ঢাকা, রবিবার, ২৭ মে, ২০১৮ ২১:১৭:২০

প্রতিটি শিশুর স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার অধিকার আছে: প্রিয়াঙ্কা

প্রতিটি শিশুর স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার অধিকার আছে: প্রিয়াঙ্কা

ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত এবং বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া বলেছেন, প্রতিটি শিশুর স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার অধিকার আছে। তাদের এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করার কোনো সুযোগ নেই। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ইউনিসেফ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। প্রিয়াঙ্কার চারদিন রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে অবস্থান ও পরিদর্শন শেষে এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় প্রিয়াঙ্কা চোপড়া বলেন, “আমরা শিশুদের বিভক্ত করছি। যা আমরা পারি না। আজ রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে যা হচ্ছে তা যদি আমাদের শিশুদের সঙ্গে হয় তাহলে আমাদের কেমন লাগত?” তিনি আরও বলেন, আজ যদি আমরা এসব শিশুদের পাশে এসে না দাড়াই আর কাল যদি আপনার বা আমাদের শিশুদের সঙ্গে এমন হয় তাহলে পিছন ফিরে এই দিনটির কথা মনে পরবে যে আমরা সেদিন কিছুই করিনি। তবে সেদিন আমাদের কিছুই করার থাকবে না। তিনি আরও বলেন, আমরা কী কম হিংসা দেখলাম? আমার তো মনে হয় যথেষ্ট হয়েছে। এবার এই শিশুদেরকে তাদের অধিকার, তাদের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দিতে হবে। রোহিঙ্গা শিবিরে থাকা শিশুরা এই মুহুর্তে পুরো পৃথিবীর দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সেই সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যুতে নেওয়া বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করেন বলিউডের প্রিয়াঙ্কা। এর জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও ধন্যবাদ জানান ইউনিসেফের এই শুভেচ্ছাদূত। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানের অভিজ্ঞতার আলোকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে কোনো বার্তা দেবেন কী না এমন প্রশ্নের জবাবে প্রিয়াঙ্কা বলেন, আমি আসলে কোন রাজনৈতিক ব্যক্তি না। তবে এই সমস্যাটি রাজনৈতিক। আর এর সমস্যার সমাধানও রাজনৈতিকভাবে আসবে। আমি এই মুহুর্তে খুবই ছোট মানুষ। যদি কখনও আমি কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারি তখন বলবো। তবে আমাদের এখন এই মুহুর্তে সব থেকে বেশি নজর দিতে হবে শিশুদের দিকে। তাদের বিকাশের দিকে। তবে রোহিঙ্গা শিশুদের অচিরেই তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার অধিকারের পক্ষেও মত দেন প্রিয়াঙ্কা। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইউনিসেফের কাজেরও প্রশংসা করেন প্রিয়াঙ্কা। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিশুদের সঙ্গে নিজের একটি অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ইউনিসেফের কাজের ইতিবাচক প্রভাবের ধারণা দেন তিনি। তিনি বলেন, আমি একটি ক্যাম্পে মনসুর আলী নামের মাত্র ৭ বছরের একটি শিশুর সঙ্গে কথা বলেছি। সে আকাআকি করে। সে যখন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথম এসেছিল তখন সে একটি ছবি একেছিল যেখানে একদল শিশু ফুটবল খেলছে। আর সেখানে হেলিকপ্টার, রকেট লঞ্চার এসব দিয়ে হামলা করা হচ্ছে। ইউনিসেফের স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষকদের ব্যাপক যত্নের ফলে সেই মনসুর আলী এখন শুধু খেলাধূলার ছবি আকে। নাচের ছবি আকে। তার শিক্ষকদের ছবি আকে। এটা খুবই ইতিবাচক দিক। আমার মনে হয়, যত যাই হয়ে যাক আমাদের উচিৎ শিশুদের পাশে থাকা। যেন তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ ঠিক মত হয়। প্রসঙ্গত, শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করে জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা ইউনিসেফের আমন্ত্রণে গত সোমবার বাংলাদেশে আসেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। এরপর কক্সবাজার ও আশেপাশের এলাকায় থাকার বেশ কয়েকটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন তিনি। এসএইচএস/এসএইচ/
রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে গল্প-খুনসুটি করলেন প্রিয়াঙ্কা

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা, গল্প-খুনসুটি করে সময় কাটালেন বলিউড-হলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াংকা চোপড়া। বুধবার তৃতীয় দিনের মতো রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক তহবিল ইউনিসেফের এ শুভেচ্ছা দূত। এ দিন তিনি উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের জামতলী ও বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন বলে জানান কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আফরুজুল হক টুটুল। তৃতীয় দিনও গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেননি ভারতীয় এ অভিনেত্রী। পুলিশ কর্মকর্তা আফরুজুল বলেন, সকাল সাড়ে ৮টায় ইউনিসেফের একটি প্রতিনিধি দল প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে হোটেল থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের উদ্দেশে রওনা দেন। সকাল ১০টার দিকে তারা পালংখালীর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছান। এরপর প্রিয়াঙ্কা রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি রোহিঙ্গা শিশু-কিশোর ও নারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজ-খবর নেন। ক্যাম্প পরিদর্শনের শেষ পর্যায়ে রোহিঙ্গা শিশু-কিশোদের সঙ্গে খেলাধুলায় মেতে উঠেন এবং গল্প-খুনসুটি করে সময় কাটান প্রিয়াঙ্কা। প্রায় দুই ঘণ্টা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে বেলা ১২টার দিকে বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যান তিনি। সেখানেও তিনি ইউনিসেফসহ বিভিন্ন সংস্থার শরণার্থী ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শনের পাশাপাশি রোহিঙ্গা শিশু-কিশোরদের সঙ্গে সময় কাটান। বিকেল ৪টা পর্যন্ত ক্যাম্পে অবস্থান করে আবার হোটেলে ফিরেন বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের কথা রয়েছে এ বলিউড অভিনেত্রীর। এরপর সেখান থেকে হোটেলে ফিরে বিমানে করে ঢাকায় রওনা দেবেন তিনি। সোমবার কক্সবাজার আসেন প্রিয়াঙ্কা। ওইদিন বিকালে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন তিনি। পরদিন মঙ্গলবার সকালে তিনি টেকনাফের সাবরাং সীমান্ত এলাকা ও উনচিপ্রাং এবং দুপুরে উখিয়ার বালুখালী ও ময়নারঘোনা রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যান। এসএইচ/

পাহাড় কেটে গাছ উজাড় করছে রোহিঙ্গারা [ভিডিও]

কক্সবাজারের উখিয়ায় নতুন করে পাহাড় কেটে গাছ উজাড় করছে রোহিঙ্গারা। বন বিভাগের অনুমতি ছাড়াই আবাসস্থল তৈরি করতে অবাধে পাহাড় কাটছে তারা। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসের পাশাপাশি মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা দেখা দিয়েছে। কক্সবাজার প্রতিনিধি আব্দুল আজিজের রিপোর্ট জানাচ্ছেন আফসানা নীলা। বন বিভাগের হিসেবে, উখিয়ার সাড়ে ৫ হাজার একর বনভূমিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অবস্থান। বাস্তবে তা ছাড়িয়ে যাচ্ছে, ১০ হাজার একরের ওপরে। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পাহাড় কেটে রোহিঙ্গাদের নতুন আবাসন গড়ে তোলা হচ্ছে। বসতি গড়ে তুলতে নতুন বনভূমি দখল করে গাছ উজাড় করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায়ই চলছে এসব কাজ। উখিয়ার কুতুপালং, মধুরছড়া, লম্বাশিয়া, পালংখালী, বালুখালী, তাজনিমার খোলাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে শতাধিক পাহাড় কেটে বসতি গড়ে তুলছে রোহিঙ্গারা। ৩ হাজার রোহিঙ্গা শ্রমিক দিয়ে পাহাড় কাটার কাজ তদারকিতে আছে আন্তর্জাতিক সংস্থা আইওএমর কর্মীরা। বিষয়টি তত্ত্বাবধান করছেন আইওএম এর সুপার ভাইজার ইমাম শরিফ। তবে এ বিষয়ে কিছুই জানেনা বন বিভাগ। কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো: আলী কবির জানান, তাদের এবিষয়ে কিছু জানা নেই। পাহাড় আর গাছ কাটায় জীববৈচিত্র ধ্বংসের পাশাপাশি পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা করা হচ্ছে।   ভিডিও:   

এতো নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই: প্রিয়াঙ্কা

‘প্লিজ, আমার জন্য এত নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই। সামনে- পেছনে এত গাড়ি থাকতে হবে না। একটা গাড়ি থাকলেই চলবে।’ হলিউড আর বলিউডের জনপ্রিয় তারকা প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে ঘিরে পুলিশির নেওয়া নিরাপত্তাব্যবস্থায় বিরক্ত হয়ে এমন কথা বলেন তিনি। আজ মঙ্গলবার সকালে উখিয়ায় রয়েল টিউলিপ হোটেল থেকে কক্সবাজার- টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া যখন হাঁড়িখালী পৌঁছান, তখন সকাল ৯টা ৩২ মিনিট। রোহিঙ্গারা যে পথে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে, ভাঙার সেই স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। গাড়ি থেকে নেমে সেই পথে তিনি কিছু সময় হাঁটাহাঁটি করেন। সেখান থেকে নাফ নদী আর মিয়ানমার দেখা যায়। এখানে গাছের নিচে দাঁড়িয়ে স্থানীয় শিশুদের সঙ্গে তিনি কথা বলেন, হাসাহাসি করেন, ছবি তোলেন। এ সময় নিরাপত্তার কড়াকড়ি দেখে বিরক্ত হন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। নিরাপত্তা কমানোর জন্য পুলিশকে অনুরোধ করেন। এখান থেকে গাড়িতে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে টেকনাফের নেটং (উটনি) পাহাড়ের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। এই পথে নাফ নদী দিয়ে মিয়ানমার থেকে কীভাবে রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশ করছে, তা প্রিয়াঙ্কার সামনে তুলে ধরা হয়। এখানে ১৫ মিনিট অবস্থান করেন তিনি। এরপর ল্যাদা বিজিবি চৌকির কাছে ইউনিসেফ পরিচালিত শিশুদের খেলাধুলার জন্য তৈরি স্থান পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে তাঁর ল্যাদায় অস্থায়ী রোহিঙ্গা শিবিরে যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি যাননি। পরে প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে ইউনিসেফের গাড়িবহর উখিয়ার বালুখালীতে স্থাপিত অস্থায়ী রোহিঙ্গা শিবিরের দিকে রওনা হয়। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া বাংলাদেশে এসেছেন গতকাল সোমবার। সকাল আটটায় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন তিনি। এখানে ঘণ্টা তিনেক অবস্থান করার পর তিনি কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেন। কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে প্রিয়াঙ্কাকে উখিয়ায় রয়েল টিউলিপ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। কক্সবাজারে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত থাকবেন। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক তহবিলের (ইউনিসেফ) শুভেচ্ছাদূত হিসেবে বাংলাদেশে এসেছেন তিনি। গতকাল বিকেলে টেকনাফের বাহারছড়ার শামলাপুর মনখালী ব্রিজের পাশে অস্থায়ী রোহিঙ্গা শিবিরে যান প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। সেখানে ইউনিসেফ পরিচালিত হাসপাতালে যান। রোহিঙ্গা শিবিরের শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তাদের স্বাস্থ্য আর পড়াশোনার ব্যাপারে খোঁজখবর নেন। ঢাকায় এসে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া লিখেছেন, রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু ক্যাম্পে যাচ্ছি। আমার ইনস্টাগ্রামে সেখানকার সব অভিজ্ঞতা শেয়ার করব। আমাকে সেখানে অনুসরণ করতে থাকুন। এ বিষয়টি নিয়ে বিশ্বের ভাবা উচিৎ। ভাবতে হবে আমাদেরও। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ১৯ মে ব্রিটিশ রাজপরিবারের আমন্ত্রণে প্রিন্স হ্যারি আর মেগান মার্কেলের রাজকীয় বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন। সেখান থেকে তিনি দুবাই হয়ে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজে ঢাকায় আসেন। আরকে// এসএইচ/

পাঁচটি অভ্যাস, যা আসলে বদভ্যাস

খাওয়ার পর ব্রাশ করা খুবই ভালো অভ্যাস৷ তবে অম্লজাতীয় খাবার, যেমন টমেটো, কমলা, ইত্যাদি খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্রাশ না করে অন্তত আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করা উচিত, বলে মনে করেন ব্রিটিশ দন্ত বিশেষজ্ঞ ডা. হাওয়ার্ড আর. গ্যাম্বল৷ কারণ এ সব খাওয়ার পরপরই অ্যাসিড দাঁতের সাদা অংশ এনামেল ও তার নীচের অংশ ডেনটিনকে আক্রমণ করে৷ ডা. গ্যাম্বল বলেন, সেসময় ব্রাশ করা মানে অ্যাসিডকে আক্রমণে সহায়তা করা৷ কোকাকোলা জিরো পানডায়বেটিস রোগী ও যাঁরা কম ক্যালরিযুক্ত খাবার খোঁজেন, তাঁদের কাছে কোকাকোলা জিরো কিংবা লাইট বেশ প্রিয়৷ তবে টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে এর কিছু ক্ষতিকর দিক পাওয়া গেছে৷ কোকাকোলা জিরোতে যেহেতু চিনির পরিবর্তে আর্টিফিশিয়াল সুইটেনার ব্যবহার হয়, তাই শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় চিনির অভাব মেটাতে অন্য যে খাবার খাওয়া হয় তার মাধ্যমে শরীরে বেশি ক্যালরি প্রবেশ করে৷ ফলে মেদ বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস সহ অন্য অসুখ হতে পারে৷ সপ্তাহান্তে বেশি ঘুমানোঅনেকেই মনে করেন কাজের দিনগুলোতে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার কারণে যে সময়টুকু আমরা কম ঘুমাই, সপ্তাহান্তে ছুটির দিনগুলোতে সেটা পুষিয়ে নেয়া ভালো৷ কিন্তু সেটা করার কারণে অন্য একটি বিপত্তি ঘটে বলে গবেষণায় জানা গেছে৷ গবেষক দলের প্রধান ঘুম বিশেষজ্ঞ ডা. গ্রেগরি কার্টার বলেন, সপ্তাহান্তে বেশি সময় ঘুমালে শরীরের স্বাভাবিক ছন্দে পরিবর্তন ঘটে৷ ফলে পরের সপ্তাহের দিনগুলোতে শরীরে সবসময় কেমন যেন ঘুমঘুম ভাব অনুভূত হয়৷ অফিস থেকে ফিরে কাজঅফিসের কাজে-কর্মে যদি প্রচণ্ড চাপ থাকে, তাহলে শরীরে কোর্টিসল হরমোনের পরিমাণ বেড়ে যায়৷ এরপর বাসায় ফিরে বিশ্রাম না নিয়ে সরাসরি কাজে লেগে গেলে কোর্টিসলের পরিমাণ কমার সুযোগ পায় না৷ এভাবে দীর্ঘ সময় ধরে কোর্টিসলের পরিমাণ বেশি থাকলে শারীরিক ও মানসিক সমস্যা তৈরি হতে পারে৷ এতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দূর্বল হয়ে পড়তে পারে৷ ‘জার্নাল অফ ফ্যামিলি সাইকোলজি’-তে প্রকাশিত এক গবেষণা থেকে এই তথ্য জানা গেছে৷ ঘুমানোর আগে টিভি দেখা, মোবাইল ব্যবহারঘুম বিশেষজ্ঞ ডা. গ্রেগরি কার্টার বলেন, ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে টিভি দেখা ও মোবাইল ব্যবহার বন্ধ করতে হবে৷ না হলে ঐ সব থেকে যে নীলাভ আলো বের হয়, সেটা শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করে৷ ফলে সকালবেলা ঘুম থেকে উঠাটা কঠিন হয়ে যায়৷ সূত্র: ডয়েচে ভেলেএমজে/

ভাসনচরে স্থানান্তরিত হবে ১ লাখ রোহিঙ্গা

বর্ষার পর এক লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ভাসানচরে স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণসচিব মোহাম্মদ শাহ কামাল। আজ শনিবার দুপুরে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুর্যোগকালীন করণীয় বিষয়ে এক মহড়া অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। এসময় তিনি ৩০টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুর্যোগ কমিটি গঠন করার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি চলতি মাসের মধ্যে জেলা, উপজেলা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্কাউট ও বিভিন্ন সংস্থার লোকজনের সমন্বয়ে একটি মনিটরিং সেল গঠন করার জন্য বলেন। পাহাড়ে বসবাসরত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের রোহিঙ্গাদের তালিকা তৈরির জন্যও বলা হয়েছে।  তিনি বলেন, এখন বর্ষা শুরু হওয়ায় রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর করা যাবে না। তবে ওই ভাসানচরে ১৬ হাজার একর জমির মধ্যে ১৫ হাজার একরে বাংলাদেশ নৌবাহিনী রোহিঙ্গাদের জন্য বসত তৈরির কাজ করছে। বর্ষার পর এক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ভাসানচরে নেওয়া হবে। ২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বরে এক্সিকিউটিভ কমিটি অব দ্য ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিল (একনেক) ২ হাজার ৩১২ কোটির বেশি টাকার এক প্রকল্প অনুমোদন করে। ওই প্রকল্পের আওতায় ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য সাময়িক আশ্রয় কেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছে। একনেকের অনুমোদিত ওই প্রকল্পের নাম-আশ্রয়ণ-৩। এর আওতায় এক লাখ রোহিঙ্গার জন্য বসত তৈরি করার কাজ চলছে। এর পাশাপাশি ভাসানচরের অবকাঠামোও উন্নত করা হচ্ছে। গত বছরের আগস্ট থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতন ও অত্যাচারে দেশটির রাখাইন রাজ্য থেকে জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন ১১ লাখ ১৭ হাজার বেশি রোহিঙ্গা। দমকল বাহিনীর উদ্যোগে এই মহড়া অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণসচিব মোহাম্মদ শাহ কামাল এবং সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাবসহ নিরাপত্তা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। টিআর/ টিকে

রোহিঙ্গাদের নোম্যান্স ল্যান্ড ছাড়তে মিয়ানমারের মাইকিং

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর সেই দেশের সেনাবাহিনী খুন, ধর্ষণ করে হত্যা করছে। আর প্রাণ বাঁচাতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা। আর বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ডে থাকা রোহিঙ্গাদের ছেড়ে যাওয়ার জন্য মাইকিং করছে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে নোম্যান্স ল্যান্ড ছাড়ার জন্য বার বার মাইকিং করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ। এছাড়া সীমান্তে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর আনা-গোনা আবারও বেড়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। নোম্যান্স ল্যান্ডে থাকা রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ জানান, নোম্যান্স ল্যান্ড বার্মা (বর্তমান মিয়ানমার) সীমান্তের একটি অংশ। এখানে যারা বসবাস করছেন তারা অবৈধ বলে সকাল থেকে কয়েকবার মাইকিং করেছে মিয়ানমার। তিনি আরও জানান, এখান থেকে সরে যাওয়ার জন্য আমাদেরকে আবারও হুমকি দিচ্ছে। এতে মনের মধ্যে ভয় কাজ করছে। তবে গত এক সপ্তাহ থেকে নোম্যান্স ল্যান্ডে থাকা রোহিঙ্গাদের বসতবাড়ির ওপর ঢিল ছোড়া কমেছে বলে জানিয়েছেন রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ। এদিকে গত জানুয়ারিতে দুই বছরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া এখনও শুরুই করা যায়নি। এসএইচ/

রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ নিরাপত্তা পরিষদে

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলো। বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সফরে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখে যাওয়ার পর সোমবার ওয়াশিংটনে পরিষদের এক বৈঠকে এই আহ্বান জানানো হয়। বৈঠকে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত ক্রমবর্ধমান মানবাধিকার সংকট নিরসনে সত্যিকার পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পরিষদে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রস্তাব গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের কারণেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে মিয়ানমার। গত বছরের আগস্টে রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার অভিযোগে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ওপর অমানুষিক অত্যাচার করে ওই দেশের সেনাবাহিনী। খুন, ধর্ষণ আর অগ্নিসংযোগের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয় প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা। মিয়ানামর কর্তৃপক্ষ যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে আসলেও সম্প্রতি সরেজমিনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সফর করে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দেখে গেছেন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি বলেছেন, আমরা সবাই রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগের শিকার হওয়ার কথা শুনেছি যা ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ হিসেবেই বিবেচনা করা যেতে পারে। এবার নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা নিজের চোখে দেছেন কী সংকট তৈরি করা হয়েছে। আর সে কারণেই এখন পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া অন্য উপায় নেই। নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দুর্ভোগের প্রত্যক্ষ বিবরণ শুনেছেন জানিয়ে নিকি হ্যালি বলেন, রাখাইন রাজ্যের সংকট ও রোহিঙ্গাদের প্রত্যক্ষ করা নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের জন্য সত্যিই কঠিন ছিল। এই সফরের অন্যতম মূল কারণ ছিল সংকট নিয়ে মিয়ানমার সরকারের চলমান নিস্পৃহতা। মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনীর প্রতিক্রিয়া বিচার করে দেখলে দেখা যাবে, এই সংকটে তারা তাদের ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। ১৫ সদস্যের পরিষদে দ্রুত এমন একটি প্রস্তাব গ্রহণের পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান হ্যালি যাতে বিশালাকার ও বাড়তে থাকা এই মানবিক ও মানবাধিকার সংকট সমাধানে সত্যিকার পদক্ষেপ নেওয়া যায়। তিনি বলেন, সেটাও একটি চ্যালেঞ্জ হবে। কারণ পরিষদের কয়েকটি সদস্য দেশ নিজেদের স্বার্থজনিত কারণে এই ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত রেখেছে। কেউ কেউ সফরের সময়েই পরিষদের ঐক্যকে অবজ্ঞা করে অপ্রয়োজনীয় সম্পাদনা করে বিবৃতিকে দুর্বল করেছেন। জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের স্থায়ী প্রতিনিধি কারেন পিয়ার্স বলেন, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যা ঘটেছে তার ব্যাপ্তি দেখে পরিষদের সব সদস্যই আঘাত পেয়েছেন। আর পরিষদের সবাই ব্যক্তিগত দুর্ভোগ, বিশেষ করে শিশুদের কথা শুনে তাড়িত হয়েছেন। কারেন পিয়ার্স আরও বলেন, আমি মনে করি পরিষদের সদস্যরা সংকটের বিপুলতা দেখে হতবিহ্বল হয়েছেন। কারণ আপনি যেখান থেকেই দিগন্তের তাকান বা দাঁড়ান, শুধু শরণার্থীদেরই দেখবেন। চীনের দূত বলেন, এই সফরের পর সংশ্লিষ্ট দেশগুলো সংকট সমাধানে পদক্ষেপ জোরালো করেছে। এর মধ্যে ঝুলে থাকা একটি সমঝোতা স্মারক শিগগিরই স্বাক্ষরিত হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলো দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশ সমাধান করবে। আর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিৎ তা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পরিস্থিতি উন্নয়নে মানবিক সহায়তা দেওয়া। জাতিসংঘে নিযুক্ত মিয়ানমারের দূত হাও ডো সুয়ান বলেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া থামিয়ে রাখতে বাংলাদেশ অজুহাত তৈরি করছে। প্রকৃত ঘটনা বিকৃত করে তার দেশের মানহানি ঘটাচ্ছে বলেও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন মিয়ানমারের দূত। রাখাইনে অপরাধের অভিযোগের তদন্তে নিজের সরকারের প্রতিশ্রুতি পুর্নব্যক্ত করে তিনি বলেন, বর্তমান সংকটের শুরু হয়েছে উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইনে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চেকপোস্টে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) হামলার কারণে। মিয়ানমারের দূত আরও অভিযোগ করেন, এটা খুবই নিন্দনীয় দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী নিজেদের প্রতিশ্রুতি পুরণের পরিবর্তে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বন্ধ রাখতে ক্রমাগত অভিযোগ তৈরি করে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মধ্যস্ততা করার পরিবর্তে মিয়ানমারের ওপর চাপ সর্বোচ্চ করাতেই বাংলাদেশ এমনটি করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নিরাপত্তা পরিষদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশি দূত মাসুদ বিন মোমেন বলেন, মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করার এটাই সবচেয়ে ভালো সময়। তিনি বলেন, যেভাবে এই সংকটের বিস্তৃতি ঘটেছে তাতে এটা পরিষ্কার যে, এই ইস্যুতে নিয়মিতভাবে নিরাপত্তা পরিষদকে সম্পৃক্ত থাকতে হবে। রাখাইন রাজ্যের সংকট সামনে আনতে মিয়ানমার সরকার সময়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছে। মিয়ানমারের সেই প্রক্রিয়ায় স্বীকৃতি দিয়ে তাদের সহায়তা দিতেই নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা উচিৎ। এসএইচ/

বাজেটে রোহিঙ্গাদের জন্য আলাদা বরাদ্দের সুপারিশ [ভিডিও]

বাজেটে রোহিঙ্গাদের জন্য আলাদা বরাদ্দের সুপারিশ করেছেন সিপিডির অর্থনীতিবিদরা। চট্টগ্রামে এক সংলাপে তারা এই প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি যেসব এলাকায় বাস্তুচ্যুত লোকজন আশ্রয় নিয়েছে, সেখানকার জনসাধারণ ও স্থানীয় সরকারের জন্যও বরাদ্দের সুপারিশ করেন তারা। নগরীর একটি হোটেলে রোহিঙ্গা সংকটের অর্থনৈতিক প্রভাব ও আগামী বাজেট নিয়ে এই সংলাপের আয়োজন করে সিপিডি, টিআইবি ও সচেতন নাগরিক- সনাক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন- নেপেইদোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রতিদিন ৩০০ জনকে ফেরত নেয়া হলে, সবাইকে নিতে সময় লাগবে অন্তত ৭ বছর। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিদেশি কোন ষড়যন্ত্ররে মধ্যে যেন বাংলাদেশ না পড়ে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। বাস্তুচ্যুত লোকদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের উপর আর্ন্তজাতিক মহলের চাপ নিশ্চিতের পরামর্শ দেন বক্তারা। ভিডিও:   

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: আলোচনার জন্য জাপান যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের জন্য এবং দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনার জন্য জাপান যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী। জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনোর আমন্ত্রণে ১৩ মে (রোববার) ঢাকা ত্যাগ করবেন তিনি। পরের দিন ১৪ মে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেসহ অন্যান্য উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে তার দেখা করার কথা আছে। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন,‘গত আট মাসের মধ্যে এটি দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তৃতীয় সাক্ষাতের ঘটনা হবে এবং এর থেকে বোঝা যায় আমাদের সম্পর্ক কত গভীর ও গুরুত্বপূর্ণ।’ প্রসঙ্গত, উভয় মন্ত্রী গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সাইডলাইনে বৈঠক করেছেন। আবার গত নভেম্বরে রোহিঙ্গা বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য ঢাকায় এসেছিলেন তারো কোনো। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এই সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয় নিয়ে এখানে আলোচনা হবে।’ জানা যায়, রোহিঙ্গা ও উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশ জাপানের সঙ্গে আলাপ করতে চায়। অন্যদিকে আশা করা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের আগামী কয়েকটি নির্বাচনে যেখানে টোকিও অংশগ্রহণ করবে, সেখানে ঢাকার সমর্থন চাইবে জাপান।’ বাংলাদেশ সম্পূর্ণ মানবিক কারণে ১১ লাখেরও অধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে এবং ঢাকা এর একটি রাজনৈতিক সমাধান চায়। এ ব্যাপারে আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে পাঁচ দফা সমাধান প্রস্তাব করেছিলেন এবং এবারও আমরা এগুলো উপস্থাপন করবো। জাপান মিয়ানমারের বন্ধু এবং সেখানে টোকিও এর অনেক স্বার্থ আছে। তাই বাংলাদেশ চায়, জাপান তার প্রভাব খাটিয়ে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে রাজি করাক মিয়ানমারকে।` এর আগে মাহমুদ আলী বলেছিলেন, ‘রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জন্য প্রি-ফ্যাব্রিকেটেড বাড়ি তৈরি করে দিতে রাজি আছে জাপান।’ জানা গেছে, ওয়ার্ল্ড এক্সপো ২০২৫ আয়োজন করতে চায় জাপান এবং এর জন্য বাংলাদেশের সমর্থন চায় দেশটি। এ ব্যাপারে আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘রাশিয়া ও আজারবাইজানও ওই এক্সপো করতে আগ্রহী এবং তারও আমাদের সমর্থন চেয়েছে।’এছাড়াও জাপান ২০২৩-২৪ মেয়াদে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে অস্থায়ী সদস্য হতে চায় এবং সেজন্য ঢাকার সমর্থন চায় টোকিও। প্রসঙ্গত, ২০১৬-১৭ মেয়াদে জাপান নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য ছিল এবং ২০১৪ সালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের ঢাকা সফরের সময়ে টোকিওকে সমর্থন জানিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের নির্বাচন থেকে বাংলাদেশ তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। এছাড়াও, বিগ-বি উন্নয়ন পরিকল্পনার অধীনে মাতারবাড়িতে একটি ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি করতে চায় জাপান এবং এর কাঁচামাল হিসেবে কয়লা আমদানির জন্য সেখানে একটি গভীর সুমদ্র বন্দর নির্মাণ করতে চায় দেশটি। এ ব্যাপারে সরকারের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘মাতারবাড়ি প্রকল্পে বন্দর নির্মাণের জন্য তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং দুই বিলিয়ন ডলারের ৩৯তম ওডিএ প্যাকেজে এটি অন্তর্ভূক্ত করার জন্য দর কষাকষি করছে। ৩৯তম ওডিএ প্যাকেজে আশা করা হচ্ছে এ বছর ঘোষণা করা হবে।   টিআর/ এসএইচ/

রোহিঙ্গাদের জন্য ভারতীয় ত্রাণ চট্টগ্রামে

রোহিঙ্গাদের জন্য ভারতের ৩৭৩ মেট্রিকটন ত্রাণ গ্রহণ করেছেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। দেশটির হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা চট্টগ্রাম বন্দরে এই ত্রাণ হস্তান্তর করেন। রাখাইন ইস্যুতে ঢাকার পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন ভারতের দূত। হাসান ফেরদৌসের রিপোর্ট। মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত লোকজনের জন্য ত্রাণ নিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে নোঙ্গর করে ভারতের জাহাজ ‘আইএনএস ঐরাবত’। বুধবার সকালে বাংলাদেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব ত্রাণ তুলে দেয়া হয়। যার মধ্যে আছে ১০৪ মেট্রিকটন গুঁড়ো দুধ, ১০২ মেট্রিকটন শুঁটকি, ৬১ মেট্রিকটন শিশুখাদ্য, ৫০ হাজার রেইনকোট ও ৫০ হাজার জোড়া গামবুট। সহায়তা গ্রহণ করে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে দিল্লির সহায়তা চান ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। রাখাইনের বাস্তুচ্যুত বিশাল জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রীংলা। রোহিঙ্গা সঙ্কটে বাংলাদেশের পাশে সরাসরি না দাঁড়ালেও, শুরু থেকেই ত্রাণ সহযোগিতা করছে ভারত। টিকে

রোহিঙ্গা সংকট ও এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব (ভিডিও)

মুসলিম দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাই এবারের ওআইসির সম্মেলনকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। এছাড়া রোহিঙ্গা সংকট ও এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব সম্পর্কে মুসলিম বিশ্বের নেতৃবৃন্দকে যথাযথভাবে অবহিত করারও তাগিদ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। এবারের ওআইসির ৪৫তম পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের অন্যতম প্রধান বিষয় রোহিঙ্গা সংকট। সবাই চাইছেন জাতিগত নিধনের শিকার এসব মানুষের নিরাপদ প্রত্যাবাসন। এরইমধ্যে কক্সবাজারের কতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন ওআইসির প্রতিনিধি দল। প্রত্যাবাসনের বিষয়ে জাতিসংঘের সাথে কাজ করার কথাও জানিয়েছেন তারা। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এবারের ওআইসি সম্মেলন ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে। আর সকল স্বার্থ ভুলে ভাতৃত্ববোধ জাগ্রত করতে মুসলিম নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এই ইসলামি চিন্তাবিদ। বৈশ্বিক চক্রান্তের হাত থেকে মুসলমানদের রক্ষায় ওআইসিকে জোরালো ভুমিকা রাখারও আহবান জানান তিনি।

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি