ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৮ ৭:০৯:৪১

মধ্যরাতে অনাহারির বাসায় সংসদ সদস্য!

মধ্যরাতে অনাহারির বাসায় সংসদ সদস্য!

আরব্য রজনীকে হার মানিয়েছেন সাতক্ষীরা চার আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জগলুল হায়দার চৌধুরী। মধ্যরাতে অনাহারি দরিদ্র পরিবারের ভাঙা কুটিরে কাঁধে বাজার সদাই নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন তিনি। বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন-ঘেঁষা উপকূলীয় এ আসনের বর্তমান এমপি এসএম জগলুল হায়দার শ্যামনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। যদিও বলা হচ্ছে ভোটারদের মন জয়ের লক্ষ্যে কখনও লুঙ্গি পরে কোমরে গামছা বেঁধে শ্রমিকদের সঙ্গে নেমে পড়ছেন বেড়ি বাঁধ ও রাস্তা সংস্কারের কাজে; কখনও গভীর রাতে অসহায় মানুষের দুয়ারে গিয়ে বাড়িয়ে দিচ্ছেন সহায়তার হাত। গত মঙ্গলবার রাতেও জগলুল হায়দার একটি দরিদ্র পরিবারের বাসায় বাজার সদাই নিয়ে হাজির হয়েছেন। তার কানে আসে তারই এলাকার একটি গ্রামে এক পরিবার না খেয়ে আছে। তাৎক্ষণিকভাবে একটি স্যান্ডো গেঞ্জি পরিহিত অবস্থায় কাঁধে বাজার নিয়ে মধ্যরাতে উপস্থিত হন ওই দরিদ্রের জীর্ণ কুটিরে। এ বিষয়ে জগলুল হায়দার বলেন, `মঙ্গলবার রাত ১২ টা। বাসায় শুয়ে বিশ্রাম করছি। হঠাৎ মোবাইল ফোনটি বেজে ওঠে। ফোন রিসিভ করে জানতে পারি শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর গ্রামের আমির আলী গাজীর পরিবারের সদস্যরা খাবারের অভাবে অর্ধাহারে এবং অনাহারে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। তিনি বলেন, পরিবারটির জন্য মন কেঁদে ওঠে। সংবাদ দাতাকে সেখানে অপেক্ষা করতে বলি এবং তাদের জন্য খাবার নিয়ে এখনই আসছি বলে জানাই। তারপর বাসা থেকে চাল, ডাল, তেল এবং পার্শ্ববর্তী ফার্ম থেকে মুরগী নিয়ে নিজে মোটরসাইকেল চালিয়ে রওনা হই। সেখানে পৌঁছে দেখি সংবাদ দাতা ছেলেটি আমির গাজীর বাড়ির সামনে আমার জন্য অপেক্ষা করছে। তাকে সাথে নিয়ে খাবারের ব্যাগ নিজে কাঁধে নিয়ে উক্ত বাড়িতে যাই এবং তাদেরকে ঘুম থেকে ডেকে তুলি। জগলুল হায়দার নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে বলেন, অসহায় পরিবারটির সদস্যদের কাছে খাবারগুলো দেই এবং নগদ আর্থিক সহায়তা করি। তাদের জীর্ণ কুটির দেখে যতদ্রুত সম্ভব ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য কথা দেই। তাদের কাছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার জন্য দোয়া চাই। শুধু আজ বলে নয় বহু আগে থেকেই অসহায় মানুষের সেবা দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। আরকে//  
প্রবাসীর স্ত্রীকে পেটানোর ঘটনায় ইউপি মেম্বারসহ গ্রেফতার ৩

কুমিল্লায় সালিশ বসিয়ে গৃহবধূ নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ায়, ঘটনা তদন্তে তৎপর হয়েছে প্রশাসন। এরইমধ্যে পুলিশ গ্রেফতার করেছে ইউপি মেম্বারসহ ৩ জনকে। প্রায় এক সপ্তাহের বেশি সময় হাসপাতালে চিকিৎসার পর ওই গৃহবধূ এখন বাবার বাড়িতে। ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান নির্যাতিতার স্বজনরা। জানা যায়, কুমিল্লায় গ্রাম্য সালিশে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে পেটানোর এ দৃশ্য সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অন্য যুবকের সঙ্গে সম্পর্কের অপবাদ দিয়ে আসমা আক্তার নামের ওই গৃহবধূর উপর নির্যাতন চালান ভাসুর সাইফুল ইসলাম ও দেবর বাবুল মিয়া। সালিশে অভিযোগ স্বীকার না করা পর্যন্ত পেটানোর সিদ্ধান্ত দেন ইউপি মেম্বার মোহাম্মদ আলম। স্থানীয় চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে জোর করে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয় আসমার। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, এ ঘটনার আগের দিন ৩১ জুলাই দাউদকান্দি বারাপাড়া ইউনিয়নের বেকি সাতপাড়া গ্রামের প্রবাসী কবির হোসেনের স্ত্রী আসমা আক্তার, তার মাদ্রাসা পড়ুয়া ছেলের জন্য খাবার পাঠাতে একই গ্রামের নূর আলমকে খবর দেন। রাতে সে বাড়িতে এলে আসমার ভাসুর, ননদ ও সহযোগীরা মিলে দুজনকেই বেঁধে রেখে নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধু কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার পর এখন আশ্রয় নিয়েছেন নিজ বাবার বাড়িতে। এমন নির্যাতন কোনওভাবেই মেনে নিতে পারছেন না আসমার মা। আসামীরা মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে বলেও জানান স্বজনরা। নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। কাজ করছে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি। চলছে পুলিশের পৃথক তদন্তও। ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নির্যাতিতার স্বজন ও স্থানীয়রা। একে//

৪ বছর পর দাম পাওয়ার আশায় চাঁপাইয়ের খামারিরা

সীমান্ত পথ দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশ বন্ধ থাকায় দাম নিয়ে ব্যাপক আশাবাদি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গরু খামারিরা। ২০১৪ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সীমান্তে বিট খাটাল নীতিমালা জারির পর থেকে টানা ৪ বছর লোকশান গুনতে হয়েছে খামারিদের। তবে গত এক সপ্তাহ থেকে বিট খাটালের মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্ত পথ দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশ বন্ধ রয়েছে। এতে আশার আলো দেখছেন এ অঞ্চলের খামারিরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য মতে আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে খামারিরা প্রায় ৭৯ হাজার গরু-মহিষ প্রস্তুত করেছে। লাভের আশায় প্রাকৃতিক উপায়ে গবাদিপশু মোটাতাজা করতে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন গরু ব্যাবসায়ীরা। কোরবানির বাজারের চাহিদা অনুযায়ী খামারিরা বিভিন্ন আকৃতির গরু পালন করছেন। আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গরুর খামারীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন । খামারিরা বলছেন-গরুর খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায়, ব্যয় বেড়েছে। এখন যদি ভারতীয় গরু প্রবেশ করে তাহলে ন্যায্য মূল্য পাওয়া সম্ভব নয়। ফলে ব্যাপক লোকশানে পড়তে হবে তাদের। তারা বলছেন, চার বছর থেকে সীমান্ত পথে বৈধ অবৈধ দুই ভাবেই বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে ভারতীয় গরু। এর প্রভাবও পড়ছে খামারিদের উপর। ফলে বিগত কোরবানি ঈদগুলোতে ব্যপক লোকশানে পড়তে হয়েছে। তবে এবার ঈদে তারা দাম নিয়ে আশাবাদি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের তেররশিয়ার গরু ব্যবসায়ী সেতাউর রহমান বাদশা জানান, গত বছর ভারতীয় গরু প্রবেশ করায় কয়েক লাখ টাকা লোকসান হয়েছিল। গত এক সপ্তাহ থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্ত পথ দিয়ে গরু আসছে না। এ কারণে উর্ধমুখী কোরবানি গরুর দাম। যা আমাদের জন্য সুখবর। গোমস্তাপুর উপজেলার চৌডালার খামারী মোস্তফা জানান, এক বছরে একটি গরু লালন করতে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমান বাজারে গরুর চাহিদা অনুযায়ী দামও ভাল রয়েছে। তবে সীমান্তপথে ভারতীয় গরু আসতে শুরু হলে তাদের বড় ধরনের লোকশান গুনতে হবে। একই অভিযোগ করেছেন, নাচোল, শিবগঞ্জ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের একাধিক গরু খামারী। জানা গেছে, প্রায় বছর ধরে কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জে গরু মোটাতাজাকরণ করছেন খামারীরা। প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে মোটাতাজা করা হচ্ছে এসব গরু। খামারিদের দাবী, গরু মোটাতাজা করনে ক্ষতিকর স্টেরয়েড বা ইনজেকশন ব্যবহার করেন না। তবে গো-খাদ্যের দাম বেশি ও সেই সঙ্গে ভারতীয় গরু আমদানি শুরু হলে খামারিদের লোকসানের দুঃশ্চিন্তা রয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ ডা: আনন্দ কুমার অধিকারী জানান, প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী জেলায় এবার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার। জেলার ৫ উপজেলায় ৫ হাজার ৮’শ ৭৯ টি খামারে ৭৮ হাজার ৯’শ ৮৭ টি গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া পারিবারিকভাবে পালন করা হচ্ছে অনেক গবাদিপশু। জেলায় দেশী গরু দিয়ে কোরবানির চাহিদা পুরণ করা সম্ভব বলে জানান প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা। আরকে//

৩৮ মন ওজনের বাহাদুরের দাম ২৮ লাখ [ভিডিও]

বয়স মাত্র চার বছর। খ্যাতি দুনিয়াজোড়া। নাম বাহাদুর। নাম শুনে কোনও বীরের কথা মনে হলেও এটি আসলে বিশাল আকারের গরু। এই গরুর দৈর্ঘ্য দশ ফুট। ওজন প্রায় আটত্রিশ মন বা ১৫শ’ কেজি। হাটে ওঠার আগেই বাহাদুর বিক্রি হয়েছে ২৮ লাখ টাকায়। ব্রাংগুস প্রজাতির বাহাদুরকে আনা হয়েছে মার্কিন মুলুক থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস থেকে উড়িয়ে আনা বাহাদুরের অবস্থান এখন ঢাকার মোহাম্মদপুরে সাদিক এগ্রো ফার্মে। উজ্জ্বল বাদামী রংয়ের দীর্ঘদেহী এই গরু নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই দর্শনার্থীদের। দলে দলে মানুষ আসছে বাহাদুরকে দেখতে। স্মৃতির পাতায় ধরে রাখতে অনেকেই ফ্রেমবন্দী করে বাহাদুরকে। দশ ফুট দৈর্ঘ্যরে বাহাদুরের ওজন ১৫শ’ কেজি। এই গরুর খাবারের আয়োজনও বিশাল। সাড়ে পাঁচ ফুট উচ্চতার বাহাদুরের জন্য প্রতিদিন ৬০ কেজি খাবার প্রয়োজন হয়। টেক্সাসের চার বছর বয়সী এই পালোয়ান এরই মধ্যে বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে নিজেকে। বাহাদুরকে ২৮ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন ফার্মের মালিক ইমরান হোসেন। ঈদুল আজহার একদিন আগে বাহাদুরকে পৌঁছে দেওয়া হবে ক্রেতার কাছে। ভবিষ্যতে এই প্রজাতির আরও গরু আমদানির কথাও জানান ফার্মের মালিক। বিশাল আকৃতির গরু- বাহাদুর মায়ার বাঁধনে জড়িয়েছে ফার্মের কর্মীদেরও। ঈদ বাজারে এখন পর্যন্ত বাহাদুরই সবচেয়ে বড় গরু বলে জানালেন আমদানিকারক। একে//

সচিবের স্বাক্ষর জালসহ মন্ত্রণালয়ের ভুয়া স্মারক ব্যবহারের অভিযোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১৩, ১৪ ও ১৫ নং ওয়ার্ডের কথিত কাজী নবাবগঞ্জ সিটি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করেছে জেলা রেজিস্টার নজরুল ইসলাম। আদালত মামলাটি সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দেন। ১৭ জুলাই মামলাটি সদর মডেল থানা এজাহার হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে জেলা রেজিস্টার বাদী হয়ে আমলী আদালত (নবাবগঞ্জ সদর) অঞ্চলে কথিত কাজীর বিরুদ্ধে আইনের ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ও ৪৭৪ ধারায় ৫৩৯ সি/২০১৮ নং মামলা দায়ের করেছেন। আইন ও বিচার বিভাগ, বিচার শাখা-৭ এর সিনিয়র সহকারী সচিব বুলবুল আহমেদ সাক্ষরিত এক চিঠিতে জেলা রেজিস্ট্রারকে দ্রুত সিআর মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন। বর্তমানে তিনি এজাহার নামীয় পলাতক আসামী। অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম শিবগঞ্জ উপজেলার বামুনগ্রাম চৈতন্যপুর গ্রামের ইসলাম মন্ডলের ছেলে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০০০ সালের ১৯ এপ্রিল আইন, বিচার ও সংসদ বিষয় মন্ত্রণালয়ের বিচার শাখা-৭ এর সহকারী সচিবের সাক্ষর জাল ও ভূয়া স্মারক নং ব্যবহার করে জেলা রেজিষ্টার অফিস থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১৩,১৪ ও ১৫ নং ওয়ার্ডের নিকাহ্ রেজিষ্ট্রার হিসেবে নিয়োগ লাভ করে। জালিয়াতির মাধ্যমে প্রাপ্ত নিয়োগপত্র ব্যাবহার করে অধীক্ষেত্র এলাকায় নিকাহ্ ও তালাক রেজিস্ট্রির নামে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে। কথিত কাজী শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে নীতিমালা অমান্য করে একই সাথে দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরীর তথ্য গোপন করে দুই এলাকায় নিকাহ্ রেজিষ্ট্রার হিসেবে নিয়োগ লাভ ও ভুল তথ্য দিয়ে উচ্চ আদালতে রীট মামলা দায়েরসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। তথ্য অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ১৯৯৫ সালের ১ জুলাই নবাবগঞ্জ সিটি কলেজে বাংলা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করে শফিকুল ইসলাম। সিটি কলেজে কর্মরত অবস্থায় তথ্য গোপন করে ১৯৯৮ সালের ২৭ জুলাই মহিপুরের মুনসেফপুর সিনিয়র মাদ্রাসায় যোগদান করেন। একই ব্যাক্তি মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিষ্ট্রিকরণ বিধিমালা অমান্য করে ১৯৯৮ সালের ২৭ আগস্ট নাচোল উপজেলার ২নং ফতেপুর ইউনিয়নের অস্থায়ী নিকাহ্ রেজিষ্টার হিসেবে নিয়োগ লাভ করে। নিকাহ্ রেজিষ্ট্রার নিয়োগ বিধিমালায় উল্লেখ্য রয়েছে- যে এলাকার নিকাহ্ রেজিষ্ট্রারের পদ শূন্য হয়, সেই এলাকার বাসিন্দা না হলে কোন ব্যক্তিকে নিকাহ্ রেজিষ্ট্রারের লাইসেন্স প্রদানের জন্য নির্বাচন করা যাবে না। অতীত এবং বর্তমান কোন ঠিকানায় তার নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নে নয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, জন্মসূত্রে সে শিবগঞ্জ উপজেলার ১৪ নং ধাইনগর ইউনিয়নের চৈতন্যপুর গ্রামের বাসিন্দা। তবে পরবর্তীতে সে নাচোল উপজেলার ২ নং ফতেপুর ইউনিয়নের মাধবপুরের বাওয়োল গ্রামের ও বর্তমানে সে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১৩ নং ওয়ার্ডের রেহাইচর গ্রামের বাসিন্দা। তার বিভিন্ন নিয়োগপত্রে এইসব ঠিকানা ব্যবহার করেছেন। জানা গেছে, এর আগে জেলা রেজিস্টারকে কথিত সেই কাজীর লাইসেন্স প্রত্যাহারসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন আইন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে লাইসেন্স প্রত্যাহার পূর্বক আইন মন্ত্রণালয়কে লিখিত চিঠি পাঠান চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা রেজিস্টার। তবে সে সময় তার বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা দায়ের করেননি জেলা রেজিষ্ট্রার। ভূয়া কাজী শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় গত বছরের ৩০ নভেম্বের জেলা রেজিস্টার কে শোকজ করে আইন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব বুলবুল আহমেদ। তবে একাধিক এলাকার নিকাহ্ রেজিষ্ট্রিার দাবি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন শফিকুল ইসলাম। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১৩, ১৪ ও ১৫ নং ওয়ার্ডের বৈধ কাজী দাবী করে নবাবগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে ২৩১/০১ অঃপ্রঃ মামলা ও নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের বৈধ কাজী দাবী করে হাইকোর্টে ২৯৭৮/২০১১ নং রীট মোকাদ্দমা দায়ের করেন। মামলা দুটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। জেলা রেজিস্টার নজরুল ইসলাম জানান, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক কথিত কাজী শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আগামীতে মামলাটি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালনা করা হবে। এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চাঁপাইবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম জানান, মামলাটি ৫ আগস্ট সিআইডিতে বদলি হয়েছে।অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে মামালা হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আইনগতভাবে বিষয়টি মোকাবেলা হবে। তবে অন্যান্য প্রশ্নের কোন সদুত্তোর দিতে পারেনি তিনি। আরকে//

টেকনাফে বিজিবির অভিযানে দেশীয় অস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে একটি দেশীয় তৈরী সার্টার গান ও তিন রাউন্ড এলজি কার্তুজ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সোমবার রাত সোয়া ১১টার দিকে উপজেলার নেটংপাড়া গ্রামে অভিযান চালায় বিজিবি। তবে বিজিবি টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ায় অভিযুক্ত মো. আনোয়ার হোসেনকে (৬০) আটক করা সম্ভব হয়নি। বিবিবি জানায়, নেটংপাড়া গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেনের এর বসত বাড়ীতে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের নিমিত্তে অস্ত্র জমা রাখা হয়েছে-এমন তথ্যের ভিত্তিতে ২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বিএ-৪৮৩৯ লে. কর্ণেল মো. আছাদুদ জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহলদল ওই এলাকায় অভিযান চালায়। এ অভিযানে আনোয়ার হোসেনের বাড়ি তল্লাশি করে একটি দেশীয় তৈরী সার্টার গান ও তিন রাউন্ড এলজি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। তবে বিজিবি টহলদলের উপস্থিতি টের পেয়ে মো. আনোয়ার হোসেন পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকৃত সার্টার গান ও কার্তুজ টেকনাফ থানায় হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। একে//

উদ্বোধনের অপেক্ষায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৫০ শয্যার আধুনিক সদর হাসপাতালের ভবন নির্মাণ কাজ প্রায় ৯৯ শতাংশ শেষ হয়েছে। এটি চালু করতে এখন নেওয়া হচ্ছে নানা পদক্ষেপ। ৮ তলা বিশিষ্ট আধুনিক ভবন নির্মাণে বদলে গেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালের চিত্র। খুব দ্রুত এটি চালু হবে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে মানুষ আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পাবে বলে আশা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন হেল্থ পপুলেশন অ্যান্ড নিউট্রিশন সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এইচপিএনএসডিপি)’র আওতায় ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত হাসপাতাল ভবনে রোগীদের জন্য থাকছে- ১৫টি কেবিন ব্লক, ৫টি অপারেশন থিয়েটার (ওটি)। এছাড়া থাকবে আইসিইউ বিভাগ, এসডিইউ বিভাগ, সিসিইউ বিভাগ, সিটিস্ক্যান ব্যবস্থা, বহির্বিভাগ চিকিৎসা ব্যবস্থা, নিজস্ব বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, চলাচলের জন্য ৩টি সিঁড়ি ও ২টি বেড লিফ্ট। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল ওদুদ জানান, জেলাবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এ হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতসহ আধুনিক মানের হাসপাতালের প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ২০১৫ সালের জুন মাস থেকে প্রস্তাবিত ১০ তলার মধ্যে ৮ তলা ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয়। বর্তমানে নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের পথে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসের প্রথমদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্ব-শরীরে অথবা ভিডিওি কনফারেন্সের মাধ্যমে অন্যান্য প্রকল্পের সাথে এ হাসপাতালটি উদ্বোধন করবেন বলে জানান তিনি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ও মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহজামাল জানান, বর্তমান সরকারের আমলে হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন পরিবর্তন হয়েছে। ২৫০ শয্যার সেবা কার্যক্রম শুরু হলে সেবার মান আরো বাড়বে। এ হাসপাতালে জেলার মানুষের কাঙ্খিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৫০ শয্যার হাসপাতালের সেবা দ্রুত চালু করার লক্ষ্যে কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ২৫০ শয্যার সেবা চলু হলে রোগীদের খাদ্য, ওষুধ সরবরাহসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে সেবা দেয়া আরো সহজতর হবে। নতুন ভবনে অক্সিজেন প্লান্ট, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য মিনি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টসহ অন্যান্য কাজ চলছে। এখন প্রশাসনিক অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ হলেই ২৫০ শয্যার চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল জেলার মানুষকে কাঙ্খিত স্বাস্থ্যসেবা দেয়া সম্ভব হবে বলে তিনি জানান। আরকে//

মির্জাপুরে পুলিশ দম্পতির উপর দুর্বৃত্তদের হামলা, স্ত্রী নিহত

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় বাসায় ঢুকে পুলিশ দম্পতির ওপর হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে নিহত হয়েছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী শিল্পী বেগম। এছাড়া গুরতর আহত হয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা মামুন। সোমবার বিকালে উপজেলা সদরের বাওয়ার কুমারজানী গ্রামের পূর্বপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মিজানুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার দুপুরে খাওয়ার পর এএসআই মামুন তার কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে দুর্বৃত্তরা তার কক্ষে ঢুকে তাকে এবং তার স্ত্রীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্ত্রী শিল্পী বেগম মারা যান। মামুনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন। এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মামুনের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে মোয়াজ বিন মামুনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মামুনের বাবা আবুল কাশেম ও মা অজুফা বেগমকে আটক করেছে পুলিশ। একে//

পাঁঠার দাম ৩ লাখ টাকা!   

চলছে পাঁঠা ছাগলের বেচাকেনা। আগামী শুক্রবার সনাতন সম্প্রদায়ের মনসা পূজা। তাই পূজাকে সামনে রেখে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী পটিয়ায় পুরাতন থানা হাট ও ক্লাব রোডের নতুন থানা হাটে এবারও পাঁঠা ছাগলের বাজার বসেছে। ওই দুই হাটে শুধু পটিয়া নয়, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা ভিড় করেন। গত তিন সপ্তাহ ধরে চলছে জমজমাট বেচাকেনা। ইজারাদার ও পটিয়া পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, হাট দুটি আগামী ১৭ আগস্ট মনসা পূজার দিন পর্যন্ত একটানা চলবে।     সরেজমিন দেখা যায়, হাটে বিক্রেতারা একেকটি পাঁঠার দাম হাঁকছেন ২ থেকে ৩ লাখ টাকা। তাদের আশা, পূজা পর্যন্ত এখানকার হাটে কয়েক কোটি টাকার পাঁঠা বিক্রি হবে। তাই তাঁরা ইতোমধ্যে পর্যাপ্ত সংখ্যক পাঁঠা ছাগল এনেছেন। চট্টগ্রাম ছাড়াও পাবনা, রাজশাহীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বড় আকারের অসংখ্য পাঁঠা এনেছেন তাঁরা। বিক্রেতারা বলেন, বড় পাঁঠা বেচাকেনার জন্য পটিয়ার পুরাতন থানা হাটের শত বছরের ঐতিহ্য রয়েছে। এবারও দেশের সেরা পাঁঠা বিক্রেতারা পাঁঠা নিয়ে হাজির হয়েছেন এখানে। জানতে চাইলে পটিয়া পুরাতন থানা হাটে পাঁঠা কিনতে আসা স্বপন দাশ বলেন, ‘শুধু পটিয়া বা দক্ষিণ চট্টগ্রাম নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পাবনা, কুষ্টিয়া, রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, ভৈরব, সিলেট, যশোর ও সন্দ্বীপ থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা আসেন এখানে। পছন্দের পাঁঠা কিনে নিয়ে যান সবাই।’ পটিয়া নতুন থানা হাটে চক্রশালা গ্রামের খোকন মাঝি পাঁচটি পাঁঠা বিক্রি করতে এসেছেন। তাঁর পাঁঠাগুলোর মধ্যে তিনি একটি পাঁঠার দাম হাঁকেন দুই লাখ টাকা। আর একটি দেড় লাখ টাকা। ক্রেতারা ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় তাঁর পাঁঠা কিনতে চাইলেও তিনি রাজি না হওয়ায় তাঁর বড় পাঁঠাগুলো অবিক্রিত ছিল মঙ্গলবার পর্যন্ত। তিনি বলেন, ‘আরো কয়েকদিন হাট আছে। আশা করছি আরো বেশি দামে আমার পাঁঠাগুলো বিক্রি করা যাবে।’ পটিয়া নতুন থানা হাটে পাঁঠা বিক্রেতা স্বপন দাশ জানান, তিনি যশোর থেকে পাঁঠা এনেছেন বিক্রি করতে। দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত তাঁর পাঁঠার দাম ওঠেছে। নতুন থানা হাটের অন্যতম ইজারাদার লোকমান হাকিম বলেন, ‘এখানে পাঁঠার বাজারের সুন্দর পরিবেশ রয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে পাঁঠা আনা হয়েছে প্রচুর। টোল নিয়েও কোনো সমস্যা নেই।’ অপরদিকে পুরাতন থানা হাটের অন্যতম ইজারাদার আবদুল মান্নান বলেন, ‘পটিয়ার পুরাতন থানার হাটে সহজ যোগাযোগের কারণে বেচাকেনা বেশ ভালো হয়। যোগাযোগসহ সার্বিক অনুকূল পরিবেশ থাকায় পছন্দের পাঁঠা বেচাকেনায় ভিড় করেছেন সবাই।’    এসি      

হাসপাতাল থেকে তাড়িয়ে দেওয়ায় গাছের নিচে সন্তান প্রসব

প্রসব বেদনা নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন এক নারী। কিন্তু নার্সরা তাকে ভর্তি না করে তাড়িয়ে দেন। অনেক অনুনয়ের পরও একবারও ফিরে তাকায়নি হাসপাতালের কেউ। উপয়ন্তর না পেয়ে গাছের তলায় পিঁপড়ার বাসার উপর সন্তান প্রসব করেন এক মা। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোববার ভোরে সন্তান প্রসবের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় প্রসব ব্যথায় কাতর রিনা পারভীনকে (৩৫)। এ সময় চিৎকার করে ডাকার পরও কোনো সেবিকা বা হাসপাতালের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী তার সেবায় এগিয়ে আসেননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে এলাকার শত শত মানুষ হাসপাতালটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন। একই সঙ্গে তারা অমানবিক আচরণ করা বিশেষত সেবিকাদের শাস্তি দাবি করেছেন। ঘটনার শিকার রিনা পারভীন পার্বতীপুর উপজেলার হামিপুর ইউনিয়নের বাঁশপুকুর গ্রামের বাসিন্দা রিকশাচালক আবু তাহেরের স্ত্রী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, প্রসব বেদনা শুরু হলে রিনা পারভীনকে গতকাল ভোর সাড়ে ৫টায় ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। সে সময় হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক ছিলেন না। দায়িত্বরত নার্স রোজিনা আক্তার ও আফরোজা খাতুন প্রসব বেদনায় ছটফট করতে থাকা রিনাকে চেকআপ না করেই ‘এখানে হবে না’ বলে পার্শ্ববর্তী টিএম হেলথ কেয়ার এমদাদ-সিতারা কিডনি সেন্টারে নিয়ে যেতে বলেন। স্বজনরা অন্তত একবার প্রসূতিকে দেখার অনুরোধ জানালে ওই দুই নার্স তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। একপর্যায়ে প্রসূতি ও তার সঙ্গে থাকা লোকজনকে জোরপূর্বক হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়। হাসপাতাল থেকে বিতাড়িত হয়ে স্বজনরা প্রসূতিকে নিয়ে বিপাকে পড়ে যান। কারণ প্রচণ্ড ব্যথায় প্রসূতিকে নিয়ে কোথাও যাওয়ার মতো অবস্থা ছিল না। এ অবস্থায় স্বজনরা রোগীকে হাসপাতাল চত্বরের পূর্ব পাশে কামরাঙা গাছতলায় তড়িঘড়ি শুয়ে দেন। একপর্যায়ে সেখানেই খোলা আকাশের নিচে এক চা দোকানির স্ত্রীর সহযোগিতায় রিনা পারভীন একটি কন্যাসন্তান প্রসব করেন। ঘটনার সময় রিনা পারভীনের দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে রিপন চিৎকার করে ডেকে ও কাছে গিয়ে অনুনয়-বিনয় করেও ওই দুই নার্সের মন গলাতে পারেনি। তারা কেউ প্রসূতির কাছে আসেননি। আর প্রসূতিকে যেখানে রাখা হয় সেখানে পিঁপড়ার বাসা থাকায় পিঁপড়ার কামড়ে মা ও শিশুর শরীর ফুলে যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকার শত শত মানুষ এসে হাসপাতাল ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করে। তারা এমন অমানবিক আচরণের জন্য দোষী নার্সদের শাস্তি দাবি করে। খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে দোষীদের শাস্তির নিশ্চয়তা দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। বর্তমানে সদ্যোজাত সন্তান নিয়ে মা রিনা পারভীন ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই চিকিৎসাধীন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার সঞ্চয় কুমার গুপ্ত বলেন, হাসপাতালে কোনো মেডিকেল অফিসার নেই। তাই অনেক সময় সব চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না। তবে নার্সদের খারাপ আচরণের বিষয়টি নিয়ে সকালে আমরা মিটিং করেছি। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষী নার্সদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলেন, মা ও শিশু দুজনই সুস্থ আছে। দোষী নার্সদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরকে//

না.গঞ্জে দেড় লাখ মানুষের ঈদ জামাত আয়োজনের ঘোষণা শামীম ওসমানের

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার মতো নারায়ণগঞ্জেও ঈদুল আজহার নামাজের বৃহৎ জামাত আয়োজন করার ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান। গতকাল রোববার নারায়ণগঞ্জ ক্লাব কমিউনিটি সেন্টার মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন ও জেলার ৭ শতাধিক ইমাম ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে এক আলোচনা সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন। শামীম ওসমান  এ সময় বলেন, মানুষ বড় জামাতে অংশগ্রহণ করার চেষ্টা করে। কারণ লাখো মানুষের মধ্যে যদি একটা হাতের দোয়া আল্লাহ কবুল করেন তাহলে একজনের উছিলায় সবার দোয়া আল্লাহ কবুল করে নেবেন। তিনি বলেন, কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়াতে লাখ লাখ মানুষের জামাত হয়। নারায়ণগঞ্জ থেকেও লোকজন সেখানে যায়। তাই সবাই সম্মত হলে আমিও নারায়ণগঞ্জে এমন একটি জামাতের আয়োজন করতে চাই। যেখানে দেড় লক্ষাধিক মানুষ একসঙ্গে ঈদের জামাতে অংশগ্রহণ করতে পারবে। এই নারায়ণগঞ্জের জামাতকে যেন বাংলাদেশের মানুষ দেড়লাখিয়া জামাত বলতে পারে। এ ব্যাপারে তিনি জেলার উপস্থিত ৭ শতাধিক মসজিদের ঈমামদের মতামত নেন এবং জেলা প্রশাসক ও সিটি করপোরেশনের কাছে সহযোগিতা চান। ইমামরা আলোচনা করে সম্মতি দিলে জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়া ঈদ জামাতের আয়োজনের ব্যাপারে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন। / এআর /

ফেরি পারাপার বন্ধ শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়িতে

দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার শিমুলিয়া-কাঁঠালাবাড়ি নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ। রোববার দিবাগত রাত ১২টা থেকে নাব্য সঙ্কটের কারণে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেয়া হয় ফেরি সার্ভিস। একই সমস্যায় এর আগেও কয়েকদিন ফেরি সার্ভিস প্রায়ই বন্ধ রাখতে হয়েছিলো। শিমুলিয়ার বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) গিয়াস উদ্দিন পাটোয়ারী জানান, লৌহজং চ্যানেলের টার্নিং পয়েন্টে ফেরি চলাচলের জন্য নদীতে যে পরিমাণ নাব্য প্রয়োজন সেখানে মাত্র দুই থেকে আড়াই ফুট পানি রয়েছে। যা ফেরি চলাচলের জন্য অত্যন্ত নগন্য। তাই এখন চ্যানেলটি বন্ধ প্রায়। তিনি আরো জানান, এমতাবস্থায় গতরাতে কুমিল্লা, কাকলী, কিশোরী নামের তিনটি ফেরি লৌহজং টার্নিং পয়েন্টে আটকে যায়। যা গন্তব্যে না যেতে পেরে পুনরায় শিমুলিয়া ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছে। আরকে//

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি