ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৮ ৮:১৫:০৯

রাজশাহীর সেই বাস চালক আটক

রাজশাহী নগরের নওদাপাড়ায় মোটরসাইকেলকে চাপা দিয়ে দোকানে ঢুকে তিনজন নিহতের ঘটনায় বাস চালককে আটক করেছে পুলিশ। তার নাম জনি (৩৫)। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোদাগাড়ী উপজেলার ফরাদপুর গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ তাকে আটক করে বলে জানিয়েছেন শাহমুখদুম থানা ওসি জিল্লুর রহমান। ওসি বলেন, দুর্ঘটনার পর বাস চালক জনি পালিয়ে যায়। বিকেলে তাকে ধরতে পুলিশের একটি টিম অভিযানে নামে। রাতে গোদাগাড়ী উপজেলার প্রেমতলি এলাকার ফরাদপুর গ্রাম থেকে শাহমুখদুম থানা পুলিশ তাকে আটক করে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রসঙ্গত, বুধবার দুপুরে রাজশাহী নগরের নওদাপাড়া বাজারে বাস চাপায় স্কুলছাত্রীসহ তিনজন নিহত হন। এ সময় আহত হন আরও চারজন। আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একে//

বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দোকানে, নিহত ৩

রাজশাহী নগরীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাস দোকানের মধ্যে ঢুকে গেলে স্কুলছাত্রীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত চারজন। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। বুধবার দুপুরে নগরীর নওদাপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নগরীর শাহ মখদুম থানার ওসি জিল্লুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা হলেন- নগরীর শাহ মখদুম থানার মোড় এলাকার মোহাম্মদ ইসলামের ছেলে ইসমাইল হোসেন ওরফে পিংকু (২৪), মোহাম্মদ আলীর ছেলে সবুজ ইসলাম (৩২) এবং নওদাপাড়ার ভাড়ালিপাড়া এলাকার রুস্তম আলীর মেয়ে আনিকা খাতুন (১৩)। জানা গেছে, ইসমাইল ও সবুজ ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। আর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পর আনিকা খাতুনের মৃত্যু হয়। ওসি জিল্লুর রহমান জানান, একটি যাত্রীবাহী বাস রাজশাহী থেকে নওগাঁ যাচ্ছিল। পথে নওদাপাড়া এলাকায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি মোটরসাইকেলকে চাপা দিয়ে রাস্তার পাশের দোকানে ঢুকে যায়। এতে দুজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে স্কুলছাত্রী আনিকা মারা যায়। দুর্ঘটনার পর বিক্ষোভ শুরু করে স্থানীয়রা। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে বলে জানান ওসি। একে//

যথাযথ মর্যাদায় রাবিতে জাতীয় শোক দিবস পালিত হচ্ছে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে বুধবার দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এদিন সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসন ভবনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কালো ব্যাজ ধারণ করে শোক র‌্যালি বের করেন। শোক র‌্যালিটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তারা। পরে আবাসিক হল, বিভাগ, ইনস্টিটিউশনসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। এরপর শহীদ মিনার মুক্তমঞ্চে শোক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময়  উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা ও অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক একেএম মোস্তাফিজুর রহমান আল আরিফ, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এমএ বারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনে দিলেন আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদী ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর করাল গ্রাস থেকে। পাক হানাদার বাহিনীর পরাজয়ের আক্রোশ থেকে এদেশের রাজাকারদের সহয়তায় জাতির পিতাকে হত্যা করলেও তার আদর্শকে বাংলার মাটি থেকে কেউ হত্যা করতে পারবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান যুব সমাজকে ভুল তথ্য দিয়ে দমিয়ে রাখতে পারবে না। তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে গড়া। তারা বিচার করতে পারে কোনটা সত্যের রাজনীতি আর কোনটা মিথ্যার।’ এছাড়া সকাল নয়টায় শেখ রাসেল মডেল স্কুল ও সাড়ে নয়টায় বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলে রচনা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন জোহর নামাজ শেষে কেন্দ্রীয় মসজিদে কোরআনখানি ও মিলাদ মাহফিল এবং সন্ধ্যা ছয়টায় কেন্দ্রীয় মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যা সাতটায় শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে বঙ্গবন্ধুর ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। একে//

জাতীয় শোক দিবসে রাবি প্রশাসনের নানা কর্মসূচি

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে কালো ব্যাজ ধারণ, শোক র‌্যালিসহ নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রশাসন। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর প্রশাসক অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এদিন সুর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ ভবনে অর্ধনমিত জাতীয় পতাকা ও কালো পতাকা উত্তোলন, সকাল সাড়ে ৭ টায় প্রশাসনের উদ্যোগে কালো ব্যাজ ধারণ, শোক র‌্যালি ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে শিক্ষক সমিতি, আবাসিক হলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে কালো ব্যাজ ধারণ, শোকর‌্যালি ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ। এরপর সকাল সাড়ে ৮ টায় বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল চত্বরে শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটরে আয়োজনে স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য চিত্রাংকণ প্রতিযোগিতা, সাড়ে ৯ টায় একই স্থানে রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া, যোহর নামাজ শেষে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে কুরআনখানি ও মিলাদ মাহফিল, সন্ধ্যা ৬ টায় বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা, সন্ধ্যা ৭ টায় শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (টিএসসিসি) মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধুর উপর তথ্য প্রদর্শনী হবে। একে//

৪ বছর পর দাম পাওয়ার আশায় চাঁপাইয়ের খামারিরা

সীমান্ত পথ দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশ বন্ধ থাকায় দাম নিয়ে ব্যাপক আশাবাদি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গরু খামারিরা। ২০১৪ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সীমান্তে বিট খাটাল নীতিমালা জারির পর থেকে টানা ৪ বছর লোকশান গুনতে হয়েছে খামারিদের। তবে গত এক সপ্তাহ থেকে বিট খাটালের মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্ত পথ দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশ বন্ধ রয়েছে। এতে আশার আলো দেখছেন এ অঞ্চলের খামারিরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য মতে আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে খামারিরা প্রায় ৭৯ হাজার গরু-মহিষ প্রস্তুত করেছে। লাভের আশায় প্রাকৃতিক উপায়ে গবাদিপশু মোটাতাজা করতে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন গরু ব্যাবসায়ীরা। কোরবানির বাজারের চাহিদা অনুযায়ী খামারিরা বিভিন্ন আকৃতির গরু পালন করছেন। আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গরুর খামারীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন । খামারিরা বলছেন-গরুর খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায়, ব্যয় বেড়েছে। এখন যদি ভারতীয় গরু প্রবেশ করে তাহলে ন্যায্য মূল্য পাওয়া সম্ভব নয়। ফলে ব্যাপক লোকশানে পড়তে হবে তাদের। তারা বলছেন, চার বছর থেকে সীমান্ত পথে বৈধ অবৈধ দুই ভাবেই বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে ভারতীয় গরু। এর প্রভাবও পড়ছে খামারিদের উপর। ফলে বিগত কোরবানি ঈদগুলোতে ব্যপক লোকশানে পড়তে হয়েছে। তবে এবার ঈদে তারা দাম নিয়ে আশাবাদি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের তেররশিয়ার গরু ব্যবসায়ী সেতাউর রহমান বাদশা জানান, গত বছর ভারতীয় গরু প্রবেশ করায় কয়েক লাখ টাকা লোকসান হয়েছিল। গত এক সপ্তাহ থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্ত পথ দিয়ে গরু আসছে না। এ কারণে উর্ধমুখী কোরবানি গরুর দাম। যা আমাদের জন্য সুখবর। গোমস্তাপুর উপজেলার চৌডালার খামারী মোস্তফা জানান, এক বছরে একটি গরু লালন করতে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমান বাজারে গরুর চাহিদা অনুযায়ী দামও ভাল রয়েছে। তবে সীমান্তপথে ভারতীয় গরু আসতে শুরু হলে তাদের বড় ধরনের লোকশান গুনতে হবে। একই অভিযোগ করেছেন, নাচোল, শিবগঞ্জ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের একাধিক গরু খামারী। জানা গেছে, প্রায় বছর ধরে কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জে গরু মোটাতাজাকরণ করছেন খামারীরা। প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে মোটাতাজা করা হচ্ছে এসব গরু। খামারিদের দাবী, গরু মোটাতাজা করনে ক্ষতিকর স্টেরয়েড বা ইনজেকশন ব্যবহার করেন না। তবে গো-খাদ্যের দাম বেশি ও সেই সঙ্গে ভারতীয় গরু আমদানি শুরু হলে খামারিদের লোকসানের দুঃশ্চিন্তা রয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ ডা: আনন্দ কুমার অধিকারী জানান, প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী জেলায় এবার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার। জেলার ৫ উপজেলায় ৫ হাজার ৮’শ ৭৯ টি খামারে ৭৮ হাজার ৯’শ ৮৭ টি গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া পারিবারিকভাবে পালন করা হচ্ছে অনেক গবাদিপশু। জেলায় দেশী গরু দিয়ে কোরবানির চাহিদা পুরণ করা সম্ভব বলে জানান প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা। আরকে//

সচিবের স্বাক্ষর জালসহ মন্ত্রণালয়ের ভুয়া স্মারক ব্যবহারের অভিযোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১৩, ১৪ ও ১৫ নং ওয়ার্ডের কথিত কাজী নবাবগঞ্জ সিটি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করেছে জেলা রেজিস্টার নজরুল ইসলাম। আদালত মামলাটি সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দেন। ১৭ জুলাই মামলাটি সদর মডেল থানা এজাহার হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে জেলা রেজিস্টার বাদী হয়ে আমলী আদালত (নবাবগঞ্জ সদর) অঞ্চলে কথিত কাজীর বিরুদ্ধে আইনের ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ও ৪৭৪ ধারায় ৫৩৯ সি/২০১৮ নং মামলা দায়ের করেছেন। আইন ও বিচার বিভাগ, বিচার শাখা-৭ এর সিনিয়র সহকারী সচিব বুলবুল আহমেদ সাক্ষরিত এক চিঠিতে জেলা রেজিস্ট্রারকে দ্রুত সিআর মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন। বর্তমানে তিনি এজাহার নামীয় পলাতক আসামী। অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম শিবগঞ্জ উপজেলার বামুনগ্রাম চৈতন্যপুর গ্রামের ইসলাম মন্ডলের ছেলে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০০০ সালের ১৯ এপ্রিল আইন, বিচার ও সংসদ বিষয় মন্ত্রণালয়ের বিচার শাখা-৭ এর সহকারী সচিবের সাক্ষর জাল ও ভূয়া স্মারক নং ব্যবহার করে জেলা রেজিষ্টার অফিস থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১৩,১৪ ও ১৫ নং ওয়ার্ডের নিকাহ্ রেজিষ্ট্রার হিসেবে নিয়োগ লাভ করে। জালিয়াতির মাধ্যমে প্রাপ্ত নিয়োগপত্র ব্যাবহার করে অধীক্ষেত্র এলাকায় নিকাহ্ ও তালাক রেজিস্ট্রির নামে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে। কথিত কাজী শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে নীতিমালা অমান্য করে একই সাথে দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরীর তথ্য গোপন করে দুই এলাকায় নিকাহ্ রেজিষ্ট্রার হিসেবে নিয়োগ লাভ ও ভুল তথ্য দিয়ে উচ্চ আদালতে রীট মামলা দায়েরসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। তথ্য অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ১৯৯৫ সালের ১ জুলাই নবাবগঞ্জ সিটি কলেজে বাংলা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করে শফিকুল ইসলাম। সিটি কলেজে কর্মরত অবস্থায় তথ্য গোপন করে ১৯৯৮ সালের ২৭ জুলাই মহিপুরের মুনসেফপুর সিনিয়র মাদ্রাসায় যোগদান করেন। একই ব্যাক্তি মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিষ্ট্রিকরণ বিধিমালা অমান্য করে ১৯৯৮ সালের ২৭ আগস্ট নাচোল উপজেলার ২নং ফতেপুর ইউনিয়নের অস্থায়ী নিকাহ্ রেজিষ্টার হিসেবে নিয়োগ লাভ করে। নিকাহ্ রেজিষ্ট্রার নিয়োগ বিধিমালায় উল্লেখ্য রয়েছে- যে এলাকার নিকাহ্ রেজিষ্ট্রারের পদ শূন্য হয়, সেই এলাকার বাসিন্দা না হলে কোন ব্যক্তিকে নিকাহ্ রেজিষ্ট্রারের লাইসেন্স প্রদানের জন্য নির্বাচন করা যাবে না। অতীত এবং বর্তমান কোন ঠিকানায় তার নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নে নয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, জন্মসূত্রে সে শিবগঞ্জ উপজেলার ১৪ নং ধাইনগর ইউনিয়নের চৈতন্যপুর গ্রামের বাসিন্দা। তবে পরবর্তীতে সে নাচোল উপজেলার ২ নং ফতেপুর ইউনিয়নের মাধবপুরের বাওয়োল গ্রামের ও বর্তমানে সে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১৩ নং ওয়ার্ডের রেহাইচর গ্রামের বাসিন্দা। তার বিভিন্ন নিয়োগপত্রে এইসব ঠিকানা ব্যবহার করেছেন। জানা গেছে, এর আগে জেলা রেজিস্টারকে কথিত সেই কাজীর লাইসেন্স প্রত্যাহারসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন আইন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে লাইসেন্স প্রত্যাহার পূর্বক আইন মন্ত্রণালয়কে লিখিত চিঠি পাঠান চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা রেজিস্টার। তবে সে সময় তার বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা দায়ের করেননি জেলা রেজিষ্ট্রার। ভূয়া কাজী শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় গত বছরের ৩০ নভেম্বের জেলা রেজিস্টার কে শোকজ করে আইন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব বুলবুল আহমেদ। তবে একাধিক এলাকার নিকাহ্ রেজিষ্ট্রিার দাবি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন শফিকুল ইসলাম। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১৩, ১৪ ও ১৫ নং ওয়ার্ডের বৈধ কাজী দাবী করে নবাবগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে ২৩১/০১ অঃপ্রঃ মামলা ও নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের বৈধ কাজী দাবী করে হাইকোর্টে ২৯৭৮/২০১১ নং রীট মোকাদ্দমা দায়ের করেন। মামলা দুটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। জেলা রেজিস্টার নজরুল ইসলাম জানান, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক কথিত কাজী শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আগামীতে মামলাটি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালনা করা হবে। এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চাঁপাইবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম জানান, মামলাটি ৫ আগস্ট সিআইডিতে বদলি হয়েছে।অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে মামালা হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আইনগতভাবে বিষয়টি মোকাবেলা হবে। তবে অন্যান্য প্রশ্নের কোন সদুত্তোর দিতে পারেনি তিনি। আরকে//

উদ্বোধনের অপেক্ষায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৫০ শয্যার আধুনিক সদর হাসপাতালের ভবন নির্মাণ কাজ প্রায় ৯৯ শতাংশ শেষ হয়েছে। এটি চালু করতে এখন নেওয়া হচ্ছে নানা পদক্ষেপ। ৮ তলা বিশিষ্ট আধুনিক ভবন নির্মাণে বদলে গেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালের চিত্র। খুব দ্রুত এটি চালু হবে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে মানুষ আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পাবে বলে আশা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন হেল্থ পপুলেশন অ্যান্ড নিউট্রিশন সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এইচপিএনএসডিপি)’র আওতায় ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত হাসপাতাল ভবনে রোগীদের জন্য থাকছে- ১৫টি কেবিন ব্লক, ৫টি অপারেশন থিয়েটার (ওটি)। এছাড়া থাকবে আইসিইউ বিভাগ, এসডিইউ বিভাগ, সিসিইউ বিভাগ, সিটিস্ক্যান ব্যবস্থা, বহির্বিভাগ চিকিৎসা ব্যবস্থা, নিজস্ব বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, চলাচলের জন্য ৩টি সিঁড়ি ও ২টি বেড লিফ্ট। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল ওদুদ জানান, জেলাবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এ হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতসহ আধুনিক মানের হাসপাতালের প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ২০১৫ সালের জুন মাস থেকে প্রস্তাবিত ১০ তলার মধ্যে ৮ তলা ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয়। বর্তমানে নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের পথে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসের প্রথমদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্ব-শরীরে অথবা ভিডিওি কনফারেন্সের মাধ্যমে অন্যান্য প্রকল্পের সাথে এ হাসপাতালটি উদ্বোধন করবেন বলে জানান তিনি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ও মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহজামাল জানান, বর্তমান সরকারের আমলে হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন পরিবর্তন হয়েছে। ২৫০ শয্যার সেবা কার্যক্রম শুরু হলে সেবার মান আরো বাড়বে। এ হাসপাতালে জেলার মানুষের কাঙ্খিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৫০ শয্যার হাসপাতালের সেবা দ্রুত চালু করার লক্ষ্যে কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ২৫০ শয্যার সেবা চলু হলে রোগীদের খাদ্য, ওষুধ সরবরাহসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে সেবা দেয়া আরো সহজতর হবে। নতুন ভবনে অক্সিজেন প্লান্ট, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য মিনি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টসহ অন্যান্য কাজ চলছে। এখন প্রশাসনিক অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ হলেই ২৫০ শয্যার চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল জেলার মানুষকে কাঙ্খিত স্বাস্থ্যসেবা দেয়া সম্ভব হবে বলে তিনি জানান। আরকে//

নওগাঁয় সমবায় সমিতির নামে চড়া সুদে ঋণ বিতরণ(ভিডিও)

নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই চলছে নওগাঁয় সমবায় সমিতির নামে গড়ে ওঠা ঋণদান ও আমানত গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। এ’সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চড়া সুদে ঋণ বিতরণের অভিযোগ রয়েছে। তাদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে বিপাকে পড়ছে স্বল্প আয়ের মানুষ। সাইনবোর্ডে সরকার অনুমোদিত লেখা থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন। নওগাঁর বদলগাছীর বিলাশবাড়ি ইউনিয়নের দ্বীপগঞ্জে বেশিরভাগ সমবায় সমিতির নেই বৈধ কাগজপত্র।  দ্বীপগঞ্জ বাজারে ঋণ বিতরণ করে- সমাধান সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমিতি, পল্লী উন্নয়নসহ প্রায় ২০টি প্রতিষ্ঠান। শুধু এই বাজারেই নয়, বিলাশবাড়ী ইউনিয়নের শ্রীরামপুর, কাশিমালা, নাজিরপুর ও বিলাশবাড়ি বাজারে গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক ঋণদান প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চড়া এবং চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। অনেকেই বেশি মুনাফার আশায় এনজিওগুলোতে টাকা জামানত রাখেন। তবে, টাকা ফেরত পেতে বছরের পর বছর ঘুরছেন কেউ কেউ। এ’সব প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যক্তিরা বৈধ কাগজপত্র আছে দাবি করলেও, তা দেখাতে পারেননি। আর অনিয়ম বন্ধে নজরদারি বাড়ানোর কথা বলছেন সমবায় সমিতি সংশ্লিষ্টরা। সমবায় কর্মকর্তারা বলছেন, নিবন্ধন বিহীন সমবায় চালানো হলে তা তদন্তের দায়িত্ব তাদের নয়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। জনসাধারণকে প্রতারণার হাত থেকে বাঁচাতে ঋণদান সমিতির উপর নজরদারি বাড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এলাকাবাসী।  

স্মার্টকার্ড পাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১ লাখ ২৫ হাজার নাগরিক

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাগরিকরা আইরিশের প্রতিচ্ছবি এবং দশ আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে উন্নতমানের জাতীয় পরিচয়পত্র `স্মার্টকার্ড` গ্রহণ শুরু করেছে। সেই সাথে কাঙ্খিত স্মার্ট যুগে প্রবেশ করলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ। ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপান্তরের অগ্রযাত্রায় আরও একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলো স্মার্টকার্ড। জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য মতে, আগামী ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৫৪ জন নাগরিকের হাতে পৌঁছে যাবে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের আওতাধীন আইডিইএ প্রকল্পটি নাগরিকদের স্মার্ট কার্ড দিয়ে আসছে। অতিমূল্যবান রাষ্ট্রিয় সম্পদটি যত্নসহকারে সংরক্ষণের অনুরোধ করেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আরিফুল হক। পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, স্মার্টকার্ডের মাধ্যমে জঙ্গি, সন্ত্রাসী ও অপরাধীকে দ্রুত শনাক্ত করা এবং গ্রেপ্তার করার সহজ হবে। ফলে দেশে অপরাধ প্রবণতা কমবে। যেসব তথ্য থাকছে স্মার্টকার্ডে: নাগরিকের নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম, পেশা, স্থায়ী ঠিকানা, বর্তমান ঠিকানা, বয়স, জন্মতারিখ, রক্তের গ্রুপ, লিঙ্গ, বৈবাহিক অবস্থা, দৃশ্যমান শনাক্তকরণ চিহ্ন, ধর্ম, জন্মস্থান, জন্ম নিবন্ধন সনদ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর, পাসপোর্ট নম্বর, আয়কর সনদ নম্বর, টেলিফোন নম্বর, মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, স্বামী বা স্ত্রীর নাম ও পরিচয়পত্র নম্বর, প্রতিবন্ধী হলে সেই তথ্য স্মার্টকার্ডে থাকছে। যেভাবে বিতরণ: বৃহস্পতিবার আলীনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর ভবানীপুর, কল্যাণপুর ও নয়াগোলা এলাকার ৩ হাজার ৯৪৬জন ভোটার স্মার্ড কার্ড পেয়েছে। একই স্থানে ১নং ওয়ার্ডের বাকী ভোটার ও ৩নং ওয়ার্ডের ভোটাররা স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র পাবেন। শহরের নবাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে ২ ও ১৫নং, হরিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪ ও ৫নং, রাজারামপুর হামিদুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬,৭ ও ৮নং, নামোশংকরবাটী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯, ১০ ও ১১নং, টিকরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ১২ ও ১৩নং, আজাইপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৪নং ওয়ার্ডের ভোটাররা স্মার্টকার্ড নিতে পারবেন। যাদের লেমিনেটেড জাতীয় পরিচয় নেই তারা নির্ধারিত স্লিপ দিয়ে এনআইডি নম্বর জেনে বিতরণ কেন্দ্র থেকে স্মার্টকার্ড নিতে পারবেন। ব্যবহার: আয়কর দাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) প্রাপ্তি, ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর প্রাপ্তি ও নবায়ন, পাসপোর্ট প্রাপ্তি ও নবায়ন, চাকরির জন্য আবেদন, স্থাবর সম্পত্তি কেনা-বেচা, ব্যাংক হিসাব খোলা ও ঋণ প্রাপ্তি, সরকারি বিভিন্ন ভাতা উত্তোলন, সরকারি ভর্তুকি, সাহায্য, সহায়তা প্রাপ্তি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি, বিমানবন্দরে ই-গেইট এর মাধ্যমে আগমন ও বহির্গমন সুবিধা, শেয়ার আবেদন ও বিও অ্যাকাউন্ট খোলা, ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তি, যানবাহন রেজিস্ট্রেশন, বিয়ে ও তালাক রেজিস্ট্রেশন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি সংযোগ গ্রহণ, মোবাইল ও টেলিফোন সংযোগ গ্রহণ, বিভিন্ন ধরনের ই-টিকেটিং, সিকিউরড ওয়েব লগ ইন, ই-ফরম পূরণে নাগরিকের সঠিক ও নির্ভুল তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংযোজনের কাজে ১০ ডিজিটের এই স্মার্টকার্ড ব্যবহার করা যাবে। আরকে//    

ছয় দফা জানিয়ে রাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিত

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ‘নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষার্থীরা’। সেইসঙ্গে শিক্ষার্থীরা আরও ছয় দফা দাবি জানিয়ে আপাতত আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পিছনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ ঘোষণা দেন। শিক্ষার্থীদের দাবিসমূহ- নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে নৌমন্ত্রীর পদত্যাগসহ শিক্ষার্থীদের দাবিসমূহ বাস্তবায়ন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচার, আলোকচিত্রী শহীদুল আলমের রিমান্ড বাতিলসহ নিঃশর্ত মুক্তি, হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, চালক-স্টাফদের প্রশিক্ষণ দেওয়াসহ শ্রমঘণ্টা ও বেতন কাঠামো নির্ধারণ এবং সড়ক দুর্ঘটনায় আহতের চিকিৎসা ব্যয়ভার রাষ্ট্রকে নেওয়া। লিখিত বক্তব্যে চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী আফরুকুন্নাহার তানিয়া বলেন, ‘নিরাপদ সড়কের দাবিতে সংগঠিত আন্দোলনে হামলা-মামলা নিপীড়নের ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’ সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফন্টের সাধারণ সম্পাদক আল আমীন প্রধান তারেক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাদীরা রুম্মান, চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী শাকিলা খাতুন, সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম প্রমুখ। একে//

রাজশাহীতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক বিক্রেতা গুলিবিদ্ধ

রাজশাহীর চারঘাটে মাদক বিরোধী অভিযানের মধ্যে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মানিক (৩০) নামের এক মাদক কারবারি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার সময় এসআই শরিফুল ইসলামসহ তিন পুলিশ আহত হয়েছেন। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার ভোর পৌনে ৩টার দিকে উপজেলার মুক্তারপুর বালুমহলের পাশে গুলিতে আহত মানিক উপজেলার গৌরশহর নতুনপাড়া গ্রামে শাহাবুদ্দিনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে ১৬টি মামলা রয়েছে। রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার আব্দুর রাজ্জাক খান বলেন, ফেনসিডিল চোরাচালানের খবর পেয়ে রাতে চারঘাট থানা পুলিশের একটি দল মুক্তারপুর এলাকায় অভিযানে যায়। সেখানে পুলিশ গাড়ি থেকে নামা মাত্রই মাদক কারবারিরা পুলিশের উপর হামলা চালায়। এ সময় আত্মরক্ষায় পুলিশ গুলি চালায়। দুই পক্ষের কয়েক মিনিট গুলি বিনিময়ের সময় ৪/৫ জন মাদক কারবারি পালিয়ে গেলেও আহত অবস্থায় পড়ে থাকেন মানিক। পরে তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মানিকের বাম পায়ে গুলি লাগে। ঘটনাস্থল থেকে এক রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল, একটি গুলির খোসা ও ৫০ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়েছে। ওসি জানান, মানিকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১৬টি মাদকের মামলা আছে। তার বিরুদ্ধে আরও তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসআই শরিফুল ইসলাম বাদি হয়ে মামলা তিনটি দায়ের করেন। এর মধ্যে একটি মামলা পুলিশের ওপর হামলা এবং অন্য দুটি অস্ত্র ও মাদক দ্রব্য রাখার অভিযোগে। এসব মামলায় অজ্ঞাত আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয় বলে জানান তিনি। এদিকে, রাজশাহী জেলা পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে ৩৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত বিভিন্ন থানায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় বেশ কিছু মাদক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার আব্দুর রাজ্জাক খান বলেন, মাদক বিরোধী অভিযানে গোদাগাড়ীতে ছয়জন, তানোরে আটজন, মোহনপুরে তিনজন, পুঠিয়ায় ছয়জন, বাগমারায় তিনজন, দুর্গাপুরে চারজন ও চারঘাটে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। একে//

সিরাজগঞ্জে ছোট ভাইয়ের ধাক্কায় বড় ভাই নিহত

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় ছোট ভাইয়ের ধাক্কায় পড়ে গিয়ে আরমান (১৬) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার তালম ইউনিয়নের চৌড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আরমান চৌড়া গ্রামের বাবলু শেখের ছেলে বলে জানা গেছে। ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বুধবার সন্ধ্যার দিকে বাবলু শেখের দুই ছেলে আরমান ও স্বপনের মধ্যে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে ছোট ভাই স্বপন আরমানকে ধাক্কা দিলে আরমান পড়ে গিয়ে আহত হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একে//

নাটোরে গরু মোটা তাজাকরণে ব্যস্ত খামারীরা (ভিডিও)

কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে নাটোরের খামারীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন গরু মোটা তাজাকরণে। স্থানীয় প্রয়োজন মিটিয়ে এখানকার গরু দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেঁচা কেনাও শুরু হয়েছে।নাটোরের খামারীরা এবারের কোরবানীর ঈদের জন্য পালন করেছে প্রায় ৩ লাখ গরু। ঔষুধ, স্টেরওয়েড, ফিড বা রাসায়নিক খাদ্য পরিহার করে গরু মোটা তাজা করতে দেশীয়  সাধারণ খাবার খোল, ভূসি, কাঁচা ঘাস খাওয়ানো হয়েছে। তাই সারা দেশে এখানকার পশুর কদর বেশী। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে এখানকার গরু।জেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগের এই কর্মকর্তা জানান, অবৈধ পন্থায় কেউ যাতে গরু মোটাতাজা করতে না পারে সে জন্য প্রতিটি খামারে নজরদারী রয়েছে।সরকার ভারত থেকে গরু আমদানির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলে এবছর কিছুটা লাভের মুখ দেখবেন বলে প্রত্যাশা খামারীদের।   এসএ/এএইচ

বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সিরাজগঞ্জে লেয়ার মুরগির খামার (ভিডিও)

খাদ্য ও ওষুধসহ উৎপাদন খরচ বাড়ায় লোকসানের মুখে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সিরাজগঞ্জে লেয়ার  মুরগির খামার। পোল্ট্রি শিল্প বাঁচাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছে খামারীরা। এই অঞ্চলে পোল্ট্রি খামারের যাত্রা শুরু ১৯৯৬ সাল থেকে। সেই থেকে নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও শিক্ষিত বেকার যুবকেরা স্বল্প পুঁজি নিয়ে গড়ে তোলেন প্রায় ৫ হাজার খামার।  দেখেন লাভের মুখও । কিন্তু বর্তমানে বেড়ে গেছে উৎপাদন খরচ। সেই তুলনায় ডিমের দাম না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে খামারীদের। এতে বাধ্য হয়ে অনেকেই খামার বন্ধ করে দেয়ার কথা জানান। এ অবস্থায় মুরগির উৎপাদন ও বিপণন একই স্থান থেকে নিয়ন্ত্রন করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত খামারীদের সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করেন প্রাণি-সম্পদ কর্মকর্তা। জেলায় বর্তমানে ১ হাজার ৭০টি লেয়ার, ২ হাজার ৪৪৯টি ব্রয়লার ও ১ হাজার ২১০টি হাঁসের খামার রয়েছে। খামারগুলো থেকে বছরে ৩০ কোটি পিস ডিম ও ২ লাখ মেট্রিক টন মাংস উৎপাদন হয়।

রাজশাহীতে এক বছরে কোরবানির পশু পালন কমেছে ২ লাখ

প্রতি বছর রাজশাহীর খামারিদের পশু দিয়ে জেলার কোরবানির চাহিদা মিটিয়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার পশু বেশি থাকে। তবে এবারের চিত্র উল্টো। রাজশাহীতে এবার কোরবানির পশু পালন কম হয়েছে প্রায় দুই লাখ। গো-খাদ্যের দাম অস্বাভাবিকহারে বেড়ে যাওয়ার কারণে এবারে খামারিরা পশু পালন করেনি। খামারিরা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরে লাগামহীনভাবে গো-খাদ্যের দাম বেড়ে চলছে। বেশি দামে বছরজুড়ে গো খাদ্য কেনে পশু পালন করে আনুপাতিক হারে দাম পাওয়া যাচ্ছে না। খামার ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে অনেকেই। রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর জেলায় কোরবানি পশুর চাহিদা রয়েছে তিন লাখ ১০ হাজার। তবে জেলার ছোট বড় ১৭ হাজার ৭০০টি খামারে কোরবানিযোগ্য পশু মজুদ আছে এক লাখ ২৫ হাজার ৫০৯। এর মধ্যে রয়েছে ষাড় ১৮ হাজার ৭১২টি, বলদ ৩ হাজার ৭২৯টি, গাভী ৬ হাজার ৮৩৪টি, মহিষ ২ হাজার ৬০৪টি, ছাগল ৮৫ হাজার ৩১৭টি, ভেড়া ৭ হাজার ৭৮০টি এবং অন্য ৫৩৩টি পশু। রাজশাহী জেলা অতিরিক্ত প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ড. জুলফিকার মো. আখতার হোসেন বলেন, ‘চলতি বছরের মে মাসের হিসেব অনুযায়ী রাজশাহীতে এক লাখ ৮৫ হাজার কোরবানির পশু সংকট রয়েছে। তবে কোরবানি ঈদ আসতে আসতে পশু সংখ্যা একটু বাড়তে পারে।’ তিনি বলেন, ‘কয়েক বছরে গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় পশু পালনে খরচ বেড়েছে দ্বিগুণ। এত খরচ করে খামারারি সে ভাবে লাভবান হতে পারছেন না। সে কারণে অনেক ছোট খামারিরা পশু পালন ছেড়ে দিয়েছে। ড. জুলফিকার বলেন, গত বছর রাজশাহী জেলায় চাহিদা ছিল তিন লাখ ১০ হাজার পশু। আর জেলার খামারগুলোতে মজুত ছিল তিন লাখ ৫৩ হাজার ৫০০ কোরবানীযোগ্য পশু। চাহিদার থেকে ৪৩ হাজার পশু বেশি ছিল। রাজশাহীর তানোরের পাঁচন্দর গ্রামের বুলবুল হোসেন জানান, ‘গত বছর তিনটি দেশি জাতের গরু নিয়ে বাড়িতে ছোট আকারে খামার গড়ে তুলেছিলাম। কিন্তু গত কোরবানী ঈদে বিক্রি করে তিন গরুতে তার ২৪ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। তাই তিনি চলতি বছর আর গরু পালন করিনি।’ গোদাগাড়ীর পাকড়ি কসায় পাড়ার মোমেনা বেগম এবার বাড়িতে দুইটি গরু পালন করেছেন। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে তিনি এই গরুটি পালন করেন। মোমেনা বেগম জানান, গত বছর ছোট সাইজের দুইটি ষাঁড় কিনে ছিলেন ৮০ হাজার টাকায়। এক বছর লালন পালন করতে তার খরচ হয়েছে ১৮ হাজার টাকা। গত সোমবার বাড়িতে গিয়ে এক গরু ব্যবসায়ী তার দুইটি ষাঁড়ের দাম বলেছে এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা। এসএইচ/

কাল সিরাজগঞ্জে ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদে ২২৫ মেগাওয়ার্ট কম্বাইন সার্কেল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র কাল রোববাবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করা হবে। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনে আজ শনিবার সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়। শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সম্মেলনে জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দীকার সভাপতিত্ব প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী আবু আহমেদ আখতার হোসেন, প্রকৌশলী আবু আহমেদ কোরাইশী, প্রকৌশলী মনির হোসেন, প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এ সময় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডের পক্ষ থেকে বলা হয়, সয়দাবাদে স্থাপিত গ্যাস ও জ্বালানী তেল দিয়ে তাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে বর্তমানে ৫৮৪ মেগাওয়ার্ট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। নতুন উৎপাদিত ২২৫ মেগাওয়ার্ট বিদ্যুৎ দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পুরনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে। বর্তমানে গ্যাসের মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরকার ইউনিট প্রতি ২.১২টাকা এবং তেলের মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ১৬.৬৩ টাকা ইউনিট দরে ক্রয় করছে বলে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়। এসএইচ/

আর্থিক সংকটে শিক্ষকের রাত কাটছে স্কুলের বারান্দায়

দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে প্রধান শিক্ষক পদে দায়িত্বপালন করেছেন মাজাহার হোসেন। ১৯৯৮ সালের ৫ এপ্রিল তিনি অবসরে যান। তখন অবসরকালীন সহায়তা ভাতা চালু হয়নি বেসরকারি শিক্ষকদের। ফলে একেবারেই শূন্য হাতে ঘরে ফিরতে হয়েছে তাকে। এ কারণে চরম আর্থিক সংকটে বিপর্যয় নেমে আসে তার। শেষ পর্যন্ত ছেলেরাও দায়িত্ব নেননি শিক্ষক বাবার। বাধ্য হয়ে এ বয়সে এসে প্রায় ৮ বছর ধরে রাজশাহী নগরীর স্যাটেলাইট টাউন হাইস্কুলে বারান্দায় রাত কাটছে অবসরপ্রাপ্ত এক প্রধান শিক্ষকের। বর্তমানে তার বয়স ৮৫ বছর। ছেলে-মেয়ে সব থাকলেও আজ এভাবে সময় কাটছে। সেখানে ২৮ বছর শিক্ষকতা করেছেন মাজাহার হোসেন। ছেলে-মেয়ে সব থাকলেও ৮৫ বছর বয়সী এই মানুষটির সন্তানদের সান্নিধ্যে থাকার সৌভাগ্য হয়নি আজও। ২০১০ সালের শেষ দিকে এসে উঠেছেন রাজশাহী নগরীর স্যাটেলাইট টাউন হাইস্কুলে। বর্তমানের স্কুলটির ল্যাবরেটরি কক্ষের বারান্দায় রাত কাটে তার। শীত-বর্ষায় সঙ্গীহীন কত রাত এখানে কাটিয়েছেন সেই হিসাব নেই তার।  গত বৃহস্পতিবার দুপুরে স্কুলের বারান্দায় পাওয়া মাজাহার হোসেনকে। মেঝেতে পাতানো বিছানায় বসে খাতায় কি যেন লিখছিলেন তিনি। ডাকতেই মাথা উঁচু করে তাকালে। কি লিখছিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, রোজকার হিসাব। কবে কে ক’টাকা দিয়েছেন, ক’টাকা কোথায় খরচ হয়েছে, সেই হিসাব তুলে রাখেন প্রতিদিনই। সপ্তাহ শেষে টানেন জের। এভাবেই কত সপ্তাহ কেটে গেছে শুধু সেই হিসাব নেই তার। দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক মাজহার হোসেন আগে থাকতেন নগরীর বিনোদপুর এলাকায়। সেখানে নিজের বাড়ি রয়েছে। সেই বাড়িতে ছোট ছেলে আসাদুজ্জামান আপেল থাকেন। মাকে নিয়ে সেখানে থাকলেও ঠাঁই হয়নি বাবার। আপেল নগরীর একটি বেসরকারি কলেজের গণিতের শিক্ষক। বড় ছেলে আক্তারুজ্জামান মুকুল। শুরুতে বাবার স্কুলে যোগদান করেছিলেন। কিছুদিনের মাথায় সেই চাকরি ছেড়ে কোচিং সেন্টার খোলেন। কয়েক বছর সেটি চালিয়ে বন্ধ করে দেন। এখন কি করেন, সেটি জানেন না বাবা।নগরীর নিউমার্কেট এলাকায় ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে বাস করেন মুকুল। থাকেন একটি আলিসান ভবনের তৃতীয় তলায়। বৃদ্ধ বাবা সিঁড়ি ভেঙে উঠতে পারেন না সেখানে। ফলে বাধ্য হয়ে ছেলের বাড়ি ছাড়েন মাজাহার হোসেন। অবসরপ্রাপ্ত এই শিক্ষক বলেন, বড় ছেলে কেবল খাবার দিয়ে দায় সেরেছে। প্রতিদিনই খাবারের জন্য নগরীর নিউমার্কেটের সামনে বসে থাকতে হয়। সেখানে খাবার পাঠিয়ে দেয় ছেলে। সেই খাবার নিয়ে হেঁটে ফেরেন স্কুলে। এর বাইরে বড় ছেলের আর কোনো দায়িত্ব নেই। ছোট ছেলে কখনই খোঁজ নেন না। একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়েছে খুলনায়। জামাইয়ের কাপরের ব্যবসা রয়েছে সেখানে। বছরে দু-একবার আসে মেয়ে। স্কুলে এসে দেখা করে যায়। যাবার সময় কিছু টাকা হাতে গুজে দিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, আমার প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অনেকেই প্রতিষ্ঠিত। তারা আমার এ অবস্থার খবর জেনেছে। দীর্ঘদিন ধরেই তারা নানানভাবে সহায়তা করে আসছে। কথায় কথায় সময় গড়িয়ে যায়। চোখের কোণে জল চিকচিক করে ওঠে এই শিক্ষকের।তিনি জানান, এক সময় ছেলে-মেয়েদের নিয়ে সুখের সংসার করেছেন। সেই ছেলে-মেয়েরা এখন আলাদা। ২০ বছরের বেশি সময় ধরে স্ত্রীর সান্নিধ্য পাননি তিনি। ছোট ছেলে দায়িত্ব নিয়েছে মায়ের, বড় ছেলে নিয়েছে আমার। ২০১০ সালের দিকে পেটের অসুখে আক্রান্ত হন তিনি। এরপর থেকে ছেলের বহুতল বাসায় আর উঠতে পারেন না তিনি। ছেলেও বাবার জন্য বদল করেননি বাসা। বাধ্য হয়ে তাকেই পথে নামতে হয়েছে। প্রথম দিকে নিউমার্কেটের একটি দোকানের সামনে রাত কাটাতেন। পরে নিজ হাতে গড়া স্কুলে উঠেছেন। বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়া দেহে বাসা বেঁধেছে নানান রোগ। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে হার্নিয়ায় আক্রান্ত। মেডিকেলে চিকিৎসা নিয়েছেন। অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। এজন্য প্রয়োজন ২০ হাজার টাকা। তা জোগাড় না হওয়ায় শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছেন রোগ। উপায় না পেয়ে শেষ পর্যন্ত হোমিও চিকিৎসা শুরু করেছেন। সেখানেও কেটেছে এক বছর। হোমিও চিকিৎসাতেও মেলেনি ফল। জীবনের শেষ বেলায় এসে অসহায় আত্মসমর্পণ এই মানুষ গড়ার কারিগরের। টিআর/

রাজশাহীতে বাস চলাচল শুরু

রাজশাহীতে দিনভর যাত্রী দুর্ভোগের পর বিকেল থেকে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৬টায় রাজশাহী থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন সড়কপথে বাস ছেড়ে যায়। এর আগে সংবাদ সম্মেলন করে ৬টা থেকে বাস চালানোর ঘোষণা দেন পরিবহনের নেতারা। বাস ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার দাবিতে শুক্রবার সকাল থেকে সব সড়কপথে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় মালিক-শ্রমিকরা। বাস বন্ধের কারণ জানাতে বিকেল ৫টায় রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মনজুর রহমান পিটার। তিনি বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীরা সারা দেশে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে। তাদের দাবির সঙ্গে আমরাও একমত। কিন্তু শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যে উচ্ছৃঙ্খল একটি গোষ্ঠী ঢুকে পড়ে তারা বাসে ভাঙচুর চালাচ্ছে। বাস ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার কারণে তারা দিনে বাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। রাতে বাস চলাচল করবে। যদি শিক্ষার্থীরা রাস্তায় না নামে তবে শনিবার দিনেও বাস চলবে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা রাস্তায় থাকলে বাস চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানান তিনি।  এমএইচ/ এসএইচ/

রাজশাহী থেকে সব সড়কপথে বাস বন্ধ

বাস ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার দাবিতে রাজশাহী থেকে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে মালিক-শ্রমিক ফেডারেশন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন গ্রুপের জেনারেল সেক্রেটারি মনজুর রহমান পিটার বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীরা সারা দেশে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে। তাদের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন বাস মালিকেরা। কিন্তু শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যে উচ্ছৃঙ্খল একটি গোষ্ঠী ঢুকে পড়েছে। তারা বাসে ভাঙচুর চালাচ্ছে। ফলে বাস ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার কারণে তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে আজ শুক্রবার রাতে বাস চলবে। এ ব্যাপারে বিকেল ৫ টায় সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। একে//

সাব-স্ট্যান্ডার্ড বিদ্যুৎ সংযোগের কারণেই ৮জনের প্রাণহানি

সাব-স্ট্যান্ডার্ড বিদ্যুৎ সংযোগের কারণেই সিরাজগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ৮জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।জেলা প্রশাসকের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এমনি বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মনিরুজ্জামান বিষয়টি জানান। তদন্ত কমিটির প্রধান জানান, তদন্ত করার পর সাব-স্ট্যান্ডার্ড বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণেই দুর্ঘটনায় আটজনের মৃত্যু হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনটি জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দীকার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ওই এলাকার পিডিবির সংযোগগুলো পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে হস্তান্তর, লাইনগুলোকে স্ট্যান্ডার্ডকরণসহ পাঁচটি সুপারিশ করা হয়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুরে কাদাই গ্রামে পানিতে ডুবে যাওয়া একটি টঙ দোকান উঠিয়ে অন্যত্র সরানোর সময় বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে স্পৃষ্ট হয়ে আটজন নিহত হন। নিহতরা সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা। জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দিকা ওইদিন বিকেলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মনিরুজ্জামানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্য তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। এদিকে, বুধবার একই ঘটনার তদন্তে নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) পক্ষ থেকে রাজশাহী বিভাগীয় প্রধান প্রকৌশলী রেজাউল করিমকে প্রধান করে অপর একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিকে তিন কর্মদিবস সময় দেওয়া হয়েছে। একে//

নিরাপদ সড়ক দাবি রাবি শিক্ষার্থীদের

নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশব্যাপী চলমান আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে নিরাপদ সড়কের দাবি জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এক মানবন্ধনে তারা এ দাবি জানান। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দেওয়া ৯ দফা দাবি দ্রুত বাস্তাবায়নের আহ্বানও জানান তারা। মানবন্ধনে বক্তারা বলেন, আমার দেশে আজ আমি নিরাপদ নই। দেশের সড়কে হাজার হাজার ফিটনেস ও লাইসেন্সবিহীন গাড়ি চলাচল করে কিন্তু পুলিশ প্রশাসন তার কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ঢাকায় রাস্তার পাশে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ওপর গাড়ি চালিয়ে হত্যা করা হলো। সরকার কোনও আইনি পদক্ষেপ নেয়নি বরং বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানালে পুলিশ দিয়ে নির্যাতন চালানো হলো। এটাই কি বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল্য? শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন শিক্ষার্থী মারা যায় আর আমাদের দেশের মন্ত্রী তা নিয়ে হাশি-তামাশা করেন। এটা একজন বাঙ্গালি হিসাবে লজ্জার। এসময় শিক্ষার্থীরা যদি তুমি ভয় পাও তবে তুমি শেষ, যদি তুমি রুখে দাঁড়াও তবে তুমি বাংলাদেশ, রাস্তায় রক্ত ঝরে প্রশাসন নিরব থাকে, নিরাপদ সড়ক চাই ইত্যাদি প্ল্যাকার্ড  শিক্ষার্থীদের হাতে দেখা করা যায়। এদিকে গতকাল বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়  আজ বৃহস্পতিবার দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছুটির ঘোষণা দেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রশাসনের এমন পদক্ষেপে সমালোচনা করে শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রশাসন কোন অধিকার বলে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করলো তা আমরা জানতে চাই। এটা স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়। প্রশাসনের উচিত ছিলো শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করা। কিন্তু তারা তা করেননি বরং সরকারের পক্ষ অবলম্বণ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় যদি সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কোনও দরকার নেই বলেও মন্তব্য করেন শিক্ষার্থীরা। চারুকলা অনুষদের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শাকিলা খাতুনের সঞ্চালনায় এসময় বক্তব্য দেন, ফোকলোর বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম কনক, প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাহবুবুর রহমান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের হুসাইন মিঠু, পরিসংখ্যান বিভাগের নিয়ামুল ইসলাম, চারুকলার  আফিকুন্নাহার তানিয়া প্রমুখ। একে//

এমন নির্বাচনই চেয়েছিলাম: বুলবুল

রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে এমন নির্বাচনই চেয়েছিলাম বলে মন্তব্য করেছেন নগর বিএনপির সভাপতি ও পরাজিত মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। নির্বাচনে অনিয়মের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে মহানগর বিএনপির কার্যালয়ের সামনে এ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে নগর ও জেলা বিএনপির অর্ধশত নেতাকর্মী অংশ নেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপতিত্ব ও ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে বুলবুল বলেন, ‘নির্বাচনের দিন আনন্দের সঙ্গে ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়েছিল ভোট দিতে। কিন্তু তারা কেন্দ্রে গিয়ে সরকারের আসল রূপ দেখেছে। আমরা এটাই চেয়েছিলাম। সরকারের এই রূপ জনগনকে দেখানোর জন্যই আমরা এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। রাজশাহী সিটি করপোরেশন এই নির্বাচনের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ ও তত্বাবধায়ক সরকারের অধিনে করার দাবিতে কঠোর আন্দোলন গড়ে উঠবে।’ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপু, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন, মতিহার থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন, পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল হক মিন্টু, মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ওয়ালিউল হক রানা, বর্তমান সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট, জেলা যুবদলের সভাপতি মোজাদ্দেদ জামানী সুমন, মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হাসনাইন হিকোল, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জাকির হোসেন রিমন, সাধারণ সম্পাদক আবেদুর রেজা রিপন, মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রবি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকবর আলি জ্যাকি, নাহিন আহম্মেদ, জেলা ছাত্রদলর সহ-সভাপতি শাহরিয়ার আমান প্রমুখ। তবে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলনসহ নগর বিএনপির অনেক নেতৃবৃন্দ এ বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন না। যারা নির্বাচনের সময় বুলবুলের পাশে থেকে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন। একে//

নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজশাহীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ঢাকায় বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতদের প্রতিবাদ ও নিরাপদ সড়কসহ নয় দফা দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে রাজশাহীতেও বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে এই বিক্ষোভ করে তারা। আগের দিনের ঘোষণা অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১০টার থেকে জিরোপয়েন্টের রাস্তায় জড়ো হতে থাকে শিক্ষার্থীরা। হাতে নানা প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রথমে রাস্তার পাশে গাড়িয়ে যায়। পরে তারা বিক্ষোভ করতে থাকে। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তীব্র যানজট দেখা দেয় নগরীর প্রাণকেন্দ্র সাহেববাজার জিরোপয়েন্টসহ আশপাশের সড়কগুলোতে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ইমরুল কায়েস ইশাত বলেন, আমরা নিরাপদে চলাচল করতে চাই। আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই। আমাদের নয় দফা দাবি মানতেই হবে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন অভিভাবক বলেন, ‘আমি একজন মা বলছি, তোমরা সীমা লংঘন করো না, আইনের বাইরে যেও না, আমার অন্তর জ্বলছে, আমার সন্তান কোথায়?’ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ কেন্দ্র করে সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের চার পাশ দিয়ে পুলিশ ঘিরে রাখে। মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারি কমিশনার ইফতে খায়ের আলম বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেন। তবে অপ্রীতিকর কোনও ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল।’ একে//

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি