ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৫:৩১:১৯

ছাত্রলীগের সংঘর্ষের জেরে দুর্ভোগে চবি শিক্ষার্থীরা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের পর হলে তল্লাশি চালিয়ে কয়েকজন নেতাকে গ্রেফতারের ঘটনায় শাটল ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ছাত্রলীগের একটি পক্ষ। শুধু তাই নয়, কোন শিক্ষক বাসকেও ক্যাম্পাসে আসতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ ওঠেছে। তবে শাটল ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলেও নির্ধারিত সময়ে ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। ষোলশহর স্টেশনের মাস্টার মো. শাহাবউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, মঙ্গলবার সকালে বটতলী স্টেশন (পুরাতন চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন) থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গামী কোনো ট্রেন ছেড়ে আসতে পারেনি। শহর থেকে ছেড়ে আসা তিনটি ট্রেনের একটিও এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদল্যালয়ের উদ্দেশে ছেড়ে যায়নি। ট্রেনের হুইস পাপ কেটে দেওয়াসহ বাস চালকদের কাছ থেকে চাবি কেড়ে নেওয়ার ঘটনায় ইতোমধ্যে বেশ সমালোচিত আন্দোলনকারীরা। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চলছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী। জানা গেছে, গত সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ জালাল ও শাহ আমনত হলে অবস্থান নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের কর্মীরা সংঘর্ষে জড়ায়। এতে অন্তত ছয় ছাত্রলীগ কর্মী আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। ছাত্রলীগের ওই দুই পক্ষের মধ্যে একটি গ্র্রুপ প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সিটি মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী। অন্য পক্ষটি নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এদিকে সংঘর্ষের পরই রাতে শাহজালাল ও শাহ আমানত হলে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় কয়েকজনকে আটক করা হয়। প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তায় চালানো ওই অভিযানে শাহজালাল হলের পেছনে পাহাড় থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া দুই হলে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র পাওয়া গেছে। এমজে/    

চট্টগ্রামে আগুনে পুড়লো অর্ধশত দোকান-বাড়িঘর

চট্টগ্রাম নগরীর সিটি গেট এলাকায় এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বেশ কিছু ফার্নিচার শো-রুমসহ অন্তত অর্ধশত বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা পুড়ে গেছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, আগুনে তাদের প্রায় ৩০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। ফার্নিচার মার্কেটে দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ জানাতে পারেননি ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। একে/

বাসের চাপায় প্রাণ গেল বিশ্রামরত রিকশাচালকের

চট্টগ্রামে বাসের চাপায় মো. তসলিম মিয়া (৪৬) নামে এক রিকশা চালকের মৃত্যু হয়েছে। চান্দগাঁও থানার কসাইপাড়া রাস্তার মুখ এলাকায় সড়কের পাশে রিকশা দাঁড় করিয়ে বিশ্রাম নেওয়ার সময় বেপরোয়া বাসের চাপায় নিহত হন তিনি। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তসলিম মিয়া দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার বিশ্বনাথপুর গ্রামের আবদুল আজিজের ছেলে। তিনি চান্দগাঁও এলাকার একটি মেসে থাকতেন বলে জানা গেছে। চমেক পুলিশ ফাঁড়ি সূত্রে জানা গেছে, রিকশা চালিয়ে ক্লান্ত হয়ে চান্দগাঁও থানার পেছনে কসাই পাড়া রাস্তার মুখে রিকশাটি রেখে এর ওপর বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তসলিম। এ সময় এস আলম পরিবহনের একটি বাস তাকে চাপা দেয়। স্থানীয়রা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলেও তসলিমকে বাঁচানো যায়নি। চান্দগাঁও থানার এএসআই নিতাই জানান, তসলিমকে চাপা দেওয়া এস আলম পরিবহনের বাসটি স্থানীয়দের সহায়তায় আটক করেছে পুলিশ। তবে এর চালক পালিয়ে গেছে। একে/

সন্দ্বীপ সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য

হাজার বছরের ইতিহাস ঐতিহ্য মন্ডিত সুপ্রাচীন জনপদ সন্দ্বীপ। সন্দ্বীপ সম্পর্কে অবাক করা তথ্য রয়েছে, যা অনেকেরেই অজানা। ইউরোপীয়দের লেখা ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, সন্দ্বীপে প্রায় তিন হাজার বছরের অধিককাল ধরে লোক বসতি বিদ্যমান ছিল। সন্দ্বীপ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত একটি দ্বীপ। এটি বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বকোণে ২২°১৬´ থেকে ২২°৪৩´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১°১৭´ থেকে ৯১°৩৭´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ জুড়ে মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত। চট্টগ্রাম উপকূল ও সন্দ্বীপের মাঝখানে সন্দ্বীপ চ্যানেল অবস্থিত। চট্টগ্রাম জেলা সদর থেকে নদীপথে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে এ উপজেলার অবস্থান। সন্দ্বীপ থেকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপকূলের দূরত্ব প্রায় দশ মাইল। নোয়াখালীর মূল ভূখন্ড সন্দ্বীপ থেকে প্রায় ১২ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত। সন্দ্বীপের প্রায় বিশ মাইল পশ্চিমে হাতিয়া দ্বীপের অবস্থান। সন্দ্বীপের সীমানা হচ্ছে পূর্বে সন্দ্বীপ চ্যানেল ও চ্যানেলের পূর্ব পাড়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা ও মীরসরাই উপজেলা, উত্তরে বামনী নদী, পশ্চিমে মেঘনা নদী ও তারও পশ্চিমে নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলা এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। পঞ্চদশ শতাব্দীতে সন্দ্বীপের আয়তন প্রায় ৬৩০ বর্গমাইলের হলেও মেঘনার রাক্ষুসি দেউয়ের ছোবলে ক্রমাগত নদী ভাঙনের কারণে বর্তমানে এটি মাত্র ৮০ বর্গমাইলের একটি ক্ষুদ্র দ্বীপে পরিণত হয়েছে। সন্দ্বীপের দৈর্ঘ্য ২৫ মাইল (৪০ কিলোমিটার) ও প্রস্থ ৩-৯ মাইল (৫-১৫ কিলোমিটার)। সন্দ্বীপের নামকরণ নিয়ে বিভিন্ন জনের কাছে বিভিন্ন মতামত শোনা যায়। কারও কারও মতে বার আউলিয়ারা চট্টগ্রাম যাত্রার সময় এই দ্বীপটি জনমানুষহীন অবস্থায় আবিষ্কার করেন এবং নামকরণ করেন `শুণ্যদ্বীপ`, যা পরবর্তীতে `সন্দ্বীপে` রুপ নেয়। ইতিহাসবেত্তা বেভারিজের মতে চন্দ্র দেবতা `সোম` এর নামানুসারে এই এলাকার নাম `সোম দ্বীপ` হয়েছিল যা পরবর্তীতে `সন্দ্বীপে` রুপ নেয়।কেউ কেউ দ্বীপের উর্বরতা ও প্রাচুর্যের কারণে দ্বীপটিকে `স্বর্ণদ্বীপ` আখ্যা প্রদান করেন। উক্ত `স্বর্ণদ্বীপ` হতে `সন্দ্বীপ` নামের উৎপত্তি হয়েছে বলেও ধারণা করা হয়। দ্বীপের নামকরণের আরেকটি মত হচ্ছে পাশ্চাত্য ইউরোপীয় জাতিগণ বাংলাদেশে আগমনের সময় দূর থেকে দেখে এই দ্বীপকে বালির স্তুপ বা তাদের ভাষায় `স্যান্ড-হীপ` (Sand-Heap) নামে অভিহিত করেন এবং তা থেকে বর্তমান `সন্দ্বীপ` নামের উৎপত্তি হয়। সন্দ্বীপের লবণ শিল্প, জাহাজ নির্মাণ কারখানা ও বস্ত্র শিল্প পৃথিবীখ্যাত ছিল। উপমহাদেশের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের ভ্রমণকারীরা এই অঞ্চলে এসে তাদের জাহাজ নোঙ্গর করতেন এবং সহজ বাণিজ্য ব্যবস্থা এবং পরিবহন সুবিধাদি থাকায় এই অঞ্চলে ব্যবসা এবং বসতি স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করতেন। ১৭৭৬ সালের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, প্রতি বছর সন্দ্বীপে উৎপাদিত প্রায় এক লক্ষ ত্রিশ হাজার মণ লবণ, তিনশ জাহাজে করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হত। সন্দ্বীপ এককালে কম খরচে মজবুত ও সুন্দর জাহাজ নির্মানের জন্য পৃথিবীখ্যাত ছিল। ইউরোপের বিভিন্ন এলাকায় এই জাহাজ রপ্তানি করা হতো। তুরস্কের সুলতান এই এলাকার জাহাজের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে এখান থেকে বেশ কিছু জাহাজ কিনে নেন।ভারতবর্ষের মধ্যে সন্দ্বীপ ছিল একটি সমৃদ্ধশালী বন্দর। লবণ ও জাহাজ ব্যবসা, শস্য সম্পদ ইত্যাদির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যভাগে পর্তুগিজরা সন্দ্বীপে উপনিবেশ স্থাপন করেন। এছাড়া ভ্রমণ ও ধর্মপ্রচারের উদ্দেশ্যে ফরাসি ও ওলোন্দাজ পরিব্রাজকরা প্রায়ই সন্দ্বীপে আগমন করতেন।এই দ্বীপের রূপে মুগ্ধ হয়ে যুগে যুগে অনেক কবি, সাহিত্যিক, ঐতিহাসিক, পর্যটক এসেছেন এখানে। ১৩৪৫ খ্রিষ্টাব্দে ঐতিহাসিক পর্যটক ইবনে বতুতা সন্দ্বীপে আসেন। ১৫৬৫ সালে ডেনিশ পর্যটক সিজার ফ্রেডরিক সন্দ্বীপে আসেন এবং এর বহু প্রাচীন নিদর্শনের বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেন। ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দের ২৮শে জানুয়ারী মোজাফ্‌ফর আহমেদের সাথে সন্দ্বীপে আসেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। সন্দ্বীপ ভ্রমণের সময়কার স্মৃতির পটভূমিকাতেই কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর মধুবালা গীতিনাট্য রচনা করেন। সন্দ্বীপে বৃক্ষের ছায়াতলে বসে নজরুল তাঁর চক্রবাক কাব্যগ্রন্থের অনেকগুলো কবিতা রচনা করেন। সন্দ্বীপ ১৯৫৪ সালের পূর্ব পর্যন্ত সন্দ্বীপ নোয়াখালী জেলার অন্তর্ভুক্ত থাকলেও পরবর্তিতে একে চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯৮৪ সালে সন্দ্বীপ থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয়। সন্দ্বীপে একটি পৌরসভা রয়েছে, যা ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত। এ উপজেলায় বর্তমানে ১টি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন রয়েছে। সম্পূর্ণ সন্দ্বীপ উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম সন্দ্বীপ থানার আওতাধীন। তথ্যসূত্র : নোয়াখালী ও সন্দ্বীপের ইতিহাস, সংকলন ও সম্পাদনা কমল চৌধুরী। হৃদয়ে সন্দ্বীপ সংকলন হেদায়েতুল ইসলাম মিন্টু / এআর /

দূষণ ও বালি উত্তোলন বন্ধ হলে হালদা রক্ষা সম্ভব: কাজী খলীকুজ্জমান

হালদা নদীতে দখল রোধ, দূষণ ও ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলন বন্ধে সরকারের পাশাপাশি জনগণ এগিয়ে আসলে এ নদীকে রক্ষা করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও পল্লীকর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ । সম্প্রতি চট্টগ্রামের হাটহাজারীর গড়দুয়ারা নয়াহাট এলাকায় ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আইডিএফ) আয়োজিত ‘হালদা নদীতে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র সংরক্ষণ ও উন্নয়ন’ সম্পর্কিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি  এ কথা বলেন। কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, ইতোমধ্যে হালদাকে জাতীয় নদী ঘোষণার দাবি ওঠেছে। আমিও এ দাবির প্রতি একমত। এ নদীকে বাঁচাতে পিকেএসএফ সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাবে। তিনি আরোও বলেন, সারাদেশে নদী দখল সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের সম্পদ বাড়াতে গিয়ে অসংখ্য মানুষের সমস্যার সৃষ্টি করছে। হালদা নদী এভাবে অনেক ক্ষেত্রে দখলদারদের কবলে চলে যাচ্ছে। তাছাড়া নদী দূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। কাজী খলিকুজ্জমান বলেন, নদী দখলদার ও দূষণকারীদের আইনের আওতায় আনার জন্য জনপ্রতিনিধি, সচেতন জনগণ ও প্রশাসনকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। এজন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা দরকার। পিকেএসএফএর ব্যবস্থপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল করিম বলেন, হালদা নদী বাংলাদেশের একমাত্র নদী। যেটি বাংলাদেশ থেকে উৎপত্তি এবং এ দেশে শেষ। নদীর দূষণ ও বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে। এক সময় বিশেষ করে ১৯৪৫ সালে এ নদী থেকে ৫ হাজার কেজি ডিম পাওয়া যেত। কিন্তু গত কয়েক বছর পূর্বে নদীতে মা মাছের ডিম ছাড়ার পরিমাণ একেবারে কমে গিয়েছে । তিনি আরোও বলেন, গত বছর পিকেএসএফ ও আইডিএফের প্রকল্পের কারণে এ নদী থেকে ডিম আহরণের পরিমাণ ১৬ শ ৮০ কেজিতে উন্নীত হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রকল্পের কার্যক্রম অব্যাহত রেখে জনগণকে সচেতন করতে পারলে ডিম আহরণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। পিকেএসএফ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক মূখ্য সচিব মো. আবদুল করিমের সভাপতিত্বে সভায়  বিশেষ অতিথি ছিলেন, প্রফেসর ড. জাহেদা আহমদ, পিকেএসএফএর উপ–পরিচালক (প্রশাসন) ড. জসিম উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আক্তার উননেছা শিউলী, গড়দুয়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরোয়ার মোরশেদ তালুকদার।   এমএইচ/টিকে

সন্দ্বীপে বিনামূল্যে ৪৬ জনের ছানি অপারেশন

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সন্দ্বীপ মেডিকেল সেন্টারে বিনামূল্যে চক্ষু শিবির কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এই কার্যক্রমটি ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়। অস্ট্রেলিয়ার দ্যা ফ্রেড হলোস ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এ চক্ষুশিবির  কার্যক্রমের আয়োজন করে  মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল। মেডিকেল সেন্টারের বর্হি:বিভাগে প্রথমে ৪৯০ জন রোগীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় ঔষধ দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ৪৬ জনের চোখে ছানিপড়া রোগীকে বাছাই করে ছানি অপারেশনের মাধ্যমে লেন্স প্রতিস্থাপন করা হয়। ছানি অপারেশনকৃত রোগীদের অপারেশন পরবর্তী প্রয়োজনীয় ঔষধ ও কালো চশমা প্রদান করা হয়।  অপারেশনকৃত রোগীদের পরবর্তী ফলোআপের জন্য মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল থেকে অপর একটি মেডিকেল টিমের মাধ্যমে ফলোআপ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হবে। এই চক্ষুশিবির কার্যক্রমটি আউটডোর ক্যাম্পে রোগী বাচাই করা হয় পূর্ব সন্দ্বীপ হাই স্কুল ভবনে। এতে সেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালনকরে ওই স্কুলের ৩০জন শিক্ষার্থী। চক্ষুশিবিরের ১০ সদস্যের এই মেডিকেল টিমের নেতৃত্ব দেন মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের সিনিয়র পাবলিক রিলেশন অফিসার মো. আবু জাফর। ছানি পড়া রোগীদের অপারেশনে করেন জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. রাশেদুর রহমান তালুকদার, মেডিকেল অফিসার ডা. মো. হানিফুর রহমান। এই চক্ষুশিবির কার্যক্রমটি পরিচালনা করেন মো. মাহিদুল মাওলা মনজুর। কেআই/টিকে

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। শনিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। পরে সড়ক পথে দুপুর দেড়টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং ট্রানজিট ক্যাম্পে যান। সেখানে নতুন করে আসা নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে তিনি কথা বলছেন। পরে উখিয়ার বালুখালী-১ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানরত আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আওএম) এর হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন। পরে দুপুর ২টার দিকে তার উখিয়ার বালুখালী-২ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন দাতা সংস্থার কার্যক্রম পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। তার সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম চৌধুরী ও ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্ল্যাকসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার কর্মকর্তা ও দু’দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা রয়েছেন। প্রসঙ্গত, দুদিনের সফরে শুক্রবার বাংলাদেশে এসেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। সফর শেষে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড সফর করার কথা রয়েছে। এসএইচ/

৬৫০ পরিবারে  সন্দ্বীপ ফ্রেন্ডস সার্কেল অ্যাসোসিয়েশনের  শীতবস্ত্র

`উঠো জাগো এবং শ্রেয়কে বরণ করো` এই মন্ত্রে দীক্ষিত সন্দ্বীপ ফ্রেন্ডস সার্কেল অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যেগে সন্দ্বীপের পূর্ব বেড়িবাধ সংলগ্ন এলাকায় শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্র বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টায় গুপ্তছড়া বেঁড়িবাধ থেকে কাছিয়াপাড়, বাউরিয়া, গাছুয়ার বিভিন্ন পয়েন্টে মোট ৬৩৫ পরিবারে শীতার্ত মানুষের মাঝে এই শীতবস্ত্র দেওয়া হয়। সংগঠনের কলেজ শাখা পর্যায়ক্রমে এবি কলেজ, এম আর কলেজ, উত্তর সন্দ্বীপ কলেজ কমিটির শতাধিক তরুণের অংশগ্রহণে তৃণমূলের অসহায় সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের নিজ হাতে কম্বল, সুয়েটার,শিশু নারীদের মাঝে এ কাপড় বিতরণ করা হয়। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা কাজী ইফতেখারুল আলম তারেক বলেন, এ শীতে সন্দ্বীপে বেঁড়িবাধ সংলগ্ন মানুষের দুদর্শা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি, মানবিক দিক বিবেচনায় অসহায় মানুষের মানুষের দ্বারে দ্বারে আমাদের কর্মীদের পাঠিয়েছি। কর্মীদের প্রত্যক্ষ তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে শতাধিক তরুণদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে ছয় শতাধিক মানুষের হাতে গরম কাপড় তুলে দিতে পেরে ভালো লাগছে। সংগঠনটি সব সময় মানবিক দিক বিবেচনায় মাথায় রেখে কাজ করবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুল আলম মানিক বলেন, সংগঠনটি শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করেছে তারা সন্দ্বীপের মাটি ও মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছে।মানুষের সুখ দুঃখ অনুভবের শক্তি এই তরুণের আছে। আমি গর্বিত এই সংগঠনটি প্রতিটির কর্মীর জন্যে। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি আমির হোসেন রিশাদ, সহসভাপতি রিধোয়ানুল বারী, সমন্বয়ক সন্জয় মজুমদার, হাসান বিএল, শ্যামল, আরিফ। এবি কলেজ সমন্বয়ক জাবেদ হোসেন, সভাপতি হায়দার গাজী, সেক্রেটারি সাজ্জাদ হোসেন সাজু, সহসভাপতি জিহাদ হোসেন, এস এম শরিফল ইসলাম সৌরভ, শাকিল হোসেন (মিডিয়া), সোহাগ হোসেন, মো. ফাহিম, ফয়সাল, শাকিল, সজীব মজুমদার, ওরিন, শাকিল, রাজুৎ, এম আর কলেজ সভাপতি সালাউদ্দিন জিসান, সেক্রেটারি সৌমিএ সৌরভ, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এইচ রানা, রকি, উত্তর সন্দ্বীপ কলেজ সভাপতি পায়েল মাহমুদ, সেক্রেটারি মো. জয়, বাসুদেব, সজীব মজুমদার, সজীব, মোশাররফ, দিদার, মান্না, মিলাদ। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন সফিকুল আলম মানিক, তাজাম্মল হোসেন, হুমায়ুন কবির, জাহাঙ্গীর আলম, টুটুল, রিপনসহ বেঁড়িবাধ এলাকার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। কেআই

লক্ষ্মীপুরে সুপারির বাম্পার ফলন [ভিডিও]

লক্ষ্মীপুরে এবার সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় জেলায় দিন দিন বাড়ছে সুপারি ফলন। ভালো দাম পাওয়ায় খুশি চাষীরা। চলতি মৌসুমে জেলার পাঁচ উপজেলায় ছয় হাজার ২৬৫ হেক্টর জমিতে সুপারি হয়েছে। চাষীরা জানান, তাদের হিসেবে ৮০টি সুপারিতে এক পোন, আকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২৫ টাকায়।যারা পান খান তাদের অনেকের কাছেই লক্ষ্মীপুরের সুপারির কদর একটু আলাদা। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যায় এখানকার সুপারি। এবার ফলন ও দাম ভালো পেয়ে খুশি চাষীরা।চলতি বছর জেলায় উৎপাদিত সুপারি থেকে ৩২৫ কোটি টাকা আয় হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। জেলায় প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র থাকলে বিদেশে সুপারি রফতানি করা সম্ভব বলেও মনে করেন এ কৃষি কর্মকর্তা। এসএইচ/  

সাবেক সাংসদ ওসমান সরোয়ারের স্ত্রীর ইন্তেকাল

বঙ্গবন্ধুর বিশিষ্ট রাজনৈতিক সহচর, সাবেক সংসদ সদস্য ও রাষ্ট্রদূত মরহুম ওসমান সরোয়ারের স্ত্রী বেগম রওশন সরোয়ার ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লাহে... রাজেউন)। তিনি দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। তিনি মৃত্যুকালে দুই পুত্র, তিন কন্যা ও নাতি নাতনী সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান। তার বড় ছেলে সাইমুম সরোয়ার কমল বর্তমানে কক্সবাজার-৩ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তার ছোট ছেলে সোহেল সরোয়ার কাজল রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তার বড় মেয়ে নাজনীন সরোয়ার কাবেরী একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক হিসেবে প্রশংসিত। রওশন সরোয়ারের বড় ভাই কমোডর (অব) নিজামউদ্দিন নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা। তার আরেক ভাই কর্নেল (অব) সালাউদ্দিন বীরপ্রতীক। আগামীকাল দুপুর দুটায় রামু খিজারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মরহুমার নামাযে জানাযা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। টিকে

চাঁদপুর মাতালেন অপু বিশ্বাস

অপু বিশ্বাস। তারকা হিসেবে তার খ্যাতি কম নয়। যদিও নানান বিতর্ক আর ঝামেলা তার ক্যারিয়েরকে কিছুটা টেনে ধরেছে, তবে যেকোন সময় ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা রাখেন তিনি। শত বিপত্তিতেও ভেঙে পড়েননি এই চিত্রনায়িকা। বরং জীবনের সব চেয়ে কঠিন বাস্তবতার সময়ও তিনি হাসি মুখে সব সামলে নিচ্ছেন। সম্প্রতি একটি কম্পানির কর্মকর্তা ও রিটেইলারদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে চাঁদপুরে গেছেন অপু বিশ্বাস। হঠাৎ জনপ্রিয় এ চিত্রনায়িকাকে পেয়ে উচ্ছ্বসিত চাঁদপুরবাসী। এমনকি অপুর উপস্থিতির খবর অনেকেই বিশ্বাস করতে পারেননি। তবে তাকে এক নজর দেখতে অনুষ্ঠানস্থল চাঁদপুর শিল্পকলা একাডেমিতে ভিড় জমায় অপু ভক্তরা। অনুষ্ঠানের দিন মঞ্চে বারবার ঘোষণা করা হয় অপু বিশ্বাস আসছেন। কিন্তু উপস্থিত অতিথিরাও এ খবরটি বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। তবে কিছু সময় পর অপু মঞ্চে এসে সবাইকে চমকে দেন। তাকে পেয়ে উপস্থিত সকলেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে শুরু করে। অপু মঞ্চে এসে বলেন, ‘চাঁদপুরে এসে আমার খুব ভালো লেগেছে। শুনেছি এখানকার ইলিশ নাকি খুব জনপ্রিয়। চাঁদপুরে আমার পুরো ঘুরে দেখা হয়নি। তবে এখানকার সবার কথা শুনে ঘুরে দেখার ইচ্ছে রয়েছে। আর ইলিশতো না খেয়ে যাবোই না।’ এসএ/  

জনগণের বন্ধু পুলিশ: সকলের জন্য এক দৃষ্টান্ত

আজ বৃহস্পতিবার সারা দেশে শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। তারই প্রথম দিনে বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা দিতে ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার সদর থানার অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে যান এক পরীক্ষার্থী। কিন্তু পরীক্ষা শুরু হওয়ার মাত্র ২০ মিনিট আগে জানতে পারেন যে তিনি ভুল পরীক্ষা কেন্দ্রে এসেছেন। আর তাতেই কাঁন্নায় ভেঙ্গে পরে ঐ পরীক্ষার্থী। বিষয়টির প্রথমে খেয়াল করেন ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফরিদা নাজনীন। ছাত্রীটির প্রবেশপত্র দেখে মেয়েটির সঠিক পরীক্ষা কেন্দ্রের নাম জানান তিনি। আর এরপরেই মেয়েটিকে নিয়ে বিদ্যালয়ের বাইরে চলে আসেন। শরণাপন্ন হন বিদ্যালয়ের বাইরে যানজট নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তার। ঘটনা শুনে পুলিশের ওই উপ সহকারী পরিদর্শক মো.শরিফুল ইসলাম নিজেই তার মোটর সাইকেলে করে ঐ শিক্ষার্থীকে পৌঁছে দেন সঠিক পরীক্ষা কেন্দ্রে। শুধু কেন্দ্রে পৌঁছে দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেননি তিনি। নিশ্চিত করেছেন ঐ শিক্ষার্থীর সঠিক পরীক্ষা কক্ষও। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “‘প্রথমে নিয়াজ মোহাম্মদ স্কুলের (সঠিক পরীক্ষা কেন্দ্র) লাইব্রেরিতে মেয়েটিকে নিয়ে গিয়ে সমস্যার কথা বলি। পরে অন্য শিক্ষকের মাধ্যমে মেয়েটিকে পরীক্ষার রুমে নিয়ে যাই। এরপর আমি চলে আসি”। আপনার দায়িত্ব ছিল আগের পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে যানজট নিরসনে কাজ করা। ঐ শিক্ষার্থীকে আপনি নিজে নাও নিয়ে যেতে পারতেন। তবুও গেলেন। কেন?-এমন প্রশ্নের জবাবে ২০০০ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করা এই কর্মকর্তা বলেন, “‘হ্যাঁ, আমি না করলেও পারতাম। কিন্তু চিন্তা করলাম এটা মানবিক বিষয়। মেয়েটি হয়তো পরীক্ষা দিতে পারবে না। তাই ওকে নিয়ে ছুটে যাই। পরীক্ষার হলে ওকে বসিয়ে দিয়ে স্বস্তি পেলাম। খুব ভালো লাগছে”। শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক আর পুলিশের এই অনবদ্য ভূমিকার পেছনে আছেন আরেক চরিত্র। স্মার্টফোন হাতে থাকা মেহেদী হাসান শাওন তাৎক্ষণিকভাবে বনে যান ‘সাংবাদিক’। পুলিশের এই অনন্য ভূমিকার বিস্তারিত তথ্য নেন তিনি। নিজ মুঠোফোনে ছাত্রীটিকে মোটরসাইকেলে করে পুলিশ কর্মকর্তার সঠিক কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার ছবিও তোলেন। কেন ছবি তুললেন আর তথ্য নিলেন? এ প্রশ্নের জবাবে ব্রাক্ষণবাড়িয়া সরকারি কলেজের ছাত্র এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করা ‘শতকুঁড়ি ফাউন্ডেশন’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহ-সভাপতি শাওন বলেন, “পুলিশ বাহিনীর নানান কর্মকাণ্ড নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলেন। কিন্তু প্রেক্ষাপট যেমনই হোক তাদের মধ্যেও ভাল, সৎ সদস্যও তো আছেন। আমি ছবিটা তোলার সময় চিন্তা করেছি যদি এটা দেখে অন্যরাও, সে পুলিশ হোক বা না হোক, তারাও যেন ভালো কাজে উৎসাহিত হয়”। আর সেই ছবিই ভাইরাল হয় ইন্টারনেটে। আর এরপর থেকেই পুলিশ বাহিনীর প্রশংসায় একের পর এক মন্তব্য আসতে থাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। ফেসবুকের অন্যতম বৃহৎ সক্রিয় গ্রুপ ‘ডু সামথিং এক্সেপশনাল’ এ বিষয়ে ছবিসহ একটি পোস্ট প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয় ফেসবুকে। গ্রুপের অন্যতম অ্যাডমিন জেবিন ইসলাম ঐ পোস্টটি করেন। সেই পোস্টে জেবিন লেখেন, “নিঃসন্দেহে এটি একটি এক্সেপশনাল কাজ। যারা পুলিশের মধ্যে ভালো গুণ খুঁজে পান না…তাদের জন্য এই মানবসেবা অনুপ্রেরণা হোক। পুলিশের এমন সেবাকে স্যালুট জানাই। ফেসবুক যে ভালো কাজে ব্যবহৃত হয় সেটিও এমন খবরের উদাহরণ ও দৃষ্টান্ত”। প্রযুক্তিবিদ তানভীর হাসান জোহা মন্তব্য করেন, “নিঃসন্দেহে পুলিশের প্রতি শ্রদ্ধা অনেক বেড়ে গেল। ধন্যবাদ বাংলাদেশ পুলিশ”। এসএইচএস/টিকে

 ‘ছাত্রলীগের নেতিবাচক দিকগুলোই শুধু গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়’  

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সংগ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্য, ছাত্রলীগ নামধারীদের অপকর্মের কারণে সংগঠনটির সুনাম ক্ষুন্ন হওয়া, চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি, খুনখারাবি, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-সংঘাতসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আরিফ মঈনুদ্দীন এক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। দেশমাতৃকার স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ছাত্রলীগের গৌরবের ইতিহাস তোলে ধরে ছাত্রনেতা আরিফ মঈনুদ্দীন  বলেন, “পঁচাত্তরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কব্জায় নিয়ে প্রগতির চাকাকে উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দেয়। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, চেতনা ও মূল্যবোধকে বিকৃত করে ও প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত আন্দোলন-সংগ্রামের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তোলে দিয়ে ছাত্ররাজনীতির গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যকে কলঙ্কিত করার যে সংস্কৃতি চালু করা হয় তা থেকে ছাত্ররাজনীতি এখনো মুক্ত হতে পারেনি। দীর্ঘ একুশ বছরে বিএনপি-জামায়াত মিলে আমাদের রাজনীতিতে যে জঞ্জাল তৈরি করেছে- তা পরিস্কার করে জাতিকে প্রগতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার মূল ধারাতে ফিরিয়ে এনে সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা নির্মাণের জন্যে জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলসভাবে কাজ করছেন।” ছাত্রলীগের নানা অপকর্ম সম্পর্কে বলতে গিয়ে রাজপথের সাহসী ছাত্রনেতা আরিফ বলেন, “জাতির দুর্যোগ-দুর্বিপাকে ভূমিকা পালন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশে দাঁড়ানোসহ ছাত্রলীগ ইতিবাচক বহু কাজ করলেও এ নিয়ে গণমাধ্যম খুব একটা প্রচার করে না। শুধু ছাত্রলীগের নেতিবাচক দিকগুলো প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার করা হয়।” ছাত্রলীগের গোড়াপত্তনের ইতিহাস নিয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রতিভাবান ও ত্যাগী ছাত্রনেতা আরিফ বলেন, “শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতির পতাকাবাহী সংগঠন, স্বাধীন-বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতেগড়া জীবন ও যৌবনের উত্তাপে শুদ্ধ সংগঠন, সোনার বাংলা বিনির্মাণের কর্মীগড়ার পাঠশালা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। শিক্ষার সঙ্গে দীক্ষা, বিদ্যার সঙ্গে বিনয়, কর্মের সঙ্গে নিষ্ঠা, জীবনের সঙ্গে দেশপ্রেম ও মানবীয় গুণাবলীর সংমিশ্রণ ঘটিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ অতিক্রম করেছে পথচলার ৭০ বছর। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি সময়ের প্রয়োজনে তৎকালীন উদীয়মান জননেতা শেখ মুজিবের প্রেরণা ও পৃষ্টপোষকতায় একঝাঁক মেধাবী ও প্রগতিশীল ভাবাদর্শের ছাত্র নেতাদের অংশ গ্রহণে অনুষ্ঠিত সভায় ছাত্রলীগের গোড়াপত্তন ঘটে। প্রতিষ্ঠাকালীন এর নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ। জন্মলগ্ন থেকে এ সংগঠনকে আন্দোলন-সংগ্রামের এক কঠিনতম বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন, চুয়ান্নর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, ছেষট্টির ৬ দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও ১১ দফা আন্দোলন, সত্তরের ঐতিহাসিক নির্বাচন ও একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রলীগের ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। মুজিব বাহিনীর ব্যানারে ছাত্রলীগ একাত্তরের মুক্তি সংগ্রামে বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখে। ছাত্রলীগের ইতিহাস, সংগ্রাম ও অপরিসীম ত্যাগের ইতিহাস। গৌরব, ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যের দীর্ঘ ৭ দশকের পথচলায় একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বের সর্ববৃহৎ ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ হারিয়েছে সহশ্রাধিক নেতাকর্মীকে।” এক প্রশ্নের জবাবে ছাত্রনেতা আরিফ বলেন, “ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়াশীল অপশক্তি সর্বদা নানান ষড়যন্ত্র ও ছোবল মারার অপপ্রয়াসে লিপ্ত। ছাত্রলীগের ভাবমূর্তিকে নষ্ট করতে এ অশুভশক্তি সর্বদা তৎপর। ছাত্রলীগের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশ করে নানা অপকর্মের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী এ ছাত্র সংগঠনকে বিতর্কিত করার সুগভীর কূটচাল চালাচ্ছে একটি চক্র। জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির অপতৎপরতা বন্ধ থাকলেও এখনো তারা প্রগতিশীল শক্তিকে ধ্বংস করার নীল নক্সা নিয়ে ওঁত পেতে আছে।”  তিনি আরও বলেন, বর্তমানে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে মোকাবেলা করে জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনই আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা, আমাদের প্রাণপিয় নেত্রী, বাংলাদেশের সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের রূপকল্প পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। তাই, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ স্বদেশ গঠনের ক্ষেত্রে আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকেরাও জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালীকরণে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।” দেশের ছাত্র সমাজের উদ্দেশে কিছু বলার আহ্বান জানালে অত্যন্ত সজ্জন ও স্বনামধন্য ছাত্রনেতা আরিফ মঈনুদ্দীন বলেন, “ছাত্রজীবন মানবজীবনের সর্বোৎকৃষ্ঠ সময়। ছাত্ররাই জাতির ভবিষ্যৎ। কাজেই একটি জাতির ভবিষ্যৎ উন্নতি-অবনতি তাদের ওপরই নির্ভরশীল। তাই সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলাবোধ, অধ্যবসায়, চরিত্রগঠন, দেশপ্রেম ও দেশসেবার মতো গুণাবলী অর্জন করে ছাত্রসমাজকে আগামী দিনগুলোর জন্যে তৈরি হতে হবে।” আরিফ মাঈনুদ্দীন  মীরসরাই উপজেলার মঘাদিয়া ইউনিয়নের জাফরাবাদ গ্রামের মনিরুজ্জামান ভুঁইয়াবাড়ির সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার মরহুম বাবা মোহাম্মদ আলী নিজের হাতেগড়া বিদ্যালয়ে বিনা বেতনে আমৃত্যু শিক্ষকতা করেছেন। চট্টগ্রাম জেলায় তিনি শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছিলেন। মীরসরাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি ছিলেন তিনি। তার মার নাম তমনারা বেগম। আরিফের ভাইয়েরাও সবাই উচ্চশিক্ষিত। বড় ভাই হাসান মাহমুদ মহিউদ্দীন ইয়াংওয়ান গ্রুপের ডেপুটি ম্যানেজার। মেজ ভাই হাসান মাহমুদ সাইফুদ্দিন একজন বুয়েট ইঞ্জিনিয়ার। তিনি  একটেল (বর্তমানে রবি আজিয়াটা লিমিটেড)’র  জিএম ছিলেন। বর্তমানে সস্ত্রীক কানাডায় বসবাস করেন এবং সেখানকার রজার্স টেলিকমের নেটওয়ার্ক স্পেশালিস্ট। ছোট ভাই ফিরোজ উদ্দিন তারেক চট্টগ্রাম জজকোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত। আরিফ সীতাকুণ্ডের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ জাফরনগর অপর্ণাচরণ উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি, নিজামপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে এইচএসসি, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে স্নাতক, চট্টগ্রাম আইন কলেজ থেকে এলএলবি ও চট্টগ্রাম বিএড কলেজ থেকে বিএড ডিগ্রি লাভ করেন। আরিফ ছাত্র রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও জনহিতকর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ত রয়েছেন। তিনি নিজ গ্রামের জাফরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি, চট্টগ্রাম আইন কলেজ ছাত্রসংসদের সাবেক ভিপি ও জিএস, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য, চট্টগ্রাম মহানগর সেক্টরস কমান্ডার ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ ৭১ এর সদস্য, মীরসরাই অ্যাসোসিয়েশন-চট্টগ্রাম এর নির্বাচিত সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও পৃষ্ঠপোষক সদস্য, চট্টগ্রাম জেলা রেডক্রিসেন্ট এর আজীবন সদস্য, চট্টগ্রাম ডায়বেটিকস সমিতির সদস্যসহ এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মোহাম্মদ ইউসুফ।  এসএইচ/  

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার নতুন তারিখ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন তারিখ অনুযায়ী আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি ‘এ’ ও ‘বি’ ইউনিট এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার বিকেলে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিস সুত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে গত ১৭ ও ১৮ নভেম্বর প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় সুত্রে জানা গেছে, আজ বিকেল চারটায় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ও নতুন উপাচার্য এমরান কবির চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশাসনিক ভবনে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ভর্তি পরীক্ষার নতুন সময়সূচিসহ দ্রুত ক্লাস চালু করার ওপরও তাগিদ দেওয়া হয়। চলতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ১ হাজার ৯৭ আসনের বিপরীতে ৫৪ হাজার ৮০৯ জন শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য আবেদন করেছেন। প্রতি আসনে বিপরিদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী। গত বছর ভর্তির জন্য আবেদন জমা পড়েছিল ৫৪ হাজার ১৮২টি। এ বছর ৬২৭টি আবেদন বেশি পড়েছে। এবার বিজ্ঞান অনুষদের (এ ইউনিট) সাতটি বিভাগে ৩৬৮টি আসনের বিপরীতে আবেদনপত্র করেছে ২৩ হাজার ৬২৫টি। কলা ও মানবিক, সমাজবিজ্ঞান ও আইন অনুষদের (বি ইউনিট) আটটি বিভাগে ৪৭৩ আসনের বিপরীতে ১৯ হাজার ৩৭২টি এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের (সি ইউনিট) চারটি বিভাগে ২৫৬ আসনের বিপরীতে ১১ হাজার ৮১২ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন।   আর

চট্টগ্রামে আগুন পুড়ে দোকান মালিক নিহত

চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লায় আইপিএস ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যের একটি দোকানে আগুনে দগ্ধ হয়ে সুব্রত দাশ নামে একজন নিহত হয়েছেন। তিনি ওই দোকানের মালিক। এ সময় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও সাতজন। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে (চমেক) ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার রাত ৮টার দিকে আন্দরকিল্লার একটি পাঁচতলা ভবনের উপরতলায় অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে। দোকানে ধার্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের ছয়টি গাড়ি ঘটনাস্থলে গিয়ে এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ি সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডে আহত সাতজনের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। একে//এসএইচ  

কক্সবাজারে শ্রমিক নেতা খুন

কক্সবাজারের রামু ও উখিয়ার সিএনজি চালক সমিতির দলীয় কোন্দলের জেরে মো. শাহ আলম (৪০) নামের এক শ্রমিক নেতা খুন হয়েছেন। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কের মরিচ্যা বাজার এলাকায় শাহ আলমকে মারধর করে আহত করা হয়। আহত শাহ আলমকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে রাত ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে টেকনাফ সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে এবং সিএনজি দিয়ে অবরোধ করে মোটরযান শ্রমিকরা। নিহত শাহ আলম খুনিয়ারপালং পূর্ব ধেছুয়ার বানিয়ার দোকান এলাকার ঠান্ডা মিয়ার ছেলে। এবং মরিচ্যা-খুনিয়াপালং ফোরস্ট্রোক সিএনজি চালক ও টমটম মালিক শ্রমিক কল্যাণ সমবায় সমিতির ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী তিনি। ওই সংগঠনের সভাপতি মো. হাসেম জানান, তাদের সমিতির কোনো গাড়ি রামু স্টেশন কিংবা অন্য মোকামে ভাড়া নিয়ে গিয়ে সেখান থেকে অন্য কোথাও যাওয়ার জন্য যাত্রী তুলতে পারে না। কিন্তু রামুর সিএনজি চালক সমিতির গাড়ি মরিচ্যা-খুনিয়াপালং বা অন্য মোকামে যাত্রী নিয়ে গিয়ে আবার সেখান থেকে অন্য যাত্রী তুলে সব জায়গায় যেতে পারে। এ বিষয় নিয়ে বেশ কয়েক মাস ধরে দু’সংগঠনের মাঝে সমস্যা চলছে। এর জেরে গত শুক্রবার রামু সিএনজি চালক সমিতির নেতারা মরিচ্যা-খুনিয়াপালং সমিতির বেশ কয়েকটা সিএনজি রামুতে আটকে রাখে। এ খবর পেয়ে মরিচ্যা এলাকায় আসা রামু সমিতির কয়েকটি গাড়ি আটকে রাখা হয়। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মরিচ্যা বাজার এলাকায় রামুর একটি সিএনজি যাত্রী নিয়ে এলে মরিচ্যা-খুনিয়াপালং সমিতির নেতারা তা আটকায়। ওই সময় রামুর সিএনজি চালকের পক্ষ হয়ে মরিচ্যা সমিতির চালকদের সঙ্গে ওই যাত্রীর কথা কাটাকাটি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেই। এসময় সংগঠনের নেতা হিসেবে শাহ আলম তর্ক থামাতে গেলে, ওই যাত্রী তাকে কাঠ দিয়ে আঘাত করলে শাহ আলমের মৃত্যু হয়।  একে//

ফেনীতে গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় সোনাগাজী কলেজ সংলগ্ন একটি বাড়ি থেকে এক গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত গৃহবধূর নাম শাহানারা আক্তার (৫৫) বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে তার লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত শাহানারা আক্তার নতুন শেখ বাড়ির শেখ সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী। পারিবারিক কলহের জের ধরে শাহানারাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় গৃহবধূর স্বামী মুক্তিযোদ্ধা শেখ সিরাজুল ইসলাম, গৃহ কর্মচারী মো. রানা এবং গৃহ পরিচারিকা হালিমা খাতুনকে আটক করেছে পুলিশ। সোনাগাজী মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একে/টিকে

ফেনীতে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা

ফেনী শহরে মোস্তফা আহম্মদ শাকিল নামে ছাত্রলীগের এক কর্মীকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার রাতে শহরের শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত মোস্তফা কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার গুনবতি গ্রামের হুমায়ুন কবিরের ছেলে বলে জানা গেছে। ফেনী শহরে বোনের বাড়িতে থেকে কলেজে পড়তেন তিনি। ফেনী মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন শাকিল। দলীয় কোন্দলে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে আটক করা হয়েছে। ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদ খাঁন চৌধুরী জানিয়েছেন, রাতে জহিরিয়া মসজিদের পাশে শাকিলকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে স্থানীয়রা গুরতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে শাকিলের অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। একে//এসএইচ

চট্টগ্রামে ডাক্তারের অবহেলায় রোগীর শরীরে পচন [ভিডিও]

চট্টগ্রামে আবারো ডাক্তারের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ করেছেন এক রোগী। সিজারিয়ানের পর পাঁচ মাসেও সুস্থ হতে পারেননি এক মা। বর্তমানে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ঐ রোগী। চট্টগ্রামের সেই ডাক্তার অবশ্য দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। চট্টগ্রামের রুমি আক্তার পাঁচ মাস আগে সন্তান জন্মদানের জন্য ডাক্তার জায়েদা সুলতানার শরনাপন্ন হন। সিজারিয়ানের মাধ্যমে সন্তান হওয়ার অনেকদিন পার হলেও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেননি রুমি। একই জায়গায় আবারো অস্ত্রপচার করতে হয় তার। এরপরও সুস্থ না হলে দফায় দফায় ড্রেসিং করা হয় রুমির। বারবার ডাক্তারকে কারণ জিজ্ঞেস করলেও উত্তর দেননি বলে অভিযোগ করেছেন রোগী। রুমির পরিবারের অভিযোগ ডাক্তারের অবহেলায় শরীরের মাংসে পচন ধরে গিয়েছে রমির। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে আনা হয় রোগীকে। বর্তমান চিকিৎসক জানান, গুরুতর ক্ষত নিয়েই এসেছেন এই রোগী। এদিকে চট্টগ্রামে ডাক্তার জায়েদার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি টেলিভিশনের ক্যামেরায় কথা বলতে রাজি হননি। মোবাইলের কথোপকথনেও দায় নিতে চাননি। ডাক্তার জায়েদা যে বেরসকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করেন, তার পরিবশেও স্বাস্থকর নয় বলে জানিয়েছেন অন্য রোগীরা।  

এক পাখির দাম পৌনে দুই লাখ টাকা [ভিডিও]

চট্টগ্রামে জাঁকজমক আয়োজনে শেষ হয়েছে বিচিত্র বর্ণ ও জাতের পোষা প্রাণীর প্রদর্শনী। এই প্রদর্শনীতে অন্যান্য পাখিদের মধ্যে পৌনে দুই লাখ টাকার পাখিও প্রদর্শিত হয়েছে। সোমবার নগরীর লালদিঘীতে দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা  জনগণকে পশুপাখি পালনে উদ্বুদ্ধ করাসহ খাবারের পুষ্টিগুণ নিয়ে আলোচনা করেন।  প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রাণিসম্পদ বিভাগকে আরো তৎপর হয়ে কাজ করার  আহবান জানিয়েছেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। লালদীঘি ময়দানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অফিস আয়োজিত এই প্রদর্শনীর ৪৫টি স্টলে স্থান পায় বর্ণিল বাজেরীগার, ককাটেইল, ফিঞ্চ, আফ্রিকা থেকে আনা কাকাতুয়াসহ ১৩ প্রজাতির বিদেশী-দুর্লভ পোষা পাখি। মনোমুগ্ধকর এসব পাখির কিচিরমিচির ধ্বনিতে আকৃষ্ট হয় শিশু-কিশোরসহ সবাই। এছাড়া, দিনে প্রায় ৬০ লিটার দুধ দেয়া নেদারল্যান্ডসের উন্নতজাতের গাভী, তুরস্কের টার্কি মুরগী, ছাগলসহ বিভিন্ন পুষ্ঠিগুণ সমৃদ্ধ পোষা প্রাণী প্রদর্শিত হয় মেলায়। এই প্রাণীগুলোর মধ্যে পৃথিবীর বিরল প্রজাতির পাখি হলো ব্লু গোল্ড ম্যাকাও। রুপ-রং ও সৌন্দর্যের জন্য পাখিপ্রেমীদের পছন্দের শীর্ষে এটি। হল্যান্ড থেকে আনা এই পাখির দাম ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। দৃষ্টিনন্দন এই পশু-পাখি দেখতে সকাল থেকে নগরীর লালদিঘী ময়দানে ভীড় করে বিভিন্ন বয়সী মানুষ। এ প্রদর্শনী সম্পর্কে চট্রগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অফিসের উপ-পরিচালক ডা. মোহাম্মদ রেয়াজুল হক বলেন, মানুষকে পশু পাখি পালনে উদ্বুদ্ধ করা, খাদ্য উপাদান ও উৎপাদন সম্পর্কে সহায়তা করাই এই প্রদর্শনীর মূল লক্ষ্য । খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন দুধ, ডিম ও মাংস রাখার আহ্বান জানিয়ে সিটি মেয়র বলেন, এ’ ধরণের প্রদর্শনী মানুষকে পুষ্টি সংক্রান্ত কুসংস্কার ও বিভ্রান্তি দূর করতে সাহায্য করবে।  এর আগে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, বর্ণিল শোভাযাত্রা ও পায়রা উড়িয়ে প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। পরে বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন তিনি।   এম

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি