ঢাকা, শুক্রবার, ২২ জুন, ২০১৮ ১৭:৩৩:৩৪

সরকার সংলাপে আসতে বাধ্য হবে: মওদুদ  

সরকার সংলাপে আসতে বাধ্য হবে: মওদুদ  

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, সময় আসলে বর্তমান সরকার সংলাপে আসতে বাধ্য হবে। এটা সময়ের ব্যাপার। এখন বলা যাবে না। আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা তিনি এ মন্তব্য করেন। সংলাপ নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের দেওয়া এক বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, যার নির্বাচনী এলাকায় গণতন্ত্রের লেশমাত্র নাই। তার বক্তব্যের কী জবাব দেবো? সংলাপের প্রয়োজন আপনারা (ওবায়দুল কাদের) বোধ করবেন। আর সময় আসলে বর্তমান সরকার সংলাপে আসতে বাধ্য হবে। এটা সময়ের ব্যাপার। এখন বলা যাবে না। আওয়ামী লীগ সহজে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায় না। কিন্তু জনগণের আন্দোলন ও জোয়ারের মুখে তারা এটা করতে বাধ্য হবে। তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আর বেগম জিয়াকে মুক্ত করেই তার নেতৃত্বে আন্দোলনকে সফল করার জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, নির্বাচনের আগে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। এটা হচ্ছে অন্যতম শর্ত। নির্বাচনের ৯০ দিন আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে। ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েন করতে হবে এবং বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলো প্রত্যাহার করতে হবে। এগুলো হলেই দেশে নির্বাচনের পরিবেশ ফিরিয়ে আসবে। সভায় জাগপার সভাপতি অধ্যাপিকা রেহেনা প্রধান, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন । আরকে// এসএইচ/
প্রচারের মাঠে নেই বিএনপি জোটের শরীক দলগুলো

সিটি নির্বাচনের প্রচার প্রচারনায় মুখর গাজীপুর। আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে জেতাতে মাঠে নেমেছে জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, ত্বরিকত ফেডারেশনসহ মহাজোটের নেতাকর্মীরা। জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছে মহাজোট। এদিকে বিএনপি প্রার্থী হাসানউদ্দিন সরকার দাবি করেছেন তার সঙ্গে আছে জামাত কর্মীরা। তবে প্রচারের মাঠে পাওয়া যায়নি বিএনপি জোটের শরীক দলগুলোকে। আওয়ামীলীগ প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারনায় জাতীয় পার্টির স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহন। গণসংযোগ, পথসভা-সমাবেশে জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে গিয়ে ভোট চাইছেন জাতীয় পার্টির নেতা কর্মীরা। শুধু জাতীয় পার্টি নয় ওয়ার্কার্স পার্টিসহ অন্য দলের নেতাকর্মীরাও আছেন প্রচারের মাঠে। আওয়ামী লীগ প্রার্থীও জানালেন, নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছে আওয়ামী লীগ।  মহাজোটের দলগুলোর সমর্থনে উজ্জীবিত তিনি। এদিকে বিএনপি প্রার্থীর সভা সমাবেশে পাওয়া যায়নি শরিক দলগুলোর নেতা কর্মীদের। তবে হাসান উদ্দিন সরকারের দাবি, জামাতসহ জোটের দলগুলো তার সঙ্গেই আছে। পাল্টাপাল্টি অভিযোগে প্রচার চললেও জয়ের ব্যাপারে দুই প্রার্থীই আশাবাদী।   একে//

সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত

রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। তবে প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও দেয়নি বিএনপি। বৃহস্পতিবার রাতে দলের মনোনয়ন বোর্ড তিন সিটি নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে। জানা গেছে, রাজশাহীতে বর্তমান মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল আর সিলেটে বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর হাতে ধানের শীষ দেওয়া হবে। অপরদিকে, নিজে প্রার্থী হতে আগ্রহী না হলেও খুলনার নজরুল ইসলাম মঞ্জুর মতো বরিশালের মজিবর রহমান সরোয়ারকে দলের পক্ষ থেকে ডেকে এনে ধানের শীষের প্রার্থী করা হচ্ছে। সিলেটে মেয়র প্রার্থী বাছাই নিয়ে অনেকটা সমস্যায় পড়ে মনোনয়ন বোর্ড। তারা বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে মনোনয়ন দিতে চায়। কিন্তু অন্য যে পাঁচ প্রার্থী মনোনয়ন চাচ্ছেন তারা সবাই আরিফুল হকের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন সাক্ষাৎকারে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি এখন আর বিএনপির কেউ না। বরিশালে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য নয়জন দলীয় মনোনয়ন ফর্ম কেনেন। তাদের মধ্যে মজিবর রহমান সরোয়ার ছিলেন না। ওই নয়জন প্রথমে ১০ হাজার টাকায় ফর্ম কিনে পরে ২৫ হাজার টাকা জামানত দেন। ৩৫ হাজার টাকা খরচ করে তাদের প্রাপ্তি গুলশানে মনোনয়ন বোর্ডের সামনে সাক্ষাতের সুযোগ। এতেই অনেক সন্তুষ্ট তারা।  আরকে// এসএইচ/

খালেদার মুক্তি দাবিতে রিজভীর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল

কারাবন্দী খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। মিছিলের নেতৃত্ব দেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শুক্রবার সকাল ৮টায় রাজধানীর কল্যাণপুরে তারা এ বিক্ষোভ মিছিল করে। মাত্র ১৫ মিনিটের ওই মিছিলটি কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে শ্যামলী গিয়ে শেষ হয়। এ সময় রিজভী বলেন, এটা কোনো ঘোষিত কর্মসূচি নয়। আমাদের নেত্রী জেলে। আমরা প্রতিবাদের মধ্যে আছি। যে কেউ যেকোনো সময় ও স্থানে এই প্রতিবাদ মিছিল করতে পারে। মিছিলে ঢাকা মহানগর পশ্চিম বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দুর্নীতির একটি মামলায় সাজা পেয়ে কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া। তার মুক্তি দাবিতে তখন থেকেই শান্তিপূর্ণ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে বিএনপি ও বিভিন্ন সংগঠন। একে//

বিএনপির কর্মীরা এখন ঢাকায় রিকশা চালায় : ফখরুল

বিএনপি নেতাকর্মীদের করুণ পরিস্থিতি তুলে ধরে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সাংবাদিক ভাইয়েরা যেমন ফল বিক্রি করেছেন, আজ তেমনি আমাদের রাজনৈতিক কর্মীরা ঢাকায় রিকশা চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, তারা হকার হয়েছেন, তারা কোনো বাড়ির নাইট গার্ডের কাজ করেন। কেউ এলাকায় থাকতে পারছেন না, সবাই চলে এসেছেন যে যার মতো করে। এই ঢাকা শহরের এক পাড়ার লোক সে পাড়ায় থাকতে পারছেন না, অন্য পাড়ায় চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশ সভার আয়োজন করে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, রোজ আমরা কথা বলছি, কথা শুনছি, অনেক কথা বলছি। এখন এই কথাবার্তা খুব বেশি আমার নিজেরই শুনতে ইচ্ছে করে না, বলতেও ইচ্ছে করে না। এজন্য যে আমরা ধীরে ধীরে একটা অন্ধকার গহ্বরের দিকে প্রবেশ করেছি, যে গহ্ববরের শেষ দিকে আলোর রেখা দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, আমাদের সাংবাদিক ভাইয়েরা অনেকে মারা গেছেন, নিহত হয়েছেন, অনেকে কারাগারে গেছেন, আর আমাদের রাজনৈতিক কর্মীরা সারাদেশে প্রায় ১৮ লাখ আসামি। ১৯৭৫ সালের ১৬ জুনের পরে যেমন সাংবাদিক ভাইয়েরা অনেকে ফল বিক্রি করেছেন, বায়তুল মোকাররমের সামনে কাগজ বিক্রি করেছেন, আজ আমাদের রাজনৈতিক কর্মীরা রিকশা চালান এই ঢাকায়, তারা হকার হয়েছেন, তারা কোনো বাড়ির নাইট গার্ডের কাজ করছেন। তিনি বলেন, আমাদের দলের অনেকে এসে বলে, স্যার কী হবে? আমি বলি, হতাশাই শেষ কথা হতে পারে না, লড়াই করো, লড়াই করতে করতে আমরা একটা জায়গায় গিয়ে পৌঁছাব-ই। আমরা তো এই বংলাদেশেই দেখেছি, নয় বছর, দশ বছর, বাংলাদেশেই তো একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল দেখেছি, কিন্তু এই বাংলাদেশের মানুষ কিন্তু জেগে উঠেছে। এই বাংলাদেশের মানুষই কিন্তু ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো উড়ে গেছে। আমাদেরকে সেইভাবে এগোতে হবে। মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা রাজনীতিক দল হিসেবে, একটা মধ্যপন্থী দল হিসেবে উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে সব সময় গণতন্ত্রের রাস্তাটা খুঁজি। একটা পরিসর খুঁজি, স্পেস খুঁজি। ডেমোক্রেসির একটা স্পেস থাকলে আমরা একটু কমফোরটেবল ফিল করি; আমি একটা বক্তৃতা করব, আমি মাঠের মধ্যে একটা জনসভা করব, আমি রাস্তায় মিছিল করব, আমার বক্তব্যগুলো জনগণের কাছে তুলে ধরব। জনগণ একসময় আমাদের সঙ্গে আসবে। এটাই আমরা অতীতে দেখেছি। এখনকার পরিস্থিতি একটু ভিন্ন। একটা ভীতি, ত্রাসের ফোবিয়া ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। গত কয়েক বছরে তাদের নিপীড়ন, নির্যাতন, হত্যা, শিশুকে আটকে রেখে ব্লাকমেইল-কী না হয়েছে! বিএনপি মহাসচিব দাবি করেন, স্বাধীন বাংলাদেশের পর সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্রের জন্য যদি কাউকে সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব দেওয়া যায়, সেটা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। দেখুন আপনারা, সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তার রাজনীতিতে আসা। সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই বয়সেও তিনি কারাগারে। সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে শওকত মাহমুদ, মাহামুদুর রহমান, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, কাদের গনি চৌধুরী প্রমুখ এ সময় বক্তৃতা করেন। / এআর /

মওদুদ বহু আগে থেকেই বিতর্কিত : হাছান মাহমুদ

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদন হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ‘বহু আগে থেকেই বিতর্কিত মানুষ’। বৃহস্পতিবার দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। হাছান মাহমুদ বলেন, মওদুদ আহমদ মিথ্যা বলার পারদর্শিতার কারণেই জিয়াউর রহমান ও এরশাদ সরকারের খুব প্রিয় মানুষ ছিলেন। মওদুদ জিয়াউর রহমানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এরশাদ সাহেবেরও প্রধানমন্ত্রী ও ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। জিয়াউর রহমানের পতনের মুহূর্তেই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। তিনি বলেন, এরশাদের সময় তার দুর্নীতির শাস্তি হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু যখন রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন তখন দুর্নীতির অভিযোগে তার শাস্তি হয়। কিন্তু পল্লী কবি জসিম উদ্দিনের মেয়ের জামাতা হিসেবে কবির অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তার শাস্তি মওকুফ করা হয়। তিনি বহু আগে থেকেই একজন বিতর্কিত মানুষ। আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, মওদুদ আহমদের এলাকায় নিরাপত্তাজনিত একটি বিষয় নিয়ে গতকালও তিনি নোয়াখালী অঞ্চলের নেতাদের নিয়ে আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে শালীনতা বিসর্জন দিয়ে বিষোদগার করেছেন। ব্যারিস্টার মওদুদকে নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে- এমন অভিযোগ মিথ্যা বলেও দাবি করেন তিনি। হাছান বলেন, কোম্পানীগঞ্জ বিএনপি কয়েক ভাগে বিভক্ত। ঈদের দিন তার বাড়িতে, তার সামনে বিএনপির নেতাকর্মীরা মারামারি করেন। তার নিরাপত্তার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক ঘর হতে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে তিনি এলাকায় গণসংযোগও করেন। তার প্রমাণ হিসেবে কোম্পানীগঞ্জের ছাত্রদলের একনেতার দেওয়া মওদুদ আহমদের গণসংযোগের স্ট্যাটাসটি সাংবাদিকদের দেখান তিনি। এসএইচ/

হতাশাই শেষ কথা নয়: মির্জা ফখরুল

বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে মাঠে থাকার আহবান জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, হতাশাই শেষ কথা হতে পারে না। লড়াই করতে হবে, লড়াই করতে করতে আমরা একটা জায়গায় গিয়েই পৌঁছাবোই। আমরা এই দেশে কিন্তু বাকশালও দেখেছি। মানুষ কিন্তু জেগে উঠেছে। এই বাংলাদেশের মানুষই কিন্তু ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ধ্বংসস্তুপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো উড়ে গেছে। আমাদেরকে সেভাবেই এগোতে হবে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশ সভার আয়োজন করে। দলীয় নেতাকর্মীদের জনগণের কাছে যাওয়ার আহবান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন হবে, আমরা ক্ষমতায় যাবো, এটা মনে করার কারণ নেই। আপনাকে আদায় করে নিতে হবে। এজন্য জনগণের কাছে যেতে হবে। এর কোনও বিকল্প নেই। ‘সবসময় একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে একটা কথা বিশ্বাস করি, হোয়েন দেয়ার ইজ ক্রাইসিস গো টু দ্য পিপল, লার্ন ফ্রম দেম। তাদের কাছ থেকে জানো, তারপর সেটাকে প্রয়োগের চেষ্টা করো। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বাংলাদেশের সব জায়গায় যাবো। মানুষকে জাগ্রত করার চেষ্টা করবো’-যোগ করেন শিক্ষকতা থেকে রাজনীতিতে আসা ফখরুল। ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা ক্ষমতায় থাকবেন, হেলিকপ্টার চড়ে ঘুরে ঘুরে ভোট চাইবেন আর বিরোধী দলকে একটা কথাও বলতে দেবেন না, তাদেরকে ধরে ধরে নিয়ে জেলে ভরবেন— এভাবে করলে তো হবে না। নির্বাচনে সমান মাঠ থাকতে হবে। বাংলাদেশের নির্বাচনকালীন সামাজিক সংস্কৃতি অনুযায়ী এখানে একটি নিরপেক্ষ সরকার থাকতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে হবে ও সবার আগে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, গত রাতেও (বুধবার) গাজীপুরের কাশিমপুরে আমাদের দলের ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ কারণে গাজীপুরের পুলিশ সুপারকে সরানোর জন্য বলে আসছি আমরা। যেদিন আমাদের প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিলো আর জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করলো, তাকেসহ ৫৭ জনকে গ্রেফতার করলো। আর হাইকোর্ট যেদিন নির্বাচন বন্ধ করলো ওইদিন আমাদের আব্দুল্লাহ আল নোমানসহ ২১৩ জনকে মামলা দিলো। এটা হলো আমাদের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, এটা হলো আমাদের সিইসি সাহেবের খুলনার মতো নির্বাচন না হওয়ার নমুনা। বিএফইউজের একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, বিএফইউজে’র মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ডিইউজে’র সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী প্রমুখ। / এআর /

তিন সিটিতে জোটগত প্রার্থী দেবে ২০ দল

রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জোটের পক্ষ থেকে একক প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট।রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে গতকাল বুধবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জোটের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ ৩ সিটি নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা এবং জোটপ্রধান খালেদা জিয়ার মুক্তি বিষয়ে আলোচনা করেন ২০ দলীয় জোটের নেতারা।সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থিতা বিষয়ে বৈঠকে উপস্থিত দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য আবদুল হালিম বলেন, জামায়াত সব সময় গণতন্ত্র ও জোটের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটবে না। বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূইয়া বলেন, গাজীপুরসহ চার সিটি নির্বাচনে এককভাবে কাজ করবে ২০ দল। খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলনে বিএনপির পাশে থাকার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ আন্দোলন ধীরে ধীরে বেগবান করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।বৈঠকে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম এম গোলাম মোস্তফা ভূইয়া জানান, গাজীপুরসহ চার সিটি নির্বাচনে এককভাবে কাজ করবে ২০ দল। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে বিএনপির পাশে থাকার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই আন্দোলন ধীরে ধীরে বেগবান করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।বৈঠকে জাতীয় পার্টি (জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, এনডিপি চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমেদ আবদুল কাদের, জাগপা সভাপতি রেহেনা প্রধান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।সভায় জাতীয় পার্টির (জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক ডেপুটি মেয়র খালেকুজ্জামান চৌধুরীর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়।এছাড়াও বৈঠকে পবিত্র রমজানে ও ঈদের ছুটিতে বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয়। এছাড়া মাদক নির্মূলের নামে বিচারবর্হিভূত হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।/ এআর /

অষ্টম আশ্চর্য তৈরি করে নির্বাচনী পরিবেশ ফিরিয়ে আনব: হাসান সরকার

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নিশ্চিত ভরাডুবি জেনেই বিএনপির নেতাকর্মীদের গণহারে গ্রেফতার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচনি সুষ্ঠু পরিবেশের ব্যত্যয় ঘটছে। দ্রুত এ অবস্থার উন্নতি না হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তিনি হুশিয়ার করে বলেন, দ্রুত এ অবস্থার উন্নতি না হলে আমি কঠিন সিদ্ধান্ত নেবো। দুনিয়াবাসীকে অবাক করে দেওয়ার মতো কিছু একটা করবো। পৃথিবীতে সপ্তম আশ্চর্য আছে, আমি গাজীপুরে অষ্টম আশ্চর্য সৃষ্টি করে নির্বাচনী পরিবেশ ফিরিয়ে আনবো।আজ বৃহস্পতিবার টঙ্গী কলেজ গেট এলাকায় নিজ বাসভবনে নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ সংস্থা ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল এর তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।হাসান সরকার বলেন, গতকাল (বুধবার) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু এরপর থেকে পরিস্থিতি উল্টো। স্থানীয় প্রশাসন গণহারে আমাদের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করছে। হাসান সরকার নির্বাচন কমিশনের দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের আশ্বাসের পরও গতকাল কাশিমপুর ও কোনাবাড়ি অঞ্চলের অধিকাংশ দায়িত্বশীল নেতাকর্মীর বাড়িতে ডিবি পুলিশ তল্লাশি চালায়। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন নেতাকর্মীর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। পুলিশ আওয়ামী লীগের ৫০ থেকে ৬০ জন ক্যাডার নিয়ে রাতে আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় তারা সেসব বাসায় ভাঙচুর চালায় ও অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করে।প্রচারে বিঘ্ন ঘটছে কিনা  জানতে চাইলে হাসান সরকার বলেন,স্থানীয় প্রশাসনের গণগ্রেফতারের কারণে ও নেতাকর্মীরা পলাতক থাকলে সেটা তো হবেই। পরে তিনি গাজীপুর রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিসে যান। সেখানে গিয়ে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী আমাদের সঙ্গে আছে। তারা নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে।’এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন, সাধারণ সম্পাদক সাইয়্যেদুল আলম বাবুল প্রমুখ।/ এআর /

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি