ঢাকা, শুক্রবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৮ ৩:০৯:৩১

সানিয়া নাগরিকত্ব নিয়ে মুখ খুললেন!

সানিয়া নাগরিকত্ব নিয়ে মুখ খুললেন!

‘পাকিস্তানিকে বিয়ে করেছেন সানিয়া। সেইজন্যই তিনি নাকি ভারতীয়-ই নন’— এমন ট্রোলিংয়ের সামনে মুখের মতো জবাব দিলেন সানিয়া মির্জা। সানিয়া মির্জা ভারতীয়-ই নন। উনি আদতে পাকিস্তানি। কার্যত এমন চাঁচাছোলা ভাষাতেই এবার সানিয়া মির্জার দিকে কটাক্ষের তির ভেসে এলো নেটিজেনদের। সানিয়ার অপরাধ তিনি কাঠুরিয়ায় ধর্ষিতা ৮ বছরের একরত্তির হয়ে টুইট করেছিলেন। অপরাধীদের কড়া নিন্দা করেছিলেন। তারপরেই পরপর ব্যঙ্গ বিদ্রুপের শিকার হন তিনি। তার উদ্দেশে লেখা হয়— ‘‘পাকিস্তনিকে বিয়ে করেছেন, তাই আপনি দেশের কেউ নন’’, ‘‘আপনাকে সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা দিয়েই বলছি, কোন দেশের কথা আপনি বলছেন? আপনি এক পাকিস্তানিকে বিয়ে করেছিলেন। আপনি আর ভারতীয়ই নন। যদি সত্যিই টুইট করার হয়, তাহলে পাকিস্তানি জঙ্গিরা যখন হত্যা করে, তা নিয়ে লিখুন।’’ প্রসঙ্গত, কাশ্মীরে ঘটে যাওয়া ঘৃণ্য কাজের নিন্দা করে সানিয়া লিখেছিলেন, ‘‘গোটা বিশ্বে আমরা যে স্থানে নিজেদের দেখতে চাই, এটা কি সেই দেশ? যদি আমরা জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে এই ৮ বছরের শিশু কন্যার পাশে না দাঁড়াই, তাহলে পৃথিবীর কোনও বিষয়ের জন্যই পাশে দাঁড়াতে পারব না, এমনকী মানবতার পাশেও না। হৃদয়ে ব্যথা হচ্ছে।’’ এমন টুইটের পরেই ট্রোলিংয়ের শিকার হন টেনিস তারকা। তার বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন শুরু হতেই ফের একবার টুইট করেন সানিয়া। বলে দেন, ‘‘প্রথমত, যে কেউ অন্য স্থানে বিয়ে করতে পারে। আপনি একজন ব্যক্তিকেই বিয়ে করতে পারেন। দ্বিতীয়ত, ক্ষুদ্র হৃদয়ের ব্যক্তিদের আমার নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার নেই। আমি ভারতের হয়ে খেলি। একজন ভারতীয়, এবং আজীবন তাই থাকব। যদি কোনওদিন আপনি ধর্ম, দেশের বাইরে বৃহত্তর পরিপ্রেক্ষিতে ভাবা শুরু করবেন, সেদিনই হয়তো প্রকৃত মানবতাবাদীদের পক্ষে দাঁড়াতে পারবেন।’’ এসএইচ/
সন্তানের পদবি হবে ‘মির্জা-মালিক’ : সানিয়া

ভারতের টেনিস সেনসেশন। ভৌগলিক ও জাতিগত বাধা টপকে বিয়ে করেছেন পাকিস্তানের ক্রিকেটারকে। এই সম্পর্কের জন্য নানা সময়ে নানা কথা শুনতে হয় সানিয়াকে। যে কোনো খেলায় ভারত-পাক দ্বৈরথ হলেই টানাটানি পড়ে সানিয়াকে নিয়ে। আর ক্রিকেট হলে তো কথাই নেই! তবে সেই টানাপোড়েন গা-সওয়া হয়ে গিয়েছে দুই তারকার। তাদের দাম্পত্য যেন আরও গভীর হয়ে উঠছে। সানিয়া এবার জানালেন তাঁর নয়া পরিকল্পনার কথা। জানিয়ে দিলেন, তাঁর সন্তানের পদবি তিনি শুধু মালিক হতে দেবেন না। বরং তা হবে মির্জা-মালিক।সম্প্রতি গোয়া ফেস্টে লিঙ্গ বৈষম্যের উপর একটি সেমিনারে অংশ নিয়েছিলেন সানিয়া। সেখানেই তিনি জানান এ কথা। জানান, এ নিয়ে শোয়েবের সঙ্গে তাঁর কথাও হয়েছে। এবং পাক ক্রিকেটারের এ বিষয়ে কোনও মতবিরোধ নেই। সানিয়া জানান, তাঁরা দুই বোন। কখনও ভাই নেই বলে কোনো আক্ষেপ তাঁদের ছিল না। নারী বলে যে বৈষম্যের মুখে সমাজে পড়তে হয়, সে সবকে চিরকালই অতিক্রম করে এসেছেন। পারিবারিক স্তরে কিংবা তাঁর খেলার দুনিয়ায়–সব সময় নিজের স্বাতন্ত্র তুলে ধরেছেন। কোথাও নারী বলে পিছিয়ে থাকেননি। বাড়ির অনেকে তাঁর মা-বাবাকে বলেছিলেন যে, তাঁদের একজন ছেলেসন্তান থাকলে ভাল হত। কিন্তু সানিয়ারা নিজের কাজে বুঝিয়ে দিয়েছেন, কন্যাসন্তান হলেও তাঁরা কিছু কম যান না। শুধু তাই নয়, বংশের ধারা রক্ষায় যে ছেলেরই দরকার সে মিথও ভাঙতে চান সানিয়া। আর তাই তিনি ঠিক করেছেন তাঁর সন্তানের পদবিতে অবশ্যই থাকবে মির্জা। এবং সেটা মালিকের আগেই। কখনওই শুধু মালিক পদবী হবে না। তিনি জানান, এ বিষয়ে শোয়েবের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। শোয়েব বরং তাতে খুশিই হয়েছেন। শোয়েবেরও ইচ্ছে, তাঁদের কন্যাসন্তান হোক।সুতরাং বংশের মুখ রক্ষায় যে শুধু ছেলেই দরকার এহেন মতেরই তীব্র বিরোধিতা করছেন সানিয়া। তাঁর বক্তব্য, চাইলে মেয়েরাই সে কাজ করতে পারে। বিয়ের পরও তো তিনি তাঁর পদবি পাল্টাননি। তিনি সানিয়া মির্জা আছেন এবং থাকবেনও। সুতরাং এই অজুহাতে লিঙ্গ বৈষম্যে যে নেহাতই অবমাননাকর তা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন টেনিস তারকা।সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন।/এআর /

শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার নাদালের

টেনিস বিশ্বের শীর্ষস্থানটি আবারও নিজের করে নিয়েছেন স্পেনিশ তারকা রাফায়েল নাদাল। সদ্য সমাপ্ত মিয়ামি মাস্টার্সে যুক্তরাষ্ট্রের জন ইসনারের কাছে দ্বিতীয় রাউন্ডে পরাজিত হওয়ায় র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ স্থানটি হারিয়েছেন রজার ফেদেরার। আর এতেই ফের শীর্ষস্থানের মুকুট নিজের দখলে নেন নাদাল।  জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালের পর এ পর্যন্ত কোর্টে নামেননি ইনজুরি আক্রান্ত নাদাল। যে কারণে ১৮ ফেব্রুয়ারি র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি দখলে নেন সুইস সেনসেশন ফেদেরার। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মত মাস্টার্স ইভেন্টে শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব হিসেবে ইসনার আট ধাপ উন্নীত হয়ে নবম স্থানে উঠে এসেছেন। এর আগে ২০১২ সালের এপ্রিলে প্রথমবারের মত ইসনার শীর্ষ দশে এসেছিলেন। মিয়ামি মাস্টার্সের কোয়ার্টার ফাইনালে উন্নীত হওয়ায় ২১ বছর বয়সী দক্ষিণ আফ্রিকান হেয়ন চুং প্রথমবারের মত শীর্ষ ২০’এ উঠে ১৯তম অবস্থান নিশ্চিত করেছেন। এদিকে নাদাল ৮৭৭০ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে। অন্যদিকে তারচেয়ে ১০ পয়েন্ট কম নিয়ে ফেদেরার আছেন দ্বিতীয় অবস্থানে। এরপরেই আছেন ক্রোয়েশিয়ান তারকা মরিন সিলিস। সূত্র: এএফপিএমজে/

ফেদেরারকে হারিয়ে ওয়েলস চ্যাম্পিয়ন দেল পুর্ত্রে

টেনিসের শীর্ষ তারকা রজার ফেদেরারকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ইন্ডিয়ান ওয়েলস শিরোপা জিতলেন আর্জেন্টিনার টেনিস তারকা জুয়ান মার্টিন দেল পুর্ত্রে। গত রোববার ফাইনালে টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ফেদেরারকে ৬-৪, ৬-৭,৭-৬ গেমে পরাজিত করেন পুর্ত্রে। এই প্রথমবারের মতো ইন্ডিয়ান ওয়েলস টুর্নামেন্টে শীর্ষ তারকা রজার ফেদেরারকে পরাজিত করলে ২৯ বছর বয়সী এ তারকা। এর আগে ফেদেরারের বিরুদ্ধে ২৫ ম্যাচে মুখোমুখি হন সাবেক ইউএস চ্যাম্পিয়ন দেল পুর্ত্রে। তবে বড় শিরোপা বলতে ইউএস ওপেনে ২০০৯ সালে ফেদেরারকে হারিয়ে শিরোপা জিতেন পুর্ত্রে। নতুন বছরে এটা পুর্ত্রের ১১তম জয়। জয়ের পরপরই সাংবাদিকদের দেওয়া সাক্ষাৎকারে পুর্ত্রে বলেন, আমি এখনো কাঁপছি, আমি বিস্মিত । আমার মুখ থেকে কোন স্বর আসছে না। আজকে যেটা ঘটলো, তা অবিশ্বাস্য এবং এটা আমার কাছে স্বপ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। ২ ঘণ্টা ৪২ মিনিটের শ্বাসরূদ্ধকর ম্যাচে সদ্য কব্জির ইনজুরি থেকে ফেরা দেল পুর্ত্রে দারুণ পারফরমেন্স করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ফেদেরার। দেল পুর্ত্রে খেলার প্রথম দিকে ৫ পয়েন্ট জিতে নেন। এরপরের সেটে ঘরে দাঁড়ান ফেদেরার। তবে শেষ সেটে ফেদেরারকে ৭-৬ গেমে পরাজিত করে শিরোপা নিশ্চিত করে পুর্ত্রে। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে ইন্ডিয়ান ওয়েলসের ফাইনালে ওঠেন দেল পুর্ত্রে। তবে তৎকালীন শীর্ষ তারকা রাফায়েল নাদালের কাছে পরজিত হন পুর্ত্রে। দেল পুর্ত্রে এখন র‌্যাঙিংয়ে ৮ নাম্বারে রয়েছেন। সূত্র: এএফপিএমজে/

বোনের কাছে হেরে গেল সাবেক নাম্বার ওয়ান

সময়টা ২০১৬ সাল। অস্ট্রেলিয়া ওপেনে মেয়েদের একক ফাইনালে মুখোমুখি দুই বোন। নিশ্চই, আন্দাজ করতে পারছেন ওই দুই বোন কে। হ্যা ঠিকই ধরেছেন, ওই দুই জোড় হলে সাবেক ওয়ার্ল্ড ওয়ান তারকা সেরেনা উইলিয়ামস ও তাঁর বোন ভেনাস উইলিয়ামস। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে বোন ভেনাসকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিলেন সেরেনা। তবে এবার আর পারলেন না। যদিও ফাইনাল এখনো অনেক বাকি। শিরোপাও অস্ট্রেলিয়া ওপেন নয়। তাই বলে বোনের কাছে এভাবে হেরে যাবেন তা ভাবেন-ই নি। তাইতো হারের পর ঘোষণা দিয়েছেন, নিজেকে অনেক দূর নিয়ে যাবেন। ম্যাচপরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সেরেনা বলেন,আমাকে অনেক দূর যেতে হবে। সন্তান জন্মদানের পর ৬ মাসের বিরতিতে যান সেরেনা উইলিয়ামস। ক্যালিফোর্নিয়ার ইন্ডিয়ান ওয়েলস শিরোপায় সাবেক নাম্বার ওয়ান তারকা নিজ বোনের কাছে ৬-৩, ৬-৪ গোলে হেরে যান। সেরেনা বলেন, সত্যিকার অর্থে ম্যাচটি কঠিন ছিল। এদিকে সহদারার কাছে হেরে শিরোপা থেকে বিদায় নিয়েছেন সেরেনা। অন্যদিকে ভেনাস উঠে গেছেন শেষ ষোলোয়। শেষ ষোলোতে অ্যানাসটাসিজা সেভাসতুভার মুখোমুখি হবেন ভেনাস উইলিয়ামস। সূত্র: এপিএমজে/

সন্তান জন্মের ৫মাস পরে কোর্টে নেমেই জয় পেলেন সেরেনা

সন্তান জন্মের পাঁচ মাস পর প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টে খেলতে নেমেই জয় পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের টেনিস সেরা তারকা সেরেনা উইলিয়ামস। ক্যালিফোর্নিয়াতে ইন্ডিয়ান ওয়েলসে ওই ম্যাচে কাজাকিস্তানের জরিনা ডায়াসের বিপক্ষে ৭-৫ ও ৬-৩ গেমে জয় পান তিনি। গেল বছরের সেপ্টেম্বরে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন সেরেনা। সন্তান জন্মের বেশ কিছুদিন পর কোর্টে ফিরেন তিনি। তবে সেগুলো কোন প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্ট ছিলো না। অল্প কয়েকটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এই খেলার মাধ্যমে আবারো প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টে ফিরলেন ৩৬ বছর বয়সী সেরেনা। নিজের ১৭ বছরের ক্যারিয়ারে এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ইন্ডিয়ান ওয়েলসে খেলছেন তিনি। টুর্নামেন্টে নিজের শুরুটা ভালো করতে পেরে বেশ খুশী সেরেনা। তিনি বলেন, ‘এ ম্যাচ নিয়ে আমি অনেক বেশি চিন্তিত ছিলাম। দীর্ঘদিন পর কোর্টে ফেরা। কি অবস্থা হয়, তা নিয়েই চিন্তা বেশি ছিলো। সেরেনা ইতোমধ্যে ২৩টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয় করেছেন। ২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতে এই তালিকায় সবার উপরে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার মার্গারেট কোর্ট। এমএইচ/টিকে

ফেদেরার-নাদাল-জকোভিচ যুগের শেষ দেখছেন সক

১৫ বছর ধরে টেনিস কোর্টে রাজত্ব চালানো রজার ফেদেরার, রাফায়েল নাদাল ও নোভাক জকোভিচ যুগের শেষ হতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেনিস তারকা সক এ মন্তব্য করেন। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব টেনিসকে অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরায় ওই তিন তারকার ভূয়সী প্রশংসা করেন সক। তবে সক মনে করেন, টেনিসে নতুন ঢেউ আসতে শুরু করেছে। আর এ ঢেউয়ের তোড়েই ফেদেরার-নাদাল-জকোভিচ যুগের অবসান ঘটবে। সক বর্তমানে র‌্যাঙ্কিংয়ে ৮ নম্বরে রয়েছেন। আজ তার মাঠে নামার কথা রয়েছে। তবে আফ্রিকান শিশুদের জন্য দাতব্য ফান্ড আয়োজনের এক ম্যাচে অংশ নেন সক ও ফেদেরার। সেখানে ফেদেরারের কাছে হেরে যান সক। ওইম্যাচে ১৮ লাখ ডলার তহবিলে যুক্ত হয়েছে। এদিকে আগামী ম্যাচগুলোতে সক খুব ভাল কিছু আমেরিকানদের উপহার দিতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। আজ ম্যাচ শুরুর আগে তিনি বলেন, ‘টেনিসে বর্তমানে তিন স্টার রয়েছেন, তারা হলেন রজার ফেদেরার, রাফায়েল নাদাল এবং নোভাক জকোভিচ। গত ১৫ বছর ধরে তাঁরা অনেক শিরোপা জিতেছেন। তারা এখনো ফর্মের তুঙ্গে রয়েছেন। তাই তাদের বিরুদ্ধে কোন কিছু করাটা এত সহজ নয়। তবে এটাও বলেন, বর্তমানে নতুনদের একটা ঢেউ এসে আঁছড়ে পড়েছে টেনিস কোর্টে। এই ঢেউয়ের তোড়েই তিন মোড়লের যুগের শেষ হবে বলে মনে করেন সক। এমজে/

সেঞ্চুরি ছুঁতে তিন হাত দূরে ফেদেরার

ক্রিকেটে সেঞ্চুরি হয় রানে। ফুটবলে গোলে। আর টেনিসে ? টেনিসে হয় শিরোপায়, যা এর আগে মাত্র একজনই করতে পেরেছেন। তাঁর নাম জিমি কর্নস। যুক্তরাষ্ট্রের টেনিস তারকা জিমি কর্নস ১০৯টি শিরোপা নিয়ে টেনিসকাপ জয়ীদের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছেন। সেঞ্চুরি ক্লাবে নাম লেখাতে ফেদেরার-এরও দরকার মাত্র তিন শিরোপা। কর্নসের নিচেই আছেন বর্তমান নাম্বার ওয়ান তারকা রজার ফেদেরার। বয়সে বুড়িয়ে গেলেও খেলটা দেখিয়ে যাচ্ছেন ১৮’র তরুণের মতোই। আর এতেই অস্ট্রেলিয়া ওপেনের পর রটারডাম ট্রফি জিতে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠে এসেছেন এ সুইস তারকা। পেছনে ফেলে দিয়েছেন টেনিসের হটবয় খ্যাত রাফায়েল নাদালকেও। রটারডাম ট্রফি জয়ের মাধ্যমে মোট ৯৭টি ট্রফি ঘরে তুলেছেন সুইজারল্যান্ডের এ তারকা। তাই সেঞ্চুরি পেতে আর মাত্র তিনটি শিরোপা দরকার ফেদেরারের। এতেই সেঞ্চুরির ক্লাবে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে নাম লেখাবেন ফেদেরার। এদিকে স্পেনের রাফায়েল নাদাল ৭৫ শিরোপা নিয়ে আছেন পাঁচ-এ। তবে বয়সটা এখনো ৩২ এর ঘরে হওয়ায় সামনে অবার সুযোগ পাচ্ছেন নাদাল। এমজে/  

কে পরবেন শিরোপার মুকুট?

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে প্রথমবারের মতো ফাইনাল খেলছেন তারা। তাই উত্তেজনাটাও যেন ছাড়িয়ে গেছে সবমাত্রা। নারীদের একক টেনিসে আজ রাতে মুখোমুখি হচ্ছেন টেনিস তারকা ক্যারোলাস ওজনিয়াকি ও ইমুনা হালেপ। দুই সপ্তাহের টানা উত্তেজনার পর আজ রাতেই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ অনুষ্ঠিতে হতে যাচ্ছে। আর কে হচ্ছেন এ শিরোপার দাবিদার, তা নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। যে-ই জিতবেন, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নাম লেখাবেন অসি টেনিস মুকুট জয়ের তালিকায়। শুধু তাই নয় এ শিরোপা জয়ের মাধ্যমে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ স্থানে পৌঁছে যাওয়ার সুযোগ থাকছে দুজনেরই। দুজনেরই পয়েন্ট কাছাকাছি। ক্যারোলাস ওজনিয়াকি এখন দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। আর হালেপ রয়েছেন এক-এ। এছাড়া আগামী রোববার ছেলেদের একক ফাইনালে রজার ফেদেরার লড়বেন ক্রোট মারিন চিলিচের বিরুদ্ধে। এর আগে, অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে মেয়েদের এককে শীর্ষ বাছাই রুমানিয়ান তরুণী সিমোনা হ্যালেপ এবং দ্বিতীয় বাছাই ড্যানিশ তরুণী ক্যারোলিন ওজনিয়াকি দুজনেই ফাইনাল নিশ্চিত করেন। সেমিফাইনালে সিমোনা হ্যালেপ ৬-৪, ৩-৬, ৯-৭ গেমে হারিয়েছেন জার্মানির অ্যাঞ্জেলিক কারবারকে। অন্য সেমিফাইনালে ক্যারোলিন ওজনিয়াকি ৬-৩, ৭-৬ (৭/২) গেমে হারিয়েছেন বেলজিয়ামের এলিস মার্টেনস। মাঝখানে দীর্ঘ সময় টেনিসে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি ড্যানিশ তরুণী ক্যারোলিন ওজনিয়াকি। তাই বলে হাল ছেড়ে দেননি তিনি। কখনো গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্ট জেতা না হলেও ২০০৯ ও ২০১৪ সালে ইউএস ওপেনের ফাইনাল খেলেছেন। অন্যদিকে সিমোনা হ্যালেপও কখনো গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্ট জিততে পারেননি। ফ্রেঞ্চ ওপেনে ২০১৪ ও ২০১৭ সালে ফাইনাল খেলেছেন সিমোনা হ্যালেপ। দুজনের অতীত গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্টে মোটামুটি একই রকম হলেও মুখোমুখি লড়াইয়ে অনেকটা এগিয়ে আছেন ক্যারোলিন ওজনিয়াকি। দুজন এর আগে ছয়বার মুখোমুখি হয়েছেন। এর মধ্যে চারবারই জিতেছেন ওজনিয়াকি। অবশ্য দুজন কখনো গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্টে মুখোমুখি হননি। দেখা যাক, এই লড়াইয়ে কে জিতেন! এদিকে পুরুষ এককে গতকাল সেমিফাইনালে ব্রিটিশ তরুণ কাইল এডমুন্ডকে ৬-২, ৭-৬ (৭/৪), ৬-২ গেমে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছেন ক্রোয়েশিয়ান তারকা ম্যারিন চিলিচ। ফাইনালে তাকে সর্বোচ্চ গ্রান্ডস্লামজয়ী ফেদেরারকে মোকাবেলা করতে হবে। সূত্র: গার্ডিয়ানএমজে/  

সাদা ফ্রেমের বালকটি-ই এখন টেনিসে বিস্ময়

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে দক্ষিণ কোরিয়ার টেনিস তারকা চং হায়েন বিস্ময় দেখিয়ে চলছেন। বিশ্বের সবচেয়ে বেশিবার গ্রান্ডস্লামজয়ী সুইস প্রতিদ্বন্দ্বী রজার ফেদেরারকে সেমি ফাইনালে ভালই মোকাবেলা করছেন চং হায়েন। চতুর্থে রাউন্ডে নোভাক জকোভিচকে হারিয়ে তৃতীয় রাউন্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সান্ড্রিনকে উড়িয়ে দেন চং। এতেই সেমিতে পৌঁছান তিনি। তবে সেমিফাইনালের ম্যাচটি ইতোমধ্যেই দারুণ জমে ওঠেছে, যদিও রজার ফেদেরার প্রথম সেটে এগিয়ে রয়েছেন। জীবনে প্রথমবারের মতো সেমি ফাইনাল ওঠেন চং হায়েন । শুধু তাই নয়, কোয়ার্টার ফাইনালেও এবারই প্রথম ওঠেন তিনি। ছয় বছর বয়স থেকে চং হায়েন টেনিস খেলছেন। তবে দর্শকদের সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করছে, সাদা ফ্রেমে আটকানো তার চশমা। এই চশমা পরেই খেলা চালিয়ে যান চং হায়েন। বাবা-ভাইয়ের হাত ধরেই টেনিসে পা রাখেন চং। সুত্র: বিবিসিএমজে/

অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শেষ নাদালের

  অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে দারুণ পারফরমেন্স করতে থাকা টেনিসের শীর্ষ তারকা রাফায়েল নাদালের স্বপ্নটা একেবারে শেষের দিকে এসে ভেঙ্গে গেল। খেলার মাঝপথে ডান পায়ে চোটে পেয়ে ছিটকে গেলেন টুর্নামেন্ট থেকে। বিশ্ব টেনিসের এই নাম্বার ওয়ান তারকা মেলবোর্ন পার্কের ওই ম্যাচটিতে শুরু থেকেই দারুণ খেলছিলেন। তবে দ্বিতীয় স্পেলে কিছুটা পিছিয়ে ছিলেন। তৃতীয় সেটে আবারও লড়াই চালিয়ে যান বিশ্ব টেনিসের নাম্বার ওয়ান এই তারকা। দারুণ খেলতে থাকা মারিন সিলিচ ৩-৬, ৬-৩, ৬-৭, ৬-২, ২-০ গেমে এগিয়ে ছিলেন স্প্যানিশ এই কিংবদন্তীর বিপক্ষে। তবে খেলার একেবারে শেষ দিকে পায়ের ইনজুরিতে পড়েন নাদাল। এরপরই মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান নাদাল। নাদালের বিদায়ে বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যামের সেমি-ফাইনালে উঠেছেন ষষ্ঠ বাছাই ক্রোয়েশিয়ার সিলিচ। শেষ চারে তিনি লড়বেন ব্রিটেনের কাইল এডমুন্ডের সঙ্গে। এদিকে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে অঘটন যেন ঘটেই চলেছে। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকান নবাগত টেনিস তারকা কাইল এডমুন্ডের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছেন। সুত্র: এএফপিএমজে/  

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে সেমিতে ব্রিটিশ তারকা

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে প্রথমবারের মতো সেমি ফাইনালে ওঠেছেন ব্রিটেনের টেনিস তারকা কাইল এডমান্ড। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রিগর দিমিত্রভকে পরাজিত করে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে প্রথমবারের মতো শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। আর এতে অসি-ওপেনে ষষ্ঠবারের মতো কোন ইংলিশ টেনিস তারকা শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছেন। এর আগে প্রথমবারের মতো শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছিলেন এডমান্ড। তবে শেষ চারে ওঠতে তাকে রীতিমতো ঘাম ঝড়াতে হয়েছে। দিমিত্রভকে ৬-৪, ৩-৬, ৬-৩, ৬-৪ গেমে পরাজিত করে শেষ চারে জায়গা করে নেন ব্রিটিশ এ টেনিস তারকা। প্রথম সেটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চালিয়ে আসলেও দ্বিতীয় সেটে বাজেভাবে হেরে যান এডমান্ড। তবে তৃতীয় সেটে আবারও ঘুরে দাঁড়ান তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে থাকাতে হয়নি। সর্বশেষ সেশনটি ৬-৪ গেমে জিতে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেন তিনি। র‌্যাংকিংয়ে ৪৯ নম্বরে থাকা কাইল এডমান্ড সেমিফাইনালে টেনিসের শীর্ষ তারকা রাফায়েল নাদাল অথবা ম্যারি কিলিকের মুখোমুখি হবেন। এদিকে প্রথম বারের মতো সেমিফাইনালে ওঠায় দারুণ মৌজে রয়েছেন এডমান্ড। তিনি বলেন, আজকের বিজয় আমার জন্য প্রেরণাদায়ক। ম্যাচশেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই শক্ত লড়াইয়ের পর আমি নিজেকে উপভোগ করতে চাই। এটি ছিল এই কোর্টে আমার প্রথম ম্যাচ। সুত্র: এএফপিএমজে/

গুরুকে হারিয়ে কোয়ার্টারে শিষ্য

গুরুর খেলা দেখেছেন ভিডিওতে। দেখেছেন ইউটিউবে। আবার কখনো সুযোগ পেলে মাঠে বসে আয়ত্ত্ব করেছেন গুরুর কৌশল। রপ্ত করার চেষ্টা করেছন ব্যাট চালানোর স্টাইল। তবে কখনো গুরু থেকে সরাসরি শিক্ষা নেওয়ার কোন সুযোগ হয়নি। তবে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ না ঘটলেও এবার সেই আইডলকে হারিয়ে গর্বে আত্মহারা দক্ষিণ কোরিয়ার ২১ বছর বয়সী টেনিস তারকা চং হায়েন। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচে ১২ বারের গ্রান্ডস্লামজয়ী নোভাক জকোভিচকে হারিয়ে পুরো দক্ষিণ আফ্রিকাকে-ই যেন নিয়ে গেছেন তৃতীয় রাউন্ডে। আর এ জয়ে চং হায়েন এতটাই উচ্ছ্বসিত যে, তিনি নিজেকে বিশ্বাসই করতে পারছেন না। নোভাক জকোভিচ এ পর্যন্ত ৬৮টি টুর্নামেন্টে শিরোপা জয় করেছেন, যেখানে চং হায়েন একটিও আন্তর্জাতিক শিরোপা জয়লাভ করতে পারেনি। তবে গতকালকের ম্যাচে সার্বিয়ান তারকা নোভাক জকোভিচকে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়েছে ছোঁকরা বালক চং হায়েনের সঙ্গে। তিনঘণ্টা ২১ মিনিটের শ্বাসরুদ্ধকর এই ম্যাচে জকোভিচকে ৭-৫, ৭-৬,৭-৬ গেমে পরাজিত করে তৃতীয় রাউন্ডে উঠে এসেছে চং হায়েন। ছয় বছর বয়স থেকে চং টেনিস খেলা শুরু করেন। তবে তার খেলা শুরুর প্রথম থেকেই জকোভিচের কৌশল রপ্ত করার চেষ্টা করতেন চং, এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। জকোভিচের মানষিক শক্তি আর উদ্যমই চংকে সাহস যুগিয়েছে বলে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জানান। আর এ ম্যাচের মধ্য দিয়ে প্রথম দক্ষিণ কোরিয়ান হিসেবে তৃতীয় রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছেন চং। এদিকে চংয়ের পারফরমেন্স নিয়ে দারুণ মন্তব্য করেছেন টেনিস তারকা নোভাক জকোভিচও। জকোভিচ বলেন, আজ চং দারুণ খেলা খেলেছে। যখনই সে খেলায় পিছিয়ে পড়ছিল, তখনই আবারও কতগুলো টেকনিক্যাল শট খেলে ম্যাচে জায়গা করে নিয়েছে। আজকে কোর্টে সে একজন দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কোনভাবেই বলকে কোর্টের বাইরে পাঠাতে পারছিলাম না। সুত্র: এএফপিএমজে/  

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি