ঢাকা, রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৬:০৯:৩৩

ফিলিস্তিনের শীর্ষ ব্যবসায়ী আটক সৌদি আরবে

ফিলিস্তিনের শীর্ষ ব্যবসায়ী আটক সৌদি আরবে

ফিলিস্তিনের শীর্ষ ব্যবসায়ী সাবিহ-আল মাসরিকে সৌদি আরবে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে তাকে সৌদি-আরবের রাজধানী গত এক সপ্তাহ ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তার পরিবার। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান জারা ইনভেস্টমেন্ট হোল্ডিং এর মালিক এবং আরব ব্যাংকের চেয়ারম্যান সাবিহ-আল মাসরির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তার জর্ডান ও সৌদি আরবের নাগরিকত্ব রয়েছে। তবে আরব নিউজের ওয়েবসাইটে জানানো হয়, মাসরির বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আনা হয়নি। মাশরি ফিলিস্তিনের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি মুনিব আল মাসিরির চাচাত ভাই।  ফিলিস্তিন সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ এর প্রতিষ্ঠাতা মাসরি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন্ কোম্পানি ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক অঙ্কের বিনিয়োগ রয়েছে। এদিকে মাসরির আটকের খবর জর্ডানকে সতর্ক বার্তা দিয়েছে সৌদি-আরব, এমনটিই জানিয়েছে রয়টার্স। শুধু তাই নয়, তার আটকের খবরে দেশটিতে হাজার হাজার কর্মী শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এমজে/ এআর
ভূমিধসে লন্ডভন্ড চিলির গ্রাম

ভূমিধসে চিলির একটি গ্রাম লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে। চিলির দক্ষিণাঞ্চলের গ্রাম ভিলা সান্তা লুসিয়ায় ভারি বর্ষণের কারণে এমনটি হয়েছে। এতে পাঁচজন নিহত ও ১৫ জন নিখোঁজ হয়েছেন। পুরো গ্রাম এখন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন। খবর বিবিসির। নিহতদের মধ্যে চারজন চিলির নাগরিক ও একজন পর্যটক বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ওই পর্যটকের নাম ও তিনি কোনো দেশের নাগরিক তা প্রকাশ করা হয়নি। ভূমিধসের পর ওই এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করেছেন চিলির প্রেসিডেন্ট মিশেল বাশেলেত। তিনি বলেন, ভিলা সান্তা লুসিয়ায় ভূমি ধসে নিখোঁজ সবাইকে খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছি। ভূমিধসের পর ওই এলাকায় অবস্থানরত কয়েক হাজার মানুষ আটকা পড়েছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় পুরো দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন তারা। ছোট ওই গ্রামটির কাছে একটি জাতীয় উদ্যান আছে; স্থানটি পর্যটকদের পছন্দের জায়গা। প্রেসিডেন্ট বাশেলেত বলেছেন, ভিলা সান্তা লুসিয়া গ্রামের লোকজনকে রক্ষার জন্য যা যা করা দরকার, তার সবকিছু করার জন্য উদ্ধারকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছি।  এলাকাটি চিলির রাজধানী সান্তিয়াগো থেকে প্রায় ১,১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে। গ্রামটির অবস্থান যে উপত্যকায়, সেটির অংশ বিশেষ চারপাশে ঘিরে থাকা পবর্তগুলো থেকে ধসে পড়া বিপুল পরিমাণ কাদার নিচে চাপা পড়েছে।  স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার আগের ২৪ ঘন্টায় ওই এলাকায় অস্বাভাবিক ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর ফলেই ভূমিধস হয়েছে। আটকা পড়া বহু মানুষকে হেলিকপ্টারে তুলে নিকটবর্তী চাইদেন শহরে নিয়ে গেছেন উদ্ধারকারীরা। অপরদিকে বিধ্বস্ত গ্রামটিতে জীবিতদের খোঁজ করছেন অন্যান্য উদ্ধারকারীরা। গ্রামটির কাছেই করকোভাদো জাতীয় উদ্যান। আগ্নেয়গিরি, গিরিখাত ও বনাচ্ছাদিত উদ্যানটিতে প্রতি বছর বহু পর্যটকের সমাগম হয়। রোববার চিলির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রান-অফ ভোট হওয়ার কথা। এর একদিন আগে এ ঘটনা ঘটলো। / এআর /

মুগাবের স্বপ্নভঙ্গ

রবার্ট মুগাবের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথ চিরতরে বন্ধ করে দিয়েছে জিম্বাবুয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাওয়া। শুক্রবার রবার্ট মুগাবের দল জানুপিএফ পার্টি বর্তমান প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাওয়াকে দলের প্রধান ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলটির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে এমারসন নানগাওয়ার নাম ঘোষণা করেন। আগামী জুলাই-আগস্টের দিকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে বর্তমান প্রেসিডেন্ট নানগাওয়া। তবে ঠিক কত তারিখে নির্বাচন হবে সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি। এর মধ্য দিয়ে মুগাবে দম্পত্তির স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল। এর আগে রবার্ট মুগাবে তার স্ত্রী গ্রেস মুগাবেকে আগামী নির্বাচনের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী করাতে চেয়েছিলেন। এই অভিযোগে দেশটিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রবার্ট মুগাবেকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১৯৭৫ সাল থেকে দলটিকে মুগাবে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। এছাড়া তার  নেতৃত্বে ১৯৮০ সালে গৃহযুদ্ধে শ্বেতাঙ্গদের কাছ থেকে ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেন ওই নেতা। নানগাওয়া শুক্রবারের বক্তব্যে রবার্ট মুগাবেকে জাতির পিতা, কমরেড এবং নিজের নেতা বলে ঘোষণা করেন। তবে গ্রেসের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতেই তারা পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এদিকে রবার্ট মুগাবে বর্তমানে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে রয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য দেশ দুটিতে তিনি ভ্রমণ করছেন বলে জানা গেছে।   সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট এমজে / এআর      

‘উ. কোরিয়ার ক্ষেপনাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম নয়’

উত্তর কোরিয়ার তৈরি করা ব্যালিস্টিক ক্ষেপনাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম নয় বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস। গত শুক্রবার পেন্টাগনে এক সংবাদ সম্মেলনে জেমস ম্যাটিস বলেন, উত্তর কোরিয়ার নভেম্বরে আইসিবিএম নামের ক্ষেপনাস্ত্রকে এখনও পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে না। ওই ক্ষেপনাস্ত্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো নিরীক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। আমরা এটি নিয়ে এখনো গবেষণা করছি, এটি সমাপ্ত হতে আরও কিছু সময় লাগবে। উল্লেখ্য, গত ২৮ নভেম্বর পিয়ংইয়ং একটি নতুন ক্ষেপনাস্ত্রের সফল পরীক্ষায় চালায়। ওই ক্ষেপনাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো স্থানে হামলা চালাতে সক্ষম বলে উত্তর কোরিয়া দাবি করে আসছিল। ওই সময়ে ম্যাটিসও দাবি করেন, উত্তর কোরিয়া বিশ্বের যে কোন জায়গায় হামলা চালাতে সক্ষম পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে। আর ওই ক্ষেপনাস্ত্র তারই প্রতিফলন বলে দাবি করেছিলেন তিনি। ওই সময় তিনি দাবি করেন, ওই ব্যালিস্টিক ক্ষেপনাস্ত্র বিশ্বের শান্তির জন্য হুমকি। একইসঙ্গে এটি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে। তবে ওই অভিযোগের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিলারসন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। জেমস ম্যাটিস বলেন, ক্ষেপনাস্ত্র বিশেষজ্ঞ প্যাট্রিক রিলি গবেষণা চালিয়ে দেখেন পিয়ংইয়ংয়ের তৈরি হাসং-১৫ ক্ষেপনাস্ত্রটি যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালাতে সক্ষম নয়। এম জে / এআর /

জাকির নায়েককে গ্রেফতারে ভারতের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান ইন্টারপোলের

পিস টিভির পরিচালক ও ইসলামী ব্যক্তিত্ব জাকির নায়েককে গ্রেফতারে ইন্টারপোল অস্বীকৃতি জানিয়েছে। একইসঙ্গে ইন্টারপোলের সব শাখা থেকে জাকির নায়েকের সব তথ্য মুছে ফেলার আদেশ দিয়েছে সংস্থাটি। ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার বিষয়ে যথেষ্ট দলিলাদি দিতে না পারায় ইন্টারপোল এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। শুধু তাই নয়, তার বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিশ জারিতেও সংস্থাটি অস্বীকৃতি জানিয়েছে।  জাকির নায়েক পিস টিভির মাধ্যমে ভারতে ধর্মীয় উস্কানি সৃষ্টি করছেন এমন অভিযোগ আনে ভারত সরকার। পরে ২০১৬ সালের নভেম্বরে তাঁর সংস্থা ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগ এনে সংস্থাটিকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় সরকার। শুধু তাই নয়, ওই সময়ে  তাঁর  বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ইউএপিএ ১২০ বি, ১৫৩ এ, ২৯৫ এ, ২৯৮ এবং ৫০৫(২) ধারায় মামলা করা হয়। এর আগে ২০১৬ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি চেষ্টার অভিযোগ এনে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ তাঁর বিরুদ্ধে রেড এলার্ট জারি করে । এরপরই গ্রেপ্তার এড়াতে ভারত ছেড়ে মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নেন তিনি। তবে গত মাসে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জাকির নায়েককে ভারতে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে । তবে ইন্টারপোলের এই সিদ্ধান্ত জাকির নায়েককে ভারতে ফেরানোর ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করবে বলে জানা গেছে। এদিকে ইন্টারপোলের কাছে নতুন করে প্রমাণাদি হাজির করতে চায় এনআইএ। গত শনিবার ইন্টারপোলের সিদ্ধান্ত জানার পরই সংস্থাটি এ সিদ্ধান্ত নেয়। এনআইএ জানায় চার্জশীটের অভাবে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে রেড এলার্ট জারি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে এবার চার্জশীটসহ ইন্টারপোলকে আবেদন জানানো হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটির ঊর্ধতন এক কর্মকর্তা। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া এমজে/ এআর    

জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর ঠেকাতে প্রস্তাব দিবে মিসর

জেরুজালেমের সংকটের ব্যাপারে কোনো একটি দেশের একক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আইনগত বৈধতা পাবে না, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এমন একটি প্রস্তাব তুলতে যাচ্ছে মিসর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিবাদে জাতিসংঘে এই প্রস্তাব তোলা হচ্ছে। কূটনীতিকরা মনে করছেন, নিরাপত্তা পরিষদের অধিকাংশ সদস্য এর সমর্থন করলেও যুক্তরাষ্ট্র বিরোধিতা করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে এমন দেশগুলো যেন জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তর না করে, সে বিষয়টিও প্রস্তাবে থাকছে। চলতি মাসের শুরুতে তেল আভিভ থেকে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে নেওয়ার মার্কিন সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানায় আরব বিশ্বের নেতারা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে পথে নেমে আসেন ফিলিস্তিনের মানুষ। জেরুজালেম ইস্যুতে ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘাতে গত শুক্রবার মারা গেছেন চারজন ফিলিস্তিনি। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সূত্র: বিবিসি একে// এআর

চীনে অগ্নিকাণ্ড থেকে বাঁচতে ‘টম ক্রুজ’

চীনে অগ্নিকাণ্ড থেকে বাঁচতে ২৩ তলা ভবনের এক বাসিন্দা টম ক্রুজ হয়ে গেছিলেন সাময়িক সময়ের জন্য। এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। জানা যায়, গত ১৩ ডিসেম্বর একটি ২৩ তলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ওই ভবনের উপরের তলায় আগুন লেগে যায়। আগুন থেকে বাঁচতে ওই তরুণ ভবনের বেলকুনি বেয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। তবে এত উুঁচু ভবন থেকে কোন ভাবেই নিচে নামা সম্ভব নয় জেনে, ওই তরুণ ঝুলে পড়েন বেলকুনির রড ধরে। পরে ‘মিশন ইম্পসিবল’ মুভির নায়ক টম ক্রুজেরে মতো করে নিচের তলার কাচের জানালা ভাঙ্গার চেষ্টা করেন তিনি। ওই সময় উপর থেকে তাঁর গায়ের উপর আগুনের হলকা পড়তে দেখা গেছে। তবে ওই তরুণ দমে যাননি । চেষ্টা চালিয়ে যান। তবে শত চেষ্টা করেও কাঁচের জানালা ভাঙ্গতে পারছিলেন না। অবশেষে ঘটনাটি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের জানালে তারা এসে ওই তলার কাচ ভেঙ্গে তাকে উদ্ধার করে। তবে ওই তরুণের কোন ক্ষতি হয়নি বলে জানা গেছে। নিচেও ভিডিওর লিঙ্ক: https://www.facebook.com/shanghaiist/videos/10156449915166030/ সূত্র: এনডিটিভি এমজে

বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ রাষ্ট্রপ্রধান পেতে যাচ্ছে অস্ট্রিয়া

অস্ট্রিয়াতে ডানপন্থী দল ফ্রিডম পার্টির সঙ্গে কোয়ালিশন সরকার গঠনে সম্মত হয়েছে কনজারভেটিভ পিপলস পার্টি। ১৫ অক্টোবর নির্বাচনে জয়লাভ করেও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় পিপলস পার্টি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পিপলস পার্টির নেতা সেবাস্তিয়ান কোর্জ মাত্র ৩১ বছর বয়সে দেশটির প্রধানের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। এরমধ্য দিয়ে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছেন তিনি। কোয়ালিশন সরকার গঠিত হলে কনজারভেটিভ পার্টি প্রথমবারের মতো ডানপন্থীদের সঙ্গে কোয়ালিশন গঠনের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছে। তবে দুই দলের কোন নেতাই কোয়ালিশন বিষয়ে মুখ খুলেননি। দুদলই বলছেন, কোয়ালিশন সরকার গঠনের বিষয়ে তারা প্রথমে দেশটির প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভ্যান ডার বেলেন এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। পাশাপাশি নিজ দলেও কোয়ালিশন সরকারের বিষয়ে আলোচনার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে। সূত্র: বিবিসি এমজে / এআর  

রাহুলকে প্রধানমন্ত্রী চান ২০ শতাংশ ভারতীয়!

কংগ্রেসের নতুন সভাপতি রাহুল গান্ধীকে আগামী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখাতে চান মাত্র ২০ শতাংশ ভারতীয়। টাইমস গোষ্ঠীর একটি সমীক্ষায় এমনই তথ্য উঠে এসেছে। সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদীকে ফের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে চান ভারতের ৭৬ শতাংশ মানুষ। সমীক্ষায় ৭৯ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, পরবর্তী নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন-ই সরকার গঠিত হবে। অন্যদিকে ১৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন, রাহুলের নেতৃত্বেই সরকার গড়বে কংগ্রেস। টাইমস অফ ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাবতীয় প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা সত্ত্বেও গোষ্ঠীর ১০টি ভাষার পাঠকদের মধ্যে ৯টির পাঠকরা মোদীকে ফের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চান। ১২ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চালানো হয়েছিল এই সমীক্ষা। ঘটনাচক্রে মোদী পরবর্তী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী না হলেও বিজেপিকে ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন ৪৮ শতাংশ মানুষ। রাহুলের ভাগে গিয়েছে মাত্র ৩৩ শতাংশের সমর্থন। রাহুল গান্ধী ভোটারদের সঙ্গে নতুন করে কংগ্রেসের যোগসূত্র স্থাপন করতে সক্ষম হবেন- এমন আশা প্রকাশ করেছেন মাত্র ৩৪ শতাংশ মানুষ। গান্ধী পরিবারের সদস্য কংগ্রেসের নেতৃত্বে না থাকলেও কংগ্রেসকে ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন মাত্র ৩৭ শতাংশ। ভারতীয় কংগ্রেসের ৪৯তম সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন সোনিয়াপুত্র রাহুল গান্ধী। /ডিডি/

রাহুলের দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে কর্মীদের কাণ্ডে বিরক্ত সোনিয়া

দীর্ঘ ১৯ বছর কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সোনিয়া গান্ধী। আজ শনিবার সেই দায়িত্ব হস্তান্তের সমাপনি ভাষণের এসে আবেগপ্রবণ হলেন তিনি। ছেলের হাতে দলের নেতৃত্ব তুলে দিলেন তিনি। বক্তব্য রাখতে গিয়ে এবার সেখানে মেজাজ হারালেন সোনিয়া গান্ধী। কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে রাহুল গান্ধীর অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত কংগ্রেস কর্মীদের উন্মাদনায় বার বার নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাধাপ্রাপ্ত হন সোনিয়া। যদিও, পরে খোদ রাহুল এসে তাকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন। জি নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। আকবর রোডে আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন রাহুল। সেখানে নিজের বিদায়ী ভাষণ দিতে মঞ্চে ওঠেন সোনিয়া। আর ঠিক সেই সময়ই অনুষ্ঠানে উপস্থিত কংগ্রেস কর্মীরা বাজি পটকা ও আবির নিয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন। তীব্র শব্দে নিজের বক্তব্য রাখতে বার বার বাধাপ্রাপ্ত হন সোনিয়া। অবশেষে কিছুটা বিরক্তির স্বরেই বলে ওঠেন, ``এত শব্দে আমি নিজের বক্তব্য রাখতে পারছি না।`` প্রায় ৫ মিনিট তিনি পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে থাকেন কিছু না বলেই। এরপরই পরিস্থিতি সামল দিতে উঠে আসেন রাহুল। উল্লেখ্য, প্রায় এক বছর ধরে অসুস্থ সোনিয়া গান্ধী। বিদেশে গিয়েও চিকিত্সা করিয়ে এসেছেন তিনি। কার্যত নিজের স্বাস্থ্যের কারণেই দলের সভানেত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন সোনিয়া। এসএইচ/

৭১’র নায়ক বঙ্গবন্ধু, খলনায়ক ভুট্টো

আজ ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। বাঙ্গালি জাতির গৌরবের দিন। বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাসের দিন আজ । সবচেয়ে বড় অর্জনের দিন আজ। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণের দিন। পাকিস্তানি শাসকদের শোষণ, নিপীড়ন, বঞ্চনা আর নির্যাতনের শেষদিন আজ। সারাদেশে মানুষ বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করছেন। অন্যদিকে সেই পাকিস্তানিরা কী করছে? কী ভাবছে তারা দিনটি নিয়ে? পাকিস্তানের বহুল প্রচারিত দৈনিক দ্য ডনের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তার চিত্র। দ্য ডন অবলম্বনে রিপোর্টটি তৈরি করেছেন একুশে টেলিভিশনের প্রতিবেদক মোহাম্মদ জুয়েল- ১৯৭০-’৭১ সালে কেবল ইয়াহিয়া খান একা কোনো রাজনৈতিক খেলা খেলেননি বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সবচেয়ে শক্তিশালী পত্রিকা দ্য ডন। সেই খেলায় নায়ক-খলনায়কের ভূমিকা পালন করেছে যথাক্রমে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও পশ্চিম পাকিস্তানের নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো। আর সেই খেলায় মারাত্মক গুটি চেলেছেন জুলফিকার আলী ভুট্টো। দ্য ব্রেক-আপ অব পাকিস্তান শিরোনামে লেখা ওই প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইয়াহিয়া খান দুটি কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন। একটি ৭০’র নির্বাচন অন্যটি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে চালানো গণহত্যা। আর এ দুই ঘটনায় আজকের বাংলাদেশে নামক রাষ্ট্রটির জন্ম দিয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১৯৬০ সালের পর থেকে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে কেবল পূর্ব পাকিস্তানেই নয়, পশ্চিম পাকিস্তানের বিভিন্ন রাজ্যেও আওয়াজ উঠতে থাকে। তবে কি কারণে কিংবা কারা এর পেছনে ইন্ধন দিয়েছিল সেই প্রশ্ন আজও অজানা। একইসঙ্গে সামরিক শাসনের অধীন পুঁজিবাদী দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকে বলা হচ্ছে, সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অসন্তোষ তৈরি হয়। সাধারণ মানুষ গণতন্ত্রের জন্য তখন থেকে সোচ্চার হতে থাকে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। আর এই অভ্যুত্থানের মাধ্যমেই আইয়ুব খান ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন।   পশ্চিম পাকিস্তানের বেলুচ ও পাখতুনখাওয়া প্রদেশে সর্বপ্রথম বিচ্ছিন্নতার পক্ষে রব উঠে। এই সুযোগে জেনারেল ভুট্টো পাকিস্তানের ছাত্র সমাজ, শ্রমিক শ্রেণী ও নব্য মধ্যম আায়ের মানুষদের আইয়ুব খানের বিপক্ষে উসকে দেয়। ভুট্টোর এই চেষ্টাকে পাকিস্তানের বুদ্ধিজীবীরা সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব হিসেবে দেখেছেন। ১৯৬৬ সালের পর থেকে ভুট্টো পশ্চিম পাকিস্তানে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রধান শক্তি হয়ে ওঠেন। তবে তিনিই সেই সামরিক সরকারের অন্যতম সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে। পূর্ব পাকিস্তানে মাওলানা ভাসানী প্রাদেশিক স্বায়ত্ত্বশাসনের জন্য রব তোলেন। পরবর্তীতে ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বায়ত্ত্বশাসন ও গণতন্ত্রের দাবিতে ছয় দফা দাবি উত্তোলন করেন। পরে জান্তা সরকার তিনিসহ পূর্ব পাকিস্তানের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে ১৯৬৮ সালে আগঢ়তলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। কিন্তু পরবর্তীতে সে মামলা থেকে শেখ মুজিব মুক্তি পান। আর শেখ মুজিবের সেই ছয় দফার মধ্য দিয়েই পূর্ব পাকিস্তানে বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদের উত্থান হয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। আর সেই ছয় দফার মধ্য দিয়েই সামরিক শাসক আইয়ুব খানের যুগের ইতি ঘটে। বলা বাহুল্য পূর্ব পাকিস্তানে যখন ধীরে ধীরে স্বাধীনতার পক্ষে আওয়াজ উঠছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখনও পর্যন্ত গণতান্ত্রিক অখণ্ড পাকিস্তানের জন্য লড়াই করেছেন। তবে পূর্ব পাকিস্তানের  অনেক বুদ্ধিজীবীর এই ধারণা ছিল যে, পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তানের ‘কলোনি’ হতে যাচ্ছে। তাই তারা স্বাধীনতার জন্য সোচ্চার হতে থাকেন। এমতাস্থায় জুলফিকার আলী ভুট্টোসহ আইয়ুব খান সরকারের ক্ষমতাচ্যুতদের পরামর্শে ইয়াহিয়া খান ১৯৭০ সালের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে সমগ্র পাকিস্তানে ৩৬০ আসনের মধ্য জনসংখ্যার গরিষ্ঠতার ভিত্তিতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ১৬২টি আসনে ভাগ করেন। অন্যদিকে পশ্চিম পাকিস্তানে আসন সংখ্যা থাকে ১৩৮টি। আইয়ুব খান সরকারের পতনের পর ইয়াহিয়া খানও সামরিক শাসন জারি করেন। তাঁর নির্বাচন আয়োজনের কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়, সামরিক সরকারের গোয়েন্দারা ইয়াহিয়া খানকে এই মর্মে আশ্বস্ত করে যে, পাকিস্তানের কোন দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। তাই মূল ক্ষমতা কখনোই সামরিক শাসকদের হাতছাড়া হবে না। এমতাবস্থায় বিশৃঙ্খল পাকিস্তানে আবারও সামরিক শাসকগণ ক্ষমতায় আসবেন বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জানানো হয়। একইসঙ্গে নির্বাচনের মাধ্যমে ওই দলগুলোর জনপ্রিয়তা যাচাই করাও ছিল আমলা ও সামরিক কর্তাদের একটি বড় সুযোগ। কিন্তু নির্বাচনের আগে পূর্ব পাকিস্তানে  মৌসুমি বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এতে দুই মাসের জন্য নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হয়। ডিসেম্বরের ৭ তারিখ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তবে ১৯৭০ সালের নভেম্বরে পূর্ব পাকিস্তানে এক ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। এতে দুই লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হন। এতে আবারও নির্বাচনের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। তবে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ সংকটে পাঞ্জাবি ও মুজাহির সামরিক-আমলা প্রশাসনের ব্যবহারে পূর্ব পাকিস্তানের নেতৃবৃন্দকে হতাশ করেছে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে পশ্চিম পাকিস্তানিদের প্রতি ঘৃণা আর ক্ষোভের বীজ পাতা মেলে উঠে। পাকিস্তানের গবেষকরা বলেন, ১৯৪৭ সালে দেশটি স্বাধীনতার পর থেকে নির্বাচন না দেওয়ার একমাত্র কারণ পাঞ্জাবি-মুজাহিরদের ক্ষমতা হারানোর ভয়। তবে তাদের ভয়-ই সত্য হয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ জয় লাভ করলে তাদের ভয় আরও বেড়ে যায়। ১৬২ আসনের ১৬০টিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জয় লাভ করলে সমগ্র পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় শেখ মুজিবুর রহমানের আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে পশ্চিম পাকিস্তানে ১৩৮ আসনের মধ্যে ৮১ আসনে ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি জয়লাভ করে। তিনি মূলত সিন্ধু ও পাঞ্জাব রাজ্যে জয় লাভ করেন। তবে ১৯৭০ সালের সবচেয়ে বড় বিপর্যয় আসে তখন, যখন কোন দলই অন্য শাখায় একটি আসনেও জয়লাভ করতে ব্যর্থ হয়। এই ভোটের মাধ্যমেই পাকিস্তানের আক্ষরিক বিচ্ছেদ ঘটে বলে দাবি করা হয় প্রতিবেদনে। এদিকে পাকিস্তানের বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পাকিস্তানের সামরিক শাসক ও আমলাদের ‘ইগু’র কারণেই ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের ভয়াল কালরাত্রি নেমে এসেছিল। পশ্চিম পাকিস্তানিরা যখন অপারেশন সার্চ লাইটের নামে বর্বরতা চালিয়েছিল, তখনই বুঝা গিয়েছিল যে সামরিক নেতৃত্ব পূর্ব পাকিস্তানিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিপক্ষে কতোটা ভয়াবহ হতে পারে। পূর্ব পাকিস্তানিদের হাতে পুরো পাকিস্তানের ক্ষমতা দেওয়াকে নিজেদের জন্য অপমান বলে মনে করেছিলেন ওইসব নেতা। নির্বাচনের ফলাফলের পর জেনারেল ভুট্টো পাকিস্তানের জন্য দুই জন প্রধানমন্ত্রী রাখার পক্ষে জোরালো প্রচারণা শুরু করেন। তবে ইয়াহিয়া খান ওই সময় ঢাকায় এসে শেখ মুজিবকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীত্ব গ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়ে প্রস্তুত হতে বলেন। কিন্তু ইয়াহিয়া খান পাকিস্তানে ফেরত যাওয়ার পরই জেনারেল ভুট্টোর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য লার্কানাতে যান তিনি। সেখানে ভুট্টো পুরো পাকিস্তানের কর্তৃত্ব মুজিবের হাতে তুলে না দিতে পরামর্শ দেন। ওই বৈঠকের পরই শেখ মুজিবের সঙ্গে দেখা করতে জেনারেল ভুট্টো পূর্ব পাকিস্তানে উড়ে আসেন। তাঁদের মধ্যে আলোচনা হলেও তা ব্যর্থ হয়। তবে পাকিস্তানের গবেষকরা বলছেন, ওই সময় ভুট্টোকে পাকিস্তানে ফেরত যাওয়ার জন্য অনেক সামরিক কর্মকর্তাই তাকে ফোন করেন। ওই সময় ভুট্টো ঘোষণা করেন, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা কখনো গ্রহণযোগ্য হবে না। শুধু তাই নয়, পশ্চিম পাকিস্তানে নির্বাচিত কোনো এমপি যদি ঢাকার দিকে পা বাড়ান, তাঁর পা গুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি। ১৯৭১ সালের মার্চের ৩ ডিসেম্বর ইয়াহিয়া খান ঢাকায় অ্যাসেম্বলি ডাকেন। তবে ওই অ্যাসেম্বলিতে কোন পাকিস্তানি সাংসদ উপস্থিত না হতে ভুট্টো ওই হুমকি দিয়েছিলেন যাতে অ্যাসেম্বলি সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়। এক সাংবাদিক বলেন, ভুট্টো শেখ মুজিবুর রহমানকে বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, ইডহার হাম, উডহার তুম ( এপার আমার আর ওপার তোমার)। তবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তা মানেন নি। তিনি পুরোপুরি স্বায়ত্ত্বশাসনের পক্ষে আরও জোরালো হন। অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীত্ব গ্রহণ করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এরই মধ্য দিয়ে জেনারেল ইয়াহিয়া ও ভুট্টো ঢাকায় অবস্থানকালে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালোরাতে জেনারেল টিক্কা খান অপারেশন সার্চলাইট শুরু করেন। পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশের গবেষকরা ২৫ মার্চের রাতের পর থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনেক ইতিহাস লিখেছেন। তবে সবাই বাংলাদেশে গণহত্যা, ধর্ষণের বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন।  বিশেষ করে পাকিস্তানের লেখকরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে ব্যাপকহারে গণহত্যা ও ধর্ষণ হয়েছে। আর এ ঘটনা ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। পাকিস্তান মর্নিং নিউজের সংবাদ দাতা ও লন্ডনের সানডে টাইমসের স্বাধীনতাকালীন প্রতিবেদক অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের লেখায় বিশ্ববাসীর কাছে সর্বপ্রথম গণহত্যার বিষয়টি সামনে আসে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ হ্যারিসন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাডিসন স্কয়ারে এক কনসার্ট আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমেরিকাসহ বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দেয় পূর্ব পাকিস্তানে গণহত্যার কথা। শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব কেন পূর্ব পাকিস্তান বিষয়ে চুপ আছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তৎকালীন সময় আমেরিকানদের কাছে মাও সেতুং এর চীনা আদর্শ একটি বড় ফ্যাক্টর ছিল। তাই পাকিস্তান তাদের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল। তবে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের দ্বারা অনেক নিরীহ বিহারি মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে।  এছাড়া হাজার হাজার বিহারী স্বাধীনতার পরপরই মুক্তি বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে ভারতে আশ্রয় নেন। নিরাপত্তার জন্য লাখ লাখ মানুষ দেশ ছেড়েছে বলে অভিযোগ করা হয় ওই প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তান ভারতে হামলা চালালে ভারতীয় বিমান বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে হামলা শুরু করে। এমতাবস্থায় গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৪ ও ১৫ ডিসেম্বর পূ্র্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে খবর যাচ্ছিল যে, পশ্চিম পাকিস্তানিরা যুদ্ধে জয়লাভ করতে যাচ্ছে। তবে এ সংবাদের একদিনের মাথায় জেনারেল নিয়াজি ভারতীয় বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। ওই সময় ভারতীয় বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন জগজিৎ সিং অরোরা। এরপরই পূর্ব পাকিস্তান বাংলাদেশে রূপান্তর হয়। এর মধ্যদিয়ে জিন্নাহর দ্বি জাতি তত্বের অবসান ঘটে।  / এআর /                                  

কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব নিলেন রাহুল

ভারতীয় কংগ্রেসের ৪৯ তম সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন সোনিয়াপুত্র রাহুল গান্ধী। আজ শনিবার দিল্লীর আকবর রোডের নিজ কার্যালয়ে তাঁর হাতে দলের সভাপতির ভার তুলে দেন বিদায়ী সভাপতি সোনিয়া গান্ধী। এর মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের ৬ষ্ঠ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন গান্ধী পরিবারে এই সদস্য।   এর আগে ১৯ বছর ধরে দলটির প্রধানের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন সোনিয়া গান্ধী। এদিকে রাহুলের হাতে দলের ভার তুলে দেওয়াকে, কংগ্রেস নেতারা বলছেন দলের জন্য এটি নতুন যাত্রা। এদিকে রাহুলকে সভাপতি ঘোষণা উপলক্ষ্যে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সকাল থেকেই ভিড় করে উৎসুক জনতা। বিশেষ করে দলের সব স্তরের নেতা-কর্মীরা আকবর রোড এলাকায় ঝড়ো হয়। দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে কংগ্রেস নেতারা মহা ধুমধামের মধ্য দিয়ে দিনটিকে পালন করছে। দিল্লীর সব রাস্তা ছেঁয়ে গেছে বিলবোর্ড আর পোস্টারে।

পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কায় জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্বেগ

উত্তর কোরিয়া  ইস্যূতে পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্থনিও গুতেরেস উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, যেকোনো ধরণের সামরিক হামলা ধ্বংসাত্মক ও অভাবনীয় পরিণতি ডেকে নিয়ে আসবে। শুক্রবার নিরাপত্তা কাউন্সিলে দেওয়া ভাষণে জাতিসংঘ প্রধান এ কথা বলেন। এসময় নিরাপত্তা পরিষদের সব সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় জাতিসংঘে নিযুক্ত উত্তর কোরিয়ার এক কূটনীতিকও তার দেশের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।   জাতিসংঘ দেওয়া ভাষণে গুতেরেস বলেন, উত্তর কোরিয়ার বর্তমান অবস্থান বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। আমি এই ধরণের পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ জানাচ্ছি। আমরা কল্পনাও করতে পারবো না, সামরিক যুদ্ধ বাঁধলে কি পরিমাণ ক্ষতি হতে পারে। এদিকে নিরাপত্তা পরিষদের সবাই যুদ্ধ এড়িয়ে চলার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁদের ধারণা উত্তেজনা মূলক বক্তৃতা আর যোগাযোগ ‘গ্যাপের’ কারণে উভয় পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। এসময় তিনি বলেন,  উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের সব মাধ্যমগুলোকে কাজে লাগানোর এটাই শেষ সময়। বিশেষ করে কূটনীতিক শক্তির সঙ্গে কূটনীতিক শক্তির, সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সামরিক বাহিনীর যোগাযোগ বাড়ানোর উপর জোর দেন তিনি। তবে এই অঞ্চলে উদ্বেগ-উৎকণ্টা কমানো সহজ হবে না বলেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এসময় গুতেরেস বলেন, ওই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে কূটনৈতিক সংযোগ-ই একমাত্র পথ । মনে রাখতে হবে আমরা সবকিছুই করতে পারি, তবে এর পরিণতির কথা চিন্তা করে আমাদের এগোতে হবে। গুতেরেস বলেন, ২০০৭ সাল থেকে ডেমোক্র্যাটিক পিপলস রিপাবলিকান অব কোরিয়া (ডিপিআরকে) পরমাণু অস্ত্র সমৃদ্ধকরণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যা বিশ্বের জন্য মারাত্মক হুমকি। ২০০৭ সালে সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের রিসোলেশন ২৩৭৫ অনুসারে ডিপিআরকে’র উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এসময় তিনি বলেন, আমি ডিপিআরকের (উত্তর কোরিয়া) নেতৃবৃন্দকে বলছি, নিরাপত্তা কাউন্সিলের নেওয়া যুক্তিসংগত নীতির প্রতি সম্মান দেখান । একইসঙ্গে কোরিয়ায় স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনতে আলোচনা শুরুর পথ খুলে দিন।  তবে শুক্রবারের সভায় উত্তর কোরিয়ার একজন কূটনীতিক দাবি করেন, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র সমৃদ্ধকরণ কেবল নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্যই তাঁরা ব্যবহার করবে। নিজের নিরাপত্তার জন্য পরমাণু অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত উত্তর কোরিয়ার কূটনীতিক জে সং নাম বলেন, “আমাদের পরমাণু অস্ত্রের জন্য কেউ যদি আমাদের দোষারোপ করে, তাহলে সবার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে হবে। সূত্র: জিনহুয়া এমজে/ এআর    

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি