ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ৭:৫৯:৪৯

শপথ নিলেন রসিক মেয়র মোস্তফা

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের (রসিক)নবনির্বাচিত মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা আজ বৃহস্পতিবার শপথ নিয়েছেন। সকালে তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত কাউন্সিলররাও শপথ গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের রংপুর সিটির উন্নয়নে কাজ করার নির্দেশ দেন। এ সময় সবার সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব পালন করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। উল্লেখ্য, গত ২১ ডিসেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। এর আগে রংপুর সিটির প্রথম নির্বাচন হয়েছিল ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর। ওই নির্বাচনে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে জয়ী হয়েছিলেন সরফুদ্দিন আহম্মেদ ঝন্টু। একে// এআর

রংপুরে এ মাসে আগুন পোহাতে গিয়ে ১৪ নারীর মৃত্যু

শীতে আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও চার নারী মারা গেছেন। সোমবার রংপুর বার্ন ইউনিটের একজন সহকারী পরিচালক এ তথ্য জানান। এ মাসেই আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ নিয়ে ১৪ জনের মৃত্যু হলো। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিন নারী এবং রোববার রাত ১০টার দিকে আরেক নারীর মৃত্যু হয়। তারা সবাই শীত নিবারণে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয়েছিলেন বলে জানান তিনি। এই মাসের শুরুতে আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে আরও সাতজন, শনিবার রাতে দুইজন এবং রোববার সকালে আরও এক নারীর মৃত্যু হয়ছিল। এর আগে মারা যাওয়া ১০ জন হলেন- রংপুর নগরীর নজিবের হাট এলাকার বেলাল হোসেনের স্ত্রী আফরোজা খাতুন, ঠাকুরগাঁও শহরের থানাপাড়ার আঁখি আক্তার (৪৫), রংপুরের জুম্মাপাড়া পাকারমাথার রুমা খাতুন (৬৫), কাউনিয়া উপজেলার গোলাপী বেগম (৩০), লালমনিরহাট সদরের শাম্মী আখতার (২৭), পাটগ্রাম উপজেলার ফাতেমা বেগম (৩২), আলো বেগম (২২), নীলফামারী সদরের রেহেনা বেগম (২৫), রংপুর সিটি করপোরেশেনের মাহিগঞ্জের চাঁন মিয়ার স্ত্রী মনি বেগম (২৫) এবং নীলফামারী সদরের সোনারমের আমজাদ হোসেনের স্ত্রী মারুফা খাতুন (৩০)। জানা যায়, তীব্র কুয়াশা ও শীতের কারণে তাপমাত্রা উত্তর অঞ্চলে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এই এলাকার মানুষ শীত নিবারণে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহায়। আর এতেই এসব দুর্ঘটনা ঘটছে। এসএইচ/

দেশের সর্বোচ্চ শীত দিনাজপুরে

তীব্র শীতে কাঁপছে উত্তরাঞ্চল। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা। উত্তরের জেলা দিনাজপুরে সবচেয়ে বেশি হাড় কাঁপানো শীত পড়ছে। তীব্র শীতে কাহিল হয়ে পড়ছেন এ অঞ্চলের মানুষ। আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে দিনাজপুরে। সেখানে চলছে ৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে এ জেলায় গতকাল সোমবার তাপমাত্রা ছিল ৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার জেলায় সূর্যের দেখা পেলেও ছিল হিমেল বাতাস।  যার কারণে শীতের তীব্রতা কমেনি। ফলে হতদরিদ্র ও ছিন্নমুল মানুষের বাড়ছে দুর্ভোগ। প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় কাজ করতে পারছেন না শ্রমজীবী মানুষজন। বিশেষ করে নির্মাণ ও কৃষি শ্রমিকরা পড়েছে চরম বিপাকে। জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম জানান, ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন ৭০ হাজার কম্বল বিতরণ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আরো ৮০ হাজার শীতবস্ত্র চেয়ে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়েছে।  এসি/ এআর

রংপুর সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে : ফখরুল

রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সবমিলিয়ে সুষ্ঠু হয়েছে বলে মন্তব্য করছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা অর্জনের মতো তেমন কিছু হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শুক্রবার দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের কালিবাড়ির নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ নির্বাচনে নিয়ম ভঙ্গ করেছেন বলে অভিযোগ করে। দেশের রাজনৈতিক সংকট মোকাবেলায় নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের বিকল্প নেই জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন কমিশনের গঠন প্রণালীই ভুল। যাদের প্রতি সকলের আস্থা আছে তাদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব করেছিলাম। নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক সংগঠন। কাউকে তুষ্ট করার প্রয়োজন তাদের নেই। তারা যখন যে দলের সঙ্গে কথা বলেছেন তখন তাকেই সন্তুষ্ট করেছেন। জোট সম্পের্কে বিএনপি মহাসচিব বলেন, জোটের উদ্যোগ আমরা সবসময় নিচ্ছি। আমরা সকলকে জোট করার আহ্বান জানাচ্ছি এবং নতুন একটি জোট তৈরি হয়েছে। জামায়াতের সঙ্গে আমাদের জোট ভেঙে যায়নি। নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেইং ফিল্ড না হলে আবারও সেই ২০১৪ এর মত জোর করে নির্বাচন হবে। জোর করে নির্বাচন চাপিয়ে দিলে জনগণ সে নির্বাচন মেনে নেবে না। রাজনৈতিক সংকট নিরসনও হবে না। এ সময় রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, আবুল কালাম আজাদসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।   আর

রংপুরের নতুন নগর পিতা মোস্তফা

রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) নতুন নগর পিতা হিসেবে নির্বাচিত হলেন মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। রসিক নির্বাচনে বিপুল ভোটে বেসরকারিভাবে জয়ী হন লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে নির্বাচন করা মোস্তাফিজার রহমান। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণের পর থেকেই শুরু হয় ভোট গণনার কাজ। শহরের পুলিশ লাইনে স্থাপিত অস্থায়ী নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে চলে ভোট গণনার কাজ। ১৯৩টি ভোট কেন্দ্রে মোস্তফা পেয়েছেন এক লাখ ৬০ হাজার ৪৮৯ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সরফুদ্দীন ঝন্টু পেয়েছেন ৬২ হাজার ৪০০। অপর দিকে বিএনপি প্রার্থী কাওসার জামান পেয়েছেন ৩৫ হাজার ১৩৬ভোট। তবে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার আগেই নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করেন কাওসার। কারচুপি’র অভিযোগে রাত ৯টার দিকেই নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। তবে নিজেদের হার বুঝতে পেরেই কাওসার কারচুপির অভিযোগ এনেছেন বলে মন্তব্য করেন মোস্তফা।

রসিকে জয়ের পথে মোস্তফা

রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনে জয়ের পথে রয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। রংপুর শহরের পুলিশ লাইন্সে স্থাপিত অস্থায়ী নির্বাচন কমিশন অফিসে বিকেল ৪টার পর থেকেই ভোট গণনা শুরু হয়। ১৯৩টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১০৬টি ভোট কেন্দ্রের ফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। ‘লাঙ্গল’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা মোস্তফা এখন পর্যন্ত ভোট পেয়েছেন ৯৯ হাজার ৭৬৫টি। তার নিকটবর্তী প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনিত ‘নৌকা’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু। তিনি পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৯৩২ ভোট। ‘ধানের শীষ’ নিয়ে নির্বাচন করা বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী কাওসার জামান পেয়েছেন ১৯ হাজার ৮৭৫ ভোট।

রংপুরে ইভিএম কেন্দ্রে এগিয়ে লাঙল

উৎসবমুখর পরিবেশে রংপুর সিটি কর্পোরেশন (রসিক) নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন চলছে ভোট গণনা। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীদের নির্বাচিত করতে ভোট দিয়েছেন। রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার জানান, ৩৩টি ওয়ার্ডের ১৯৩টি ভোট কেন্দ্রে এক হাজার ১২২টি বুথে ভোটগ্রহণ সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। নির্বাচনে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ ভোটগ্রহণ হতে পারে বলে আমাদের ধারণা। এবারের নির্বাচনে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। নির্বাচনের ১৯৩টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে নগরীর ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজ কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। ওই কেন্দ্রের দুই হাজার ৫৯ জন ভোটারের মধ্যে এক হাজার ২৫২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ওই কেন্দ্রের ফলাফলে দেখা গেছে, লাঙল প্রতীক ৬৭৪টি, নৌকা ৩৩৪টি এবং ধানের শীষ প্রতীক ১১৭টি ভোট পেয়েছে। এদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ছয়টি বুথে ইভিএম-এ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষামূলকভাবে নির্বাচন কমিশন রংপুরের ওই কেন্দ্রেই ইভিএম ব্যবহার করে। রসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আর

রংপুরে ভোট গণনা চলছে

উৎসবমুখর পরিবেশে রংপুর সিটি কর্পোরেশন (রসিক) নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন চলছে ভোট গণনা। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীদের নির্বাচিত করতে ভোট দিয়েছেন। রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার জানান, ৩৩টি ওয়ার্ডের ১৯৩টি ভোট কেন্দ্রে এক হাজার ১২২টি বুথে ভোটগ্রহণ সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। নির্বাচনে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ ভোটগ্রহণ হতে পারে বলে আমাদের ধারণা। এবারের নির্বাচনে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, এদিন পুরুষদের তুলনায় নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক বেশি। ভোটারের উপস্থিতি সকালের দিকে কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদে উপস্থিতিও বাড়তে থাকে। অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন ২৪ জন করে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্য। এছাড়াও ৩৩ জন নির্বাহী ও ১১ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। পাশাপাশি ৮ সদস্য বিশিষ্ট র‌্যাবের ৩৩টি দল ৩৩টি ওয়ার্ডে কার্যক্রম চালান। নির্বাচনে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ২১ প্লাটুন বিজিবি সকাল ৬টা থেকে মাঠে রয়েছেন। রংপুর সিটি কর্পোরেশনে বর্তমানে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৯৯৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩৫৬ ও মহিলা ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬৩৮ জন। সাতজন মেয়র প্রার্থীসহ সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২১১ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৬৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছিল রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচন। ওই সময় সরফুদ্দিন আহম্মেদ ঝন্টু মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে এক লাখ ছয় হাজার ২৫৫ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। নির্বাচনে এবার নৌকা প্রতীক নিয়ে সরফুদ্দিন আহম্মেদ ঝন্টু, লাঙল প্রতীক নিয়ে মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে কাওছার জামান বাবলা, এটিএম গোলাম মোস্তফা বাবু (হাতপাখা), সেলিম আখতার (আম), আব্দুল কুদ্দুস (মই), স্বতন্ত্র প্রার্থী এরশাদের ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ (হাতি)। এছাড়াও ৩৩টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২১১ এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৬৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।     আর

রংপুরের রোকেয়া কলেজ কেন্দ্রে ভোট ইভিএমে

রংপুর সিটি করপোরেশনের ভোট ২১ ডিসেম্বর। ভোটের দিন এ সিটির নিউ শালবন ও শালবন এলাকার দুই হাজার ৫৯ ভোটারের জন্য ১৪১ নম্বর কেন্দ্রটিতে ইভিএম ব্যবহার হবে বলে জানান ইসির আইসিটি অপারেশন্স অধিশাখার সিনিয়র মেনটেইনেন্স ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন। বুধবার তিনি বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশনের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের ১৪১ নম্বর কেন্দ্রের (সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজ) ছয়টি ভোটকক্ষে নতুন ইভিএমের মাধ্যমে ভোট নেওয়া হবে। ভোটের এক সপ্তাহ আগেই এ সিদ্ধান্ত জানাল নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি। ২০১০ সালে এটিএম শামসুল হুদা কমিশনের সময় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ইভিএমের যাত্রা শুরুর পর স্থানীয় সিটি ও পৌরসভায় তা ব্যবহার হয়ে আসছে। চট্টগ্রামে একটি ওয়ার্ডে ব্যবহারের সফলতায় পরে নায়ায়ণগঞ্জের কিছু ওয়ার্ডে, নরসিংদী পৌরসভা ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের পুরো নির্বাচন ইভিএমে করা হয়। ২০১২ সালে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ কমিশনের সময় কারিগরি ত্রুটির কারণে পরবর্তীতে থমকে যায় এ প্রযুক্তি। ওই সময় রাজশাহী ও রংপুরে ছোট পরিসরে ইভিএম ব্যবহারেই ত্রুটি ধরা পড়ে। এ ধারাবাহিকতায় বুয়েট-ইসি দ্বন্দ্বে কমিশনের আইসিটি শাখা নতুন ইভিএম তৈরির উদ্যোগ নেয়। ভোট নিতে নতুন ইভিএমে বায়োমেট্রিক পদ্ধতির সহায়তা নেওয়া হবে। এ পদ্ধতিতে আঙুলের ছাপ ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দিয়ে ভোটার পরিচিতি নিশ্চিত করা হবে।এর আগে রংপুর সিটির ভোটে ইভিএম ব্যবহারের কথা জানিয়ে সিইসি কে এম নুরুল হুদা বলেছিলেন, আমরা চেষ্টা করব ইভিএম ব্যবহারের। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে সীমিত আকারে ইভিএম ব্যবহার করব। নতুন মেশিন ব্যবহার হবে। নতুন ইভিএমে ভোট দেওয়ার বিষয়ে ভোটার সচেতনতা, প্রচারের ভিডিও চিত্র প্রস্তুতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও বলা হয়েছে। এ কাজে প্রায় আড়াই লাখ টাকাও ব্যয় করছে ইসি। ইসি কর্মকর্তারা জানান, গেল বছর ইসি নিজেদের উদ্যোগে ইভিএম বানানোয় হাত দেয়। কে এম নুরুল হুদা কমিশন আসার পর গত মে মাসে তার পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়। রংপুর সিটিতে ইসির তৈরি যন্ত্রটির প্রথম পরীক্ষামূলক ব্যবহার হচ্ছে। তবে এই ক্ষেত্রে আঙুলের ছাপ নেওয়ার বিষয়ে শিথিলতা থাকতে পারে। মাঠ পর্যায়ের সুবিধা-অসুবিধাগুলোই এবার শনাক্ত করা হবে। বেগম রোকেয়া কলেজ কেন্দ্রের মোট ২০৫৯ জন ভোটারের মধ্যে নিউ শালবন এলাকার ১৬১৫ জন ও শালবন এলাকার ৪৪৪ জন ভোটার রয়েছেন। নতুন ইভিএমে তাদের সবার ভোট সুষ্ঠুভাবে নিতে ২১ ডিসেম্বরের আগে কেন্দ্রটিতে পাঁচদিন ভোটের মহড়া চলবে। তিনি জানান, এ নির্বাচনের তিনটি কেন্দ্রে সিসি টিভি ক্যামেরাও স্থাপন করা হবে। এসব কেন্দ্রের সার্বিক পরিবেশ কমিশন ঢাকায় বসে পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনার মধ্যে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সীমিত আকারে পরীক্ষামূলকভাবে এ প্রযুক্তিটি ফের চালু হচ্ছে। দলীয় প্রতীকে রংপুর সিটির ভোটে অংশ নিচ্ছে সংসদের বাইরে থাকা বিএনপিও। তবে বরাবরের মতো ইভিএমের বিরোধিতা রয়েছে দলটির। স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবহার হলেও একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহারের প্রস্তুতি ইসির নেই বলে ইতোমধ্যে জানিয়েছেন সিইসি কে এম নূরুল হুদা। এসএইচ/

পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে রংপুরে

রংপুরে বাড়ছে ভ্রমণ পিপাসু মানুষের ভিড়। এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণ পিপাসুরা আসেন। সুপ্রাচীনকাল থেকেই উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী জনপদ রংপুরের রয়েছে গৌরবময় ও বৈচিত্র পূর্ণইতিহাস। রংপুরের মধ্যদিয়ে বয়ে চলেছে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ঘাগট,যমুনা, ধরলা প্রভৃতি নদ-নদী। রংপুর জেলায় ভ্রমণের জন্য উল্লেখযোগ্য স্থান ভিন্নজগৎ, হাতীবান্ধা মাজারশরীফ, তাজহাট জমিদারবাড়ি, কেরামতিয়া মসজিদ  ওমাজার, চিকলির বিল, টাউনহল, শ্বাশতবাংলা (মুক্তিযুদ্ধজাদুঘর)  ,রংপুরচিড়িয়াখানা ,মিঠাপুকুর তিনকাতারের মসজিদ, ইটাকুমারী জমিদারবাড়ি, রংপুর কারমাইকেল কলেজ ,দেওয়ানবাড়ির জমিদারবাড়ি, বেগমরোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র, ঝাড়বিশলা (কবিহেয়াতমামুদেরসমাধি) , আনন্দনগর, প্রভৃতি। হাতীবান্ধা মাজার শরীফ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন, বাস, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, রিকশা, অটো রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে প্রচুর মানুষ বেড়াতে আসেন। মাজারশরীফটিতে বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যও বিভিন্ন ধরনের মানত করতে সারাদেশ থেকেমানুষ আসে। সবচেয়ে বেশিভীড় দেখা যায় শুক্রবারে । মাজারে রয়েছে অনেক বড় একটি পুকুর। তাজহাট জমিদারবাড়ি তাজহাট জমিদার বাড়িতে রয়েছে বিশাল আকারের চারটি পুকুর। প্রধান প্রাসাদটির ২য় তলায় ওঠা- নামার জন্য গ্যালারির মতো একটি বিরাট সিঁড়ি রয়েছে। জমিদারবাড়ির দ্বিতীয়তলায় উঠানামা করার জন্যে তিনটি অভিগমন পথ রয়েছে । তিনটি অভিগমন পথের মধ্যে মাঝখানটি তুলনামূলকভাবে প্রশস্ত ।অভিগমন পথের ধাপ গুলো সাদা ও ছাই রংয়ের পাথর দ্বারা মোড়ানো । ছাদনির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে বড় বড় লোহার বীম ও লোহার ফালি। কক্ষের দরজাগুলি ও বিশালাকার ।জমিদারবাড়ির মধ্যভাগে প্রবেশপথ ও বর্হিগমন পথ রয়েছে । প্রাসাদের দ্বিতীয় তলায় উঠানামার জন্য লৌহনির্মিত নকশাকরা কাঠেরসিঁড়ি ও রয়েছে, সিঁড়ির রেলিং গুলি ও লোহার নকশা করা – যা দেখতে ফুল গাছের মতো। সিঁড়িটির ভূমি থেকে ভবনের ছাদ পর্যন্ত সাদা-কালো পাথরে মোড়ানো। কেরামতিয়া মসজিদ ও মাজার মসজিদটিতে রয়েছে তিনটি গোলাকার সুউচ্চ গম্বুজ । মসজিদটির প্রতিটি কোণে অষ্টভূজাকৃতি স্তম্ভ রয়েছে, যার শীর্ষদেশে শোভা পাচ্ছে কিউপলা ।মসজিদের দেয়ালে ও মসজিদের ছাদের কিণারায় মারলন অলংকরণ দেখাযায়। চিকলিরবিল এবং চিকলী পার্ক রংপুর শহরের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে চিকলিরবিল । বিভিন্নরকমের পাখির কলকাকলিতে মুখরিত থাকে চিকলিরবিল। চিকলীবিল ঘেষে গড়ে উঠেছে চিকলী পার্ক, সেখানে রয়েছে সব বয়সের মানুষের বিনোদনের ব্যাবস্থা। টাউনহল রংপুর টাউনহল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র, সংস্কৃতি ও মুক্তবুদ্ধিচর্চারপ্রাণ কেন্দ্র, বহুসামাজিক, রাজনৈতিক সংস্কৃতিক কর্ম কান্ডের সাক্ষী। শুধু চিত্ত বিনোদন কিংবা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সূতিকাগার নয় ; বেদনা ও কষ্টের স্মৃতিধারণ করে আজ ও দাঁড়িয়ে আছে রংপুর টাউন হল । মুক্তিযুদ্ধের সময় এই টাউন হলকে পাকহানাদার বাহিনী `নারীনির্যাতন` কেন্দ্র বানিয়েছিল।  শাশ্বত বাংলা (মুক্তিযুদ্ধজাদুঘর) দেশের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত মূল্যবান নিদর্শন ও স্মারকচিহ্ন সমূহ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের জন্য বিভিন্নস্থানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর গড়ে তোলা হয়েছে । তারই ধারাবাহিকতায় রংপুরে ও গড়েতোলা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর "শাশ্বত বাংলা"। জাদুঘরটিতে মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত অস্ত্র,  মানচিত্র ,আলোকচিত্র,  সেসময় প্রকাশিত বিভিন্ন ধরনের পোস্টার ,পত্র-পত্রিকা, পুস্তক ও অন্যান্য দস্তাবেজ রয়েছে। রংপুর চিড়িয়াখানা রংপুর চিড়িয়াখানায় রয়েছে বিনোদন উদ্যান, বিভিন্ন প্রজাতির জীবজন্তু ও পশু পাখি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, সিংহ  ,রয়েল বেঙ্গল টাইগার ,চিতাবাঘ , জলহস্তী,  ভালুক, বানর, বেবুন, হায়েনা, হরিণ, ময়না ,টিয়া ,ঈগল, শকুন, সারস , বক, ঘড়িয়াল, অজগর সাপ প্রভৃতি । এছাড়া রয়েছে বিভিন্ন বনজ, ফলজ এবং ঔষুধি গাছ ।আরো রয়েছে লেক ও শিশুপার্ক। মিঠাপুকুর তিনকাতারের মসজিদ মসজিদটিতে রয়েছে প্রবেশ তোরণ। মসজিদের চারকোণায় রয়েছে চারটি টাওয়ার। এছাড়া মসজিদের উপরে রয়েছে অর্ধগোলাকার তিনটি গম্বুজ। মসজিদে মোট পাঁচটি প্রবেশ পথ রয়েছে ।মসজিদের সামনের দেওয়ালের শিলালিপি থেকে জানা যায়, জনৈক শেখ মোহাম্মদ সাবেরের পুত্র শেখ মোহাম্মদ আছের কর্তৃক ১২২৬ হিজরীতে (১৮১০খ্রি.) মসজিদটি নির্মাণ হয়েছিল। ইটাকুমারী জমিদারবাড়ি অতীতঐতিহ্য-ইতিহাস সমৃদ্ধ বাংলাদেশের জনপদগুলোর মধ্যে অন্যতম জনপদ রংপুর। ইটাকুমারী জমিদারবাড়িটির অধিকাংশ ভবনই আজধ্বংস হয়ে গেছে। রয়েছে একটি ইঁদারাও দুটি ভবন। সাক্ষি হয়ে অবস্থান করছে বিশালাকার পুকুরদুটি ও। রংপুর কারমাইকেল কলেজ প্রায়৯শ’ বিঘা জমি জুড়ে অবস্থিত রংপুর কারমাইকেল কলেজটির মূল ইমারত ভবনটি। এর গম্বুজের অনন্য ব্যবহার,  বিভিন্ন স্থাপত্যিক সৌন্দর্য ও বৈশিষ্টাবলীর চমৎকার সন্নিবেশ-যা স্বভাবতই দর্শক সাধারণের মন কেড়ে নেয়। দেওয়ান বাড়ির জমিদারবাড়ি দেওয়ানবাড়ির জমিদারবাড়িতে ছোট্ট একটি ভবন রয়েছে ।প্রবেশ তোরণটি মোঘল আমলের দুর্গের দুয়ারের মতো। প্রবেশ তোরণটির দুপাশে রয়েছে দ্বাররক্ষীদের কক্ষ। জমিদার প্রথাবিলুপ্ত হওয়ার পরবাড়িটি নিলাম হয়ে যায়। বর্তমানে সেখানে স্কুলও কয়েকটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র স্মৃতি কেন্দ্রটিতে রয়েছে দশহাজার গ্রন্থ ধারণ করার মতোগ্র ন্ধাগার।গ্র ন্ধাগারে এক সঙ্গে ৫০ জন পাঠ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে ।আরো রয়েছে শব্দ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাসহ ২৫০ আসনের মিলনায়তন। সেমিনার কক্ষে রয়েছে একশত আসনের ব্যবস্থা। বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রটি বেগম রোকেয়ার নিজবাড়ির পাশে ৩.১৫ একর ভূমিতে গড়ে তোলা হয়েছে। মূল ভবনটির আয়তন ১,৪৭,০১০বর্গফুট। ভিন্নজগৎ ভিন্ন জগতের ভিতরে যেন আরেকটি ভিন্ন জগৎ। এখানে রয়েছে প্লানেটোরিয়াম, রোবট স্ক্রিল জোন,  জল তরঙ্গ,  সিপ্যারাডাইস,  স্পেসজার্নি,  আজবগুহা,  নৌকাভ্রমণ,  শাপলাচত্বর, বীরশ্রেষ্ঠ এবং ভাষা সৈনিকদের ভাস্কর্য,  থ্রিডিমুভি , ওয়াকওয়ে,  ফ্লাই হেলিকপ্টার,  মেরিলেক ড্রাইভ, গোরাউন্ড,  সুইমিং পুল স্পিনিং হেড ও মাছ ধরার সুব্যবস্থা । নৌ ভ্রমণের সুবিধা,  হাতি,  ঘোড়া, ক্যাঙ্গারুসহ বিভিন্ন ধরনের মূর্তি ও রয়েছে।  বিভিন্ন প্রজাতির গাছে গাছে বাসা বেঁধেছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। থাকতে চাইলে কটেজ রয়েছে ৭টি, আপনি আপনার পছন্দেরটিতে উঠে যেতে পারেন। আরো রয়েছে থ্রিস্টার মডেলের ড্রিম প্যালেস ।ভিন্ন জগতের প্রবেশ মূল্য ২০টাকা এবং সেখানে যে কোনো রাইড৫০টাকার মধ্যেই। রংপুর যেভাবে যাবেন সড়ক পথ, রেলপথ এবং আকাশ পথেও যাওয়া যায় রংপুরে। সড়ক পথে যাতায়াতের জন্য ঢাকার গাবতলী, কল্যাণপুর এবং মহাখালি বাস টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন পরিবহনের বাস রংপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।সড়ক পথে প্রত্যেক দিন প্রায় ঢাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে বাস রংপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেলেও রেলপথে কিন্তু সপ্তাহে ছয়দিন নিদির্ষ্ট সময়ে রংপুর এক্সপ্রেসে যেতে হবে। আর আকাশ পথে যেতে হলে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজে ঢাকা থেকেসৈয়দপুর হয়ে রংপুর যেতে পারেন। সপ্তাহে দুটি ফ্লাইট ঢাকা থেকে সৈয়দপুর যাতায়ত করে।   /ডিডি/

রসিক নির্বাচনে প্রতীক নিচ্ছেন প্রার্থীরা

রংপুর সিটি কর্পোরেশন (রসিক) নির্বাচনে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত শেষে আজ সোমবার প্রতীক বরাদ্দ পাচ্ছেন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা। সকাল ৯টা থেকে কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ শুরু হয়। প্রতীক পাওয়ার পর প্রার্থীরা  মিছিল নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অফিসে থেকে ফিরে যাচ্ছেন। প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করছেন  রংপুর নির্বাচন অফিসের আঞ্চলিক কার্যালয়ে রিটার্নিং অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসার সুভাষ চন্দ্র সরকার। প্রতীক পেয়েই প্রচারণায় নেমে পড়েছে প্রার্থীরা। সূত্র জানিয়েছে, দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুপুর ৩ টার পর মেয়র প্রার্থীদের প্রতীক দেওয়া শুরু হয়েছে। সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রতীক পাওয়ার পর জানিয়েছেন, এলাকার জনগণের সেবা করতে এবং এলাকার ড্রেন, রাস্তাঘাট,  কালভার্টসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ করতে চান তারা। একই সঙ্গে নিজেদের ওয়ার্ডকে মাদকমুক্ত এবং সন্ত্রাসমুক্ত করার জন্য কাজ করার অঙ্গীকার নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন তারা। আগামী ২১ ডিসেম্বর রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মেয়র পদে ৭ জনসহ সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২১১ ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৬৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।  একে// এআর

রংপুর সিটি নির্বাচন: প্রচার শুরু হচ্ছে আজ

প্রতীক বরাদ্দের পরই প্রচারণায় নামতে যাচ্ছেন রংপুর সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা। আজ সোমবার নির্বাচন কমিশন থেকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার কথা রয়েছে। এর পর থেকেই প্রচারণায় নামতে পারবেন তারা। সিটি করপোরেশনে  ৭ মেয়র প্রার্থীসহ মোট ২৮৩ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বলে জানা গেছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, গতকাল রোববার ছিল প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন । নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে গতকাল জানানো হয়েছে, এই সিটি করপোরেশনে মোট ৭ মেয়র প্রার্থীসহ মোট ২৮৩ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মেয়র প্রার্থীরা হলেন—আওয়ামী লীগ মনোনীত শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু, বিএনপির কাওছার জামান বাবলা, জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, স্বতন্ত্র প্রার্থী (জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী) জাপা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রার্থী সেলিম আখতার, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) আবদুল কুদ্দুস ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের এ টি এম গোলাম মোস্তফা। এ ছাড়া ৩৩টি সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২১১ জন এবং ১১টি সংরক্ষিত নারী পদে ৬৫ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। গত ৫ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে. এম. নুরুল হুদা এক সংবাদ সম্মেলনে রংপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেন। তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ধার্য করা ছিল ২২ নভেম্বর এবং মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয় ২৫ ও ২৬ নভেম্বর। এর আগে ২০১২ সালে  রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু। এমজে/এআর

পাখি শিকার : চেয়ারম্যানের ছুঁড়া গুলি কৃষকের চোখে

পাখি শিকার করতে গিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের ছুঁড়া গুলিতে আহত হয়েছেন দুলাল চন্দ্র রায় (২৬) নামের এক কৃষক। শনিবার দুপুরে নীলফামারীর জলঢাকায় উপজেলার গোলনা ইউনিয়নের দলবাড়ি বিলে এ ঘটনা ঘটে। আহত কৃষক দুলাল চন্দ্রকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি উপজেলার গোলনা ইউনিয়নের তালুক গোলনা গ্রামের যতীন্দ্র নাথ রায়ের ছেলে। জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজার রহমান জানান, চেয়ারম্যানের ছুঁড়া গুলিতে দুলালের বাম চোখ আক্রান্ত। গুলিবিদ্ধ দুলালকে চেয়ারম্যান নিজেই উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। তবে এ বিষয়ে কাঁঠালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন তুহিনের সঙ্গে যোগযোগ করার চেষ্টা করার করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তুহিন উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক। জলঢাকা থানার এসআই আসলাম হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে চেয়ারম্যান তুহিনের ব্যবহৃত নম্বর প্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা জেছে, শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে দলবাড়ি বিলে বন্দুক দিয়ে পাখি শিকারে আসেন সোহরাব হোসেন তুহিন। বিলে একঝাঁক পাখিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকলে একটি গুলি পাশের জমিতে ধান কাটাতে থাকা কৃষক দুলালের বাম চোখে বিদ্ধ হয়। পরে চেয়ারম্যান তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।     আর/টিকে

ঘুরে আসতে পারেন গাইবান্ধার দর্শণীয় স্থানগুলো

গাইবান্ধায় ভ্রমণের অনেক জায়গা রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ,বালাসীঘাট, প্রাচীন মাস্তা মসজিদ, গাইবান্ধা পৌরপার্ক, বর্ধনকুঠি, এসকেএস ইন, ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার, মীরের বাগানের ঐতিহাসিক শাহসুলতান গাজীর মসজিদ এছাড়াও দেখে আসতে পারেন শিবরাম আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বামনডাঙ্গার জমিদার বাড়ি, রংপুর সুগার মিলস্ লিমিটেড প্রভৃতি। বালাসীঘাট যমুনার কোলঘেসে বাঁধটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে ধীরে ধীরে আকর্ষণীয় হয়ে উঠে। শুধু ছুটির দিনেই নয় প্রত্যেকদিনই এখানে ভ্রমণপিপাসুদের ভিড়। বন্ধুবান্ধর নিয়ে এখানে ঘুড়তে আসেন। আবার অনেকেই সপরিবারে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এখানেই কাটিয়ে দেন।  শুধু উৎসব কিংবা দিবস নয় সারাবছরই ভ্রমনপিপাসু মানুষের ভিড় লেগেই থাকে। নিজের পছন্দমেতো জায়গা থেকে দাড়িয়ে নদীর বুকে সুর্যাস্তের দৃর্শ উপভোগ করা যায়। শুধু জেলা শহর থেকে নয় সারা বাংলাদেশ থেকেই ভ্রমণপ্রিয় মানুষরা এখানে আসেন। বৃহত্তর ময়মনসিংহের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মধ্যে যাত্রী ও মালামাল পারাপারের জন্য ফেরি সার্ভিস চালু হয়। পরে ফেরিঘাটটি তিস্তামুখঘাট থেকে বালাসী ঘাটে স্থানান্তর করা হয়। যেভাবে যাবেন- প্রথমে বাস অথবা ট্রেনযোগে গাইবান্ধা জেলা শহরে আসতে হবে। গাইবান্ধা জেলা বাসস্ট্যান্ড হতে যাওয়ার উপায়- অটোরিক্সা, রিক্সা ও সিএনজি যোগে যাওয়া যায়। অটোরিক্সা ভাড়া-১৫০ টাকা, রিকসা ভাড়া- ৮০-১০০ টাকা। গাইবান্ধা পৌরপার্ক-   গাইবান্ধায় রয়েছে পৌরসভার অধীন পার্ক। পার্কের পুকুর পাড়ে রয়েছে সব বয়সের মানুষের জন্যই বিনোদনের ব্যবস্থা, সকাল থেকে সন্ধ্যা দর্শনার্থীদের ভিড় লেগেই থাকে। বিভিন্ন উৎসরের সময় দর্শনার্থীদের ভিড় সারা বছরের অন্যান্য দিনের চেয়ে আরও অনেকটাই বেড়ে যায়।           যেভাবে যাবেন- গাইবান্ধা জেলা বাসস্ট্যান্ড  থেকে রিকসা অথবা অটোরিকসা দিয়ে যেতে পারেন এ পৌরাপার্কে। বর্ধনকুঠি- গাইবান্ধার গোবিন্ধগঞ্জে কালের সাক্ষি হয়ে দাড়িয়ে আছে বিধ্বস্ত রাজবাড়িটি, রাজবাড়ির ভাঙা অংশ মনে করিয়ে দেয় তার প্রাচীন অবস্থার কথা। ভঙ্গুর দেওয়ালগুলি আপনাকে তার অতীতের কথাই মনে করিয়ে দিবে। যেভাবে যাবেন- গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ হতে অটো বা সিএনজিতে করে যেতে পারেন রাজবাড়িটিতে। এসকেএস ইন- গাইবান্ধা শহরের অদূরে রাঁধাকৃষ্ণপুর  (তিন গাছ তল) এক সুন্দর মনোরম পরিবেশ, নয়নাভিরাম সবুজের ওপর গড়ে উঠেছে এই রিসোর্ট। সুন্দর নাম বিশিষ্ট ছোট ছোট কটেজ, বিশাল অডিটরিয়াম, সুন্দর ঝর্ণা, গাইবান্ধায় প্রথম বারের মতো আধুনিক সুমিংপুল ও আশেপাশের সবুজ সমারোহ। যেভাবে যাবেন-  গাইবান্ধা থেকে রিকসা, অটোরিকসা খুব সহজেই যেতে পরেন। ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার- শুধু গাইবান্ধা কিংবা বাংলাদেশ নয় ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারটি অবাক করেছে সারা বিশ্বকে। ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কার্যালয়। ভবনটির ছাদ ভূমি সমতলে আর বাকি অংশটুকু মাটির নিচে অবস্থিত। ছাদটা যেন বিভিন্ন ধরনের ঘাষের মাঠ। স্থাপত্য শিল্পে এক অনবদ্য সৃষ্টিটি অবাক করেছে বিশ্বকে। ভবনটি দেখতে প্রতিদিনই হাজারো দর্শনার্থী ভিড় করে। ভবনটির ভিতরের সবকিছুও দৃষ্টিন্দন। যেভাবে যাবেন – গাইবান্ধা থেকে রিকসা, অটোরিকসা ও মোটরসাইকেল ভাড়া করে যেতে পারেন ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারে।  শিবরাম আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়- বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিবরাম আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নে ছাইতানতোলা গ্রামে অবস্থিত বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯১৬ সালে। পরে এটি জাতীয়করণ হয় ১৯৭৩ সালে। বিদ্যালয়টি মোট ২.২৮৫ একর জমির ওপর অবস্থিত। এখানে রয়েছে একটি পাঁচ তলা ভবন, দুটি দ্বিতল ভবন, পাঁচটি অর্ধ দালান। ভবনগুলোতে রয়েছে একটি প্রধান শিক্ষকের কক্ষ, একটি সহকারী শিক্ষকদের কক্ষ, ২২টি শ্রেণি কক্ষ, একটি সভা কক্ষ,একটি ক্লিনিক কক্ষ, একটি অতিথি কক্ষ, একটি উপকরণ কক্ষ, একটি ভৌগলিক কক্ষ, একটি কম্পিউটার কক্ষ, একটি বিজ্ঞানাগার, একটি ছাত্রাবাস ভোজনালয় প্রভৃতি। এছাড়া রয়েছে শিশুদের জন্য বিশাল মাঠ, শহীদ মিনার, মসজিদ, পোস্ট অফিস, সরকারি ক্লিনিক, মডেল চিড়িয়াখানা ইত্যাদি। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১০৫৩ জন শিক্ষার্থী, ১৫ জন সরকারি ও ৫৮ জন বেসরকারি শিক্ষক রয়েছে। বিদ্যালয় চত্তরে রয়েছে দীপশিখা নামের একটি ছাত্রাবাস। যেখানে ১২০ আবাসিক শিক্ষার্থী অবস্থান করছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা পরিদর্শনে আসে। যেভাবে যাবেন- গাইবান্দা সদর থেকে বাসে বা ট্রেন যোগে যেতে পারেন। প্রাচীন মাস্তা মসজিদ স্থাপত্যের এক অপার নিদর্শন মাস্তা মসজিদ। প্রাচীন এই মসজিদটির চার কোণে রয়েছে চারটি স্তম্ভ, একই আকারের তিনটি গম্বুজ  ও আছে, মসজিদটির তিনটি দরজা থাকলেও  কোন জানালা নেই । সব মিলিয়ে মসজিদটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৫ ফুট এবং প্রস্ত প্রায় ১৬ ফুট । মসজিদটিতে এখনো এলাকার লোকজন নামাজ আদায় করে। গাইবান্ধার গোপালগঞ্জের কামারদহ ইউনিয়নের  মাস্তা গ্রামের প্রাচীন লাল মসজিদটিই `মাস্তা  মসজিদ` নামে পরিচিত । যেভাবে যাবেন- গাইবান্ধা হতে গোবিন্দগঞ্জ সেখান থেকে কামারদহ ইউনিয়নের ফাঁসিতলা বাজার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার. উত্তরে মহাসড়কের পশ্চিম পার্শ্বে মাস্তা মসজিদ অবস্থিত। যে কোনো যানবাহন ব্যবহার করে মাস্তা মসজিদে যেতে পারেন। সবচেয়ে সহজে যেতে চাইলে সিএনজিতে যেতে পারেন। বামনডাঙ্গার জমিদার বাড়ি- সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গার সর্বানন্দ ইউনিয়নের রামভদ্র গ্রামের জমিদার বাড়ির ঐতিহাসিক নিদর্শন। উত্তর জনপদের বামনডাঙ্গার এ অঞ্চলে এই জমিদারদের গোড়াপত্তন কবে হয়েছিল বা কে করেছেন সে সম্পর্কে সঠিক কোন তথ্য এখনও নির্ধারণ করা যায়নি। তবে কথিত আছে যে, পঞ্চদশ শতকের কোন এক সময়ে সম্রাট আকবরের আমলে পরাজিত ও রাজ্যচ্যুত গৌড় বংশীয় ব্রাহ্মণ কৃষ্ণকান্ত রায় পালিয়ে এখানে আসেন এবং বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে তার আমলেই বামনডাঙ্গার এই জমিদারদের নামডাক ছড়িয়ে পড়ে। তাদের সময়ে এই এলাকার প্রজাদের মধ্যে সর্বত্র সুখ-শান্তি এবং আনন্দ বিরাজমান ছিল। এ ছাড়া জমিদাররা সুশীল এবং ভদ্র। এ কারণেই ওই এলাকার নাম হয়েছিল সর্বানন্দ। যেভাবে যাবেন- গাইবান্ধা থেকে ট্রেন বা বাসে যেতে পারেন।   এসএইচ/                          

নির্মল বিনোদনের খোঁজে নীলফামারী

শত ব্যস্ততার মাঝে, হাজারও কাজের ফাঁকে মানুষ চায় একটু প্রশান্তি, বিনোদন। মনে ছুটে যায় দূর-দূরান্তে। চোখ মেলে প্রকৃতিকে একটু দেখতে, চোখ জুড়াতে। অবসরে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন দেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকা। এদেশে ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য আদর্শ একটি স্থান হচ্ছে নীলফামারী। এ জেলার পর্যটন এলাকাগুলো সারা বছরই দর্শণার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকে। নীলফামাররীতে যে কয়েকটি পর্যটন এলাকা রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম দর্শনীয় স্থান চিনি মসজিদ, নীল সাগর, কুন্দ পুকুর মাজার, যাদুঘর , হরিশ্চন্দ্রের পাঠ, ভিমের মায়ের চুলা, নীল কুঠি , ধর্মপালের রাজবাড়ী প্রভৃতি।          নীলসাগর   নীল সাগর কোনো সাগর নয়; একটি দিঘির নাম। ১৯৮২ সালে এর নামকরণ করা হয় নীল সাগর। মৎস্য শিকারীদের জন্য আদর্শ জায়গা এই নীল সাগর। মাছ শিকারের জন্য টিকিটের মূল্য এক হাজার টাকা। নির্দিষ্ট সময় ১৪ এপ্রিল থেকে নভেম্বরে অতিথি পাখি আসার আগ পর্যন্ত এ সুযোগ পান তারা। বারুণী স্নান উৎসব দেখেতে যেতে পারেন নীলফামারীর নীল সাগরে। বৈশাখী পূর্নিমায় দিঘির পাড়ে অনুষ্ঠিত হয় হিন্দু সম্প্রদায়ের ‘বারুণী স্নান উৎসব’। নীলফামারীর নীল আর  সাগরের সাগর থেকেই নীল সগর নামের উৎপত্তি হয়েছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে। নীল সাগর নামের বিশাল দিঘিটি নীলফামারীর সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন স্থান। দিঘিটির জল ভাগের আয়তন প্রায় ৩৪ একর হলেও মোট আয়তন ৫৪ একর। জলের গভীরতা বেশিব ভাগ সময়ই সাত মিটার থেকে ১২ মিটার থাকে। দিঘিতে দুটি ঘাট রয়েছে । একটি ঘাট পূর্ব পাড়ে এবং অপর ঘাটটি রয়েছে পশ্চিম পাড়ে। ঘাট দুটিই ইটের তৈরি। দিঘির একপাশে হিন্দু সম্প্রদায়ের শিব মন্দির, অপর পাশে মুসিলিম সম্প্রদায়ের মুসলিম দরবেশের আস্তানা ছিল। দিঘির পাড়ে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। পাড়গুলি সমতল ভুমি থেকে একটু উচু, পাড়ে রয়েছে পর্যটকদের বসার জন্য অনেকগুলি স্থান। যেভাবে যাবেন নীলফামারী সদর থেকে বাসযোগে নীলসাগর যাওয়া যায়। নীলফামারীর গড়গ্রাম ইউনিয়নের ধোবাডাঙ্গা গ্রামে অবস্থিত নীলসাগর দিঘিটি । দিঘির পাড়ে পর্যটকদের থাকার জন্য রুম রয়েছে । রুম ভাড়া ২০০ থেকে ৪০০ টাকা। যাদুঘর প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন দেখতে যেতে পারেন নীলফামরী যাদুঘরে। নীলফামারীতে একটি যাদুঘরও রয়েছে। সারা বছরই হাজারো মানুষের ভিড় করে যাদুঘরে । ব্রিটিশ ও ভারত উপমহাদেশের বিভিন্ন প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন সেখানে যত্নসহকারে সংরক্ষণ করা হয়েছে। যেভাবে যাবেন নীলফামারী ডিসি অফিসের পুরাতন ভবনে অবস্থিত যাদুঘরটিতে রিক্সা / অটোরিক্ষা যোগে যাওয়া যায়। হরিশ্চন্দ্রের পাঠ হরিশচন্দ্রের পাঠ বা রাজবাড়ীটি পাথর খণ্ডে পরিপূর্ণ প্রাচীন ধ্বংসাবশেষের টিলা। চাড়াল কাটা নদীর তীরে প্রায় এক বিঘা জমির ওপর একটি উচু ঢিবি । ঢিবির ওপর পাঁচ খণ্ড বড় কার রংঙের পাথর রয়েছে। স্থানীয়রা বিশ্বাস করে ঢিবিটি মাটিতে ডুবে যায় আবার মাটির ওপরে উঠে আসে।   যেভাবে যাবেন হরিশচন্দ্রের পাঠ বা রাজবাড়ীটি নীলফামারীর জলঢাকা থানার খুটামার ইউনিয়নে অবস্থিত। নীলফামারী সদর থেকে সড়ক পথে খুটামারা হয়ে হরিশচন্দ্রের পাঠ বা রাজবাড়ীতে যাওয়া যায়। ভিমের মায়ের চুলা ভিমের মায়ের চুলা তিন দিকে উচু মাটির প্রাচীর বিষ্টেত স্থাপনা। প্রাচীরের তিনটি স্থান অপেক্ষাকৃত উচু। ভিমের মায়ের চুলার ভিতরের অংশ এবং বাহিরের অংশের তিন দিক পরিখা বেষ্টিত। যেভাবে যাবেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা কমপ্লেক্সের পাশেই রয়েছে ভিমের মায়ের চুলা। সড়ক পথে নীলফামারী থেকে কিশোরগঞ্জ উপজেলা হয়ে ভিমের মায়ের চুলা দেখতে যাওয়া যায়। নীল কুঠি নীল কুঠি শব্দটার আমরা শুনেছি। নীল কুঠি সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি, কিন্তু কখনও নীল কুঠি দেখা হয়নি, তাহলে যেতে পারেন নীলফামারীর নীল কুঠিতে। ব্রিটিশ আমলে নীল কুঠিয়ালদের কুঠি হিসেবে ব্যবহৃত নীল কুঠিটি এখন ব্যবহৃত হচ্ছে নীলফামারী অফিসার্স ক্লাব হিসেবে । যেভাবে যাবেন নীলফামারী শহর থেকে সড়কপথে খুব সহজেই যাওয়া যায় নীল কুঠি দেখতে। ধর্মপালের রাজবাড়ী ধর্মপালের গড়ের কাছাকাছি একটি মজা জলাশয় রয়েছে, জলাশয়ের পাড় বাধানো ঘাট এবং কয়েক ফুট উচু ঢিবি রয়েছে, এই ঢিবির ভিতরের প্রাচীরে ইট দেখেই ধারনা করা হয় এটি ধর্মপালের রাজবাড়ি। গড় ধর্মপালের কাছাকাছি নদীর তীরে ধর্মপালের রাজ প্রাসাদ ছিল। যেভাবে যাবেন নীলফামারী শহর থেকে সড়কপথে অল্প সময়ের মধ্যেই যাওয়া যায়  ধর্মপালের রাজবাড়ী। কুন্দ পুকুর মাজার   এখানে মসজিদ,  হেফজখানা এবং একটি বড় পুকুর রয়েছে। এখানে প্রতিবছরই বার্ষিক ওরশ হয়। ওরশের তারিখ ৫ মাঘ। সারাদেশ থেকেই অসংখ্য দর্শক এখানে আসেন। যেভাবে যাবেন কুন্দুপুর মাজারটি জেলা সদর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরত্বে নীলফামরী সদর থেকে কুন্দুপুর ইউনিয়নে কুন্দুপুর মাজার অবস্থিত। নীলফামারী থেকে সড়ক পথে খুব সহজেই কুন্দুপুকুর  মাজারে যাওয়া যায় । চিনি মসজিদ শতশত দক্ষ কারিগরের পরিশ্রম আর শিল্পীর একনিষ্ঠ শ্রমের দ্বারাই ১৮৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল চিনি মসজিদ। সুন্দর এ সমজিদটির গায়ে রয়েছে শংকর মর্মর পাথর। পাথরের সঙ্গে লাগানো হয়েছিল চীনা মাটির চুকড়ো যার ওজন প্রায় ২৫ টন। মসজিদের ২৭টি মিনারের মধ্যে পাঁচটি মিনার এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে। যেভাবে যাবেন নীলফামারী থেকে সজক পথে সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে নেমে রিক্সা যোগে যাওয়া যায় চিনি মসজিদ। সৈয়দপুর থেকে সড়ক পথেও চিনি মসজিদ যাওয়া যায়।   এসএইচ/ এআর        

৬ বিষয়ে প্রভাষক নিয়োগ দিবে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ

নতুন করে প্রভাষক নিয়োগ দেওয়ার জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটিতে ছয় বিষয়ে প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হবে। বিষয় ও পদ সংখ্যা: প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বাংলা-১, অর্থনীতি-১, রসায়ন-১, গণিত-১, জীববিজ্ঞান-১, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন-১জন করে প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হবে। যোগ্যতা: সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ন্যূনতম দ্বিতীয় শ্রেণির অনার্সসহ দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতকোত্তর ডিগ্রি/ সমমানের জিপিএ প্রাপ্ত এবং সকল পরীক্ষায় ন্যূনতম দ্বিতীয় শ্রেণি/সমমানের জিপিএ থাকতে হবে অথবা স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৪ বছর মেয়াদী ন্যূনতম দ্বিতীয় শ্রেণির অনার্স ডিগ্রি/ সমমানের জিপিএ থাকতে হবে। বেতন: নিয়োগ প্রাপ্তদের (২২০০০-৫৩০৬০) স্কেলে মাসিক বেতন ও অন্য সুবিধা প্রদান করা হবে। আবেদন প্রক্রিয়া: স্বহস্তে লিখিত দরখাস্তে নাম, পিতার নাম, স্থায়ী ঠিকানা, বর্তমান ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ও শিক্ষাগত যোগ্যতার বিবরণসহ অন্য উপযুক্ততা (যদি থাকে) উল্লেখপূর্বক সকল সনদপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি ও সদ্য তোল পাসপোর্ট আকারের ২ কপি সত্যায়িত ছবি এবং অধ্যক্ষ, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ রংপুর এর অনুকূলে ১০০০/- (এক হাজার) ঢাকার এমআইসিআর পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফট ‘অধ্যক্ষ, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ রংপুর’-এই ঠিকানায় পাঠাতে হবে। আবেদনের সময়সীমা: আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ তারিখ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবে।   বিস্তারিত জানতে বিজ্ঞপ্তি দেখুন  

এক মাঠে দুই গ্রুপের টুর্নামেন্ট, ১৪৪ ধারা জারি

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মাদারপুর চরে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও মেয়রের সমর্থকরা একই সময়ে একই স্থানে ক্রিকেট খেলার আয়োজন করেছে। দুই গ্রুপের উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ নেওয়াজ ১৪৪ ধারা জারি করেন। আজ রোববার মাদারপুর চরে এই ক্রিকেট খেলা শুরু হওয়ার কথা ছিলো। ১৪৪ ধারার বিষয়টি মাইকিং করে এলাকাবাসীকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞায় বলা হয়েছে, ২৬ নভেম্বর রোববার সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মাদারপুর চরের টুর্নামেন্ট মাঠ ও আশপাশের এলাকায় সব ধরনের খেলার আয়োজন এবং সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো। জানা গেছে, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়র মনিরুল ইসলাম বাবুর আর্থিক সহযোগিতায় তার সমর্থকরা উপজেলার মাদারপুর রেলবাজার পদ্মাপাড়ে মেয়র গোল্ডকাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করে। আজ রোববার বিকেল ৩টায় এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করার কথা ছিল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র মনিরুল ইসলাম বাবু সভাপতি হিসেবে থাকার কথা ছিলো। অন্যদিকে, স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) ওমর ফারুক চৌধুরীর সমর্থকরা রেলবাজারে অবস্থিত শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের আয়োজনে একই মাঠে শেখ রাসেল গোল্ডকাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজনের ঘোষণা দিয়ে চিঠি বিতরণ করে। একই সময় তাদের আয়োজিত টুর্নামেন্টের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করা হয় উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বদিউজ্জামানকে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের শক্তিশালী দুইপক্ষের সমর্থকরা একই স্থানে একই সময় পাল্টাপাল্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অনাকাঙ্কিত পরিস্থিতি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বিষয়টি সমঝোতা না হওয়া পর‌্যন্ত ইউএনও সেখানে ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে।                                                                                    //এমআর / এআর  

টিটু রায়ের জামিন আবেদন নামঞ্জুর

ফেসবুকে অবমাননাকর স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার টিটু রায়ের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেছে আদালত। রোববার দুপুরে শুনানি শেষে এ আদেশ দেন রংপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম। কোট সিএসআই মামুন জামিন না মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে কঠোর নিরাপত্তায় টিটো রায়কে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে নেওয়া হয়। পরে দুপুর ১টার দিকে তাকে আদালতে তোলা হয়। সেখানে টিটু রায়ের জামিন শুনানি করেন অ্যাডভোকেট নরেশ চন্দ্র সরকার। শুনানিতে তিনি বলেন, ‘ফেসবুকে মহানবী সম্পর্কে যে স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছে তা টিটু রায় দেয়নি। তা ছাড়া ওই ফেসবুক অ্যাকাউন্টও টিটু রায়ের না। ওই ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এমডি টিটুর। সে মহানবী সম্পর্কে এ ধরনের অবমাননাকর স্ট্যাটাসও দেয়নি। তাকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ কারণে তাকে জামিন দেওয়ার জন্য আবেদন জানাচ্ছি। নরেশ চন্দ্র সরকার ছাড়াও ১০/১২ জন আইনজীবী এ জামিন শুনানির সময় উপস্থিত ছিলেন। তবে এই জামিনের আবেদনের বিরোধিতা করে কোট সিএসআই মামুন বলেন, এখনও মামলার তদন্ত চলছে। এ অবস্থায় তাকে জামিন দেওয়া হলে তদন্তে ব্যাঘাত হতে পারে। তাছাড়া মহানবী সম্পর্কে আপত্তিকর স্ট্যাটাস দেওয়ার ঘটনায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া হয়েছে। সে কারণে তিনি জামিন না দেওয়ার জন্য জোরালো আপাত্তি জানান। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামি টিটু রায়ের জামিন আবেদন নামঞ্জুর না করে তাকে কারাগারে পাঠানের নির্দেশ দেন। আগামী ১০ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছে আদালত। এসএইচ/

ছাত্র-শ্রমিক সংঘর্ষ: দিনাজপুরে লাগাতার পরিবহন ধর্মঘট

দিনাজপুরে বুধবার রাত থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট চলছে। হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ছাত্রদের ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনের ক্ষতিপূরণ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে এ ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। ফলে সারাদেশের সঙ্গে দিনাজপুরের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাস শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল অতিক্রম করছিল। এ সময় সাইড দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়।এতে পাঁচজন শিক্ষার্থী আহত হন। এ সময় বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা দুটি বাসে অগ্নিসংযোগসহ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভাতে গেলে ছাত্ররা তাদের ধাওয়া করে। পরবর্তীতে পুলিশের সহায়তায় তারা আগুন নেভায়। দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে বলে জানিয়েছেন, দিনাজপুর মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী। / এআর /

তারাগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

রংপুরের তারাগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘর-বাড়ি, মন্দির ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। শনিবার  যশোরের শার্শায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে ব্যক্তরা এ দাবি জানান। বক্তারা বলেন, এই হামলার সঙ্গে জড়িত যেই হোক না কেন তাদেরকে বিচারের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে  ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন রোধে এবং হিন্দু ধর্মালম্বীদের নিরাপত্তায় রাষ্ট্রকে আরও গুরু দায়িত্ব পালনের দাবি জানান সংগঠনের নেতারা। মানবন্ধনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ শার্শা উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি পরিতোষ কুমার সর্দারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ যশোর জেলা সভাপতি অসীম কুমার কুন্ডু। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা সাধারণ সম্পাদক যোগেশ দত্ত। এ সময় আরও বক্তব্য দেন শার্শা শাখার সাধারণ সম্পাদক বৈদ্যনাথ দাস, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দেবনাথ, জয়দেব সিংহ, সাধন গোস্বামী, শান্তিপদ গাঙ্গুলী প্রমূখ। / এআর /

টিটু রায় চার দিনের রিমান্ডে

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার টিটু রায়ের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। বুধবার দুপুরে রংপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দীপাংসু কুমার রায় এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একইসঙ্গে রিমান্ডে থাকার সময় তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এর আগে বুধবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে শতাধিক পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রিজনভ্যানে করে আদালতে হাজির করা হয় টিটু রায়কে। তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই বাবুল হোসেন। তিনি আবেদনে বলেন, ‘আসামি নিজে হিন্দু সম্প্রদায়ের হলেও এমডি টিটু নাম দিয়ে ফেসবুকে একটি আইডি খোলেন। এই আইডির মাধ্যমে তিনি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার জন্য একটি স্ট্যাটাস দেন। প্রাথমিক তদন্তে এ বিষয়ে তার জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। এখন এ ঘটনার মূল গডফাদার, ইন্ধনদাতাসহ কারা কারা তার সঙ্গে জড়িত তাদের নাম-ঠিকানাসহ সার্বিক বিষয়ে আরও তথ্যের প্রয়োজন। তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার।’ শুনানি শেষে বিচারক তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। মঙ্গলবার ভোরে নীলফামারীর জলঢাকার গোলনা ইউনিয়নের চিড়াভিজা গোলনা গ্রাম থেকে টিটু রায়কে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার সন্ধ্যায় টিটু রায় গোলনা গ্রামে তার দূর সম্পর্কের আত্মীয় কৈলাশ চন্দ্র রায়ের বাড়ি বেড়াতে আসে। সেখান থেকে মঙ্গলবার ভোরে চারটি গাড়িতে পুলিশের একটি দল এসে তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। পরে ঠাকুরপাড়া গ্রাম পরিদর্শনের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল তার গ্রেফতারের খবর নিশ্চিত করেন।  এদিকে রংপুর ডিবি পুলিশের ওসি শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় খলেয়া বাজারের ব্যবসায়ী রাজু মিয়া বাদী হয়ে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বুধবার তদন্তের জন্য ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আমরা এরইমধ্যে তদন্ত শুরু করেছি।’ এদিকে রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন জানান, ঠাকুরপাড়ায় তাণ্ডবের ঘটনায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ নিয়ে গত ছয় দিনে ১৫৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাণ্ডবের ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। একটি ঠাকুরপাড়া গ্রামে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও মালামাল লুট করার ঘটনায়। অপরটি পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দান সংক্রান্ত। দুটি মামলারই বাদী পুলিশ। আর টিটু রায়ের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনের মামলার বাদী স্থানীয় ব্যবসায়ী রাজু মিয়া। পুলিশ জানায়, ঠাকুরপাড়ায় হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত মূল সন্দেহভাজন বিএনপি নেতা এনামুল হক মাজেদী, মাসুদ রানা, ডাঙ্গিরহাট কলেজের অধ্যক্ষ বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রকৌশলী ফজলার রহমানসহ ইন্ধন ও অর্থের জোগানদাতাদের কাউকেই গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন জানান, মামলার এজাহার নামীয় দুই আসামি জামায়াত নেতা সিরাজুল ইসলাম ও তার ছেলে তারেককে মঙ্গলবার গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতার করার অভিযান চলছে। উল্লেখ্য, ফেসবুকে বিতর্কিত স্ট্যাটাসের অভিযোগ তুলে শুক্রবার টিটু রায়ের গ্রাম ঠাকুরপাড়ায় হামলা চালানো হয়। পুলিশ জানায়, শুক্রবার জুমার নামাজের পর আশেপাশের ৬-৭টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ ঠাকুরপাড়া গ্রামে হামলা চালায়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে জনতার সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি চালালে ছয় জন আহত হন। পরে আহতদের একজন মারা যান। ওইদিন ঠাকুরপাড়ার অন্তত ৩০টি বাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়, ভাঙচুর করা হয় ২০টি বাড়ি। হামলাকারীরা বাড়িঘরের মালামাল, বাসনপত্র, গরু-ছাগলও লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রামবাসী।   এসএইচ/

ঠাকুরপাড়ায় পুলিশের ভূমিকায় আইজিপির অসন্তোষ

রংপুরের সদর উপজেলার পাগলাপীর ঠাকুরপাড়া গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন পুলিশের আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক। মঙ্গলবার  ঠাকুরপাড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।  তিনি বলেন, ‘ঠাকুরপাড়া গ্রামে তাণ্ডবের বিষয়টি কয়েকদিন আগে থেকে জানা ছিল। এরপরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়নি। এ ক্ষেত্রে কমিউনিটি পুলিশিং ইউনিট ও সরকারি দলের সহায়তা নিয়ে সবাই মিলে প্রতিরোধ করা দরকার ছিল।’ শহীদুল হক বলেন, ‘ফেসবুকে যে আইডি থেকে স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছে সেই টিটু রায়কে মঙ্গলবার গ্রেফতার করা হয়েছে। সে যদি ধর্মের অবমাননা করে স্ট্যাটাস দিয়ে থাকে এবং সেটা যদি প্রমাণিত হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ আইজিপি আরও বলেন, ‘আমাদের চোখ কান খোলা রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে রুলিং পার্টির দায়িত্ব একটু বেশি।’ সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।   এসএইচ/

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি