনয় করে যাচ্ছি! শুনছেন কি আপনারা! সময়ের কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হবে! এ দায় যে আপনার, আমার সবার।’ ওপরের এই কথাগুলো অভিনেত্রী শাহনাজ খুশির। অভিনেত্রী তাজিন আহমেদের অকাল মৃত্যুতে তিনি ক্ষোভ মিশ্রিত এই মন্তব্য করেছেন। কাছের মানুষ বলেই তিনি এমনটি বলতে পেরেছেন। সত্যিই তাই আমরা জানিনা বা জানার চেষ্টাও করিনা, দেশের অসংখ্য গুণি শিল্পী নিজের কষ্ট নিয়ে অকালে এভাবেই চলে যায় অনেক অভিমানে। সম্প্রতি একুশে টিভি অনলাইনের সঙ্গে কথা হয় অভিনেত্রী তাজিন আহমেদের। সেই সময় তিনি মনের কষ্ট ও অভিমানগুলো প্রকাশ করেন শৌল্পিক বক্তব্যে। যে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিনোদন প্রতিবেদক- সোহাগ আশরাফ। প্রয়াত এই গুনি শিল্পীর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে অপ্রকাশিত সেই সাক্ষাৎকারটির কিছু অংশ তুলে ধরা হলো- ইটিভি অনলাইন : আমরা আপনার অভিনয় দেখেছি। অসাধারণ অভিনয় করে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন আপনি। আজও সেই অবস্থানটি দর্শকদের মাঝে রয়েছে। কিন্তু সেই তাজিনকে কেনো আমরা নিয়মিত টেলিভিশনের পর্দায় দেখছি না? তাজিন আহমেদ : আমি আসলে খুব বেশি কাজ এক সঙ্গে করতে অভ্যস্থ নই। করতেও চাই না। কারণ যা কিছু আজ করছি সব কিছুই হচ্ছে আমার জীবনের জন্য। আর জীবন মানেই হচ্ছে আমার পরিবার। সেই পরিবার আর জীবনকে উপেক্ষা করে কোন কিছুই করতে চাই না। পরিবারটা আমার একটা বড় জগৎ, সেটাকে অবহেলা করতে চাই না। ইটিভি অনলাইন : অভিনয়ে কি আবারও নিয়মিত হবেন? তাজিন আহমেদ : অভিনয় আমার ভালো লাগার একটা জায়গা। লোভের একটা জায়গা।  এখনও যে কাজ করছি না তা নয়। করছি, করব। যতদিন আমার শরীর, আমার মানসিক অবস্থা সাপোর্ট করবে ততদিন পর্যন্ত আমি অভিনয় করে যাবো। একটু কমিয়েছি, অত ব্যস্ত আর কখনও-ই হবো না। তবে খুব মনযোগ দিয়ে একটা কাজ আবার শুরু করছি। মানে আমার লেখালেখিটা করতে যাচ্ছি। নির্দেশনায় যাচ্ছি। অনেক আগে নির্দেশনা দিয়েছি। কিন্তু ওই সময় মনে হলো যে না আমার আরও অনেক কিছু শেখার আছে। আমাদের কে মানুষ একটা সেক্টরে খুব ভালোভাবে চেনে। তাই অন্য সেক্টরে কাজ করতে গেলে একটু যত্ন নিয়ে তবেই করতে হবে। মিডিয়ার অনেক বন্ধু আমাকে বলছে যে শুরু করো। করতে করতে এক সময় পারবে। ইটিভি অনলাইন : গত বছর আপনার একটা ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখে পত্র-পত্রিকায় বেশ কিছু নিউজ হয়েছিল। আত্মহত্যা নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন আপনি। বিষয়টি একটু খুলে বলবেন? কোন প্রকার হতাশা থেকেই কি আপনি এটা দিয়েছিলেন? তাজিন আহমেদ : বিষয়টি খুলেই বলি। আসলে ওই বিষয়টি কেউই বোঝেনি। বোঝার চেষ্টাও করেনি। একজন নারী সাংবাদিক লিখেছিলেন নিউজটা। তিনি হয়তো এমন সব নিউজের অপেক্ষাতেই থাকেন। শ্রদ্ধা রেখেই বলছি- এটা কোন সাংবাদিকতার মধ্যেই পড়ে না। উনি যদি ভালো করে লেখাটা পড়তেন, কমেন্টগুলো দেখতেন তবে বুঝতে পারতেন। আমি ওই জায়গাটা অনুধাবন করেছি, তার মানেই এই না যে- আমি সুইসাইড (আত্মহত্যা) করছি। আশপাশে কিছু ঘটনা আছে না যে- যাদের নাম মুখে বলতে পারছি না, কিন্তু আমার তো বয়সটা বেড়েছে, চিন্তাভাবনাও কিছুটার পরিবর্তন হয়েছে। আশেপাশের কিছু পরিচিত মানুষদের দেখছিলাম, একজন সম্প্রতি এমনভাবে মারাও গিয়েছে, সে আত্মহত্যা করেছে, সবকিছু মিলিয়ে আমি আসলে অনুধাবন করছিলাম একটা মানুষ কোন পর্যায়ে গেলে এমন কাজ করতে পারে। আমরা কেউই আত্মহত্যাকে সাপোর্ট করি না। কিন্তু কোন পর্যায়ে গেলে একটা মানুষ আত্মাহত্যা করে এটা আগে বুঝতাম না। এখন বুঝি ওই মানুষটার মানসিক অবস্থা কতটুকু শক্ত থাকে বা থাকে না যার কারণে সে এমন কাজ করতে পারে। যেটা আগে বুঝতাম না, এখন বুঝি। আমার জীবনে কিন্তু অনেক ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। উত্থান, পতন সবই হচ্ছে। তারপরেও প্রতি নিয়ত আমি ফাইট করে যাচ্ছি। আমিও কিন্তু ভেঙে পড়ি। আমার একজন ঘনিষ্ট বন্ধু আছে যে আমাকে অনেক সাহস যোগায়। সে বলে- এখানেই শেষ নয় জীবন। আমার মা-ও বলে-এখানেই শেষ না। আমার মা যদি এই বয়সেও যুদ্ধ করেত পারেন এবং প্রতিটা মুহুর্ত ফেস করার মানষিকতা থাকে, তার বয়স ৬৯+, সেখানে আমি কেনো পারবো না? ভেঙে পড়ি, আবারও নিজেই নিজেকে দাঁড় করাই। জীবনতো একবারের জন্যই। শেষ হয়ে গেলেই তো শেষ। দেখি না কি হয়! সব কিছু ফেস করে জীবনের শেষটা দেখি কি হয়? ইটিভি অনলাইন : মাঝে আমরা রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমে দেখিছি। আপনি কি রাজনীতিতে অংশ নিতে চাচ্ছেন? তাজিন আহমেদ : না, না, না। কিছু দিনের জন্য যোগ দিয়েছিলাম। ববি হাজ্জাজ আমার পরিচিত। ওনার সঙ্গে কিছু কাজ করেছিলাম। তখন উনি আমাকে বলেছিলেন আমাদের হয়ে কিছু কাজ করেন না! আমি তখন জানতে চাই কি ধরণের কাজ? তখন সে বলে-পলিটিক্স। আমি বললাম- পলিটিক্স তো বুঝি না। তখন সে বললো যে, আপনি আপনার সেক্টরেই কাজ করবেন। সাংস্কৃতিক আন্দোলন। তখন বললাম যে- ঠিক আছে। তাকে বললাম- আপনাদের নীতি কেমন? কি নীতি নিয়ে কাজ করেন? আমি একটা বিশ্বাস করি। সেই বিশ্বাসের বিপরীতে কিছু হলে আমি করবো না। তখন সে বললো- না সেরকম কিছু না। আমরাও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ। অন্যরা যেভাষায় বলছে আমরা হয়তো ভিন্নভাবে বলছি। যেমন ধরুণ- আমরা জয় বাংলা বলবো না, আমরা বলছি- ‘জয় বাংলাদেশ’। তখন কিছু কিছু বিষয় মনে হলো যে না ঠিক আছে। তখন ভাবলাম জীবনে আর কয়দিন বাঁচব? আজ আমি যে জন্য তজিন আহমেদ হতে পেরেছি, সেই জায়গাটার জন্য যদি আমিও কিছু করতে পারি, কোন একটা জায়গা, কোন একটা প্লাটফর্ম বা আন্দোলন করা যায়, যেটা আমাদের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে। সবাইকে নিয়ে যদি কিছু করা যায় মনে হয় খুব ভলো হয়। সেই চিন্তায় তাদের সঙ্গে কাজের আগ্রহ দেখাই। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে হঠাৎ মনে হলো- না বিষয়টার মধ্যে পলিটিক্যাল অন্যে বিষয়গুলো বেশি চলে আসছে। আরাম পাচ্ছি না। আমি আবার এরকম যে খুব মুডে চলি। ব্যাটে বলে মিললো না ধুপ করে ছেড়ি দেই। আর এটা সবাই জানে। (হেসে বললেন) আমাকে নিয়ে কেউ কাজ করতে গেলে সবাই প্রথমে জিজ্ঞাস করে- কি মাথা ঠাণ্ডা রেখে করবা তো? তারা বলে যে- তুমি যখন শুরু করো পাগলের মত খেটে করো, তবে কেনো হুট করে তোমার পাগলামী হয়? তখন তাদের বলি ওই যে- ব্যাটে বলে মেলে না। এরপর থেকে আর রাজনীতির পথে নেই। তবে ওনারা অনেক ভালো মানুষ। যোগাযোগ আছে। অনেকের সঙ্গেই ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তবে ভবিষতে যে করব না তা বলছি না। সেরকম ভালো জায়গা পেলে করতেও পারি। এসএ/ এসএইচ/
মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে: বেনজীর

মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ ও র‍্যাবের বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে সারাদেশে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনার পর মাদকের বিরুদ্ধে রীতিমত ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। ইতোমধ্যে পুলিশ ও র‍্যাবের কথিত ‘ক্রসফায়ার’ নিহত হয়েছেন প্রায় ১৫ জন মাদক ব্যবসায়ী। মাদক বিরোধী অভিযান সম্পর্কে ইটিভি অনলাইনকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারের র‌্যাপিড অ্যাকশ ব্যাটালিয়ান (র‍্যাব)-এর মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ বলেন, মাদকের অবস্থা অন্তত সহনীয় পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত এ যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আউয়াল চৌধুরী এবং শাওন সোলায়মান। ইটিভি অনলাইন: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর মাদক বিরোধী অভিযানে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আগের যেকোন সময় থেকে অনেক বেশি তৎপর দেখা যাচ্ছে। এই তৎপরতার ব্যাপকতা কেমন? বেনজীর আহমেদ: মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের বাহিনীগুলোর কার্যক্রম সবসময়ই অব্যাহত থাকে। তবে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর তা নতুন মাত্রা অর্জন করেছে। আমি ইতোমধ্যে বিষয়টিকে মাদকের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে ঘোষণা করেছি। আমার কাছে এটি একটা যুদ্ধের মতোই। যে যুদ্ধে আমরা জিততে চাই।   ইটিভি অনলাইন: এই যুদ্ধকে আপনারা কোন পর্যায়ে নিয়ে যেতে চান? কোন পর্যন্ত চলবে মাদকের বিরুদ্ধে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযান? বেনজির আহমেদ: কোন পর্যায়ে পর্যন্ত গেলে খুশি হন আপনারা?  অর্ধেক পর্যন্ত গেলে খুশি হবেন-নাকি ২৫ শতাংশ পর্যন্ত গেলে খুশি হবেন আপনারা? তবে এমনটাতে আমি খুশি হব না। এটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকলে আমি খুশি হবো। একটা সমাজ থেকে একদম তো মাদক উঠিয়ে নেওয়া যাবে না। উইথ আউট মাদক (মাদক ছাড়া) হয় না। কিছু না কিছু থাকবে। তবে তা একটি সহনীয় সীমার মধ্যে থাকতে হবে। দুইশ বছর আগের মানুষও মাদক দ্রব্য সেবন করেছে। অনেকে তো ধর্মীয় আচারের মধ্যেই মাদক সেবন করেন। পৃথিবীর কোন দেশই একেবারে মাদকবিহীন নয়। তবে তা অবশ্যই সহনীয় পর্যায়ের মধ্যে থাকতে হবে। সহনীয় পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলতে থাকবে। ইটিভি অনলাইন: একটা অভিযোগ সবসময়ই আসে যে, যতই অভিযান হোক মাদক ‘সম্রাটেরা’ ধরা ছুঁয়ার বাইরে থেকে যায়। এবারের অভিযানে কী মাদক সম্রাটদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে? বেনজির আহমেদ: আমি তো কোন ‘মাদক সম্রাট’ দেখি না। সম্রাটের মুকুট কোথায়? তার চেয়ারটা কোন জায়গায়? ক্রিমিনাল ইজ এ ক্রিমিনাল (অপরাধী অপরাধীই)। এসব আসলে আমরাই বানাই। আমরাই বানাই ‘মক্ষীরানী’; আমরাই বানাই ‘মাদক সম্রাট’। আমাদের চোখে তারা অপরাধী। সম্রাট কীসের আবার? একটা অপরাধীকে বড় বড় বিশেষণে ভূষিত করা ঠিক না। আমাদের কথা এই যে, আমরা যাকে পাব তাকেই দমন করব। আমদের নীতি হচ্ছে “যেই হোক, যাই হোক আর যেখানেই হোক”। তার বিরুদ্ধেই এই যুদ্ধ। ইটিভি অনলাইন: বিরোধী দল একটি অভিযোগ করেছে মাদক বিরোধী অভিযানের নামে তাদেরকে দমন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আপনি কী বলবেন? বেনজির আহমেদ: তারা রাজনীতি করে। তারা অনেক কিছুই বলবে। তারা কি বলেছে না বলেছে আমি জানি না। আমি রাজনীতি করি না। তাই এ বিষয়ে আমি কিছু বলব না। আমি শুধু আমরা দায়িত্ব পালন করবো।   ইটিভি অনলাইন: দেশের ভিতর না হয় মাদক যুদ্ধ চলল। কিন্তু দেশের বাইরে থেকে যে মাদক আসছে তা নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে? বেনজির আহমেদ: বর্ডার (সীমান্ত) দিয়ে মাদক আসা তো বন্ধ করতেই হবে। সমস্ত শক্তি দিয়ে বন্ধ করতে হবে। আমাদের যত ক্ষমতা আছে সব প্রয়োগ করতে হবে। অনেক দেশই তার প্বার্শবর্তী দেশের মাদক ব্যবসা দ্বারা আক্রান্ত। তারা সবাই কী বন্ধ করতে পেরেছে? তবুও আমাদেরকে কাজ করতে হবে। আমরা সে বিষয় নিয়েও ভাবছি। ইটিভি অনলাইন: মাদক ব্যবসার সাথে পুলিশ সদস্যদের জড়িত থাকার বিষয়ে এখন জানা যাচ্ছে। এমন পুলিশ সদস্যদের বিষয়েও ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বহাল থাকবে? বেনজির আহমেদ: মাদক নির্মূলে পলিসি (নীতি) কী হবে তা তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীই বলে দিয়েছেন। সেটাই পলিসি। আমরা শুধু সেগুলো ইমপ্লিমেন্ট (বাস্তবায়ন) করব মাত্র। আর মাদকের সাথে জড়িত সবাই ঐ পলিসির মধ্যেই আসবে। সে যেই হোক। এসএইচএস/টিকে

কোটা সংস্কার দাবি যৌক্তিক, দ্রুত সুরাহা হওয়া উচিত: ঢাবি ভিসি

যেকোনো অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করবে, এটাই স্বাভাবিক। আন্দোলন করার অধিকার সবার আছে। তবে আন্দোলনের জন্য যেন ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত না করে সেদিকে সবার নজর রাখতে হবে। কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে একুশে টিভি অনলাইনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। তিনি মনে করেন কোটা সংস্কার দাবি যৌক্তিক। এই দাবির প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমর্থন আছে। দ্রুত এর সমাধান হওয়া উচিত। তার কথায় উঠে এসেছে কোটা সংস্কার আন্দোলনের যৌক্তিকতা, শিক্ষার্থীদের দাবির ন্যায্যতা, শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানসহ নানা দিক। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন একুশে টিভি অনলাইন প্রতিবেদক তবিবুর রহমান।

প্রত্যয়ী হলেই লক্ষ্যে পৌঁছা সম্ভব: পনির হোসেন

সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে তিনি। চাচার একটি ফিল্ম ক্যামেরা হাতে শখ করে ছবি তুলতেন বন্ধুদের সাথে। এরপর একটু বড় হলে পারিবারিক অনুষ্ঠানের ছবি তুলতেন। ছেলেটি যখন ছবি তুলতেন পরিবারের কেউ তেমন পছন্দ করতো না। ছবি তুলে কিছু হয় নাকি! অনিশ্চিত ভবিষ্যত। কী দরকার `অকাজে` সময় নষ্ট করার! সেই ছেলেটিই এবার জয় করেছেন `পুলিৎজার`। `পুলিৎজার` কে বলা হয় সাংবাদিকতার `নোবেল`। না বললেই নয়, স্বাধীন বাংলাদেশে তিনিই একমাত্র পুলিৎজার জয়ী। ছেলেটির নাম মো. পনির হোসেন। পড়াশুনা করেছেন ঢাকা সিটি কলেজে ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে। ফটো সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন সংবাদ সংস্থা রয়টার্সে। সম্প্রতি বিশ্ব আলোচিত রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে তোলা ছবির জন্য পুলিৎজার পেলেন মো. পনির হোসেন। একুশে টেলিভিশন অনলাইনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পনির জানালেন, কোন কাজে পরিশ্রম যেমন অপরিহার্য তেমনি লক্ষ্য অটুট রেখে লেগে থাকাও আবশ্যক। তিনি আরো বিশ্বাস করেন `করবো` ও `করবোই` এক কথা নয়। কোনো লক্ষ্য নির্ধারণ করলে সেখানে যদি `ই` প্রত্যয় যোগ হয় তাহলে লক্ষ্যে পৌঁছা সম্ভব। পনির এসময় আরো বলেন, জার্নালিজম বা ফটো জার্নালিজম যাই হোক, যে ইস্যু নিয়ে কাজ করা হবে সে বিষয়ে ভালো পড়াশোনা ও প্রস্তুতি দরকার। কাজটা কঠিন না। ভালো পড়াশোনা থাকলে কাজটার মাধ্যমে কী বলা দরকার বা কী বলতে চাই তা তুলে আনা সম্ভব। তবে এটা ডকুমেন্টারি বা স্টোরির জন্য প্রযোজ্য। স্পট নিউজের জন্য না। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইনের প্রতিবেদক আলী আদনান। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: একটা বয়সে শিশুরা ছবি আঁকে, ছড়া লিখে, ক্রিকেট বা ফুটবল খেলায় উৎসাহী হয়। আপনার হাতে ক্যামেরাও কী সেভাবে এলো? মো. পনির হোসেন: না। আমি তখন ক্লাস সেভেনে পড়ি। বাসায় পত্রিকা এলো ছবিগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতাম। ধীরে ধীরে জানতে পারলাম বা বুঝতে পারলাম এই ছবি তোলার কৃতিত্ব ফটোগ্রাফারদের। তারা ক্যামেরা নিয়ে ঘুরে। ন`টা পাঁচটা অফিস করতে হয়না। বেড়াতে পারে। খুব মজার পেশা। তখন থেকে আস্তে আস্তে আমার মাথায় ফটোগ্রাফি গেঁথে যেতে থাকে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: তখন কী পত্রিকায় ছবি পাঠানোর চেষ্টা করেছেন? মো. পনির হোসেন:  না, না। আমার দৌঁড় ছিল তখন পরিবারের বিভিন্ন অনুষ্ঠান। সেখানে ছবি তোলার সুযোগ পেতাম। তখন আমার কোনো ক্যামেরা ছিলনা। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে চাচার বাসায় থাকতাম। তার একটা ক্যামেরা ছিল। ফিল্ম ক্যামেরা। বন্ধুরা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে গেলে ছবি তুলতাম। আমি প্রথম ডিএসএলআর হাতে পাই ২০১০ সালে। নিজের কেনা নয়। এক আঙ্কেল এটা গিফট করেছিলেন। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: প্রফেসনাল ফটোগ্রাফি করছেন কবে থেকে? মো. পনির হোসেন:  প্রফেসনাল ফটোগ্রাফি বলতো যা বুঝায় তা করছি ইটালির ফটো এজেন্সি নূর ফটো এজেন্সি ও ইউএসএ- এর জুমা পেসে কাজের মধ্য দিয়ে। ২০১৫ সাল থেকে। তবে সেটা হচ্ছে ফ্রিল্যান্স। আনুষ্ঠানিকভাবে আমি প্রফেসনাল হই রয়টার্সে কাজ শুরু করার মধ্য দিয়ে। সেটা ২০১৬ সাল। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: যদি আপনাকে প্রশ্ন করা হয়, পৃথিবীতে এতো কাজ থাকতে ফটোগ্রাফি করছেন কেন? মো. পনির হোসেন:  আমি সমাজ পরিবর্তন করবো বা আমার ছবি দিয়ে বড় কোন হৈ চৈ হবে, এমন চিন্তা আমার কখনোই ছিলনা। ফটোগ্রাফি করছি এক ধরণের ভালো লাগা থেকে। কর্পোরেট জবে ন`টা পাঁচ`টার অফিস করতে হয়। বন্দী জীবন। ফটোগ্রাফিতে আমি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছি। পাশাপাশি চ্যালেঞ্জ আছে। নিজেকে বিকাশ করার সুযোগ আছে। নিজের মতো করে কাজ করার সুযোগ আছে। আমার পড়াশুনা নর্থ সাউথে। খুব ভাল রেজাল্ট আমার ছিলনা। ভাবলাম, এই রেজাল্টে জব করতে গেলে খুব ভালো করতে পারবো না। তাই নিজের মতো করে কিছু করা দরকার। একুশে টেলিভিশন অনলাইন:  যাত্রাটা শুরু হলো কীভাবে? মো. পনির হোসেন: ২০১৪ সালে আমি কাউন্টার ফটোতে একটা প্রোগ্রাম করি। ২০১৫ সালে আমি সিদ্ধান্ত নিই, আমি ফটোগ্রাফী নিয়ে কাজ করবো। নিজের সাথে নিজের যোগ বিয়োগে আমি বুঝতে পারি আমাকে দিয়ে ফটোগ্রাফি হবে। তখন আমি ইটালির নূর ফটো এজেন্সি ও ইউএসএ-এর জুমা প্রেসে আমি কন্ট্রিবিউটর হিসেবে কাজ শুরু করি। এটা কোনো চাকরী না। কন্ট্রিবিউটর। ওরা মূলত ফটো এজেন্সি। ছবি তুলে পাঠানোর পর বিক্রি হলে কমিশন পাওয়া যায়। এটা দিয়ে খুব বেশি আয় হয়না। নিজের খরচ চালানো যায়। তবে আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন:  ছবির বিষয় কীভাবে নির্ধারণ করতেন? মো. পনির হোসেন: আমার প্রথম ছবি বিক্রি হয় তিন মাস পর। তিন মাস আমার কোনো ছবি বিক্রি হয়নি। ছ`সাত লাগে কোনো ধরণের ছবি বেশি বিক্রি হবে সেটা বুঝতে। আমি বুঝতাম না ক্রেতারা কোন ধরনের ছবি চায়। আসলে আমি কিছুই বুঝতাম না। কাজ করতে করতে বুঝতে হয়েছে। ধাক্কা খেয়ে খেয়ে শিখতে হয়েছে। এটা সত্যি আমি আমার মতো করে শিখেছি। অন্যরা হয়তো তাদের মতো করে শিখবে। সব ধরণের ছবি স্টকে রাখা ভালো। যার স্টক যতো বেশি, তার কদর ততো বেশি। কাগজে আমি নোট করতাম। ধরুন ফেস্টিভ্যাল। বাংলাদেশে যতোগুলো ফেস্টিভ্যাল হয় সব ফেস্টিভ্যালের ছবি স্টকে রাখতাম। বা প্রাণী। সবপ্রাণীর ছবি স্টকে রাখা। যেনো চাইলেই পাওয়া যায়। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: রয়টার্সে যোগ দেওয়ার আগে কী আপনার ছবি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে? মো. পনির হোসেন:  হ্যাঁ, অনেক। গার্ডিয়ান, ওয়ার্ল্ড স্ট্রীট জার্নাল, নিউইয়র্ক টাইমস, টাইম ম্যাগাজিনে আমার ছবি রোজই ছাপা হতে থাকে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: রয়টার্সে নিয়োগ পেলেন কীভাবে? মো. পনির হোসেন: এটা কাকতালীয় ব্যাপার। রয়টার্সে আমি যার অধীনে কাজ করি তিনি আহমেদ মাসুদ। একজন আফগান নাগরিক। তখন তিনি ইন্ডিয়ার চিফ ফটোগ্রাফার ছিলেন। এখন তিনি এডিটর ইন চার্জ। রয়টার্সের এশিয়া পিকচার্স বিভাগ। উনি আমাকে প্রথমে ফেসবুকে নক করেন। প্রথমে আমি বুঝিনি যে তিনি রয়টার্সে কাজ করেন। পরে আলাপ আলোচনার পর তিনি আমাকে কাজ করার জন্য প্রস্তাব দেন। আমি জানাই, যদি রয়টার্স হয় তাহলে আমি এটা সুযোগ হিসেবে নেব। এরপর ইন্টারভিউর পর আমার জয়েনিং হয়। ২০১৬ সালের জুলাই মাস। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা বলুন। মো. পনির হোসেন: ২০১৬ সালে যখন প্রথম ৮০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসে তখন আমি সেখানে প্রথম যাই। ২০১৭ সালে আমাদেরকে এ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হয়। তখন আমরা গুন্দম এলাকায় যাই। ওখানে প্রথমে বর্ডার গার্ডের টহল, বাঙ্কার, বিজেবি এসব ছবি আমরা তুলি। ক্যাম্পে যাওয়ার পর আমরা গোলাগুলির শব্দ শুনি। এরপর গাড়ি নিয়ে আবার সেখানে যাই। তখন দেখি কাঁটাতারের বেড়ার ওদিক থেকে কয়েক`শ রোহিঙ্গা আসছে। বর্ডার গার্ড আমাদের ওখানে যেতে দেয় না। ফলে ওখান থেকে আমার টেলিলেন্স দিয়ে যতোটুকু কাভার করা যায় সেভাবেই ছবি তুলি। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: পুলিৎজারের জন্য ছবিটা কী আপনি জমা দিয়েছিলেন? মো. পনির হোসেন: না, পুলিৎজারের প্রথম শর্ত হলো, ছবিগুলো অবশ্যই আমেরিকার কোনো প্রিন্ট অথবা অনলাইন মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে এমন হতে হবে। আমার ছবিগুলো আমার অফিস জমা দিয়েছিল। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আপনার ছবি জমা দেওয়া হয়েছে বা আপনি পুলিৎজার পেতে পারেন এমন কোনো ধারণা কী আপনার ছিল? মো. পনির হোসেন: জমা দেওয়া হয়েছে জানতাম। জমা দেওয়ার আগে আমার মতামত নেওয়া হয়েছিল। পুলিৎজার পাবো কী পাবো না তা নিয়ে কনফার্ম ছিলাম না। রাত একটার দিকে ইউটিউবে ঢুকি। সেখানে পুলিৎজারের একটা চ্যানেল আছে। সেখানে ফার্স্টে এনাউন্স করা হয়, " রয়টার্স টিম হেন ওউন..."। তবে আমি দ্বিধাগ্রস্থ ছিলাম। সেখানে আমার নাম আদৌ আছে কিনা। তখন আমি বারবার পুলিৎজার ওয়েবসাইট বারবার রিফ্রেশ দিচ্ছিলাম। রাত দেড়টার দিকে আমার বস আমাকে ফোন দেন। সাধারণত তিনি কখনো এতো রাতে আমাকে ফোন দেননা। গুরুত্বপূর্ণ এ্যাসাইনমেন্ট হলে ভিন্ন কথা। তার ফোন দেখে আমি আশান্বিত হই। একুশে টেলিভিশন অনলাইন:  অনুভূতি কী? মো. পনির হোসেন: (অশ্রুসজল চোখে) কিছু কিছু অনুভূতি সবসময় ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। শুধু এটুকু বলি, আমি সারারাত ঘুমাতে পারিনি। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আপনার আজ পর্যন্ত এই যে যাত্রা, কেমন সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন? মো.পনির হোসেন: গত পাঁচ সাত বছরে এই পেশাটা ধীরে ধীরে তরুণদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কিন্তু তার আগে যদিও বা ফটো সাংবাদিকতা ছিল বা ওয়েডিং ফটোগ্রাফিসহ নানা ধরণের ইভেন্ট ছিল তথাপি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ফটোগ্রাফি এখন যেমন জনপ্রিয় হচ্ছে সেটা আগে ছিলনা। আমার পরিবারও এ সম্পর্কে খুব ভালো ধারণা রাখেন না। ফলে তারা আমার কাজ নিয়ে কখনো উৎসাহী ছিলেন না। তারা চাইতেন ছেলে পড়াশুনা শিখেছে। চাকরি করবে। মাস শেষে বেতন পাবে। যেখানে একটা নিশ্চয়তা আছে। সব বাবা মা সেটা চায়। আমার বাবা মাও চাইতো। একুশে টেলিভিশন অনলাইন:  চলার পথে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন কেমন? মো. পনির হোসেন: আমি এখনো আমার নিজের টাকা দিয়ে ক্যামেরা কিনি নাই। দু`জন আমাকে দু`টো ক্যামেরা গিফট করেছেন। রাকিবুল হাসান নামে একজন ফটোগ্রাফার আছেন। তিনি আমাকে খুঁটি নাটি নানা বিষয়ে পরামর্শ দেন। বলা হয়নি, আমি ফটোগ্রাফির উপর ফিলিপাইন থেকে একটি অনলাইন কোর্স করি। সে ব্যাপারে তিনি পরামর্শ দিয়েছিলেন। একুশে টেলিভিশন অনলাইন:  ছবি তোলার জন্য কেমন প্রস্তুতি দরকার? মো. পনির হোসেন: জার্নালিজম বা ফটো জার্নালিজম যাই হোক, যে ইস্যু নিয়ে কাজ করা হবে সে বিষয়ে ভালো পড়াশোনা ও প্রস্তুতি দরকার। কাজটা কঠিন না। ভালো পড়াশোনা থাকলে কাজটার মাধ্যমে কী বলা দরকার বা কী বলতে চাই তা তুলে আনা সম্ভব। এটা ডকুমেন্টারি বা স্টোরির জন্য প্রযোজ্য। স্পট নিউজের জন্য না। কারণ, স্পট নিউজ কী হবে তা নিজেই জানিনা বা জানা সম্ভব না। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: এই মুহুর্তে কোন ইস্যু নিয়ে কাজ করছেন? মো. পনির হোসেন: রোহিঙ্গা ইস্যু এখনো শেষ হয়নি। প্রতি মাসে দু`একবার যেতে হয়। আরো কিছু আইডিয়া আছে। সেগুলো নিয়ে ভাবছি। প্রতি বছর আমাদের দু`একটা স্টোরি করতে হয়। আইডিয়া থাকলেই হয়না। সেটা বাজেটসহ অফিসকে জানাতে হয়। অফিস অনুমুতি দিলে কাজ শুরু করা যায়। একুশে টেলিভিশন অনলাইন:  নতুন যারা কাজ করছে তাদের জন্য বলুন। মো. পনির হোসেন:  আমি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে অনেককে পেয়েছি যারা ছবি তুলছে বা ছবি তুলতে আগ্রহী। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ হওয়ার পর যখন চাকরী জীবনে প্রবেশ করেন তখন আর কাজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি। এটা দুঃখের ব্যাপার। যে কোন কাজে লেগে থাকতে হয়। আপনি পুলিৎজার পেতে হবে এমন কোনো কথা নেই। কিন্তু কাজে লেগে থাকলে একটা ভালো ফলাফল অবশ্যই আসবে। এটা শুধু ফটোগ্রাফি নয়, যে কোনো কাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যে কোনো কাজে পরিশ্রম করতে হয় ও লক্ষে অটুট থাকতে হয়। লক্ষে ছাড় দিলে চলবে না। আরেকটা কথা না বললেই নয়। অনেক সময় আমরা বলি, আমি এটা `করবো`। আমি এটা `করবো` আর `করবোই` এক কথা নয়। আপনি যখন আপনার প্রতিজ্ঞায় `ই` প্রত্যয় যোগ করবেন তখন লক্ষ নিকটে চলে আসবে। লক্ষে পৌঁছা সহজ হয়ে যায়। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: স্বাধীন বাংলাদেশে আপনিই একমাত্র `পুলিৎজার` জয়ী। খুব অল্প বয়সে এমন অর্জন। বিষয়টা ভাবতে কেমন লাগে? মো. পনির হোসেন: দায়িত্বটা অনেক বেড়ে গেলো। আগে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে ছবি তুলতে পারতাম। পোস্ট করতে পারতাম। এখন সেটা পারছি না। যেহেতু গায়ে একটা `সীল` লেগে গেল, এখন মানুষের প্রত্যাশা বেড়ে গেল। স্বাভাবিকভাবেই তারা ভালো কিছু প্রত্যাশা করবে। হ্যাঁ, যারা ভালো বা বড় ফটোগ্রাফার তারা কী খারাপ ছবি তোলেনা? অবশ্যই তোলে। তবে যেসব ছবি মানসম্মত হয় না সেসব ছবি তারা পোস্ট দেয় না। তারা সেসব ছবিই পোস্ট বা প্রচার করে যা তাদের সেরা সৃষ্টি। আমার কাজটা কেমন হলো সেটা আমাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কাজটা যদি আমার কাছে ভালো লাগে তাহলে বুঝতে হবে মানুষের কাছেও ভালো লাগবে। আমার কাছে ভালো না লাগলে কারো কাছে ভালো লাগবে না। একুশে টেলিভিশন অনলাইন:  আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। এতো ব্যস্ততার মাঝেও আমাদের অনেক্ষণ সময় দিলেন। মো. পনির হোসেন: আপনাকেও ধন্যবাদ। ইটিভি অনলাইনের জন্য শুভকামনা।  টিকে

দেশে পরিণত অর্থনীতির বিকাশ ঘটছে: আনু মুহাম্মদ

স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীলের কাতারে বাংলাদেশের প্রবেশ, বিশাল এ অর্জনের পেছনে চ্যালেঞ্জ ও তা টপকানোর উপায়, জনসংখ্যার বোনাসকাল, বেকারত্ম, কর্মসংস্থান, ব্যাংকের ক্ষেলাপি ঋণসহ অর্থনীতির আরো সব অনুসঙ্গ নিয়ে একুশে টেলিভিশন অনলাইন মুখোমুখি হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে যাওয়ার আর একটা অর্থ হচ্ছে আমরা অপরিণত একটা অবস্থা থেকে পরিণত অবস্থার দিকে যাচ্ছি। সরকার যেভাবে পরিকল্পনা করছে, বড় বড় প্রকল্প যেভাবে বাঁছাই করছে, যেভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো দাঁড় করাচ্ছে, তাতে পরিণত একটা অর্থনীতির বিকাশ ঘটছে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইন প্রতিবেদক রিজাউল করিম। দুই পর্বের সাক্ষাৎকারের শেষ পর্ব আজ প্রকাশিত হলো- একুশে টেলিভিশন অনলাইন: স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ হয়েছে। এখন বাংলাদেশকে ৬ বছর পর্য্যবেক্ষণে রাখবে জাতিসংঘ। পর্য্যবেক্ষণকালে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেতে গিয়ে আমাদের কি ধরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা লাগতে পারে? আনু মুহাম্মদ: স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে যাওয়ার আর একটা অর্থ হচ্ছে আমরা অপরিণত একটা অবস্থা থেকে পরিণত অবস্থার দিকে যাচ্ছি। সরকার যেভাবে পরিকল্পনা করছে, বড় বড় প্রকল্প যেভাবে বাছাই করছে, যেভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো দাঁড় করাচ্ছে, তাতে পরিণত একটা অর্থনীতির বিকাশ ঘটছে। পরিণত অর্থনৈতিক উন্নয়ন মানে এমন একটি উন্নয়ন ধারা, যেটা দীর্ঘ্ মেয়াদে উন্নতির কথা চিন্তা করে। দীর্ঘ্ মেয়াদে এটা কতটা টেকসই হবে সেটা বিবেচনা করে প্রকল্প বাঁছাই করে। দীর্ঘ মেয়াদে দেশের মানুষের কী হবে, সেটা মাথায় রেখে পরিবেশের কথা চিন্তা করে। দীর্ঘ্ মেয়াদে মানুষের অধিকারের বিষয় কী হবে? সেটা চিন্তা করে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান তৈরি করে। দীর্ঘ মেয়াদে দেশের জনশক্তি কীভাবে কাজে লাগানো যায় সেটা চিন্তা করে। এসব বিষয়গুলো মাথায় রেখে আগামী ২০২৪ ও ২০২৭ সালে আমরা যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাব, সেটা মোকাবেলা করতে আমাদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। শিক্ষা ও চিকিৎসায় জনগণের যে প্রয়োজন, তার যে চাহিদা ও অধিকার সেটা নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের নির্বাচন থেকে শুরু করে আইন-বিচার বিভাগসহ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো একটা স্বাধীন জায়গাতে আনতে হবে। প্রকল্প বাঁছায়ের ক্ষেত্রে একটা স্বচ্ছতা থাকতে হবে, জবাবদিহি থাকতে হবে। এখন আমাদের দেশে রাস্তা ও সেতু যেটা নির্মাণ হচ্ছে, সেটা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয়বহুল। এতো ব্যয়বহুর প্রকল্প হাতে নেওয়ার অর্থ বিশ্বে আমাদের ভালো ভাবমূর্তি তৈরি করা।যে কাজ ভারত ১২ কোটি টাকা দিয়ে করে, চীন ৯ কোটি টাকা দিয়ে করে, আমেরিকা ১২ কোটি টাকা দিয়ে করে, সেই কাজ যদি বাংলাদেশ ৫০ কোটি টাকা ব্যয় করে, তবে বুঝতে হবে এখানে ফাঁক-ফোকর আছে। এ ফাঁক-ফোকর বন্ধ করতে হবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: বিশ্বের অন্য যেসব দেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল হয়েছে, তাদের কোনো অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ কাজে লাগাতে পারে কি না ? আনু মুহাম্মদ: আমাদের প্রথমে জিডিপির পেছনে না দৌঁড়ানোর শিক্ষা নিতে হবে।মনে রাখতে হবে জিডিপির প্রবৃদ্ধি মানেই উন্নয়ন না। প্রকৃত উন্নয়ন হচ্ছে জিডিপি প্রবৃদ্ধির সাথে সাথে মানুষ নিরাপদ পানি পাচ্ছে কী না? সে বিশুদ্ধ বাতাস পাচ্ছে কী না? সে শিক্ষা ও চিকিৎসা পাচ্ছে কী না? সে নিরাপদে জীবন-যাপন করে কী না? নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে কী না? তার খেলার জায়গাটা বা বিনোদনের ক্ষেত্র ঠিক আছে কী না? সেগুলো নিশ্চিত হওয়া। কেননা এগুলো উন্নয়নের প্রকৃত মাপকাঠি। এখন আমাদের জিডিপি বাড়ছে কিন্তু কর্মসংস্থান বাড়ছে না। তার মানে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হলেও তার সুফল আসছে না বা গুণগত মান মিলছে না।এ ক্ষেত্রে যদি আমরা ভুটানের কথা বলি তারা কিন্তু এলডিসি থেকে বের হয়েছে।তবে তারা শুধু জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে জোর দেয়নি। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: জনসংখ্যার বোনাস যুগ (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) অতিবাহিত করছে দেশ। এ সুযোগ বাংলাদেশ কতটা কাজে লাগাতে পারছে বলে আপনি মনে করেন? আনু মুহাম্মদ: তরুণ জনসংখ্যা আমাদের অনেক বেশি। এটা আমাদের জন্য একটা আশির্বাদ। পৃথিবীর অনেক দেশে এ সুযোগ নেই। যেমন যাপান। যাপানে বয়স্ক লোক বেশি। তারা তরুণদের পাচ্ছে না।ইউরোপের বহুদেশ আছে তারা বিপদের মধ্যে আছে।তাদের তরুণ জনসংখ্যার পরিমান খুব কম। তারা এখন বিদেশ থেকে মাইগ্রেশন অনুমোদন করে। ভিন্ন দেশের তরুণদের আমন্ত্রণ জানায় কাজের জন্য। এ ঘটনা কানাডা ও আমেরিকাতেও। পৃথিবীর এতোগুলো দেশ যেখানে তরুণ জনগোষ্ঠির অভাবে আছে সেখানে বাংলাদেশ নিজেরই অনেক তরুণ জনসংখ্যা আছে। এ জনসংখ্যা কাজে লাগাতে হলে শিক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।স্বাস্থ্য ও বিনোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া তাদের যথাযথ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। কর্মসংস্থানের জন্য প্রাথিষ্ঠানিক প্রক্রিয়াও বাড়াতে হবে। দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে প্রায় ৫ লাখ ভারত নাগরিক কাজ করে। এর পাশাপাশি শৃলঙ্কার লোকজনও কাজ করে। ইউরোপ ও আমেরিকার লোকও কাজ করে। কেন তারা কাজ করে? বাংলাদেশে যোগ্য লোক পাচ্ছে না, তাই তারা কাজ করে। তবে তো এতো তরুণ থাকাটা বোঝা হয়ে যাচ্ছে। বোঝা এ তরুণদের বেশিরভাগ আবার সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী। তবে বাংলাদেশের তরুণরা কেন কাজের যোগ্য হচ্ছে না? সহজেই বুঝে নিতে হবে আমাদের শিক্ষায় ঘাটতি আছে।আমাদের তরুণদের শিক্ষা দিলেও কর্মমুখী শিক্ষা হচ্ছে না। তরুণরা আবার চিকিৎসা দূর্বলতায় সঠিকভাবে কার্য সম্পাদনে সক্ষম হচ্ছে না। এছাড়া কর্মসংস্থান না হওয়ার কারণে সমাজে চিন্তার বিষয়টি প্রকট হচ্ছে। শতকরা ৮৫ ভাগের বেশি মানুষ এখন ইনফরমাল সেক্টরে কাজ করে। এটাকে বলা যায় কোন রকমে কিছু না কিছু করে বেঁচে থাকা। এ পরিস্থিতিতে বেকারদের মধ্যে একটা ক্ষোভও সৃষ্টি হচ্ছে। কারণ সে কাজ করেই খেতে চাচ্ছে অথচ পাচ্ছে না। এ সমস্যা সমাধানে তরুণদের যোগ্য করে তোলার প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। তাকে কাজের ক্ষেত্র তৈরি করে দিতে হবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আমাদের দেশে এতো শিক্ষিত যোগ্য লোক, অথচ পোশাক শিল্পসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় বিদেশি এক্সপার্টদের বেশি বেতনে আনা হচ্ছে। কেন আমরা সে জায়গাটা নিতে পারছি না? আনু মুহাম্মদ: আমাদের অনেক প্রতিষ্ঠান বিদেশীদের কর্মক্ষেত্রে নিয়োগ দেয়।কারণ তারা বিদেশেীদের ওপর বেশি আস্থাবোধ করে।এখন আমাদের সে আস্থার জায়গাতে যেতে হলে আমাদেরও দক্ষতা বাড়াতে হবে। আবার যারা ভাবে বিদেশিরাই ভালো পারে, তারাও হয়তো সবক্ষেত্রে ঠিক ভাবেন না। সে ক্ষেত্রে তাদের ধারণা বা দর্শনে পরিবর্তন আনতে হবে।সরকারকেও প্রতিষ্ঠানগুলোতে দেশি তরুণদের নিয়োগের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় রশদ জোগাতে হবে।যদি বিদেশি নিয়োগের ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রবণতা খুব বেশি হয়।তবে সেখানে সরকার প্রণোদনা দিতে পারে যে দেশী চাকরিজীবি হলে কোম্পানিকে এই এই সুযোগ দেওযা হবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ২৫ লাখেরও বেশি। বিবিএসের রিপোর্ট অনুযায়ী গত এক বছরে আরও ৮০ হাজার বেকার বেড়েছে। দেশের এই বিশাল জনশক্তিকে আমরা কেন কাজে লাগাতে পারছি না? কেন সর্বোচ্চ পর্যায়ের ডিগ্রি নেওয়ার পরও চাকরি মিলছে না? আনু মুহাম্মদ: আমদের ট্রেনিং ইনস্টিটিউটগুলোতে প্রয়োজনীয় প্রত্যেক খাতে ট্রেনিং থাকা দরকার আছে।যেমন আমাদের দেশে গাড়ীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে।কিন্তু গাড়ী চালকের প্রশিক্ষণের কোন ইনস্টিটিউট সেভাবে তৈরি হয়নি।গাড়ী চালকরা অর্ধশিক্ষিত এবং নিজে নিজে কোন রকমে শিখে চালক হচ্ছে।যার কারণে দেখা যাচ্ছে দূর্ঘটনার মাত্রাও বাড়ছে।তার মানে হচ্ছে, যে ধরণের কর্মসংস্থানের চাহিদা তৈরি হচ্ছে, সে চাহিদা অনুযায়ী যে ধরণের প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার, যে ধরণের প্রণোদনা দরকার, সেটা নেই।যার কারণে আমাদের দেশে অনেক প্রকৌশলী বেকার থাকে।তাদের কাজের সুযোগ বা প্রণোদনা নেই।কাজেই কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে, সে অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দিয়ে জনশক্তির দক্ষতা বাড়াতে হবে।তবেই বেকারত্ম কাটবে। এক্ষেত্রে সরকার বেসরকারি খাতকে কাজের ক্ষেত্র তৈরির মাধ্যমে কোন কোন খাতে কি পরিমান লোক লাগবে তার হিসেব বের করার দায়িত্ব দিতে পারে।এরপর সরকার সে অনুযায়ী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারে।আবার তরুণদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য বিশেষ প্রণোদনাও রাখতে পারে। অর্থাৎ সরকার ও বেসরকারী খাতের মধ্যে সমন্বয় করে কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের বোঝা- এ খাতটির জন্য যেন একটি অভিশাপ। যা কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। আসলে এ থেকে বেরিয়ে আসতে করণীয় কি হতে পারে? আনু মুহাম্মদ: ব্যাংক খাতে বড় বড় ঋণ খেলাপী যারা, তাদের তৎপরতা বন্ধ করতে সরকারকে আরো বেশি কঠোর হতে হবে।এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।যারা ঋণ খেলাপি তাদের বাড়তি সুবিধা না দিয়ে তাদের কাছ থেকে খেলাপির অর্থ আদায় করতে হবে।অধিকতর ঋণ দেওয়া বন্ধ করতে হবে।যে সমস্ত ব্যাংকগুলো দুষ্ট লোকদের দ্বারা পরিচালিত সে ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।ব্যাংকিং খাতে কোন ধরণের বিশৃঙ্খলা না সৃষ্টি হয় সেজন্য ব্যাংকিং রীতি-নীতিগুলো যথাযথ পরিপালনে জোর দিতে হবে। / এআর /      

পর্যটন শিল্পে রয়েছে অপার সম্ভাবনা: রাশিদুল হাসান

বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের রয়েছে অপার সম্ভাবনা। এদেশে প্রায় পাঁচশ’ ছোটবড় প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। অপার নৈসর্গিক সৌন্দর্য্য, প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক নিদর্শনসমৃদ্ধ বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প বিশ্বের ভ্রমণপ্রিয় মানুষকে আকৃষ্ট করছে। এ শিল্পের আরও বিকাশ দরকার। এতে করে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা যেমন ফুটে উঠবে তেমনি দেশের অর্থনীতির চাকাও দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবে। পর্যটন শিল্পে কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ রাশিদুল হাসান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইটিভি অনলাইন প্রতিবেদক তবিবুর রহমান।   ইটিভি অনলাইন : পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে আমাদের কী কী করণীয় আছে বলে মনে করেন?  ড. রাশিদুল হাসান : পর্যটন শিল্প যে আমাদের অর্থনীতির একটি বিশাল খাত হতে পারে- এ ধারণার বিকাশ ঘটে মূলত পঞ্চাশের দশকে। এরপর ১৯৯৯ সালে পর্যটনকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার পর্যটন কর্পোরেশনের মাধ্যমে এ শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের প্রকৃতিক সৌন্দর্য্যে বহু পরিব্রাজক এবং ভ্রমণকারী মুগ্ধ হয়েছেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য, সমৃদ্ধ ইতিহাস, বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতি আমাদের দেশকে একটি বহুমাত্রিক আকর্ষণ সমৃদ্ধ অনন্য পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করেছে। কিন্তু এ শিল্পে সমন্বয়হীন এবং দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা না থাকায়  তেমন বিদেশি পর্যটন টানতে পারছে না। আমাদের যে পর্যটননীতি আছে আমরা তার যথাযথ বাস্তবায়ন করতে পারছি না। এ খাতকে কীভাবে উন্নয়ন করা যায়- এ বিষয়ে সরকারি বা বেসরকারি কোনো ধরনের চিন্তা নেই। আমরা এখন পর্যন্ত যতটুকু পর্যটন খাতে উন্নতি লাভ করেছি, তার সবটুকু হয়েছে বেসকারিভাবে। এ শিল্পকে আগামীতে সম্ভাবনাময় করতে হলে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে হবে। কিন্তু সত্যি কথা হচ্ছে, এ খাত নিয়ে সরকারের যেভাবে কাজ করার কথা ছিলো, তা করেনি। তাছাড়া এ শিল্পেকে এগিয়ে নিতে একটি সুন্দর গাইডলাইন দরকার। আমাদের দেশে তারও সঠিক ব্যবস্থাপনা নেই। একজন পর্যটক কোনো সুন্দর স্থানে গিয়ে যদি তেমন গাইড লাইন না পায়, তাহলে তিনি কিভাবে বেড়াবেন? ইটিভি অনলাইন : পর্যটন শিল্পে কী কী প্রতিবন্ধকতা আছে বলে আপনি মনে করেন? ড. রাশিদুল হাসান : আমাদের দেশের পর্যটন শিল্পে সমন্বয়ের অনেক অভাব রয়েছে। এছাড়া দীর্ঘ পরিকল্পনা ও ভিশনের অভাব আছে। নিয়ম ও নীতিমালা থাকলেও তেমন বাস্তবায়ন নেই। সরকারি-বেসরকারিভাবে তেমন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। দক্ষ গাইডলাইনেরও অভাব রয়েছে। যারা আছে তাদের তেমন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। ফলে এ শিল্পে আমরা দক্ষমানব সম্পদ তৈরি করতে ব্যর্থ হচ্ছি। ট্যুরিজম ব্যবসায় যারা জড়িত, তারা এটাকে ব্যবসা হিসাবে দেখছে। এদের মধ্যে দায়বদ্ধতার বেশ অভাব রয়েছে। আমি একবার বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে একটি জায়গায় গিয়েছিলাম। একজন পর্যটক একটি চিপসের প্যাকেট ফেলে দিলে। এটি লক্ষ্য করল আমাদের সঙ্গে থাকা গাইডম্যান। তিনি বললেন, স্যার আপনি একটা চিপসের প্যাকেট এখানে ফেলেছেল। প্রতি বছর এখানে হাজার হাজার পর্যটক আসে। সবাই যদি একটি করে প্যাকেট ফেলে রেখে চলে যায়, তাহলে কি হবে একবার ভাবুন তো! ট্যুর অপারেটর যদি সচেতন হয়, তাহলে পর্যটকরাও সচেতন হবেন। এ কারণে ট্যুর অপারেটরদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা দরকার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ খাতের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিভিন্ন মেয়াদী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। এমনকি প্রশিক্ষণ, পর্যটক স্থানের পরিবেশ রক্ষা ও জনগণের সচেতনতার জন্য অনেক টাকা ব্যয় করে। সে তুলনায় আমাদের দেশ অনেক পিছিয়ে রয়েছে। আমাদের দেশে এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা নেই। আপনি ট্যুরিজমের প্রসার বাড়ালেন, কিন্তু পর্যটন স্থানগুলো পরিবেশ ঠিক রাখলেন না; এর ফলে ধীরে ধীরে পর্যটক আসা বন্ধ করে দিবে। এছাড়া এ শিল্পে এখনও বিদেশিদের মতো বিনিয়োগ করা হয় না। দেশীয়  বেসরকারি বিনিয়োগ ও সরকারি উদ্যোগও উল্লেখ করার মতো নয়। এছাড়া আমাদের এ শিল্পের সঙ্গে যারা সংশ্লিষ্ট, তাদের সমন্বয় আগে দরকার। দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা ও পর্যটন স্থানগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে পর্যটকদের ধরে রাখতে হবে। আমাদের দেশের ব্যবসায়ীদের সেবার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। তাহলে পর্যটকরা আমাদের দেশে বেশি দিন থাকবেন। এভাবেই ধীর ধীরে এ খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। ইটিভি অনলাইন :  এ শিল্পে যে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তা থেকে উত্তরণের উপায় কী ? ড. রাশিদুল হাসান : সরকারসহ বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানকে একটি দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নিতে হবে। বর্তমানে বিশ্বের অর্ধেক পর্যটক যাচ্ছে ইউরোপে। তবে ২০৫০ সাল নাগাদ ৫১টি দেশের পর্যটক আমাদের দেশে আসবে। তখন পর্যটন খাতের অবস্থা কী হবে, এ বিষয়ে সরকারি বা বেসরকারি সংস্থার কোনো দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নেই। এখন থেকে আমাদের এ বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে হবে। আগামী বছর আমরা কয়টা হোটেল করবো, কীভাবে করতে হবে, এ খাতে দক্ষ মানবসম্পদ কীভাবে তৈরি করা যায়- সেগুলো দেখতে হবে। বর্তমানে পৃথিবীর ৭ কোটি লোকের মধ্যে ১ কোটি হচ্ছে পর্যটক। আগামী ৫০ বছর পর ৪ কোটি ৫০ লাখ পর্যটক হবে। এখন যদি সঠিক পরিকল্পনা না গ্রহণ করি, তাহলে আমরা কিভাবে তাদের কাঙ্খিত সেবা দিতে পারবো। ট্যুরিজম বলতে, আমরা বুঝি অর্থনীতি ও পরিবেশ। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে সরকার বা আমাদের তেমন কোনো সম্পর্ক নেই। পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে আমাদের সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। ইটিভি অনলাইন : বর্তমান পর্যটন খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ কেমন? ড. রাশিদুল হাসান : বর্তমানে এ শিল্পে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ আছে। একজন পর্যটক এলে ৪ জনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। সেই হিসাবে যদি আমাদের দেশে ১ লাখ পর্যটক আসে তাহলে ৪ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এটাতো স্বাভাবিক হিসাব। আমাদের দেশের প্রায় ২২ লাখ লোক এ খাতে কাজ করেন। তবে এখানে দক্ষ লোকের অভাব রয়েছে। ইটিভি অনলাইন : বর্তমানে দেশে যে জনবল আছে, তা যথেষ্ট কিনা? ড. রাশিদুল হাসান :  আমাদের অনেক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ আছে। কিন্তু তেমন দক্ষ জনবল নেই। দেশের একটা দামী হোটেলে গেলে দেখা যায়, সেখানকার অধিকাংশ কর্মীই বিদেশি। এ খাতে মাত্র ২৫ শতাংশ বাংলাদেশি আর বাকিরা বিদেশি। কারণ আমরা জনবলকে তেমন দক্ষ করে তৈরি করতে পারছি না। ইটিভি অনলাইন : আমরা তেমন বিদেশি পর্যটক টানতে পারছি না কেন? ড. রাশিদুল হাসান : এর মূল কারণ হলো- আমরা তাদের চাহিদা অনুসারে সেবা নিশ্চিত করতে পারছি না। তাদের তেমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা দিতে পারছি না। বিদেশি পর্যটক আনতে হলে, আগে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে। এর পর দেখতে হবে কোন কোন দেশ থেকে বাংলাদেশে পর্যটক আসে। তাদের টার্গেট করে কাজ করতে হবে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করতে হবে। পর্যটন স্থানগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে উন্নতমানের হোটেল ও রেস্টুরেন্টের অভাব রয়েছে। যেগুলো আছে সেগুলোতেও সঠিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে। আকর্ষণীয় পর্যটন স্থানগুলোতে যাওয়ার জন্য অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত রাস্তাঘাট না থাকায় পর্যটকরা নিরুৎসাহিত বোধ করেন। আমাদের পর্যটন স্থানগুলো অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন। এগুলো ঠিক করে সঠিক সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করতে হবে। ইটিভি অনলাইন : ট্যুরিজম এ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টে শিক্ষার্থীরা কেমন কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে বলে আপনি মনে করেন? ড. রাশিদুল হাসান : ট্যুরিজম এ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টে থেকে যারা পড়াশোনা করে তাদের অধিকাংশই অন্য সেক্টরে চাকরি করছেন। অনেক শিক্ষার্থীর অভিভাবকরাও চান না তার সন্তান হোটেলে কাজ করুক। এছাড়া এখানে শুরুতে একটু কম বেতনে চাকরি করতে হয়। অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে অনেকেই এ খাতে আসতে চান না। এ শিল্পকে উন্নতি করতে হলে শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। ইটিভি অনলাইন : আমাকে সময় দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ? ড. রাশিদুল হাসান : আপনাকেও ধন্যবাদ। ইটিভি পরিবারের জন্য শুভকামনা রইল। [অধ্যাপক ড. সৈয়দ রাশিদুল হাসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক। গ্রিসের এথেন্স ইউনিভার্সিটি অব ইকোনমিক্স অ্যান্ড বিজনেস সায়েন্স থেকে পিএইচডি  করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।] /এআর/ 

আমিরাতের শ্রমবাজার সিন্ডিকেটে যেন হারিয়ে না যায়

দীর্ঘদিন ধরে আরব আমিরাতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার বন্ধ ছিল। আশার কথা হচ্ছে ছয়বছর ফের বাংলাদেশ থেকে শ্রমশক্তি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আমিরাত। সিন্ডিকেট কিংবা অন্য কোনো কারণে যেন মালয়েশিয়ার মত পরিস্থিতি আমিরাতে না হয়। সেদিকে মন্ত্রণালয় এবং সরকারকে আরও বেশি নজরদারি বাড়াতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন শ্রমবাজার নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি-বায়রার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আলী হায়দার চৌধুরী বাবলু। একুশে টেলিভিশন: অনেক দিন পরে আরব আমিরাতে কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে এটা আমাদের সকলের জন্য বিশেষ সুখবর। এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কি? আলী হায়দার চৌধুরীঃ আরব আমিরাতে কাজের সুযোগ সৃষ্টির জন্য প্রথমে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। একই সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সবাইকে।  আরব আমিরাত আমাদের অনেক বড় শ্রম বাজার। আমাদের  শ্রমবাজারে আরব আমিরাত এবং সৌদি আরব হচ্ছে সবচেয়ে  বড় মার্কেট। আমাদের দেশের লোকজন এই দুটি দেশকে কাজের জন্য বেশি পছন্দ করে। দীর্ঘ ছয়বছর এই শ্রমবাজার একেবারেই বন্ধ ছিল। এমইউ স্বাক্ষর হওয়ার পরে মানুষের মনে একটা স্বপ্ন জেগে উঠেছিল। আমাদের এজেন্সিগুলো অনেক দিন ধরেই বসে আছে। লোক পাঠাতে পারছিল না। নিঃসন্দেহে এটি একটি খুশির সংবাদ আমাদের সবার জন্য। একুশে টেলিভিশনঃ এর আগে মালয়েশিয়ার শ্রম বাজারও বাংলাদেশিদের কাজের নতুন সুযোগ সৃষ্টির কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখেনি। আমিরাতের ক্ষেত্রেও এই শঙ্কা থেকে যায় কি না? আলী হায়দার চৌধুরীঃ  গত ছয় থেকে সাত মাস ধরে একটা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল যে, শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়ার মত আমিরাতের মার্কেট না জানি সিন্ডিকেটের আওতায় চলে যায়। মালেশিয়ায় যারা এই সিন্ডিকেটে কাজ করে তারা বুঝি এটাকে গ্রাস করবে। আমি চাই এই গুঞ্জন থেমে যাক, মিথ্যা হোক। আমরা চাই না এই সরকারের আমলে আরেকটা সিন্ডিকেট হোক। সিন্ডিকেটের যে প্রভাব মার্কেটে পরেছে। বায়রার ১৩শ’ সদস্য। এরা প্রত্যেকে অনেক স্বপ্ন নিয়ে বসে আছে। আমাদের সরকার যেন কোন রকম  সিন্ডিকেটকে প্রশ্রয় না দেয়। মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে কোন রূপ সিন্ডিকেট প্রশ্রয় দেয় না। অর্থনীতির জন্য সিন্ডিকেট কোন গুরুত্ববহন করে না। বরং অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেয়। এই মালয়েশিয়ার কথা ধরুন, সেখানে এক লাখ যাক আর এক লাখ বিশ হাজার লোক যাক, আজ যদি মার্কেটটা ওপেন থাকতো তাহলে অন্তত দুই তিন লক্ষ লোক সেখানে চলে যেত। প্রত্যেক মানুষের একটা সক্ষমতা রয়েছে। এক মাসে কত লোক ডেপলয় করতে পারি, সেটা যদি সবাই মিলে করতাম তাহলে আরও বেড়ে যেত। এই অংকটুকু আমাদের সরকার এবং আমাদের মন্ত্রণালয়কে বুঝতে হবে। এইভাবে সিন্ডিকেটের আওতায় গেলে সরকার এবং মন্ত্রণালয়েরও সুনাম নষ্ট হবে। গুঞ্জনও শুরু হবে। আমাদের ফেয়ার মাইগ্রেশন নিয়ে, ডিসেন্ট ওয়ার্ক নিয়ে ইথিকাল ইকুপমেন্ট নিয়ে সারাদেশে তুমুল সমালোচনা শুরু হবে।   একুশে টেলিভিশনঃ যাদের সিন্ডিকেটের কারণে আমরা বাজার হারাতে বসেছি, যেখানে অনেক লোক যেতে পারত, যাদের অর্থে আমাদের রিজার্ভ সমৃদ্ধ হচ্ছে তাদের জন্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কতটুকু সমন্বয় করছে বলে আপনি মনে করেন? আলী হায়দার চৌধুরীঃ যারা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত তারা তো দেশের অর্থনীতির কথা চিন্তা করবে না। তারা তাদের উন্নতির কথা চিন্তা করবেন এই জন্য তো সিন্ডিকেট। শ্রম বাজার যদি উন্মুক্ত থাকতো  তাহলে তো সিন্ডিকেট খুব একটা ফ্যাক্টর হতো না। এই সেক্টরে যারা আছেন, বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি তাদের কথায় চিন্তা করতে হবে। সরকারের এই ক্ষেত্রে পলিসি কি? সেটা ভাবতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের পলিসি অত্যন্ত পরিস্কার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন,‘মাইগ্র্যান্ড উইথ ডিগনিটি’। আমাকে মিনিমাম মাইগ্রেশন খরচে যেতে হবে। আমাদের শ্রমিকেরা ভালো মজুরি পাই, তারা যেন ভালো আবাসন সুবিধা পাই, সুচিকিৎসা পাই সেটাই হবে আমাদের সরকারের উদ্দেশ্য । আমাদের সরকারের উদ্দেশ্য  কতিপয় লোককে সুবিধে দেওয়া নয়। আমাদের সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে পুরো রাষ্ট্র ব্যবস্থা নিয়ে।সমগ্র রাষ্ট্রের অর্থনীতি নিয়ে। সরকারের যদি নজরদারি থাকে তবে সিন্ডিকেট কিছুই করতে পারবে না। মালয়েশিয়া নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে, অনেক সমালোচনা হয়েছে, আমার মনে হয় সরকারের সুযোগ এসেছে এসব সমালোচনার জবাব দেওয়ার। একুশে টেলিভিশনঃ বিশটি ক্যাটাগরিতে আরব আমিরাতে লোক যাবে। ন্যূনতম  বেতন কাঠামো কতো হবে? এক্ষেত্রে বাংলাদেশের শ্রমিকরা পার্শ্ববর্তী দেশ নেপাল এবং ভারত থেকে পিছিয়ে পড়ছে কি না? আলী হায়দার চৌধুরীঃ নেপালের শ্রমবাজার আর আমাদের শ্রমবাজারের মধ্যে অনেক তফাৎ রয়েছে। আমাদের এই বাজার ১৯৭৬ সাল থেকে। নেপাল মাত্র ১০ বছর ধরে কাজ শুরু করেছে। সমঝোতা লেভেল তাদের অনেক ভালো ছিল বিধায় তারা অনেক ভালো করেছে। আমাদের কূটনৈতিক লেভেলটা একেবারেই যে খারাপ তা কিন্তু নয়। আমাদের সরকারের সুন্দর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য সৌদি আরবে শ্রম বাজার স্বল্প পরিসরে চালু হয়েছে। যেখানে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। তারা প্রথমে গৃহপরিচায়িকার জন্য লোক চেয়েছে। ১২টা ক্যাটাগরি দিয়ে আমরা সৌদি মার্কেটে ইন করেছি। দুই তিন মাস পরে পর্যায়ক্রমে শ্রমিক যাওয়া শুরু করেছে। আমাদের সচিব মহোদয় বলেছেন, এটা প্রথম পেইজ, পরবর্তীতে দ্বিতীয় পেইজে লোক যাওয়া শুরু করবে।এর মাধ্যমে আমাদের সাকসেস রেইট বাড়বে।  দ্বিতীয় চুক্তিতে আমাদের শ্রমিকেরা কীভাবে বাহিরে যাবে সেক্ষেত্রেও আলোচনা হবে। একুশে টেলিভিশনঃ অভিবাসন ব্যয় নিয়ে অনেক অভিযোগ রয়েছে । সেটাকে কেন সহনীয় পর্যায়ে আনা যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে আপনার অভিমত কি? আলী হায়দার চৌধুরীঃ অভিবাসন খরচ সহনীয় মাত্রায় আনতে হলে সরকার দূতাবাস, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একসঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। তাহলে এই খরচ কমানো যাবে। আইএলও কনভেনশনে আমরা স্বাক্ষর করেছি, অথচ ভারত অনুস্বাক্ষর পর্যন্ত স্বাক্ষর করেনি এই চুক্তিতে। খরচটা কিন্তু ওয়ান ওয়ে ট্রাফিক নয়। বাড়তি যে খরচ সেটা কিন্তু গরীব শ্রমিকের পকেট থেকে যাচ্ছে। এই সেক্টরে একসময় হাই মাইগ্রেশন ছিল। মন্ত্রণালয় থেকে যুক্তিযুক্ত মাইগ্রেশন খরচ নির্ধারণ করা হয়েছিল। যে খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে সেটা আধো কতোটুকু হচ্ছে, মনিটরিং হচ্ছে কি না সেটা খেয়াল রাখা উচিত। আইন করে সমাধানে আসা যায় না। আইন বেশি করলে খরচের খাতও বাড়ে। মন্ত্রণালয় যদি নজরদারি বাড়ায় তবে সেটা সমাধানযোগ্য। তাদের আইনগত অধিকার রয়ে গেছে আমাদের উপর নজরদারি বাড়ানোর। আমাদের মাইগ্রেশন খরচ কমানোর। বায়রার প্রতিটি সদস্য চায় মিনিমাম মাইগ্রেশন খরচ কমানোর। আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে শ্রমবাজারে স্বল্প খরচে বেশি সংখ্যক লোক পাঠানো। বেশি খরচ যুক্ত করে বিদেশে লোক পাঠানো আমাদের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণও বটে। একুশে টেলিভিশনঃ আমাদের শ্রমিকদের অভিযোগ রয়েছে, ভারতের শ্রমিকরা বিপদে পরলে দূতাবাস এবং কোম্পানির থেকে সুবিধে পায়, কিন্তু আমাদের শ্রমিকদের ক্ষেত্রে তার উল্টো চিত্র। এক্ষেত্রে আমরা কি করতে পারি? আলী হায়দার চৌধুরীঃ দেখুন, সৌদি আরবের কথা যদি ধরেন, সেখানে আমাদের বিশ লক্ষাধিক লোক রয়েছে, কিন্তু তাদের সেবা দেওয়ার জন্য আমাদের দূতাবাসে কতজন লোক আছে? ভারত এবং ফিলিপাইন এই ক্ষেত্রে কমিউনিটি সেবাটা নেয়। তারা সেখানে সোশ্যাল ক্লাব গড়ে তুলেছে। তারা তাদের কমিউনিটিতে বিষয়গুলি আলোচনা করে। যেটা আমাদের লোকজন করে না।বিদেশে শুধু লোক পাঠালে হবে না। তার সুখ-দুঃখের দায়িত্বটাও সরকারকে নিতে হবে। তাদের সমস্যাগুলি সঠিক জায়গায় পৌঁছে দেওয়াটা হচ্ছে আসল কথা। যদি আমরা পাঁচ হাজার শ্রমিক পাঠাই তার মধ্যে পাঁচজনের সমস্যা থাকতেই পারে। আমি এই পাঁচজনের সমস্যা সমাধান  দূর থেকে করতে পারব না। এখানে বসে বিদেশের সমস্যা সমাধান করা যায় না। এক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা নিতে হবে, দূতাবাসের সহযোগিতা নিতে হবে। শাস্তি দিয়ে কাজ আদায় করা যাবে না, সমাধানের পথে হাঁটতে হবে। একুশে টেলিভিশনঃ আরব আমিরাতের সুখবরটি যেন আমরা ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারি, দক্ষ শ্রমিক  যেন পাঠাতে পারি, এক্ষেত্রে সরকারের প্রতি আপনারা যদি কোনো পরামর্শ থাকে সেটা বলতে পারেন? আলী হায়দার চৌধুরীঃ সরকারের কাছে বিনীত নিবেদন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা  হিসেবে জাতির কাছে আমার কিছু দায়বদ্ধতা আছে। যে সমৃদ্ধ অর্থনীতির বাংলাদেশের স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু দেখেছিল তার বড় অংশ এই সেক্টর থেকে যেন আসে আমি সেটাই আশা করব।এই বিষয়গুলোর  প্রতি নজরদারি বাড়াতে হবে। শ্রম বাজার নিয়ে  সিন্ডিকেট করলে সরকারের দুর্নাম অবধারিত। তাই সরকারের কাছে বলবো কোন রকম সিন্ডিকেট নয়। সিন্ডিকেট ঠেকাতে পারলে এই খাতে আমাদের দেশ ভালো করবে। ভিডিও দেখুন... / এআর /

প্রযুক্তিতে দেশ-বিদেশে প্রচুর চাকরির বাজার তৈরি হচ্ছে

সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণার পর থেকেই দেশে তথ্য-প্রযুক্তির বিপ্লব চলছে। শুধু যে বাংলাদেশে তা হচ্ছে, তা নয়; সারাবিশ্বে এখন তথ্য-প্রযু্ক্তির বিপ্লব চলছে। তথ্য-প্রযুক্তির বিপ্লবের কারণে দেশে এবং বিদেশে প্রচুর চাকরির বাজার তৈরি হয়েছে। আর এ বাজার ধরতে পারলে বাংলাদেশ এ খাত থেকে সর্বোচ্চ আয় করতে পারবে। বাংলাদেশের তরুণদের সামনে তথ্য-প্রযুক্তির বিপ্লব একটি দুয়ার খুলে দিয়েছে। দেশীয় বাজারে কাজ করার মাধ্যমে দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তি হয়ে তারা ইউরোপ-আমেরিকাসহ উন্নত দেশগুলোতে গিয়ে কাজ করতে পারবে। এছাড়া দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আরও দক্ষতা অর্জন করে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও শক্ত অবস্থান তৈরি করবে। তবে এর জন্য দরকার সরকারের সহযোগিতা। পাশাপাশি তরুণদের প্রথাগত শিক্ষার বদলে গুণগত ও কারিগরি শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। আর এ জন্য কোয়ালিটির ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। সম্প্রতি একুশে টেলিভিশনের কাছে দেওয়া একান্ত সাক্ষাতকারে বিডি জবসের প্রতিষ্ঠাতা আ ক ম ফাহিম মাশরুর এসব কথা বলেন। ফাহিম মাশরুর দেশের প্রথম দিককার ইন্টারনেট উদ্যোক্তা। ই-কমার্স ব্যবসায় বাংলাদেশের অগ্রদূত। নিজ প্রতিস্থান তো বটেই তরুণদের চাকরির সুযোগ করে দিয়েছেন আরও হাজারো প্রতিষ্ঠানে। বেসিসের সাবেক এ সভাপতি আজ থেকে ১৮ বছর আগে কিছু বন্ধুদের নিয়ে বিডিজবস প্রতিষ্ঠা করেন। এটি বর্তমানে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় জব পোর্টাল। প্রতিদিন ১ লাখের বেশি লোক এই পোর্টাল ভিজিট করে। ২০ লাখের বেশি চাকরিপ্রার্থীর জীবন-বৃত্তান্ত এই প্ল্যাটফর্মে সংরক্ষিত আছে। গত ১৮ বছরে ১০ লাখেরও বেশি চাকরিপ্রার্থী বিডিজবসের মাধ্যমে চাকরি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির এই দিকপাল। এসএমই ফাউন্ডেশন আয়োজিত ২০১৮ সালের জন্য বর্ষসেরা উদ্যোক্তার (মাঝারি প্রতিষ্ঠান-সার্ভিস ক্যাটাগরি) পুরস্কার পেয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় এই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী। নিচে তার সাক্ষাতকারটির চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো- একুশে টেলিভিশন: তথ্য প্রযুক্তি খাতে আমাদের সম্ভাবনা কতটুকু? ফাহিম মাশরুর: তথ্য-প্রযুক্তির বিপ্লব শুরু হয়েছে দু থেকে তিন দশক হলো। এরই মধ্যে আমরা মোটামুটি একটা অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি। দেশে বর্তমানে হাজার দুয়েক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। এসব প্রতিষ্টানে প্রায় দুই লাখ শ্রমিক রয়েছে। বিশ্ব বাজারে দিনকে দিন এ খাতের গুরুত্ব বাড়ছে। বিশেষ করে আমাদের নিজেদের দেশেই রয়েছে ষোলো কোটি মানুষ। ষোলো কোটি মানুষের বাজারটাও ছোট নয়, এটা অনেক বড়। অন্যদিকে আমাদের রয়েছে শিক্ষিত তরুণ প্রজন্ম। এ জন্য আমাদের সম্ভাবনা শতভাগ। আর দেশীয় বাজারে প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো করতে পারলে, ক্রমান্বয়ে এগুলো দক্ষ হয়ে উঠবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে গিয়ে উন্নত দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারবে। একুশে টেলিভিশন:  বিপিও সামিট সম্পর্কে বলুন? ফাহিম মাশরুর: কিছুদিন আগেই হয়ে গেল বিপিও সামিট। হাজার হাজার শিক্ষার্থী সারাদেশ থেকে এসে সামিটে অংশ নিয়েছেন, এটা ইতিবাচক দিক। বিপিও সামিটে বলা হচ্ছে ১ লাখ লোক তৈরি হবে। চ্যালেঞ্জটা বুঝতে হবে। আমাদের তরুণদের গ্লোবাল স্কিলের দক্ষতা আছে কি না, তা দেখতে হবে। একটা ছেলে বা মেয়েকে প্রতিযোগিতা করতে হবে বিদেশের ছেলেদের সঙ্গে। বিপিও সামিটে আলোচকগণ এদিকটির প্রতি বেশি জোর দিয়েছেন। এ ছাড়া আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকেও আরও দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে। বিদেশি কোম্পানীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে স্থান করে নিতে হবে। একুশে টেলিভিশন: আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আমাদের প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা কতটুকু আছে? ফাহিম মাশরুর: দেশীয় কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে একটা স্থান করে নিয়েছে। তবে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে ভালোভাবে কাজে লাগাতে হলে আমাদের শিক্ষাখাতের দিকে নজর দিতে হবে। মনে রাখতে হবে আমাদের এডুকেশনাল সেক্টরের দিকে প্রচুর ঘাটতি রয়েছে। তরুণদের প্রচুর কোয়ালিটি ঘাটতি রয়েছে। আমরা বড় বড় টার্গেট করবো। কিন্তু সেই টার্গেট পূরণ করা কষ্ট হবে। তাই আমাদের একটা জায়গায় একমত হতে হবে যে আমাদের `কোয়ালিটি এডুকেশন`এনশিউর করতে হবে। কত নম্বারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, বা কতজনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, তা না দেখে আমাদেরকে কতজনকে কোয়ালিটি শিক্ষা, ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে, তার উপর জোর দিতে হবে। একুশে টেলিভিশন: যেহেতু আমাদের শিক্ষা প্র্রতিষ্ঠানগুলো বাজারমুখী শিক্ষা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে, সেখানে তরুণরা কিভাবে শিক্ষা লাভ করবে? ফাহিম মাশরুর: আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও দায়িত্ব নিতে হবে। এ ছাড়া বেসিস সরকারের এটুআই প্রকল্প ও বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় কাজ করে যাচ্ছে, তরুণদের প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া বেসিসের আওতাভূক্ত সহস্রাধিক প্রতিষ্ঠান তরুণদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে তরুণরা সহজেই কাজ শিখতে পারবে। আমাদের ঘরোয়া মার্কেটে নজর দিতে হবে। ষোলো কোটির মার্কেট অনেক বড় একটা মার্কেট। পাঠাওয়ের মত কোম্পানিগুলো নিজেরা কাজ করছে। তারা উবারের মতো কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেই এগিয়ে যাচ্ছে। তবে মনে রাখতে হবে, কোয়ালিটির ব্যাপারে কোনো কমপ্রমাইজ করা যাবে না। তরুণরা কাজ শিখবে দেশীয় বাজার থেকে। দেশীয় বাজারে কাজ করার পর তারা আন্তর্জাতিকভাবে দক্ষ হয়ে উঠবে। একুশে টেলিভিশন: এ খাতে আমাদের চ্যালেঞ্জটুকু কতটা? ফাহিম মাশরুর: আমাদের চ্যালেঞ্জর জায়গা হলো দক্ষ ও যোগ্য শ্রমিক তৈরি করা। এ ছাড়া আরেকটা বিষয় হলো আমাদের ব্রান্ডিং সমস্যা। বিশ্ববাজারে আমাদের ব্রান্ডিং ছড়িয়ে দিতে হবে। আমাদের কানেক্টিভিটি ছড়িয়ে দিতে পারিনি। আমাদের থ্রিজি এসেছে, ফোরজি এসেছে। কিন্তু তা শহর কেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। যে দামে শহরে ইন্টারনেট পাওয়া যাচ্ছে, সে দামে গ্রামে ইন্টারনেট পাওয়া যাচ্ছে না। গ্রাম ও শহরের মধ্যে ইন্টারনেটে সেবার বৈষম্য রয়েছে। আরেকটা বাধা হলো শুল্ক বাধা। সরকারকে ইনভেস্ট করতে হবে। টেলিকম কোম্পানিগুলোর উপর ডিপেন্ড করি, সেটা দ্বারা সমস্যার সমাধান সম্ভব না। তবে যে সমস্যাটার কথা আমরা বলছি না, তা হলো বাংলাদেশেরন মার্কেটে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের আধিক্য চলে আসছে। সেটা আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। দেশীয় কোম্পানিগুলো সুযোগের অভাবে তাদের সঙ্গে কুলিয়েও উঠতে পারছে না। কিন্তু দেশীয় কোম্পানিগুলোর শতভাগ সক্ষমতা রয়েছে। আমাদের দেশের বড় বড় কাজগুলোতে শর্ত জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। ২০-২৫ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা চাওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তাই আমাদের দাবি হলো, প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ সব শর্ত শিথীল করতে হবে। পাশাপাশি ইন্টারনেটসহ এসব প্রতিষ্ঠানের উপর আরোপিত শুল্কহার কমাতে হবে। এমজে/ এআর

‘বিপিওর বাজার রয়েছে ৫০০ বিলিয়ন ডলার’

দীর্ঘদিন ধরেই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে তৈরি পোশাক শিল্প প্রধান ভূমিকা রেখে আসছে। শুধু তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভর করেই সব সময় চলতে পারে না দেশ। তাই প্রযুক্তির উৎকর্ষের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টেছে পেশার ধরণও। এমনই এক পেশা বিজনেস প্রসেসিং আউটসোর্সিং (বিপিও)। এ খাতে বিশ্বের বর্তমান বাজার ৫০০ বিলিয়ন ডলার। যেখানে বাংলাদেশ মাত্র ১৮০ মিলিয়ন ডলার আয় করতে পারছে। তবে উন্নত বিশ্বে, বিশেষ করে জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও কোরিয়ায় শ্রমশক্তি হ্রাস পাওয়ায় বাংলাদেশের জন্য দরজা খুলে গেছে। ২০২১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ এক বিলিয়ন ডলার আয় করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি একুশে টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে এমনটিই জানিয়েছেন আউটসোর্সিং সংগঠনগুলোর প্রতিষ্ঠান বাক্য’র সভাপতি ওয়াহিদ শরীফ। নিচে সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশটি তুলে ধরা হলো- একুশে টেলিভিশন: বিপিও সম্পর্কে যদি একটু খুলে বলেন? ওয়াহিদ শরীফ: বিপিও মানে বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং। এই নামটা বিশ্বজুড়ে খুব পরিচিত। আউটসোসিং বলতে কেবল কল সেন্টার আউটসোসিং নয়। টেলিকমিউনিকেশন, ব্যাংক, বীমা, হাসপাতাল, হোটেলের ব্যাক অফিসের কাজ, এইচআর, আইটি আ্যাকাউন্ট সবকিছুই এর অন্তর্ভূক্ত। এসব কাজ আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে করার বিষয়টি সাধারণভাবে বিপিও বলে পরিচিত। বিশ্বের সবচেয়ে ক্রমবর্ধমাণ ইন্ডাস্ট্রি হচ্ছে এই বিপিও খাত। আইসিটিতে বর্তমানে বাংলাদেশের যে পরিবর্তনের গল্প, তার উল্লেখযোগ্য অবদান হচ্ছে বিপিও খাত। আইসিটিতে বর্তমানে বাংলাদেশের যে পরিবর্তনের গল্প, তার উল্লেখযোগ্য অবদান হচ্ছে বিপিও খাতের। বছরে প্রায় ১৮০ মিলিয়ন ডলার বিদেশি মুদ্রা আসে আইসিটটি খাত থেকে । সরকার আইসিটি খাত থেকে ২০২১ সাল নাগাদ পাঁচ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, আশা করা যায় সিংহভাগ আসবে বিপিও থেকে। একুশে টেলিভিশন: আমাদের দেশে বিপিওর শুরুটা কেমন ছিল? ওয়াহিদ শরীফ: আমাদের দেশে কল সেন্টার ও ডাটা এন্ট্রি বিপিওর ধারাটির সূচনা ঘটে। প্রথমে ছোট আকারে শুরু হয়েছিল। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এখন এটি বেশ বড় আকারের ধারণ করেছে। বিশেষ করে গত কয়েক বছরে সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণাটির পৃষ্ঠপোষকতা করার কারণে এ ব্যাপারে নতুন একটি জাগরণ তৈরি হয়েছে। তাই বাংলাদেশে বিপিও একটি নতুন সম্ভাবনার নাম। কারণ বাংলাদেশে বিপিও ব্যবসার প্রবৃদ্ধি বছরে শতকরা ১০০ ভাগের বেশি। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বিপিওর বাজার ৫০০ বিলিয়ন ডলার। সেখানে এ পর্যযন্ত বাংলাদেশে দখল করতে পেরেছে মাত্র ১৮০ মিলিয়ন ডলার। একুশে টেলিভিশন: বিপিওর সম্ভাবনা কেমন? ওয়াহিদ শরীফ: সুতরাং বিষয়টি স্পষ্ট যে বিপিও খাতে একটি বিশাল বাজার পড়ে আছে। এখন যদি বাংলাদেশ এই খাতে নজর দেয়, তাহলে তৈরি পোশাক শিল্পের পরই বিপিও হবে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সবচেয়ে বড় খাত। এখন প্রয়োজন বিপিওকে তরুণ প্রজন্মের কাছে আরও জনপ্রিয় করা। কারণ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জাপানে এই মুহূর্তে প্রোগ্রামার প্রয়োজন প্রায় ২০ লাখ। আগামী পাঁচ বছরে ২০ লাখ প্রোগ্রামার কোডার এর প্রয়োজন হবে জাপান, ইউরোপ ও আমেরিকাতে। কিন্তু তাদের সেই জনগোষ্ঠী নেই। জাপানে ৫০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর বয়স ৫০ এর ঊর্ধ্বে। ইউরোপ, আমেরিকাতেও তাদের তরুণ প্রজন্মের সংকট বিরাজ করছে। বাংলাদেশ যদি তার বিপুল সংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠীকে সঠিক প্রশিক্ষণ দিতে পারে তাহলে আগামী পাঁচ বছরে ইউরোপ, আমেরিকা, জাপানের বাজার আমাদের তরুণরাই নিয়ন্ত্রণ করবে। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ ৫০ হাজার শিক্ষার্থী স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করছে। এদের বিরাট অংশ বিপিও খাতে কাজ করতে পারে। যে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার মানুষ এখানে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। এই খাতে যারা কাজ করবেন, তাদের মাত্র দুটি যোগ্যতা থাকা দরকার। প্রথম যোগ্যতা হলো ‘অ্যাবিলিটি টু লার্ন’ অর্থাৎ আমি জানি না, জানতে চাই এই মনোভাব থাকতে হবে। দ্বিতীয় যোগ্যতা –কমিউনিকেশন স্কিল তথা যোগাযোগের দক্ষতা। ২০০৯ সালে দেশে তথ্য-প্রযুক্তি খাতের আয় ছিল মাত্র ২৬ মিলিয়ন ডলার। ছয় বছরের মধ্যে এ খাতে আয় ৩০০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে বিপিও খাতে ৪০ হাজারের বেশি লোক কাজ করছে। ২০২১ সালের মধ্যে এ খাতে ২১ লাখ লোক কাজ করবে। বিপিও খাতে আয় যত বাড়বে, দেশ অর্থনৈতিকভাবে ততই এগিয়ে যাবে। তরুণদের উচ্চতর প্রশিক্ষণ দিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন খাতে কাজে লাগাতে হবে। দেশের প্রধান রফতানি পণ্য পোশাক খাতের চেয়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আয় কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় ভবিষ্যতে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবীর পাশাপাশি বিপিও পেশা হিসেবে বেছে নিবে তরুণরা। একুশে টেলিভিশন: বিপিও কর্মক্ষেত্রে কাদের ভালো করার সুযোগ রয়েছে? ওয়াহিদ শরীফ: সব বয়সী মানুষের এ খাতে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। খণ্ডকালীন ও পূর্ণকালীন কাজের সুযোগও রয়েছে। বিপিওতে দুধরণের কাজ হয়ে থাকে। একটি হলো ভয়েসের মাধ্যমে, আরেকটি লিখিত কাজ। বর্তমানে বাংলাদেশে ভয়েসের মাধ্যমেই বেশি কাজ করা হয়ে থাকে। যারা বিপিওতে ভয়েসের মাধ্যমে কাজ করে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার ধরাবাধা কোনো নিয়ম নেই। এখানে অল্প শিক্ষিতরাও কাজ করতে পারেন। আর যারা লিখিত বিষয় নিয়ে কাজ করে তারা শিক্ষিত হলে এগিয়ে যাওয়ার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের শিক্ষার্থীরা বুঝতে সক্ষম হয়েছে, বিপিও কী, এখানে কাজের সম্ভাবনা কতটুকু। অনেকেরই ধারণা ছিল, বিপিও মানেই কল সেন্টার। এই ভুল ধারণাটি গত বছরের প্রচার প্রচারণার ফলে অনেকটা দূর হয়েছে। বিপিওতে যারা কাজ করছে, তাদের স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের জন্যও যে কেউ নিজেকে প্রস্তুত করতে পারছে। এ জন্য এখন যারা বিপিওতে কাজ করছেন, তাদের গ্রাহকদের সন্তুষ্টি অর্জন করতে হবে। না হলে নতুন কাজ সৃষ্টি হবে না। বিপিও কাজের ধরণ বা কলসেন্টারের ধরণ এবং তারা যে সেবা দেয় তার ওপর মূলত নির্ভর করে আবেদনকারীর শিক্ষাগত ও অন্যান্য যোগ্যতা। কল সেন্টারের বেশির ভাগ কাজই খণ্ডকালীন। তবে পাশাপাশি পূর্ণকালীন কাজের জন্যও কলসেন্টারগুলোতে প্রচুর লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। আর তাই কলসেন্টারে খণ্ডকালীন ও পূর্ণকালীন চাকরির জন্য যোগ্যতাগুলোও হয় ভিন্ন। খণ্ডকালীন চাকরির জন্য আবেদন করতে আবেদনকারীকে বিশ্ববিদ্যালয় অথবা কলেজে অনার্স বা ডিগ্রি পড়ুয়া হতে হবে। পূর্ণকালীন চাকরি করতে আবেদনকারীকে কমপক্ষে স্নাতক হতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কাজের কোনো অভিজ্ঞতা থাকলে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি আবেদনকারীকে শুদ্ধ করে বাংলা ও ইংরেজিতে কথা বলা, সুন্দর উপস্থাপনা, কম্পিউটার ব্যবহার সম্পর্কে মৌলিক ধারণা থাকা, উপস্থিত বুদ্ধি, বুদ্ধিমত্তা ইত্যাদি বাড়তি যোগ্যতা থাকা দরকার। যদি সুনির্দিষ্ট একটি পরিকল্পনার আওতায় এ নিয়ে কাজ করতে পারি, তাহলে অল্প দিনে বাংলাদেশকে বিপিওর বিশ্ববাজারে আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। এসএইচ/

‘ব্যাংকের টাকা শেয়ারবাজারে আনতে প্রজ্ঞাপন স্থগিত ঠিক হবে না’

স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীলের কাতারে বাংলাদেশের প্রবেশ, বিশাল এ অর্জনের পেছনে চ্যালেঞ্জ ও তা টপকানোর উপায়, পুঁজিবাজারের বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাবনা, জনশক্তি রফতানি, জনসংখ্যার বোনাসকাল, কর্মসংস্থানসহ ব্যাংকের সুদের হার, ঋণ, ঝুঁকিসহ অর্থনীতির আরো সব অনুসঙ্গ নিয়ে একুশে টেলিভিশন অনলাইন মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের। তিনি ২০০৫ সালের ১ মে গভর্ণর হিসাবে দায়িত্ব নেন এবং ২০০৯ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এই পদে ছিলেন। বর্তমানে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, আমাদের প্রধানতম চ্যালেঞ্জ আমরা যে উন্নয়নশীল দেশের এ জায়গাটায় এসেছি সেটি ধরে রাখা। আমাদের এ অর্জনে ৪৭ বছর লেগেছে। তারমধ্যে গণতান্ত্রিক সরকার আছে ১৯৯০ থেকে। সে হিসেবে প্রায় ২৮ বছর লেগেছে। কিন্তু এতো সময় লাগার কথা ছিল না। তাই এখন আমাদের উন্নয়নের দিকে দ্রুত এগোতে হবে। উন্নয়নের গতি আরো বাড়াতে হবে। এটাই উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বড় চ্যালেঞ্জ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইন প্রতিবেদক রিজাউল করিম। দুই পর্বের সাক্ষাৎকারের শেষ পর্ব আজ প্রকাশিত হলো- একুশে টেলিভিশন অনলাইন: বাংলাদেশ ব্যাংক গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকের এক্সপোজার  বা বিনিয়োগসীমা নিয়ে যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল, সেখানে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সীমা হিসাবায়নের ক্ষেত্রে সমন্বিত ভিত্তিতে গণনা করার নিয়ম বেধে দেয়া হয়। যার কারণে পুঁজিবাজারে তারল্য প্রবাহের ক্ষেত্রে অধিকতর সংকোচনমূলক হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সেই প্রজ্ঞাপন স্থগিত করলেই শেয়ারবাজার চলমান সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াবে বলে জানিয়েছেন ডিএসই ব্রোকার অ্যাসোসিয়েশন। আপনিও কি তাই মনে করেন? সালেহ উদ্দিন: ব্রোকাররা এটা বলবেই যে ব্যাংকের টাকা পুঁজিবাজারে নিয়ে আসো। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে ব্যাংকের টাকা কিন্তু ব্যাংকের না। ওটা আমানতকারীদের টাকা। আমানতকারীরা চান না যে তাদের টাকাটা ঝুঁকিপূর্ণ কোনো জায়গায় বিনিয়োগ হোক। কারণ ব্যাংক লোকসান করলে বলবে যে আমরা আমানতকারীর টাকা ফেরত দিতে পারছি না। কারণ ওইটার প্রত্যক্ষ কোনো লাভ আমানতকারীরা পায় না। শেয়ারমার্কেট হলো একটা ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা। রিটার্ন বেশি আবার ঝুঁকিপূর্ণ। তাই শেয়ার মার্কেটে ব্যাংকগুলোর টাকাটা আসতে রিল্যাক্স করাও ঠিক হবে না। বরং পুজিঁবাজার সংশ্লিষ্টদের উচিত হবে তাদের যে ইনসাইডেড ট্রেডিং, তাদের যে কারসাজি এগুলো বন্ধ করতে হবে। তবে সাধারণের আস্থা বাড়বে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পলিসি দিয়ে পুঁজিবাজারে ব্যাংকারদের নেওয়া ঠিক হবে না। মনে রাখতে হবে ব্যাংকই শুধু প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী না। আরো অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান আছে।   একুশে টেলিভিশন অনলাইন: ব্যাংকগুলোর ঋণ ও আমানতে সুদের ব্যবধান বেশি এ অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বর্তমানে তা আরো বাড়ছে, এর কারণ আসলে কী?      সালেহ উদ্দিন: এগ্রেসিভ ব্যাংক করার কারণে এমনটি হয়। ব্যাংক ঋণে সুদের ব্যবধান ৫ এর উপরে কোনো অবস্থায় গ্রহণযোগ্য নয়। পৃথিবীর কোনো দেশে এমন ব্যবধান নেই। জাপানে জিরো ইন্টারেস্ট রেট। এগুলো কমাতে নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের বোঝা- এ খাতটির জন্য যেন একটি অভিশাপ। যা কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। আসলে এ থেকে বেরিয়ে আসতে করণীয় কি হতে পারে?  সালেহ উদ্দিন: খেলাপি ঋণ আদায় করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে মামলার আশ্রয় নিতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। অর্থনৈতিক আদালতে জমে থাকা মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। যারা ঋণ নিয়ে না দিয়ে পার পাওয়ার প্রবণতায় আছে তাদেরকে প্রবণতা থেকে বের করে আনতে হবে। সেক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা করা চলবে না। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আমাদের দেশে এতো শিক্ষিত যোগ্য লোক, অথচ পোশাক শিল্পসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় বিদেশি এক্সপার্টদের বেশি বেতনে আনা হচ্ছে। কেন আমরা সে জায়গাটা নিতে পারছি না? সালেহ উদ্দিন: আমাদের কোন ক্ষেত্রে কি পরিমান লোকবল লাগবে সে তথ্য নেই। যার কারণে গুরুত্বপূর্ণ অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে যোগ্যতাসম্পন্ন লোকের অভাব। আর সে জায়গাটা দখল করে নিচ্ছে বিদেশিরা। বিদেশিরা যাতে এ জায়গাগুলো যাতে না যাতে পারে তার জন্য আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বা  নীতির পরিবর্তন আনতে হবে। নিজ দেশের দক্ষ লোক খুঁজে বের করতে হবে এবং তাদের বিদেশিদের তুলনায় গুরুত্ব দিতে হবে বেশি। তবে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা যেখানে প্রচুর লোকের দরকার সেই জায়গাগুলোর জন্য পরিকল্পিতভাবে শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিতে হবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ২৫ লাখেরও বেশি। বিবিএসের রিপোর্ট অনুযায়ী গত এক বছরে আরও ৮০ হাজার বেকার বেড়েছে। দেশের এই বিশাল জনশক্তিকে আমরা কেন কাজে লাগাতে পারছি না? কেন সর্বোচ্চ পর্যায়ের ডিগ্রি নেওয়ার পরও চাকরি মিলছে না? সালেহ উদ্দিন: নি:সন্দেহে শিক্ষায় ত্রুটি আছে। আজ যারা এসএসসি পাশ করে তাদের সঙ্গে আগের দিনের ম্যাট্রিক পাশ করা ব্যাক্তির তুলনা করে দেখেন তো। শিক্ষার মানের ক্ষেত্রে এখন অনেক পিছিয়ে পড়েছি। তাছাড়া শিক্ষাকে জীবনমুখী করতে হবে। বাজারে চাহিদা আছে এমন শিক্ষা নিতে হবে। শিক্ষার্থী যদি বাস্তব জীবনের কিছু দিক শিক্ষা জীবনেই বুঝে নিতে পারে। তবে শিক্ষা শেষে তাকে বেকার থাকতে হবে না। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবি উঠেছে তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে। বিষয়টিকে আপনিও কতটা যৌক্তিক মনে করেন? পৃথিবীর অন্যান্য দেশে তো চাকরিতে প্রবেশের বয়সের এতোটা কড়াকড়ি নেই। সালেহ উদ্দিন: আমি মনে করি চাকরির বয়সের কড়াকড়ি কিছুটা শিথিল করা উচিত। এখন দেশে বিশাল জনসংখ্যা। সেশনজট আছে। আবার পাশ করার পর দ্রুত সার্টিফিকেট পায় না। আবার নিয়োগের ক্ষেত্রেও দ্রুত নিয়োগপত্র পায় না। সে ক্ষেত্রে বয়সের কড়াকড়ি একটু কমানো উচিত বলে মনে করি। সেটা ৩৩ বছর করা যেতে পারে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন : আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। সালেহ উদ্দিন : একুশে পরিবারের প্রতি শুভ কামনা। আরকে//  

‘পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে প্লাস্টিক সামগ্রী’

এসিঅাই লিমিটেড একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান। ইতোপূর্বে প্রতিষ্ঠানটি ফুডস, এগ্রো, মোটরস, ফার্মিসিউটিক্যালসসহ নানা অাঙ্গিকে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করে ঠাঁই করে নিয়েছে দেশের শীর্ষ স্থানীয় কোম্পানির তালিকায়। এবার এসিঅাই লিমিটেড বাজারে এনেছে প্লাস্টিক সামগ্রী। এসিঅাই প্রিমিও প্লাস্টিক- এর লোগো সম্বলিত ৩৫টি পণ্য ইতোমধ্যে বাজারে ছেড়েছে এসিঅাই লিমিটেড। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে রাজধানীর তেজগাঁওস্থ এসিঅাই ভবনে এসিঅাই প্রিমিও প্লাস্টিকের লোগো উন্মোচন করা হয়। এসিঅাই প্রিমিয়াফ্লেক্স প্লাস্টিকস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং সিইও ড. এফ এইচ অানসারীর মুখোমুখি হয় একুশে টেলিভিশন অনলাইন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইনের প্রতিবেদক অালী অাদনান। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: অনেক ধরণের ব্যবসা থাকতে প্লাস্টিক নিয়ে এলেন কেন? ড. এফ এইচ অানসারী: এসিঅাই লিমিটেড সব সময় দেশের মানুষের জীবন যাত্রা মানোন্নয়নের লক্ষে টেকনোলজির প্রয়োগে ব্যবসা করতে অাগ্রহী। জীবনযাত্রা নিয়ে কাজ করতে গেলে অামরা দেখি মধ্যবিত্তদের জীবন যাপনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। অার্থিক স্বচ্ছলতার সঙ্গে সঙ্গে রুচি সম্মত ও ফ্যাশনেবল জীবন যাপনে অাগ্রহী হচ্ছে তারা। বিশেষ করে অামাদের তরুণ সমাজ খুব ভালো করছে। অামরা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও রুচি মাথায় রেখে গৃহস্থলী পণ্যের কথা ভেবেছি। তখনই অাসে প্লাস্টিক পণ্য সামগ্রীর কথা। অাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগে টেকসই, গুণগত মান, ফ্যাশন ও বৈচিত্র্যময় ডিজাইনকে অামরা প্রাধান্য দিয়েছি। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবসা কেমন সম্ভাবনাময়ী? ড. এফ এইচ অানসারী: অামেরিকাতে বছরে প্লাস্টিক মাথা পিছু ব্যবহার করে পার ৬০ কেজি। অামাদের পাশের দেশ ভারতে ৯ কেজি। অার অামাদের এখানে মাত্র তিন কেজি। তাহলে কতো বড় ব্যবধান! অামরা যদি ৯ কেজিতে উন্নীত করি তাহলেও তিনগুণ ব্যবসা করা সম্ভব। সেই জায়গা থেকে অামরা বড় একটা চ্যালেঞ্জ হাতে নিলাম। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনের জন্য যেসব কাঁচামাল দরকার তাতে কী অামরা অামদানি নির্ভর? ড. এফ এইচ অানসারী: হ্যাঁ, অবশ্যই অামদানি নির্ভর। তবে কিছু কিছু হয়তো অামরা নিজেরা উৎপাদন শুরু করতে পারব। অামদানি করার সুবিধাটা হলো এই, এগুলো রিসাইকেল করে অাবার নতুন নতুন পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: এসিঅাই প্রিমিও প্লাস্টিকের পণ্য রফতানি বাজারে কেমন স্থান নিবে বলে অাশা করছেন? ড. এফ এইচ অানসারী: ভারতে প্লাস্টিক পণ্যের একটা বড় বাজার অাছে। মধ্যপ্রাচ্যেও একটা বড় বাজার অাছে। ইউরোপে ইতোমধ্যে একটা বড় বাজার তৈরি হয়েছে। অামরা অাগে অামাদের দেশীয় চাহিদা পূরণ করব। তারপর বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে রফতানি করার উদ্যোগ নিব। যেহেতু অামাদের উৎপাদিত পণ্য টেকসই, গুণগত মান ভালো, দেখতে সুন্দর, সেহেতু অামরা সহজেই সবার দৃষ্টি অাকর্ষণ করতে পারব বলে বিশ্বাস করি।একুশে টেলিভিশন অনলাইন: মানুষ কেন প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহারে উৎসাহী হবে?ড. এফ এইচ অানসারী: অনেকে মনে করেন, প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। অাসলে তা না। বরং পরিবেশ সুরক্ষায় প্লাস্টিক ভূমিকা রাখে।প্লাস্টিকের পণ্য উৎপাদিত হলে কাঠের চাহিদা কমবে। ফলে গাছ কাটতে হবে না। বন রক্ষা পাবে। পরিবেশ পাবে সুরক্ষা। কাঠের সামগ্রী ভেঙ্গে গেলে সেটা জ্বালানি করা ছাড়া বিকল্প উপায় থাকে না। কিন্তু প্লাস্টিক সামগ্রী ভেঙ্গে গেলে, নষ্ট হলে প্রক্রিয়াজাত করে পুণরায় প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদন সম্ভব। এর ফলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: ইতোপূর্বে এসিঅাই লিমিটেড বিভিন্ন বিভিন্ন পণ্য নিয়ে বাজারে এসে চমক দেখিয়েছে। অল্প সময়ে পেয়েছে সফলতা। প্লাস্টিকেও কী একই ধারাবাহিকতা থাকবে? ড. এফ এইচ অানসারী: অবশ্যই অামরা প্রথম হবো। এর অাগেও অামরা যখন যা নিয়ে এসেছি ক্রেতারা কখনো অামাদের হতাশ করেননি। অামরা হয়তো অনেকের পরে অাসি। কিন্তু ফলাফলে গিয়ে অামরা প্রথম হই। যতোগুলো সেক্টরে অামরা কাজ করেছি, ১০ বছরের ব্যবধানে প্রথম হয়ে গেছি। প্লাস্টিকের ক্ষেত্রেও অামরা প্রথম হবো। অামরা সেক্ষেত্রে পাঁচ বছরের টার্গেট হাতে নিয়েছি। অামরা সততা ও মূল্যবোধ নিয়ে কোনো অাপোষ করি না। অামাদের কর্মকর্তা, কর্মচারী, ডিলাররা সবাই কঠোর পরিশ্রমী। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আপনাকে ধন্যবাদ। ড. এফ এইচ অানসারী: একুশে টেলিভিশন পরিবারকে ধন্যবাদ। এসএইচ/

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি