ঢাকা, সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭ ৮:১৫:৪৭

রোহিঙ্গাদের সম্পদ ফেরত দেবে না মিয়ানমার!

রোহিঙ্গাদের সম্পদ ফেরত দেবে না মিয়ানমার!

মিয়ানমারের রাখাইন থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় রোহিঙ্গারা সে দেশে ফিরতে পারলেও তাদের রেখে আসা ভিটে-মাটি এবং ফসল ফেরত দেবেনা দেশটির সরকার। এমনকি রোহিঙ্গাদের ফেলে আসা জমি সরকার বিক্রি করে দিতে পারে। মিয়ানমার সরকারের কয়েকজন কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার এবং রাখাইনের ভূমি নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার নথি বিশ্লেষণ করে এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। গত ২৪ আগস্ট রাতে কয়েকটি পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার পর রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনী বিদ্রোহী দমনের নামে গণহত্যায় মেতে উঠে। জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ছয় লাখ রোহিঙ্গা।  এসব রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে দেশটির সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে। মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চি জানিয়েছেন, বাংলাদেশে পালিয়ে আসা মানুষের মধ্যে যারা নিজেদের মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে প্রমাণ দিতে পারবে তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত মিয়ানমারের ছয় কর্মকর্তার সাক্ষাৎকারে রয়টার্স ধারণা করছে সু চি সরকারের পরিকল্পনার বিষয়টি। ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গা জমি ও ফসলের দাবি করতে পারবে কিনা জানতে চাইলে রাখাইন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী কিয়াই লউইন বলেন, ‘এটি তাদের উপর নির্ভর করছে। যাদের নাগরিকত্ব নেই তাদের কোনো ভূমির মালিকানা নেই।’ রাজ্য সরকারের নথি পর্যালোচনা করে রয়টার্স জানতে পেরেছে, রোহিঙ্গাদের ফেলে আসা ফসল বিক্রি ও চাষাবাদের পরিকল্পনা রয়েছে মিয়ানমারের। রোহিঙ্গারা কয়েক হাজার একর জমিতে ফসল রেখে পালিয়ে এসেছে। রাখাইনে ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গারা তাদের বাড়িতে ফিরতে পারবে না। তাদেরকে রাখাইন রাজ্য কর্তৃক নির্মিত আদর্শ গ্রামে রাখা হবে। এসব আদর্শ গ্রামকে স্থায়ী ক্যাম্প হিসেবে আখ্যায়িত করে জাতিসংঘ এ ধরনের পদক্ষেপের সমালোচনা করে আসছে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতাও চাইবে না মিয়ানমার। রাজ্য সরকারের তথ্য মতে, রাখাইনের প্রায় ৭১ হাজার ৫০০ একর ভূমিতে ফসল রেখে পালিয়ে এসেছেন প্রায় ছয় লাখ মানুষ। বেশিরভাগ জমিতেই ধান চাষ করা হয়েছে। ফলে এখন তা পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। জানুয়ারি মাস থেকে এসব জমিতে পুনরায় চাষাবাদের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এই লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে শিগগিরই ধানকাটা শুরু হবে। পরিকল্পনার বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী জানিয়েছেন, এসব ফসলি জমির মধ্যে ৪৫ হাজার একর রোহিঙ্গাদের। চাষাবাদের পরিকল্পনায় ১৪  হাজার ৪০০ একর জমিতে মেশিন দিয়ে চাষ করা হবে। তবে অবশিষ্ট জমিতে কিভাবে চাষ করা হবে তা স্পষ্ট নয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সব জমিতেই তারা ধান চাষের চেষ্টা করবেন। প্রয়োজনে মানুষ লাগিয়ে চাষাবাদ করা হবে। মিয়ানমারে এক একর জমিতে উৎপাদিত ধানের দাম প্রায় ২৫ হাজার টাকা (তিনশ ডলারের বেশি)। এর অর্থ রোহিঙ্গাদের ফেলে আসা ধান বিক্রি করে কয়েক কয়েকশ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে সরকার। রাজ্য সচিব টিন মাউং সয়ি টেলিফোনে রয়টার্সকে জানান, এসব ধান সরকারি গুদামে রাখা হবে। সেখান থেকে উচ্ছেদ হওয়া মানুষদের তা বিতরণ বা বিক্রি করা করা হবে। তিনি বলেন, ‘এসব জমি পরিত্যক্ত। কেউ চাষ করার মতো নেই। ফলে সরকার চাষের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ এখনই রাখাইনে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত (আইডিপি) রোহিঙ্গাদের সংখ্যা প্রায় এক লাখ বিশ হাজার। ২০১২ সালের সহিংসতার পর তাদের স্থায়ী ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। সেখানে আন্তর্জাতিক দাতারা এসব রোহিঙ্গাদের খাবার ও দেখাশোনা করছে। কূটনীতিক ও ত্রাণকর্মীরা জানিয়েছেন, এসব ক্যাম্পে সরকার আর কোনও সহযোগিতা দেবে না। এক ইমেইল বার্তায় জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টানিস্লাভ সালিং জানান, নতুন অস্থায়ী ক্যাম্প বা ক্যাম্পের মতো বসতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ঝুঁকি রয়েছে। স্থায়ী ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গা ও নতুন করে ফিরে আসা রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিনের জন্য সেখানে আটকা পড়তে পারেন। এইচআরডব্লিউ’র মতে, ২৫ আগস্টের পর থেকে প্রায় ২৮৮টি গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পুড়ে যাওয়া এসব গ্রামের বেশিরভাগেই রোহিঙ্গাদের বাস। রোহিঙ্গারা জানিয়েছে, সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধরা গ্রামে আগুন লাগিয়েছে। সরকারের দাবি, রোহিঙ্গা জঙ্গি ও গ্রামেরা লোকেরা নিজেরাই আগুন লাগিয়েছে প্রচারণার পাওয়ার জন্য। সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব সিও অং জানান, রোহিঙ্গা কৃষকরা পরিকল্পিতভাবে বাস করে না। ফলে তারা এক হাজার ছোট ছোট বাড়ি সারি আকারে গড়ে তুলবেন। তিনি বলেন, ‘কয়েকটি গ্রামে হয়ত তিনটি বাড়ি রয়েছে, কোথাও চারটি। যেমন- কোনও গ্রামে আগুন লাগলে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যাওয়ার কোনও রাস্তা নেই।’ সরকারের পরিকল্পনা অনুসারে, মিয়ানমার ফেরত যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের দুটি কেন্দ্রে নেওয়া হবে। কর্মকর্তাদের মতে, এসব কেন্দ্রে রোহিঙ্গাদের ১৬টি দফার একটি ফর্ম পূরণ করতে হবে। যা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। অভিবাসন কর্মকর্তারা বছরে অন্তত একবার রোহিঙ্গা গ্রাম পরিদর্শন করতেন। তারা পরিবারের ছবি তুলতেন। শ্রম, অভিবাসন ও জনসংখ্যা মন্ত্রণলায়ের স্থায়ী সচিব মুইন্ট কিয়াইং জানান, যেসব রোহিঙ্গা তাদের কাগজপত্র হারিয়েছেন সরকার তাদের ছবি অভিবাসন কর্মকর্তাদের কাছে থাকা ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখবে। কর্মকর্তারা ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড (এনভিসি) প্রমাণপত্র হিসেবে গ্রহণ করবে। ডব্লিউএন
জাপানে জাতীয় নির্বাচনে ভোট গ্রহণ চলছে

শক্তিশালী টাইফুন উপেক্ষা করে জাপানে দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। দেশটির ৪৭ টি প্রদেশে স্থানীয় সময় রোববার সকাল ৭ টা থেকে শুরু হওয়া এই নির্বাচনে রাত ৮টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় সকালে ভোটকেন্দ্রগুলোতে তেমন ভিড় লক্ষ করা যায়নি। নিম্নকক্ষের ৪৬৫ টি আসনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের নেতৃত্বধীন ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি),প্রধান বিরোধীদল ডেমোক্রেটিক পার্টির (ডিপি) নেতৃত্বাধীন জোট ও টোকিওর প্রথম নারী গর্ভনর ইরিকো কইকের নেতৃত্বাধীন কিবো নো তো পার্টি (আশার দল) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন এলডিপিই ফের জয়ী হতে যাচ্ছে বলে দেশটির গণমাধ্যমগুলোর জরিপে আভাস পাওয়া গেছে। ভিন্ন মত পোষন করেননি রাজনৈতিক পর্যৃবেক্ষকরাও। ধারণা সত্য হলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো কোনো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শিনজো আবে ক্ষমতায় সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদ পার করবেন।  ‘আবেনোমিক্স’ বা ‘আবেতত্ত্ব’ দেশটির অর্থনীতিকে আরো বেশি চাঙ্গা করবে বলে আবের দলের পক্ষ থেকে প্রচারণা চালানো হলেও মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট বৃদ্ধি, সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ধসের কারণে চলতি বছর আবের জনপ্রিয়তা নিম্নমুখী হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে গত ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী আবে নতুন নির্বাচনের ঘোষণা দেন। ক্ষমতায় যেতে হলে সংসদের নিম্নকক্ষের ৪৬৫ টি আসনের মধ্যে দুই তৃতীংশ বা ২৩৩ আসন পেতে হবে।নির্বাচন শুরু হওয়ার পর সকালে স্থানীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের আবে বলেন, আমি আশা করছি, আমি সংসদে যেতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবো। নতুন করে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের সর্তকতা, কর, উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জনগণ আমাকে নির্বাচিত করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। ক্ষমতায় গেলে জাপানকে আরো শক্তিশালী দেশ হিসেবে বিশ্বের কাছে তুলে ধরবেন বলে এ সময় আশা প্রকাশ করেন তিনি। জাতীয় এই নির্বাচনে প্রধানত তিন জোটবদ্ধ দল প্রতিযোগিতা করছে। ক্ষমতাশীন এলডিপির শরিক হয়েছে কুমেতো, এলডিপি থেকে বের হয়ে টোকিওর প্রথম নারী গর্ভনর ইরিকো কইকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কিবো জোটের, পাশাপাশি প্রধান বিরোধীদল ডেমোক্রেটিক পার্টির (ডিপি) নেতৃত্বাধীন জোটও লড়াইয়ে আছে।ক্ষমতাসীন এলডিপি ৩০০ টি আসন পেতে পারে বলে বার্তা সংস্থা রয়র্টাসের জরিপে বলা হয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত জরিপে অংশ নেয়া ভোটারদের ৯৪ শতাংশ বিশ্বাস করেন তৃতীয় মেয়াদেও ক্ষমতায় থাকবেন শিনজো আবে। নিজেদের এক জরিপের ফলাফলেও একই ধরনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে দেশটির প্রাচীনতম পত্রিকা ইয়ুমরি শিম্বুন।   পত্রিকাটি বলছে ২৮৯ টি আসন নিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে এলডিপি ফের ক্ষমতায় যাচ্ছে, আর এলডিপির শরিক দল কুমেতো ৩৪ টি আসন পেতে পারে। জাপানের রাজনৈতিক অঙ্গনের এককালের প্রধান বিরোধীদল ডেমোক্রেটিক পার্টি সম্প্রতি ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে, নির্বাচনে এর পুরো ফায়দা তুলতে পারে এলডিপি। এর আগে গত বছর দেশটির উচ্চকক্ষের নির্বাচনেও শিনজো আবের দল সংখ্যা গরিষ্ঠতা লাভ করেছিল। ওই সময় শিনজো আবের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি(এলডিপি) জোট উচ্চকক্ষের ২৪২ আসনের মধ্যে ১৪৪ টি আর বিরোধীরা ৭৩ টি আসন পেয়েছিল।সূত্র : বিবিসি//এআর

ঢাকায় সুষমা স্বরাজ

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকা এসে পৌছেছেন। রোববার দুপুর দেড়টার দিকে বিশেষ বিমানে তিনি ঢাকায় পৌঁছান। সফরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীর সঙ্গে যৌথভাবে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ পরামর্শক কমিশনের চতুর্থ সভায় সভাপতিত্ব করবেন সুষমা স্বরাজ । এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি। সাক্ষাৎ করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গেও। ভারত সরকারের অর্থায়নে ১৫টি প্রকল্প উদ্বোধন করবেন সুষমা স্বরাজ। সফরে রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   / এমআর / এআর

নাইজারে বন্দুকধারীদের হামলা: ১৩ পুলিশ নিহত

নাইজারে বন্দুকধারীদের হামলায় ১৩ আধা-সামরিক পুলিশ নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন।  নাইজারের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মালি সীমান্তে এই ঘটনা ঘটে। হামলার ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন নাইজারের সামরিক কর্মকর্তারা। এর আগে অক্টোবরের শুরুতে এই সীমান্তে অভিযানে চার নাইজার ও মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিলো।  এ প্রসঙ্গে দেশটির নিরাপত্তা সূত্রগুলো গণমাধ্যমকে জানান, শনিবার ওই বন্দুকধারীরা পিকআপ ট্রাক ও মোটরসাইকেলে করে এসে আধা-সামরিক পুলিশের ঘাঁটিতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা মালি থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে নাইজারের প্রায় ৪০ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে আয়োরোউ গ্রামের ওই ঘাঁটিতে হামলা চালায়।  এ ব্যাপারে ঘটনাস্থলে থাকা এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, হামলাকারীদের কাছে রকেট লঞ্চার ও মেশিনগান ছিল। চারটি গাড়িতে করে তারা এসেছিল, আর প্রত্যেকটি গাড়িতে প্রায় সাত জন করে যোদ্ধা ছিল। ওই নিরাপত্তা কর্মকর্তা আরো জানান, হামলার সময় গোলাগুলিতে এক হামলাকারী নিহত হলেও বাকীরা নাইজার সেনাবাহিনীর চারটি সামরিক যান নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।   পরে অতিরিক্ত বাহিনী এসে হামলাকারীদের  সীমান্ত অতিক্রম করার সময় আটকালে উভয় পক্ষের মধ্যে বন্দুক লড়াই শুরু হয়।তারা মালিতে চলে যেতে সক্ষম হলেও তাদের অনুসরণ করা হচ্ছে বলে জানান এক কর্মকর্তা । তবে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহামেদ বাজুম বলেন, ‘এ হামলায় ১২জন সেনা নিহত হয়েছেন। আমরা বন্দুকধারীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছি।’ সর্বশেষ তথ্য মতে-এখন পর্যন্ত এ হামলার দায় কেউ স্বীকার করেনি। সূত্র: রয়টার্স ও আল-জাজিরা / এম / এআর

কেন্দ্রের শাসন মানবে না কাতালোনিয়া

কাতালোনিয়াকে মাদ্রিদের সরাসরি নিয়ন্ত্রনে নেওয়ার পরিকল্পনা মেনে নেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্পেনের স্বায়ত্ত্বশাসিত ওই অঞ্চলটির প্রেসিডেন্ট কার্লোস পুজদেমন। তিনি বলেছেন, ১৯৩৯-১৯৭৫ সালের জেনারেল ফ্রাঙ্কোর একনায়কতান্ত্রিক শাসনের পর এটি হবে কাতালোনিয়ার সংবিধান লঙ্ঘনের সবচেয়ে খারাপ উদাহরণ। খবর বিবিসির।কাতালোনিয়াকে স্পেনের সরাসরি শাসনে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণার পর স্থানীয় সময় শনিবার রাতে এক প্রতিক্রিয়ায় পুজদেমন কাতালোনিয়ায় কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা সরাসরি নাকচ করে দেন। পুজদেমন বলেন, আলোচনার সব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর স্পেন সরকার কাতালানের গণতান্ত্রিক আচরণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

একমঞ্চে ৫মার্কিন প্রেসিডেন্ট

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পাঁচ প্রেসিডেন্ট স্থানীয় সময় শনিবার টেক্সাসে এক মঞ্চে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। তারা হলেন- বারাক ওবামা, জর্জ ডব্লিউ বুশ, বিল ক্লিনটন, জর্জ এইচ এইচ বুশ এবং জিমি কার্টার। এ বছর হ্যারিকেনে ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তার জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে কনসার্ট আয়োজনের লক্ষ্যে একত্রিত হলেন তিন ডেমোক্রেট ও দুই রিপাবলিকান সাবেক প্রেসিডেন্ট। হ্যারিকেন হার্ভের কারণে সৃষ্ট ভূমিধসে গত আগস্টে টেক্সাসে কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাঁচ প্রেসিডেন্ট মঞ্চে হাজির হওয়ার পর আসন গ্রহণ করার আগে জাতীয় সংগীত “প্রাউড টু বি এন আমেরিকান” পরিবেশন করেন লি গ্রিনউড ও লেডি গাগা। এ মিলনমেলায় যোগদান করেননি বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তাদের (পাঁচ প্রেসিডেন্ট) এই উদ্বোগকে “ওয়ান্ডারফুল” বলে প্রশংসা করেছেন এবং "গভীর কৃতজ্ঞতা" জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন।   সূত্র : বিবিসি   / এমআর / এআর        

মুগাবের নিয়োগ ‘পুনর্বিবেচনা’ করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার শুভেচ্ছা দূত করা হয়েছে জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবেকে । তাঁকে মনোনীত করার পর সমালোচনার ঝড় উঠেছে। মুগাবেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার শুভেচ্ছা দূত হিসেবে ঘোষণার পর ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র হতাশা ব্যক্ত করেছে। বিস্ময় প্রকাশ করে ব্রিটেন বলেছে, রবার্ট মুগাবেকে দূত নিয়োগ করার ফলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনেক ভালো কাজ আড়াল হয়ে যাওয়ার আশংকা আছে। সমালোচকেরা বলছেন, জিম্বাবুয়ের মানুষের অধিকারের যে অবস্থা তা বিবেচনা করলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এমন গুরুত্বপর্ণ পদে  মুগাবেকে মনোনয়ন দেয়াটা হতাশাজনক সিদ্ধান্ত । এতে সংস্থাটির ঐতিহ্য ম্লান হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছে কেউ কেউ। জিম্বাবুয়ের বিরোধী দল ও ক্যাম্পেইন গ্রুপগুলো বলছে এমন সিদ্ধান্ত এক ধরনের রসিকতা। এমন সমালোচনার প্রেক্ষাপটে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বলেছেন - জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে`কে তাদের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করে দেখা হচ্ছে। তবে,  মুগাবের এই মনোনয়নটিকে রবার্ট মুগাবের জন্য একটি ইতিবাচক বিষয় বলে ব্যাখ্যা করেছেন মুগাবের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র মাজি-উইসা। তিনি বলেন, বিভিন্ন ধরণের অর্থনৈতিক অবরোধ আর নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত দেশের প্রায় ভেঙে পড়া অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তিনি একজন অবিসংবাদিত নাম। বিভিন্ন রকমের কঠিন পরিস্থিতিতেও তার সাধ্যের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে তিনি সবচেয়ে ভালো করার চেষ্টা করেছেন । জিম্বাবুয়ের মানবাধিকার পরিস্থিতির ক্রমাবনতি ও অর্থনৈতিক দুর্দশার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে মুগাবেকে দায়ী করে আসছে। দেশটির স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থাপনাও সন্তোষজনক নয় বলে সমালোচকরা বলে আসছেন। মুগাবের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। সমালোচকরা বলছেন,জিম্বাবুয়ের স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থাপনা সন্তোষজনক নয় । যদিও এসব আমলে নেন নি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নতুন প্রধান ড. টেড্রোস গেব্রেইয়াসুস। জনস্বাস্থ্য বিশেষ করে সংক্রামক নয় এমন রোগ ঠেকাতে ও `সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে` জিম্বাবুয়ের সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেছেন তিনি। ইথিওপিয়ার নাগরিক টেড্রোস আফ্রিকা থেকে নির্বাচিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রথম শীর্ষ নির্বাহী। বুধবার তিনিই সংক্রামক নয় এমন রোগ ঠেকাতে অবদান রাখায় মুগাবেকে সংস্থার শুভেচ্ছা দূত হিসেবে নিয়োগ দেন। জাতিসংঘ সাধারণত শুভেচ্ছা দূত হিসেবে পৃথিবীখ্যাত মানুষদেরই বেছে নেয়। যেমন- চলচ্চিত্র তারকা অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, টেনিস তারকা রজার ফেদেরার জাতিসংঘের শুভেচ্ছা দূত হয়ে কাজ করেছেন। কিন্তু ৯৩ বছর বয়সী রবার্ট মুগাবের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় নিয়োগের ঘোষণার পর অনেকেই মনে করছেন , একনায়কতান্ত্রিক শাসক আর মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য পশ্চিমা জগতে যার দুর্নাম রয়েছে, তাকে শুভেচ্ছা দূত করাটা যথার্থ সিদ্ধান্ত হয়নি। সূত্র: বিবিসি / এম / এআর

কেনেডি হত্যার গোপন ফাইল প্রকাশ করা হবে: ট্রাম্প

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির হত্যার ফাইল প্রকাশ করার কথা জানিয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । প্রেসিডেন্ট এক টুইট বার্তায় বলেছেন, আরও কিছু তথ্য হাতে পাওয়ার পর তিনি এই ফাইলগুলো প্রকাশের অনুমতি দেবেন। আমেরিকার ন্যাশনাল আর্কাইভসের এই নথিপত্রগুলো ২৬শে অক্টোবর খোলার কথা রয়েছে। তবে এগুলোর গোপনীয়তা রক্ষার মেয়াদ আরও বাড়ানো হবে কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া প্রেসিডেন্টের রয়েছে। ১৯৬৩ সালের নভেম্বর মাসে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাসে গুপ্তঘাতকের গুলিতে প্রাণ হারান জন এফ কেনেডি। আমেরিকার ন্যাশানাল আর্কাইভস ইতিমধ্যেই তার হত্যা সংক্রান্ত বেশিরভাগ নথি জনগণের দেখার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে। শুধু শেষ কিছু ফাইল এখনও তালাবন্ধ অবস্থায় রয়েছে।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার টুইটে লিখেছেন, আরও কিছু তথ্য পাওয়ার পর, প্রেসিডেন্ট হিসাবে, আমি জন এফ কেনেডির মৃত্যু সংক্রান্ত ফাইলগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়ার অনুমতি দেব। ১৯৯২ সালে মার্কিন কংগ্রেস রায় দিয়েছিল সব জেএফকে নথি ২৫ বছরের মধ্যে উন্মুক্ত করে দিতে হবে। যদি না প্রেসিডেন্ট সিদ্ধান্ত নেন যে এসব নথি উন্মুক্ত করে দিলে তা জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করবে। জাতীয় আর্কাইভে ওই হত্যা সংক্রান্ত তিন হাজারের বেশি নথি আছে যা আগে কখনও প্রকাশ করা হয়নি। আর ৩০ হাজারের বেশি নথি আগে প্রকাশ করা হয়েছে তবে কাটছাঁট বা সম্পাদনা করে। এখনও গোপন রাখা নথিগুলো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেবেন নাকি সম্পাদনা করে প্রকাশ করবেন তা স্পষ্ট নয়।ওয়াশিংটন পোস্টের খবর অনুযায়ী কেনেডির হত্যা বিষয়ে যারা বিশেষজ্ঞ তারা মনে করেন না যে এখনও অপ্রকাশিত দলিলে বড়ধরনের বিস্ফোরক কোন তথ্য আছে। তবে ওই ফাইলগুলো প্রকাশ করা হলে কেনেডি হত্যার ঠিক আগে ১৯৬৩র সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে লি হার্ভি অসওয়াল্ড মেক্সিকো সিটিতে কী করছিলেন সে বিষয়ে হয়ত কিছুটা আলোকপাত হবে।গুলি করার দিন লি হার্ভি অসওয়াল্ডকে ডালাসে গ্রেপ্তার করা হয় এবং প্রেসিডেন্টকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়। অসওয়াল্ড হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং দাবি করেন ``তাকে ব্যবহার করা হয়েছে``। ঘটনার দুদিন পর পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন নাইটক্লাবের মালিক জ্যাক রুবির গুলিতে প্রাণ হারান অসওয়াল্ড এবং কেনেডি হত্যাকাণ্ড আমেরিকান ইতিহাসে সবচেয়ে মুখরোচক ও বিশাল এক ষড়যন্ত্র তত্ত্বে রূপ নেয়। ইউনিভার্সিটি অফ ভার্জিনিয়ার সেন্টার ফর পলিটিক্সের পরিচালক এবং কেনেডিকে নিয়ে একটি বইয়ের লেখক ল্যারি সাবাতো বার্তা সংস্থা এপিকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ সত্য জানতে চায়, অন্তত তাদের এটুকু জানার অধিকার আছে যে আমেরিকার সরকার এত বছর ধরে মানুষের কাছ থেকে কি তথ্য লুকিয়ে রেখেছে। সূত্র:বিবিসি / এম / এআর

আজ ঢাকা আসছেন সুষমা স্বরাজ

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ দু’দিনের সফরে আজ রোববার দুপুরে ঢাকায় আসছেন। ঢাকায় পৌঁছার পর তিনি বাংলাদেশ-ভারত যৌথ পরামর্শক কমিটির (জেসিসি) বৈঠকে যোগ দেবেন। জেসিসির বৈঠকে দু’দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো পর্যালোচনা করা হবে। দ্বিপাক্ষিক ইস্যুগুলোর বাইরেও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে সুষমার এই সফরে। পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য। গত ২৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছে। বাংলাদেশিদের পাশাপাশি বিশ্ব সম্প্রদায় চায় স্বল্পতম সময়ের মধ্যে এসব রোহিঙ্গা নিরাপদে স্বদেশে ফিরে যাক।  মিয়ানমারের উপর অনবরত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। নিকট প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসাবে ভারতকেও চায় বাংলাদেশ। ভারত রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছে। দফায় দফায় ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে। এখন বাংলাদেশের প্রত্যাশা ভারত সক্রিয় ও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখুক। সূত্র থেকে জানা যায়, জেসিসির বৈঠকে অভিন্ন সন্ত্রাস ও উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে যৌথ দৃঢ় পদক্ষেপ তথা নিরাপত্তা সহযোগিতা, জ্বালানি, বাণিজ্য, সীমান্ত যোগাযোগ, পানি ব্যবস্থাপনা, শিপিং, বিদ্যুত্, রেল, যোগাযোগ অবকাঠামো কানেকটিভিটিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হবে। সুষমা স্বরাজ বিশেষ বিমানযোগে দুপুরে ঢাকায় কুর্মিটোলায় বঙ্গবন্ধু বিমান ঘাঁটিতে এসে পৌঁছলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী তাঁকে স্বাগত জানাবেন। বিকাল চারটায় হোটেল সোনারগাঁও-এ জেসিসির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন সুষমা স্বরাজ। রাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নৈশভোজে যোগ দেবেন। আগামীকাল সকালে বিএনপি চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সুষমা স্বরাজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।  সোমবার সকালে তিনি বারিধারায় ভারতীয় হাইকমিশনে ভারত সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ১৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। দুপুরে বিশেষ বিমানযোগ নয়াদিল্লীর উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়ে যাবেন। / এম / এআর

‘রোহিঙ্গাদের ২৮৮ গ্রাম ভস্মীভূত, পাশের বৌদ্ধ গ্রামগুলো অক্ষত’

২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনবাহিনীর হত্যাযঞ্জ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ছয়লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। বলা হচ্ছে এটা এ পর্যন্ত বিশ্বে সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠা শরণার্থী সঙ্কট। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাউটস ওয়াচ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে রাখইনে যে ছবি তুলেছে, তা বিশ্লেষণ করে তারা বলছে, সহিংসতা শুরু হওয়ার পর থেকে মিয়ানমার সেনারা রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলোই শুধু পুড়েছে। উত্তর রাখাইনে আগুনে সম্পূর্ণ অথবা আংশিক পুড়ে গেছে অন্তত ২৮৮টি রোহিঙ্গা গ্রাম। রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলো পুড়ে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হলেও কাছেই রাখাইনের স্থানীয় বৌদ্ধদের গ্রামগুলো অক্ষত অবস্থায় রয়েছে।রাখাইনে সেনাবাহিনীর যে দমনপীড়নের কারণে রোহিঙ্গারা তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে জাতিসংঘ তাকে পাঠ্যবইয়ে জাতিগত নিধনের উদাহরণের সঙ্গে তুলনা করেছে।

রোহিঙ্গা সংকটের শতভাগ দায় সু চির : ড. ইউনূস

মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে রোহিঙ্গা গণহত্যা, গণধর্ষণ, নির্যাতন ও রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়াসহ সব অপরাধের জন্য অং সান সু ‍চিকে শতভাগ দায়ী করেছেন নোবেল বিজয়ী ড. মোহাম্মদ ইউনূস। আল- জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের জন্য সু চি একশত ভাগ দায়ী।’ মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী প্রকৃতপক্ষে সব ক্ষমতার অধিকারী এবং সূ চিকে নিঃসন্দেহে ক্ষমতাহীন রাখা হয়েছে তাহলে সূচি কিভাবে এসবের জন্য দায়ী ?- এমন প্রশ্নে ইউনূস বলেন, তার হাতে ক্ষমতা না থাকলে তিনি পদত্যাগ করুন। তিনি পদত্যাগ তো করছেনই না আবার সেনাবাহিনীর এসব কর্মকান্ডকে মৌখিকভাবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। উল্টো আরো বলছেন যে, আরাকানবাসীরাই নাকি তাদেরকে আক্রমণ করছে। সবকিছুর জন্য তাই সু চিকে দায়ী করেন ড. ইউনূস। সু চিকেই এসবের সমাধান দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   সূত্র : আল জাজিরা এমআর/এআর

রোহিঙ্গাদের দায়িত্ব এককভাবে বাংলাদেশে চাপাবেন না : অ্যামনেস্টি

রোহিঙ্গা সংকটে আবারও বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। একই সঙ্গে সংস্থাটি রোহিঙ্গা সংকটের দায় কেবল বাংলাদেশের ওপর না চাপিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে। অ্যামনেস্টির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানা গেছে। গত ২৫ আগস্ট সহিংসতার পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপর সেনাবাহিনীর নিধনযজ্ঞ শুরু হয়। সেনাবাহিনীর হত্যা ও ধর্ষণ থেকে বাঁচতে প্রায় ৬ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ডেপুটি সাউথ এশিয়ার পরিচালক ওমর ওয়ারাচ বলেছেন, বাংলাদেশ একটি দরিদ্র দেশ হয়েও অসাধারণ উদারতা দেখিয়েছেন। তবে সকল পরিস্থিতি মোকাবেলার দায়িত্ব তাদের একার ওপর চাপানো যাবে না। এ জন্য অন্যদেরও এগিয়ে আসতে হবে। রাখাইনে কোনো আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাকে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না মিয়ানমার। সংবাদমাধ্যম ‍উঠে আসছে রোহিঙ্গাদের মানবিক বিপর্যয়ের গল্প। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার জাতিসংঘের জেনেভা কার্যালয়ে দাতা দেশগুলোর উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে দাতাদের। ওই বরাদ্দ বাংলাদেশের কক্সবাজারে স্রোতের মতো আসা রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় ব্যবহার করা হবে। ওমর ওয়ারাচ বলেন, এটি এমন এক সঙ্কট যার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে সুসংহত প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন। আরও অনেক দেশকে (বিশেষ করে যারা ওই অঞ্চলের) বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে হবে এবং দায়িত্বের বোঝা ভাগ করে নিতে হবে। গত বুধবার ‘মাই ওয়ার্ল্ড ইজ ফিনিশড’ রোহিঙ্গা টার্গেটেড ইন ক্রাইমস অ্যাগেইনস্ট হিউম্যানিটি ইন মিয়ানমা’ শীর্ষক ৪৭ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ করে অ্যামনেস্টি। প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর শত শত শিশু, নারী ও পুরুষকে হত্যা করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। রাখাইন থেকে তাদের উৎখাত করতে ধারাবাহিকভাবে নির্বিচার হত্যাকাণ্ড, নৃশংস ধর্ষণ ও গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। অ্যামনেস্টির আশঙ্কা, এসব অপরাধ রোহিঙ্গাদের উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ করতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এসব অপরাধের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এই মানবাধিকার সংস্থাটি। পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিচার ও সেনাবাহিনীর ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা জোরদারেরও সুপারিশ করে অ্যামনেস্টি।   আর/এআর

মিয়ানমারের জেনারেলদের নিষিদ্ধের দাবি ৪৩ কংগ্রেসম্যানের

রোহিঙ্গাদের নির্যাতন, ধর্ষণ ও তাদের বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দেয়ার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রে মিয়ানমারের জেনারেলদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ৪৩ জন কংগ্রেসম্যান। তারা দোষীদের বিরুদ্ধে ‘কার্যকর পদক্ষেপ’নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের কাছে চিঠি দিয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়কে দেওয়া ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন রিপাবলিকান পার্টি ও বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির কংগ্রেস সদস্যরা। চিঠিতে জানানো হয়, রাখাইনে সহিংসতা বন্ধের পদক্ষেপে আগ্রহ নেই মিয়ানমার সরকারের। সেখানে যেসব ঘটনা ঘটছে তা অস্বীকার করছে মিয়ানমার। যারা মিয়ানমারে আটকা পড়েছে এবং যারা দেশে ফিরতে চায় তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য যা কিছু করা সম্ভব সেটা করার আহ্বান জানাচ্ছি আমরা। চিঠিতে বলা হয়, যারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে। জাতিগত নিধন ঠেকাতে অবিলম্বে সে দেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের মধ্য দিয়ে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানায় আমরা। একইসঙ্গে যারা এ ঘটনায় জড়িত, তাদের তালিকা প্রণয়নের পর একে একে নিষিদ্ধ করতে হবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেছেন, রাখাইনে নিপীড়নের মূল হোতা দেশটির জেনারেলরা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা মিয়ানমারের বিরুদ্ধে শুধু কড়া বক্তব্য দিয়েই দায় সারলেও কঠোর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। সূত্র: রয়টার্স।    আর/এআর

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি