ধারাবাহিক নাটক "ললিতা"
একুশে টেলিভিশনে প্রতি রবিবার ও সোমবার রাত ০৯ টা ৩০ মিনিটে প্রচারিত হবে ধারাবাহিক নাটক 'ললিতা'। আব্দুস সালামের মূল গল্প অবলম্বনে ধারাবাহিক এই নাটকটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন জুয়েল মাহমুদ। একুশে টেলিভিশনের নিজস্ব প্রযোজনায় নির্মিত ললিতা ধারাবাহিক নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুমাইয়া
শিমু,জয়ন্ত চট্টপাধ্যায়, শিরিন আলম, আনিসুর রহমান মিলন, বন্যা মির্জা, ইলোরা গহর,প্রাণরায়, আঁকা,মৌনতা, নাসিমা খান, কাজী আনিস,মিশা সওদাগর,জয়রায,মুনি্ন, ম.আ.সালাম,হিমেল,প্রত্যাশা,বিনয় ভদ্র,জামাল উদ্দিন, আশা মনি সহ অনেকে।
কাহিনী সংক্ষেপ ঃ সিনেমার গান ভেসে আসছে ঢাকার আশেপাশে একটি বস্তি থেকে। ঝণঝনানি শব্দ আর নারী পুরুষের উচ্চ বাচ্যে মুখরীত এই বস্তি। নিম্নবিত্ত মানুষের সুখ দুঃখের লেনাদেনার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠ্ছে এখানকার আগামীর ভবিষ্যত। এই বস্তিরই ললিতা নামের একটি মেয়ে সিনেমা দেখে আর একটাই স্বপ্ন আঁকে সে নায়িকা হবে। এজন্য ঐ বস্তির সকলদের থেকে তার চলন বলন একটু আলাদা। এখানকার নিত্য নৈমিত্তিক জীবন প্রণালীর মধ্যে ভালর চেয়ে মন্দের প্রভাবই বেশী। তবুও সংগ্রাম, বেঁচে থাকার এবং তিলে তিলে স্বপ্ন দেখার। ললিতার চলাফেরায় এই বস্তির বেশ কিছু মানুষদের নজর কাড়ে। তার সরলতার দিকে তাদের কোন নজর নেই। নজর তার দেহের প্রতি- তাই সে যেখানেই যায় কিছু চোখ আড়ালে আড়ালে শিকারী হায়নার ন্যায় জ্বলে। পুরুষ হয়েও হিজরা সেজে জিবিকা নির্বাহ করা শাহরুখ এর কন্যা ১০/১২ বছরের কুসুম এর সাথে ললিতার বেশ খাতির। যেখানেই যায় কুসুম এখন তার নিত্য সঙ্গী। বস্তির ছোট খাটো অন্যায়ের প্রতিবাদ করা তার নিত্য স্বভাব। হিজড়া সেজে থাকা শাহরুখ এর কথা না বললেই নয়- স্ত্রী-কন্যা নিয়ে বেশ খোশ মেজাজেই থাকে সে- তারপরও মানুষের ইঙ্গিতপূর্ণ কথা তাকে মাঝে মাঝে কষ্টও দেয়। তার মেয়ে কুসুম এর জন্য কিছু কিনলে ললিতার জন্য ও কেনে- কারণ ললিতাকে তার মেয়ের চোখেই দেখে। প্রকাশনীতে নিম্ন আয়ের এক কর্মচারী কবি কনক, যে ললিতার এই বাড়ন্ত শরীরে কেমন যেন ভালো লাগা খোঁজে- তাকে নিয়ে কবিতা লেখে- যদিওবা তার কবিতা কেউ শোনে না। একজন বাদামওয়ালা বাদাম বিক্রি শেষে অল্প কিছু বাদাম ললিতার জন্য নিয়ে আসে- এরকম নানা চরিত্রের সুখ দুঃখের ভাগাভাগি করে যখন ওরা চলছিল তখন রতন কারাবাস খেটে ফিরে আসে ঐ বস্তিতে। রতনের নজরে আসে ললিতা। নানা স্বপ্নে মাতাল তার চোখ। ওদিকে ললিতা স্বপ্নে স্বপ্নে নায়িকা সেজে মনের পরিব্যাপ্তি ঘটাতে থাকে। মধ্য রাতে বাবা মা এর জোর জবস্তি আদিমতা আর বস্তির কিছু মানুষের কলুসীত আচরণ ললিতার মনকে সংকীর্ণ করে রাখলেও স্বপ্ন দেখতে সে ভোলে না। রতনের নানা ফন্দি ফিকিরের জালে পা দিয়ে ললিতার বাবা জোর করে বিয়ে দেয় রতনের সাথে।
এক অজানা জীবনে পা দেয় ললিতা। কলি থেকে ফুল হওয়ার বসনা তার মনে কখনো জাগে না। তার একটাই স্বপ্ন সে নায়ীকা হবে। রতনের মোহ তাকে যন্ত্রনা দেয় বুঝতে পারে রতন। সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রয়াস চালায়। তাকে নিয়ে বিভিন্ন বিনোদনমুলক জায়গায় যায়। তবুও কোন লাভ হয় না। আদিমত্যের স্বাধ পেতে মরিয়া রতন জোর জবদস্তি একাই ভোগী হয়। যেখানে নিষপ্রাণ নির্লিপ্ত ললিতা। দিনে দিনে রতন অন্য মানুষের রূপ নেয়। রতনকে সাত্তার নামক এক মাদক ব্যাবসাই তার আয়ত্তে আনে। ললিতাকে তুলে দেয় দেহ ব্যবসার জগতের রানী সরলা বেগমের হাতে। লাইজুর জীবনে নেমে আসে অকল্পনীয় নির্যাতন। যেমন শুকনো কাপড় চেপে আগুন নেভানো যায়না। তেমনি ললিতাকে বশ করতে পারে না সরলা দেবী- অবশেষে যার ছায়ায় থেকে এই ব্যবসা চলে তার স্মরণাপন্ন হয়। বেশ ক্ষমতাধর সন্ত্রাসী ময়নার কাছে ভার দেয়া হয় ললিতার। ময়নার নিরব, স্থুল আচরণে, দিনে দিনে ললিতা নরম হয়। সে বুঝতে পারে এই অন্ধকার থেকে পালাতে হলে ময়নার সাথে নিজেকে জড়ানো ছাড়া কোন উপায় নেই। ময়নার ও ভালো লেগে যায় । ময়নার যোগ্য করে গড়ে তোলে তাকে। ঘটনার এক পর্যায়ে অনেক চতুরতার সাথে ময়নাকে বশে এনে বিয়ে করে আলোয় আসে ললিতা। সম্পদ আহোরণ আর নায়িকা হওয়ার প্রগাঢ় নেশায় চেপে বসে ললিতা। ময়নার আর এক বৌ এবং সন্তানের সাথে বেশ দা কুমড়ো সম্পর্ক হয় ললিতার এবং তা অস্বাভাবিক। এহেন নানা দ্বন্দ ও সংঘাতের মধ্যে একদিন ময়না ক্রসফায়ারে মারা যায়। ললিতাকে সামান্যতম শোকাচ্ছন্ন ও করে না। ভাগ্য চক্রে অনেক অর্থ সম্পদ হাতে এসে যায়। এতদিনে ব্যবসায়ীক বুদ্ধিতে বেশ পেঁকেছে ললিতা। এর মধ্যে ময়নার বসের আসাা যাওয়াকে ললিতা যেন সমর্থন করতে শুরু করে। এই লোকটিকে কেন তার ভালো লাগে সে নিজেও যানে না। ময়নার বসের পরিবারে বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে নিরব দ্বন্ধে জড়িয়ে যায় ললিতা। স্বপ্নকে চরিতার্থ করতে একের পর এক গলিত সিঁড়িতে পা রাখে সে। অবশেষে জীবনের স্বাধ পেতে মারিয়া হয়ে ওঠে। পারবে কি সে তার স্বপ্নকে পূরণ করতে?




