ঢাকা, শনিবার, ২৬ মে, ২০১৮ ১৬:০০:১৮

এগিয়ে যাচ্ছে ই-কমার্স খাত (ভিডিও)

এগিয়ে যাচ্ছে ই-কমার্স খাত (ভিডিও)

দেশে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে ই-কমার্স খাত। গত দেড় বছরে শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমভিত্তিক বিজনেস পেইজে লেনদেন হয়েছে প্রায় ১৭শ’ কোটি টাকা। দেশীয় ই-কমার্সের অন্যান্য সাইটের হিসেবে এর পরিমান অনেক বেশি বলে জানালেন ই-ক্যাবের প্রেসিডেন্ট শমী কায়সার। আর এ’ খাতকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য শিগগিরই নীতিমালা করা হবে বলে জানালেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার। দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত ই-কমার্স। প্রাতিষ্ঠানিকতার বাইরে ব্যক্তি উদ্যোগেও চলছে বিভিন্ন ই-কমার্স সাইট। এর বেশিরভাগই পরিচালিত হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তবে, এই খাতে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত সহ বিভিন্ন সমস্যার কথা জানান উদ্যোক্তারা। ই-ক্যাবের প্রেসিডেন্ট জানালেন, ক্রেডিট কার্ডসহ আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে এখনো কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। আর প্রান্তিক পর্যায়ে ক্রেতার কাছে পণ্য পৌঁছে দিতে ডাক বিভাগের সহায়তা চাইলেন সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট। ডাক, টেলি যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী বললেন, ই-কমার্স খাতকে আরো সুসংহত করতে প্রস্তাবিত ই-কমার্স নীতিমালাকে ডিজিটাল নীতিমালা নামে চূড়ান্ত করা হবে। ই-কমার্স খাত এক সময়ে গার্মেন্ট শিল্পকে ছাড়িয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা প্রযুক্তি মন্ত্রীর।
পদ্মা সেতুতে বসানো হয়েছে চতুর্থ স্প্যান (ভিডিও)

পদ্মা সেতুতে বসানো হয়েছে চতুর্থ স্প্যান। এই স্পেনটি বসানো হয়েছে শরীয়তপুরের জাজিরা পয়েন্টে। এর ফলে দৃশ্যমান হলো স্বপ্নের সেতুর ৬০০ মিটার। এমন ৪১টি স্প্যান জোড়া দিয়েই তৈরি হবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। সকাল ৮টায় শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা প্রান্তে ৪০ ও ৪১ নম্বর পিলারের ওপর এই সুপার স্ট্রাকচার বসানো হয়। এর আগে শনিবার বিকেলে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যরে স্প্যানটি এসে পৌঁছায় জাজিরা পয়েন্টে। পদ্মা সেতু প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, তিন হাজার ১৪০ টন ওজনের একটি ভাসমান ক্রেন দিয়ে মাওয়া থেকে জাজিরা প্রান্তে স্প্যানটি আনা হয়। চতুর্থ স্পেন বসানোয় স্বপ্নের পদ্মাসেতুর ৬শ’ মিটার দৃশ্যমান হওয়ায় খুশি স্থানীয়রা। শরীয়তপুরের জাজিরা পয়েন্টে বসানো হয়েছে পদ্মাসেতুর চতুর্থ স্প্যান; দৃশ্যমান হলো ৬শ মিটার সেতু

সিলেটে হাইটেক পার্কের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে (ভিডিও)

সিলেটের কোম্পানিগঞ্জ ইলেট্রনিক সিটি বা হাইটেক পার্কের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। এটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে সিলেট থেকেই তৈরি করা সম্ভব হবে সফটওয়্যার, ইলেকট্রনিক পণ্য ও যন্ত্রাংশ। আর প্রথম দিন থেকেই এখানে কর্মসংস্থান হবে ৫০ হাজার মানুষের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ি, ২৮টি হাইটেক পার্কের মধ্যে কোম্পানিগঞ্জ ইলেট্রনিক সিটি বা হাইটেক পার্ক একটি। ফেব্র“য়ারির প্রথম দিকে প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমদ পলক উদ্বোধন করার পর দ্রুতগতিতে চলছে এর নির্মাণ কাজ। ১৬২ দশমিক ৮৩ একর জমিতে প্রকল্পের ভূমি উন্নয়ন, দৃষ্টিনন্দন ডিজাইনের প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুট বিশিষ্ট আইটি বিজনেস সেন্টার, ক্যাবল ব্রিজ, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, গ্যাস লাইন স্থাপন এবং সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছে পুরোদমে। হাইটেক পার্ক নির্মাণ হলে এখানে সফটওয়্যার, ইলেট্রনিক পণ্য ও যন্ত্রাংশ প্রস্তুত করা হবে। আর চালু হওয়ার দিন থেকে ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমদ পলক। হাইটেক পার্কের নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায় উচ্ছ্বসিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। আর চেম্বার নেতারা মনে করেন, শুধু সিলেটের নয়, প্রবাসী বিনিয়োগকারীরাও এখানে বিনিয়োগ করবেন। আগামি এক দশকের মধ্যে দেশের তরুণ প্রজন্ম তথ্য-প্রযুক্তিতে বিপুল অর্থ আয় করতে পারবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও ৬৩টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে (ভিডিও)

দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা সামাল দিতে প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার আরও ৬৩টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। সরকারী ও বেসরকারী খাতে নির্মাণাধীন এসব কেন্দ্রের অগ্রগতি ভালো বলেই জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাস ও কয়লা নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন খরচও সহনীয় পর্যায়ে থাকবে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে শাহরিয়ার ইমনের দুই পর্বের ধারাবাহিকের আজ শেষ পর্ব। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ধারাবহিকভাবে বাড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। ২০২৪ সালের মধ্যে দেশে আরও ১৫ হাজার ৯শ ৬৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারীভাবে ২০টি কেন্দ্র থেকে আসবে ৭ হাজার ৮শ ৫৭ মেগাওয়াট। আর বেসরকারী খাতের ৪৩টি উৎপাদন কেন্দ্র থেকে আসবে আরও ৮ হাজার ১শ ১০ মেগাওয়াট। নতুন এসব কেন্দ্র উৎপাদনে আসলে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা সামাল দেয়া সহজ হবে বলেই আশা বিদ্যুৎ বিভাগের। প্রতিনিয়ত নতুন কেন্দ্র উৎপাদনে আসায় ভবিষ্যতে বিদ্যুতের কোনো সমস্যা থাকবে না বলে জানান বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের ওপর নির্ভরতা কমানো গেলে উৎপাদন খরচও অনেকাংশেই কমানো সম্ভব। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রতিবেশী দেশগুলোতে রপ্তানি করার বিষযটিও ভেবে দেখা দরকার বলে মনে করছেন, বিশেষজ্ঞরা।

উন্নত চুলায় বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ জীবনধারা    

গ্রামীণ এলাকার রান্নাঘরে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও দূষণ কমাতে ‘উন্নত চুলা’ ব্যবহারের প্রচলন করে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি (ইডকল)। মফস্বল শহর ও গ্রামীণ এলাকায় জনপ্রিয় হচ্ছে এটি। কারণ, উন্নত চুলা রান্নাকাজে স্বস্তি আনে। পাশাপাশি জ্বালানি খরচ ও সময় বাঁচায়। সেইসঙ্গে পরিবেশের ক্ষতি কম হয়, স্বাস্থ্যঝুঁকিও কম।    গাবতলী উপজেলা ঘুরে দেখা গেল, ঘরে ঘরে এখন উন্নত চুলার ব্যবহার হচ্ছে। সেখানকার একটি বড় অংশে ব্যবহৃত হচ্ছে ইডকলের এ উন্নত চুলা। সন্ধ্যা গ্রামের শাহিনুর বেগম বলেন, এক পর্যায়ে হাঁপানির সমস্যা দেখা দেওয়ায় মাঝে মাঝে কেরোসিনের চুলা ব্যবহার করা শুরু করি। কিন্তু খরচে পোষায় না। এখন উন্নত চুলায় রান্নাবান্নার কাজ সারি। এতে ধোঁয়া নেই এবং সময়ও লাগে কম। সোনারায় ইউনিয়নের সর্ধনকুটি গ্রামের গৃহিণী রওশন আরা জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কম্পানি লিমিটেড (ইডকল) থেকে প্রথম যখন তাঁকে উন্নত চুলা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়, তখন আমলে নেননি। অনেক বোঝানোর পর এই চুলা বসাতে রাজি হন তিনি। তিনি বলেন, মাটির চুলায় লাকড়িও বেশি লাগত। রান্না করতে সময়ও বেশি লাগত। পাতিলের নিচে অনেক কালি জমা হতো। যা ওঠাতে অনেক সময় লেগে যেত। শক্তিও খরচ হতো। ইডকলের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মো. আলী আকবর হোসেন বলেন, প্রচলিত মাটির চুলায় জ্বালানির অপচয় ঘটে ৯০ শতাংশ। উন্নত চুলার আগুন ছড়ায় না তাই দ্রুত তাপে রান্না দ্রুত হয়। ইডকল জানায়, ২০১৩ সালে উন্নত চুলা (ইমপ্রুভড কুক স্টোভস- আইসিএস) প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। চুলার নকশাটি করেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। তারের জালি, চিমনি, মাটি, কংক্রিট, ছাকনি, এমএস শিট এবং র’ কুলের সমন্বয়ে তৈরি এটি।    প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য মতে, শুধু বগুড়া জেলায় তাদের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত এক লাখ ৯০ হাজার উন্নত চুলা বসানো হয়েছে। বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) গবেষণায় উঠে এসেছে, উন্নত চুলা ব্যবহারে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব। একই সঙ্গে এই চুলা ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কম কার্বন নিঃসরণ করে। উন্নত চুলা পরিবেশসম্মত হওয়ায় এই খাতে অর্থায়নে এগিয়ে এসেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি এ বাবদ বাংলাদেশকে সহজ শর্তে পাঁচ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) তথ্য বলছে, মাটির চুলা ব্যবহারে ধোঁয়ায় প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় এক লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। যার মধ্যে বেশির ভাগই শিশু। শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানি রোগে কষ্ট পায় ২৫ লাখ মানুষ। এখানেও শিশু ও মায়ের সংখ্যা বেশি। বাংলাদেশে এখনও ৯০ শতাংশ পরিবার রান্নার জন্য প্রচলিত চুলা অর্থাৎ মাটির চুলা ব্যবহার করে বলে ইডকলের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ইডকলের সহকারী ম্যানেজার রাসেল আহমেদ বলেন, উন্নত চুলার ব্যবহার বাড়াতে পারলে কর্মসংস্থানও তৈরি হবে। একে//এসি   

দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে মেট্রোরেল ( ভিডিও )

দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে বহুল প্রত্যাশিত মেট্রোরেল। চলছে ভায়াডাক্ট বা স্প্যান বসানোর কাজ। উত্তরা দিয়াবাড়ি’র পর, চলতি মাসে-ই আগারগাঁওয়ে আরো একটি স্প্যান বসানো হবে। এরপর, দুই দিক থেকে খুঁটি নির্মাণ ও স্প্যান বসানোর কাজ এগিয়ে নেয়া হবে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে, উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত, প্রথম পর্যায়ে মেট্রোরেল চালুর লক্ষ্য দিয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। জানাচ্ছেন, মুহাম্মদ নূরন নবী। দুই পর্বের ধরাবাহিকের প্রথম পর্ব আজ। এমআরটি লাইন-সিক্স- দেশের প্রথম মেট্রোরেল প্রকল্প। দিন কিংবা রাতে সমান তালে চলছে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ। কাজের অগ্রগতির পরিসংখ্যান বলছে, প্রকল্পের প্রথম পর্বে, উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ৯টি টেস্ট পাইলের ৯টিরই নির্মাণ কাজ শেষ। চেক বোরিং ৩শ’ ৮৩টির মধ্যে ৩শ’ ৬৯টি; বাণিজ্যিক পাইল দুই হাজার ৩শ’ ৭৮টির মধ্যে ৮শ’ ৩০টি শেষ হয়েছে। প্রকল্প এলাকার দিয়াবাড়ি অংশে এরিমধ্যে, একটি ভায়াডাক্ট বা স্প্যানের অবয়ব দাঁড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে, এ’ মাসেই আগারগাঁও অংশে জেগে উঠছে, আরো দুটি মূল পিলার। তখন, সেখানেও ভায়াডাক্ট দৃশ্যমান হবে। দুই প্রান্ত থেকে নির্মাণ কাজ এগিয়ে নিয়ে, ২০১৯ এর জুনের মধ্যেই প্রাথমিক কাজ শেষ করার পরিকল্পনা প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের। জাপানের গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কাওয়াসাকি-মিৎসুবিশি ট্রেন নির্মাণের ডিজাইন চূড়ান্ত করেছে। আর, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরেই, প্রাথমিকভাবে ৬ সেট বগি দিয়ে, মেট্রোরেল সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

সেবা খাতে মজুরি বেড়েছে বেশি : বিবিএস

কৃষি ও শিল্প খাতের তুলনায় সেবা খাতের কর্মীদের মজুরি বেড়েছে বেশি হারে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সর্বশেষ যে মজুরি সূচক প্রকাশ করেছে, তা বিশ্নেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, মজুরি বৃদ্ধিতে সেবা খাতের পরে রয়েছে শিল্প ও কৃষি খাতের শ্রমিকরা। এদিকে সারাদেশের শ্রমিকদের মধ্যে রংপুর বিভাগের শ্রমিকদের আয় বাড়ছে বেশি হারে। আর সিলেট বিভাগের শ্রমিকদের মজুরি সবচেয়ে কম হারে বেড়েছে। গত মার্চ মাসে গত বছরের একই মাসের তুলনায় সারাদেশে মজুরি বেড়েছে ৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এর মধ্যে সেবা খাতে মজুরি বেড়েছে ৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ। কৃষি খাতে বেড়েছে ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। শিল্পে ৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ মজুরি বেড়েছে। ঢাকা বিভাগে মজুরি বেড়েছে ৬ দশমিক ৮১ শতাংশ। শিল্প ও সেবা খাতের কর্মকাণ্ড ঢাকা বিভাগে বেশি। দেশের কলকারখানার বেশিরভাগই এ বিভাগে অবস্থিত। শিল্পসমৃদ্ধ চট্টগ্রাম বিভাগে ৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ হারে বেড়েছে মজুরি। এ বিভাগেও অনেক শিল্পকারখানা রয়েছে, রয়েছে সেবা খাতের ব্যাপক কার্যক্রম। কৃষিনির্ভর রাজশাহী বিভাগে মজুরি বেড়েছে ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ। আরেক কৃষিনির্ভর বিভাগ রংপুরে মজুরি বেড়েছে ৭ দশমিক ৩২ শতাংশ। মার্চ মাসে খুলনা বিভাগে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ। বরিশাল বিভাগে মজুরি বেড়েছে ৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ। সিলেট বিভাগে ৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ হারে মজুরি বেড়েছে। কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের ৪৪ ধরনের পেশার মানুষের আয় নিয়ে বিবিএস মাসিক ভিত্তিতে এ মজুরি সূচক তৈরি করে থাকে। এর মধ্যে কৃষি খাতের ১১ পেশা, শিল্প খাতের ২২ পেশা ও সেবা খাতের ১১ ধরনের পেশার আয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। দৈনিক ভিত্তিক অদক্ষ শ্রমিকের মজুরির ভিত্তিতে করা এ সূচকে বেতনভুক্ত ও উচ্চমূল্যের চুক্তিতে যারা কাজ করছেন তাদের আয় অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। আয় বাড়লেও মূল্যস্ম্ফীতির সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারেন না শ্রমিকরা। কারণ শ্রমিকদের আয়ের সিংহভাগ ব্যয় হয় খাদ্য কেনার পেছনে। গড় খাদ্য মূল্যস্ম্ফীতি যে হারে বেড়েছে নিম্ন মজুরির শ্রমিকদের আয় সেই হারে বাড়েনি। মার্চ মাসে গড় খাদ্য মূল্যস্ম্ফীতি ছিল ৭ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। গত কয়েক মাস ধরে প্রধান খাদ্যপণ্য চাল কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এসএইচ/

চার জেলার লুঙ্গি রফতানি হচ্ছে ২৫ দেশে

বাঙালিদের কাছে লুঙ্গি প্রিয় এবং ঐতিয্যবাহী একটি পোশাক। এ পোশাক পড়তেই ভালোবাসেন প্রায় সবাই বলা যায়। তা দেশে বা দেশের বাইরে যেখানেই হোক না কেনো। সিরাজগঞ্জ, পাবনা, টাঙ্গাইল ও নরসিংদীর লুঙ্গি এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে রফতানি হচ্ছে ২৫টি দেশে। প্রায় দুই কোটি পিস লুঙ্গি রফতানি হচ্ছেে এসব দেশে। বছরে প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা আয় হচ্ছে। বিদেশে অনেক বাংলাদেশি কাজ করছেন। তাদের চাহিদা পূরণ করতেই মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, বাহারাইন, দুবাই, ইরাক, কুয়েত, লিবিয়া, ইন্দোনেশিয়া, কানাডা, ইংল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্রসহ ২৫ দেশে লুঙ্গি রফতানি হচ্ছে। এসব দেশে বসবাসকারী বাঙালিরাই মূলত এ লুঙ্গির ক্রেতা। ইন্দোনেশিয়াসহ অনেক দেশের লোকজন শখ করে এ দেশের লুঙ্গি কিনেন। দেশে ১৯৯৮ সালে বিদ্যুৎচালিত পাওয়ারলুমে লুঙ্গি তৈরি শুরু হয়। বর্তমানে এ ধরনের তাঁতে ৯০ শতাংশ লুঙ্গি তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া চিত্তরঞ্জন ও পিটলুমে লুঙ্গি তৈরি হচ্ছে। পাবনা, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও নরসিংদীর ছোট-বড় মিলিয়ে লুঙ্গি প্রস্তুতকারক ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় সোয়া এক লাখ। তাঁতিরা জানান, একসময় নামে-বেনামে বিক্রি হওয়া লুঙ্গি এখন পরিচিতি পাচ্ছে নিজস্ব ব্র্যান্ডে। দেশে প্রথম লুঙ্গি ব্র্যান্ডিং শুরু করে নরসিংদীর হেলাল অ্যান্ড ব্রাদার্স। সোনার বাংলা টেক্সটাইল, ডিসেন্ট, ইউনিক, স্ট্যান্ডার্ড, আমানত শাহ, রুহিতপুরী, স্মার্ট, অমর, পাকিজা, এটিএম, বোখারী, ফজর আলী, অনুসন্ধান, জেএম, স্কাই, ওয়েস্ট, রংধনুসহ ১২৫ ব্র্যান্ডের লুঙ্গি বাজারে বিক্রি হচ্ছে। মান ভেদে প্রতিটি লুঙ্গি ৩৫০ থেকে ৭০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভালো ডিজাইনের কারণে বাংলাদেশের লুঙ্গির দিকে নজর এখন বিদেশিদেরও। বাংলাদেশি লুঙ্গির বড় ক্রেতা ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। তারা বাংলাদেশ থেকে লুঙ্গি নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বাজারে প্রতি পিস এক হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি করছেন। ভারতের মালদহ জেলার একজন আমদানি ও রফতানিকারক জানান, বিভিন্ন রাজ্যের ১২ জন আমদানি-রফতানিকারক এখান থেকে লুঙ্গি নিয়ে ভারতের বিভিন্ন নামি প্রতিষ্ঠানের স্টিকার লাগিয়ে অন্য দেশে রফতানি করছেন। ভারতীয় আমদানিকারকরা বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর প্রায় এক কোটি ২৫ লাখ পিস লুঙ্গি কেনেন বলে তিনি জানান। শাহজাদপুরের পাইকারি কাপড় ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ আল মাসুদ জানান, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, এনায়েতপুর; পাবনার আতাইকুলা, টাঙ্গাইলের করটিয়া ও নরসিংদীর বাবুরহাট থেকে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ২৫ কোটি টাকার কাপড় কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এতে এ অঞ্চলের তাঁতশিল্প প্রাণ ফিরে পেয়েছে। সোনার বাংলা টেক্সটাইলের মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন, এখন ক্রেতারা লুঙ্গি কেনার ক্ষেত্রে ব্র্যান্ডকে প্রাধান্য দেন। বাংলাদেশ লুঙ্গি ম্যানুফ্যাকচারার্স, এক্সপোর্ট অ্যান্ড ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েসনের সভাপতি ও আমানত শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. হেলাল মিয়া জানান, সরকারি সহযোগিতা পেলে তৈরি পোশাকের পর লুঙ্গি দিয়ে বিশ্ববাজারে নতুন জায়গা করে নেওয়া যাবে। এসএইচ/

অনুমোদন পাচ্ছে আরও  ২০ অর্থনৈতিক অঞ্চল

আরও ২০ অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইজেড) স্থাপনের জন্য স্থান নির্বাচন করেছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। প্রাথমিকভাবে যাচাই-বাছাই শেষে এগুলো অনুমোদনের জন্য তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ ২০ অর্থনৈতিক অঞ্চল অনুমোদন হলে সরকারের পরিকল্পিত মোট ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে ৯৯টির স্থান নির্বাচন চূড়ান্ত হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে এগুলোর মধ্য থেকে বেসরকারি ইজেডগুলোর উন্নয়ন ও শিল্প স্থাপনের জন্য বিনিয়োগে যেতে প্রাক-যোগ্যতা সনদ ও চূড়ান্ত সনদ দেবে বেজা। এর পাশাপাশি সরকারি ইজেডগুলোর উন্নয়ন ও বিনিয়োগের জন্য বরাদ্দের প্রক্রিয়া শুরু হবে। বিভিন্ন জেলা প্রশাসক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য নিয়মিত বেজার কাছে প্রস্তাব দিচ্ছে। বেজার কাছে আসা শতাধিক ইজেড প্রস্তাব থেকে বাছাই করে এই ২০ অঞ্চল অনুমোদনের জন্য তালিকা করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি সাতটি ও বেসরকারি ১৩টি। বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী জানান, আরও যে ২০টির অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে, সেগুলো অনুমোদন পেলে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনার ৯৯টি চিহ্নিত হচ্ছে। তবে বেজার বোর্ডে অনুমোদন পাওয়া ইজেডগুলোর কাজের অগ্রগতি মূল্যায়ন করে কিছু বাদ পড়তে পারে। আবার নতুন করে কিছু যুক্ত হতে পারে। তিনি জানান, বর্তমানে মিরসরাই ইজেড ও মহেশখালী ইজেড উন্নয়নের কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চলছে। এগুলোতে দেশ-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে আসছেন। আর ইজেড উন্নয়নের ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত জমি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে বিদেশি বড় কোম্পানি বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে জানান পবন চৌধুরী। জানা গেছে, ইতিমধ্যে অনুমোদন পাওয়া ইজেডগুলোর মধ্যে ২৩টির উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে বেজা ও বেসরকারি উদ্যোক্তারা। অন্যদিকে বেসরকারি পর্যায়ে ১৭ ইজেডের প্রাক-যোগ্যতা সনদ দেওয়া হয়েছে। একে// এআর

‘সমৃদ্ধির পথযাত্রায়’ পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রীর আহবান

গত ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগীদের ২ দিনের সম্মেলন। এই সম্মেলনে মূলত দেশের উন্নয়ন, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, স্যানিটেশন প্রভৃতি খাতে আন্তর্জাতিক দাতা, সহযোগী সংস্থাগুলো কর্তৃক প্রদত্ত ঋণ, দান-অনুদান প্রদানকারীদের নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকদের বৈঠক হয়। একে সংক্ষেপে বিডিএফ বৈঠক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এই বৈঠকে সরকারের তথা দেশের পরবর্তী উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে আর্থিক সহায়তা, ঋণ, অনুদানের প্রয়োজনীয়তা; চাহিদা; বিগত সময়ে প্রদত্ত ঋণ, দান-অনুদানে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সদ্যসমাপ্ত বিডিএফ বৈঠকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর উদ্দেশ্যে ‘সমৃদ্ধির পথযাত্রায়’ বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর জন্য উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পরিবেশের পরিবর্তন ও জলবায়ু-সংক্রান্ত হুমকি মোকাবেলা করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করা। এ জন্য উন্নত দেশগুলোকে আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আমরা আন্তর্জাতিক সহযোগী দেশ ও সংস্থাগুলোসহ ব্যক্তি খাতের অংশীদারিত্বকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি।’ তার এই বক্তব্য ও আহবানের সূত্র ধরে বলা প্রাসঙ্গিক যে, তথ্যপ্রযুক্তি, জ্ঞান-বিজ্ঞানের এই যুগে কোনো দেশ এখন একক বা একা নয়, তাকে চলতে হয় অন্য দেশ, বন্ধু, ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলো ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোকে সঙ্গে নিয়ে। আর সে কারণে প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বান যৌক্তিক, প্রাসঙ্গিক এবং সময়োপযোগী। বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ফোরামের (বিডিএফ) বৈঠক একটি উচ্চ পর্যায়ের ইভেন্ট যেখানে সরকার এবং তার উন্নয়ন অংশীদারদের নিয়ে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার জন্য আরো অংশীদারিত্ব আবিষ্কার করতে কাজ করে। এখানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এজেন্ডাগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অংশীদারিত্ব বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা করতে বিভিন্ন গবেষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সরকারি নীতিনির্ধারক এবং সহযোগী উন্নয়ন সংস্থাগুলোর নেতারা সমবেত হন। এবারের বিডিএফ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জানান, প্রথমবারের মতো ২০১৮ সালের মার্চ মাসে ইউএনসিডিপির ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভায় বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের যোগ্যতা লাভ করবে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সমকক্ষ হবে। তবে এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ বর্তমানে যেসব সুবিধা ভোগ করে, গ্র্যাজুয়েশনের পর তা বন্ধ হয়ে যাবে। অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং কার্যক্ষেত্রে প্রস্তুতির মাধ্যমে তা পুষিয়ে নেয়া সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে অমিত সম্ভাবনার দেশ আখ্যায়িত করে বলেন, বিশ্বের বুকে একটি গতিশীল অর্থনীতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার প্রত্যয় ও উপকরণ আমাদের রয়েছে। বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের এ বৈঠক দারিদ্র্যমুক্ত, ক্ষুধামুক্ত সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য যৌথ কর্মপন্থা নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দেশকে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন কর্মপরিকল্পনা। তিনি আরো বলেন, উৎপাদনশীলতাকে জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি করে বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতাগুলো আংশিকভাবে পুষিয়ে নেয়া যেতে পারে। শিক্ষা ও দক্ষতার সঠিক ব্যবহারের ফলে বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নসহ রেমিটেন্স বৃদ্ধি পাবে এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করবে। ইতিমধ্যে ‘স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনে বাংলাদেশ অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। সারা দেশে ১৮ হাজার ৫০০ কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে। জনগণের কাছে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি মাধ্যম হিসেবে এ উদ্যোগ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার অন্যতম দুটি প্রধান কারণ হচ্ছে- দারিদ্র্য এবং জেন্ডার-বৈষম্য। আমাদের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার কেন্দ্রবিন্দুতে নারীর ক্ষমতায়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশ জেন্ডার বাজেট প্রণয়নে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে নেতৃস্থানীয় দেশ। শহরে টেকসই পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে বড় বাসের সংখ্যা বৃদ্ধিসহ র‌্যাপিড মাস ট্রানজিট, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং রেলভিত্তিক মাস ট্রানজিট সিস্টেম চালু করা হয়েছে। প্রাইভেট সেক্টর এবং এনজিওগুলোকেও হাউসিং এবং অন্যান্য সার্ভিস ডেলিভারি যেমন স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা ইত্যাদির ক্ষেত্রে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের সঠিক বাস্তবায়ন দরকার। তবে ইতোমধ্যে এ জন্য প্রয়োজন অধিকতর বৈদেশিক বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রমও সরকার বাস্তবায়ন করছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে, কৃষিতে জলবায়ু ও দুর্যোগ-সংক্রান্ত ঝুঁকি প্রতিরোধ এবং হ্রাস করার জন্য টেকসই ও উৎপাদনমুখী কৃষি পদ্ধতির ওপর গুরুত্বারোপ করার কথা। গবাদিপশু উৎপাদনের পদ্ধতি ও পরিবর্তিত গ্রেইজিং পদ্ধতি প্রবর্তন করার উদ্যোগ গ্রহণ করার কথা। একই সাথে আমরা জলবায়ু সহনীয় খাদ্য উৎপাদন পদ্ধতি, লবণাক্ত পানি এবং বন্যা সহনীয় শস্যাদি উৎপাদনের চেষ্টার কথা। প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন সহযোগীদের জানিয়েছেন, গত এক দশকে আমাদের গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬.২৬ শতাংশ। গত অর্থবছরে এ হার ৭.২৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। একই সময়ে আমাদের রফতানি আয় ও বিদেশ থেকে প্রেরিত রেমিট্যান্সের পরিমাণ তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় নয় গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। ১৯৯১ সালে যেখানে দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ, এখন সেই হার ২২ দশমিক ৪ শতাংশে নামিয়ে এনেছি। অতি দারিদ্র্যের হার ৭ দশমিক ৯ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দারিদ্র্র্যের হার ১৪ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করে নিরন্তর কাজ চলছে। জিডিপির ভিত্তিতে বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের ৪৪তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ আর ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে এর অবস্থান ৩২তমবলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০৩০ ও ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ জিডিপি ও ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে বিশ্বের যথাক্রমে ২৮ ও ২৩তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে স্থান করে নিতে সক্ষম হবে। চলতি অর্থবছরে বৈদেশিক বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। রেমিটেন্স এসেছে ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিদ্যুৎ উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট। শতকরা ৮৩ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে ৭২ বছর হয়েছে। ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে উন্নীত করার লক্ষ্যে আমাদের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, রূপকল্প-২০২১ এবং জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-২০৩০ অর্জন করতে হবে। দেশকে সামনের দিকে এবং সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার। রূপকল্প-২০২১-এর লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর করা। এ জন্য ৭ম, ৮ম ও ৯ম- এ তিনটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য ২০৩০ বাস্তবায়ন করা এখন জরুরি। জাতিসংঘের ২০৩০ এজেন্ডা নির্ধারণ যখন প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল তখন ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়; যার ফলে বিশ্ব উন্নয়ন এজেন্ডা প্রণয়নে অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে আমাদের জাতীয় পরিকল্পনায় তার প্রতিফলন ঘটছে সাফল্যজনকভাবে। সদ্যসমাপ্ত এ সম্মেলনে দেশের উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্য ও কৌশল বিডিএফ নেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়। এ বিষয়ে তাদের কাছে তাদের পরামর্শ ও মতামত জানতে চাওয়া হয়। উন্নয়ন পরিকল্পনা ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে উন্নয়ন সহযোগী, সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী ও বেসরকারি খাতসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলেই আমরা বিশ্বাস করি। সূত্র: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইট   আর/টিকে

বৈশ্বিক আইনের শাসনের সূচকে বাংলাদেশ একধাপ উন্নতি

বৈশ্বিক আইনের শাসন সূচকে এক ধাপ উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের। সারাবিশ্বে নির্ধারিত ১১৩ টি দেশে আইনের শাসন র‌্যাংকিং পরিচালনা করা হয়। এতে ১০৩ থেকে ১০২ ধাপে এখন অবস্থান করছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে গত বুধবার প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট (ডব্লিউজেপি) এর প্রকাশিত ২০১৭ সালের বৈশ্বিক আইনের শাসন সূচক থেকে এ তথ্য জানা যায়। সেখানে দেখা যায়, বাংলাদেশ ২০১৭ সালে সাবির্ক আইনের শাসন সূচকে এক ধাপ এগিয়ে ১০২ হয়েছে। ২০১৬ সালে ছিল ১০৩। ডাব্লিউজেপি’র তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে যেখানে অধিকাংশ দেশ সূচকে পিছিয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ এক ধাপ এগিয়েছে। ওয়াশিংটন ভিত্তিক নিরপেক্ষ মাল্টিডিসিপ্লিনারি সংস্থা ডব্লিউজেপি সারাবিশ্বে আইনের শাসন নিয়ে কাজ করছে। এর সূচক আইনের শাসনের ওপর প্রকৃত তথ্যের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে নির্ভযোগ্য উৎস। সংস্থাটি ১১৩ টি দেশের আইনের শাসনের ওপর কাজ করে এই সূচক তৈরি করেছে। এই সূচক তৈরিতে সারাবিশ্বে ১১৩ টি দেশের ১ লাখ ১০ হাজার পরিবার এবং ৩ হাজার বেশি বিশেষজ্ঞের ওপর জরিপ চালানো হয়। জরিপের সময়ে প্রতিটি দেশে সরকারি ক্ষমতা, দুনীর্তি মুক্ত,উন্মুক্ত সরকার, মৌলিক অধিকার, আদেশ ও নিরাপত্তা, নিয়মিত বাহিনী, দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থাসহ আটটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। ২০১৭ সালের সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ সমূহের মধ্যে বাংলাদেশ চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ সমূহের মধ্যে নেপাল শীর্ষে অবস্থান করছে। এরপরই শ্রীলংকা ও ভারতের অবস্থান। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে পিছনে ফেলে বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে। ২০১৭ সালের সূচকে অবস্থানকারি তিনটি শীর্ষ দেশ হলো যথাক্রমে ডেনমার্ক, নরোওয়ে ও ফিনল্যান্ড। সূচকের তালিকার সর্বনিম্ন রয়েছে আফগানিস্তান,কম্বোডিয়া এবং ভেনেজুয়েলা। সূত্র: বাসস এসএইচএস/টিকে

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি