ঢাকা, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১:০৯:৪৬

রোহিঙ্গা ইস্যু : আসছেন তিন নোবেল বিজয়ী

রোহিঙ্গা ইস্যু : আসছেন তিন নোবেল বিজয়ী

আট দিনের সফরে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আসছেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী তিন নারী। নারীপক্ষের আমন্ত্রণে তারা ঢাকায় আসছেন। এরা হচ্ছেন ইরানের শিরিন এবাদি, ইয়েমেনের তাওয়াক্কুল কারমান ও যুক্তরাজ্যের মেইরিড ম্যাকগুয়ের। এছাড়া হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে সরকার। তবে তার সফরসূচী নিয়ে আলোচনা চলছে। এ বছরের প্রথমার্ধে তিনি সফর করতে পারেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র। মিয়ানমারে নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের পক্ষে অবস্থান নিতেই তারা বাংলাদেশে আসবেন। নোবেল বিজয়ী ওই তিনজন নোবেল ওমেন্স ইনিশিয়েটিভের সদস্য। শান্তি, ন্যায্যতা ও সমতার জন্য তারা কাজ করে যাচ্ছেন। জানা গেছে, তারা কক্সবাজার সফরে গিয়ে রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরেজমিনে দেখবেন। তারা এখানকার অবস্থা দেখে প্রকৃত বাস্তবতা সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে অবহিত করবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, হলিউড অভিনেত্রী এবং জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। গত নভেম্বরে কানাডার ভ্যানকুভারে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী ডিফেন্স মিনিস্টেরিয়েল সামিটে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি তার বক্তব্যে রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিয়ে বলেন, ‘জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া প্রায় প্রতিটি রোহিঙ্গা নারী হয় যৌন নিপীড়নের শিকার অথবা ধর্ষণ বা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের সাক্ষী।’ উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্ট মাসে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর নতুন করে হামলা শুরু করে দেশটির সামরিক বাহিনী। সেনাবাহিনীর তাণ্ডবে দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয় প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা। এই হামলার ভয়াবহতাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের `পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন। একে// এআর
রোহিঙ্গা ইস্যুতে মার্কিন সমর্থন অব্যাহত রাখার আশ্বাস

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার পর সৃষ্ট সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশকে রাজনৈতিক ও মানবিক সমর্থন অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন ডিসিতে শনিবার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে প্রেসিডেন্টের উপ-সহকারী এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ঊর্ধ্বতন পরিচালক লিজা কার্টিসের সঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হকের এক বৈঠকে এই আশ্বাস প্রদান করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি থেকে পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়, বৈঠকে কার্টিস জানান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মিয়ানমার থেকে বাস্তচ্যুত দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন। বৈঠকে তারা দ্বিপক্ষীয় আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। কার্টিস মার্কিন প্রশাসনের ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির কিছু বিষয় বৈঠকে তুলে ধরেন। পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক বৈঠক শেষে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর মুখ্য উপ-সহকারি পররাষ্ট্র মন্ত্রী অ্যালিস ওয়েলস এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে ওয়েলস বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন এ বিষয়টির সঙ্গে একমত এবং মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়াকে একটি সাহসী মনোভাবের পরিচয় বলে উল্লেখ করেছেন। পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা, উদ্বাস্তু এবং মাইগ্রেশন বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত সহকারি মন্ত্রী মার্ক স্টোরেলার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে বাংলাদেশের সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দেয়ায় স্টোরেলা বাংলাদেশের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রেহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে। (সূত্র:বাসস)  কেআই/টিকে

আরও ১৩৬ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে এখনও পালিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা। কোনোভাবেই রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ বন্ধ করা যাচ্ছে না। আজ শুক্রবার নতুন করে আরও ১৩৬ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। সেনাবাহিনীর টেকনাফের সাবরাং হারিয়াখালী ত্রাণকেন্দ্রে দায়িত্বরত জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি ও টেকনাফ উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে  জানান, সকাল পর্যন্ত নতুন করে ৩২টি পরিবারের ১৩৬ জন রোহিঙ্গা এসেছে। এদের প্রথমে সেনাবাহিনীর হারিয়াখালী ত্রাণ কেন্দ্রে নেওয়া হয়। এরপর মানবিক সহায়তা ও প্রতিটি পরিবারকে চাল, ডাল, সুজি, চিনি, তেল, লবণের একটি করে বস্তা দিয়ে গাড়িতে টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শিবিরে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩১৪টি পরিবারের ১ হাজার ৪৪৪ রোহিঙ্গা এসেছেন। তাদেরকে টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে পাঠানো হয়েছে। কেআই/টিকে

গণহত্যার দায়ে দোষী হতে পারেন সুচি: জাতিসংঘের বিশেষ দূত

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর নির্যাতনে মানবাধিকার বিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। আর এ অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা যেতে পারে দেশটির নেতা অং সান সু চি’কে। এমনটাই দাবি করেছেন রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াং হি লী। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গণমাধ্যম চ্যানেল-ফোর’কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন লী। চ্যানেলটির বিশেষ প্রতিনিধি জনাথন মিলারকে দেওয়া ঐ সাক্ষাৎকারে ইয়াং হি লী মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর হওয়া এ নির্যাতনকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তবে বিষয়টিকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আমলে নিতে হলে আন্তর্জাতিক আইনের স্বীকৃতির প্রয়োজন বলে জানান তিনি। আর নির্দিষ্টি আইনের মধ্যে দিয়েই তা সম্ভব বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি এ গণহত্যা’র জন্য সু চি দায়ী বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে কোনো বিচার হলে দেশটির নিরাপত্তাবাহিনীকে এ গণহত্যায় ‘সহায়তা’ করা অথবা তা রোধে কোনো ভূমিকা না নেওয়ায় সু চি দোষী সাব্যস্ত হতে পারেন বলেও মনে করেন এই মানবাধিকার কর্মী। এসময় সু চি’কে কখনো মানবাধিকার লংঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে দেখা যায়নি উল্লেখ করে লী বলেন, “তিনি আগেও একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি ছিলেন। এখনও তেমনি আছেন। তিনি যেখানে তার সুবিধা দেখবেন সেদিকেই কথা বলবেন”। জনাথনের এক প্রশ্নে লী বলেন, “তারা (মিয়ানমার) বলে আমি নাকি পক্ষপাতদুষ্ট। আমি জিজ্ঞেস করলাম কীভাবে। তারা বলে যে তাদের দেশে কোনো রোহিঙ্গা নেই। কোনো নির্যাতন, খুন বা ধর্ষণ হয়নি। আমি মানতে পারলাম না। তাহলে কীভাবে পক্ষপাতী হলাম? প্রমাণ তো তাদের বিপক্ষে”। রোহিঙ্গাদের রক্ষায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কেন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “দেখেন এর জন্য বিগত কয়েক বছরের ঘটনা বুঝতে হবে। কোন এক কারণে বিগত কয়েক দশক ধরেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এক রকম নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছিল। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আগে থেকেও কোনো পদক্ষেপ নিত না নিরাপত্তা পরিষদ। এখানে রোহিঙ্গাদের সাথে একরকম বৈষম্য করা হয়”। “আইনের বিধি-নিষেধ আর আইনের প্রয়োগ দুইটি আলাদা বিষয়। রোহিঙ্গাদের সার্থে আর আইনের প্রয়োগ হয় না”। সু চি’কে সকলের “রোল মডেল” উল্লেখ করে দক্ষিণ কোরিয়ার এই মানবাধিকার কর্মী বলেন, “সু চি সকলের কাছে এক রোল মডেল। এই সকলের মধ্যে আমি নিজেও। তবে এটা খুবই হতাশাজনক যে সু চি এমন একটি কাজ করলেন”। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিচ্ছে মিয়ানমার। রোহিঙ্গাদের এখনই দেশটিতে ফিরে যাওয়া কী নিরাপদ হবে?-জনাথনের এই প্রশ্নে নেতিবাচক উত্তর দিয়ে লী বলেন, “দেখুন, রোহিঙ্গাদের ওপর হওয়া এই জাতিগত নিধন নির্যাতন অনেক পুরনো দিনের। এটি এখনই সমাধান হবে না। আর এখনই তাদের ফিরে যাওয়া নিরাপদও নয়। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ অবস্থান নিশ্চিত হলে তবেই তাদের দেশটিতে ফেরত পাঠানো যেতে পারে”। নিজের কাছে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য আছে উল্লেখ করে ইয়াং হি লী বলেন, “দেশটিতে আরও অনেক গণকবর পাওয়া যাবে। মৃতের সংখ্যা আমরা যা ভাবছি বাস্তবে তার থেকে অনেক বেশি। আর এই সত্য আজ অথবা কাল বেরিয়েই আসবে”। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য তালিকায় না থাকা মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যতদিন না আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সোচ্চার হবে ততদিন মিয়ানমারে প্রকৃত শৃংখলা ফিরে আসবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। “নিজ দেশের বৌদ্ধদেরসহ বিশ্ব সম্প্রদায়ের চোখে ধুলো দিচ্ছে মিয়ানমার। কিন্তু বাস্তবতা হল দেশটিতে থাকা রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লংঘন করা হচ্ছে”। সূত্র: চ্যানেল ফোর //এস এইচ এস//টিকে

মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায়

মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট কিয়াও স্যু ঢাকা এসে পৌঁছেছেন। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌছান জেনারেল কিয়াও। খবর ইউএনবি’র। থাই এয়ারলাইন্সের এক বিমানে করে আজ দুপুর ১২টা ৪৮ মিনিটে বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান জেনারেল কিয়াও স্যু। আজ সন্ধ্যায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি। আগামীকাল শুক্রবার বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে স্যু’র। ধারণা করা হচ্ছে, রোহিঙ্গা ইস্যুতেই মূলত আলোচনা করবে দুই পক্ষ। এছাড়াও চোরাচালান এবং সীমান্ত চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের বিষয়ে মিয়ানমারের কাছে দাবি জানাবে বাংলাদেশ। এছাড়া বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মিয়ানমার অংশে ইয়াবা’র মত মাদক দ্রব্য উৎপাদন এবং সেগুলো চোরাচালানের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবেশ বন্ধে মিয়ানমারের কাছে বিষয়টি তুলে ধরা হবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। সূত্রঃ ইউএনবি //এস এইচ এস//  

রোহিঙ্গা ও বন্যাদুর্গত নারী জন্য স্বাস্থ্য সহায়তা

নারীর যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার বাস্তবায়নে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ও চীনের সহায়তায় জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) র উদ্যোগ রোহিঙ্গা ও বন্যাদুর্গত নারীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যজনিত সহায়তা দেওয়া হয়েছে।      আজ বুধবার জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং চীন সরকারের যৌথ সহায়তায় ইউএনএফপিএ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহা পরিচালকের উপস্থিতিতে, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারি এবং বগুড়া জেলা থেকে আগত সিভিল সার্জনদের হাতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ও রোহিঙ্গা নারীদের জন্য যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যরক্ষায় প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের বন্যায় আক্রান্ত প্রায় চৌদ্দ হাজার আটশ পঞ্চাশ জন নারী এই সামগ্রীগুলো সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে পাবে। বন্যা দুর্গত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত নারীদের স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত সম্ভ্রম রক্ষার্থে এই সামগ্রীগুলোর ভেতর থাকবে স্যানিটারি ন্যাপকিন, অন্তর্বাস, ফ্ল্যাশ লাইট ইত্যাদি। রোহিঙ্গা সংকট শুরু হবার পর কক্সবাজারে প্রায় দু লক্ষ চুরানব্বই হাজার প্রাপ্ত বয়স্কা নারী যৌন সহিংসতার ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাই ইউএনডিপি এবং চীনের সহায়তায় ইউএনএফপিএ এক লাখ আঠার হাজার রোহিঙ্গা নারীর হাতে তুলে দিচ্ছে প্রজনন সম্পর্কিত জীবন ঝুঁকি কমানোর বিভিন্ন সামগ্রী এবং ঔষধ। ইউএনেফপিএর স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রধান, ডা.  সত্য নারায়ণ ডোরেস্বামী মূল প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘ইউএনএফপিএ  প্রায় ৩৫ হাজার বন্যা দুর্গত প্রাপ্ত বয়স্কা নারী ও প্রজননক্ষম  মেয়েকে সহায়তা করেছে এবং দ্রুত এদেরকে জীবন রক্ষাকারী মানবিক সহায়তা করেছে। চায়না এইডের সহায়তায় ইউএনএফপিএ ১২৫ জন স্বাস্থ্য কর্মীর স্বাস্থ্য সামগ্রী সরবারহ করবে। এর ফলে ১৪ হাজার ৮৫০ জন নারী ও মেয়ে প্রজনন স্বাস্থ্য সুবিধা পাবে। এছাড়াও কক্সবাজারে এক লক্ষ আঠারো হাজার শরণার্থী নারী ও মেয়ে এই প্রজনন স্বাস্থ্য সামগ্রী পাবে’। তিনি এই যৌথ উদ্যোগের জন্য চীনের সরকার ও ইউএনডিপিকে ধন্যবাদ জানান। বাংলাদেশে নিয়োজিত চীনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক পরামর্শদাতা লি গুয়াঙ্গুন বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকা প্রশংসনীয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের বন্যা দুর্গত মানুষ ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে সহায়তা করতে চীন আগ্রহী।এ কারণেই ইউএনডিপি ও ইউএনএফপিএর সঙ্গে আমাদের এই যৌথ উদ্যোগ’। তিনি আশা ব্যাক্ত করেন চীনের সরকার ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তা প্রদান করবে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ডিজিএচএস এর মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমি চীনের সরকার এবং ইউএনডিপি, ইউএনএফপিএ কে ধন্যবাদ জানাই বন্যাদুর্গত অঞ্চল ও কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে যৌন সহিংসতার আশংকায় থাকা নারী ও প্রজননক্ষম মেয়েদের প্রতি তাদের এই বাড়তি উদ্যোগের জন্য।  এটা দক্ষিণের সাথে দক্ষিণের যে সম্পর্ক সেটাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করবে’। তিনি আরও বলেন, ‘দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে শত সহস্র রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে। আসন্ন বর্ষায় তাদের অপরিকল্পিত ক্যাম্প স্থাপনের জন্য এক নতুন বিপদ ঘনিয়ে আসছে। বৃষ্টিতে সেখানে ভূমিধ্বস রোহিঙ্গাদের জন্য ভয়াবহ সংকট ডেকে আনতে পারে’।    ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইয়োরি কাটো বলেন, ‘চীনের সরকারের  সহায়তায় ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যায় আক্রান্ত নারী এবং কক্সবাজারে শরণার্থী শিবিরে প্রজননক্ষম রোহিঙ্গা নারীদের জন্য জীবনের ঝুঁকি কমানোর বিভিন্ন সামগ্রী স্বাস্থ্য কর্মীদের কাছে সরবারহ করছে। তিনি আরও বলেন, ‘সংকটগ্রস্ত নারীদের মাঝে এই সহায়তা নিশ্চয়ই আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলবে। নারীরা গর্ভধারণ ও জন্ম বিষয়ক ক্ষেত্রগুলোতে আরও উন্নত সেবা লাভের সুযোগ পাবে’। অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন আইপিএইচএনের পরিচালক ও এনএনএসের লাইন পরিচালক ও প্রকল্প ব্যাবস্থাপক ড. এবিএম মাজহারুল ইসলাম, ইউএনডিপি বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেকটর কিয়োকো ইয়োকোশুকা, ইউএনডিপি, ইউএনএফপিএ ও বিভিন্ন এনজিওর কর্মকর্তাগণ এবং সরকারি প্রতিনিধিগণ।  (বিজ্ঞপ্তি) টিক

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি