ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৮ ৩:২৪:১৩

তারেক আর বাংলাদেশের নাগরিক নন: শাহরিয়ার আলম 

তারেক আর বাংলাদেশের নাগরিক নন: শাহরিয়ার আলম 

যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের মাধ্যমে ২০১৪ সালের ২ জুন তারেক রহমান, তার স্ত্রী জোবাইদা রহমান এবং তাদের মেয়ের পাসপোর্ট যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সমর্পণ করেছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি দেশে ফিরতে চান না বলেই এই পাসপোর্ট সারেন্ডার।সে হিসেবে তিনি এখন আর বাংলাদেশের নাগরিক নন।      
বিএনপির বহু নেতা জাতীয় পার্টিতে যোগ দেবেন: এরশাদ

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টিই সম্ভাবনাময় শক্তি। বিএনপির অনেক নেতাই এখন জাতীয় পার্টিতে (জাপা) যোগ দেবেন। আজ সকালে রাজধানীর বারিধারায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য এটিএম আলমগীরের জাতীয় পার্টিতে যোগদান উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে এরশাদ এসব কথা বলেন। পঞ্চম ও ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১০ আসন থেকে নির্বাচিত হন আলমগীর।এরশাদ বলেন, দেশের সবখানেই এখন অস্থিরতা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ আবার জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে শান্তিময় সরকার দেখতে চায়। বিএনপির অনেক নেতাই এখন জাতীয় পার্টিতে যোগ দেবেন। কারণ আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টিই সম্ভাবনাময় শক্তি। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আরও বলেন, এখন আর নির্বাচন হয় না। নির্বাচনের নামে সিল মারা হয়। আশা করি, আগামী নির্বাচনে কেউ সিল মারতে পারবে না। কারণ, সারাবিশ্ব এখন ওই নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে। দেশের মানুষও পরিবর্তন চায়। এসময় জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।  /এআর /

রাজধানীতে বিএনপির মিছিলে পুলিশের ধাওয়া

রাজধানী ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে বিএনপির একটি বিভোক্ষ মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ধাওয়া খাওয়ার পর বিএনপির নেতাকর্মী পালিয়েছে। রোববার দুপুর ২টার কিছু আগে বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া খবরে ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে আটকের তথ্যও পাওয়া গেছে। তবে এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কেউ কিছু নিশ্চিত করতে পারেনি। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাংলা টিভির রিপোর্টার আরমান কায়েস ও তার ক্যামেরাম্যানকেও আটক করা হয় বলে তার সহকর্মী সাংবাদিকদের অভিযোগ। বিএনপি নেতাকর্মীদের ছোড়া ইটের আঘাতে পুলিশের মতিঝিল জোনের এডিসি শিবলী নোমানসহ ছয়/সাতজন পুলিশ সদস্য আহত হন বলে জানা গেছে। পুলিশের একটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। মতিঝিল জোনের সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলাকালে পুরান পল্টন এলাকা যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করে। কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে গতকাল নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি। এসএইচ/

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে লিগ্যাল নোটিশ তারেকের

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন’—এ মন্তব্য করায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং সংবাদ প্রকাশ করায় দুটি জাতীয় দৈনিকের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।  আজ সোমবার দুপুরে তারেক রহমানের পক্ষে তার আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল রেজিস্ট্রি ডাকযোগে প্রতিমন্ত্রী, দৈনিক কালের কণ্ঠ ও বাংলাদেশে প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদককে লিগ্যাল নোটিশটি পাঠানো হয়েছে।নোটিশে ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন’—এ খবর ‘ভিত্তিহীন’ দাবি করে তা প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে।আগামী ১০ দিনের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।ব্যারিস্টার কায়সার কামালের ভাষ্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এ বক্তব্য রাখা হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই এই বক্তব্য, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বক্তব্য। দশ দিনের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় তাদের সবার বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা করা হবে।প্রসঙ্গত গত শনিবার যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন। তিনি বলেন, লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে সবুজ পাসপোর্ট জমা দিয়ে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন তারেক রহমান। এ বক্তব্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বরাত দিয়ে ২৩ এপ্রিল সোমবার দৈনিক কালের কণ্ঠ ও দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত হয়।/ এআর /

‘তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছেড়েছেন’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে হাইকমিশনে নিজের পাসপোর্ট জমা দিয়ে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছেড়েছেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।  গত শনিবার লন্ডনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় এ কথা বলেন শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, ২০১২ সালে তারেক জিয়া তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে জমা দিয়ে তার বাংলাদেশি নাগরিকত্ব সারেন্ডার করেছেন। তিনি কিভাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন?এদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেছেন, যতই কাহিনি বানানো হোক, জিয়া পরিবারের রক্ত ও মাটি হচ্ছে এ দেশে। তাঁরা এ দেশের নাগরিক আছেন, এ দেশের নাগরিক থাকবেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আইনের শাসন না থাকায় তারেক রহমানকে বিদেশে থাকতে হচ্ছে। যেদিন বাংলাদেশে আইনের শাসন ও গণতন্ত্র আসবে, সেদিন তারেক রহমান বাংলাদেশের মানুষের কাছে ফিরে আসবেন।/ এআর /

তারেক পাসপোর্ট জমা দিলে সেটা দেখান : রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পাসপোর্ট লন্ডনে বাংলাদেশি হাইকমিশনে জমা দেওয়াবিষয়ক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বক্তব্য অবান্তর বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি। এ বিষয়ে সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, তারেক রহমান পাসপোর্ট জমা দিয়ে থাকলে সেটা দেখান। হাইকমিশন তো সরকারের অধীনে, তাদের সেটা দেখাতে বলুন। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। লন্ডনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলন রিজভী বলেন, জিয়া পরিবারের কেউ বিদেশিদের বিয়ে করেননি। তারা পৃথিবীর কোনো দেশের নাগরিকত্বও গ্রহণ করেননি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জন্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির এ নেতা। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলে প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন হওয়া ও মন্ত্রীত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা আত্মা বিক্রির সমান বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সম্প্রতি লন্ডনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, লন্ডনে বাংলাদেশি হাইকমিশনে নিজের পাসপোর্ট জমা দিয়ে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছেড়েছেন তারেক রহমান। তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন কিভাবে? এসএইচ/

গাজীপুর সিটি নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি বিএনপির

আসন্ন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। আজ সোমবার সকালে গাজীপুরের টঙ্গীতে নিজের বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তিনি।হাসান সরকার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে ভোটের আগের রাতে ব্যালট পেপারে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি করা, ভোট ডাকাতি, ব্যালট পেপার ছিনতাই, ক্যাডারদের অস্ত্রের মহড়াসহ সব ভোটকেন্দ্র দখল করে প্রকাশ্যে সিল মারার ঘটনা ঘটেছে। এই নির্বাচনেও যেন এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, এজন্য নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।বিএনপির মেয়র প্রার্থী বলেন, নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য সন্ত্রাস দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও তালিকাভুক্ত চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের পদক্ষেপ নিতে হবে। বিএনপি তথা ২০-দলীয় ঐক্যজোটের ধানের শীষ প্রতীকের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের অহেতুক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি না করার আহ্বান জানান তিনি।হাসান সরকার বলেন, প্রচারকাজে উভয় দলের প্রার্থীদের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও হাসান সরকারের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক ফজলুল হক মিলন, সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইয়্যেদুল আলম, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি সালাউদ্দিন সরকার, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হোসেন, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক শওকত হোসেন সরকার প্রমুখ।/এআর /

আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে নিয়ে বিজেপি`র ভাবনা কী?

আওয়ামী লীগের সাধারণ স্ম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে একটি দল বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আগামীকাল দিনভর নানা বিষয়ে আলোচনা করবেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও তাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ হবার কথা রয়েছে। বাংলাদেশে এটা নির্বাচনের বছর, ফলে তার আগে ভারতে আওয়ামী লীগের এই সফরকে অনেকেই বেশ গুরুত্ব দিচ্ছেন। কিন্তু বিজেপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্কটা ঠিক কেমন? বাংলাদেশে গত প্রায় এক দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা দলটিকে বিজেপি কী চোখে দেখে - আর বিরোধী বিএনপি সম্পর্কেই বা তাদের মনোভাব কী? দিল্লিতে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে এমন বিষয় উঠে এসেছে বিবিসি বাংলায়। বছর দেড়েক আগে ঢাকায় আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে বিদেশি অতিথি হিসেবে সামিল হতে বিজেপির যে প্রতিনিধি দলটি গিয়েছিল, তার নেতৃত্বে ছিলেন দলের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও এমপি বিনয় সহস্রবুদ্ধে। ড: সহস্রবুদ্ধে বিবিসিকে বলছিলেন, "দুই দেশে দুটো দলের মধ্যে সম্পর্ক রক্ষাকে বিজেপি বরাবর খুব গুরুত্ব দেয় - আর সেই জন্যই আওয়ামী লীগ নেতাদের এই সফর বিজেপির সেই দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন।" আওয়ামী লীগ বা তাদের নেত্রী শেখ হাসিনা ভারতে শুধু কংগ্রেস এবং নেহরু-গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ, এটাকেও নেহাতই একটা ভ্রান্ত ধারণা বলে মনে করেন তিনি। `শেখ হাসিনা ভারত ও ভারতীয়দের কাছের মানুষ` বিজেপি ভাইস-প্রেসিডেন্টের কথায়, "একজন ব্যক্তি, দলনেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা যে ভারত ও ভারতীয়দের কাছের মানুষ তাতে কোনও ভুল নেই। জীবনের একটা খুব কঠিন সময়ে তিনিও ভারতের সাহায্য পেয়েছেন। কিন্তু সেটাকে যদি শুধু একটা দল বা পরিবারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা হিসেবে দেখা হয়, তাহলে সেটা মারাত্মক ভুল হবে!" বস্তুত নরেন্দ্র মোদির গত চার বছরের শাসনে বিজেপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠেছে, তা এই দু্‌ই দলে অনেকেরই প্রত্যাশার বাইরে ছিল।বিজেপি পলিসি রিসার্চ সেলের অনির্বাণ গাঙ্গুলি মনে করেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উন্নতির প্রভাবও পড়েছে দুই দেশের শাসক দলের সম্পর্কে। তার কথায়, "বিজেপি সব সময় চায় বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হোক - গণতন্ত্রের ধারা বহমান থাকুক, আর তার মধ্যে দিয়ে সে দেশের পলিটিক্স এগিয়ে যাক। আর পাশাপাশি সেখানে `ডিসরাপ্টিভ ফোর্স` বা গণতন্ত্র ধ্বংসকারী শক্তিগুলো যেন পর্যুদস্ত হয়।" "আর এই যে একটা ধারণা ছিল আওয়ামী লীগ ভারতে কংগ্রেসের ঘনিষ্ঠ, ব্যাপারটা আদৌ সেরকম কিছু নয়। ভারতে যখন যে দল ক্ষমতায় থাকুক, আমরা সব সময় চেয়েছি পররাষ্ট্রনীতিতে একটা ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে। বিজেপিও বাংলাদেশ ও আওয়ামী লীগকে সেই দৃষ্টিতেই দেখে এসেছে", বলছিলেন ড: গাঙ্গুলি। কিন্তু আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিজেপির এই নিবিড় সম্পর্কের পটভূমিতেই এই প্রশ্নটাও ওঠা স্বাভাবিক যে বাংলাদেশে নির্বাচনের বছরে ভারতের শাসক দল কি সেখানে প্রভাব খাটাতে উদগ্রীব? দিল্লিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের সোমবার মধ্যাহ্নভোজে আপ্যায়িত করছেন বিজেপি নেতা ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর, তিনি অবশ্য এই জল্পনা সোজা উড়িয়ে দিচ্ছেন। তিনি বলছেন, "আমরা কোনও দিনই কোনও দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাইনি, হস্তক্ষেপও করিনি। আমরা এটায় বিশ্বাস করি না, আর নিশ্চিন্ত থাকুন কোনও দিন করবও না!" তবে এটাও ঠিক যে বাংলাদেশে এখনও প্রধান বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃত বিএনপি-র সঙ্গে ভারতে বিজেপির কোনও সহজ, খোলামেলা সম্পর্ক গড়েই উঠতে পারেনি। অনির্বাণ গাঙ্গুলি তার কারণটা ব্যাখ্যা করে বলছিলেন, "আপনার হয়তো মনে আছে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি যখন বাংলাদেশ সফরে যান, খালেদা জিয়া এসে দেখাও করেননি। সেটা ছিল পরিষ্কার কূটনৈতিক অসৌজন্যতা। তবে বাংলাদেশে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, আমরা সব সময়ই চাই সে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে একটা ফ্রেমওয়ার্ক রেখে এগিয়ে যাক।" "আমার ব্যক্তিগত মত হল বিএনপি যতক্ষণ না জামাত সম্বন্ধে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করছে, ততক্ষণ সম্পর্কে একটা অস্পষ্টতা রয়েই যাবে। আমরা কেউই তো বিচ্ছিন্ন নই - প্রত্যেকেই আমরা একটা আঞ্চলিক যোগসূত্রে বাঁধা - সেই সামগ্রিকতায় জামাতের পরিকল্পনা কী, বিএনপি-ই বা তাদের সম্পর্কে কী ভাবছে ... এগুলো যতক্ষণ না পরিষ্কার হবে ততক্ষণ দীর্ঘমেয়াদে কোনও বন্ধনও গড়ে ওঠা সম্ভব হবে না বলে আমার ধারণা", বলছিলেন তিনি। ফলে আওয়ামী লীগ নেতারা যেভাবে কাল দিনভর দিল্লিতে পার্লামেন্ট থেকে রাজঘাট, বিজেপি দফতর থেকে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় চষে বেড়াবেন - বিএনপির জন্য আপাতত তা ভাবাও সম্ভব নয়। সূত্র: বিবিসি বাংলাএমজে/  

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি