জুবায়ের আহমেদ হত্যার ঘটনায় শিক্ষক শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আরজু মিয়া। সোমবার পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসাশনিক ভবনে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমি পদত্যাগ করেছি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র জুবায়ের আহমেদ কতিপয় দুর্বৃত্ত কর্তৃক নিহত হওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনাপূর্বক ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার স্বার্থে অধ্যাপক ড. মো. আরজু মিয়া প্রক্টরের পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।” প্রক্টরের পদ ছাড়লেও সিন্ডিকেট ও সিনেটের সদস্য পদ, শহীদ রফিক-জব্বার হলের প্রধ্যক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দোকান পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে বহাল রয়েছেন রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আরজু মিয়া।
গত ৮ জানুয়ারি জুবায়েরকে কুপিয়ে আহত করে ছাত্রলীগের একদল কর্মী, যারা ক্যাম্পাসে উপাচার্যের সমর্থনপুষ্ট হিসেবে পরিচিতি। পরদিন হাসপাতালে মারা যান জুবায়ের। এরপর থেকে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে চার দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ এবং আট দফা দবিতে শিক্ষকরা ‘সচেতন শিক্ষক সমাজ’ ব্যানারে আন্দোলন শুরু করেন। আরজু মিয়াসহ পুরো প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ ছিল তাদের অন্যতম দাবি।
পুঁজিবাজারে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিনিয়োগ নিয়ে ‘বিভ্রান্তিতে’ নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার আশংকায় মঙ্গলবার লেনদেন বন্ধ রাখা হয়েছে দেশের দুই পুঁজিবাজারে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদ জানিয়েছে, দুই সপ্তাহ ধরে পুঁজিবাজারে মন্দাভাবের প্রেক্ষাপটে ‘বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে’ এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সামনেই সকাল থেকে বিক্ষোভ চলছে।
মঙ্গলবার সকালে পরিচালনা পর্ষদের জরুরি বৈঠকের পর ডিএসইর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের (সামরিক ও বেসামরিক) পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ব্যাপারে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদে অস্পষ্টতা প্রতীয়মান হয়েছে। ডিএসই কর্তৃপক্ষ মনে করে, এর ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে এবং পুঁজিবাজারে বড় ধরণের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সে কারণে পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে ১৭ জানুয়ারি লেনদেন বন্ধ রাখা হয়েছে।”
“ডিএসই বোর্ড মনে করে, দেশের অর্থনীতি তথা পুঁজিবাজারের স্বার্থে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিনিয়োগের সুযোগ থাকা উচিৎ”, যোগ করেন তিনি।
সিকিউরিটিজ অ্যান্ড কমিশনের (এসইসি) নির্দেশনা মেনে পুঁজিবাজার থেকে শেয়ার কেনার ঘোষণা দিয়েছেন এনসিসি ব্যাংকের দুই পরিচালক। তারা হলেন, এনসিসি ব্যাংক লিমিটেডের উদ্যোক্তা পরিচালক নুরুল ইসলাম এবং দীন এম রানা । সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ওয়েবসাইটে শেয়ার কেনার এই ঘোষণা দেওয়া হয়। এনসিসি ব্যাংকের উদ্যোক্তা-পরিচালক পরিচালক নুরুল ইসলাম এবং দীন এম রানা যথাক্রমে ৫০ হাজার ও ১০ লাখ শেয়ার কিনবেন। বাজারদরে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তারা এই শেয়ার কিনবেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়া এনসিসি ব্যাংকের উদ্যোক্তা-পরিচালক নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী তিনি ১ লাখ শেয়ার কেনা শেষ করেছেন। গত ২২ নভেম্বর সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) এক নির্দেশনায় বলা হয়, কোম্পানির উদ্যোক্তা, পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ওই কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ৩০ শতাংশ শেয়ার থাকতে হবে। এছাড়া পরিচালকদের আলাদাভাবে ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার না থাকলে তিনি পরিচালক পদ হারাবেন এবং সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের যাদের কাছে ৫ শতাংশ শেয়ার আছে তিনি পরবতী বার্ষিক সভায় পরিচালক মনোনীত হবে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে জানানো হয়েছে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ১ হাজার ৪৯১ পরিচালকের কাছে ২ শতাংশের কম শেয়ার রয়েছে। উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে সম্মিলিতভাবে কোম্পানির ৩০ শতাংশের কম শেয়ার থাকা কোম্পানির সংখ্যা ৩৮টি।
এসইসির নির্দেশনা মেনে এসব কোম্পানির উদ্যোক্তা, পরিচালকদের ২ শতাংশ ও ৩০ শতাংশের কোটা পুরণ করতে হবে উদ্যোক্তা পরিচালকদের।
পুঁজিবাজার স্থিতিশীলে আয়কর আইন সংশোধন করছে সরকার। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে আইন সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, পুঁজিবাজার গতিশীল করা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে আইনে এই সংশোধন করা হচ্ছে। সংশোধিত আয়কর আইনে পুঁজিবাজারে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগে আয়ের ওপর বিদ্যমান কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া বিদেশি কেউ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করলে অর্জিত আয়ের ১০ শতাংশ কাটা হবে না, যা আগে কাটা হতো। পাশাপাশি ব্রোকারেস হাউসগুলোর বিদ্যমান কমিশনের ওপর উৎসে কর শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ০৫ শতাংশ করার প্রস্তাব আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের আরো বলেন, “পুঁজিবাজার এমনিতেই ঝুঁকিপূর্ণ, এটা আমরা অনেকেই জানি। সরকারি দায়িত্ব পালনের অবস্থানে থেকে এই ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য করা সমীচীন নয়। পরবর্তী পর্যায়ে মন্ত্রণালয় থেকে একটা কাগজ দেবে।”
রাইট শেয়ারের আবেদনপত্র গ্রহণের তারিখ ঘোষণা করেছে বস্ত্রখাতের প্রতিষ্ঠান আরএন স্পিনিং মিলস লিমিটেড। রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ওয়েবসাইটে প্রতিষ্ঠানটি এই ঘোষণা দিয়েছে। ১৭ ফেব্র“য়ারি থেকে রাইট শেয়ারের আবেদনপত্র গ্রহণ শুরু হবে। চলবে ১৩ মার্চ পর্যন্ত। রাইট শেয়ারের জন্য তালিকাভুক্তির রেকর্ড তারিখ ৩১ জানুয়ারি। ১০ জানুয়ারি আরএন স্পিনিংয়ের রাইট শেয়ারের আবেদন অনুমোদন করে সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।
প্রতিষ্ঠানটি ১টি শেয়ারের বিপরীতে ১টি রাইট শেয়ার ছাড়বে। ১০টা মূল্যের প্রতিটি শেয়ারে ১০ টাকা প্রিমিয়ামসহ মূল্য হবে ২০ টাকা। এর মাধ্যমে মোট ১৩ কোটি ৯১ লাখ ৪১ হাজার ২৩০টি শেয়ারের মাধ্যমে ২৭৮ কোটি ২৮ লক্ষ ২৪ হাজার ৬০০ টাকা পুঁজিবাজার থেকে তোলা হবে। এ অর্থ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো ও মানোন্নয়নের জন্য নতুন যন্ত্রপাতি বসানোর কাজে খরচ হবে।
কোরিয়া ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত আর এন স্পিনিং মিলস লি. এর অনুমোদিত মুলধন ৩৫০ কোটি টাকা ও পরিশোধিত মুলধন ১৩৯ কোটি ১০ লাখ টাকা। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ১৩ কোটি ৯১ লাখ ৪১ হাজার ২৩০টি শেয়ার রয়েছে। বর্তমানে এর উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে ৬৬.১৪ শতাংশ শেয়ার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩৩.৮৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
আগামী এপ্রিলের মধ্যে নতুন বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হবে বলে...
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার মেঘনা নদীতে আড়াই শতাধিক যাত্রী নিয়ে লঞ্চডুবির...