ঢাকা, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭ ২০:০৪:০৩

হাওরকে না বাঁচালে হাওরের অস্তিত্ব থাকবে না

হাওরকে বাঁচানো ছাড়া, অস্তিত্ব থাকবে না হাওরের রাজধানী সুনামগঞ্জের। পাশাপাশি রক্ষা হবে না, হাওরে ফসল এবং জীব বৈচিত্র্যও। এমন, বাস্তবতায় নাব্যতা হারানো পাহাড়ী নদী খনন এবং স্থায়ী উঁচু বাঁধ নির্মানের দাবি এ অঞ্চলের মানুষের। তবে, এসব কাজ যাতে আর কোন ক্রমইে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে না থাকে এবং বাঁধ নির্মাণে অভিযুক্ত সিন্ডিকেটের কেউ না পায়, সে দাবিও জানিয়েছেন তারা। ভারতের, মেঘালয় রাজ্যের সারি সারি পাহাড়ের কোল ঘেষেই হাওর কন্যা সুনামগঞ্জের অবস্থান। সব মিলিয়ে পাঁচটি পাহাড়ি নদী বয়ে গেছে, এই জেলার উপর দিয়ে। কিন্তু, এই নদীগুলো উজানের ঢলে, ভেসে আসা বালিতে নব্যতা হারিয়েছে। পলি পরেছে, হাওরগুলোতেও। ঠিক, একই সময় ঠিকমত সংস্কার না হওয়ায়, পলিতে ভরাট বিলগুলোতেও। পানি ধারনের সক্ষমতা এখন অবশিষ্ট নেই কারোরই। এমন পরিস্থিতিতে নদীর নব্যতা ফিরিয়ে আনতে, ড্রেজিং এবং সেই মাঠি-বালু পুরোপুরি বাধ উচু করার বিকল্প নেই বলেই মত সংশ্লিস্টদের। তা না হলে, এই সমস্যা বছরের পর, বছর চলতেই থাকবে বলেও শংকা তাদের। আর, প্রতিবছরই পাহাড়ি নদী দিয়ে আসা বালি দিয়ে যাতে নদী নব্যতা না হারায়, সে লক্ষ্যে বিশেষ উদ্যেগেরও দাবী তাদের। তবে, যে উদ্যেগই নেওয়া হোক না কেন, বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান ও ব্যাক্তিদের কোন ভাবেই না রাখার দাবি জানিয়েছেন হাওর পাড়ের মানুষের। সরকারের প্রত্যক্ষ মনিটরিং যাতে নিশ্চিত করা হয়, এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।https://youtu.be/bJ-mGs0ldIk

সিলেটে বিস্ফোরক উদ্ধার ও হতাহতের মামলা পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর

সিলেটের আতিয়া মহল থেকে বিস্ফোরক উদ্ধার ও বোমা বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা দুটি মামলার তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সিলেট মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে দুটি মামলার নথিপত্র পিবিআইতে প্রেরণ করা হয়। ২৪ মার্চ থেকে শিববাড়ির আতিয়া মহলে শুরু হওয়া জঙ্গিবিরোধী অভিযান শেষ হওয়ার পর অজ্ঞাত ৪ জনকে আসামি করে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করেছিলেন মোগলাবাজার থানার এসআই সুজন দত্ত। এর আগে ২৬ মে আতিয়া মহলের পাশে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় একই থানার এসআই শিপলু চৌধুরী বাদি হয়ে বিস্ফোরক ও হত্যা আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। দুটি মামলাই তদন্ত করেন মোগলাবাজার থানার এসআই খায়রুল ফজল।

বাঁধ নির্মানে গাফিলতি ও অনিয়মের কথা স্বীকার করেছে ৪ কর্মকর্তা

সুনামগঞ্জে বাঁধ নির্মানে গাফিলতি ও অনিয়মের কথা স্বীকার করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের চার কর্মকর্তা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক এবং পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিবসহ চার কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এ কথা জানান দুদকের প্রশাসনের মহাপরিচালক মুনীর চৌধুরী। এ সময় তিনি জানান, কাজ আদায় এবং মনিটরিংয়ে তারা ব্যার্থ হয়েছে। পানির এমন স্রোতে বাধ ভেঙ্গে অকাল বন্যায় ফসল হারিয়ে পথে বসেছেন হাওরাঞ্চলের কৃষকরা। অভিযোগ উঠেছে বাধ নির্মানে হয়েছে-অনিয়ম দুর্নীতি। সঠিকভাবে কাজ না হওয়ার কারণেই পানির ধাক্কায় ভেঙ্গে যায় বাধ। অথচ বাধ ভেঙ্গে জমির ফসল ও বসত ভিটা যাতে হারাতে না হয়, সেজন্য ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় বাঁধ নির্মান করেছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড। অথচ পানির তোরে ভেসেছে সবই।২০১৬ সালেই সুনামগঞ্জে বাঁধের নির্মান, সংস্কার কাজে অনিয়ম, দূনীতি ও গাফিলতি অভিযোগ এসেছিল। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রতিবেদনও চায় দুনীতি দমন কমিশন। ১০ কার্যদিবসে রিপোর্ট দেয়ার কথা থাকালেও ১০ মাস পর তা জমা দেয় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড। যেখানে বাঁধ ভাঙার জন্য প্রাকৃতিক কারনকে দায়ী করেছে তারা। এ কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক জাহাঙ্গীর কবীর, পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব খলিলুর রহমানসহ চার কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে গাফিলতি ছিল বাঁধ নির্মানে। দুদকের এ কর্মকর্তা জানান, বাঁধ নির্মানে যে ঠিকাদার গফিলতি ও ভুল করেছে তাকে আবারও কাজ দেয়া হয়েছে তার প্রমানও পেয়েছেন তারা। তবে অনিয়ম গাফিলতি ও দুর্নীতির দায়ে এরই মধ্যে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বহিস্কার করেছে কর্তৃপক্ষ।  

ঝড়ে ডুবল হাওয়ারে পাঠানো ত্রাণের নৌকা

হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সাহায্যের জন্য পাঠানো একটি ত্রাণবাহী নৌকা ঝড়ের কবলে পড়ে সুনামগঞ্জের সুরমা নদীতে ডুবে গেছে। গতকাল রাত সাড়ে ১১টার দিকে নৌকাটি ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায় বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম। সোমবার সকালে জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম জানান, গতকাল রাতে ১৮ টন চাল নিয়ে একটি নৌকা জেলা শহরের ঘাট থেকে সদর উপজেলার রঙগারচর যাচ্ছিল। অকাল বন্যায় ফসল হারানো মানুষদের সাহায্যের জন্য এসব ত্রাণ যাচ্ছিল। কিন্তু রাত সাড়ে ১১টার দিকে নৌকাটি ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। জেলা প্রশাসক আরও জানান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। কিন্তু ডুবুরির সংখ্যা কম থাকায়, বাইরে থেকে ডুবুরি এনে চাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। গতকাল রাতে ওই ঝড়ে জেলার কমপক্ষে আট শত ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, এরই মধ্যে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।        

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে লক্ষাধিক মানুষ বেকার

অতিবৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের পানিতে একের পর এক বাঁধ ভেঙ্গে অকাল বন্যার পর সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে এখন কোনো কাজ নেই। বেকার হয়ে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। প্রত্যন্ত এলাকায় দেখা দিয়েছে অভাব-অনটন। কাজের খোজে প্রতিদিনই এলাকা ছাড়ছেন হাজারো মানুষ, হচ্ছেন শহরমুখী। তলিয়ে গেছে স্বপ্নের ফসল, মরে গেছে হাওরের মাছ। হঠাৎ প্রকৃতির এমন বিরূপ আচরণে স্বপ্ন ভেঙেছে হাজারো হাওরবাসীর।প্রাকৃতিক কারণেই সুনামগঞ্জের হাওর এলাকা বছরের প্রায় ৬ মাস জলমগ্ন থাকে। সেসময় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন এসব এলাকার মানুষ। বাকিটা সময় বোরোর আবাদ করেন তারা। কিন্তু আগাম বন্যায় ফসল হারিয়ে নিঃস্ব এসব মানুষ। সেই সঙ্গে মরে গেছে মাছ। মৎসজীবীরা জাল ফেলে কাঙ্খিত মাছও পাচ্ছেন না। খাদ্য সংকট দিন দিন  তীব্র হচ্ছে। নেই কোনো কাজ।  কাজহীন এসব মানুষের দিন কাটছে চরম হতাশা আর শঙ্কায়। জীবিকার তাগিদে অনেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে এলাকা ছাড়ছেন। আবার কোনো কোনো পরিবারের শুধুমাত্র পুরুষরাই যাচ্ছেন। গ্রাম হয়ে পড়ছে পুরুষ শূন্য। তবে হাওর এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ইজিপি প্রজেক্টের আওতায় ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।এছাড়া আগামী বোরো মৌসুমের আগ পর্যন্ত কৃষকদের সব ধরণের সহায়তার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।  

আগামীকাল সুনামগঞ্জ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

অকাল বন্যায় হাওরাঞ্চলের ক্ষয়ক্ষতি দেখতে আগামীকাল সুনামগঞ্জ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হাওর এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে মাথাপিছু ৩০ কেজি চাল ও মাসে নগদ ৫শ’ টাকা সহায়তা কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর আগমনে নতুন করে আশার আলো দেখছেন হাওর এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা। সম্প্রতি অতিবৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে নষ্ট হয়ে গেছে দেশের প্রায় সব হাওরের বোরো ধান। ফসল হারিয়ে ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন হাওরাঞ্চলের মানুষ।শুধু সুনামগঞ্জেই নষ্ট হয়েছে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬শ’ ১২ হেক্টর জমির ফসল।এ’ অবস্থায় হাওরাঞ্চল পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে উদ্দীপ্ত হাওরবাসী। আবার ফসল না ওঠা পর্যন্ত সরকারি আর্থিক প্রণোদনা, সুদ বিহীন কৃষি ঋণ প্রদানসহ সব রকম সহায়তার প্রত্যাশায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও মনে করেন, দুর্গতদের সহায়তায় সবরকম ব্যবস্থা নেবেন প্রধানমন্ত্রী। জেলা প্রশাসক জানালেন, সুনামগঞ্জ জেলায় এরিমধ্যে ৬২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা এবং এক হাজার ২শ’ ৭০ মেট্রিক টন চাল দেয়া হয়েছে। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য মাথাপিছু ৩০ কেজি চাল ও নগদ ৫শ’ টাকা সহায়তা কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে শাল্লা উপজেলা সদর ও আশপাশের এলাকায় নেয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।প্রধানমন্ত্রী সফর করায় নতুন করে আশার প্রহর গুণছেন হাওরাঞ্চলের কৃষকেরা। https://youtu.be/zhqrQKEFOjk

আগামীকাল সুনামগঞ্জ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

অকাল বন্যায় হাওরাঞ্চলের ক্ষয়ক্ষতি দেখতে আগামীকাল সুনামগঞ্জ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হাওর এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে মাথাপিছু ৩০ কেজি চাল ও মাসে নগদ ৫শ’ টাকা সহায়তা কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর আগমনে নতুন করে আশার আলো দেখছেন হাওর এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা। সম্প্রতি অতিবৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে নষ্ট হয়ে গেছে দেশের প্রায় সব হাওরের বোরো ধান। ফসল হারিয়ে ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন হাওরাঞ্চলের মানুষ।শুধু সুনামগঞ্জেই নষ্ট হয়েছে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬শ’ ১২ হেক্টর জমির ফসল।এ’ অবস্থায় হাওরাঞ্চল পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে উদ্দীপ্ত হাওরবাসী। আবার ফসল না ওঠা পর্যন্ত সরকারি আর্থিক প্রণোদনা, সুদ বিহীন কৃষি ঋণ প্রদানসহ সব রকম সহায়তার প্রত্যাশায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও মনে করেন, দুর্গতদের সহায়তায় সবরকম ব্যবস্থা নেবেন প্রধানমন্ত্রী। জেলা প্রশাসক জানালেন, সুনামগঞ্জ জেলায় এরিমধ্যে ৬২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা এবং এক হাজার ২শ’ ৭০ মেট্রিক টন চাল দেয়া হয়েছে। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য মাথাপিছু ৩০ কেজি চাল ও নগদ ৫শ’ টাকা সহায়তা কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে শাল্লা উপজেলা সদর ও আশপাশের এলাকায় নেয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।প্রধানমন্ত্রী সফর করায় নতুন করে আশার প্রহর গুণছেন হাওরাঞ্চলের কৃষকেরা। https://youtu.be/zhqrQKEFOjk

সিলেট সংস্কৃতি ভান্ডারে বড় অংশজুড়ে ‘ধামাইল গান’

সিলেট অঞ্চলের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ভান্ডারে বড় অংশজুড়ে ‘ধামাইল গান’। গ্রামীণ কিংবা হাওর জনপদের নারীদের বিনোদনের এ মাধ্যম দিন দিন নগরজীবনেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এতদিন ধামাইল গানের কলি মুখে মুখে ফিরলেও, সম্প্রতি এ নিয়ে শুরু হয়েছে গবেষণা ও গান সংরক্ষণ। ধামাইল গান ও নাচ সিলেটের প্রচলিত কাহিনীমুলক নাচ, যা এই অঞ্চলের লোকসংস্কৃতির অংশও। ময়মনসিংহ জেলার কিছু এলাকা এবং ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, শিলচরে ধামাইলের প্রচলন রয়েছে। যে কোন মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানে সব ধর্মের মানুষেরা এই গান ও নাচ পরিবেশন করেন। ধামাইল গানের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে বেশ কয়েকবার ‘ধামালী’ শব্দটির ব্যবহার হয়েছে। আবার মধ্যযুগের বিভিন্ন লোক কাব্যে ধামালী সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যায়। হাওর ও গ্রামীণ জনপদে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ধামাইল গান সংরক্ষণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন ভাটি অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষ। দীর্ঘ দিন পর ধামাইল গান ও নাচ নিয়ে গবেষণা শুরু হয়েছে সিলেটে। এরিমধ্যে লোক সঙ্গীত শিল্পী রাধা রমন, প্রতাপ রঞ্জন তালুকদারসহ অনেক শিল্পীর প্রায় এক হাজার গান সংরক্ষণ করা হয়েছে।সময় পরিক্রমায় সিলেটের ধামাইল বিশে^র যে প্রান্তে এ অঞ্চলের স্থানীয়রা রয়েছেন সেখানেই জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ধামাইল সংরক্ষণে সরকারী উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।  

হবিগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি

হবিগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। গেলো ৪৮ ঘন্টায় জেলার খোয়াই, কুশিয়ারা, কালনী নদীর পানি বেড়ে বাঁধ উপচে ঢুকে পড়ায় তলিয়ে গেছে ৫৫ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান। ফসলের এমন ক্ষতিতে দিশেহারা কৃষক। এদিকে নেত্রকোণায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।  চলতি মাসের শুরুর দিকে হওয়া বৃষ্টিতে হবিগঞ্জের হাওড় এলাকার আবাদ করা মোট ১ লাখ হেক্টর ফসলের প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। বাকি জমি কিছুটা রক্ষা পেলেও গেলো ৪ দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সব শেষ।বৃষ্টিতে জেলার প্রায় ৫৫ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান নষ্ট হয়েছে। নদীগুলোর পানি অব্যাহতভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হয়েছে বানিয়াচং, লাখাই ও আজমিরীগঞ্জের ফসল। কোন উপায় না পেয়ে যেটুকু পারছেন কাঁচা ও আধাপাকা ধান কাটছেন কৃষক।শুধু লাখাই উপজেলাতেই প্রায় ১৬ হাজার কৃষি-পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।এদিকে আগাম বন্যায় নেত্রকোনার হাওড়াঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রতিমাসে চাল, আটা, তেলসহ নগদ টাকা সহায়তা দেয়ার কথা জানিয়েছেন দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। মঙ্গলবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের কথা রয়েছে তার। দেখুন ভিডিও সংবাদ  

হাওরের পানিতে ইউরেনিয়ামের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি

সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের হাওরের পানিতে ইউরেনিয়ামের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পরমানু শক্তি কমিশনের গবেষক দল। ঘটনাস্থলে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তারা এ তথ্য জানালেন। তবে পরমাণু গবেষণা ইন্সস্টিটিউটে পরীক্ষার পর আরো নিশ্চিত হওয়া যাবে বলেও জানান গবেষক দলের সদস্যরা। র্বষা মৌসুমের অনেক আগেই এবার পাহাড়ি ঢলে হাওরে পানি বেড়ে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল ডুবে যায়। পঁচে যায় বোরো ধান। এরপর থেকে হাওরাঞ্চলে মাছ মরে ভেসে উঠছে। হাঁসসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী মরে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ঢলের পানিতে বাইরে থেকে কোনও দূষণ এসে মিশছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। একাধিক বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পানি পরীক্ষা করেন। পাহাড়ি ঢলের পানি হাওরে এসে মিশলেও তেজস্ক্রিয় পদার্থের অস্বাভাবিক উপস্থিতি ধরা পড়েনি বলে জানিয়েছেন পরমানু শক্তি কমিশনের বিশেষজ্ঞরা। রোববার সকালে সুনামগঞ্জের পাঁচটি হাওর ও একটি নদীর পানি, মরা মাছ ও মাটি পরীক্ষার পর তারা এই তথ্য জানান। তিনি জানান, হাওর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরমাণু গবেষণা ইন্সস্টিটিউটের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। সেখানে নিবিড় পরীক্ষার পরই আরো নিশ্চিত হওয়া যাবে।এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগও সুনামগঞ্জে হাওরের পানি পরীক্ষা করে ইউরেনিয়ামের উপস্থিতির বিষয়টিকে গুজব হিসেবে উল্লেখ করে। মৌলভীবাজারেও শনিবার হাকালুকি হাওরের পানি পরীক্ষার পর রাসায়নিক গুণাগুণের পরিমাপ সন্তোষজনক বলে জানান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আ ক ম শফিকুজ্জামান।  

হবিগঞ্জে টানা বর্ষণে তলিয়ে গেছে ৩৫ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল

দ্বিতীয় দফায় টানা বর্ষণে হবিগঞ্জে তলিয়ে গেছে ৩৫ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল। পানির নিচে থাকার কারণে কাচা ও আধাপাকা ধানে পচন ধরছে। এ অবস্থায় কৃষকরা আধাপাকা ধান কেটে নিতে শুরু করেছেন। কষ্টের ফসল হারিয়ে সর্বশান্ত তারা। চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছিল। চৈত্রের শেষে প্রবল বর্ষণে আর উজান থেকে নেমে আসে পাহাড়ি ঢলে দেখা দেয় অকাল বন্যা।মাঝে কয়েকদিন বৃষ্টি না থাকায় আশার সঞ্চার হয়েছিল কৃষকদের মনে। কিন্তু গত দু’দিনের টানা বর্ষণে আবারও তলিয়ে গেছে হবিগঞ্জের গুঙ্গিয়াজুরি, গণকি, ভরগাও হাওর, কালুয়ার বিল, খাগাউড়া হাওরসহ ৩৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল। পানি বাড়তে থাকায় কৃষকরা জমি থেকে আধাপাকা ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় ধান কেটে ফেলার পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।সরকারি সহযোগিতা পেলে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন- এমনটাই প্রত্যাশা এ অঞ্চলের কৃষকদের।  

মাছে মড়ক আর পানি দূষণের কারণ অনুসন্ধানে নেমেছে বিশেষজ্ঞরা

সুনামগঞ্জে হাওরগুলোতে মাছে মড়ক আর পানি দূষণের কারণ অনুসন্ধানে নেমেছে বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, পানিতে অক্সিজেনের পরিমান কমে যাওয়ায় এমন সমস্যা হতে পারে। এদিকে, অকাল বন্যায় ফসল হারিয়ে, মাছের মড়কে আগামী দিনগুলো দিয়ে উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় কৃষক ও জেলেরা। অকাল বন্যায় বাধ ভেঙ্গে তলিয়ে যায় হাওরের কাঁচা ধান। পচে দূষিত করে হাওরের পানি। মাছে দেখা দেয় মড়ক।হাওরে মাছের মহামারি আর পানি দূষণের কারণ জানতে কাজ শুরু করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের বিশেষজ্ঞরা। ঘটনাস্থলে গিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছেন, পানি, মরা মাছ, জলজ জীব ও উদ্ভিদ। তারা বলছেন, উদ্বিগ্ন হবার কারণ নেই। হাওরের পানি ও মাছ পরীক্ষা করে দেখছেন মন্ত্রণালয় এবং সরকারি ৩টি সংস্থার বিজ্ঞানীরাও। তাদের পরামর্শ আপাতত মাছ ধরা বন্ধ রাখা।এদিকে, ২০ টি হাওরে মড়কে এরিমধ্যে মারা গেছে ৪৪ টন মাছ মারা গেছে। এতে উদ্বিগ্ন জেলে সম্প্রদায়। ফসল হারিয়ে দিশেহারা প্রান্তিক কৃষক। জেলার মৎস্য অফিস বলছে, মাছ মরে যাওয়ার হার কমেছে। তালিকা করা হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্তদের।  

পঁচা পানিতে মরছে মাছ

অকাল বন্যায় সুনামগঞ্জে হাওরের ৯০ শতাংশ ফসল তলিয়ে যাওয়ার পর এখন পঁচা পানিতে মরছে মাছ। মৌলভীবাজারের ৩টি হাওরের একই দশা। প্রতিদিন মাছ মরে ভেসে উঠছে। ফসল পঁচে পানিতে অ্যামোনিয়া গ্যাস বেড়ে যাওয়ায় মাছ মরে যাচ্ছে বলে জানান মৎস্য কর্মকর্তারা। হাওরের পানিতে প্রতিদিন ভাসছে দেশীয় নানা প্রজাতির মরা মাছ।দু’সপ্তাহ আগে অতি বৃষ্টি আর উজানের পানিতে তলিয়ে যায় সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চেলের প্রায় ৯০ ভাগফসল। কাচা ধান পঁচে এখন দূষিত হাওরের পানি। মারা যাচ্ছে মাছ। মৎস্য বিভাগ বলছে জেলায় এ পর্যন্ত মরে যাওয়া মাছের পরিমাণ এক দশমিক এক শূন্য টন।বৃষ্টি আর উজানের পাহাড়ী ঢলে তলিয়ে যায় মৌলভীবাজারের হাকালুকি, হাইল ও কাউয়াদিঘি হাওরের ১০ হাজার হেক্টর বোরো ফসল। কৃষকের স্বপ্নের ফসল পঁচে তৈরি হচ্ছে বিষাক্ত গ্যাস। মারা যাচ্ছে মাছ।মৎস্য বিভাগের পরামর্শ মাছ ধরা বন্ধ রেখে পানিতে চুন ছড়ানোর।দেখুন ভিডিও

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি