ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭ ১৯:৫২:৫৫

পাড়ার মোড়ে চা বেঁচে বদলে গেল বিধবা অণিমার জীবন

পাড়ার মোড়ে চা বেঁচে বদলে গেল বিধবা অণিমার জীবন

অণিমা রাণী। বয়স ৬৫ ছুঁয়েছে। যশোর চৌগাছার বালিদা পাড়া গ্রামে বসবাস। ১৪ বছর আগে হারিয়েছেন স্বামী। একমাত্র ছেলে সে-ও ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে দুনিয়া ছেড়েছেন অনেক আগেই। একদিকে স্বামী ও ২২ বছরের ছেলে হারানোর বেদনা। অন্যদিকে সংসারে ৮ মেয়ে সন্তানের ভরণ-পোষণের ভার। সবমিলিয়ে হতাশার এক অথৈ পাথারে পড়ে যান অণিমা। ছেলের ক্যান্সারের চিকিৎসা করাতে সহায়-সম্বল হারিয়ে অর্থের টানাপোড়েনে চোখে যেন শর্ষে ফুল দেখতে থাকেন তিনি। আর সেই মুহুর্তে তার পাশে দাঁড়ায় উন্নয়ন সংস্থা জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন (জেসিএফ)। মাসে ৫০০ টাকা বয়স্ক ভাতা পাওয়া শুরু করেন অণিমা। ভাতার ক্ষুদ্র পুঁজি বিনিয়োগ করে পাড়ার মোড়ে চা বেঁচা শুরু করেন অণিমা। প্রিয়জন হারানো ও বয়সের বাঁধা তাকে দমাতে পারেনি। আজ তিনি অনেকটাই স্বাবলম্বী।  
কুচিয়ার বিদেশ যাত্রা

দেশে অনেকে কুচিয়া মাছ না চিনলেও বিদেশে ক্রমেই বাড়ছে এর চাহিদা। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে কুচিয়ার চাষ। এর মধ্যে সাতক্ষীরা অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে কুচিয়া চাষ শুরু হয়েছে বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায়। যা দেশের চাহিদা মিটিয়ে চীন, জাপান, হংকং, মঙ্গোলিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়াসহ প্রায় ১৫টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। কুচিয়া রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পাশাপাশি কমছে দেশের বেকারত্বের হার। বাংলায়  কুচিয়া, ইংরেজিতে Asian swamp eel একটি ইল-প্রজাতির মাছ। Sybranchidae পরিবারের অন্তর্গত এই মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Monopterus cuchia। কুচিয়া দেখতে সাপের মতো হলেও এটি এক প্রকার মাছ। যা দেশে এলাকা ভেদে কুইচ্চা, কুঁইচা, কুঁচে, কুঁচো ইত্যাদি মাছ নামে পরিচিত। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল, হাওর, খাল-বিল, পঁচা পুকুর, ধানক্ষেতে এবং বন্যাপ্লাবিত অঞ্চলে পাওয়া যায় সুস্বাদু, পুষ্টিকর এবং ঔষধি গুণাগুণ সম্পন্ন এ মাছ। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরেও এর চাহিদা বর্তমানে বাড়ছে।

মাটি ছাড়াই ঘাসের চাষ

উন্নত দেশগুলোতে হাইড্রোফনিক পদ্ধতিতে অনেক আগ থেকেই মাটিবিহীন ঘাস চাষ হয়ে আসছে। তথ্য-প্রযুক্তির উৎকর্ষতা এবং কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়নের ছোঁয়া লাগায় বর্তমানে আমাদের দেশেও মাটিবিহীন ঘাস চাষ শুরু হয়েছে। হাইড্রোফনিক পদ্ধতি আমাদের দেশে এখনও এতটা প্রসার লাভ না করলেও কৃষি বিজ্ঞানীরা এ নিয়ে কাজ করছেন।গবাদিপশুর খাবারের চাহিদা পূরণ করতে এই পদ্ধতি দ্রুত কৃষকদের মাঝে পৌছে দিতে কাজ করছেন। এই পদ্ধতির প্রসার ঘটনো গেলে কৃষিক্ষেত্রে সম্ভাবনার নয়া দিগন্ত উন্মোচিত হবে-এমন আশা করছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা।     মাটির স্পর্শ ছাড়াই পানির ওপর ফসল উৎপাদনের হাইড্রোফনিক পদ্ধতি আমাদের দেশে আবিষ্কার করেছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। এ পদ্ধতিতে সারা বছরই ঘাসের পাশাপাশি সবজি ও ফসল উৎপাদনও করা সম্ভব। প্রতি বছর জনসংখ্যা বৃদ্ধিসহ বিবিধ কারণে ব্যাপক হারে কমে যাচ্ছে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ। তাই মাটি ছাড়াই পশুখাদ্যের চাহিদা পূরণে হাইড্রোফনিক চাষ পদ্ধতি হতে পারে একটি উৎকৃষ্ট কৌশল। জমিতে ঘাস চাষের প্রচলিত ধারণা বদলে ঘরের ভেতরে মাটি ছাড়া কেবল পানি ছিটিয়ে পশুখাদ্য উৎপাদিত হয় হাইড্রোফনিক ফডার নামের এই প্রযুক্তিতে। এই প্রযুক্তির ব্যবহারে পশুখাদ্য উৎপাদনে খরচও কম। এই খাদ্যে বাজারের দানাদার ও মাঠের সবুজ ঘাসের প্রায় সব পুষ্টি উপাদান আছে। তাই ধীরে ধীরে বিষয়টি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে,  হাইড্রোফনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পশুখাদ্য তৈরি খুবই সম্ভাবনাময়। শুধু এই খাদ্য দিয়ে গরু, ছাগল, ভেড়া, খরগোশ ও রাজহাঁস পালন করা সম্ভব। আমাদের দেশে এ পদ্ধতি নতুন হলেও উন্নত বিশ্বে বাণিজ্যিকভাবে হাইড্রোফনিকপদ্ধতিতে সবজি ও ফল উৎপাদন করা হচ্ছে। জনবহুল দেশে যেখানে স্বাভাবিক চাষের জমি কম সেখানে ঘরের ছাদ, পলি টানের, নেট হাউসে হাইড্রোফনিক পদ্ধতিতে সবজি ও ফল উৎপাদন করা হচ্ছে। হাইড্রোনিক পদ্ধতিতে বীজ হিসেবে গম, বার্লি অথবা ভুট্টা ব্যবহৃত হয়। খামারিরা বাণিজ্যিকভাবে এই পদ্ধতি চালু করতে চাইলে তাদেরকে কারিগরি বিষয়ে সহযোগিতা করবে বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ। এছাড়া এ প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) আওতায় বিভিন্ন এনজিও এবং উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান তাদের কাজ শুরু করেছেন। সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থা তাদের মধ্যে একটি। বাংলাদেশের যশোর সদর উপজেলার পাঁচবাড়িয়া গ্রামে ‘কৃষক বাড়ি’ও ‘যশোর ডেইরি’ খামারের উদ্যোক্তারা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে খাদ্য উৎপাদন করছেন। গম, ছোলা, খেসারি, ভুট্টা, সয়াবিন, মাষকলাইসহ বিভিন্ন শস্যের অঙ্কুরোদগম বীজ ব্যবহার করে খাদ্যটি উৎপাদন করা যায়। সম্প্রতি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) আয়োজিত উন্নয়ন মেলায় ‘সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থা’ সম্পর্কে জানা যায়। এ সংস্থা পিকেএসএফের সহায়তায় সাতক্ষীরা অঞ্চলে মাটি ছাড়াই ঘাসের এ চাষ প্রকল্প চালু করেছে। কৃষকদের এ বিষয়ে পরামর্শসহ কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছে। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা উন্নয়ন প্রচেষ্টার কর্মকর্তা সোহরাব হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি একুশে টিভি (ইটিভি) অনলাইনকে বলেন, হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে গম ও ভুট্টা দিয়ে মাটি ছাড়াই ঘাষ চাষ করে সহজেই ঘাষের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। এছাড়া সরকারি সহযোগিতা বৃদ্ধি করা হলে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সহজেই কৃষকরা লাভবান হতে পারে। এ প্রকল্পের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কৃষকরা এ নতুন পদ্ধতির সঙ্গে ধীরে ধীরে পরিচিত হচ্ছে। এরইমধ্যে দেশের বেশ কিছু অঞ্চলে এ পদ্ধতিতে ঘাস চাষ শুরু হয়েছে। উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় পদ্ধতিটি কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হচ্ছে। চাষ পদ্ধতি হাইড্রোপনিক পদ্ধতি হলো এমন এক আধুনিক পদ্ধতি যার মাধ্যমে নিয়মিত পানির সঙ্গে খনিজ মিশ্রণ স্প্রের মাধ্যমে কৃষিজ পণ্য উৎপাদন করা যায়। এই পদ্ধতিতে মাটির কোনোরূপ সংস্পর্শ ছাড়াই ঘাস উৎপাদন সম্ভব। প্রথমে ভুট্টার বীজকে ১২ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর পানি ঝরিয়ে ভেজা চটের বস্তা অথবা কালো সুতি কাপড়ের ভেতরে করে ২৪ ঘণ্টা অন্ধকার স্থানে রাখতে হয়। শেষে এক পাশ ছিদ্রযুক্ত ট্রের ভেতরে পাতলা করে ওই বীজ বিছিয়ে কালো কাপড় দিয়ে দুই দিন ঢেকে রাখতে হবে। এই দুই দিন খেয়াল রাখতে হয়, বাইরের আলো-বাতাস যেন না লাগে। কাপড়টি সারাক্ষণ ভেজা রাখতে হয়। তৃতীয় দিন কাপড় সরিয়ে আধঘণ্টা পরপর পানি ছিটাতে হবে। তারপর টিনশেডের একটি ঘরে বাঁশ বা কাঠের তাক বানিয়ে ট্রেগুলো সাজিয়ে রাখতে হয়। এক কেজি বীজ থেকে ৯ দিন পরে ৭ থেকে ৮ কেজি ঘাস পাওয়া যায়। পাঁচ বিঘা জমিতে যে পরিমাণ ঘাস উৎপাদিত হয়, মাত্র ৩০০ বর্গফুটের একটি টিনশেডের ঘরে সেই পরিমাণ হাইড্রোফনিক খাদ্য উৎপাদন করা সম্ভব। হাইড্রোফনিক ফডার খাওয়ানোর উপকারিতা গবেষণায় দেখা গেছে, গাভীকে আঁশ জাতীয় খাদ্যের ৪০-৫০% হাইড্রোফনিক খাদ্য খাওয়ালে ভাল ফল পাওয়া যায়। প্রায় ১০-১৫% দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। এছাড়া এ ফডার খাওয়ার মাধ্যমে গাভীর ডিম্বাণু নিষিক্তকরণ হার বৃদ্ধি পায়। এটি গাভীর আঁশ জাতীয় খাদ্যের পাশাপাশি উদ্ভিজ আমিষ ও নানাবিধ প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ লবণের উৎস হিসাবে কাজ করে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, হাইড্রোফনিক ফডার গাভীকে খাওয়ালে ৩ লিটার পর্যন্ত দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি পেতে পারে পাশাপাশি দুধের ফ্যাট ও এসএনএফ (সলিড নট ফ্যাট) পর্যাক্রমে ০.৩%-০.৫% বৃদ্ধি পায়। / এম / এআর          

উপকূলীয় অঞ্চলে দিনবদলের হাতিয়ার কাঁকড়া চাষ

দেশে চাহিদা না থাকলেও বিশ্বের অনেক দেশে কাঁকরা সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার হিসেবে সমাদৃত।কাঁকড়া রফতানি করে একদিকে দেশ পাচ্ছে মোটা অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা, অপরদিকে উপকূলীয় অঞ্চলের দরিদ্র মানুষের বিকল্প আয়ের উৎস হচ্ছে এই কাঁকড়া। দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় সেখানকার কৃষি উৎপাদন এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এর ফলে স্থানীয়দের বিকল্প আয়ের উৎস খুঁজতে হচ্ছে। আয়ের বিকল্প উৎস হিসেবে তাই ক্রমেই বাড়ছে কাঁকড়ার চাষ। এতে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ একদিকে যেমন অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হচ্ছেন অন্যদিকে তেমনি বেকারত্বের হারও কমছে উল্লেখযোগ্য হারে। ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের তথ্য মতে, বতর্মানে দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকেই কাঁকড়া রফতানির মাধ্যমে বছরে ৬০ থেকে ৮০ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা আসছে। সারা দেশ থেকে এ রফতানি আয়ের পরিমান বছরে প্রায় ১৭০ কোটি টাকা।

ব্ল্যাক বেঙ্গল বদলে দিল প্রতিবন্ধী শাকুলের জীবন

মোহাম্মদ শাকুল ইসলামের দুই হাতই নেই। বাবা-মায়ের ছয় সন্তানের মধ্যে শাকুল তৃতীয়। দারিদ্রতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেই তার বেড়ে ওঠা। অভাব যেন পিছু ছাড়ত না তাদের। পরিবারজুড়ে তাকে নিয়ে ছিল শুধুই গঞ্জনা। অভাবের সংসারে শান্তি ছিল অধরা। ২০০২ সালে বিদ্যুৎস্পষ্ট হয়ে তার দুই হাতের শক্তি হারিয়ে যায়। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হাত দুটি দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। তাই কোনো কাজ বা ব্যবসা করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। মূলত: এরপর থেকেই অভাবের সংসারে শাকুল যেন বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। এভাবে চলে যায় একটি বছর। পরে বাবার সঙ্গে ৩ হাজার টাকা দিয়ে ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের দুটি ছাগী কেনেন। সেই থেকে তার ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালন শুরু। কেনা ছাগী দুটি নিয়মিত বাচ্চা দেওয়ায় এক বছরের মাথায় তার ছাগলের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬টিতে। এখন তার ২৫টি ছাগল। এখন শুধু শাকুল নয়, তার পুরো পরিবারের ভরণ পোষণের খরচ জোগার হয় এই ছাগল থেকেই। শাকুলের জীবনে অমানিশার অন্ধকার কেটে গেছে। কারণে-অকারণে আর গঞ্জনা সহ্য করতে হয় না তাকে। ছনের বেড়ার পরিবর্তে তার এখন কংক্রিটের ঘর। কেটে গেছে অভাব অনটন আর ভাত-কাপড়ের অনিশ্চয়তা। তার সন্তান এখন স্কুলে যায়। মেহেরপুর সদর উপজেলার গোপালপুর গ্রামে বিশ্বখ্যাত ‘ব্ল্যাক বেঙ্গল’ জাতের ছাগল পালন করেন তিনি। তার দেখাদেখি গ্রামের অন্যরাও ছোট ছোট খামার তৈরি করে পালন করছেন এই জাতের ছাগল। তার মতো অনেকেই এখন স্বাবলম্বী। শাকুল ২০১২ সালে সাহেদা নামে একজনকে বিয়ে করেন। তার সংসারে সাদিয়া নামে চার বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান আছে। শাকুলের জন্ম গোপালপুর গ্রামেই। এ গ্রামে ঢুকতেই মাঠে মাঠে দেখা মিলবে অসংখ্য ছাগল। নারী-পুরুষ ও শিশুরা ছাগল চরাচ্ছে। মাঠেই কথা হয় শাকুলের সঙ্গে। তার সংগ্রামী জীবন নিয়ে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তিনি মাঠে বসেই শোনালেন তার দিন বদলের গল্প। শাকুল বলেন, আমি যখন বিদ্যুৎস্পষ্ট হই, তখন আমাদের সংসারের অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। এখনও খুব ভালো সেটাও বলব না। তবে এখন অনেক সুখে আছি। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো আমি কোনো ভিক্ষাবৃত্তি করছি না। আমি নিজে প্রতিবন্ধী হলেও, আমি ভিক্ষুক না। আমি একজন কর্মক্ষম ব্যক্তি। তিনি বলেন, আমি এক সময় খুব হতাশায় ভুগতাম। পরিবারের অন্য সদস্যরা আমাকে খুব ভালো চোখে দেখত না। কারণ আমি কাজ করতে পারিনা। আমার দুই হাত নেই। নিজে খুব হতাশার মধ্যে থাকতাম। কিন্তু এই হতাশা থেকে আমাকে আলোর পথ দেখায় ছাগল পালন। যেভাবে ছাগল পালন শুরু : শাকুল জানান, ২০০২ সালে যখন বিদ্যুৎস্পষ্ট হয়ে আমি দু’হাত হারাই, তখন চোখের সামনে অন্ধকার দেখতাম। পরে আমার বাবার সহযোগিতায় প্রথমে দুইটি ছাগী ব্ল্যাক বেঙ্গল কিনি। এক বছরের মধ্যেই দুইটি ছাগল থেকে ৬টি ছাগল হয়। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে আমার ২৫টি ছাগল। গত ঈদুল আজহাতে ৬টি ছাগল ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। এখন প্রতি বছরেরই বাড়ছে ছাগলের সংখ্যা। শাকুলের স্ত্রী সাহেদা জানান, আমার স্বামী ছাগল পালন করে সংসারের কষ্ট দূর করেছে। আমরা এখন অনেক সুখে আছি। আমাদের মেয়ে স্কুলে যাচ্ছে। আমার স্বামী প্রতিবন্ধী বলে সমাজে আমরা অবহেলিত নই, আমরা কারো কাছে হাত পাতি না। আমার স্বামী এখন একজন সাবলম্বী ব্যক্তি। সে নিজেই আমার সংসার চালায়। কারো কাছে হাত পাততে হয় না তাকে। শাকুল বলেন, আমি এক সময় মাসে মাত্র ৬শ টাকা হারে প্রতিবন্ধী ভাতা পেতাম। যেটা দিয়ে আমার সংসার বা নিজের খরচ চলত না। এখনও ভাতা পাই তবে, আমার এখন ভাতার প্রয়োজন হয়না। তার মতে, অল্প পুঁজিতে বেশি লাভ হয় এ ধরনের ছাগল পালনে। তাই তিনি সকল বেকার এবং প্রতিবন্ধীদের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালনের পরামর্শ দেন। শাকুলের দেখাদেখি ছাগল পালন করে সফলতা পান গোপালপুর গ্রামের অপর বাসিন্দা আয়েশা খাতুন। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি ইটিভি অনলাইনকে বলেন, আমার সংসারে অভাব থাকত। শাকুলের দেখাদেখি আমি মাসে অল্প করে টাকা জমিয়ে ব্ল্যাক বেঙ্গল কিনে ছাগল পালন শুরু করি। এখন আমার সংসারে আর অভাব নেই। তবে কোনো এনজিও বা সরকারি সহযোগিতা পেলে আরও কিছু ছাগল পালন করতে পারতাম। বর্তমানে আয়েশার আছে ৫টি ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল। আর/ডব্লিউএন  

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি