ঢাকা, শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২:৪৭:৫৩

রোহিঙ্গাদের এইচআইভি ও হেপাটাইটিস পরীক্ষার চিন্তা

রোহিঙ্গাদের এইচআইভি ও হেপাটাইটিস পরীক্ষার চিন্তা

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশুদের মধ্যে হাম ধরা পড়েছে। এছাড়া দুই নারীর মধ্যে এইচআইভি ভাইরাস (এইডস) পাওয়া গেছে। যাদের একজন ইতোমধ্যে মারা গেছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে মিয়ানমার থেকে সম্প্রতি আসা রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং আশেপাশের এলাকায় পানিবাহিত সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে স্বাস্থ্যসেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে সরকারি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হচ্ছে ব্যাপকহারে ডায়েরিয়ার প্রকোপ দেখা দিতে পারে। সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, তারা কয়েকটি সংক্রামক রোগ নির্ণয়ের জন্য শরণার্থীদের মধ্যে বড় আকারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে চাইছেন। মিয়ানমার থেকে সম্প্রতি পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রয়োজনীয় টিকা না থাকাটাকে প্রথম থেকেই বড় উদ্বেগ হিসেবে নিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। কক্সবাজার জেলার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বিবিসিকে জানান, সংক্রামক রোগের মধ্যে তারা এখন পর্যন্ত ৬ জন হামের রোগী পেয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসাও দেয়া হয়েছে। তার মতে, গত ১৬ই সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে যে হাম এবং পোলিওর টিকা প্রদান এবং ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে তাতে হামের মতো সংক্রামক রোগের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে গেছে। তবে এখন বড় শঙ্কা রয়েছে ঐ এলাকায় পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার। তিনি বলেন, স্যানিটেশন যদি আমরা ইমপ্রুভ করতে না পারি, তাহলে যেকোনো মুহূর্তে ডায়রিয়া, কলেরা বা জন্ডিসের মতো আউটব্রেক হতে পারে। ডা সালাম আরো বলেন, বাংলাদেশের মতো মিয়ানমারেও পোলিও রোগ সেভাবে নেই। তবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তারা শিশুদের পোলিও টিকা খাওয়াচ্ছেন। তবে অপুষ্টি এবং নিউমোনিয়ার প্রকোপের কারণে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা সহজেই যেকোনো রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা, মেদসাঁ স্যঁ ফ্রঁতিয়ে জরুরি সমন্বয়ক রবার্ট ওনাস বিবিসকে বলেন, ‘‘শরণার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত বসবাসের ব্যবস্থা না থাকায় সেখানকার পুরো জনগোষ্ঠীর মধ্যেই রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে যায়। ব্যাপকহারের শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা, যেমন নিউমোনিয়া আমাদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্বল হয়ে পড়া এবং খাবার ও পানির সঙ্কটে থাকা এসব মানুষেরা ডায়রিয়াতেও আক্রান্ত হচ্ছেন এবং যার ফলে খুব দ্রুতই তাদের অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহে আমরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত অনেক রোগী পেয়েছি যারা মৃত্যুর প্রায় কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। এর একটি কারণ হচ্ছে অনেকে এমন সব জায়গায় আছেন যেখানে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়াটা কঠিন। সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থা যারা কাজ করছে তাদের পক্ষেও সব জায়গায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।" রাখাইন মিয়ানমারের সবচেয়ে দরিদ্র একটি রাজ্য এবং সেখানে রোহিঙ্গাদের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা এবং স্বাস্থ্যশিক্ষার ব্যাপক অপ্রতুলতা রয়েছে। গত বছরও প্রায় ৮০ হাজারের মতো রোহিঙ্গা শরণার্থী আসলেও এবার এত অল্প সময়ের মধ্যে ৪ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা এসে পড়ায় ঠিক কী ধরণের স্বাস্থ্য সংকট তৈরি হতে পারে তা নির্ণয় করাটাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিভিল সার্জন ড. সালাম বলছেন, ডায়রিয়া, জন্ডিস এবং হামের বাইরে প্রাণঘাতী রোগের মধ্যে তারা দুজন এইচআইভি আক্রান্ত রোগী পেয়েছেন। কিন্তু ঠিক কী মাত্রায় এ রোগগুলো আছে সেটি বের করতে তারা শরণার্থীদের মধ্যে বড় আকারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে চাইছেন। তিনি বলেন, "এইচআইভি এবং হেপাটাইটিস বি-এর স্ক্রিনিংটা যদি আমরা করতে পারি, তাহলে আমরা অনুমান করতে পারবো যে কত শতাংশের মধ্যে এই রোগটা আছে। তখন আমরা সেই অনুসারে ব্যবস্থা নিতে পারবো।"
রোহিঙ্গাদের জন্য ছয় মাসে লাগবে ২০ কোটি ডলার : জাতিসংঘ

মিয়ানামারের রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনে ছয় মাসে প্রায় ২০ কোটি ডলার প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানায়, বাংলাদেশে ছয় মাসে এসব শরণার্থীর সহায়তায় ২০ কোটি ডলারের প্রয়োজন হবে। মিয়ানমার প্রবেশাধিকার সীমাবদ্ধ করে দেওয়ায় রাখাইন রাজ্যেও মানবিক সংকট সৃষ্টি হচ্ছে বলে ত্রাণকর্মীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দপ্তরের ডেপুটি অ্যাসিসট্যান্ট সেক্রেটারি সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের ধারণা এই সহিংসতা বন্ধে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে, মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে তরান্বিত করতে হবে, উত্তেজনা কমাতে হবে…এবং দীর্ঘমেয়াদী সমস্যাগুলোর সমাধানে কঠোর পরিশ্রম শুরু করতে হবে।”

এইডস আক্রান্ত সেই রোহিঙ্গা নারীর মৃত্যু

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা এইচআইভি আক্রান্ত দুই নারীর একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে তিনি মারা যান। পঞ্চাশোর্ধ্ব এই রোহিঙ্গা নারীর নাম মরিয়ম। মরিয়মের স্বামীর খোঁজ পাওয়া যায়নি। তিনি মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে উখিয়ার কুতুপালং শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানেই অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে শিবিরের এনজিওচালিত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায় তার শরীরে এইচআইভি পজিটিভ। পরে তাকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শাহীন আব্দুর রহমান চৌধুরী জানান, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে কয়েকদিন এই রোহিঙ্গা নারী চিকিৎসা নিয়েছিলেন। তাকে মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। রোহিঙ্গা এই নারীর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডব্লিউএন

৩ মাইল লম্বা বিয়ের শাড়ি, বিতর্কের মুখে দম্পতি

গিনেস বুকে রেকর্ড গড়ার আশায় শ্রীলঙ্কার ক্যান্ডিতে এক বিউটিশিয়ান তিন মাইল লম্বা বিয়ের শাড়ি পরেছেন। এ ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে দেশটিতে। কারণ ওই তিন মাইল লম্বা শাড়ি ধরার জন্য প্রায় আড়াইশো শিক্ষার্থীকে ব্যবহার করা হয়েছে। কেন শিশুদের এ কাজে ব্যবহার করা হলো তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে শ্রীলঙ্কার শিশু সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ। শহরের একটি প্রাইমারি স্কুলের আড়াইশোরও বেশি শিক্ষার্থী বৃহস্পতিবার ক্যান্ডি রোডের পাশে দাঁড়িয়েছিল, তিন মাইল লম্বা বিয়ের শাড়ি ধরার জন্যই। শিশুদের রাস্তার ধারে দাঁড় করানো হয়েছিল। ওই শাড়ি পরিহিত বিউটিশিয়ান দাবি করছেন এটিই বিশ্বে সবচেয়ে লম্বা বিয়ের শাড়ি। তিনি মনে করছেন এই বিয়ের শাড়ি গিনেস ওয়ার্ল্ড বুকে জায়গা করে নেবে। কেন্দ্রীয় প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সারাথ একনায়েকের পৃষ্ঠপোষকতায় ক্যান্ডির রাস্তাতেই ওই শাড়ি প্রদর্শনের আয়োজনটি করা হয়। সূর্যের তাপে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা শিশুরা দাঁড়িয়েছিল, কোন মানবিকতায়, কী ভেবে স্কুলের শিশুদের এ কাজে ব্যবহার করা হলো তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে এডুকেশন ইউনিয়নগুলো, ব্যাপক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। তিন মাইল লম্বা ওই শাড়ি প্রদর্শনের আয়োজনটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সূত্র : বিবিসি বাংলা। ডব্লিউএন

লন্ডনে বন্ধ হচ্ছে উবার

মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনভিত্তিক ট্যাক্সি সেবা নেটওয়ার্ক উবার বন্ধ হচ্ছে লন্ডনের রাস্তা। উবারের লাইসেন্স আর নবায়ন করা হবে না বলে জানিয়েছে দিয়েছে লন্ডন ট্রান্সপোর্ট অথরিটি।  উবারের করপোরেট দায়িত্বশীলতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে, যা নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে লন্ডন ট্রান্সপোর্ট অথরিটি।    লন্ডনে উবারের লাইসেন্সের মেয়াদ চলতি মাসের শেষেই বাতিল হয়ে যাবে বলে রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে। তবে উবার কর্তৃপক্ষ ট্রান্সপোর্ট অথরিটির এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবে এবং তার নিষ্পত্তির আগ পর্যন্ত লন্ডনে উবারের ট্যাক্সি সেবায় বাধা নেই।    লাইসেন্স নবায়ন না করার সিদ্ধান্তের বিপক্ষে আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে উবার কর্তৃপক্ষ। আদালতে আবেদন না টিকলে তা হবে ৪০ হাজার চালক অসুবিধায় পড়বেন। অবশ্য লন্ডনের মেয়র সাদিক খান ট্রান্সপোর্ট অথরিটির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, লন্ডনবাসীর জন্য ঝুঁকি তৈরি হলে উবারকে ফের লাইসেন্স দেওয়া হবে ভুল সিদ্ধান্ত।   এই সেবার জন্য উবারের নিজস্ব কোনো ট্যাক্সি নেই। ব্যক্তিগত গাড়ি আছে এমন যে কেউ অ্যাপ ডাউনলোড করে নিবন্ধনের মাধ্যমে উবারের চালক হয়ে যেতে পারেন। একই অ্যাপ ব্যবহার করে সেবা নেন যাত্রীরা। উবার যুক্তরাষ্ট্রের স্যান ফ্র্যান্সিসকোভিত্তিক অনলাইন ট্র্যান্সপোর্টেশন নেটওয়ার্ক কোম্পানি। এ কোম্পানির দাবি, বিশ্বের ৭৪টি দেশের ৪৫০টি শহরের মানুষ তাদের অ্যাপ ব্যবহার করে প্রতিদিন গড়ে ৫০ লাখের বেশি বার ট্যাক্সিতে চড়ছে। বিশ্বের বিভিন্ন বড় শহরে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হলেও বিভিন্ন দেশে আইনি জটিলতা ও সমালোচার মুখে পড়তে হয়েছে উবারকে। লন্ডনেও উবারের কাজের ধরন ও শর্ত নিয়ে বিভিন্ন  শ্রমিক ইউনিয়ন, ব্ল্যাক ক্যাবের চালক ও আইনপ্রণেতাদের আপত্তি রয়েছে।  এর আগে ডেনমার্ক, হাঙ্গেরিসহ বিভিন্ন দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে আইনি লড়াইয়ে হারতে হয়েছে উবারকে। ডব্লিউএন

রোহিঙ্গা গণহত্যার দায় মিয়ানমার সরকারের

রোহিঙ্গা ও অন্যান্য সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে গণহত্যার অপরাধে মিয়ানমার সরকারকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে আন্তর্জাতিক গণ-আদালতে। পারমানেন্ট পিপলস ট্রাইব্যুনালের সাত সদস্যবিশিষ্ট প্যানেল শুক্রবার এই রায় ঘোষণা করেন। সহিংসতার শিকার মিয়ানমারের রোহিঙ্গা, কাচিন ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ২০০ জনের সাক্ষ্য এবং তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে এই রায় দেওয়া হয়।আর্জেন্টাইন বিচারক ড্যানিয়েল বলেন, মিয়ানমার সরকার গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে করা অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, মিয়ানমারে থাকা কাচিন এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর অপরাধে সে দেশের সরকারকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।রায়ের প্রস্তাবনায় বলা হয়, মিয়ানমার সরকারকে অবশ্যই দেশটির সংবিধান সংশোধন করতে হবে এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নাগরিকত্ব দিতে সব পক্ষপাতমূলক আইন প্রত্যাহার করতে হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মতো যেসব দেশ পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে, তাদের আর্থিক সাহায্য দিতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

ট্রাম্পকে এবার বিকারগ্রস্থ বললেন উন

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ভাষণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। সরকারি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্পকে ‘মবিকৃত মস্তিষ্কের’ বলে অভিহিত করেন উন। জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণের জন্য ট্রাম্পকে চড়া মূল্য দিতে হবে বলেও জানান তিনি। উন বলেন. আমাকে এবং আমার দেশকে যেভাবে  ট্রাম্প হেয় প্রতিপন্ন করেছেন তা মোটেও কাম্য নয় । খবর বিবিসির। এর আগে ট্রাম্পের বক্তব্যকে অগ্রাহ্য করে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইয়ং-হো ট্রাম্পের হুশিয়ারিকে কুকুরের ঘেউ ঘেউ এর সঙ্গে তুলনা করেন । উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা কেসিএনএকে  দেওয়া এক বিবৃতিতে শুক্রবর কিম বলেন, ‘ট্রাম্পের বক্তব্য আমাকে পারমাণবিক পরীক্ষার বিষয়ে আরোও বেশি  উৎসহিত করেছে।’ বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবারের ওই ভাষণে ট্রাম্প বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্রকে আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে বাধ্য করা হয় তাহলে তারা উত্তর কোরিয়াকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবে। ট্রাম্প ব্যঙ্গ করে কিম জং উনকে বলেন, ‘রকেট মানব’। উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা কেসিএনএকে ইংরেজিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে কিম বলেন, ‘ট্রাম্পের মন্তব্য আমাকে ভীত হওয়ার চেয়ে উৎসাহিত করেছে। আমার মনে হচ্ছে আমি ঠিক পথে আছি। আর এই পথেই শেষ পর্যন্ত আমাকে থাকতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন ট্রাম্প বিশ্বের সামনে আমাকে অপমান করতে চাইছেন। তিনি সবচেয়ে সহিংস যুদ্ধের হুমকি দিয়েছেন।’ ট্রাম্প বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়ায় নিষেধাজ্ঞা জোরদার করতে নতুন নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। এম  

বিয়ে করতে এসে ওমান ও কাতারের শেখরা ভারতের কারাগারে

কম বয়সী তরুণীদের বিয়ে করতে ভারত গিয়ে ওমান ও কাতারের শেখরা আটক হয়েছেন।  ভারতের হায়দ্রাবাদ শহর পুলিশের হাতে  গ্রেফতার হন আট জন শেখ ও তিন জন কাজীসহ মোট ২০ জন। পুলিশ বলছে, প্রায় এক মাস ধরে নজরদারি আর তথ্য প্রমাণ যোগার করে তারা এই চক্রটিকে গ্রেফতার করে। ভারতে এসে তরুণীদের বিয়ে করে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন ওমান ও কাতারের শেখরা। হায়দ্রাবাদের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার ভি সত্যানারায়না বিবিসিকে বলেন, এবাবে কমবয়সী মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হতো জাল নিকাহনামা তৈরি করে। তারপরে বিভিন্ন আরব দেশে নিয়ে গিয়ে এই মেয়েদের ৯৯ শতাংশকেই যৌন দাসী হিসাবে ব্যবহার করা হতো। বাকি কয়েকজনকে দিয়ে ঘরের কাজে করানো হতো। জাল নিকাহনামা তৈরি ও চুক্তি বিবাহ প্রথা নামের এই কাজে সাহায্য করত এমন তিনজন কাজীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, ওমান ও কাতারের যে শেখরা ধরা পড়েছে, তাদের মধ্যে একজন ৮০ বছর বয়সী ব্যক্তিও আছেন, যিনি লাঠিতে ভর দিয়ে হাঁটেন। ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে তিনি কম বয়সী তরুণীকে বিয়ে করতে এসেছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে যে, তিন সপ্তাহের জন্য বিয়ে করে নিজের দেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। চন্দ্রায়নগুট্টা এলাকার একটি গেস্ট হাউসে পুলিশ যখন তল্লাশি চালায়, সেই সময়ে ৭০ বছর বয়সী এক ওমানি নাগরিকের সঙ্গে ১৫ বছর বয়সী একটি মেয়ের বিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য, কয়েকটি সূত্র থেকে আমরা খবর পেয়েছিলাম যে এরকম একটা চক্র চলছে। গত মাসে একটি মেয়েকে উদ্ধার করার পরে আমরা তদন্তে নেমেছি। বিমানবন্দর দিয়ে আরব দেশগুলির যত নাগরিক - বিশেষত শেখরা শহরে ঢুকেছেন, প্রত্যেকের ওপরে নজর রাখা হচ্ছিল। এরা পুরনো হায়দ্রাবাদের মুসলমান প্রধান এলাকাগুলোর নানা হোটেল বা লজে ওঠেন। তারপরে দালালের মাধ্যমে এই নকল বিয়ের কাজ সম্পন্ন হয়। আটক আরব শেখরা গত এক সপ্তাহে ১২ টি কমবয়সী মেয়েকে পছন্দ করেছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।এখনও শহর জুড়ে তল্লাসি অভিযান চালাচ্ছে হায়দ্রাবাদ পুলিশের তিনটি দল। তথ্যসূত্র: বিবিসি /এম/এআর

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর ৫ প্রস্তাব

মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনীর হত্যাযঞ্জের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরনার্থীদের রক্ষায় জাতিসংঘে প্রস্তাব তুলে ধরে মানবিক এই সঙ্কট অবসানে বিশ্ব সম্প্রদায়ের ত্বরিত পদক্ষেপ চেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে ভাষণে তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ক্যাম্প ঘুরে আসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সঙ্গট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন। শেখ হাসিনা মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ‘জাতিগত নিধন’ এখনি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন, শরণার্থীদের ফেরত নিয়ে তাদের সুরক্ষা দিয়ে পুনর্বাসনের কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আমি জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহবান জানাচ্ছি।  এ প্রসঙ্গে আমি কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করছি-   *প্রথমত, অনতিবিলম্বে এবং চিরতরে মিয়ানমারে সহিংসতা ও ‘জাতিগত নিধন’ নিঃশর্তে বন্ধ করা;*দ্বিতীয়ত, অনতিবিলম্বে মিয়ানমারে জাতিসংঘের মহাসচিবের নিজস্ব একটি অনুসন্ধানী দল পাঠানো;*তৃতীয়ত, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সব সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা বিধান করা এবং এ লক্ষ্যে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সুরক্ষা বলয় (safe zones) গড়ে তোলা; *চতুর্থত, রাখাইন থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত সব রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে তাদের নিজ ঘরবাড়িতে প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা;  *পঞ্চমত, কফি আনান কমিশনের সুপারিশমালার নিঃশর্ত, পূর্ণ এবং দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। এর আগে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ এই মুহূর্তে ৮  লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় ও সুরক্ষা দিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা সকলেই জানেন যে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান নৃশংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ফলে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে অবস্থার ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে। এই নৃশংসতার হাত থেকে বাঁচার জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। আন্তর্জাতিক আভিবাসন সংস্থার তথ্যমতে গত তিন সপ্তাহে চার লাখ ত্রিশ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। সন্ত্রাসবাদ এবং সহিংস জঙ্গিবাদকে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে নিজের বেশ কয়েকবার সন্ত্রাসী হামলার শিকার হওয়ার কথাও বলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমরা ধর্মের নামে যে-কোনো সহিংস জঙ্গিবাদের নিন্দা জানাই। সহিংস জঙ্গিবাদ বিস্তার রোধে তৃণমূল পর্যায়ে আমরা পরিবার, নারী, যুবসমাজ, গণমাধ্যম এবং ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করেছি।//এআর

প্রেমে ব্যর্থতাই সু চির মুসলিম বিদ্বেষী হয়ে ওঠার কারণ!

মিয়ানমারে রাখাইন প্রদেশের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চির নিরবতার কারণ কী। এ নিয়ে বিভিন্ন বিচার বিশ্লেষণ চলছে। কেউ কেউ বলছেন, এক মুসলিম যুবকের সঙ্গে প্রেম করে সংসার করতে না পারার ব্যর্থতাই সু চিকে মুসলিম বিদ্বেষী করে তোলেছে। ১৯৬৪ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তারেক হায়দার নামে এক পাকিস্তানি যুবকের প্রেমে পড়েছিলেন সু চি। কিন্তু সেই প্রেমের পরিণতি পায়নি । তারপর থেকে ক্রমেই মুসলিম বিদ্বেষী হয়ে ওঠেন সু চি। ইংরেজি এবং বনবিদ্যা নিয়ে অক্সফোর্ডে পড়তে গেলেও পছন্দের বিষয় নিয়ে পড়ার সুযোগ পাননি তিনি । পরে অবশ্য ভর্তি হন দর্শন বিদ্যায়। সেখানে তার সঙ্গে পরিচয়  হয় তারেক হায়দারের ।তখন  তিনি পাকিস্তানের কূটনীতিক ছিলেন । সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের  বিশেষ অনুমতি নিয়ে অক্সফোর্ডে পড়তে এসেছিলেন তারেক। সু চির মা ছিলেন কূটনীতিক। একই পেশার তারেকের প্রেমে পড়তে সু চির সময় লাগেনি। সু চির জীবনী লেখক ও সাংবাদিক পিটার পপহ্যাম  বলেছেন,‘সংস্কৃতিগতভাবে অনেক পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সু চি এবং তারেক গভীর প্রেমে পড়েছিলেন।’ ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় তারেককে খুশি করতে ভারতীয় ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলাও বন্ধ করেছিলেন সু চি ।  প্রেম নিয়ে সু চি এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েন যে,  তৃতীয় বিভাগে কোনো রকমে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। অক্সফোর্ডের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে তারেক পাকিস্তানে ফিরে যান। সু চি চাইলেও তারেক তাকে বিয়ে করেননি। পরে হতাশায় বিমর্ষ হয়ে পড়েন মিয়ানমারের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির এই নেত্রী। সেই সময় থেকেই তিনি ধীরে ধীরে মুসলিমবিদ্বেষী হয়ে ওঠেন। পপহ্যাম আরও লিখেছেন,সু চি প্রায় বছরখানেক বিরহে বিমর্ষ ছিলেন। এই সময়ে ইংল্যান্ডে পুরনো পারিবারিক বন্ধু স্যার পল গর বুথ ও তার স্ত্রী, ছেলে ক্রিস্টোফার সু চির প্রয়াত স্বামী মাইকেল অ্যারিসের সঙ্গে পরিচয় হয় মিয়ানমারের এই নেত্রীর। অতঃপর ১৯৭২ সালে তারা বিয়ে করেন।’ পপহ্যাম ‘দ্য লেডি অ্যান্ড পিকে’ লিখেছেন, সু চির ব্যক্তিগত জীবনের অনেক কিছুই জটিলতায় পূর্ণ এবং বৈপরীত্যে ভরা। আর এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গা নির্যাতনের পেছনে সু চির ব্যর্থ প্রেমের কাহিনীকেও  আজকাল উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেকে। / কে আই/এআর

মাদক বিষয়ে ছেলেকে হত্যার নির্দেশ দুতার্তের

ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা মাদক চোরাচালানের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁকে গুলি করে মেরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে। আর এই কাজ যেসব পুলিশ করবে, তাদের তিনি সুরক্ষা দেবেন বলে জানিয়েছেন। খবর এএফপি। দুর্তার্তের ছেলে পাওলো দুতার্তে (৪২) এক চীনা ব্যবসায়ীকে মাদক পাচারে সহায়তা করেছিলেন বলে বিরোধী দল অভিযোগ করে। এরপর থেকে সিনেট পাওলোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। গত বছর নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সময় দুতার্তে বলেছিলেন, তাঁর সন্তানদের মধ্যে কেউ মাদকের সঙ্গে জড়িত নয়। তবে তারা যদি জড়িত হয়, তাহলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। গতকাল বুধবার রাতে ম্যানিলায় প্রেসিডেন্ট প্যালেসে সরকারি কর্মকর্তাদের সামনে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ‘আমি আগেই বলেছিলাম, যদি আমার কোনো সন্তান মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে তাদের মেরে ফেলুন। যাতে মানুষ আমাকে তাদের কথা বলতে না পারে। আমি পুলংকে (পাওলোর ডাকনাম) বলেছি, যদি তুমি সত্যি দোষী হও, তবে আমার আদেশে তোমাকে মেরে ফেলা হবে। আর যারা তোমাকে মারবে, আমি তাদের রক্ষা করব।’ ফিলিপাইনে চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে দেশ থেকে মাদক নির্মূল করার ঘোষণা দিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়লাভ করেন দুতার্তে (৭২)। নির্বাচিত হলে প্রয়োজনে তিনি এক লাখ মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকাসক্তকে হত্যা করার অভূতপূর্ব অভিযানের প্রতিশ্রুতি দেন। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযানে তিন হাজার আট শর বেশি লোককে হত্যা করেছে। এ ছাড়া বিচারবহির্ভূতভাবে কয়েক হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। দুতার্তে বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি ৩০ লাখ মাদকাসক্তদের হত্যা করতে পারলে খুশি হবেন। কিন্তু তিনি বারবার জোর দিয়ে বলেন, তিনি পুলিশকে অবৈধ কিছু করার নির্দেশ দেননি। তাদের কেবল আত্মরক্ষার জন্য হত্যা করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে কয়েকজন বিরোধীদলীয় সদস্য ও দুতার্তের সমালোচকদের অভিযোগ, তিনি ও তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে দুই দশক ধরে দক্ষিণাঞ্চলীয় দাবাও শহরের মেয়র থাকার সময় তিনি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। দুর্নীতির এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দুতার্তে বলেন, তিনি দুর্নীতিবিরোধী যোদ্ধা হিসেবে সহজ-সরল জীবন যাপন করছেন।  

মেয়ের নাম ‘শেখ হাসিনা’ রাখলেন রোহিঙ্গা নারী!

চোখের সামনে স্বামীকে খুন হতে দেখে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে আশ্রয় পেয়েছেন ২০ বছর বয়সী খাদিজা। পালিয়ে আসার সময় তিনি আট মাসের অন্তসত্ত্বা ছিলেন। সম্প্রতি তিনি এক কন্যা সন্তান জন্ম দেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ নবজাতকের নাম রাখে শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের আশ্রয় শিবিরে সন্তান প্রসবের সময় পাশে ছিলেন মা আলুম বাহার। ইন্ডিয়া টুডেকে খাদিজা বলেন, ‘রাখাইন রাজ্য পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়া হয়েছে। আমার বাড়িটাও পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। মিয়ানমার থেকে বাঁচার জন্য পালিয়ে এসেছি। বাঁচার ইচ্ছা ছিল না কিন্তু বেঁচে থাকার সংগ্রাম চালিয়ে গেছি শুধুমাত্র গর্ভের সন্তানকে বাঁচানোর জন্য।’ তিনি আরও বলেন, নিজ দেশে স্বামীকে হারিয়েছি। আমার দেশের সরকার আমাকে আশ্রয় দেয়নি, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের সরকার আমাদের আশ্রয় দিয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আমাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। এজন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আমার মেয়ের নাম ‘শেখ হাসিনা’ রেখেছি। খাদিজার মা আলুম বাহার বলেন, অনেক কষ্টে বাংলাদেশে এসেছি। আমার মেয়ে গর্ভবতী ছিল। এখানে এসে সে কন্যাশিশুর জন্ম দিয়েছে। আমরা তার নাম রেখেছি ‘শেখ হাসিনা’। সে আমাদের বেঁচে থাকার আশা। তাকে পেয়ে সব কষ্ট দূর হয়ে গেছে। আলুম বাহারও তার স্বামী নুরুদ্দিনকে চোখের সামনে খুন হতে দেখেছেন। এখন ‘শেখ হাসিনা’র জন্যই তাদের বেঁচে থাকার লড়াই। ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমানুভূতির কারণেই রাখাইন ছেড়ে আসা রোহিঙ্গারা আশ্রয় পেয়েছে, এখনও বেঁচে আছে। এমনকি খাদিজার মেয়ে পৃথিবীর আলো-বাতাস পাচ্ছে শেখ হাসিনার কারণেই’- বলেন আলুম বাহার। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১৭-১৮ হাজার গর্ভবতী রয়েছেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাদের দেখভাল এবং সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনী পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে হামলার অভিযোগে ‘শুদ্ধি অভিযান’র নামে নিরীহ রোহিঙ্গাদের ওপর নিধনযজ্ঞ শুরু করে। জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে এখন পর্যন্ত চার লাখ ২২ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে ডব্লিউএন

১৬-১৮ হাজার রোহিঙ্গা নারী গর্ভবতী : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনীর নৃসংশতার মুখে প্রাণভয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা মুসলিমদের মধ্যে অন্তত ১৬ হাজার নারী গর্ভবতী বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম জানিয়েছেন। রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। এ পর্যন্ত প্রশিক্ষিত নার্স ও মিডওয়াইফারদের হাতে ১৭৩টি নরমাল ডেলিভরির মাধ্যম রোহিঙ্গা শিশু জন্ম নিয়েছে বলে জানান মোহাম্মদ নাসিম। তার মতে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে ১৬ থেকে ১৮ হাজার গর্ভবতী নারীকে সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, রোহিঙ্গা নারীদের অনেকের জন্ম নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে কোনো জ্ঞান নাই। মিয়ানমারে তারা কোনো ধরনের স্বাস্থ্যসেবা পেতেন না। পরিবার পরিকল্পনা কর্মীদের দিয়ে রোহিঙ্গা নারীদের মধ্যে তিন ধরণের (কনডম, খাবার বড়ি ও তিন মাসমেয়াদী ইনজেকশন) জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম এনায়েত হোসেন। তিনি বলেন, প্রায় এক মাসে গুলিবিদ্ধ ও ধারালো অস্ত্রের ক্ষতসহ নানাভাবে আঘাত পাওয়া দুই হাজার ৩৬৪ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডায়রিয়ায় ৩ হাজার ৫২০ জন, চর্মরোগে দুই হাজার ৩৩৫ জন ও শ্বাসনালীর সংক্রমণে আক্রান্ত সাত হাজার ৯৬৯ জন রোহিঙ্গা চিকিৎসা নিয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান। রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য সেবায় ৪০টিরও বেশি সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা কাজ করছে। এর মধ্যে সরকারের মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ৮টি প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থার ১৪টি, স্থানীয় বেসরকারি সংস্থার ৯টি ও জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট ৭টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শরণার্থীদের জন্য নবনির্মিত আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ১২টি স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে, যেগুলোর প্রত্যেকটি কেন্দ্রে পরিদর্শকসহ চিকিৎসক, নার্স, ধাত্রী ও প্যারামেডিক থাকবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য উখিয়া ও টেকনাফের ৫০ শয্যার হাসপাতালে আরও ৫০টি করে অস্থায়ী শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন। তাদের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ অধীনস্থ সব সংস্থার চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একদিনে বেতন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন ২৮ সেপ্টেম্বর সকালে হাসপাতালের বর্হিবিভাগ দুই ঘণ্টা বেশি খোলা থাকবে বলেও মন্ত্রী জানান।অর্থাৎ দুপুর ২টার স্থলে ওই দিন বর্হিবিভাগ খোলা থাকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মাস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদ (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান, বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী মোস্তফা সারোয়ার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান খান এসময় উপস্থিত ছিলেন। ডব্লিউএন

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি