ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৫:৩২:১০

শখের বসে কবুতর পালন করে সাবলম্বী গোলাম মোস্তফা (ভিডিও)

শখের বসে কবুতর পালন শুরু করে এখন তা খামারে পরিণত করেছেন কুষ্টিয়ার গোলাম মোস্তফা। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে ১০৫ প্রজাতির প্রায় ৭০০ কবুতর। পেশায় হস্তশিল্প সামগ্রী ব্যবসায়ী মোস্তফা মনে করেন বাণিজ্যিকভাবে কবুতর পালন করে আমিষের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। কথা বলে জানা গেছে, ১৯৭৬ সালে কুষ্টিয়ার বাস টার্মিনাল এলাকায় ভাড়া বাসায় ১২ জোড়া কবুতর পালন শুরু করেন মোস্তফা। পরবর্তীতে শহরের কাস্টম মোড়ে নিজ বাড়ির ছাদে শুরু করেন কবুতর পালন। এখন তার খামারে বিরল প্রজাতির প্রায় ৭০০ কবুতরের বসবাস।এই খামার দেখাশোনায় সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করেন তার স্ত্রী ও নাতনী। গোলাম মোস্তফার এই কবুতর প্রীতিতে মুগ্ধ প্রতিবেশীরাও। তারাও কবুতরের খামার তৈরীর ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।গোলাম মোস্তফা মনে করেন, ইচ্ছে আর পরিশ্রমের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কবুতরের খামার গড়ে মাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও ভারত ও পাকিস্তান থেকে দুর্লভ প্রজাতির কবুতর সংগ্রহ করেন কবুতর প্রেমী গোলাম মোস্তফা।বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে...

১০০ টাকার জন্য যুবককে গলাকেটে হত্যা

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় পাওনা ১০০ টাকা চাওয়ায় চাচাত ভাইকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাতে উপজেলার হেলাতলায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী ওই কিশোর পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহতের নাম রুবেল হোসেন (৩০)। তিনি হেলাতলা গ্রামের হাসান দফাদারের ছেলে। কলারোয়া থানার ওসি বিপ্লব কুমার নাথ জানান, ১০০ টাকা পাওনা নিয়ে রুবেলের সাথে তার চাচাত ভাইয়ের বিরোধ ছিলো। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওই টাকা চাওয়ায় রুবেলকে কয়েক দফা ইট ছুড়ে মারে তার চাচাত ভাই। পরে ছুরি দিয়ে তার গলাকেটে পালিয়ে যায়। পরে গ্রামবাসীর সহায়তায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে রুবেলের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রাতেই রুবেল বাবা ওই কিশোর ও তার মায়ের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান ওসি। একে// এআর

কাজী আরেফের ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

জাসদ নেতা কাজী আরেফ আহমেদের ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৬ ফেব্রুয়ারি। ১৯৯৯ সালের এই দিনে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার কালিদাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় বক্তৃতাকালে চরমপন্থি সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে নিহত হন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক জাসদের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি মন্ডলীর সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আরেফ আহমেদ। কাজী আরেফর মৃত্যুবার্ষিকীতে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) আজ শুক্রবার সকাল আটটায় মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। বিকেল চারটায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। সশস্ত্র যুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের কীর্তিমান পুরুষ কাজী আরেফ আহমেদের জন্ম ৮ এপ্রিল ১৯৪২ সালে কুষ্টিয়া জেলার সদর উপজেলার ঝাউদিয়া গ্রামে নানা বাড়িতে। তার পৈত্রিক বাড়ি হলো কুষ্টিয়ার মীরপুর উপজেলার খয়েরপুর গ্রামের বিখ্যাত কাজী বাড়ি। বাবা কাজী আবদুল কুদ্দুস আর মা খোদেজা খাতুন। ১০ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। ১৯৪৮ সালে বাবার সঙ্গে সপরিবারে চলে আসেন ঢাকায়। আর তারপর পুরাতন ঢাকার ঐতিহ্যবাহী টিকাটুলী এলাকায় বসত গড়েন। একে/এসএইচ    

বেনাপোলে সীমান্তে হুন্ডি ব্যবসায়ী আটক

বেনাপোলের রঘুনাথপুর সীমান্ত থেকে বাংলাদেশি ৬৪ লাখ হুন্ডির টাকাসহ বাবু মিয়া নামে (৩৮) এক হুন্ডি ব্যবসায়ীকে আটক করেছে বিজিবি। আটক বাবু মিয়া বেনাপোল পোর্ট থানার স্বরবাংহুদা গ্রামের রমজান আালীর ছেলে। যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল আরিফুল হক জানান, গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানা যায়, ভারত সীমান্ত পার হয়ে বিপুল পরিমান হুন্ডির টাকা নিয়ে এক হুন্ডি ব্যবসায়ী বেনাপোলের রঘুনাথপুর সীমান্ত এলাকায় পৌঁছেছে। এ ধরনের সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি টহলদল সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাবু মিয়াকে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে আসে। পরে তার সঙ্গে থাকা ৬৪ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে বেনাপোল পোর্ট থানায় একটি মামলা হয়েছে। এসএইচ/

লাইফ সেফটি রোবট তৈরি করলেন ৩ শিক্ষার্থী (ভিডিও)

রোবট সোফিয়াকে নিয়ে যখন হৈ চৈ সারাবিশ্বে, তখন বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা চেষ্টা করে যাচ্ছে রোবট তৈরি করতে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। মানুষের জীবনযাত্রা আরও সহজ করতে ‘অটোমেটিক হাউস ক্লিনার অ্যান্ড লাইফ সেফটি রোবট’ নামে একটি রোবট তৈরি করেছে ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের তিন শিক্ষার্থী। মানুষের সঙ্গে যোগাযোগে সক্ষম রোবট সোফিয়াকে নিয়ে মাতামাতি চলছে দুনিয়া জুড়ে। রোবট কেন্দ্রিক এই আগ্রহ উৎসাহিত করেছে ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের তিন শিক্ষার্থীকে। দীর্ঘ সাড়ে তিন মাসের প্রচেষ্টায় তারা তৈরি করে ‘অটোমেটিক হাউস ক্লিনার অ্যান্ড লাইফ সেফটি রোবট’। রোবটটিতে এমনভাবে প্রোগ্রামিং করা হয়েছে, সে নির্দেশ অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে গৃহস্থালীর বিভিন্ন কাজসহ আগুন নেভানো ও চুরি রোধের কাজ করতে পারবে। সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে চলবে এ রোবট। সূর্যের আলো যেদিকে যাবে, সোলার প্যানেলটিও সেদিকে ঘুরে তাপ গ্রহণ করবে। রোবট তৈরিতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা দিচ্ছে ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ইলেকট্রনিক্স বিভাগ। যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে, প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। ভিডিও লিংক... http://www.ekushey-tv.com/videogallery/news.php?videoinfo=3998 এসএইচ/

সুন্দরবনের গহীনে আমরা দুজন (পর্ব ১)

জীবনকে সংগ্রামী করে তুলেছি সেই বহুদিন। যান্ত্রিক শহরের ধুলা-বলি থেকে সহজে মুক্তি মেলেনা। শুধু বছরের দুটি ঈদ ছাড়া। ২০১৬ সালের কথা। সে বছর কোরবানির ছুটিতে ঢাকা থেকে খুলনায় নিজ গ্রামে আসি প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে। ঈদের দু’দিন আগে প্রিয় খুলনা শহরে আমার আগমন। রুপসী রুপসার কোল ঘেষে আমার বাড়ি। ছুটিতে এসে বেশ ভালোই কাটলো দু’টি দিন। এলাকায় এক প্রতিবেশি বড় ভাই আছেন মাকসুম নাম। সিনিয়র এ ভাই আর আমি খুলনায় থাকা অবস্থায় এক সঙ্গে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করতাম। পরবর্তিতে জীবনের সন্ধানে আমি চলে আসি ঢাকায়। তিনিও ঢাকায় নতুন চাকুরিতে যোগদেন। ফটোগ্রাফী আমার ছোট বেলার শখ। সেই যখন প্রথম ক্যামেরা সহ মোবাইল কিনলাম তখন থেকেই একটি ডিজিটাল ক্যামেরা কেনার চেষ্টা শুরু। ঢাকায় এসে অনেক কষ্টে একটি ক্যামেরা কিনে নিলাম। তবে শুধু ডিজিটাল নয়, একেবারে ডিএসেলার। কেমেরা কেনার গল্পটি আরো দীর্ঘ। সে কথা গোপনই থাক। খুলনায় এসে দেখি মাকসুম ভাইও ডিএসেলার নিয়েছেন। রিতিমতো ক্যামেরার সঙ্গে লেন্সও নিয়েছেন দুটি। আমিতো দেখে অবাক। মাকসুম ভাই আমাকে জানালেন সুন্দরবনের গভীরে দুবলার চরে রাস মেলার কথা। বললেন, তুমি যদি চাও আমি যেতে পারি। আমি কোন চিন্তা ভাবনা ছাড়াই রাজি হয়ে গেলাম। এমন সুযোগ আর পাওয়া যাবে না। তারপরে ফটোগ্রাফী জীবনে এমন একটি সুযোগ হাতছাড়া করা ঠিক হবে না। তাই তার কথায় কোনো কিছু না ভেবেই রাজি। যেমন কথা তেমন কাজ। আমার মাথায় ভ্রমণের ভুত সেই ছোট বেলা থেকেই। সেখানে এমন একজন মজার মানুষ সঙ্গী হিসেবে পাব জানতাম না। ঈদের দিন কথা হলো পরের দিনই দুজনে দুপুরে রওনা হব। দুবলারচর যেতে কতো টাকা লাগবে আমার জানা নাই। কিভাবে যেতে হবে তাও জানতাম না। এর আগে সুন্দরবন গিয়েছি তবে এতো গভীরে যাওয়া হয়নি কখনো। ক্যামেরার ব্যাগের মধ্যে সামান্য কিছু কাপড় নিয়ে চলে গেলাম মাকসুম ভাইয়ের বাড়িতে। তিনি তো আগে থেকেই প্রস্তুত। থ্রি-কোয়াটার পড়ে ঘাড়ে ক্যামেরা ব্যাগ ঝুলিয়ে আমার অপেক্ষায় আছেন। আমি যেতেই রিক্স নিয়ে ছুটলেন রূপসা ঘাটে। আমাদের এলাকা থেকে রূপসা ঘাট মানে নদী পাড় হয়ে তবে বাসে করে যেতে হয় মংলা। সেখান থেকে লঞ্চ বা ট্রলারে করে দুবলার চর। যাত্রাটা আমার কাছে সহজ মনে হলো। বাসে উঠব। এরপর লঞ্চে করে সোজা দুবলার চর। রিক্সা ২০ মিনিটে গিয়ে রূপসা ঘাটে হাজির। রিক্সায় বসে মাকসুম ভাই বললেন, আমি চিনি না। তবে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে হলেও দুই ভাই দুবলার চরে যাব। আমি হাসতে হাসতে বললাম, অবশ্যই। এটাই তো মজা। রূপসা ঘাটে নৌকায় করে নদী পাড়ি দিয়ে বাসে উঠে বসলাম দুই ভাই। বেশ আনন্দই লাগছে। মাকসুম ভাই জানালেন, মংলায় যেতে হবে সন্ধ্যার অনেক আগে। কারণ বিকেলে কিছু টুরিস্ট লঞ্চ সুন্দরবনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সেই লঞ্চে যদি যেতে পারি তবে ভালো হবে। আমি বললাম ঠিক আছে। এই প্রথম মংলা যাচ্ছি। খুলনার ছেলে তবে সড়ক পথে মংলা যাওয়া হয়নি। এর আগে সুন্দরবনে নদী পথে রুপসা থেকে যাওয়ার পথে মংলা দেখেছি। আমাদের গাড়ী বিকেল ৪টায় মংলা পৌছাল। আমার কাছে ছিল মাত্র ৩ হাজার টাকা। মাকসুম ভাই হয়তো বেশি টাকা নিয়ে ছিলেন। তিনি আমাকে এমনই একটি টাকার ধারণা দিয়ে ছিলেন। মংলা দেখতে ভালোই। মংলায় ঠিক নদীর কাছে বাস থামলো। নদী তখন বেশ শান্ত। বাস থেকে নেমে দুজন নদীর পাড়ে গেলোম। আমি তো লোভ সামলাতে পারলাম না। ক্যামেরা বের করে ছবি নিতে শুরু করলাম। মাকসুম ভাই বললেন এখন ছবি তোলার সময় না। আগে আমাদের যাবার ব্যবস্থা করতে হবে। নদী ঘাটে অনেক নৌকা আর ট্রলার। এপাড় থেকে ওপাড়ে কিছু সময় পর পর নৌকা ছাড়ছে। আমরা এগুলাম। মাঝিদের কাছে জানতে চাইলাম, দুবলার চর যেতে হলে কিভাবে যেতে হবে? তারা কিছুটা মুচকি হেসে বললেন, দেরি করে ফেলেছেন। সকালে কিছু টুরিস্ট দুবলার চর গিয়েছে। তাদের সাথে যেতে পারতেন। আমি বললাম, যা গেছে গেছে। এখন যাবার উপায় কি বলেন। তারা সবাই একই কথা বলতে লাগলো, এখন যেতে পারবেন না। এখন কেউেই যাবে না। দুবলার চর কি এইখানে যে বললেন আর চলে গেলেন। তখনই বুঝলাম জায়গাটি অনেক দুরে। আমি মাকসুম ভাইকে জিজ্ঞাস করলাম, ভাই কতো দুর? তিনি জানালেন, আমি তো জাইনি। তবে শুনেছি সুন্দরবনের গভীরে। মাকসুম ভাই বললেন, মজার বিষয় হচ্ছে- এমন একটি চর সমুদ্রের মধ্যে যেখানে মানুষ বসবাস করেনা। কিন্তু এই সময়ে হাজার হাজার মানুষ সেখানে উপস্থিত হয়। বিদেশ থেকেও শত শত পর্যটক আসে। তিনি বললেন, তুমি দেখে অবাক হবে যে সেখানে কতো ফটোগ্রাফার বড় বড় লেন্স নিয়ে হাজির হয়। তার কথা শুনে ক্লান্তি আমার দুর হয়ে আরো উৎসাহ পেলাম। কখন আমি চরে যাবে! সেটাই ভাবছি। কোনো মাঝি আমাদের সন্ধান দিতে পারলো না। কি অদ্ভুৎ। এমন একটি জায়গা যেখানে লাখ লাখ মানুষের সমাগম হবে অথচ সেখানে যেতে হলে কোনো সহজ উপায় নেই। চিন্তিত হয়ে পড়লাম। পশ্চিম আকাশে সূর্যও লাল হতে শুরু করেছে। আমি কিছুটা হতাশ হলাম। আমাদের অস্থিরতা দেখে একটি নৌকার মাঝি জানালেন, ওপারে কিছু সাংবাদিক কাল অথবা আজ রাতে দুবলার চর রওনা হবে। আপনারা দেখেন তাদের সঙ্গে যেতে পারেন কিনা। নৌকার মাঝি অল্পবয়সী। আমার মতো বয়স হবে। আমাদের হাতে ক্যামেরা দেখে সে মনে করেছে সাংবাদিক। মাকসুম ভাই শখের ফটোগ্রাফার। তবে আমি ঢাকাতে পত্রিকার সাথেই যুক্ত। আমি মাকসুম ভাইকে বললাম, এখন আপনিও সাংবাদিক হয়ে যান। আমি যা বলি তাই করবেন। তিনি হাসলেন। বললেন, চলো তাইলে ওপাড়ে যাই। নদী পাড়ি দিয়ে আসলাম নতুন জায়গায়। সেই মাঝি নিজে আমাদের সেই সাংবাদকদের কাছে নিয়ে গেলেন। সেখানে গিয়ে শুনলাম এটিএন এর মংলা প্রতিনিধি যাবেন সেই বহরে। স্থানিয় আরো বেশ কয়েকজন সাংবাদিক মিলে একটি ট্রলারে করে দুবলার চরে যাবেন তারা। তবে তাদের কারো দেখা পেলাম না। একজন আমাকে এটিএন এর সেই সাংবাদি ভাই এর ফোন নম্বর দিলো। নম্বর নিয়ে সেই সময়ের এটিএন বাংলার মংলা প্রতিনিধিকে ফোন দিলাম। প্রথমে কুশল বিনিময় তারপর পরিচয়। বললাম, ভাই আমি ঢাকা থেকে এসেছি। আপনার সাথে একটু কথা আছে। আপনাকে কোথায় পাওয়া যাবে। তিনি জানালেন, একটি জরুরী কাজে থানায় গিয়েছেন। ঘন্টাখানেক পরে আসবেন। আমাকে তাদের অফিসে বসতে বললেন। আমরা দুই ভাই তাদের অফিসে বসে রইলাম। অফিসে তখন কয়েকজন বসা ছিলেন। তারা আমাদের জিজ্ঞাস করলেন, কোথা থেকে এসেছেন? কোথায় যাবেন? আমি বললাম, ঢাকা থেকে এসেছি। যাব দুবলার চরে। অনেক কথা হলো তাদের সঙ্গে। আমি ঢাকার পত্রিকার সাংবাদিক শুনে তারা ভালোই ব্যবহার করলেন। একজন জানালেন, আমাদের সঙ্গে গেলেতো ভালোই হবে। আমরা অনেকেই যাব। অপেক্ষা আর শেষ হয় না। দুই ঘন্টা হয়ে এসেছে কারো দেখা নাই। সন্ধ্যা প্রায় হয়ে এসেছে। আমি মাকসুম ভাইকে বললাম, ভাই সন্ধ্যা তো হয়ে এসেছে চলেন একটু ঘুরে দেখি। মংলাতো এর আগে আসা হয়নি। ভাই রাজি হয়ে গেলেন। তার আগে ওই সেই ভাই কে একটা ফোন করলাম যে তিনি কখন আসবেন। তিনি জানালেন, আরো ঘন্টাখানেক সময় লাগবে। আমি তাকে বললাম, ভাই তাহলে আমরা একটু ঘুরে দেখি। আপনি যদি আগে চলে আসেন তবে আমার এই নম্বরে একটা ফোন দিয়েন। মাকসুম ভাই আমাকে বললেন, চিন্তা করো না, যদি কোনো কাজ না হয় তবে রাতে এখানে কোনো একটি হোটেলে থাকব। ভোরে এখান থেকে অনেক টুরিস্ট দুবলার চর যায়। তাদের একটিতে উঠে যাব। আমিও বললাম ঠিক আছে। দুই ভাই ঘাড়ে ব্যাগ ঝুলিয়ে নদীর পাড়ে বাঁধের উপর হাটতে লাগলাম। অনেক সুন্দর জায়গাটা। সন্ধ্যার গোলাপী আলো চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। ক্যামেরা দিয়ে সেই রূপ আটকে রাখলাম। সন্ধ্যায় নদীর বুকে সূর্য ঢুবে যাওয়া কি যে অপরুপ, তা চোখে না দেখলে বর্ণনা করা যাবে না। দুজনে অল্প-স্বল্প নিজেদের ফটেশেসনটাও সেরে নিলাম। (চলবে ...) এসএ/  

রফতানি হচ্ছে মহেরেপুররে নকশী কাঁথা

মেহেরপুরে তৈরি নকশিকাঁথা এখন রফতানি হচ্ছে। নতুনের সাথে পুরনো শাড়ি ও লুঙ্গি দিয়ে তৈরি করা হয় বাহারী ডিজাইনের এ’সব কাঁথা। গৃহবধূ, শিক্ষার্থীসহ অনেক নারী এই কাজ করে সংসারে সচ্ছলতা এনেছেন, হয়েছেন স্বাবলম্বী। এদিকে, নকশিকাঁথা শিল্প সম্প্রসারণে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। সুঁই আর সুতোর এক একটি ফোড়ে তৈরি হচ্ছে বাহারী নকশিকাঁথা। পুরনো শাড়ী-লুঙ্গি দিয়েই নকশিকাঁথা তৈরি হয়। মেহেরপুর সদর উপজেলার সহগলপুর গ্রামের শতাধিক নারী ব্যতিক্রমী এই কাজ করে এখন স্বাবলম্বী। গ্রামের দরিদ্র নারীরা সংসারের কাজের ফাঁকে এই কাজ করছেন। তাদের তৈরি নকশিকাঁথা বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে বাজারজাত করা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নেদারল্যান্ডস, ইতালী সহ বিভিন্ন দেশে। নকশিকাঁথা কারিগর নিজেদের তৈরি কাঁথা বিদেশে বিক্রি হওয়ায় বাড়তি উৎসাহ পাচ্ছেন তারা। সিডিএ’র সুপারভাইজার রেবেকা খাতুন বলেন, নকশিকাঁথা কারিগর প্লেস ম্যাট, রানার, বেবি কাঁথাসহ ছোট বড় নানা মাপের কাঁথা তৈরি হয় এখানে।নকশিকাঁথার কারিগরদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ।মেহেরপুর বিদেশে নকশিকাঁথার বাজার সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ভিডিওি লিংক: 

নড়াইলে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস পালিত

নিরাপদ খাদ্যে ভরবো দেশ, সবাই মিলে গড়বো সোনার বাংলাদেশ’ এ শ্লোগানকে সামনে নিয়ে নড়াইলে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস পালিত হয়েছে। শুক্রবার দিবসটি পালন উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে র‌্যালি, আলোচনা সভা ও নিরাপদ খাদ্য ও ভেজাল বিরোধী উদ্বুদ্ধকরণ সভা ও ভিডিও-প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে র‌্যালি শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মো. এমদাদুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বকাতব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. কামরুল আরিফ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়ারুল ইসলাম, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনোতোষ কুমার মজুমদার, জেলা পরিষদের সদস্য সাইফুর রহমান হিলু প্রমূখ। কর্মসূচিতে সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।   আর

মৃত ঘোষণার ৩ ঘণ্টা পর কেঁদে উঠল নবজাতক

নবজাতকটিকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আর সে জন্য তাকে একপাশে ফেলে রাখা হয়। চিকিৎসকের মৃত ঘোষণার প্রায় তিন ঘণ্টা পর নবজাতকটি কেঁদে ওঠে। এ নিয়ে সৃষ্টি হয় তোলপাড়।  ঘটনাটি ঘটে খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।  নবজাতকের পরিবার থেকে জানা যায়, গত বুধবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে উপজেলা সমবায় অধিদফতরের অফিস সহকারী পুরঞ্জন গাইনের স্ত্রী সোমা গাইন অসুস্থ হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। রাত দুইটার দিকে তার প্রসব বেদনা ওঠলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শামিম হোসেনের তত্ত্বাবধানে তাকে ডেলিভারির জন্য কেবিনে নেয়া হয়। সেখানে ফুটফুটে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন সোমা গাইন। কিন্তু চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করে তুলা মুডিয়ে একপাশে ফেলে রাখেন।  সকালে হাসপাতালের আয়া আছমা খাতুন শিশুটিকে ফেলে দিতে গেলে বাচ্চাটি কেঁদে ওঠে। এই খবর জানার পর অভিভাবকরা মা ও শিশুটিকে বৃহস্পতিবার সকালে খুলনা শিশু হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালের নার্স লিপিকা রানী সাহা বলেন, বাচ্চাটির হার্টবিট না পাওয়ায় টেবিলের ওপর রাখা হয় এবং ২টা ১০ মিনিট থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ছিল। পরে বাচ্চাটি জীবিত আছে টের পেয়ে ওয়ার্মে রাখা হয়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোজাম্মেল হকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একই সময়ে ৩টি বাচ্চার জন্ম হয়েছে। তার মধ্যে একটি বাচ্চা মৃত বলে গুজব রটেছে। যেভাবে বিষয়টি শোনা যাচ্ছে আসলে তা ঠিক নয়। এসি/ টিকে

কুষ্টিয়ায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত এক

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা এলাকায় তথাকথিত ‌‌বন্দুকযুদ্ধে` এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও দাবি, ওই ব্যক্তি ডাকাত দলের সদস্য। বৃহস্পতিবার ভোর রাত ৩টার দিকে উজানগ্রাম ইউনিয়নের মহিষাডাঙ্গা মহাসড়কে এ ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম-পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ। কথিত বন্দুকযুদ্ধের ব্যাপারে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রতন শেখের ভাষ্য, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, মহিষাডাঙ্গায় মহাসড়কে একদল ডাকাত গাছের সঙ্গে দড়ি বেঁধে ডাকাতির চেষ্টা করছে। পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযানে গেলে ডাকাতরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। জবাবে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে ডাকাত দল পিছু হটে। এ সময় অজ্ঞাত এক ডাকাত গুলিবিদ্ধ হয়। পুলিশ তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রাশেদুল ইসলাম, কনস্টেবল মো. আহাদুল ইসলাম আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি বন্দুক, একটি গাছকাটা করাত ও মোটা দড়ি উদ্ধার করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। এসএইচ/

পাখিদের বিশাল অভয়রণ্য

শহরের জীবনে যান্ত্রিকতার সঙ্গে চলতে চলতে ক্লান্তি আসতেই পারে। হয়তো চিন্তা করছেন একটু দূরে কোথাও দু’একটা দিন একাকি নিরিবিলি সময় কাটিয়ে আসবেন! সে ক্ষেত্রে আমি প্রস্তাব করতে পারি নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার পানিপাড়া গ্রামে মধুমতি নদীর তীরে গড়ে ওঠা অরুনিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাব বা ইকো পার্ককে। যদিও শীতকালে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অতিথি পাখির সমারোহ থাকে তবে অরুণিমায় গ্রীষ্মকালেও দেশী-বিদেশী কয়েক হাজার পাখি দেখা যায়। যা এই রিসোর্টের সৌন্দর্য্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই মুহুর্তে পাখিদের ব্যপক উপস্থিত দেখা গেছে অরুনিমায়। মোট কথা দিনে দিনে পাখিদের এই উপস্থিতি বিশাল অভয়রণ্যে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা শুধু পাখি দেখতেই ছুটে আসছেন প্রতিদিন। দীর্ঘ এক যুগের সাধনায় গ্রামীণ পরিবেশে ৫০ একর জমির উপর গড়ে তোলা হয়াছে অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় একটি ইকো পার্কটি। অরুণিমা কান্ট্রি সাইড এর নাম। এখানে গাছের ছায়ায়, পাখির গান শুনতে শুনতে, জলের ধারে অনায়াসে কাটিয়ে দেয়া যায় অনেকটা সময়। আবহমান গ্রামবাংলার চিরচেনা রূপ আর আধুনিকতার সুপরিকল্পিত সমন্বয় ঘটানো হয়েছে এই রিসোর্টে। দর্শনীয় ও আকর্ষণীয় দিক আধুনিক বাংলো, চিড়িয়াখানা, পুকুর, লেক, গোলাপ বাগান, বাটার ফ্লাই পার্ক, ছেড়াদ্বীপ, ঘোড়ার গাড়ি, গরুর গাড়ি, গলফ খেলার মাঠ। অরুনিমার প্রবেশ পথে রয়েছে সারিবদ্ধ মন্দির ঝাউ। অভ্যর্থনা জানানোর ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে সারিবদ্ধ গাছ। আরও নজর কারবে রাস্তার দুপাশে গড়ে তোলা দেশী-বিদেশি অসংখ্য ফুল গাছের বাগান। এখানকার প্রাইম গার্ডেন অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। এছাড়া গোলাপ বাগানের সৌন্দর্যেমোহিত হবেন। আছে পাহারবেষ্টিত বাংলো দীঘি। সব কিছু মিলিয়ে এটিসত্যিই একটি আকর্ষনীয় পর্যটন স্থান। এখানে আরও রয়েছে- আধুনিক ও বৈচিত্রময় কটেজ, উন্নত ডাইনিং হল, কনফারেন্স হল, আধুনিক বিজনেস সেন্টার, চিলড্রেন পার্ক, ইনডোর-আউটডোর খেলাধুলার সুবিধাসহ আরও অনেক কিছু। রয়েছে গ্রাম বাংলার হারানো ঐতিহ্যবাহী উপকরণ। ঢেঁকি, পোলো, কোচ, পানের বাটা, হুক্কা, গরুর গাড়ীসহ বিভিন্ন গ্রামীণ উপকরণ ব্যবহার ও প্রদর্শনের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে। লেকে এবং মধুমতি নদীতে ভ্রমনের জন্য অরুণিমাতে রয়েছে লাইফবোট, ডিনার বোর্ট প্যাডেল বোর্ট। রিসোর্ট সংলগ্ন মধুমতি নদীতে আকর্ষণীয় নৌ পর্যটনও রয়েছে। হাজার হাজার বিরল প্রজাতির ফল ও ফুলের ও বনজ ও ঔষধি বৃক্ষের চারা রোপন করে অরুনিমাকে প্রাকৃতিক সৌন্দার্যের এক অপরূপ সৃষ্টি হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। আম, কাঠাল, লিচু, নারকেল, চেরি, স্টার আপেল, জলপাই, পেঁপে, কুল প্রভৃতিসহ অসংখ্য ফলের গাছ রয়েছে। ফুলের মধ্যে ড্যাফোডিল, ক্যামেলিয়া, লিলি, কুমারী পান্থ, পদ্ম, নীলপদ্ম, রঙ্গন, কাঞ্চন, প্রায় দুইশ´ প্রজাতির গোলাপ, মার্বেলটাস্ক, টগর, গ্যালাডুলাসসহ আরো অনেক রকম ফুল এ পর্যটন কেন্দ্রের শোভা বর্ধন করেছে। যেভাবে যাবেন নড়াইল শহর থেকে আপনাকে যেতে হবে কালিয়া উপজেলায়। সেখান থেকে অরুনিমা রিসোর্টে। সেক্ষেত্রে আপনি নড়াইল থেকে যেকোন যানবাহন নিয়ে যেতে পারেন। অথবা আপনার নিজস্ব গাড়ি নিয়েও যেতে পারেন সেখানে। রেস্টুরেন্ট ও আবাসিক ব্যাবস্থা পর্যটকদের আবাসিক সুবিধার জন্য মধুমতি নদীর তীরে গড়ে তোলা এই রিসোর্টে আছে এসি, ননএসি ৩০টি কটেজে ৩৫টি রুম রয়েছে। ২ রুম বিশিষ্ট একটি ভাসমান কটেজ যা পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। এ আবাসিক বোটসহ সকল প্রকার কটেজে রয়েছে খাবারের সু-ব্যবস্থা। এছাড়াও আছে ৪০ বেডের তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি ডরমিটরি, ডাইনিং হল, কনফারেন্স হল, ট্রেনিং সেন্টার। এসএ/

দুই দশকে সুন্দরবনে ৩৫ বাঘের মৃত্যু

সুন্দরবনে গত দুই দশকে অন্তত ৩৫টি রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার সকালে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের সুন্দরবন সংলগ্ন মোরেলগঞ্জ উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের গুলিশাখালী গ্রামে প্রায় আড়াই বছর বয়সী বাঘ শাবকটিকে পিটিয়ে হত্যা করে গ্রামবাসী। এরমধ্যে লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় গ্রামবাসীর পিটুনীতেই অন্তত ১৫টি বাঘের মৃত্যু হয়। এছাড়া চোরা শিকারি, বার্ধক্যজনিত কারণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে আরও ২০টি রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মৃত্যু হয়। অপরদিকে বনের বাঘের আক্রমণে নারী, পুরুষ মিলিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৬৫ জন। বাঘের আক্রমণে আহত হন প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ।নিহতদের মধ্যে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের সীমানায় ২৬ জন এবং সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের সীমানায় ২৩৪ জন নিহত হন। এদের অধিকাংশই বনজীবী যারা বৈধ পাশ নিয়ে বনজসম্পদ আহরণে গিয়ে বাঘের মুখে পড়ে নিহত হন। এই তথ্য সুন্দরবন পূর্ব ও পশ্চিম বিভাগের সংরক্ষিত নথি থেকে পাওয়া।সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মাহমুদুল হাসান জানান, সুন্দরবন পূর্ব বিভাগে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে ২০০৭ সালের সিডরের জলোচ্ছ্বাসে, বার্ধক্যজনিত কারণে এবং চোরাশিকারীদের হাতে মোট ১৭টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার মারা পড়েছে। এর মধ্যে বন সংলগ্ন মংলা ও শরণখোলা উপজেলার লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় পাঁচটি বাঘকে পিটিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। স্বাভাবিক মৃত্যু হয় অন্তত চারটি বাঘের। একটি বাঘ মারা যায় ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বরের সিডরের জলোচ্ছ্বাসে। বাকি আটটি বাঘ চোরাশিকারীদের হাতে নিহত হয়।২০০১ সাল থেকে চলতি বছরের ২৮ জুলাই পর্যন্ত সময়ে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগে ১৭টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার মারা গেছে। তিনি আরও জানান, বিভিন্ন সময়ে বাঘের আক্রমণে একজন নারীসহ মোট ২৬ জন প্রাণ হারান। এদের মধ্যে ময়না নামে মংলা উপজেলার জয়মনি এলাকার এক বৃদ্ধ গ্রামবাসী ছাড়া বাকি সবাই বনজীবী। নিহতদের মধ্যে ১৪ জন বাগেরহাটের সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা উপজেলার ছয়জন, মংলা উপজেলার একজন, রামপাল উপজেলার এবং অপর পাঁচজন খুলনার দাকোপ, পাইকগাছা ও বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বাসিন্দা। একই সময়ে চারটি পৃথক ঘটনায় বাঘের আক্রমণে একজন বনকর্মীসহ নয়জন আহত হন। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বশিরুল আল মামুন জানান, গত দুই দশকে সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগে মোট ১৫টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার নিহত হয়। এর মধ্যে লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় মানুষের পিটুনীতে নিহত হয় আটটি। এছাড়া ২০০১ সাল থেকে ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় দুই দশকে সেখানে ২৩৪ জন নারী-পুরুষ বাঘের আক্রমণে নিহত হয়েছেন। এদের অধিকাংশই বনজীবী ও সুন্দরবন সংলগ্ন নদী-খালে চিংড়ি রেণু আহরণকারী। সুন্দরবনের বণ্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. মদিনুল আহসান বলেন, সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার সংরক্ষণে সরকার ‘বাংলাদেশ টাইগার অ্যাকশন প্ল্যান ২০০৯-১৭ বাস্তবায়ন করছে। এরই অংশ হিসেবে বাঘ রক্ষায় সচেতনতা সৃষ্টি, বাঘের আক্রমণ থেকে বন সংলগ্ন লোকালয়ের জানমাল এবং মানুষের হাত থেকে লোকালয়ে চলে আসা বাঘ রক্ষায় ৮৯টি টাইগার রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। গত ১০ বছরে ৯টি বাঘ মানুষের হাতে মারা পড়েছে। দিনদিন মানুষ সচেতন হচ্ছে। তুলনা করলে এখন আগের তুলনায় এখন বাঘ কমই মারা পড়ছে। লোকালয়ে বাঘ ঢুকে পড়লে তা রক্ষায় ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম (ভিটিআর) কাজ করে থাকে। বাঘ অচেতন করতে আমাদের ছয়টি বন্দুক রয়েছে। গত মঙ্গলবার যে বাঘটি গুলিশাখালী গ্রামে ঢুকে পড়েছিল তা রক্ষায় আমরা প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু বিক্ষুব্দ গ্রামবাসীর কারণে বাঘ শাবকটিকে বাঁচাতে পারিনি। যা খুবই দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন ওই বন কর্মকর্তা। তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনের ভোলা, বলেশ্বর ও পশুর নদীর বিভিন্ন স্থানে পলি জমে নদী মরে যাচ্ছে। যার কারণে নদীতে পানি কমে যাওয়ায় সুন্দরবন সংলগ্ন বেশকিছু এলাকার লোকালয়ে বাঘ অবাধে ঢুকে পড়ছে। এই নদীগুলোর খনন কাজ করতে প্রকল্প তৈরি করা হচ্ছে। ওই প্রকল্প অনুমোদন পেলে আমরা ওই নদীগুলো খনন করা হবে। রয়েল বেঙ্গল টাইগার সম্পর্কে কিছু সাধারণ তথ্য-পৃথিবীতে এখন যে ছয় প্রজাতির বাঘ টিকে আছে তার মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগার অন্যতম। বিশ্বের সর্ববৃহৎ একক ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট (বাদাবন) বাংলাদেশের সুন্দরবনে একক জায়গায় পৃথিবীর সব থেকে বেশি রয়েল বেঙ্গল টাইগার বসবাস করে। পূর্ণ বয়স্ক বাঘের ওজন সর্বোচ্চ ২২০ কেজি এবং বাঘিনীর ওজন সর্বোচ্চ ১৬০ কেজি। প্রাকৃতিক পরিবেশে এরা ১০ থেকে ১৪ বছর বাঁচে। তবে বন্দি অবস্থায় এদের আয়ু ১৮-১৯ বছর। বাঘিনী দুই থেকে তিন বছর পর পর এক সঙ্গে দুই থেকে তিনটি বাচ্চা দেয়। বাচ্চারা মায়ের সঙ্গে থাকে দুই বছর। এই সময় বাঘিনী পুরুষ বাঘের সংগ এড়িয়ে চলে। কারণ পুরুষ বাঘের কাছে বাঘ সাবক নিরাপদ না। তিন প্রজাতির বাঘ পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। যে ১৩টি দেশে বাঘ টিকে আছে সেগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, চীন, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, লাওস ও রাশিয়া। এসএইচ/

বাগেরহাটের জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কুল চাষ

বাগেরহাটের সিডর আইলা বিধ্বস্ত লবণাক্ত মাটিতে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কুল চাষ। কুল চাষ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন এলাকার চাষীরা। নিজেরা স্বাবলম্বী হয়েছেন, অন্যদেরও উদ্ধুদ্ধ করছেন তারা। জেলার কুল স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে আসছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।  প্রথম কুলচাষ শুরু করেন মল্লিকবেড় গ্রামের বাদশা তালুকদার। পাচঁ বছর আগে লবণাক্ত জমিতে চাষ করে সফলতা পান। লাভের টাকায় সাড়ে পাচঁ একর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করেন বাদশাহ। তাকে দেখেই এলাকার অনেক কৃষক কুল চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এ কাজে কৃষকদের সহায়তা করছে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। কুল চাষ করে সফলতা পেয়েছেন কৃষকরা। এসএইচ/  

গাছ রক্ষা করে সড়ক নির্মাণে ব্যয় ১০ হাজার কোটি টাকা

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যশোর রোডের প্রাচীন শতবর্ষী গাছগুলোকে রক্ষা করে নতুন মহাসড়ক নির্মাণ করতে হলে শুধুমাত্র জমি কেনা বাবদ ১০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। প্রসঙ্গত, সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য মতে, রাস্তার দুই পাশে গাছ রয়েছে ২৩১২ টি। এর মধ্যে দুশোর অধিক গাছ রয়েছে যেগুলোর বয়স ১৭০ বছরের বেশি। যশোর শহর থেকে বেনাপোল পর্যন্ত সড়কের দৈর্ঘ্য ৩৮ কিলোমিটার। এই রাস্তাটি সম্প্রসারণের প্রকল্পটি পাশ হয় ২০১৭ সালের মার্চ মাসে। সড়ক সম্প্রসারণের দু`পাশে থাকা গাছগুলো কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে দেশব্যাপী শুরু হয় তীব্র প্রতিবাদ।   সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের অতিরিক্ত সচিব বেলায়েত হোসেন জানান, যশোর রোড বরাবর নতুন মহাসড়ক নির্মাণ করতে হলে স্থানীয় জনসাধারণের ক্ষতি হবে। সেখানে জমির সঙ্কট রয়েছে। জমি অধিগ্রহণের ফলে বহু লোককে অন্যত্র সরিয়ে নিতে হবে, যা একটি কঠিন কাজ। গাছগুলোকে রেখে রাস্তা প্রশস্ত করা যায় কি না, সড়ক বিভাগ সেটি এখন বিবেচনা করছে বলেও জানান তিনি। বেলায়েত হোসেন বলেন, ৩০ শতাংশ শতবর্ষী প্রাচীন গাছ মরে গেছে। এই গাছগুলো অপসারণ করা প্রয়োজন। এছাড়াও কিছু গাছ রয়েছে যেগুলো সড়কের ওপর চলে এসেছে এবং যার ফলে দুর্ঘটনা ঘটছে। এদিকে গত ১৮ই জানুয়ারি হাইকোর্ট এক রিট আবেদনের প্রেক্ষাপটে ছয় মাসের জন্য গাছ কাটার ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে। যশোর রোড কলকাতা থেকে যশোর পর্যন্ত বিস্তৃত। পেট্রাপোল থেকে কোলকাতা পর্যন্ত সড়কও চার লেন হচ্ছে। তবে সেখানেও গাছ কাটার ওপর আদালতের স্থগিতাদেশ রয়েছে। সূত্র: বিবিসি   কেআই/

চুয়াডাঙ্গায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের সন্তোষপুর-দেহাটি সড়কে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ইমান আলী (৩০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি ডাকাতি মামলার আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহত ইমান আলী চুয়াডাঙ্গা সদরের চাঁদপুর গ্রামের ফকর উদ্দিন ব্যাপারীর ছেলে। জীবননগর থানার পুলিশ জানিয়েছে, ইমান আলী আন্তঃজেলা ডাকাতদলের সর্দার। ডাকাত ইমান আলী ও তার ১০/১২ জন সঙ্গী রাতে ডাকাতি করার জন্য সন্তোষপুর-দেহাটি সড়কে অবস্থান করছিল। এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতদল পুলিশের দিকে গুলি ছোড়লে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। বন্দুকযুদ্ধের এক পর্যায়ে ডাকাতদল পালিয়ে যায়। সেখান থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ইমান আলীকে আটক করে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি এলজি স্যুটারগান, চারটি বোমা, পাঁচটি চাপাতি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। জীবননগর থানার এএসআই সাজ্জাদ জানান, ইমান আলীর বিরুদ্ধে অস্ত্র, বিস্ফোরক ও ডাকাতি আইনে তিনটি মামলা আছে। একে// এআর  

বাঘের হামলায় নিহতদের পরিবারের মানববেতর জীবনযাপন

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বাঘের হামলায় নিহতদের পরিবারগুলোর দিন কাটছে মানবেতরভাবে। যারা বাঘের আক্রমনে প্রাণ হারিয়েছেন তাদের স্ত্রীদের নানা রকম অপবাদ দেওয়া হয়। বয়কট করা হয় বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে। কর্মসংস্থানের অভাবে অতিকষ্টে দিন পার করছেন এসব অসহায় নারী।  পুর্ব-ধানখালি গ্রামের সোনামনি। প্রথম স্বামী চরণ সরদারকে বাঘে নিয়ে যায়। এরপর শুরু হয় পরিবার ও প্রতিবেশিদের নানা লাঞ্চনা-গঞ্জনা। অপয়া বলে সামাজিকভাবে দূরে রাখা হয় তাকে। কয়েক বছর পর সোনামনির আবার বিয়ে হয় দেবর ভবন সরদারের সঙ্গে। সুন্দরবনে মাছ ধরতে গেলে তাকেও বাঘে নিয়ে যায়। শুধু সোনামনিই নন, এমন শত শত বিধবার জীবনের গল্প একই রকম। সামাজিক গঞ্জনার পাশাপাশি আর্থিক দৈন্যতায় জীবন কাটছে তাদের। মাছের রেণু ধরে, নদীতে জাল বেয়ে, অথবা পরের কাঁথা সেলাই করে কোনভাবে জীবনযাপন করছেন তারা। এসব বিধবা নারী যাতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন, এমন কর্মসংস্থান তৈরি করতে সরকারি পরিকল্পনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।এদিকে সরকারি সহযোগিতা নিশ্চিত করতে বিধবাদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। বেসরকারি সংস্থা লিডার্সের তথ্যমতে সুন্দরবন সংলগ্ন চারটি ইউনিয়নে ৫১৯ জন বিধবা রয়েছেন। তবে স্থানীয়দের মতে এমন বিধবা নারীর সংখ্যা হাজারের কাছাকাছি। এসএইচ/

যশোরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১

যশোর সদর উপজেলা থেকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপজেলার রঘুরামপুর থেকে রোববার ভোরে ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলছে, নিহত ব্যক্তি একজন সন্ত্রাসী। দু’গ্রুপ সন্ত্রাসীর ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তার মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র-গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিহতের নাম-পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ। যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই খবির উদ্দিন জানান, রোববার ভোরে পুলিশ যশোর সদর উপজেলার রঘুরামপুর গ্রামে দু’দল সন্ত্রাসী `বন্দুকযুদ্ধে’ লিপ্ত হয়েছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক সন্ত্রাসীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ লাশ যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশি ওয়ানশুটার গান, পাঁচটি গুলির খোসা, এক রাউন্ড গুলি ও পাঁচটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে শনিবার ভোরে যশোরে পৃথক স্থান থেকে অজ্ঞাত পরিচয় চার ডাকাতের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সেইসঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলিসহ ডাকাতির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিহত চার ডাকাতের নাম-পরিচয় সনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। একে//এসএইচ

যশোরে চারজনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

যশোরে সদর ও ঝিকরগাছা উপজেলা থেকে শনিবার ভোরে অজ্ঞাত চারজনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা সবাই ডাকাত বলে দাবি করছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, এ সময় ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলিসহ ডাকাতির সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। তবে নিহত চার ব্যক্তির নাম-পরিচয় এখনও সনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোরে যশোর-মাগুরা মহাসড়কের নোঙ্গরপুর এলাকায় গোলাগুলি হচ্ছিলো। এমন সংবাদ পেয়ে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে দুই ডাকাতের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে ২ রাউন্ড গুলি, ২টি ওয়ানশুটার গান, ৫টি কার্তুজ, ৫টি ধারালো অস্ত্র, দড়ি, স্যান্ডেলসহ ডাকাতির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ লাশগুলো উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। অন্যদিকে, ঝিকরগাছা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় দুই ডাকাতের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঝিকরগাছা থানার ডিউটি অফিসার এএসআই রফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার ভোরে গ্রামবাসীর মাধ্যমে ডাকাত পড়েছে এমন সংবাদ পেয়ে উপজেলার চাপাতলা মাঠে অভিযান চালিয়ে অজ্ঞাতপরিচয় দুই ডাকাতের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ডাকাতির পণ্য ভাগাভাগি নিয়ে দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছেন তিনি। তিনি আরও জানান, এ সময় ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলিসহ ডাকাতির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেননি এএসআই। একে//

সাগরদাঁড়িতে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা শনিবার থেকে

মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আগামীকাল শনিবার থেকে কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়িতে শুরু হচ্ছে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা। এ মেলা চলবে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত। সপ্তাহব্যাপী মেলা উপলক্ষে জেলা প্রশাসন, কেশবপুর উপজেলা প্রশাসন ও মধুসূদন একাডেমী সাগরদাঁড়িতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। মেলা উদযাপন কমিটি সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে মেলার উদ্বোধন করবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বিশেষ অতিথি থাকবেন মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক এমপি, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার এমপি, সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন, সংসদ সদস্য রনজিৎ কুমার রায়, সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য্য, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মনির, পুলিশ সুপার মো. আনিচুর রহমান, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার প্রমুখ। সভাপতিত্ব করবেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন। মেলা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ও কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, ৭ দিনব্যাপী মধু মেলায় থাকছে কবির সৃষ্টি ও সাহিত্য কর্মের উপর দেশ-বিদেশী কবি সাহিত্যিকদের অংশগ্রহণে আলোচনাসভা, কবির প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, আবৃত্তি, মধুগীতি পরিবেশনা, কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য প্রদর্শন। কুঠির শিল্প ও গ্রামীণ পসরা নিয়ে মেলায় বসবে প্রায় দু’শ স্টল। মহাকবি মাইকেল মদুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন জমিদার। ১৮৭৩ সালে ২৯ জুন কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মাইকেল মদুসূদন দত্তের কালজয়ী রচনাবলীর অন্যতম হলো- মেঘনাদবধ কাব্য, শর্মিষ্ঠা, ক্যাপটিভ লেডী, কৃষ্ণকুমারী, বুড়ো শালিকের ঘাঁড়ে রোঁ, বীরাঙ্গনা। এ মহাকবির জন্মের কারণেই সাগরদাঁড়ি ও কপোতাক্ষ নদ জগৎবিখ্যাত। কালের প্রবাহে কপোতাক্ষ নদের যৌবন বিলীন হলেও মাইকেলের কবিতার কপোতাক্ষ নদ যুগে যুগে বয়ে চলেছে।   আর

শিশু আলপনা হত্যায় দুই আসামির ফাঁসি বহাল

ঝিনাইদহের মহেশপুরে শিশু আলপনা খাতুনকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে দুই আসামির ফাঁসির রায় বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। এ মামলায় ডেথ রেফারেন্স, জেল আপিল ও দুই আসামির আপিলের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। আসামিরা হলো- মো. সাইফুল ইসলাম ও মো. আরিফ হোসেন। সাত বছর আগে জেলা জজ আদালতে তাদের ফাঁসির রায় হয়েছিল। হাইকোর্ট রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মনিরুজ্জামান রুবেল, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আবুল কালাম আজাদ খান, সৈয়দা সাবিনা আহমেদ, মারুফা আক্তার শিউলি। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও আফিল উদ্দিন। মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে ঝিনাইদহের মহেশপুরে পাট ক্ষেতে নিয়ে সাত বছরের শিশু আলপনাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে আসামি সাইফুল ইসলাম ও আরিফ হোসেন। ওই ঘটনায় ২০০৮ সালের ২৬ জুন ঝিনাইদহের নারী-শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন আলপনার বাবা তোরাব আলী। বিচার শেষে ২০১১ সালে আদালত দুই আসামির ফাঁসির রায় দেন। ওই রায়ের পর কারাগারে থাকা দুই আসামির ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিল শুনানির জন্য হাইকোর্টে আসে। প্রায় এক মাস শুনানির পর আজ বৃহস্পতিবার রায় দিল হাইকোর্ট।   আর/টিকে

ভৈরব নদ থেকে কলেজছাত্রের লাশ উদ্ধার

খুলনার ভৈরব নদ থেকে মিঠুন কুমার দাস (২৩) নামে সরকারি বিএল কলেজের এক ছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর ফুলবাড়িবাড়ী গেট সংলগ্ন ভৈরব নদের ফেরির পন্টুনের পাশ থেকে ভাসমান অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়। দৌলতপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজিব কুমার দাস জানান, এলাকাবাসী খবর দিলে পুলিশ ঘনটাস্থলে গিয়ে ভাসমান অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে। পরে তা ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে জানায় পুলিশ। মিঠুনের বাড়ি বাগেরহাট সদর উপজেলার চুলকাঠি গ্রামে। সে মৃত শশাঙ্ক দাসের ছেলে। বিএল কলেজের অর্থনীতি বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন তিনি। উল্লেখ্য, গত ১২ জানুয়ারি রাত ৯টার দিকে মিঠুন ও তার বন্ধুরা ওই পন্টুনে বসে গল্প করার সময় হঠাৎ মিঠুন নদীতে পড়ে যায়। তারপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। একে// এআর

যশোর রোডের গাছগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার আহ্বান

যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করতে ঐতিহাসিক যশোর রোডের শতবর্ষী প্রায় আড়াই হাজার গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্তের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন অনেকেই। ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় গাছগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার আহ্বান তাদের। তবে ভিন্ন মতও আছে। গাছ কাটার পক্ষে যাদের অবস্থান, তাদের যুক্তি, গাছগুলোর বয়স হয়েছে। ঝড়ে ডাল ভেঙে মানুষ আহত হয়, বন্ধ হয় রাস্তা, তাই কেটে ফেলাই উচিত। ঐতিহাসিক যশোর রোড। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অংশ। সড়কটি নির্মাণের পেছনেও আছে আরেক ইতিহাস। ১৮৪০ সালে যশোরের বকচরের জমিদার কালী পোদ্দার মায়ের গঙ্গাস্নান যাত্রা আরামদায়ক করতে নদীয়ার গঙ্গাঘাট পর্যন্ত সড়কটি নির্মাণ করেন। পরে ১৮৪২ সালে সড়কে ছায়া দিতে দু’ধারে লাগান রেইনট্রি বা ফুলকড়ইয়ের চারা। সেই চারাগুলো বৃক্ষ হয়ে আজো ছায়া দিচ্ছে যশোর-বেনাপোল সড়কে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ যশোর সীমান্ত ও এর আশপাশের শরণার্থী শিবিরগুলো দেখে, অভিজ্ঞতা থেকে লিখেন বিখ্যাত কবিতা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’। বব ডিলান ও অন্যান্য গায়করা সেই কবিতাখানিই গানে রূপ দিয়ে শরনার্থীদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন। সড়কটি এখন ব্যস্ত মহাসড়ক। সবচে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল থেকে প্রতিদিন বের হচ্ছে হাজার হাজার পণ্যবাহী ট্রাক। প্রয়োজন পড়েছে ব্যস্ত মহাসড়কটিকে চার লেনে উন্নীত করার। গেলো ৬ জানুয়ারি বৃক্ষ অপসারণবিষয়ক সভা থেকে শতবর্ষী দুই হাজার ৩১২টি গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। এসএইচ/  

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি