ঢাকা, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭ ১২:৪০:৩৭

‘সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি কাজে গণমাধমকর্মীদের বাড়তি ভাতা’

‘সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি কাজে গণমাধমকর্মীদের বাড়তি ভাতা’

কর্মক্ষেত্রে সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি ডিউটি করলে বাংলাদেশের গণমাধ্যমকর্মীদের অতিরিক্ত ভাতা দিতে হবে। এমন শর্ত রেখে গণমাধ্যম কর্মী (চাকরির শর্তাবলি) আইন ২০১৭ এর খসড়া প্রকাশ করেছে তথ্য মন্ত্রণালয়। তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে (www.moi.gov.bd) আইনের খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। খসড়ায় বলা হয়েছে— কোনো গণমাধ্যমকর্মীকে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টা কাজ করতে হবে। তবে ৪৮ ঘণ্টার বেশি কাজের জন্য ওই গণমাধ্যমকর্মী বিধি মোতাবেক অধিকাল ভাতা প্রাপ্য হবেন। এখানে সপ্তাহ বলতে সাতদিনের সমষ্টি বোঝানো হয়েছে। যার শুরু হবে শনিবার মধ্যরাত থেকে। গণমাধ্যমকর্মীদের ছুটি বিষয়ে বলা হয়েছে : প্রত্যেক কর্মী সপ্তাহে একদিন ছুটি ভোগ করবেন। এছাড়া পঞ্জিকা বছরে ১০ দিন নৈমত্তিক ছুটি নিতে পারবেন। তবে কেউ যদি এই ছুটি ভোগ না করেন তাহলে তা পরের বছরে যুক্ত হবে না। এ বছরের ছুটি পরের বছর কাটানো যাবে না। অর্জিত ছুটির বিষয়ে বলা হয়েছে— একজন গণমাধ্যমকর্মী প্রতি ১১ দিনে ১ দিন ছুটি অর্জন করবেন। কোনো কর্মী এই ছুটি ভোগ না করলে তা বছরান্তে জমা থাকবে। চাকরি শেষে তিনি এই ছুটির বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা পাবেন খসড়াটির ওপর আগামী ২৫ অক্টোবরের মধ্যে নিম্ন লিখিত ঠিকানায় লিখিত আকারে বা ই-মেইলে মতামত প্রদানের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় সকলকে অনুরোধ জানিয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়। টেলিফোন : ৯৫৪০৪৬২; ই-মেইল : [email protected] ডব্লিউএন
সেই হাসিটি ভুলবার নয়

না,ভুলবার কোনো উপায় নেই, ভোলা সম্ভাবও নয় । সামাদ সাহেবের সঙ্গে আমর খুব যে দেখা-সাক্ষাৎ হতো তা নয়; ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল এমনও বলা যাবে না । কিন্তু তিনি যে আছেন সেটা জানতাম,তাঁর উষ্ণ পরিস্থিতির বিষয়ে নিশ্চিত ছিলাম । অসুস্থ ছিলেন সেটা  শুনেছি। তাঁর চলে যাবার ক’দিন আগে টেলিফোনে কথা হয়েছে,বলেছেন বাসাতেই থাকেন, আমি গেলে খুশি হবেন। যাওয়া হয়নি । গেলে অনেক কিছু নিয়ে আদান-প্রদান ঘটতো আমি জানি, সে সুযোগটা নিতে পারিনি। এভাবে যে চলে যাবেন কে জানতো। শেষ দেখা ‘মিনার সমগ্র’প্রকাশনা অনুষ্ঠানে। তাঁর অসুখের কথা তখনই শুনলাম । নিজেই বললেন,মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে। কিন্তু ভীষণ অসুস্থ তাঁর কথা থেকে এমনটা আমার মোটেই মনে হয়নি। বোধ করি নিজেকে নিয়ে খুব বেশি ভাবতেন না তিনি । নানা বিষয়ে যে ভাবতেন,সেটা জানি । তাঁকে আমার প্রথম জানা ওই ওই ‘মিনার’পত্রিকার ভেতর দিয়েই ১৯৪৯ সালে মিনার যখন বের হয় তখনও আমি স্কুলের ছাত্র, কিন্তু মনোযোগী পড়ুয়া,নিজেরাও হাতে লেখা পত্রিকা বের করতাম:মিরার’র অত্মপ্রকাশ ছিল একটা সুসংবাদ,আমি তখন ওই কাগজের প্রত্যেকটি সংখ্যা পড়েছি । দ্বিতীয় বার পড়লাম যখন‘মিনার সমগ্র’ পেলাম ,মনে হলো এসব লেখা তো আমার পূর্ব পরিচিত । ওই একটা অসম্ভব কাজ করেছেন ওঁরা দু’জন মিলে । স্ত্রী ফওজিয়া সামাদ সম্পাদক, স্বামী এম এ সামাদ সার্বিক ব্যবস্থাপক। প্রতিষ্ঠানিক নয় , একেবারেই পারিবারিক উদ্যোগ । কে বলেছিল তাঁদেরকে ওপথে যেতে? কেউ বলেনি,গেছেন ভেতরের তাগিদে । ১৯৪৯’র ঢাকার পত্রিকা প্রকাশ ছিল দু:সাধ্য কর্ম ,তাও বিনোদনের কাগজ নয়; কিশোরদের পত্রিকা । ছাপানোর অভাব, ছবি ছাপবার ব্যবস্থা প্রাগৈতিহাসিক বিজ্ঞাপনের আশা দুরাশ বৈনয়, বিতরণ ব্যবস্থা গড়েই । তার ওই কাজটি করেছেন তাঁরা, ধরে রেখেছেন দু’বছরের বেশি । ‘মিনার’ এর পুরে তাৎপর্যটা তখন চোখে পড়েনি ,২০০৫ সালে পড়লো,‘মিনার সমগ্র’ হাতে নিয়ে। এ ছিল ‘প্রগতিশীল কিশোর মাসিক’। ওই কথাটা যে পত্রিকার নামের সঙ্গে উল্লেখ করা হতো তখন খেয়াল করিনি,এবার করলাম । কিন্তু ওটা বলার দরকার ছিল না । তখনকার মানে তো অবশ্যই ,এখনকার মানেও ‘মিনার’ছিল অত্যন্ত অগ্রসর ।নতুন পৃথিবীর খবর থাকতো,থাকতো রাজনীতির প্রসঙ্গ,ছিল বঞ্চিত কিশোরদের কথা,উৎসাহ দেওয়া হয়েছে ‘চাঁদের হাট’ নামে কিশোর সংগঠন গঠনে । তখনকার দিনে প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গির লালন-পালন পত্রিকা প্রকাশের চেয়েও বিস্ময়ের ব্যাপর ছিল। পরে সামাদ সাহেবের সম্পর্কে শুনেছি । বীমার সঙ্গে যুক্তদরে কাছ থেকে তো বটেই,অন্যদের কাছ থেকেও । একদিন তিনি  নিজে আমাদরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসে এসেছিলেন, দু’টি বই দিতে,একটি বীমা সম্পর্কে,নোম ‘যে ব্যবসা সম্মানের ,যে ব্যবসার মূলধন লাগে না ‘। অন্যটি সৃষ্টিশীল রচনা,‘ শবিরারের ছুটি’। সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন তাঁর এক সহকর্মীকে,যিনি আমার আত্মীয়। লেখক হিসেবে তার পরিচয়টি আগে জানা ছিল না। আমরা যারা পত্রিকা প্রকাশের রোগে আক্রান্ত ,ব্যতিকগ্রস্থিই বলা চলে –তাঁদের সঙ্গে জনাব সামাদের যোগাযোগ আরেকটি সুত্র ছিল-পত্রিকার জন্য বিজ্ঞাপন । বহুবার তাঁর দ্বারস্থ হয়েছি কখনো বিফল হইনি । পত্রবাহকের হাসিহাসিমুখ করে ফিরে আসতো,বলতো সাফল্যের কথা । বিজ্ঞাপনের ব্যাপারটা সম্পর্কে তাঁর নিজেরই অভিজ্ঞতা ছিল,পত্রিকা চালানোর জন্য তা যে কেমন জরুরী তা তিনি জানতেন ।‘মিনার সমগ্র’র শেষ পাতাতে  যারা বিজ্ঞাপনের দিতো তাদের একটি তালিকা আছে,ওই সব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোই আমাদরে পরিচিত । পত্রিকা প্রকাশের আগ্রহীদের সহায়ক হিসেবে । তালিকাটি কিন্তু দীর্ঘ নয় । বীমার ক্ষেত্রে তাঁর যে সাফল্য সেটা নিশ্চয়ই এমনি এমনি,কঠোর পরিশ্রম যে করতে হয়েছে তা বলবার অপেক্ষা রাখেনা । কিন্তু কখনোই ওই মুখের হাসিটি মিলিয়ে যায়নি । ভেতর প্রসন্ন ছিলেন । ওই প্রসন্ন হাসি দিয়েই তাকে চেনা যেত । ভন্ডামভর বিরক্তিকর এই জগতে অমনভাবে প্রসন্ন থাকতে খুব কম মানুষকেই আমি দেখেছি । ভেতরে নিশ্চয়ই অত্যন্ত প্রবল একটি কৌতুকবোধ ছিল । নইলে ১৯৪৭ এর শেষে রেডিও পাকিস্তানের সংবাদ বিভাগে কর্মরত অবস্থায় অমন কাজটি ঘটালেন কী করে । রেডিও পাকিস্তান তখন বাংলা ভাষায় পাকিস্তানীকরণে মনোযোগ দিয়েছিল । করাচী থেকে যে জাতীয় সংবাদ প্রচার করা হতো তাতে বাংলার সঙ্গে প্রচুর অরবী-ফার্সী শব্দ মেশানো হতো । রেডিওর প্রধান কর্মকর্তা জেড এ বোখারী ঢাকায় এসে সামাদ সাহেবকে নির্দেশ দিয়েছিলেন সংবাদর ভাষাকে উন্নত করতে অর্থাৎ তার পাকিস্তানীকরণ ঘটাতে । সামাদ সাহেব তা৭র নিজের মতো করে ব্যাপারটার অযৌক্তিকতা ও অসঙ্গতির দিকটি তুলে ধরতে চেয়েছিলেন । কাজ হয়নি । বোখারী কোনো যুক্তি শুনতে প্রস্তুত ছিলেন না । পরে সামাদ সাহেব জবাব দিয়েছিলেন ভিন্নভাবে, এবং কৌতুকের সাথে । ঢাকা কেন্দ্রের একটি খবরকে তিনি প্রচার করেছিলেন এভাবে,‘সরকারের এক এলানে জাহির করা হয়েছে যে,  আগলে রোজ সুবাহ থেকে শমতক কারফিউ জারি থাকবে ।’ প্রতিক্রিয়া ঘটেছিল সঙ্গে সঙ্গে ,প্রতিবাদ এসেছিল চতুর্দিকে থেকে এবং মূলত তাঁর ওই দু:সাহসিক ও কৌতুকপ্রদ কাজের ফলেই রেডিওতে বাংলাভাষর বিকৃতি ঘটারোর প্রচেষ্টার অবসান ঘটে, সময়টার কথা সম্মরণ রাখতে হবে। তখন সবে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং শামন কার্তাদের মধ্যে পাকিস্তান জোশ রীতিমত টগবগ করছে । এরপর রেডিওতে তিনি আর থাকেননি । বেরিয়ে এস তিনি বীমা কোম্পানীতে যোগ দেন । বীমা ক্ষেত্রে অমামান্য সাফল্য অর্জন করেন । সামাদ সাহেবের সময়ে আরো একজন অসাধারণ বাঙালী রেডিও পাকিস্তানের ঢাকা কেন্দ্রের সংবাদ বিভাগে যোগ দিয়েছিলেন । তিনি হলেন সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ,ডিনি তাঁর ‘লালসালু’ উপন্যারে শুরতেই বাইরে আধুনিকক কিন্তু ভেতরে মুসলমান,‘ কেবল নতুন খোলসপরা নব্যশিতি মুসলমান’ পাশি শিকারী এক সরকারী কর্মচারীর কথা উল্লেখ করেছেন । আমাদরে এই বান্ধব,মোহাম্মদ আজিজুস সামাদ,ভেতরে বাইর সমান বাঙালী ছিলেন,যেমন ছিলেন, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ । এঁরা দু’জনের কেউই ঢাকা রেডিওর ওই ছোট জায়গাটিতে আবদ্ধ থাকেননি, বড় কর্মকর্তা চলে গেছেন । দু’জনের ভেতরকার মিলটা স্মরণীয় । পাকিস্তানওয়ালাদের সাধ্য ছিল না তাদরেকে গ্রাস করে এই স্বৈরাচারীদেরকে তাঁরা কেবল প্রত্যাখানই নয় উন্মোচিত করেও দিয়ে গেছেন নিজ নিজ ক্ষেত্রে । আমরা কয়েকজন সমমনা মানুষ মিলে একবার একটি দু:সাহসিক উদ্যোগ নিয়েছিলাম,একটি সাপ্তাহিক প্রত্রিকা প্রকাশের,নাম ছিল ‘সাপ্তাহিক সময়’। যথারীতি সামাদ সাহেবের সাহায্য পাওয়া গেছে । কিন্তু আমাদের ছিল পুঁজির অভাব যে জন্য পত্রিকাতিট দু’বছরের মতো টিকে থেকে বন্ধ হয়ে গেলো । আমাদের শুভানুধ্যায়ী অনেকেই এই ব্যর্থতার দু:খ পেয়েছিলেন । তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন বিদ্যোৎসাহী জনাব দেলোয়ার হোসেন,যিনি সামাদ সাহেবের ঘনিষ্ঠ বন্ধু । পত্রিকাটির টিকিয়ে রাখা যায় কি না এই চেষ্টর ব্রতী হয়ে তিনি একদিন পত্রিকার সম্পাদক অধ্যাপক জাহেদা আহমদসহ আমাকে সামাদ সাহেবের অফিসে নিয়ে গিয়েছিলেন । সামাদ সাহেব যথাসাধ্য সাহায্য করবার প্রতিশ্রুতি দিলেন ।কিন্তু ইতিমধ্যেই রণে ভঙ্গ দিয়েছি,তাই ব্যাপারটা আর এগোয়নি। তবে সেই সাক্ষাৎকারের কথা মনে আছে। কিছুদনি পরে ‘নতুন দিগন্ত’ নামে একটি ত্রৈমাসিক বের করবার সিদ্ধান্ত নিলে আমরা যারা উদ্যোক্তা তাঁদের তিনজন গিয়ে আবার সামাদ সাহেবের শরণাপন্ন হলাম, এবং তার সেই প্রসন্ন অভ্যর্থনা ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে ফিরে এলাম । ত্রৈমাসিকটি অষ্টম বছর পার হয়ে নবম বর্ষে পদার্পণ করতে যাচ্ছে। এর পেছনেও সামাদ সাহেবের সমর্থন ও সহয়োগিতা কার্যকর ছিল এবং এমন একটা ব্যবস্থা করে রেখে গেছেন যাতে তাঁর অনুপস্থিতিতেও সমর্থন-সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে । কোনো দিক দিয়েই তিনি সাধারণ ছিলেন না । পেশাগত জীবনে তাঁর সাফল্য সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয়বহ্ । স্ত্রী ফওজিয়া সামাদের সঙ্গে তাঁর যে সহধর্মিতা তার খবরও আমরা জানি । যতবার দেখা হয়েছে তাঁর প্রসন্নতা দেখেছি । হাসতেন বড় মিষ্টি করে, প্রসন্নতার সঙ্গে তাতে এক ধরনের দুষ্টুমিও থাকতো । দুষ্টমি তো অবশ্যই ছিল,নইলে চারপাশের পশ্চাদপদতা ও আত্মস্বার্থসর্বস্বতার ভেতর তিনি অমন ভিন্নধর্মী হলেন কি করে । ওই প্রসন্নতা,ওই দুষ্টমি এবং দু’য়ের সংমিশ্রণ-এ খুবই বিরল। একেবারেই অপ্রস্তুত ছিলাম এবং বড়ই মর্মাহত হয়েছি তাঁর চলে যাবার খবর শুনে । বেদনাটা উষ্ণহৃদয় স্বজন হারানোর,কিন্তু আমি তাঁকে আজও দেখতে পাই, সবসময়েই পাবো,স্বজন হিসেবে ,যার হাসিটি কখনো ভুলবার নয় । লেখক:ইমেরিটাস প্রফেসর,ইংরেজি বিভাগ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় । //এআর

বাড়তি কাজের চাপে নারী সাংবাদিকের মৃত্যু

অতিরিক্ত কাজের চাপে জাপানের নারী সাংবাদিক মিওয়া সাদোর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির শ্রম পরিদর্শক। জানা যায়, মিওয়া সাদো টোকিওতে দেশটির সরকারি পাবলিক ব্রডকাস্টিং সংস্থা এনএইচকে’র রাজনীতি বিটের সাংবাদিক ছিলেন। ২০১৩ সালের জুলাইতে তার মৃত্যু হয়। ২০১৩ সালে টোকিও মেট্রোপলিটনের স্থানীয় একটি নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল মিওয়াকে। দায়িত্ব নেওয়ার তিন দিন পর হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ৩১ বছর বয়সী এই নারী সাংবাদিক।  মিওয়ার পরিবারের চাপে এত দিন পর এ নিয়ে মামলা হয়। এরপর মিওয়ার কর্মক্ষেত্রের কাজের রেকর্ড খতিয়ে দেখেন শ্রম পরিদর্শক। শ্রম পরিদর্শক জানিয়েছেন, কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাজের চাপে মিওয়ার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর আগে তিনি টানা এক মাস ১৫৯ ঘণ্টার ওভারটাইম করেছিলেন। মাসে ছুটি পেয়েছিলেন মাত্র দুই দিন। এনএইচকে’র জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মাসাহিকো ইয়ামাউচি বলেন, এই সংস্থার গাফিলতির কারণেই মিওয়া সাদোর মৃত্যু হয়েছে। এখানে অতিরিক্ত কাজ করতে চাপ দেওয়া হয়। এ ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে একটি বিবৃতি দিয়েছে এনএইচকে কর্তৃপক্ষ। জাপানে অতিরিক্ত কাজের চাপে মৃত্যুর ঘটনা নতুন নয়। দেশটির জাতীয় সমীক্ষায় বলা হয়েছে, জাপানে বাড়তি কাজের চাপের কারণে বছরে প্রায় দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। সম্প্রতি মিওয়া সাদোর মৃত্যুর ঘটনায় দেশটির মিডিয়াতে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা ও অতিরিক্ত কাজের ফলে মৃত্যুও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনায় হচ্ছে। এর ফলে এনএইচকে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়।   সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট   এমআর/এআর

দুরন্ত টিভির যাত্রা শুরু

যাত্রা শুরু করলো দেশের প্রথম শিশুতোষ টেলিভিশন চ্যানেল ‍দুরন্ত টেলিভিশন। আজ রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বারিন্দা মিডিয়া লিমিটেড আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চ্যানেলটির লোগো উন্মোচন করা হয়। লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, লেখক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ফরিদুর রেজা সাগর, দুরন্ত টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সাঈদ। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, বাংলাদেশে শিশুদের জন্য একটি বিশেষ চ্যানেলের অভাব ছিল। দুরন্ত টিভি সেটি পূরণ করবে। দেশপ্রেমের শিক্ষা দিতে হবে, মুক্তিযুদ্ধকে তুলে ধরতে হবে। ‘বাল্য বিবাহ বন্ধ করো’, যৌতুক দিবনা, যৌতুক দেবনা’, ’ছেলে মেয়ে সবাই সমান, কেউ বড় নয়, কেউ ছোট নয়’ এ ধরনের শ্লোগান নিয়ে দুরন্তকে এগিয়ে আসতে হবে। শিশুদের মেধাকে এগিয়ে নিতে দুরন্ত বাহন হিসেবে কাজ করবে দুরন্ত টিভি। তথ্যমন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দুরন্ত টিভিকে শুভেচ্ছা জানান তথ্যমন্ত্রী। তারানা হালিম বলেন, শিশুরা যা করে তা-ই সুন্দর। শিশুরা নিষ্পাপ, নির্ভেজাল। তাদেরকে সুন্দর আগামী উপহার দেয়া আমাদের দায়িত্ব। প্রচলিত হিন্দি সিরিয়াল থেকে শিশুদের বের করে আনার জন্য দুরন্ত টিভি ভালো ভালো শিশুতোষ অনুষ্ঠান তৈরি করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম ও লেখক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ফরিদুর রেজা সাগর। এমআর/ডব্লিউএন    

প্রবীণ সাংবাদিক মিন্টু বসু আর নেই

একুশে টেলিভিশনের সাবেক বরিশাল প্রতিনিধি, প্রবীণ সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মিন্টু বসু পরলোক গমন করেছেন। মঙ্গলবার রাত সোয়া ১০টায় তিনি বরিশাল নগরীর শীতলাখোলা রোডের নিজ বাসায় বার্ধ্যক্যজনিত কারণে হঠাৎ করে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসাপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। এছাড়া তিনি স্ত্রী ও এক কন্যা সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মিন্টু বসু বহুমাত্রিক গুণের অধিকারী। তিনি একাধারে সাংবাদিক, লেখক, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, অভিনেতা ও সংগঠক ছিলেন। গুণী এ মানুষটি ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার বৈচন্ডি গ্রামে ১৯৪৮ সালের ১২ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম নরেন্দ্রনাথ বসু ও মাতা শৈলবালা বসু। বাবা-মায়ের ছয় সন্তানের মধ্যে তিনি চতুর্থ। সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চা করতে গিয়ে যেমন এই সমাজকে আলোকিত করেছেন তেমনি নিজেকেও সমৃদ্ধ করেছেন তিনি। স্বাধীনতা পূর্বকালে মিন্টু বসু ছিলেন ‘বরিশাল যুবসংঘ’র নেতৃস্থানীয়কর্মী। প্রথিতযশা সাংবাদিক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত মিন্টু বসু। সুদীর্ঘ ৪৪ বছর ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশে ‘বাংলাদেশ’ পত্রিকা থেকেই মিন্টু বসুর সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে মিন্টু বসুর সাংবাদিকতা জীবনের শুরু হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের রনাঙ্গণে। ‘বিপ্লবী বাংলাদেশ’ পত্রিকা ছিল রণাঙ্গণের মুক্তিযোদ্ধাদের মুখপত্র। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের কোলকাতায় অবস্থানকালে মিন্টু বসু ‘বিপ্লবী বাংলাদেশ’র বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সাপ্তাহিক থেকে দৈনিক হিসেবে প্রকাশিত ‘বিপ্লবী বাংলাদেশ’ এ দীর্ঘদিন বার্তা সম্পাদক ছিলেন মিন্টু বসু। রণাঙ্গণ নিয়ে মিন্টু বসুর অনেক লেখাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও দলিলপত্র গ্রন্থে সন্নিবেশিত হয়েছে। তিনি দৈনিক দক্ষিণাঞ্চল ও আজকের বার্তা পত্রিকায় বার্তা সম্পাদক, দৈনিক গ্রাম সমাচার পত্রিকায় নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজাদ, দৈনিক দেশবাংলা এবং দৈনিক বাংলার বাণীতে বরিশাল প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। দীর্ঘদিন তিনি একুশে টেলিভিশনের বরিশাল প্রতিনিধিও ছিলেন। বরিশাল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ছাড়াও বরিশাল প্রেসক্লাবের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন মিন্টু বসু। নাটক, উপন্যাস, জীবনীগ্রন্থ ও মুক্তিযুদ্ধের উপর তার ৭৮টি বই প্রকাশিত হয়েছে। তার প্রথম লেখা উপন্যাস প্রকাশিত হয় ১৯৬৫ সালে। ৮০’র দশকে তিনি শিশু সংগঠন চাঁদের হাটের মাধ্যমে বরিশালে শিশু নাট্য আন্দোলন গড়ে তোলেন। দেশের অন্যতম প্রাচীন গ্রুপ থিয়েটার খেয়ালী গ্রুপ থিয়েটারের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘ ২০ বছর। তার লেখা নাটকের সংখ্যা ৩৪। এরমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে ১৪টি। ১৯৯৪ সালে তার লেখা নাটক ‘বিপ্লবের মৃত্যু নেই’ মঞ্চস্থ হয় এবং বিশেষ অ্যাওয়ার্ড লাভ করে। তার একাধিক নাটক টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। ঢাকার নাট্য সংগঠন লোক নাট্যদল মিন্টু বসুকে ১৯৯৩ সালে দেশের শ্রেষ্ঠ নাট্যকর্মীর পদকে ভূষিত করে। এছাড়াও বরিশালের প্রজন্ম নাট্যকেন্দ্র তাকে বিপ্লবী দেবেন্দ্রনাথ ঘোষ পদক প্রদান করে। এ পর্যন্ত তিনি অর্ধশত নাটকে অভিনয় ও নির্দেশনা দিয়েছেন। তার লেখা নাটক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি, সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ, অপসংস্কৃতি এবং সামাজিক নীপিড়নের বিরুদ্ধে আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করেছে। সংগঠক হিসেবেও মিন্টু বসুর সুখ্যাতি রয়েছে। তিনি বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং একাধিকবার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। মিন্টু বসু মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বরিশাল জেলা কমান্ডের সাবেক সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাংস্কৃতিক সম্পাদকসহ বহু প্রগতিশীল সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি সেক্টরস কমান্ডার ফোরাম বরিশাল মহানগর শাখার সভাপতি ছিলেন। বরিশাল নাগরিক পরিষদের এক সময় সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করতেন তিনি।   এসএ/ডব্লিউএন

ভারতে বিবিসির চারটি নতুন ভাষায় সম্প্রচার শুরু

বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস চারটি ভারতীয় ভাষায় সম্প্রচার শুরু করেছে। ভাষাগুলো হচ্ছে মারাঠি, গুজরাটি, তেলেগু এবং পাঞ্জাবি। উনিশশো চল্লিশ সালের পর থেকে এটিই বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে সবচেয়ে বড় সম্প্রসারণ। হিন্দি, উর্দু, তামিল এবং বাংলার পাশাপাশি নতুন এই চারটি ভাষায় ভারতে সম্প্রচারিত হবে বিবিসি। ব্রিটিশ সরকারের অর্থায়নে এই সম্প্রসারণ সম্ভব হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে মোট ১১টি নতুন ভাষার সম্প্রচার শুরু হচ্ছে। বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে এখন ৪০টি ভাষায় সম্প্রচার হয়ে থাকে। বিবিসির মহাপরিচালক টোনি হল এই নতুন পরিষেবাগুলির উদ্বোধন করতে এই মুহূর্তে ভারতে রয়েছেন। দিল্লিতে বিবিসি ব্যুরোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি বলেন, "নিরপেক্ষ, স্বাধীন সংবাদ পরিবেশনার জন্য বছরের পর বছর ধরে ভারতের শ্রোতারা বিবিসির ওপর ভরসা রেখেছেন - আর আজ আরও লাখ লাখ ভারতীয় তাদের নিজের ভাষায় বিবিসিকে কাছে পাওয়ার সুযোগ পাবেন।" নতুন চারটি ভাষায় সংবাদ পরিষেবা প্রচার করা হবে অনলাইন ও সোশ্যাল মিডিয়ায়। পাশাপাশি তেলেগু টিভি বুলেটিন `বিবিসি প্রপঞ্চম` শুরু হবে সোমবার রাত থেকেই। এই অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারিত হবে ইনাডু টিভি অন্ধ্র প্রদেশ ও ইনাডু টিভি তেলেঙ্গানাতে। এই সম্প্রসারণ ভারতে বিবিসির খুব তাৎপর্যপূর্ণ এক বিনিয়োগ - যার অংশ হিসেবে দিল্লির নিউজ ব্যুরোর পরিসরও বৃদ্ধি পেয়েছে, সংযোজিত হয়েছে দুটি নতুন টিভি স্টুডিও। ব্রিটেনের বাইরে বিবিসির বৃহত্তম ব্যুরো এখন দিল্লিতেই। এই ব্যুরো সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি ভিডিও, টিভি ও ডিজিটাল কনটেন্ট প্রডাকশন হাবে পরিণত হবে। সূত্র : বিবিসি ও গার্ডিয়ান ডব্লিউএন

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি