ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই, ২০১৮ ১৭:০৯:২৩

বিশ্বকাপ থেকে আয়ের সব অর্থ দান করছেন এমবাপ্পে

বিশ্বকাপ থেকে আয়ের সব অর্থ দান করছেন এমবাপ্পে

এবারের বিশ্বকাপে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন ১৯ বছর বয়সী ফ্রান্সের তরুণ তারকা ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পে। খেলার নৈপূণ্যতায় সবাইকে মুগ্ধ করলেও অন্য একটি বিষয়েও পুরো বিশ্বকে সে মহানুভবতায় মুগ্ধ করেছে। সেটি হলো রাশিয়া বিশ্বকাপ জয়ের পর ২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে আয়ের পুরোটাই একটি চ্যারিটিতে দান করতে চলেছেন পিএসজি তারকা।   ডেইলি সানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে চলতি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশি মুদ্রায় সোয়া চার কোটি টাকা পেয়েছেন এমবাপে। পারিশ্রমিক বাবদ পাওয়া এই অর্থের পুরোটাই তিনি চ্যারটিতে দেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এবারের বিশ্বকাপ আসরে সেরা উদীয়মান ফুটবলারের তকমা পেয়েছেন এমবাপে। সাত ম্যাচে চারটি গোল করে নজর কেড়েছেন ফুটবল বিশ্বের। ছুঁয়েছেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার, কিংবদন্তি পেলের রেকর্ড। ১৯৫৮ সালের পর প্রথম টিনএজার ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করেছেন এমবাপ্পে। তারা খেলা দেখে অনেক ফুটবলবোদ্ধাই বলছেন, সাফল্যে মাথা না ঘুরে গেলে, লিওনেল মেসি, সিআর-৭দের যোগ্য উত্তরসূরি হয়ে উঠবেন এমবাপে। এসি     
বিশ্বকাপ উপলক্ষে কমেছে অপরাধ প্রবণতা

ফুটবল জ্বরে গোটা বিশ্বের সঙ্গে ভাসছিল বাংলাদেশও। বিশেষ করে তরুণরা ফুটবলে মজে থাকাতে সারামাসজুড়ে দেশে অপরাধ প্রবণতাও কম লক্ষ্য করা গেছে। কিছু দুঃখজনক ঘটনা বাদ দিলে বাংলাদেশে অপরাধ প্রবণতা কম থাকার পেছনে বিশ্লেষকরা ফুটবলকে কৃতীত্ব দিচ্ছেন। তারা মনে করেন, তরুণদের খেলার মতো নির্মল বিনোদনের সুযোগ দেওয়া গেলে তাদের মাঝে বিপথগামী হওয়ার প্রবণতা কমে যাবে। গত ১৪ জুলাই, অর্থাৎ বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালের একদিন আগে বাংলাদেশে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে যায়৷ কক্সবাজারের চকরিয়ায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সমর্থকদের একটি প্রীতি ম্যাচের পর পাঁচ জন কিশোর নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে ডুবে মারা যায়৷ শনিবার বিকেলে চকরিয়া গ্রামার বিদ্যালয়ের ২২ জন শিক্ষার্থী একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করে৷  ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনার সমর্থক দলে ভাগ হয়ে মাঠে নামে দু্ইদল। বিকেলে খেলা শেষে ৪টার দিকে ছয় কিশোর ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার ঘামে ভেজা জার্সি পরেই মাতামুহুরী নদীতে সাঁতার কাটতে যায়৷ নদীর পানি গভীর হওয়ায় এবং স্রোত প্রবল হওয়ায় তারা সবাই পানিতে ডুবে যায়৷ তাদের মধ্যে পাঁচ জনের লাশ উদ্ধার করা হয় রোববার। এর বাইরে বিশ্বকাপ ফুটবল চলাকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে৷ এছাড়া প্রিয় দলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একজন নিহত হয়েছেন৷ তবে এমন অপ্রীতিকর কিছু ঘটনা ঘটলেও বাংলাদেশে কিন্তু বিশ্বকাপ চলার সময় অপরাধ প্রবণতা কম ছিল৷ রাশিয়ায় বিশ্বকাপের আসর শুরু হয় ১৫ জুন আর শেষ হয় ১৫ জুলাই৷ গত ১৫ জুন থেকে ১৫ জুলাই– এই একমাসের হিসাব আলাদাভাবে না পাওয়া গেলেও সাধারণ মাসের হিসাব বিবেচনায় নিয়ে অপরাধ কমার বিষয়টি স্পষ্ট হয়৷ বাংলাদেশ পুলিশের তরফ থেকেও এমন তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাবে মে মাসে সারাদেশে বিভিন্ন অপরাধে মামলা হয়েছে ২৩,৪১৬টি৷ আর জুন মাসে মামলা হয়েছে ১৯,৮১৭টি৷ এর মধ্যেই১৫ জুন থেকে শুরু হয় বিশ্বকাপ৷ মে মাসে হত্যাকাণ্ডেরর ঘটনা ঘটেছে ৩৭৯টি৷ জুন মাসে হত্যাকাণ্ড হয়েছে ৩৩৯টি৷ মে মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হয়েছে ১৩৬৭টি৷ তবে জুন মাসে তা বেড়ে হয়েছে ১৩৯১টি৷ দস্যুতা, অপহরণ ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা কমেছে৷ জুলাই মাসের অপরাধ পরিসংখ্যান দেয়া গেলে বিষয়টি হয়ত আরো স্পষ্ট হতো৷ পুলিশ সদর দপ্তর জুলাই মাসের অপরাধ পরিসংখ্যান মাস শেষে চূড়ান্ত করবে৷ তবে সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত যে তথ্য আছে, তাতে জুলাই মাসেও অপরাধ প্রবণতা কম৷ ঢাকা মেট্রেপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার( মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘‘আমাদের পর্যবেক্ষণ হলো বিশ্বকাপ চলাকালে রাজধানীতে হত্যা, ছিনতাই, দস্যুতা এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধ কম হয়েছে৷ প্রচলিত অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের একটি বড় অংশ হলো তরুণ৷ আর প্রধানত তরুণরাই বিশ্বকাপে মেতে ছিল৷ তাই হয়তো অপরাধও কম হয়েছে৷ তবে ফুটবলের এই মহা আয়োজনে আমাদের দেশে সমর্থকদের মধ্যে যাতে কোনো উত্তেজনা বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি না হয়, যা আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে, সেদিকে আমাদের নজর ছিল৷ আমরা এ কারণে টহল বাড়ানোসহ আরো কিছু বাড়তি ব্যবস্থা নিয়েছি৷`` ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও অপরাধ বিজ্ঞানের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘পরিসংখ্যান বলছে, রাশিয়ায়ও বিশ্বকাপ চলাকালে অপরাধ প্রবণতা কমেছে৷ আর বিশেষ করে তরুণরা অপরাধ থেকে দূরে থেকেছে৷ আমাদের দেশেও পরিসংখ্যান তাই বলছে৷ আর এতে প্রমাণিত হয় কিশোর, তরুণদের আমরা যদি খেলাধুলার মতো সুস্থ বিনোদন দিতে পারি, তাহলে তাদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা কমবে৷ বিশেষ করে আমাদের এখানে তরুণদের একাংশের জঙ্গিবাদে জড়ানোর যে প্রবণতা, তা কমবে বলে আমার মনে হয়৷`` এমজে/

বিশ্বজয়ের পদক মাকে পরিয়ে দিলেন পগবা

রাশিয়া বিশ্বকাপের সঙ্গে পগবা নামটি জড়িয়ে থাকবে বহুদিন। এ পর‌্যন্ত ফাইনালে যাদের গোল করার সৌভাগ্য হয়েছে পগবা তাদের মধ্যে অন্যতম।   ১৯৯৮ সালে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ফুটবলার ইমানুয়েল পেতাঁ বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করেছিলেন। এত দিন পরে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটালেন পগবা। গতকাল তিনি কাপ হাতে নিয়ে মজা করে বলেন, ‘ইংল্যান্ডে না, এটা আমি আমার নিজের দেশে নিয়ে যাচ্ছি।’ তাঁর এ হেন মন্তব্যের নানা রকম মানেও করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডে তিনি জোসে মোরিনহোর কোচিংয়ে আর খেলতে চান না বলেই এমন কথা বলেছেন। ক্লাবে কোচের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক মোটেও ভালো নয়। ইংল্যান্ডের কাগজগুলিতে লেখা হয়েছে, মোরিনহোর উচিত দেশঁকে দেখে শেখা যে, কী ভাবে পোগবাকে ব্যবহার করতে হয়। এক সময় রয় কিনের মতো প্রাক্তন তারকা পগবার নানা সময়ে নানা ধরনের চুলের ছাঁট নিয়ে বিদ্রুপ করতেন। রোববার সেই একই মানুষের প্রতিক্রিয়া, ‘আগে যা যা বলেছি সে সবের জন্যই আমি দুঃখিত। ফাইনালে যা খেলল ছেলেটা, তাতে এখন ও যা ইচ্ছে তাই করতে পারে। পগবা কিন্তু বিশ্বকাপ জেতার দিন এই ধরনের বিতর্কিত প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়েছেন। গলায় বিশ্বজয়ীর পদক ঝুলিয়ে তাঁর মনে পড়েছে মায়ের কথা। পগবার মা-র নাম ইয়ো মরিবা। খুব ছোটবেলায় অনেক কষ্ট করে তাঁদের তিন ভাইকে মানুষ করেন বিবাহবিচ্ছিন্না এই নারী। রোববার লুঝনিকি স্টেডিয়ামে তিনিও ছিলেন। ফাইনালের পরে মাঠেও এসেছিলেন। যাতে অনেকেরই মনে পড়ে পগবার সেই প্রতিক্রিয়া! মাতৃদিবসে নিজের টুইটারে তিনি লিখেছিলেন, আমি ভাগ্যবান যে তোমার ছেলে হতে পেরেছি। এই মুহূর্তে বিশ্বফুটবলের বর্ণময় এক চরিত্র পল পগবা যে তাঁর পদকটা নিজের মায়ের গলায় পরিয়ে দেবেন, তাতে আর আশ্চর্যের কী আছে। দিয়েছেনও। সূত্র: আনন্দবাজার। / এআর

গোল্ডেন বল বড়জোর সান্ত্বনা পুরস্কার : মাদ্রিচ

রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে এমবাপে, পগবা আর গ্রিজমানরা যখন স্বপ্নপূরণের আনন্দে লুজনিকির একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে দৌঁড়ে বেড়াচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় স্বপ্ন ভাঙার যন্ত্রণা নিয়ে একা দাঁড়িয়েছিলেন ক্রোয়েশিয়ার প্রাণভোমরা লুকা মাদ্রিচ৷ তার স্বপ্ন ছিল যে, ক্রোয়েশিয়ার ঘরে বিশ্বকাপ পৌছে দেওয়া। সেটি আর হলো না। তবে রাশিয়া মহারণের সেরা খেলোয়ার নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। গ্রুপ পর্যায় থেকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল পর্যন্ত সব কটি ম্যাচ জিতে লুজনিকির বিশ্বকাপ ফাইনালে পা রেখেছিল ক্রোয়েশিয়া৷ বিশ্বকাপের প্রতিটা ম্যাচেই প্রশংসিত হয়েছে ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক মাদ্রিচের খেলা৷ দলনায়কের উপর আস্থা রেখেই প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন ক্রোটরা৷ খুব কাছে এসেও বিশ্বকাপ স্পর্শ করতে পারলেন না ক্রোট অধিনায়ক৷ বিশ্বকাপ না জিতলেও গোল্ডেন বল জেতেন মাদ্রিচ৷ তবে বিশ্বকাপের ট্রফির সামনে এই পুরস্কারকে সান্ত্বনা পুরস্কার বলেই মনে হয়েছে তাঁর৷ ক্রোয়েশিয়ার ১০ নম্বর জার্সিধারি টুর্নামেন্টের সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছেন৷ ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে এই খেতাব জিতেছিলেন এলএম টেন৷ আর্জেন্টিনার সর্বকালের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড মেসি তথা এলএম টেন৷ এবার জিতলেন ক্রোয়েশিয়ান লুকা মাদ্রিচ, নাম-পদবির আদ্যাক্ষর ও জার্সি নম্বর মিলিয়ে যাঁকেও এলএম টেন বলে অখ্যা দেওয়া যায়৷ গোল্ডেন বল জেতার পর ক্রোট অধিনায়ক বলেন, এই পুরস্কার অবশ্যই গর্বের৷ তবে এটা বিশ্বকাপ নয়৷ আমরা বিশ্বকাপ জিততে চেয়েছিলাম৷ পুরো টুর্নামেন্টে আমরা ভালো খেলেছি৷ কিন্তু কখনও কখনও ভালো খেলা দলও ট্রফি জেতে না৷ এরপর বিশ্বকাপ না পাওয়ার আক্ষেপ থেকে মাদ্রিচ যোগ করেন, আমি ক্রোয়েশিয়ার জন্য বিশ্বকাপ জিততে চেয়েছিলাম৷ সেটা হয়নি, এটাই সত্যি৷ গোলেন্ড বল আমাদের জন্য নিতান্ত সান্ত্বনা পুরস্কার৷ মাদ্রিচের আগেও বেশ কয়েকজন কিংবদন্তি ফুটবলার বিশ্বকাপ হাতছাড়া করে গোল্ডেন বলেই ‘সান্ত্বনা’ পেয়েছেন৷ তালিকায় অবশ্যই থাকবেন অলিভার কান, জিনেদিন জিদান, দিয়েগো ফোরলান এবং লিও মেসি৷ সূত্র : জিনিউজ। / এআর /

বিশ্বকাপ আলোচনার তুঙ্গে যে নারী!

বিশ্বকাপ ফুটবল চলবে আর কোনো নারী আলোচনায় আসবেন না, তা কী করে হয়? কিন্তু এবার আলোচনায় কোনো সাধারণ নারী নন, উঠে আসলেন বিশ্বকাপের বিজিত ফাইনালিস্ট ক্রোয়েশিয়ার স্বয়ং প্রেসিডেন্ট! বিশ্বকাপে ফ্রান্সের আক্রমণাত্মক ফুটবলের কাছে ক্রোয়েশিয়া হার মানলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে জাতিসংঘ, সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন কোলিন্দা গ্রাবার কিতারোবিচ। খেলা চলাকালীন ক্রোয়েশিয়ার জার্সি পরা অবস্থায় তাকে গ্যালারিতে বসে থাকতে দেখা যায়। ম্যাচ শেষে তাকে খুশি মনে পক্ষ ও বিপক্ষ দলের সব খেলোয়াড়দের জড়িয়ে ধরতে দেখা যায়। ফুটবল বিশ্ব জয়ের আনন্দে উদ্বেলিত ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরোঁর সঙ্গেও আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন তিনি এবং অভিনন্দন জানান। ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট শুধু ফুটবল খেলাই বোঝেন এ রকম নয়, অনেক ভাষায় সাবলীলভাবে কথাও বলতে পারেন, যেমন- ক্রোয়েশিয়ান, ইংলিশ, স্প্যানিশ ও পর্তুগিজ। এ ছাড়া তিনি জার্মান, ফরাসি ও ইতালিয়ান ভাষা বুঝতে পারেন। বিশ্বকে এগিয়ে নিতে তার মতো আরো নেতৃত্বের প্রয়োজন রয়েছে। আরকে//

২০২২ কাতার ফুটবল বিশ্বকাপ হবে শীত মৌসুমে    

ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ সাধারণত গ্রীষ্ম মৌসুম তথা জুন-জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। ১৯৩০ সাল থেকেই এমন নিয়ম মেনে আসছে ফিফা।   কিন্তু ২০২২ সালে কাতারে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ এবার জুন-জুলাইয়ে নয়, শীত মৌসুম নভেম্বর- ডিসেম্বরে হবে। কাতার বিশ্বকাপের জন্য এই সময়সীমা চূড়ান্ত করেছে ফিফা।  ফুটবল বিশ্বকাপের পরবর্তী আসর ২১ নভেম্বর শুরু হয়ে শেষ হবে ২৮ ডিসেম্বর। শুক্রবার (১৩ জুলাই) ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানান, কাতারে বিশ্বকাপ হবে ২১ নভেম্বর থেকে ২৮ ডিসেম্বর।   ২০২২ সালে বিশ্বকাপ আয়োজন করবে কাতার, তা তো চূড়ান্ত ছিলো। কিন্তু কবে হবে তা নিয়ে ছিল ধোঁয়াশা। কাতারে বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে নানা সমালোচনা হচ্ছে। এই সমালোচনা উড়িয়ে দিতে সবধরনের চেষ্টা চালাচ্ছে আয়োজক দেশ কাতার।  ১৫ জুলাই ফিফা আনুষ্ঠানিক ভাবে কাতারের কাছে ২০২২ বিশ্বকাপের দায়িত্ব হস্তান্তর করেছে। কাতারে মোট ১২টি স্টেডিয়ামে খেলা হবে৷ ইতোমধ্যে কয়েকটি স্টেডিয়ামের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি স্টেডিয়াম হবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত৷ যার তাপমাত্রা থাকবে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে৷ যেটা ফুটবলের জন্য আদর্শ৷  জার্মানির স্থাপত্য কোম্পানি এএসএন্ডপি এই স্টেডিয়ামগুলোর পরিকল্পনা করছে৷ শীত কালের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহার করা হবে কাতারের প্রখর সূর্যের তাপকেই৷ মানে প্রতিটি স্টেডিয়ামের বাইরে ও ছাদে থাকবে সৌর প্যানেল৷ যেখান থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে৷    এমএইচ/এসি    

২০১৮ বিশ্বকাপের যা কিছু সেরা        

আসরে চ্যাম্পিয়ন হয় একটি মাত্র দল৷ সেরা খেলোয়াড়, সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কারও জোটে একজনের ভাগ্যে৷ কিন্তু ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বড় আসরে এর বাইরেও তো স্মরণীয় অনেক কিছু থাকে৷ সেরকম বিষয়গুলো নিয়েই এই ছবিঘর৷    বেশি গোল যে দলের এবারের আসরে সবচেয়ে বেশি গোল কোন দল করেছে, বলুন তো? বেলজিয়াম৷ হ্যাঁ, সেমি ফাইনাল থেকে বিদায় নেয়ার আগে ১৪ গোল করে তারা৷ তারপর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারানোয় সংখ্যাটি বেড়ে হয়ে যায় ১৬৷ এত গোল আর কোনো দল করতে পারেনি৷  সবচেয়ে আক্রমণাত্মক দল কোন দল কতটা আক্রমণাত্মক তা নির্ধারণের একটাই উপায় আর তা হলো কোন দল কত বেশি আক্রমণ করেছে সে হিসেবটা দেখা৷ সেই হিসেবে ব্রাজিলই ছিল সবচেয়ে এগিয়ে৷ কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচ খেলে সব মিলিয়ে ২৯২টি আক্রমণ শানিয়েছে নেইমারের দল৷ তবে পরে ক্রোয়েশিয়া পেছনে ফেলে তাদের৷ ফাইনাল শেষে, অর্থাৎ ব্রাজিলের চেয়ে দুই ম্যাচ বেশি খেলায় ক্রোয়েশিয়ার আক্রমণ সংখ্যায় দাঁড়ায় ৩২২৷  সবচেয়ে বেশি পাসএখানে এগিয়ে ইংল্যান্ড৷ মোট সাতটি ম্যাচে সর্বোচ্চ ৩৩৩৬টি পাস দিয়েছে তারা৷  সেরা গোলরক্ষক?এবারের বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষক কে? অনেকের নামই হয়ত উঠে আসবে৷ কিন্তু সবচেয়ে বেশি গোল বাঁচানো যদি মানদণ্ড হয়, তাহলে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবেন মেক্সিকোর গুইলেরমো ওচোয়া৷ দ্বিতীয় রাউন্ড পর্যন্ত চার ম্যাচে সর্বোচ্চ ২৫টি গোল বাঁচিয়ৈছিলেন তিনি৷ তবে পরে বেলজিয়ামের গোলরক্ষক কর্তোই তাঁকেও ছাড়িয়ে যান৷ ৭ ম্যাচে তিনি বাঁচিয়েছেন ২৭টি গোল৷  সবচেয়ে আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়নিন্দুকেরা তাঁর মাঠে গড়াগড়ি দেখতে দেখতেই হয়রান, অথচ পরিসংখ্যান বলছে নেইমার জুনিয়রই ছিলেন এবারে বিশ্বকাপের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ফরোয়ার্ড৷ ব্রাজিল তো কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিয়েছে৷ তাই মাত্র পাঁচটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন নেইমার৷ ওই পাঁচ ম্যাচে প্রতিপক্ষের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে শট নিয়েছেন মোট ২৭টি৷ এত শট আর কোনো ফরোয়ার্ড নিতে পারেননি৷  সবচেয়ে পরিশ্রমী পেরিসিচক্রোয়েশিয়া যে এবার বিশ্বকাপ মাতালো, তার মূল কৃতিত্ব যদি একজন খেলোয়াড়কে দিতে চান, কার কথা বলবেন আপনি? নিশ্চয়ই লুকা মদ্রিচ! সেমিফাইনাল পর্যন্ত ক্রোয়েশিয়ার ছয়টি ম্যাচে সব মিলিয়ে ৬৩ কিলোমিটার দৌড়েছেন ৩৩ বছর বয়সি এই প্লে-মেকার৷ তবে ফাইনাল শেষে দেখা যায় তাঁকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন পেরিসিচ৷ ৭ ম্যাচে ৭২ কিলোমিটার দৌড়েছেন তিনি৷  সেরা রক্ষণভাগ বিশ্বকাপে অংশ নেয়া ৩২টি দলের রক্ষণভাগের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ক্রোয়েশিয়াই সেরা৷ ফাইনাল পর্যন্ত সাতটি ম্যাচে মোট ৩০১টি ক্লিয়ারেন্স, ট্যাকল এবং সেভ করেছে ক্রোয়াট ডিফেন্ডাররা৷  রামোসকে মনে রাখতে হবে যে কারণেস্পেনের রক্ষণভাগের অতন্দ্র প্রহরী সার্হিয়ো রামোস৷ তবে এবার শুধু রক্ষণের কাজেই ব্যস্ত ছিলেন না রেয়াল মাদ্রিদ অধিনায়ক৷ আক্রমণ রচনাতেও ভূমিকা রেখেছেন অনেক৷ তাই বিশ্বকাপের অন্য সব খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি পাস দিয়েছেন তিনি৷ এ আসরে মোট ৪৮৫টি পাস দিয়েছেন রামোস৷  বেশি গোলের ম্যাচএবারের বিশ্বকাপ শুরুই হয়েছিল সৌদি আরবের বিপক্ষে রাশিয়ার ৫-০ গোলের জয় দিয়ে৷ স্পেন-পর্তুগাল ৩-৩ গোলে ড্র ম্যাচেও দেখা গেছে গোলের ছড়াছড়ি৷ পরে দু’টি ম্যাচে আরো বেশি গোল হয়েছিল৷ বেলজিয়াম-টিউনিশিয়া (৫-২) ও ইংল্যান্ড-পানামা (৬-১) ম্যাচে সাতটি করে গোল দেখা গেছে৷ ওই দু’টিই এবারের আসরের সবচেয়ে বেশি গোলের ম্যাচ৷  এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি কার্ড  ম্যাচে খুব বেশি উত্তেজনা থাকলে বা লড়াইটা খুব জমজমাট হলেই সাধারণত খেলোয়াড়রা মেজাজ হারান৷ পরিস্থিতি শান্ত রাখতে তখন কঠোর হতে হয় রেফারিকে৷ তখন কার্ডও দেখাতে হয় বেশি৷ কিন্তু বেলজিয়াম বনাম পানামা ম্যাচটিতে সে অর্থে কোনো উত্তেজনাই ছিল না৷ তারপরও ম্যাচে মোট আটটি কার্ড দেখিয়েছেন রেফারি৷ এবারের আসরে সবচেয়ে বেশি কার্ড দেখানো হয়েছে সেই ম্যাচেই৷   এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি পাস  বেশি পাসের প্রসঙ্গ এলে স্পেনের নাম আসবেই৷ এই বিশ্বকাপে যে ম্যাচে সবচেয়ে বেশি পাস হয়েছে, সেখানেও স্পেন আছে৷ কিন্তু তাদের প্রতিপক্ষ ছিল রাশিয়া৷ হ্যাঁ, স্পেন-রাশিয়া ম্যাচেই হয়েছিল সবচেয়ে বেশি পাস৷ সেই ম্যাচে দু’দলের খেলোয়াড়রা মোট ১২৩৫টি পাস দিয়েছিলেন৷ এসি      

ফাইনালে উট-ভালুকের ভবিষ্যদ্বাণী কি মিলল?

রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল দুবাইয়ের ‘জ্যোতিষি’ উট শাহিন। সম্ভাব্য বিশ্বকাপজয়ী হিসেবে শাহিনের ভবিষ্যদ্বাণী ছিল প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা ক্রোয়েশিয়া। উট শাহিনের পাশাপাশি ফাইনালের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল রাশিয়ার ভালুক বুয়ান। তারও ভবিষ্যদ্বাণী ছিল বিশ্বকাপ জিতবে ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু বাস্তবে মিলল না শাহিন, বুয়ানের ভবিষ্যদ্বাণী। রোববারের ফাইনাল ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারায় ফ্রান্স। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ঘরে তুলল ফরাসিরা। মস্কোয় শাহিন, বুয়ানের ভবিষ্যদ্বাণী ভুল প্রমান করে দিল এমবেপে, গ্রিজম্যানরা। বিশ্বকাপের ‘সরকারি জ্যোতিষী’ বিড়াল একিলিস ভবিষ্যদ্বাণী ঠিক মতো করতে পারেনি। রাশিয়া বিশ্বকাপের শুরুতে শাহিনের করা প্রায় সব ভবিষ্যদ্বাণী ভুল হয়েছিল। তবে নকআউট পর্ব থেকে ধীরে ধীরে ফর্মে ফেরে দুবাইয়ের ‘জ্যোতিষি’ উট। দু’টি সেমিফাইনালের সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী করে আবার শিরোনামে চলে আসে। কিন্তু ফাইনালে ডাঁহা ফেল করলো শাহিনের ভাববাণী। (সূত্রঃ কলকাতা জি২৪) কেআই/ এআর

এমবাপেকে শুভেচ্ছা জানালেন পেলে   

রাশিয়া বিশ্বকাপে সবার নজর কাড়ে ফ্রান্সের তরুণ ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপে। বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলের পাশে নাম লিখিয়েছেন তরুণ ফরাসি এই তারকা স্ট্রাইকার।এরপর টুইটে ফরাসি তারকাকে শুভেচ্ছা জানালেন ব্রাজিলিয় কিংবদন্তি।    ১৯৫৮ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করেন পেলে। ৬০ বছর পর রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে দ্বিতীয় তরুণ হিসেবে ১৯ বছর বয়সে গোল করে পেলের পাশে নাম লেখান এমবাপে। রবিবার বিশ্বকাপ ফাইনালের ৬৫ মিনিটে এমবাপে গোল করার সঙ্গে সঙ্গেই `৫৮ বিশ্বকাপের স্মৃতি ফিরে এল মস্কোতে। এমবাপের গোলের পরেই টুইট করেন স্বয়ং পেলে। টুইটে তিনি লিখেছেন, "দ্বিতীয় কনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করার ক্লাবে তোমাকে স্বাগত এমবাপে। তোমাকে নিজের সঙ্গী হিসেবে পেয়ে আপ্লুত।" পাশাপাশি মজার ছলে পেলে বলেন," যদি এইভাবে এমবাপে আমার রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলে, তাহলে তো আমাকে আবার বুট থেকে ধুলো ঝেড়ে ফেলতে হবে ..." এমবাপে যেন আবার মাঠে নামার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন পেলেকে। তবে কনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার তালিকায় এমবাপে তৃতীয় স্থানে। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে পেলে, ১৯৮২ বিশ্বকাপে গিসেপে বার্হোমি এবং ২০১৮ সালে কিলিয়ান এমবাপে। এই তিন কনিষ্ঠ ফুটবলার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেললেও গোল পাননি একমাত্র বার্হোমি। ১৯৮২ সালে ইতালি বিশ্বকাপ জিতলেও ফাইনালে গোল আসেনি বার্হোমির পা থেকে। এসি    

ফ্রান্সে বিজয় উদযাপনে প্রাণ গেল দুজনের

দীর্ঘ ২০ বছরের অপেক্ষা আবারও বিশ্বকাপের ট্রফি নিজের ঘরে তুললো ফ্রান্স। আর সেই বিজয় উদযাপনে প্রাণ গেলো দুই জনের। গতকাল ফাইনাল ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৪-২ গোলের ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ট্রফি ঘরে তুলল ইউরোপের দেশটি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর বিশ্বকাপের ট্রফি পাওয়ার আনন্দে উদ্বেলিত পুরো ফ্রান্স। তবে বুনো উদযাপন করতে গিয়ে দুজনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। বিশ্বকাপ বিজয় উদযাপনে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে আনন্দ উৎসবে মেতে উঠে ফ্রেঞ্চরা। এ সময় উল্লাস করতে করতে তারা কিছুটা বেপরোয়াও হয়ে ওঠে। পুলিশ তাঁদের বাধা দিলে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে সমর্থকরা। পুলিশ তাঁদের নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার গ্যাসের শেল ব্যবহার করে। সংঘর্ষের সময় ৫০ বছর বয়সী একজন লোক মারা যায়। অন্য একজন মারা যায় গাছের সাথে তাঁর গাড়িটি ধাক্কা লাগায়। ধারণা করা হচ্ছে, লোকটি মধ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন। বিশ্বকাপে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই অসংখ্য মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে এসে উদযাপন করতে থাকে। তাঁর মধ্যে অল্প কিছু সংখ্যক সমর্থক পুলিশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এমনকি তারা কিছু দোকান ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানও ভাঙ্গচুর করে। তারা পুলিশের দিকে পাথর ছুড়ে মারে। পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। তবে রাত যত বাড়তে থাকে, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে শান্ত হতে থাকে।  টিআর/ এআর

যে আট কারণে ফ্রান্স বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন

প্রবাদে আছে ‘স্লো বাট স্টিডি উইনস দ্য রেস’। এই কথা প্রমাণ করে দিল ফ্রান্স। সব ছক উল্টে দিয়ে প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ালেন তাঁরাই। অবশেষে ফাইনালে শেষ হাসি হাসল, ছবির দেশ, কবিতার দেশ ফ্রান্স। ফ্রান্সের এই দলের গড় বয়স মাত্র ২৬। তারুণ্যে ভর করেই এবারে চ্যাম্পিয়ন হল ফ্রান্স। মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য বিশ্বকাপের শিরোপা নিজেদের দখলে রাখলেন এমবাপেরা। ২০১৬ ইউরো ফাইনালে অপেক্ষাকৃত দু্র্বল দল পর্তুগালের কাছে হেরে যাওয়ার মনখারাপটা ভুলতে পারেনি ফ্রান্স। অনেকেই সেই সময় বলেছিলেন,অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই কাল হল ফরাসিদের। এবার তাই প্রথম থেকেই দেশঁর ছেলেদের আত্মবিশ্বাস ছিল, কিন্তু তা কখনই অতিরিক্ত ছিল না। তুলনামূলক ভাবে নতুন প্রতিভাদের নিয়ে গড়া দল ফ্রান্স৷ সেখানে আছেন পরীক্ষিত ও উদীয়মান তারকারা৷ বিশ্বকাপজুড়ে তাঁরা ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে সবাইকে ছাপিয়ে না গেলেও শক্তিশালী দল হিসেবে সমীহ আদায় করেছে৷ মিডফিল্ডার কঁতে প্রতিপক্ষের পা থেকে মোট ৫২ বার বল ছিনিয়ে নিয়েছেন। প্রতিটি ম্যাচে তাঁর অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার উপর নির্ভর করেছিল দল। আর্জেন্টিনাকে যে ম্যাচে ফ্রান্স হারাল, সেখানে মেসিকে কিন্তু আটকে দিয়েছিলেন এই তরুণই। কিলিয়ান এমবাপে, পোগবা, গ্রিজম্যানদের লক্ষ্যভেদই ফ্রান্সকে এনে দিয়েছে জয়ের শিরোপা। ফাইনালে গ্রিজম্যানের ফ্রি কিকেই মানজুকিচের মাথা ছুঁয়ে বল জালে জড়ানোয় ‌আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়ে লুকা মদ্রিচের দল। ভারের মাধ্যমে রেফারির পেনাল্টি দেওয়ার সিদ্ধান্ত কিন্তু ফ্রান্সের মনোবল বাড়িয়ে দেওয়ার অন্যতম কারণ। পেনাল্টি থেকে টুর্নামেন্টে নিজের চতুর্থ গোলটি করে ফ্রান্সকে ২-১ গোলে এগিয়ে দেন আতোঁয়া গ্রিজম্যান। ডান পায়ের দুর্দান্ত শটে বিশ্বকাপে নিজের চতুর্থ গোল করেন এমবাপে। মাত্র উনিশ বছর বয়সেই বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করে ছুঁয়ে ফেললেন কিংবদন্তি পেলেকে। পুরো টুর্নামেন্টেই এমবাপের গতি সমস্যায় ফেলেছে বিপক্ষকে। ফ্রান্সের অভিজ্ঞতাও বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দিদিয়ের দেশঁর ক্ষুরধার মস্তিষ্কের কাছেই হেরে গিয়েছেন বিপক্ষের কোচরা। ’৯৮ বিশ্বকাপে তাঁর অধিনায়কত্বেই জিতেছিল ফ্রান্স। সূত্রঃ আনন্দবাজার কেআই/ এআর

আমি পিএসজিতেই থাকবো : এমবাপে

রাশিয়া বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফ্রান্স। ফ্রান্সের হয়ে ভালো খেলেছেন স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপে। আর এই তরুণ খেলোয়াড়কে নিয়ে অনেক ধরণের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। গণমাধ্যমে খবর হয় কিলিয়ান এমবাপে রিয়াল মাদ্রিদে যাচ্ছেন। কিন্তু সাংবাদিকদের স্পষ্ট ভাষায় পিএসজিতে থাকার কথা জানিয়েছেন বিশ্বকাপ জয়ী ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপে। ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলের পর প্রথম টিনএজার হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করেন ১৯ বছর বয়সী এই তারকা। রোববার রাতে মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে ফ্রান্স। ৪ গোল করে এবং টুর্নামেন্ট জুড়ে দারুণ পারফরম্যান্সে আসরের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় নির্বাচিত হন এমবাপে। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, `আমি আমার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে আছি। আমি পিএসজিতেই থাকব, তাদের সঙ্গে আমার পথচলাটা অব্যাহত থাকবে।` সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে জুভেন্তাসে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্প্যানিশ ক্লাবটিতে এমবাপের যাওয়ার ব্যাপারে গুঞ্জন শুরু হয়। কিন্তু গত বছর এক মৌসুমের জন্য ধারে পিএসজিতে যোগ দেওয়ার পর এরই মধ্যে দলটির সঙ্গে স্থায়ী চুক্তি করেছেন এমবাপে। ২০১৭-১৮ মৌসুমটা লিগ ওয়ান চ্যাম্পিয়ন পিএসজির হয়ে দারুণ কেটেছে এমবাপের। সর ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে করেছেন ২১ গোল। এর আগে পর পর দুটি বিবৃতির মাধ্যমে পিএসজির ব্রাজিল সুপারস্টার নেইমারকে কেনার প্রস্তাব দেওয়া এবং পাওয়ার কথা অস্বীকার করে রিয়াল মাদ্রিদ। এসএইচ/

ফাইনালে রাষ্ট্রপ্রধানদের কিছু স্মরণীয় মুহূর্ত 

বিশ্বকাপ ফাইনালে সবার চোখ থাকবে মাঠে, এটাই খুব স্বাভাবিক৷ কিন্তু এবার গ্যালারিতেও বার বার চলে যাচ্ছিলো ক্যামেরার চোখ৷ গ্যালারিতে পুটিনের পাশাপাশি ছিলেন ক্রোয়েশিয়ার সুন্দরী প্রেসিডেন্ট এবং ফ্রান্সের সুদর্শন প্রেসিডেন্ট৷   অভিবাদনরোববার রাতে ৪-২ গোলে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে ২০ বছর পর আবার বিশ্বকাপ জিতে নিয়েছে ফ্রান্স৷ ম্যাচের আগে দুই দলের সফলতা কামনা করে একে অপরকে অভিবাদন জানাচ্ছেন ফাইনালের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্রান্স আর ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ আর কোলিন্ডা গ্রাবার-কিটারোভিচ৷   আত্মঘাতী গোলের পর প্রতিক্রিয়াক্রোয়েশিয়ার আত্মঘাতী গোলের পর হতাশ সে দেশের প্রেসিডেন্ট৷ এ সময় সান্ত্বনা দিতে এগিয়ে এলেন স্বামী ইয়াকভ কিটারোভিচ৷  পেনাল্টিতে গোলক্রোয়েশিয়ার ফুটবলারের হাতে বল লাগার পর পেনাল্টিতে গোল দেয় ফ্রান্স৷ সেই উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে ভিআইপি গ্যালারিতে, প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁর মাঝেও৷    গল্পে মশগুল তাঁরালুঝনিকি স্টেডিয়ামের ভিআইপি গ্যালারিতে ম্যাচের ফাঁকে ফাঁকে মাক্রোঁ গল্পে মশগুল ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিন আর ফিফার প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে৷   ফ্রান্সের তৃতীয় গোলতৃতীয় গোলের পর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে অনেকটাই এগিয়ে যায় ফ্রান্স৷ প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁকে দেখে তাঁর উত্তেজনা টের পাচ্ছিলন সবাই৷    শিরোপা জয়শেষ বাঁশি বেজে গেছে৷ জিতে গেছে ফ্রান্স৷ দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বজয়ের আনন্দ-উত্তেজনা যে বাঁধ ভাঙা, প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁর উচ্ছ্বাসই তা বলে দেয়৷   ক্রোয়েশিয়ার কোচকে অভিনন্দনফ্রান্স শিরোপা জয় করলেও ফুটবল ভক্তদের হৃদয় জয় করে নিয়েছে ক্রোয়েশিয়া৷ ম্যাচ শেষে ক্রোয়েশিয়া দলের কোচকে অভিনন্দন জানান দেশটির প্রেসিডেন্ট৷    কোলিন্ডা গ্রাবার-কিটারোভিচএবারের বিশ্বকাপ আসরে ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা দেখিয়ে সবার মন জিতে নিয়েছেন ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট কোলিন্ডা গ্রাবার-কিটারোভিচ৷     মদ্রিচের জন্য ভালোবাসাশিরোপার স্বপ্ন পূরণ হয়নি, কিন্তু লুকা মদ্রিচরা ক্রোয়েশিয়াকে এনে দিয়েছেন ইতিহাসের সেরা সাফল্য৷ পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলার জন্য মদ্রিচ পেয়েছেন গোল্ডেন বল৷ আর তাই প্রেসিডেন্ট উষ্ণ আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধরেন মদ্রিচকে৷      পরের বার হবে হয়ত   এবারের বিশ্বকাপে আয়োজক দেশ রাশিয়া শিরোপা না জিতলেও অনেক দূর গিয়েছিল৷ পুটিন যেভাবে কাপটি ছুঁয়ে দেখছেন তাতে মনে হচ্ছে তিনি মনে মনে যেন বলছেন, ``এবার হয়নি, কিন্তু পরের বার এই কাপ আমাদের হবে৷’’ সূত্র: ডয়চে ভেলে         এসি       

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি