পুঁজিবাজার স্থিতিশীলে আয়কর আইন সংশোধন করছে সরকার। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে আইন সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, পুঁজিবাজার গতিশীল করা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে আইনে এই সংশোধন করা হচ্ছে। সংশোধিত আয়কর আইনে পুঁজিবাজারে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগে আয়ের ওপর বিদ্যমান কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া বিদেশি কেউ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করলে অর্জিত আয়ের ১০ শতাংশ কাটা হবে না, যা আগে কাটা হতো। পাশাপাশি ব্রোকারেস হাউসগুলোর বিদ্যমান কমিশনের ওপর উৎসে কর শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ০৫ শতাংশ করার প্রস্তাব আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের আরো বলেন, “পুঁজিবাজার এমনিতেই ঝুঁকিপূর্ণ, এটা আমরা অনেকেই জানি। সরকারি দায়িত্ব পালনের অবস্থানে থেকে এই ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য করা সমীচীন নয়। পরবর্তী পর্যায়ে মন্ত্রণালয় থেকে একটা কাগজ দেবে।”
“বিনিয়োগকারীদের পুঁজিবাজারমুখী করার জন্য, আস্থা অর্জনের জন্য আয়করের কিছু সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে এই আইনে,” বলেন তিনি। পরের বক্তব্য আয়কর আইনের বিষয়ে বলা হলেও তার আগের বক্তব্য সরকারি কর্মচারীদের বিনিয়োগ বন্ধের বিষয়ে বিভ্রান্তির জন্ম দেয়। পরে অবশ্য আবুল কালাম আজাদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তিনি ‘অফ দ্য রেকর্ড’ ওই কথা বলেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে তার ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।
দেশের প্রচলিত আইনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অন্য কোনো লাভজনক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন না। তবে আইনের ফাঁক দিয়ে পুঁজিবাজারে সরকারি চাকুরেরা বিনিয়োগ করে আসছে। পুঁজিবাজারে অস্থিরতার তদন্তে গঠিত খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের কমিটিও গত বছর তাদের দেওয়া প্রতিবেদনে বাজারে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিনিয়োগের সুযোগ বন্ধের সুপারিশ করেছিল।
মানব-পাচার আইন অনুমোদন
মন্ত্রিসভার বৈঠকে মানব পাচারের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড রেখে নতুন আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়। মন্ত্রিসভায় খসড়াটি চূড়ান্ত অনুমোদন হওয়ায় এটি এখন সংসদে উপস্থাপন হবে। সেখানে অনুমোদন পেলেই তা আইন হিসেবে কার্যকর হবে। এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইনের খসড়াটি অনুমোদন করা হয়। এরপর কিছু সংশোধন ও সংযোজনের কারণে আইনটি সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন ও অনুমোদন করা হয়। প্রেসসচিব বলেন, ‘মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে’ সর্বোচ্চ সাজা রাখা হয়েছে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা।
মজুরি কমিশনের সুপারিশ অনুমোদন
জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন-২০১০ এর সুপারিশ চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এই প্রস্তাবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রমিকদের জন্য শ্রেণীভেদে ন্যূনতম ৪ হাজার ১৭৫ টাকা থেকে ৫ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি নির্ধারণ করেছে। এ প্রস্তাবে চিকিৎসা বাবদ ৭০০ টাকা, টিফিন বাবদ ১০০ টাকা এবং যাতায়াত ভাতা বাবদ ১৫০ টাকা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। ২০১০ সালের ১৯ অক্টোবর সাবেক সচিব মাহে আলমকে প্রধান করে ১৭ সদস্যের ‘জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন’ গঠন করা হয়।
অন্যান্য সিদ্ধান্ত
এছাড়াও মন্ত্রিসভার সোমবারের বৈঠকে ‘আইন-শৃঙ্খলা বিঘœকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) (সংশোধন) আইন, ২০১২’-এর খসড়াও নীতিগত এবং চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে মন্ত্রিসভাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মিয়ানমান সফর, বালি ডেমোক্রেসি ফোরামে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ, কমনওয়েলথ অর্থমন্ত্রী সম্মেলনে অর্থমন্ত্রীর যোগদান, ভিয়েনায় ‘স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠকে’ শিল্পমন্ত্রীর যোগদান, আন্তর্জাতিক মেরিটাইম ব্যুরো থেকে ‘জলদস্যুতাপ্রবণ’ দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের নাম প্রত্যাহারের বিষয়গুলো জানানো হয়।
আগামী এপ্রিলের মধ্যে নতুন বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হবে বলে...
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার মেঘনা নদীতে আড়াই শতাধিক যাত্রী নিয়ে লঞ্চডুবির...