ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২৩:৪৭:৪৪

‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বিএনপির গাত্রদাহ শুরু হয়ে গেছে’

‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বিএনপির গাত্রদাহ শুরু হয়ে গেছে’

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বিএনপির গাত্রদাহ শুরু হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার নিমতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে বিআরটিএ’র ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে তিনি এসব কথা বলেন।প্রসঙ্গত গতকাল এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোপনে বিএনপির গঠনতন্ত্র থেকে দুর্নীতিবিরোধী ধারা বাদ দেওয়ার সমালোচনা করেন। সেই সঙ্গে দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিতদের দলের শীর্ষ নেতৃত্বে আনার সমালোচনা করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি কাকে নেতা বানাবে সেটি একান্তই তাদের নিজস্ব ব্যাপার। পরিপ্রেক্ষিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর গতকালের বক্তব্যে বিএনপির গাত্রদাহ শুরু হয়ে গেছে।দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত তারেক রহমানকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করায় এর সমালোচনা করে তিনি বলেন, একজন কি সৎ নেতা বিএনপিতে নেই দণ্ড ছাড়া, যাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা যেতো। দণ্ডিত ব্যাক্তিকে, দুর্নীতিবাজ ব্যাক্তিকে, দুর্নীতিবাজ ব্যাক্তিকে, বিদেশি ফেরারি আসামিকে বিএনপি চেয়ারপারসন করার মধ্য দিয়ে এটাই প্রমাণ হলো এই দল ক্ষমতায় গেলে আবারো বাংলাদেশ দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হবে।খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশ নেওয়া না নেওয়া সম্পর্কে ওবায়দুল কাদের বলেন, আদালতের আদেশেই সব কিছু হবে। তারা এখন উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারেন, আপিল করার পর আদালত যদি খালেদা জিয়াকে নির্বাচন করার অনুমতি না দেন, তাহলে আওয়ামী লীগের কি করার আছে? সরকারের কি করার আছে? বিষয়টি আদালতের, এখানে সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। প্রসঙ্গত গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বিশেষ আদালত। এ ছাড়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। রায়ের পর থেকে খালেদা জিয়া কারাগারে বন্দি।/ এআর /
বিএনপির কয়েকজন নেতা জাপায় যোগ দিচ্ছেন : এরশাদ

বিএনপির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা জাতীয় পার্টিতে যোগ দিতে যাচ্ছেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ ইঙ্গিত দেন এরশাদ। সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এরশাদ বলেন, কেউ যদি আমার দলে যোগ দিতে চায়, আর তারা যদি যোগ্য প্রার্থী হয়, তাদের অবশ্যই দলে নেব। এবং আগামী নির্বাচনে তাদের মনোনয়ন দেব। তবে জাপায় আসতে চাওয়া বিএনপির এসব নেতাদের এখনই পরিচয় জানাতে রাজি হননি তিনি। জাপার চেয়ারম্যান বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক বা না করুক, তাদের জন্য নির্বাচন বন্ধ হবে না। ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি অংশ নেবে। এ ছাড়া অন্যান্য রাজনৈতিক দলও আছে। আর আওয়ামী লীগ তো আছেই। খালেদা জিয়ার কারাগারে যাওয়া নিয়ে তিনি বলেন, দুর্নীতি মামলায় তাঁর বিচার হয়েছে। বিচারকের রায়ে তাঁর জেল হয়েছে। এ নিয়ে এত বাড়াবাড়ির কী আছে। অবশ্য খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির আন্দোলনকে তিনি দোষের কিছু মনে করেননি। তিনি বলেন, তারা আন্দোলন করতেই পারে। তবে কোনও ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি না দেওয়াই তাদের জন্য মঙ্গল হবে। এর আগে মঙ্গলবার সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করে সরাসরি মোটর শোভাযাত্রায় রংপুর সার্কিট হাউসে আসেন এইচ এম এরশাদ। এ সময় নবনির্বাচিত সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান, মহানগর জাপা সম্পাদক ইয়াসির আহামেদসহ বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী তাঁকে স্বাগত জানান। একে// এআর

খালেদার মুক্তির দাবিতে জাতীয় ঐক্যের আহবান ফখরুলের

দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, এখন সময় জেগে উঠার, এখন সময় প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়া। তাই আসুন, দলমত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্যের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করে আনি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সত্যিকার অর্থে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করি। আজ মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে  `বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাজা দেওয়ার প্রতিবাদে’ এক মানববন্ধনের  প্রধান অতিথির ব্যক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মানববন্ধনের আয়োজন করেন বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ। বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘মিথ্যা মামলায়’ সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়াকে গণঅভূত্থানের মাধ্যমে মুক্ত করা হবে। আগামী নির্বাচনে খালেদা জিয়া অংশ নিতে না পারে যে জন্য চক্রান্ত চলছে জানিয়ে ফখরুল বলেন, সরকার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনায় তাদের নীল নকশা বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে। আর এই নীল নকশা হচ্ছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখা। আয়োজক সংগঠনের আহবায়ক প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শওকত মাহমুদ, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম প্রমুখ।

‘আমাদের গঠনতন্ত্র নিয়ে আপনাদের মাথাব্যথা কেন’

আওয়ামী লীগ নেতাদের ইঙ্গিত করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের গঠনতন্ত্র নিয়ে আপনাদের মাথাব্যথা কেন? আমরা যাকে ইচ্ছা নেতা বানাব, সেটা একান্তই আমাদের ব্যাপার। নিজের চরকায় তেল দিন। নিজের দলের দিকে তাকিয়ে দেখুন। ক্ষমতায় না থাকলে কোথাও গিয়ে দাঁড়ানোর জায়গা পাবেন না।   আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব। দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ২০ দলীয় জোটের শরীক ন্যাশনাল পিপলস পার্টি ( এনপিপি)। এতে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুজ্জামান ফরহাদ। প্রসঙ্গত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত  ৮ ফেব্রুয়ারী আদালত খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সাজা দেন। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন। এ মামলার রায়ের আগে বিএনপি গোপনে তাদের গঠনতন্ত্রে সংশোধন করে। সেখান থেকে দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত কেউ বিএনপির পদে থাকতে পারবে না এমন একটি ধারা বাদ দিয়ে দেয় তারা। এ নিয়ে চরম সমালোচনার মুখে পরে দলটি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এর কড়া সমালোচনা করেছেন। এর জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা যাকে ইচ্ছা নেতা বানাব, সেটা একান্তই আমাদের ব্যাপার। তিনি এ সরকার চিরকাল ক্ষমতায় থাকতে চায়। সেজন্য জুলুম নির্যাতন চালাচ্ছে। রাজনীতিতে প্রতিপক্ষ থাকতে পারে। তাই বলে প্রতিপক্ষকে জুলুম নির্যাতনের মাধ্যমে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা পৃথিবীর কোথাও নেই। দেশবাসী বিএনপির সঙ্গে আছে দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, একজনকে না হয় কারাবন্দী করেছেন। কিন্তু ষোল কোটি মানুষের মুখকে বন্ধ করবেন কিভাবে? তিনি বলেন, সরকার দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে চায়। এজন্য এই রায়। / এআর /

তারেককে দেশে এনে বিচারের দাবি

লন্ডনে বাংলাদেশের হাই কমিশনে হামলা, ভাংচুর ও জাতির জনকের প্রতিকৃতি অবমাননাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সুপ্রিম কমান্ড কাউন্সিল। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক মানববন্ধনে এই দাবি জানায় সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। মানববন্ধনে বক্তারা এ ঘটনার জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দায়ী করেন ও অবিলম্বে তাকে দেশে এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি করেন। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মুক্তিযোদ্ধা সালাউদ্দিন আহমেদ সালু, মুক্তিযোদ্ধা মীর শাহাবুদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক, নাজমুল হাসান পাখি, মিনহাজুর রহমান  প্রমুখ। উল্লেখ্য গত ৮ ফেব্রুয়ারী জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেজা জিয়ার রায় হয়। এর প্রতিবাদে লন্ডনে বাংলাদেশ দূতাবাসে বিএনপি সমর্থকরা হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে এবং বঙ্গবন্ধুর ছবি অবমাননা করে। / এআর /

আশা করছি আজই আপিল করব: জয়নুল

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রায়ে উল্লেখিত  পর্যবেক্ষণের অধিকাংশ অসত্য বলে দাবি করছেন  সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন। রায়ের বিরুদ্ধে আজই আপিল করা হতে পারে বলেও জানান তিনি। আজ মঙ্গলবার সকালে সুপ্রিম কোর্ট বারের হলরুমে সিনিয়র আইনজীবীদের বৈঠকের একপর্যায়ে জয়নুল এ দাবি করেন। জয়নুল আবেদীন বলেন, আমরা পুরো রায়টি পড়ে দেখেছি। এখন আপিলের প্রস্তুতির গ্রাউন্ড তৈরি করা হচ্ছে। আশা করছি, আজকের মধ্যেই আপিল দায়ে করতে পারব। জয়নুল আবেদীন আরও বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পাওয়ায় আমরা গতকাল রাতে বৈঠক করেছি। তারই ধারাবাহিকতায় আজ সকালে বৈঠক করেছি। দুপুর সাড়ে ১২টায় পুনরায় বৈঠকে মিলিত হবো। এরপর আপিল দায়ের বিষয়টি আপনাদের জানিয়ে দেবো। গতকাল সোমবার খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের রায়ের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এরপর রায়ের বিরুদ্ধে আপিল এবং জামিন আবেদনের কথা জানান তাঁর আইনজীবীরা। / এআর /              

নেত্রী ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বিএনপি: মোশাররফ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছাড়া কোনো নির্বাচনে যাবে না বিএনপি।শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে তাঁকে মুক্ত করেই আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি। আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের হলরুমে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে এসব কথা বলেন মোশাররফ হোসেন। খন্দকার মোশাররফ বলেন, বিএনপি নির্বাচনমুখী দল। দেশের মানুষ বারবার ভোট দিয়ে খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছে। আগামী নির্বাচনেও আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায় করে ভোটে অংশ নেব। জেল কোড ভঙ্গ করে খালেদা জিয়াকে তিন দিন ডিভিশন ছাড়া রাখার জন্য বর্তমান সরকার ও জেল কর্তৃপক্ষকে একদিন বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলেও মন্তব্য করেন খন্দকার মোশাররফ। প্রধানমন্ত্রী ও সরকারি দলের নেতাদের সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, সরকারি দলের নেতা ও মন্ত্রীরা আগে থেকেই বলে বেড়াচ্ছিলেন, খালেদা জিয়ার জেল হবে। তাহলে সহজেই বোঝা যায়, সরকারের ইচ্ছাতেই তাঁকে সাজা দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি কী কর্মসূচি দেবে, সেটি ঠিক করবে বিএনপি; ওবায়দুল কাদের নয়। আমরা কী করব, সেটা আমাদের দল সিদ্ধান্ত নেবে কারো পরামর্শের দরকার নেই। স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহর সভাপতিত্বে নাগরিক সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ। আরকে//এসি 

খালেদার কাছে ‘কারাগারের রোজনামচা’ পাঠান : ডা. জাফরউল্লাহ

দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত হয়ে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কাছে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ `কারাগারের রোজনামচা` পাঠানোর আহবান জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া জেলখানায় গিয়ে ভালো হয়েছে। তিনি সেখানে আত্মোপলব্ধি ও চিন্তা করার সুযোগ পাবেন। আজ সোমবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে এ সভার আয়োজন করা হয়। সংগঠনটির সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দীন বীরবিক্রম। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডা: জাফরউল্লাহ চৌধুরী বলেন, বিএনপিতে যতো আইনজীবী আছেন, আওয়ামী লীগে ততোজন নাই। তবু আইনের মারপ্যাঁচে হেরে গেছে বিএনপি। তিনি বলেন, কূটনৈতিক সম্পর্কে হেরে গেছে বিএনপি। কূটনীতি শিখতে হলে শেখ মুজিবের বই পড়তে হবে। তিনি এ সময় মঞ্চে উপস্থিত বিএনপি নেতাদের জিজ্ঞেস করেন, শেখ মুজিবের বই পড়েছেন? নেতারা মাথা নাড়লে তিনি হতাশার অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে মেজর (অব.) হাফিজের মতো কয়েকজনকে নেওয়ার সুপারিশ করেন জাফরউল্লাহ। বিএনপিকে সাংগঠনিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহবানও জানান তিনি। প্রতিটি জেলায় এখন থেকে স্থায়ী কমিটির নেতাদের সফর করারও আহবান জানান তিনি। বিএনপির এই পরামর্শক এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, নেতাকর্মী আন্দোলন করে না। যদি জিজ্ঞেস করি, কেন আন্দোলন করছেন না, উত্তরে বলে লন্ডন থেকে নির্দেশ আসে নাই। লন্ডনের সিদ্ধান্ত আর গুলশানের সিদ্ধান্তের বাইরে না আসলে বিএনপি কিছুই করতে পারবে না।   / আআ / এআর  

বিএনপির ‘ইনডোর প্রোগ্রামে’ ডিএমপির সহযোগিতার আশ্বাস

দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ২২ ফেব্রুয়ারি ইনডোর বা আবদ্ধ জায়গায় দলটি সভা করতে চাইলে তাতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ডিএমপি।  ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে এমনটিই জানিয়েছেন বিএনপির প্রতিনিধিদল। সোমবার সকাল ১০টার দিকে ডিএমপির কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার সঙ্গে দেখা করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমদ আযম খানের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ। আহমদ আযম খান জানান, আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অথবা নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমতির বিষয়ে ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি সমাবেশের অনুমতি দেননি। তবে বিষয়টি একেবারে নাকচ করেননি। তিনি বলেন, সমাবেশের অনুমতি পাওয়া না-পাওয়ার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরে জানানো হবে। প্রতিনিধিদলের এক সদস্য জানান, ইনডোর প্রোগ্রামে পুলিশ সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার। সমাবেশের অনুমতির বিষয়ে ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে প্রয়োজনে আবারও দেখা করা হবে বলে জানান ওই সদস্য। উল্লেখ্য, বিএনপির চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে দলটি। এরই অংশ হিসেবে ২২ ফেব্রুয়ারি সমাবেশ করতে চায় তারা। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমানসহ পাঁচজনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত। ওই রায় ঘোষণার দিনই খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়। একে// এআর

‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নেত্রীকে মুক্ত করবো’

গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আমাদের নেত্রী শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কথা বলেছেন। আমরা সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে তাঁকে মুক্ত করে আনবো। আজ সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তির দাবিতে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত এক মানববন্ধনে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। আগামী নির্বাচনে নিজেদের পরাজয়ের ভয়ে খালেদা জিয়াকে ‘মিথ্যা মামলা‘ সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ফখরুল। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া গণতন্ত্র ও দেশের মানুষের অধিকারের জন্য আন্দোলন করছেন। তাই তাঁকে সরকারের ভয়। সরকার চায়, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে একদলীয় নির্বাচন করে ক্ষমতা ধরে রাখতে। খালেদা জিয়া বাইরে থাকলে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারবে না। দেশের মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল বিচারালয়কেও সরকার করায়ত্ব করে রেখেছে বলে অভিযোগ করেন ফখরুল। বলেন, প্রধান বিচারপতিকেও অন্যায়ভাবে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদিকা সুলতানা আহমেদ, সাবেক সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান প্রমুখ। আরকে// এআর

বিএনপি রাজনীতির বিষ বৃক্ষ: তথ্যমন্ত্রী

বিএনপিকে রাজনীতির বিষ বৃক্ষ বলে উল্লেখ করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। রোববার রাষ্ট্রপতির ভাষণে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, বিএনপি রাজনীতির বিষবৃক্ষ। আর জামায়াত-জঙ্গি হচ্ছে সেই বিষ বৃক্ষের ডালপালা। বিএনপি এমন একটি দল, যা জঙ্গি উৎপাদন ও পুনঃউৎপাদন করে। একাত্তর থেকে দেশে যত হত্যা-খুন হয়েছে তার প্রত্যেকটি করেছে বিএনপি। এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে ওই বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলে দিবেন, না ডালপালা কেটে গাছটাকে টিকিয়ে রাখবেন। তিনি আরোও বলেন, বিষবৃক্ষ দিয়ে গণতন্ত্রের বাগান সাজানো যায় না। বিএনপি নামক বিষবৃক্ষ দিয়ে গণতন্ত্র চলতে পারে না। কাউকে নির্বাচনের বাইরে রাখা হচ্ছে না। কাউকে জোর করে সাজাও দেওয়া হয়নি। বিএনপি বিগত ৯ বছরে ইচ্ছা মতো নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। নির্বাচনের দরজা অপরাধী ছাড়া সবার জন্য উন্মুক্ত। হাসানুল হক ইনু বলেন, একাত্তরে যারা দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে তারাই আমাদের বিরোধিতা করছে। এজন্য মানুষ শঙ্কিত যে, আবার দেশে বোমা সন্ত্রাস হবে কি না, একুশ আগস্টের মতো গ্রেনেড হামলা আবারো হবে কি না, আবোরো দেশে আগুন সন্ত্রাস হবে কি না-এ নিয়ে দেশের মানুষ শঙ্কিত। কারণ খালেদা জিয়া মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও জঙ্গিবাদ থেকে সরে আসার শপথ করেনি, অতীতের অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেনি। নির্বাচনে অংশগ্রহণ বিষয়ে দরকষাকষি হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে দেয়। কিন্তু এই অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের নামে হত্যা-খুনের আসামী, দুর্নীতিবাজ, জঙ্গি, সন্ত্রাসী নেতানেত্রী বা ব্যক্তিকে হালাল করে না। আমাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যদি গণতন্ত্র চান, তাহলে রাজনীতির বিষবৃক্ষ বিএনপিকে বর্জন করতে হবে। রাজাকার, জঙ্গি, জামায়াতকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে হবে।   এমএইচ/টিকে

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি