ঢাকা, রবিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৮ ২০:১২:২৬

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনে ২৪ হাজার রোহিঙ্গা হত্যা

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনে ২৪ হাজার রোহিঙ্গা হত্যা

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের রাখাইন রাজ্য অন্তত ২৪ হাজার রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছে বলে‘ফোর্সড মাইগ্রেশন অব রোহিঙ্গা: দ্য আনটোল্ড এক্সপেরিয়েন্স (জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা: অব্যক্ত অভিজ্ঞতা)’বইয়ে ভয়াবহ এসব তথ্য উঠে এসেছে। রোহিঙ্গাদের ওপর পরিচালিত গবেষণার ভিত্তিতে বইটি প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী নির্যাতনে ১৮ হাজার নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। গত বুধবার লন্ডনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘রোহিঙ্গা সংকট: বহুমাত্রিক প্রেক্ষাপট’শীর্ষক এক বিশেষ অধিবেশনে গবেষণাগ্রন্থটি উপস্থাপন করা হয়। বইটি প্রকাশ করেছে কানাডার অন্টারিওতে নিবন্ধিত একটি বেসরকারি সাহায্য সংস্থা অন্টারিও ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (ওআইডিএ)। কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া তিন হাজার তিন শ রোহিঙ্গা পরিবারের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে গবেষণাগ্রন্থটি তৈরি করা হয়েছে। গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে ২০১৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া সাড়ে ছয় লাখ রোহিঙ্গার অভিজ্ঞতা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার ৩৩টি শিবিরের প্রতিটি থেকে এক শ পরিবারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়া রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের ২৩ মহকুমার ১ হাজার ৩০৬ গ্রামের অধিবাসী। এবছরের জানুয়ারিতে কক্সবাজারের শিবিরে রোহিঙ্গাদের ওপর গবেষণা চালানোর সময় পাঁচটি বিষয়ে জোর দেওয়া হয়। এগুলো হচ্ছে ১.মিয়ানমার থেকে তাদের বাংলাদেশে আসার কারণ আর যাত্রাপথের বর্ণনা। ২.মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রা কেমন ছিল আর জীবিকার ক্ষেত্রে তাদের দক্ষতা কোথায়। ৩.বাংলাদেশের শিবিরে তাদের অভিজ্ঞতা। ৪.বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আর্থসামাজিক অবস্থা এবং তাদের ক্ষতিপূরণের পরিকল্পনা। ৫. ফেরার ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের মৌলিক চাহিদা কী কী। সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৮০ শতাংশই বলেছেন, তাঁরা মৌখিক কিংবা শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা ও গ্রেফতার শিকার হয়েছেন। রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৯৩ ভাগই বঞ্চনার শিকার হওয়ার কথা বলেছেন। তাঁরা সবচেয়ে বেশি বঞ্চনার শিকার হন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে—৭৯ শতাংশ। এমনকি তাঁরা স্কুল (৭৬ শতাংশ), থানা (৬৩ শতাংশ) ও ব্যাংকে (২৭ শতাংশ) বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। বইটি যৌথভাবে লেখা ও সম্পাদনার কাজটি করেছেন অস্ট্রেলিয়ার সুইনবার্ন ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির অধ্যাপক ক্রিস্টিন জুব ও ড. মোহসিন হাবিব, অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া প্রদেশের পরিবেশ, ভূমি, পানি পরিকল্পনা বিভাগের গবেষক সালাহউদ্দিন আহমেদ, কানাডার লরেন্টিয়ান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হেনরি পিলার্ড এবং নরওয়ের ইউনিভার্সিটি অব নরডল্যান্ডের সহযোগী অধ্যাপক মাসুদুর রহমান। গ্রন্থটি প্রণয়নের জন্য কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে গবেষণা চালানো হয়। ওই গবেষণায় অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নরওয়ের গবেষকেরা অংশ নেন।  টিআর/
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন জটিল ও কষ্টসাধ্য হবে : পররাষ্ট্র সচিব

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে আশা রোহিঙ্গাকে নিজে দেশে প্রত্যাবাসন জটিল ও কষ্টসাধ্য হবে বলে আখ্যা দিয়ে পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক।একইসঙ্গে রাতারাতি এর কোন সুষ্ঠু সমাধানও সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তিনি । তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদুলু পোস্টের এক প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কোনও সুনির্দিষ্ট অগ্রগতির কথা না জানালেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর নেতৃত্বে সদ্য মিয়ানমার সফর থেকে দেশে ফেরা প্রতিনিধিদল তাদের সফরকে ইতিবাচক আখ্যা দিয়েছে।কয়েক প্রজন্ম ধরে রাখাইনে বসবাস করে আসলেও রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব স্বীকার করে না মিয়ানমার। গত বছরের আগস্টে রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। খুন, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা। কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হওয়া এসব রোহিঙ্গাদের ফেরাতে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের সঙ্গে মিয়ানমার চুক্তি স্বাক্ষর করে। বাংলাদেশের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির ছয়মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও কোনও অগ্রগতি নেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের। প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আলোচনা করতে সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলির নেতৃত্বে মিয়ানমারে সফর করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল। এখন পর্যন্ত এটাই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সফর।আনাদুলু এজেন্সির খবরে পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হককে উদ্ধৃত করা হয়েছে। তিনি সোমবার জানিয়েছেন, এখনও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দিনক্ষণ ঠিক হয়নি। তিনি বলেছেন যে কোনও দেশের ক্ষেত্রেই ‘প্রত্যাবাসন একটি জটিল ও কষ্টসাধ্য প্রক্রিয়া, রাতারাতি যার বাস্তবায়ন সম্ভব নয়’। তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদুলু এজেন্সির সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশ রিফিউজি রিফিল অ্যান্ড রিপার্টিশন কমিশনের শীর্ষ ব্যক্তি আবুল কালাম। কমিশনার কালাম প্রতিনিধিদলের মিয়ানমার সফরকে ‘শরণার্থী সংকট সমাধানের এক চলমান প্রচেষ্টা’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই ধরনের আলোচনার মধ্য দিয়েই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বাস্তব অবস্থা সৃষ্টি হবে। গত বছরের ২৫ আগস্ট নিরাপত্তা চৌকিতে আরসার হামলাকে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযানের কারণ বলা হলেও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দিতে এবং তাদের ফেরার সব পথ বন্ধ করতে আরসার হামলার আগে থেকেই পরিকল্পিত সেনা-অভিযান শুরু হয়েছিল। টিআর/

রাখাইনে কারফিউর মেয়াদ বাড়লো আরও দুমাস

মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর গত বছর সেই দেশের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন করে খুন-হত্যা ধষণ করেন। ফলে প্রাণ বাঁচাতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয় প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা। মিয়ানমারের উত্তর রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। গত বছর নিরাপত্তা পোস্টে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরস) হামলার এক বছর পূর্তি হওয়ার কয়েকদিন আগ থেকেই এই সতর্কাবস্থা নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে রাখাইন রাজ্যের মংডু, বুথিডাউং শহরে সান্ধ্যাকালীন কারফিউর মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মিয়ানমার টাইমস এ খবর জানিয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট আরসা’র হামলার পর থেকেই মধ্যরাতে কারফিউ জারি রয়েছে রাখাইনের এই দুই শহরে। মংডু ও বুথিডাউং জেলার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ইউ কিয়াউ উইন হটেট সোমবার জানান, কারফিউর নতুন মেয়াদ দুই মাস বাড়িয়ে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত বহাল রাখা হয়েছে। রাত ১০টায় শুরু হয়ে কারফিউ জারি থাকবে ভোর ৫টা পর্যন্ত। এই কারফিউর ফলে স্থানীয় বৌদ্ধ ও মুসলিমরা রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত বাইরে বের হতে পারবেন না এবং উন্মুক্ত স্থান বা মসজিদে পাঁচজনের বেশি জড়ো হতে পারবেন না। মংডুর প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইউ মুইন্ট খাইন জানান, নিরাপত্তা পরিস্থিতি জোরদার করা হয়েছে এবং কারফিউর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। কারণ, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টে চালানো আরসার হামলার এক বছর সামনে। তথ্যসূত্র: মিয়ানমার টাইমস। এসএইচ/

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সুচির ভূমিকায় হতাশ মাহাথির

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর সেই দেশের সেনাবাহিনী অমানবিক অত্যাচার চালিয়ে খুন-ধর্ষণ করে । প্রাণ বাঁচাতে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। এই রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের সমালোচনা করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিতে দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সে দেশের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সুচি’র ভূমিকা নিয়েও তীব্র হতাশার কথা জানিয়েছেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকার খবরে মাহাথিরকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের বিপন্নতার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাহাথির। তাদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ করতে না পারায় অং সান সুচিকে নিয়ে ‘খুবই হতাশ’ তিনি। মাহাথির মিয়ানমার সম্পর্কে বলেন, তারা যা করেছে, তা সত্যিই অবিচার। মানুষকে হত্যা করা আর গণখুনের মতো ঘটনাগুলো কোনও সভ্য দেশের আচরণ হতে পারে না। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বিপুল সংখ্যক শরণার্থীকে ফিরিয়ে নিতে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের সঙ্গে প্রত্যাবাসন চুক্তি করতে বাধ্য হয় মিয়ানমার। তবে জুলাই মাসে রোহিঙ্গা প্রশ্নে মিয়ানমারের ভূমিকায় শঙ্কা প্রকাশ করে মানবাধিকার কমিশন। তথ্যসূত্র: ভয়েস অব আমেরিকা। এসএইচ/

রোহিঙ্গা ইস্যু: আইসিসির এখতিয়ারের প্রশ্নে সুচির না

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ‘বিতাড়নের` ঘটনা খতিয়ে দেখতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) একজন প্রসিকিউটরের আবেদনে আপত্তি জানিয়েছে মিয়ানমার৷। বিষয়টি নিয়ে ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে মিয়ানমারের বক্তব্য চেয়েছিলেন আইসিসির বিচারকরা৷ এ বিষয়ে মিয়ানমার কেন আইসিসির সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চায় না এবং তারা কেন বক্তব্য দেবে না, তার একটি ব্যাখ্যাও মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচির দফতর দিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স৷ এক বিবৃতিতে সুচির দফতর বলেছে, ‘প্রসিকিউটরের আবেদন মিয়ানমারের ওপর বিচারিক এখতিয়ার পাওয়ার একটি পরোক্ষ চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে, যেখানে দেশটি রোম সনদের স্টেট পার্টিই নয়৷` এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আইসিসির বক্তব্য পায়নি রয়টার্স৷ মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের বিতাড়নের বিষয়টি তদন্ত করার এখতিয়ার হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত, আইসিসির আছে কিনা, সে ব্যাপারে জানতে চেয়েছেন ওই আদালতেরই একজন কৌঁসুলি৷ আদালতে দাখিল করা নথিপত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে৷ বিশ্বের প্রথম স্থায়ী যুদ্ধাপরাধ আদালত আইসিসির শুধু সদস্য দেশগুলোর ভেতরের বিষয়ে কার্যক্রম পরিচালনার এখতিয়ার রয়েছে বা বিষয়গুলো তারা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঠাতে পারে৷ তবে রোহিঙ্গাদের দেশত্যাগের ঘটনা ‘আন্তঃসীমান্ত বিরোধের মধ্যে পড়ে` বলে আইসিসি প্রসিকিউটর ফাতোও বেনসুদা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আদালতের কাছে আবেদন করেন৷ এরপর আদালত বাংলাদেশের কাছে বিষয়টি নিয়ে মতামত চাইলে তাতে সম্মতি জানানো হয়েছিল বলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন৷ অং সান সুচির দফতর বলেছে, প্রসিকিউটরের এই মামলায় অংশ হওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই মিয়ানমারের এবং এ বিষয়ে এখতিয়ার দেওয়া হলে তা ভবিষ্যতে ‘নানা জনপ্রিয় বিষয়` এবং আইসিসি সদস্য বহির্ভূত দেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়ার একটি ‘বিপজ্জনক নজির‘ তৈরি হবে৷`` গত বছর আগস্টের শেষ দিকে রাখাইন প্রদেশে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন অভিযান শুরু হলে বাংলাদেশ অভিমুখে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে৷ কয়েক মাসের মধ্যে সাত লাখের মতো রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে বলে জাতিসংঘের ভাষ্য৷ কক্সবাজারে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া এসব রোহিঙ্গারা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজের মতো মানতবাবিরোধী অপরাধের বিবরণ দিয়েছেন৷ মিয়ানমার বাহিনীর ওই অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান` হিসেবে বর্ণনা করে আসছে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা৷ তথ্যসূত্র: ডয়েচে ভেলে। এসএইচ/

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের অগ্রগতি দেখতে মংদুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দেখার জন্য আজ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংদু শহরের আশপাশের কয়েকটি গ্রাম পরিদর্শন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।  পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক এবং জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের কয়েকজন সদস্য এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা আজ দুপুরে মংদুর উদ্দেশে সিতুই ত্যাগ করেন। মিয়ানমারের সমাজ কল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী উইন মায়াত অ্যাই বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ছিলেন। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানের পর গত বছর ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইন রাজ্য থেকে ৭ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করে। মাহমুদ আলী মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্পর্কে আলোচনার জন্য মিয়ানমারের উদ্দেশে চারদিনের সফরে বৃহস্পতিবার ঢাকা ত্যাগ করেন। তিনি ১৫ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মিয়ানমার সরকারের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াও রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে রাখাইন রাজ্যে কি ধরনের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে প্রতিনিধিদল তাও দেখবেন।   সূত্র: বাসস।   এমএইচ/ এসএইচ/

‘মিয়ানমার জাতিসংঘ শিশু অধিকার লঙ্ঘন করেছে’

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ শিশু অধিকার কনভেনশন লঙ্ঘনের আলামত পাওয়া গেছে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় তারা এ অধিকার লঙ্ঘন করেছে বলে জানিয়েছে শিশু অধিকার রক্ষাবিষয়ক সংগঠন সেভ দ্যা চিলড্রেন। সম্প্রতি রোহিঙ্গা ইস্যুতে তদন্ত করতে গিয়ে সংগঠনটির নরওয়ের আইন বিশেষজ্ঞরা এসব আলামত খুঁজে বের করেছেন। সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রতিবেদনটি আগামী সপ্তাহে প্রকাশের কথা রয়েছে। তবে আগেই শুধুমাত্র রয়টার্সের কাছেই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদনের সহকারী লেখক ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইন বিভাগের অধ্যাপক ইমিরেটাস গুই গুডউইন গিল বলেন, “সহিংসতার যে তালিকা আমরা পেয়েছি তা সামগ্রিক নয়। এতে শুধু সবচেয়ে মারাত্মক লঙ্ঘনগুলো তুলে ধরা হয়েছে।” ওই সব প্রতিবেদনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। জাতিগত নিধন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা। উল্লেখ্য, মিয়ানমার ১৯৯১ সালের জাতিসংঘ শিশু অধিকার কনভেনশনে স্বাক্ষর করে। তাই আইন অনুযায়ী তারা এই কনভেনশন মেনে চলতে বাধ্য। তবে বিষয়টি নিয়ে মিয়ানমার সরকার বা নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ অভিযোগের বিষয়ে কেউ মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।   তথ্যসূত্র: রয়টার্স।   এমএইচ/ এসএইচ/

রোহিঙ্গা হত্যাযজ্ঞে জড়িত ২২ কর্মকর্তাকে শনাক্ত

রাখাইনে রোহিঙ্গা হত্যাযজ্ঞে জড়িত সেনাবাহিনী ও পুলিশের ২২ কর্মকর্তাকে শনাক্ত করেছে ব্যাংকক ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ফোরটিফাই রাইটস। বৃহস্পতিবার প্রকাশ হওয়া ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূলে বড় ধরনের প্রস্ততি নিয়েছিলো দেশটির নিরাপত্তাবাহিনী। আবারও বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচিত হলো রোহিঙ্গা হত্যাযজ্ঞের নেপথ্যের দৃশ্যপট। রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূল করতে পরিকল্পিত ও ধারাবাহিকভাবে পদক্ষেপ নেয় মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও পুলিশ। প্রথমে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে সব ধরনের অস্ত্র তুলে নিয়ে বেড়া দিয়ে আলাদা করা হয় তাদের বসতি। বন্ধ করে দেয়া হয় খাবারসহ জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা। একইসঙ্গে উগ্র বৌদ্ধদের প্রশিক্ষণ, অস্ত্র সরবরাহ ও বিপুল সংখ্যক সেনা সমাবেশ ঘটানো হয়। ব্যাংকক ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ফোরটিফাই রাইটসের নতুন প্রতিবেদনে উঠে আসে এসব তথ্য। এতে বলা হয়, গেল বছরের আগস্টে রাখাইনে গণহত্যায় অংশ নেয় ২৭টি ব্যাটালিয়নের ১১ হাজার সেনা সদস্য ও আরো ৩টি পুলিশ ব্যাটালিয়ন। হত্যাযজ্ঞে জড়িত ২২ সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তাকে সনাক্ত করেছে সংস্থাটি। এরমধ্যে রয়েছেন কমান্ডার ইন চিফ সিনিয়র জেনারেল মিন অং হলাইং, ডেপুর্টি কমান্ডার ইন চিফ ভাইস সিনিয়র জেনারেল সোয়ে উইং, তিন বাহিনীর জয়েন্ট চীফ অব স্টাফ জেনারেল মায়ে তুন ও। প্রতিবেদনে নিরাপত্তাবাহিনীর এসব অপরাধকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ঘটনা তদন্তে আইসিসিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানায় সংস্থাটি।     ফোরটিফাই রাইটর্সের দাবি, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা ও দায়িত্বহীনতার কারনেই রাখাইন পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।

‘অবৈধ ভূমি বাজেয়াপ্ত না করতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান’

কৃষকদের জমি অবৈধ উপায়ে বাজেয়াপ্ত করার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। ক্ষতিগ্রস্তদের জরিমানা ও ভবিষ্যতে এমন কাজ যেন না হয় সেজন্য আইন পরিবর্তনেরও দাবি জানায় মানবাধিকার সংস্থাটি। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, “মিয়ানমার সরকারের উচিৎ এই বিষয়টিকে চিহ্নিত করা, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং ভবিষ্যতে এমন হওয়া থেকে জনগণদের রক্ষায় আইন পরিবর্তন করা”। ৩৩ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনটি আজ মঙ্গলবার প্রকাশ করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। তাতে বলা হয়, বিগত ৩০ বছর যাবত মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনী বহু কৃষকের জমি আইন বহির্ভূতভাবে বাজেয়াপ্ত করে। আর এরজন্য তাদের কোন ধরনের জরিমানা বা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। সংস্থাটির এশিয়াবিষয়ক উপ-পরিচালক ফিল রবার্টসন জানান, “দীর্ঘদিন যাবত এমন ভূমি বাজেয়াপ্তকরণে গ্রামীণ সমাজ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়”। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, গত সামরিক সরকারের মেয়াদ থাকা সময়েই শুধু আট লক্ষ হেক্টর পরিমাণ জমি আইন বহির্ভূতভাবে বাজেয়াপ্ত করা হয়। এর বিপরীতে জমি মালিক বা কৃষকদের কোন রকম ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। যেসব কৃষক ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন বা জমি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধিতে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একতরফা ভূমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের গ্রেফতার করারও নিন্দা জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। পাশাপাশি এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মুক্তি দিতেও দাবি জানানো হয় ওই প্রতিবেদনে। রবার্টসন আরও বলেন, “মিয়ানমার সরকারের উচিৎ ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং তাদের অধিকার সংরক্ষণে নতুন আইন তৈরি করা”। সূত্র: আল জাজিরা। //এস এইচ এস// এসএইচ/    

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাসে দুই হাজার শিশুর জন্ম [ভিডিও]

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে প্রতি মাসে জন্ম নিচ্ছে প্রায় দুই হাজার শিশু। এর মধ্যে ৭০ শতাংশই ক্যাম্পে প্রসব হওয়ায়, মা ও শিশুরা রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। তবে গর্ভবতী ও প্রসব পরবর্তী নারীর চিকিৎসা এবং নবজাতকদের পরিচর্যায় সরকারের পাশাপাশি কাজ করছে বিভিন্ন সংস্থা। গত দশ মাসে কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। আগে থেকে আশ্রয় নেওয়াসহ বাংলাদেশে এখন রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ। বিভিন্ন সংস্থার তথ্যমতে, ক্যাম্পগুলোতে প্রতি মাসে প্রায় দুই হাজার শিশু জন্ম নিচ্ছে। উখিয়া ও টেকনাফ ক্যাম্পে গর্ভবতী নারীর সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ হাজার। গত বছরের ২৬ আগষ্ট থেকে এ’ পর্যন্ত ১৮ হাজারের বেশি শিশুর মধ্যে ৭০ শতাংশেরই জন্ম হয়েছে ক্যাম্পে। এখানকার মা ও শিশুরা রয়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। ক্যাম্পে সেবা প্রদান কঠিন হলেও গর্ভবতী নারী ও শিশুদের নিয়ে সরকারের পাশাপাশি কাজ করছে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন সংস্থা।   গর্ভবতী ও প্রসব পরবর্তী নারীর চিকিৎসা এবং নবজাতকদের পরিচর্যায় নানা উদ্যোগ নেয়ার কথা জানান সিভিল সার্জন। বাংলাদেশে জন্ম নেয়া এ’সব শিশুর ভবিষ্যত কি হবে, তা নিয়েও শঙ্কিত স্থানীয়রা।  

রোহিঙ্গাদের জন্য একটি দ্বীপ প্রস্তুত করছে মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সাবু বলেছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য মালয়েশিয়া সরকার একটি দ্বীপ প্রস্তুত করছে, যেখানে তাদের স্থানান্তর করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে আজ বৃহস্পতিবার সকালে সফররত মোহাম্মদ বিন সাবু সৌজন্য সাক্ষাৎকালে একথা জানান। বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের জানান, মোহাম্মদ বিন সাবু বিপুল সংখ্যক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদেরকে আশ্রয় প্রদানে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করে বলেন যে তার দেশ এসব রোহিঙ্গার নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান চমৎকার ভাতৃপ্রতীম সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এই সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আরও ঘনিষ্ঠ হবার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। প্রেস সচিব জানান, শেখ হাসিনা এবং মোহাম্মদ বিন সাবু দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক(এমওইউ) সইয়ের ব্যাপারে প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব মো. নজিবুর রহমান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার(পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাহফুজুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন। এসএইচ/

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি