জিন্না কসাই
পরিচালনা : দীপু হাজরা
রচনা : ফজলুল হক আকাশ
ঈদুল আযহা'র ১ম দিন সন্ধ্যা :০৭.৩০
অভিনয়: আনিসুর রহমান মিলন, বিন্দু, আরফান আহমেদ, তারিক স্বপন, শুভাশীষ শুভ সহ আরো অনেকে।
গল্প সংক্ষেপ: জিন্না কসাই পুরান ঢাকার নাম করা একজন কসাই। বংশ পরম্পরায় তারা কসাইগিরী করে আসছে খ্যাতির সাথে। জিন্নাদের পূর্ব পুরুষদের কেউ কখনো কোনো অসুস্থ গরু জবাই করেনি। এই কারণেই ওদের এতো খ্যাতি। অসুস্থ গরু জবাই না করার আদর্শটা এখনো জিন্নার মাঝে রয়েছে। সে কারণেই জিন্নার নামডাক শহর জুড়ে বাপ-দাদার মতোই।
অ্যানথ্রাক্স কারণে বেশ কিছুদিন কসাই ব্যবসা মন্দা। তাই পারিবারিক জীবনে জিন্না একটু টানাপোড়েনের মাঝে চলছে। জিন্নার বউয়ের মুখের আর আগের মতো হাসি নেই। তবুও তারা আশায় বুক বেঁধে আছে সব ঠিক হয়ে যাবে।
ক'দিন পরেই কোরবানীর ঈদ। জিন্নার পরিবারে আশার আলো। এই ঈদে বেশি কাজ করে ক'মাসের ক্ষতি পুষিয়ে নিবে। জিন্না তার দল-বল নিয়ে নানা কায়দায় শিডিউল সাঁজাচ্ছে কিভাবে বেশি গরু কাটা যায়। সান দিচ্ছে কাটারি। তবে এই কোরবানীতে জিন্না পণ করেছে ঘুষের টাকায় কেনা কোনো গরু সে কাটবে না।
এরই মাঝে প্যাঁচ লাগায় পাশের বাড়ির কালু কসাই। কালু কসাই জিন্নার দল থেকে বেশি টাকা দিয়ে লোক ভাগানোর নানা চেষ্টা করে। কেউ কেউ বেশি টাকার আশায় চলেও যায়। তাতেও জিন্না বিচলিত নয়। তার বিশ্বাস সে এবার রেকর্ড পরিমাণ গরু কাটবেই।
তার বউয়ের আশা তার নিজেদের কোরবানীটা দিয়েই শুরু করবে কোরবানীর গরু কাটা। সকালে নিজেদের গরুটা কেটে বের হবে, ফিরে এসে গরুর মাংস দিয়ে ভাত খাবে। বউয়ের সাথে তার ইচ্ছের অমিল নেই। সেরকমই পরিকল্পনা করে জিন্না ।
ঈদের দিন সকালে জিন্না পরিকল্পনা মতো তার নিজের গরু কাটবে বলে রেডি হয়। এমন সময় একটা দামী গাড়ি এসে দাঁড়ায় জিন্নার বাসার সামনে। সেই গাড়ি থেকে ডাকাত প্রকৃতির দুজন লোক নেমে জিন্নাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায় তাদের বসের গরু কাটার জন্য। নিজের গরু আর কাটা হয় না জিন্নার।
জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর জিন্নাকে গরু কাটতে বলা হয়। যে গরুটা কাটতে বলা হয় সেটার স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়নি। স্বাস্থ্য পরীক্ষাবিহীন কোনো গরু সে কখনো কাটেনি। নিজস্ব নীতি থেকেই গরু কাটতে রাজী হয় না। শুরু হয় গরু কাটা নিয়ে দ্বন্দ্ব সংঘাত। সেখান থেকে এক পযর্ায়ে প্রাণ নিয়ে কোনো রকমে পালিয়ে আসে জিন্না।
যায় নতুন এক জায়গায় গরু কাটতে। ঘুষের টাকায় গরু কেনা কিনা জানতে চায় জিন্না। এই কথা নিয়ে সেখানে শুরু হয় এক নাটকীয় ঘটনা। সেই গরুও কাটা হয় না জিন্নার।
যায় নতুন গরুর কাছে। গরুর মালিক মধ্যবিত্ত্ব মানুষ। স্বামী-স্ত্রী দুজনের বেতনের টাকায় কেনা গরুটা। গরুটা কেনার টাকা যেহেতু দু'জন ছোট চাকুরের সেহেতু এই গরুতে ঘুষের টাকা নেই। আশাবাদী হয় জিন্না। এই গরুটা কাটতে বিফল হবে না। কিন্তু ঝামেলা বাঁধে অন্য রকম। কার নামে কোরবানী হবে? স্বামীর নামে নাকি স্ত্রীর নামে? এই নিয়ে স্বামী-স্ত্রী কথা কাটাকাটি শুরু করে। কার নামে কোরবানী হবে ঠিক করতে পারে না। এই গরুও কাটা হয় না জিন্নার। জিন্না যায় নতুন গরুর কাছে....
জিন্না সারাদিন তার শিডিউল করা প্রতিটি গরুর কাছে যেয়ে এক একটি ঘটনার মুখোমুখী হয়। গরু কাটা হয় না। দিন শেষে গরু না কেটেই ঘরে ফিরে। ঘরে ফিরলে পারিবারিক জীবনের আরেক নাটকীয়তা যোগ হয় গল্পে। একুশে টেলিভিশনে ঈদুল আযহা'র বিশেষ নাটকটি পরিচালনা করেছেন দীপু হাজরা।




