ঢাকা, সোমবার, ১৬ জুলাই, ২০১৮ ২০:৪৮:৩৪

Ekushey Television Ltd.

সুখ-শান্তির গোপন রহস্য  

মোশাররফ হোসেন  

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১০:৩০ পিএম, ১২ জুলাই ২০১৮ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৮:৫৯ পিএম, ১৩ জুলাই ২০১৮ শুক্রবার

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, সুখ বৈষয়িক বা জাগতিক কোনো ব্যাপার নয়। সুখ বহুলাংশে মনস্তাত্তি¡ক বা আধ্যাত্মিক ব্যাপার। তবে মিশিগানের হোপ কলেজের সাইকোলজি বিভাগের প্রফেসর ডেভিড মায়ার বলেন, সুখ অনেকাংশেই মানুষের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি অনুভূতি।    

মানুষের কী আছে- তার ওপর সুখ নির্ভর করে না। মানুষ কী ভাবে বা কিভাবে ভাবে- তার ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে সুখ। যার যা আছে বা যে অবস্থায় আছে তার জন্য শোকরিয়া জানিয়ে যদি দিন শুরু করা হয়- তাতে সুখ আসবে। সুতরাং কাজ-কর্ম ও চিন্তাধারায় পজিটিভ অ্যাপ্রোচ নিয়ে শুরু করলে জীবনে সুফল আসবে। আত্মবিশ্বাসে বিশ্বাসী, মর্যাদাবান, হৃদয়বান, সৎ মানুষ সাধারণত সব সময় সুখী হয়। যারা শুধু নিতে চায়, দিতে জানে না বা চায় না, তারা সুখী হয় না। পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষরাও দিনের ২৪ ঘণ্টা সুখী হয় না বা থাকেন না। সুখী মানুষের জীবনেও হতাশা, দুঃখ-কষ্ট আসে। পার্থক্য হল সুখী মানুষরা হতাশা, দুঃখ-কষ্টকে সহজভাবে গ্রহণ করতে পারে। অন্যরা তা পারেন না।

আমাদের ক্রোধ, লোভ-লালসা, মোহ, ঈর্ষা ও প্রতিহিংসা আমাদের দুঃখ, কষ্ট, অশান্তি, অসুখ ও ধ্বংসের মূল কারণ। মানুষ তার সততা, সৎকর্ম ও অটল সৃষ্টিকর্তা প্রীতি দ্বারা উল্লিখিত বদগুণ থেকে নিজেকে দূরে রেখে এই পার্থিব জীবনেই পরম স্বর্গসুখের স্বাদ লাভ করতে পারে। সৃষ্টিকর্তার আদেশ-বিধিনিষেধ মেনে চললে জীবনে শান্তি আসবে, সুখ আসবে। সৃষ্টিকর্তার ওপর যার বিশ্বাস যত দৃঢ়, বস্তু জগতে তিনি তত সুখী।   

সুস্থ, সুন্দর ও সুখী জীবনযাপনের জন্য প্রকৃতিতে হাজারও নিয়ামত রয়েছে। আমরা দিন দিন প্রাকৃতিক জীবনযাত্রা থেকে সরে এসে কৃত্রিম, অসুস্থ, ক্ষতিকর ও অসুখী জীবনধারণের প্রতি ঝুঁকে পড়েছি। অথচ প্রাকৃতিক উপায় অবলম্বন করার মাধ্যমে আমরা অতি সহজে সুস্থ, সুন্দর ও সুখী জীবনের অধিকারী হতে পারি।  

সুখের বিপরীত শব্দ হলো অসুখ। যে সুখী নয়, সে সুস্থও নয়। শারীরিক অসুস্থতায় ভুগলেও মানুষের জীবনে সুখ থাকে না। তবুও ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে শারীরিক অসুস্থতা অনেকটা সারানো যায়। কিন্তু মানুষ যদি মানসিক অসুস্থতার শিকার হয়, তখন জীবনে নেমে আসে বিপর্যয়। 

বর্তমান বিশ্বে লাখ লাখ মানুষ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। এসব মানুষকে সুস্থ করে তোলা নিয়ে বিশ্বব্যাপী চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা হিমশিম খাচ্ছেন। বিষন্নতা কোনো রোগ নয় বলে ওষুধ এসব ক্ষেত্রে কোনো কাজ করে না। বরং শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।     

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ারেন বাফেট পৃথিবীর শীর্ষস্থানীয় ধনীদের মধ্যে অন্যতম। তার জীবনদর্শন, কাজ-কর্ম, টাকা-পয়সা, সুখ-শান্তি নিয়ে অনেক গল্প প্রচলিত আছে। ওয়ারেন বাফেট কোনো সময় ব্যক্তিগত বিমানে চড়েন না। যদিও তিনি বিশ্বের সর্ববৃহৎ মালিকানার একটি জেট কোম্পানির মালিক। এখনও তিনি ৫০ বছর আগে কেনা তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি বাড়িতে বাস করেন এবং অনলাইন ব্রিজ খেলে তিনি অপরিসীম আনন্দ লাভ করেন।

বিশ্বের বিশাল ধনসম্পদের মালিক পরম সুখী ওয়ারেন বাফেট মনে করেন- ধন-দৌলত নয়, মনের সুখই আসল সুখ। চিরকাল তিনি বিশ্বাস করেছেন- মানুষের যা করতে ভালো লাগে এবং যা করে আনন্দ লাভ করা যায় তাতে সাফল্য আসে, কর্মক্ষমতা ও কর্মদক্ষতা বাড়ে। ওয়ারেন বাফেট বলেন, আমি সপ্তাহে ১২ ঘণ্টা অনলাইনে ব্রিজ খেলি। অনেকের কাছে এটি অতি সাধারণ বিনোদন বলে মনে হতে পারে। তবে সাধারণ অনেক কিছু আমাদের বিপুল আনন্দ ও সুখ দিতে পারে। ওয়ারেন বাফেট প্রতিযোগিতায় বিশ্বাস করেন না। তিনি বলেন, আমি স্বভাবত ওই সব কাজ করায় বিশ্বাস করি যা অর্থবহ। আমার ব্যক্তিগত জীবনেও আমি অন্য ধনী ব্যক্তিরা কী করেছেন তা নিয়ে পরোয়া করি না। কারো কাছে ৪০০ ফুট দীর্ঘ প্রমোদতরী আছে বলে আমার ৪০৫ ফুট দীর্ঘ প্রমোদতরী থাকতে হবে এ ধরনের ভ্রান্ত ধারণায় আমি বিশ্বাস করি না।   

অবশ্য জগতে বাস করতে গেলে জাগতিক অর্জন সুখ-শান্তি আনয়নে একদম কোনো ভূমিকা পালন করে না- এ কথাটি ঠিক নয়। সাম্প্রতিককালের বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণায় দেখেছেন- সব সুখের মূলে রয়েছে অর্থ। অর্থ সব সময় সুখ দিতে পারে না সত্যি, কিন্তু একজন লোক যখন অন্য সবার চেয়ে বেশি উপার্জন করেন, তখন তিনি ঠিকই নিজেকে সুখী মনে করেন। ভিন্ন মতাবলম্বীরা বলেন- টাকা দীর্ঘ সময় সুখ এনে দিতে পারে না। তবে সাময়িকভাবে মানুষকে তৃপ্ত করে।   

স্বাস্থ্যই সব সুখের মূল। স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে ক্ষণস্থায়ী হোক বা দীর্ঘস্থায়ী হোক, কোনো সুখই উপলব্ধি করা যায় না। শারীরিক ও মানসিক সুস্বাস্থ্যের অধিকারী মানুষরাই এই বস্তুজগতে সুখ ও শান্তির জন্য যেসব উপকরণ প্রয়োজন তা অনায়াসে অর্জন করতে পারে। 

শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য প্রয়োজন নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন, লোভ-লালসা পরিত্যাগ করা, স্বল্পতে সন্তুষ্ট থাকা, দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনযাপন করা, পরিমিত স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, রাতে নিরুপদ্রবভাবে ঘুমানো, আনন্দ ও সন্তুষ্টি নিয়ে কাজ করা, রাগ, বিরাগ বা আবেগপ্রবণতা পরিত্যাগ করা, বিশুদ্ধ পানি পান করা, ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীর-মনের সুস্থতা বজায় রাখা, রোগ-বিমারি থেকে মুক্ত থাকা ও দাম্পত্য জীবনে সুখী হওয়ার জন্য স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক অর্থবহ করে গড়ে তোলা। সৃষ্টিকর্তার প্রতি আত্মসমর্পণ করুন ও নিয়মিত প্রার্থনা করুন। ভালো বই-পুস্তক পড়ুন। গরিব, দুঃখী ও দুস্থ মানুষকে দান করুন ও সেবাযতœ করুন। এতে অনেক আত্মতৃপ্তি বাড়বে। অন্যের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। নেই বলে আক্ষেপ না করে আপনার যা আছে তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। সবাইকে নিয়ে হাসি-খুশিতে থাকুন। 

লেখকঃ সম্পাদক,সাপ্তাহিক দ্বীপ কথা     

এসি 

  



© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি