ঢাকা, বুধবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৮ ১৬:৫০:১৫

মৌলভীবাজারে নবনির্মিত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন

মৌলভীবাজার জেলায় নবনির্মিত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের  উদ্বোধন করা হয়েছে। রোবাবার এ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মানবসম্পদই পারে একটি দেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে। বর্তমান সরকার ২০২১ সালে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে লক্ষ্যে সরকার দেশের প্রতিটি জেলা উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ করছে। মন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশের বেকারত্ব দূরীকরণ ও দারিদ্র্য বিমোচনে কারিগরি প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বর্তমান সরকার অভিবাসন ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও গতিশীল করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অভিবাসীদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষাসহ বিদেশে যাওয়ার জন্য সহজে অর্থ সংস্থান, বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রেরণের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার নবনির্মিত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন  অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) শেখ মোহাম্মদ নাহিদ নিয়াজ। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মৌলবীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসিন। (বিজ্ঞপ্তি)   এমএইচ/

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে নতুন আকর্ষণ এ্যাডভেঞ্চার ট্রি

পর্যটকদের জন্য নতুন আকর্ষণ হিসাবে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে স্থাপন করা হয়েছে এ্যাডভেঞ্চার ট্রি এক্টিভিটি। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন না হলেও প্রতিদিন পর্যটকরা সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন। সাতছড়ির জাতীয় উদ্যানকে পরিবেশবান্ধব পর্যটন এলাকা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টরা জানান, এটি পর্যটকদের জন্য জেলায় একটি আকর্ষণীয় স্থান। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, এলাকার মানুষদের সংগ্রামী ও ঝুঁকিপূর্ণ জীবন আর বিশাল বৃক্ষরাজি দেখতে এবং এ্যাডভেঞ্চার নিতে এই ট্রি এক্টিভিটি। তারা আরোও জানান, এ্যাডভেঞ্চার ট্রি একটি মজাদার ও রোমাঞ্চকর আউটডোর এক্টিভিটি। একে হাই রোপ এক্টিভিটিও বলা হয়। মাটি থেকে ৩০ ফুট উপরে এক গাছ থেকে আরেক গাছে বিভিন্ন কঠিন ধাপ অতিক্রম করাই ট্রি এক্টিভিটি। নিরাপদভাবে তৈরি এই এক্টিভিটি। এটি উপভোগ করতে বেশকিছু নিরাপত্তা সরঞ্জাম (সেফটি হার্নেস, গ্লাভস, হ্যালমেট) ব্যবহার করা হয়। এই এক্টিভিটি করতে বেশকিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে। মনে রাখতে হবে জীবনের জন্য রোমাঞ্চ, রোমাঞ্চের জন্য জীবন নয়। তাই যে কোন ধরনের রোমাঞ্চকর এক্টিভিটি সঠিক নিয়মেই করতে হবে। এ্যাডভেঞ্চার ট্রি স্থাপন করা হয়েছে ক্রেল এর অর্থায়নে। প্রাথমিকভাবে এর এন্ট্রি ফি একশ’ টাকা ধার্য করা হলেও এখনও তা অনুমোদন হয়নি। ক্রেল-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লা আল মামুন জানান, এটি চালু হলে উদ্যানে পর্যটক বাড়বে এবং আয়ও বৃদ্ধি পাবে। বাসস   এমএইচ/টিকে

যেভাবে করা হয় চড়ক পূজা

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ছয়শ্রী দিঘীরপাড়ে দুই দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী চড়কপূজা ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উৎসবমূখর পরিবেশে শনিবার (১৪ এপ্রিল) শুরু হয় এ পূজা ও মেলা। প্রায় দুইশত বছরের ঐতিহ্যবাহী চড়কপূজা ও মেলাকে কেন্দ্র করে কমলগঞ্জের ছয়শ্রীসহ আশেপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। তবে এ উৎসব ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সার্বজনীন উৎসবে রুপ নেয় বলে জানান, চড়কপূজা উদযাপন কমিটির নেতা অসমঞ্জু প্রসাদ রায় চৌধুরী। পূজার আগের রাতে জ্বলন্ত আগুনের মধ্যে ‘কালীনাচ’ হয়। পরদিন শনিবার দপুর থেকে নারী পুরুষ দর্শনার্থীর বিশাল সমাগম ঘটে উৎসবস্থলে। বিকেল বেলা ভক্তদের মন্ডলীতে বিশাল দা (বলিছেদ) দিয়ে নৃত্য, শিবের নৃত্য ও কালীর নৃত্য দেখানো হয়। নৃত্য শেষে ছয়চিরি দিঘীতে স্নান করে ভক্তদেরকে লোহার শিকল শরীরের বিভিন্ন অংশে পিষ্ট (গাঁথা) করা হয়। বিশেষ করে জিহ্বা ও গলায় গেঁথে দেওয়া হয়। নৃত্যের তালে তালে চড়ক গাছ ঘুরানো হয়। দেবতার পূজা-অর্চনা শেষে অপরাহ্নে মূল সন্ন্যাসী ৪ জন ভক্তের (জীবিত মানুষের) পিঠে লোহার দু’টি করে বিরাট আকৃতির বড়শি গেঁথে রশিতে বেঁধে ঝুলিয়ে চড়ক গাছ ঘুরানো হয়। এ সময়ে দর্শনার্থীদের অনেকে বাতাসা আর কলা উপরের দিকে উড়িয়ে লুট দেন, আর দর্শনার্থীরা তা কুড়িয়ে নেন।  রোববার (১৫ এপ্রিল) ফেরা চড়ক পূজায় দেবতার পূজা অর্চনা করা হয়। ছয়চিরি দিঘীর চার পাড়ের মধ্যে দিঘীর পূর্বপাড়ে ১টি, উত্তর পাড়ে ১টি এবং দক্ষিন পাড়ে ২টি চড়ক গাছ স্থাপন করে পূজা অনুষ্ঠিত হয়। তান্ত্রিক মন্ত্রের ধারা বিভিন্ন অলৌকিক ধর্মীয় কর্মসূচী উপভোগ করার জন্য প্রতি বছরের মত এবারও দর্শনার্থীর উপস্থিতি ছিল লক্ষনীয়। চড়কপূজা উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী এক বিশাল মেলা বসে। চড়ক পূজা ও মেলা পরিচালনা কমিটি প্রতি বছরের মত এবারও মেলা সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। এ অনুষ্ঠানাদিতে ইউনিয়ন পরিষদ ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। /আর/

সুনামগঞ্জে বালুচাপায় নিহত ২

  সুনামগঞ্জে নদীর তীর থেকে বালু তোলার সময় বালুর স্তুপের নিচে চাপা পড়ে দুই নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার দলুয়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার দলুয়া গুচ্ছগ্রামের আলেকা বেগম (৪০) ও ফেনিবিল গ্রামের রহিমা বেগম (৩১) সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাবীবউল্লাহ জানান, মঙ্গলবার সকালে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের দলুয়া গ্রামে চলতি নদীর তীরে গর্ত খুঁড়ে বালু তুলছিলেন শ্রমিকরা। পরে সাড়ে ১০টার দিকে গর্তের পাড় ধসে ভেতরে পড়লে কয়েকজন চাপা পড়লে আলেকা ও রহিমার মৃত্যু হয়। ঘটনার বিস্তারিত জানার জন্য পুলিশ তদন্ত করছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। একে//টিকে

সুনামগঞ্জে পুলিশ কনস্টেবলকে কুপিয়ে হত্যা

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় নিজাম উদ্দিন (২৫) নামে এক পুলিশ কনস্টেবলকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে তার বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে। পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাবিব উল্লাহ জুয়েল। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের ইনাতনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পালিয়ে গেছেন বড় ভাই জামাল উদ্দিন। নিহত নিজাম উদ্দিন ইনাতনগর গ্রামের জহুর উদ্দিনের ছেলে বলে জানা গেছে। তিনি সিলেট জেলা পুলিশ লাইনে কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, গত মঙ্গলবার সাত দিনের ছুটিতে বাড়িতে যান নিজাম। বৃহস্পতিবার বিকালে বড় ভাই জামাল উদ্দিনের সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে জামাল দেশিয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালালে গুরুতর আহত হন নিজাম। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ও পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে  রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। একে//টিকে

সম্ভ্রম বাঁচাতে চলন্ত অটো থেকে শিক্ষার্থীর ঝাঁপ [ভিডিও]

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বখাটেদের কাছ থেকে বাঁচতে চলন্ত অটো থেকে ঝাঁপ দিয়েছেন কলেজ ছাত্রী দীপা। গুরুতর আহত অবস্থায় মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে তাকে। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে আটক করলেও, পলাতক রয়েছে অটোচালক। জানা গেছে, পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের দায়িত্বও কাঁধে তুলে নিয়েছিলো দীপা। কিন্তু দুই বখাটের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে গিয়ে আজ হাসপাতালের বিছানায় পড়ে আছে সে। গত শুক্রবার দুপুরে কম্পিউটার ক্লাস করে অটোতে মুন্সিবাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলো দীপা। অটোচালক ও গাড়িতে থাকা চালকের বন্ধু তাকে উত্ত্যক্ত করতে শুরু করে। একসময় সম্ভ্রমহানির চেষ্টা করলে নিজেকে বাঁচাতে চলন্ত অটো থেকে ঝাঁপ দেয় দীপা। দায়ি ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে, এ জাতীয় ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে মনে করছে এলাকাবাসী। এ ঘটনায় পুলিশ এক বখাটে আটক ও অটো রিকশাটিকে জব্দ করলেও ধরা পড়েনি চালক মতিন। একে//  

বন্ধ ঘরে মিলল মা-ছেলের গলাকাটা লাশ

সিলেট নগরীর মিরাবাজারে একটি বাসা থেকে মা ও ছেলের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে ওই বাসা থেকে পাঁচ বছরের একটি শিশুকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তার গলায় আঙুলের ছাপ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। রোববার স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে দুপুর আড়াইটার দিকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। তবে বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল।নিহতরা হলেন- সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের হেলাল আহমদের স্ত্রী রোকিয়া বেগম (৪০) ও ছেলে রবিউল ইসলাম রোকন (১৮)। রোকন আগামীকাল সোমবার (২ এপ্রিল) থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।রাইসা নামে পাঁচ বছরের শিশুকন্যাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুটি রোকেয়া বেগমের মেয়ে বলে জানিয়েছেন নিহত ব্যক্তিদের এক আত্মীয়।নিহত রোকিয়ার ভাই জাকির হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, গত শুক্রবার সর্বশেষ মোবাইল ফোনে বোনের সঙ্গে তার কথা হয়। এরপর থেকে মোবাইল বন্ধ ছিল। রবিবার সকালে বোনের বাসায় এসে জানালা দিয়ে লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয় কাউন্সিলরকে জানানো হয়।সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গউসুল হোসেন ও কোতোয়ালি থানার সহকারী কমিশনার সাদেক কাউসার দস্তগীর ঘটনাস্থলে এসেছেন। তারা জানান, শোয়ার ঘরের বিছানায় ওই নারীর লাশ পাওয়া যায়। তার গলায় গভীর ক্ষত রয়েছে। ছেলেটার লাশ পাশের ঘরের বিছানার ওপরে পাওয়া যায়। শিশুটিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার গলায় আঙুলের ছাপ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনার সময় শিশুটি কিছুক্ষণ জ্ঞানহীন অবস্থায় ছিল।/ এআর /

বিউটির ধর্ষক-খুনি বাবুল মিয়া গ্রেফতার   

  হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে চাঞ্চল্যকর বিউটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি বাবুল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে সিলেটের বিয়ানীবাজার এলাকা থেকে র‌্যাব-৯ এর সিলেটের একটি দল তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানান, আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে বিয়ানীবাজারের রামদা গ্রামে অভিযান চালাই। পরে ওই গ্রামে অবস্থিত তার ফুফুর বাড়িত আত্মগোপনে থাকা বাবুল মিয়াকে গ্রেফতার করি। এর আগে শায়েস্তাগঞ্জের ব্রাহ্মণডোরা গ্রামের দিনমজুর সায়েদ আলীর মেয়ে বিউটি আক্তারকে (১৫)  গত  ২১ জানুয়ারি তার বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যান বাবুল মিয়া ও তার সহযোগীরা। এরপর তার উপর চলে পাশবিক নির্যাতন। নির্যাতনের এক মাস পর তাকে কৌশলে বাড়িতে রেখে চলে যায় বাবুল মিয়া। পরে এ ঘটনায় তার বাবা বাদি হয়ে গত ১ মার্চ বাবুল ও তার মা স্থানীয় ইউপি মেম্বার কলমচানের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। এরপর মেয়েকে বাবুল মিয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে বিউটির বাবা সায়েদ আলী বিউটিকে তার নানার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু তাতেও রক্ষা পায়নি বিউটি। পরে ১৬ মার্চ বাবুল মিয়া বিউটিকে তার নানার বাড়ি উপজেলার গুনিপুর গ্রাম থেকে তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। পরে বিউটিকে ধর্ষণের করে খুন করে বাবুল মিয়া। এ ঘটনায় বিউটির বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল মিয়া (৩২) ও তার মা ইউপি সদস্য কলম চান বিবিকে (৪৫) আসামি করে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।  মামলার পর ২১ মার্চ পুলিশ বাবুলের মা কলমচান ও সন্দেহভাজন হিসেবে একই গ্রামের ঈসমাইলকে আটক করে। পরে কিশোরী বিউটির মরদেহ পড়ে থাকার ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পরলে এ হত্যার বিরুদ্ধে নিন্দার জর উছে। এমএইচ/ টিকে

হবিগঞ্জে বাস-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ১

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় বাস ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে দিবা রানী দাস (২৫) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। নিহত দিবা রানী দাস ওই উপজেলার বাউশা গ্রামের অরুণ দাসের স্ত্রী। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পুরানগাঁও এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নবীগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুর জানান, দিবা রানী দাস তার বাবার বাড়ি কবিরপুর থেকে একটি বাসে করে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে একটি পিকআপভ্যানের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষ হলে তিনি আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দিবাকে মৃত ঘোষণা করেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান ওসি। একে/ এমজে

বিউটি হত্যা মামলার ১০ দিনেও গ্রেফতার হয়নি আসামি বাবুল (ভিডিও)

ঘটনার ১০ দিন পরও হবিগঞ্জের চাঞ্চল্যকর বিউটি হত্যা মামলার আসামী বাবুলকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার; ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীও। তবে আসামী বাবুলের স্ত্রী দাবি করেছেন, তার স্বামী নির্দোষ। স্কুলছাত্রী বিউটি আক্তারকে প্রায়ই উত্যক্ত করতো শায়েস্তাগঞ্জের বাবুল মিয়া। প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ২১ জানুয়ারি বিউটিকে তুলে নিয়ে যায় বাবুল। চলে নির্যাতন। এ ব্যাপারে ৪ মার্চ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে ২ জনকে আসামী করে মামলা হয়। নিরাপত্তার জন্য বাড়ি ছাড়ে বিউটি। আশ্রয় নেয় গুনিপুর গ্রামে তার নানার বাড়িতে। এতেও শেষ রক্ষা হয়নি। ১৬ মার্চ রাত থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। পরদিন ১৭ মার্চ প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে হাওরে পাওয়া যায় তার মৃতদেহ।             ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ ওঠে বাবুলের বিরুদ্ধে। তার শাস্তি দাবি করেছেন নিহতের স্বজনরা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন ইউপি চেয়ারম্যান। এদিকে বাবুল মিয়া নির্দোষ দাবি করেছেন তার স্ত্রী । পুলিশ জানিয়েছে, এরইমধ্যেই একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধান আসামীকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানায় পুলিশ।

চা বাগানে হারিয়ে যাচ্ছে মৌলভীবাজারের বধ্যভূমি(ভিডিও)

হারিয়ে যেতে বসেছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের সবচে বড় বধ্যভুমি পাত্রখলা। বধ্যভুমির উপরই তৈরি করা হয়েছে চা-বাগান। অরক্ষিত আছে চৈত্রঘাট ও কালেঙ্গা বধ্যভুমিও। সংরক্ষণের অভাবে কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিময় স্থানগুলো। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলই নদীর পাশে এখনও দৃশ্যমান একটি বাংকারের একাংশ। ধলই ভ্যালী ক্লাবের বর্তমান গ্যারেজ ও বাংলো ছিলো পাক হানাদারদের টর্চার সেল। বাংলো থেকে কয়েকশ গজ দূরে এই জায়গাটিতেই বাঙালিদের ধরে এনে হত্যা করা হতো। এখন এ বধ্যভুমির উপরই গড়ে উঠেছে পাত্রখলা চা-বাগান। এদিকে বধ্যভুমির উপর চা বাগান করায় ক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয়রা। বধ্যভূমির অস্তিত্বের কথা জানেই না পাত্রখলা চা বাগান কর্তৃপক্ষ। কমলগঞ্জের শমশেরনগর বিমানঘাঁটি, চৈত্রঘাট, দেওরাছড়া, কামুদপুর ও কালেঙ্গা এলাকায় হত্যা করা হয় বহু মানুষকে। কিন্তু সংরক্ষণের অভাবে নিশ্চিহ্ন হতে বসেছে চৈত্রঘাট ও কালেঙ্গা বধ্যভুমি। বাঙ্গালি চেতনার উৎস এসব বধ্যভূমি রক্ষিত না হলে, অচিরেই তা হারিয়ে যাবে অন্ধকারের অতল গহ্বরে। তাই স্মৃতিময় এ স্থানগুলো সংরক্ষণের দাবী উপজেলাবাসীর। এমজে/

সিলেটের পাথর কোয়ারিতে ফের তিন শ্রমিক নিহত

সিলেটের দুই উপজেলায় পাথর কোয়ারিতে পৃথক দুর্ঘটনায় তিন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন দুই থানার ওসি। এ ঘটনায় দেলোয়ার ও জুয়েল নামের দুই পাথর  কোয়ারির মালিককে আটক করেছে পুলিশ। জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাফলংয়ের লামাপুঞ্জি এলাকায় নাজিম উদ্দিন (২৫) এবং ওসমান আলী (২৮) নামের দুই শ্রমিক নিহত হন। এছাড়া কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরফিন টিলায় মারা যান ট্রাক্টরচালক এখলাছ মিয়া (২৬)। গোয়াইনঘাট থানার ওসি (তদন্ত) হিল্লোল রায় জানিয়েছেন, কোয়ারি এলাকায় মেশিনে কাজ করতে গিয়ে পাইপে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে নাজিম উদ্দিন ও গর্ত ধসে পাথর চাপায় ওসমান মিয়া নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দেলোয়ার ও জুয়েল নামের দুই গর্ত মালিককে আটক করা হয়েছে বলেও জানান হিল্লোল রায়। অন্যদিকে কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরেফিন টিলা এলাকায় বশিরের গর্তে অবৈধভাবে পাথর তুলতে গিয়ে পাথরের নিচে চাপা পড়ে এখলাছ নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একে/ এমজে

সিলেটে শাবির সাবেক শিক্ষার্থী খুন

সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমা এলাকায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মেহেদী আল সালাম খুন হয়েছেন । তিনি শাবির অর্থনীতি বিভাগের ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী। নিহত মেহেদী আল সালামসিলেট মহানগর পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার আব্দুল ওয়াহাব (গণমাধ্যম) জানান, রোববার রাত ১টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত তাকে ছুরিকাঘাত করে ফেলে রেখে চলে যায়। পরবর্তীতে পুলিশের গাড়িতে করে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ‘চিকিৎসার জন্য পুলিশের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।’ হাসপাতালে তার পরিবাররের লোকজন রয়েছে বলেও জানান তিনি। দক্ষিণ সুরমা এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে উল্লেখ করে শাবি প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক জহীর উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ছুরিকাঘাত করে শাবির সাবেক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। সে অর্থনীতি বিভাগের ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। সব কার্যক্রম ও ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে তার মৃতদেহ হস্তান্তর করা হবে।’ উদ্ধারকারী দক্ষিণ সুরমা থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) রিপন বলেন, ‘অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, গতকাল রাতে ঢাকায় যাওয়ার জন্য তিনি কদমতলী বাস টার্মিনালের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। এসময় ঘটনাটি ঘটে। নিহত মেহেদী আল সালাম সিলেট নগরীর মদিনা মার্কেটের বাসিন্দা। এসএইচ/

শাবিপ্রবির শিক্ষার্থী সহ আটক ৪

সিলেট নগরের সুবিদবাজারে একটি বহুতল ভবনে অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব। ওই অভিযানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীসহ চারজনকে আটক করেছে তারা। এ সময় দুটি শর্টগান, দুটি লম্বা দা, স্নাইপার ও গুলিসহ বেশকিছু অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার রাত ৮টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সুবিদবাজার এলাকার এক্সেল টাওয়ার ভবনে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে র‌্যাব-৯। অভিযানে অংশ নেয়া কর্মকর্তারা জানান, সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার দিনগত রাত ৮টার দিকে নগরের সুবিদবাজারের এক্সেল টাওয়ার ঘিরে ফেলে র‌্যাবের একটি দল। চারটি গাড়িতে করে প্রায় ২৪ জন র‌্যাব সদস্য ভবনটি ঘিরে রাখেন। এ সময় র‌্যাবের কিছু সদস্যকে ভবনটির ভেতরে ঢুকতে দেখা যায়। তারা বেশ কয়েক দফা ভেতরে যাওয়া-আসা করেন। অভিযানের খবর পেয়ে সংবাদকর্মীরাও টাওয়ারের সামনে জড়ো হন। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে র‌্যাব সদস্যরা চারজনকে আটক করে নিয়ে যান। এ সময় ভবন থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ্ধ উদ্ধার করে নিয়ে আসতে দেখা গেছে। এসএ/  

বীর প্রতীক কাকন বিবির মৃত্যুতে সিলেটে শোকের ছায়া(ভিডিও)

বীর প্রতীক কাকন বিবির মৃত্যুতে সিলেটে নেমেছে শোকের ছায়া। গতরাতে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান। দাফনের জন্য এই মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ নেয়া হচ্ছে গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে। কাকন বিবির মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত কয়েক বছর ধরে নানা অসুখে ভুগছিলেন বীরাঙ্গনা কাকন বিবি। রোববার গুরতর অসুস্থ হলে তাঁকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু বুধবার রাতে সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান সংগ্রামী এই নারী। তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। কাকন বিবির মৃত্যুতে শোকে কাতর স্বজন ও সহযোদ্ধারা। সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের লক্ষিপুর গ্রামে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হবে। ১৯৭১ সালে প্রথমে মুক্তি বাহিনীর গুপ্তচর হিসেবে কাজ করেন কাকন বিবি। বিষয়টি জানাজানি হলে হানাদার পাকিস্তানিরা তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে। পরে অস্ত্রহাতে ২০টি সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন বীরপ্রতীক কাকন বিবি।  

হবিগঞ্জে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ২

হবিগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দৌলতপুর নামক স্থানে যাত্রীবাহী একটি বাসের ধাক্কায় সিএনজি অটোরিকশার চালকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। আজ বুধবার ভোর ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, সিএনজি অটোরিকশার চালক ফরহাদ মিয়া (২৮)। তিনি উপজেলার শংকরপুর গ্রামের তুলা মিয়ার ছেলে। এবং একই গ্রামের বেলা মিয়ার ছেলে নূর আলী (৪০)। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শায়েস্তাগঞ্জ থেকে গ্যাস নেওয়ার জন্য সিএনজি অটোরিকশাটি নিয়ে রওনা দিলে দৌলতপুর দয়াল ব্রিকসের কাছে সিএনজি অটোরিকশাটি পৌঁছলে সিলেটগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস তাদের ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তারা দু’জন। এ দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা কিছু সময়ের জন্য মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একে/

সিলেট মাতাবে জেমস, মমতাজ ও দলছুট

সিলেট মাতাবেন দেশের সংগীতাঙ্গনের জনপ্রিয় দুই শিল্পী জেমস ও মমতাজ। আজ রোববার বিকেল ৪টায় একই মঞ্চে গান গাইবেন তারা। যেখানে আরও গান পরিবেশন করবেন বাপ্পা মজুমদার (দলছুট)। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ‘অগ্রযাত্রায় দুর্বার বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই কনসার্ট আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডকে মানুষের সামনে তুলে ধরার লক্ষে আয়োজন করা হয়েছে এই কনসার্ট। সিলেট শিল্পকলা একডেমির দলীয় নৃত্যসহ নানান পরিবেশনার পর এতে সংগীত পরিবেশন করবেন তারা। নওশিনের উপস্থাপনায় এবং আলমগীর হোসেনের প্রযোজনায় কনসার্টটি দেশ টিভিতে প্রচারিত হবে রবিবার বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত। এসএ/  

দেখে আসতে পারেন হাসন রাজার স্মৃতি চিহ্ন

‘লোকে বলে বলেরে, ঘরবাড়ি ভালা না আমারকী ঘর বানাইমু আমি, শূন্যের-ই মাঝারভালা করি ঘর বানাইয়া, কয় দিন থাকমু আরঅায়না দিয়া চাইয় দেখি, পাকনা চুল আমার।’এ অমর সঙ্গীত রচয়িতার সম্পর্কে জানতে চাইলে যেতে পারেন সুনামগঞ্জে। আজ থেকে বহু বছর আগে সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর ধারের এক রাজার জীবন আমূল পাল্টে দিয়েছিল স্বপ্ন-দর্শন। তার জীবন হয়ে উঠে সহজ সরল, মন হয়ে ওঠে প্রসারিত। ছেড়ে দেন রাজকীয় পোশাক। পড়তে শুরু করলেন সুফি পোশাক। সাধক রাজার স্মৃতিচিহ্ন এখনো অবশিষ্ট আছে সুনামেগঞ্জের আরফিন নগরে। সাদামাটা বাড়িতে তার শেষ স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়েছে জাদুঘর। কল্পনায় আপনি যেতে পারবেন উনবিংশ শতকে। ছোটখাটো সংগ্রহ শালায় রাজার আয়েসি জীবন থেকে শুরু করে সাধক জীবন পর্যন্ত। বাদক যন্ত্র থেকে রাজার জমিদারি ম্যাপ, রাজার খড়মসহ ব্যবহার্য জিনিসপত্র। ঘরের এবং ঘরের বাইরের সব সংগ্রহের পাশাপাশি অবস্থান পেয়েছে বিশিষ্টজনের সঙ্গে রাজার সাক্ষাৎ ও দর্শনার্থীদের ভ্রমণের বিশেষ কিছু ছবি। সিলেট শহরের একেবারে প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই মিউজিয়ামের নাম রাজা’স মিউজিয়াম। এটা শহরের জিন্দাবাজার এলাকায় অবস্থিত। সিলেট শহরের জিন্দাবাজারে হাসন রাজার বাসভবনটি বর্তমানে জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এখানে রাজা পরিবারের স্মৃতি সংরক্ষিত আছে। লোক সংস্কৃতি এবং ইতিহাসের ওপর গবেষণা কার্যক্রমকে এই জাদুঘর অনুপ্রানিত করে থাকে।জাদুঘরে দুটি গ্যালারি রয়েছে। প্রথম গ্যালারিটি প্রধান হলরুম। প্রধান হলরুমে চারটি শোকেসে হাসন রাজার ও তার পরিবারের ব্যবহৃত বিভিন্ন নিদর্শন সংরক্ষিত আছে। দ্বিতীয় গ্রালারিতে হাসন রাজার জীবনের ওপর লেখা বই আছে। কবির জীবন সম্পর্কে জানতে বইগুলি পড়তে পারেন যে কেউ। হাসন রাজার ছদ্মনাম অহিদুর রেজা। তিনি একজন মরমী কবি এবং বাউল শিল্পী।যেভাবে যাবেন-ঢাকা থেকে সড়ক পথ, রেল পথ ও আকাশ পথেও যেতে পারের হাসন রাজার শহরে। যদি ঢাকা থেকে সিলেট হয়ে সুনামগঞ্জ যান তাহলে প্রথমে সিলেট চলে যান তার পর বাসের জন্য যেতে হবে কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডে। আর বাকি রাস্তা গাড়িতে করে যেতে পারেন। চাইলে শাহজালাল (রহ.) মাজার গেটের পাশ থেকে যেতে পারবেন সুনামগঞ্জ শহরে। অথবা সরাসরি ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জ। ব্যক্তিগত গাড়িতে যেতে চাইলেও যেতে পারেন। যাতায়াতের জন্য রাস্তা বেশ ভালো। বাসে গেলে সময় লাগবে প্রায় দুই ঘণ্টা, আর কারে যেতে লাগবে প্রায় ১ ঘণ্টার মতো। শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নামিয়ে দিলে রিকশা কিংবা বিদ্যুৎ চালিত অটোরিকশা মিলবে সহজেই। শহরের অন্য যেকোনো জায়গায় যেতেও মিলবে এসব যানবাহন। ঢাকার মালিবাগ রেলগেট, রাজারবাগ, আরামবাগ, সায়েদাবাদ, পান্থপথ, সায়েদাবাদ থেকে সকাল ৬:৩০টা থেকে রাত ১১:৩০টা পর্যন্ত সিলেটের উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায়। ঢাকা কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে প্রতিদিনই ট্রেন যাতায়াত করে । ভ্রমণের জন্য রাতের ট্রেনে উঠাই ভালো। অথবা ঢাকা থেকে বিমান যোগেও যেতে পারেন। আর সিলেট থেকে রিকশা অথবা সিএনজি অটোরিকশায় চড়ে আপনি যেতে পারেন জাদুঘরে।থাকার ব্যবস্থা-সার্কিট হাউস বা সরকারি ডাকবাংলো ছাড়াও সিলেটের মাজার রোড, আম্বরখানা এবং জিন্দাবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় এক হাজার টাকার মধ্যেই থাকার জন্য ভালোমানের হোটেল পেয়ে যাবেন। খাবার সুবিধা-যেই হোটেলে থাকবেন তার কাছাকাটি খবার হোটেল পেয়ে যাবেন আর জাদুঘরের কাছে কিছু দোকানে কফি, স্ন্যাক্স জাতীয় খাবার বিক্রি করা হয়। তাজা মাছের স্বাদ নিয়ে খেতে চাইলে চলে যান নদীর পাড়ের হোটেলে। রিকশা অথবা অটোরিকশা যোগে অল্প সময়ের মধ্যেই যেতে পারেন নদীর পাড়ে। এসএইচ/

কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে ছাত্রদের বোঝালেন জাফর ইকবাল

দীর্ঘ ১১ দিন রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বুধবার সিলেটে ফিরেছেন বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। তাকে বরণ করে নিতে বিকেলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ‘সাধাসিধে কথা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে ছাত্র-শিক্ষকসহ মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ড. জাফর ইকবাল। তিনি বলেন, “আমাকে নাস্তিক বলা হয়। অথচ পবিত্র কুরআনের প্রথম লাইন থেকে শেষ লাইন আমি ভালোবেসে গভীরভাবে পড়েছি। আমার মনে হয় অন্য কেউ সেভাবে পড়েছেন কিনা। আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়েছেন। নিশ্চয় তিনি আমাকে দিয়ে ভালো কিছু করাতে চান। তিনি আমার প্রতি মায়া করেছেন।” জাফর ইকবাল বলেন, “হামলাকারীদের আমি ক্ষমা করে দিয়েছি। তাদের প্রতি আমার কোন ক্ষোভ নেই। যারা আমার জন্য রাস্তায় আন্দোলন করেছেন, আমার জন্য দোয়া করেছেন, তাদের সবার প্রতি আমার শুভকামনা রইলো।” পবিত্র কোরআনের আয়াত উদ্ধৃতি দিয়ে হামলাকারী ফয়জুল হাসানসহ বিপথে যাওয়া তরুণদে উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “তুমি যদি একটা মানুষকে হত্যা করো তবে সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করলে। কুরআন শরিফে এই মহান বাণী রয়েছে। তোমরা যদি একটা মানবজাতিকে বাঁচাও তবে সমগ্র মানবজাতিকে বাঁচালে। যারা ছুরিকাঘাতের পর আমাকে এখান থেকে তুলে হাসপাতালে পাঠিয়েছ তারা শুধুই আমাকে বাঁচাওনি সমগ্র মানবজাতিকে বাঁচিয়েছ।” তিনি আরো বলেন, “যে যুবক আমার ওপর হামলা করেছে তার জন্য আমার কষ্ট হয়, মায়া হয়। কারণ সে বিভ্রান্তির পথে রয়েছে।” হামলাকারীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আমাকে মেরে বেহেশতে যেতে চেয়েছিলে। তোমাকে যে মারতে পাঠিয়েছে, তার ছেলে-মেয়েরা হয়তো লেখাপড়া করছে। আর তোমার অবস্থা কী? দেখ তোমার বাবা-মা ও স্বজনরা রিমান্ডে। হামলাকারীর দলের কেউ হয়তো এখানে দাঁড়িয়ে আমরা কথা শুনছে। আমি তাদের বলি, তোমাদের কোনো কিছু জানার বা বোঝার থাকলে আমার সাথে দেখা করো। কথা বল ” অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ফরিদ উদ্দিন আহমদ, জাফর ইকবালের স্ত্রী ড. ইয়াসমীন হক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবেদ খান, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ইলিয়াস উদ্দিন বিশ্বাস এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. রেজা সেলিমসহ । উল্লেখ্য, গত ৩ মার্চ বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি অনুষ্ঠান চলাকালে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলা চালায় ফয়জুর রহমান নামে এক যুবক। জাফর ইকবালকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচার শেষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। আর/টিকে

জাফর ইকবালের ওপর হামলার প্রতিবাদে চুয়েটে মানববন্ধন

বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবালের ওপর বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) শিক্ষক সমিতি। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে পুরকৌশল ভবনের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে চুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ অংশগ্রহণ করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুর রহমান ভূঁইয়া। শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মশিউল হকের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রশীদ। এতে চুয়েটের মানববন্ধনে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন, অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলায় সমগ্র শিক্ষক সমাজ অপমানিত হয়েছেন। একজন শিক্ষকের ওপর এমন বর্বরোচিত আক্রমণ কখনো মেনে নেওয়া যায় না। এটি আমাদের জাতির বিবেকের উপর হামলা। মুক্তবুদ্ধি চর্চার উপর প্রতিক্রিয়াশীলদের হামলা। এ ধরণের অশুভ প্রতিক্রিয়া কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এমজে/

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি