ঢাকা, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭ ২০:০৫:৫৭

রোহিঙ্গাদের দেখতে আসছেন জর্ডানের রানী রানিয়া

রোহিঙ্গাদের দেখতে আসছেন জর্ডানের রানী রানিয়া

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনীর নির্যাতন ও গণহত্যার মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের দেখতে আসছেন জর্ডানের রানী রানিয়া আল আবদুল্লাহ। আগামী সপ্তাহে তার বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। রানিয়া বিশেষ ফ্লাইটে তিনি ঢাকা হয়ে সরাসরি কক্সবাজার যাবেন। সেখানে তিনি রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুদের সঙ্গে কথা বলবেন। মানবতার কল্যাণে বৈশ্বিকভাবে সামজিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী রানী রানিয়ার কক্সবাজার সফর রোহিঙ্গা ইস্যুতে জনমত সৃষ্টি বিশেষ করে ইস্যুটির ‘সংবেদনশীলতা’ বাড়বে বলে মনে করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিনি এরদোয়ান কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করতে বাংলাদেশে এসেছিলেন। গত ২৪ আগস্ট রাতে পুলিশ ও সেনাদের ৩০টি চৌকিতে হামলার ঘটনায় বিদ্রোহী দমনের নামে রাখাইনে নৃসংশতা শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। পরদিন থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৬ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে অাশ্রয় নিয়েছে। ডব্লিউএন
অক্সফোর্ডের কমন রুম থেকে সু চির নাম প্রত্যাহার

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের উপর মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রেক্ষাপটে বিতর্কিত ভূমিকার কারণে নানা সমালোচনার মুখে পড়েছেন অং সান সু চি। এবার যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড কলেজ তাদের জুনিয়র কমন রুম থেকে শান্তিতে নোবেল জয়ী মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা সু চির নাম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির সেন্ট হিউ’স কলেজের শিক্ষার্থীরা কমন রুম থেকে সু চির নাম মুছে ফেলার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে সেন্ট হিউ’র পরিচালনা পর্ষদ কলেজের মূল ফটক থেকে সু চির প্রতিকৃতি নামিয়ে ফেলে। আর অক্টোবর মাসের শুরুতে অক্সফোর্ড সিটি কাউন্সিল সর্ব সম্মতভাবে সু চির ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব অক্সফোর্ড পদক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। সেন্ট হিউ’কলেজে ১৯৬৪ সাল থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত সু চি রাজনীতি, দর্শন ও অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। সেন্ট হিউ’র সিদ্ধান্তে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রাখাইনে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় সু চির সমালোচনা করতে না পারা অগ্রহণযোগ্য। এক সময় তিনি যে নীতি ও আদর্শের প্রতি অবস্থান নিয়েছিলেন এখন সু চি সেগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। ২০১২ সালে সু চি অক্সফোর্ড থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছিলেন। ওই বছরই তিনি নিজের ৬৭তম জন্মদিন কলেজে পালন করেন। এখন পর্যন্ত অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি সু চির সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে না। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নিপীড়নে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। গত ২৪ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে হামলার জেরে রোহিঙ্গা নিধন শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার হিসাব মতে, জীবন বাঁচাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ছয় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। রোহিঙ্গা নিপীড়নের ঘটনাকে পাঠ্যপুস্তকে উল্লিখিত গণহত্যার উদাহরণের সঙ্গে তুলনা করেছে জাতিসংঘ। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান। ডব্লিউএন

২৩ অক্টোবর ঢাকা আসছেন সুষমা

দুই দিনের বাংলাদেশ সফরে আগামী ২৩ অক্টোবর ঢাকা আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। এই সফরে তিনি ভারতের অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা ১৫ টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে পর্যালোচনা হবে সুষমার সফরে। ২৩ অক্টোবর ১৫টি প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন সুষমা। এ উপলক্ষে ঢাকায় দিল্লি হাইকমিশনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। গত এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো দেশটির শীর্ষ কোনো মন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে আসছেন। এর আগে আসেন ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। তার সফরে রোহিঙ্গা ইস্যুও প্রাধান্য পাবে। সফরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর পারস্পারিক সফরে নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে পর্যালোচনা করবে দুই দেশের যৌথ কমিশন। এর আগে ২০১৫ সালের জুনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশ সফরে আসেন। আর চলতি বছর এপ্রিলে ভারত সফরে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারত-বাংলাদেশ যৌথ কমিশনে সভাপতিত্ব করবেন সুষমা স্বরাজ ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী। এ বৈঠকে তিস্তা পানি বন্টন চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি। আর/ডব্লিউএন

মাকে দেখে কাঁদেলন হানিপ্রীত

প্রতি বছরই ধুমধাম করে দীপাবলি পালন করতেন ডেরায়। কিন্তু এ বছরটা কেটেছে একেবারেই অন্য রকম ভাবে। না আছে সেই জৌলুস, না আছে সেই উচ্ছ্বাস!  অম্বালার জেলের ১১ নম্বর সেলে বসেই  দীপাবলির সময়টা কাটালেন গুরমিত রাম রহিমের ‘পালিত কন্যা’ হানিপ্রীত। দিপাবলীর দিনে জেলে তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন তার বাবা-মা, ভাই, বোন এবং ভাইয়ের স্ত্রী।  জেল সূত্রে খবর, তাদের দেখেই কান্নায় ভেঙে পড়েন হানিপ্রীত। জেলের ইন্টারকমে হানির সঙ্গে প্রায় ৩৫ মিনিট ধরে কথোপকথন চলে তাদের। হানিপ্রীতের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন তার আইনজীবীও। কিন্তু তাকে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। জেল সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, পরিবারের লোকেরা হানিপ্রীতের জন্য উপহারও নিয়ে আসেন। তাকে এক বাক্স মোমবাতি ও মিষ্টি দেন তারা। প্রথম দিকে হানিপ্রীত তা নিতে অস্বীকার করলেও জোরাজুরি করায় পরে সেই উপহার নেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ধরা পড়ার পর থেকেই জেলে বিষণ্ণ রয়েছেন হানিপ্রীত। প্রথম রাতটা প্রায় না খেয়ে, না ঘুমিয়েই কাটিয়েছেন জেলে। ইতিমধ্যেই তার বিরুদ্ধে হিংসা ছড়ানো, গুরমিতকে নিয়ে পালানোর  অভিযোগসহ আরোও অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি রাজস্থানের গুরুসার মোদিয়া থেকে কয়েক কোটি টাকা সম্পত্তির নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। তাদের দাবি, এগুলো সবই হানিপ্রীতের। মুম্বাই, দিল্লি, হিমাচলপ্রদেশ, পঞ্জাব-সহ আরও বেশ কয়েকটি জায়গায় তার নামে  সম্পত্তি রয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ। সূত্র:আনন্দবাজার এম/ডব্লিউএন

কায়রো কেন মেয়েদের জন্য বিপজ্জনক শহর?

মিশরের রাজধানী কায়রোকে মেয়েদের জন্য `সবচেয়ে বিপজ্জনক` শহর হিসেবে বলা হচ্ছে। পৃথিবীর বড় বড় মেগাসিটিগুলোর উপর টমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক জরিপে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। পৃথিবীজুড়ে নারীদের জন্য ঝুকিপূর্ণ এমন মহানগরীর মধ্যে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা রয়েছে সপ্তম স্থানে, তবে যৌন সহিংসতার দিক থেকে ঢাকার অবস্থান চতুর্থ। বিশ্বের ১৯টি মেগাসিটিতে পরিচালিত এই জরিপে নারী ইস্যুতে বিশেষজ্ঞদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিলো যে, যৌন সহিংসতা থেকে মেয়েরা ঠিক কতোটা সুরক্ষিত। জরিপে দেখানো হয়, বড় শহরের মধ্যে লন্ডন সবচেয়ে বেশি নারীবান্ধব, এরপরেই রয়েছে টোকিও ও প্যারিস। আর কায়রোর নারী অধিকার কর্মীরা বলছেন, দেশটির পুরনো প্রচলিত প্রথাগুলোই নারীদের প্রতি বৈষম্যের জন্য বেশি দায়ী এবং নারীদের জন্য প্রগতিশীল কোনো পদক্ষেপ নেয়াও সেখানে কঠিন। তাদের মতে, ভালো স্বাস্থ্যসেবা, অর্থ ও শিক্ষার মতো বিষয়গুলোতেও নারীর জন্য সুযোগ কম। মিশরের সুপরিচিত সাংবাদিক শাহিরা আমিন গণমাধ্যমকে বলছেন, শহরের সবকিছুই নারীর জন্য কঠিন এমনকি রাস্তায় হাঁটতে গেলেও বিভিন্ন হয়রানির শিকার হতে পারে একজন নারী। নারীদের জন্য বিপজ্জনক মেগাসিটির তালিকায় কায়রোর পরেই আছে পাকিস্তানের করাচী এবং কঙ্গোর কিনসাসা। আর যৌন হয়রানি বা ধর্ষণের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ শহর হলো ভারতের দিল্লী ও এরপরেই আছে ব্রাজিলের সাও পাওলো। কেআই/ডব্লিউএন  

কুর্দিদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদি কুর্দিদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। তার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে কুর্দিশ আঞ্চলিক সরকার। ইতোমধ্যেই কুর্দিস্তানের আঞ্চলিক সেনাদের কাছ থেকে কারকুকের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইরাকি বাহিনী। অভিযানে দক্ষিণের তেলখনিগুলোসহ কুর্দিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কিরকুক শহরের `বড় অংশ` নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করে ইরাকের সরকারি বাহিনী। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরাকি সশস্ত্র বাহিনী কুর্দিদের এলাকায় অভিযান শুরু করলে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। আর এই উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যেই হায়দার আল আবাদি দুপক্ষের মধ্যে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। অভিযানে কুর্দিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সমস্ত এলাকা ইরাকি বাহিনী দখলে নিয়ে নিয়েছে। ওই এলাকাগুলো ২০১৪ সালে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট জঙ্গিগোষ্ঠীর সাথে লড়াই করে দখল করেছিল কুর্দিরা। স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহর ‘কারকু’কে কুর্দিরা নিজেদের প্রাণকেন্দ্র বলেই মনে করে। কারকুক শহরে রয়েছে বড় তেলক্ষেত্র যেখান থেকে বিপুল পরিমাণে রাজস্ব আসে। অভিযানে তেলখনি, সামরিকস্থাপনাসহ কুর্দিদের সমস্ত এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়ায় কুর্দি নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় ইরাকের সরকারের শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদি স্বাধীনতা প্রশ্নে কুর্দিদের গণভোটকে অসাংবিধানিক বলে আখ্যা দিয়ে এই ভোট বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে কুর্দিস্তানের আঞ্চলিক সরকার এই ভোটকে বৈধ বলে উল্লেখ করছে। উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাহায্যও চেয়েছে আঞ্চলিক সরকার। এদিকে কারকুক ও এরবিলের মধ্যবর্তী রাস্তায় রাষ্ট্রীয় বাহিনীর যে অবস্থান তার খুব কাছেই সশস্ত্র কুর্দি যোদ্ধারা অবস্থান নেয়া উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছে। কুর্দিদের অনেককে তাদের বাড়ি থেকে জোর করে বের করে দিচ্ছে ইরাকি বাহিনী, তাদের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিচ্ছে -এমন কিছু খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সূত্র:বিবিসি। এম/ডব্লিউএন

লুকিয়ে থাকা মংডু টাউনশীপের রোহিঙ্গারাও দেশ ছাড়ছেন

এবার দেশ ছাড়ছেন মিয়ানমারের মংডু টাউনশীপের লুকিয়ে থাকা রোহিঙ্গারা। মংডু ও বুচিডং এ দুই টাউনশীপ নিয়ে মংডু জেলা গঠিত। আরাকানের (সংশোধিত নাম রাখাইন স্টেট) ৪টি জেলার মধ্যে আকিয়াবের পর মংডুর স্থান। ২টি থানা নিয়ে গঠিত হলেও আরাকান রাজ্যের অন্যতম বৃহত্তর ও সমৃদ্ধশালী জেলা হচ্ছে মংডু। মংডু থানাধীন মুসলিম অধ্যুষিত ১০৫টি ইউনিয়নের রোহিঙ্গারা মিয়ানমার সেনা এবং মগদের বহুমুখী নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসলেও মংডু শহরের আশপাশের গ্রামে অবস্থানকারী রোহিঙ্গারা নানা কৌশলে নাড়িকাটা মাতৃভুমি ছেড়ে আসেননি। এদের বেশির ভাগই স্বচ্ছল পরিবার এবং ব্যবসায়ী। শখের বসতবাড়িটি পুড়িয়ে না দিতে দাবি অনুযায়ী লাখ লাখ কিয়াট ঘুষ দিয়েও মন ভরছেনা মগ-সেনাদের। অনেক মুসলমান পরিবার আছেন স্থাবর-অস্থাবর বিশাল সম্পদের মালিক। আর কিছু আছেন সরকারী ও বেসরকারী চাকরীজীবি। এদের সংখ্যাও নেয়ায়েত কম নয়। 

ইয়াঙ্গুনে বিলাসবহুল হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড,  নিহত ১

মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে একটি বিলাস বহুল আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় একজন নিহত ও দুই আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সময় রাত তিনটার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয় হয় এবং এরপর শতাধিক অগ্নিনির্বাপণ কর্মী কয়েক ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নেভাতে। হোটেল থেকে তারা ১৪০জনেরও বেশি অতিথিকে নিরাপদে সরিয়ে নেন। হোটেলটির একজন মার্কিন অতিথি এডরিয়েনে ফ্রিলট স্থানীয় একটি পত্রিকাকে বলেছেন, তিনি ফায়ার অ্যালার্ম শুনতে পাননি। যখন হোটেলের লোকজন দরজা ধাক্কাধাক্কি করছিল তখন তিনি জেগে ওঠেন। তিনি বলেন, "বুঝলাম কিছু একটা সমস্যা হয়েছে। দরজা খুলে ধোঁয়ার গন্ধ পেলাম।’’

কাতালোনিয়ার স্বায়ত্তশাসন স্থগিত করছে স্পেন

কাতালোনিয়ার নেতা কার্লোস পুজদেমন স্বাধীনতা ঘোষণা করার হুমকি দেওয়ার পর এ অঞ্চলটির স্বায়ত্তশাসন স্থগিত করার পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে স্পেন। শনিবার থেকেই কাতালোনিয়ার স্বায়ত্তশাসন স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানানো হয়, কাতালোনিয়ার শাসনভার নিতে সংবিধানের ১৫৫ অনুচ্ছেদ কার্যকর করার জন্য শনিবার মন্ত্রিসভার বৈঠক হবে। এর আগে কাতালান নেতা পুজদেমন জানান, স্পেনের ‘দমননীতি চলতে থাকলে’আঞ্চলিক পার্লামেন্ট স্বাধীনতার প্রশ্নে ভোটের আয়োজন করবে। পুজদেমনের এই পদক্ষেপে স্পেনের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে অস্থিরতা শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। এক বিবৃতিতে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাখয় বলেছেন, কাতালোনিয়ার স্বায়ত্তশাসনের ক্ষেত্রে বৈধতা পুনর্বহাল করার জন্য স্পেনের সরকার সংবিধানের ১৫৫ অনুচ্ছেদে নির্দেশিত পথে এগিয়ে যাবে। স্পেনে একনায়ক জেনারেল ফ্রাঙ্কোর মৃত্যুর তিন বছর পর ১৯৭৮ সালে গণতান্ত্রিক শাসনের শুরুতেই নতুন সংবিধান চালু করা হয়। সংবিধানের ১৫৫ অনুচ্ছেদে সঙ্কটজনক পরিস্থিতি সামাল দিতে মাদ্রিদের হাতে সরাসরি শাসনভার দেওয়া হয়। এর আগে কখনই দেশটিতে সংবিধানের ওই অনুচ্ছেদ ব্যবহার করার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। কাতালোনিয়ায় গণভোট আয়োজনের পর থেকেই মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার নেতাদের মধ্যে সম্পর্কের টানপোড়ন তৈরি হয়। গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ স্বাধীনতার পক্ষে রায় দিলেও সেটাকে অবৈধ বলছে স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আগেই জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার মধ্যে পুজদেমনের দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষণা প্রত্যাহার করে না নিলে কাতালোনিয়ায় সরাসরি কেন্দ্রের শাসন চালু হবে। সূত্র: বিবিসি। আর/ডব্লিউএন

কানাডার কুইবেকে সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিকাব নিষিদ্ধ

কানাডার কুইবেক প্রদেশে সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারীদের নিকাব পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কুইবেকে ধর্মীয় নিরপেক্ষতা আইনটি সমালোচনার মুখেই পাশ করেছে কুইবেক ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি। আইনটি পাশের মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারীদের বোরকা ও নিকাব পরা নিষিদ্ধ করে তাদের মুখ দেখানো বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। কুইবেক ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে `বিল সিক্সটি-টু` নামের এই আইনটি পাশ হয় ৬৬-৫১ ভোটের ব্যবধানে। ২০১৪ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা লিবারেলরা দু’বছর আগে এই বিলটি উত্থাপন করেছিল। বিলটি পাশ হওয়ার কারণে প্রদেশের আমলা, পুলিশ কর্মকর্তা, বাস চালক, ডাক্তার, মিডওয়াইভসহ সরকারি যে কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের মুখ অনাবৃত থাকবে। এছাড়া এ আইনের মাধ্যমে প্রদেশের যেসব শিশুকেন্দ্রে ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া হতো সেই সেবাও বন্ধ হয়ে যাবে। তবে `বিল সিক্সটি-টু` নামের এই আইনটিতে কোথাও মুসলিমদের বিশ্বাসের কথা উল্লেখ নেই। প্রদেশটির সরকার বলছে, মুখে কোনো ধরনের আবরণ থাকবেনা তার অর্থ এই নয় যে মুসলিমদের টার্গেট করে এমনটা করা হয়েছে। তবে এই আইনের প্রভাব মুসলিম নারীদের ওপরই সবচেয়ে বেশি পড়বে বলে মনে করছে সমালোচকরা। সরকারের মতে, যোগাযোগ ও নিরাপত্তা ইস্যুকে মাথায় রেখে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আর সমালোচকেরা বলছেন, এটি মুসলিম নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ। ২০১৬ সালের এক জরিপের তথ্য অনুযায়ী- কানাডার ৩ শতাংশ মুসলিম নারী চাদর পরে এবং ৩ শতাংশ নারী নিকাব পরে। আর/ডব্লিউএন

ভারত আমাদের বিশ্বস্ত সহযোগী: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রকে ভারতের ’বিশ্বস্ত সহযোগী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। স্থানীয় সময় বুধবার ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে টিলারসন এ মন্তব্য করেন। টিলারসন বলেন, ‘অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের এই সময়ে বিশ্বমঞ্চে ভারতের বিশ্বস্ত সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র।’ টিলারসন তার বক্তব্যে ভারত নীতির বিষয়ে কথা বলেন। এ সময় তিনি চীনের উত্থান, আচরণ ও তৎপরতাকে ‘নিয়মকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ’ বলে মন্তব্য করেন। টিলারসন বলেন, ‘বিকাশমান চীন খুবই কম দায়িত্বশীল আচরণ করেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক, নিয়মকেন্দ্রিক ব্যবস্থাকে তুচ্ছ করেছে, যেখানে ভারতের মতো দেশ এমন একটি কাঠামোতে কর্মতৎপরতা চালাচ্ছে যাতে অন্য জাতিগুলোর সার্বভৌমত্ব রক্ষা পাচ্ছে।’ দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের উসকানিমূলক আচরণ সরাসরি আন্তর্জাতিক আইন ও রীতির প্রতি চ্যালেঞ্জ বলেও জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।   সূত্র: জি নিউজ এমআর/এআর

রোহিঙ্গা সঙ্কটের জন্য মিয়ানমারের নেতৃত্বই দায়ী: টিলারসন

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা সঙ্কটের জন্য দেশটির সেনা নেতৃত্বকেই দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। তবে তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেবে কি না, তা স্পষ্ট করেননি তিনি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাখাইনের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর বর্বর অভিযানের জন্য মিয়ানমারের জেনারেলরাই দায়ী।  রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারে সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে নোবেলজয়ী অং সান সু চির নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রে সব সময়ই সমর্থন দিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি কৌশলগত কারণে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ওয়াশিংটন সব সময় সু চির সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে গেছে। কিন্তু রোহিঙ্গা সঙ্কটে সাড়া দিতে ব্যর্থ হওয়ায় পশ্চিমা মিত্রদের কাছেও এখন সমালোচিত হচ্ছেন সু চি। গতকাল বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাখাইনে যেসব সহিংসতার খবর আসছে, বিশ্ব তা দেখেও চুপ করে থাকতে পারে না। যা ঘটছে সেজন্য আমরা মিয়ানমারের সামরিক নেতৃত্বকেই দায়ী করব। রাখাইনের পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘দারুণভাবে উদ্বিগ্ন’ বলেও জানিয়েছেন টিলারসন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৩ জন আইনপ্রণেতা পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনকে লেখা এক চিঠিতে মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন। আর রোহিঙ্গা সঙ্কটের জন্য যারা সুনির্দিষ্টভাবে দায়ী তাদের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে কড়াকড়ি আরোপের দাবি জানিয়েছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা।  দীর্ঘদিন সামরিক শাসনে থাকা মিয়ানমারের ওপর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ছিল। ২০১৫ সালে নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে মিয়ানমারে গণতন্ত্র ফেরার সময় যুক্তরাষ্ট্র সেসব কড়াকড়ি তুলে নেয়। টিলারসনকে লেখা ওই চিঠিতে যারা সই করেছেন, তাদের মধ্যে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি ও বিরোধী দলে থাকা ডেমোক্রেটিক পার্টি- দুই দলের সংগ্রেস সদস্যরাই আছেন। চিঠিতে বলা হয়, রাখাইনে সহিংসতা বন্ধের পদক্ষেপ নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না মিয়ানমার সরকার। যারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। টিলারসন বলেন, মিয়ানমারে বিদ্রোহীদের নিয়ে যে একটি সমস্যা আছে তা ওয়াশিংটন জানে। কিন্তু সেনাবাহিনীকে অবশ্যই সুশৃঙ্খল থাকতে হবে এবং সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে সংযমের পরিচয় দিতে হবে। টিলারসন আরো বলেন, ওয়াশিংটন মিয়ানমারকে একটি উদীয়মান গণতন্ত্রের দেশ হিসেবেই দেখে। কিন্তু সেখানে সামরিক-বেসামরিক ক্ষমতা ভাগাভাগির যে মিশ্র সরকার রয়েছে, তার জন্য এই রোহিঙ্গা সঙ্কট একটি অগ্নি পরীক্ষা। রয়টার্স জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের সেনা কর্তকর্তাদের ওপর কড়াকড়ি আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে। গত ২৫ অগাস্ট থেকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের গ্রামে গ্রামে ওই অভিযানে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের মত অপরাধের অভিযোগ উঠেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে এ পর‌্যন্ত প্রায় ছয় লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। সূত্র: রয়টার্স এমআর/এআর

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি