ঢাকা, সোমবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০:৩৫:০১

ময়মনসিংহে চাষ হচ্ছে সৌদির খেজুর

ময়মনসিংহে চাষ হচ্ছে সৌদির খেজুর

খেজুর বা খুরমা মানেই সৌদি আরব বা মরু অঞ্চলের ফল। মরুভূমিতেই এর চাষ হয়। বাংলাদেশে এ ফলের চাষ অনেকের কাছে অবাস্তব। কিন্তু এই অবাস্তবকেই বাস্তবে পরিণত করেছে ময়মনসিংহের মোতালেব মিয়া। নিজ উদ্যোগে নাতিশীতোষ্ণ বাংলাদেশে ফলিয়েছেন উত্তপ্ত আবহাওয়ার দেশ সৌদি আরবের খেজুর। আর এর মাধ্যমে বেকারত্বেরর গ্লানি মুছে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে। এখন তার নেই অর্থের টানাপোড়েন। খেজুর চাষে ঘুরেছে ভাগ্যের চাকা, বেড়েছে সামাজিক মর্যাদা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের ভালুকা সিডস্টোর বাজার থেকে সখিপুর সড়কে তিন কিলোমিটার পশ্চিমে তার সৌদি খেজুর বাগান। সেখানে চাষ হচ্ছে আজুয়া, শুক্কারী ও বকরী জাতের খেজুর। সবাইকে অবাক করে দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশে থাকা গাছেও ধরছে ফলন। বাগানে শত শত গাছ সারিবদ্ধভাবে লাগানো রয়েছে। গাছে সেচ দেওয়ার জন্য রয়েছে কয়েক হাজার বড় ফুট প্লাস্টিকের পাইপ। তার বাগানে ঢুকলেই মনে হবে ব্যক্তি উদ্যোগে খেজুর চাষে সত্যিই এক অসম্ভব কর্মযজ্ঞের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। আর তাই এক সময়ের সৌদি প্রবাসী দেশে ফিরে এখন রীতিমতো কোটিপতি। মাটির ছোট একটি ঘর থেকে তিনি বাস করছেন ইটের দ্বিতল দালানে। সৌদি খেজুরের বাগান করে যে সফলতা পেয়েছেন সারা জীবন সৌদি আরব থাকলেও সফলতা আসত কী না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে তার। জানা যায়, নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান মোতালেব আর্থিক টানাপড়েনে মধ্যেই ১৯৯৭ সালে পাড়ি জমান সৌদি আরব। সেখানে তিনি মাসিক ৫০০ রিয়াল বেতনে খেজুরবাগানে চাকরি নেন। তিনি আবুধাবি ও দোবাইসহ বিভিন্ন এলাকার খেজুর বাগান পরিদর্শন করে অতি অল্প সময়ে খেজুর চাষের ব্যাপারে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তার ইচ্ছে জাগে তিনি দেশে ফিরে খেজুর বাগান করবেন। নিজস্ব চিন্তার আলোকে ২০০১ সালে ৩৫ কেজি কাঁচা খেজুর নিয়ে তিনি দেশে ফিরেন। খেজুরের বীজ থেকে চারা উৎপাদন করেন। তিনি বাড়িসংলগ্ন ১০ কাঠা জমিতে সেই চারা রোপণ করে পরিচর্যা শুরু করেন। বাংলাদেশে সৌদি খেজুর চাষ করা নিয়ে এলাকার মানুষ তখন বলাবলি করেন, মোতালেবের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। খেজুর বাগান করে এলাকায় এক সময়ের মাথা খারাপ মোতালেব এখন খেজুর মোতালেব হিসেবে পরিচিত। মোতালেবের স্ত্রী মজিদা বেগম শুরুতে স্বামীর এমন কর্মকাণ্ডে হতবিহ্বল হয়ে পড়লেও সব সময় সহযোগিতা করতে থাকেন। আগাছা পরিষ্কার, পানি সেচ, সার গোবর দেওয়াসহ গাছের পরিচর্যা শুরু করেন। তিন বছরের মাথায় চারাগাছে প্রথম খেজুর ফললে আসে কাঙ্ক্ষিত সফলতা। অবশেষে ২০০৬ সালে দু’টি চারাগাছে খেজুর টিকলে তার স্বপ্ন পূরণ হয়। এসব খেজুর থেকেও তিনি এলাকার লোকজনদের খাইয়ে বীজ রেখে দিয়ে চারা উৎপাদন করতে থাকেন। আস্তে আস্তে ফল ধারক গাছের সংখ্যা বাড়তে থাকে। মোতালেবের খেজুরবাগান সারা দেশে পরিচিতি লাভ করে। মোতালেব অসাধ্য সাধন করে বুঝিয়ে দিলেন বাংলাদেশের মাটি সৌদির মতো মিষ্টি খেজুর উৎপাদনে যথেষ্ট উপযোগী। ১৪ বছরে তিনি অধিক মূল্যে অনেক গাছ খেজুরসহ বিক্রি করে কোটি টাকা উপার্জন করেছেন। বর্তমানে তার রয়েছে তিনটি খেজুরের বাগান। বাড়িসংলগ্ন বাগানে এ বছর ১৫-২০টি গাছে প্রচুর খেজুর ধরেছে। তিনি তার বাগানের খেজুর, চারা ও গাছ বিক্রি করে জীবনে আর্থিক সাফল্য পেয়েছেন। এক সময় বাবার দেওয়া একটি মাটির ঘরে স্ত্রী সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। খেজুর বাগান করার পর তিনি চার দিকে বেষ্টনী প্রাচীর, দর্শনার্থীদের বিশ্রামাগারসহ নিজের একটি বহুতল ভবনের দোতলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ শেষ করে সেখানে বসবাস করছেন। বড় ছেলে মোফজ্জল (১৭) এইচএসসিতে লেখাপড়া করে, ছোট ছেলে মিজান (১১) পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে। বড় মেয়ে মর্জিনার (২০) বিয়ে হয়েছে। বর্তমানে স্ত্রী সন্তান নিয়ে সুখের সংসার। বাগান মালিক মোতালেব মিয়া জানান, বিভিন্ন সময়ে তার বাগান পরিদর্শনে অনেকে আসলেও কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা এখনো পাননি তিনি। তার বাগানের খেজুর চারা উৎপাদনের উপযোগী হওয়ায় এক কেজি চারা উৎপাদন যোগ্য খেজুর চার হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে। তিনি মনে করেন যাদের উঁচু পতিত চালা জমি রয়েছে; তারা সৌদি খেজুরের চাষ করে সহজেই অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠা পেতে পারেন। আর যারা লেখাপড়া করে বেকার জীবন কাটাচ্ছেন তারাও খেজুরবাগান করে বেকারত্ব ঘোঁচাতে পারেন। মোতালেব আরও বলেন, আমি আরো জায়গা বাড়াবো। মোট তিন একর জমির ওপর আমার খেজুর বাগান হবে। আগামী ২০১৯ সালে আরো এক একর জায়গাতে আমার খেজুরের চাষ বাড়ানো হবে। তিনি জানান, সৌদি আরবে খেজুর চাষ করে কিন্তু সার প্রয়োগ করে না। আমরা সার দেওয়ার কারণে তাদের চেয়ে আমাদের খেজুর আকারে আরো বড় হয়। আরকে//
ভিক্ষাবৃত্তি থেকে আত্ম-মর্যাদার পথের যাত্রী যারা

যে হাত দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করতেন জয়পুরহাটের সুফিয়া বেওয়া, তার সেই হাত এখন কর্মের হাতে পরিণত হয়েছে। এখানে মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে পল্লিকর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন। সংস্থাটির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে সমৃদ্ধি কর্মসূচি। এ কর্মসূচির আওতায় সুফিয়াকে ১ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়েছে। শুধু টাকা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেনি সংস্থাটি। টাকাটা যেন সুফিয়া উত্তমভাবে ব্যবহার করতে পারে তা সার্বিকভাবে তদারকি করেছে পিকেএসএফ এর সহযোগী সংগঠন জয়পুরহাটের জাকস ফাউন্ডেশন। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ভিক্ষাবৃত্তি করেছেন জয়পুরহাট জেলার নিক্তিপাড়া গ্রামের সুফিয়া বেওয়া। দরিদ্র দিনমজুর বাবার অভাবের সংসারে ছোট বয়স থেকেই মানুষের বাড়িতে কাজ করতে হয়েছে তাকে। মাত্র ১২ বছর বয়সে পাশের নিত্তিপাড়া গ্রামের মকবুল হোসেন নামে এক ভ্যানচালকের সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয় সুফিয়াকে। স্বামী মকবুল ২০০২ সালে পঙ্গু হয়ে গেলে সুফিয়ার সংসারে শোকের ছায়া নেমে আসে। সংসারের প্রয়োজন মেটাতে সুফিয়া বেছে নেন ভিক্ষার পথ। চিকিৎসার অভাবে ২০০৮ সালে তার স্বামী মকবুল মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর মেয়ে সখিনাকে নিয়ে খুব বিপদে পড়েন। কোনো উপায় না পেয়ে গাইবান্ধা জেলার কামদিয়া এলাকার একজন দিনমজুরের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে দেন। এতে তাদের কষ্ট লাগব না হয়ে বরং আরও বেড়ে যায়। এরই মধ্যে ২০১০ সালে আশার আলো হয়ে আসে পল্লীকর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ)। সংস্থাটির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত সমৃদ্ধি কর্মসূচি ধলাহার ইউনিয়নে জরিপের মাধ্যমে ১০৪ জন ভিক্ষুকের একটি তালিকা করে। পুনর্বাসন কমিটির যাচাই-বাছাই শেষে সুফিয়ার পরিবারকে পুনর্বাসন কার্যক্রমের জন্য মনোনীত করা হয়। জাকস ফাউন্ডেশন ২০১৫ সালের জুলাই মাসে ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দেয়ার মৌখিক ও লিখিত চুক্তির মাধ্যমে সুফিয়াকে দুটি গাভি ও একটি বাছুর কিনে দেন । আর এর মাধ্যমে জীবনযুদ্ধে হার না মানা সুফিয়ার ভিক্ষাবৃত্তির অবসান ঘটে। বর্তমানে দুটি গাভি দুটি বাছুরের মাধ্যমে প্রতিদিন পাঁচ কেজি দুধ পান। ওই দুধ বিক্রি করে মাসিক আয় আসে ৫ হাজার ২৫০ টাকা। এছাড়া মুরগী, কবুতর, বিভিন্ন ফল ও সবজি চাষ করেও আয় করেন সুফিয়া। বর্তমানে সুফিয়ার বাড়িটি একটি সমৃদ্ধ বাড়ি হিসেবে পরিচিত। ভিক্ষার মত একটা লজ্জাকর পেশা থেকে বের করে টেকসইভাবে আয় ও সম্পদ বৃদ্ধি এবং মানব মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে ‘ভিক্ষুক পুনর্বাসন’ শীর্ষক এক প্রকল্প হাতে নেয় পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। তারা প্রতি ভিক্ষুককে এক লাখ টাকা দেয় নতুন করে জীবন শুরু করার জন্য। এই প্রকল্পের একজন সুবিধাভোগী হচ্ছেন সুফিয়া। সুফিয়ার মতো সমৃদ্ধি কর্মসূচীর আওতায় নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন আরও অনেক ভিক্ষুক। এদের মধ্যে রয়েছেন জয়পুরহাটের আবু বকর, চুয়াডাঙ্গার নূর ইসলাম-ছকিনা খাতুন দম্পতি, দিনাজপুর শহরের ফাসিলাডাঙ্গার কামরুজ্জামান, কবিতা রানি, জুলেখা খাতুন, জবেদা বেওয়া, রাবেয়া বেওয়া, পিরোজপুর জেলার সদর উপজেলার সিকদারমল্লিক ইউনিয়নের মনোরঞ্জন, পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের টগড়া গ্রামের আমেনা বেগম, চাপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার রাণীহাটি ইউনিয়নের ওমর আলী, জামালপুর জেলার বকশিগঞ্জ উপজেলার বাট্টাজোড় ইউনিয়নের হাফেজা বেগম, খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়নের বদনখালী গ্রামের মোঃ সামাদ গাজী, সীতাকুণ্ড উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের  বৃন্দাবালা, শরীয়তপুর জেলায় কাঁচিকাটা ইউনিয়নের চরজিংকিং গ্রামের নূরজাহান বেগম, কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলায় ঘোগাদহ ইউনিয়নের প্রতিবন্ধী সাইফুল ইসলাম, যশোরের অভয়নগর উপজেলার পায়রা ইউনিয়নের মরিয়ম বেগম, ঢাকার ধামরাই উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের আব্দুস সামাদ এবং ময়মনসিংহের ফুলপুরের এরশাদ আলী। এরা ছাড়াও আরও অনেকে ভিক্ষুক থেকে স্বাবলম্বী হয়েছেন। পিকেএসএফ জানায়, সমৃদ্ধি কর্মসূচির আওতায় এ পর্যন্ত ৮৩৭ জন ভিক্ষুককে সহায়তা করা হয়েছে। এছাড়া আরও ১৯৬ জন ভিক্ষুককে এই কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে কাজ হচ্ছে। যারা সাহায্য পেয়েছেন তাদের মধ্যে ৮০০ জনই ইতিমধ্যেই দারিদ্র্যসীমার উপরে চলে এসেছেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির আওতায় ১৫২টি ইউনিয়নে ১১১টি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে ‘সমৃদ্ধি’ কর্মসূচির আওতায় ভিক্ষুক পুনর্বাসন সংক্রান্ত কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। পিকেএসএফ এর সমৃদ্ধি কর্মসূচির আওতায় ভিক্ষুক পুর্নবাসন কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে পিকেএসএফ এর চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনীতির মূল স্রোতে আনার জন্য সরকার ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই সমৃদ্ধি কার্যক্রম গ্রহণ করেছে পিকেএসএফ। এর মধ্যে অন্যতম হল ভিক্ষুকদের স্বাবলম্বী করা। এই উদ্যোগে আমরা ব্যাপক সফলতা ও সাড়া পাচ্ছি। এ প্রকল্প সম্পর্কে জানতে চাইলে পিকেএসএফ’র উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) ড. মোঃ জসীম উদ্দিন বলেন, ‘আত্মনির্ভরশীল জাতি গঠনে একদিকে যেমন নীতি ও নৈতিকতার প্রয়োজন, অন্যদিকে তেমন মানুষের আত্মশক্তির বিকাশ ও সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার অপরিহার্য। ‘সমৃদ্ধি’ কর্মসূচি মানুষকে কেন্দ্র করে বিন্যাস করা হয়েছে, মানুষের সক্ষমতার উপর জোর দেয়া হয়েছে। মানুষের জীবনচক্রকে সামনে রেখে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। লক্ষ্য একটাই: শিশু, নবীন, প্রবীণ - প্রত্যেক মানুষকে মানব মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা এবং এর মাধ্যমে মর্যাদাপূর্ণ জাতি গঠন।” পিকেএসএফ এর কর্মসূচি বাস্তবায়নে দায়িত্বে থাকা স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা জাকস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মো. নূরুল আমিন বলেন, এটা আমাদের অন্যতম প্রজেক্ট। সুফিয়া ছাড়াও পিকেএসএফ এর সমৃদ্ধি কর্মসূচির আওতায় আরও বেশ কয়েকজন আমাদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। তাদের এ সফলতা ধরে রাখা এখন আমাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। তারা যেন আবার আর্থিক অসুবিধায় না পড়ে সেজন্য আমাদের টিম সবসময় দেখাশোনা এবং পরামর্শ দিয়ে থাকে।” /এম/এএ  

২০ টার্কিতে খামার শুরু, মাসে আয় লাখ টাকা

জীবন সংগ্রামে টিকে থাকার জন্য আলম মিয়া (২৭) জমি চাষ করে সংসার চালাতেন। কিন্তু তাতে যা আয় হতো তা সংসার পরিচালনায় পর্যাপ্ত ছিল না। দারিদ্রের এ বেড়াজাল থেকে নিজেকে মু্ক্ত করতে টার্কি মুরগি পালন শুরু করেন। আত্মপ্রত্যয় ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি এখন সফল খামারি। আলম মিয়ার বাড়ি জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি থানার দুরাইল অঞ্চলে। ২০১৬ সালের প্রথম দিকে নিজ বাসস্থানের পাশে ৫শতক জমির উপরে টার্কি খামার গড়ে তোলেন। তিনি প্রথমে পিকেএসএফ ও জাকস ফাউন্ডেশনের সহায়তায় ২০টি বাচ্চা দিয়ে টার্কি পালন শুরু করেন। তাতে খরচ পড়েছিল ৩৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে পিকেএসএফ ও জাকস ফাউন্ডেশন থেকে তিনি পেয়েছিলেন ২৫,০০০ হাজার টাকা। রোগ-বালাই কম হওয়ায় ‍মাচা পদ্ধতির মাধ্যমে টার্কি পালন শুরু করেন তিনি। বড় আকারের গৃহপালিত এই টার্কির উৎপত্তি উত্তর আমেরিকায়। কিন্তু ইউরোপসহ পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই এটি পালন করা হয়। তুলনামূলকভাবে অনেক বড় এই পাখিগুলো দেখতে অনেকটা মুরগির মতো। টার্কি ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে ওঠার ছয় মাসের মধ্যে ডিম দেয়। ছয় মাসের মেয়ে টার্কির ওজন হয় পাঁচ থেকে ছয় কেজি। আর পুরুষ টার্কি হয় প্রায় আট কেজির। ১ টি টার্কি মুরগি বছরে ২০০ থেকে ২৫০ টি ডিম দেয়। ডিম দেওয়া টার্কিকে মুরগিও বলা হয়। আলম মিয়ার খামারে টার্কি আলম মিয়া ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২০টি টার্কি থেকে প্রায় ৪০০ টি বিক্রি করেছেন। বড় টার্কি, বাচ্চা এবং ডিম বিক্রি থেকে এ পর্যন্ত ৭ লাখ টাকা আয় করেছেন তিনি। বর্তমানে খামারে আরও ১১০ টার্কি রয়েছে। বাচ্চা ফোটার অপেক্ষায় রয়েছে ৫০ টি ডিম। এখন ডিম দেওয়ার উপযোগী প্রতি জোড়া টার্কি বিক্রি করছেন আট হাজার টাকায়। প্রতি পিস ডিম বিক্রি করছেন ২০০ টাকা করে। বর্তমানে আলমের মাসিক আয় ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। পাঁচবিবিতে আলমকে দেখে প্রায় ১০০ টি পরিবার টার্কি পালন শুরু করেছেন। তারাও ভাগ্যের চাকা বদলাতে চান। খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টার্কির খাবার নিয়ে মুরগির চেয়ে দুর্ভাবনা কম। এরা ঠাণ্ডা-গরম সব সহ্য করতে পারে। দানাদার খাবারের চেয়ে কলমি শাক, বাঁধাকপি এবং সবুজ শাকসবজি বেশি পছন্দ করে। পশ্চিমা দেশগুলোর টার্কির রোস্ট অভিজাত খাবার। আমাদের দেশে টার্কি রান্না করা হয় মুরগির মাংসের মত। রোস্ট ও কাবাব হিসেবেও টার্কির মাংস খাওয়া যায়। বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, নাটোর ও কুমিল্লাসহ বেশ কিছু অঞ্চলে টার্কির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। টার্কির লালন পালন নিয়ে খামারি আলম বলেন, টার্কি পালন থেকে আমি প্রতি মাসে গড়ে ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা আয় করি। ২০১৬ সালের প্রথম দিক থেকে এ পর্যন্ত ১টি টার্কি মুরগি থেকেই ৭০ হাজার টাকার ডিম ও বাচ্চা বিক্রি করেছি। এখন আমার খামারে প্রায় ১১০ টি টার্কি রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ডিম ও মুরগি বিক্রি করার জন্য খুব বেশি কষ্ট করতে হয় না। বাসা থেকেই দোকানদার এবং আশপাশের এলাকার মানুষজন আমাদের কাছ থেকে ডিম ও মুরগি কিনে নিয়ে যায়। টার্কির মাংস কতটা সুস্বাধু ও পুষ্টিকর সে সম্পর্কে জাকসের সহকারী পরিচালক ও কৃষি কর্মকর্তা ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোতে টার্কির মাংস বেশ জনপ্রিয়। ওইসব দেশে পাখির মাংসের মধ্যে হাঁস, মুরগি, কোয়েল এর পর টার্কির অবস্থান। টার্কি বর্তমানে মাংসের প্রোটিনের চাহিদা মিটিয়ে অর্থনীতিতে বেশ অবদান রাখছে। এছাড়া এ মাংসে প্রোটিন বেশি, চর্বি কম এবং আন্যান্য পাখির মাংসের চেয়ে বেশি পুষ্টিকর। টার্কির লালনপালনও অনেকটা নিরাপদ-এমনটাই জানালেন জাকস ফাউন্ডেশনের পশু ডাক্তার ডা. আসাদ। বলেন, সাধারণত টার্কি মুরগির বড় ধরনের কোনো রোগ-বালাই দেখা দেয় না। তবে রাণীক্ষেত এবং সালমোনেলোসিস (পায়খানার সঙ্গে রক্ত আসা) রোগ দেখা দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে সচেতনতা এবং সঠিকভাবে পরিস্কার- পরিচ্ছন্ন রাখলে রোগ বালাই হয় না বললেই চলে। এম/এএ/ এআর

‘ব্লু –ইকোনমির সুবিধা পেতে দরকার গবেষণাভিত্তিক পরিকল্পনা’

বাংলাদেশের সমুদ্র তলদেশ ও এর তীরবর্তী উপকূলীয় এলাকায় রয়েছে অফুরন্ত সম্ভাবনা। তেল-গ্যাসসহ নানাবিধ সম্পদের হাতছানি রয়েছে এ সমুদ্র বক্ষে। এসব সমুদ্র ও নদী থেকে আহরিত মৎস্য সম্পদে জীবিকা নির্বাহ করে লাখো মানুষ। লবণ চাষ, শুঁটকি উৎপাদন, কাঁকড়া চাষ, চিংড়ি চাষে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। সমুদ্র সৈকতের খনিজ বালু এই জনপদের আরেকটি সম্ভাবনা। পর্যটন খাতেও উপকূলজুড়ে রয়েছে অফুরন্ত সম্ভাবনা। বাংলাদেশ এতোদিন নিজস্ব সক্ষমতায় মাছ ধরাসহ সমুদ্র ও নদী তীরবর্তী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে পারতো। কিন্তু এখন বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখছে মাছ ধরাসহ সাগরের তলদেশে বিদ্যমান তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের। কারণ আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হওয়ায় বাংলাদেশ এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র অঞ্চল, ২০০ নটিক্যাল মাইলের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কর্তৃত্ব পেয়েছে। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম উপকূল থেকে ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপানে অবস্থিত সব ধরণের প্রাণিজ ও অপ্রাণিজ সম্পদের ওপর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠারও অধিকার পেয়েছে। সমুদ্র সম্পদ ঘিরে বাংলাদেশের অসীম সম্ভাবনা বিষয়ে সম্প্রতি কথা হয় অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমেদের। একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সমুদ্র সম্পদকে ঘিরে আমাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির স্বপ্নটা অনেক বেড়ে গেছে। কারণ মিয়ানমারসহ পার্শবর্তী দেশগুলোর দৃশ্যপট আমাদের বলছে সমুদ্রে আমাদের অপার সম্ভাবনা আছে। এখন কথা হলো সে সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগাতে আমাদের পরিকল্পনা নিতে হবে। যে পরিকল্পনা হতে হবে গবেষণাভিত্তিক ও বাস্তবায়নযোগ্য। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইন প্রতিবেদক রিজাউল করিম ।  একুশে টেলিভিশন অনলাইন: কেমন আছেন, স্যার? কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদ: হ্যা, ভালো। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিজয়ের পর বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় কী ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আপনি মনে করেন? কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদ: মিয়ানমারসহ পার্শবর্তীদেশগুলোর অভিজ্ঞতা আমাদের বলছে সমুদ্রে আমাদের বিপুল সম্ভাবনা আছে। যেগুলো কাজে লাগাতে পারলে অর্থনৈতিকভাবে দেশ আরও এগিয়ে যাবে। আমরা সেখান থেকে তেল-গ্যাসসহ অন্যান্য সম্পদ আহরণ করতে পারি। ব্লু-ইকোনমিতে বিপ্লবের মাধ্যমে অন্যের ঈর্ষার জায়গাতেও যেতে পারি। তবে সম্ভাবনা এক জিনিস আর সেটাকে কাজে লাগানো আর এক জিনিস। বাস্তবায়ন এক জিনিস। যেমন আমাদের প্রচুর তরুণ প্রজন্ম আছে। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টে আমরা সময় পার করছি। সাড়ে পাঁচ কোটি তরুণ আমাদের দেশে। সেটাকে আমরা কাজে লাগাতে পারলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে অনেক দূর এগিয়ে যাবে। এসব সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে আছি। এ ক্ষেত্রে যথাযথ উদ্যোগের ঘাটতি রয়ে গেছে। আমাদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। কাজের ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের এ সমুদ্র ও তরুণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ব্যবস্থা করতে হবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আপনি বলছিলেন পার্শবর্তী দেশের অভিজ্ঞতা থেকে জানা যাচ্ছে বিপুল সম্ভাবনা আছে, তবে সে দেশগুলো সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারলে- আমরা কেন পারছি না? কাজী খলীকুজ্জামান আহমেদ: আসলে আমাদের এ সম্ভাবনা খুব বেশি দিন আগে তৈরি হয়নি। আবার যতদিন হয়েছে তাতে আমরা আরও অনেক এগিয়েও যেতে পারতাম। কিন্তু তা হয়নি। এ ক্ষেত্রে আমাদের বড় দূর্বলতা গবেষণাভিত্তিক বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনার অভাব। গবেষণার ক্ষেত্রে কী কী কাজ আগে করা দরকার, সে অগ্রাধিকার নির্বাচনের অভাব। সর্বোপরি এ কাজকে এগিয়ে নিবে এমন উপযুক্ত পৃথক একটি প্রতিষ্ঠানের অভাব। একটি বিষয় হলো বাংলাদেশে আমরা অনেক ক্ষেত্রে পরিকল্পনা করি। কিন্তু পরিকল্পনার অনেক ক্ষেত্রেই বাস্তবায়নে গিয়ে যেভাবে কাজ হওয়ার কথা সেভাবে হয় না। তো সমুদ্র অর্থনীতির বিষয়ে আমরা পরিকল্পনারও আগে রয়ে গেছি। সে জন্য এ ক্ষেত্রে আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে অগ্রাধিকার ঠিক করে পরিকল্পনা করা। যদিও এরই মধ্যে বেশকিছু কাজ শুরু হয়ে গেছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: সাগরে অনুসন্ধান কাজ এগিয়ে নিতে ব্লু -ইকোনমি নামে একটি সেল এরই মধ্যে গঠন করা হয়েছে। যা স্থায়ী পৃথক সেল হিসেবে গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। আপনি কী এটা ছাড়াও অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের কথা বলছেন? কাজী খলীকুজ্জামান আহমেদ: কথা হচ্ছে সরকারের একটা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য একটা প্রতিষ্ঠান লাগবে-ই। এ ক্ষেত্রে যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে সে প্রতিষ্ঠানগুলো যদি না করতে পারে, তবে নতুন প্রতিষ্ঠান করতে হবে। আমাদের যে, নৌমন্ত্রণালয় আছে-পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় আছে, তাদের ভিন্ন ভিন্ন দায়িত্ব দেওয়া আছে। তাদের এ কাজগুলোকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য একটা স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে একটা স্থায়ী সেল গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। আমি মনে করি এ কাজ এগিয়ে নিতে সেলের চেয়েও শক্তিশালী উপযুক্ত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া দরকার। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: সমুদ্রে এ সম্পদ আহরণে দরকার ব্যাপক অনুসন্ধান ও গবেষণা, বাংলাদেশের সে সক্ষমতা কতটুকু আছে বলে মনে করেন? কাজী খলীকুজ্জামান আহমেদ: সোজা কথায় বলতে গেলে বাংলাদেশের এ ধরণের অনুসন্ধানের সক্ষমতা নেই। কারণ সমুদ্রে কতগুলো জিনিস- যেমন তেল বা গ্যাস। এগুলো অনুসন্ধান করার সেই প্রযুক্তি বা দক্ষ জনবল বাংলাদেশে নেই। এখানে যে টেকনিক্যাল বিষয় দরকার সেই ক্ষমতাও পুরোপুরি আমাদের নেই। আবার ব্লু-ইকোনমির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষ জনবল আমাদের আছে এ  কথা খুব জোর দিয়ে বলা যাবে না। তবে বলা যেতে পারে ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে প্রশিক্ষিত করতে হবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: তবে কী এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিদেশি কোন কোম্পানিকে আনতে পারে? কাজী খলীকুজ্জামান আহমেদ: যেহেতু আমাদের সক্ষমতা নেই, সেহেতু বিদেশের সহায়তা এখানে নিতেই হবে। তবে আস্তে আস্তে আমাদের সে সক্ষমতা অর্জন করতে-ই হবে।এ মুহুর্তে বাইরের কোম্পানিগুলোকে তা অনুসন্ধানের দায়িত্ব দিতে হবে। সাগরে হয়তো মাছ ধরাসহ ছোট ছোট কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা আমাদের আছে। অনুসন্ধানের জন্য দরকার বড় জাহাজ ও প্রযু্ক্তির। তাই সে জন্য বিদেশি কোন কোম্পানিকে তো আনতেই হবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: বিদেশি কোম্পানিকে কাজ দেওয়া বিষয়টি কোন প্রক্রিয়ায় হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন? কাজী খলীকুজ্জামান আহমেদ: বিদেশি কোম্পানিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এ কাজের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে এ ক্ষেত্রে বিদেশিদের হাতে কাজ দিতে আগেই চুক্তি করতে হবে এবং সে চুক্তি হবে বাংলাদেশের অনুকূলেই। অনেক সময় এমন হয়, যে ওরা শর্ত দিয়ে আমাদের সম্পদ সব নিয়ে চলে গেল। সে রকম হলে হবে না। নিজেদের স্বার্থ বজাই রেখেই তাদের কাজ দিতে হবে। তবে সব কাজ দিলে কিন্তু হবে না। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: অনুসন্ধানের এ কাজ দেশীয় বেসরকারি পর্যায়ে ছেড়ে দেওয়া যায় কী না? কাজী খলীকুজ্জামান আহমেদ: বিশাল এ কর্মকাণ্ড সরকারি নিয়ন্ত্রণে-ই হওয়া উচিত। বেসরকারি খাতে কোন অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া ঠিক হবে না। তবে বেসরকারি পর্যায়ে সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। অনেকটা এমনও হতে পারে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতি। তবে এ ক্ষেত্রে সব কাজ আবার প্রাইভেট কোম্পানির সঙ্গে ভাগাভাগি করা যাবে না। সে ক্ষেত্রেও যাচাইয়ের ব্যাপার আছে। যে কাজগুলো বেসরকারি পর্যায়ে ছেড়ে দেওয়া যায়, শুধুমাত্র সে কাজগুলোই দিতে হবে। আর সে কাজগুলোর নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে সরকারের-ই হাতে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় সমুদ্র বিষয়ে আরও জোর দেওয়া দরকার কী না? কাজী খলীকুজ্জামান আহমেদ: প্রথমে নির্ধারণ করতে হবে কোথায় কী ধরণের দক্ষতা লাগবে। সেইভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। সমুদ্র বিষয়ে যারা উচ্চ শিক্ষা অর্জন করবে তাদের শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। উচ্চ শিক্ষায় গবেষণার ক্ষেত্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানবিষয়ক পাঠ্যসূচিসহ প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ বাড়াতে হবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: এ ক্ষেত্রে অর্থায়নে বাজেটে থোক বরাদ্দ দরকার আছে কী না? কাজী খলীকুজ্জামান আহমেদ: এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার আগে ঠিক করতে হবে। অগ্রাধিকার অনুযায়ী খরচটা নির্ধারণ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে বাজেটেও থোক বরাদ্দ আসতে পারে। আর বিদেশি কোম্পনিকে কাজ দিলে খরচটা তো তারাই দিবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: অনেকে বলে থাকেন- সরকার গবেষণার নামে সময় আর টাকা খরচ না করে সরাসরি তেল-গ্যাস উত্তোলনে যেতে পারে, এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী? কাজী খলীকুজ্জামান আহমেদ: গবেষণা ছাড়া কিছুই হয় না। তাই এতো বড় কাজে গবেষণা তো দরকার-ই। তবে এটা একটা বড় ব্যাপার যে, আমাদের বিনিয়োগটা কী পরিমান হবে? বা বিনিয়োগ থেকে আমরা কতটুকু লাভবান হবো, তা হিসেব করা। এখানে সম্ভাবনা এতটাই বেশি যে প্রথম দিকে কিছু বিনিয়োগ না করলে তা আমাদের দখলে রাখতে পারবো না। কারণ অন্যের হাতে পুরোটাই দিয়ে দিলে তারাই তো সব নিয়ে যাবে। তাই বিনিয়োগ করতে হবে এবং বিনিয়োগের সুফল ঘরে তুলতে সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে। কাজে দক্ষ, সৎ ও নৈতিকতা সম্পন্ন মানুষ লাগাতে হবে।   এসএইচ/ এআর  

দারিদ্র বিমোচনে ভূমিকা রাখবে ব্লু -ইকোনমি : ঢাবি ভিসি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেছেন, বাংলাদেশ নতুন করে ব্লু-ইকোনমিতে প্রবেশ করছে। সবার সমন্বয়ে যদি আমরা এর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করতে পারি তবে এটি দারিদ্র বিমোচনে অন্যতম ভূমিকা রাখতে পারে। আজ বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ প্রণিবিজ্ঞান সমিতির দ্বিবার্ষিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য বাংলাদেশে সমুদ্র অর্থনীতির সম্ভাবনা। এটি উপস্থাপনা করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মো. খোরশেদ আলম। সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে ড. আখতারুজ্জামান বলেন, ব্লু-ইকোনমি দারিদ্র বিমোচনে শুধু নয়, খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পন্নতা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, সমুদ্রের গভীরে যে অগাধ সম্পদ রয়েছে সেগুলো অনুসন্ধান ও ব্যবহারের লক্ষে সরকারি-বেসরকারিসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার। ড. আখতার বলেন, সমুদ্র অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সরকার ও বেসরকারি খাতকে সমন্বয়ভাবে কাজ করতে হবে। তাহলে আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে সমৃদ্ধ দেশ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী প্রফেসর সেলিমা খাতুন, র‌্যাংগস গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আমানউল্লা চৌধুরী, এসিআই লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এফ এইচ আনসারী, ভারতের বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড আনন্দ কুমার সাহা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তপন কুমার দে প্রমুখ।   / এআর /

ভাগ্য পরিবর্তনে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হয়েছেন আদিবাসী নারীরা

চাং পাং। চাকমা ভাষার শব্দ। যার বাংলা করলে দাঁড়ায় যা চাইবেন তাই পাবেন। তবে আমাদের এ প্রতিবেদনে এটি একটি দোকানের নাম। রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমীতে পাঁচ দিনব্যাপী আয়োজিত পার্বত্য মেলায় আসা দোকানগুলোর মধ্যে এটিও একটি। এরকম প্রায় আশিটিরও বেশি দোকান নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে মেলাটির উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। এসময় উপস্থিত ছিলেন- পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর। মূলত তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ির তৃণমূলের নারী উদ্যেক্তাদের উৎপাদিত পণ্য দেশব্যাপী পরিচিত করানো ও সর্বত্র দেশীয় ঐতিহ্যকে তুলেই ধরাই এ মেলার উদ্দেশ্য। মূলত আদিবাসী নারীরা তাদের সংস্কৃতির সঙ্গে মিল রেখে পোশাকসহ নিজ হাতে উৎপাদিত যেসব পণ্য বাজারজাত করে থাকে তা প্রদর্শনী ও বিক্রয় করা হচ্ছে এ মেলায়।

বদলে যাচ্ছে ভোলায় মহিষ পালনের ধরন

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের দ্বীপ জেলা ভোলার অনন্য ঐতিহ্য ‘মহিষ পালন’। জেলায় প্রায় ২০০ বছর আগে থেকে মহিষ পালন করা হয়ে আসছে বাথান পর্যায়ে। বাথানে একই সঙ্গে ২০০ থেকে ৫০০ পর্যন্ত মহিষ পালন সম্ভব। যা ঘরোয়া পরিবেশে একেবারেই অসম্ভব। কিন্তু বর্তমানে এ মহিষ পালন অধিক লাভজনক হওয়ায় স্থানীয়রা বাড়িতে পালন শুরু করেছে। মহিষ পালনের ব্যাপকতায় এলাকার দরিদ্র কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বি হয়ে উঠছেন। মহিষের দুধ বিক্রির টাকা কৃষদের চোখে দিন বদলের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। এলাকায় মহিষ পালন করেন দোলাল মাতব্বর। মহিষ পালনে তার জীবন বদলে যাওয়ার গল্প শোনাতে গিয়ে তিনি বলেন, ২০০১ সালে আমি চারটি মহিষ নিয়ে আমার যাত্রা শুরু করি। মাত্র ৫০ হাজার টাকা পুঁজি দিয়ে আমি শুরু করি। এখন আমার ৩৬টি মহিশ। শুধু তাই নয়, বর্তমানে আমার দুই একর জমি হয়েছে। যার স্থানীয় বাজার মূল্য ২০ লাখ টাকা। এ মহিষের দুধ বেচে আমি আমার সংসারের খরচ মেটাই। আমার  দুই মেয়ে ও তিন ছেলে। মেয়ে একটার বিয়ে দিয়েছি। তাও এই মহিষের দুধ বিক্রির টাকায়। তিনি জানান, মহিষ পালন অত্যন্ত লাভজনক। এক লাখ টাকা দিয়ে মহিষ কিনলে দুই বছর পরে পাওয়া যাবে একটি বাচ্চা। বাচ্চা বিক্রি করে পাওয়া যায় ৩০ হাজার টাকা আর দুধ বিক্রি করে পাওয়া যায় ২০ হাজার টাকা।  অর্থাৎ দুই বছরের মধ্যে এক লাখ টাকায় ৫০ হাজার টাকা লাভ। তাই ভোলায় এখন এ মহিষ পালনে সবাই ঝুঁকছে। এতোদিন শুধু বাতানে পালন হলেও এখন তা বাড়িতে বাড়িতে ঘরোয়া পরিবেশেও পালন হচ্ছে। মহিষ পালনে দিন বদলের এ গল্প ভোলা জেলার অনেক কৃষকের। জানতে চাইলে মহিষ পালক জাকির হাওলাদার বলেন, আমার ৯৫টি মহিষ আছে। এটা আমার দাদা পালন করেছে। চাচা পালন করেছে। এখন আমি করছি। তবে আগে মহিষ একটু কিছু না হতেই মরে যেত। তাই অনেকে বেশি পালন করতে চাইতো না। কিন্তু এখন কৃমি নাশক ওষুধ ও বিভিন্ন রোগের ভ্যাকসিন দেওয়ার কারণে মহিষ মরার হার অনেক কমে গেছে। একদিকে মরার ঝুঁকি কমেছে। অন্যদিকে মাংস ও দুধের দাম বাড়ার কারণে লাভের পরিমানও বেড়েছে। তাই অনেকের মতো আমারও বেশি মহিষ পালনের আগ্রহ বেড়েছে। আমি এ মহিষ পালন করে চার কানি জমি কিনেছি। যার স্থানীয় বর্তমান বাজার মূল্য ১০ লাখ টাকা।        জেলায় মহিষ পালনে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস)। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, সারা বাংলাদেশে দেড় লাখ মহিষ পালন হয়। তার মধ্যে শুধু ভোলা জেলাতেই পালন হয় ৯০ হাজার। সবচেয়ে বড়  সম্ভাবনাময় ও নতুন আশার কথা হলো এলাকায় এখন মহিশ পালনে কিছুটা ভিন্নতা এসেছে। এখন শুধু বাতানেই মহিষ পালন হচ্ছে না। বাতানের পাশাপাশি ঘরোয়া পরিবেশেও এর পালন শুরু হয়েছে। প্রায় প্রতি বাড়িতেই এ মহিশ পালন শুরু হচ্ছে। মহিষ পালনের এ ব্যাপকতায় এলাকায় অর্থনৈতিক দিকটাও ঘুরে দাঁড়িয়েছে। মহিষের দুধ ও মাংস বিক্রির টাকা গরিব পরিবারগুলোতে স্বচ্ছলতা এনে দিয়েছে। মহিষের বাথানের মালিক মো. ইউনুছ বলেন, দৌলতখান উপজেলার মদনপুর চরে তাদের বাথানে প্রায় আড়াইশ` মহিষ রয়েছে। যা তারা চার পুরুষ ধরে লালন করে আসছেন। দৈনিক এখান থেকে ১৩০ থেকে ১৫০ কেজি দুধ হয়। জেলায় অনেকেই ঐতিহ্য ধারণ করে মহিষ পালন করে আসছেন। যা তাদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। দ্বীপাঞ্চল হওয়ায় এখানে পর্যাপ্ত পানি ও ঘাসসহ মহিষের উপযোগী খাদ্য ও বাস্থান আছে। যার কারণে আমরা এখানে মাহিষ পালনকে আরও এগিয়ে নিতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) মাধ্যমে ইফাদ’র সহায়তায় ‘উন্নত মহিষ পালন পদ্ধতি’ আওতায় আমরা (জিজেইউএস) মহিষের ইনব্লিডিং (অরক্ষিত প্রজনন) রোধের ব্যবস্থা নিয়েছি। বাগেরহাটের খামার থেকে উন্নত যাতের ২৭টি মহিষ ষাঢ় নিয়ে এসেছি। যেগুলো কৃষকদের মাঝে বিতরণ করেছি। এক একটা ষাঢ়ের মূল্য নিয়েছি ২৫ হাজার টাকা। যার প্রকৃত বাজার মূল্য ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। শীতের সময় ঘাসের সংকট দেখা দেয়। তাই মহিষের খাদ্য ঘাস চাষে প্রয়োজনীয় বীজ সরবরাহ করছি। ২০ থেকে ২৫ জন কৃষক যাতে এক সঙ্গে ঘাস চাষ করতে পারে সে জন্য কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। এছাড়া মহিষের রোগ বালাই থেকে সুরক্ষা দিতে আমরা বছরে তিনবার কৃমিনাশকসহ বিভিন্ন ভ্যাকসিন দিচ্ছি। এলাকায় ‘উন্নত মহিষ পালন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেন জিজেইউএস’র সহকারী পরিচালক (টেকনিক্যাল) ডা. খলিলুর রহমান বলেন, এলাকায় মহিষ পালনে কৃষকদের আমরা কারিগরি দিকেও প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। জেলার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আরও বেশি প্রকিক্ষণ দেওয়া হবে। জানা গেছে, প্রায় ৪০০ বছর আগে ভোলার উৎপত্তি হলে এখানে ক্রমশই জনবসতি গড়ে ওঠে। ধীরে ধীরে মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হলে তারা মহিষ, গরু, ছাগল পালন শুরু করে। ভোলা দ্বীপ হওয়াতে এখানকার ছোট বড় অসংখ্য চরে মহিষ পালনে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়। বিশেষ করে অবস্থা সম্পন্ন গৃহস্থ পরিবারগুলোর শত শত মহিষ পালন করে। অনেকের ধারণা, প্রায় ২০০ বছর আগে স্থানীয়রা মহিষের দুধ থেকে কাঁচা দধি উৎপাদন শুরু করে। যা ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু হয়ে বর্তমান সময়েও সমান জনপ্রিয়। এখানে এমন কোন বিয়ের অনুষ্ঠান খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে দধি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়নি। এতেই বোঝা যায় এখানে এটা কত জনপ্রিয়। জানা যায়, জেলায় শতাধিক বিচ্ছিন্ন চর রয়েছে। নদীর মাঝখানে এসব চরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল এলাকা জুড়ে সবুজ ঘাসের সমারহ। আর এসব চরে পালন করা হয় হাজার হাজার মহিষ। সবুজ ঘাস খেয়ে পালিত হয় এসব মহিষ। যুগ যুগ ধরে বংশপরাক্রমায় বহু পরিবার এখানে মহিষ ও দধি বিক্রির পেশায় নিয়জিত রয়েছেন। অনেকে আবার নিজস্ব মহিষের মাধ্যমে দুধ উৎপাদন করে দধি তৈরি করেন। দধির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন চরে গড়ে উঠেছে শত শত মহিষ নিয়ে বাথান। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব বাথান থেকে মনে মনে  দুধ আসতে শুরু করে শহরের বাজারগুলোতে। গ্রামাঞ্চলে হাটের দিনে দধির টালির পসরা সাজিয়ে বসেন বিক্রেতারা। বিভিন্ন দোকানে বিক্রি হয় মহিষের দুধের দধি।  এলাকায় দধি বিক্রেতারা বলেন, সাধারণত দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের দধির (টালির) চাহিদা বেশি। বর্তমানে দেড় কেজি ওজনের দধি ১৫০ ও দুই কেজি ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ দধি থেকে মাখন, ঘি ও ঘোল বানানো হয়। মাখনের কেজি ৮০০ ও ঘিয়ের কেজি এক হাজার ২০০ টাকা বিক্রি হয়। এর ভালো দাম পাওয়ায় তাদের লাভও ভালো হয়। তবে দুধের দাম বৃদ্ধি পেলে দধির দামও বাড়ে বলে জানান তিনি। এলাকায় মহিষ পালন ও দধি বিক্রিতে অর্থনৈতিক সম্ভবনা কতটুকু জানতে চাইলে জিজেইউএস’র সহকারী পরিচালক বীথি ইসলাম বলেন, এলাকায় মহিষ পালন দেশের জন্য খুবই সম্ভাবনাময়। বর্তমানে দেশের ৭০ শতাংশ মহিশই এ ভোলা জেলাতে পালন হয়। মহিষের দুধ যেমন মিষ্টি তেমন পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এর মাংসেও অনেক খাদ্যগুণ বিদ্যমান। এখানে এর পালন বাড়াতে পারলে দেশের দুধ ও মাংসের চাহিদা পূরণ সহজতর হবে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আমরা জিজেইউএস) এলাকার কৃষকদের মহিষ পালনে উদ্বুদ্ধ করছি। তাদের মহিষের বাচ্চা সরবরাহ করছি। প্রয়োজনে ঋণ দিচ্চি। পাশাপাশি তা পালনে প্রশিক্ষণও দিচ্ছি। এমনকি মহিশের দুধ বিক্রির মাধ্যমও ধরিয়ে দিচ্ছি। যাতে মহিষ পালনে কৃষকরা আরও আগ্রহী হয়। অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়।   এসএইচ/  

কোলেস্টেরল মুক্ত মাংসের চাহিদা মেটাচ্ছে টার্কি

টার্কি বন্য পাখি হলেও এখন গৃহে বা খামারে পালিত হচ্ছে। ইউরোপ, আমেরিকায় অনেকে টার্কির মাংস খেয়ে এসেছেন। কিন্তু এখন বাংলাদেশেই এর মাংস পাওয়া যাচ্ছে। অন্যান্য পাখির তুলনায় টার্কির উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বেশি। মাত্র ২৬ সপ্তাহ বয়স থেকে টার্কি ডিম পাড়া শুরু করে। একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর ১০০টি ডিম পাড়ে। বাংলাদেশের খামারে প্রায় সব জাতের টার্কি পাওয়া যায়। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ব্ল্যাক, রাঙ্গিন সেট, স্লেট, ব্রোঞ্জ, রয়েল পাম্প ইত্যাদি। এর মধ্যে রয়েল পাম্পের দাম সবচেয়ে বেশি। বড় আকারের প্রতি জোড়া রয়েল পাম্প ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কম দামেও টার্কি পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন প্রজাতির ১৫ দিন বয়সের একজোড়া টার্কির দাম মাত্র ১ হাজার ৫০০ টাকা। ১ মাস বয়সী টার্কির জোড়া তিন হাজার টাকা। সাড়ে তিন মাস বয়সী প্রতি জোড়া টার্কির দাম ৮-১০ হাজার টাকা। পূর্ণ বয়স্ক এক জোড়া টার্কির দাম ১৩-১৪ হাজার টাকা। অন্যদিকে ডিম পাড়া প্রতিটি টার্কির দাম ১০ হাজার টাকা। রাজধানীর বিভিন্ন চেইনশপ যেমন স্বপ্ন, অ্যাগোরা ও মিনা বাজারে প্রচুর টার্কির মাংস বিক্রি হচ্ছে। তবে এখানে পূর্ণবয়স্ক প্রতি জোড়া টার্কি ১৫ হাজার টাকারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। পূর্ণবয়স্ক প্রতিটি টার্কির ওজন ছয় থেকে সাড়ে আট কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এসব দোকানে প্রতি কেজি টার্কির মাংস ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। টার্কি পাখি মুক্ত অবস্থার পাশাপাশি আবদ্ধ অবস্থায়ও পালন করা যায়। টিন, ছন, খড়ের ছাদ দেয়া ঘর বা কনক্রিট দালানেও এরা থাকতে পারে। একটি বড় টার্কির জন্য ৪-৫ বর্গ ফুট জায়গা নিশ্চিত করতে হবে। ঘরে প্রচুর পরিমাণে আলো ও বাতাসের ব্যবস্থা থাকতে হবে। টার্কি পালন করতে হলে এর খাবার সম্পর্কে বিস্তর ধারনা থাকতে হয়। যেসব টার্কির বয়স ৪০ দিনের ওপরে, তাদেরকে প্রতিদিন বিভিন্ন শাক-সবজি খাওয়াতে হয়। কলমি, হেলেঞ্চা, সরিষা, পালংকসহ বিভিন্ন ধরনের শাক তারা খুব পছন্দ করে। তাছাড়া ফসলের বীজ, পোকামাকড় এবং মাঝেমাঝে ব্যাঙ কিংবা টিকটিকি খেয়েও এরা জীবনধারণ করে। তবে টার্কির আদর্শ খাদ্য হচ্ছে- ধান, গম, ভুট্টা, সয়াবিন মিল, ঘাসের বীজ, সূর্যমুখীর বীজ, ঝিনুক গুড়া ইত্যাদি। টার্কির খাবার অবশ্যই স্বাস্থ্য সম্মত হতে হবে। তা না হলে তারা বিভিন্ন রোগে আক্রন্ত হতে পারে। পক্স, সালমোনেলোসিস, কলেরা, রানীক্ষেত মাইটস ও এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জায় এরা বেশি আক্রান্ত হয়। পরিবেশ ও খামার অব্যবস্থাপনার কারণেও অনেক রোগ সংক্রমণ হতে পারে। কোনো অবস্থাতেই রোগাক্রান্ত পাখিকে টিকা দেয়া যাবে না। টিকা প্রয়োগ করার পূর্বে বোতলের গায়ে দেয়া তারিখ দেখে নিতে হবে। মেয়াদ উত্তীর্ণ টিকা প্রয়োগ করা যাবে না। রোগ হলে পযর্বেক্ষণের পাশাপাশি নিকটস্থ পশু হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। এছাড়া প্রতি দুই মাস পরপর পাখিকে রানীক্ষেত ভ্যাকসিন দিতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়াতে হবে।   টার্কির মাংসের চাহিদা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। এর কারণ হচ্ছে- ১. টার্কির মাংস সুস্বাদু এবং মাংস উৎপাদন ক্ষমতা বেশি। ২. এটা ঝামেলাহীনভাবে দেশি মুরগির মতো পালন করা যায়। ৩. টার্কি পাখি ব্রয়লার মুরগীর চেয়েও দ্রুত বাড়ে। ৪. টার্কি পালনে তুলনামূলক খরচ অনেক কম। কারণ এরা দানাদার খাদ্যের পাশাপাশি শাক, ঘাস, লতাপাতা খেতেও পছন্দ করে।   টার্কি খামারের বেশিরভাগ মালিকই তরুণ। এমনই একজন উদ্যোক্তা সেলিম মিয়া। রাজধানীর মুগদার মান্ডায় প্রাকৃতিক পরিবেশে তিনি গড়ে তুলেছেন `কাশবন এগ্রো ফার্ম`। বাংলাদেশের টার্কির সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে তার মুখোমুখি হয়েছিলেন ইটিভি অনলাইনের দুই প্রতিবেদক আব্দুল করিম ও কাজী ইফতেখারুল আলম তারেক।   ইটিভি অনলাইন : টার্কির মাংস কতটা স্বস্থ্যসম্মত বলে মনে করছেন? সেলিম মিয়া : সাধারণত পল্ট্রি মুরগির মাংসে কোলেস্টেরল মাত্রা থাকে ২০% বা তার চেয়ে বেশি। অথচ টার্কির মাংসে কোলেস্টেরল মাত্রা ১-২ %। তাই হার্টের রোগীর জন্য এটি খুবই উপকারী।   ইটিভি অনলাইন : আপনার কাশবন এগ্রো খামারটি কখন, কিভাবে শুরু করেছেন? সেলিম মিয়া : টার্কি সম্পর্কে জানতে প্রথমে ইন্টারনেটে প্রচুর পড়াশোনা করতে হয়েছে। তারপর নিয়ম-কানুন বুঝে কাজ শুরু করেছি। দেড় বছর আগে মাত্র ৩৩টা টার্কি নিয়ে এ খামারটি শুরু করেছিলাম। এখন এখানে তিন হাজার পাখি আছে। ইটিভি অনলাইন : কাজ শুরু করতে গিয়ে কী কী সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন? সেলিম মিয়া : বাংলা ভাষায় টার্কি সম্পর্কে কোনো তথ্য না থাকাটাই বড় সমস্যা। তাছাড়া ইন্টারনেটে অনেক ভুল তথ্য আছে। এ কারণে শুরুর দিকে টার্কি প্রতিপালন নিয়ে অনেক বিপদে পড়তে হয়েছে। তবে এরই মধ্যে নিজের সব ভুল শুধরে নিয়েছি। এখন এটি একটি লাভজনক ব্যবসায় পরিণীত হয়েছে। ইটিভি অনলাইন : বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে টার্কি পালনকে আপনি কিভাবে দেখছেন? সেলিম মিয়া : এটাকে একটা শিল্প হিসেবে দেখছি। টার্কি রপ্তানির ব্যাপক সম্ভাবনা আছে। টার্কি তৃণভোজী হওয়ায় এগুলো প্রতিপালনে ব্যয় অনেক কম। অন্যদিকে উচ্চবিত্তদের কাছে এর মাংসের অনেক চাহিদা রয়েছে। ইটিভি অনলাইন : এ কাজ শুরুর পূর্বে আপনি কারও কাছ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা পেয়েছেলিন কী? সেলিম মিয়া : একবার আমরা একটা খামার দেখতে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানকার মালিক আমাদেরকে খামারটি দেখতে দেয়নি। সেদিন থেকেই প্রতিজ্ঞা করি, আমরা এমন একটি খামার গড়ে তুলবো, যেটা সবাই দেখতে পারবে। আমরা আমাদের প্রতিজ্ঞা পূরণ করেছি। ইটিভি অনলাইন : টার্কি পালন পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত বলুন। সেলিম মিয়া : টার্কির মাংস পুষ্টিকর ও খুবই সুস্বাদু। পাশাপাশি দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মাংসের চাহিদা মেটাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যাদের অতিরিক্ত চর্বি যুক্ত মাংস খাওয়া নিষেধ, টার্কির মাংস তাদের জন্য বিকল্প খাবার হতে পারে। ইটিভি অনলাইন : আপনার কাছ থেকে সহযোগিতা পেয়ে আর কেউ কি টার্কি খামার গড়ে তুলেছেন? সেলিম মিয়া : আমাদের থেকে টার্কি নিয়ে এবং আমাদের পরামর্শ নিয়ে প্রায় ২০০ খামার গড়ে উঠেছে।   ইটিভি অনলাইন : এ ধরনের উদ্যোগের ব্যাপারে বর্তমানে সরকার কী ভাবছে? সেলিম মিয়া : সম্প্রতি গাজীপুরের কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ২০০ টার্কি নিয়ে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে পরীক্ষামূলক কাজ শুরু করছে। তবে এ বিষয়ে সরকার এখনো কোনো নীতিমালা তৈরি করেননি। ইটিভি অনলাইন : টার্কি পালনকে শিল্প হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কিভাবে সহযোগিতা করতে পারে বলে আপনি মনে করেন? সেলিম মিয়া : সরকার যদি এ ব্যাপারে নীতিমালা করে, তবে অনেক ভালো হবে। যেকোনো শিল্পের ক্ষেত্রে শুরুতে ট্যাক্স ফ্রি করা হয়। যদি এর ক্ষেত্রেও এরকম নীতি অনুসরণ করা হয়, তাহলে এ ধরনের উদ্যোগ নিতে অনেকেই উৎসাহী হবেন। তাছাড়া সরকার যদি বিনা সুদে বা স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করে, তাহলে আরও অনেকে এ ধরনের খামার দিতে এগিয়ে আসবে। ইটিভি অনলাইন : নতুন কেউ এ ধরনের উদ্যোগ নিতে চাইলে, আপনি তাদেরকে প্রথমে কী পরামর্শ দিবেন? সেলিম মিয়া : নতুন কেউ এ ধরনের উদ্যোগ নিতে চাইলে আগে ভালোভাবে টার্কি সম্পর্কে বিশদভাবে জানতে হবে। লালন-পালন, চিকিৎসা, খাবার-দাবারসহ সব বিষয় বুঝে কয়েকটি খামার ভিজিট করে কাজ শুরু করতে হবে। তা না হলে নবীন উদ্যোক্তারা ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারেন। ইটিভি অনলাইন : আপনার এ উদ্যোগের ব্যাপারে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করায় ইটিভি অনলাইনের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ। সেলিম মিয়া : এ খামার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরতে আগ্রহ প্রকাশের জন্য আপনাদেরকেও ধন্যবাদ।   //ডিডি//

ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট : অপার সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ

বিশ্বের উন্নত দেশগুলো যখন কর্মক্ষম জনসংখ্যার অভাবে ভুগছে, তখন বাংলাদেশের জন্য সুযোগের দরজা খুলে গেছে। ২০১৬ সালে বিশ্বে কর্মক্ষম জনসংখ্যা কর্মে অক্ষম জনসংখ্যার অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ কর্মক্ষম জনসংখ্যায় এগিয়ে আছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টের সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিগণিত হবে। তবে ২০০৭ সালে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টে প্রবেশ করলেও বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। কেন ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা যাচ্ছে না এবং কিভাবে সর্বোচ্চ ব্যবহার করা যাবে- এসব বিষয়ে কথা হয় অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. নিয়াজ আহমেদের সঙ্গে। নিয়াজ আহমেদ আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ইটিভি অনলাইনের প্রতিবেদক মোহাম্মদ জুয়েল ।

পাড়ার মোড়ে চা বেঁচে বদলে গেল বিধবা অণিমার জীবন

অণিমা রাণী। বয়স ৬৫ ছুঁয়েছে। যশোর চৌগাছার বালিদা পাড়া গ্রামে বসবাস। ১৪ বছর আগে হারিয়েছেন স্বামী। একমাত্র ছেলে সে-ও ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে দুনিয়া ছেড়েছেন অনেক আগেই। একদিকে স্বামী ও ২২ বছরের ছেলে হারানোর বেদনা। অন্যদিকে সংসারে ৮ মেয়ে সন্তানের ভরণ-পোষণের ভার। সবমিলিয়ে হতাশার এক অথৈ পাথারে পড়ে যান অণিমা। ছেলের ক্যান্সারের চিকিৎসা করাতে সহায়-সম্বল হারিয়ে অর্থের টানাপোড়েনে চোখে যেন শর্ষে ফুল দেখতে থাকেন তিনি। আর সেই মুহুর্তে তার পাশে দাঁড়ায় উন্নয়ন সংস্থা জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন (জেসিএফ)। মাসে ৫০০ টাকা বয়স্ক ভাতা পাওয়া শুরু করেন অণিমা। ভাতার ক্ষুদ্র পুঁজি বিনিয়োগ করে পাড়ার মোড়ে চা বেঁচা শুরু করেন অণিমা। প্রিয়জন হারানো ও বয়সের বাঁধা তাকে দমাতে পারেনি। আজ তিনি অনেকটাই স্বাবলম্বী।  

কুচিয়ার বিদেশ যাত্রা

দেশে অনেকে কুচিয়া মাছ না চিনলেও বিদেশে ক্রমেই বাড়ছে এর চাহিদা। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে কুচিয়ার চাষ। এর মধ্যে সাতক্ষীরা অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে কুচিয়া চাষ শুরু হয়েছে বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায়। যা দেশের চাহিদা মিটিয়ে চীন, জাপান, হংকং, মঙ্গোলিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়াসহ প্রায় ১৫টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। কুচিয়া রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পাশাপাশি কমছে দেশের বেকারত্বের হার। বাংলায়  কুচিয়া, ইংরেজিতে Asian swamp eel একটি ইল-প্রজাতির মাছ। Sybranchidae পরিবারের অন্তর্গত এই মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Monopterus cuchia। কুচিয়া দেখতে সাপের মতো হলেও এটি এক প্রকার মাছ। যা দেশে এলাকা ভেদে কুইচ্চা, কুঁইচা, কুঁচে, কুঁচো ইত্যাদি মাছ নামে পরিচিত। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল, হাওর, খাল-বিল, পঁচা পুকুর, ধানক্ষেতে এবং বন্যাপ্লাবিত অঞ্চলে পাওয়া যায় সুস্বাদু, পুষ্টিকর এবং ঔষধি গুণাগুণ সম্পন্ন এ মাছ। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরেও এর চাহিদা বর্তমানে বাড়ছে।

মাটি ছাড়াই ঘাসের চাষ

উন্নত দেশগুলোতে হাইড্রোফনিক পদ্ধতিতে অনেক আগ থেকেই মাটিবিহীন ঘাস চাষ হয়ে আসছে। তথ্য-প্রযুক্তির উৎকর্ষতা এবং কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়নের ছোঁয়া লাগায় বর্তমানে আমাদের দেশেও মাটিবিহীন ঘাস চাষ শুরু হয়েছে। হাইড্রোফনিক পদ্ধতি আমাদের দেশে এখনও এতটা প্রসার লাভ না করলেও কৃষি বিজ্ঞানীরা এ নিয়ে কাজ করছেন।গবাদিপশুর খাবারের চাহিদা পূরণ করতে এই পদ্ধতি দ্রুত কৃষকদের মাঝে পৌছে দিতে কাজ করছেন। এই পদ্ধতির প্রসার ঘটনো গেলে কৃষিক্ষেত্রে সম্ভাবনার নয়া দিগন্ত উন্মোচিত হবে-এমন আশা করছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা।     মাটির স্পর্শ ছাড়াই পানির ওপর ফসল উৎপাদনের হাইড্রোফনিক পদ্ধতি আমাদের দেশে আবিষ্কার করেছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। এ পদ্ধতিতে সারা বছরই ঘাসের পাশাপাশি সবজি ও ফসল উৎপাদনও করা সম্ভব। প্রতি বছর জনসংখ্যা বৃদ্ধিসহ বিবিধ কারণে ব্যাপক হারে কমে যাচ্ছে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ। তাই মাটি ছাড়াই পশুখাদ্যের চাহিদা পূরণে হাইড্রোফনিক চাষ পদ্ধতি হতে পারে একটি উৎকৃষ্ট কৌশল। জমিতে ঘাস চাষের প্রচলিত ধারণা বদলে ঘরের ভেতরে মাটি ছাড়া কেবল পানি ছিটিয়ে পশুখাদ্য উৎপাদিত হয় হাইড্রোফনিক ফডার নামের এই প্রযুক্তিতে। এই প্রযুক্তির ব্যবহারে পশুখাদ্য উৎপাদনে খরচও কম। এই খাদ্যে বাজারের দানাদার ও মাঠের সবুজ ঘাসের প্রায় সব পুষ্টি উপাদান আছে। তাই ধীরে ধীরে বিষয়টি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে,  হাইড্রোফনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পশুখাদ্য তৈরি খুবই সম্ভাবনাময়। শুধু এই খাদ্য দিয়ে গরু, ছাগল, ভেড়া, খরগোশ ও রাজহাঁস পালন করা সম্ভব। আমাদের দেশে এ পদ্ধতি নতুন হলেও উন্নত বিশ্বে বাণিজ্যিকভাবে হাইড্রোফনিকপদ্ধতিতে সবজি ও ফল উৎপাদন করা হচ্ছে। জনবহুল দেশে যেখানে স্বাভাবিক চাষের জমি কম সেখানে ঘরের ছাদ, পলি টানের, নেট হাউসে হাইড্রোফনিক পদ্ধতিতে সবজি ও ফল উৎপাদন করা হচ্ছে। হাইড্রোনিক পদ্ধতিতে বীজ হিসেবে গম, বার্লি অথবা ভুট্টা ব্যবহৃত হয়। খামারিরা বাণিজ্যিকভাবে এই পদ্ধতি চালু করতে চাইলে তাদেরকে কারিগরি বিষয়ে সহযোগিতা করবে বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ। এছাড়া এ প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) আওতায় বিভিন্ন এনজিও এবং উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান তাদের কাজ শুরু করেছেন। সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থা তাদের মধ্যে একটি। বাংলাদেশের যশোর সদর উপজেলার পাঁচবাড়িয়া গ্রামে ‘কৃষক বাড়ি’ও ‘যশোর ডেইরি’ খামারের উদ্যোক্তারা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে খাদ্য উৎপাদন করছেন। গম, ছোলা, খেসারি, ভুট্টা, সয়াবিন, মাষকলাইসহ বিভিন্ন শস্যের অঙ্কুরোদগম বীজ ব্যবহার করে খাদ্যটি উৎপাদন করা যায়। সম্প্রতি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) আয়োজিত উন্নয়ন মেলায় ‘সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থা’ সম্পর্কে জানা যায়। এ সংস্থা পিকেএসএফের সহায়তায় সাতক্ষীরা অঞ্চলে মাটি ছাড়াই ঘাসের এ চাষ প্রকল্প চালু করেছে। কৃষকদের এ বিষয়ে পরামর্শসহ কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছে। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা উন্নয়ন প্রচেষ্টার কর্মকর্তা সোহরাব হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি একুশে টিভি (ইটিভি) অনলাইনকে বলেন, হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে গম ও ভুট্টা দিয়ে মাটি ছাড়াই ঘাষ চাষ করে সহজেই ঘাষের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। এছাড়া সরকারি সহযোগিতা বৃদ্ধি করা হলে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সহজেই কৃষকরা লাভবান হতে পারে। এ প্রকল্পের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কৃষকরা এ নতুন পদ্ধতির সঙ্গে ধীরে ধীরে পরিচিত হচ্ছে। এরইমধ্যে দেশের বেশ কিছু অঞ্চলে এ পদ্ধতিতে ঘাস চাষ শুরু হয়েছে। উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় পদ্ধতিটি কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হচ্ছে। চাষ পদ্ধতি হাইড্রোপনিক পদ্ধতি হলো এমন এক আধুনিক পদ্ধতি যার মাধ্যমে নিয়মিত পানির সঙ্গে খনিজ মিশ্রণ স্প্রের মাধ্যমে কৃষিজ পণ্য উৎপাদন করা যায়। এই পদ্ধতিতে মাটির কোনোরূপ সংস্পর্শ ছাড়াই ঘাস উৎপাদন সম্ভব। প্রথমে ভুট্টার বীজকে ১২ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর পানি ঝরিয়ে ভেজা চটের বস্তা অথবা কালো সুতি কাপড়ের ভেতরে করে ২৪ ঘণ্টা অন্ধকার স্থানে রাখতে হয়। শেষে এক পাশ ছিদ্রযুক্ত ট্রের ভেতরে পাতলা করে ওই বীজ বিছিয়ে কালো কাপড় দিয়ে দুই দিন ঢেকে রাখতে হবে। এই দুই দিন খেয়াল রাখতে হয়, বাইরের আলো-বাতাস যেন না লাগে। কাপড়টি সারাক্ষণ ভেজা রাখতে হয়। তৃতীয় দিন কাপড় সরিয়ে আধঘণ্টা পরপর পানি ছিটাতে হবে। তারপর টিনশেডের একটি ঘরে বাঁশ বা কাঠের তাক বানিয়ে ট্রেগুলো সাজিয়ে রাখতে হয়। এক কেজি বীজ থেকে ৯ দিন পরে ৭ থেকে ৮ কেজি ঘাস পাওয়া যায়। পাঁচ বিঘা জমিতে যে পরিমাণ ঘাস উৎপাদিত হয়, মাত্র ৩০০ বর্গফুটের একটি টিনশেডের ঘরে সেই পরিমাণ হাইড্রোফনিক খাদ্য উৎপাদন করা সম্ভব। হাইড্রোফনিক ফডার খাওয়ানোর উপকারিতা গবেষণায় দেখা গেছে, গাভীকে আঁশ জাতীয় খাদ্যের ৪০-৫০% হাইড্রোফনিক খাদ্য খাওয়ালে ভাল ফল পাওয়া যায়। প্রায় ১০-১৫% দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। এছাড়া এ ফডার খাওয়ার মাধ্যমে গাভীর ডিম্বাণু নিষিক্তকরণ হার বৃদ্ধি পায়। এটি গাভীর আঁশ জাতীয় খাদ্যের পাশাপাশি উদ্ভিজ আমিষ ও নানাবিধ প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ লবণের উৎস হিসাবে কাজ করে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, হাইড্রোফনিক ফডার গাভীকে খাওয়ালে ৩ লিটার পর্যন্ত দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি পেতে পারে পাশাপাশি দুধের ফ্যাট ও এসএনএফ (সলিড নট ফ্যাট) পর্যাক্রমে ০.৩%-০.৫% বৃদ্ধি পায়। / এম / এআর          

উপকূলীয় অঞ্চলে দিনবদলের হাতিয়ার কাঁকড়া চাষ

দেশে চাহিদা না থাকলেও বিশ্বের অনেক দেশে কাঁকরা সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার হিসেবে সমাদৃত।কাঁকড়া রফতানি করে একদিকে দেশ পাচ্ছে মোটা অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা, অপরদিকে উপকূলীয় অঞ্চলের দরিদ্র মানুষের বিকল্প আয়ের উৎস হচ্ছে এই কাঁকড়া। দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় সেখানকার কৃষি উৎপাদন এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এর ফলে স্থানীয়দের বিকল্প আয়ের উৎস খুঁজতে হচ্ছে। আয়ের বিকল্প উৎস হিসেবে তাই ক্রমেই বাড়ছে কাঁকড়ার চাষ। এতে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ একদিকে যেমন অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হচ্ছেন অন্যদিকে তেমনি বেকারত্বের হারও কমছে উল্লেখযোগ্য হারে। ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের তথ্য মতে, বতর্মানে দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকেই কাঁকড়া রফতানির মাধ্যমে বছরে ৬০ থেকে ৮০ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা আসছে। সারা দেশ থেকে এ রফতানি আয়ের পরিমান বছরে প্রায় ১৭০ কোটি টাকা।

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি