ঢাকা, রবিবার, ২৪ জুন, ২০১৮ ১১:২৪:৫২

চীনের পর মমতার যুক্তরাষ্ট্র সফরও বাতিল, নেপথ্যে...

চীনের পর মমতার যুক্তরাষ্ট্র সফরও বাতিল, নেপথ্যে...

চীন সফর বাতিলের পর এবার যুক্তরাষ্ট্র সফরেও যাওয়া হচ্ছে না পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেইজিং সফর মমতা নিজে বাতিল করলেও যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে যে অনুষ্ঠানে মমতার যোগ দেওয়ার কথা ছিল সেই রামকৃষ্ণ মিশন কর্তৃপক্ষ মমতাকে না আসতে অনুরোধ করেছে। এ নিয়ে ভারতের রাজনীতিক মহলে নানা গুঞ্জনের ডালপালা ছড়াচ্ছে।   শিকাগো শহরে বিশ্ব ধর্ম সম্মেলনে স্বামী বিবেকানন্দের বক্তৃতার ১২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে মমতাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল রামকৃষ্ণ মিশন। যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু ১১ জুন হঠাৎ তাঁকে চিঠি দিয়ে ২৬ আগস্টের ওই অনুষ্ঠান বাতিল করার কথা জানায় শিকাগোর বিবেকানন্দ বেদান্ত সোসাইটি। সোসাইটির অধ্যক্ষ স্বামী ঈশাত্মানন্দ চিঠিতে মমতাকে লিখেছেন, রামকৃষ্ণ মিশনের সহ-সাধারণ সম্পাদক স্বামী অভিরামানন্দের আকস্মিক মৃত্যু (বেলুড়ে গঙ্গা থেকে ৮ জুন তাঁর দেহ মেলে) এবং অন্য কিছু ‘অপ্রত্যাশিত অসুবিধার’ জন্য অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হচ্ছে। যদিও প্রেক্ষাগৃহ ভাড়া নেওয়া থেকে শুরু করে অন্য নানা প্রস্তুতি নেওয়া হয়ে গিয়েছিল বলে রামকৃষ্ণ মিশনের দাবি। এখানেই বিষয়টি খুব ‘সরল’ বলে মনে করছে না রাজনৈতিক মহল। বিদেশ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিরও কিছু দিনের মধ্যেই শিকাগো যাওয়ার কথা। সেখানে বিবেকানন্দের শিকাগো বক্তৃতার ১২৫ বছর উপলক্ষেই মোদি অন্য একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। ওখানকার কোনো একটি ‘হিন্দু’ সংগঠনের নামে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর সফরের গুরুত্ব ‘বাড়াতে’ মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর বাতিল করা হল বলে মনে করা হচ্ছে। মমতা সেখানে গেলে তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সংগঠিত করা হতে পারে বলেও অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। একইভাবে যাত্রার কয়েক ঘণ্টা আগে মুখ্যমন্ত্রীর চীন সফর বাতিল হওয়ার পিছনেও বিদেশ মন্ত্রকের ভূমিকার প্রশ্ন উঠছে। রাজনৈতিক মহলে অনেকের ধারণা, মমতার সফর নিয়ে চীন যত উৎসাহী ছিল, প্রধানমন্ত্রীর দফতর সেভাবে উৎসাহী ছিল না। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে এক নেতার মন্তব্য, ‘মুখ্যমন্ত্রীকে যেতে বলেছিলেন বিদেশমন্ত্রী। ২ এপ্রিল মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সফর চূড়ান্ত করে দিল্লিকে জানিয়ে দেন। কিন্তু আড়াই মাস কেটে গিয়ে যাত্রার চার ঘণ্টা আগেও তিনি জানতে পারলেন না, কার সঙ্গে দেখা করবেন ওখানে। এটা কি খুব স্বাভাবিক?’ বিদেশ মন্ত্রণালয় সূত্র অবশ্য বলছে, আসল কারণ হল চীনা প্রটোকল। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি গেলে রাষ্ট্রীয় স্তরে চীনা প্রতিনিধিরা দেখা করেন। কিন্তু কোনো প্রাদেশিক নেতা চীনে গেলে তাঁর সঙ্গে প্রাদেশিক নেতাই দেখা করবেন। রাষ্ট্রীয় স্তরের কেউ দেখা করবেন না। এই প্রোটোকল ভাঙতে চীন কখনও রাজি হয় না। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। / এআর /
আজ থেকে প্রকাশ্যে গাড়ি চালাবেন সৌদি নারীরা

আজ রবিবার থেকে সৌদি আরবের নারীরা গাড়ি চালানো শুরু করবেন। যদিও দেশটিতে এর আগে মেয়েদের গাড়ি চালানোর অনুমতি ছিল না। অবশেষে বহু বছর ধরে চলা প্রচারণার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের ইতিহাসে এই প্রথম মেয়েরা গাড়ি চালাতে পারবেন। বিশ্বে সৌদি আরবই একমাত্র দেশ, যেখানে নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা চলে আসছে। এখন এই নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটছে।কয়েক দশক ধরে সৌদি আরবে নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। তরুণ যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান যুবরাজ হয়ে তার দেশকে আধুনিক করতে নানামুখী সংস্কার-কার্যক্রম হাতে নেন। এই সংস্কার কার্যক্রমের মধ্যে নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি রয়েছে বলেও কর্তৃপক্ষের ভাষ্য।দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সম্ভাব্য হাজারো সৌদি নারী চালকেরা রবিবার গাড়ি চালাতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।সৌদিতে নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেওয়ার পদক্ষেপটি দেশটিতে সামাজিক গতিশীলতা আনার ক্ষেত্রে নতুন যুগের সূচনা করতে পারে বলে অনেক পর্যবেক্ষক মন্তব্য করেছেন।সূত্র : সিএনএন এসএ/

এডেন উপসাগরে ইরানের যুদ্ধজাহাজ

আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনা ছড়িয়ে এডেন উপসাগরে দু`টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে ইরান। গত বৃহস্পতিবার মোতায়েন করা যুদ্ধজাহাজ দু`টির একটি হেলিকপ্টার ক্যারিয়ার এবং অন্যটি ন্যাভাল ডেস্ট্রয়ার বলে জানা গেছে।প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে ইয়েমেনের হোদাইদা বন্দরকে কেন্দ্র করে ইয়েমেনের সৈন্য ও হাউছি বিদ্রোহীদের লড়াই এ স্থানেও ছড়িয়ে পড়েছিল।এদিকে, গত মঙ্গলবার সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সদস্যরা হোদাইদার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হাউছি বিদ্রোহীদের হাত থেকে পুনঃদখল করে। ইয়েমেনের বর্তমান সরকার অভিযোগ, হাউছি বিদ্রোহীরা হোদাইদা বন্দর ব্যবহার করে ইরান থেকে অবৈধভাবে অস্ত্র আমদানি করে থাকে।সূত্র : আনাদোলুএসএ/

দলীয় প্রধানের পদ ছাড়লেন পারভেজ মোশাররফ

নিজ হাতে গড়া দল ‘অল পাকিস্তান মুসলিম লীগ’(এপিএমএল)এর চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক সেনাশাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফ। শুক্রবার মোশাররফের এ ইস্তফা দেওয়ার খবর জানান দলটির নতুন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আমজাদ। তিনি বলেন, ‘বিদেশ থেকে দল চালানো মোশাররফের পক্ষে আর সম্ভব না হওয়ায় তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে তার পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন।’ এই সপ্তাহের শুরুর দিকে চিত্রালে মোশাররফের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। মোশাররফ আদালতে হাজিরা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় জুলাইয়ের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের জন্য তার মনোনয়নপত্র দাখিলের ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষে যে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল তা সুপ্রিমকোর্ট তুলে নেওয়ার পর চিত্রালের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এর কয়েকদিনের মাথায় মোশাররফ দলীয় প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন। নতুন দলীয় প্রধান আগে দলটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি এখন দলের সব কাজ কর্ম চালাবেন এবং নির্বাচনে দলের ভূমিকার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের গণমাধ্যম। প্রসঙ্গত, ১৯৯৯ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নওয়াজ শরীফকে ক্ষমতাচ্যুত করে মোশাররফ রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে নেন। পরে ২০০১ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট হন। ২০১০ সালে পাকিস্তান মুসলিম লীগ ভেঙে মোশাররফ লন্ডনে বসে গঠন করেন ‘অল পাকিস্তান মুসলিম লীগ’। কেআই/ এসএইচ/

গেম খেলাকে মানসিক রোগ আখ্যায়িত করায় হু এর সমালোচনা

গেম খেলাকে মানসিক রোগ হিসেবে আখ্যায়িত করায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-হু এর সমালোচনা করেছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। হু এর সিদ্ধান্তকে ‘অপরিণত’ এবং ‘নৈতিক আতংকের ফল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তাঁরা। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের নির্ধারতি রোগ ব্যাধির তালিকায় গেম খেলাকে ‘গেমিং ডিসঅর্ডার’ নামে একধরনের রোগ হিসেবে শ্রেণীভুক্ত করে। আর এই সিদ্ধান্তেরই সমালোচনা করেছেন বিশ্বের নামীদামি সব চিকিৎসক ও গবেষকেরা। জৈবিক মনোবিজ্ঞানের বিষয়ক স্বনামধন্য গবেষক ড. পিটার এচেলস বলেন যে, মানুষের এমন এক আচরণকে নিরাময়ের জন্য ‘রোগ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে যা বেশিরভাগ মানুষের জন্য কোন ধরণের হুমকি বা ক্ষতিই না। সম্প্রতি লন্ডনের সাইন্স মিডিয়া সেন্টারে গবেষকেরা বলেন যে, যদিও হু এর ওই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য ছিলো ভালো। কিন্তু এমন মানুষের একটি আচরণকে রোগ হিসেবে শ্রেণীভুক্ত করতে যেন পরিমাণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণাদি দরকার তা এতে ছিল না। বাথ স্পা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পিটার এচেলস বলেন, “আমরা একটা অভ্যাস নিয়ে কথা বলছি। এরপর? আমরা এখনও নাচের প্রতি ঝোঁক, ব্যায়াম করার প্রতি ঝোঁক এসব বিষয় নিয়ে গবেষণা করছি। কিন্তু কেউ এগুলোকে এখনও ‘রোগের’ কাতারে ফেলেনি। যা মনে হচ্ছে তা হলো হু নৈতিক আতংক থেকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যা হওয়া উচিত নয়”। তবে এই দাবি নাকচ করে দিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্তের পক্ষে জোরালো বৈজ্ঞানিক যুক্তি ও প্রমাণ আছে বলে দাবি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সূত্রঃ বিবিসি //এস এইচ এস// এআর  

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নিখোঁজ যোদ্ধার পরিচয় মিলল ডিএনএ টেস্টে

১৯৬৪ সালে নিখোঁজ এক ব্যক্তির পরিচয় অবশেষ জানা গেলো। ডিএনএ বা মানুষের কোষের জীন বিশ্লেষণ করে পাওয়া গেছে নিখোঁজ ওই ব্যক্তির সঠিক পরিচয়। নিখোঁজ ওই ব্যক্তি ছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন নেভির এক নাবিক ও যোদ্ধা। নিখোঁজের পর যে পরিচয় নিয়ে ঐ ব্যক্তি জীবনযাপন করেছেন তা যে ভুয়া ছিলো তা নিশ্চিত হওয়া গেছে ডিএনএ প্রতিবেদনে। পাশাপাশি জানা গেছে তার আসল পরিচয়। ঐ ব্যক্তির নাম ছিলো রবার্ট ইভান নিকোলাস। ২০০২ সালে ৭৬ বছর বয়সে ওহাইও’তে আত্মহত্যা করেন তৃতীয় জোসেফ নিউটন চ্যান্ডলার নামের এক ব্যক্তি। পুলিশ যখন এক সপ্তাহ পর তার বাসার টয়লেট থেকে জোসেফের মৃতদেহ পায় তখন তারা জানলেন যে, এই পরিচয়টি ভুয়া। এই পরিচয়ে যে মানুষ ছিলেন সে ছিলেন আট বছর বয়সী একজন বালক। ঐ বালকটি সপরিবারের সড়ক দূর্ঘটনায় ১৯৪৫ সালে নিহত হয়। আর এই তথ্য জানার পরই নড়েচড়ে বসে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। শেষমেশ মামলার তদন্তভার আসে মার্কিন পিট এলিওটের হাতে। তিনিই শেষ পর্যন্ত সমাধান করেন পাঁচ দশকের দীর্ঘ এই রহস্যের। ২০১৪ সালে মামলার দায়িত্ব নেন এলিওট। তিনি দেখলেন যে, জোসেফ মৃত্যুর দুই বছর আগে একটি হাসপাতালে নিজের কিছু টিস্যুর নমুনা জমা দিয়েছিলেন। সেই নমুনা থেকেই এলিওট উদ্ধার করেন জোসেফের আসল পরিচয়। তৃতীয় জোসেফ নিউটন চ্যান্ডলার নামের এই ব্যক্তির প্রকৃত নাম রবার্ট ইভান নিকোলাস। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন নেভীর হয়ে যুদ্ধ করেছেন। রবার্টের জীবনে এক স্ত্রীসহ আছে তিনটি সন্তান। গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব তথ্য জানান মার্শাল এলিওট। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আসল নিকোলাসের ছেলে ফিল নিকোলাস। তিনি বলেন, “আমি যখন তাঁর ছবি দেখলাম তখনই বুঝেছি যে, এটি আমার বাবা রবার্ট নিকোলাস”। সংবাদ সম্মেলনে এলিওট বলেন, “জোসেফ তার জীবন উপভোগ করতে পারেনি। তার জায়গায় অন্য কেউ তার জীবনটি ভোগ করেছে”। তবে নিকোলাস কেন ১৯৬৪ সালে জোসেফ হলেন সেই রহস্য এখনও অজানাই আছে। সূত্রঃ সিএনএন //এস এইচ এস// এআর  

নেভিগেশনের সাহায্যে হাঁটু বদল

বিশ বছর আগে একটি দুর্ঘটনায় উরুর হাড় খানিকটা বেঁকে গিয়েছিল। সঙ্গে আর্থারাইটিসও ধরা পড়েছিল ঋদ্ধিমা চট্টোপাধ্যায় (নাম পরিবর্তিত) নামে এক ভারতীয় নারীর। গত আট বছর ধরে হাঁটুর ব্যথায় মারাত্মক কষ্ট পাচ্ছিলেন তিনি। এবার সেই হাঁটু বদল হল অভিনব এক পদ্ধতিতে, নেভিগেশনের সাহায্যে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে। অস্ত্রোপচারের পর ৬ মাস রোগীকে পর্যবেক্ষণে রেখে গতকাল শুক্রবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিলেন, ওই অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। ইংরেজির শিক্ষিকা ঋদ্ধিমা দেবীর বয়স ৬৩। বাড়ি দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়াহাটের অভিজাত এলাকায়। হাঁটু ব্যথা এবং আর্থারাইটিসের কারণে দৈনন্দিন কাজকর্ম শুধু নয়, হাঁটাচলা, সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা সবই প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল শেষ এক বছর ধরে। সব মিলিয়ে রীতিমতো অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। স্ত্রীর স্বাভাবিক চলাফেরা কীভাবে সম্ভব তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন ঋদ্ধিমা দেবীর স্বামী। শেষে চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন, নেভিগেশন পদ্ধতিতে হাঁটু বদলের। মেডিকা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর নেভিগেশন পদ্ধতির সাহায্যে ঋদ্ধিমা দেবীর হাঁটু বদলের অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসক বিকাশ কপূর। পূর্ব ভারতে এমন অস্ত্রোপচার এই প্রথম বলেই হাসপাতালের তরফে দাবি করা হয়। এমনিতে ঘণ্টাচারেক লাগে হাঁটুবদলের অস্ত্রোপচারে। কিন্তু চিকিৎসক বিকাশ কপূর এবং তার টিম বিশেষ পদ্ধতিতে ঋদ্ধিমা দেবীর অস্ত্রোপচার করেন মাত্র এক ঘণ্টায়। এ দিন বিকাশ বলেন, হাঁটু বেঁকে যাওয়ার ফলে চলাফেরার স্বাভাবিক ছন্দে সমস্যা হচ্ছিল ঋদ্ধিমা দেবীর। তাই প্রথামাফিক হাঁটু বদলের অস্ত্রোপচারের জায়গায় কম্পিউটারচালিত নেভিগেশন ব্যবহার করা হয়েছিল। পূর্ব ভারতে এই কম্পিউটারচালিত নেভিগেশনটি অর্থোলাইন নামে পরিচিত। উনি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। স্কুলে যাওয়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক কাজকর্মও করছেন। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পেরে খুশি ঋদ্ধিমা দেবীও। এ দিন তিনি বলেন, অস্ত্রোপচারের কারণে দু’মাস ছুটিতে ছিলাম। ফের যখন স্কুলে যোগ দিলাম, সহকর্মী শিক্ষক-শিক্ষিকারা অসম্ভব খুশি। হাঁটাচলায় আর কোনও কষ্ট নেই। ঋদ্ধিমা দেবীর স্বামী জানিয়েছেন, পুরোদস্তুর সেরে উঠতে তার স্ত্রীর বেশ খানিকটা সময় লেগেছে। অস্ত্রোপচারের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হাঁটু ভাঁজ করতে পেরেছিলেন তিনি। তিন দিন পর নিজেই হাঁটাচলা শুরু করেন। সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামার ক্ষেত্রেও কোনও সমস্যা ছিল না। তার কথায়, আমার এনে দেওয়া শৌখিন জুতোগুলো পরতে আর একটুও অসুবিধা হয় না ওর। ওই হাসপাতালের ডিপার্টমেন্ট অব ফিজিক্যাল থেরাপি ও রিহ্যাবিলিয়েশনের তরফে কবিতা রায় বলেন, এই ধরনের অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে নিয়মিত ব্যায়াম করা অত্যন্ত জরুরি। হাঁটু বদলের অস্ত্রোপচারের পর সেরে ওঠার জন্য ব্যায়াম করা বাধ্যতামূলক। রোগীকেও সেই পরামর্শই দেওয়া হয়েছিল। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রীর র‍্যালিতে বোমা হামলা

ইথিওপিয়ার নতুন প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের র‍্যালিতে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় ওই র‍্যালিতে বোমা হামলায় কয়েকজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী। তবে হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনও জানা যায়নি। গত এপ্রিলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া আদি আহমেদের সমর্থনে এই র‍্যালির আয়োজন করা হয়েছিল। র‍্যালিটি মাসকেল স্কয়ারে পৌঁছালে বক্তৃতা দেন আবি আহমেদ। তাঁর বক্তৃতার কিছু সময় পরেই র‍্যালিতে বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেষ পর্যন্ত সুরক্ষিত থাকলেও কয়েকজন নিহত হয়েছেন; আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। বোমা হামলার পরে জনগণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষনে প্রধামনন্ত্রী আদি আহমেদ বলেন, অল্প সংখ্যক ইথিওপিয়ান আহত হয়েছেন। আর কয়েকজন তাদের জীবন হারিয়েছেন। ‘যারা ইথিওপিয়াকে একত্রিত অবস্থায় দেখতে চায় না তাদের এক ব্যর্থ চেষ্টা’ হিসেবে এই হামলাকে আখ্যায়িত করেছেন আদি। র‍্যালির আয়োজক গোষ্ঠীর এক সদস্য সিয়াম তিশোমি রয়টার্সকে জানান, “এটা গ্রেনেড ছিল। কয়েকজন বোমাগুলোকে মঞ্চে পাঠানোর চেষ্টা করছিলেন যেখানে প্রধানমন্ত্রী বসা ছিলেন। বোমা বিস্ফোরণের পর আমি অন্তত পাঁচ জনকে আহত অবস্থায় পরে থাকতে দেখি”। প্রধানমন্ত্রীর র‍্যালিতে এমন এক সময়ে হামলা হলো যার একদিন আগেই দেশটির সশস্ত্র সংগঠন ‘গিনবোট ৭’ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোন সশস্ত্র হামলা করবে না বলে ঘোষণা দেয়। প্রধানমন্ত্রী আবিকে তার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের সুযোগ করে দিতেই সরকারের বিরুদ্ধে কোন সশস্ত্র হামলা হবে না বলে গতকাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল গিনবোট ৭।   / এআর /

শেষ মুহূর্তে বাতিল হল মমতার চীন সফর

শেষ মুহূর্তে বাতিল হল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চীন সফর। শুক্রবার রাতেই তার বেইজিং যাওয়ার কথা ছিল। এ দিন বিকালে নবান্নে অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র ও মুখ্যসচিব মলয় দে মুখ্যমন্ত্রীর একটি বিবৃতি পড়ে শোনান। তাতে বলা হয়েছে, ‘গত মার্চে বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ আমাকে একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে চিন যাওয়ার প্রস্তাব দেন। আমি তা গ্রহণ করেছিলাম। শেষ পর্যায়ে এসে  বেইজিংয়ে রাজনৈতিক বৈঠকগুলো যথাযথ স্তরে হওয়ার ব্যাপারে চিন সরকারের তরফে কোনও নিশ্চয়তা মেলেনি। এমন পরিস্থিতিতে সফরের কোনও মানেই হয় না।’ অমিত মিত্র বলেন, ‘আমাদেরও একটা মান-মর্যাদা আছে। সেটাই সর্বাগ্রে মাথায় রাখা হয়েছে।’ এ দিন রাতে চীনের কলকাতাস্থিত উপদূতাবাসের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘মুখ্যমন্ত্রীর সফরসূচি চূড়ান্ত করতে চীন আপ্রাণ চেষ্টা করছিল। যে সময় এই সফর বাতিলের কথা ঘোষিত হয়েছে, তখনও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলোর ব্যাপারে চীনের চেষ্টায় কমতি ছিল না। ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগও রাখা হচ্ছিল।’ চিনের এই বিবৃতি দেখে বিস্মিত নবান্নের একাংশ। তাদের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী বিমানে ওঠার কয়েক ঘণ্টা আগেও বৈঠকসূচি চূড়ান্ত করার ব্যাপারে ‘চেষ্টা’ করা অর্থহীন। কারণ এই ধরনের সফরের পুঙ্খানুপুঙ্খ অনেক আগেই ঠিক হয়ে যাওয়ার কথা। অর্থমন্ত্রী জানান, বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে বিষয়টি জানাতে ফোন করা হয়েছিল। তিনি মঙ্গোলিয়ায় রয়েছেন। বিদেশসচিবের সঙ্গেও কথা হয়েছে বলে জানান তিনি। বিদেশমন্ত্রীর প্রস্তাবে ২ এপ্রিল সম্মতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই মতো জুনের শেষে ৯ দিনের সফরসূচি তৈরি হয়েছিল। কলকাতার চিনের উপরাষ্ট্রদূত মা ঝানউ এক সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছিলেন, ‘দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব ও কুনমিংয়ের মেয়র বেইজিংয়ে গিয়ে মু্খ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন।’ নবান্নের বিবৃতিতে অবশ্য বলা হয়েছে, ‘বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সব কিছু ঠিকঠাকই চলছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে চীনের তরফে রাজনৈতিক বৈঠকগুলো যথাযথ স্তরে হবে, এমন কথা নিশ্চিতভাবে বলা হয়নি। বেইজিংয়ে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত শুক্রবার বেলা ১২টার মধ্যে চীনের কাছ থেকে এ নিয়ে নিশ্চয়তা চান। তা পাওয়া যায়নি। ফলে সফর বাতিল করা ছাড়া উপায় ছিল না।’ মুখ্যমন্ত্রীর লাগেজ আগেই পৌঁছে গিয়েছে বেইজিংয়ে। নিরাপত্তা অফিসার এবং প্রতিনিধি দলের কয়েকজনও প্রস্তুতি দেখতে চীনে চলে গিয়েছেন। তারপরও কেনও বাতিল হল সফর? সরকারি সূত্রের খবর, ভারতীয় দূতাবাসের তরফে প্রাথমিকভাবে বলা হয়েছিল চিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক হতে পারে। শেষ পর্যন্ত দূতাবাস সেই বৈঠক করাতে পারেনি। রাজ্যের বিবৃতিতে বেইজিংয়ে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের ভূমিকার প্রশংসা করা হলেও নবান্নের কর্তাদের একাংশের মতে, দূতাবাসের ভূমিকাও প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করানো সম্ভব না হলে তা আগেই নবান্নকে জানানো উচিত ছিল। অন্যদিকে, বিদেশ মন্ত্রকের যুক্তি, এই ধরনের সফরে কার সঙ্গে বৈঠক হবে, তা সংশ্লিষ্ট দেশই ঠিক করে। অতিথি দেশ বড়জোর অনুরোধ জানাতে পারে। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, কোনও মুখ্যমন্ত্রীর সফরে বিদেশ মন্ত্রকের সমন্বয়ের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি যখন চীনে গিয়েছিলেন, তখন এস জয়শঙ্কর ভারতের রাষ্ট্রদূত। চীনের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে মোদির বৈঠক করাতে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন। বেইজিংয়ের আমন্ত্রণের আগেই কুনমিংয়ে কৃষি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য রাজ্যের কাছে আমন্ত্রণ এসেছিল। দিল্লি সেই অনুমতি দেয়নি বলে নবান্নের দাবি। তবে চীনের ভূমিকাতেও খুশি নয় নবান্ন। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

ব্রিটিশ রাজ পরিবারে প্রথম সমকামী বিয়ে

গত মে মাসেই বিয়ের আসর বসেছিল ব্রিটিশ রাজ পরিবারে। রাজপুত্র প্রিন্স হ্যারির সঙ্গে বিয়ে হয় মার্কিন টিভি অভিনেত্রী মেগান মর্কেলের। খুব শিগগিরই আরও একবার বিয়ের সানাই বাঁজতে যাচ্ছে সেখানে। তবে এবারের বিয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। বিয়ে হবে দুই সমকামীর মধ্যে। আর এতে মোটেও আপত্তি নেই রাজ পরিবারের। দুই বছরের সঙ্গী জেমস কোয়েলকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন রাজ পরিবারের সদস্য লর্ড ইভার মাউন্টব্যাটেন। চলতি গ্রীষ্মের শেষ নাগাদ অনুষ্ঠিত হতে পারে এই বিয়ে। ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলী মেইলকে এমনটাই জানিয়েছেন খোদ লর্ড সাহেব। তিনি বলেন, ডেভনে আমার এস্টেটের ব্যক্তিগত গীর্জায় অনুষ্ঠিত হবে এই বিয়ে। খুবই সীমিত পরিসরে। আর এতে রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথসহ রাজ পরিবারের সমর্থনও আছে। তবে বিয়েতে রাণী ও সরাসরি রাণীর দিকের স্বজনেরা এই বিয়েতে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকবেন বলেও জানান ইভার। রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের তৃতীয় পক্ষীয় ভাই এবং রানী প্রথম এলিজাবেথের বংশধর ইভার মাউন্টব্যাটেন যে একজন সমকামী তা প্রথম প্রকাশ পায় ২০১৬ সালে। সাবেক স্ত্রী পেনী মাউন্টব্যাটেনের ঘরে তার তিনজন সন্তান রয়েছেন। আর নিজের সমকামীতায় লর্ড ইভার সমর্থন পাচ্ছেন সাবেক স্ত্রীর। শুধু তাই নয়, পেনী গত সপ্তাহে জানান যে, ঐতিহাসিক এই বিয়েতে উপস্থিতও থাকবেন তিনি। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি এক জরিপ অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের ৬০ শতাংশ মানুষ সমকামিতায় কোন ধরণের সমস্যা দেখেন না। এমনকি ইংল্যান্ডের বেশ কয়েকটি জায়গায় চার বছর আগে সমকামিতাকে বৈধতা দিয়ে আইন পাস হয়। তবে উত্তর আয়ারল্যান্ডে এখনও তা অবৈধ। সূত্রঃ এনডিটিভি //এস এইচ এস//  এআর

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি