ঢাকা, রবিবার, ২৪ জুন, ২০১৮ ২২:২৭:১৭

মুরগি পালন করে চলে শিক্ষিকা শিল্পী রাণীর সংসার

শিল্পী রাণী পাটোয়ারি। খুলনার সোনার তরী নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। গত ২০০৪ সাল থেকে শিক্ষাকতা করছেন তিনি। দীর্ঘ এ জীবনে তাই দেওয়ার পাল্লাটাই তার ভারি। পাওয়ার পাল্লাটা প্রাই শূন্য। আশা ছিল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হবে। শিক্ষকতার প্রাপ্তি তখনই মিলবে। কিন্তু শিক্ষক জীবনের ১৪টি বছর পেরিয়ে গেলেও কাঙ্খিত সেই প্রাপ্তি আজও মেলেনি। শিল্পী রাণী আশা করেছিলেন প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হলে তার অর্থনৈতিক দৈন্যতা থাকবে না। কিন্তু এমপিওভুক্ত না হওয়ার কারণে আজ অর্থ কষ্টে জর্জরিত তার সংসার জীবন। অর্থের টানা পড়েনে তাকে হারাতে হয়েছে নিজের স্বামীকেও। কারণ একজন শিক্ষক বা চাকরিজীবী পরিচয়ের কারণেই স্বামী তাকে বিবাহ করেছিলেন। কিন্তু এতোটি বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরেও যখন তার চাকরিতে কাঙ্খিত বেতন না আসে, তখন স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যায়। এখন অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া এক ছেলে নিয়েই চলছে তার জীবন। তবে সে জীবন সুখের নয়, বড় কষ্টের। স্বামী হারা শিল্পী রাণীর জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে কয়েকটি মুরগির ওপর। ছোট-বড় মিলিয়ে ২০টি মুরগি পালন করেন শিল্পী রাণী। যেখান থেকে মাসে আয় হয় হাজার খানেক টাকা। যা তার আয়ের প্রধান উৎস। তবে তিনি সাতজন ছাত্রীকে প্রাইভেটও পড়ান। কিন্তু সেখান থেকে পান ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। যা আবার কোন কোন মাসে পুরোটা পান না। একজন শিক্ষিকা হয়েও যখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে তার আয়ের দরজা প্রাই বন্ধ। তখন হাতে গোনা ১৫টি মুরগি-ই হলো তার জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম। শিক্ষিকা শিল্পী রাণী বলেন, আমি একজন শিক্ষিকা। বড় আশা করে এ পেশায় এসেছিলাম। কারণ এটা সম্মান ও মর্যাদার পেশা। কিন্তু এখন দেখছি এটা সবচেয়ে অবহেলিত একটা পেশা। বার বার আমরা এমপিওর দাবি তুলি আমাদের বারবার আশ্বাস দেওয়া হয় কিন্তু আশ্বাস বাস্তবায়ন করা হয় না। জীবনের এ বয়সেও এসে আর অন্য কিছু করারও উপয় নেই। তাই ছেলে-মেয়েদের বলি তারা যেন শিক্ষকতা পেশায় না আসে। তিনি বলেন, প্রতিটি মানুষের জীবনে দেওয়া ও পাওয়ার বিষয় থাকে। আমার এ শিক্ষকতা জীবনে দিয়েই গেলাম। বিনিময় পেলাম না। আমার ছাত্রীরা অনেকেই এখন সরকারিসহ বিভিন্ন কোম্পানির চাকরি করছে। তারা বেতন পাচ্ছে। জীবনটা অর্থপূর্ণ করে তুলছে। আর আমি তাদের শিক্ষক হয়ে আজ অর্থ কষ্টে জীবন যাপন করছি। নিজের স্বামীও হারিয়ে ফেলেছি। আর যে সম্মান ও মর্যাদার কথা ভেবে এ পেশায় এসেছিলাম সেটা তো নেই-ই। কারণ এ সমাজে যার অর্থ নেই তার সম্মান নেই। সরকারের কাছে আমি হাত জোড় করে বলি আমাদের একটু সম্মান নিয়ে বাঁচার সুযোগ করে দিন। আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্ত করে নিন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত না হওয়ায় এমনই জীবন সংগ্রামের কথা বলছিলেন বগুড়া খানপুর খায়ারখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা ও সহকারি শিক্ষিকা আমেনা খাতুন। নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এমপিওভুক্তির প্রয়োজনীযয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালীন তারা এসব কথা বলেন। গত ১৫ দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে তারা ননএমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশনের ব্যানারে। এসময় ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ড. বিনয় ভূষণ রায় বলেন, আজকের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সব স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার ঘোষণা না এলে আগামীকাল সকাল ১০টা থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষকরা আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করবে। এতে করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির জন্য আপনারাই দায়ী থাকবেন। প্রসঙ্গত, গত ১০ জুন থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। এর আগে একই দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনশন কর্মসূচিতে নামে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন। এর আগে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অনশন করার পর প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে তারা অনশন ভঙ্গ করে ফিরে যায়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা তখন তাদের দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দেন। সারাদেশে বর্তমানে সাড়ে সাত হাজার নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে ৫ হাজার ২৪২টি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসাকে। স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এসব প্রতিষ্ঠানকে এখনো এমপিওভুক্ত না করায় ফের আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষকরা। আরকে// এসএইচ/      

প্রস্তাবিত বাজেট জনকল্যাণমুখী: পরিকল্পনামন্ত্রী  

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তাফা কামাল বলেছেন, চলমান উন্নয়নকে অব্যাহত রাখতে সরকার ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য সর্বোচ্চ জনকল্যাণমুখী বাজেট প্রণয়ন করেছে। এ বাজেট প্রবৃদ্ধিমুখি, দারিদ্র বিমোচন ও কর্মসংস্থানমুখি।   রোববার রাজধানীর লেকশোর হোটেলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘বাজেট সংলাপ-২০১৮’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।  সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি নিহাদ কবির, সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।   এবারের বাজেটে দীর্ঘ মেয়াদি ভিশন রয়েছে উল্লেখ করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বাজেটেরে লক্ষ্য হলো ২০২১ সালে দেশকে মধ্যম আয়, ২০৩০ সালে টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট অর্জন ও ২০৪০ সালে দেশকে উন্নত বিশ্বের কাতারে নিয়ে যাওয়া। সে লক্ষেই সরকার পদ্মা সেতুসহ বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন, মাতারবাড়ি, রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প ও রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং তথ্য প্রযুক্তি উন্নয়নে নানামুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।   বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন বাড়াতে ব্যাংকের করপোরেট কর হার আড়াই শতাংশ কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে বলে তিনি জানান।    ব্যাংকিং খাতের অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলেন, দোষী কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। ফারর্মাস ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের দোষী কর্মকর্তাদের অনিয়মের দায়ে জেলে পাঠানো হয়েছে। কমিশন গঠন করে যারা ভাল তাদের সম্মানিত করা হবে। আর যারা খারাপ তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।   অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, দারিদ্র বিমোচনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে বাজেট প্রনয়ণ করা হয়েছে। রেহমান সোবহান বলেন, ব্যাংক খাতে এখন স্বল্প মেয়াদে আমানত নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এখন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো স্বল্পমেয়াদি আমানতের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেওয়ার ফলে এসব স্বল্পমেয়াদি আমানতকারীদের জন্য ঝুঁকি বাড়ছে, যা আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে।   এমসিসিআই সভাপতি নিহাদ কবির রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকগুলোর সরকারের পক্ষ থেকে তহবিল সরবরাহের সমালোচনা করেন।    কেআই/এসি      

জার্মানির অবিস্মরণীয় সেই গোল (ভিডিও) 

ম্যাচ হারলে ছিটকে পড়বে টুর্নামেন্ট থেকে আর যদি জিতে টিকে থাকবে আশা।এমন কঠিন সমীকরণ মাথায় রেখে শনিবার রাতে সুইডেনের বিপক্ষে মাঠে নামে জার্মানি। শ্বাসরুদ্ধকর ওই ম্যাচের শেষ মুহূর্তের জয়সূচক গোলে সুইডেনকে হারিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জার্মানি।   এদিন মাঠে নেমে প্রথমে এক গোল খেয়ে বসে জোয়াকিম লো`র দল। কিন্তু এর পর থেকেই একের পর এক আক্রমণ করেও গোল পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। বিরতির পর গোল খরা কাটান মার্কেজ রয়েজ। সমতায় ফিরে আরও ক্ষুরধার হয়ে উঠে জার্মান শিবির। ভাগ্য দেবতা সহায় ছিল না জার্মানির। তাই নিশ্চিত কয়েকটি গোল থেকেও বঞ্চিত হয় জার্মানি।কখনো স্ট্রাইকারদের মিস, বারে লেগে বল ফিরে আসা ও গোলকিপারের নৈপুন্যতায় ৯০ মিনিট পর্যন্ত গোলের দেখা পায়নি। তবে শেষ মিনিটে টনি ক্রুসের অবিশ্বাস গোলে জয় আদায় করে বিশ্বকাপে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ালো জার্মানি। ‘এফ’ গ্রুপের খেলায় এখন পর্যন্ত দুটি করে ম্যাচ খেলেছে জার্মানি, মেক্সিকো, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইডেন।এর মধ্যে মেক্সিকো দু’ম্যাচেই জয় পেয়েছে আর একটি করে জয় পেলো জার্মানি ও সুইডেন। তবে জার্মানি পরবর্তী খেলা দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে আর মেক্সিকো ও সুইডেন একে অন্যের বিরুদ্ধে লড়বে তাদের পরবর্তী ম্যাচে। আর এতেই জমে উঠেছে এই গ্রুপের বিশ্বকাপ লড়াই।  কেআই/এসি  

‘বিশ্বাস করতে পারছি না আমি সৌদিতে আছি’

সৌদি আরবের ধাত্রীবিদ্যাবিশারদ এক নারী প্রথম প্রকাশে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে। রোওয়া আলতাওয়ারি নামের এই নারী গাড়ি চালক বলেন, আমি বিশ্বাস করতে পারতাম না, আমি সৌদি আরবে গাড়ি চালাতে পারবো। আজ রোববার থেকে সৌদি আরবে নারী চালকদের ওপর থেকে গাড়ি চালানোর বিধি নিষেধ তুলে নেওয়া হয়। ফলে আজ থেকে ওই দেশে নারীরা গাড়ি চালাতে আর কোনো বাধা নেই। আর এই গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা তিনি তুলে ধরেছেন বিবিসির কাছে। তিনি বলেন, অন্য দিনের চেয়ে আজ আমি সকালে ঘুম থেকে উঠি। আমি এতো উচ্ছ্বিত ছিলাম যে, রাতে ঘুমাতে পারি নাই। আজ আমি প্রথম গাড়ি চালিয়ে কাজে যাবো। যা প্রথম কোনো পাশের সিটে নয়। আমি গাড়ির স্টায়ারিংয়ে। আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারি না, আমি জেদ্দার রাস্তায় গাড়ি চালাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, আমি রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে পুলিশকে অতিক্রম করছি। কপি শপে নেমে কপি খেয়েছি। আমার বৈধ লাইসেন্স আছে এবং আইনগতভাবে আমি সৌদি আরবে গাড়ি চালাচ্ছি। তিনি বলেন, এর আগেও আমি গাড়ি চালিয়েছি, যখন আমি ধাত্রীবিদ্যার শিক্ষার্থী ছিলাম বাহরাইনে। আমার ২০০৫ সাল থেকে বৈধ লাইসেন্স আছে। আমি যখন ছুটিতে দুবাই, পর্তুগাল এবং যুক্তরাষ্ট্র যাই। ওই নারী চালক আরও বলেন, আমার বাবা, ভাই এবং বোন আমাকে গাড়ি চালাতে উৎসাহিত করতো। আমার ছোট বোনও গাড়ি চালানোর লাইসেন্স পেতে যাচ্ছেন। তথ্যসূত্র: বিবিসি।এসএইচ/

দেশে আর ফিরবেন না মোশারফ

টানা ৯ বছর পাকিস্তানকে শাসন করেছেন তিনি। এবারের নির্বাচনেও লড়তে চেয়েছিলেন। তাই দেশেও ফেরার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু না, সর্বোচ্চ আদালত ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ আশ্বাস না মেলায় দেশে ফেরার সব ইচ্ছাই মাটি চাপা দিয়েছেন পারভেজ মোশারফ। গত কালই নিজের গড়া দল থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনি। পর দিনই এক ভিডিও বার্তায় সাবেক প্রেসিডেন্ট জানান, দল ছাড়লেও রাজনীতি ছাড়বেন না। তবে দেশে ফিরবেন না। মুশারফ জানান, সারা জীবনের জন্য ভোটে না লড়তে পারার নির্দেশ প্রত্যাহার, দেশ ছাড়ার উপর নিয়ন্ত্রণের তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং গ্রেফতার করা হবে না— আশ্বাসগুলি না মেলায় তিনি ফিরবেন না। সূত্র: ডনএমজে/

একাধিক পদে লোক নেবে স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডে  

স্কয়ার গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ‘স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের একাধিক পদে লোক নিবে। ইতোমধ্যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এরিয়া সেলস ম্যানেজার ও টেরিটরি সেলস অফিসার পদে এই নিয়োগ দেওয়া হবে। পদের নাম: এরিয়া সেলস ম্যানেজার   যোগ্যতা: যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্নাতক পাস প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতাসহ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে এক থেকে দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আবেদনের জন্য নির্ধারিত বয়স অনূর্ধ্ব-৪০ বছর।  পদের নাম: টেরিটরি সেলস অফিসার যোগ্যতা: যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্নাতক পাস প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আবেদনের জন্য নির্ধারিত বয়স অনূর্ধ্ব-৩৮ বছর। আবেদন প্রক্রিয়া: আগ্রহী প্রার্থীরা জীবনবৃত্তান্ত ও সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবিসহ ‘জেনারেল ম্যানেজার, হিউম্যান রিসোর্স ডিপার্টমেন্ট,স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেড, রূপায়ণ সেন্টার (১১তম ফ্লোর), ৭২ মহাখালী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১২’ ঠিকানায় আবেদনপত্র পাঠাতে পারবেন। এ ছাড়া মেইলের মাধ্যমে (hrd-stl@squaregroupe.com) আবেদন করা যাবে।  আবেদেনের সময়সীমা:  আগামী ৩০ জুন-২০১৮ তারিখ পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।  এসি     

ইরানের স্টেডিয়ামে ৩৯ বছর পর নারী

দীর্ঘ ৩৯ বছর পর স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখার অনুমতি পেয়েছে ইরানের মেয়েরা। মূলত পুরুষদের কোনো খেলা এতদিন স্টেডিয়ামে বসে উপভোগ করতে পারতেন না নারীরা। তবে গত বুধবার স্পেন বনাম ইরান ম্যাচে নারীদের স্টেডিয়ামে বসে খেলাটি দেখার অনুমতি দিয়েছে দেশটি। যদিও তা বড় পর্দার মধ্যেই সীমিত ছিল। ১৯৭৯ সালের পরে এই প্রথম ইরানের কোনও ফুটবল স্টেডিয়ামে শোনা গেল মহিলা কণ্ঠের উল্লাস। হিজাব পরনে তরুণী ওড়ালেন দেশের পতাকা। গত বুধবার বিশ্বকাপ ফুটবলের স্পেন বনাম ইরান ম্যাচ ছিল। ওই দিন সকালে হঠাৎই সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়, মহিলারা তেহরানের আজ়াদি স্টেডিয়ামে ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখতে পারবেন। চাইলে সপরিবারেও যেতে পারেন। এর পরেই হইচই পড়ে যায়। মেয়েরা লাইন দেন স্টেডিয়ামের বাইরে। যদিও এত সহজে প্রবেশাধিকার মেলেনি। সরকারি ঘোষণার পরেও স্টেডিয়ামের ‘পরিকাঠামোগত সমস্যা’ দেখিয়ে বেঁকে বসেন নিরাপত্তারক্ষীরা। জানান, ওই সরকারি নির্দেশিকা বাতিল হয়ে গিয়েছে। স্টেডিয়ামের বাইরে ধর্নায় বসেন মেয়েরা। মে মাসেও পাঁচ মহিলা আজ়াদি স্টেডিয়ামে ঢুকেছিলেন। কিন্তু ছদ্মবেশে। যদিও মেয়েদের খেলা দেখা নিয়ে কোনও কালেই কোনও সরকারি নিষেধাজ্ঞা নেই ইরানে। কিন্তু রক্ষণশীল দেশটিতে ধর্মপুলিশেরা অলিখিত নিয়ম জারি করে রেখেছে। খেলা দেখার ‘অপরাধে’ বহু বার শাস্তি পেতে হয়েছে মেয়েদের। গত মার্চেই ৩৫ জন মহিলাকে আটক করা হয়েছিল ফুটবল ম্যাচ দেখার ‘অপরাধে’। এ বারে অবশ্য অগ্রিম জানানো হয়েছে, সোমবার পর্তুগালের বিরুদ্ধে ইরানের পরের ম্যাচেও মেয়েদের বাধা দেওয়া হবে না। বুধবার স্টেডিয়ামে দেশের পতাকা ওড়ান মেয়েরা। নিজস্বীতে মাতেন। সে ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টও করেন তাঁরা। এমনই ছবি টুইট করেছে ইরানের ফুটবল দলও। এমজে/

বিশ্বকাপ না জিতে অবসর নিতে চাই না: মেসি  

এবারের বিশ্বকাপ দিয়েই নিজের ক্যারিয়ারে চারটি বিশ্বকাপ খেলছেন মেসি। কিন্তু বয়স কি আর থেমে আছে? আজ রোববারই ৩০ পেরিয়ে ৩১ বছরে পা দিয়েছেন আর্জেন্টাইন এই ফরোয়ার্ড। নিজের জন্মদিনে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নের কথা জানালেন মেসি।    রাশিয়া বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় রাউন্ডের স্বপ্ন এখনও ভাগ্যের ওপর ঝুলছে। তবে মেসির কথাই স্পষ্ট দ্বিতীয় রাউন্ড তো বটেই ফাইনাল খেলতে চান তিনি। আর এবার না হলে কাতার বিশ্বকাপেও দলের হয়ে অংশ নিতে চান বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার।   আর্জেন্টিনা দলে এখন গৃহবিবাদ চলছে। আর্জেন্টাইন সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, নাইজেরিয়ার বিপক্ষে নিজেদের টিকে থাকার লড়াইয়ে দল বাছাই করবেন মেসিরা। দলের ওপর কোচ হোর্হে সাম্পাওলির কোন নিয়ন্ত্রন থাকবে না ওই ম্যাচে। আর তাই মেসির ওপর এমনিতেই দায়িত্ব চলে আসে। ডেইলি মেইলের খবর অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা দলে নাকি এরই মধ্যে গতি এসে গেছে।   জন্মদিনে মেসি বিশ্বকাপ জয়ের ইচ্ছের কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমি বিশ্বকাপ না জিতে অবসর নিতে চাই না।’ এই কথা থেকেই অনেক কিছু বোঝা যায়। আর্জেন্টিনার জন্য বিশ্বকাপ কেমন তা এটা থেকেই বুঝে নেওয়ার কথা। আমার জন্যও তাই। বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্নটা আমার মধ্যে সবসময়ই ছিল । শিরোপাটা জয়ের অনুভূতি কেমন আমি তা ছুঁয়ে দেখতে চাই।’  বিশ্বকাপের ট্রফি জিতেছেন এমন স্বপ্ন দেখেন জানিয়ে মেসি বলেন, ‘আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতেছে এমন এক মুহূর্তের কথা ভাবলেই আমার গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যায়। বিশ্বকাপ জয়ের উন্মাদনা কয়েক কোটি আর্জেন্টিনার মানুষকে আনন্দে ভাসাবে। সুতরাং আমি ওই স্বপ্নটা ছুড়ে ফেলতে চাই না।’   অবসরে যাওয়ার ব্যাপারে মেসি বলেন, ‘আমি গুরুত্বপূর্ণ অনেক শিরোপা জিতেছি। কিন্তু দেশের জন্য বিশ্বকাপ না জিতে অবসর নিতে চাই না।’ রাশিয়া বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা আছে খাদের কিনারে। সেখান থেকে দলকে বাঁচিয়ে মেসি নিশ্চয় অনেক দূর যেতে চাইবেন। আর এবার না হলে ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের জন্য অপেক্ষা করতে হবে মেসিকে। তখন তার বয়স হবে ৩৫ বছর। মেসির জন্য তাই ‘বিশ্ব জয়ের এই তো সময়’। কেআই/এসি   

ট্রুডোকে ১০০ ডলার জরিমানা 

কানাডার আইন অনুযায়ী ২০০ ডলার মূল্যের বেশি দামী উপহার পেলে তা জনসম্মুখে ৩০ দিনের মধ্যে জানাতে হয়। আর তা না জানানোর কারণে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে ১০০ ডলার জরিমানা করা হয়েছে । গত বছর ৩০০ ডলার মূল্যের দুই জোড়া সানগ্লাস উপহার পেয়েছিলেন তিনি। সে খবর জনগণকে না জানানোয় তাকে ১০০ ডলার জরিমানা গুণতে হয়েছে।   ২০১৭ সালের জুনে প্রিন্স অ্যাওয়ার্ড আইল্যান্ড সফরে যাওয়ার সময় দ্বীপটির প্রধান ওয়েড ম্যাকলুহান ট্রুডোকে ওই দুটি সানগ্লাস উপহার হিসেবে দেন। দেশটির কনফ্লিকট অব ইন্টারেস্ট অ্যান্ড এথিকস কমিশনার মারিও ডিওনের কার্যালয় ট্রুডোর আর্থিক জরিমানার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এ বিষয়ে ইমেইলে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রুডোর প্রেস সচিব বলেছেন, প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে উপহার সম্পর্কে জানানো হয়নি। এথিকস কমিশনের কাজে প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো শ্রদ্ধাবান। তিনি এ কমিশনের উপদেশ ও পরামর্শ মেনে চলবেন। গত ডিসেম্বরেও নিয়মভঙ্গের অভিযোগ উঠে ট্রুডোর বিরুদ্ধে। বাহামায় আগা খানের মালিকানাধীন ব্যক্তিগত দ্বীপে সপরিবারে ভ্রমণ করেছিলেন ট্রুডো। সে সফরের ব্যয়ভার ট্রুডো নিজেই বহন করেননি।(সূত্র: সিটিভি) কেআই/এসি  

ডোবায় মিলল তিন ভাইবোনের লাশ 

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় ডোবা থেকে তিন ভাইবোনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর তিন শিশুর লাশ পাওয়া যায়।   আজ রোববার ভোর ৬টার দিকে উপজেলার গুণধর ইউনিয়নের উত্তর আশতকা গ্রামের একটি ডোবা তিন ভাইবোনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এরা হচ্ছে জোনাকী (৯), চাঁদনী (৭) ও সাফায়েত উল্লাহ (৪)। এর মধ্যে জোনাকী দ্বিতীয় এবং চাঁদনী প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তারা উপজেলার দেহুন্দা ইউনিয়নের ভাটিয়া গাঙ্গপাড়া গ্রামের মো. হেলাল উদ্দিন ও জ্যোৎস্না আক্তারের ছেলেমেয়ে। করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান জানান, জ্যোৎস্না আক্তার তিন সন্তানকে নিয়ে গুণধর ইউনিয়নের উত্তর আশতকা গ্রামে তাঁর বোন আসমা আক্তারের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। গতকাল শনিবার বিকেলে তিন ভাইবোন খালার বাড়ির সামনে খেলা করছিল। এ সময় তারা নিখোঁজ হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়। আশপাশের পুকুরে জাল ফেলে সন্ধান করা হয়। কিন্তু কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। আজ সকালে একটি ডোবায় তিন ভাইবোনের লাশ পানিতে ভেসে ওঠে। পরে লোকজন গিয়ে লাশ তিনটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হেলাল উদ্দিন ও জ্যোৎস্না আক্তারের সাত ছেলেমেয়ে ছিল। এসি    

হ্যারি কেনের হ্যাটট্রিকে শেষ ষোলোতে ইংল্যান্ড

ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনের গোল বন্যায় উড়ে গেছে দুর্বল পানামা। গুনেগুনে পানামার জালে ৬ গোল দিয়েছে ইংলিশ স্ট্রাইকাররা। অন্যদিকে গোল হজম করেছে মাত্র একটি। আর এতেই পানামাকে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে থাকতেই শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৮ মিনিটের মাথায়ই গোলের দেখা পেয়ে যায় ইংল্যান্ড। পানামার এরিক ডেভিসের পায়ে গেলে বল বাইরে যাওয়ার পর ডানদিক থেকে মাপা কর্নার নিয়েছিলেন কেইরান ট্রিপার। বক্সের মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে সেটা দারুণ এক হেডে জালে জড়িয়ে দেন জন স্টোনস (১-০)। ১৯ মিনিটে হেসে লিনগার্ডকে পেনাল্টি বক্সের মধ্যে ফেলে দেন পানামার দুই ডিফেন্ডার। ভিএআরে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। হ্যারি কেইন গোল করতে ভুল করেননি (২-০)। বক্সের বাঁ কোনা দিয়ে তার বুলেট গতির শট জালে জড়িয়েছে নিমিষেই। এটি এবারের বিশ্বকাপে হ্যারি কেইনের তৃতীয় গোল। বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে তিন বার তার বেশি গোল করা মাত্র তৃতীয় ইংলিশ ফুটবলার তিনি। কেইনের আগে ১৯৬৬ সালে রজার হান্ট আর ১৯৮৬ সালে গ্যারি লিনেকার এমন কীর্তি দেখিয়েছেন। ৩৬ মিনিটে রহিম স্টার্লিংয়ের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় বল পায়ে নিয়ে বক্সের বাইরে থেকেই জোড়ালো শট নেন হেসে লিনগার্ড, গোলপোস্টের ডান কোনা দিয়ে সেটা জড়িয়েছে জালে (৩-০)। ৩৯ মিনিটে ৩৫ গজ বাইরে থেকে নেয়া এক ফ্রি কিককেও গোল বানিয়ে ছেড়েছে থ্রি লায়ন্সরা। সেট পিস থেকে বল পেয়ে বক্সের মধ্যে হেডে সেটা রহিম স্টার্লিংকে দেন কেইন। স্টার্লিংয়ের শট পানামা গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলে হাত থেকে বল ছুটে যায়, সেটা জালে জড়িয়ে দেন বাঁ দিকে দাঁড়িয়ে থাকা জোনস (৪-০)। ৪৪ মিনিটে আরেকটি ভুল করে বসে পানামা। বক্সের মধ্যে হ্যারি কেইনের মাথায় হাত দিয়ে আঘাত করে তাকে ফেলে দেন এসকোবার, হলুদ কার্ডও দেখেন তিনি। পেনাল্টি থেকে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ইংলিশ অধিনায়ক কেইন। ৬২ মিনিটে আবারও কেইনের আক্রমণ। রোবেন লুফটাসের বাড়িয়ে দেওয়া বলে জোরে শট নেন কেইন। এতেই হ্যাটট্রিকের ষোলোকলা পূর্ণ করে কেইন। তবে খেলার দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা গতি বাড়ায় পানামা। সর্বশেষ ৭৮ মিনিটে দলের পক্ষ হয়ে ফিলিপ ব্যালয় পানামার হয়ে একটি গোল শোধ করেন। এমজে/

রোনালদোর পর হ্যারি কেনের হ্যাটট্রিক 

পানামার বিপক্ষে ইংল্যান্ড দলের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে রাশিয়া বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করেন হ্যারি কেন।ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর রাশিয়া বিশ্বকাপে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকের দেখা পেলেন এই ইংলিশ অধিনায়ক কেন।খেলার ২২ মিনিটের মাথায় গোল করেন হ্যারিকেন। এরপর ৪৫ ও ৬২ মিনিটে গোল করেন ইংলিশ এই আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়। এই গোলের মধ্য দিয়ে ইংল্যান্ড ৬-১ গোলের ব্যবধানে খেলা শেষ করে।    ইংল্যান্ড বনাম পানামার ম্যাচের ২৪ মিনিটের মধ্যে চতুর্থ ফাউল করে পানামা। অন্যদিকে ৪৫ মিনিটে ৫ গোলের দেখা পায় ইংল্যান্ড। যে হারে ফাউল হচ্ছে, তার চেয়েও দ্রুত গতিতে গোল করছেন ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন ও জন স্টোনসরা। ইংল্যান্ডের হয়ে জোড়া গোল করেন হ্যারি কেন ও জন স্টোনস। এছাড়া একটি গোল করেন হেসে লিনগার্ড।  খেলার ৪৫ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন হ্যারি কেন। এর আগে খেলার ২২ মিনিটে প্রথম গোল পেয়েছেন হ্যারি। রাশিয়া বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ২ গোল করেন হ্যারি কেন। সেই হিসেবে এবারের বিশ্বকাপে এনিয়ে পাঁচ গোল করেন ইংল্যান্ডের এই আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়। এসি      

স্পেন উপকূল থেকে ৮০০ শরণার্থী উদ্ধার

আফ্রিকা থেকে ইউরোপে পাড়ি দিতে যাওয়া ৮০০ শরণার্থীকে উদ্ধার করেছে স্পেনের কোস্টগার্ড। গত শনিবার দেশটির তিনটি উদ্ধারকারী নৌকায় করে তাদের উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃতদের অধিকাংশকে উত্তর আফ্রিকার উপকূল থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া বাকিদের আফ্রিকার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ক্যানারি দ্বীপ থেকে উদ্ধার করা হয়। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মতে, গত কয়েক মাস ধরেই স্পেন শরণার্থীদের জন্য খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত স্পেনে ৩ হাজার ৩২৬ জন শরণার্থী প্রবেশ করে। চলতির বছরের এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৪ হাজার ৬২৭ শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছেন। শুধু চলতি সপ্তাহেই দেশটিতে ২ হাজার শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে। ইতালির সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে পপুলিস্ট পার্টি সরকার গঠনের পরই দেশটি শরণার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। এই চাপ গিয়ে পড়েছে স্পেনে। সূত্র: আল-জাজিরাএমজে/

পানামার জালে ইংল্যান্ডের ৬ গোল

তখনো মাত্র ৪৫ মিনিট শেষ হয়েছে। এরইমধ্যে পানামাকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা খেললো ইংলিশরা। ছেলেখেলা বললেও ভুল হবে, পুতুল খেলাই খেললো কেইনরা। প্রথমার্ধ শেষ না হতেই পানামার জালে গোলের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন তারা। প্রথমার্ধেই হ্যারি কেইন আর জন স্টোনসের জোড়া গোলে ৫-০ গোলে এগিয়ে গেছে তারা। ম্যাচের ৮ মিনিটের মাথায়ই গোলের দেখা পেয়ে যায় ইংল্যান্ড। পানামার এরিক ডেভিসের পায়ে গেলে বল বাইরে যাওয়ার পর ডানদিক থেকে মাপা কর্নার নিয়েছিলেন কেইরান ট্রিপার। বক্সের মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে সেটা দারুণ এক হেডে জালে জড়িয়ে দেন জন স্টোনস (১-০)। ১৯ মিনিটে হেসে লিনগার্ডকে পেনাল্টি বক্সের মধ্যে ফেলে দেন পানামার দুই ডিফেন্ডার। ভিএআরে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। হ্যারি কেইন গোল করতে ভুল করেননি (২-০)। বক্সের বাঁ কোনা দিয়ে তার বুলেট গতির শট জালে জড়িয়েছে নিমিষেই। এটি এবারের বিশ্বকাপে হ্যারি কেইনের তৃতীয় গোল। বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে তিন বার তার বেশি গোল করা মাত্র তৃতীয় ইংলিশ ফুটবলার তিনি। কেইনের আগে ১৯৬৬ সালে রজার হান্ট আর ১৯৮৬ সালে গ্যারি লিনেকার এমন কীর্তি দেখিয়েছেন। ৩৬ মিনিটে রহিম স্টার্লিংয়ের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় বল পায়ে নিয়ে বক্সের বাইরে থেকেই জোড়ালো শট নেন হেসে লিনগার্ড, গোলপোস্টের ডান কোনা দিয়ে সেটা জড়িয়েছে জালে (৩-০)। ৩৯ মিনিটে ৩৫ গজ বাইরে থেকে নেয়া এক ফ্রি কিককেও গোল বানিয়ে ছেড়েছে থ্রি লায়ন্সরা। সেট পিস থেকে বল পেয়ে বক্সের মধ্যে হেডে সেটা রহিম স্টার্লিংকে দেন কেইন। স্টার্লিংয়ের শট পানামা গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলে হাত থেকে বল ছুটে যায়, সেটা জালে জড়িয়ে দেন বাঁ দিকে দাঁড়িয়ে থাকা জোনস (৪-০)। ৪৪ মিনিটে আরেকটি ভুল করে বসে পানামা। বক্সের মধ্যে হ্যারি কেইনের মাথায় হাত দিয়ে আঘাত করে তাকে ফেলে দেন এসকোবার, হলুদ কার্ডও দেখেন তিনি। পেনাল্টি থেকে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ইংলিশ অধিনায়ক কেইন (৫-০)। ৬২ মিনিটে আবারও কেইনের আক্রমণ। রোবেন লুফটাসের বাড়িয়ে দেওয়া বলে জোরে শট নেন কেইন। এতেই হ্যাটট্রিকের ষোলোকলা পূর্ণ করে কেইন। এমজে/

দুর্ঘটনার আশঙ্কায় সন্দ্বীপের যাত্রীরা

সন্দ্বীপ থেকে চট্টগ্রামে যাতায়াতের প্রধানতম নৌ-রুট কুমিরা-গুপ্তছড়া দিয়ে প্রতিদিন ৮-১০ হাজার মানুষ নদী পারাপার করে। যাত্রীসেবার লক্ষে গত ৬ জুন বিআইডব্লিউটিসি’র পক্ষ থেকে দেওয়া হয় ৪০ বছরের বেশি সময়ের পুরনো এলসিটি কাজল। ত্রুটিপূর্ণ ইঞ্জিন নিয়ে প্রায় সাগরে বিকল হয়ে পরছে এই জাহাজ।  শীতকালে স্পিডবোট, লালবোট ও মালবোট দিয়ে যাতায়াত করা গেলেও বর্ষাকালে উত্তাল সাগর দিয়ে এসব নৌযানে যাতায়াত করা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠে। গুপ্তছড়া-কুমিরা নৌ-রুটে জুনের আগে প্রায় ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০০ জন যাত্রী ধারণ ক্ষমতার বিলাসবহুল নতুন জাহাজ আসার কথা স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতাসহ বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে এতদিন জানানো হলেও খুব শীঘ্রই আসছে না নতুন জাহাজ। তাই ২০১৭ সালের শুরুতে কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌ-রুটে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃক যাত্রী পারাপারে চালু হওয়া এল সি টি কাজল জাহাজটিকেই ফের দেওয়া হয় এই রুটে। ২০১৭ সালে অল্প কয়েকদিন চলার পর ইঞ্জিন ত্রুটির কারণে মেরামত করতে নিয়ে যাওয়া হয় জাহাজটি। মেরামত শেষে বেশ কিছুদিন পর আবার যাত্রী পারাপারে আসে এল সি টি কাজল। কিছুদিন চলার পর আবার ২০১৭ সালের ৮ অক্টোবর সকালে ৩০৫ জন যাত্রী নিয়ে বিকল হয়ে যায় সাগরে। সম্প্রতি জাহাজটি সমুদ্রে বিকল হয়ে পড়ায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। জাহাজে অবস্থান করা এক যাত্রী জানান, আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় প্রচণ্ড ঢেউয়ে টালমাটাল অবস্থা চলছিল জাহাজের। চারদিকে কান্নার রোল নেমে গেল। ছুটোছুটি করছিল যাত্রীরা। এ দিকে নোঙর না তোলায় সাগরে জেলেদের জালের সাথে আটকে যায় নোঙর। আর কোনভাবেই ছুটছে না জাহাজ। পরে জোয়ারের সাথে ভেসে ভেসে জাহাজটি প্রায় মিরসরাইয়ের কাছাকাছি চলে যায়। এর মধ্যে প্রায় ৮ ঘন্টা পার হয়ে যাওয়ার পরও কর্তৃপক্ষ সেইদিন যাত্রীদের উদ্ধারে কোন তৎপরতা চালায়নি। আবার সাগরে ভাটা শুরু হলে বিকালে স্রোতের সাথে জাহাজটি ভেসে ভেসে বাড়বকুণ্ড কেওড়া বাগানে এসে আটকে গেলে সেখান থেকে লাল বোটের মাধ্যমে যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়। এরপর আবার মেরামতে নেওয়া হয় জাহাজটিকে। কয়দিন পর দেওয়া হয় টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে। যাত্রার কিছুদিন পর ২৬০ জন পর্যটক নিয়ে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে সাগরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায় জাহাজটির। আবার নেওয়া হয় মেরামতের জন্য। মেরামত শেষে দীর্ঘ ৯ মাস পর পুনরায় কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌ-রুটে দেওয়া হলো বারবার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ এই জাহাজ। ত্রুটিপূর্ণ এই জাহাজ বর্ষার বৈরী আবহাওয়ায় কেন দেওয়া হলো জানতে চাইলে বিআইবব্লিউটিসির ডিজিএম গোপাল চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘জাহাজটি মেরামত করা হয়েছে। এরপর যাত্রীসেবায় দেওয়া হয়েছে। আর সরকারি জাহাজের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সরকারি জাহাজ পর্যাপ্ত পরিমাণে নেই’। এলসিটি কাজল সংক্রান্ত আরও বিস্তারিত জানতে বিআইডব্লিউটিসির বর্তমান কমিশন এজেন্ট নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী ‘দি বেঙ্গল ট্যুরিজমে’র স্বত্বাধিকারী সঞ্জয় কুমার রায়ের সঙ্গে বারবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। বারবার যাত্রী নিয়ে সাগরে বিকল হয়ে যাওয়া এলসিটি কাজল বর্ষাকালে উত্তাল সাগরে কুমিরা-গুপ্তছড়ায় যাত্রী পারাপারের জন্য কতটুকু উপযোগী তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। তাই নিরাপদ যাতায়াত নিয়ে বেশ সংশয়ে আছে সন্দ্বীপবাসী। ত্রুটিপূর্ণ ইঞ্জিন নিয়ে যদি এভাবে নিয়মিত চলতে থাকে তাহলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে পারে সন্দ্বীপবাসি। ঘটে যেতে পারে ভয়াবহ কোনো দুর্ঘটনা। যার খেসারত দিতে হবে সন্দ্বীপবাসীকে। এমজে/

আমার ছেলেবেলার ঈদ আনন্দ!

জীবনস্মৃতির আয়নার দিকে তাকালে আমি বড়জোর ঊনিশ শ’পঞ্চাশ দশকের শেষ পর্যন্ত যেতে পারি। এর আগের ঘটনাবলি আমার মগজের হার্ডডিস্কে সেভ হয়নি, অর্থাৎ তখনও অভিজ্ঞতাগুলোকে স্মৃতির খাতায় স্থায়ীভাবে লিখে রাখার মতো বয়স হয়নি আমার। বাংলাদেশে আমাদের ছোটবেলার বেড়ে ওঠার দিনগুলো আর আজকের দিনের মধ্যে বিস্তর ফারাক! পাঁচ-ছয় দশকের ব্যবধান। অর্ধ-শতাব্দীতে দেশ, দেশের মানুষ, তাদের চিন্তাধারা, দৃষ্টিভঙ্গি, আয়-উপার্জন, জীবনজীবিকা, ইত্যাদি সবই বদলে গেছে।বদলে গেছে বিভিন্ন রঙে, বিভিন্ন ঢঙে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে থাকি! বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতির প্রতিদিনকার ক্রমাগত পরিবর্তন অনুভব করার সুযোগ পাই না। মাঝে-মধ্যে যখন দেশে যাই, অনেক ব্যাপারে বড় বড় পরিবর্তন সহজেই চোখে ধরা পড়ে। যারা দেশে থাকেন, যারা পরিবর্তন করেন এবং পরিবর্তনের মধ্যে সব সময় ডুবে থাকেন, তারা যতটা দেখেন আমরা পাখির দৃষ্টিতে(বার্ডস আই ভিউ) তার চেয়ে বেশি তীক্ষতার সঙ্গে নজর ফেলে থাকি। কোনো কোনো নেতিবাচক পরিবর্তন দেখে অবাক হই, মনের গভীরে ধাক্কা খাই, দুঃখ পাই! আবার কোনো কোনো ইতিবাচক উন্নতিতে খুশি হই, দেশের ভবিষ্যত চিন্তা করে আশায় বুক বাঁধি, শান্তিতে শ্বাস ফেলি! আলাপ আলোচনায় বুঝতে পারি, এ অনুভূতি আমার একার নয়, প্রবাসী বাংলাদেশি সবাই দেশকে নিয়ে এমনই ভাবেন। আমি তার বিন্দুমাত্র ব্যতিক্রম নই।   যেহেতু বাংলাদেশেরই কোনো এক অজপাড়া গাঁয়ে আমার জন্ম, তাই আমাদের ছোটবেলার ঈদ আনন্দও হতো গ্রাম বাংলার সেই সময়কার আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে। ঈমানদারদের জন্য অসীম রহমত ও ফজিলতের মাস-রোজার মাস! এ মাস শেষ হলেই বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের ঘরে ঘরে ঈদ আসে খুশির বার্তা নিয়ে, বয়ে নিয়ে আসে অনাবিল আনন্দের সওগাত! পরিবার পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব মিলে সবাই দু’এক দিনের জন্য হলেও নির্মল আনন্দে মেতে ওঠেন। আজকাল বাংলাদেশের নারী-পুরুষ, ছেলেবুড়ো ও শিশুরা কিভাবে ঈদ উদযাপন করেন তা সঠিক জানি না, তবে আমাদের কালে আমরা কিভাবে ঈদের খুশিতে ফেটে পড়তাম তা আজও মনে হলে সুখ পাই, পাই অপরিসীম আনন্দ! স্মৃতির পাতা থেকে আমাদের ছোটবেলাকার ঈদের কিছু কথা, কিছু ভাবনা, কিছু অনুভূতি ও উপলব্ধি এ লেখার মাধ্যমে আপনাদের সঙ্গে আজ ভাগাভাগি করে নিতে চাই। শেষ রোজার দিন সবার সঙ্গে জামাতে মাগরিবের নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে যেতাম। নামাজের পরে মসজিদ থেকে বেরিয়েই পশ্চিম আকাশের দিকে তাকিয়ে অধীর আগ্রহে খুঁজতে থাকতাম ঈদের এক ফালি বাঁকা চাঁদ। এক চিলতে চিকন চাঁদ-যেন এই দেখি, এই নেই! নজরে পড়ত, আবার মুহূর্তে মিলিয়ে যেত। ফের খুঁজে পেলে আঙুল ঘুরিয়ে চিৎকার করে অন্যদেরকে দেখাতাম। কেউ দেখতে পেত, কেউ না। খুশিতে নাচতে নাচতে এক দৌড়ে চলে আসতাম বাড়িতে। ঘরে এসে মাকে বলতাম, জান মা, আজ সবার আগে আমিই চাঁদ দেখেছি। কাল ঈদ। মা হেসে হেসে বলতেন, ‘তাই নাকি? তুই যে চাঁদ দেখেছিস তার সাক্ষী রেখেছিস কাউকে? আর চাঁদ দেখে থাকলে কাল থেকে নয়, খুশির ঈদ এখন থেকেই শুরু হয়ে গেছে’। রমজান মাসের শেষ তারিখ চাঁদ দেখার সাথে সাথেই যে ঈদ শুরু হয়ে যায় এবং শাবান মাসের শেষ দিন সন্ধ্যার আকাশে চাঁদ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে যে রোজার মাসের সূচনা হয় সেটা বুঝেছি অনেক পরে, বড় হয়ে। সৃষ্টির শুরুতে অন্ধকারের গভীরেই আলোর জন্ম, আর তাই আরবী পঞ্জিকায় স্বাভাবিকভাবে দিনের আগে রাত আসে। এ রচনা নিয়ে বন্ধু মাহবুবের সাথে কথা বলতে গিয়ে কয়েকটি প্রাসঙ্গিক বিষয় মনে পড়ল। আপনাদের সুবিধার জন্য সেগুলো আমি জায়গায় জায়গায় যোগ করে দিয়েছি। এ জন্য মাহবুব ‘আরেকটি’ ধন্যবাদ পেতেই পারে। ‘আরেকটি’ বলার কারণ এমন ধন্যবাদ আমার কাছে মাহবুবের সব সময়ই পাওনা থাকে। আমাদের ঈদের প্রস্তুতি, ঈদের বেশ আগেই শুরু হয়ে যেত। আজ যতদূর মনে পড়ে, এ তোড়জোড় আরম্ভ হতো রোজার শেষ দিকে হাতে মেন্দি পরা দিয়ে। আমরা যখন গ্রামের বাড়িতে বড় হচ্ছি  তখন আমাদের কোনো বোন বা চাচাত বোনও ছিল না। তারা যখন দুনিয়ার আলো দেখেছে তখন আমরা পড়া-লেখার উদ্দেশ্যে বাড়িছাড়া। মেন্দি জিনিসটি সাজগোজের বিষয় এবং একটি মেয়েলি ব্যাপার। স্বভাবতই এতে তাদেরই উৎসাহ বেশি থাকার কথা। মাঝে মাঝে ওই সময় যখন বড়ফুফু নাইয়র আসতেন তখন ফুপাতো বোনদের নিয়ে মেন্দি উৎসব খুব জমত। ফুফু এবং কাজের মেয়েলোকরা আদর করে, যত্ন করে আমাদের হাতে মেন্দি পরিয়ে দিতেন। আমি একটু অধৈর্য ছিলাম, কতক্ষণ পরপর আঙ্গুল দিয়ে মেন্দি পাতার পেস্ট সরিয়ে দেখতাম হাত লাল হচ্ছে কিনা। এতে আমার হাতের মেন্দি লেপটে-চেপটে যেত। মেন্দির লাল কারুকার্য পরিষ্কার হয়ে হাতে ফুটে ওঠত না, তাই হাত ধোয়ার পরে অন্যদের সাথে যখন মিলিয়ে দেখতাম তখন মন খারাপ লাগত। আমাদের বাড়িতে মেন্দি লাগানো যে শুধু মেয়েদের বা ছোটদের ব্যাপার ছিল তাই নয়। আব্বা ও চাচাদেরকেও দেখতাম বাঁ হাতের কড়ে আঙ্গুলের মাথায় এবং ওই হাতের তালুতে পূর্ণচন্দ্র আকারে মেন্দি পরতেন।আমাদের দুই হাতের তালুতে বেশ বিস্তৃত কারুকাজসহ মেন্দি লাগানো হতো। কখনও কখনও আমরা দুই হাতের তালুতে চ্যাপ্টা করে মেন্দির পেস্ট লাগিয়ে দিতাম। সে কাজ আমরা নিজেরাই করতে পারতাম এবং একে বলতাম জোড়-মেন্দি। যাই হোক, ফিরে আসি ঈদের দিনের কথায়। সন্ধ্যায় ঈদের চাঁদ দেখার সাথে সাথে রান্নাঘরে নানা জাতের পিঠা ও মিঠাই বানানো শুরু হয়ে যেত। আমরা ঘুমোবার আগেই কিছু খেয়ে নিতাম। তারপর বিছানায় যেতাম ঠিকই, কিন্তু ঈদের খুশিতে আর উত্তেজনায় চোখে ঘুম আসতে চাইত না। ফজরের আযানের আগেই উঠে যেতাম। একান্নবর্তী পরিবার, আমরা সমবয়সি ভাইয়েরা, পাশের বাড়ি এবং গ্রামের অন্যান্য ছেলেদের সাথে গোসল করতে বাড়ির সামনে পুকুরে চলে যেতাম এবং ‘নূর নবী মক্কার পানি ঈদের গোসল করলাম আমি, এই দোয়া জপ করতে করতে ভালো করে গোসল সেরে জামা কাপড় পরে নিতাম। কাপড়গুলো আগেই ধুয়ে, শুকিয়ে, ভাঁজ করে বালিশের নিচে রাখতাম, অন্তত তিন-চার দিন। তখন বাড়িতে লোহার ইস্ত্রি এসেছি কিনা সঠিক মনে নেই, আসলেও ওটা ছুঁয়া আমাদের এখতিয়ারের বাইরেই ছিল। পরিষ্কার জামাকাপড় পরে যখন ঘরে ফিরে আসতাম তখনও চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। এখানে একটি কথা বলে রাখি, ঈদের দিন নতুন জামা-কাপড় পরার কথা জানতাম, তবে আমাদের ভাগ্যে তা জুটত না! কদাচিৎ নতুন কাপড় পেলেও এমন ঈদের কথা আমার মনে পড়ছে না, কিন্তু এতে মোটেও মন খারাপ লাগত না, কারণ বলতে গেলে বাড়ির এবং গ্রামের সব ছেলেমেয়েদের অবস্থাই ছিল তথৈবচ। ঈদ গোসলের এই অভিনব দোয়াটি কে শিখিয়েছিল, তাও মনে নেই। এর মানে কী? এটা আদৌ কোনো সহি দোয়া কিনা, ইত্যাদি প্রশ্ন তখন কোনো দিন কারো মনে জাগেনি, তবে এটা যে একটা পবিত্র দোয়া এ ব্যাপারে আমাদের কারোরই বিশ্বাসে কোনো ঘাটতি ছিল না। আজ একা একা যখন সেই সব ঘটনা এবং স্মৃতিতর্পণ করি তখন মনে মনে হাসি। সূর্য ওঠার আগ পর্যন্ত সবাই জটলা বেঁধে বিছানায় বসে গল্পগুজব করতাম, হাসিঠাট্টায় মেতে ওঠতাম। পূব আকাশে আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ছেলেরা সব দল বেঁধে বাড়ির মুরব্বিদের যে যেখানে পেতাম কদমবুসি করতাম। বাবা, চাচা, মা, চাচীদের পর সব শেষে যেতাম দাদির ঘরে। দাদি বসে থাকতেন পিঠা ও মিষ্টি দ্রব্যের ভাগ  হাতে লয়ে। সালাম করার পর দাদি আদর করে সবার হাতে তুলে দিতেন মিষ্টি জাতীয় খাবার। খেতে খেতে নেচে নেচে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়তাম। তারপর একে একে গ্রামের এঘর-ওঘর সববাড়ি ঘুরে বেড়াতাম। মুরব্বিদের কদমবুসি করতাম আর বখরা পেতাম বিভিন্ন জাতের ঘরে বানানো পিঠা। দু’এক ঘর খাওয়ার পরেই পেট ভরে যেত। শেষের দিকে সাধলেও আর খাবার হাতে নিতাম না। সালাম করে খুশি মনেই খালি হাতে চলে আসতাম। খেতে খেতে ক্রমান্বয়ে আমাদের কাছে মিষ্টি/পিঠার প্রান্তিক উপযোগিতা কমতে কমতে যে শূন্যের নিচে নেমে আসত, সেটা বুঝেছি বড় হয়ে অনেক পরে, বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থশাস্ত্রের তত্তকথা পড়তে গিয়ে, তবে কদাচিৎ কেউ একটা দু’টো সিকি আধুলি হাতে তুলে দিলে মনে হতো যেন সাত রাজার ধন মানিক পেয়ে গেছি! গ্রাম ঘোরা হলে বাড়িতে ফিরে আসতাম। এসে দেখতাম বাড়ির সামনে কাছারি ঘরের উঠানে লাইন ধরে ফকিরমিসকিনরা দাঁড়িয়ে আছেন ফেত্রা নেয়ার জন্য। তার একে একে এগিয়ে আসছেন, আর আব্বা বারান্দায় একটি পুরনো কাঠের চেয়ারে বসে কাউকে সিকি, কাউকে আধুলি, আবার কারো হাতে টাকার নোট গুঁজে দিচ্ছেন। ফকিরমিসকিনরা চলে গেলে আমি আব্বার আশে পাশে ঘুর ঘুর করতাম। ভাবতাম, একটা সিকি আধুলি তো আমাকেও দিতে পারে, কিন্তু দেয় না কেন? বাবা যে ফেত্রার পয়সা আমাকে দিতে পারেন না, সেটা তখন জানলে তাঁর ওপর আমার এমনরাগ-অভিমান হতোনা। তারপর সবার সঙ্গে নামাজের জন্য ঈদগাহে যেতাম। নামাজ শেষে ঈদগাহের আশেপাশে দেখতে পেতাম সাদা টুপি মাথায় শুধু মানুষ আর মানুষ- ছুটছে এলোপাতাড়ি। তার মাঝে দুটো চিত্র স্পষ্ট আমার নজরে পড়ত। কুরবানির ঈদ হলে এক দল লোক দেখতে পেতাম ঘোরাঘুরি করছে। তাদের গায়ে ময়লা নোংরা ছেঁড়া কাপড়, মাথায় গামছা বাঁধা, এক হাতে বাঁশের লাঠি (কাঁধে করে চামড়া বয়ে নেওয়ার জন্য) আরেক হাতে ছালায় ছুরি-ছোরা ইত্যাদি। আর প্রায় সব ঈদেই থাকত আরেক দল, তারা ফেরিওয়ালা। বেলুন, হাওয়ার মিঠাই, বাঁশের বাঁশি, লেবেনচুষ, ইত্যাদি বিক্রি করত। নিজের পকেটে পয়সা থাকলে কিছু কিনতাম, না থাকলে মন খারাপ করে বাড়ি চলে আসতাম। পয়সার জন্য মানুষের ভীড়ে আব্বাকে খোঁজার বুদ্ধি থাকলেও সাহসটি ছিল না। ওই দুই দলের লোকদের ঈদের ময়দানে তখন একেবারেই বেমানান লাগলেও, অনেক পরে এসে বুঝেছি, তারাও ঈদআনন্দের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আল্লাহ্ এবং তার রসুল ধর্মীয় অনুশাসনের সঙ্গে ‘তিজারত’কে একীভ‚ত করে দিয়ে ইসলামকে আরও বাস্তবসম্মত ও জীবনঘনিষ্ঠ করে গড়ে তুলেছেন! রোজার ঈদ হলে নামাজের পরে বাড়িতে বকরি জবাই হতো আর কোরবানির ঈদ হলে সাথে একটা গরুও থাকত। বাড়ির বাইরের ঘরের সামনে এক দিকে চলত গোশ্ত কাটাকাটি। আরেক দিকে চলত ঈদগাহ কমিটির বিশাল মিটিং। আমাদের ঈদগাহের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা ছিল আশপাশের পাঁচ গ্রামের পাঁচ পঞ্চায়েতের যৌথ মোয়ামেলাত। আব্বা ছিলেন এর মুতাওয়াল্লী। তাই মিটিং বসত আমাদেরই বাড়িতে। উপস্থিত থাকতেন পাঁচ গ্রামের সব মাতবররা। নামাজের পরে ঈদগাহে যে চাঁদা তোলা হত, তা আমাদের বাড়ির মিটিংএ গোনাগুনি হতো।  গোনার পর পুরো টাকাই ঈদগাহের ইমাম ও অ্যাসিস্টেন্ট ইমামের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হতো। আমি কতক্ষণ গোশ্ত কাটাকাটি দেখতাম, আবার  কতক্ষণ মিটিং শুনতাম, ফলে কোনো কাজই ঠিকমত হয়ে উঠত না। ইমামদের টাকাটা আধাআধি অনুপাতে ভাগ হত, না অন্য রকম তা বুঝতে পারিনি, আব্বাকে কোনোদিন জিজ্ঞেসও করিনি। ঈদের মিটিংটি বড় বলে পিঠা-সন্দেশ খাওয়ানো সম্ভব হতো না, কিন্তু পান-সুপারি আর গুড়গুড়ি হুঁকোর এস্তেমাল চলত বেহিসাব। জানতে বড় ইচ্ছে করে হুঁকো, তামাক, আর পান-সুপারির চল কি এখনো গ্রামদেশে আছে? রান্নাবান্নার জন্য স্বাভাবিকভাবেই দুপুরের খাবারে দেরি হতো। তবে মজা করে ইচ্ছেমতো পেট ভরে গোশ্ত দিয়ে খাওয়াটা আমি খুবই উপভোগ করতাম। এমন উপাদেয় ও পর্যাপ্ত খাবার বছরে মাত্র দু’বারই আমাদের কপালে জুটত। বিকেল বেলা পাশের গ্রামে ফুফুর বাড়ি বেড়াতে যাওয়া ছিল ঈদ উদ্যাপনেরই একটি অংশ। ফুফুর বাড়ি গেলে পেতাম সেমাই এবং মাঝে মাঝে ‘আখনি পোলাও’ (বিরিয়ানির সিলেটি সংস্করণ)। হৈ-হুল্লোড় করে সন্ধ্যায় ফিরে আসতাম ঘরে। আমাদের বাড়িতে কোরবানির ঈদের দু’টো বিশেষত্ব ছিল। প্রথমটি হলো, যাঁদের নামে পশু কোরবানি করা হতো, তারা কোরবানির গোশ্ত রান্না হওয়ার আগে অন্য কিছু খেতেন না। এটা নবী করীম (সা.)-এরসুন্নত, তাই। দ্বিতীয়টি হলো, আমার দাদি গরম করে করে কোরবানির গোশ্ত প্রায় এক মাস ধরে সংরক্ষণ করে রাখতে পারতেন। সে যুগে রেফ্রিজারেশনের কথা তো গ্রাম দেশে কল্পনারও বাইরে ছিল। দাদি আরেকটি কাজ করতেন। ওই গোশ্ত দিয়ে একেক দিন একেক পরিবার করে আমাদের গ্রামের সবাইকে দুপুর বেলা ভাত খাওয়াতেন এবং এ জিয়াফত সিরিজ চলত প্রায় তিন/চার সপ্তাহ ধরে। কী রোজা, কী কোরবানির ঈদ, এশার নামাজের পর আমাদের বাড়িতে শুরু হতোওই দিনেরসব শেষ ও আসল উৎসব! গ্রামের সবাই যারা যারা ঘরে ঈদের যা রান্না হত তার একটি বড় অংশ নিয়ে আসতেন আমাদের কাছারি ঘরের সামনের উঠানে। কেউ নিয়ে আনতেন পোলাও, গরু গোশ্ত, কেউ রাঁধতেন খিচুড়ি, কেউবা  আনতেন সাদা ভাত আর তার সাথে খাসি অথবা মুরগির গোশ্তের তরকারি। ছোটবড়, ছেলেমেয়ে, জোয়ান-বুড়ো সবার মিলনমেলা বসত আমাদের বাড়ির আঙিনায়। ছোট ছোট হারিকেন জ্বালিয়ে আলো-আঁধারির মাঝে আমরা সবাই একসাথে ভাগ-যোগ করে খাবারগুলো খেতাম। কোনো কোনো সময় অন্ধকারের মধ্যে খাবার পাতে যে পোকা-মাকড় পড়ত না তাও নয়। আর পড়লেই বা কী? এত কিছু দেখে ও বেছে খাওয়ার কি সময় ছিল আমাদের? খাওয়া শেষ হলে পুকুরে গিয়েহাত-মুখ ধুয়ে আসতাম। আজকাল দেশে বিদেশে নামি দামি হোটেল, মোটেল ও কমিউনিটি সেন্টারে কত সৌখিন পার্টি হয়, খাওয়াদাওয়া হয়, কিন্তু ছোটবেলাকার সেই আনন্দ কোথাও খুঁজে পাই না! সারা দিন হৈচৈ করার পর ক্লান্ত হয়ে পড়তাম। তবু শুতে যেতে চাইতাম না। মনে হত ঘুমোতে গেলেই তোআনন্দ হাতছাড়া হয়ে যাবে। অবশেষে আব্বার বকাবকিতে বিছানায় যেতে হতো। অবসন্ন শরীর নিয়ে বিছানায় শুলেই ঘুমিয়ে পড়তাম। ক্লান্তিতে আরামের লম্বা ঘুম ঘুমাতাম। মাঝে মাঝে ঘুমের মধ্যে আগামী ঈদের স্বপ্ন দেখতাম। সকালে ঘুম থেকে উঠলে দিন গুনতে শুরু করতাম কবে আসবে আবার ঈদ! খুশির ঈদ!প্রবাসজীবনে বউ-ছেলেমেয়ে নিয়ে আজও ঈদ করি, আজও আনন্দ পাই, আজও দিন গুনি আবার কবে আসবে রোজা, কবে আসবে ঈদ, খুশির ঈদ! তবে সেদিনের সাথে আজকের একটা পার্থক্য আছে। আজকের প্রত্যাশার সাথে একটা জিনিস নিশ্চিত জানি, জীবনে যত ঈদই আসুক, ছোটবেলার সেই ঈদ আর আসবে না। সেই অনন্দও আর ফিরে পাব না। শৈশবের সাথে চির দিনের মতো হারিয়েছি তার আনন্দ উচ্ছ্বাস। ফিরে পাব না সেই সময়, ফিরে পাব না সেই ঈদ, ফিরে পাব না সেই হাসি-খুশি আর কোলাহল!বলতে পারেন, কেন এমন অনুভ‚ত হয়? আমার ধারণা, আনন্দ অনুভব ও উপভোগের বেলা মানুষ বড়ই কৃপণ। নতুন প্রাপ্তি যতই হোক না কেন, পুরনোগুলোকে ভুলতে চায় না, ছাড়তে চায় না, আর চাইলে কি পারে? বাংলাদেশের পরিস্থিতি এখন যে দিকে গড়াচ্ছে, তাতে মনে হয়, যেদিন ছেলেবেলার মধুর মধুর স্মৃতিকথা বিসর্জন দিতে হবে, সেদিন বুঝি আর বেশি দূরে নয়! কেন বলছি শুনুন। আমার এক পাঠক বন্ধু এ লেখার আগের সংস্করণ পড়ে আমাকে যা লিখেছেন তার সারসংক্ষেপ হলোএ রকম, ‘জনাব, আপনি যে বাংলাদেশে বড় হয়েছেন, সে বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশ এক নয়। এখন বাংলদেশের মানুষ আর গরিব নয়। এখানে এখন অনেক অনেক লোক আছেন যাঁরা প্রতিদিনই ঈদ করে থাকেন’। আপনাদের মতো আমিও জানি এখন দেশে অনেক মানুষ আছেন যারা, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, পাড়াপ্রতিবেশী নিয়ে ঈদ করতে চান না। তারা ঈদ এলে বউ-ছেলেমেয়ে নিয়ে চলে যান কক্সবাজার, ক‚য়াকাটা, আর যারা আরো ধনী তারা যান ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর; এমন কী ইউরোপ-আমেরিকাতেও গিয়ে তারা ঈদ উদ্যাপন করে থাকেন। সবশেষে আপনাদের কাছে আমার একটি প্রশ্ন, যেদিন বাংলাদেশের সব মানুষ সব দিনই ঈদ করবে, সেদিন কি আমার ছেলেবেলার সেই ঈদ, সেই স্মৃতি, সেই আনন্দ থাকবে, নাকি উন্নয়নের হাওয়ায় হারিয়ে যাবে? কথাগুলো লিখতে গিয়ে বুঝতে পারছি আবেগে চোখ দু’টো ভিজে আসছে!   লেখক: অর্থনীতির অধ্যাপক - টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটি। এসএইচ/

তৈমুরকে গুন্ডা বললেন সাইফ, কিন্তু কেন? 

তৈমুর আলি খান, ইনায়া নওমী খেমু এই সেলেব কিড যে যেকোনও বলিউড তারকার জনপ্রিয়তাকেই হার মানাতে পারে। বিশেষ করে ছোট্ট নবাব তৈমুরের জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন না তোলাই ভালো। তবে ইদানীংকালে তৈমুরের গুন্ডামি নাকি একটু বেশিই বেড়েছে, সেকথা কি জানেন? সম্প্রতি তৈমুরের দুষ্টুমি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন খোদ তার বাবা সইফ আলি খান। সইফের কথায়, তাঁর ছেলে তৈমুর আসলে একটা গুন্ডা। কিছুদিন আগে সোহা আলি খান বলেছিলেন, ``তৈমুরের যা বয়স, ও এই বয়সে সবকিছু নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে যায়। ও এখন সবকিছুই ধরতে পারে। ক্রমাগত এই বিষয়টা ওর মধ্যে বাড়ছে। ও এখন সবকিছু ধরছে আর সেটা ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছে। আর ইনায়া এখন বড্ড ছোট। তাই আমরা সব সময় ভয়ে ভয়ে থাকি। তাই ওদের দুজনকে পাশাপাশি রাখতেও আমরা ভয় পাই। বিশেষ করে ভাই (সাইফ) তো খুব ভয় পায়। তৈমুর যখন ইনায়ার কাছাকাছি থাকে ভাই (সাইফ) ভীষণই ভয়ে ভয়ে থাকে।``   তবে সোহা যেসময় তৈমুরকে নিয়ে এসব কথা বলেছিল, সে সময় থেকে এখন যে বিশেষ পার্থক্য ঘটেনি তা বোঝাই যাচ্ছে। সম্প্রতি হিন্দুস্থান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তৈমুর ও ইনয়া সম্পর্কে বলতে গিয়ে সইফ বলেন, `` ওরা ঘরে একসঙ্গেই থাকে (তৈমুর ও ইনায়া) ইনায়া খুবই ছোট এবং ভীষণই শান্ত। আর তৈমুর ততটাই দুষ্ট, অত্যাচারী। যদিও আমরা সবসময় ওদের দুজনকে ঘিরে থাকার চেষ্টা করি তাই চিন্তার কিছু নেই। তবে তৈমুর একটা গুন্ডা। আমার তো সব সময় আতঙ্ক লাগে যে ও ইনায়ার চুল ধরে না টানাটানি করে।`` সাইফ আরও বলেন, ``বাড়িতে একসঙ্গে থাকলে আমি কুণালের (কুণাল খেমু) সঙ্গে গল্প করতে থাকি। আর সোহা ও কারিনা বাচ্চাদের নিয়েই আলোচনা করতে থাকে। সোহা মাঝে মাঝে আমায় পরামর্শ দেয়। তবে বেশিরভাগ সময় ও আর কারিনা বাচ্চাদের নিয়েই ব্যস্ত থাকে। আর আমরা বাড়ির এককোণে বসে আড্ডা দিতে থাকি, মদ্যপান করতে থাকি।`` পাশাপাশি, তৈমুর নিয়ে আরও অনেক কথাই শেয়ার করেন সাইফ, তিনি বলেন, ``তৈমুর সকাল সাড়ে ৭টায় ওঠে আর আমি ৯টায়। ও ঘুম ভাঙলেই আমার বিছানার উপর ওঠে, সেখানে রাখা টর্চ টা নেয়, আর সেটা জ্বালিয়ে নিজের জিভের উপর ফেলে, যেন সে একজন চিকিৎসক। ও এসবই করতে থাকে। তবে রোজ রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে ও চাঁদ দেখে। ও ওটা দেখতে ভীষণ ভালোবাসে, প্রকৃতি, গাছপালা ও খুব ভালোবাসে। সম্প্রতি ও যোগা করছে। ওটা করার সময় ও মুখে নানান রকম আওয়াজ করে, যেটা খুবই বিরক্তিকর। ও শরীর নুইয়ে যোগা করতে যায়, আর সব সময়ই ওল্টে পড়ে যায়।`` এসি    

আর্জেন্টিনা কোচের গোপন রণনীতি ফাঁস     

ক্রোয়েশিয়ার কাছে ধরাশায়ী হওয়ার পর রাশিয়া বিশ্বকাপে টিকে থাকতে কোচ সাম্পাওলি সাজিয়েছেন রণনীতি। শেষ ম্যাচে নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে তাদের জিততে হবে। তাই তিনি একটি সুনিদির্ষ্ট প্ল্যান তৈরি করেছেন। কিন্তু এক্ষেত্রে আবারও একটা ধাক্কা খেল আর্জেন্টিনা। নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচের তিনদিন আগে অনুশীলনের ফাঁকেই ফাঁস হয়ে গেল কোচ হোর্হে সাম্পাওলির রণনীতি!   শনিবার (২৩ জুন) মস্কোর কাছে ব্রোনিৎসি ট্রেনিং ক্যাম্পে অনুশীলন করেন মেসিরা। এ সময় সাম্পাওলি নোটবুকে লিখে রাখছিলেন নাইজিরিয়ার বিরুদ্ধে কী ছকে তিনি দলকে খেলাতে চান। কে কোথায় খেলবেন। কার কার কী দায়িত্ব। কিন্তু তাঁর সেই পরিকল্পনা আর গোপন থাকল না। কারণ সাংবাদিকরা তার সেই নোটবুকের পাতার ছবি তুলে নেন।  এর আগে, শুক্রবার একইভাবে ফাঁস হয়ে গিয়েছিল পানামার বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের প্রথম দল। যা নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে ফুটবল বিশ্বে। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে এবার ফাঁস হয়ে গেল সাম্পাওলির পরিকল্পনা। এসি        

সিরিয়ায় হামলা চালিয়ে ৪৫ আইএস যোদ্ধাকে হত্যা

সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের আস্তানায় বিমান হামলা চালিয়ে অন্তত ৪৫ আইএস যোদ্ধাকে হত্যা করেছে ইরাকি বাহিনী। গত এক মাসের মধ্যে এটা ইরাকি বাহিনীর দ্বিতীয় হামলা। গতকাল শনিবার ইরাকি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলে দেই আজ জোর প্রদেশের আইএস ঘাঁটি লক্ষ্য করে একটি এফ-১৬ বিমান হামলা চালায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এতে আইএসের বেশ কয়েকজন সিনিয়ন নেতার মৃত্যু হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানিয়েছে। এদিকে কোনদিন হামলা চালানো হয়েছে তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। তবে বিবৃতিতে বলা হয়, আইএসের খলিফা দাবি করা আবু বকর আল বাগদাদী ওই অভিযানে নিহত হয়েছেন। এদিকে বিমান হামলায় মাটির নিচে বানানো তিনটি বাঙ্কারও বিধ্বস্ত হয়েছে। ইরাকি প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদীর এক আদেশের ভিত্তিতেই ওই হামলা চালায় দেশটির বিমানবাহিনী। সূত্র: আল-জাজিরাএমজে/

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি