ঢাকা, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭ ২০:০৫:৪২

ব্লাস্ট ও পাতা ঝলসানো রোগে আক্রান্ত দিনাজপুরের বোরো ফসল

দিনাজপুর সদরসহ ৪টি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছত্রাক জনিত ব্লাস্ট ও পাতা ঝলসানো রোগে আক্রান্ত হয়েছে বোরো ফসল। নানা ওষুধ প্রয়োগেও ফল না পাওয়ায় দিশেহারা কৃষক। এদিকে নীলফামারীতেও ছত্রাক রোগে আক্রান্ত হয়েছে ব্রী-২৮ জাতের ধান। দিনাজপুর সদর, বীরগঞ্জ, কাহারোল ও খানসামা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বোরো ক্ষেতে ছত্রাক জনিত ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে। এছাড়া বিএলবি বা পাতা ঝলসানো রোগেরও আক্রমণ দেখা দিয়েছে।কৃষকরা বলছেন, কয়েকদিন আগে হঠাৎ করেই ধান গাছে বাদামী দাগ দেখা দেয় এবং শীষে ধান থাকছে না। ঝলসে যাচ্ছে পাতা । নানা ওষুধ ছিটিয়েও কাজ না হওয়ায় দিশেহারা কৃষক।কৃষি অফিস জানায়, এটি ব্লাস্ট ও বিএলবি রোগ। আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে এই রোগ দেখা দিয়েছে। আর রোগ প্রতিরোধে কৃষকদের পরামর্শ দেয়ার কথা জানান কৃষি কর্মীরা।এদিকে নীলফামারীতেও ব্রী-২৮ জাতের ধানে ছত্রাকজনিত ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে। নানা ধরনের বালাইনাশক প্রয়োগ করেও ফল না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় কৃষক।আক্রান্ত জমির পরিমাণ খুবই কম দাবি করে কৃষকদের সার্বিক সহায়তা দেয়ার কথা জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।চলতি মৌসুমে জেলায় ৮২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হলেও ব্রী-২৮ জাতের ধান আবাদ হয়েছে ৩৩ হাজার হেক্টর জমিতে।

বয়লার বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা দাড়িয়েছে ১২

বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধদের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় দিনাজপুরের চেহেলগাজীর উত্তর ভাবনীপুর গ্রামে চলছে শোকের মাতম আর আহাজারি। দগ্ধ ২৮ জনের মধ্যে রোববার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাড়িয়েছে ১২। অন্যদেরও অবস্থা আশংকাজনক। গত ১৯ এপ্রিল দিনাজপুরের গোপালগঞ্জের শেখহাটি যমুনা অটো রাইস মিলে বয়লার বিস্ফোরনে দগ্ধ হয় ৩০ জন । স্থানীয় প্রশাসন হতাহত পরিবারের খোঁজ খবর নিলেও- অটোরাইস মিলের মালিক ও কর্তৃপক্ষ আর্থিক সহায়তা তো দুরের কথা সমবেদনা জানাতেও আসেনি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা ক্ষুদ্ধ মিল কর্তৃপক্ষের আচরনে। এদিকে এখনো বেঁচে থাকা দগ্ধ শ্রমিকদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার দাবি স্বজনদের।

আজ ঠাকুরগাওয়ের জাঠিভাঙ্গা গনহত্যা দিবস

ঠাকুরগাওয়ের জাঠিভাঙ্গা গনহত্যা দিবস আজ। ৭১’র এই দিনে পাক হানাদার বাহিনী স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় ৩ হাজারেরও অধিক নীরিহ মানুষকে হত্যা করে । এসব শহীদদের বিধবা স্ত্রী ও সন্তানরা দীর্ঘ দিন ধরে বিচার দাবি করেও কোন প্রতিকার পাননি। গনহত্যার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বিচার ও শহীদ পরিবারের মযর্দার দাবী জানিয়েছেন তারা। ৭১’র ২৩ এপ্রিল পাক হানাদার বাহিনীর ভয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর, চকহলদি, সিঙ্গিয়া, চন্ডিপুর, আলমপুর, বাসুদেবপুর, গৌরীপুর, মিলনপুর, শুকানপুকুরী ঢাবঢুবসহ বিভিন্ন গ্রামের কয়েক হাজার বাঙালি নরনারী ও শিশু জীবন বাঁচাতে ভারতে যাওয়ার পথে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন জাঠিভাঙ্গায় । এ খবর পেয়ে পাকবাহিনীর দোশর এ দেশীয় রাজাকাররা পুরুষদেরকে জাটিভাঙ্গা পাথরাজ নদীর তীরে নিয়ে যায় এবং লাইনে দাঁড় করিয়ে মেশিনগানের গুলিতে হত্যা করে। নিহতদের স্মরণে ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার সেখানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেটা অরক্ষিত রয়েছে। স্বামী হারানো সেই নারীদের অনেকে আজো বেঁচে আছে। কিন্তু নির্যাতনের শিকার প্রায় সাড়ে ৩’শ বিধবা ও তাদের সন্তানরা আজো পাননি কোন বিচার বা সরকারী সুযোগ সুবিধাও।নির্যাতনের শিকার ওই বিধবা ও শহীদ পরিবারকে পূর্ণবাসনের আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক। শুধু আশ্বাস নয়- ঠাকুরগাওয়ে গনহত্যা ও নির্যাতনের সাথে জড়িতদের বিচারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমনটাই প্রত্যাশা সবার।  

কুড়িগ্রামে বোরো ক্ষেতে নেক ব্লাষ্ট রোগ

কুড়িগ্রামে বোরো ক্ষেতে নেক ব্লাষ্ট রোগ দেখা দেয়ায় আতংকিত হয়ে পড়েছেন জেলার প্রায় ৪ লক্ষাধিক কৃষক। কৃষি বিভাগের পরামর্শে সংক্রমিত জমিতে কীটনাশক স্প্রে করেও শেষ রক্ষা পাচ্ছেন না তারা। অন্যদিকে, রোগ ছড়ানোর আশংকায় নিয়মিত স্প্রে করেও আতংকে রয়েছেন অন্য জমির মালিকরা।চলতি বোরো মৌসুমে কুড়িগ্রামের ৯ উপজেলায় ১ লাখ ১০ হাজার ৫শ ২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। ফলন ভাল হলেও হঠাৎ করেই ছড়িয়ে পড়ছে নেক ব্লাষ্ট বা ধানের গলা পচা রোগ। রোগ প্রতিরোধে কৃষকদের লিফলেট বিতরনসহ নানা পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। আক্রান্ত জমিতে প্রতিশোধক হিসেবে ট্রাইসাইক্লোজল গ্র“পের ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করছেন কৃষকরা। তবে ছত্রাক প্রতিরোধে কৃষি বিভাগের পরামর্শ কাজে আসছে না বলে জানালেন কৃষকরা। তারা বলছেন, ফসল বাঁচাতে বেশী দামে কীটনাশক কিনে জমিতে প্রয়োগ করেও শেষ রক্ষা হচ্ছে না। নেক ব্লাষ্ট রোগের আক্রমনের কথা স্বীকার করে এর প্রতিকারে কাজ করার কথা জানালেন কৃষি কর্মকর্তা। কুড়িগ্রাম জেলার বোরো ধান বাঁচাতে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার দাবি কৃষকদের।দেখুন ভিডিও

পরচুলা বানিয়ে চলেছেন কনিকা বেগম

ঠাকুরগাঁওয়ের নিভৃত পল্লীর দরিদ্র নারীদের হাতে তৈরি পরচুলা এখন রপ্তানী হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানের বিউটি পার্লার থেকে সংগ্রহ করা চুল দিয়ে তৈরি এ পরচুলা যাচ্ছে ভারত, দুবাই, সিঙ্গাপুরসহ বেশ কয়েকটি দেশে। সরকারি সহযোগিতা পেলে এ ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠানটি আরো বড় পরিসরে গড়ে তোলার আশা জানিয়েছেন উদ্যোক্তা কনিকা বেগম।  সুঁই আর সুতোয় পরচুলা বানিয়ে চলেছেন কনিকা। নিজে স্বাবলম্বী, তার সঙ্গে আরো অনেকেও। কিন্তু জীবন-গল্পটা কনিকার এমন ছিলো না। বাবার মৃত্যুর পর ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে মায়ের সাথে পাড়ি জমিয়েছিলেন রাজধানীতে। কাজ নেন পরচুলা কারখানায়।এরপর মায়ের ইচ্ছায় বসতে হয় বিয়ের পিড়িতে। বছর ঘুরতেই কোলজুড়ে আসে নতুন মুখও। সংসারে তখন প্রকট হয়ে ওঠে দারিদ্র। দমে যাননি কণিকা। পরচুলা তৈরিতে দক্ষ হয়ে চলে আসেন নিজ গ্রাম ঠাকুরগাঁওয়ের জগন্নাথপুরের ভালুকাইয়ে। কনিকার পরচুলা কারখানায় প্রতিদিন কাজ করছেন শতাধিক নারী। কর্মহীন নারীদের কর্মচাঞ্চল্য এখন গ্রামজুড়ে।নারীদের এমন কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কনিকা বেগমকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন জনপ্রতিনিধিরাও। এমন উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাবার কথা জানিয়েছে জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর।আরও দেখুন

শিক্ষার্থীকে পুলিশে দিয়ে ৫ ঘণ্টা আটকে রাখায় প্রক্টরের অপসারণ দাবি

এক শিক্ষার্থীকে পুলিশে দিয়ে ৫ ঘণ্টা আটকে রাখার ঘটনায় রংপুর রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর তামান্না ছিদ্দিকার অপসারণ দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পহেলা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর তামান্না ছিদ্দিকা গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী দীপু রায়কে তার সাথে খারাপ আচরণ করার অভিযোগ এনে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় ফাঁড়িতে পুলিশ তাকে ৫ ঘণ্টা আটকে রাখে। শিক্ষার্থীদেও অভিযোগ দীপুকে আটকের খবর জানতে পেওে হৃদযন্ত্রের ক্রিড়া বন্ধ হয়ে মারা যান তার বাবা অনিল চন্দ্র । এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বুধবার দুপুরে প্রক্টর কার্যালয় ঘেরাও করে।

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি