ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৫:৩৬:৩৯

হবিগঞ্জে বিএনপির ২০ নেতা-কর্মী গুলিবিদ্ধ

দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে হবিগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ পুলিশ গুলি ছোঁড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বিএনপির ২০ নেতা–কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে দাবি করেছে জেলা বিএনপি। হবিগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, জেলা বিএনপি কার্যালয় থেকে বেলা ১১ টার দিকে মিছিল নিয়ে বের হয়ে মিছিলটি শহরের শায়েস্তানগর এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। এ নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র জিকে গউছের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এ সময় পুলিশ জিকে গউছকে লাঞ্ছিত করলে উপস্থিত নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। উত্তেজিত কর্মীদের ওপর পুলিশ উপর শটগানের গুলি ছোড়ে। এতে ২০ জন গুলিবিদ্ধ হন। মেয়র জিকে গউছ দাবি করেন, পুলিশ তাঁর গায়ে হাত তোলা ছাড়াও বিনা উসকানিতে তাঁদের মিছিলে অতর্কিতভাবে গুলি চালিয়েছে। হবিগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আয়াতুন্নবী জানান, পুলিশ অহেতুক হামলা চালায়নি। পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি নেতাকর্মীরাই প্রথমে হামলা চালায়। পরে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি ছুড়েছে। একে// এআর

সিলেটের মাঠে বিশেষ কয়েনে টস

সিলেটের মাটিতে টাইগারদের প্রথম ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখতে এই প্রথম বারের মতো আনা হয় বিশেষ কয়েন। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এ পর্যন্ত ৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হলেও একটিতেও খেলেনি টাইগাররা। তাই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ টি-২০ ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশেষ কয়েনের মাধ্যমে টসের ব্যবস্থা করা হয়। বিশেষ ওই কয়েনে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা দলের লোগো ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ ওই কয়েনটি দেখতে অনেকটা সোনালী রংয়ের। রোববার বিকেল সাড়ে ৪টায় এই বিশেষ কয়েনের মাধ্যমে টস দেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও শ্রীলংকার দলপতি দিনেশ চান্ডিমাল। বিশেষ কয়েনে ভাগ্যও যায় বাংলাদেশের অনুকূলে। শুধু তাই নয়, এই বিশেষ কয়েনে টসে জিতে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নাম লেখান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের টি-২০ বিশ্বকাপের গ্রু পর্বের ম্যাচ দিয়ে ক্রিকেট জগতে পথচলা শুরু হয় সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেঠ স্টেডিয়ামের। ওই বিশ্বকাপে ছয়টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিলো সেখানে। এরপর এই ভেন্যুতে আর কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি। প্রায় ৪ বছর পর আবারও সিলেটের মাটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তর্জাতিক ম্যাচ। আর এই ম্যাচেই অভিষেক হলো বাংলাদেশ দলের। দর্শকছাড়াও আয়োজকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। তাই এ ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখতে বেশ কিছু উদ্যোগ নেয় সিলেট বিভাগীয় জেলা ক্রীড়া সংস্থা। এর মধ্যে বিশেষ কয়েন দিয়ে টসের ব্যবস্থা করা হয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ও সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। এদিকে কয়েনটি সংরক্ষণ করা হবে বলেও তিনি সাংবাদিকদের জানান। শফিউল আলম বলেন, বিশেষ এ কয়েনে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)-এর লোগো ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া এ ম্যাচের খেলোয়াড়দের জন্য দুই দলের অধিনায়কের হাতে স্মারক তুলে দেন তিনি। এমএইচ/ এমজে

বানান শুদ্ধিকরণে কাকতাড়ুয়ার উদ্যোগ

দোকান, সাইনবোর্ড, অফিস কিংবা যানবাহনে প্রতিদিনই অসংখ্য ভুল বাংলা বানান চোখে পড়ে। বিষয়টি পীড়া দেয় সিলেটের বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীকে। হাতে বাংলা অভিধান আর রং তুলি নিয়ে গত পাঁচ বছর এসব ভুল বানান শুদ্ধিকরণ অভিযান চালাচ্ছেন তারা। ভাষার প্রতি ভালোবাসা আর জনসচেতনতা বাড়াতে ২০১৩ সালে কাকতাড়ুয়া নামক সংগঠন গড়ে বানান শুদ্ধিকরণ অভিযান শুরু করেন তারা। প্রতি মাসে একদিন নগরীর বিভিন্ন এলাকার দোকান, সাইনবোর্ডের বানান শুদ্ধ করেন। এমনো কাজের ফলস্বরূপ কাকতাড়ুয়া সংগঠনটি পেয়েছে জয়বাংলা ইয়ূথ পুরস্কার। কাকতাড়ুয়ার সভাপতি খলিলুর রহমান ফয়সাল বলেন, এ বানান শুদ্ধিকরণ অভিযান পর্যায়ক্রমে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসএইচ/

ঘুরে আসতে পারেন সৌন্দর্যের লীলাভূমি সিলেট

ভ্রমণপিপাসুদের কাছে ভ্রমণের আনন্দ বর্ণনা করে শেষ করা যায় না। দেশে কিংবা বিদেশের দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে আসেন তারা। দেশের ভিতরও রয়েছে অতুলনীয় কিছু সৌন্দর্যে ভরপুর স্থান। তেমন একটি হলো সিলেট জেলা। এ জেলায় রয়েছে অনেকগেুলো দর্শনীয় স্থান। একা কিংবা দলবেধে যেতে পারেন সিলেট জেলায়।  এখানে রয়েছে- হযরত শাহজালাল (র.) মাজার, হজরত শাহপারান (র.) মাজার, শ্রী শ্রী দুর্গা বাড়ি মন্দির, ইকো পার্ক, জাফলং, লালাখাল, ভোলাগঞ্জ, মালনীছড়া চা বাগান, লোভাছড়া পাথর কোয়ারী, সোনাতলা পুরাতন জামে মসজিদ, জাকারিয়া সিটি, ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানা, রায়ের গাঁও হাওর, মালিনী ছড়া বাগান, সোনাতলা পুরাতন জামে মসজিদ, লাক্কাতুরা চা বাগান, হাকালুকি হাওর, রাতারগুল, বিছনাকান্দি। হযরত শাহজালাল (র.) মাজার- সিলেট বাংলাদেশের পূণ্যভূমি হিসেবে পরিচিত। এখানেই চিরনিদ্রায় শায়িত হযরত শাহজালাল (রহ.)। বাংলাদেশের সব জায়গা থেকেই ধর্ম–বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ তার মাজার জেয়ারতের জন্য আসেন। মাজার চত্বরের উত্তর দিকে পুকুরে অসংখ্য গজার মাছ ভেসে বেড়ায়, যা দেখে সবাই মুগ্ধ হয়ে যান। মাজার এলাকায় ঝাকেঝাকে কবুতর উড়তে দেখে সব বয়সি মানুষেরই মন ভড়ে যায়। হজরত শাহপারান (র.) মাজার সিলেটের আধ্যাত্মিক স্থাপনা শাহ পরাণের মাজার। ইসলাম ধর্ম প্রচারক শাহ জালালের অন্যতম সঙ্গী ও অনুসারী শাহ পরাণের কারণে এই  এলাকায় মুসলিম ধর্ম বিশ্বাস ও সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসার হয়েছে বলে জানা যায়। মাজার জিয়ারত করার জন্যই প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ সিলেট ভ্রমণে আসেন। বিছনাকান্দি- পাহাড়, নদী, ঝর্ণা, পাথর প্রকৃতির সবই যেন একত্রিত হয়ে তাদের সৌন্দর্য বিলিয়ে দিয়ে প্রকৃতিটাকে সুন্দর করে তুলছে। আর তাই সিলেট ভ্রমণে আসা পর্যটকদের আকর্ষণীয় স্থান বিছানাকান্দি। এখানে পাথরের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ার দৃশ্যে সবাই মুগদ্ধ হয়ে যায়। দূর পাহাড়ের খাজের ঝর্ণা শরীরে এনে দেয় শীতর অনুভুতি। আর পাহাড়ের প্রতিনিয়ত থাক্কা খেতে থাকে মেঘ সৌন্দর্যও পর্যটকদের মুগদ্ধ করে। শুকনো মৌসুম ব্যতীত প্রায় সারা বছরই বিছানাকান্দিতে পর্যটকদের ভিড় দেখা গেলেও সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যায় বর্ষা কালে। রাতারগুল- বাংলাদেশের একমাত্র জলাবন রাতারগুল। বছরের চার মাস বনটি পানিতে থাকে, বনে আশ্রয় নেয় জলজ প্রাণীগুলি। পানিতে দাড়িয়ে থাকা গাছ দেখতে আসেন পর্যটকরা, বনের ভিতরে ঘুরে দেখার জন্য নৌকা ভাড়া নেন। সুন্দর এই জলাবনকে তুলনা করা হয় অ্যামাজানের সঙ্গে। রাতগাছ থেকেই এই জলাবনের নাম রাতারগুল হয়েছে। ভারতের পাহাড় থেকে পানি এসে জলাবনকে প্লাবিত করে। শীতকালে এটা জলাবন থেকে অন্যান্য স্বাভাবিক বনের মতই হয়ে যায়। জাফলং- পর্যটকদের কাছে জাফলংয়ের আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। সিলেট ভ্রমণে গেলে জাফলং না দেখে আসলে ভ্রমণটায় মনে হবে সম্পূর্ণ হয়নি। পাহাড়ের পাদদেশে অসস্থিত জাফলং পরিচিতি পেয়েছে প্রকৃতি কন্যা হিসেবে। এছাড়াও পর্যটকরা বিউটি স্পট, পিকনিক স্পট সৌন্দর্যের রাণীসহ আরও অনেক নামেই ডেকে থাকেন। জাফলংয়ের সোন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে নদীর তীরে স্তরে স্তরে বিছানো পাথরের স্তুপ গুলি। দূরে তাকালে ভারতের পাহাড়ের টিলা, পাহাড় থেকে প্রবাহমান জলপ্রপাত, ঝুলন্ত ব্রিজ, পর্যটকদের মুগ্ধ করে। এই সব দেখতে সারা বছরই দেশি বিদেশি পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে। মালনীছড়া চা বাগান- চা বাগান যেন নীল আকাশের নীচে সবুজ গালিচা। বাগানের চারপাশে সবুজের সমারোহ, উচু-নিচু টিলায় সবুঝের চাষ। পাহাড়ের টিলার কিনারা ঘেষে করা হয়েছে আকাবাঁকা পথ, মাঝে মধ্যে রয়েছে টিলা বেষ্টিত জনপদ, কোথাও বইছে ঝর্নাধারা। সকালে এককাপ চা না হলে আমাদের চলেই না। আর চা বাগান দেখতে সবারই মন চায়। ভ্রমণের জন্যেও চা বাগান আকর্ষণীয় একটা জায়গা। বাংলাদেশের কয়েকটি জলায় চা-বাগান রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম সিলেটের চা-বাগান। সিলেটের চায়ের স্বাদ অতুলনীয়। কেউ সিলেট  ভ্রমণে গেলে চা-বাগান অবশ্যই দেখতে যান, আর চাবাগান যারা দেখতে যান তারা প্রথমেই ছুটে যান মালনী ছড়া চা-বাগানে। সিলেট শহরের কাছেই রয়েছে মালনীছড়া চা বাগান। হাকালুকি হাওর- বাংলাদেশের বৃহত্তর হাওর হাকালুকি হাওর। বর্ষাকালে হাওর  বিশাল রুপ ধারন করে প্লাবিত হয় এর সংলগ্ন এলাকা। এই হাওরের জলরাশির মূল প্রবাহ হলো জুরি এবং পানাই নদী। এই জলরাশি কুশিয়ারা নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়। হাওরটিতে প্রায় ২৩৮টি বিল আছে। বিলগুলিতে প্রায় সারা বছরেই পানি থাকে। অনেকগুলি খালও রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য- দিয়া বিল, লাম্বা বিল, মুছনা বিল, দুধাল বিল, চাতলা বিল, জুয়ালা বিল, কাইয়ারকোণা বিল, রাহিয়া বিল, পিংলারকোণা বিল,  চৌকিয়া বিল, ডুলা বিল, ফুটি বিল, তুরাল বিল, তেকুনি বিল, পাওল বিল, বালিজুড়ি বিল, কুকুরডুবি বিল, কাটুয়া বিল, বিরাই বিল, চিনাউরা বিল, মায়াজুরি বিল, বারজালা বিল, পারজালাবিলসহ আরও অনেক বিল। লালাখাল- লালাখালের পাশেই রয়েছে বন, চা-বাগান ও নদী, এই সবকিছু যেন লালাখালকে ঘিরে রেখেছে। শীতকালে এবং যখন বৃষ্টি না হয় তখন লালাখালের পানি রং পান্না সবুজ থাকে। প্রবাহমান পানিতে থাকা খনিজ এবং পানির তলদেশে বালুর কারণেই রঙের পরিবর্তন দেখা যায়। লালাখাল ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় বর্ষাকাল, তখান চার পাশের পরিবেশ থাকে মিষ্টি শীতল, আকাশে তাকালে দেখতে পাবেন মেঘের ছুটাছুটি।   এসএইচ/

কৃষক হত্যার দায়ে ৭ জনের ফাঁসি

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে কৃষক আবুল মিয়ার হত্যার দায়ে ৭ (সাত) জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। বুধবার হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাফরুজা পারভিন এ রায় দেন। নিহত আবুল মিয়া ওই গ্রামের মো. আফতাব মিয়ার পুত্র। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন উপজেলার দীঘলবাগ দাউদপুর গ্রামের মৃত আরাফত আলীর ছেলে বসির মিয়া ও মর্তুজ আলী, মর্তুজের ছেলে ফয়সল মিয়া, সজলু মিয়া, মেয়ে শিফা বেগম, মইনুল মিয়া এবং আফসর আলীর ছেলে সুন্দর মিয়া। এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি এডভোকেট আব্দুল আহাদ ফারুক জানান, কৃষক আবুল মিয়া হত্যা মামলায় ৭ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। তবে রায় ঘোষণার সময় আদালতে কোনো আসামি উপস্থিত ছিল না। তিনি আরোও বলেন, ২০০৮ সালের ২২শে জুন জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আবুল মিয়াকে বাড়ির পাশের হাওড়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই নিহতের ভাই সাদিক মিয়া বাদী হয়ে আটজনকে আসামি করে মামলা করেন। নিহতের পরিবার এ রায়ে সন্তুষ প্রকাশ করেছেন।   এম/টিকে

সিলেটে ছাত্রলীগ কর্মী খুন

সিলেট মহানগরের টিলাগড়ে আভ্যন্তরীণ কোন্দলে খুন হলেন এক ছাত্রলীগ কর্মী। রোববার রাত পৌনে নয়টার দিকে প্রতিপক্ষ গ্রুপের হামলায়  তানিম খান (২৫) নামের ছাত্রলীগ কর্মী খুন হন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। নিহত ছাত্রলীগ কর্মী তানিম খান সিলেট সরকারি কলেজের  বিএ পাস কোর্সের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায়। তিনি সিলেট নগরের একটি মেস বাসায় ভাড়া থাকতেন। নিহত তানিম জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রঞ্জিত সরকারের অনুসারী। তামিমের মৃত্যু নিয়ে শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, ``তানিমকে আধিপত্য বিস্তারের জের ধরেই হত্যা করা হয়েছে।পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে কারা তাকে হত্যা করেছে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় আঘাত করার কারণে তানিমের মৃত্যু হয়েছে।`` প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রোববার রাত পৌনে নয়টার দিকে টিলাগড় রাজমহলের কাছে বসে আড্ডা দিচ্ছিল রঞ্জিত গ্রুপের কর্মীরা। এসময় সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর আজাদ গ্রুপের অনুসারীরা রঞ্জিত গ্রুপের কর্মীদের ধাওয়া করে। ওই সময় পয়েন্টে দাঁড়িয়ে ছিলেন তানিম। প্রতিপক্ষের ছাত্রলীগ কর্মীরা তার উপর অতর্কিত হামলা করে পালিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।   কেআই/ টিকে

ওসমানী বিমানবন্দরে ৭ কেজি সোনাসহ বিমানকর্মী আটক

সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাত কেজি সোনা উদ্ধার করেছেন শুল্ক গোয়েন্দারা। বুধবার বিকালে দুবাই থেকে আসা ‘ফ্লাই দুবাইয়ের’ একটি ফ্লাইটে অভিযান চালিয়ে এ সোনা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশ বিমানের মেকানিক্যাল সহকারী কারিমুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। বিমানবন্দর কাস্টমসের সহকারী কমিশনার সাজিদুল হক জানান, এদিন বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে দুবাই থেকে আসা ফ্লাইটটি ওসমানী বিমানবন্দরে নামে। বিমান থেকে যাত্রীরা নেমে যাওয়ার পরই ওই ফ্লাইটে অভিযান চালিয়ে সাত কেজি ওজনের ৬০টি সোনার বার উদ্ধার করে শুল্ক গোয়েন্দারা। তিনি বলেন, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে বাংলাদেশ বিমানের মেকনিক্যাল সহকারী কারিমুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত সোনার আনুমানিক মূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা।   আর

শ্রীমঙ্গলে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, আহত ৪

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের কালীঘাট রোডের বিজিবি ক্যাম্পের ভেতরে একটি বেসরকারি হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৪ জন আহত হয়েছেন। আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বৈরী আবহাওয়া ও ঘন কুয়াশার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। আহতদেরকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রিপন চন্দ্র দাস জানান, আহতদের মধ্যে দুই জন বিজিবি কর্মকর্তা এবং বাকিরা বিদেশি নাগরিক ছিলেন। বিজিবি কর্মকর্তারা হলেন, লেফটেন্যান্ট মেহেদী এবং সিনিয়র ওয়ারেন্ট কর্মকর্তা মো. ফরহাদ। হাসপাতালের রোগী ভর্তি রেজিস্ট্রারে বাকিদের বিদেশি নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু তাদের নাম-ঠিকানা জানা যায়নি। বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ব্যাপারে পরবর্তীতে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে। একে// এআর

সিলেটে পাথর কোয়ারিতে ধস, নিহত ৪

সিলেটে পাথর তোলার গর্তে মাটি ধসে এক নারী শ্রমিকসহ চার জন নিহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মঙ্গলবার বিকালে জেলার জাফলংয় মন্দিরের জুম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলওয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, এদিন জুম এলাকায় একটি পাথর কোয়ারি থেকে পাথর তুলছিলেন কয়েকজন শ্রমিক। বিকাল পৌনে ৫টার দিকে হঠাৎ ওই গর্তের মাটি ধসে চাপা পড়েন চার শ্রমিক। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তারা। তিনি বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ মরদেহ উদ্ধারে কাজ করছে। এটি একটি ‘অবৈধ’ পাথর কোয়ারি ছিল বলে জানান ওসি। উল্লেখ্য, সিলেটের বিভিন্ন স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে পাথর উত্তোলন করতে গিয়ে গত ১১ মাসে ৩২ জন শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।   আর/টিকে

শাবিপ্রবিতে চাকরির মেলা মঙ্গলবার

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) দুই দিনব্যাপী চাকরি মেলা শুরু হতে যাচ্ছে আগরীকাল মঙ্গলবার। শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ ৭০টি পদে স্থায়ী এবং পার্টটাইম নিয়োগ দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সাস্ট ক্যারিয়ার ক্লাব’ এই মেলার আয়োজন করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা। তাঁরা জানান, ব্র্যাক, মেলায় বসুন্ধরা গ্রুপ, গ্রামীণফোন, কনফিডেন্স গ্রুপ, ইপিলিয়ন, ইউনাইটেড ফিন্যান্স, প্রাণ-আরএফএল, দারাজ ডটকম, এভারি ডেনিসন, শাফি কনসালট্যান্সি, গ্রিনবাড, সুপার ফরমিকা অ্যান্ড লেমিনেটেডসহ আরো কয়েকটি কোম্পানি অংশ নেবে। আয়োজকরা বলেছেন, মেলার প্রথম দিন সিভি সংগ্রহ সিভি করা হবে। এবং এরপর বাছাইকৃত প্রার্থীদের শেষ দিন মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। একে//

হবিগঞ্জে গুলিতে সাবেক কাউন্সিলর নিহত

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে গুলিতে সাবেক এক পৌর কাউন্সিলরের মৃত্যু হয়েছে। রোববার রাত ১২টার দিকে উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নে মাগুরুণ্ডা গ্রামে পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। পুলিশের ভাষ্য, নিহত ইউনুছ মিয়া (৪০) মাদক সেবন ও কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ইউনুছ চুনারুঘাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর। তিনি দক্ষিণ হাতুণ্ডা গ্রামের গনি মিয়ার ছেলে। চুনারুঘাট থানার ওসি আজমিরুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, রাত ১২টার দিকে ইউনুছসহ চার-পাঁচজন ইয়াবা সেবন করছিলেন। সেখানে মাদক বিক্রেতাদের ধরতে গেলে তারা দেশি অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুড়লে ইউনুছ আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। এ সময় এসআই আতাউর রহমান আহত হন। / একে / এআর  

সুনামগঞ্জে প্রাইভেটকার খাদে পড়ে চার জন নিহত

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় প্রাইভেটকার খাদে পড়ে চার জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের তাজপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার মাহতাবপুর গ্রামের বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিনের ছেলে তোফায়েল আহমদ (২৭), সিলেটের জালালাবাদ থানার টুকেরবাজার (শেখপাড়া) গ্রামের সোহরাব আলীর ছেলে রাজু আহমদ (৩৫) ও একই গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে তায়েফ আহমদ (২৭) এবং ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজার এলাকার বাসিন্দা শাহজাহান মিয়া (৩০)। এতে ঘটনাস্থলেই চার জনের মৃত্যু হয়। ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, ছাতক শহরের একটি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে প্রাইভেটকারযোগে চার যুবক সিলেটের টুকেরবাজারে আসছিলেন। পরে প্রাইভেটকারের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের তাজপুর এলাকায় সড়কের পাশে একটি খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ওই চার যুবক নিহত হন। পুলিশ তাদের লাশ উদ্ধার করে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।     আর

ফেঞ্চুগঞ্জে বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের পালবাড়িতে ২৩০ কেভি সাব-স্টেশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের ফলে সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও কুমিল্লার কিছু এলাকায় ৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। ফেঞ্চুগঞ্জ ফায়ারসার্ভিসের ৫টি ইউনিট দেড় ঘন্টা চেষ্টার পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছে গ্রিড সেকশনের কর্মকর্তারা। আগুন লাগার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তারা। বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী রতন কুমার জানিয়েছেন, ট্রান্সফরমারে আগুন ধরায় বেশ কিছু এলাকা বিদ্যুৎবিহীন হয়ে গেছে। এসব এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে হলে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে। তবে বিকল্প পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য প্রকৌশলীরা কাজ করছেন বলে জানান তিনি। একে//

মৌলভীবাজারে দুইজনকে কুপিয়ে হত্যা

মৌলভীবাজার শহরের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রাবাসের সামনে দুই ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র শাহবাব রহমান (২০) ও মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী মাহি আহমদ (১৮)। নিহত দুই জন ছাত্র লীগের কর্মী নয় দাবি করে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আছাদুজ্জান রনি বলেন, ‘নিহত দুইজন ছাত্রলীগের কোনো কমিটিতে নেই। তবে ছাত্রলীগ সমর্থক হলেও হতে পারে, সেটা আমার জানা নেই।’ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যার দিকে একদল দুর্বৃত্ত এসে তাদের কুপিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তাদের উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর দায়িত্বরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।       এসি/  

সুনামগঞ্জে জমির বিরোধে কলেজশিক্ষক খুন

সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলায় জমির বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলায় এক কলেজশিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। জেলার জ্যেষ্ঠ এসএসপি তাপস রঞ্জন ঘোষ জানান, শুক্রবার দুপুরে উপজেলার সেলবরশ ইউনিয়নের কাশিয়ানি গ্রামে হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবু তুহিন জুয়েল (৪০) ওই গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি জামালগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ছিলেন। এসএসপি তাপস বলেন, জুয়েলের সঙ্গে প্রতিবেশী আব্দুর রাজ্জাকের জায়গা-জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে কথাকাকাকাটির একপর্যায়ে রাজ্জাকের পক্ষের লোকজন তুহিনের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে কুপিয়ে আহত করেন বলে অভিযোগ। আহত তুহিনকে তার স্বজনরা ধরমপাশা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।পুলিশ খুনি ধরতে অভিযান চালাচ্ছে বলে তিনি জানান। এসএইচ/

বৃষ্টিভেজা রাতারগুল

প্রকৃতির সঙ্গে পরিচয় ও সেতুবন্ধন তৈরির অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে ভ্রমণ। ভ্রমণ মানেই প্রশান্তি। ভ্রমণ মানেই আনন্দ। তাইতো যখনই সময় পাই, প্রকৃতির কাছে ছুটে যাই। কারণ প্রকৃতি আমাদের বেঁচে থাকার প্ররণা যোগায়। প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্য লাভের আশায় আমিও মাঝে মাঝে ব্যাকুল হয়ে উঠি। অনেকদিন ধরে আমাদের পরিকল্পনায় ছিলো সিলেট ভ্রমণ। এর আগেও সিলেটে ভ্রমণ করেছি। তবে সেটা ছিলো ঝটিকা সফর। শুনেছি বৃষ্টিতে সিলেট নাকি অন্য রূপে সাজে। তাই বৃষ্টির দিনেই সিলেট রওনা হলাম।জাফলং, জৈন্তিয়া পাহাড়, ভোলাগঞ্জের সারি সারি পাথরের স্তুপ, বিছানাকান্দি, লালা খাল, হযরত শাহজালাল ও শাহপরানের মাজারসহ সিলেটের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য স্পট রয়েছে। তবে আজ আমি পাঠকদের উদ্দেশ্যে শুধুমাত্র একটি স্পট নিয়েই আলোচনা করবো। আর সেটি হচ্ছে বাংলার আমাজান খ্যাত ‘রাতারগুল’।তিন দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে আমাদের গন্তব্য ছিলো ‘রাতারগুল’। নিয়ম অনুযায়ী আমরা খুব সকালে ঘুম থেকে উঠলাম। কিন্তু তখন অনেক বৃষ্টি হচ্ছিল। হোটেলের জানালা থেকে বাইরের রাস্তা দেখা যায়। আমাদের গাড়ি ইতিমধ্যে চলে এসেছে। তবে বৃষ্টির কারণে কেউই নামতে চাইছে না। সকাল ৭টায় বৃষ্টি কিছুটা কমলে আমরা হোটেল থেকে বের হই। পাশের একটি হোটেলে সকালের নাস্তা শেষ করে গাড়িতে উঠি। আমাদের গন্তব্য ‘রাতারগুল’।বর্ষায় বাংলার আমাজান নামে পরিচিত সিলেটের গোয়াইনঘাটের রাতারগুল আমাদের তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। রাতারগুল আমাদের দেশের একমাত্র ‘ফ্রেশওয়াটার সোয়াম্প ফরেস্ট’ বা জলাবন। সিলেট থেকে দেশের একমাত্র স্বীকৃত এই সোয়াম্প ফরেস্টের দূরত্ব প্রায় ২৬ কিলোমিটার। সিলেট জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা গোয়াইনঘাটের ফতেহপুর ইউনিয়নে এ জলাবনের অবস্থান।উত্তরে মেঘালয় থেকে নেমে আসা স্রোতস্বিনী গোয়াইন নদী, দক্ষিণে বিশাল হাওর; মাঝখানে ‘জলাবন’ রাতারগুল। উইকিপিডিয়ায় পাওয়া তথ্যমতে সারা পৃথিবীতে স্বাদুপানির জলাবন আছে মাত্র ২২টি। ভারতীয় উপমহাদেশ আছে এর দুটি। একটা শ্রীলংকায়, আরেকটা আমাদের রাতারগুলে।অনিন্দ্যসুন্দর বিশাল এ বনের সঙ্গে তুলনা চলে একমাত্র আমাজনের। রেইন ফরেস্ট নামে পরিচিত হলেও বিশ্বের স্বাদুপানির সবচাইতে বড় সোয়াম্প বন কিন্তু এটিই। সিলেটের স্থানীয় ভাষায় মুর্তা বা পাটিগাছ ‘রাতাগাছ’ নামে পরিচিত। সেই মুর্তা অথবা রাতাগাছের নামানুসারে এই বনের নাম হয়েছে রাতারগুল। আমাজনের মতোই এখানকার গাছগাছালির বেশির ভাগ অংশ বছরে চার থেকে সাত মাস পানির নিচে থাকে। ভারতের মেঘালয়ের জলধারা গোয়াইন নদীতে এসে পড়ে, আর সেখানকার এক সরু শাখা চেঙ্গী খাল হয়ে পানি পুরো রাতারগুল জলাবনকে প্লাবিত করে। বর্ষা মৌসুমের প্রায় সবসময়ই পানি থাকে বনে (মে-সেপ্টেম্বর)। শীতকালে অবশ্য সেটা হয়ে যায় আর দশটা বনের মতোই। যেন পাতা ঝরা শুষ্ক ডাঙ্গা। আর ছোট ছোট খালগুলো হয়ে যায় পায়েচলা মেঠোপথ। তখন জলজ প্রাণীকুলের আশ্রয় হয় বন বিভাগের খোঁড়া বড় বড় ডোবাগুলোতে।বর্ষায় বড়ই অদ্ভুত এই জলের রাজ্য। এ সময় কোনো গাছের কোমর পর্যন্ত পানিতে ডুবে থাকে। একটু ছোট যেগুলো, সেগুলোর আবার শরীরের অর্ধেকই জলে তলিয়ে যায়। এ সময় কোথাও চোখে পড়ে জেলেরা মাছ ধরছে। ঘন হয়ে জন্মানো গাছপালার কারণে কেমন যেন অন্ধকার লাগে পুরো বনটা। মাঝে মধ্যেই গাছের ডালপালা আটকে দেয় পথ। হাত দিয়ে ওগুলো সরিয়ে পথ চলতে হয়। তবে বর্ষায় এ বনে চলতে হবে খুব সাবধানে। কারণ রাতারগুল হচ্ছে সাপের আখড়া। বর্ষায় পানি বাড়ায় সাপেরা ঠাঁই নেয় গাছের ওপর।বনবিভাগের তথ্যমতে- এই বনের আয়তন তিন হাজার ৩২৫ দশমিক ৬১ একর। এর মধ্যে ৫০৪ একর বন ১৯৭৩ সালে বন্য প্রাণীর অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়। বিশাল এ বনে জল-সহিষ্ণু প্রায় ২৫ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। মূলত প্রাকৃতিক বন হলেও বেত, কদম, হিজল, মুর্তাসহ নানা জাতের পানি সহিষ্ণু গাছ লাগিয়েছে বন বিভাগ। রাতারগুল বনে সাপের মধ্যে নির্বিষ গুইসাপ, জলঢোড়া ছাড়াও রয়েছে গোখরাসহ বিষাক্ত অনেক প্রজাতি। বর্ষায় বনের ভেতর পানি ঢুকলে এসব সাপ গাছের ওপর উঠে পড়ে।বনের ভেতর দাঁপিয়ে বেড়ায় মেছোবাঘ, কাঠবিড়ালি, বানর, ভোঁদড়, বনবিড়াল, বেজি, শিয়ালসহ নানা প্রজাতির বণ্যপ্রাণী। টেংরা, খলিশা, রিঠা, পাবদা, মায়া, আইড়, কালবাউস, রুইসহ আরো অনেক জাতের মাছ পাওয়া যায় এ বনে। পাখিদের মধ্যে আছে সাদা বক, কানি বক, মাছরাঙা, টিয়া, বুলবুলি, পানকৌড়ি, ঢুপি, ঘুঘু, চিল ও বাজ। শীতে মাঝেমধ্যে আসে বিশালকায় সব শকুন। আর লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে ঘাঁটি গাড়ে বালিহাঁসসহ হরেক জাতের পাখি। শুকনো মৌসুমে ডিঙ্গি নিয়ে ভেতরে গেলে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি আপনাকে উড়ে সরে গিয়ে পথ করে দেবে। এ দৃশ্য আসলেই দুর্লভ!গাছের মধ্যে এখানে করচ-ই বেশি। হিজলে ফল ধরে আছে শ`য়ে শ`য়ে। বটও চোখে পড়বে মাঝে মধ্যে। আর বনের দক্ষিণে মুর্তা (পাটি) গাছের প্রাধান্য। রাতারগুলের বেশ বড় একটা অংশে বাণিজ্যিকভাবে মুর্তা লাগিয়েছে বন বিভাগ। মুর্তা দিয়ে শীতল পাটি হয়। মুর্তা বেশি আছে নদীর উল্টো পাশে। এ ছাড়া ওদিকে শিমুল বিল হাওর আর নেওয়া বিল হাওর নামে দুটো বড় হাওর আছে।বর্ষায় হাওরের স্বচ্ছ পানির নিচে ডুবে থাকা গাছগুলো দেখার অভিজ্ঞতা অপূর্ব। শীতকালে আবার বনের ভিন্নরূপ। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে জেগে ওঠে মূর্তা ও জালি বেতের বাগান। সে সৌন্দর্য আবার অন্য রকম! বন এভাবে জলে ডুবে থাকে বছরে চার থেকে সাত মাস। বর্ষা কাটলেই দেখা যাবে অন্য চেহারা। তখন বনের ভেতরের ছোট নালাগুলো পরিণত হবে পায়ে চলা পথে। সেই পথ দিয়ে হেঁটে অনায়াসে ঘুরে বেড়ানো যায়।রাতারগুল বনে ঢুকতে হয় ডিঙি নৌকায় চেপে। নৌকা একবার বনে ঢুকলেই আর কথা নেই!  দুটি মাত্র শব্দ লাগবে আপনার ভাব প্রকাশের জন্য। আপনি হয়তো বলে উঠবেন- ‘আমি মুগ্ধ’! আর বোনাস হিসেবে পাবেন গোয়াইন নদী দিয়ে রাতারগুল যাওয়ার অসাধারণ সুন্দর পথ। এ ছাড়া নদীর চারপাশের দৃশ্যের সঙ্গে দেখবেন দূরে ভারতের মিজোরামের উঁচু সবুজ পাহাড়।এতো গেলো রাতারগুলের বর্ণনা। এখন আলোচনা করবো আমাদের ভ্রমণ নিয়ে। আমরা সিলেটের সবুজ প্রকৃতি দেখতে দেখতে কখন যে রাতারগুলে এসে পৌঁছেছি, তা বুঝতেই পারলাম না। আমরা যখন স্পটে এসে পৌঁছেছি, তখন বৃষ্টি ছিলো না। এসে দেখি অনেক পর্যটক এসেছে। বিদেশিরাও আছেন তাদের মধ্যে। দেখে মনে হলো, রাতারগুল ইতিমধ্যে বিদেশি পর্যটকদের কাছেও পরিচিত হয়ে উঠেছে। যা হোক, রাতারগুল বনের মধ্যে প্রবেশ করতে হলে নৌকা নিয়ে যেতে হবে। স্থানীয় বাসিন্দারাই নৌকা ভাড়া দেন। ভাড়া একটু বেশি। তবে এতো দূরে খরচ করে এসে ভাড়ার কথা চিন্তা করলে হবে না।বৃষ্টির ভরা মৌসুমে রাতারগুল পানিতে টইটুম্বুর। হাওরের অথৈই পানি দেখে আমাদের মধ্যে কেউ কেউ ভয়ে নৌকাতে উঠতে চাইলো না। আমরা দুটি নৌকা নিয়ে রওনা হলাম। এখানে বাচ্চারাও নৌকা চালায়। পড়ালেখার পাশাপাশি অবসরে তারা নৌকা ভাড়া দিয়ে আয় করে।আমাদের নৌকা যখন হাওরের মাঝখানে, ঠিক তখন আকাশ ঘন কালো মেঘে ছেয়ে গেছে। বুঝতে বাকি নাই যে বৃষ্টি হবে। হঠাৎ ঝুম বৃষ্টি শুরু। আমাদের মত অনেকেই রওনা হয়েছে রাতারগুলের উদ্দেশ্যে। কারও কারও কাছে ছাতা ছিলো বলে রক্ষা। তবে আমাদের কাছে কোন ছাতা ছিলো না। তাই স্থির করলাম বৃষ্টিতে ভিজেই ‘রাতারগুল’ দেখবো। ঝুম বৃষ্টিতে কাক ভেজা হয়ে হাওরের জলে নৌকার উপর গলা ছেড়ে গান ধরলেন আমাদেরই এক বন্ধু। আমাদের নৌকার মাঝি ছিলো ছোট ছোট দুটি ছেলে। ওরাও গান ধরলো। আমরা প্রবেশ করলাম রাতারগুলে। আহা, কি রূপ! চোখে না দেখলে বিশ্বাসই হতো না- এই যে আমাদের বাংলাদেশ। সত্যি বাংলার রূপ পৃথিবীর সব রূপের চেয়ে সেরা। অনেকটা সময় আমরা নৌকায় করে বনের চারিপাশে ঘুরে ঘুরে দেখলাম।এরপর উঠলাম ওয়াচ টাওয়ারে। সেখানে উঠে পুরো রাতারগুলের ভিউটা চমৎকারভাবে দেখা যায়। বৃষ্টি ভেজা রাতারগুল সত্যি চমৎকার। আমরা প্রায় দুই ঘন্টা ছিলাম। এরপর আবারও নৌকায় করে ফিরে আসলাম গড়ির কাছে। গাড়িতে উঠে রওনা দিলাম সিলেট শহরের উদ্দেশ্যে। চমৎকার একটি দিন কাটিয়ে গেলাম রাতরগুলে আর হৃদয়টা রেখে গেলাম হাওরের জলে।যেভাবে যেতে হবে রাতারগুল যাওয়া যায় বেশ কয়েকটি পথে। তবে যেভাবেই যান, যেতে হবে সিলেট থেকেই।প্রথম উপায়- সিলেট থেকে জাফলং-তামাবিল রোডে সারিঘাট হয়ে সরাসরি গোয়াইনঘাট পৌঁছানো। এরপর গোয়াইনঘাট থেকে রাতারগুল বিট অফিসে আসবার জন্য ট্রলার ভাড়া করতে হবে। ভাড়া ৯০০-১৫০০ এর মধ্যে (আসা-যাওয়া), আর সময় লাগে দুই ঘণ্টা। বিট অফিসে নেমে ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে বনে ঢুকতে হবে, এতে ঘণ্টাপ্রতি লাগবে ৫০০-৮০০ টাকা।দ্বিতীয় উপায় হলো- সিলেটের আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে সিএনজি নিয়ে গোয়াইনঘাট পৌঁছানো, ভাড়া পড়বে ৫০০ টাকা। ওসমানী এয়ারপোর্ট-শালুটিকর হয়ে যাওয়া এ রাস্তাটা বর্ষাকালে খুবই সুন্দর। এরপর একইভাবে গোয়াইনঘাট থেকে রাতারগুল বিট অফিসে আসবার জন্য ট্রলার ভাড়া করতে হবে। ভাড়া ৮০০- ১৫০০ টাকার মধ্যে (আসা-যাওয়া), আর সময় লাগে দুই ঘণ্টা। বিট অফিসে নেমে ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে বনে ঢুকতে হবে, এতে মাঝি ঘণ্টাপ্রতি নেবে ৪০০-৫০০ টাকা।আরো একটি উপায়ে আপনি পৌঁছাতে পারেন রাতারগুল। সেটা হচ্ছে সিলেটের আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে সিএনজি নিয়ে মোটরঘাট (সাহেব বাজার হয়ে) পৌঁছাতে হবে। ভাড়া নেবে ২০০-৩০০ টাকা, আর সময় লাগবে ঘণ্টাখানেক। এরপর মোটরঘাট থেকে সরাসরি ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে বনে চলে যাওয়া যায়। এতে ঘণ্টাপ্রতি ৪০০-৪৫০ টাকা লাগবে। এই তৃতীয় পথটিতেই সময় ও খরচ সবচেয়ে কম।কিছু সতর্কতা রাতারগুল বা তার আশপাশে খাবারের হোটেল বা থাকার কোনো ভালো ব্যবস্থা নেই। তাই খাবার গোয়াইনঘাট বা সিলেট থেকে নিয়ে যেতে পারেন। আরেকটা বিষয়, নৌকায় করে বেড়ানোর সময় পানিতে হাত না দেয়াই ভালো। জোঁকসহ বিভিন্ন পোকামাকড় তো আছেই, বর্ষায় বিষাক্ত সাপও পানিতে বা গাছে দেখতে পাওয়া যায়। সাঁতার না জানলে সঙ্গে লাইফ জ্যাকেট রাখা জরুরি। এ ছাড়া ছাতা, বর্ষাতি কিংবা রোদ টুপিও সঙ্গে নিতে হবে। এখানে বেড়ানোর নৌকাগুলো অনেক ছোট। এক নৌকায় পাঁচজনের বেশি উঠবেন না। ছবি : জুলফিকার হুসাইন সোহাগএসএ/ডিডি/

হবিগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় তিন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে শায়েস্তাগঞ্জের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উলুকান্দি রেল গেইট নামকস্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। নিহতরা বরযাত্রী ছিলেন। নিহতরা হলেন, উপজেলার পুরাসুন্দা গ্রামের জিতু মিয়ার ছেলে মান্নান মিয়া, একই উপজেলার ভাটি শৈলজুরা গ্রামের জলিল মিয়ার ছেলে সোহেল মিয়া এবং পুরাসুন্দা গ্রামের নানু মিয়া তালুকদারের ছেলে ময়না মিয়া। ময়না মিয়া উপজেলার নূরপুর ইউনিয়নের ছাত্রলীগের নেতা। শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানা সূত্রে জান যায়, মোটরসাইকেল আরোহীরা উপজেলার রাজাকপুর গ্রামে বিয়ে খেয়ে বাড়ি ফেরার পথে উলুকান্দি রেল গেইট নামকস্থানে পৌঁছলে বিপরীতমুখি একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই জনের মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে আহত ময়না মিয়াকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতপালে ভর্তি করে। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে সেখান থেকে তাকে সিলেটের ওসমানী মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার খবর পেয়ে শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশ দু’টি লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।   আর/টিকে

সিলেটে পাহাড় ধস: নিহত ৪

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লোভাছড়ায় পাথর উত্তোলনের সময় পাথর ধসে চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।এ ঘটনায় আরোও দুইজন নিখোঁজ রয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল ৯ টার দিকে বাংলা টিলা নামের পাহাড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় পাওয়া যায় নি। কানাইঘাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আহাদ পাহাড় ধসের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয়রা জানান, বাংলা টিলার পাহাড় এলাকাটি দুর্গম। বেশ কয়েক দিন ধরে গর্ত করে সেখান থেকে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছিল। আজ সকাল ৯ টার দিকে সেখানে একটি গর্তে ধস নামে। এতে বেশ কয়েকজন পাথর চাপা পড়েন। এ ঘটনায় স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে। / এম / এআর  

সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত

ছাত্রলীগ কর্মী ওমর মিয়াদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সংগঠনের বিভিন্ন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর সিলেট জেলা শাখার কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদ। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, সোমবার বিকালে সিলেট নগরীর টিলাগড় এলাকায় ছাত্রলীগকর্মী ওমর মিয়াদ (২২) ছুরির আঘাতে নিহত হন। এ ঘটনায় সংগঠনটির সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রায়হান চৌধুরীসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের এক জরুরি বৈঠকের সিদ্ধান্তমতে সিলেট জেলা শাখার কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হল। একই সঙ্গে নতুন কমিটির জন্য বিভিন্ন পদে নেতৃত্ব প্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত চাওয়া হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। যা আগামী ২৫ অক্টোবরের মধ্যে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে এই জীবনবৃত্তান্ত জমা দিতে হবে। নিহত ছাত্রলীগ কর্মী মিয়াদের বাবা আখলু মিয়া বুধবার রাতে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রায়হান চৌধুরী, ছাত্রলীগকর্মী তোফায়েল আহমদ ও তার ভাই ফখরুল ইসলামসহ ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও পাঁচজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ছাত্রলীগকর্মী তোফায়েল ও তার ভাই ফখরুল ইসলামকে ইতোমধ্যেই আটক করেছে পুলিশ।   / আর/ এআর

বাহুবলে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ডাকাত নিহত

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মদন মিয়া ওরফে মোজাম্মেল (৩৪) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি মদন উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামের মরহুম রহমান মিয়ার ছেলে। বৃহস্পতিবার ভোররাতে উপজেলার দারাগাঁও চা বাগানের ২ নম্বর সেকশন এলাকায় এ ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে।  বাহুবল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বিশ্বজিৎ দেব বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমধ্যমকে বলেন- অস্ত্র, ডাকাতি, এবং হত্যাসহ সাতটি মামলার আসামি মদনকে বুধবার গ্রেফতার করা হয়। রাতে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সহযোগীদের নাম প্রকাশ করেন এবং অস্ত্র রাখার জায়গা সম্পর্কে তথ্য দেন। তথ্য মতে ভোররাতে মদনকে নিয়ে অভিযানে নামে পুলিশ। এ সময় হঠাৎ পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণ করে মদনের সহযোগীরা। এ পরিস্থিতিতে পুলিশও পাল্টা গুলি করে। একপর্যায়ে মদন পুলিশের হাত থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে মদনের বুকে ডাকাতদের গুলি লাগে । পরে মদনকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এম/এআর  

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি