ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই, ২০১৮ ১৭:০৮:৫৫

রাশিয়া বিশ্বকাপের সেরা পাঁচ গোল

রাশিয়া বিশ্বকাপের সেরা পাঁচ গোল

ফুটবল খেলায় গোল বড় বিষয়। যতই ভালো খেলোক কোনো দল গোল না করতে পারলে তার সেই দলের মূল্য থাকে না। জয়ের জন্য প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠাতে পারলেই সার্থকতা। নইলে কোনো সফলতা থাকে না। রাশিয়া বিশ্বকাপে মোট গোল হয়েছে ১৬৯টি। এই গোলগুলোর মধ্যে সেরা পাঁচটি বেছে নেওয়া শুধু কঠিনই নয়, প্রায় অসম্ভব। কিন্তু পাঁচটি গোলকে বেছে নেওয়া হয়েছে এই বিশ্বকাপের জন্য।ড্যানিশ চেরিশভ- সোচিতে এবারের বিশ্বকাপের শেষ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ ছিল স্বাগতিক রাশিয়া ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যে। ম্যাচের ৩১ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে ছুটছিলেন রাশিয়ান উইঙ্গার ড্যানিশ চেরিশভ। সামনে থাকা আর্তেম জুবাকে বল বাড়িয়ে তিনি ছুটছিলেন ডি বক্সের দিকে। জুবা আবার চেরিশভকে পাস দিলেন। আর সেখান থেকেই বাঁ পায়ের দূরপাল্লার শট চেরিশভের। আর এরই সঙ্গে ম্যাচের প্রথম গোলও পেয়ে যায় রাশিয়া। এবারের বিশ্বকাপে অন্যতম মনকাড়া গোল ছিল এটি। যদিও এই ম্যাচে পেনাল্টিতে হেরে যায় রাশিয়া।বেঞ্জামিন প্যাভার্ড-কাজানে এবারের বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম খেলা। একদিকে গ্রুপ `সি`র চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স আর অন্যদিকে গ্রুপ `ডি`র রানার্সআপ আর্জেন্টিনা। নকআউটের খেলাটিতে ছিল টান টান উত্তেজনা। ম্যাচে তখন ২-১ গোলে এগিয়ে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৫৭ মিনিটে মাঠের বাঁ পাশ দিয়ে ফ্রেঞ্চ ডিফেন্ডার লুকাস হার্নান্দেজের লম্বা ক্রসে বল চলে যায় ডি বক্সের ডান পাশে। আর সে জায়গায় ছিলেন আরেক ফরাসি ডিফেন্ডার বেঞ্জামিন প্যাভার্ড। ডি বক্সের বাইরে থেকেই ডান পায়ের জোরালো শট। আর্জেন্টিনার গোলকিপার ফ্রাঙ্কো আরমানির গোলটি ঠেকানোর কোনো সাধ্যই ছিল না। বলটি ঘুরতে ঘুরতে গোলপোস্টের বা কোনা দিয়ে ঢুকেছিল আর্জেন্টিনার জালে। এটাও সেরা গোলের মধ্যে একটি।টনি ক্রুস-গ্রুপ `এফ`-এ থাকা সুইডেনের সঙ্গে সেই ম্যাচটি না জিতলে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে জার্মানদের বিদায় নিশ্চিত হতো। কেননা প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে ১-০তে হেরেছিলেন জোয়াকিম লোর শিষ্যরা। জার্মানদের জন্য বাঁচামরার লড়াইয়ের ম্যাচটি তখন ১-১ গোলে সমতা বিরাজ করছিল। ম্যাচের শেষ দিকে জার্মানির বিদায়ের ঘণ্টা বাজতেও শুরু করেছিল। নির্ধারিত সময় পার হয়ে চলছিল অতিরিক্ত সময়ের খেলা। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটই জার্মানদের জন্য সুযোগের বরাত নিয়ে এলো। সুইডেনের ডি বক্সের বাইরে মাঠের বাঁ পাশ দিয়ে একটি ফ্রি কিক পায় জার্মানি। শেষ মিনিটে শেষ ভরসা ছিলেন টনি ক্রুস। মার্ক রিউসের সঙ্গে আগে থেকেই তিনি পরামর্শ করে নিলেন যে, বলটি কীভাবে মারবেন? রিউস ডি বক্সের লাইনের মধ্যে দাঁড়ানো আর ক্রুস বল নিয়ে ডি বক্সের বাইরে। রেফারি বাঁশি বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে রিউসের দিকে বলটি সামান্য ঠেলে দিলেন ক্রুস। এই গোলটিও সেরা গোলের মধ্যে অন্যতম এই বিশ্বকাপে।কেভিন ডি ব্রুইন-রাশিয়া বিশ্বকাপের দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল ও বেলজিয়াম। কাজান এরেনার এ ম্যাচটিতে ব্রাজিল প্রথমেই পিছিয়ে পড়ে ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার ফার্নান্দিনহোর আত্মঘাতী গোলে। ১৩ মিনিটের সেই গোলের পর ব্রাজিলকে প্রথমার্ধে আরও একটি গোল হজম করতে হয়। ম্যাচের ৩১ মিনিটে বেলজিয়ামের মাঝ মাঠে থেকে বল নিয়ে ছুটছিলেন রোমেলু লুকাকু। মাঝমাঠ থেকে তিনি বল বাড়িয়েছিলেন মাঠের ডান পাশে ডি ব্রুইনের উদ্দেশ্যে। ঠিক ডি বক্স সীমানা থেকে আড়াআড়ি শট ডি ব্রুইনের। বেলজিয়ামও পেয়ে গেল তাদের দ্বিতীয় গোল। আর এই গোলটিও সেরা গোলের মধ্যে অন্যতম ধরা হচ্ছে।ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো-সোচিতে নিজেদের প্রথম খেলা গ্রুপ `বি`-তে থাকা স্পেন ও পর্তুগালের। ম্যাচের ৮৮ মিনিটের আগ পর্যন্ত স্পেন ৩-২ গোলে এগিয়ে ছিল। স্পেনের পক্ষে দিয়েগো কস্তার জোড়া গোল করেছিল। অন্য গোলটি করেছিলেন নাচো। আর পর্তুগালের পক্ষে জোড়া গোল ছিল রোনালদোর। তবে ঠিক ৮৮ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে রোনালদোর ফ্রি কিক। বল ততক্ষণে স্পেনের জালে। পাঁচবারের ব্যালন ডি`অর জয়ী রোনালদো ক্যারিয়ারের ৫১তম হ্যাটট্রিকও তুলে নিলেন। এই গোলটিও সেরা গোলের মধ্যে অন্যতম বলে মনে হয়।এসএইচ/
রাতের উল্লাসে ফরাসি চুম্বন

দমকলের ইঞ্জিন বা পুলিশের গাড়িকে জনতার উৎসবে শামিল হতে দেখেছেন কখনও? আমি দেখলাম। প্যারিসের শঁজে লিজে-তে দাঁড়িয়ে। কুড়ি বছর পরে ফ্রান্সের ফের বিশ্বজয়ের আবেগের স্রোত তখন বয়ে যাচ্ছে ইতিহাস প্রসিদ্ধ রাজপথে। আবেগ কি শুধু প্যারিসে? খেলা শেষ হতেই মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট কোলিন্দা গ্রাবার-কিতারোভিচকে চুম্বন করলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরঁ। আকাশ ভেঙে নেমে এল বৃষ্টি। আর আমি দেখছি শ্যাম্পেনের বৃষ্টি। তাই দাঁড়িয়েছি রাস্তার ধার ঘেঁষে। সারা বছর তো গাড়িগুলো এভাবে হর্ন বাজায় না! আজ তারা হর্ন বাজাচ্ছে পাগলের মতো। সেই সঙ্গে টানা বেজে চলেছে পুলিশ আর দমকলের গাড়ির সাইরেন! উদ্বেগে নয়, আনন্দে। গাড়ির গায়ে ঝুলছে ফ্রান্সের জাতীয় পতাকা। কত লোকের হাতে ভুভুজেলা, কেউ বা গান গাইছে। আকাশ আলোয়-আলো আতসবাজিতে। ঢাকার নারায়ণগঞ্জের ছেলে আমি। প্যারিস ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছি। থাকি নোয়াজ়ি শ্য এলাকায়। প্যারিস এখান থেকে ট্রেনে ২০-২৫ মিনিট। প্রায় গোটা বিশ্বকাপটাই বাড়ির টিভিতে দেখেছি। এমনিতে আমি আড়ালজীবী মানুষ। বন্ধুদের পীড়াপীড়িতে সেমিফাইনাল দেখতে গিয়েছিলাম প্যারিসের ‘ওতেল দ্যু ভিল’-এর বড় স্ক্রিনে। সে কী পাগলামি! বুঝে গিয়েছিলাম, একটা ঢেউ এসেছে, আমাদের ভাসিয়ে নিয়ে যেতে। অঁনে অঁ ফিনাল... অঁনে অঁ ফিনাল! আমরা ফাইনালে। সেমিফাইনালের পর থেকেই উড়ে বেড়াচ্ছিল সুরটা। ওই সুর মাথায় নিয়েই আজ তৈরি হচ্ছিলাম ফাইনাল দেখব বলে। ‘ওতেল দ্যু ভিল’-এই যেতাম। হঠাৎ সকালে ইরানের বন্ধু আলির ফোন। আমার পরিকল্পনা শুনে বলল, ‘পাগল! বাস্তিল প্যারেড যেখানে হয়, সেই শ্যন দু মার্সে এসো। কয়েক হাজার লোক বড় স্ক্রিনে খেলা দেখবে।’ বেলা ২টো নাগাদ সেখানে পৌঁছে দেখি, যাহ্! গেট বন্ধ। বিন্দুমাত্র জায়গা নেই। এগোলাম শঁজে লিজের দিকে। একটা পানশালা দেখে মনে হল, এখানে খেলাটা দেখা যাবে। ঢুকে পড়লাম ‘দ্য আইডিয়াল বার’-এ। বসার জায়গা পাওয়ার প্রশ্ন নেই। ঠাণ্ডা পানীয়ের বোতল নিয়ে একটা টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে গেলাম।  ‘আলে লে ব্ল্যু, আলে লে ব্ল্যু’- টিভিতে চোখ রেখে ‘নীল দলের’ এগিয়ে যাওয়ার গান গাইছে সদ্য-যুবক থেকে বৃদ্ধ। টলতে টলতে একটা ছেলে এসে বলল, ‘দিনটা কিন্তু ফ্রান্সের।’ খেলা শুরু হতেই গর্জনে কেঁপে উঠল বার। মদ্রিচকে টিভিতে দেখেই বিদ্রুপ— ‘বুড়োর দল, বাড়ি যাও!’ সেখানে এমবাপেকে ওরা বলছেন ‘প্রোশেইন প্রেসিদঁ’। মানে? পরবর্তী প্রেসিডেন্ট! গোড়ায় অবশ্য ‘বুড়োদের’ বেশ ধারালোই মনে হচ্ছিল। এমন সময়ে আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে গেল ফ্রান্স। দেখি, বারের মালিকও ভিড়ের মধ্যে এসে নাচছেন। আমি এক পাশে দাঁড়িয়ে ঘামতে ঘামতে লিখছিলাম। মালিকের স্ত্রী এগিয়ে এসে কথা বললেন। তার পর এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানি আর কয়েকটা টিসু দিয়ে গেলেন। বলতে বলতে গোল শোধ ক্রোয়েশিয়ার! মনে হল, একটা বাজ পড়ল ঘরের মধ্যে। মদ্রিচ-পেরিসিচদের নিশানা করে ছুটল অভিশাপের বন্যা। এক বুড়ো তো বিয়ারের গ্লাসটাই ছুড়ে ফেললেন। তার পর গ্রিজম্যান, পোগবা, এমবাপে পরপর গোলগুলো করার পরে স্বস্তি পেলেন সবাই। অপেক্ষা তখন শুধু উৎসব শুরুর। শেষ বাঁশি বাজতেই ভিড়টা ছুটল দরজার দিকে। তাড়াতাড়ি পৌঁছতে হবে শঁজে লিজেতে! আজ প্যারিসে রাত নেমেছে ঠিকই। নামেনি প্যারিসবাসীর চোখে। সূত্রঃ আনন্দবাজার একে//

অবশেষে কাঁদলেন তিনি...

২০১৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে গতকাল রোববার। এবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফ্রান্স। ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে ফ্রান্স বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুট পড়ে। ফাইনাল ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াও ভালো খেলেছে বলে ফুটবল বিশ্লেষকরা জানান। আর এই ভালো খেলার নেপত্বে কাজ করেছে ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট কোলিন্দে গ্রাবার-কিটরোভিচ। তিনি খেলোয়াড়দের সব সময় হাসি মুখে উৎসাহ দিয়েছেন ভালো খেলার জন্য। মাঠে থেকেছেন খেলোয়াড়দের সাহস যোগানোর জন্য। কিন্তু ফাইনালে হেরে নিজ দলের প্রিয় খেলোয়াড়কে জড়িয়ে ধরে আবেগে চোখের জল ফেললেন ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট।   তাই ফাইনাল ম্যাচের দিনও তিনি উপস্থিত ছিলেন স্টেডিয়ামে। ক্রোয়েটদের এক একটা জয় তিনি যেভাবে সেলিব্রেট করেছেন তাতে প্রতি বারই মনে হয়েছে, যেন ‘বিশ্বকাপ জিতেছেন’। মাঠে যখনই এসেছেন, পরনে ছিল তাদের জাতীয় পোশাকের জার্সি। ভিআইপি বক্স থেকে দেখেছেন ক্রোটদের প্রতি আক্রমণ। ফাইনালেই স্বপ্নভঙ্গ হলো ক্রোটদের। ৪-২ গোলে জিতল ফ্রান্স। নতুন চ্যাম্পিয়ন থেকে বঞ্চিত ফুটবল বিশ্ব। চোখ ছলছল লাল-সাদা সমর্থকদের। এতো কাছে এসেও ধরা গেলো না। কেবল একটা চুমুই ছুঁয়ে গেল বিশ্বকাপের গায়ে। সেটাও ক্রোয়োশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানের। ভিকট্রি স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ‘সোনার ছেলে’ মদ্রিচকে জড়িয়ে এই প্রথম কাঁদতে দেখা গেলো তাকে। তবে ‘ছেলে’র হাত ছাড়েননি কোলিন্দে গ্রাবার-কিটরোভিচ। ইতিহাসে নাম লেখানো এই ক্রোটদের বাহবা দিয়ে তিনি লিখলেন, “অবর্ণনীয়। তোমাদের মধ্যে আগুন আছে। তোমরা সাহসী। সিংহের সঙ্গে লড়াই করে ইতিহাস তৈরি করেছ। আমরা তোমাদের জন্য গর্বিত”। এসএইচ/

ইউরো হারে আজ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আমরা: দিদিয়ে

দু’বছর আগে ঘরের মাঠে পর্তুগাল ছিনিয়ে ছিল ইউরো জয়ের খেতাব৷ ২০১৮ সালে মাত্র দু’বছররের ব্যবধানে বিশ্বজয়৷ দিদিয়ে কী এমন জাদু করলেন ফরাসি ফুটবলে! এই প্রশ্নের উত্তর নিজেই দিচ্ছেন বিশ্বজয়ী ফরাসি কোচ৷ জানাচ্ছেন আজকের এই জয়টার জন্য সেদিন ইউরোর ওই হারটা প্রয়োজন ছিল৷ ফরাসি ফুটবলাদের অনেককিছু শিখিয়ে ছিল ২০১৬ ইউরোর ফাইনাল৷ প্রথমবার ফ্রান্সকে বিশ্বকাপের স্বাদ দিয়েছিলেন অধিনায়ক হিসেবে এবার তিনি কোচের আসনে৷ দেশকে দ্বিতীয়বারের জন্য বিশ্বকাপ এনে দেওয়ার পর দিদিয়ে জানান, কী ঘটে গেছে আমরা আগামীকাল উপলব্ধি করতে পারব৷ এ মুহূর্তে ছেলেরা জানে না বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা কি৷ এরপরই দু’বছর আগের ইউরোর ফাইনাল হারের কথা উল্লেখ করে ফরাসি কোচ বলেন, দু’বছর আগে যদি আমরা ইউরো চ্যাম্পিয়ন হতাম, তাহলে আজ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে পারতাম না৷ ওই হার থেকে আমি অনেক শিখেছিলাম৷ ইউরোর ফাইনাল ভিন্নরকম ছিল৷ এবার আমরা শান্ত থাকার চেষ্টা করেছিলাম এবং ছেলেরা জানত তাদের কী করতে হবে, ঝুঁকিটা কোথায়৷ নকআউটে টানা তিনবার পিছিয়ে থেকে কামব্যাক! ফাইনালে আর হয়নি ক্রোয়েশিয়ার জন্য৷ প্রথমার্ধে ২৮মিনিটে পিছিয়ে থেকে পেরিসিচের দুরন্ত গোলে ম্যাচ ফিরেছিল মদ্রিচরা৷ দ্বিতীয়ার্ধেও ১-৪ পিছিয়ে থেকে ৬৯ মিনিটে ফ্রান্স গোলরক্ষক লরিসের ভুলের সুযোগ নিয়ে ব্যবধান কমিয়ে ২-৪ করেন মানজুকিচ৷ শেষ রক্ষা অবশ্য হল না৷ ক্রোয়েশিয়ার স্বপ্নের দৌড় শেষ ফাইনালে৷ রানার্স হয়েই মাঠ ছাড়ল মদ্রিচ অ্যান্ড কোং৷ বৃষ্টিতে ঢাকা পড়ল রাকিটিচদের কান্না! ৬ গোলের থ্রিলার জিতে দ্বিতীয় বারের জন্য বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স৷ শেষবার ১৯৯৮ সালে দেশের মাটিতে দেশঁ’র নেতৃত্বে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্রান্স৷ ১৯৯৮ সালে দেশের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন দেশঁ৷ ঘরের মাঠে ব্রাজিলকে ৩-০ হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্রান্স৷ সেই দলে ফরাসিদের নেতৃত্বের ব্যাটন ছিল দেশঁর হাতে৷ রবিবার ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়নের স্বাদ পেলেন ফরাসি খেলোয়াড়রা৷ এমবাপে-গ্রিজমানদের কোচের ভূমিকায় ছিলেন ৪৯ বছরের দেশঁ৷ দেশের আগে অসাধারণ এই কৃতিত্ব প্রথম দেখিয়েছিলেন জাগালো৷ ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ জেতার পর ১৯৭০ সালে কোচ হিসেবে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতান তিনি৷ তার পর এই কৃতিত্বের অধিকারী হন বেকেনবাওয়ার৷ ১৯৭৪ সালে সে সময়ের পশ্চিম জার্মানিকে বিশ্বকাপ জয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার পর ১৯৯০ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে কোচ হিসেবে জার্মানিকে বিশ্বকাপ জেতান বেকেনবাওয়ার৷ আরকে//

ফ্রান্সে প্রদীপের নিচে অন্ধকার রয়েই গেল!

২০১৫ থেকে ফ্রান্সে জঙ্গি হামলায় প্রায় ২৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল নিস-হামলা। ক্রমাগত জঙ্গি হামলায় বিধ্বস্ত ফ্রান্সে জাতিবিদ্বেষ, বর্ণবিদ্বেষ যেন নতুন করে জন্ম নিয়েছে। অনেকে প্রত্যাশা করেছিলেন বিশ্বকাপের জয় এসব ভুলিয়ে আবারও এক ছাতার তলায় আনবে গোটা ফ্রান্সকে। প্যারিসে হাজারো সমর্থকদের উচ্ছ্বাস দেখলে হয়তো সাময়িকভাবে মনে হবে সংহতির কাজটি করে দিয়েছেন পোগবা, কন্তেরা। কিন্তু প্রদীপের নিচে অন্ধকার সেই রয়েই গেল। প্যারিস, মার্সেই, নিস দেশের সব প্রান্ত থেকেই খবর এল হিংসার। কোথাও পুলিশের সঙ্গে ধ্বস্তাধ্বস্তি অত্যুৎসাহী সমর্থকদের। কোথাও আবার আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে গাড়িতে। স্থানীয় সুত্রের খবর, এসব গোষ্ঠী সংঘর্ষের ফল। আরকে//

কাজে আসেনি উট, ভালুকের ভবিষ্যদ্বাণী

মস্কোর মেগা ফাইনালের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল দুবাইয়ের `জ্যোতিষি` উট শাহিন। সম্ভাব্য বিশ্বকাপজয়ী হিসেবে শাহিনের ভবিষ্যদ্বাণী ছিল প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা ক্রোয়েশিয়া। উট শাহিনের পাশাপাশি ফাইনালের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল রাশিয়ার ভালুক বুয়ান। তারও ভবিষ্যদ্বাণী ছিল বিশ্বকাপ জিতবে ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু বাস্তবে মিলল না শাহিন, বুয়ানের ভবিষ্যদ্বাণী। ফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারায় ফ্রান্স। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ঘরে তুলল ফরাসিরা। মস্কোয় শাহিন, বুয়ানের ভবিষ্যদ্বাণী ভুল প্রমান করে দিল এমবাপে, গ্রিজম্যানরা। বিশ্বকাপের `সরকারি জ্যোতিষী` বিড়াল একিলিস ভবিষ্যদ্বাণী ঠিক মতো করতে পারেনি। রাশিয়া বিশ্বকাপের শুরুতে শাহিনের করা প্রায় সব ভবিষ্যদ্বাণী ভুল হয়েছিল। তবে নকআউট পর্ব থেকে ধীরে ধীরে ফর্মে ফেরে দুবাইয়ের `জ্যোতিষি` উট। দু`টি সেমিফাইনালের সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী করে আবার শিরোনামে চলে আসে। কিন্তু ফাইনালে ডাঁহা ফেল শাহিনের গনণা। আরকে//

রাশিয়া বিশ্বকাপ: সেরা একাদশে যারা

জমকালো এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে গত ১৪ জুন, পর্দা উঠেছিল রাশিয়া বিশ্বকাপের। গতকাল রোববার লুজনিকিতে ফাইনাল দিয়ে পর্দা নেমেছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই মহাযজ্ঞের ২১তম আসরের। সেই সঙ্গে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে ফ্রান্স। ধারাবাহিক খেলায় সবার নজড় কাড়া ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলল ফরাসিরা। প্রথমার্ধে ২-১ গোলে এগিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে এসে ক্রোয়েশিয়ার জালে আরও দুইবার বল জড়ায় ফ্রান্স। রাশিয়া বিশ্বকাপে নানা ঘটন-অঘটনের মধ্য দিয়ে জন্ম হয়েছে নতুন নতুন রেকর্ড ও গল্পের। ফুটবলারদের নৈপুণ্যের গল্পের। তাই এই আসর মনে রাখার অনেক কারণ আছে। অনেক গল্প, অনেক ঘটনা মানুষের হৃদয় আন্দোলিত করে রাখবে বহুদিন। রাশিয়া বিশ্বকাপকে মনে রাখার অনেক উপায়ও আছে। যার একটি সেরা তারকাদের মনে রাখা, যারা নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে সমর্থকদের মন জয় করেছেন। বিশ্বকাপ শেষে ঘোষণা করা হয়েছে বিশ্বকাপের এবারের আসরের সেরা একাদশ। ফিফার সেরা একাদশে জায়গা পেয়েছেন ৫ দেশের ১১ খেলোয়াড়। চলুন ফুটবলপ্রেমীদের মন জয় করে নেওয়া রাশিয়া বিশ্বকাপের সেরা একাদশ দেখে নেওয়া যাক- ১. জর্ডান পিকফোর্ড (গোলরক্ষক, ইংল্যান্ড)। ২. রাফায়েল ভারানে (সেন্টার ব্যাক, ফ্রান্স)। ৩. দোমাগোজ ভিদা (সেন্টার ব্যাক, ক্রোয়েশিয়া)। ৪. দিয়েগো গদিন (সেন্টার ব্যাক, উরুগুয়ে)। ৫. কেভিন দে ব্রুইনি (মিডফিল্ডার, বেলজিয়াম)। ৬. লুকা মদ্রিচ (সেন্টার মিডফিল্ডার, ক্রোয়েশিয়া)। ৭. এনগোলো কন্তে (সেন্টার মিডফিল্ডার, ফ্রান্স)। ৮. ইভান পেরিসিচ (মিডফিল্ডার, ক্রোয়েশিয়া)। ৯. কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফরোয়ার্ড, ফ্রান্স)। ১০. ইডেন হ্যাজার্ড (ফরোয়ার্ড, বেলজিয়াম)। ১১. আঁতোয়া গ্রিজমান (ফরোয়ার্ড, ফ্রান্স)। রাশিয়া বিশ্বকাপ শুরুর আগে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বা ব্রাজিলের নেইমাররা তুমুল আলোচনায় ছিলেন। কিন্তু এ আসরে কেউই তেমন চমক জাগাতে পারেননি। তাই এই একাদশে জায়গা হয়নি তাদের। একে//

পেলের পরেই এমবাপে

সাল ১৯৫৮। ১৭ বছরের একটি ছেলে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করে সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তার জোড়া গোলে বিশ্ব সেরার খেতাব পেয়েছিল ব্রাজিল। আর সেই সঙ্গে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করা কনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে ফুটবল ইতিহাসে নামও তুলেছিলেন। তিনি বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তি পেলে। ৬০ বছর পর সেই নজিরের পুনরাবৃত্তি হল ২০১৮-র বিশ্বকাপ ফাইনালে। পেলের পর এ বার সেই বিরল নজির স্পর্শ করলেন ১৯ বছরের কিলিয়ান এমবাপে। রবিবার বিশ্বকাপ ফাইনালের ৬৫ মিনিটে ফরাসি তরুণের পা থেকে বল গোলে ঢুকতেই ফিরে এল ’৫৮-র স্মৃতি। মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়াম এ দিন সাক্ষী থাকল এমবাপের অনন্য কৃতিত্বের। এই বিশ্বকাপে শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন এমবাপে। নিজে ৪ গোল করার পাশাপাশি আটটিরও বেশি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন পিএসজি-র এই তরুণ। ফাইনালে ২৫ গজ দূর থেকে জোরালো শটে দলের হয়ে চতুর্থ গোল করেন এমবাপে। নিজের এই কীর্তির সর্বোত্তম পুরস্কারও পেয়ে গিয়েছেন এই ‘ফ্রেঞ্চ কিড’। এমবাপের গোলের পরেই টুইট করেন স্বয়ং পেলে। টুইটে তিনি লিখেছেন, ‘‘দ্বিতীয় কনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করার ক্লাবে তোমাকে স্বাগত এমবাপে। তোমাকে নিজের সঙ্গী হিসেবে পেয়ে আপ্লুত। তবে কনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার তালিকায় এমবাপে তৃতীয় স্থানে। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে পেলে, ১৯৮২ বিশ্বকাপে গিসেপে বার্হোমি এবং ২০১৮-য় কিলিয়ান এমবাপে। এই তিন কনিষ্ঠ ফুটবলার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেললেও গোল পাননি একমাত্র বার্হোমি-ই। তাই ১৯৮২-তে তাঁর দেশ ইতালি বিশ্ব জয় করলেও গোল আসেনি বার্হোমির পা থেকে। আরকে//

এ রকম বিতর্কিত পেনাল্টি আপনি দিতে পারেন না: ক্রোট কোচ

শেষ হলো রাশিয়া বিশ্বকাপ মিশন। ধারাবাহিক খেলায় সবার নজড় কাড়া ক্রোয়েশিয়াকে ফাইনালে ৪-২ গোলে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলল ফ্রান্স। প্রথমার্ধে ২-১ গোলে এগিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে এসে ক্রোয়েশিয়ার জালে আরও দুইবার বল জড়ায় ফ্রান্স। এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো রেফারিদের সহায়তা করার জন্য ভিডিও প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে, যেটিকে ভিএআর বলা হয়। গ্রুপ পর্যায়ে এ প্রযুক্তির ব্যবহার করা হলেও নক পর্যায়ে এটি তেমন একটা ব্যবহার করা হয়নি। কিন্তু ফাইনাল ম্যাচে ফ্রান্সকে পেনাল্টি দেওয়ার জন্য ভিএআর ব্যবহার করা হয়েছে। ফ্রান্সের কর্নার থেকে ক্রোয়েশিয়ার ইভান পেরিসিচ এর হাতে যখন বল লাগে তখন রেফারি তাৎক্ষনিকভাবে পেনাল্টি দেননি। কিন্তু ভিডিও অ্যাসিসটেন্স রেফারির সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলাপের পর তিনি নিজেই ভিডিও দেখতে মাঠের বাইরে যান এবং এরপর পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। এ পেনাল্টি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ইংল্যান্ডের সাবেক খেলোয়াড় অ্যালান শিয়েরার মনে করেন এটা একটা ‘হাস্যকর সিদ্ধান্ত’। কারণ ক্রোয়েশিয়ার ইভান পেরিসিচ ইচ্ছাকৃত হ্যান্ডবল করেননি। পেনাল্টি দেওয়ার বিষয়টিকে ‘খারাপ সিদ্ধান্ত’ হিসেবে দেখছেন আরেকজন ফুটবল বিশ্লেষক এবং ইংল্যান্ডের সাবেক খেলোয়াড় রিও ফার্ডিনান্ড। বিশ্বকাপ মিশনে ক্রোয়েশিয়াকে ফাইনালে তুলেও শিরোপা জয়ের স্বাদ এনে দিতে পারেননি দলটির কোচ জ্লাতকো দালিচ। আর ম্যাচ শেষে সেই আক্ষেপই ঝড়লো কোচের কথায়। বিশ্বকাপ জেতার জন্য ফ্রান্সকে অভিবাদন জানিয়ে ক্রোয়েশিয়ার কোচ বলেন, আমরা ম্যাচের প্রথম ২০মিনিট অনেক ভাল খেলেছি। এরপরই আত্মঘাতী গোলটি হল। তারপরও আমরা ম্যাচে ফিরেছিলাম। কিন্তু এরপরই পেনাল্টি দেওয়া হল। আমি রেফারির বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাই না। তবে এটুকু বলব, ফাইনাল ম্যাচে এরকম একটি বিতর্কিত পেনাল্টি আপনি দিতে পারেন না। দালিচ বলেন, সম্ভবত এই টুর্নামেন্টে এই ম্যাচেই আমরা সেরা খেলা খেলেছি। আমরা ম্যাচটা নিয়ন্ত্রণ করলেও পরাজিত হয়েছি। ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী একটি দলের বিপক্ষে আপনাকে অবশ্যই ভুল করা যাবে না। আমরা কিছুটা মর্মাহত হলেও যা করেছি তার জন্য গর্বিত হওয়া উচিত। ক্রোট কোচ বলেন, আমরা খুব করে বিশ্বকাপটা জিততে চেয়েছিলাম কিন্তু এটাই ফুটবল। ফরাসিরা আমাদের বিস্মিত করেনি। আমরা দুটি ‘সফট গোল’ খেলাম, সঙ্গে একটা আত্মঘাতী ও একটা পেনাল্টি থেকে গোল। ভাগ্যের দিক থেকে আমরা এই টুর্নামেন্টে যে সাহায্য পেয়েছিলাম, আজ সেটার ঘাটতি ছিল। যখন আপনি চার গোল খেয়ে ফেলবেন, তখন আপনি জয় আশা করতে পারেন না। একে//

সাম্পাওলিকে ছাঁটাই করলো আর্জেন্টিনা

বাছাইপর্ব কোনোরকমে পার হয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপে উঠলেও মূল আসরের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। আর সেই ব্যর্থতার দায়ে কোচ হোর্হে সাম্পাওলিকে ছাঁটাই করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। এক বিবৃতিতে এএফএ জানিয়েছে, দুই পক্ষের সমঝোতায় বাতিল করা হয়েছে সাম্পাওলির চুক্তি। যাতে তার সঙ্গে থাকা ফিজিও, ভিডিও অ্যানালিস্ট ও সহকারী কোচেরও চুক্তি বাতিল হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি আর্জেন্টাইন ফুটবলের ‘উন্নতি’র পথে অবদান রাখার জন্য ধন্যবাদও জানিয়েছে বিদায়ী এই কোচকে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব থেকেই ছিটকে পড়ার শঙ্কা কাটিয়ে কোনোমতে রাশিয়ার টিকেট পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। আইসল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ ড্রয়ে যাত্রা শুরুর পর ক্রোয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কায় পড়েছিল দেশটি। তবে শেষ ম্যাচে নাইজেরিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বে ওঠে দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু বেশি দূর যেতে পারেনি তারা। শেষ ষোলোয় ফ্রান্সের কাছে হেরে যায় ৪-৩ গোলে। রাশিয়া বিশ্বকাপে বাজে পারফরম্যান্সের পর অনূর্ধ্ব-২০ দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাকে। যদিও আর্জেন্টাইন মিডিয়ার খবর ছিল যুব দলের দায়িত্ব নিতে রাজি নন সাম্পাওলি। তাই এএফএ প্রধান ক্লাউদিও তাপিয়ার সঙ্গে বৈঠকে বসেন ৫৮ বছর বয়সী এ কোচ। তারপর থেকেই জোরালো গুঞ্জন ওঠে সাম্পাওলি আর থাকছেন না লিওনেল মেসিদের কোচের ভূমিকায়। অবশেষে চূড়ান্ত ঘোষণা এলো রোববার রাতে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তি থাকলেও মাত্র ১৪ মাসের মাথায় আর্জেন্টাইন ফুটবলে শেষ হয়ে গেল সাম্পাওলি অধ্যায়। সাম্পাওলিকে ছাঁটাই করে অবশ্য বিপুল মাশুল গুনতে হচ্ছে আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশনকে। গোল ডটকমের খবর, ২০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে তাকে। অনেক প্রত্যাশা নিয়ে ২০১৭ সালের মে মাসে সেভিয়া থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল সাম্পাওলিকে। স্প্যানিশ ক্লাবটি থেকেও তাকে আনতে মোটা অঙ্কের অর্থ দিতে হয়েছে। যদিও প্রত্যাশাটা একেবারে পূরণ করতে পারেননি চিলির কোপা আমেরিকা জয়ী সাবেক কোচ। রাশিয়া বিশ্বকাপে নানা কারণে আলোচিত ছিলেন সাম্পাওলি। বিভিন্ন কম্বিনেশনে দলকে মাঠে নামানো, সিনিয়র খেলোয়াড়দের সঙ্গে দূরত্ব, দ্বন্দ্ব- সব মিলিয়ে দলের সঙ্গে ভালো সময় যাচ্ছিল না এই কোচের। সাম্পাওলির অধীনে আর্জেন্টিনা খেলেছে ১৫ ম্যাচ, যেখানে ৭ জয়ের সঙ্গে ৪টি করে ড্র ও হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা হয় দলটির। সাম্পাওলির পরিবর্তে আর্জেন্টিনা দলের দায়িত্ব কে নেবেন, সে ব্যাপারে এখনও কোনও কিছু নিশ্চিত করেনি এএফএ। একে//

মেসি-রোনালদোকে ছাড়িয়ে যাবেন এমবাপে?

শেষ হলো রাশিয়া বিশ্বকাপ মিশন। ফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে বিধ্বস্ত করে ফ্রান্স দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব ফুটবলের মুকুট জয় করে নিয়েছে। বিশ বছর পর ফ্রান্স আবারো বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিলো। এবার ফ্রান্স দলে যে তিনজন খেলোয়াড় সবচেয়ে বেশি আলোচিত ছিলেন তারা হলেন - কিলিয়ান এমবাপে, অ্যান্তোনিও গ্রিজম্যান এবং পল পগবা। রাশিয়ার বিশ্বকাপ আসরে তরুণ এবং উদীয়মান সেরা খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে। তার গতিময় ফুটবল এবং প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ানো সবার দৃষ্টি কেড়েছে। ১৯ বছর বয়সী ফ্রান্সের এ খেলোয়াড় ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে তার দলের জন্য চতুর্থ গোলটি করেন। ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার রিও ফার্ডিনান্ড-এর মতে লিওনেল মেসি এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো তাদের মুকুট হস্তান্তর করে দিচ্ছেন কিলিয়ান এমবাপের কাছে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক খেলোয়াড় রিও ফার্ডিনান্ড মনে করেন, সামনের দিনগুলোতে কিলিয়ান এমবাপে বিশ্ব সেরা খেলোয়াড়ের খেতাব অর্জন করবেন। ‘আমি আশা করি, আমার সাবেক ক্লাব তার পেছনে ছুটছে। পল পগবার সঙ্গেও তার ভালো যোগাযোগ আছে,’ বলেন ফার্ডিনান্ড। বর্তমানে তিনি `লোনে` খেলছেন ফরাসী ক্লাব প্যারিস সঁ জার্মেইনের হয়ে। এর মধ্যে তিনি দু`বার ফরাসি লীগ জিতেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এখন এই প্যারিস সঁ জার্মেইন ক্লাবে স্থায়ীভাবে খেলার ব্যাপারে তার সঙ্গে ১৮ কোটি ইউরোর একটি চুক্তি হতে পারে। তিনি হচ্ছেন বিশ্বে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড়দের মধ্যে দ্বিতীয় যিনি বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করেছেন। এর আগে ১৯৫৮ সালে ব্রাজিলের ফুটবল কিংবদন্তি পেলে ১৯৫৮ সালে সর্ব কনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করেছিলেন। ৩৩ বছর বছর বয়সী পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং ৩১ বছর বয়সী আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি গত এক দশক ধরে বিশ্বের সেরা ফুটবলারের খেতাব বা ব্যালন ডি`অর ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। রাশিয়ার বিশ্বকাপে এমবাপে চারটি গোল করেছেন। রিও ফার্ডিনান্ড বলেন, এমবাপে এখন তার বয়সের তুলনায় বেশ পরিণত। কিলিয়ান এমবাপের খেলা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন জার্মানির সাবেক স্ট্রাইকার এবং কোচ ইউর্গেন ক্লিন্সম্যান। ক্লিন্সম্যান এর মতে, এমবাপের খেলা দেখে মনে হয়েছে সে ফ্রান্স দলে দশ বছর ধরে খেলছে। এমবাপের সামনে আরো কিছু আছে বলে উল্লেখ করেন জার্মানির সাবেক এ ম্যানেজার। এমবাপে এরই মধ্যে ক্লাব ফুটবলের বাজারে ঝাঁকুনি দিয়েছেন বলে মনে করেন ক্লিন্সম্যান। সূত্র: বিবিসি একে//

গোল্ডেন বল জিতেছেন মডরিচ

ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হেরে যাওয়ার পরও চলতি বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বল পুরস্কার জিতেছেন লুকা মডরিচ। যিনি সাত ম্যাচ থেকে করেছেন ৪ গোল। এছাড়া বেলজিয়ামের এডেন হ্যাজার্ড দ্বিতীয় ও চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের অ্যান্টনি গ্রিজম্যান তৃতীয় সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন।ক্রোয়েশিয়াকে বিশ্বকাপ ফাইনালে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখেন মডরিচ। চার মিলিয়ন জনসংখ্যার এই দেশ দুইবারের সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে প্রথম রাউন্ডে ৩-০ গোলে হারায় ক্রোয়েশিয়া। এছাড়া সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে হারিয়ে দলটি প্রিথমবারের মতো ফাইনালের টিকিট পায়।  তবে ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ৪-২ গোলে হেরে যায় ক্রোয়েশিয়া। সেই সুবাদে ফ্রান্স দুই দশক পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে নেয়। এসএ/

গোল্ডেন বুট জিতলেন হ্যারি কেইন

বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সের ৪-২ গোলের জয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মাধ্যমে পর্দা নামলো এবারের রাশিয়া বিশ্বকাপের। ৬ গোল করে বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জিতলেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন।ফাইনাল শুরুর আগে গ্রিজম্যান এবং এমবাপে ৩ গোল করে কেইনের ৬ গোলকে স্পর্শ করার লক্ষ্যে ছিলেন। কিন্তু ফাইনালের মঞ্চে দুইজনেই মাত্র ১টি করে গোল করতে পারলে গোল্ডেন বুটটি নিজের করে নেন হ্যারি কেইন।বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে পেনাল্টি থেকে একটি গোল করেছিল হ্যারি কেইন। তার বাকি পাঁচটি গোলের তিনটিই এসেছে পানামার বিপক্ষে এবং অপর দুটি এসেছে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে। বিশ্বকাপে ৬ গোলের ভেতর তিনটিই করেছেন পেনাল্টি থেকে।৬ গোল করে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার মাধ্যমে সাবেক ইংলিশ কিংবদন্তী গ্যারি লিনেকারকে স্পর্শ করলেন কেইন। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে লিনেকার ৬ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন।১৯৫৮ বিশ্বকাপে ১৩ গোল করে এখন পর্যন্ত এক টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতা ফ্রান্সের জাস্ট ফন্তেইন। ১৯৫৪ বিশ্বকাপে ১১ গোল করে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন হাঙ্গেরির ককসিস। ১৯৭০ বিশ্বকাপে গার্ড মুলার করেছিলেন ১০ গোল।এসএ/

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি