ঢাকা, বুধবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৮ ১:৫৩:০১

‘শুরুটা করেছিলাম ২টা গরু দিয়ে’

‘শুরুটা করেছিলাম ২টা গরু দিয়ে’

সাব্বির হাসান সাদাত নিলই। বিবিএ ও এমবিএ সম্পন্ন করেছেন ইংল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। দেশের মাটিতে ফিরে এখন তিনি গরু পালনের তরুণ এক উদ্যোক্তা। আজ থেকে দশ বছর আগে মাত্র ২টি গরু দিয়ে শুরু করেছিলেন ছোট পরিসরের একটি খামার। আজ তার তিনটি খামার। যার মধ্যে একটি হলো রাজধানীর হাতিরঝিল আর্মি ক্যাম্প সংলগ্ন সামারাই ক্যাটেল ফার্ম। এখন তার খামারে গরু ও ছাগলের সংখ্যা ৭ শ’।
চুল পড়ার সমস্যা ও অাধুনিক চিকিৎসা (ভিডিও)

চুল পড়ার সমস্যা রয়েছে প্রায় সিংহভাগ মানুষের। চুল নিয়ে অনেকে চিন্তায় থাকেন। চুল পড়ার সমস্যা এবং এর সমাধান নিয়ে কথা হয় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক জাহিদ পারভেজ বড় ভুঁইয়ার সঙ্গে। তিনি একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে চুল পড়ার সমস্যা ও সমাধান সম্পর্কে জানান। একুশে টেলিভিশন: চুলপড়া সারা বিশ্বে একটি বড় সমস্যা। চুল পড়া কীভাবে রোধ করা যেতে পারে? ডা. জাহিদ পারভেজ: চুল পড়ার জন্য প্রধানত দায়ী লাইফ স্টাইল। লাইফ স্টাইল ম্যানেজমেন্ট চুল পড়াটা অনেকটা কমিয়ে ফেলে। পরিমিত ঘুম, পরিমিত খাবারের পাশাপাশি সাধারণ ব্যায়াম স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। চুল শরীরের বাইরের কোনো অঙ্গ নয়। ফলে খাবার ঘুম ব্যায়াম চুলের সঙ্গে জড়িত। একজন মানুষ কী ধরনের তেল ব্যবহার করছেন, কী ধরনের শ্যাম্পু ব্যবহার করছেন এ পশ্নও এসে যায়। পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অাজকাল ফাস্টফুড কালচার খুব দ্রুত বাড়ছে। এই ফাস্টফুডের ফলাফল কিন্তু চুলের জন্য ক্ষতিকর। দৈনন্দিন জীবনে ১০০- ১৫০টা চুল একজন মানুষের স্বাভাবিকভাবেই পড়ে। এই ১০০-১৫০ চুল পড়ার পর যদি রি- গ্রোথ না হয় তখনই দেখা যায় একজন মানুষের চুল অাস্তে অাস্তে পাতলা হয়ে যাচ্ছে। টাক দেখা যাচ্ছে। একুশে টেলিভিশন: চুল পড়া কী কোন বংশগত সমস্যা? ডা. জাহিদ পারভেজ: হ্যাঁ, অামাদের কাছে নিয়মিত যেসব রোগী অাসে সেখানে অামরা দেখি টাক রোগীর সংখ্যা বিরাট। অামাদের শরীরে এমন একটা হরমোন অাছে ( ডিএসটি হরমোন) যেটা অাল্লাহর দেওয়া নিয়মে প্রতিনিয়ত কনভার্টেড হচ্ছে। বংশগত কারণে বা জ্বীনগত কারণে একটা শক্ত পদার্থ চুলের গোড়ায় জমে। ফলে চুল নিউট্রিশন নিতে বাধাগ্রস্ত হয়। এভাবে চুলটা এক সময় ছোট হয়, চিকন হয়। এক পর্যায়ে দেখা যায় সেটা ছোট লোম লোম হয়ে যায়। একপর্যায়ে ডিএসটি হরমোনের প্রভাবে লোমটাও পড়ে যায়। এটাকে বলা যায় বংশগত টাক। বংশগত টাক সবক্ষেত্রে প্রযোজ্য না। অামার বাবার মাথায় ভাল চুল অাছে, তাই বলে অামার মাথায়ও ভাল চুল থাকবে তা না। বা অামার বাবার মাথায় টাক বলে অামারও টাক হবে তাও না। একুশে টেলিভিশন: কী ধরণের খাবার খেলে চুলের বংশবৃদ্ধি হবে? চুল সুস্থ থাকবে? ডা. জাহিদ পারভেজ: অামি অাগেই বলেছি চুল পড়ার প্রধান কারণের মধ্যে ডিএসটি হরমোন অন্যতম। এখনকার গবেষণায় দেখা গেছে অামরা যে চীনা বাদাম খাই, সেই বাদাম ভাঙ্গার পর একটা হালকা লেয়ার থাকে। এটা অামরা ফেলে দিই। অথচ এটা ডিএসটি ইনহেবিটর হিসেবে কাজ করে ন্যাচারালি। পাশাপাশি অনেকেরই কাচা ছোলা খাওয়ার অভ্যাস অাছে। পরিমিত মাত্রায় ছোলা খেলে খুব উপকার হয়। এর পাশাপাশি সবুজ শাক সবজি, মাছ মাংস, সুস্বাদু খাবার সুস্থ চুলের জন্য কার্যকর। একুশে টেলিভিশন: অনেক সময় অনেক রোগী দেখা যায় যাদের চুল জায়গায় জায়গায় খোপ খোপ হয়ে পড়ে গেছে। এটি কেন হয়? ডা. জাহিদ পারভেজ: জায়গায় জায়গায় চুল না থাকা এটা হঠাৎ করেও হতে পারে। এক রাতের মধ্যেও পড়ে যেতে পারে। এটা একটা ডিজিজ। এটা চিকিৎসা ছাড়াও নিজে নিজে সুস্থ হয়ে যেতে পারে। সাধারণ কিছু চিকিৎসা অাছে। যেমন উচ্চ মাত্রার স্টেরোয়েড ক্রীম। এটা অামরা দিয়ে থাকি। একুশে টেলিভিশন: চুল পড়া চিকিৎসায় সাধারণত কী ধরনের পরীক্ষা করেন? ডা. জাহিদ পারভেজ: সাধারণত রক্ত পরীক্ষা দিই। হিমোগ্লোবিন টেস্ট। অামাদের দেশে মেয়েদের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা খুব কম থাকে। যা চুল পড়ার খুব বড় কারণ। পাশাপাশি অাজকাল যেটা পাই ভিটামিন `ডি` ডেফিসিয়েন্সি। চুল ধরে রাখার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখন যেসব রোগী অামাদের কাছে অাসে পরীক্ষা করলে দেখা যায় শতকরা ৮৫ ভাগ রোগী ভিটামিন `ডি`- এর অভাবে ভুগছে। পাশাপাশি অামরা থাইরয়েড হরমোন চেকঅাপ করে থাকি। ব্লাড সুগারটা দেখি। ডায়াবেটিসের ভূমিকাও থাকে। এছাড়া চুলের কন্ডিশন, স্কাল্পের কন্ডিশন দেখি। বয়স অনুযায়ী চুলের অনুপাত ঠিক অাছে কিনা, ফাঙ্গাস ঠিক অাছে কিনা মূলত এসব পরীক্ষা করা হয়। একুশে টেলিভিশন: কীভাবে চুল পড়া রোধ করা যায়? ডা. জাহিদ পারভেজ: চুল পড়া রোধে ডায়েট একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রচুর শাক সবজি ও ফলমূলের পাশাপাশি বায়োটিন নামে একটা ওষুধ খেলে চুল পড়া কমে যাবে ও চুলের গ্রোথ বেড়ে যাবে। পাশাপাশি অায়রন, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স অামরা নিতে পারি। একুশে টেলিভিশন: বিভিন্ন বিউটি পার্লারে ভিটামিন ই ক্যাপসুল ভেঙ্গে চুলে মেখে দিতে দেখা যায়। এটা চুলের জন্য কেমন কার্যকর? ডা. জাহিদ পারভেজ: একটা সময় ধারণা ছিল ভিটামিন `ই`- এর একটা বড় রোল অাছে। কিন্তু যতোই দিন যাচ্ছে গবেষণায় দেখা গেছে ভিটামিন `ই` চুলের চেয়ে স্কিন ও মানুষের শারীরিক কিছু ফিজিক্যাল ফিটনেসের ক্ষেত্রে বেশী কাজ দেয়। চুল পড়া রোধে ভিটামিন ` ই` খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু না। স্কাল্পে ভিটামিন ` ই` ম্যাসাজ করলে যে চুলের গ্রোথ বাড়বে তা কোনদিন সম্ভব নয়। একুশে টেলিভিশন: চুল পড়ে যাওয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে কেমন পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন? ডা. জাহিদ পারভেজ: বয়স একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। একটা তরুণের চিকিৎসা ও একজন বয়স্ক রোগীর চিকিৎসা এক রকম নয়। অালাদা রকমের থেরাপী দেওয়া হয়। পাশিপাশি মেডিকেটেড শ্যাম্পু, পুষ্টিকর খাবার এসবকেও প্রাধান্য দেওয়া হয়। একবারেই যাদের চুল পড়ে যাচ্ছে তাদের ক্ষেত্রে যেটা করে থাকি সেটা হলো ট্রান্সপ্লান্ট। অর্থাৎ চুল প্রতিস্থাপন। একুশে টেলিভিশন: চুল পড়ার অাধুনিক চিকিৎসা বলতে অামরা কী বুঝব? ডা. জাহিদ পারভেজ: অাধুনিক চিকিৎসা বলতে অামরা বুঝব পিঅারপি থেরাপীর কথা। এই থেরাপী বেশ কার্যকর। আআ/এসএইচ/  

বাংলাদেশি নার্সরাও আন্তর্জাতিক মানের: তন্দ্রা শিকদার

বাংলাদেশের মানুষের বেড়েছে গড় আয়। কমেছে শিশু ও মাতৃ মৃত্যুর হার। মুত্যু হার আরও কমিয়ে নাগরিকদের গড় আয়ু বাড়াতে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি (সেবিকা ও ধাত্রী) অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের এ কার্যক্রমে পূর্ণ হচ্ছে বাংলাদেশ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনে শিশু ও মাতৃমৃত্যু হ্রাসের তাগিদ ও জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে শিশু ও নবজাতক মৃত্যুহার হার কমানোর মাইলফলক। মা ও শিশুর সেবা ত্বরান্বিত করতে বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাবনাসহ নানাবিধ বিষয় নিয়ে একুশে টেলিভিশন অনলাইন মুখোমুখি হয় নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) তন্দ্রা শিকদারের। যার কথায় উঠে এসেছে উন্নত দেশের সঙ্গে বাংলাদেশে নার্সিং পেশার তুলনা, কর্মসংস্থান, সমস্যা ও সম্ভাবনাসহ নানাবিধ দিক। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইন প্রতিবেদক রিজাউল করিম। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আমাদের দেশে চিকিৎসার ক্ষেত্রে অনেকেই বিদেশের প্রতি আস্থাশীল বেশি। নার্সদের সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও কি তাই? দক্ষতার বিচারে আমাদের নার্সরা আন্তর্জাতিক মানের কি না? তন্দ্রা শিকদার: এটা একটা সার্ভের বিষয়। বিষয়টি দেখার জন্য আমি আগে বার্সেলোনা গিয়েছিলাম, কানাডায় গিয়েছিলাম। দেশগুলোর সম্মেলনে আমি দেখেছি যে তাদের যে নার্স ও মিডওয়াইফস আছে, তাদের দক্ষতার তুলনায় আমাদের দেশের নার্স ও মিডওয়াইফসরা কোন অংশেই কম নয়। সেসব দেশের সম্মেলনে নার্সদের হাতে কলমে প্রশিক্ষণ আমি দেখেছি। আমাদের দেশের নার্সদেরও আমি হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দেখেছি। উভয় প্রশিক্ষণ তুলনা করলে আমরা বলতে পারি যে আমাদের নার্সরা আন্তর্জাতিক মানের সেবা দিতে সক্ষম। আপনি জেনে খুশি হবেন, আমাদের নার্সদের মধ্যে ইতিমধ্যে প্রায় ১৭ জন পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছে। থাইল্যান্ড সরকারের সহায়তায় এটা অর্জন সম্ভব হয়েছে। এতে বাংলাদেশ সরকারের সমর্থন ও সহায়তাও ছিল। চলতি বছর থেকে সুইডিশ সরকারও আমাদের দুইজন করে নার্স পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ করে দিচ্ছে। এছাড়া সুইডেনের ওয়েববেস মাস্টার্স কোর্সে এরই মধ্যে আমাদের ৬০ জন নার্স সক্ষমতা দেখিয়েছে। সুইডিশ সরকারের দক্ষ প্রতিনিধীরাই বাংলাদেশে এসে এ প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।   আমরা যখন ইউনিয়ন পর্যায়ে মিডওয়াইফসের নিয়োগ দিতে পারবো। তখন এ সেবাটা একটা কোয়ালিটি পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারবো। তবে এখনই বিদেশ থেকে আমাদের অফার আসে যে আমরা নার্স পাঠাতে পারবো কি না। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আমাদের দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ২৮ লাখ। বিপুল সংখ্যক এ বেকারদের কর্মসংস্থানে নার্সিং ও মিডওয়াইফস অধিদপ্তরের কতটুকু অবদান রেখেছে? তন্দ্রা শিকদার: আমাদের দেশে যেখানে লাখ লাখ শিক্ষিত বেকার, সেখানে এই সেক্টরে লেখা-পড়া শেষ না হতেই চাকরির নিশ্চয়তা আছে। বিশ্ববিদ্যায়লয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে যেখানে বেকার, সেখানে লেখা-পড়া শেষ না হতেই সরকারি চাকরি! এটা বড় একটি সুযোগ। আমাদের সিনিয়র স্টাফ নার্সরা ছাত্রত্ব ঘোচানোর সঙ্গে সঙ্গেই চাকরি পেয়ে যাচ্ছে পিএসসির অধীনে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: সেবামূলক কাজে নারীরাই বেশি দক্ষতা দেখাতে পারে। তাই সেবা খাতগুলোতে নারীর প্রধান্য থাকা উচিৎ বলে অনেকে মনে করেন। সে বিবেচনায় নার্সিং সেবাই নারীর ক্ষমতায়নটা কতটুকু নিশ্চিত হয়েছে? তন্দ্রা শিকদার: আমাদের নার্সিং সেবাটা নারীদেরই জায়গা। এখানে মাত্র ১০ শতাংশ পুরুষ। আর বাকি সব নারী। নারীর ক্ষমতায়ন যদি বলতে হয়, পুরো ক্ষমতায়ন আমাদের এ নার্সিং সেবাতে আছে। আমাদের এ উপমহাদেশে জিডিপিতে যদিও নিটুটভাবে ফূটে উঠে না যে নারী কতটুকু কাজ করছে। কিন্তু আমাদের নার্সিং পেশাতে শতভাগ দৃর্শমান যে নারী তার সংসারের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রেও সমানভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: দেশের মা ও নবজাতক শিশুর সেবা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে কোন প্রতিবন্ধকতা দেখছেন কি না? তন্দ্রা শিকদার: আমি গত এক বছর ধরে এখানে দায়িত্ব পালন করছি। তাতে আমার মনে হয়েছে। আমাদের নার্সরা যে উচ্চ শিক্ষা নিচ্ছেন। এ উচ্চ শিক্ষার পাশাপাশি তাদের প্রশিক্ষণের দরকার আছে। কারণ প্রশিক্ষণ ছাড়া দক্ষ নার্স পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাদের বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ থেকে বিশেষ বিশেষ প্রশিক্ষণগুলো নিশ্চিত করা দরকার। আমরা এরই মধ্যে ১৩শ’ নার্সকে বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ দিতে পেরেছি। এটা আরও বাড়ানো দরকার। যদি আমাদের অর্থ বরাদ্দ বাড়ানো হয় তবে আমরাও এ প্রশিক্ষণগুলো বাড়াতে পারবো। এছাড়া আমাদের এ নার্সিং সেবার সম্প্রসারণ করতে যে জনবল দরকার তাও আমাদের অধিদপ্তরে ঘাটতি আছে। এটাও বাড়ানো দরকার। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: দেশে অনেক পেশায় তো আছে, একটি মেয়ে কেন এ পেশা বেঁছে নিবে? তন্দ্রা শিকদার: এটি এমন একটি পেশা, যেখানে সেবা, সম্মান ও কর্মসংস্থান একসঙ্গে গাথা। একজন শিশু যখন পৃথিবীতে আসে সে প্রথমে মিডওয়াইফসের হাত ধরেই আসে। মা তার সন্তানকে দেখার আগে মিডওয়াইফসকে দেখেন। এটা একজন মিডওয়াইফসের জন্য বড় পাওয়া। একটি মেয়ে লেখা-পড়া শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এ পেশায় আসতে পারছে। সে নিজের অর্থনৈতিক মুক্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের সেবাইও কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। আমি মনে করি আগামী প্রজন্মের জন্য এ পেশায় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আছে। দেশ ছাড়া দেশের বাইরেও চাকরির জন্য আমাদের নার্সদের চাহিদা আছে। দক্ষ নার্স গড়ে তোলার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আমরা সে বৈদেশিক চাহিদা কাজে লাগাতে পারবো। বিদেশে নার্স পাঠাতে পারবো। তাতে আমাদের অর্থনৈতিক ভীতও শক্তিশালী হবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: নার্স ও মিডওয়াইফসদের উদ্দেশ্যে আপনার পরার্শ কি? তন্দ্রা শিকদার: নতুন প্রজন্মের কাছে আমরা বলতে পারি নার্স এবং মিডওয়াইফারিদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একসঙ্গে তিন হাজার পদ সৃষ্টি করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী মন্ত্রণালয় থেকেও সেটা পাশ হয়ে আসছে। সেখানে উপজেলা পর্যায় থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত আমাদের মিডওয়াইফসদের পদায়নের পরিকল্পনা আছে। এরই মধ্যে আমরা এক হাজার ৬০০ স্ট্যাফ নার্সদের ছয় মাসের একটা স্পেশাল কোর্স করিয়ে ইউনিয়ন পর্যন্ত পদায়ন করতে পেরেছি। তাদের সাময়িকভাবে পদায়ন করা হয়েছে। স্পেশালাইস্ট নার্স হিসেবে। কেননা আমাদের মিডওয়াইফ সংকট আছে। তবে এরই মধ্যে আমাদের প্রায় ৬০০ মিডওয়াইফস কোর্স শেষ করে, পিএসসি পরীক্ষা দেওয়ার পর পদায়নের অপেক্ষায় আছে। তাদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা এমনকি পুলিশ ভেরিফিকেশনও শেষ পর্যায়ে আছে। সর্ব শেষ প্রতিবেদন হচ্ছে মাত্র আটজন প্রার্থীর পুলিশ ভেরিফিকেশন বাকী আছে। এই আটজনের পুলিশ ভেরিফিকেশন হলেই আমরা তাদের সবাইকে পদায়ন করতে পারবো। সেটি মন্ত্রণালয় থেকে এরই মাধ্যে কাদের কোথায় পদায়ন করবে সে ব্যাপারে কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। এ মিডওয়াইফসদের যদি আমরা কাজে লাগাতে পারি তবে আমাদের মাতৃ মৃত্যুর হার আরও কমে যাবে। নবজাতক মৃত্যুর হারও কমে যাবে।   এসএইচ/      

একটা সময় সবাই অনলাইনেই পড়ালেখা করবে: আয়মান সাদিক

টেন মিনিট স্কুল। বাংলাদেশে অনলাইন জগত নিয়ে যাদের টুকটাক ধারণা আছে তাদের সবার কাছে পরিচিত নাম। অনলাইনে যে পড়ালেখা করা যায়, পাঠদান করা যায় দেশে সেই ধারণাটিই বাস্তবায়ন করেছে ডিজিটাল এই প্ল্যাটফর্ম। কাজের স্বীকৃতিস্বরুপ ব্রিটিশ রাণীর ‘কুইন্স ইয়ং অ্যাওয়ার্ড ২০১৮’সহ পেয়েছে বেশ কয়েকটি পুরস্কার। প্ল্যাটফর্মটির উদ্যোক্তা এবং প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক টেন মিনিট স্কুলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন ইটিভি অনলাইনের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইটিভি অনলাইনের সহ সম্পাদক শাওন সোলায়মান।    ইটিভি অনলাইনঃ টেন মিনিট স্কুল শুরু করার তাগিদ অনুভব করলেন কী থেকে? আয়মানঃ আমি যখন আইবিএ তে পড়া শুরু করি তখন স্টুডেন্ট পড়াতাম। কোচিং এ যখন পড়াতাম তখন অনেক স্টুডেন্ট এমন পেতাম যে বলত, ‘ভাইয়া সাত হাজার টাকা নিয়ে বাবা ঢাকা পাঠিয়েছে। কোচিং এর ফি ১৩ হাজার টাকা। কী করব?’ কোচিং-কে আমরা বলতাম যে, ৫০% মূল্যছাড় দিয়ে ও’কে ভর্তি করা হোক। কিন্তু ও থাকবে কোথায়? খাবে কী? এরকম একজন বা দুইজন না বরং প্রচুর স্টুডেন্ট আসত। তখন আমি দেখলাম যে, শুধু সামর্থ্য না থাকার কারণে অনেকে মানসম্পন্ন শিক্ষা পাচ্ছে না। এটা তো ধরেন যারা ঢাকা আসতে পেরেছে তাদের ক্ষেত্রে। কিন্তু অনেকে আছে যারা ঢাকা আসতে পারছে না দেখে স্বপ্ন পূরণ করতে পারছে না। যেমন ধরেন, ময়মনসিংহের একটা মেয়ের স্বপ্ন ডাক্তার হওয়া। তার জন্য কোচিং করতে আসতে হবে ঢাকায়। কিন্তু ওই মেয়ের কোনো আত্মীয় নেই ঢাকায়। তাই বাবা-মা মেয়েটিকে ঢাকা পাঠাবে না। মেয়েটির আর স্বপ্ন পূরণ হয় না। তখন আমরা একটা পরিকল্পনা করলাম যে, শুধু সামর্থ্যের অভাবে অথবা ঢাকার বাইরে থাকা ছাত্ররা যেন বঞ্চিত না হয়। আমরা একটা তাগিদ অনুভব করলাম যে, ফ্রি (বিনামূল্যে) এবং অনলাইন এডুকেশন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবো। ফ্রি তাই টাকা পয়সার বালাই নাই আর অনলাইন তাই যেকোনো জায়গা থেকেই শিক্ষার্থী এর থেকে সুযোগ নিতে পারবে। সেই থেকেই টেন মিনিট স্কুল প্রতিষ্ঠার তাগিদ বলতে পারেন। ইটিভি অনলাইনঃ এই প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করলেন এবং এখন তা বড় একটা সফলতা। তবে গল্পটা নিশ্চয়ই এতটা সহজ ছিল না। অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। সেগুলো কী ছিল? আয়মানঃ আমাদেরকে মূলত দুই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে সবথেকে বেশি। প্রথমটা হচ্ছে যে, মানুষ প্রথমে বুঝত না যে, আমরা কী করি। এক আন্টি আমার আম্মুকে বলতো যে, ‘ভাবি, আয়মান কী করে?’ আম্মু বলতো, ‘ভিডিও-ঢিডিও বানায়’। তখন আম্মুকে অনেকে প্রশ্ন করত যে, ‘ভিডিও বানায়! কী ভিডিও বানায়?’ আম্মু বলতো, ‘ভাবি, তা তো জানি না। শুধু দেখি রাতের বেলা যায় সকালে চলে আসে’। যে শুনত তারা তো ভয়ই পেতো যে, কী করি আমরা! এটা অবশ্য খুব স্বাভাবিক ছিল কারণ মানুষ তো বুঝত না। তারা এটা জানতই না যে, অনলাইনে কীভাবে পড়ায়। আরেকটা সমস্যা ছিল যে, একটা পর্যায়ে গিয়ে আমাদের অর্থের প্রয়োজন হয়। পৃষ্ঠপোষক খুঁজে পাওয়াটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। ইটিভি অনলাইনঃ  তো সমস্যাগুলো কীভাবে মোকাবেলা করলেন? আয়মানঃ প্রথম সমস্যাটা আমরা আমাদের কাজ দিয়েই কাটিয়ে উঠেছি। মানুষ দেখেছে যে আমরা করছি। ধীরে ধীরে মানুষের দ্বিধা ভেঙেছে। আমরা এখন রোজ প্রায় আড়াই লাখ স্টুডেন্টদের অনলাইনে পড়াচ্ছি। কেউ যখন ইউটিউব বা ফেসবুকে টেন মিনিট স্কুল সার্চ দিয়ে আমাদের পেইজে যাচ্ছে তখন তারা দেখছে যে, ‘আমার পাঠ্যবইয়ের জিনিসটিই ভিডিও করে দিয়েছে। বাহ!’ আমরা যখন প্রথম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত সব ক্লাসের পড়ার কনটেন্টের ভিডিও করে অনলাইনে দিয়েছি তখন কেউ মিলিয়ে দেখে যে, ‘আরে আমার বিজ্ঞান তৃতীয় অধ্যায়ের ভিডিও!’ তখন জিনিসটা সবার মাঝে স্বাভাবিক হতে থাকে। আর দ্বিতীয় সমস্যাটির জন্য আমরা কৃতজ্ঞ মোবাইল ফোন অপারেটর রবি এবং বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি বিভাগের কাছে। তাদের সরাসরি সহযোগিতা এবং পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে এটা সম্ভব হতো না। এভাবেই ধীরে ধীরে সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠি আমরা। এখনও যা আছে সামনে দিনগুলোতে আরও কেটে যাবে।   ইটিভি অনলাইনঃ মুদ্রার অন্য পিঠ নিয়ে একটু আলাপ করি। আপনারা খুবই দারুণ একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছাত্রজীবনে টিউশনি বা কোচিং করান। স্কুল কলেজের শিক্ষকরা তো করানই। আপনাদের প্ল্যাটফর্মের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই সব শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পাশাপাশি আয়ের যে একটা সুযোগ ছিল, সেটা কি নষ্ট হবে না? আয়মানঃ আমার তেমনটা মনে হয় না। আর মনে না হওয়ার কারণটা একটু ব্যাখ্যা করি। আমরা টেন মিনিট স্কুল এখনও খুবই ছোট আর সীমিত পরিসরে আছি। কিন্তু তারপরেও আমাদের সঙ্গে এখন প্রায় দেড়শ’ জন কাজ করেন। অনেক শিক্ষকরা আছেন যারা আমাদের এখানে ক্লাস নেন; তার জন্য একটা পারিশ্রমিক পান। অনেকে লাইভে ক্লাস নেন। তাদেরকে কিন্তু আমরা একটা ‘সম্মানী’ দেই। আমার মনে হয়, আমাদের প্ল্যাটফর্মের কারণে এই পড়ানো বিষয়টা আরও সহজ হয়েছে। কারণ এখন কাউকে স্বশরীরে গিয়ে পড়াতে হচ্ছে না। বরং নিজ জায়গা থেকে অধিক মানুষকে পড়াতে পারছে। আর এখন আমাদের সঙ্গে দেড়শ’ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। কিন্তু টেন মিনিট স্কুল যখন বড় হবে, তখন আঞ্চলিক হাব তৈরি হবে। তখন আরও মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এখন আমাদের প্রায় আড়াই লাখ শিক্ষার্থী আছে। সামনে তো এটা আরও বাড়বে। তাই আমরা কোনো প্ল্যাটফর্ম নষ্ট করে কিছু করছি না বরং আমরা একটি সহজ এবং ফলপ্রসূ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছি। ইটিভি অনলাইনঃ বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আপনি কী মন্তব্য করবেন? মানে, আমাদের কেন আসলে এই কোচিং, টিউশনি দরকার হয়। স্টুডেন্টদের ‘টেন মিনিট স্কুল’ই বা কেন দরকার হলো? আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাটা যদি এমন হতো যে, কারও কোচিং লাগবে না, টেন মিনিট স্কুল লাগবে। তাহলে কেমন হতো? আয়মানঃ সার্বিকভাবে মানুষকে শেখানোর দরকার। মানুষ কোন জায়গা থেকে কোনো না কোনোভাবে শিখবে। এখন শেখার মাধ্যমটা আমার কাছে মনে হয় যে, অনলাইনে হলে অনেক সহজ হয়ে যায়। বিনামূল্যে হয়ে যায়। যেকোন জায়গা থেকে মানুষ এর ফল পেতে পারে। আমি একটা সহজ উদাহরণ দিয়ে বলি। ধরে নেন আমি ভালো পড়াই। আমি একটা ক্লাস নিই। ক্লাসে ৪০ জন আছে। কিন্তু এই ক্লাসটা আমি অনলাইনে নিলে ৪০ হাজার মানুষ দেখতে পারে। আপনি যদি ৪০ জন করে এই ৪০ হাজার মানুষের কাছে পৌঁছাতে চান তাহলে তো জনম পার হয়ে যাবে। আপনার কাছে একটা প্রযুক্তি আছে, সুযোগ আছে। আপনি কেন এই সুযোগটা নেবেন না? এখন আপনি যদি চিন্তা করেন যে, আমার চাকা আবিষ্কার করে কী লাভ বা আমার মোটর আবিষ্কার করে কী লাভ? আমার ঘোড়ার গাড়ি তো নষ্ট হয়ে যাবে। আর পরিবর্তনটা যদি না আনেন তাহলে তো সমস্যা। তাহলে তো আপনি সামনের দিকে আগাতে পারবেন না। আমার মনে হয় মানুষ এখন যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোচ্ছে। আর এডুকেশন সিস্টেমে অনলাইনে একটা বিশাল প্রভাব আসবে। একটা সময় সবাই অনলাইনেই পড়ালেখা করবে। ইটিভি অনলাইনঃ এবার ‘হ্যাপি মোমেন্টস’ নিয়ে আলাপ করি। আপনি যখন জানতে পারলেন যে, আপনি কুইন্স অ্যাওয়ার্ড পেতে যাচ্ছেন। তখন কেমন অনুভব করেছিলেন আপনি? আয়মানঃ আমার জানার মুহুর্তটা বেশ অবাক করার মতো ছিল। আর সবথেকে অবাক করা বিষয় ছিলো যে, খুশির মুহুর্তটা উদযাপন করতে পারছিলাম না। আমাকে বলা হলো যে, একটা সেশন হবে। আমি ভাবলাম ইন্টারভিউ (সাক্ষাৎকার) সেশন হবে। আমরা ইতোমধ্যে দুই তিনটা ইন্টারভিউ দিয়েছি। ভাবলাম হয়তো আরও হবে। সুন্দর কাপড়চোপড় পরে আমার স্টুডিও’তে গিয়ে স্কাইপ অন করে বসেছিলাম। ইন্টারভিউ দিবো খাতা কলম নিয়ে। তখন তারা আমাকে বলল যে, এটা ফাইনাল কল। ইন্টারভিউ না। অনেক খুশি হয়েছিলাম। আমি পুরস্কারটা পেয়েছি। খুশি হলে মানুষ কী করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়। কিন্তু শর্ত দিলো যে, এই খবর এখনই প্রকাশ করা যাবে না। ফেসবুকে দেওয়া যাবে না। দুই সপ্তাহ পর আনুষ্ঠানিকভাবে তারা জানাবে তখন প্রকাশ করতে পারব। তো খুব ভালো লাগতেছিল কিন্তু আনন্দটা চাপিয়েও রাখতো হয়েছিল। ইটিভি অনলাইনঃ ইদানীং আমাদের দেশের তরুণদের মধ্যে বিসিএস নিয়ে এক ধরনের একটা ক্রেজ চলছে। সরকারি চাকরি না হলে বুঝি আর কিছুই না। আপনারা এমন স্রোতের বাইরে গিয়ে কাজ করছেন। কিন্তু যারা এই চিরাচরিত স্রোতেই আছে তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী হবে? আয়মানঃ বিসিএস অবশ্যই খুব ভালো একোটা জায়গা। কিন্তু এর বাইরে যে একটা বিশাল জায়গা আছে সেটা বুঝতে হবে। এরজন্য অনলাইনে পড়াশুনা করতে হবে। ইউটিউব তো এখন বড় একটা পাঠশালা। সেখান থেকে শিখে কাজে নামা যেতে পারে। বড় বড় ইন্ডাস্ট্রি তৈরি হচ্ছে। এখানে কাজ করার যে বড় সুযোগ আছে তা কিন্তু আমাদের তরুণদের বুঝতে হবে। এখানে কাজ করার, সফলতা অর্জন করার অনেক সুযোগ আছে।         ইটিভি অনলাইনঃ আপনারা সফল হলে। পুরো এই সফরটা নিয়ে যখন ভাবেন তখন কী চিন্তা করেন? এতদূর আসছেন বা এই যে একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করলেন। একটা তারকা তকমা লেগে গেছে। কেমন লাগে? আয়মানঃ তিন বছর হলো। শুরুর দিন মাত্র ১৫৭ জনকে পড়িয়েছিলাম। ঐদিন খুব খুশি হয়েছিলাম। এখন আড়াই লাখ ছাত্রছাত্রীদের পড়াই। আমার কাছে মনে হয়, সফরটা মাত্র শুরু হচ্ছে। কারণ বাংলাদেশে প্রায় চার কোটি ২৭ লাখ রেজিস্টার্ড শিক্ষার্থী আছে। এক লক্ষ ৭০ হাজার স্কুল আছে। আমরা সবাইকে এখনও ধরতে পারি নাই। আমি বলব যে, আমার স্বপ্ন মাত্র হামাগুড়ি দেওয়া শুরু করেছে। আরও বহুদূর যাওয়া বাকি। ইটিভি অনলাইনঃ সেই ‘দূর’টা কত দূরে? আয়মানঃ এক লক্ষ ৭০ হাজার স্কুল আমাদের সাথে যুক্ত থাকবে। চার কোটি ২৭ লক্ষ শিক্ষার্থীই আমাদের এই প্ল্যাটফর্মের সাথে যুক্ত হয়ে বিনামূল্যে বিশ্বমানের পড়াশুনা করবে। এটাই আমাদের লক্ষ্য, স্বপ্ন। ইটিভি অনলাইনঃ ইদানীং আমাদের দেশের তরুণদের মধ্যে বিসিএস নিয়ে এক ধরনের একটা ক্রেজ চলছে। সরকারি চাকরি না হলে বুঝি আর কিছুই না। আপনারা এমন স্রোতের বাইরে গিয়ে কাজ করছেন। কিন্তু যারা এই চিরাচরিত স্রোতেই আছে তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী হবে? আয়মানঃ বিসিএস অবশ্যই খুব ভালো একোটা জায়গা। কিন্তু এর বাইরে যে একটা বিশাল জায়গা আছে সেটা বুঝতে হবে। এরজন্য অনলাইনে পড়াশুনা করতে হবে। ইউটিউব তো এখন বড় একটা পাঠশালা। সেখান থেকে শিখে কাজে নামা যেতে পারে। বড় বড় ইন্ডাস্ট্রি তৈরি হচ্ছে। এখানে কাজ করার যে বড় সুযোগ আছে তা কিন্তু আমাদের তরুণদের বুঝতে হবে। এখানে কাজ করার, সফলতা অর্জন করার অনেক সুযোগ আছে।   টেন মিনিট স্কুলের ওয়েব লিঙ্কঃ http://10minuteschool.com        

‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুফল পেতে দরকার সমন্বিত উদ্যোগ’

ষোল কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ। এদেশে সম্পদের তুলনায় জনসংখ্যা অনেক বেশি। এ অবস্থায় বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টের (জনসংখ্যাতাত্ত্বিক বোনাসকাল) সুযোগ গ্রহণ করেছে। এদেশে বর্তমানে ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যাই বেশি। কর্মক্ষম মানুষ বেশি থাকলেও তাদের একটি বড় অংশ বেকার। তাই কেউ কেউ মত দিচ্ছেন বিপুল জনসংখ্যা বাংলাদেশের জন্য অভিশাপ। তবে মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পদসহ নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে জনসংখ্যাই এ দেশের সম্পদ ও সম্ভাবনার বড় জায়গা। এই জনসংখ্যাকে যুগোপযোগী শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াবে। যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে চীন, বিশ্ব অর্থনীতিতে রাজত্ব করছে দেশটি। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড এবং বিপুল জনসংখ্যা বাংলাদেশের জন্য বোঝা না, সম্পদ?-এ বিষয়ে কথা হয় অর্থনীতিবীদ, পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদের সঙ্গে। একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ১১ কোটি মানুষ কর্মক্ষম। যাদের বয়স ১৫ থেকে ৬৪ বছর। এর মধ্যে যাদের বয়স ১৫ থেকে ২৯ বছর এমন তরুণ প্রজন্ম আছে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি। তরুণদের বয়স যদি ৩৬ বছর পর্যন্ত ধরি তবে তাদের বয়স হবে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি। এদের  কেউ কাজে ঢুকছে বা ঢুকবে। এছাড়া প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ যুবক আছে, যারা কোনো কাজ করে না, কাজের প্রশিক্ষণও নেয় না। সম্পূর্ণ বেকার। কিন্তু এরা সবাই কর্মক্ষম। এই কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। কিন্তু এ কর্মক্ষমের সংখ্যা বেশিদিন থাকবে না। ২০৪০ সালের দিকে কমতে থাকবে। ২০৫০ সালের পর অনেকটা কমে যাবে। তাই সময় থাকতে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টকে কাজে লাগাতে দরকার বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা। দরকার সমন্বিত গতিশীল তৎপরতা ও উদ্যোগ। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইন প্রতিবেদক রিজাউল করিম। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: বাংলাদেশ বর্তমানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট (জনসংখ্যাতাত্ত্বিক বোনাসকাল) এর সুযোগ গ্রহণ করেছে। দেশে প্রচুর কর্মক্ষম মানুষ। তারা কাজ পাচ্ছে না। এদের দক্ষ করে কাজে লাগাতে হলে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে? কাজী খলিকুজ্জমান: এখন আমাদের এ শিক্ষিত বেকারদের যত দ্রুত সম্ভব কাজের উপযোগী প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার। কেননা এদের বিশেরভাগ এমন এক বিষয়ে লেখা-পড়া করেছে যে বিষয়গুলো চাকরি বাজারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। যারা কাজ করে না, প্রশিক্ষণও নেয় না। তাদেরকে কাজের আওতায় আনতে হবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: প্রশিক্ষণটা আসলে কিভাবে হতে পারে বলে আপনি মনে করছেন? কাজী খলিকুজ্জমান: সরকারি-বেসরকারি অনেক জায়গাতে প্রশিক্ষণ দেয়। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠানেই মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ হচ্ছে না। এমনভাবে এ প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে উঠেছে যার ভালো কোনো প্রশিক্ষক নেই, প্রশিক্ষণ যন্ত্রপাতি নেই। শুধু নামমাত্র প্রশিক্ষণ দিয়েই খালাস। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণে তদারকি আরো বাড়াতে হবে।ঠিকমতো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান আছে। যার সংখ্যা আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে। সরকারের নীতি-সিদ্ধান্তেও আছে প্রত্যেকটি উপজেলায় একটি করে কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার। যেখানে সমসাময়িক চাহিদাপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এরইমধ্যে অর্ধশতাধিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছে। বাকিগুলোও ধীরে ধীরে হবে। এরইমধ্যে একটা বিষয়ের উন্নয়ন হয়েছে। আগে যেখানে পুরো শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১ শতাংশ কারিগরি শিক্ষায় যেতেন। এখন সেখানে ১৪ শতাংশ বেড়েছে। সরকারের পরিকল্পনা আগামী ২০২০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে কারিগরি শিক্ষায় নিয়ে আসা। একুশে টেলিভিশন অনলাইন:  জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করার ক্ষেত্রে সরকারের সুদূরপ্রসারী কোনো পদক্ষেপ কিংবা পরিকল্পনা আছে কী না? কাজী খলিকুজ্জমান: এ বিষয়ে ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে সরকারের একটি শিক্ষানীতি হয়। যে নীতিটি খুবই প্রগতিশীল ও সময়োপযোগী। যেখানে শ্রম সংশ্লিষ্ট কাজের কথা বলা হয়েছে। নৈতিকতার শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। যেখানে উচ্চ শিক্ষার কথা বলা হয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে কারিগরি শিক্ষার কথা বলা হয়েছে। যেখানে অষ্টম শ্রেণীর পর যদি কেউ আর লেখা-পড়া না করে সে যেন দক্ষতা অনুযায়ী একটি কর্ম বেঁছে নিতে পারে সে কথাটিও সন্নিবেশিত করা হয়েছে। আর যদি পড়ে তবে কারিগরি শেষ পর্যন্ত পড়তে পারবে। আগে পদ্ধতি ছিল যারা ডিপ্লোমা করবে তারা শুধু সেটাই করবে। আর কিছু পড়ার সুযোগ ছিল না। এখন নতুন পদ্ধতিতে কেউ যদি দক্ষতা মান ১ থেকে ৪ অর্জন করে সে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবে। দু:খের বিষয় হচ্ছে নীতিটা নীতি আকারেই রয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত শিক্ষা আইন হয়নি। ২০১১ সালে আমাদের দক্ষতা উন্নয়ন নীতি নামে আর একটা নীতি গৃহিত হয়। যে নীতির কাউন্সিল হলো মাত্র কয়েকদিন আগে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কাউন্সিল গঠিত হয়েছে। কিন্তু এতো বছর পেরিয়ে গেলেও নীতির বাস্তবায়নে কোনো আইন বা প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে উঠেনি। অর্থাৎ কাজের অগ্রগতি নেই। এছাড়া সরকার আরো কিছু কর্মসূচি আছে। যে কর্মসূচির আলোকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সে প্রশিক্ষণে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন পিকেএসএফও জড়িত। পিকেএসএফ এরই মধ্যে ১০ হাজার তরুণকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। আরো ১২ হাজার আমরা প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করবে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। সব মিলিয়ে কয়েক লাখ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে গেছে। সরকারের তরফ থেকে আমাদের শর্ত দেওয়া হয়েছিল প্রশিক্ষণার্থীদের ১৪ শতাংশের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। এরই মধ্যে আমরা দেখেছি যে ৮১ শতাংশ কোনো কোনো জায়গায় কর্মসংস্থান হয়ে গেছে। কোন কোন জায়গাতে শতভাগ কর্মসংস্থান হয়ে গেছে। এদের (প্রশিক্ষণার্থীদের) বেশিরভাগ-ই হয়েছে চাকরিজীবী, উদ্যোক্তা ও বিদেশগামী। এছাড়া আমাদের পিকেএসফ এর নিজেস্ব একটি কর্মসূচি আছে। যেখানে আমরা সমৃদ্ধি বাংলাদেশ নামক কর্মসূচিতে প্রায় ২০০টা ইউনিয়নে কাজ করেছি। সেখানে আমরা দুই ধরণের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। একটি হচ্ছে মানবিক গুণাবলি।অন্যটি হচ্ছে দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশের অবস্থা কেমন?  যদি আমরা পিছিয়ে থাকি, তার কারণ কী? কাজী খলিকুজ্জমান: ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুবিধা ভোগ থেকে আমরা পিছিয়ে পড়েছি শুধু একটি কারণে। সেটি হচ্ছে আমাদের যে মূল শক্তি তথা জনসম্পদ সেটির বেশিরভাগই অদক্ষ। একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। বিদেশিরা প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমান অর্থ আমাদের দেশ থেকে নিয়ে যাচ্ছে। তারা আমাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপক স্তরে কাজ করে। মোটা অঙ্কের বেতন পায়। তাই অল্প সংখ্যক হয়েও তারা অনেক বেশি অর্থ আমাদের দেশ থেকে নিয়ে যাচ্ছে। অথচ আমরা এতো সংখ্যক লোক বিদেশে যাওয়ার পরও আমরা রেমিটেন্স আনতে পারছি মাত্র ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আমাদের যারা বিদেশে যায়, তাদের বেশিরভাগ অদক্ষ। যার কারণে তাদের অপেক্ষাকৃত বেশি শ্রমের কাজ করতে হয়। মাঠে-ময়দানে কাজ করতে হয়। যেখানে বেতনও কম। দক্ষতা বাড়াতে পারলে আমাদের শ্রমিকরাও অনেক বেশি আয় করতে পারবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন:  আমাদের বিপুল জনসংখ্যাকে অনেক বিশেষজ্ঞ বোঝা মনে করেন, আপনিও তাই মনে করেন কি না? কাজী খলিকুজ্জমান: বেকারদের আমি বোঝা মনে করি না। তবে তাদের অনেকে আবার বেকার থাকার করণে খারাপের দিকে ধাপিত হচ্ছে। মাদকের দিকে যাচ্ছে। মেয়েদের উত্তক্ত করছে। নানাবিধ অপকর্মে জড়িত হয়ে পড়ছে। কাজের অভাবেই কিন্তু তারা বিপথে যাচ্ছে। নৈতিকতার শিক্ষা দিয়ে তাদের ভালো করা যাবে না। যতক্ষণ জীবন চলার মতো কোনো কর্মের সন্ধান না দিতে পারবো। একুশে টেলিভিশন অনলাইন:  ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট কাজে লাগিয়ে যেসব দেশ উন্নত হয়েছে। তাদের থেকে আমরা কি শিক্ষা নিতে পারি? কাজী খলিকুজ্জমান: ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় আমরা এগিয়ে আছি। তবে সমৃদ্ধ দেশে চীন, জাপান, তাইওয়ান ও ভারতের মতো দেশগুলোর তুলনায় আমরা পিছিয়ে আছি। ভারত- শ্রীলঙ্কা দক্ষতার উপর অনেক বেশি নজর দেয়। তারা বাজারমুখী এবং চাহিদা আছে এমন শিক্ষার উপর গরুত্ব দেয়। তাদের দক্ষ জনশক্তি দেশে ও বিদেশের শ্রমবাজারে দাপটের সঙ্গে কাজ করে। প্রচুর আয় করে। আমাদের সে জায়গাটায় যেতে হলে শ্রমশক্তির দক্ষতার ওপর জোর দিতে হবে। চীন, জাপান ও তাইওয়ানের পর্যায়ে যেতে আমাদের অনেক সময় লাগবে। সমন্বিত কর্মতৎপরতা ছাড়া সেখানে পৌঁছানো সম্ভব না। সেজন্য শিক্ষার হার যেমন বেড়েছে, এর মানও সমানতালে বাড়ানো দরকার। এ ক্ষেত্রে জাপান থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি। জাপানে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর অর্থনীতি একেবারেই ধ্বংস হয়ে গেছিল। কিন্তু তারা শিক্ষা ও শ্রমশক্তির দক্ষতায় আগে থেকেই এগিয়ে ছিল। শিক্ষা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তারা আজকের পর্যায়ে এসেছে। আমাদের ডেমোগ্রাফিক কাজে লাগাতে হলে দক্ষতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। একুশে টেলিভিশন অনলাইন:  বর্তমানে কোন কোন খাতে দক্ষ মানবসম্পদের অভাব আছে বলে মনে করেন এবং ভবিষ্যতে কোন খাতে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান হতে পারে? কাজী খলিকুজ্জমান: সব খাতেই আমাদের দক্ষতার অভাব আছে। আমাদের যে কোনো বিষয়ে প্রশিক্ষকের অভাব আছে। কৃষিতে দক্ষতা লাগে। বাজারজাত করণে দক্ষতা লাগে। গ্রামগঞ্জে ছোট ছোট পার্স তৈরি করায় দক্ষতা দরকার। এগুলোতে প্রচুর দক্ষ শ্রমশক্তির চাহিদা সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া বর্তমান সময়ে তথ্য প্রযুক্তি খাতেও প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ হচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরে ড্রাইভিংয়েও প্রচুর জনবল লাগছে। এগুলোর কোনোটিতেই আমাদের পর্যাপ্ত দক্ষতাসম্পন্ন জনবল নেই। একুশে টেলিভিশন অনলাইন:  ডেমোগ্রাফিক ডিফিডেন্ড বাংলাদেশ আসলে কতটা কাজে লাগাতে পারছে? আপনার মূল্যায়ন কি? কাজী খলিকুজ্জমান: আমাদের বিধি আছে। আইন আছে। প্রতিষ্ঠানিক কিছু ব্যবস্থাও আছে। কিন্তু যেখানে বাস্তবায়নের প্রশ্ন আসে সেখানেই বড় ঘাটতি থেকে যায়। সেই ঘাটতি আমাদের দূর করতে হবে। আমরা জানি আমাদের দক্ষতার গ্যাপটা এতো বড় যা অল্প সময়ে পূরণ সম্ভব না। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ করলে অল্প সময়ে দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব। সবাইকে সমানভাবে, সম্মানের সঙ্গে কাজে লাগাতে হবে। সবাইকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগও তৈরি করতে হবে। / এআর /

ঢাবির পর মেধাবীদের পছন্দের শীর্ষে জবি: ড.মীজানুর রহমান

পুরান ঢাকার প্রাচীন বিদ্যাপিঠ জগন্নাথ কলেজ এখন পূর্ণাঙ্গ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের এক যুগ পার হতেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আজ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরই জগন্নাথ এখন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রমের শীর্ষে অবস্থান করছে। শিক্ষা-সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। এখানকার শিক্ষার্থীরা শিক্ষা গবেষণার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রেও নেতৃত্ব দিতে শুরু করেছে। গত কয়েক বছরে বিসিএস পরীক্ষায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল করেছে। সিভিল সার্ভিসের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিয়োগ পাচ্ছে। এখানকার বহু শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতারও সুযোগ পাচ্ছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গী উপাচার‌্য ‌অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অগ্রগতির নানা তাঁর সঙ্গে কথা হয় একুশে টিভি অনলাইনের। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাসুদ রানা। একুশে টিভি অনলাইনঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চ শিক্ষার বিকাশে কতটুটু এগিয়েছে, উপাচার‌্য হিসেবে আপনার মূল্যায়ন? ড.মীজানুর রহমানঃ আমি যখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালেয়ের ভিসি হিসেবে নিয়োগ পাই তখন অনেক বড় সংকট ছিল। ছাত্র-শিক্ষকের অসম অনুপাতের দিক থেকে বাংলাদেশের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বাজে অবস্থায় ছিল। আমরা মোটামুটি সেটা কাটিয়ে উঠেছি। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ৩০০ শিক্ষক ছিলেন। কোনো কোনো বিভাগে তো মাত্র ৩-৪ জন শিক্ষক ছিলেন। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৭০০ শিক্ষক আছেন। ফলে আমরা ছাত্র-শিক্ষকের যে অসম অনুপাত ছিল সেটি কমাতে সক্ষম হয়েছি। আরও শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। একুশে টিভি অনলাইনঃ শিক্ষার মান উন্নয়নে গবেষণা বাড়ানোর বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আপনার আছে কি-না? ড.মীজানুর রহমানঃ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার বিষয়টা তেমন গুরুত্ব পেত না। তবে আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু করি। এই কার্যক্রম চালু করার পর এ পর্যন্ত ৪ জন পিএইচডি ডিগ্রি নিয়েছেন। আগামী একাডেমিক কাউন্সিলে আরও কয়েকজন গবেষক এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি পেয়ে যাবেন বলে আশা করছি। আমাদের গবেষণার জন্য বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ১৪০ জন গবেষণা করছে। তাদের মধ্যে ৬০-৬৫ জন গবেষণা সম্পাদন করে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন আর বাকিরা খুব শিগগিরই জমা দিয়ে দেবেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করছে। বিশ্ব ব্যাংকের প্রকল্পের মাধ্যমে কয়েকটি বিভাগে ল্যাবরেটরি উন্নয়নের কাজ শেষ হয়েছে। বিজ্ঞান গবেষণার যে সমস্যা ছিল ধীরে ধীরে সেটা সমাধান করার চেষ্টা করছি। হেকেপ প্রকল্পের মাধ্যমে পদার্থ ও রসায়ন বিভাগে উন্নত মানের ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া নতুন বিভাগগুলোর ল্যাব করার জন্য ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে আমরা গবেষণার জন্য সব কার্যক্রম আরও ভালোভাবে করতে পারব। একুশে টিভি অনলাইনঃ আপনার সময়ে একাডেমিক কার্যক্রম কতটা গতি পেয়েছে? ড.মীজানুর রহমানঃ অবস্থানগত সুবিধা বিশেষ করে রাজধানীতে ক্যাম্পাস হওয়ায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর দেশের সেরা শিক্ষক ও শিক্ষকদের জন্য দ্বিতীয় আকর্ষণ। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় যেমন-বরিশাল, পাবনা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেখানে ২-৩ জন করে পূর্ণাঙ্গ অধ্যাপক আছেন সেখানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫০ অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক আছেন। আমাদের রসায়ন বিভাগে ২২ জন শিক্ষকের মধ্যে ১৭ জনের পিএইচডি আছে। আমরা আইন বিভাগ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় রানার্স আপ। গত কয়েক বছর আমরা বিসিএস পরীক্ষায় অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে ভালো করেছি। আমরা এখন একাডেমিকভাবে ভালো করছি তার প্রমাণ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আমাদের শিক্ষার্থীদের অর্জন। একুশে টিভি অনলাইনঃ বিগত কয়েকটি বিসিএস পরীক্ষায় জবি শিক্ষার্থীরা ভালো করেছে। এর পেছনে শিক্ষকদের ভূমিকাকে কিভাবে ব্যখ্যা করবেন? ড. মীজানুর রহমানঃ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের সব মেধাবীরা ভর্তি হয়। আমরা ভর্তির বিষয়ে খুবই সতর্কতা অবলম্বন করি। এছাড়া আমাদের এখানে দক্ষ শিক্ষকরা আছেন যারা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান করান। শিক্ষার্থীদের টেক কেয়ার করেন। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়েও শিক্ষকরা গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়ে থাকেন। ফলে আমাদের শিক্ষার্থীরা উন্নতি করছে। আমাদের নতুন ভবন হওয়ায় ক্লাস রুমের ঘাটতি নাই। ফলে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখায় মনযোগী হতে পারছে। তাদের ভালো পড়াশোনার জন্য সব কার্যক্রম অব্যাহত আছে। একুশে টিভি অনলাইনঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন সংকট একটি বড় সংকট। এটি সমাধানে কি ধরনের পরিকল্পনা আছে কি-না? ড.মীজানুর রহমানঃ না, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবীর এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে পিয়ন থেকে  শুরু করে উপাচার্য পর্যন্ত সবাই ভাড়া বাসায় থাকেন। এখানে আবাসনের কোনো সুযোগ নাই আর করাও হবে না। এখানে আবাসনের কোনো ব্যবস্থা নেই সবাই জেনেই ভর্তি হয়। একুশে টিভি অনলাইনঃ হল উদ্ধারের বিভিন্ন সময় আন্দোলন হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি আছে কি-না? ড.মীজানুর রহমানঃ এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে আগেও কোনো হল ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ২০ বছর আগে কলেজে যারা পড়তন তারা বিভিন্ন বাসায় থেকে পড়ালেখা করতেন। একুশে টিভি অনলাইনঃ ছাত্রী হল নির্মাণের অগ্রগতি কতদূর? ড.মীজানুর রহমানঃ নির্মাণকাজের ৩ বছর কেটে গেছে। আগের ৪ বছর অবৈধ স্থাপনার কারণে কাজ করা সম্ভব হয়নি। এখন হলের অবকাঠামো দাঁড়িয়ে গেছে। এই প্রকল্পের মেয়াদ আগামী বছর জুন পর্যন্ত। তার আগেই এই কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করছি। একুশে টিভি অনলাইনঃ কেরানীগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় ক্যাম্পাস নিয়ে কি ভাবছেন? ড. মীজানুর রহমানঃ দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নিয়ে আমরা মাস্টার প্ল্যান করেছি যেখানে সবকিছু থাকবে। আমাদের ক্যাম্পাসের জন্য ভূমিগ্রহন চূড়ান্ত পর্যায়ে। আমাদের ভূমি অধিগ্রহন ও ভূমি উন্নয়নের জন্য দুই হাজার কোটি টাকার প্রকল্প পাস হয়েছে। প্রকল্পটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কাছে দিয়েছি। মঞ্জুরি কমিশন প্রথমধাপের কাজ শেষ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে যাবে। একুশে টিভি অনলাইনঃ আপনার মেয়াদে কি ২য় ক্যাম্পাসের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে? ড.মীজানুর রহমানঃ আমার মেয়াদে সম্ভব না। তবে আমি কাজ শুরু করে যেতে পারব। আমি প্রথমে দেয়াল দিয়ে লেকের কাজ করে তারপরে স্থাপনার কাজ করব। এই কাজ ২ বছরের মধ্যে করা হবে। একুশে টিভি অনলাইনঃ জবির পরিবহন সংকট কিভাবে মোকাবেলা করছেন? ড. মীজানুর  রহমানঃ আমরা পরিবহন সংকট কাটিয়ে উঠেছি। আমাদের পর্যাপ্ত পরিবহন আছে। আমি যোগদানের ৬ বছরের মধ্যে পরিবহণ তিনগুণ বাড়িয়েছি। এই অর্থ বছরে প্রগতিতে শিক্ষার্থীদের ৩ টা ও শিক্ষকদের একটা এসি বাস অর্ডার দেওয়া হয়েছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ দীর্ঘ একযুগ পার হয়ে গেলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়নি। সমাবর্তন কি হবে? ড.মীজানুর  রহমানঃ খুব শিগগিরই কোনো সমাবর্তন হবে না। আর হওয়ার সম্ভবনাও নাই। কারণ সমাবর্তন করার মতো আমাদের জায়গা নাই। আমাদের নিজস্ব ক্যাম্পাস যখন হবে তখন করা হবে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অন্য কোনো জায়গায় হয় না। এটা কোন বিয়ে না যে কমিউনিটি সেন্টারে করলাম। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ আজ থেকে ৫ বছর পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে কোন জায়গায় দেখতে চান? ড.মীজানুর রহমানঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় খুব অল্প সময়ে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। তবে আমি মনে করি সার্বিকভাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাবে। এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। এম / এআর /  

স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে যেতে চাইলে ভাষাগত দক্ষতা থাকা জরুরি: শফিকুল

হালের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখন অনেকেই বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী। বিদেশের বহু দেশে আগের তুলনায় এখন অনেকের ডিগ্রি নেওয়ার সুযোগও তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোর বেশ কিছু নাম করা বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে স্কলারশিপে পড়ালেখার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশের তরুণরা। আগ্রহ থাকলে আপনিও এই সুযোগ নিতে পারেন। সেজন্য প্রস্তুতিটা হতে হবে গুছানো। এমনটাই মনে করেন গ্লোবাল স্টাডি কনসালট্যান্সির ব্যাবস্থাপনা পরিচালক শফিকুল ইসলাম জীবন। সম্প্রতি একুশে টিভি অনলাইনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাতকার তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাতকার নিয়েছেন একুশে টিভি অনলাইন প্রতিবেদক তবিবুর রহমান। তার কথায় উঠে এসেছে স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে পড়তে যাওয়ার বিভিন্ন দিক নির্দেশনা ও পরামর্শ। একুশে টিভি অললাইন : একজন শিক্ষার্থী বিদেশ পড়তে যেতে চাইলে কোন কোন বিষয় প্রস্তুতি নিতে হবে ?   শফিকুল ইসলাম : অনেক বিষয় মাথায় রাখতে হবে। তার মধ্যে প্রথম হচ্ছে যে শিক্ষার্থী বিদেশ যেতে ইচ্ছুক তার পরিবারের সার্মথ্য আছে কি না সেটি দেখতে হবে। পরিবার তাকে কি ধরনের সহযোগিতা করতে পারবে সেটা মাথায় রাখতে। পড়ালেখা করতে টাকা পয়সা দিয়ে কি ধরনের সহযোগিতা করতে পারবে সেটার চিন্তা আগে মাথায় রাখতে হবে। এরপর কোন দেশ যেতে চান সেদেশের ভাষা শিখে নিতে হবে। এজন্য নিজেকে আগে থেকেই প্রস্তুত করতে হবে। যেদেশে যান না কেন আগে আপনাকে ইংরেজিতে ভাল দক্ষ হতে হবে। এজন্য বিভিন্ন কোচিং এর মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদি  কোর্স করতে পারেন। নিজের পড়াশুনার পাশাপাশি নিজেকে  প্রস্তুত করতে পারলে অনেক ভাল হবে। সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপর্ণ কাজ হলো কোন দেশে যাবে শিক্ষার্থীরা সে বিষয় আগে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমাদের দেশের অনেক শিক্ষার্থী সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। কোন দেশে যাবে এবং কোন বিষয় পড়াশুনা করব। যে কারণে অনেক ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা যায়। আজকে হয়তো কানাডা যাওয়া চেষ্টা করছেন কাল হয়তো সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়ে যায়। অন্যদিন নিউজিল্যাড যাওয়ার চিন্তা করে। এমন করার জন্য অনেক সময় সমস্যা সৃষ্টি হয়। একারণে আগে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোন দেশে যাবেন। এবং সেই দেশে যেতে হলে কি কি বিষয় আগে জানতে হবে। তাদের দেওয়া শর্ত অনুযায়ী নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। কোন  কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পড়তে আগ্রহী তারা কি ধরনের সুযোগ সুবিধা দেবে সেগুলো জানতে হবে। পড়তে হলে কি  কি যোগ্যতা লাগে সে বিষয় আগেই দেখে নিতে হবে। অনেক শিক্ষার্থী আছে তিন মাস চার ধরে সবকিছু প্রস্তুতি শেষ করে। কিন্তু আবেদন ফি পরিশোধ করতে গিয়েই পড়তে হয় সমস্যার মধ্যে। কারণ  শিক্ষার্থীর  সরাসরি নিজেদের অবেদন ফি পরিরোধ করতে পারে না। কারণ বাংলাদেশে আবেদন ফি পরিশোধ করার জন্য কিছু শর্ত আছে। এখনও আমাদের দেশের ব্যাংকগুলোতে আবেদন ফ্রি পরিশোধ করা তেমন ব্যবস্থা চালু নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের তেমন উদ্যোগ নেই। এছাড়া কমসংখ্যাক লোক আছে যারা আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহার করে। যে কারণে নিজে নিজে আবেদন ফি পরিশোধ করতে সমস্যায় পড়তে হয়। তবে শিক্ষার্থীরা যেদেশে পড়ালেখা করতে চান সেদেশে তার কোন আত্নীয় স্বজন থাকলে তাদের মাধ্যমে আবেদন ফি পরিশোধ করতে পারেন। একুশে টিভি অনলাইন :  প্রতিবছর কী পরিমাণ শিক্ষার্থী বিদেশে পড়তে যাচ্ছে ? শফিকুল ইসলাম : বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর কতজন শিক্ষার্থী দেশের বাইরে যাচ্ছে তাদের সঠিক কোন ডাটা নেই। ডাটা বা তালিকা তৈরি করতে সরকারের কোনো ধরনের  উদ্যোগ নেই। কিন্তু মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন করার নিয়ম থাকার কারণে তালিকা রয়েছে। এ বিষয় যদি একটা মরিটরিং করা যেতো তাহলে সঠিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করা যেতো। তবে আমার ধরণা বাংলাদেশে ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থীর ইচ্ছা বিদেশ পড়তে যাওয়া। আপনি যদি ১০ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেন তাহলে দেখবেন ৬ জন শিক্ষার্থীর ইচ্ছা থাকে বিদেশ থেকে পড়াশুনা করার। একুশে টিভি অলনলাইন : কোন সময় ‍শিক্ষার্থীর বিদেশে যেতে বেশি আগ্রহী হয়ে থাকে ? শফিকুল ইসলাম: এক সময় ছিলো অর্নাস মাস্টাস শেষ করে বেশি শিক্ষার্থীরা বিদেশে পড়তে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করত। কিন্তু এখন এসএসসি পাশ করার পরপর বিদেশে পড়তে আগ্রহী হয়ে উঠছে। আগে তো এইচএসসি পাশ করার পর বিদেশে যাওয়ার ব্যবস্থা ছিল এখন শিক্ষার্থীদের আগ্রহের কারণে এসএসসির পর এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তবে মূলত বেশি  আগ্রহ দেখায় এইচএসসি পাশের পর। একুশে টিভি অললাইন :  বাংলাদেশ থেকে স্কলারশিপ নিয়ে কি পরিমাণ শিক্ষার্থী বিদেশে যাচ্ছে ? শফিকুল ইসলাম: স্কলারশিপের অনেকগুলো শ্রেণী আছে। একটা হলো প্রাতিষ্ঠানিক স্কালারশিপ। বিভিন্ন দেশে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিভিন্ন ধরণের স্কালারশিপ দিয়ে থাকে। যেমন অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আছে যারা ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। এছাড়া সরকার টু সরকার বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের স্কালারশিপ দিয়ে থাকে। এটা সরকার বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে ব্যবস্থা করে থাকে। আবার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় মেধাভিত্তিক স্কালারশিপ দিয়ে থাকে। যেমন কানাডা, ইউএসএ, ইউকে, চায়নাসহ বিভিন্ন দেশের সরকার  ফুল  স্কালারশিপ দিচ্ছে। অনেক সময় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বিবৃতি দিয়ে স্কলার দিয়ে থাকেন। তবে কতজন স্কালারশিপ নিয়ে আসলে বিদেশ যাচ্ছে এটার নির্ধারিত পরিমাণ বলা সঠিক। স্কালারশিপ নিয়ে বিদেশে পড়া ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। একুশে টিভি অললাইন : বিদেশ পড়তে যাওয়ার ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থীকে আপনি কি পরার্মশ দেবেন?   শফিকুল ইসলাম : একজন শিক্ষার্থী যদি স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে পড়তে যেতে ইচ্ছা করে তাহলে অবশ্যই তাকে বিভিন্ন দেশের  বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট নিয়ে তাদের অফারগুলো দেখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিভিন্ন সময় স্কলারশিপের অফার দিয়ে থাকে। সেই অফার অনুযায়ী আবেদন করতে হবে। একুশে টিভি অনলাইন: আপনার মূল্যবান সময় দেওয়া জন্য ধন্যবাদ। শফিকুল ইসলাম : আপনাকেও ধন্যবাদ। / এআর /    

মানুষ বাঁচুক মান‌বিক মর্যাদায়: সে‌লিনা হো‌সেন

সেলিনা হোসেন। গল্প-উপন্যাস ‌ঘিরে কয়েক দশকের নিরলস পথ চলা তার। ছাত্র জীবনে বাম রাজনী‌তির সঙ্গে জ‌ড়িয়ে পড়েন। কর‌তেন ছাত্র ইউ‌নিয়‌নের রাজনী‌তি। পরে রাজনীতিতে নিজেকে বেঁধে না রেখে লেখালেখিতেই মন দেন। ই‌তিহা‌সের সঙ্গে রাজনী‌তির নি‌বির সম্পর্ক থাকায়, তাঁর লেখালেখিতে রাজনীতির ছাপও পড়ে। তার লেখালেখিতে উ‌ঠে এ‌সে‌ছে সমকালীন রাজনীতি, বিভিন্ন সামাজিক সংকট, বাঙালি ও দেশভা‌গ ও ভাষা সংগ্রা‌মের ই‌তিহাস, গণআ‌ন্দোল‌নের ই‌তিহাস। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ একটি বড় স্থান দখল করে আছে তার লেখ‌নি‌তে। তার বহু লেখা অনুদিত হয়ে গোটা বিশ্বের বই প্রেমিদের আনন্দ দিচ্ছে। দেশ-বিদেশে বহু গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন তিনি। লেখালে‌খি ছাড়া বর্তমা‌নে শিশু একাডেমির চেয়ারম্যা‌নের দায়িত্ব পালন করছেন সেলিনা হোসেন। এর আ‌গে পেশাগত জীব‌নে বাংলা একাডেমিতে গ‌বেষক হি‌সে‌বে দা‌য়িত্ব পালন ক‌রে‌ছেন। গত ১৪ জুন তিনি ৭২এ-পা দেন। লেখালেখি, সমসাময়িক সমাজচিন্তা, ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে সম্প্রতি তার মুখোমুখি হয় একুশে টিভি অনলাইন। সাক্ষাৎকার‌ নি‌য়ে‌ছেন মোহাম্মদ রু‌বেল। দুই পর্বের সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্ব আজ পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হলো- একু‌শে ‌টি‌ভি অনলাইন: একজন সা‌হি‌ত্যিক হি‌সে‌বে সা‌হিত্য এবং রাজনীতি এ দু‌টি বিষয়‌কে কিভা‌বে দেখেন? বর্তমান রাজ‌নৈ‌তিক প্রেক্ষাপট‌কে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন ক‌রবেন? ‌সে‌লি‌না হোসন: আমি যখন রাজশাহী বিশ্ব‌বদ্যাল‌য়ে প‌ড়ি। তখন থে‌কেই ছাত্র ইউ‌নিয়‌নের রাজনী‌তি করতাম। আবার ওই সময়ই ছাত্র ইউ‌নিয়ন দুই‌ ভা‌গে ভাগ হ‌য়ে ছি‌লো। এই রাজনী‌তির সূ‌ত্রে যখন আ‌মি মার্ক্স এ‌ঙ্গে‌লের বই গু‌লো প‌ড়ি এবং অর্থ‌নৈ‌তিক সূত্রটা পাই তখন আমার ম‌নে হ‌য়ে‌ছিল ফুটপা‌তে ঘু‌মি‌য়ে থাকা মানুষ গু‌লো‌কে অন্ন বস্ত্র দেওয়া যা‌বে। ওই সময় সো‌ভি‌য়েত ইউ‌নিয়ন আমা‌দের সাম‌নে অ‌নেক বড় দৃষ্টান্ত ছি‌লো সমতা সৃষ্টির বিষ‌য়ে। তো মার্ক্স এ‌ঙ্গেল পড়েই রাজনী‌তি‌তে আসা।এবং পরবর্তী‌তে ম‌নে হয়ে ছিল রাজনীতি দিয়ে য‌দি আমরা এগোতে পা‌রি তাহ‌লে গরীব জন‌গোষ্ঠীকে শিক্ষা,স্বাস্থ্য, আশ্রয় সব‌কিছু পা‌বে। রাজনী‌তি‌কে এভা‌বেই দে‌খি। রাজনী‌তি শুধু এক‌টি দ‌লের ক্ষমতা যাওয়া নয়।‌ সেই দলটির কাজ হ‌বে সাধারণ মানুষ‌কে প্রসা‌রিত করা। যা‌তে ক‌রে সাধাণ মানুষ তার স্বাভা‌বিক মর্যাদা নি‌য়ে বেঁ‌চে থাকার সূত্রগু‌লো অবলম্বন কর‌তে পা‌রে। সেই সূত্রগু‌লো যেন পায়। যখন আমা‌দের সং‌বিধা‌নে সমাজত‌ন্ত্রে কথা বলা‌ ছিলো। তখন আমার ম‌নে হ‌য়ে‌ছি‌লো এটা রাজনীতির একটা বড় জায়গা। আমরা য‌দি এই ল‌ক্ষ্যে এ‌গি‌য়ে যে‌তে পা‌রি তাহলে আমরা সেটা কর‌তে পার‌বো। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ‌সেই জায়গা‌টি‌কে ধ‌রে এ‌গি‌য়ে যা‌চ্ছেন। কিন্তু রাষ্ট্রীয় কাঠা‌মোর ম‌ধ্যে অ‌নেক দিক থা‌কে, সেই সব দিকগুলো এক জায়গায় করে কাজ করা অ‌নেক ক‌ঠিন হ‌য়ে প‌ড়ে। তারপরও তি‌নি যে প্র‌চেষ্টা গু‌লো চালা‌চ্ছেন, দে‌শের উন্নয়‌নের জন্য যে কাজগু‌লো কর‌ছেন, এগু‌লো রাজনী‌তির অনেক বড় এক‌টি প‌রিসর তৈরী কর‌তে পা‌রে। এবং এই প‌রিসর বাংলা‌দেশ‌কে অ‌নেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। একু‌শে‌ টি‌ভি অনলাইন: এবার আপনার সা‌হিত্য প্রস‌ঙ্গে আসা যাক। আপ‌নি ক‌য়েক দশক ধ‌রে নিরলসভাবে লি‌খে যা‌চ্ছেন। আপনার লেখায় শৈশব, ‌কৈশরের জীবন কতটা প্রভাব বিস্তার ক‌রে‌ছে। সে‌লিনা হো‌সেন: শৈশব, কৈশরের ভূ‌মিকা থে‌কেই আ‌মি লেখার অভিজ্ঞতা সঞ্চয় ক‌রে‌ছি। তাই আ‌মি সব সময় ব‌লি শৈশব, কৈশর সোনালী সময় ছি‌লো আমার জীব‌নে। পঞ্চাশ দশ‌কের শুরুর দি‌কের কথা বা মধ্যভা‌গও বলা যায়, আব্বার চাকরির সূ‌ত্রে বগুড়ার কর‌তোয়ার নদীর পা‌ড়ের এক‌টি এলাকায় ছি‌লেন। সেখা‌নে আমা‌দের বা‌ড়ি ছি‌লো। এক‌টি কাঁচা বা‌ড়ি, মা‌টির দেয়াল, উপ‌রে খ‌ড়ের চাল ‌ছি‌লো এবং সেই বা‌ড়ি‌তে ষোলটি ঘড় ছি‌লো। এভা‌বে শৈশ‌বে নানা কিছুর দেখার, প্রকৃ‌তিকে দেখা, মানু‌ষের সঙ্গে মানু‌ষের সম্পর্ক দেখা এবং এই মানু‌ষের অনুভবটি নি‌জের ম‌ধ্যে ধারণ করার বিষয়‌টি আমার ম‌ধ্যে ব্যাপকভা‌বে তখন গেঁ‌থে গিয়ে‌ছি‌লো। আ‌মি সেই জায়গা‌টি ধারণ ক‌রে আমার লেখা‌লে‌খির উপকরণ খু‌জে নি‌য়ে‌ছিলাম।  একু‌শে ‌টি‌ভি অনলাইন: আপনার লেখায় আমরা সব সময় বিপন্ন মানুষের জীবনচিত্র খুঁজে পাওয়া যায়। রো‌হিঙ্গা সংকট লিখায় হাত দি‌য়েছি‌লেন। আর কত দিন পর উপন্যাস‌টি আলোর মুখ দেখবে? ‌সে‌লিনা হো‌সেন: হ্যাঁ, রোহিঙ্গাদের নিয়ে একটা উপন্যাস লেখার ইচ্ছেটা তৈরি হ‌য়ে ছি‌লো ১৯৯৬ সালে। ওইসময় আমার র‌চিত পোকা মাক‌ড়ের ঘড় বস‌তির চল‌চি‌ত্রের স্যুটিং দেখ‌তে গি‌য়েছিলাম টেকনা‌ফে। সেই স্যুটিং‌ দেখার ফাঁকে টেকনাফেরের উ‌খিয়া রোহিঙ্গা ক্যা‌ম্পে গি‌য়ে‌ছিলাম তা‌দের জীবন দেখ‌তে। কারণ তখন আ‌মি জানতাম রো‌হিঙ্গা‌দের নৃ-তা‌ত্তিক নির্যাত‌নের জায়গা থে‌কে তা‌দের সড়ে আসতে হ‌চ্ছে এবং নানা কিছু। তা‌দের ওই জীবন চিত্র দে‌খে তখন আমার মনে হ‌য়ে‌ছি‌লো রোহিঙ্গাদের নিয়ে এক‌টি উপন্যাস লি‌খা যায়। তারপর এ‌ বিষয়ে গবেষণার জন্য নানা তথ্য উপাত্ত-উপাদান সংগ্রহ ক‌রি। তারপ‌র উপন্যাস‌টি লিখতে সময় লাগ‌ছি‌লো। পরবর্তী‌ সম‌য়ে রোহিঙ্গাদের‌ যে পট প‌রিবর্ত‌নের নানা দিকগু‌লো রাজ‌নৈ‌তিক ভাবে পা‌চ্ছিলাম তখন ম‌নে হ‌চ্ছি‌লো উপন্যা‌সে এ জায়গাগু‌লো না এ‌নে উপন্যাস‌টি লিখ‌লে অ‌নেক অং‌শ হয়‌তো মি‌সিং থাক‌বে। সেই জায়টা মি‌সিং থাকা উ‌চিৎ হবে না। সেজন্য কাজ কর‌বো কর‌বো,করার পরও কাজ‌টি ক‌রে উঠ‌তে পা‌রি‌নি। কারণ আমার গ‌বেষণার কাজ‌ সম্পূর্ণ নয় ব‌লে। এখন রো‌হিঙ্গা‌দের বর্তমান প‌রি‌স্থি‌তি দে‌খে ম‌নে হ‌য়েছে, এ বিষয়‌টি‌কে এত সহ‌জভা‌বে গ্রহণ ক‌রা, উপন্যা‌সে তু‌লে আনা কঠিন কাজ। তাই আমার প‌রিকল্পনা‌টি স্থ‌গিত রে‌খে‌ছি। একু‌শে‌টি‌ভি অনলাইন: রো‌হিঙ্গা সংকটকে কিভা‌বে দেখ‌ছেন? ‌সে‌লিনা হো‌সেন: হ্যাঁ,আগামী ৫০ বছর পর রো‌হিঙ্গা‌দের ভ‌বিষ্যৎ শেষ পর্যন্ত কোথায় গি‌য়ে দাঁড়া‌বে, বাংলা‌দে‌শে আসা দশ লাখ র‌হিঙ্গার ভ‌বিষ্যৎ কী হবে, ওরা তো ধীরে ধীরে মিশে যাবে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে। তখন গভীর সংকট তৈরী হবে। আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করে মিয়ানমার ওদের নির্যাতন ক‌রে আমাদের দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। বাংলা‌দেশ মানবিক বিবেচনায় বিপন্ন রোহিঙ্গা‌দের পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু স্থায়ীভাবে ওদের আশ্রয় দিলে আমাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। তাই এর স্থায়ী সমাধান কর‌তে হ‌বে। / এআর /

‘লিভার সিরোসিস থেকে বাঁচতে দরকার সচেতনতা’

অধ্যাপক মামুন অাল মাহতাব (স্বপ্নীল) লিভার ও গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিশেষজ্ঞ। ইন্টারভেনশনাল এন্ডোস্কোপিতে তার রয়েছে বিশেষ দক্ষতা। তিনি এ পর্যন্ত ১২ হাজারের বেশি এন্ডোস্কোপি, পাঁচ হাজারের বেশি কোলোনোস্কপি ও এক হাজারের ওপর ইঅারসিপি করেছেন। লিভার ক্যান্সার চিকিৎসায় উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন জাপানের এহিমে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। হেপাটাইটিস বি চিকিৎসায় নতুন ওষুধ ন্যাসভেক নিয়ে গবেষণা ডা. স্বপ্নীলের অন্যতম কৃতিত্ব। লিভার ক্যান্সার চিকিৎসায় সর্বাধুনিক পদ্ধতি ট্রান্স অার্টারিয়াল কেমো এম্বোলাইজেশনের পুরোধা। লিভার সিরোসিস নিয়ে তিনি কথা বলেছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইনের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইনের প্রতিবেদক অালী অাদনান। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: অামাদের চারপাশে লিভার সিরোসিসে অাক্রান্ত রোগীর প্রকোপ বাড়ছে। লিভার সিরোসিস কী? মামুন অাল মাহতাব ( স্বপ্নীল): কারণে লিভারের কোষগুলো যদি মারা যায় সেখানে ফাইব্রোসিস ও নডিউল তৈরি হয় এবং লিভারের স্বাভাবিক আণুবীক্ষনিক গঠন নষ্ট হয়ে যায়। ফলে লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহৃত হয়। লিভারের ভিতরে রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয়। রক্তের বিভিন্ন রাসায়নিক দূষিত পদার্থ যা লিভার পরিস্কার করে থাকে তা শরীরে জমা হয়ে তখন বিভিন্ন উপসর্গ তৈরি করে। কারণ যাই হোক না কেন এইভাবে সিরোসিস পর্যায়ে উপণীত হয়। পুরো লিভার জুড়ে যদি ফাইব্রোসিস এবং নডিউল তৈরি হয় তখন এটাকে লিভার সিরোসিস বলা হয়। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: লিভার সিরোসিসের কারণগুলো কী কী? মামুন অাল মাহতাব ( স্বপ্নীল): বিভিন্ন কারণে লিভার সিরোসিস হয়ে থাকে। আমাদের দেশে হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, ফ্যাটি ভাইরাস, এ্যালকোহল অন্যতম কারণ। এছাড়া আরও কারণ রয়েছে। বংশগত জটিলতার জন্য লিভারে মাত্রাতিরিক্ত আয়রন ও কপার জমে যাওয়ার জন্যেও সিরোসিস হতে পারে। পিত্তনালী র্দীঘ সময় ধরে বন্ধ হয়ে যাওয়া। লিভারের ধমনী বন্ধ হয়ে যাওয়া। শরীরে ইম্যুন সিস্টেমের জন্য এবং কোন কোন ওষুধ, যেমন- মিথোট্রিক্সেট (Methotrexate) দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে সিরোসিস হতে পারে। ৫-১০% ক্ষেত্রে লিভার সিরোসিসের কোন কারণই খুজে পাওয়া যায় না, এগুলোকে ক্রিপ্টোজেনিক সিরোসিস বলা হয়। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: লিভার সিরোসিস রোগের লক্ষণগুলো কী কী? মামুন অাল মাহতাব ( স্বপ্নীল): লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত রোগীর প্রথম দিকে লক্ষণ প্রকাশ নাও পেতে পারে। একটা পর্যায়ের পর তার কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন: ক্লান্তি বা অবসাদ, বমি বমি ভাব ও বমি ক্ষুধামন্দা, পেটফাপা, ধীরে ধীরে পেটটি বড় হতে থাকে এবং পায়ে পানি জমে ফুলে যায়। ধীরে ধীরে শরীর দূর্বল হতে থাকে এবং ওজন কমে যায়, চর্ম এবং চোখের সাদা অংশ হলুদ বর্ণ ধারণ করে। বমির সঙ্গে রক্ত যেতে পারে বা শুধু রক্তবমি হতে পারে। মুখের স্বাদ পরিবর্তন বা স্বাদহীন, পায়খানার সঙ্গে রক্ত যেতে পারে। পাইলস থেকে রক্ত যেতে পারে, কখনো ডায়রিয়া কখনো কোষ্ঠকাঠিন্য, রক্ত স্বল্পতা, নারীর মাসিক বন্ধ হয়ে যেতে পারে বা এমোনেরিয়া, পুুরুষ এবং নারীর যৌন দুর্বলতা আসতে পারে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: লিভার সিরোসিসের প্রতিকার কীভাবে করা যায়? মামুন অাল মাহতাব (স্বপ্নীল): যেহেতু এটি মারাত্মক রোগ এবং এর চিকিৎসা ব্যয়বহুল তাই প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ আর সচেতনতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সচেতনতাই পারে আমাদেরকে এরকম ভয়াবহ রোগ থেকে বাঁচাতে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: লিভার সিরোসিসস থেকে বাঁচার জন্য করনীয় কী? মামুন অাল মাহতাব ( স্বপ্নীল): হেপাটাইটিস বি এর প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন নিতে হবে যা এখন খুবই সুলভ, এটি আপনাকে পূর্বেই নিতে হবে । হেপাটাইটিস `বি` ভাইরাসে আক্রান্ত মা গর্ভবতী হলে সন্তানের জন্মদানের সঙ্গে সঙ্গে দু`রকম টীকা দেয়া বাঞ্ছনীয় ৷ লিভার সিরোসিসের যেসব কারণ উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। মাদকদ্রব্য এড়িয়ে চলতে হবে। প্রক্রিয়াজাত খাদ্য গ্রহণ ও ফার্স্ট ফুডের কারণে অতিরিক্ত মেদ জমে। তাই এগুলো পরিহার করতে হবে ৷ কোন রকম স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিলে ঝাড় ফুঁক, কবিরাজ, ওষুধ বিক্রেতার চিকিৎসা পরিহার করতে হবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: লিভার সিরোসিস রোগীদের খাদ্যাভ্যাস কেমন হওয়া উচিৎ? মামুন অাল মাহতাব ( স্বপ্নীল): লিভার সিরোসিস-এ আক্রান্ত রোগীদের কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিৎ। সিরোসিস দুই ধরণের হয়- কমপেনসেটেড এবং ডিকমপেনসেটেড সিরোসিস। একজন সম ওজনের স্বাভাবিক মানুষের চেয়ে সিরোসিস-এ আক্রান্ত রোগীর বেশি ক্যালরি গ্রহণের প্রয়োজন হয়। প্রতি কেজি ওজনের জন্য ২৫ থেকে ৩৫ কিলোক্যালরী শক্তি যুক্ত খাবার এবং প্রতি কেজিতে ১ থেকে ১.২ গ্রাম প্রোটিন খাবারের মেন্যুতে থাকতে হবে। প্রতি দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর পর হালকা খেয়ে নেয়া উত্তম। হালকা খাবারের মধ্যে টোস্ট, বিস্কিট, কেক, সেরিয়েল, দুধের তৈরি খাবার রাখা যেতে পারে। এছাড়া মল নরম রাখার জন্য বেশি আঁশ যুক্ত খাবার যেমন শাক সবজি খাওয়া দরকার। ডিকপেনসেটেড সিরোসিসের রোগীদের রক্তে অ্যালবুমিনের পরিমাণ কমে যায় এবং পেটে পানি চলে আসে। এই রোগীদের মল শক্ত হলে রক্তে অ্যামোনিয়ার পরিমাণ বেড়ে গিয়ে রোগীর চেতনা হ্রাস হয়। এ কারণে ডিকমপেনসেটেড সিরোসিসের রোগীদের হিসেব করে পানি পান করতে হয়, খাবারে লবণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে হয় এবং শর্করা জাতীয় খাবার বেশি খেতে হয়। আগে মনে করা হতো প্রোটিন কম খাওয়া উচিৎ, কিন্তু এখন লিভার বিজ্ঞানীরা বেশি প্রোটিন খাওয়ার ব্যপারে উত্সাহিত করেন। তবে, দৈনিক মোট প্রোটিনের পরিমাণ এক-দুইবারে না খেয়ে অল্প অল্প করে চার-পাঁচ বারে খেতে বলা হয়। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: ফাস্টফুড, অ্যালকোহল লিভার সিরোসিসের জন্য কেমন ঝুঁকিপূর্ণ? মামুন অাল মাহতাব ( স্বপ্নীল): অ্যালকোহলের কারণে সৃষ্ট লিভার রোগের মূল চিকিত্সা হলো অ্যালকোহল সেবন থেকে বিরত থাকা। অন্যদিকে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ-এ আক্রান্ত রোগীদের জন্য উপদেশ হল খাবারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট- এর পরিমাণ কমিয়ে আনা, প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকা, ফাস্টফুড সংস্কৃৃতি থেকে বেরিয়ে আসা এবং প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট শরীরচর্চা করা। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: অাপনাকে ধন্যবাদ অামাদের অনেকক্ষণ সময় দেওয়ার জন্য। মামুন অাল মাহতাব ( স্বপ্নীল): অাপনার জন্য শুভকামনা। এসএইচ/

বাজেটে কালো টাকা সাদার সুযোগ থাকলে দুর্নীতি বাড়বে: ড. সালেহউদ্দিন

২০১৮-১৯ সালের বাজেট আসন্ন। আগামী এক বছরে সরকারের এ আয়-ব্যয়ের হিসেবকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে চলছে বিভিন্নমুখী আলোচনা। অর্থনীতিবিদরা দিচ্ছেন নানা দিক নির্দেশনা। ব্যবসায়ীরা তুলে ধরছেন তাদের বিভিন্ন দাবি। গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো তুলে ধরছে বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর গবেষণালব্ধ যৌক্তিক দিক। বাজেটকে কেন্দ্র করে আলোচিত এসব বিষয় নিয়ে একুশে টেলিভিশন অনলাইন মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের। যার কথায় উঠে আসছে আসন্ন বাজেটে সবচেয়ে গুরুত্ব পাওয়া সম্ভাব্য খাত, কালো টাকা সাদা করা, অর্থপাচার, আরোপিত কর, এনবিআরের সক্ষমতা, বেকারত্ম, কর্মসংস্থান ও খেলাপি ঋণ নিয়ে করণীয় নানা দিক। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইন প্রতিবেদক রিজাউল করিম। দুই পর্বের সাক্ষাৎকারটির প্রথম পর্ব আজ তুলে ধরা হল। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: এবারের বাজেটকে নির্বাচনী বাজেট বলা হচ্ছে। এ বাজেটে সরকারের কোন কোন বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন আছে? সালেহউদ্দিন: এই বাজেটে সরকার চেষ্টা করবে মানুষকে সন্তুষ্ট করার। বিশেষ করে সংসদ সদস্যদের এলাকার দাবি দাবাগুলো মেটাতে। সরকারের ধারাবাহিক যে বড় বড় প্রকল্পগুলো আছে সেগুলোর বাস্তবায়ন ও  সম্পন্যে জোর দিবে। সরকার এবার যোগাযোগ ও  পরিবহনের ক্ষেত্রে পদ্মাসেতুসহ বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট    ব্রিজ কাল ভার্ট নির্মাণে গুরুত্ব দিবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতেও এবার নজর বাড়বে। তবে সবচেয়ে নজর বাড়ানো দরকার  শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে। কারণ সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি খুব জরুরি হয়ে পড়েছে।  আর প্রযুক্তিখাতেও কিছুটা বরাদ্দ বাড়তে পারে।   একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আয়কর অধ্যাদেশে দীর্ঘদিন যাবত কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া আছে। এখন আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা বিনা প্রশ্নে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ চাইছেন- এটি সমর্থন করেন কিনা? সালেহউদ্দিন:  নীতিগতভাবে কালো টাকা সাদা করা আমি সমর্থন করি না। কালো টাকা সাদা যতোই করতে যাবেন। দূর্নীতি ততই বেড়ে যাবে। কারণ কালো টাকার তো আলাদা রঙ থাকে না। টাকার উৎস্য জানতে চাইলে   ওটা বিভিন্নভাবে বোঝানোর চেষ্টা করে। তবে যেহেতু ব্যপক টাকা দেশের বাইরে রয়ে গেছে। আবার আবাসন খাতে একটা সংকট রয়েই গেছে। তাই সরকার একবারেই একটা বড় ধরণের জরিমানা করতে পারে। সেক্ষেত্রে ৫ থেকে  ১০ শতাংশ নয়, সর্বনিম্ন ৪০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা যেতে পারে। অর্থাৎ  ১০০ টাকা হলে ৪০ টাকা সরকারের কোষাগারে জমা দিয়ে বাকী টাকা সাদা করে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। এরপর আর কোন সুযোগ দেওযা যাবে না। অবশিষ্ট টাকাগুলোর নিয়মিত করের আওতায় আনতে হবে। প্রতিবছরই সে অর্থের ওপর করারোপ করতে হবে।   তবে কালো টাকা আবাসন খাতে দেওয়ার ক্ষেত্রেও আবার তদারকি বাড়াতে হবে। যারা ফ্লাট কিনছে, তারা ডিক্লিয়ার করে টাকাটা দিচ্ছে কি না? কারণ টাকা সাদা করার সুযোগ দিল, আর অনেকেই ফ্লাট কিনলো কিন্তু তা পর্যবেক্ষণ বা তদারকী করা হলো না। তাতে কোন লাভ হবে না।   একুশে টেলিভিশন অনলাইন: কর্পোরেট কর হার কমালে বিনিয়োগ বাড়বে- দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যবসায়ীরা এ কথা বলছেন। এর যৌক্তিকতা কতটুকু? সালেহউদ্দিন: আমাদের দেশে কর্পোরেট কর সবচেয়ে বেশি। এই ট্যাক্সটা কমালে আমার মনে হয় ব্যবসায়ীরা আরো বিনিয়োগে আগ্রহী হবে। সেক্ষেত্রে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বা তালিকাভূক্ত নয় সব ধরণের কোম্পানির জন্য ট্যাক্স কমাতে হবে।   একুশে টেলিভিশন অনলাইন:  শিক্ষা জাতির মেরুদ্বন্ড। কিন্তু প্রতিবছরই বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ কম হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আসলে এ খাতে বরাদ্দটা কেমন হওয়া উচিত? সালেহউদ্দিন:  বাজেটের একটা বড় অংশ শিক্ষা খাতে যায়। কিন্তু তার বেশিরভাগ ব্যয় হয় প্রশাসনিক কাজে। শিক্ষকদের বেতন ও অন্যান্য কাজে।আসল যেখানে খরছ করার দরকার সেখানে হয় না। স্কুলে শিক্ষার উপকরণ, লাইব্রেরী, শ্রেণী কক্ষের বেঞ্ছ-চেয়ার, শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ প্রগ্রাম, ছাত্রদের জন্য এক্সট্রা কারিকুলাম এক্টিভিটিস। আমাদের দেশে শিক্ষা খাতে জিডিপি ৪ থেকে ৫ শতাংশ ব্যয় হয়। যেটা কোরিয়াসহ উন্নত দেশে ১২ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় করে।  তাই মানব সম্পদ উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষায় শিক্ষা ও   স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় আরো বাড়াতে হবে।      

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি