ঢাকা, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২২:১৫:৫০

কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে কাজ করছে বেজা: পবন চৌধুরী

কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে কাজ করছে বেজা: পবন চৌধুরী

২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প হাতে নিয়েছে বর্তমান সরকার। ফাস্ট ট্র্যাকের আওতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে দেশের বড় বড় প্রকল্প।
‘সমৃদ্ধির পথযাত্রায়’ পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রীর আহবান

গত ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগীদের ২ দিনের সম্মেলন। এই সম্মেলনে মূলত দেশের উন্নয়ন, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, স্যানিটেশন প্রভৃতি খাতে আন্তর্জাতিক দাতা, সহযোগী সংস্থাগুলো কর্তৃক প্রদত্ত ঋণ, দান-অনুদান প্রদানকারীদের নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকদের বৈঠক হয়। একে সংক্ষেপে বিডিএফ বৈঠক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এই বৈঠকে সরকারের তথা দেশের পরবর্তী উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে আর্থিক সহায়তা, ঋণ, অনুদানের প্রয়োজনীয়তা; চাহিদা; বিগত সময়ে প্রদত্ত ঋণ, দান-অনুদানে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সদ্যসমাপ্ত বিডিএফ বৈঠকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর উদ্দেশ্যে ‘সমৃদ্ধির পথযাত্রায়’ বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর জন্য উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পরিবেশের পরিবর্তন ও জলবায়ু-সংক্রান্ত হুমকি মোকাবেলা করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করা। এ জন্য উন্নত দেশগুলোকে আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আমরা আন্তর্জাতিক সহযোগী দেশ ও সংস্থাগুলোসহ ব্যক্তি খাতের অংশীদারিত্বকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি।’ তার এই বক্তব্য ও আহবানের সূত্র ধরে বলা প্রাসঙ্গিক যে, তথ্যপ্রযুক্তি, জ্ঞান-বিজ্ঞানের এই যুগে কোনো দেশ এখন একক বা একা নয়, তাকে চলতে হয় অন্য দেশ, বন্ধু, ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলো ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোকে সঙ্গে নিয়ে। আর সে কারণে প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বান যৌক্তিক, প্রাসঙ্গিক এবং সময়োপযোগী। বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ফোরামের (বিডিএফ) বৈঠক একটি উচ্চ পর্যায়ের ইভেন্ট যেখানে সরকার এবং তার উন্নয়ন অংশীদারদের নিয়ে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার জন্য আরো অংশীদারিত্ব আবিষ্কার করতে কাজ করে। এখানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এজেন্ডাগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অংশীদারিত্ব বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা করতে বিভিন্ন গবেষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সরকারি নীতিনির্ধারক এবং সহযোগী উন্নয়ন সংস্থাগুলোর নেতারা সমবেত হন। এবারের বিডিএফ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জানান, প্রথমবারের মতো ২০১৮ সালের মার্চ মাসে ইউএনসিডিপির ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভায় বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের যোগ্যতা লাভ করবে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সমকক্ষ হবে। তবে এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ বর্তমানে যেসব সুবিধা ভোগ করে, গ্র্যাজুয়েশনের পর তা বন্ধ হয়ে যাবে। অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং কার্যক্ষেত্রে প্রস্তুতির মাধ্যমে তা পুষিয়ে নেয়া সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে অমিত সম্ভাবনার দেশ আখ্যায়িত করে বলেন, বিশ্বের বুকে একটি গতিশীল অর্থনীতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার প্রত্যয় ও উপকরণ আমাদের রয়েছে। বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের এ বৈঠক দারিদ্র্যমুক্ত, ক্ষুধামুক্ত সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য যৌথ কর্মপন্থা নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দেশকে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন কর্মপরিকল্পনা। তিনি আরো বলেন, উৎপাদনশীলতাকে জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি করে বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতাগুলো আংশিকভাবে পুষিয়ে নেয়া যেতে পারে। শিক্ষা ও দক্ষতার সঠিক ব্যবহারের ফলে বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নসহ রেমিটেন্স বৃদ্ধি পাবে এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করবে। ইতিমধ্যে ‘স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনে বাংলাদেশ অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। সারা দেশে ১৮ হাজার ৫০০ কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে। জনগণের কাছে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি মাধ্যম হিসেবে এ উদ্যোগ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার অন্যতম দুটি প্রধান কারণ হচ্ছে- দারিদ্র্য এবং জেন্ডার-বৈষম্য। আমাদের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার কেন্দ্রবিন্দুতে নারীর ক্ষমতায়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশ জেন্ডার বাজেট প্রণয়নে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে নেতৃস্থানীয় দেশ। শহরে টেকসই পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে বড় বাসের সংখ্যা বৃদ্ধিসহ র‌্যাপিড মাস ট্রানজিট, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং রেলভিত্তিক মাস ট্রানজিট সিস্টেম চালু করা হয়েছে। প্রাইভেট সেক্টর এবং এনজিওগুলোকেও হাউসিং এবং অন্যান্য সার্ভিস ডেলিভারি যেমন স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা ইত্যাদির ক্ষেত্রে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের সঠিক বাস্তবায়ন দরকার। তবে ইতোমধ্যে এ জন্য প্রয়োজন অধিকতর বৈদেশিক বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রমও সরকার বাস্তবায়ন করছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে, কৃষিতে জলবায়ু ও দুর্যোগ-সংক্রান্ত ঝুঁকি প্রতিরোধ এবং হ্রাস করার জন্য টেকসই ও উৎপাদনমুখী কৃষি পদ্ধতির ওপর গুরুত্বারোপ করার কথা। গবাদিপশু উৎপাদনের পদ্ধতি ও পরিবর্তিত গ্রেইজিং পদ্ধতি প্রবর্তন করার উদ্যোগ গ্রহণ করার কথা। একই সাথে আমরা জলবায়ু সহনীয় খাদ্য উৎপাদন পদ্ধতি, লবণাক্ত পানি এবং বন্যা সহনীয় শস্যাদি উৎপাদনের চেষ্টার কথা। প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন সহযোগীদের জানিয়েছেন, গত এক দশকে আমাদের গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬.২৬ শতাংশ। গত অর্থবছরে এ হার ৭.২৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। একই সময়ে আমাদের রফতানি আয় ও বিদেশ থেকে প্রেরিত রেমিট্যান্সের পরিমাণ তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় নয় গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। ১৯৯১ সালে যেখানে দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ, এখন সেই হার ২২ দশমিক ৪ শতাংশে নামিয়ে এনেছি। অতি দারিদ্র্যের হার ৭ দশমিক ৯ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দারিদ্র্র্যের হার ১৪ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করে নিরন্তর কাজ চলছে। জিডিপির ভিত্তিতে বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের ৪৪তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ আর ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে এর অবস্থান ৩২তমবলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০৩০ ও ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ জিডিপি ও ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে বিশ্বের যথাক্রমে ২৮ ও ২৩তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে স্থান করে নিতে সক্ষম হবে। চলতি অর্থবছরে বৈদেশিক বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। রেমিটেন্স এসেছে ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিদ্যুৎ উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট। শতকরা ৮৩ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে ৭২ বছর হয়েছে। ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে উন্নীত করার লক্ষ্যে আমাদের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, রূপকল্প-২০২১ এবং জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-২০৩০ অর্জন করতে হবে। দেশকে সামনের দিকে এবং সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার। রূপকল্প-২০২১-এর লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর করা। এ জন্য ৭ম, ৮ম ও ৯ম- এ তিনটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য ২০৩০ বাস্তবায়ন করা এখন জরুরি। জাতিসংঘের ২০৩০ এজেন্ডা নির্ধারণ যখন প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল তখন ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়; যার ফলে বিশ্ব উন্নয়ন এজেন্ডা প্রণয়নে অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে আমাদের জাতীয় পরিকল্পনায় তার প্রতিফলন ঘটছে সাফল্যজনকভাবে। সদ্যসমাপ্ত এ সম্মেলনে দেশের উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্য ও কৌশল বিডিএফ নেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়। এ বিষয়ে তাদের কাছে তাদের পরামর্শ ও মতামত জানতে চাওয়া হয়। উন্নয়ন পরিকল্পনা ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে উন্নয়ন সহযোগী, সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী ও বেসরকারি খাতসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলেই আমরা বিশ্বাস করি। সূত্র: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইট   আর/টিকে

বৈশ্বিক আইনের শাসনের সূচকে বাংলাদেশ একধাপ উন্নতি

বৈশ্বিক আইনের শাসন সূচকে এক ধাপ উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের। সারাবিশ্বে নির্ধারিত ১১৩ টি দেশে আইনের শাসন র‌্যাংকিং পরিচালনা করা হয়। এতে ১০৩ থেকে ১০২ ধাপে এখন অবস্থান করছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে গত বুধবার প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট (ডব্লিউজেপি) এর প্রকাশিত ২০১৭ সালের বৈশ্বিক আইনের শাসন সূচক থেকে এ তথ্য জানা যায়। সেখানে দেখা যায়, বাংলাদেশ ২০১৭ সালে সাবির্ক আইনের শাসন সূচকে এক ধাপ এগিয়ে ১০২ হয়েছে। ২০১৬ সালে ছিল ১০৩। ডাব্লিউজেপি’র তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে যেখানে অধিকাংশ দেশ সূচকে পিছিয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ এক ধাপ এগিয়েছে। ওয়াশিংটন ভিত্তিক নিরপেক্ষ মাল্টিডিসিপ্লিনারি সংস্থা ডব্লিউজেপি সারাবিশ্বে আইনের শাসন নিয়ে কাজ করছে। এর সূচক আইনের শাসনের ওপর প্রকৃত তথ্যের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে নির্ভযোগ্য উৎস। সংস্থাটি ১১৩ টি দেশের আইনের শাসনের ওপর কাজ করে এই সূচক তৈরি করেছে। এই সূচক তৈরিতে সারাবিশ্বে ১১৩ টি দেশের ১ লাখ ১০ হাজার পরিবার এবং ৩ হাজার বেশি বিশেষজ্ঞের ওপর জরিপ চালানো হয়। জরিপের সময়ে প্রতিটি দেশে সরকারি ক্ষমতা, দুনীর্তি মুক্ত,উন্মুক্ত সরকার, মৌলিক অধিকার, আদেশ ও নিরাপত্তা, নিয়মিত বাহিনী, দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থাসহ আটটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। ২০১৭ সালের সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ সমূহের মধ্যে বাংলাদেশ চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ সমূহের মধ্যে নেপাল শীর্ষে অবস্থান করছে। এরপরই শ্রীলংকা ও ভারতের অবস্থান। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে পিছনে ফেলে বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে। ২০১৭ সালের সূচকে অবস্থানকারি তিনটি শীর্ষ দেশ হলো যথাক্রমে ডেনমার্ক, নরোওয়ে ও ফিনল্যান্ড। সূচকের তালিকার সর্বনিম্ন রয়েছে আফগানিস্তান,কম্বোডিয়া এবং ভেনেজুয়েলা। সূত্র: বাসস এসএইচএস/টিকে

সবুজ বাণিজ্যে বাংলাদেশের গ্রামীণ নারীর অবদান বেড়েই চলেছে

সত্তরের দশকের শেষ দিকেও আমাদের তৈরি পোশাক খাত সেভাবে যাত্রাই শুরু করতে পারেনি। প্রয়াত নূরুল কাদের খানের হাত ধরে তার চলা শুরু। ‘ব্যাক টু ব্যাক’ এলসির উদ্ভাবন করে সরকারি একটি ব্যাংকই এখাতের এগিয়ে চলার পথকে মসৃণ করে দেয়। পরে অন্যান্য ব্যাংকও এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়। একদল তরুণ উদ্যোক্তা এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত হলে তার অগ্রযাত্রায় গতি আসে। ধীরে ধীরে শুধু ‘টেইলারিং’ হস্তশিল্প থেকে আজ বাংলাদেশের তৈরি পোশাকখাত পৃথিবীতে দ্বিতীয় বৃহৎ রফতানি খাতে রূপান্তরিত হতে সক্ষম হয়েছে। এই বিস্ময়কর রূপান্তরে সরকার, ব্যাংকিং খাত, উদ্যোক্তা শ্রেণির পাশাপাশি আমাদের নারী শ্রমিকদের অনন্য ভূমিকার কথা না বললেই নয়। গ্রাম থেকে উঠে আসা ৩৫ লাখ নারী শ্রমিকের শ্রমে-ঘামে এ শিল্পের প্রসার ঘটে চলেছে। দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের চেষ্টায় এবং সরকারের নানামুখী প্রণোদনার ফলে এই শিল্প এগিয়ে যাচ্ছে। ব্যাপক স্ব-নিয়োজন ও আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের কারণে এই শিল্পায়ন বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্যে ‘জীবন সঞ্চারি’ (লাইফ-লাইন) হিসেবে স্বীকৃত। তবে বিশ্ব জুড়েই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানুষের পরিবেশ সচেতনতা বাড়ছে। বাড়ছে সামাজিক ঝুঁকি বিষয়ে সচেতনতাও। তাই সুষ্ঠু পরিবেশে মানবিক অধিকারসম্মত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার পক্ষে ক্রেতাদের দাবিও জোরালো হচ্ছে। বিশেষ করে হোম টেক্সটাইল ও বুটিক পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে মানবিক বিষয়গুলো এখন বেশি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। বড় বড় কারখানায় পরিবেশ ও সামাজিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মান উন্নত করার ব্যাপক আয়োজনে বাংলাদেশ সম্পৃক্ত রয়েছে। বিদেশি ক্রেতাদের আশ্বস্ত করার জন্যে তাদের সংগঠনগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বড় বড় উদ্যোক্তাদের পরিবেশ ও সামাজিক ঝুঁকি মোকাবিলার প্রয়োজনে নানামুখী সংস্কার কর্মে যুক্ত রাখতে আমাদের সরকার ও রফতানিকারকদের সংগঠনগুলো নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে এসব বড় বড় রফতানিকারকদের পাশাপাশি আমাদের ক্ষুদে ও মাঝারি অনেক উদ্যোক্তাও ন্যায্য বাণিজ্য প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন। নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রকে প্রসারিত করার জন্য বেশ কিছু অ-সরকারি বা এনজিও বিদেশি ভোক্তাদের সবুজ পণ্য সরবরাহের কাজে যুক্ত রয়েছে। এরা নারী শ্রমিকদের গ্রাম থেকে নগরে স্থানান্তর না করে গ্রামেই তাদের স্ব-নিয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে সমাজের ভেতরে কোনো চাপ সৃষ্টি হচ্ছে না। পাশাপাশি পরিবেশসম্মত কাঁচামাল ও রিসাইক্লিং উপাদান দিয়ে মানবিক স্পর্শে এরা তৈরি করছেন এমন সব আকর্ষণীয় বুটিক পণ্য যার কদর বিশ্বের বড় বড় আউটলেটকে বাংলাদেশের তৈরি এসব পণ্যের প্রতি আকৃষ্ট করছে। সবুজ পণ্যের বাণিজ্য প্রসারে নিবেদিত এমনি একটি আশাজাগানিয়া এনজিওর কর্মকাণ্ড দেখতে ক’দিন আগে তাদের সদরদপ্তরে গিয়েছিলাম। মিরপুর মাজারের কাছেই ‘তরঙ্গ’ নামের এই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটি মূলত অসহায় নারীদের নিয়ে কাজ করে। গৃহস্থালি পর্যায়ে সহিংসতার শিকার নিম্নআয়ের অনেক নারীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের জন্য তারা কাজ করেন। ‘তরঙ্গ’ নামের এই সামাজিক উদ্যোগটি এরই মধ্যে সুবিধেবঞ্চিত নারীদের দক্ষতা ও সক্ষমতা প্রদান করে বিশ্ববাণিজ্যের সাপ্লাই চেইনে নিজেকে বেশ ভালোভাবেই যুক্ত করে নিতে সক্ষম হয়েছে। নিজেদের সমাজে নিজেদের বাড়িতে বসেই এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নারীরা কাজ করেন। সমাজ থেকে তুলে এনে শহরাঞ্চলে ছিন্নমূল শ্রমিক হিসেবে স্থানান্তর না করে একেকজন নারীকে স্ব-উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার এক বিরল উদ্যোগের সূচনা করেছে ‘তরঙ্গ’। ইতোমধ্যে ১৮ হাজারেরও বেশি নারী এমন পরিবেশসম্মত কাজে যুক্ত হয়েছেন। এরা বাংলাদেশের সবুজ পণ্য তৈরি করে ‘তরঙ্গের’ মাধ্যমে বিদেশে রফতানি করছেন। তাদের স্বামী বা পুরুষ আত্মীয়-স্বজনও তাদের কাজের বিরোধিতা না করে বরং সহযোগিতা করছেন। নারীর ক্ষমতায়নের সুফল পরিবারও পাচ্ছে। সামাজিক অশান্তির বদলে সৌহার্দ বাড়ছে। অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে পুরুষ সদস্যদের এমন মনের বদল ঘটিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ন্যায্য বাণিজ্যের প্রতিনিধি হিসেবে ‘তরঙ্গ’ সারা বিশ্বের বড় বড় আউটলেটে এখন তাদের পরিবেশসম্মত উপায়ে তৈরি পণ্য বিক্রি করছে। প্রত্যেক নারী যে পরিমাণ বেতন বা পণ্যের মূল্য পান তার ৬ শতাংশ প্রভিডেন্ট ফান্ড হিসেবে তাদের হিসাবে যুক্ত হয়। তরঙ্গ তাতে আরো ৬ শতাংশ যোগ করে। পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ। হিসাবনিকাশ ডিজিটাল। কোথাও অস্বচ্ছতা নেই। সে কারণে বিদেশি ক্রেতারাও খুবই সন্তুষ্ট। দিন দিনই তাই এসব পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। এই মেয়েরা ব্যবসায় পরিকল্পনা বিষয়ে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ পান। কোন পৎপাদন কিভাবে করতে হবে তাও শিখে নেন তরঙ্গের কর্মীদের কাছ থেকে। কচুরিপানা ও পাটের মতো প্রাকৃতিক পণ্যের আঁশ থেকে সূতো, বাঁশ বা গাছের গুঁড়োর অংশবিশেষ থেকে কারুপণ্য, হরিতকি বা নীল গাছের পাতা থেকে প্রাকৃতিক রঙ তৈরি করে আকর্ষণীয় ব্যাগ বা অন্যান্য কারুপণ্য তৈরি করে তারা ঢাকায় পাঠান। ঢাকায় ‘তরঙ্গের’ সদর দফতরের আশ-পাশে কারখানায় এসব পণ্যের মান যাচাই করা হয়। কোনো ত্রুটি থাকলে তা সারানোর ব্যবস্থা করা হয়। ঢাকাতে অনেক নারীকে হাতেকলমে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। সারা দেশে সাত/আটটি কেন্দ্রেও অনুরূপ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। তাদের বাচ্চাদের জন্যে থাকা, খাওয়া ও পড়াশোনার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রশিক্ষণ ছাড়াও তাদের তৈরি পণ্যের নয়াবাজার সন্ধানেও তরঙ্গ কাজ করে। প্রোডাক্ট ডাইভারসিফিকেশন ও অগ্রিম তহবিল শপে দিয়ে এসব নারী উদ্যোক্তাকে সহযোগিতা করছে ‘তরঙ্গ’। বাণিজ্যের সূত্র ধরে অর্থনৈতিক সক্ষমতার মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নে এক সুপরিকল্পিত উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের তৈরি পণ্য এখন লন্ডনের হ্যারডস, ভিকটোরিয়া মিউজিয়াম, বডি অ্যান্ড শপে বিক্রি হচ্ছে। সারা বিশ্বেই তাদের দাপট। সুযোগ পেলেই বিদেশে ‘বাণিজ্য মেলা’তেও তারা অংশগ্রহণ করছেন। এসব জায়গায় শুধু আমাদের দেশের পণ্যই বিক্রি হচ্ছে না। একটুকরো বাংলাদেশও প্রদর্শিত হচ্ছে। আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, নন্দিত হস্তশিল্পের প্রদর্শনীও ঘটছে। আর প্রদর্শিত হচ্ছে প্রকৃতি সংরক্ষণের এক অসাধারণ সবুজায়নের গল্প। বর্তমানে বছরে প্রায় আট কোটি টাকার মতো রফতানি করছে তরঙ্গ। যদিও অংকের বিচারে এটা খুব বড় নয়, তবে সৃজনশীলতা ও পরিবেশ সুরক্ষার বিচারে এই অভিনব উদ্যোগ চোখে পড়ার মতো। এমন শত শত ‘তরঙ্গ’ হয়তো দেশের আনাচে-কানাচে তরঙ্গায়িত করে চলেছে গ্রাম-বাংলাকে। সবার খবর আমরা রাখি না। সবগুলো তরঙ্গকে সমন্বিত করে একত্রে মেলাতে পারলে সবুজ বাংলাদেশের এক বিরাট ঢেউ নিশ্চয় বিশ্ববাণিজ্যের তীরে তোলা যাবে। এজন্যে সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে নানামুখী প্রণোদনা প্যাকেজ নিয়ে। আমার জানা মতে, ইথিওপিয়ার ক্ষুদে ও মাঝারি এমন অনেক নারী উদ্যোক্তা ফরাসি ও অন্যান্য পাশ্চাত্য দেশীয় ধনী নারীদের ব্যাগ, জুতো ও তৈরি পোশাক সরবরাহ করেন। উঁচু দামের এসব পণ্য প্রাকৃতিক কাঁচামালে প্রধানত হাতে তৈরি হয় বলে ‘বুটিক রফতানি’ পণ্য হিসেবে খুবই কদর পায়। আমাদেরও ক্ষুদে ও মাঝারি উদ্যাক্তাদের এমন পণ্য তৈরিতে উত্সাহ দিতে হবে। আমরা সাধারণত বড় বড় রপ্তানিকারকদের (প্রধানত গার্মেন্টস রপ্তানিকারকদের) ইডিএফসহ নানা প্রণোদনা দিয়ে থাকি। এসব প্রণোদনা ক্ষুদে উদ্যোক্তাদেরও দিলে রফতানি আয়ে ব্যাপক উন্নতি হবে। বর্তমানে ১০ লাখ ডলারের নিচে রফতানি করে প্রায় চার হাজার রপ্তানিকারক। এদের যদি উপযুক্ত বাজার সংযুক্তি, ইডিএফ ধরনের সস্তা ঋণ ও নগদ প্রণোদনা দিতে পারি তাহলে রফতানি আয়ই শুধু বাড়বে তাই নয়, দারিদ্র্য বিমোচনও ত্বরান্বিত হবে। আর তাদের উৎপাদন প্রক্রিয়া যদি সবুজ করা যায় তাহলে তারা আমাদের টেকসই উন্নয়নে বড় অবদান রাখবে। আমার বিশ্বাস জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের বাণিজ্যকে সমাজ ও প্রকৃতিনির্ভর করে গড়ে তোলার এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রয়াসই একদিন বড় আকার ধারণ করবে। তখন বিশ্বকে আমরা বলতে পারবো যে জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হয়েও বাংলাদেশ কিভাবে ঐ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সবুজ বাণিজ্যকে প্রসারিত করে চলেছে। সম্প্রতি আর্জেন্টিনায় বাণিজ্য সহায়তায় বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার উদ্যোগে নয়া চুক্তি হয়েছে। এর পূর্ণ সুযোগ আমাদের নিতে হলে ‘তরঙ্গে’র মতো ছোটখাটো সামাজিক ও ব্যক্তি উদ্যোগকে নীতি ও আর্থিক সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে। টেকসই উন্নয়নে অঙ্গীকারাবদ্ধ আমাদের এসব সৃজনশীল উদ্যোগই বাংলাদেশকে মাথা উঁচু করে এগোতে সাহায্য করবে। ‘ইনোভেশন’ তথা ‘উদ্ভাবন ও উন্নয়ন’ (আরএন্ডডি) খাতে মনোযোগ দিয়ে এ ধরনের উদ্যোক্তাদের জন্যে বিশেষ ‘সিএসআর’ বা সহায়ক তহবিল গঠন করে একটু সমর্থন দিলেই তারা এগিয়ে যাবে সামনের দিকে। আমরা যদি মাত্র চার শতাংশ সুদে মশলা উৎপাদনকারীকে ঋণ দিতে পারি তাহলে এসব অগ্রসর ক্ষুদে উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ কেন দিতে পারবো না? অর্থমন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশ ব্যাংক নিশ্চয় এমন ঋণের সুদে ভর্তুকি চালু করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস রাখি। প্রয়োজন উপযুক্ত নীতি উদ্যোগের। যেমন ‘তরঙ্গে’র প্রধান নির্বাহী কোহিনূর আমাকে বলছিলেন যে তিনি যদি কিছু সহায়ক তহবিল পেতেন তাহলে চরের মেয়েদের জন্যে পাট থেকে সূতো তৈরির কারখানা স্থাপন করতেন। সোলার প্যানেলসমৃদ্ধ এই কারখানার মাধ্যমে শত শত নারীর বঞ্চনা তিনি ঘোচাতে পারতেন। তাঁর সবুজ বাণিজ্যেরও প্রসার ঘটতো। বাংলাদেশ ব্যাংক তৈরি পোশাক কারখানার সবুজ রূপান্তরের জন্য দু শ মিলিয়ন ডলারের স্বল্প সুদের তহবিল গঠন করেছে। এর একটা অংশ ক্ষুদে ও মাঝারি সবুজ উদ্যোক্তাকে দেয়া যায় কিনা সে বিষয়ে ভাবা যেতে পারে। নিশ্চয় এরকম আরো হাজারো উদ্যোক্তা রয়েছেন আমাদের সমাজে। তাদের দিকে একটু হাত বাড়িয়ে দিলেই তারাও ২০২১ সালের মধ্যে ৬০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের জাতীয় রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারতেন। ইপিবি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদফতর, বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআর একযোগে কাজ করে সম্ভাবনাময় এসব পরিবেশসম্মত রপ্তানিকারকদের পথ চলাকে নিশ্চয় সহজতর করতে পারে। আর তা করা গেলে তারাই আগামীর বাংলাদেশের বড় চালক হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে সক্ষম হবেন। সবুজ বাণিজ্যের উৎস হিসেবে বাংলাদেশের নয়া ব্র্যান্ডিং-এর অপেক্ষায় রইলাম। লেখক: বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক। সূত্র: আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইট   আর/টিকে

পাট থেকে পলিথিনের বিকল্প ব্যাগ তৈরি হচ্ছে: পাটমন্ত্রী

পাট থেকে পলিথিনের বিকল্প ব্যাগ তৈরি হচ্ছে বলে জানান বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী মুহা. ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক। বৃহস্পতিবার  সংসদে সরকারি দলের সদস্য মো. আবদুল্লাহ’র এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশনের বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা ড. মোবারক আহমদ খানের তত্ত্বাবধানে পাইলট পর্যায়ে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি বাংলাদেশে জলাবদ্ধতা তৈরির একটি মূল কারণ হচ্ছে অনিয়ন্ত্রিতভাবে পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার। সস্তা ও অন্য কোন বিকল্প না থাকায় নানা সরকারি উদ্যোগ সত্ত্বেও পলিথিনের ব্যবহার এবং যত্রতত্র ফেলে দেওয়াতে এটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। পাটমন্ত্রী বলেন, এ সব ব্যবহৃত পলিথিন সোয়ারেজ পাইপ, ড্রেন, নদী, নালা ইত্যাদিতে পানি প্রবাহের বাধা সৃষ্টি করছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, পচনশীল ও পরিবেশবান্ধব পলিব্যাগ তৈরির উদ্দেশ্যে প্রথমে পাট থেকে সেলুলুজ আহরণ করা হচ্ছে। ওই সেলুলুজকে প্রক্রিয়াজাত করে অন্যান্য পরিবেশবান্ধব দ্রব্যাদির সাথে কম্পোজিট করে এ ব্যাগ তৈরি করা হয়। উৎপাদিত ব্যাগে ৭০ শতাংশের বেশি পাটের সেলুলুজ বিদ্যমান। তিনি বলেন, আবিষ্কৃত এ ব্যাগের ভারবহন ক্ষমতা পলিথিনের প্রায় দেড়গুণ এবং এটি পলিথিনের মতোই স্বচ্ছ হওয়ায় খাদ্য দ্রব্যাদি ও গার্মেন্টস শিল্পের প্যাকেজিং হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে খুবই উপযোগী। মন্ত্রী বলেন, এছাড়া দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহার করায় এ ব্যাগের দাম প্রচলিত পলিথিন ব্যাগের কাছাকাছিই থাকবে। পাট দ্বারা তৈরি এই পচনশীল পলিব্যাগ সমস্যা সমাধানে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারবে। তিনি বলেন, এ ধরনের প্যাকেজিংয়ের বিদেশেও চাহিদা রয়েছে। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় শিগগিরই বাণিজ্যিকভাবে এ ব্যাগে উৎপাদন করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।   এম/টিকে

‘আ. লীগ ফের নির্বাচিত হলে দারিদ্র্য থাকবে না’

আওয়ামী লীগকে আরেকবার নির্বাচিত করলে এ দেশে দারিদ্র্য ও দুঃখ-কষ্ট থাকবে না বলে দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সিলেটের সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে মঙ্গলবার জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, এ দেশে দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্য ২০৩০ সাল। এ জন্য শেখ হাসিনাকে আরেকবার নির্বাচিত করতে হবে। তাহলে এ দেশে দারিদ্র্য  থাকবে না, কোন দুঃখ কষ্ট থাকবে না। তিনি বলেন, আ. লীগের আট বছরে প্রায় নয় শতাংশ লোক দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেয়েছে। দেশের মানুষের জন্য বাজেট বড় করে এটি সম্ভব হয়েছে। আমরা যেভাবে বাজেটের আকার বৃদ্ধি করেছি পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে এ আকার বৃদ্ধি কমই পেয়েছে। মুহিত বলেন, এখন আমরা শহর এবং গ্রামের মধ্যে পার্থক্য দূর করার চেষ্টা করেছি। এখন গ্রামের মানুষেরা শহরের মতোই সুযোগ-সুবিধা পাবেন। আওয়ামী লীগের একটিই লক্ষ্যমাত্রা জনকল্যাণ। আশা করছি আগামীতেও আমরা এ সুযোগ পাবো।   আর / এআর

উন্নয়ন-অগ্রগতির অনবদ্য সাফল্য গাঁথা

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভেতর দিয়ে বাঙালি জাতি তার সম্মিলিত ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে অমিত সম্ভাবনার এই বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির সকল সম্ভাবনাকে পুনরুজ্জীবিত করে। নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তার নির্বাচনী ইশতেহারে একটি সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাতির সামনে ‘দিনবদলের সনদ’ তুলে ধরে। ২০২১ সালে স্বাধীনতার ‍সুবর্ণজয়ন্তীকে সামনে রেখে এই দিনবদলের সনদ তথা নির্বাচনী ইশতেহারে কেবল পাঁচ বছরের নয়, ২০২১ সালে আমরা কেমন বাংলাদেশ দেখতে চাই তার একটি রূপকল্প তুলে ধরা হয়। দিন বদেলের সনদ, ‘রূপকল্প-২০২১”, এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল আধুনিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার কর্মসূচির প্রতি জনগণ অকুণ্ঠ সমর্থন প্রদান করে। ফলশ্রুতিতে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করেন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মাহজোট সরকার বাংলাদশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের কাজ শুরু করে। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল আধুনিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে অতীতের পুঞ্জিভূত সমস্যা, চরম অব্যবস্থাপনা এবং বিশ্বমন্দার পটভূমিতে বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে যে সাফল্যের স্বাক্ষর সেখেছে তা দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান। অর্থনেতিতক ও সামাজিক খাতে সামষ্ঠিক অর্থনীতির প্রধান বিষয় যেমন মোট দেশজ আয়, প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি আয়, কর্মসংস্থান, প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) ‍বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি হ্রাস এবং সামাজিক খাতে দারিদ্র্য নিরসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী ও শিশু নিরাপত্তায় অগ্রগতি এবং খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে সরকারের সাফল্য অভূতপূর্ব। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংকটের জাল ছিন্ন করে উন্নয়নের আগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বের নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীকে সামানে রেখে অর্থনৈতিক ও সামাজকি উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দীর্ঘমেয়দি রূপকল্পভিত্তিক “বাংলাদশে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০১০-২০২১০” প্রণয়নের মাধ্যমে সরকার উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এ পরিকল্পনার অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে ২০২১ সালের মধ্যে মাথাপিছু আয় ২০০০ মার্কিন ডলারে উন্নীত করা, মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) শিল্পখাতের অবদান ৩৭ শাতংশে উন্নীত করা, বেকাত্ব ও অর্ধ-বেকারত্বের হার ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা, মাথাপিছু বিদ্যুতের ব্যবহার ৬০০ কিলো ওয়াট-ঘণ্টায় উন্নীত করা এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের জন্য তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারকে সর্বত্র শক্তিশালী করা। এ লক্ষ্যসমূহ অর্জনের প্রথম ধাপ হিসেবে ইতোমধ্যে ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ( ২০১১-১৫) বাস্তবায়িত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৫-২০১৬ অর্থবছর থেকে ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে এবং ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে পরিকল্পনাটি তার বাস্তবায়ন মেয়াদের অর্ধকালে উপনীত হয়েছে। দেশজ আয় ও প্রবৃদ্ধি অর্জনে বর্তমান সরকার অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়েছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে জিডিপি ছিলো ৭২ বিলিয়ন ডলারেরও কম এবং ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ১০২ বিলিয়ন ডলার, যা ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয় অর্থাৎ ২০০৫-০৬ ভিত্তি বছরের তুলনায় সাড়ে তিন গুণ। বর্তমান সরকারেরর দায়িত্ব গ্রহণকালে প্রবৃদ্ধির হার ছিলো ৫ দশমিক ১ শাতাংশ যা ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক ২৮ এ উন্নীত হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে এ ধরনের ধারাবাহিক উচ্চপ্রবৃদ্ধি একটি বিরল ঘটনা। ইতোপূর্বে মাথাপিছু জিডিপি দ্বিগুণ হতে ২০ বছর অপেক্ষা করতে হলেও বর্তমানে মাত্র ৭ বছরে তা ‍দ্বিগুণ করা সম্ভব হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান প্রাইস ওয়াটারহাউস কুপারস-এর ‘২০৫০ সালের বিশ্ব (World in 2050)’ শীর্ষক বিশ্লেষণী প্রতিবেদন অনুযায়ী আসন্ন বছরগুলিতে যে তিনটি দেশ সবচেয়ে দ্রুতগতির প্রবৃদ্ধি-ধারা প্রদর্শন করবে তার অন্যতম হলো বাংলাদেশ। এ প্রতিবেদনের ভাষ্যমতে ক্রয়ক্ষমাতা অনুযায়ী পরিমাপকৃত মোট দেশজ উৎপাদনের মানক্রমে ২০১৬ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৩১ তম; অর্থাৎ ২০১৬ সালে বাংলাদশে ছিল বিশ্বের ৩১ তম বৃহৎ অর্থনীতি। প্রবৃদ্ধির ঊর্ধ্বক্রমিক ধারায় ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ উঠে আসবে ২৮তম স্থানে এবং ২০৫০ সালের বাংলাদশে হবে বিশ্ব অর্থনীতির ২৩তম শীর্ষ কুশীলব। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটের আকার ছিল ৬১ হাজার ৫৮ কোটি টাকা, যা চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সাড়ে চার গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, উন্নয়ন খাতে অর্থায়ন, অনুন্নয়ন খাতের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও ঋণ গ্রহণে ভারসাম্য রক্ষার মাধ্যমে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাসহ উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়। বর্তমানস সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে উন্নয়ন বাজেটে সরকারি বিনিয়োগ বৃ্দ্ধি করেছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার ছিল মাত্র ২৪ হাজার ৫শত কোটি টাকা, যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরে পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ৩ শত কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। সরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, জ্বালানী, যোগাযোগ এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট ভৌত ও সামাজিক অবকাঠামো বিনির্মাণের বিষয়গুলো।   এম/টিকে

জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জননেত্রী শেখ হাসিনা

জনগণের উন্নয়নের অধিকার এবং জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরস্পর অবিচ্ছেদ্য বিষয়। ‘উন্নয়ন’ একটি মানবাধিকার অর্থাৎ মানুষের যতগুলো ‘সহজাত’ ও ‘অহস্তান্তরযোগ্য’ অধিকার রয়েছে উন্নয়নের অধিকার তার মধ্যে একটি। ১৯৮৬ সালের ৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে Declaration on the Right to Development (DRD) গৃহীত হয়, যার অনুচ্ছেদ ১ (১)-এ বলা হয়েছে- everyone is entitled to participate in, contribute to and enjoy economic, social, cultural and political development in which all human rights and fundamental freedoms can be fully reali“ed. বিশ্বনেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকার ওই ঘোষণা (DRD-১৯৮৬), United Nations Development Programme, 1965 (UNDP), United Nations Industrial Development Organi“ations, 1966 (UNIDO) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়নমূলক ঘোষণা ও সংস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের সর্বোচ্চ আইন সংবিধানের আলোকে কোন রকম বৈষম্য ছাড়াই ব্যক্তি এবং সমগ্র জনগণের দোরগোড়ায় অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নের অধিকার ভোগের বিষয়টি পৌঁছে দিচ্ছেন বিরামহীনভাবে। আওয়ামী সরকার ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে দেশ-জাতির সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। আর ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ পর্যন্ত সকলের ভাগ্যদেবী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার নির্বাচনী ইশতেহার পূরণসহ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা’ বাস্তবায়নসহ ডজন ডজন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করে ইতোমধ্যে বাস্তবায়নও করছে এবং ক্রমাগতভাবে কর্মপ্রক্রিয়া ও কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত Millennium Development Goal (MDG) (২০০০-২০১৫)-এ যেখানে ৮টি লক্ষ্য ধার্য ছিল সেগুলো পূরণ করেছে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য SDG ev Sustainable Development Goal (২০১৫-২০৩০ সাল) যাতে ১৭টি লক্ষ্য ধার্য ছিল যার অনেকগুলোতেই ইতোমধ্যে বাংলাদেশ উত্তীর্ণ হয়েছে। উল্লেখ্য, SDG-এর লক্ষ্যগুলো (১) দারিদ্র্য ও ক্ষুধা নির্মূল (২) সার্বজনীন শিক্ষা (৩) নারী-পুরুষ সমতা (৪) শিশুস্বাস্থ্য (৫) মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়ন (৬) এইচআইভি নির্মূল (৭) পরিবেশগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ এবং (৮) বিশ্বব্যাপী অংশীদারিত্ব, যেগুলোতে বাংলাদেশ উত্তীর্ণ হয়েছে। গণতন্ত্রের মানসকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সুদৃঢ় ও বিচক্ষণ রাষ্ট্র পরিচালনায় বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষকে বিজ্ঞানমনস্ক হিসেবে গড়ে তুলতে যশোরে টেকনোলজি পার্ক উদ্বোধন করেছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কের কাজও পুরোদমে এগিয়ে চলেছে। রূপপুরে পরমাণু বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপনের কাজও এগিয়ে চলছে। পরমাণু থেকে বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশে বিদ্যুত উৎপাদন হবে, দেশে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ হবে বিষয়টি দেশের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের। এছাড়া ২০১৭-এর ৪ জুন বাংলাদেশের তৈরি প্রথম ন্যানো স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়। বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু-১ মহাকাশে পাঠানো হয়েছে এ বছরেই। অন্তত বৈজ্ঞানিক এসব কার্যক্রম গ্রহণ করে দেশের জেলা-উপজেলা ও গ্রাম-গঞ্জের মানুষের যেমন বিজ্ঞানভিত্তিক চেতনা সৃষ্টি হচ্ছে, তেমনি কর্মসংস্থান বাড়ছে, বেকার সমস্যা হ্রাস পাচ্ছে, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ঘটছে, সর্বোপরি দেশের উন্নয়ন ঘটছে। আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে যে উন্নয়নের ধারা প্রবহমান রেখেছেন তাতে বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে ‘রেনেসাঁ’ ঘটিয়েছেন বলা চলে। বিএনপি ও তার দোসরদের আমলে, এমনকি এরশাদের আমলে রাস্তাঘাটে ভিক্ষুক আর ভিক্ষুক দেখা যেত। দুটো ভাতের জন্য রাস্তায়, ফুটপাথে, ওভারব্রিজে, গ্রামে-গঞ্জে হাহাকার করত বহু মানুষ, শীতে-গরমে অনেক মানুষ মারা যেত। দেশ স্বাধীনের পরে যাদের জন্ম হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত বেঁচে আছে তারা এর সাক্ষ্য সহজেই দিতে পারবে। ভারত-বাংলাদেশের ছিটমহল বিনিময় সুসম্পন্ন করেছেন বর্তমান সরকার। যার ফলে বাংলাদেশ-ভারতের দীর্ঘদিনের ছিমটহল সমস্যার সমাধান হয়েছে এবং দেশের সীমান্তে শান্তি এসেছে। পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে পাহাড়ে শান্তি ও নিরাপদ জীবন ফিরে পেয়েছে মানুষ। শান্তিই উন্নয়নের পূর্বশর্ত- যেটি প্রধানমন্ত্রী তার দূরদর্শী ও চৌকস নেতৃত্বের গুণাবলী দিয়ে বারবার প্রমাণ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ-ভারত-মিয়ানমারের মধ্যকার বহুদিনের সমুদ্র সীমানা নিয়ে দ্বন্দ¦ নিরসনকল্পে সমুদ্র আইন বিষয়ক আন্তর্জাতিক আদালত (ITLOS)-এ মামলা করে বাংলাদেশ বিজয়ী হয়েছে- ‘সমুদ্র বিজয়’ হয়েছে এবং আমাদের ব্লু-ইকোনমি এখন সমৃদ্ধির পথে রয়েছে, তা কারও অজানা বিষয় নয়। উন্নয়নের সকল সেক্টরে আমাদের প্রিয় নেত্রী প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল কার্যক্রম চলমান। দেশের নৌবাহিনীকে ‘বায়ার নেভি’ (ক্রেতা নৌবাহিনী) থেকে ‘বিল্ডার নেভি’তে (নির্মাতা নৌবাহিনী) পরিণত করার লক্ষ্যে সরকার জোর গতিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় বক্তব্যে ঘোষণা দিয়েছেন- ‘আমরা নিজেরাই পারব যুদ্ধজাহাজ তৈরি করতে। আবার নিজেরাই রফতানি করতে পারব।’ উল্লেখ না করলেই নয়, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের ষড়যন্ত্রকে চ্যালেঞ্জ করে প্রমাণ করেছেন তার সরকার সৎ ও দুর্নীতিমুক্ত। বিশ্বব্যাংক লজ্জা পেয়েছে আমাদের জননেত্রীর নির্ভীকতা ও সততার কাছে। বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশ হওয়া সত্ত্বেও বিশ্বব্যাংককে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাংলাদেশেরই জাতীয় অর্থায়নে দেশের সবচেয়ে বড় ‘পদ্মা সেতু’র নির্মাণ কাজ সুসম্পন্ন করতে যাচ্ছে। ‘বাপকা বেটি’ বাবার মতো যা বলেন তাই করে ছাড়েন আমাদের জননেত্রী। বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণে বলেছিলেন, দেশকে শত্রুমুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ। তাই তো আজ স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি আমরা। মিয়ানমারের জাতিগত নিধন ও তার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশে ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়া, তাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ হওয়া এবং সে অনুযায়ী রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে এগিয়ে যাওয়া এক বিশাল চ্যালেঞ্জ ছিল বর্তমান আওয়ামী সরকারের জন্য। অসাধারণ মেধা, প্রজ্ঞা ও ক্ষমতা দিয়ে বিশ্ব স্বীকৃত মাদার অব হিউম্যানিটি- জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ও তার জনগণের কল্যাণে এবং উন্নয়নে অবিরত কাজ করে যাচ্ছেন। বিশ্বের অত্যন্ত উঁচুমানের একটি গবেষণা সংস্থা ‘পিপলস এ্যান্ড পলিটিক্স’-এর প্রতিবেদনে সম্প্রতি নবেম্বর মাসের শেষের সপ্তাহে বিশ্বে সততার শীর্ষে (৩) বিশ্ব স্বীকৃতি পেয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, যা বাংলাদেশের মতো বিগত বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে পরপর ৩ বার বিশ্বে দুর্নীতির চরম শীর্ষে অবস্থান করা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবের ও সম্মানের। আমাদের জননেত্রী তো এমন হবেনই। প্রবাদ আছে ‘রক্ত কথা বলে’। আমাদের নেত্রীর পিতার পিতা শেখ লুৎফর রহমান বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন যে, বাবা পড়ালেখা করিও। পড়ালেখা করলে মানুষ হতে পারবা। আর একটা কথা মনে রাখিও- Sincerity of purpose এবং Honesty of purpose থাকলে জীবনে কখনও পরাজিত হবা না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কখনও পরাজিত হননি। বড় প্রমাণ আমাদের ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর ও স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের লাল-সবুজ জাতীয় পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত- আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি। বিগত বিএনপি-জামায়াত আমলে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিদ্যমান ছিল বর্তমান সরকারের আমলে সে অবস্থা নেই বললেই চলে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনীতির কূটকৌশল দিয়ে ঘায়েল করেছে আমাদের জননেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সরকার, অস্ত্র বা গুলি দিয়ে নয়। দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশে সব রাজনৈতিক দলের ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সভা-সমাবেশ চলছে। ২০১৩ সালে পেট্রোলবোমা দিয়ে পুড়িয়ে পথে-ঘাটে, বাসে-ট্রাকে সাধারণ নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে বিএনপি এবং তার মদদপুষ্ট দলগুলো। এছাড়া দিনের পর দিন বিএনপি ও তার দোসররা হরতাল ডেকে দেশের মানুষের জীবনের অধিকার, নিরাপত্তার অধিকার, শিক্ষা ও চিকিৎসার অধিকার, সর্বোপরি মানুষের মৌলিক এবং মানবাধিকারকে যেভাবে নস্যাৎ করেছিল তাও জননেত্রী ও তার সরকার অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবেলা করে দেশের মানুষের জীবনে নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করেছে। এসব দক্ষ রাজনীতিকের অসাধারণ সৎ নেতৃত্বের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। সুস্থ রাজনীতি চর্চার পরিবেশ গড়ে উঠেছে। বিএনপি-জামায়াত আমলে বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করতে মানুষ ভয় পেত। অথচ যার জন্ম না হলে ‘বাংলাদেশ’ নামক স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম হতো না। এমনকি ৭ মার্চের ভাষণ প্রায় নিষিদ্ধ করেছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের পেছনে যে মহান মুক্তিযুদ্ধ সে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার চর্চাও বন্ধ করেছে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার। আমাদের প্রিয় নেত্রী ও তার সরকার ইতিহাস বিকৃতিবিরোধী শাস্তিযোগ্য আইন প্রণয়ন করেছেন, যা উন্নয়নে সহায়ক। মিথ্যা সংবাদ প্রচার যাতে না হয় সেরকম আইনও প্রণয়ন এবং কার্যকর করেছে সরকার। সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইন ও বিচার বিভাগকে গণতান্ত্রিক করার লক্ষ্যে সংবিধানের যে ১৬তম সংশোধনী এনেছে তাও দেশের উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সরকার দেশের কল্যাণে, জনগণের মঙ্গলে ও যাবতীয় উন্নয়নে ‘কার্যকরণ’ সম্পর্কের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় এবং সময় উপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ করে যাচ্ছে। আইন ও বিচার বিভাগকে মূল সংবিধানের আলোকে ঢেলে সাজাচ্ছে আমাদের প্রলিফিক সরকার, যা উন্নয়নের মূল ধারাকে গতিশীল এবং বেগবান করছে। দেশের শিক্ষাঙ্গনে তথা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার পরিবেশ গড়ে উঠেছে। পূর্বের বিএনপি-জামায়াত ও এরশাদ সরকারের আমলের মতো উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে মারামারি, কাটাকাটি, হত্যা-নির্যাতন, জ্বালাও-পোড়াও নেই। দেশে শিক্ষার হার বেড়েছে (২০০৬ সালে সাক্ষরতার হার ছিল ৫৯.৯০%, অথচ ২০১৩ সালে ৬৫.০৪%)। এমনকি কারিগরি শিক্ষার হারও বেড়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন- দেশের মোট শিক্ষার ১৪%-এর অধিক কারিগরি শিক্ষায় ভর্তি হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন যে, ২০২০ সালের মধ্যে এ হার ২০% এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এ হার ৩০% হবে। বর্তমান সরকার উন্নয়নের সব পথ খুলে দিয়েছে। আমাদের সরকার বেকার সমস্যা দূরীকরণের লক্ষ্যে থানা ও উপজেলা পর্যায়ে বেকার যুবকদের ৬ হাজার টাকা মাসিক ভাতা প্রদান করছে এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ ভাতা, বয়স্ক ভাতাসহ হেন ভাতা নেই যা আমাদের দার্শনিক প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকার দিয়ে যাচ্ছেন না। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি জাতির কৃতজ্ঞতা প্রকাশস্বরূপ সরকারী চাকরিতে ৩০ ভাগ কোটা সংরক্ষণ করেছে। বাঙালী জাতিকে কৃতজ্ঞ জাতি হিসেবে গড়ে তুলে ভবিষ্যত প্রজন্মকে কৃতজ্ঞ হওয়ার দীক্ষায় দীক্ষিত করছে যা ইতিবাচক ভবিষ্যত সৃষ্টিতে সহায়ক। উল্লেখ্য, জাপানে শিশুদের ১০ বছর বয়স পর্যন্ত বাধ্যতামূলকভাবে নৈতিক শিক্ষা দেয়া হয়। আমাদের নীতিবান সরকারও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৈতিক শিক্ষার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। আর একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয় যে, আমাদের প্রিয় নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার দেশের প্রতিবেশ ও পরিবেশের ভারসাম্য এবং উন্নয়নের লক্ষ্যে ডজনখানেক আইনকে কার্যকর ও বাস্তবমুখী করার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনকে মানবজাতি ও অন্যান্য প্রাণিকুলের জীবন ও অভিযোজনকে ভারসাম্যপূর্ণ করতে যে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা প্যারিস জলবায়ু সম্মেলন থেকে বিশ্ববাসী জানতে পেরেছে। আমাদের জাতির সাংস্কৃতিক বন্ধ্যত্ব দূর করতে নিজস্ব জাতীয় তথা বাঙালী সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাংলা ভাষাকে বিশ্ব মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করতে বর্তমান সরকারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এসবই আমাদের জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বগুণের বহির্প্রকাশ। শুধু তাই নয়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে জঙ্গীবাদও নির্মূল প্রায়, যা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বিস্তার লাভ করেছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হয়েছে এবং হচ্ছে। শত বাধার মুখেও বিচার হয়েছে, শাস্তি হয়েছে শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের, এখনও বিচার চলছে। এভাবে দেশের সব ক্ষেত্রে এতসব উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে আমাদের উন্নয়নের মানস প্রতিমা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুশাসনের (Good Governance) ফলে। উল্লেখ্য, উন্নয়নমূলক কাজগুলো সরকারকে সম্পাদন করতে বাধ্য করা যায় না। অর্থাৎ সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অধ্যায়ে (দ্বিতীয় ভাগ) যে অধিকারগুলো উল্লিখিত হয়েছে সেগুলো ‘Programme Right’ কিংবা সেগুলোকে ‘Bean Ideals of the Constitution’ বলা হয়। যেগুলোর ভায়োলেশন সরকার ঘটালেও সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৮ (২) অনুযায়ী সরকারের বিরুদ্ধে কোন আদালতে মামলা দায়ের করা যায় না কিংবা কোন প্রতিকারও পাওয়া যায় না। অথচ আমাদের বিজ্ঞ প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকার এ বিষয়টি জেনেও নিজ দায়িত্বে দেশ এবং জাতির প্রয়োজনে উন্নয়নমূলক অসংখ্য কাজ একের পর এক সুসম্পন্ন করে যাচ্ছেন। যার জন্য আমাদের প্রিয় জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন এবং কৃতজ্ঞতা জানানো উচিত। আমরা গর্বিত জাতি এই কারণে যে, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসূরি শেখ হাসিনাকে অর্থাৎ এরকম একজন Leader of Speaking Order-কে সরকারপ্রধান হিসেবে পেয়েছি। ভবিষ্যতেও তাকে পাশে পাব বলে প্রত্যাশা রাখি। লেখক: ডীন, আইন অনুষদ, আইন উপদেষ্টা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া। (সূত্র: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ওয়েবসাইট)   আর/টিকে

নারী শিশুর উন্নয়নে ১৪ উদ্যোগ

আওয়ামী লীগ সরকারের ৯ বছরের অর্জন আছে অনেক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার ২০২১ সালের রূপকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নারী ও শিশুদের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দেশের মোট জনসংখ্যার বৃহৎ অংশ নারী ও শিশু। নারী ও শিশুর সার্বিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, ক্ষমতায়ন এবং সামগ্রিক উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্তকরণের জন্য সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে। তবে সরকারের ব্যর্থতার নমুনার লিস্টটা দীর্ঘ বলে জানান সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা। নারীর জন্য সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ সিডিও-এর ধারা-২-এর অনুমোদন না দেওয়া। শিশুদের পাঠ্যপুস্তকের পরিবর্তন, নারীর জন্য সরাসরি নির্বাচন এবং এক-তৃতীয়াংশ আসন নিশ্চিত করাসহ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী ৮৭ শতাংশ নারী নির্যাতনে শিকার হচ্ছে। দেশে ধর্ষণের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়া সরকারের অনেক উন্নয়নকে ঢেকে দিয়েছে বলে জানান বিজ্ঞজনেরা। জানুয়ারি ২০০৯ থেকে ডিসেম্বর ২০১৭ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সরকারের কিছু সাফল্যের বিবরণ তুলে ধরা হলো— গত ৯ বছরে নারী ও শিশুর উন্নয়নে প্রণীত নীতিমালা, আইন ও বিধিমালাগুলো: সরকার গত ৯ বছরে নারী ও শিশুর উন্নয়নে বেশকিছু আইন-নীতি ও বিধিমালা তৈরি করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১; জাতীয় শিশু নীতি ২০১১; শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশের সমন্বিত নীতি ২০১৩; মনোসামাজিক কাউন্সেলিং নীতিমালা ২০১৬ (খসড়া); জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়নকল্পে কর্মপরিকল্পনা ২০১৩-২০১৫; পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০; ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) আইন, ২০১৪; পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) বিধিমালা ২০১৩; বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭। ভিজিডি কার্যক্রম: দুস্থদের জন্য রয়েছে নিরাপত্তামূলক কিছু প্রকল্প। যাকে বলা হয় ভিজিডি কার্যক্রম। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়াধীন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত ভিজিডি কর্মসূচির মাধ্যমে ২ বছর মেয়াদি চক্রে উপকারভোগী নারীদের মাসিক ৩০ কেজি হারে খাদ্য সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি চুক্তিবদ্ধ এনজিওর মাধ্যমে উন্নয়ন প্যাকেজ সেবা প্রদান করা হয়। গত ৯ বছরে ভিজিডি সুবিধাভোগী নারীর সংখ্যা: ২০০৯ থেকে জানুয়ারি ২০১৭ পর্যন্ত ভিজিডি কার্যক্রমের সহায়তা প্রাপ্ত মোট উপকারভোগী নারীর সংখ্যা ছিল ৪০ লাখ। দরিদ্র মায়েদের মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদান: মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় পল্লী অঞ্চলের দরিদ্র গর্ভবতী মায়েদের অসহায়ত্বের কথা বিবেচনা করে তাদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে এবং শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য দরিদ্র মায়ের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ কার্যক্রমের আওতায় দরিদ্র গর্ভবতী মায়েদের ভাতা প্রদানের পাশাপাশি স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়ে থাকে। এসময় সরকার ২০০৯ থেকে ২০১৭ সালে পর্যন্ত মোট ১৪ লাখ ৯২ হাজার গর্ভবতী নারীকে ভাতা প্রদান করেছে সরকার। কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা: মহিলা বিষয়ক অধিদফতর কর্তৃক বাস্তবায়িত শহর অঞ্চলে নিম্ন আয়ের কর্মজীবী মা ও তাদের শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টিমান বৃদ্ধি করে তাদেরকে আর্থ-সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার রাজস্ব তহবিল থেকে ২০১০-১১ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো ‘কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা তহবিল কর্মসূচি চালু করে। অর্জন: কর্মসূচির শুরু থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছর পর্যন্ত ক্রমপুঞ্জিত ২ লাখ ৪৫ হাজার ১২৫ জন কর্মজীবী দুগ্ধদায়ী মাকে সেবা প্রদান করা হয়েছে। ১৬-১৭ অর্থবছরে ১ লক্ষ ৮০ হাজার মাকে এই ভাতা প্রদান করা হয়। জেলাভিত্তিক নারী কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রকল্প (৬৪ জেলা): শিক্ষিত বেকার মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে জাতীয় মহিলা সংস্থার মাধ্যমে দেশের সবকটি জেলার শিক্ষিত বেকার মহিলাদের কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মোট ৪ হাজার ৩৯৩ জন শিক্ষিত বেকার নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মোট ৫ হাজার ৮৮২ জন প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বরাদ্দকৃত ১১.৪৫ কোটি টাকা থেকে ১৬ হাজার ৬৩৫ জন বেকার নারীকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নে ‘জয়িতা’: গত ৯ বছরের অগ্রগতির অন্যতম হলো নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রয়াস কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত ধানমন্ডির রাপা প্লাজার ৪র্থ ও ৫ম তলায় স্থাপিত ‘জয়িতা’ বিপণন কেন্দ্র। এটি প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারমূলক একটি কার্যক্রম। প্রধানমন্ত্রী গত ১৬ নভেম্বর ২০১১ সালে জয়িতার কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন। দেশের আনাচেকানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের উত্পাদিত পণ্য ও সেবা বিপণন এবং বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে জয়িতার মাধ্যমে একটি নারী উদ্যোক্তা বান্ধব আলাদা প্রতিষ্ঠান পর্যায়ক্রমে সারা দেশব্যাপী গড়ে তোলার প্রয়াস নেওয়া হয়। এতে নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নে গতি সঞ্চারিত হবে; নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে; নারী ও পুরুষের বৈষম্য হ্রাস পাবে। সর্বোপরি নারীর ক্ষমতায়ন এবং পর্যায়ক্রমে দেশের দারিদ্র্য বিমোচন হবে। সম্প্রতি জয়িতাকে একটি স্বতন্ত্র ফাউন্ডেশনে রূপ দেওয়া হয়েছে এবং ধানমন্ডির ২৭ নম্বর সড়কের পাশে এক বিঘা জায়গা প্রদান করা হয়েছে। এই জায়গায় বহুতল জয়িতা ভবন তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম: মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন হ্রাস করা এবং সেবা কার্যক্রম জোরদারকরণে কাজ করে যাচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) স্থাপন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য সেবা, পুলিশি ও আইনি সহায়তা, মানসিক ও সামাজিক কাউন্সেলিং, আশ্রয়সেবা এবং ডিএনএ পরীক্ষার সুবিধা ওসিসি হতে প্রদান করা হয়। জানুয়ারি ২০০৯ হতে ডিসেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত মোট ২১ হাজার ৪০৩ জন নারী ও শিশুকে ওসিসি হতে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করা হয়েছে। দেশব্যাপী নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের সেবাপ্রাপ্তির সুবিধার্থে দেশের ৪০টি জেলা সদর হাসপাতাল এবং ২০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০১২ সালে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেল স্থাপন করা হয়েছে। ডিএনএ অধিদফতর ও ডিএনএ ল্যাব প্রতিষ্ঠা: ডিএনএ আইন ২০১৪ অনুযায়ী ডিএনএ অধিদফতর প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ডিএনএ অধিদফতরের অর্গানোগ্রাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হতে লোকবল ছাড় করা হয়েছে। তাছাড়া নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুর দ্রুত ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে ঢাকায় ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে। বিচার ব্যবস্থায় এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সাহায্য করা ছাড়াও এই ল্যাবরেটরি তাজরীন ফ্যাশনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এবং রানা প্লাজা ধসে অজ্ঞাত মৃতদেহ শনাক্তকরণের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ২০০৯ থেকে ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত এই ল্যাবরেটরিতে মোট ২ হাজার ৮৩৫টি মামলার ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। নির্যাতিত নারীদের দ্রুত ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে ঢাকায় ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরিসহ ৭টি  মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জুলাই ২০১৬ থেকে জুন ২০১৭ পর্যন্ত মোট ৪৩৪টি মামলার প্রেক্ষিতে ১ হাজার ৩০৬টি নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল হেল্পলাইন সেন্টার: নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রকল্পের আওতায় ১৯ জুন ২০১২ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল হেল্পলাইন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই সেন্টারে টোলফ্রি হেল্পলাইন ১০৯ নম্বরে ফোন করে নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশু, তাদের পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট সকলে প্রয়োজনীয় তথ্য, পরামর্শসহ দেশে বিরাজমান সেবা এবং সহায়তা সম্পর্কে জানতে পারে। জুন ২০১২ থেকে ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত এই হেল্পলাইনে মোট ১ লাখ ৩৭ হাজার ৮৬৫টি ফোন গ্রহণ করা হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে টোল ফ্রি (১০৯) সেন্টারে মোট ২ লাখ ২৬ হাজার ২৬৩টি ফ্রি ফোন গ্রহণ করা হয়। কিশোর-কিশোরী ক্লাব: কিশোর-কিশোরীদের ক্লাবে সংগঠিত করে তাদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য মন্ত্রণালয় জুলাই ২০১১ থেকে মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের মাধ্যমে দেশের ৭টি বিভাগের ৭টি জেলার প্রত্যেক উপজেলায় সকল ইউনিয়নে সর্বমোট ৩৭৯টি কিশোর-কিশোরী ক্লাব পরিচালনা করে আসছে। জেলাসমূহ হলো— গোপালগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, ঠাকুরগাঁ, ঝালকাঠি, রাঙ্গামাটি, মৌলভিবাজার ও সিরাজগঞ্জ। ক্লাবে কিশোর-কিশোরীরা মিলিত হয়ে বাল্য বিবাহ, যৌতুক, ইভটিজিংসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক বিষয়ে পারস্পরিক আলোচনা করে। এই ক্লাবগুলোর মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা প্রদর্শন শিখানো হয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ‘কিশোর-কিশোরী ক্লাব প্রকল্প’-এর আওতায় সারা দেশের সকল ইউনিয়নে ৪৮৮৩টি কিশোর-কিশোরী ক্লাব গঠন করা হবে। কর্মরত মহিলা গার্মেন্টস শ্রমিকদের আবাসনের জন্য হোস্টেল নির্মাণ: মন্ত্রণালয় কর্মজীবী নারীদের নিরাপত্তা ও আবাসন নিশ্চিত করার জন্য মহিলা হোস্টেল পরিচালনা করে আসছে। ২০১৩ সালে সাভারের বড় আশুলিয়ায় ৪২ শতাংশ জমির উপর কর্মরত মহিলা গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য ১২তলা হোস্টেলের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উল্লিখিত সময়ে শিশু অধিকার রক্ষা ও শিশুর মানসিক বিকাশে গৃহীত কিছু কার্যক্রম: শিশুদের জন্য বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের উপর ভিত্তি করে ২৫ প্রকারের ৩,৫০,৫০০টি বই প্রকাশিত হয়েছে। দুস্থ ও অসহায় শিশুদেরকে আবাসন সুবিধা প্রদানসহ তাদের থাকা খাওয়া এবং পড়াশোনা করানোর মাধ্যমে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সারাদেশে ৬টি শিশু বিকাশ কেন্দ্র (আজিমপুর, কেরাণীগঞ্জ, গাজীপুর, খুলনা চট্টগ্রাম ও রাজশাহী) চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৬টি জেলা শাখা কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পের (গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, পটুয়াখালী, ঝিনাইদহ, নরসিংদী ও খাগড়াছড়ি) আওতায় নরসিংদী এবং খাগড়াছড়ি জেলা বাদে অবশিষ্ট ৪টি জেলায় ভবন নির্মাণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার শিশুকে সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ প্রদান। পিছিয়ে পড়া শিশুদের জন্য চা বাগান, সিটি কর্পোরেশনের বস্তি, কেন্দ্রীয় কারাগার, যৌনপল্লী, আইলা ও সিডর বিধ্বস্ত আশ্রায়ন প্রকল্প এলাকা, পার্বত্য অঞ্চল ও হাওর এবং ছিট মহলে ও অন্যান্য অনুন্নত এলাকায় ১০ হাজার Early Leaing সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে ১২ লক্ষ শিশুকে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনলাইন টেলিভিশন স্থাপন। শিশুদের শুদ্ধভাবে জাতীয় সংগীত শেখানোর কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে শিশুদের জন্য পুরস্কার বিতরণ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। জয় মোবাইল অ্যাপস: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ড, অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন প্রোগ্রামের আর্থিক সহায়তায় নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল হেল্প লাইন সেন্টার বর্তমানে একটি মোবাইল অ্যাপস প্রবর্তন করছে। নির্যাতনের শিকার কিংবা নির্যাতনের আশংকা রয়েছে এ রকম নারী ও শিশুদের তাৎক্ষণিকভাবে সহয়তা প্রদান করার জন্য এই অ্যাপ ব্যবহার করা যাবে। সাধারণত কোনো নির্যাতনের ঘটনা ঘটার পর আমরা সে সম্পর্কে অবগত হই। অনেক ক্ষেত্রে  ভিকটিমের জন্য ঘটনা ঘটার সময় প্রয়োজনীয় সাহায্য চাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ ছাড়াও উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে অপরাধ প্রমাণ করা দুঃসাধ্য হয়। এই সব সমস্যার সমাধানে স্মার্ট ফোনে ব্যবহারযোগ্য জয় মোবাইল অ্যাপস উদ্ভাবন করা হয়েছে। এই অ্যাপসে পরিবার/বন্ধুবান্ধবের ৩টি মোবাইল নম্বর এফএনএফ হিসেবে সংরক্ষণ করা যাবে। এ ছাড়াও নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল হেল্প লাইন সেন্টার(১০৯), নিকটস্থ থানা এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় উপপুলিশ কমিশনার এবং জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপারের কাছে মেসেজ চলে যাবে। যদি কোনো নারী অথবা শিশু সমস্যায় পড়ে তাহলে সে মোবাইল অ্যাপসের জরুরি অবস্থা লিখিত আইকনে স্পর্শ করলে এটি সংরক্ষিত নম্বরসমূহে একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা পাঠাবে। সংকটাপূর্ণ অবস্থায় জরুরি অবস্থা লিখিত মেন্যুটি ক্লিক করার পরিস্থিতি না থাকলে মোবাইল পাওয়ার বাটন পরপর ৪ প্রেস করলে মোবাইল ভাইব্রেট হবে। এরপর অনেকবার প্রেস করার পর সংক্ষিপ্ত নম্বরসমূহে চলে যাবে। ন্যাশনাল হেল্প লাইন সেন্টার এবং পুলিশের কাছে জিপিএস লোকেশনসহ এই বার্তাটি যাবে। যার ফলে পুলিশ ন্যাশনাল হেল্প লাইন সেন্টার এবং ভিকটিমের আত্মীয়রা তত্ক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে। এই অ্যাপস স্বয়ংক্রিয়ভাবে আলাপচারিতা সংরক্ষণ করবে এবং একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর ছবি তুলবে। এই সকল তথ্য মোবাইলে সংরক্ষিত থাকবে। যদি ব্যবহারকারী অনলাইনে থাকেন তাহলে তথ্যসমূহ (অডিও, ছবি) স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাপসে নির্ধারিত সার্ভারে প্রেরিত হবে। এই সব তথ্য পরবর্তীতে অপরাধ প্রমাণে সহয়তা করবে। সূত্র: আওয়ামী লীগ ওয়েবসাইট আর/টিকে

ডিজিটাল বাংলাদেশ, স্বপ্ন এখন বাস্তব

কিছুদিন আগে আমার সদ্য এসএসসি পাস করা মেয়ে আমাকে হঠাৎ বলল একটি টেলিটকের সিমকার্ড কিনে আনতে। সে বলল, এখন টেলিটকের সিমের মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে যেকোনো শিক্ষার্থী যেকোনো কলেজে ভর্তির আবেদন ঘরে বসেই করতে পারছে। তখন আমার মনে পড়ল, আমাদের সময় কলেজে ভর্তির আবেদন করার জন্য কত ঝামেলাই না পোহাতে হতো। আমরা প্রত্যেকটি কলেজে যেয়ে যেয়ে আবেদন জমা দিয়েছি, আলাদা আলাদা ফরম কিনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ফর্ম জমা দিয়েছি। খরচ আর ভোগান্তির তো কোনো শেষই ছিল না। অথচ আজকাল এসব কত সহজ হয়ে গিয়েছে, সেবা পৌঁছে গিয়েছে জনগণের দোরগোড়ায়। ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দিন বদলের সনদ হিসেবে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ -এর ঘোষণা দিয়েছিলেন। প্রথমদিকে কেউ কেউ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিষয়টিকে ঠিকমতো বিশ্বাস করেনি, বরং কারো কারো মনে এটি নিয়ে সন্দেহ ও সংশয় সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম বিষয়টিকে আস্থার সঙ্গে নিয়ে এ ঘোষণার প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করেছিল। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিষয়টি উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া নয়, বরং তৃণমূল থেকে উঠে আসা একটি বিষয়। এরফলেই ডিজিটাল বাংলাদেশ যে একটি মিথ নয়, তা-ই এরমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সরকারি সেবা নিয়ে যেতে ২০১০ সালের ১১ নভেম্বর দেশের ৪,৫৪৭ ইউনিয়নে চালু হয় ‘ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র’, যা বর্তমানে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার নামে পরিচিত (২০১৭ সাল শেষে ৫২৭৫টি)। নারীর ক্ষমতায়নে প্রতিটি ডিজিটাল সেন্টারে একজন পুরুষের সঙ্গে একজন নারী উদ্যোক্তা রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়। এসব সেবাকেন্দ্রে কম্পিউটার কম্পোজ থেকে শুরু করে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন বিদ্যালয়-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য, ভর্তি ফরম পূরণ, জন্ম নিবন্ধন, বিমা, মোবাইল ব্যাংকিং, কৃষিকাজের জন্য মাটি পরীক্ষা ও সারের সুপারিশ, বিদ্যুত্ বিল পরিশোধ, ডাক্তারি পরামর্শসহ দৈনন্দিন ৬০ ধরনের সেবা পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি নির্বাচিত কিছু ডিজিটাল সেন্টার থেকে পাসপোর্ট ও ভিসার আবেদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ৩০০৮টি সেন্টারে চালু হয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা। বিদেশে গমনেচ্ছুক ২০ লাখ ২২ হাজার ৪৩৬ জন শ্রমিক অনলাইনে ডিজিটাল সেন্টারে নিবন্ধন করেছেন। এরমধ্যে বড় একটি সংখ্যায় নারীও রয়েছেন। ফলে দেখা যাচ্ছে, ডিজিটাল সেন্টার তৃণমূল সেবার হাব হিসেবে গড়ে উঠেছে। ইউনিয়ন পরিষদের পর দেশের ১১টি সিটি করপোরেশনে ৪০৭টি ডিজিটাল সেন্টার ও ৩২১টি পৌরসভাতে ডিজিটাল সেন্টার চালু করা হয়েছে। আইসিটি ডিভিশন এবং এটুআইয়ের মতে, প্রতি মাসে গড়ে ৪০ লাখ মানুষ এসব কেন্দ্র থেকে সেবা নিচ্ছে। এটুআইয়ের হিসেবে ডিজিটাল সেন্টার থেকে উদ্যোক্তারা এরমধ্যে আয় করেছেন ১৪০ কোটি টাকা। বিশ্বের সবচেয়ে বড় সরকারি ওয়েবসাইট ‘জাতীয় তথ্য বাতায়ন’-এ ৪৩ হাজার দফতর এখন সংযুক্ত। এতে যুক্ত হয়েছে মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদফতর, জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়নের ২৫ হাজারেরও বেশি ওয়েবসাইট। এসব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অফিসের নানা কার্যক্রম সম্পর্কে জানা যাচ্ছে। ২০১১ সালের ১৪ নভেম্বর দেশের সকল জেলায় জেলা ই-সেবাকেন্দ্র চালু করা হয়েছে। জেলা ই-সেবাকেন্দ্রের মাধ্যমে এরমধ্যে ৮ লক্ষাধিক সেবাপ্রদান করা হয়েছে। দালালদের উত্পাত ছাড়াই ই-সেবাকেন্দ্র থেকে তিন দিনের মধ্যে জমির পর্চাসহ বিভিন্ন সেবা পাওয়া যাচ্ছে। অনলাইনে দরপত্র জমা দিতে ঠিকাদারদের জন্য চালু করা হয়েছে ই-প্রকিউরমেন্ট। এখন অনেক মন্ত্রণালয় অনলাইনে দরপত্র আহ্বান করছে। এতে টেন্ডার বাণিজ্য রোধে এ ধরনের উদ্যোগ ভূমিকা রাখছে। আদালতের কার্যক্রমকে ডিজিটালাইজ করতে চালু হয়েছে মোবাইল কোর্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। স্বল্প পরিসরে চালু হওয়া এ উদ্যোগের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালতের যাবতীয় ডক্যুমেন্ট অনলাইনে সংরক্ষণ এবং ব্যবহারের জন্য রাখা হচ্ছে। ভূমি মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন ও এটুআই প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগে সকল রেকর্ড এসএ, সিএস, বিআরএস ও খতিয়ান কপি ডিজিটালাইজড করা হচ্ছে। এরমধ্যে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি খতিয়ান ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। খুব শীঘ্র চালু হতে যাচ্ছে ডিজিটাল রেকর্ড রুম। এরমধ্যে ২৩ লাখ ২০ রেকর্ড ডিজিটাল সিস্টেমে প্রদান করা হয়েছে। সরকারি অফিসে দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে এবং কর্মযজ্ঞ সম্পাদন প্রক্রিয়া গতিময় করতে জনবান্ধব ই-ফাইলিং সিস্টেম চালু হয়েছে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ ১৬টি মন্ত্রণালয়-বিভাগ-অধিদফতর এবং ৬৪ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং বিভাগীয় কমিশনারের অফিসে ই-ফাইলিং সিস্টেম চালু করা হয়েছে। সরকারি নানা কার্যক্রম ডিজিটালাইজড করার ফলে তৈরি হওয়া ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণে আইসিটি ডিভিশনে টায়ার-থ্রি ডাটা সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে অন্যতম লক্ষ্যমাত্রা হলো পেপারলেস অফিস যা নিশ্চিত করতে পারে এই ই-ফাইলিং সিস্টেম। উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার জন্য এবং উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য এটুআইয়ের উদ্যোগে তৈরি হয়েছে সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ড। বাংলাদেশের সকল পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গ নাগরিক সেবা গ্রহণে মাত্রাতিরিক্ত ধাপ কমিয়ে বা প্রযুক্তির ব্যবহার করে সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সময়, অর্থ ও যাতায়াতের পরিমাণ হ্রাস করা যায় এমন উদ্ভাবনী উদ্যোগসমূহ বছরের যেকোনো দিন যেকোনো সময় একটি সহজ উপায়ে অনলাইনে জমা দিতে পারেন। একটি নিরপেক্ষ বাছাই পদ্ধতির মাধ্যমে বাছাইকৃত আইডিয়াসমূহে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান প্রদান করা হয়। সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ডের মাধ্যমে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য মাল্টিমিডিয়া টকিং বুক, অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সর্টিফিকেট, অনলাইন পরিবেশ ছাড়পত্র, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের জন্য মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বয়স যাচাই, বাক প্রতিবন্ধীদের জন্য টকিং ডিভাইসসহ ১৭০টি উদ্ভাবনী ধারণা বাস্তবায়নের জন্য এটুআই কাজ করছে। ‘তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা নয়, বরং শিক্ষায় তথ্যপ্রযুক্তি’ এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, শিক্ষক কর্তৃক মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্ট তৈরি, শিক্ষক বাতায়ন, ই-বুক, মনিটরিং ড্যাশবোর্ড ও ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া টকিং বুক নামক মডেলগুলো উদ্ভাবন করা হয়েছে। এ মডেলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের উপযোগী কন্টেন্ট তৈরি করে ক্লাসে ব্যবহার করছেন। যেখানে শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। ২৩,৩৩১টি মাধ্যমিক ও ১৫,০০০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে। প্রায় ১,৮০,০০০-এর বেশি শিক্ষক এবং ১,৬৫০ মাস্টার-ট্রেইনার মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্ট তৈরি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর গণভবনে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে বই বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রাথমিক স্তরের সকল ডিজিটাল বই এবং দৃষ্টি-প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের হাতে ব্রেইল বুক ও মালটিমিডিয়া টকিং বুক তুলে দেন। কৃষি সম্প্রসারণ সেবাকে ডিজিটাইজ করার মাধ্যমে কার্যকর ও সহজ উপায়ে কৃষকের কাছে সম্প্রসারণ সেবাকে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এটুআই তৈরি করেছে ‘কৃষি পোর্টাল’। কৃষি পোর্টালটি পাইলটিং হয়েছে এবং খুব শীঘ্র আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশের দার্শনিক ভিত্তি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সুদীর্ঘ সংগ্রামের মধ্যদিয়ে ছিনিয়ে এনেছিলেন স্বাধীনতা— যাঁর চোখে জাতি দেখেছিল স্বনির্ভরতার দৃঢ় অঙ্গীকার। তিনি জাতিকে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। ঠিক তেমনি তার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা জাতিকে উপহার দিয়েছেন তাঁর নির্বাচনী ইস্তেহার ‘দিন বদলের সনদ’। স্বাধীনতার ৫০ বছর পর ২০২১ সালে বাংলাদেশ কোথায় যাবে তার একটি রূপকল্প ও তিনি দিয়েছেন নির্বাচনী ইস্তেহারে ‘রূপকল্প ২০২১’ নামে। রূপকল্প ২০২১-এর একটি অন্যতম লক্ষ্য ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’, ২০০৮ সালে যেটি ছিল শুধুই স্বপ্ন, আর আজ সেটা বাস্তবতা। লেখক : যুগ্ম সচিব, পরিচালক, এটুআই প্রোগ্রাম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ( সূত্র: আওয়ামী লীগ ওয়েবসাইট)   আর/টিকে

অর্থনীতির ৯ বছর চোখ ধাঁধানো রূপান্তর

এক নাগাড়ে ৯ বছর পার করল বর্তমান সরকার। সরকারের এই চলমানতার সুফল বাংলাদেশের মানুষ নানা ক্ষেত্রেই পাচ্ছেন। ক্রমান্বয়ে বাড়ন্ত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ফসল হিসেবে মানুষ পাচ্ছেন বাড়তি মাথাপিছু আয়, দ্রুত দারিদ্র্যের নিরসন, বস্তুগত ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সামাজিক যোগাযোগ, বেশি বেশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসুবিধা এবং দীর্ঘ জীবন। ডিজিটাল বাংলা প্রযুক্তির কল্যাণে তরুণ প্রজন্মের জীবনচলার সুযোগ ও সুবিধা বেড়েছে অসাধারণ গতিতে। বিগত ৯ বছরের ধারাবাহিক উন্নয়নের এই গল্প বুঝতে হলে ফিরে যেতে হবে ঊনিশ শ বাহাত্তরের শুরুর দিনগুলোতে। মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর সেই বাংলাদেশের অর্থনীতিকে কেউ কেউ আখ্যা দিয়েছিলেন ‘আন্তর্জাতিক তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে। আবার অন্যরা বলতেন বাংলাদেশে উন্নতি করতে পারলে পৃথিবীর যেকোনো দেশই উন্নতি করতে পারবে। ওই বাহাত্তরের জানুয়ারি মাসের দশ তারিখে স্বদেশ ফিরে এমন একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের দায়িত্ব নেন বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশের মানুষের অজেয় প্রাণশক্তি ও মুক্তিযুদ্ধের লড়াকু চেতনাকে সম্বল করে তিনি জোর কদমে এগিয়ে চলেন সামনের দিকে। অতি দ্রুত সংবিধান প্রণয়ন করেন। তাতে সাধারণ মানুষের কল্যাণে উন্নয়নের অঙ্গীকার দেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তোলার পাশাপাশি তিনি প্রথম পঞ্চ-বার্ষিকী পরিকল্পনা তৈরিতেও মনোনিবেশ করেন। স্বল্প সময়েই যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামোগুলোর পুনর্নিমাণ শেষ করে প্রগতিশীল এক বাংলাদেশ গড়ার কাজে হাত দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। কিন্তু বাংলাদেশ-বিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের আচমকা আক্রমণে তাঁকে পঁচাত্তরের পনেরই আগস্ট তাঁর দেশবাসীর কাছ থেকে শারীরিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-বিরোধী উল্টো পথে হাঁটতে থাকে বাংলাদেশ। অনেক সংগ্রাম শেষে ১৯৯৬ সালে তাঁরই সুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ফের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার ক্ষমতায় আসে। নানা দুর্যোগ ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ওই সরকার বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে চলে স্থিতিশীল অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পথে। কিন্তু ২০০১ সালে ফের ঘটে ছন্দপতন। নানামুখী ষড়যন্ত্রের কারণে দেশ চলে যায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-বিরোধীদের হাতে। আবার সংগ্রাম। আন্দোলন। প্রচ্ছন্ন সামরিক শাসন। ২০০৮ সালের শেষ দিকে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় নিশ্চিত করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত হয় মহাজোট সরকার। এই সরকার দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হয়ে। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসায় বড় বড় অবকাঠামোসহ নানামুখী উন্নয়ন তৎপরতা চালু রাখা সম্ভব হয়। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এই সরকারের সুদীর্ঘ ৯ বছরের অভিযাত্রা আসলেই চোখে পড়ার মতো। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির কাজে যুক্ত থাকার। ‘দিন বদলের সনদ’ শিরোনামের ওই ইশতেহারটিতে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একটি উন্নয়নের ভবিষ্যৎ রূপরেখা (ভিশন-২০২১) নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। ওই ইশতেহারে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের যে বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল সেগুলোর কয়েকটি উল্লেখ করছি। সংশ্লিষ্ট বাধাগুলো দূর করে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের অঙ্গীকার, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলা, অবকাঠামো উন্নয়ন, উপজেলা ও গ্রাম পর্যন্ত তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার, বন্দর উন্নয়ন, সড়ক, রেল ও নৌ যোগাযোগের প্রসার, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়নের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ঘটিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন প্রক্রিয়া চালুর অঙ্গীকার করা হয় ওই ইশতেহারে। এ ছাড়াও দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল করা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বাড়িয়ে মানবসম্পদের উন্নয়ন করে কর্মসংস্থান বাড়ানো, দ্রুত দারিদ্র্য নিরসন, কৃষিতে ভর্তুকি দিয়ে তার প্রবৃদ্ধি বাড়ানো, সামাজিক সংরক্ষণমূলক কর্মসূচির প্রসার; চর, হাওর ও উপকূলে দুঃখী মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারগুলোকে শক্তিশালী করা, আঞ্চলিক সহযোগিতার ব্যাপ্তি বাড়ানোর মতো লক্ষ্যধর্মী সব অঙ্গীকার করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দিনবদলের ওইসব অঙ্গীকার নিরন্তর পূরণ করে যাচ্ছে। এই ৯ বছরে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের সূচকসমূহের যে বিস্ময়কর অর্জন ঘটেছে, তা খালি চোখেও দেখা যায়। তবু পরিসংখ্যান দিয়ে বিগত ৯ বছরের অর্থনৈতিক অগ্রগতির কিছু সূচকের অগ্রযাত্রার চিত্র তুলে ধরছি। জিডিপির প্রবৃদ্ধি: ২০০৭-০৮ অর্থবছরের জিডিপির (অর্থনীতির আকার) পরিমাণ ছিল চলতি মূল্যে ৬,২৮,৬৪২ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯,৭৫,৮২০ কোটি টাকায়। এ ৯ বছরে অর্থনীতির আকার বেড়েছে তিনগুণেরও বেশি। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারও পাঁচ-ছয় শতাংশের গণ্ডি পেরিয়ে গত দু’বছর ধরে সাত শতাংশের বেশি হচ্ছে। গত অর্থবছরে তা বেড়েছে ৭.২৮ শতাংশ হারে। মাথাপিছু আয়: একদিকে জিডিপির আকার বেড়েছে, অন্যদিকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও ক্রমান্বয়ে কমেছে। ফলে, মাথাপিছু্ আয় দ্রুত বাড়ছে। ২০০৭-০৮ অর্থবছর শেষে আমাদের মাথাপিছু আয় ছিল ৪৩,৭১৯ টাকা। আর তা এই ৯ বছরে বেড়ে প্রায় তিনগুণ হয়েছে। গত অর্থবছর শেষে তা ছিল ১,২২,১৫২ টাকা। আর মূল্যস্ফীতি পাঁচ-ছয় শতাংশের মধ্যে স্থিতিশীল ছিল বলে মানুষের প্রকৃত আয় বেড়েছে। দারিদ্র্য নিরসন: মাথাপিছু আয় বাড়লে দারিদ্র্য কমে। বিশেষ করে গ্রামের মানুষের আয় রোজগার কৃষি ছাড়াও অকৃষি খাত থেকেও বেড়েছে। গ্রামের তরুণরা নগরে ও বিদেশে গিয়ে নানা ধরনের আয়-রোজগার করে গ্রামে পাঠাচ্ছে। তাই গ্রামীণ শ্রমবাজার বেশ ‘টাইট’। সেজন্য গ্রামীণ মজুরিও বেড়ে চলেছে। তাই সারাদেশেই দারিদ্র্য কমছে। অতি দারিদ্র্যের হারও কমেছে। তবুও বিরাট সংখ্যক মানুষ অতিদরিদ্রই রয়ে গেছে। তাদের জন্য সরকার নানা ভাতা দিচ্ছেন। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোর সংস্কার করে সমুন্নত করা হয়েছে। ২০০৭ সালে জাতীয় দারিদ্র্যের হার যেখানে ছিল ৪০ শতাংশ, সেখানে ২০১৭ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৪.৩ শতাংশে। গ্রামীণ দারিদ্র্য ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ছিল ৪৩.৮ শতাংশ। ২০১৭ সালে তা হয়েছে ২৬.৪ শতাংশ। অতি দারিদ্র্যের হারও দ্রুতই কমছে। ২০০৫ সালে অতিদারিদ্র্যের হার ছিল ২৫.১ শতাংশ। ২০১৭ সালে তা ১২.৯ শতাংশ হয়েছে। গড় আয়ু: দারিদ্র্য কমেছে এবং সামাজিক সংরক্ষণ বাড়ার কারণে গত ৯ বছরে গড় আয়ুও বেড়েছে। ২০০৭ সালে প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল ছিল ৬৪.৫ বছর। ২০১৭ সালের শেষে তা ৭২ বছরে দাঁড়িয়েছে। আমদানি-রপ্তানি: এই ৯ বছরে আমাদের বৈদেশিক বাণিজ্যের ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। রপ্তানির জন্য যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি অপরিহার্য। তাছাড়া বেশ কিছু ভোগ্য পণ্যও আমাদের আমদানি করতে হয়। গত ২০০৭-০৮ অর্থবছরে আমাদের আমদানির পরিমাণ ছিল ১,৩৩,৬৫০ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩,৪৯,১০০ কোটি টাকা। তার মানে আমদানি বেড়েছে ৩৩ গুণ। অন্যদিকে রপ্তানি ওই সময়ের ব্যবধানে বেড়েছে পঁয়ত্রিশ গুণ। রেমিটেন্স: ২০০৭-০৮ অর্থবছরের তুলনায় রেমিটেন্স প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ওই সময়ে ৫৪২ বিলিয়ন টাকা থেকে বেড়ে ১০১১ বিলিয়ন টাকায় উন্নীত হয়েছে। বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানোর জন্য প্রশিক্ষণসহ সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও ব্যাংকগুলোকে বিদেশে এক্সচেঞ্জ হাউস খোলার অনুমতি দিয়েছে। টাকার বিনিময় মূল্যও স্থিতিশীল ছিল। তাই রেমিটেন্স দ্রুত বেড়েছে। রেমিটেন্স বাড়ায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে চাহিদাও বেড়েছে। তাই গ্রামীণ ক্ষুদে ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সংখ্যাও বেড়েছে। আর দেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সহযোগিতায় মোবাইল ও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের প্রচলন হওয়ায় দ্রুত রেমিটেন্সের লেনদেন হচ্ছে। গ্রামে ব্যাংকের শাখাও এই ৯ বছরে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। ফলে গ্রামে বসেই মানুষ আধুনিক ব্যাংকিং সেবাও পাচ্ছেন। গ্রামবাংলার অর্থনীতির এই অগ্রগতি সারাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। রিজার্ভ: রপ্তানি ও রেমিটেন্স বাড়ায় আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এই ৯ বছরে বেড়েছে পাঁচ গুণেরও বেশি। ২০১৭ শেষে তা ছিল ৩৩ বিলিয়ন ডলার। আর ২০০৭-০৮ সালে ছিল ছয় বিলিয়ন ডলারের মতো। সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ: গত ৯ বছরে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণও তিনগুণেরও বেশি হয়েছে। সর্বশেষ অর্থবছরে তা আড়াই বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে এফডিআই ছিল ৭৬৮ মিলিয়ন ডলার। যা ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বেড়ে হয়েছে আড়াই বিলিয়ন ডলারের মতো। প্রস্তাবিত শতাধিক বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহ বাস্তবায়িত হলে এর পরিমাণ আরও দ্রুত গতিতে বাড়বে। বাজেট: ২০০৭-০৮ অর্থবছরের মোট বাজেট ছিল ৮৭,১৮৭ কোটি টাকা। যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪,০০,২৬৬ কোটি টাকায়। এ ক’বছরে বাজেটের আকার পাঁচগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন: বাংলাদেশ সরকার এই ৯ বছরে দেশের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য অসংখ্য উদ্যোগ ছাড়াও দশটি মেগা প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই দশটি প্রকল্পের বাস্তবায়ন সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এই মেগাপ্রকল্পগুলো হলো :সেতু বিভাগ-এর পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ, রেলপথ মন্ত্রণালয়-এর (১) পদ্মা রেল সেতু সংযোগ ও (২) দোহাজারী হতে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু হতে গুনদুম পর্যন্ত নির্মাণ, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ-এর ঢাকা মাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট (এমআরটি), নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়-এর (১) পায়রা বন্দর নির্মাণ প্রকল্প (১ম পর্যায়) ও (২) সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ, বিদ্যুত্ বিভাগের (১) মাতারবাড়ী আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোলফায়ার্ড পাওয়ার ও (২) মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার (রামপাল), জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ-এর এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়-এর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুকেন্দ্র স্থাপন। জ্বালানি: জ্বালানি খাতে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে। ২০০৮ সালে ৪৫% মানুষের ঘরে বিদ্যুত্ যেত। ২০১৫ সালে তা ৭৪% মানুষের ঘরে পৌঁছায়। এই দু’বছরে বিদ্যুত্ প্রাপ্তির হারও আরও বেড়ে তা আশি শতাংশেরও বেশি মানুষের ঘরে পৌঁছে গেছে। ব্যাংকিংখাত: নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ব্যাংকিং খাত স্থিতিশীল ও ঝুঁকিসহনে সক্ষম অবস্থানে রয়েছে। তবে, খেলাপি ঋণের হার কিছুটা অস্বস্তিকর পর্যায়ে রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড প্রয়োগের কারণেও এ হার খানিকটা স্ফীত হয়েছে। ব্যাংকের মূলধন সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক ব্যাসেল-৩ নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে। গত ৮ বছর ৯ মাসে ব্যাংকিং খাতের মূলধনে ৩৩৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন। তবে সরকারি ব্যাংকের জন্য তা সত্যি নয়। ব্যাংকসমূহের সংরক্ষিত মূলধন ২০০৮-এর ২০,৫৭৮ কোটি টাকা থেকে সেপ্টেম্বর ২০১৭-এ ৯০,১০১ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। এ মূলধন পর্যাপ্ততার হার ব্যাংকসমূহের হার ব্যাংকসমূহের মোট ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১০.৬৫ শতাংশ। জুন ২০০৯ শেষে ব্যাংকিং খাতে আমানতের পরিমাণ ছিল ২,৭৮,৬৮০ কোটি টাকা, যা আট বছরের ব্যবধানে জুন ২০১৭ শেষে ২১৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮,৭৭,৮৮৩ কোটি টাকা। এ ছাড়া অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়নের আওতায় ৯ বছরে তিন হাজারের বেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নতুন শাখা খোলা হয়েছে। দশ টাকার হিসাব সংখ্যা এই ক’বছরে ১ কোটি ৭২ লক্ষে উন্নীত হয়েছে। এর সঙ্গে তের লক্ষ স্কুল ব্যাংকিং হিসাব, ১৩ লক্ষ এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাব ও ৫ কোটি ৭৮ লক্ষ মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব যুক্ত করলে অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিং সেবাখাতে যে বিপ্লব ঘটেছে তার আন্দাজ পাওয়া যায়। কৃষি ঋণ, সবুজ ঋণ ও এসএমই ঋণের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। এ ছাড়াও দশটি নতুন ব্যাংক এই ৯ বছরে চালু হয়েছে। তবে ফার্মার্সসহ দু-একটি ব্যাংকের অনিয়মের কারণে ব্যাংকিং খাতে খানিকটা অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব ব্যাংকের গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। আশা করছি কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও শক্ত হাতে ব্যাংকিং খাতের সুশাসন নিশ্চিত করবে এবং গ্রাহকের আস্থা অটুট রাখবে। বাংলাদেশের অর্থনীতি ৯ বছরে বিস্ময়কর রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। বড় বড় প্রকল্পগুলো ঠিকমতো বাস্তবায়ন হলে, বিশেষ করে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুতকেন্দ্রের মতো প্রকল্পগুলো প্রত্যাশিত সময়ে বাস্তবায়ন হলে, দেশের এই চলমান উন্নয়নের ধারা এক নতুন মাত্রা পাবে। ২০৪১ সালে বাংলাদেশ উন্নত দেশ হওয়ার যে স্বপ্ন দেখছে, তা পূরণ করা সহজতর হবে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণে যে সাহস বাংলাদেশ দেখিয়েছে, তা সারা বিশ্বেই স্ব-উন্নয়নের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে লালিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বলিষ্ঠ হয়েই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এমন সাহসী পদক্ষেপ নিতে পেরেছেন। দেশপ্রেমও যে উন্নয়নের এক আদর্শ উপকরণ—পদ্মা সেতুর এই অসাধারণ গল্প যুগে যুগে বাংলাদেশের মানুষকে তা মনে করিয়ে দেবে। তাই রবীন্দ্রনাথের একটি প্রাসঙ্গিক উদ্ধতি দিয়ে এই লেখাটি শেষ করছি। ‘এই যে বাংলাদেশ ইহার মৃত্তিকা, ইহার জল, ইহার বায়ু, ইহার আকাশ, ইহার বন, ইহার শস্যক্ষেত্র লইয়া আমাদিগকে বেষ্টন করিয়া আছে... আমরা তাহাকে যেন সত্য পদার্থের মতোই সর্বতোভাবে ভালোবাসিতে পারি...। আমরা যেন ভালোবাসিয়া তাহার মৃক্তিকাকে উর্বর করি, তাহার জলকে নির্মল করি, তাহার বায়ুকে নিরাপদ করি, তাহার বনস্থলীকে ফলপুষ্পবতী করিয়া তুলি, তাহার নর-নারীকে মনুষ্যত্ব লাভে সাহায্য করি।’ (রবীন্দ্রনাথ, ‘বিজিয়া সম্মেলন’, রবীন্দ্র রচনাবলি, ২য় খণ্ড, পৃ. ৭৬১)। লেখক: বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক। (তথ্য সূত্র: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ওয়েবসাইট।)   আর/টিকে

প্রতিবেশীদের সঙ্গে সর্ম্পক উন্নয়ন বড় সাফল্য

ডা.  দীপু মনি । বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। চাদপুর -৩ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ সাল র্পযন্ত ‍তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার আমলে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র খাতে বেশ সফলতা অর্জন করে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন কমনওয়েলথ মিনিস্ট্রেরিয়াল অ্যাকশন গ্রুপ এর প্রথম নারী এবং দক্ষিণ এশীয় চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন। এছাড়া তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সমুদ্র জয় করে। এতে করে বাংলাদেশ সরকার প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের এবং ভারতের সাথে প্রায় চার দশকের সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত অমীমাংসিত বিষয়টি আর্ন্তজাতিক আইনের আওতায় চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তির উদ্যেগ গ্রহণ করে। সরকারের বিভিন্ন সহায়তা নিয়ে একুশে টেলিভিশন অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইন প্রতিবেদক আলী আদনান। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: র্বতমান সরকারের আমলে পররাষ্ট্রনীতিতে সরকারের সাফল্য কেমন? ডা. দীপু মণি: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বহির্বিশ্বে ইতিবাচক সুনাম ও ভাবমূর্তি অর্জনে সক্ষম হয়েছে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছিল বাংলাদেশের সরব উপস্থিতি। প্রতিবেশীদের সঙ্গে পুরনো বিরোধ মিটিয়ে সর্ম্পককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য। শেখ হাসিনার সরকারের আমলেই বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পায়।   একুশে টেলিভিশন অনলাইন:  সরাকরের উল্লেখযোগ্য সফলতাগুলো কী কী? ডা. দীপু মণি: ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। এই সময়ের মধ্যে ভারত ও মিয়ামারের সঙ্গে স্থল ও সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি করা র্বতমান সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য। চার দশক ধরে ভারতের সাথে বাংলাদেশের স্থল সীমা সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। আমরা এই বিরোধ নিস্পত্তি করেছি। ‍ছিটমহলের মানুষ নতুন করে বাচতে শিখেছে। এই সময়ের মধ্যে ভারত, চীন, জাপান, কুয়েতসহ কয়েকটি বন্ধু রাষ্ট্রের সরকার বাংলাদেশ সফর করেছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী জন কেরি ও হিলারি ক্লিনটন বাংলাদেশ সফর করেছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন ওআইসি, বিশ্বব্যাংক প্রধান, জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশ সফর করেছেন। আমাদের সরকার প্রধান শেখ হাসিনা ডি-৮, ন্যাম, সার্ক, আসেম, জাতিসংঘ, ওআইসি, জি-৭ সহ অনেকগুলো বহুজাতিক সংস্থা ও জোটে যোগ ‍দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন। বর্হিবিশ্বের অনেকগুলো রাষ্ট্র যেমন নেদারল্যান্ড, কানাডা, রাশিয়া, সৌদি আরব, জাপান, চীন ও ভারতের সাথে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সফর হয়েছে। আপনারা জানেন, বর্তমান সরকারের আমলেই সংসদ বিষয়ক দুটি আর্ন্তজাতিক সংগঠনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ থেকে। জাতীয় সংসদের স্পিকার  ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হযেছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী ইন্টার পার্লামেন্টারি অ্যাসাসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। জাতিসংঘভুক্ত অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের সদস্য হিসেবে  বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে।   একুশে টেলিভিশন অনলাইন: সেই জায়গা থেকে আর্ন্তজাতিক পরিমণ্ডলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাবমূর্তি কেমন বলে মনে করছেন? ডা. দীপু মণি: একটি রাজনৈতিক সরকারের সফলতা নির্ভর করে তার প্রধানের দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তা ও দূরদর্শিতার উপর। ঐ জায়গা থেকে বর্তমান সরকারের যা অর্জন তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই সম্ভব হয়েছে। আপনারা জানেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা এখন শুধু জাতীয় নেত্রী নয়, বরং বিশ্ব দরবারে তিনি আপন মহিমায় উজ্জ্বল। ২০১৫ সালে বিশ্বখ্যাত মার্কিন সাময়িকী ’ফরেন পলিসি’ বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্বের র্শীষ চিন্তাবিদ হিসেবে আখ্যায়িত করে। জলবায়ু পরির্বতনের অভিঘাত ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তার দূরদৃষ্টি সম্পন্ন নেতৃত্বের কারণে তাকে জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ সম্মান ‘ চ্যাম্পিয়নস অব দ্যা আর্থ” পুরষ্কারে ভূষিত করে। এছাড়া আইটিইউ প্রধানমন্ত্রীকে টেকসই উন্নয়নের জন্য আইসিটি পদক প্রদান করে। জাতিসংঘের ৭১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে ’উন্নয়নের জন্য আইসিটি” পুরষ্কারে ভূষিত করেন। এটাও কিন্তু সরকারের সফলতা। এছাড়া ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কার, প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন, এজেন্ট অব চেঞ্জ, শান্তি বৃক্ষ পুরষ্কার সহ অসংখ্য পুরষ্কার আমাদের তালিকায় যোগ হয়েছে। এসব কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একক কৃতিত্বের ফল। এক কথায় আজ বিশ্ব দরবারে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারণেই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ নিয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হযেছে। আপনি কী মনে করেন? ডা. দীপু মণি: আমি অবশ্যই একমত। বর্তমান সরকারের আমলে বাংলাদেশ আর্ন্তজাতিক পরিমণ্ডলে বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছে। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বঙ্গবন্ধু ‍কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত আজ বিশ্বে নজির সৃষ্টি করেছে। বিশ্বের সঙ্গে সর্ম্পক উন্নয়নের অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনের আত্মঅধিকার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার ছিল বাংলাদেশ। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সন্ত্রাশবাদ দমনেও বাংলাদেশ ভালো ভূমিকা রেখেছিল।  ২০১১ সালে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বাংলাদেশকে উন্নয়নের মডেল হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ, সহস্রাব্দের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহ নানা সফলতা আজ বাংলাদেশকে বিশ্বের অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন:   মূল্যবান সময় দেওয়া জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। ডা. দীপু মণি: একুশে টেলিভিশন অনলাইন পরিবারকেও ধন্যাবাদ।

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি