ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৮ ১৫:৩৯:৩৩

দিনাজপুরে প্রচুর রসুন চাষ হলেও ফলন কম (ভিডিও)

দিনাজপুরে প্রচুর রসুন চাষ হলেও ফলন কম (ভিডিও)

দিনাজপুরে এ’বছর প্রচুর রসুন চাষ হলেও রোগ-বালাইয়ের কারণে ফলন কম হয়েছে। আর বাজারে দাম কম থাকায় লোকসানে বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষককে। এতে করে আবাদের খরচও তুলতে পারছেনা তারা। এদিকে ফরিদপুরে রসুনের ফলন ভালো হলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় হতাশ কৃষকেরা। দিনাজপুর জেলায় এ মৌসুমে রসুনের চাষ হয়েছে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে শুধু খানসামা উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে। মোট আবাদের ৮০ ভাগই চাষ হয় এই উপজেলায়। এক বিঘা জমিতে রসুন আবাদ করতে খরচ হয় ৪০ থেকে ৪২ হাজার টাকা। ভালো ফলন হলে প্রায় ৬০ মন ফলন পাওয়া যায়। এক মন রসুন বিক্রি হচ্ছে ছয়শ টাকা। বর্গা চাষীরা পড়েছেন আরো বিপাকে। এদিকে স্বল্প চাষে রসুন আবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে কৃষি বিভাগ। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় গতবারের তুলনায় এ’বছর রসুনের ফলন ভালো হলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় হতাশায় ভুগছেন ফরিদপুরের কৃষকেরা। জেলায় এ বছর আগের চেয়ে ২১০টন বেশি রসুন উৎপাদন আশা করছে কৃষি বিভাগ। আগামীতে রসুন চাষে সরকারের সব ধরণের সহযোগিতা কামনা চান এ’অঞ্চলের কৃষকেরা।
চাষাবাদের নতুন দিগন্ত    

সংরক্ষণশীল কৃষি আবাদ মূলত একটি চাষাবাদের পদ্ধতি, যার মাধ্যমে স্বল্প চাষে পূর্ববর্তী ফসলের কিছু অবশিষ্টাংশ রেখে কম সময়ে ও কম খরচে লাভজনকভাবে ফসল উৎপাদন করা সম্ভব। এ আবাদ পদ্ধতিতে গম, ভুট্টা, ডাল, তৈলবীজ, পাট ও রবিশস্যে স্বাভাবিক চাষ পদ্ধতির চেয়ে ফলন ১৫ শতাংশ বেশি বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তা ছাড়া এ পদ্ধতিতে কৃষকের উৎপাদন খরচ শতকরা ৪০-৪৫ ভাগ কম হয়।  সংরক্ষণশীল কৃষি পদ্ধতি বলতে সামগ্রিকভাবে তিনটি পদ্ধতিকে বুঝায়। যথাসম্ভব কম চাষ করে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি ও মাটির রস বজায় রাখা, মাটির রস ধরে রাখতে পূর্ববর্তী ফসলের কিছু অবশিষ্টাংশ মাটির উপরিভাগে রেখে দেওয়া এবং ধান ও অন্যান্য ফসলের মধ্যে লাভজনক শস্য পর্যায় অবলম্বন করা। বিশেষজ্ঞরা জানান, বর্তমানে জমিতে মাত্রাতিরিক্ত বিভিন্ন রাসায়নিক সার ও বালাইনাশকের অপরিকল্পিত ব্যবহারে মাটির উর্বরতা দিন দিন কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে ভূগর্ভস্থ পানির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে পানির স্তর ক্রমশ নিচে নেমে যাচ্ছে। ফলে অদূর ভবিষ্যতে কৃষি কাজ মারাত্মক হুমকির সম্মুক্ষীন হবে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ ও কৃষি কাজ টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন কৃষি কাজের ধরনের পরিবর্তন ও সচেতনতা বৃদ্ধি। যাতে প্রাকৃতিক সম্পদেরও ক্ষতি না হয় এবং ফসল উৎপাদন সম্ভব হয়। এ জন্য উন্নত দেশগুলোতে (অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, ব্রাজিল) সংরক্ষণশীল কৃষি ব্যবহার করা হচ্ছে।    সংরক্ষণশীল কৃষি আবাদ পদ্ধতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে এটি যান্ত্রিক উপায়ে ফসল উৎপাদনের একটি অংশ, জমিতে পূর্ববর্তী ফসলের ৮-১০ ইঞ্চি নাড়া রেখে সিডার মেশিনের সাহায্যে একই সঙ্গে সরু লাইনে জমি চাষ ও বীজ বপন করা যায়। আলাদা করে চাষ দিয়ে জমি তৈরির প্রয়োজন হয় না। তবে এটি নিয়ে আরও বেশি পরিমাণে গবেষণা করা দরকার বলে মনে করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ওয়াইস কাবির। কম চাষ জমির রস সংরক্ষণ করে, ক্ষয় রোধ করে ও মাটির উর্বরতা বাড়াতে সহায়তা করে, অধিক চাষে খরচ ও সময়ের অপচয় হয় কিন্তু কম চাষে খরচ কম হয় সময়ের অপচয় কম হয়, শ্রমিক কম লাগে ফলে উৎপাদন খরচ কম হয়, জমিতে নাড়া রাখার ফলে জমিতে জৈব পদার্থ যোগ হয়, মাটির পানি ধারন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং লবণাক্ততা কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া ধান, গম, ভুট্টা, ডাল শস্য এমনকি পাটও চাষ করা যায়। স্বাভাবিক চাষের চেয়ে আগাম বীজ বপন করা যায় যা শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধিতে সহায়ক। সংরক্ষণশীল কৃষি সময়, সেচ, শ্রমিক, সার, বীজ সর্বোপরি উৎপাদন খরচ সাশ্রয় করে এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।    একে//এসি  

বরগুনায় সূর্যমুখীর চাষে ব্যাপক সাড়া

সূর্যমুখী চাষে কোন ঝুঁকি নেই। ভোজ্য তেল ও সব ধরণের সবজির সঙ্গে খাওয়া যায়। পুষ্টিমান অনেক বেশি। কোলেস্টেরলমুক্ত তেল। এ অঞ্চলের কৃষকের কাছে লাভজনক কৃষি ফসল হিসেবে সূর্যমুখী চাষ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আমতলী উপজেলার পূর্বচিলা গ্রামে আউশ ও আমন ধানের চাষ ছাড়া কৃষকরা কোন অর্থকরী ফসল ফলানোর চিন্তা মাথায় নেয়নি। কৃষকের কাছে বিকল্প কোন চাষযোগ্য ফসলও ছিল না। কয়েক বছর আগে উন্নয়ন সংস্থা ব্রাক তাদের বিকল্প হিসেবে সূর্যমুখী চাষ করার সুযোগ তৈরি করে দেয়। এ সূর্যমুখী চাষের সুবাদে দুই ফসলি জমি তিন ফসলিতে পরিণত হয়েছে। গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় বরগুনা জেলায় এ মৌসুমে ১৫৩২ হেক্টর জমিতে সূর্যমূখীর চাষ করেছেন জেলার প্রায় ৩ হাজার কৃষক। এর মধ্যে আমতলী উপজেলাতেই ৭ শ ৩০ হেক্টর চাষের আওতায় এসেছে। কম পরিশ্রম ও কম অর্থ বিনিয়োগ করে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। সূর্যমুখী চাষ কৃষি অর্থনীতিতে সমৃদ্ধির মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে কৃষক ও কৃষিবিদরা জানিয়েছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও উন্নয়ন সংস্থা ব্রাকের পরামর্শ ও সহযোগিতায় সূর্যমুখী চাষ এ অঞ্চলে জনপ্রিয় হয়েছে। কৃষক ও কৃষিবিদেরা জানিয়েছেন, সূর্যমুখীর চারা রোপণের ১১৫ দিনের মধ্যে ফসল পাওয়া যায়। মূলত প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে সূর্যমুখীর চাষ করা হচ্ছে। সূর্যমুখী ফুলের দানা থেকে ভোজ্যতেল উৎপাদন করা হয়। এছাড়া সর্ষে বাটার মতো করে সূর্যমুখী ফুলের দানা খাওয়া যায়। সূর্যমুখী গ্রামের মানুষের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনছে। এক একর জমিতে সূর্যমুখী চাষে খরচ পড়ে প্রায় ১২ হাজার টাকা। একরে সূর্যমুখী উৎপাদন হয় ৩৩-৩৫ মণ। একমণ সূর্যমুখী ফুলের বীজের বাজার মূল্য প্রায় ১৩-১৪ শ টাকা। একর প্রতি উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে কৃষকের প্রায় কমবেশি ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা লাভ থাকে। সূর্যমুখী ফুলের বীজ সংগ্রহ করার পর বিশাল বিশাল গাছগুলো জমিতে পচিয়ে জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এতে জমির জৈবসারের ঘাটতি পূরণ হয়। অনেক কৃষক পরিবার তার দৈনন্দিন জীবনে রান্নার কাজের জ্বালানি হিসেবে সূর্যমুখীর খড়ি ব্যবহার করে থাকে। এতে করে জ্বালানি কাঠের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস পাচ্ছে। জেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা বদরুল হোসেন জানান, নতুন লাভজনক ফসল চাষে কৃষককে প্রেরণা যোগাতে মাঠ পর্যায়ে কাজ চলছে। মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এই লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে মাঠ পর্যায়ে দু’ফসলি জমিতে কীভাবে বছরে ৩টি অর্থকরী কৃষি ফসল খাদ্য শষ্য চাষ করা যায় তা নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। সফলতাও এসেছে। বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহী নূর আজম খান জানান, সূর্যমুখী চাষে কৃষক পরিবারগুলো ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছে। সূর্যমুখী চাষ গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। কৃষক পরিবারগুলো ফুলচাষে লাভের মুখ দেখায় সূর্যমুখী ফুল চাষে ঝুঁকে পড়েছে। সূর্যমুখী চাষ অর্থনৈতিকভাবে খুবই লাভজনক। সূত্র : বাসস এসএ/

ফরিদপুরের চরাঞ্চলে উচ্চ ফলনশীল ভুট্টা চাষ (ভিডিও)

বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ফরিদপুরে চরাঞ্চলের কৃষকেরা এবার সরকারি প্রণোদনায় উচ্চ ফলনশীল ভুট্টা চাষ করেছেন। প্রত্যাশিত দাম পেলে আগামীতে আরো বেশি জমিতে ভুট্টা আবাদের কথা জানিয়েছেন তারা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ’বছর সাড়ে ৫ হাজার টন ভুট্টা পাওয়া যাবে বলে জানালেন জেলা কৃষি কর্মকর্তা। ফরিদপুর জেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে যেদিকে চোখ যায়, শুধুই ভুট্টার ক্ষেত। গত বছরের বন্যায় ফসলহানির ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এ’বছর উচ্চ ফলনশীল ভুট্টার চাষ করেছেন কৃষকেরা। ভালো ফলন পেতে ক্ষেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। ইতিমধ্যে জেলার নর্থ চ্যানেল, ডিক্রিরচরের কৃষকেরা ক্ষেত থেকে ভুট্টা সংগ্রহ শুরু করেছেন। বেশী ফলনের পাশাপাশি বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন চাষীরা। সরকারি প্রণোদনা হিসেবে ভুট্টার বীজ ও সার কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। ২০০৯ সালে মাত্র ৫৯ হেক্টর জমিতে ভুটার চাষ হয়েছিলো। এ’বছর ৪৫০ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ৫০৭ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে।

দিনাজপুরে গ্রীষ্মকালীন টমেটোতে অজ্ঞাত রোগ (ভিডিও)

দিনাজপুরে অজ্ঞাত রেগে মারা যাচ্ছে টমেটো গাছ। শত শত গাছ মরে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। কৃষি বিভাগ বলছে, বাড়িতে তৈরি ব্যাকটেরিয়াযুক্ত বীজ বপনের কারণেই আক্রান্ত হচ্ছে টমেটো ক্ষেত। এ অবস্থায় হাইব্রিড জাতের বীজ ব্যবহারের পরামর্শ তাদের। উত্তরাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি গ্রীষ্মকালীন টমেটোর আবাদ হয় দিনাজপুরে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ বিভিন্ন বাজারে যায় এখানকার টমেটো। প্রতিদিন এসব বাজারে এক থেকে দেড় কোটি টাকার বেচাকেনা হয়। তবে এবছর ভরা মৌসুমে কৃষকের মুখে হাসি নেই। পাকার আগেই ক্ষেতে দেখা দিয়েছে অজ্ঞাত রোগ। হঠাৎ করেই মরে যাচ্ছে গাছ। বালাইনাশকেও ফল মিলছে না। এতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক। বাড়িতে নিজেদের তৈরি বীজে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া থাকার কারণেই টমেটো ক্ষেতে মড়কের কারণ বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। এরইমধ্যে লিফলেট বিতরণ ও সমাবেশ করে কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে তারা। এর আগে ২০১৬ সালেও একই রোগের প্রার্দূভাব দেখা দিয়েছিল। সে সময় নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপত্র না পাওয়ায় বালাই নির্মুল হয়নি বলে দাবি করেছেন কৃষক। /  এআর /

কৃষিক্ষেত্রে নতুন সাফল্য বিজ্ঞানীদের   

সূর্যালোক দরকার নেই, দরকার নেই পৃথিবীর মাটি৷ তা সত্ত্বেও ফলবে সবুজ শাক-সবজি৷ অ্যান্টার্কটিকার ঊষর প্রান্তরে এই অসম্ভবকেই সম্ভব করলেন জার্মান বিজ্ঞানীরা৷ ভবিষ্যতে চাঁদ বা মঙ্গল গ্রহের অভিযাত্রীদের জন্য কাজে আসবে এ গবেষণা৷          বরফের সাম্রাজ্য অ্যান্টার্কটিকায় গড় তাপমাত্রা থাকে হিমাঙ্কের ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস নীচে৷ সূর্যের দেখা পাওয়া সেখানে ভার৷ সেই অ্যান্টার্কটিকাতে জার্মান এরোস্পেস সেন্টার বা ডিএলআর-এর একটি প্রকল্পের অধিনে পরীক্ষামূলকভাবে সূর্যের আলো এবং মাটি ছাড়াই প্রথমবার সফলভাবে সবজি উৎপাদন হলো৷ ইতিমধ্যে অবশ্য গ্রিনহাউসের দরুণ মহাকাশ বা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সফলভাবে শাক-সবজি উৎপাদন করা গেছে৷ আর অ্যান্টার্কটিকাতেও সেই গ্রিনহাউস প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়েই সাফল্য মিলেছে৷ ফলে অদূর ভবিষ্যতে চাঁদ এবং মঙ্গলগ্রহের অভিযাত্রীদের সতেজ খাদ্যভাণ্ডারের প্রয়োজন মিটতে পারবে– এমনও আশ্বাস পাওয়া গেছে৷         প্রথম তিন সপ্তাহের চেষ্টায় ডিএলআর-এর ইঞ্জিনিয়ার এবং অ্যান্টার্কটিকার উদ্যানপালক পল জাবেল ৩ দশমিক ৬ কেজি লেটুস, ৭০টি মূলা, ১৮টি শসা ফলিয়েছেন৷ রোজ গড়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পরিশ্রম করার পর তিনি অ্যান্টার্কটিকার বাগানে এই ফসল ফলাতে পেরেছেন৷ জাবেল বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি বীজ ফেলার পর, আমাকে বেশ কয়েকটি সমস্যার মোকাবিলা করতে হয়েছে৷ কখনও যান্ত্রিক গোলযোগের সম্মুখীন হতে হয়েছে, কখনও বা পড়তে হয়েছে ঝড়ের মুখে৷ তবে সৌভাগ্যক্রমে সব কিছুই অতিক্রম করতে পেরেছি৷` অ্যান্টার্কটিকার গ্রিনহাউসে ইতিমধ্যে ব়্যাডিশ, স্যালাড পাতা, টমেটো, শসা, গোলমরিচের পাশাপাশি তুলসী, পার্সলে, ধনেপাতার মতো হার্বের চাষও হচ্ছে৷ প্রজেক্ট ম্যানেজার ডানিয়েল শুবার্ট বলেন, ‘আমরা স্বপ্রজননক্ষম উদ্ভিদের সন্ধানও পেয়েছি৷ অ্যান্টার্কটিকায় আমাদের পরীক্ষার ক্ষেত্রে এগুলি কাজে আসবে৷ তবে স্ট্রবেরি চাষের ক্ষেত্রে ধৈর্য্য রাখা ছাড়া উপায় নেই৷` নিউমেয়ার স্টেশন৩ থেকে ৪০০ মিটার দূরে এই গ্রিনহাউস প্রকল্পটি গড়ে উঠেছে৷ এখানকার ১০ জন মানুষ এখন এই শাক-সবজির ওপর নির্ভরশীল৷ বাগানে ফলানো টাটকা সবজির মতোই এর স্বাদ। সূত্র: ডয়চে ভেলে একে/এসি   

ভোলায় আলু ক্ষেতে পোকার আক্রমণ(ভিডিও)

পোকার আক্রমণে ভোলায় ক্ষেতের আলু নষ্ট হওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক। সেইসাথে বাজার দর পড়ে যাওয়ায় দিশেহারা তারা। এদিকে মুন্সিগঞ্জে বাম্পার ফলন হলেও দাম না পাওয়ায় বিপাকে চাষীরা। হিমাগার কম থাকায় সংরক্ষণও করা যাচ্ছেনা। বিগত কয়েক বছর বাম্পার ফলনে এ মৌসুমেও ৭ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে আলু লাগিয়েছিলেন ভোলার কৃষক। মৌসুমের শুরুতে টানা বৃষ্টিতে ক্ষেতে পানি জমে নষ্ট হয় আলু বীজ। দ্বিতীয় দফায় লোন করে নতুন বীজ বোনার পর পোকায় আক্রান্ত হয় আলু ক্ষেত। সার-কিটনাশক দিয়েও ফল মেলেনি। বিগত বছরে প্রতি কেজি আলু ১২ থেকে ১৪ টাকায় বিক্রি হলেও এবার সর্বোচ্চ দর ৬ থেকে ৭ টাকা। কৃষকরা বলছেন, বাজার দর কম হওয়ায় ক্ষতি পুষিয়ে খরচ তোলায় দায়। আলুর মড়ক ঠেকাতে আগামীতে কৃষকদের সঠিক নিয়মে সার দেয়ার পরার্মশ কৃষি বিভাগের। এদিকে মুন্সীগঞ্জের ৬টি উপজেলার আলুর বাম্পার ফলন হলেও আকার ছোট হওয়ায় ভালো দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছেন কৃষক। এ বছর জেলায় ১৩ লাখ ৬৯ হাজার মেট্রিকটন আলু উৎপাদন হবে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এদিকে মুন্সীগঞ্জে ৭৬টি হিমাগারের ধারণক্ষমতা সাড়ে ৪ লাখ টন। বাড়তি আলু ২ থেকে ৩ মাস পর্যন্ত বাড়িতে মাচা করে সংরক্ষণের পরামর্শ কৃষি কর্মকর্তাদের। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আলু রপ্তানির পাশাপাশি নায্য দাম নির্ধারণের দাবি কৃষকদের।  

৫ মণ বেগুন বিক্রি করে এক কেজি গরুর মাংস!

কৃষি পণ্যের দাম কমলে সাধারণত কৃষকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হন বেশি। তবে অনেক সময় এতোটাই ক্ষতিগ্রস্ত হন যে, তাদের মাথায় পড়ে যায়। বিশেষ করে সবজির দাম মাঝে মাঝে এতোটায় কমে যায় যে, তখন কৃষক অসহায় হয়ে পরে। যেমন সব ধরনের গ্রীষ্মকালীন সবজির দাম কমে গেছে। গত এক মাস ধরে কৃষক তার উৎপাদিত বেগুন বিক্রি করে পরিবহন খরচও উঠাতে পারছেন না। এতে সার, কীটনাশকসহ খরচ মেটাতে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন চাষিরা। কৃষি বিভাগ বলছে, এ বছর আবাদি জমির পরিমাণ বৃদ্ধি এবং বাম্পার ফলনের কারণে সবজির উৎপাদন বেড়েছে। ফলে বেগুনের দাম কমে গেছে। এই জেলার কৃষকরা জানান, গত এক মাস ধরে বেগুনের দরপতন ঘটেছে। প্রতি কেজি বেগুন দুই থেকে তিন টাকায় অর্থাৎ মণপ্রতি ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। সার, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচসহ প্রতি কেজি বেগুনের উৎপাদন মূল্য দাঁড়ায় ১০ থেকে ১৫ টাকা। এছাড়া এসব বেগুন বাজারে আনতে পরিবহন খরচও যুক্ত হয়। এক মাস ধরে বেগুনের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় উৎপাদন খরচ দূরে থাক, পরিবহন খরচও উঠাতে পারছেন না কৃষকরা। অনেক কৃষক বলছেন, এক কেজি গরুর মাংস কিনার জন্য কমপক্ষে পাঁচ মণ বেগুন বিক্রি করতে হচ্ছে। অর্থাৎ এক কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় আর পাঁচ মণ বেগুন বিক্রি করতে হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। অনেক কৃষক জানান, এভাবে সেবজির দাম কমলে কৃষকরা সবজি চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। এসএইচ/

দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁওয়ে আমের বাম্পার ফলনের আশা চাষীদের (ভিডিও)

আম ও লিচুর মুকুলে ছেয়ে গেছে দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ের বাগানগুলো। বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন মালিকরা। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এবার বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা। দিনাজপুরে প্রতি বছর বেড়েই চলেছে লিচুর আবাদ। এবারও মুকুলে ভরে উঠেছে গাছগুলো। ভালো ফলন পেতে দিন-রাত পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার লিচুর বাম্পার ফলনের আশা করছেন বাগান মালিকরা। দিনাজপুর জেলায় এবার ৫ হাজার ৬’শ হেক্টর জমিতে লিচু আবাদ হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি অফিস। গেল বছর ঠাকুরগাঁওয়ে ৮ হাজার হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছিলো। এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১০ হাজার হেক্টরে। আর লিচুর আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে। বাগান পরিচর্যার কাজ পেয়ে খুশি এলাকার শ্রমিকরাও। এবছর আম ও লিচুর বাম্পার ফলন পাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে কৃষি অধিদপ্তর। এবার ঠাকুরগাঁওয়ে সূর্যপুরী, আম্রপালি, হিমসাগর, বান্দিগড়ি, মিশ্রিভোগ ও গোপালভোগ জাতের ২ হাজার বাগানে প্রায় ৮০ হাজার মেট্রিকটন আম আর চায়না থ্রী, গোলাপী, বোম্বাই ও কাঁঠালী জাতের প্রায় ২ হাজার ৭শ’ মেট্রিকটন লিচুর উৎপাদন হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।  

রাজশাহীতে ফসলি জমিতে চলছে পুকুর খনন (ভিডিও)

রাজশাহীতে আবাদি জমিতে খনন করা হচ্ছে পুকুর। ফসলি জমিতে স্থাপন করা হয়েছে ইটভাটাও। এতে কমছে খাদ্যশস্য উৎপাদন, হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ। কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েও না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের। এভাবেই বিলগুলোতে ফসলি জমিতে খনন করা হয়েছে শতশত পুকুর। অধিক লাভের আশায় মাছ চাষ করে এক শ্রেনীর প্রভাবশালীরা খনন করেছে এসব। এতে কমেছে খাদ্যশস্যের উৎপাদন । নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ফসলি জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে ইটভাটাও। ফসলি জমি নষ্ট হওয়া খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশের জন্য হুমকি বলে মনে করছেন, পরিবেশবিদরাও। অবৈধ পুকুর খনন ও ইটভাটা বন্ধে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েও পাওয়া যায়নি বলে জানালেন কৃষি কর্মকর্তা। তবে জেলায় কি পরিমান আবাদি জমি নষ্ট হয়েছে তার হিসাবে নেই কৃষি কর্মকর্তাদের কাছে।  

যশোর-ঝিনাইদহে হলুদ চাষে সাবলম্বী হচ্ছে কৃষক (ভিডিও)

রান্নার অন্যতম অনুসঙ্গ হলুদ। বিয়ে বাড়ি, সাজগোজ কিংবা রান্না সব ক্ষেত্রেই হলুদের রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। খরচের তুলনায় লাভ দ্বিগুন, চাষ করা যায় অন্য ফসলের সঙ্গে। হলুদ ক্ষেতে রোগ-বালাইয়ের আক্রমন তেমন একটা হয় না। আর এ কারণে বিভিন্ন জেলায় কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে হলুদ চাষ। হলুদ চাষে সাবলম্বী হচ্ছে কৃষকরা। এদিকে ভালো মানের হলুদ চাষে নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষি কর্মকর্তারা। ঝিনাইদহের শৈলকুপায় এবার হলুদের চাষ হয়েছে এককভাবে ২৭০ হেক্টর এবং সাথী ফসল হিসাবে ৫০ হেক্টর জমিতে। স্থানীয় শেখপাড়া, চড়িয়ারবিল, মদনডাঙ্গা-সহ বিভিন্ন গ্রামের চাষিরা এখন ব্যস্ত ক্ষেত থেকে হলুদ তোলার কাজে। প্রতি বিঘা হলুদ চাষে খরচ হয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। এক বিঘা জমিতে হলুদ পাওয়া যায় ৬০ থেকে ৭০ মন পর্যন্ত। বর্তমানে বাজারে প্রতি মন হলুদ বিক্রি হচ্ছে ৮শ’ টাকা থেকে ১১ শ’৫০ টাকায়। ভালো মানের হলুদ চাষে নিয়মিত চাষীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা। যশোরের শার্শায় যে জমিতে ধান ও পাট চাষ হতো, সেখানে অধিক লাভের আশায় হলুদ চাষ করছেন কৃষকরা। এছাড়া উপজেলার বেনাপোল, উলাশী, বাগআচড়া, সাড়াতলাসহ বেশ কিছু এলাকায় এবারে হলুদের আবাদ হয়েছে। অল্প পরিশ্রম আর অধিক মুনাফার কারণে হলুদ চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন অন্যরাও।  

পাখির নাম ‘কানাকুয়া’

কানকুয়া। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রজাতির পাখির মধ্যে অন্যতম একটি পাখি। বিভিন্ন বনজঙ্গল তথা শালবন এবং চা বাগানে এদের বসবাস। দেশে প্রায় ৬৫০ প্রজাতির পাখি রয়েছে। এসব পাখির চেহারা ও স্বভাবে যেমন ভিন্নতা আছে, তেমনি অঞ্চলভেদে পাখির নামের ক্ষেত্রেও রয়েছে ভিন্নতা। অঞ্চলভেদেকানাকুয়া পাখিটি  কুবো, কুক্কা নামেও পরিচিত। বাংলাদেশে মাত্র দুই প্রজাতির কুবো আছে। বাংলা কুবো ও বড় কুবো। কুবো মাঝারি গড়নের ভূচর পাখি। এদের লম্বা ও শক্তিশালী পা এবং লম্বা লেজ থাকে। এরা উড়তে পটু নয়। ছেলে ও মেয়েপাখি দেখতে একই রকম। বড় কুবো কালো ও তামাটে রঙের লম্বা লেজওয়ালা পাখি। দেহের দৈর্ঘ্য ৪০ সেমি, ওজন ২৫০ গ্রাম। পিঠ তামাটে ও দেহতল চকচকে কালো। উজ্জ্বল তামাটে কাঁধ-ঢাকনি ও ডানা ছাড়া পুরো দেহই কালো। চোখ লাল, ঠোঁট, পা, পায়ের পাতা ও নখর কালো। বড় কুবো আলোকময় বন, বাগান ও মানববসতির কাছাকাছি বাস করে। সাধারণত একা বা জোড়ায় বিচরণ করে। মাটিতে ধীরে ধীরে হেঁটে শিকার খোঁজে। ঝোপের তলায় তলায় ঘুরে ওরা যখন খাবার খোঁজে, তখন দীর্ঘ পুচ্ছটি প্রায় মাটি ছুঁয়ে থাকে। বিপদের টের পেলে ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে পড়ে, কখনো ছোট দূরত্বে উড়ে গিয়ে লুকিয়ে পড়ে বাঁশবনে। বেশ গভীর ও সুরেলা কণ্ঠে ধীরে ধীরে উক..উক শব্দে ডাকে। অন্য রকম একটি ডাকও শোনা যায়। খুব দ্রুত সংগীতের ঝংকারের মতো কুপ..কুপ..কুপ করে ছয়-সাতবার ডাকে। গরমের দিনে বহুদূর থেকে ওদের ডাক শোনা যায়। এদের খাবার তালিকায় আছে শামুক, ব্যাঙ, পোকামাকড়, টিকটিকি, সাপ, পাখির ডিম, ছানা, ইঁদুর ইত্যাদি। ভূচর এ পাখি ওড়ার চেয়ে দৌড়াতে বেশ পটু। ঘন ঝোপ, বাঁশবন ও খেজুরগাছের আগায় পেয়ালার মতো বাসা বানিয়ে ডিম পাড়ে। ডিমগুলো সাদা, সংখ্যায় তিন-চারটি। বড় কুবো বাংলাদেশের সুলভ আবাসিক পাখি। বনপ্রান্তে ও গ্রামাঞ্চলে এদের ঢের দেখা যায়। উঁচু ঝোঁপের মধ্য অগোছালো ভাবে বাসা তৈরি করতে পছন্দ করে। টিআর/

টক মিষ্টি ফল ‘চেরি’

চোখ ধাঁধানো হলকা টক মিষ্টি ফল চেরি। আকৃতি কিছুটা অরবড়ই-এর মত। দেহ সামান্য খাঁচযুক্ত। কাঁচা অবস্থায় সবুজ, পরে হালকা হলুদ এবং সর্বশেষ গাঢ় লাল রং ধারণ করে। গাছের আকৃতি মধ্যম মানের। চেরি হচ্ছে ‘প্রুনাস’ গণের অন্তর্ভুক্ত একটি ফল ৷ বানিজ্যিকভাবে যে চেরির জাত চাষ করা হয় তা মূলত Prunus avium (প্রুনাস অভিয়াম)। বুনো চেরি ফসলি মাঠে চাষের অযোগ্য। যদিও ব্রিটিশ দীপপুঞ্জতে Prunus avium কে বুনো চেরি বলা হয়। চেরির অনেক জাত ‘কেরাসাস (Cerasus)’ উপপ্রজাতির অন্তর্ভুক্ত। এই উপপ্রজাতি উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোতে অভিযোজিত। তাছাড়াও দুটি প্রজাতি আমেরিকাতে, তিনটি প্রজাতি ইউরোপের দেশগুলোতে এবং বাকিগুলো এশিয়ার জন্য অভিযোজিত। চেরি অপর একটি উপপ্রজাতি হল প্যডাস (Padus)। prunus avium প্রজাতির চেরি মিষ্টি চেরি বা (বুনো চেরি) নামে পরিচিত, যা মানুষ খেয়ে থাকে। আবার Prunus cerasus প্রজাতির চেরি টক চেরি নামে পরিচিত ৷ চেরির চাষযোগ্য জাতের মধ্যে prunus avium এবং prunus cerasus অন্যতম। p.cerasus জাতের চেরির স্বাদ টক। তাই এটি রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়। এই দুটি জাতেরই উৎপত্তি ইউরোপ এবং পশ্চিম এশিয়াতে। এদের ক্রস পলিনেশন ঘটে না। সেচকাজ, স্প্রে, অতিবৃষ্টির প্রভাব, শিলাবৃষ্টির প্রভাব চেরি উৎপাদন কমে গেছে। আর এ জন্য চেরির ক্রয়মূল্য অন্য ফলের চেয়ে বেশি। তাছাড়া সারা বিশ্বে চেরির চাহিদা অনেক। চেরি গাছের ও ফলের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে ফলকে হাত দ্বারা তোলা হয় ৷ জাপানের ফল হলেও আমাদের দেশে চেরির ব্যাবহার অনেক আগে থেকে। সরাসরি খাওয়ার জন্য বা অন্য খাবারকে সুন্দর করে সাজাতে লাল টুকটুকে চেরির ব্যবহার চলছে অনেক আগে থেকেই। দেখতে লোভনীয় আর স্বাদে অতুলনীয় হওয়ায় চেরির কদর অনেক। অসাধারণ পুষ্টিগুণে ভরা দর্শনধারী চেরিফল। পুষ্টিগুণ প্রতি ১০০ গ্রাম চেরিতে আছে ৬৩ গ্রাম ক্যালরি, কার্বোহাইড্রেট ১৬ গ্রাম, প্রোটিন ১ গ্রাম, ফোলেট ৪ গ্রাম, ভিটামিন সি ৭ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ ৬৪০ আইইউ, ভিটামিন কে ২ গ্রাম, পটাশিয়াম ২২২ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৩ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ১১ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২১ মিলিগ্রাম। আজ জেনে নেব চেরির স্বাস্থ্য উপকারী কিছু গুণ সম্পর্কে। – চেরিতে থাকা পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। – দেহে থাকা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদরোগ কমাতেও চেরি সাহায্য করে। – চেরিতে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যানসার প্রতিরোধে দারুণ কার্যকর। – বাতের ব্যথা, মাথা ব্যথা ও মাইগ্রেনের ব্যথা কমাতে এই ফল সাহায্য করে। – চেরি ফল নিয়মিত খেলে রক্তের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কমে। – নিয়মিত চেরি খেলে ডায়বেটিক হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। – চেরিতে থাকা মিলাটোনিন নামক উপাদান দেহের রক্ত চলাচলে সহায়তা করে। (তথ্য সূত্র : ফল পরিচিতি, এটিএম নাছিমুজ্জামান ও উইকিপিডিয়া) এসএ/

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি