ঢাকা, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৩:৫৫:৪৪

নওয়াজের কাটা গায়ে নুনের ছিঁটা

নওয়াজের কাটা গায়ে নুনের ছিঁটা

সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর খুইয়েছেন দলীয় প্রধানের পদ। আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন কি না, সে বিষয়েও ওঠছে প্রশ্ন। এ ছাড়া নিজ দলেও তাঁর বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে ‘ষড়যন্ত্র’। এমন বেহাল দশায় ভোগছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। তবে দলীয় প্রধানের গদি হারিয়েও মতি না হারানো নওয়াজের ক্ষতহৃদয়ে এবার নুনের ছিঁটা দিচ্ছে বিরোধী দলগুলো। এ কাতারে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের প্রধান ইমরান খাঁন। নওয়াজকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও। বাদ যাননি পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রধান শেখ রসিদও। এদিকে আদালতের রায়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তেহরিক-ই-ইনসাফ বলছে, তারা দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে দেশব্যাপী আনন্দ মিছিল করবে। শুধু তাই নয় আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়ে দলটির প্রধান ইমরান খান বলেন, কোন দুর্নীতিবাজ কোন দলের প্রধান হতে পারে না। যে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট করেছে, সে কখনো জাতীয় হিরো হতে পারে না। শুধু তাই নয়, নওয়াজ শরীফকে চোর আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এ চোরকে মুসলীম লীগের সবাই চেনে। তাই আশা করি, চোরের বদলে মুসলিম লীগ নতুন একজন সজ্জনকে দলের প্রধান ঘোষণা করবেন। এদিকে সিনেটে নির্বাচনে নওয়াজ শরীফের লড়ার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রধান শেখ রসিদ। এসময় আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়ে শেখ রসিদ বলেন, যারা আদালতের রায়কে ডাস্টবিনে ফেলতে চেয়েছিলো, তারাই আজ ডাস্টবিনে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। এদিকে নওয়াজ শরীফের বিরুদ্ধে করা ‘এলএনজি মামলা’ নতুন করে শুরু করারও পরামর্শ দেন রসিদ। এদিকে পাকিস্তান পিপলস পার্টির কো-চেয়ারম্যান আসিফ আলী জারদারি বলেন, আদালতের রায়কে অবশ্যই মেনে নিতে হবে। তিনি বলেন, আদালতের সঙ্গে মতবিরোধে গিয়ে গণতন্ত্রের ক্ষতি হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, নওয়াজ শরীফ আদালতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। সূত্র: দ্য ডনএমজে/
ব্যাপক আবেদন রয়েছে: ইউরোপীয় স্কলার

আজ থেকে ১৭০ বছর আগে কার্ল মার্কস ও ফ্রেডরিক অ্যাঙ্গেলস এর লেখা কম্যিউনিস্ট মেনিফেস্টোর আবেদন এখনো পুরোপুরিই রয়ে গেছে বলে মনে করেন পশ্চিমা বিশ্বের স্কলাররা। কম্যিউনিস্ট মেনিফেস্টো একটি শক্তিশালী অস্ত্র, যা পশ্চিমা বিশ্ব এখনও পাঠোদ্ধার করতে পারে বলে মনে করেন তাঁরা। সম্প্রতি চীনা গণমাধ্যম সিনহুয়ার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে বেশ কয়েকজন পশ্চিমা বোদ্ধা এ মন্তব্য করেন। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সোস্যাল হিস্টরির উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ম্যারিন ভ্যান হেইজডেন বলেন, আজকে যা ঘটছে, তা বিশ্লেষণ করুন। এখনো কম্যিউনিস্ট মেনিফেস্টোর বিষয়গুলো ব্যবহৃত হচ্ছে। ওই প্রতিষ্ঠানটি কার্ল মার্কস এবং অ্যাঙ্গেলসের লেখা কম্যিউনিস্ট মেনিফেস্টোসহ বিভিন্ন নথি সংগ্রহ করেছে। উল্লেখ্য, ১৮৪৮ সালে কার্ল মার্কস এবং ফ্রেডরিক অ্যাঙ্গেলস-এর লেখা ওই মেনিফেস্টোটি লন্ডনে প্রকাশিত হয়। ১৯৯০’র দশকে বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষই মনে করতো মার্কসবাদ আধুনিক যুগের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তবে ইউরোপসহ আমেরিকায় মন্দা দেখা দেওয়ার পর আবারও আলোচনায় উঠে আসে কম্যিউনিস্ট মেনিফেস্টো। মানুষ ভাবতে লাগলো, এ পরিস্থিতিতো আগেও একবার এসেছে। এই মেনিফেস্টো পাঠোদ্ধার করতে পারলে কি হবে? এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। মার্কসবাদ আসলেই আধুনিক সমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত? হ্যা অবশেষে তারা এই সিদ্ধান্তে আসে যে, মার্কসবাদের সঙ্গে আধুনিক সমাজের যোগসূত্রিতা রয়েছে। ব্রিটেনের কম্যিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রবার্ট গ্রিফিত বলেন, এখনো ওই মেনিফেস্টোর ব্যাপক কার্যকরিতা রয়েছে। এই মেনিফেস্টোর সবচেয়ে বড় দিক হলো, সময়ের বিবর্তনে সমাজ কেন এবং কিভাবে পরিবর্তনের দিকে যাচ্ছে, তা উদ্ধার করা। এটি এখনো আমাদের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে বলে। আজকের জন্য এটি একটি শিক্ষা। তিনি আরও বলেন, যদিও ১৮৪০ সালের অনেক কিছুই বদলে গেছে। তবে এখনো মৌলিক বিষয়গুলো সমাজে বিদ্যমান রয়েছে। আমরা এখনো একটি শ্রেণী-বিভক্ত সমাজে বাস করছি। এখনো সমাজে অসমতা বিরাজ করছে। শুধু যে সম্পদের মাধ্যমেই সমাজে অসমতা আছে তা নয়, ক্ষমতাকে কেন্দ্র করেও সমাজে অসমতা বিরাজ করছে। আর এটাই প্রমাণ করে সমাজে এখনো কম্যিউনিস্ট মেনিফেস্টোর আবেদন রয়েছে। সূত্র: সিনহুয়াএমজে/

ইমরানের তৃতীয় বিয়ে নিয়ে যা বললেন রেহাম

পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সাবেক লিজেন্ড ও তেহরিক-ই-ইনসাফের চেয়ারম্যান ইমরান খানের তৃতীয় বিয়ে নিয়ে মুখ খুলেছেন তার সাবেক স্ত্রী রেহাম খান। তিনি বিয়েকে ইমরানের ‘রাজনৈতিক দুর্ভাগ্য’ বলে মন্তব্য করেন। লন্ডন থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেহাম খান বলেন, দলের কিছু ব্যাক্তি বিয়ের ইমরান খানকে বিভ্রান্ত করেছে। এতে ইমরান রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। রেহাম খানকে কেউ ইমরানের সাবেক স্ত্রী বলুক এমনটি পছন্দ করছেন না বলেও জানিয়েছেন এই সুন্দরী। ক্ষুব্ধ রেহাম খান বলেন, যাকে খুশি তাকে বিয়ে করার অধিকার ইমরানের আছে। তিনি পাকিস্তানের সাবেক এ ক্রিকেট লিজেন্ডকে অবিশ্বস্ত সঙ্গী বলেও উল্লেখ করেন সাক্ষাৎকারে। পাকিস্তানের রাজনীতিতে রেহাম খানের আগ্রহের খবরাখবরের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, যখন রাজনীতি নিযে আমার কোনো আগ্রহ ছিল না তখন এ নিয়ে আমার আগ্রহের খবর প্রকাশিত হয়েছে। অথচ পাকিস্তান একজন ব্রিটিশ নাগরিককে রাজনীতিতে গ্রহণ করার মতো উদার নয়। তিনি আরও বলেন, নিজের আয়ে সংসার চলে আমার মতো এমন একজন ব্যক্তির পাকিস্তানের রাজনীতিতে সুবিধা করার সুযোগ নেই। আমি সামন্তবাদী পটভূমির নই। এছাড়া আমার ফিন্যানন্সিয়াল লবিও নেই বললেই চলে। এছাড়া পাকিস্তানিরা মনে করে দায়িত্ববান পুরুষ পেছনে না থাকলে একজন নারীর রাজনীতিতে ভালো করার সুযোগ নেই।   প্রসঙ্গত, বুশরা ও ইমরানের প্রেমের বিষয়টি রেহাম খানই সামনে নিয়ে আসেন। চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি গণমাধ্যমকে জানান, বুশরা-ইমরান চুটিয়ে প্রেম করছেন। দ্য টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেহাম বলেছিলেন, বুশরাকে ইমরান তিন বছর ধরে চেনেন। এবং তখন থেকেই তাদের মধ্যে মেলামেলা চলছে। রেহাম এও দাবি করেন যে, চলতি বছরের শুরুর দিনে বুশরাকে বিয়ে করেন ইমরান। যদিও বিষয়টি পরে জানাজানি হয়।   বর্তমানে ৬৫ বছর বয়স্ক ইমরান প্রথম বিয়ে করেন ব্রিটিশ সমাজকর্মী জেমিমা গোল্ডস্মিথকে ১৯৯৫ সালে। বিয়ের ৯ বছর পর তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। পরে তিনি সুদর্শন টিভি উপস্থাপক রেহাম খানকে বিয়ে করেন। যা টেকসই হয় মাত্র ১০ মাস। সূত্র : দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট ও ওয়ান ইন্ডিয়া।  

ক্রস বনাম ত্রিশূলের লড়াইয়ে উত্তপ্ত নাগাল্যান্ড

ভারতের অন্যতম খ্রিষ্টান সম্প্রদায় অধ্যুষিত রাজ্য নাগাল্যান্ড। এখানে নির্বাচনী লড়াইয়ে হিন্দুত্ববাদীদের পথের কাঁটা গরুর মাংস। আসছে ২৭ ফেব্রুয়ারি রাজ্যের ৬০টি কেন্দ্রে ভোট হবে। মিয়ানমার সংলগ্ন উত্তরপূর্বাঞ্চলের এ পাহাড়ি রাজ্যটির বিধানসভার নির্বাচনে বিভিন্ন দল তাদের ইশতেহারে হরেক প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তব হচ্ছে নির্বাচনে লড়াইটা খ্রিস্টের ক্রস বনাম ত্রিশূলের। ক্রস বনাম ত্রিশূলের এ লড়াইয়ে বিপদের গন্ধ পাচ্ছে বিজেপি। কারণ, ছোট এই পাহাড়ি রাজ্যটিতে ৮৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ মানুষই খ্রিস্টান। হিন্দু মাত্র ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং মুসলিম রয়েছে ২ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এবারের নির্বাচনে মূল লড়াই বিজেপি ও তাদের নতুন জোটসঙ্গী আঞ্চলিক দল এনডিপিপির সঙ্গে ক্ষমতাসীন এনপিএফের। বর্তমান মন্ত্রিসভায় বিজেপির সঙ্গে এনপিএফের ভোটে জোট হয়নি। তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হতেই এনপিএফ নেতারা বলছেন, বিজেপি হিন্দুত্ব নিয়ে আসতে চাইছে খ্রিস্টান অধ্যুষিত এ রাজ্যটিতে। এই ভোট যুদ্ধে অবধারিত মূল ইস্যু গো-মাংস। বিজেপি শাসিত অন্যান্য রাজ্য যথা উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশে গরুর মাংস খাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। গো রক্ষার নামে আক্রান্ত হয়েছেন মুসলিমরা। মৃত্যুও হয়েছে। আর নাগাল্যান্ডের পরিস্থিতি বলছে, এখানে বিজেপি নেতৃত্বরাই গরুর মাংস খাওয়ার বিধান দিয়েছেন। কারণ গো মাংস এখানে প্রধান খাদ্য। উঠে এসেছে হিন্দুত্ববাদ বনাম খ্রিষ্ট মতবাদ প্রচারের দ্বন্দ্ব। কংগ্রেস সরাসরিই বলছে, এবারের ভোট ‘ক্রস বনাম ত্রিশূল’। তবে রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক এডুজু থেলুও বলেন, ধর্মের কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিজেপি মোটেও সাম্প্রদায়িক দল নয়। ৬০ সদস্যের বিধানসভা আসনের মধ্যে ক্ষমতাসীন এনপিএফ। তারা বিজেপি নেতৃত্বাধীন `নেডা`র শরিক। ফলে চাপ বেড়েছে এনপিএফের মতো খ্রিষ্টান প্রভাবিত দলেও। তাদের হাতে আছে ৪৫টি আসন। আর শরিক বিজেপির দখলে চারটি একটি আছে জেডিইউ দখলে। মুখ্যমন্ত্রী এনপিএফের টি আর জেলিয়াং। লড়াইটা ধর্মভিত্তিক হলেও জেলিয়াংকে বেগ দিতে তৈরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নেফিউ রিও। গত পৌর নির্বাচনে তার দলে মহিলা প্রার্থীদের অবস্থান নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তবে এনসিপির দখলে আছে একটি আসন। গত বিধানসভায় বিরোধী শিবিরে থাকলেও নির্দলদের কাছে টানতে মরিয়া সবপক্ষই। এসবের মধ্যেই জমে উঠেছে ত্রিশূল বনাম ক্রসের লড়াই। একে// এআর

সিরিয়ায় বোমা হামলায় ৫ দিনে নিহত ৪০০

যুদ্ধ বিরতি লঙ্ঘন করে সিরীয় সরকারি ও রুশ বাহিনীর মিলিত হামলায গত ৫ দিনে অন্তত ৪০০ বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির পূর্ব ঘৌটায় এ হামলায় আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। এ ছাড়া শতাধিক ঘরবাড়ি বোমা মেরে ধসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে জাতিসংঘসহ বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলো যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলতে আসাদ সরকারকে আহ্বান জানিয়ে আসলেও তাতে পাত্তা দিচ্ছেন না আসাদ বাহিনী ও তার মিত্ররা। এ দিকে নতুন করে হামলা শুরু করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে মৃত্যুর আতঙ্ক আবারও ছড়িয়ে পড়েছে। বাসা-বাড়ি থেকে শুরু করে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অফিস কিংবা ধর্মীয় স্থাপনা কোন জায়গা-ই নিরাপদ মনে করছেন না স্থানীয়রা। এদিকে আসাদ সরকারকে সহায়তা প্রধানকরা রাশিয়া বলছে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে কোন সিরীয় ইস্যুতে কোন চুক্তি হয়নি। শুধু তাই নয়, যুদ্ধবিরতি চুক্তির খসড়াতে সংশোধন আনারও তাগিদ দিয়েছে দেশটি। সিরীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, গত ৫ দিনে রুশ ও সিরীয় বাহিনীর বিমান ও রকেট হামলায় ৯৫ শিশুসহ অন্তত ৪০৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। সংস্থাটি আরও জানায় বৃহস্পতিবার আকাশ থেকে পূর্ব ঘৌটায় বৃষ্টির মতো বোমা ফেলেছে দুই মিলিত বাহিনী। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে এ হামলা চালায় তারা। এতে ৯৫ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন। এদিকে বৃহস্পতিবারের হামলার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র হিদার নোরেট গতকাল শুক্রবার দেওয়া ভাষণে বলেন, রাশিয়ার সাহায্য ছাড়া এই ধ্বংসযজ্ঞ সম্ভব ছিল না। তবে রাশিয়া বলছে, ওই হামলার সঙ্গে তারা কোন ভাবেই জড়িত নয়। তবে আসাদ সরকারের এক পত্রিকা জানিয়েছে, ওই হামলায় আসাদ বাহিনীর সঙ্গে রুশ বাহিনীও ছিল। এদিকে পূর্ব ঘৌটায় ৪ লাখেরও বেশি লোক বাস করে বলে জানা গেছে। স্থানীয় একটি স্কুলে আশ্রয় নেওয়া উম্মে আবদু জানিয়েছেন, আমরা একটি রুমের মধ্যে ১৪ জন আশ্রয় নিয়েছে। এখানে কোন শৌচাগার নেই। শুধু উম্মু আবদু-ই নয়, তাঁর মতো আরও হাজারো নারী মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। সূত্র: দ্য ডনএমজে/

মে মাসের মধ্যেই জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তর

২০১৮ সালের মধ্যে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস সরানো হবে না বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ব ঘোষণা থাকলেও, এবার দেশটি বলছে আগামী মে মাসের মধ্যেই তেল-আবিব থেকে তাদের দূতাবাস সরিয়ে জেরুজালেমে স্থানান্তর করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র হিদার নোরেট বলেন, ‘ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ৭০ বছর পূর্তিতে বিশেষ উপহার হিসেবে দেশটি আগামী মে মাসের মধ্যেই জেরুজালেমে তাদের দূতাবাস স্থানান্তর করবে। এসময় তিনি বলেন, দূতাবাস স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে আমরা উচ্ছ্বসিত। ইসরায়েলের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে এর চাইতে আর ভাল উপহার হতে পারে না।’ মে মাসের মধ্যে কেবল অন্তবর্তী দূতাবাস স্থানান্তর করা হবে সেখানে। জেরুজালেম দূতাবাসে কেবল রাষ্ট্রদূত ও উচ্চপদস্থ কয়েকজন কর্মকর্তার জায়গা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। পরবর্তীতে ২০১৯ সাল নাগাদ তাদের দূতাবাসটি পুরোপুরিভাবে তেল-আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তর করা হবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র এমন সিদ্ধান্ত নিলে পুরো বিশ্বজুড়েই নিন্দার ঝড় ওঠে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এমন ঘোষণায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দিনটি ইসরায়েলিদের জন্য একটি আনন্দের দিন। এদিকে এমন খবরে নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনিরা। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের এক মুখপাত্র নাবিল আবু দায়নাহ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ অগ্রহণযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্তে এই এলাকায় শান্তি প্রচেষ্টায় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আমি বিশ্বকে স্পষ্ট করে বলতে চাই। আমি এটা করবোই। আমার এই সিদ্ধান্তের জন্য অনেক দেশের আক্রমণের শিকার হয়েছি। আবার অনেকেই চাপ সৃষ্টি করেছেন। অনেকে বারবার অনুরোধ করেছেন যাতে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করি। তবে আমি বলতে চাই, আমি এটি বাস্তবায়ন করবোই। সূত্র: রয়টার্সএমজে/

পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করবে ইরান

ইরানের সঙ্গে ছয় জাতিগোষ্ঠীর করা পারমাণবিক চুক্তি বাতিল হলে পুরো বিশ্বকেই পারমাণবিক সংকটের মুখে পড়তে হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগশি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এ চুক্তিতে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইরান শিগগিরই এই চুক্তি বাতিল করে দিবে। লন্ডনের চ্যাথাম হাউজে দেওয়া এক বক্তব্যে আগারসি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে হেলাফেলা শুরু করেছেন। তাই ইরানের এই চুক্তিতে টিকে থাকা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যৌথ সর্বাত্মক কর্ম পরিকল্পনা (জেসিপিওএ) নামের ওই চুক্তি যদি পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হয়, তবে শিগগিরই বিশ্ব আরেকটি পারমাণবিক সংকটের মধ্যে পড়তে পারে আশঙ্কা করেন তিনি। এসময় তিনি বলেন, আমাদের যদি ওই চুক্তি থেকে সরে যেতে হয়, তাহলে পারমাণবিক সংকট মোকাবেলা করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। বিশ্বশক্তির প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, আমরা যদি চুক্তির আওতায় প্রত্যাশিত সুযোগ-সুবিধা না পায়, তাহলে শিগগিরই আমরা চুক্তি থেকে সরে দাঁড়াবো। শুধু তাই নয়, বিশ্বের কোম্পানি ও ব্যাংকগুলোর সঙ্গে ইরানের লেন-দেনের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে যাচ্চেন, এতে ইরান চরম ক্ষতির সম্মুখীন। তিন আরও বলেন, ‘তা ছাড়া পূর্বে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত না করায় ইরান এ চুক্তি থেকে কোন লাভ পাচ্ছে না বলেও জানান তিনি। তাই বিশ্বের কোম্পানি ও ব্যাংকগুলো যদি ইরানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যে সহায়তা না করে, তাহলে ইরান এ চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য হবে।’ ইরানের ওই রাজনীতিকই ওই চুক্তি করতে ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে মধ্যস্থতা করেছিলেন। অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স, ব্রিটেন ও চীন ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে ওই চুক্তি করেছিল ইরান। এদিকে ওই চুক্তির পরই ইরান জব্দ হওয়া ১০০ বিলিয়ন ডলার উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তা ছাড়া দেশটি বিশ্বে তেল-গ্যাস রফতানিও শুরু করে এসময়। সূত্র: আল-জাজিরাএমজে/

উত্তর কোরিয়াকে থামাতে স্মরণকালের কড়া নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের

পারমাণবিক কার্যক্রম বন্ধে উত্তর কোরিয়ার ওপর এবার স্মরণকালের সবচেয়ে কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। উত্তর কোরিয়ার পরিবহন কোম্পানিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনকে চাপে ফেলতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সচিব স্টিভেন নোচিন বলেন, দেশটির ওপর নতুন করে দেওয়া নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশটিতে কয়লা ও জ্বালানি সরবরাহের পরিমাণ কমে যাবে। আর আন্তর্জাতিক সমুদ্র ব্যবহার করে জ্বালানি সরবরাহের যে সক্ষমতা দেশটির রয়েছে সেই সক্ষমতাও অনেকাংশে কমে যাবে। এর ফলে জ্বালানি সংকটের কারণে চাপে পড়বেন কিম জং উন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, কোন কোম্পানি যদি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ বা অন্য কোন পণ্য সরবরাহ করে কিংবা দেশটি থেকে অনত্র রফতানি করে, তাহলে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সব ধরণের সম্পর্ক ছিন্ন করবে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমান নিষেধাজ্ঞা বিশ্বের প্রায় সব জাহাজ কোম্পানিকেই দিয়েছেন ট্রাম্প। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিশ্বের ৫০টি কোম্পানির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই কোম্পানিগুলো মূলথ উত্তর কোরিয়া, চীন, তাইওয়ান ও হংকংয়ের। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত ওই কোম্পানিগুলোর সব সম্পদ জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। গত শুক্রবার এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, এর আগে কোন দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র এত কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি। এদিকে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরই ট্রাম্প ঘোষণা করেন, এই নিষেধাজ্ঞাও কাজ না হলে, দেশটি পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। আর এটি বিশ্বের জন্য সুখকর নাও হতে পারে। সূত্র: রয়টার্সএমজে/

ধ্বংসলীলার চিহ্নও মুছে দিচ্ছে সেনারা

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের প্রমাণ নিশ্চিহ্ন করতে অন্তত ৫৫টি গ্রাম বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনীর সদস্যরা। জানা যায়,দেশটির সেনারা রাখাইনের ৩৬২টি গ্রামে নিধনযজ্ঞ চালিয়েছে। এবার এই ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন নিশ্চিহ্ন করতে দ্রুতগতির বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে একের পর এক গ্রাম। এতে সেখানে যে মানুষের বাস ছিল, তা বুঝার-ই কোন উপায় থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) গতকাল শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। নতুন স্যাটেলাইটের চিত্র বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি বলছে, মিয়ানমারের সেনারা উত্তর রাখাইনের পুড়িয়ে দেওয়া গ্রামগুলোর অবশিষ্টাংশ সরাতে বুলডোজার ব্যবহার করছে। এতে সেখানে মরুভূমির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেখানে যে মানুষের বাস ছিল, তা মুছে ফেলতে সেনারা এ অভিযান শুরু করেছে বলে জানা গেছে। ‘দ্যা আরাকান প্রজেক্ট’ নামে মিয়ানমারের স্থানীয় একটি মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা এই অভিযোগ করার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই রাইটস ওয়াচ এ প্রমাণ তুলে ধরেন। স্যাটেলাইট থেকে নেওয়া স্থির চিত্র বিশ্লেষণ করে, রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, হত্যাযজ্ঞসহ ঘরবাড়ি পুড়িয়ে ফেলার প্রমাণ মুছে ফেলতে তারা বুলডোজার ব্যবহার করেছে। ওই এলাকা গুলোতে এতদিন বিদেশি কোন সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক বা মানবাধিকার সংগঠনের লোকগুলোকে যেতে দেওয়া হয়নি। জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনে যাওয়ার আগ পর্যন্ত এসব অপরাধের এলাকা সংরক্ষণ করা জরুরি বলে মত দেয় সংস্থাটি। এদিকে বুলডোজার দিয়ে একের পর এক গ্রাম নিশ্চিহ্ন করা থেকে বিরত থাকতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি জাতিসংঘ ও এর সংস্থা, নিরাপত্তা পরিষদ এবং মিয়ানমারের দাতা দেশগুলোর দাবি তোলা উচিত বলেও পরামর্শ দেয় সংস্থাটি। গত বছরের ১১ নভেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময় স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তোলা ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে এইচআরডব্লিউ বলেছে, ভারি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কমপক্ষে ৫৫টি গ্রামের সব অবকাঠামো এবং গাছ-পালা নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে। গত বছরের ২৫ আগস্টের পর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নিধনযজ্ঞ চালানোর সময় যে ৩৬২ গ্রাম সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিলো এই গ্রামগুলো তার মধ্যেই রয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, আগে অগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এমন দুটি গ্রাম গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগুনে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত অন্য দশটি গ্রামের শত শত ভবন ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। এইচআরডব্লিউ’র এশীয় পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, গুঁড়িয়ে দেওয়া গ্রামগুলো রোহিঙ্গাদের ওপর ভয়াবহ নিষ্ঠুরতার চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এভাবে অপরাধের আলামত নিশ্চিহ্নের চেষ্টা সেখানে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যাযজ্ঞের বিচারে বাধা হবে। এইচআরডব্লিউ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের আগস্টে অভিযান শুরুর পর সেনারা শত শত রোহিঙ্গা গ্রামে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ, ধর্ষণ, নির্বিচারে গ্রেফতার ও অগ্নি সংযোগ করেছে। এর ফলে ৬ লাখ ৮৮ হাজার রোহিঙ্গা প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বুলডোজার দিয়ে গ্রাম গুঁড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে অপরাধের প্রমাণ মুছে ফেলা হচ্ছে যা ন্যায় বিচারের ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধক। মিয়ানমার সেনারা ব্যাপকভাবে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করেছে বলে অভিযোগ উঠলেও দেশটির সরকার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। মিয়ানমার সরকার রাখাইনে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনকে প্রবেশে অনুমতি দেয়নি। এর মাধ্যমে রোহিঙ্গা নিধনের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহে তারা বাধা দিয়েছে। ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, গ্রাম গুড়িয়ে দেওয়ায় রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়া হুমকিতে পড়েছে। সূত্র: রয়টার্সএমজে/

সোমালিয়ায় জোড়া বোমা হামলায় নিহত ১৮

সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে জোড়া গাড়িবোমা হামলায় কমপক্ষে ১৮ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। দেশটির প্রেসিডেন্টের বাসভবনের পাশে এই হামলার পর গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। দেশটির জঙ্গিগোষ্ঠী আল শাবাব এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। পুলিশ কর্মকর্তা মেজর মোহাম্মদ আহমেদ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, আমরা যতদূর জানতে পেরেছি, একটি বিস্ফোরণ প্রেসিডেন্টের ভবনের ভেতরে ঘটে। আরেকটি একটি জনপ্রিয় হোটেলের কাছে ঘটানো হয়। সোমালিয়া সরকার সন্ত্রাসী সতর্কতা জারির একদিন পর এই হামলা চালানো হলো। এর আগে ১৮ ডিসেম্বর মোগাদিসুতে দেশের প্রধান পুলিশ একাডেমিতে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১৮ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়। তার আগে অক্টোবরে দেশটির ইতিহাসে ভয়াবহতম হামলায় ৫১২ জন নিহত হয়। ওই ঘটনার জন্য সোমালিয়া সরকার আল কায়েদার ঘনিষ্ঠ আল শাবাব জঙ্গিগোষ্ঠীকেই দায়ী করেছিল। তথ্যসূত্র: আল জাজিরা। এসএইচ/

স্কুলে বন্দুকহামলায় নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে দুষলেন ট্রাম্প

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার একটি স্কুলে বন্দুকধারীর হামলার বিষয়ে নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে দুষলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হামলার সময় স্কুলটির বাইরে থাকা ঐ নিরাপত্তা কর্মকর্তা “দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেননি” বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। আজ শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ফ্লোরিডার ব্রোওয়ার্ড কাউন্টির ডেপুটি শেরিফ স্কট পিটারসনকে এসময় “ভীরু” বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তিনি চাপের সময়ে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে পারেননি। সংকটের মুহুর্তে যথার্থ প্রতিক্রিয়াও দেখাতে পারেননি”। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ডগলাস হাই স্কুলে স্কুলটির সাবেক এক ছাত্রের বন্দুক হামলায় ১৭ জন নিহত হয়। প্রায় ছয় মিনিট ধরে চলে এ তাণ্ডব। কিন্তু স্কুলটির বাইরে চার মিনিটেরও বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকলেও কোন পদক্ষেপই নেননি পিটারসন। এ ঘটনার তদন্তে স্কুলটির বাইরের এক সিসি ক্যামেরা থেকে পাওয়া ভিডিও থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। সিসি ক্যামেরায় দেখা যায়, বন্দুকধারীর প্রথম গুলির পর ৯০ সেকেন্ড আর কোন গুলি হয়নি। তবুও স্কুলটির বাইরেই পুরোটা সময় দাঁড়িয়ে ছিলেন ৫৪ বছর বয়সী স্কট পিটারসন। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দাবি, তিনি যদি সেসময় বন্দুকধারীকে প্রতিহত করার চেষ্টা করতেন তাহলে হতাহতের সংখ্যা আরও কম হতে পারত। কাউন্টি শেরিফ স্কট ইজরায়েল বলেন, “আমি বিধ্বস্ত। পাকস্থলি গুলিয়ে আসছে। সে (পিটারসন) একবারের জন্যও স্কুলটির ভেতরে যায়নি”। পিটারসনের কী করা উচিত ছিল- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শেরিফ বলেন, “তিনি ভেতরে যেতে পারতেন। বন্ধুকধারীকে চ্যালেঞ্জ করত। তাকে নিষ্কিয় করতে পারত। প্রয়োজনে হত্যা করত”। তবে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ ওঠেছে যার বিরুদ্ধে সেই স্কট পিটারসন এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি। তার বাসা ঘিরে রেখেছে পুলিশ। কাউকে তার সাথে দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না বলে জানায় বার্তা সংস্থা বিবিসি। দায়িত্বে তার এমন নিষ্ক্রিয়তার বিষয়ে পিটারসন কোন সদুত্তর দিতে পারেনি বলে জানায় পুলিশ। তবে এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে কোন দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কী না সে ব্যাপারে কোন মন্তব্য করেনি ফ্লোরিডা পুলিশ। সূত্র: বিবিসি //এস এইচ এস//টিকে

মুসলিম লীগের হাল ধরছেন নওয়াজপত্নী

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লীগের (পিএমএল-এন) হাল ধরছেন নওয়াজের স্ত্রী কুলসুম নওয়াজ। তবে ক্যানসারে আক্রান্ত কুলসুমের আড়ালে দলকে মূলত নওয়াজই চালাবেন বলে জানিয়েছে দলের একাধিক সূত্র। কুলসুম বর্তমানে লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। মুসলিম লীগের অযোগ্য হওয়ার পরদিনই পাঞ্জাবে দলীয় নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন নওয়াজ। সেই বৈঠকে নওয়াজের স্ত্রী কুলসুমকে দলের প্রধানের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে দলীয় প্রধানের পদের জন্য কেউই নওয়াজের ছোট ভাই পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নাম উল্লেখ করেননি। তাই সর্বসম্মতিক্রমে নওয়াজপত্নী কুলসুম নওয়াজকেই দলীয় প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বুধবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া এক রায়ে বলা হয়, সংবিধানের ৬২ ও ৬৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অযোগ্য কোনো ব্যক্তি প্রয়োজনীয় দলিলপত্রে সই ও জাতীয় পরিষদে বা সিনেটে কাউকে মনোনীত করতে পারেন না। এই দুই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি অযোগ্য ঘোষিত হলে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলেরও প্রধান থাকতে পারবেন না। এই রায়ের ফলে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ তাঁর রাজনৈতিক দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ (পিএমএল-এন) এর প্রধানের পদে অযোগ্য হয়ে পড়েন। এরপরই নওয়াজের নির্দেশে দলের হাইকমান্ড এক জরুরি বৈঠকে বসেন। সেখানেই কুলসুমকে দলীয় প্রধান ঘোষণা করা হয়। জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে দলের নতুন প্রধানকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত করা হবে। সূত্র: দ্য ডনএমজে/  

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি