ILU ILU
রচনা ও পরিচালনা :দীপু হাজরা
অভিনয়ে : এটিএম শামসুজ্জামান,ড. ইনামুল হক,চিত্রলেখা গুহ,লিটু আনাম,আরফান আহমেদ ,শ্যামল জাকারিয়া,খালেকুজ্জামান,সারা আলী,সাদিয়া আফরিন,মৃনাল দত্ত, ফাইজা মেহতাব আরজু -সহ আরো অনেকে।
সারসংক্ষেপ :
বাহাত্তর বছর বয়ষ্ক শুক্কুর আলীর বাড়ী-গাড়ী, ব্যবসা-বাণিজ্য সব কিছু থাকলেও কাছে নেই তার সন্তানেরা। প্রিয়তমা স্ত্রী ও গত হয়েছেন কয়েক বছর আগেই। জরাজীর্ণ শরীর ও রুগ্নমন নিয়ে প্রতিদিন পথ চলতে হয় একাকী। প্রতিদিন কার মতো লেতের পাড়ে প্রতিঃ ভ্রমণে বেরিয়েছিল শুক্কুর আলী। চলছিল জগিং। বিপরীত দিক হতে আসা মধ্যম বয়ষ্ক মহিলা আম্বিয়া বেগমের সাথে ধাক্কা লেগে যায়। ঘটে যায় বিপত্তী। শুনতে হয় গালমন্দ। এক সময় নিজের ভুলটা নিজেই বুঝতে পারে আম্বিয়া বেগম। দৌড়ে যায় শুক্কুর আলীকে দেখতে হাসপাতালে। গড়ে ওঠে একটি সম্পর্ক। যা কিনা পরবর্তীতে নিজেদের মধ্যে তৈরি করে একটি ভালোবাসার সেতুবন্ধন। এক সাথে খাওয়া, পার্কে বেড়ানো, নৌকায় গান করা এভাবে চলছে প্রতি নিয়ত। দুজনের আলাপচারিতায় বেরিয়ে আসে অনেক কথা যার মধ্যে আম্বিয়া বেগম ঢাকাইয়া মেয়ে দশ বছর আগে স্বামী মারা যায় ডেংগু জ্বরে। নিজের নামে অনেকগুলো বাড়ী। বসে থাকতে চান না নিকটাত্মীয়দের মধ্যে একজন তার খালাতো ভাই সোনা মিয়া। বিয়ে করে ঘর সাজাতে চান আম্বিয়াকে নিয়ে। আম্বিয়া একটুও পছন্দ করেন না সোনাকে। এদিকে শুক্কুর আলীর দুই ছেলে নোমান ও নাইম এক মেয়ে রুনা কেউই নেই তার সাথে। শুক্কুর আলী শিক্ষিত না হলেও সন্তানদের ঠিকই পড়াশোনা করিয়েছেন। বিয়েও করিয়েছেন। কিন্তু বৃদ্ধ বাবার প্রতি কেউ-ই এতটুকু সহানুভূতি দেখায় নি। কারণ বাবার সব সম্পত্তি এখনই তাদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার জন্য জোরে সোরে চাপ সৃষ্টি অবশেষে তাদেরকে বাড়ী থেকে বের করে দিতে বাধ্য হন। তাতেও তেমে নেই তারা। বাবার সম্পর্কের কথা জেনে যায় প্রতি নিয়ত। কারণ বাবার ভৃত্য গেদাও যে তাদের নিয়ন্ত্রণে। এই সম্পর্ক ঠেকাতে না পারলে হয়তো সব সম্পত্তির মালিক হয়ে যাবেন আম্বিয়া বেগম। অবশেষে নাটকীয় ভাবে সাক্ষাত হয় সোনা মিয়ার সাথে। কাজটি তাকে দিয়েই করাতে হবে কারণ সোনা চায় আম্বিয়াকে। আর আম্বিয়াকে পেতে হলে পথের কাঁটা শুক্কুরকে মেরে ফেলা ছাড়া কোন পথই নেই। সিদ্ধান্ত সেরকমই। সময় বাধ্য করেনি কারণ তার আগেই পুলিশের হাতে অবৈধ ব্যবসার জন্য ধরা পরে সোনা।
শুক্কুর আলী একটুকু সহানুভূতি একটুকু বালোবাসা, একটুক উদারতার প্রতিদান স্বরূপ আম্বিয়া বেগমকে, তার সম্পদের অংশ বিশেষ লিখে দেয় যা কিনা কখনওই আম্বিয়া নিতে চায়নি।
একদিন আম্বিয়া বেগম শুক্কুর আলীকে তার বাসায় আসতে বলে। তার ডাকে সারাও দেয়। এসে দেখে তার সকল সন্তানেরা আম্বিয়া বেগমের ড্রইং রুমেং বসে আছে। শুক্কুর ক্ষেপে যায়। আম্বিয়া শীতল করে বলে আপনি যেমন আপনার বাবার অনুরূপ হননী ঠিক তেমনি আপনার সন্তানেরাও আপনার মতো হবে সেটা আশা করা ঠিক নয়। ওরা ভূল করেছে। ওদের ক্ষমা করে দিন। আর আমাকে যে অংশ টুকু লিখে দিয়েছিলেন তা ওদের মধ্যে সমভাবে ভাগ করে দিয়েছি। শুক্কুর আর কিছু বলেনা। চোখ ছল ছল সন্তানেরাও তাদের ভুল বুঝতে পারে। আম্বিয়া বেগমকে বাকী জীবনটা তাদের বাবার পাশে থাকতে বলে। দুজনের মধ্যে ILU ILU ভাব দেখা যায়।




Comments
RSS feed for comments to this post