ঢাকা, রবিবার, ২৪ জুন, ২০১৮ ১১:২২:৫৭

আজ বিকালে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন

আজ বিকালে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন

আজ রোববার বিকাল ৫টায় সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বিএনপি। বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হবে। চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলটির সূত্র জানায়, এ সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর সিটি নির্বাচনের সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরা হবে। সেখান স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার হারুন উর রশিদকে প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলবেন বিএনপি মহাসচিব। একে//
আজ রাতে শেষ হচ্ছে নির্বাচনী প্রচারণা

মঙ্গলবার গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। আর আজ রবিবার রাতেই শেষ হচ্ছে নির্বাচনী প্রচারণা। তাই শেষ মুহূর্তের নির্বচনী প্রচারণা ও গণসংযোগে এখন মহাব্যস্ত প্রার্থীরা। শেষ মুহূর্তে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থীর প্রতিশ্রুতির বন্যায় প্রচারণায় যোগ হচ্ছে নতুন মাত্রা। পাশাপাশি কাউন্সিলর প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণার ব্যাপকতাও বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে ২৬ জুনের নির্বাচনকে ঘিরে গাজীপুরে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ভোট গ্রহণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য মাঠে নামছে প্রায় ১২ হাজার নিরাপত্তা কর্মী।নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়নের আবারও দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মনোনিত মেয়র প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার। তবে এ দাবিকে অযৌক্তিক বলে উড়িয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনিত মেয়র প্রার্থী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। অবশ্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার গাজীপুরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সেনা মোতায়নের দাবি নাকচ করে দিয়েছিলেন।সোমবার থেকে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসারসহ প্রায় ১২ হাজার নিরাপত্তা কর্মী মাঠে থাকবে। স্থানীয় নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায় ৪২৫টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৩৩৭টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং বাকী ৮৮টি কেন্দ্র সাধারণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর জন্য ২৪ জন এবং সাধারণ কেন্দ্রের জন্য ২২ জন করে সশস্ত্র পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া থাকবে পুলিশের টহল দল ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দারা।রিটার্নিং অফিসার রকিবউদ্দিন মন্ডল জানান, নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীকে তাৎক্ষণিক সাজা দিতে প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ১৯টি সংরক্ষিত মহিলা কেন্দ্রে একজন করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। অপরদিকে ১৯টি মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স, ১০টি র‌্যাবের টহল টিম এবং ২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়ন থাকবে।এসএ/

বাবার রসিকতা শুনে মিষ্টি নিয়ে হাজির হলেন বঙ্গবন্ধু : সিমিন হোসেন

তাজউদ্দিন আহমেদকে জেল খানায় হত্যা করার পর তার সংসার চলতো বাসা ভাড়ার টাকায়। কিন্তু একটা পর্যায়ে নতুন ভাড়াটিয়া আসতে চাইতো না। তাজউদ্দিন সাহেবের বাড়ি শুনলে ভাড়াটিয়ারা ভয়ে পিছিয়ে যেতো। এমনটিই জানালেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও মুজিবনগর সরকারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তাজউদ্দিন আহমেদের সন্তান সিমিন হোসেন রিমি। সম্প্রতি একুশে টেলিভিশন অনলাইনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তাজউদ্দিন আহমেদের সম্পর্কের নানা দিকও উঠে আসে তার সঙ্গে আলাপকালে। সিমিন হোসেন রিমি জাতীয় সংসদের সদস্য। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী তিনি গাজীপুর- ৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তারও আগে উপনির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যও তিনি। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক লেখক ও গবেষক হিসেবে তার রয়েছে একটি স্বতন্ত্র ধারা। পরিচ্ছন্ন ও নির্মোহ রাজনীতির যোগ্য উত্তরাধিকার সিমিন হোসেন রিমির সঙ্গে বাবার স্মৃতিচারণ নিয়ে সম্প্রতি কথা হচ্ছিল তার বনানীর বাসভবনে। যুদ্ধকালীন মুজিব নগর সরকারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদকে যখন কারাগারে হত্যার শিকার হতে হয়েছিল তখন সিমিন হোসেন রিমির বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। দেশের জন্য মুক্তিযুদ্ধের জন্য বাবার আত্মত্যাগের মধ্যে যেমন সিমিন হোসেন রিমির জন্ম তেমনি মা জোহরা তাজউদ্দিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম, দু:সময়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দেখতে দেখতে তার বেড়ে উঠা। ফলে একজন সাধারন রাজনীতিবিদ নন; বরং দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে তিনি যেমন সচেতন তেমনি রাজনৈতিক দর্শন, মানবিক মূল্যবোধ- এর দিক থেকেও হয়ে উঠেছেন একজন আপোষহীন ব্যাক্তিত্ব। বাবার স্মৃতিচারণ করে রিমি জানান, সংসারের চেয়ে ব্যাক্তিগত সুখের চেয়ে বাবার কাছে তার দেশ ছিল অনেক উর্দ্ধে। রিমি বা তার ভাই বোনরা তাতে অভ্যস্ত ছিলেন। ‘বাবা নেই তা আমাদের মনে হতো না।  আমরা অভ্যস্ত ছিলাম। ধানমন্ডিতে আমরা যে বাড়িটাতে থাকতাম তার আশপাশে সবার সঙ্গে আমাদের খুবই সুসম্পর্ক ছিল। আমরা সেসব বাড়িতে অবাধে আসা যাওয়া করতা ‘-যোগ করেন রিমি। তাজউদ্দিন আহমেদের দেশপ্রেমের কথা উঠে আসে রিমির কথায়। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে যখন জাতীয় চার নেতাকে কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়েছিল, তখন তাজউদ্দিন আহমেদ স্ত্রী কন্যাকে বলেছিলেন, আমাদেরকে ওরা হয়তো আর বাঁচিয়ে রাখবে না। তাজউদ্দিন আহমেদের ডায়েরি লেখার অভ্যাস ছিল। কারাগারে বন্দী থাকাবস্থায় তিনি নিয়মিত ডায়েরি লিখতেন। ১৫ আগষ্টের পর বন্দি থাকাবস্থায় তিনি যে ডায়েরি লিখতেন সেখানে মুক্তিযুদ্ধকালীন অনেক অপ্রকাশিত কথা, কারাগারের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা, তাঁর (তাজউদ্দিন) চিন্তা লিপিবদ্ধ ছিল। ৩ নভেম্বর তাজউদ্দিনসহ জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। তার আগে স্ত্রীকে (জোহরা তাজউদ্দিন, পরবর্তীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অাহবায়ক) বলেছিলেন, আমার যদি কিছু হয়ে যায় আমার ডায়েরিটা যত্নে রেখো। কিন্তু দু:খের বিষয় ৫৬৭ পৃষ্ঠার সে ডায়েরি পরবর্তীতে কারা কর্তৃপক্ষ ফেরত দেয়নি। অন্য দশটা সাধারণ বাঙালি পরিবারের মতো সহজ জীবন পাননি সিমিন হোসেন রিমি। বাবা-মা দু`জনেই রাজনীতি, দেশ, মানুষ নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। ফলে পরিবার, ছোট ছোট ভাই বোন, সংসার সবই তাকে সামলাতে হয়েছে ছোট দুটি হাতে। মাত্র বার বছর বয়সেই পুরো পরিবার আগলেছেন। তাজউদ্দিন আহমেদসহ কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করার পর পুরো পরিবারের উপর নেমে আসে অকথ্য মানসিক নির্যাতন। বনানীতে বাবার কবরস্থানে চারজনের বেশি যেতে দেওয়া হতো না। সিমিন হোসেন রিমির ভাষ্য, আমাদের সংসার চলতো তখন বাসা ভাড়ার টাকায়। আমাদের নিচ তলায় একটি স্কুল ছিল। একপর্যায়ে তারা স্কুলটি ওখান থেকে নিয়ে যায়। নতুন কেউ বাসা ভাড়া নিতে এলে যখন শুনত এটি তাজউদ্দিন সাহেবের বাড়ি তখন তারা ভয়ে পিছিয়ে যেতো। পদে পদে এতো বাধা, তবু রাজনীতি থেকে নিবৃত্ত হয়নি পরিবারটি। দেশের অন্য অনেক রাজনৈতিক পরিবারের তুলনায় এ পরিবারের সদস্যরা সব সময় ছিল সততা ও ন্যায়ের প্রশ্নে আপোষহীন। সিমিন হোসেন রিমির ভাষায়, ‘মানুষের সঙ্গে একটু ভালো করে কথা বললে, ভালো ব্যবহার করলে তারা অনেক খুশি হয়। তাদের জন্য কাজ করতে পারার মধ্যে আছে এক ধরনের সুখ। বাবার আকাঙিক্ষত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা পেয়েছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে সিমিন হোসেন রিমি বলেন, না, আমরা সেই লক্ষে এখনো পৌঁছুতে পারিনি। মুক্তিযুদ্ধের পর আমাদেরকে বারবার নানা ঘাত প্রতিঘাতের মুখোমুখি হতে হয়েছে। বারবার বাধা এসেছে। ফলে লক্ষে পৌঁছানো বিঘ্নিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু ও তাজউদ্দিন রাজনৈতিক সংগ্রামের ঘনিষ্ট জুটি। ফলে তাদের ঘনিষ্টতা গড়িয়েছিল পারিবারিক পর্যায়েও। উভয় পরিবারের আন্তরিকতার কারণে বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে নিয়ে সিমিন হোসেন রিমির আছে অনেক স্মৃতি। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সিমিন হোসেন রিমি জানান, মুজিব কাকু আমাদের বাসায় সবচেয়ে বেশি আসতেন ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুথানের সময়। আমাদের বাসায় ছোট্ট একটি বাগান ছিল। বঙ্গবন্ধু ও বাবা দু`জনেই সেই বাগানে পায়চারি করতেন। দেশ নিয়ে রাজনীতি নিয়ে নানা পরিকল্পনা সাজাতেন। তাদের লক্ষ্য ছিল একটাই। দেশকে স্বাধীন করা। স্মৃতিচারণের একপর্যায়ে সিমিন হোসেন রিমি জানালেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনের আগে তাজউদ্দিন আহমেদ রোড এক্সিডেন্ট করেছিলেন। ঘটনাটা ছিল এরকম। সাভার এলাকায় নির্বাচনী প্রচার শেষ করে বঙ্গবন্ধুর গাড়িতে চড়ে তাজউদ্দিন আহমেদ ও আরো বেশ কয়েকজন ঢাকায় ফেরার পথে গাড়িটি এক্সিডেন্ট করে। গাড়িতে তখন বঙ্গবন্ধু ছিলেন না। সেই এক্সিডেন্টে তাজউদ্দিন আহমেদের পায়ের আঙুল ভেঙ্গে যায়। সবাই কম বেশি আহত হন। গাড়ি চালকের পাঁজরের তিনটি হাড়ও ভেঙে গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু হন্তদন্ত হয়ে তাজউদ্দিনকে দেখতে এসেছিলেন। জাতির জনককে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সিমিন হোসেন রিমি জানালেন আরেকটি ঘটনার কথা। তাজউদ্দিন আহমেদ- এর ছিল তিন মেয়ে। তিনি মেয়ের পর জন্ম নেয় এক ছেলে তানজীম আহমেদ সোহেল তাজ (পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হন)।  ছেলের জন্মের পর তাজউদ্দিন রসিকতা করে বলছিলেন আমার তিন মেয়ের জন্মের পর আমি মানুষের কাছে মিষ্টি নিয়ে গেছি। এখন আমার ছেলে হয়েছে। মানুষ আমার কাছে মিষ্টি নিয়ে আসুক। এ কথা চাপা থাকলো না। পৌঁছালো বঙ্গবন্ধু`র কানে। বঙ্গবন্ধু কয়েক টুকরি মিষ্টি কিনে স্বভাবসুলভ হৈ-হুল্লোড় করতে করতে হাজির হলেন তাজউদ্দিনের বাড়িতে। সেই সময় স্মৃতি রোমন্থন করে সিমিন হোসেন রিমি বলেন, সোহেল তাজ খরগোস খুব পছন্দ করত। তখন গণভবনের নাম ছিল করতোয়া। ১৯৭৫- এর জুন মাসে বঙ্গবন্ধু গণভবন থেকে কাঠের বাক্সে করে সোহেলের জন্য কয়েকটি খরগোসও পাঠিয়েছিলেন। তাজউদ্দিন আহমদকে সিমিন হোসেন রিমির মূল্যায়ন, বাবা ছিলেন শান্ত স্বভাবের মানুষ। কারো প্রতি রাগ করা ছিল তার স্বভাব বিরুদ্ধ। রিমি জানান, খন্দকার মোশতাকের নানা কর্মকান্ড নিয়ে তাজউদ্দিন আহমেদের মধ্যে একটা শঙ্কা ছিল। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধকালীন পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশন করার চেষ্টা তার মধ্যে অন্যতম। সিমিন হোসেন রিমি বলেন, ১৯৭৩ সালে বাবাকে মন্ত্রীসভা থেকে সরে যেতে হলো । সেই খালি জায়গা পূরণ করার জন্য খন্দকার মোশতাক সক্রিয় হলেন। কিন্তু সেই মোশতাকই শেষ পর্যন্ত ছোবল মারলেন। রিমি দাবি করেন, ১৫ আগষ্টের পেছনে যেমন খন্দকার মোশতাক কলকাঠি নেড়েছেন তেমনি ৩ নভেম্বর হত্যাকাণ্ডের ( ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতা যথাক্রমে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন অাহমেদ, এইচ এম কামরুজ্জামান, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী কে কারাগার প্রকোষ্টে হত্যা করা হয়।) সঙ্গে খন্দকার মোশতাক গংয়ের নির্দেশ কাজ করেছে। তাজউদ্দিন আহমেদের দর্শন তরুণদের তকটা ছুঁয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে সিমিন হোসেন রিমি সক্রেটিসের উদাহরণ টেনে বলেন, আড়াই হাজার বছর পর আমরা সক্রেটিসের ইতিহাস ও দর্শন নিয়ে গবেষণা করছি, কাজ করছি। আড়াই হাজার বছর আগে কিন্তু এটা সম্ভব হয়নি। কারণ, সমসাময়িক কালে ইতিহাস রচনা করাটা খুব দুষ্কর। আমার বাবা ( তাজউদ্দিন অাহমেদ) নিজেই ১৯৭২ সালে প্রথম বিজয় দিবসের আগে দৈনিক বাংলায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সম সাময়িককালে ইতিহাস রচনা করা খুব মুশকিল। কারণ তাতে জীবিত ব্যাক্তিদের সঙ্গে সংঘর্ষের সম্ভাবনা থাকে। জাতীয় স্বার্থ ক্ষুন্ন হতে পারে। এই কারণে আমি মিথ্যা বলব না, সত্য গোপন করতে পারি।’ / এআর /  

‘বিএনপির প্রার্থী’ ঘরে বসে বিবৃতি দিচ্ছেন: জাহাঙ্গীর আলম

বিএনপি জনগণের কাছে ভিড়তে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগ থেকে মেয়রপদে প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম। শনিবার সকাল থেকে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণাকালে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বিএনপির প্রার্থী ঘরে বসে বিবৃতি দিচ্ছেন। এই সিটির নাগরিকরা  এখন অনেক সচেতন। সুতরাং তাদের পছন্দের প্রার্থীকে তারা ভোট দেবেন। শনিবার সকালে অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫২, ৫৩ ও ৫৪ ওয়ার্ডের বড় দেওড়া, মুদাফা, বাদাম, বাকরাইল, গোসলিয়া এলাকায় গণসংযোগ করেন। এ সময় বিভিন্ন পথসভায় জনগণের কাছে ভোট চান। ‘নির্বাচন যদি সুষ্ঠু না হয় এবং সরকার যদি নির্বাচনে পক্ষপাতিত্ব করে, তবে বিএনপি ও জনগণ তা প্রতিহত করবে’—হাসান সরকারের এমন বক্তব্যের জবাবে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এটা স্বাধীন দেশ। এখানে যুদ্ধ করার কিছু নেই। গাজীপুরের মানুষ শান্তিপূর্ণ অবস্থানে আছে। মানুষকে হুমকি দিয়ে কোনো লাভ নেই। তিনি বলেন, ‘হাসান সরকার গাজীপুরের মানুষকে মাটির সঙ্গে পিষে ফেলবেন বলেছেন। তার মতো একজন মুরব্বি একজন মানুষ এমন কথা বলতে পারেন না। এখানে সবাই খেটে খাওয়া মানুষ, সবাইকে সম্মান দিয়ে কথা বলা উচিৎ। আমি মনে করি, গাজীপুরের সবাই সম্মানিত। তাই নির্বাচন সুষ্ঠু করতে যা যা করা দরকার, তার সবই করবো। আমার নেতাকর্মীদেরও সেটি বলা আছে।’ তিনি আরও বলেন, এখানে একটি বসবাসযোগ্য শহর করতে চাই। রাস্তাঘাট, ফুটপাত, ড্রেনেজ ব্যবস্থা করতে চাই। যেন সব শ্রেণি-পেশার মানুষ নিরাপদে পথ চলতে পারে। মানুষ আমাদের কাছে এটাই চায়। কিন্তু এখন মানুষ হতাশায় ভুগছে। কারণ গতবার ভোট দিয়ে গাজীপুরবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেজন্য বলতে চাই, নৌকায় ভোট দিয়ে আপনাদের একজন কর্মচারী হিসেবে আমাকে সুযোগ দিন। আমি আপনাদের একটি ক্লিন ও গ্রিন সিটি উপহার দিতে চাই। কেআই/এসএইচ/  

গাজীপুরের নির্বাচন ইসির এসিড টেস্ট : মওদুদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন সরকার ও ইসির জন্য এসিড টেস্ট। আমরা দেখবো এই নির্বাচনে তারা কী করে। খুলনার মতো যদি গাজীপুরে নির্বাচন হয় তবে তার পরিণতি হবে ভয়ঙ্কর। এ নির্বাচন দেখেই আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবো।’ শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনের পরে আমরা চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নেবো রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো কি না। আমরা মনোনয়ন দেবো, সবকিছুই করবো। কিন্তু গাজীপুরের নির্বাচন দেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবো। নির্বাচনের সময় খুব বেশি একটা নেই। সুতরাং এখন সময় এসেছে প্রতিরোধ গড়ে তোলার। অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম-নির্যাতন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, মিথ্যা মামলা প্রতিহত করার শক্তি অর্জন করতে হবে।’ সরকারের উদ্দেশে মওদুদ বলেন, ‘যতই আটকিয়ে রাখেন কোনও লাভ হবে না। একদিন খালেদা জিয়াকে ছাড়তেই হবে। আমরা তাকে নিয়েই নির্বাচনে যাবো।’ নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখা যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপির সাবেক চিফ হুইপকে পেটানোর পরও গাজীপুরের এসপি হারুনের প্রমোশন হয়েছে। তাকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি করলেও নির্বাচন কমিশন সেটা করেনি। যে নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে একজন এসপিকে বদলি করতে পারে না, সে কমিশনের ওপর কীভাবে মানুষ আস্থা রাখবে।’ আওয়ামী লীগ আগামী জাতীয় নির্বাচন বানচালেরও ষড়যন্ত্র করতে পারে এই অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারাতে চাইবে না, হারলে তারা যে লাখ লাখ কোটি টাকা বানিয়েছেন, মানুষকে অত্যাচার-নির্যাতন করেছেন সবকিছু ধরা পড়ে যাবে। সেই ভয়ে তারা নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা করতে পারে।’  টিআর/ এসএইচ/  

গণভবনে আ’লীগের বর্ধিত সভা শুরু

গণভবনে আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা শুরু হয়েছে। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শুরু হওয়া সভায় সভাপতিত্ব করছেন দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, দলের সংসদ সদস্যরা, দল সমর্থিত জেলা ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়র, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান, সহযোগী সংগঠনের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকরাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের চার হাজারের বেশি প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন।একাদশ সংসদ নির্বাচনের ছয়মাস আগে অনুষ্ঠিত এই বর্ধিত সভায় দলের তৃর্নমূলকে দিকনির্দেশনা দেবেন দলের প্রধান শেখ হাসিনা।এসএ/

আ’লীগের নিজস্ব ভবন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিজস্ব ভবন উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার সকাল ১০টায় গুলিস্তান ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে এ ভবন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ৮ কাঠা জায়গার ওপর ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছে এ ভবন। পুরো কার্যালয়টি থাকবে ওয়াইফাই জোনের আওতায়।আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জি. মোশাররফ হোসেন দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে নতুন কার্যালয়ের চাবি তুলে দেন।নতুন ভবনে দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের জন্য রাখা হয়েছে সুপরিসর কক্ষ। দলের সভাপতির কক্ষের সঙ্গে রয়েছে বিশ্রামাগার ও নামাজের জায়গা। এ ছাড়া ডিজিটাল লাইব্রেরি, ভিআইপি লাউঞ্জ, সাংবাদিক লাউঞ্জ, ডরমিটরি ও ক্যান্টিন। দুপাশ কাচ দিয়ে ঘেরা।এ ছাড়া দুটি স্বতন্ত্র কারপার্কিং, একাধিক লিফট, সিঁড়ি, অগ্নিপ্রতিরোধ ব্যবস্থা রয়েছে।ভবনটির ছয় বা সাততলা পর্যন্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অফিস থাকবে।আওয়ামী লীগের পুরনো অফিস ২৩, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের চারতলা ভবনটি লিজ গ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হয় ২০১১ সালে। এর পর দলটি নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।পরে ২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল নতুন কার্যালয়ের নতুন ভবনের নকশা অনুমোদন দেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। ১৭ জুলাই পুরনো স্থাপনা ভাঙা শুরু হয়। রাজধানীর গুলিস্তানের ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের ১০তলা আধুনিক কার্যালয়টির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয় গত বছরের ২৩ জুন।ভবনটির প্রথম থেকে তৃতীয়তলা পর্যন্ত প্রতিটি ফ্লোর ৪ হাজার ১০০ বর্গফুট। চতুর্থতলা থেকে ওপরের সব কটি ৩ হাজার ১০০ বর্গফুটের।কার্যালয়ের সামনে স্টিলের বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’। পাশেই দলীয় প্রতীক নৌকা। সবার ওপরে রয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল। এর পর রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ম্যুরাল। ভবনটির সামনের দেয়ালজুড়ে দলের সাইনবোর্ডসহ দলীয় স্লোগান ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’, চার মূলনীতি খোদাই করে লেখা। ভবনের সামনে-পেছনে ছেড়ে দেয়া জায়গায় আছে বাগান।এসএ/    

সরকার সংলাপে আসতে বাধ্য হবে: মওদুদ  

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, সময় আসলে বর্তমান সরকার সংলাপে আসতে বাধ্য হবে। এটা সময়ের ব্যাপার। এখন বলা যাবে না। আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা তিনি এ মন্তব্য করেন। সংলাপ নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের দেওয়া এক বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, যার নির্বাচনী এলাকায় গণতন্ত্রের লেশমাত্র নাই। তার বক্তব্যের কী জবাব দেবো? সংলাপের প্রয়োজন আপনারা (ওবায়দুল কাদের) বোধ করবেন। আর সময় আসলে বর্তমান সরকার সংলাপে আসতে বাধ্য হবে। এটা সময়ের ব্যাপার। এখন বলা যাবে না। আওয়ামী লীগ সহজে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায় না। কিন্তু জনগণের আন্দোলন ও জোয়ারের মুখে তারা এটা করতে বাধ্য হবে। তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আর বেগম জিয়াকে মুক্ত করেই তার নেতৃত্বে আন্দোলনকে সফল করার জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, নির্বাচনের আগে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। এটা হচ্ছে অন্যতম শর্ত। নির্বাচনের ৯০ দিন আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে। ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েন করতে হবে এবং বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলো প্রত্যাহার করতে হবে। এগুলো হলেই দেশে নির্বাচনের পরিবেশ ফিরিয়ে আসবে। সভায় জাগপার সভাপতি অধ্যাপিকা রেহেনা প্রধান, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন । আরকে// এসএইচ/

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি