ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৮ ৩:১৮:২৩

ট্রাম্পের সাথে কেন হাত মেলাচ্ছেন কিম?  

ট্রাম্পের সাথে কেন হাত মেলাচ্ছেন কিম?  

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন নিজ দেশের বাইরে ‘স্বৈরশাসক’ হিসেবেই পরিচিত। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং তাদের মিত্র দেশগুলোর কাছে কিম জং উন রীতিমত বিশ্ব শান্তির জন্য হুমকি স্বরুপ। পশ্চিমাদের সাথে কিমেরও বেশ সাপে নেউলে সম্পর্ক। সেই কিমই এখন হাত মেলাতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে।   বিগত কয়েক বছর ধরে উত্তর কোরিয়া তাদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বেশ শক্ত অবস্থানে ছিল। এমনকি দক্ষিণ কোরিয়া আর যুক্তরাষ্ট্রের কড়া চাহনি উপেক্ষা করে পরীক্ষা চালাতে থাকে একের পর এক শক্তিশালী দূর পাল্লার মিসাইলের। কিন্তু ধারণা করা হয় যে, জাতিসংঘ এবং মার্কিন প্রশাসনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং অন্যান্য অবরোধের মুখে বেশ বিপাকে পরে দেশটি। তবে চীন এবং ইরানের সহায়তায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম তাও চালিয়ে নিচ্ছিল পিয়ং ইয়ং। চীন তাদের সবথেকে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার আর খোদ ইরানের কাছে পারমাণবিক পণ্য বিক্রি করছিল উত্তর কোরিয়া। তবে গত মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়া শীতকালীন অলিম্পিকে উত্তর কোরিয়ার অংশ নেওয়ার পর থেকেই দুই কোরিয়ার মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে শুরু করে। দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যস্থতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথেও বৈঠকে বসতে যাচ্ছে তারা। শুধু তাই নয়, কোন রকম পূর্ব শর্ত ছাড়াই নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে সম্মতি দেওয়ারও ইঙ্গিত দিচ্ছে উত্তর কোরিয়া। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে বৈঠকে বসতে কিমকেই বেশি উৎসাহী হতে দেখা গেছে। বিশ্ব গণমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ট্রাম্প ছাড়াও অন্যান্য বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সাথেও সাক্ষাতের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কিম। আগামী সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে উনের সাথে কিমের সরাসরি দ্বিপক্ষীয় সাক্ষাতের কথা রয়েছে। এ বৈঠকে দুই কোরিয়ার মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। পাশাপাশি এই বৈঠকে ট্রাম্পের সাথে কিমের বৈঠক নিয়েও আলোচনা হবে। গত সপ্তাহে সিআইএ পরিচালক মাইক পম্পে উত্তর কোরিয়া গিয়ে দেশটির শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কেন কিমের এই নরম অবস্থান? চলতি বছরের শনিবার সব ধরনের ক্ষেপনাস্ত্র পরীক্ষা বাতিল করেন কিম জং উন। এছাড়াও সবধরনের পারমানবিক কর্মসূচি বন্ধের পাশাপাশি স্থাপনাগুলোও বন্ধের আদেশ দেন তিনি। প্রশ্ন হচ্ছে কিম হঠাত করে এত নরম অবস্থান কেন নিলেন? অনেকেই মনে করছেন যে, পশ্চিমা দেশগুলোকে টক্কর দেওয়ার মত সামরিক শক্তি অর্জন করেছে পিয়ং ইয়ং। বিশেষ করে কিম ভাবছেন যে, যে পরিমাণ পারমাণবিক ক্ষেপনাস্ত্র এখন তাদের আছে তার থেকে বেশি আর তাদের দরকার নাই বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। এর পাশাপাশি নিজেদের ওপর থেকে অর্থনৈতিক অবরোধ উঠিয়ে নিতেও এতটা নরম অবস্থানে এসেছেন কিম। কিম জং উন শনিবার সব ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি একটি পারমাণবিক কর্মসূচি স্থাপনা বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার থেকেই পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা ও আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা বন্ধ করে দেশটি। কোরিয়া উপদ্বীপে শান্তি স্থাপনে ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত শুক্রবার দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে বসেন কিম জং উন। এই সময় কিম বলেন, আর কোনো ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বা পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন তিনি। নিজেদের পারমাণবিক সক্ষমতায় সন্তুষ্ট হয়ে তিনি নতুন বছরের শুরুতে যে বিবৃতি দিয়েছিলেন, এটি তারই প্রতিফলন। ছয়টি পারমাণবিক পরীক্ষার পর উত্তর কোরিয়ার মনে হয়েছে, বর্তমানের চেয়ে সামনে এগুনোর আর কোনো দরকার নেই। আবার নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল এড়ানোর কৌশল কিনা তা নিয়েও সন্দেহ দানা বাঁধছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্ট-এর সদস্য এবং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ অঙ্কিত পাণ্ডার মতে, উত্তর কোরিয়ার ইতিহাস এবং তার ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য বিশ্লেষণ করলে উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে খুব একটা আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই। এর কারণ হিসাবে পাণ্ডা বলছেন, প্রথমত- পারমাণবিক কার্যক্রম বন্ধের যুক্তি হিসাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের যে কথা প্রেসিডেন্ট কিম দাবি করেছেন, সেটা একবারে অবিশ্বাস করার মত নয়। ভারত ও পাকিস্তানের উদাহরণ টেনে পাণ্ডা বলেন, ১৯৯৮ পর্যন্ত এই দুই দেশের প্রত্যেকে ছয়টি করে পারমাণবিক পরীক্ষার পর তারা আর কোনো পরীক্ষা করেনি এবং সারা বিশ্ব মেনে নিয়েছে এরা পারমাণবিক শক্তিধর। ছয়টি পারমাণবিক পরীক্ষার পর উত্তর কোরিয়া একইভাবে নিশ্চিত হয়েছে তারা অস্ত্র বানিয়ে ফেলেছে। পাণ্ডার মতে, ২০১৬ এবং ২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়ার পঞ্চম এবং ষষ্ট পারমাণবিক পরীক্ষায় দাবি করে তারা যে কোনো পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ছোড়া যায় এমন আকারের এবং ওজনের পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। ধারণা করা হয়, ঐ বোমার ক্ষমতা নাগাসাকিতে আমেরিকার ফেলা বোমার চেয়ে তিনগুণ শক্তিধর। গত বছর পরীক্ষা করা বোমার শক্তি আরো অনেক বেশি। গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর পরীক্ষার পর ভূকম্পন বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীদের ধারনা  হয়েছে উত্তর কোরিয়া এখন যে কোনো শহর ধ্বংস করে দেয়ার ক্ষমতা অর্জন করেছে। তার পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধের ঘোষণায় বোঝা যাচ্ছে কিম এখন নতুন আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছেন। আরেকটি দিক হতে পারে যে, অর্থনৈতিক অবরোধে অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে রাজি হয়েছে উত্তর কোরিয়া। নিউ ইয়র্ক টাইমস তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, গত ফেব্রুয়ারির এক রাতে কয়েকটি ট্রাক দেশটির সীমান্তে নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অনেক শ্রমিক চীন থেকে চোরাই পথে আসা বিভিন্ন পণ্য বোঝাই করছে। কিন্তু সীমান্তে নজরদারি থাকায় সেটা সম্পূর্ণ করতে পারছে না। পরে ভোরবেলায় ট্রাকগুলো বিভিন্ন পণ্য বোঝাই করে নিয়ে চলে যেতে দেখা যায়। দেশটিতে শ্রমিকদের এ দশা নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এর আগে কয়েকবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। কিন্তু তাতে তেমন একটা ফল আসেনি। গত সেপ্টেম্বর থেকে জাতিসংঘ কড়া নিষেধাজ্ঞা দিতে শুরু করে। উত্তর কোরিয়ার কয়লা, লৌহ, সামুদ্রিক খাবার এবং পোশাক খাতের রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এটা পুরোদমে কার্যকর হলে রপ্তানির ৯০ ভাগই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা। এরপর ডিসেম্বরে পেট্রোলিয়াম পণ্যের আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় জাতিসংঘ। বছরে ৫ লাখ ব্যারেলের বেশি পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম আমদানি করা যাবে না। ফলে এর আগের বছরের চেয়ে ৯০ ভাগ আমদানি কমে যায়। উত্তর কোরিয়া বাইরের দেশে যে পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করে তার ৯০ ভাগের বেশি করে চীনে। গত বছরই সেটা এক-তৃতীয়াংশে গিয়ে পৌঁছে। গত বছরেই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি পৌঁছেছে ১৬৮ কোটি ডলারে। তবে এতকিছুর মধ্যেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় বসতে উত্তর কোরিয়াকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়েছে ইরান। জাতিসংঘের এক অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মোহাম্মদ জাভাদ জারিফ গতকাল এমন মন্তব্য করেন। গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোন ধরনের চুক্তির যোগ্য নয় উল্লেখ করে উত্তর কোরিয়াকে সতর্ক অবস্থান থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। সূত্রঃ নিউ ইয়র্ক টাইমস //এস এইচ এস//এসি  
বিক্ষোভের মুখে আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

জনগণের ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী সার্ঘ সার্গসিয়ান। পাঁচ বছর করে পরপর দুই মেয়াদে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে চাইলে সার্ঘের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ফেটে পরে আর্মেনিয়ানরা। তারই পরিপ্রেক্ষিতে পদত্যাগ করেন সার্ঘ সার্গসিয়ান। সোমবার পদত্যাগের পর তিনি বলেন, “রাজপথে যে বিক্ষোভ হচ্ছে তা আমার প্রধানমন্ত্রী থাকা নিয়ে। আমি আপনাদের (জনগণের) দাবি পূরণ করছি”। আর্মেনিয়ান প্রেস নিউজ এজেন্সীতে প্রকাশিত বক্তব্যে “আর্মেনিয়া প্রজাতন্ত্রের সকল নাগরিকদের উদ্দেশ্যে...দেশটির নেতা হিসেবে শেষবারের মত বলছি”-এমনটা উল্লেখ করে সার্ঘেই বলেন, “নিকোল পাশিনিয়ন (প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা) সঠিক ছিলেন। আর আমি ছিলাম ভুল। চলমান সংকটের অনেক ধরনের সমাধান ছিল। কিন্তু আমি তাদের কাউকেই (বিরোধীদের) আটক করিনি। দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর জন্য আমি আমার অফিস ছেড়ে দিচ্ছি”। গত সপ্তাহের মঙ্গলবার তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার নেওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে বিরোধী দলগুলো এবং তাদের সমর্থকেরা। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল রবিবার প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা নিকোল পাশিনিয়ন এবং আরও কয়েকটি বিরোধী দলের নেতাসহ অন্তত ২০০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছিল আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীরা। তবে সার্ঘের পদত্যাগের ঘোষণার আগে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। আজারবাইজান এবং তুরস্কের সাথে চলমান উষ্ণতায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় অনেক দিন থেকেই আর্মেনিওদের ক্ষোভের মুখে ছিলেন সার্ঘ সার্গসিয়ান। রাশিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণেও বিরোধীদের সমালোচনা শুনতে হয়েছে তাকে। সার্ঘের শাসনামলেই প্রেসিডেন্ট শাসিত দেশ থেকে পার্লামেন্ট শাসিত সরকার ব্যবস্থায় প্রবেশ করে আর্মেনিয়া। তবে প্রজাতন্ত্রের সকল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রাখায় সমালোচিতও হয়েছেন তিনি। তবে পদত্যাগ করলেও ঠিক কোন দিন থেকে তার পদত্যাগ কার্যকর হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি সার্ঘ সার্গসিয়ান। সূত্রঃ বিবিসি //এস এইচ এস//

উইলিয়াম-কেট দম্পত্তির কোলে আসছে তৃতীয় সন্তান

অ্যালিস না ম্যারি? ভিক্টোরিয়া না এলিজাবেথ? আলবার্ট না ফিলিপ- ক্যামব্রিজের প্রিন্স ও পুত্রবধু তাদের আগত সন্তানের জন্য কোন নাম ঠিক করবেন? কি নামে সম্মান জানানো হবে ব্রিটিশ রাজপরিবারের আগত এ সম্রাটকে? প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটনের তৃতীয় সন্তানের নাম কি হবে, এরইমধ্যে চলছে জল্পনা-কল্পনা। প্রথম দুই সন্তানের নাম ঐতিহ্যের সঙ্গে মিলিয়ে রেখেছেন ব্রিটিশ রাজদম্পত্তি। প্রথম দুই সন্তানের নাম জর্জ ও চার্লট। তাই তৃতীয় সন্তানের নামটি ক্লাসিক নাম রাখতে চান উইলিয়াম-কেট দম্পত্তি। ব্রিটিশ তথ্যমতে জানা যায়, মেয়ের জন্য ম্যারি নামটি সবার আগে রয়েছে। অ্যালিস, ভিক্টোরিয়া ও অ্যালেক্সান্ড্রার পরই এই নামটি ব্রিটিশ রাজপরিবারে খুব পছন্দের। গত সপ্তাহে আর্থার, আলবার্ট, ফ্রেডরিক, জেমস ও ফিলিপ রয়েল নামগুলোর মধ্য থেকে আথার নামটিকেই নবশিশুর জন্য বেছে নেওয়ার পক্ষে মত রয়েল পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যের। সূত্র: মেইল অনলাইনএমজে/

ধর্ষণের ঘটনায় মোদিকে ৬৩৭ শিক্ষাবিদের চিঠি

ভারতে ধারাবাহিক যৌন নিপীড়নের ঘটনায় বর্তমান বিজেপি শাসিত সরকারকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়েছেন দেশ ও বিদেশের খ্যাতনামা ৬ শতাধিক শিক্ষাবিদ। চিঠিতে বলা হয়, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার পর থেকেই নারী ওশিশুদের উপর যৌন নিপীড়ন ও সহিংসতার ঘটনা বেড়েই চলেছে। শুধু তাই নয়, ধর্মীয় সহিংসতার অংশ হিসেবে নারী ও শিশুদের ঢাল হিসেবে বেঁচে নিচ্ছে উগ্রবাদীরা। সম্প্রতি কাশ্মিরের কাঠুয়া ও উন্নাওতে ৮ বছরের শিশু আফিফা বানুকে ধর্ষণ ও হত্যা চেষ্টার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দায়ী করে গত সপ্তাহে তাকে চিঠি লিখেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীরা। এবার তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে মোদিকে খোলা চিঠি লিখেছেন ভারতসহ বিভিন্ন দেশের ৬৩৭ জন শিক্ষাবিদ। এদের মধ্যে অন্তত ২০০ জন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য আর অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ান। বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন খ্যাতনামা মার্কিন ভাষাতাত্ত্বিক ও রাজনীতিবিশ্লেষক নোয়াম চমস্কি, ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নৃবিজ্ঞানী লিলা আবু লুঘোদ এবং আসামে জন্ম নেওয়া মার্কিন ইতিহাসবিদ প্রসেনজিত দুয়ারার মতো বুদ্ধিজীবী। বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত চিঠিটির অনুলিপি থেকে জানা যায়, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সাউথ ব্লকের ঠিকানায় ২১ এপ্রিল তারিখে ওই চিঠিটি লেখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে এতে বলা হয়েছে, ‘আমরা ভারতের এবং বিভিন্ন দেশের শিক্ষাবিদ ও স্বাধীনধারার গবেষক। গত ১৬ এপ্রিল ৪৯ জন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী আপনাকে যে খোলা চিঠি দিয়েছিল তার সঙ্গে সংহতি জানিয়ে এবং তাদের অনুভূতিকে স্বীকৃতি দিয়ে আমরাও আপনাকে লিখছি।’ শিক্ষাবিদেরা ওই চিঠিতে লিখেছেন, এসব সরকারি চাকরিজীবী এবং অগণিত ভারতীয় নাগরিক এবং ব্যাপক অর্থে বলতে গেলে বিশ্বের পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আমরা কাঠুয়া ও উন্নাওয়ের ঘটনা এবং পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের গভীর ক্ষোভ ও বেদনা প্রকাশ করছি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্য করে তারা লিখেন, ‘সর্বশেষ আপনি দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে সম্প্রতি যে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তা অপর্যাপ্ত, ছকবদ্ধ এবং এতে ঘটনার শিকার হওয়াদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিতের সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা নেই।’ শিক্ষাবিদেরা তাদের চিঠিতে বলেছেন, কাঠুয়া এবং উন্নাওয়ের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়, দলিত, আদিবাসী ও নারীদের নিশানা করে হামলা চালানোরই ধারাবাহিকতা এটি। ২০১৫ সালে উত্তর প্রদেশের দাদরিতে, জম্মু কাশ্মিরের উধামপুরে, ২০১৫-২০১৬ সালে ছত্তিশগড়ের বিজাপুর ও সুকমাতে, ২০১৬ সালে মধ্যপ্রদেশের হারদাতে, ২০১৬ সালে ঝাড়খন্ডের লাতেহারে, ২০১৬ সালে গুজরাটের উনাতে, ২০১৭ সালে হরিয়ানার রোহটাকে, ২০১৭ সালে দিল্লিতে, একই বছর উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরে এবং এখন জম্মু কাশ্মির ও উত্তর প্রদেশে ধারাবাহিকভাবে ছড়িয়ে পড়া ঘটনায় গো রক্ষক এবং অন্যরা ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নকে সহিংসতার হাতিয়ার করেছে। তাই, অবিলম্বে দোষীদের বিচারের আওতায় এনে দেশে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ কমানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আহ্বান জানান তারা। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভিএমজে/

‘ট্রাম্পের নির্বাচন না করে গলফ খেলা উচিৎ’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক স্ত্রী ইভানা ট্রাম্প বলেছেন, আগামী নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রার্থী হওয়া উচিৎ হবে না। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাদ দিয়ে তার উচিৎ গল্ফ খেলা এবং জীবনকে উপভোগ করা। শনিবার পেইজ সিক্স নামে একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের প্রথম স্ত্রী এসব কথা বলেন। ২০২০ সালে আমেরিকার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। সাক্ষাৎকারে সঞ্চালককে উদ্দেশ্য করে ইভানা আরও বলেন, আমি আপনাকে বলব- ট্রাম্পের জন্য প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিযোগিতা করা জরুরি নয়। তার একটা সুন্দর জীবন আছে এবং তার সবই আছে। আগামী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বয়স হবে ৭৪ বছর। এ বয়সে তার উচিৎ হবে গল্ফ খেলা এবং জীবনকে উপভোগ করা। ৬৯ বছর বয়সী ইভানা বলেন, ২০১৬ সালে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগে নিউইয়র্কের এ ধনকুবেরের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে কোনো ধারণা ছিল না। আমার মনে হয় তার সামান্যই স্বাধীনতা আছে। আমি মনে করি না যে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাকে কী কী করতে হয় তা তিনি সব জানেন। প্রেসিডেন্টকে অনেক তথ্য জানতে হয়, পুরো বিশ্ব সম্পর্কে খবর রাখতে হয়। ইভানা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নানা যৌন কেলেঙ্কারি এবং বর্তমান স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প সম্পর্কেও কথা বলেন। মারলা ম্যাপলস নামে এক নারীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের কথা ফাঁস হওয়ার পর ১৯৯২ সালে ট্রাম্পের সঙ্গে ইভানার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। ট্রাম্প সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি ২০২০ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং তার সাবেক তথ্য ব্যবস্থাপক ব্রাড পার্সকেইলকে ক্যাম্পেইন ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। এসএইচ/

ভারতের প্রধান বিচারপতির অভিসংশন নোটিশ খারিজ

আচরণবিধি ভঙ্গসহ বিভিন্ন অভিযোগে ভারতের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের বিরুদ্ধে আনা অভিসংশন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন উপরাষ্ট্রপতি ও রাজ্যসভার চেয়াম্যান বেঙ্কাইয়া নায়ডু। গত শুক্রবার দেশটির বিরোধীদল কংগ্রেসসহ ৭টি রাজনৈতিক দল এ আবেদন জানায়। ৭১ জন বিরোধী সাংসদের আনা ইমপিচমেন্ট নোটিশ জমা পড়ার পরই আইনি পরামর্শ নিতে শুরু করেন বেঙ্কাইয়া। অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেনুগোপাল ছাড়াও উপরাষ্ট্রপতি আলোচনা করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি বি সুদর্শন রেড্ডি, লোকসভার প্রাক্তন সেক্রেটারি জেনারেল সুভাষ কাশ্যপ, প্রাক্তন আইন সচিব পি কে মলহোত্রা, প্রাক্তন সংসদীয় সচিব সঞ্জয় সিংহ এবং রাজ্যসভার সচিবালয়ের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে। কংগ্রেস সূত্রের খবর, নোটিস খারিজ হয়ে যাওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারে তারা। দলের তরফ থেকে অভিষেক মনু সিংভির প্রতিক্রিয়া, “প্রত্যাশিত ভাবেই শ্রী নায়ডু ইমপিচমেন্ট মোশন খারিজ করেছেন। তাই আমরা শিগগিরই উচ্চ আদালতের দ্বারস্ত হবো’। এদিকে কংগ্রেসের মুখপাত্র সুরজেওয়াল বলেন, ‘রাজ্যসভার চেয়ারম্যান এ নোটিশ খারিজ করে দিতে পারেন না। সংবিধান মতে ৫০ জন সাংসদ প্রধান বিচারপতির অভিসংশনের আবেদন জানালে, তা খারিজ করার কোনো এখতিয়ার রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের নেই। আর এর মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র প্রত্যাখ্যান ও গণতন্ত্র সংরক্ষণের জন্য যুদ্ধ বাস্তবে রূপ নিল’। প্রধান বিচারপতির অভিসংশন প্রক্রিয়া খারিজ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক বলে মন্তব্য করেছেন বিজেপির সংসদ সদস্য সুবরামা। তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য দুদিনও ভাবার দরকার নেই। কংগ্রেস অভিসংশন প্রক্রিয়ার বিষয়টি সংসদে আনায়, তারা আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে’। এদিকে ভারতের কট্টরপন্থী গোষ্ঠী শিবসেনাও উপরাষ্ট্রপতির এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। এরআগে গত ১২ জানুয়ারি প্রধানবিচারপতির স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি জে চেলামেশ্বর, বিচারপতি রঞ্জন গগই, বিচারপতি মদন বি লকুর এবং বিচারপতি কুরিয়ান যোশেফ। সংবাদ সম্মেলনে তারা দাবি করেন, ভারতের প্রধান বিচারপতি তার ব্যক্তিগত মর্জিমাফিক বিভিন্ন বেঞ্চে মামলা পাঠাচ্ছেন। এটি আদালতের নিয়মকানুনের চরম লংঘন, যা দেশটির গণতন্ত্রকে হুমকির মুখে ফেলে দিবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এরপরই প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কংগ্রেসসহ বিরোধীদলগুলো একাট্টা হয়। এতে যোগ দেয় শিবসেনাসহ আরও কয়েকটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী। সর্বশেষ গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর অভিসংশন চেয়ে রাজ্যসভায় ৭০ সাংসদ একটি অভিসংশন নোটিশ আনেন। তবে নোটিশ আনার মাত্র তিন দিনের মধ্যেই রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তা খারিজ করে দেন। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়াএমজে/

সুপার গনোরিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি অবশেষে সুস্থ

যুক্তরাজ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক `সুপার গনোরিয়ায়` আক্রান্ত ব্যক্তি অবশেষে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ক চিকিৎসকরা তার এ আরোগ্য লাভকে সৌভাগ্যের অংশ বলেই দেখছেন। তবে ওই ব্যক্তির সুপার গনোরিয়ায় আক্রান্ত হওয়াকে খুব সতর্কতার সঙ্গে দেখছেন চিকিৎসকরা। জানা গেছে, যুক্তরাজ্যে তার এক নিয়মিত সঙ্গী আছে । তবে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় এক নারীর সাথে যৌন সম্পর্কের পরই তিনি রোগটিতে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তিনিই বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি, যে এধরণের রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর যে অ্যান্টি-বায়োটিক দেয়া হয়ে থাকে, তাতে সুস্থ হননি। তাকে দেয়া অ্যান্টিবায়োটিকের দুইটি কোর্সই ব্যর্থ হয়। পরে অবশ্য অস্ট্রেলিয়াতেও এরকম দুইটি ঘটনার কথা জানা গেছে। তাকে গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণের পর চিকিৎসকরা সর্বশেষ চেষ্টা হিসাবে এরটাপেনেম নামের আরেকটি অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে সাফল্য পান। যুক্তরাজ্যের জন স্বাস্থ্য ইংল্যান্ডের যৌন বাহিত রোগ বিভাগের প্রধান ড. গুয়েন্দা হিউজ বলছেন, একাধিক ওষুধ প্রতিরোধী গনোরিয়া রোগটি অবশেষে সফলভাবে চিকিৎসা করা গেছে। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্রিটিশ সঙ্গীসহ আর কোন ব্যক্তির মধ্যে এ ধরণের রোগ আছে কিনা, সেটির তদন্ত শুরু করেছে জন স্বাস্থ্য দপ্তর। তবে তারা বলছেন, যুক্তরাজ্যে রোগটির বিস্তার হয়নি। পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আর ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল একমত হয়েছে যে, সবচেয়ে বেশি অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী গনোরিয়ায় এটাই একমাত্র উদাহরণ। তবে অস্ট্রেলিয়ায় আরো দুইটি ঘটনার কথা জানার পর চিকিৎসকরা আশঙ্কা করছেন, ভবিষ্যতে এরকম আরো রোগী পাওয়া যেতে পারে। ভবিষ্যতে তাদের ক্ষেত্রে আর কোন অ্যান্টিবায়োটিক কাজ নাও করতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। অনেক দেশেই অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার হয় এবং যেকোনো দোকান থেকে ইচ্ছেমত কেনা যায়। সেসব দেশের মানুষের মধ্যে ওষুধ প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া শক্তিশালী হয়ে ওঠে বলে চিকিৎসকরা মনে করেন। গনোরিয়া কী? এ রোগের মূল কারণ একটি ব্যাকটেরিয়া, যার নাম নেইসেরিয়া গনোরিয়া। মূলত অনিরাপদ যৌন সম্পর্কের কারণে এ রোগটি ছড়িয়ে থাকে। আক্রান্ত হওয়ার পর নারী ও পুরুষের মধ্যে নানা ধরণের লক্ষ্মণ দেখা যায়। এর মধ্যে রয়েছে যৌন অঙ্গ থেকে সবুজ বা হলুদ রঙের পদার্থ বের হওয়া, প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া হওয়া বা পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়া। যথাযথ চিকিৎসা না নিলে এ থেকে আরও বন্ধ্যত্ব সহ নানা রোগ হতে পারে। অনেক সময় নারীদের এই রোগটি হলেও, তার কোন লক্ষণ টের পাওয়া যায় না। সূত্র: বিবিসি বাংলাএমজে/

‘সৌদি-যুক্তরাষ্ট্রকে প্রাধান্য দিয়ে পাকিস্তান নিজের ক্ষতি করেছে’

বিশ্বের কিছু দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে প্রক্সি যুদ্ধ চালিয়ে দেশটির অপূরণীয় ক্ষতি করছে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রব্বানি খার। এসময় তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের কথা সরাসরি উল্লেখ করেন। রোববার এক সাক্ষাৎকারে হিনা দাবি করেন, সব দেশ নিজের ভৌগোলিক অবস্থানকে জাতীয় স্বার্থরক্ষার কাজে ব্যবহার করলেও ইসলামাবাদ সবসময় ওয়াশিংটন ও রিয়াদের স্বার্থরক্ষার কাজে এ অবস্থানকে ব্যবহার করেছে। তার মতে, বিশ্বের প্রতিটি দেশ নিজের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন করে; কিন্তু পাকিস্তান অনেক সময় আমেরিকা ও সৌদি আরবের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে নিজের মারাত্মক ক্ষতি করে বসে। পাকিস্তানের আফগানিস্তান নীতির তীব্র সমালোচনা করে হিনা এ কথা বলেন। প্রসঙ্গত, বর্তমানে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সৌদি আরবের কথিত সামরিক জোটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান সরকার। আর এরই মধ্যে এ মন্তব্য করলেন হিনা রব্বানি খার।   এসএইচ/

রাজনৈতিক আশ্রয় সংকুচিত করতে যাচ্ছে ফ্রান্স

রাজনৈতিক আশ্রয় সম্পর্কিত নীতিতে কড়াকড়ি আরোপের পক্ষে মত দিয়েছে ফ্রান্সের নিম্ন কক্ষ। সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের ভোটে গতকাল দেশটির নিম্ন কক্ষে এ সংক্রান্ত একটি বিল অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে দেশটিতে রাজনৈতিক আশ্রয় সংকুচিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে ম্যাক্রোর দলের এক সংসদ সদস্য বিলের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি সরকারি দল থেকে সরে দাঁড়াবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন। জাতীয় পরিষদের ২২৮ সদস্য বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ১৩৯ সাংসদ। আর ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকেন ২৪ জন। গত বছরের জুনে উচ্চ কক্ষে এ সংক্রান্ত বিষয়ে বিতর্ক শুরু হয়। তবে জাতীয় পরিষদের ওই বিলের উপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। ম্যাক্রোর দুই বছর মেয়াদের মধ্যেই এটাই প্রথম কোনো বিষয়, যা নিয়ে উচ্চ কক্ষ ও নিম্ন কক্ষে তুমুল বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে মধ্যডানপন্থী নেতা ম্যারিনো লে পেন এবং তার দলের সাংসদেরা বিলটির কয়েকটি ধারার পক্ষে ভোট দেন। এদিকে বিলটি নিন্মকক্ষে উপস্থাপনের আগে ম্যাঁক্রোর দলের পার্টি হুইপ রিচার্ড ফেরান্ড তার দলের সদস্যদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি কেউ এই বিলের বিরুদ্ধে কোনো ভোট দেন, তাহলে তা দলের বিপক্ষে অবস্থান হিসেবে গণ্য হবে। তবে তার এ হুমকি কানে না নিয়ে এক সংসদ সদস্য বিলটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। এদিকে বিলটির সমালোচনা করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। এই বিলের আওতায় দেশটিতে অবৈধ কোনো ব্যক্তিকে আটক করা হলে, তাকে ৯০ দিন জেলে থাকতে হবে। এর আগে ৪৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান ছিল। এদিকে বিলের আওতায় রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার ক্ষেত্রও সংকুচিত করা হয়েছে বিলে। সরকার বলছে, অভিবাসন নীতিতে স্বচ্ছতা আনতেই দেশটি এ উদ্যোগ নিয়েছে। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসএমজে

যে প্রক্রিয়ায় হত্যা মিশন চালায় মোসাদ

কথিত আছে, যত দিন মোসাদ থাকবে, তত দিন পর্যন্ত বিশ্বের বুকে ইসরায়েল মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকবে। ইসরায়েল তার নিজের স্বার্থে বিশ্বের অনেক বাঘা বাঘা নেতাকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি বিজ্ঞানী, গবেষক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও। যে-ই ইসরায়েলের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাকেই পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিয়েছে বিশ্বের ক্ষমতাধর এ গোয়েন্দা সংস্থাটি। এর সর্বশেষ সংযোজন ফিলিস্তিনি শিক্ষক ও গবেষক ফাদি আল বাদশা হত্যা। এই হত্যার পর আবারও আলোচনায় এসেছে মোসাদের কিলিং মিশনের বিষয়টি। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ নিয়ে কাজ করেন, এমন একজন গবেষক হলেন বার্গম্যান। তিনি দাবি করেন, ২০০০ সালে ফিলিস্তিনে ইন্তিফাদা শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মোসাদ ৫০০ কিলিং মিশন সম্পন্ন করেছে। এতে অন্তত ১ হাজার জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। মোসাদের এই রহস্যময় শক্তির পেছনে, কি আছে, তা উঠে এসেছে মধ্য প্রাচ্যভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আল-জাজিরার পাতায়। জানা গেছে, মোসাদের অনেকগুলো শাখা রয়েছে। আছে তাদের দুর্ধর্ষ পরিচালনাপদ্ধতি। কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে কাজ করে থাকে মোসাদ। তাই তাদের সম্পর্কে সবটুকু জানা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। তবু কিছু কিছু তথ্য পাওয়া যায়। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে থাকা অতি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দিয়ে পরিচালিত হয় মোসাদের বেশ কয়েকটি বিভাগ। এই বিভাগগুলো মোসাদকে পরিচালনা করে। কালেকশান ডিপার্টমেন্ট:মোসাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট কালেকশন ডিপার্টমেন্ট। এই বিভাগের এজেন্টরা ডিপ্লোম্যাট, ব্যবসায়ী, সাংবাদিকসহ অন্যান্য ছদ্মবেশে কাজ করেন। তাদের মূল কাজ তথ্য, ঘটনা, ঘটনার গতি প্রকৃতি সংগ্রহ করা। এরা গুপ্তচরের মতো কাজ করে থাকে। এদের বলা হয়, কাটসাস। জানা গেছে, জর্ডান ও মরক্কোর গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব গোয়েন্দা তথ্য হাতিয়ে নেয় মোসাদ। শুধু তাই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে মোসাদ। এমনি ওসব গোয়েন্দা সংস্থায় কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশগুলোর গোয়েন্দা তথ্য হাতিয়ে নেয় এ সংস্থাটি। ক্যাসরিয়া:ক্যাসরিয়া মোসাদের কার্যক্রম পরিচালনা শাখা। এ শাখার কাজ-ই হলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গুপ্তচর নিয়ো দেওয়া ও তাদের পরিচালনা করা। বিশেষ করে আরব দেশগুলোতে মোসাদের এ গোয়েন্দা শাখাটি খুব পারদর্শীতা দেখাচ্ছে। ১৯৭০ সালে মোসাদের এ শাখাটি প্রতিষ্ঠা করে মোসাদের বিখ্যাত গোয়েন্দা মাইক হারারে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ও ভবিষ্যত টার্গেটের সব তথ্য আহরণ করায় মূলত ক্যাসরিয়ার কাজ। এদিকে ক্যাসলিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর বিশেষ ইউনিট এসএসি’র সঙ্গে তুলনা করা হয়। কিডোন: ক্যাসরিয়া শাখার প্রতিষ্ঠাতা হারারে এরপর প্রতিষ্ঠা করেন কিডোন শাখা। অনেকে এটাকে বেয়নেট নামে চেনে। কেবল বিশেষ পেশাগত ‘কিলার’দের সমন্বয়ে এ শাখাটি গঠিত। বিশ্বব্যাপী হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ বয়ে দিতে এ শাখাটি কাজ করে। ইয়াসির আরাফাতসহ আরব বিশ্বের আরও বহু নেতাকে কিডোন শাখার গোয়েন্দারা হত্যা করেছে বলে জানা গেছে। শুধু তাই নয়, গত ২১ এপ্রিল মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে ফিলিস্তিনি গবেষক ফাদি আল-বাদশাকেও এই গোয়েন্দা শাখার লোকজন হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা। রাজনৈতিক যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট: রাজনৈতি যোগাযোগ নামে মোসাদের একটি বিভাগ রয়েছে। এই বিভাগের কর্মীরা দেশের রাজনৈতিক নেতা, অন্য দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ও যেসব দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক যোগাযোগ নেই, সেসব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে। প্রয়োজনে অর্থ ও নারীসহ নানাবিধ সুবিধা দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে। এ ছাড়া অন্য দেশের কূটনৈতিক ও দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও এই বিভাগের কর্মীরা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখে। ল্যাপ ডিপার্টমেন্ট: ল্যাপ ডিপার্টমেন্ট নামে আরকটি গ্রুপ কাজ করে গোয়েন্দা সংস্থাটিতে। এরা প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সাহায্য করে। যাবতীয় যুদ্ধের পরিকল্পনাও এখান থেকেই করা হয়। মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের জন্য প্রচার চালায়। শত্রুশিবিরে ভুল খবর ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করে থাকে। গুপ্তহত্যা, আধা-সামরিক অপারেশন, নাশকতামূলক কাজ, রাজনৈতিক কলহ তৈরি বা প্রোপাগান্ডা চালানো এই বিভাগের কাজ। রিসার্চ ডিপার্টমেন্ট: এই বিভাগের গবেষকরা বিভিন্ন প্রযুক্তিগত জিনিস উদ্ভাবন নিয়ে গবেষণা করে। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, ধারণা ও তত্ত্ব প্রচার, নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার এবং তার সঠিক ব্যবহার ছাড়াও গবেষণা কাজের জন্য ইসরায়েলি ইন্টেলিজেন্স কমিউনিটি গঠন করা এই বিভাগের দায়িত্ব। ইসরায়েলের ভেতরে ও বাইরে কাজ করে, এমন সব গোয়েন্দা সংস্থা নিয়ে এই কমিউনিটি গঠন করা হয়। এসব ধাপ পেরিয়েই কেবল হত্যা মিশনে নামে মোসাদের হত্যাকারী দল। হত্যার বিষয়টি একদিন বা দুদিনের বিষয় নয়। বরং মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ধরে গবেষণা চালিয়ে-ই কেবল সুযোগমতো হত্যা করা হয় টার্গেটদের। আর সর্বশেষ গুপ্তহত্যার বিষয়টি এ সব ধাপ পেরিয়ে সংগঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্গম্যান। সূত্র: আল-জাজিরা, উইকিলিকস    

মানবাধিকার লঙ্ঘনের শীর্ষে রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া ও মিয়ানমার

বিশ্বে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শীর্ষে অবস্থান করছে রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া, মিয়ানমার, চীন ও ভেনেজুয়েলা। বিশ্বের ২০০টি দেশের ওপর জরিপ চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমনটিই দেখা গেছে। প্রতিবেদন বলছে, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া ও চীন নির্বিচারে আটক, নির্যাতন, বাক-স্বাধীনতা হরণের মত মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত। এদিকে চীন দেশটির মুসলিম সংখ্যালঘু উইঘোর জনগোষ্ঠী এবং তিব্বতের নাগরিকদের চলাফেরা ও ধর্মীয় অধিকারের ওপর বাধা আরোপের মাধ্যমে তাদের নির্যাতন করছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়। বিচার বর্হিভূত হত্যাকাণ্ড, কৌশলগত নির্যাতন, নির্বিচারে আটক, রাজনৈতিক বন্দিত্ব, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অভাব, গণমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপসহ আরও নানা অভিযোগে রাশিয়াকে দায়ী করা হয় প্রতিবেদনটিতে। প্রতিবেদনে মিয়ানমারের বিষয়ে বলা হয়, ২০১৭ সালের পুরোটা সময় জুড়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গারা জাতিগত নিধনের শিকার হয়েছে। রাখাইনে নির্বিচারে গ্রেপ্তার, আটক, হত্যাকাণ্ডের মত ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক উদ্দেশে আটক, সাংবাদিকদের গ্রেফতার ও গণমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে বলা হয়, উত্তর কোরিয়া মৌলিক মানবিক অধিকারের প্রতিটি ক্ষেত্রই লঙ্ঘন করেছে। দেশটিতে ন্যুনতম মানবাধিকার নিশ্চিত করা হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয় প্রতিবেদনে। সূত্র: রয়টার্সএমজে/

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি