ধারাবাহিক নাটক 'জহুর আলী জহুরি'
একুশে টেলিভিশনে প্রতি মঙ্গলবার এবং বুধবার প্রচারিত হয় ধারাবাহিক নাটক 'জহুর আলী জহুরি'। ধারাবাহিক এই নাটকটি প্রচারিত হবে রাত ০৯টা ৩০ মিনিটে।
খলিলুর রহমান শাওনের রচনায় নাটকটি পরিচালনা করেছেন কায়সার আহমেদ। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন আবুল হায়াত, ডলি জহুর, আনিসুর রহমান মিলন, লিটু আনাম, আজিজুল হাকিম, কুসুম শিকদার, বিন্দু, খ.ম. হাসান, আব্দুল রাতিন, মোমেনা চেীধুরী, শামীম সহ অনেকে।

কাহিনী সংক্ষেপ : পুরনো ঢাকার অধিবাসী জহুর আলী একজন পেশাদার জহুরি। একটি জুয়েলারীতে তিনি কাজ করেন। স্বর্ণ ও পাথর পরীক্ষা করার পাশাপাশি তিনি হস্তরেখা দেখে ভাগ্য পরীক্ষা করেন এবং বিভিন্ন খদ্দেরের কাছে পাথর বিক্রি করেন। জহুরের বাবা সবুর আলী একই পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। জহুরগিড়ি জহুর আলীর বংশের ঐতিহ্য এবং পবিত্র পেশা। সে কারণে অন্য পেশা গ্রহণ করেন নি জহুর আলী।
অন্যের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য নানান ধরণের পাথর বন্দোবস্ত করে দিলেও নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি তার পরিবারের। তবুও তিনি গভীরভাবে বিশ্বাস করেন তার বাপ দাদার পবিত্র পেশাই একদিন তার সেীভাগ্য ফিরিয়ে আনবে।
জহুর আলীর তিন মেয়ে। তারা হলেন হীরা, চুন্নী এবং পান্না। হীরাকে বড় আশা করে বিয়ে দিয়েছিলো সহজ সরল যুবক রজব ওস্তাগারের সাথে। কিন্তু স্বামীর ভালোবাসা থাকা স্বত্তেও হীরা বেশী দিন স্বামীর ঘর করতে পারেনি। ননস চানবানুর ষ্বড়যন্ত্রে বাবার বাড়িতে ফিরে আসতে হয় তাকে। চানবানু প্রতি নিয়ত চাপ দেয় হীরাকে তালাক দিয়ে আরেকটা বিয়ে করতে। কিন্তু রজব রাজী হয়না। একসাথে না থাকতে পারলেও স্ত্রীর সাথে তার অটুট ভালোবাসা আছে। জহুর আলীর বিশ্বাস তার পাথরের কারণে হীরার বিয়ে এখনও টিকে আছে। তিনি আশা করেন পাথরের কল্যানে একদিন হীরা তার স্বামীর বাড়িতে ফিরে যেতে পারবেন।
চুন্নী এস এস সিতে ফেল করে ঘরে বসা। তার বিয়ের চেষ্টা করছেন। জহুর আলী প্রতি মাসেই নতু নতুন পাথর ব্যাবহার করতে দেয়। রজব ওস্তাগারের ছোট ভাই নয়া চানকে সে পছন্দ করে। কিন্তু তার হাব ভাবে তা প্রকাশ পায়না। নয়া চান নিশ্চিত হতে পারেনা চুন্নী তাকে ভালোবাসে কিনা।
পান্না স্থানীয় কলেজে ডিগ্রী ক্লাসে পড়ে। আধুনিক শিক্ষা পেয়ে পান্না অনেক বেশী আশাবাদী। বাবার পাথরের প্রতি অন্ধ বিশ্বাস করে সে। এ নিয়ে বাবার সাথে পান্নার ঠান্ড লড়াই আছে। পান্নাও পছন্দ করে নয়া চানকে। নয়া চান দুবোনের সাথেই সমর্্পক রাখে। এই আশায় সে দুজনের এক জনকে সে বিয়ে করার সুযোগ পাবে।
জহুর আলীর বাল্যবন্ধু হারুন কসাই। পেশায় কসাই হলেও হৃদয়বান তিনি। বন্ধর জন্য সব সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে থাকেন। বাবার বন্ধুত্বের সূত্রেই হারুন কসাইয়ের ছেলে বাদশা সমর্্পক করতে চায় পান্নার সাথে। পান্নার মন না পেয়ে জহুর আলীর কাছ থেকে সময় অসময়ে পাথর নেয়।
তাজে নূরজাহান একজন হিজরা। জহুর আলীর ছোট ভাইয়ের মত। তার বিয়ে সংসার কোন দিন হবেনা তবু সে মানুষ। তারও প্রেম ভালোবাসার আকাংঙ্খা থাকে। সে হীরা , চুন্নী , পান্নাকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসে। এবং লাট ভাইকে সে প্রেমিকের মতো ভালোবাসে। তাজেনুরের ভালবাসার মূল্য দিতে গিয়ে লাট ভাই বিয়ে করেনি।
চারটি পরিবারের নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা, তাদের জীবনযাত্রা , আনন্দ বেদনা, নিয়েই আবর্তিত হয় নাটকের কাহিনী। কাহিনীওত তুলে আসে পুরনো ঢাকার প্রাচীন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি।





Comments
RSS feed for comments to this post