ঢাকা, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৩:১৫:৫০

মাসুদ রানা থেকে সোহেল রানা

মাসুদ রানা থেকে সোহেল রানা

আমরা যারা তরুণ প্রজন্ম সোহেল রানাকে চিনি তারা হয়তো অনেকেই জানি না যে শুরুর দিকে তিনি পরিচিত ছিলেন মাসুদ রানা ও মাসুদ পারভেজ নামে। তবে সোহেল রানা যখন পর্দা কাঁপিয়েছেন তখনকার দর্শকরা সব নামেই তাঁকে চেনেন। কারণ বাংলাদেশি সিনেমার ড্যসিং হিরো খ্যাত ‘মাসুদ পারভেজ, মাসুদ রানা ও ‘সোহেল রানা’ সব নামেই দর্শকদের কাছে পরিচিত এবং জনপ্রিয় ছিলেন। তবে এই নাম গুলোর মধ্যে সাধারণ মানুষ তাঁকে অভিনেতা সোহেল রানা হিসেবেই বেশি চেনেন। কিন্তু ব্যক্তি মাসুদ রানা বা মাসুদ পারভেজ কিভাবে সোহেল রানা হয়ে উঠলেন তা হয়তো অনেকেরই অজানা। স্বাধীনতার পর বাংলা চলচ্চিত্রে যে কজন তারকা বাংলাদেশি সিনেমাকে উজ্জল করে তুলেছিলেন তাদের মধ্যে সেহেল রানা ছিলেন অন্যতম। প্রযোজনা, পরিচালনা ও অভিনয় এই তিন ক্ষেত্রেই সফল একজন মানুষ তিনি। বাংলা চলচ্চিত্রের স্বনামধন্য প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘পারভেজ ফিল্মস’ এর কর্ণধার এই সোহেল রানা। কিভাবে ব্যক্তি মাসুদ পারভেজ ও মাসুদ রানা হয়ে উঠলেন সোহেল রানা তা জানতে চাইলে এই খ্যাতিমান অভিনেতা, প্রযোজক, পরিচালক জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সরাসরি যুদ্ধ করেন। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর চলচ্চিত্র নির্মাণে এগিয়ে আসেন তিনি। প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘ওরা ১১ জন’ সিনেমা দিয়ে। এই সিনেমার নায়ক ছিলেন খসরু। যার আসল নাম কামরুল আলম খান। তিনিও ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। সোহেল রানার নিকটতম বন্ধু ছিলেন খসরু। মুক্তিযুদ্ধ শেষ করে সোহেল রানা ও তার বন্ধুরা বেশ চিন্তায় পড়ে গেলেন। কী করবেন এই চিন্তা যখন তাদের মাথায় ঠিক তখনই চলচ্চিত্রের কথা মনে পড়ে যায় এই তরুণদের। তারা ভাবলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজেদের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়েই তৈরি করবেন চলচ্চিত্র। সেই ভাবনা থেকেই চলচ্চিত্রে নাম লেখালেন সোহেল রানা। শুরুটা ঠিক এভাবেই ছিল। মাসুদ রানা নামে প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন তিনি। কিন্তু পরে হয়ে গেলেন নায়ক। মজার ব্যাপার হলো ‘মাসুদ রানা’ সিনেমার প্রধান চরিত্রের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলো। চরিত্র নির্বাচনের জন্য এসএম শফি, সুমিতা দেবী, মাসুদ পারভেজ আর আহমেদ জামান চৌধুরীকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হলো। সারাদেশ থেকে অনেকেই ছবি তুলে পাঠালেন মাসুদ রানা চরিত্রটির জন্য। কিন্তু ঘটল এক মজার ঘটনা। এসএম শফি, সুমিতা দেবী আর আহমেদ জামান চৌধুরী হঠাৎ একদিন মাসুদ পারভেজকে বললেন, ‘তুমিই হবে মাসুদ রানা।’ আহমেদ জামান চৌধুরী তখনই নায়ক হিসেবে তার নাম বদলে দিলেন। নাম রাখলেন সোহেল রানা। সেই থেকে মাসুদ রানা ও মাসুদ পারভেজ হয়ে গেলেন সোহেল রানা। ওই সিনেমাটি মুক্তির মাধ্যমে দর্শকরা তাঁকে পর্দায় দেখতে পান ১৯৭৪ সালে। উল্লেখ্য, মাসুদ পারভেজ জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাজধানী ঢাকাতে। তাঁর জন্ম ঢাকাতে হলেও পৈতৃক বাসস্থান বরিশাল জেলায়। তাঁর স্ত্রী ডা. জিনাত পারভেজ এবং একমাত্র পুত্র সন্তান মাশরুর পারভেজ জীবরান। তিন ভাইয়ের অন্য দুই ভাই কামাল পারভেজ ও মাসুম পারভেজ রুবেল। এসএ/
আজ বিনামূল্যে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা

আজ মহান বিজয় দিবস। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পৌঁছে দিতে সকালে সারা দেশের প্রেক্ষাগৃহে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে দেখানো হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চারটি চলচ্চিত্র।যে চারটি সিনেমা দেখানো হবে তা হচ্ছে- চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘ওরা ১১ জন’, হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত ‘আগুনের পরশমণি’, তৌকীর আহমেদ পরিচালিত ‘জয়যাত্রা’ ও নাসির উদ্দীন ইউসুফ পরিচালিত ‘গেরিলা’।প্রেক্ষাগৃহে বিনামূল্যে এই চারটি সিনেমা দেখানো প্রসঙ্গে চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিয়া আলাউদ্দিন বলেন, ‘বিজয় দিবসের দিনে সারা দেশের সিনেমা হলগুলোতে আমরা মর্নিং শোতে ছাত্রছাত্রীদের জন্য ফ্রি সিনেমা দেখাচ্ছি। এরই মধ্যে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের চারটি সিনেমা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। সকাল বেলায় সারা দেশে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়, তার পরপরই এই সিনেমাগুলো প্রদর্শন করা হবে। তবে একটি সিনেমা হলে একটি সিনেমাই দেখানো হবে। ছাত্রছাত্রীরা দেখতে পারবে মাত্র একটি সিনেমা। কারণ চারটি সিনেমা বিভিন্ন হলে দেখানো হবে একই সময়ে।’এর আগে বিজয় দিবসে শিক্ষার্থীদের জন্য এ রকম চলচ্চিত্র প্রদর্শনের রেওয়াজ চালু ছিল।এসএ/

পিছিয়ে গেল ‘নূর জাহান’

রোমান্টিক সিনেমা ‘নূর জাহান’র মুক্তির তারিখ পেছালো জাজ মাল্টিমিডিয়া। দুই কিশোর কিশোরীর প্রেমের গল্প ‘নূর জাহান’ ভালোবাসা দিবসে মুক্তি দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই তারিখ পরিবর্তন করে ভালোবাসা দিবসের দুই দিন পর ১৬ ফেব্রুয়ারি এটি মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা এসেছে। অপরদিকে জানা গেছে, চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ অভিনীত ও জাকির হোসেন রাজুর পরিচালনায় ‘ভালো থেকো’ চলচ্চিত্রের জন্য এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ‘ভালো থেকো’ চলচ্চিত্রটি প্রথমে ২০১৭ এর ২২ ডিসেম্বর মুক্তির কথা থাকলেও একই সময়ে আরও অনেকগুলো চলচ্চিত্রের ধারাবাহিক সাফল্যের কথা বিবেচনা করে কয়েকদিন আগে ‘ভালো থেকো’ মুক্তির তারিখ পেছানোর ঘোষণা দেন এর প্রযোজক জাহিদ হাসান অভি। অভি তখন জানান, ২০১৮ সালের ভালোবাসা দিবসের সময় অর্থাৎ ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি পেতে যাচ্ছে আরেফিন শুভ ও তানহা তাসনিয়া অভিনীত ‘ভালো থেকো’। কিন্তু ঠিক একই সময়ে মুক্তির কথা ছিল ভারতের বিখ্যাত পরিচালক রাজ চক্রবর্তী ও বাংলাদেশের জাজ মাল্টিমিডিয়ার যৌথ প্রযোজনায় অভিমন্যু মুখার্জী পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘নূর জাহান’ এর। জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আব্দুল আজিজ জানান, ‘ভালো থেকো’র পরিচালক জাকির হোসেন রাজু ও অভিনেতা আরেফিন শুভ’র প্রতি ভালোবাসা স্বরূপ রাজ চক্রবর্তী প্রোডাকশন ও এসভিএফের সঙ্গে এক বৈঠক করে তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ‘নূর জাহান’ এর মুক্তির তারিখ তাঁরা এক সপ্তাহ পেছাবেন। অর্থাৎ, ‘ভালো থেকো’ মুক্তির এক সপ্তাহ পরে দর্শকদের জন্য প্রেক্ষাগৃহে ১৬ ফেব্রুয়ারি আসবে ‘নূর জাহান’। উল্লেখ্য, এসভিএফ ফিল্মস এর সহ প্রযোজনায় ‘নূর জাহান’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন নবাগত দুই অভিনয়শিল্পী- বাংলাদেশের পূজা চেরি রায় ও ভারতের আদিত্য। এসএ/

ঢাকাই চলচ্চিত্রে মুক্তিযুদ্ধ

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রামাণ্য, স্বল্পদৈর্ঘ্য এবং পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র কম নির্মাণ হয়নি। সিনেমার পাশাপাশি নির্মাণ হয়েছে টেলিভিশন এবং মঞ্চ নাটকও। এ কথা সত্য যে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক যা কিছু নির্মাণ হয়েছে তা আমাদের ইতিহাসের সম্পদ হয়ে থাকবে। তবে এই অহংকারের পাশাপাশি দু:খের বিষয় হচ্ছে এ যাবৎ যতোগুলো নির্মাণ আমরা পেয়েছি তা মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত নয়। এর অবশ্য বিভিন্ন কারণও রয়েছে। প্রতিকূল পরিবেশ না থাকা, নির্মাতাদের আগ্রহের অভাব এবং সরকারি অনুদানের অভাবে মুক্তিযুদ্ধের কাহিনী নির্ভর সিনেমা বরাবরই থেকে গেছে অবহেলায়। এমনকি উপযুক্ত সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোও। যদিও বিগত দিনে নির্মাতারা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যা কিছু নির্মাণ করেছেন এবং দর্শকদের উপহার দিয়েছেন তা দেশে এবং দেশের বাইরে প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিজয়ের এই মাসে দেশিয় চলচ্চিত্রে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধের সিনেমার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই প্রতিবেদন- বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে বিভিন্ন সময়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নানা চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়ে আসছে। এ দেশের সুস্থ ধারার চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে একটি বড় অংশ জুড়ে আছে এই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্রগুলো। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এক বছরের মধ্যেই ১৯৭২ সালে মুক্তি পায় চারটি চলচ্চিত্র। এগুলো হলো— চাষী নজরুল ইসলামের ‘ওরা ১১ জন’, সুভাষ দত্তের ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’, মমতাজ আলীর ‘রক্তাক্ত বাংলা’ এবং আনন্দের ‘বাঘা বাঙ্গালী’। ১৯৭৪ সালে প্রয়াত পরিচালক নারায়ণ ঘোষমিতা ‘আলোর মিছিল’ নামে একটি সিনেমা নির্মাণ করে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। একই বছর চাষী নজরুল ইসলাম নির্মাণ করেন ‘সংগ্রাম’ নামে একটি সিনেমা। ‘কার হাসি কে হাসে’ শিরোনামে একটি সিনেমা নির্মাণ করেন আনন্দ। মোহাম্মদ আলীর পরিচালনায় নির্মিত হয় ‘বাংলার ২৪ বছর নামে’ একটি সিনেমা। ১৯৭৬ সালে হারুন-উর-রশীদ নির্মাণ করেন ‘মেঘের অনেক রঙ’ নামে একটি আলোচিত সিনেমা। ১৯৮১ সালে শহীদুল হক খান ‘কলমীলতা’ নামে একটি সিনেমা নির্মাণ করে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। ১৯৮১ সালের পর প্রায় ১২ বছর দেশে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোনো সিনেমা নির্মিত হয়নি। ১৯৯৩ সালে ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ শিরোনামে একটি সিনেমা নির্মাণ করেন হারুন-উর-রশীদ। একই বছর নাসির উদ্দিন ইউসুফ নির্মাণ করেন ‘একাত্তরের যীশু’। পরের বছর অর্থাৎ ১৯৯৪ সালে কাজী হায়াত নির্মাণ করেন ‘সিপাহী’ নামে একটি নতুন সিনেমা। প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদ নির্মাণ করেন তার বহুল আলোচিত সিনেমা ‘আগুনের পরশমনি’। তানভীর মোকাম্মেল নির্মাণ করেন ‘নদীর নাম মধুমতি’। ১৯৯৭ সালে খান আতাউর রহমান ‘এখনো অনেক রাত’ শিরোনামে এবং চাষী নজরুল ইসলাম ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’ নামে দুটি সিনেমা নির্মাণ করেন। ১৯৯৮ সালে নাজির উদ্দিন রিজভী ‘৭১ এর লাশ’, ২০০০ সালে শামীম আখতার ‘ইতিহাস কন্যা’, ২০০১ সালে এম সালাউদ্দিন ‘একজন মুক্তিযোদ্ধা’ ২০০২ সালে শামীম আখতার ‘শিলালিপি’, প্রয়াত তারেক মাসুদ ‘মাটির ময়না’ ২০০৪ সালে তৌফির আহমেদ ‘জয়যাত্রা’ হুমায়ূন আহমেদ ‘শ্যামল ছায়া’ চাষী নজরুল ইসলাম ‘মেঘের পরে মেঘ’, ২০০৬ সালে চাষী নজরুল ইসলাম ‘ধ্রুবতারা’, মোরশেদুল ইসলাম ‘খেলাঘর’, ২০০৭ সালে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ‘স্পার্টাকাস’, ২০০৮ সালে তানভীর মোকাম্মেল ‘রাবেয়া’, ২০১০ সালে মুশফিকুর রহমান গুলজার ‘নিঝুম অরণ্যে’, ২০১১ সালে মোরশেদুল ইসলাম ‘আমার বন্ধু রাশেদ’, নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু ‘গেরিলা’, রুবাইয়াত হোসেন ‘মেহেরজান’, শাহজাহান চৌধুরী ‘আত্মদান’, আনোয়ার শাহাদাত ‘কারিগর’, ২০১২ সালে বদরুল আলম সৌদ ‘খন্ড গল্প ৭১’, মাসুদ আখন্দ ‘পিতা’, ২০১৩ সালে তানভীর মোকাম্মেল ‘জীবন ঢুলী’, মিজানুর রহমান শামীম ‘৭১ এর গেরিলা’, ২০১৪ সালে মনসুর আলী ‘৭১ এর সংগ্রাম’, জাহিদুর রহিম অঞ্চন ‘মেঘমল্লার’, গোলাম মোস্তফা শিমুল ‘অনুকোশ’, সাদেক সিদ্দিকী ‘হৃদয়ে ৭১’, শাহ আলম  কিরণ ‘৭১ এর মা জননী’। একই সঙ্গে ২০১৪ সালে কবি নির্মলেন্দু গুণ রচিত নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ কবিতা অবলম্বনে মাসুদ পথিক নির্মাণ করেন ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’। এ চলচ্চিত্রটিতেও মুক্তিযুদ্ধের চিত্র ফুটে উঠেছে। ২০১৫ সালে মুক্তি পায় সোহেল আরমানের ‘এইতো প্রেম’, মানিক মানবিকের ‘শোভনের স্বাধীনতা’, মোরশেদুল ইসলামের ‘অনীল বাগচীর একদিন’, মান্নান হীরার সিনেমা ‘একাত্তরের ক্ষুদিরাম’ এবং রিয়াজুল রিজুর ‘বাপজানের বায়োস্কোপ’। ২০১৬ সালে মুক্তিযুদ্ধের দুটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। এগুলো হলো- ‘লাল সবুজের সুর’ ও ‘ভূবন মাঝি’। তবে এর বাইরে কিছু সিনেমা নির্মাণ হয়েছে।   এসএ/  

বিদেশের মাটিতে ‘হালদা’র জয়জয়কার

দেশের গণ্ডি পাড়ি দিয়ে তৌকীর আহমেদ পরিচালিত ‘হালদা’ প্রশংসিত হচ্ছে বিদেশেও। সম্প্রতি কানাডা, আমেরিকা ও আরব আমিরাতের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় সিনেমাটি। গত ১ ডিসেম্বর দেশের ৮১টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি এবার বিদেশেও প্রশংসিত হচ্ছে। দর্শকপ্রিয়তা পাওয়ায় কানাডার প্রেক্ষাগৃহে দ্বিতীয় সপ্তাহেও চলছে ‘হালদা’। ‘হালদা’র বিশ্ব পরিবেশনার দায়িত্বে রয়েছে আন্তর্জাতিক পরিবেশক সংস্থা স্বপ্ন স্কেয়ারক্রো। এর প্রধান নির্বাহী সৈকত সালাউদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, কানাডায় সগৌরবে দ্বিতীয় সপ্তাহে চলছে ‘হালদা’। এই সপ্তাহ পর ১৯ জানুয়ারি মুক্তি পাবে আরও ৪টি হলে। সিনেমাটি ইতিমধ্যে ওমানেও মুক্তি পেয়েছে। তিনি আরও জানান, ওমানে মুক্তি ও কানাডায় দ্বিতীয় সপ্তাহে পদার্পণ উপলক্ষে ১৫ ডিসেম্বর শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ফেসবুক লাইভে আসেন গমগম ও হালদার গানের স্রষ্টা পিন্টু ঘোষ। ‘হালদা’ সিনেমাতে নাদের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাহিদ হাসান। হাসু চরিত্রে নুসরাত ইমরোজ তিশা, বদিউজ্জামান চরিত্রে মোশাররফ করিম এবং ফজলুর রহমান বাবু অভিনয় করেছেন মনু মিয়া অর্থাৎ হাসুর বাবার চরিত্রে। অপরদিকে নাদেরের প্রথম স্ত্রী জুঁই চরিত্রে আছেন রুনা খান। এ ছাড়াও বিশেষ চরিত্রে রূপদান করেছেন দিলারা জামান, শাহেদ আলী ও মোমেনা চৌধুরী। এসএ/  

বিজয় দিবসের নাটকে কবরী

দীর্ঘ দিনের বিরতির পর আবারও নাটকে অভিনয় করছেন চলচ্চিত্রের মষ্টি মেয়ে খ্যাত নায়িকা কবরী। বিজয় দিবস উপলক্ষে ‘ডেটলাইন ২০১৭’ নামে একটি নাটকে বীরাঙ্গনা চরিত্রে তিনি অভিনয় করেছেন। এই নাটকে কবরীর কন্যার চরিত্রে অভিনয় করেছেন তরুণ প্রজন্মের অভিনয়শিল্পী সাফা কবির। নাটকটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন সাজ্জাদ হোসেন দোদুল।   এ প্রসঙ্গে সাজ্জাদ হোসেন দোদুল বলেন, ১৯৭১ সালে একজন নারী তার সম্ভ্রম হারান। বীরঙ্গনা এই নারীর মেয়ে ২০১৭ সালে এসে দুবৃত্তদের হাতে ধর্ষিত হয়। সমাজের নষ্ট এসব কীটদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে চান মা। অন্যদিকে তার মেয়ে অত্বহননের পথে পা বাড়ায়। এমনই ঘটনা নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ‘ডেটলাইন ২০১৭’। বিজয় দিবসে একটি বেসরকারী টেলিভিশনে নাটকটি সম্প্রচার করা হবে।     এসি/    

নতুন বছরের শুরুতে জয়ার ‘পুত্র’

দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। ঢালিউডের পাশাপাশি তিনি অভিনয়ে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন টালিউডেও। নিয়মিত অভিনয় করে ওপার বাংলার দর্শকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন তিনি। জয়া যে একজন পাকা অভিনেত্রী তার প্রমাণ রাখতে সক্ষম হয়েছেন সম্প্রতি মুক্তিপাওয়া বেশি কিছু সিনেমায়। নতুন খবর হচ্ছে- নতুন বছরের শুরুর দিকে মুক্তি পাচ্ছে জয়া আহসান অভিনিত সিনেমা ‘পুত্র’। বছরের প্রথম সপ্তাহেই মুক্তি পেতে যাচ্ছে এই সিনেমাটি। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন সাইফুল ইসলাম মান্নু। তথ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের প্রযোজনা এবং ইমপ্রেস টেলিফিল্মের তত্ত্বাবধায়নে নির্মিত হয়েছে ‘পুত্র’। অটিস্টিক শিশুদের বেড়ে ওঠা, পরিবারের চ্যালেঞ্জ আর পারিপার্শ্বিক সামাজিক অবস্থায় একটি অটিস্টিক শিশু জীবন-যাপন কেমন হয়, শিশুটি কীভাবে বেড়ে ওঠে, সেসব দৃশ্যপট তুলে ধরা হয়েছে ‘পুত্র’ সিনেমাতে। চলচ্চিত্রটির ডিস্ট্রিবিউটিংয়ের দায়িত্বে পেয়েছে জাজ মাল্টিমিডিয়া। জয়া আহসান ছাড়াও ‘পুত্র’ সিনেমায় অন্যান্যের মধ্যে অভিনয় করেছেন আহসান হাবিব, রিচি সোলায়মান, সাবেরী আলমসহ অনেকে। হারুন রশীদের কাহিনিতে চিত্রনাট্য ও সংলাপ করেছেন নির্মাতা নিজেই। এসএ/

সবাইকে পেছনে ফেলেছেন বুবলী

চিত্রনায়িকা বুবলী। বর্তমান সময়ে শাকিব খানের বিপরিতে ঢলিউডে সব চেয়ে বেশি সিনেমায় অভিনয় করা নায়িকা। এবার তিনি ঢালিউডের সব নায়িকাদের ছাড়িয়ে গেলেন। চলতি বছরে গুগল সার্চ ইঞ্জিনে অনুসন্ধানকৃত বাংলাদেশের শীর্ষ ব্যক্তিদের তালিকায় একমাত্র চিত্রনায়িকা ঢাকাই সিনেমার আলোচিত এই তারকা। যেখানে শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। ২০১৭ সালে গুগলে সর্বাধিক অনুসন্ধাকৃত ১০ জনের মধ্যে বুবলী রয়েছেন ৯ নম্বরে। তবে গুগল ট্রেন্ডিংয়ে পিপল তালিকায় সব বিভাগের শীর্ষে রয়েছেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী সাবিলা নূর। দুই নম্বরে রয়েছেন একজন পর্ন তারকা। এছাড়া সম্মিলিত তালিকায় তাসকিন আহমেদের স্থান রয়েছে ৩ নম্বরে। এরপরে চার নম্বরে রয়েছেন ঢাকাই ছবির সুপারস্টার শাকিব খান। জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম আছেন পাঁচ নম্বরে। সার্চ ট্রেন্ডে জায়গা করে নিয়েছেন মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল। তিনি আছেন ছয়ে। তারপর সাত নম্বরে আছেন ক্রিকেট তারকা মাশরাফি বিন মুর্তজা। আটে বাংলাদেশি ইউটিউবার তৌহিদ আফ্রিদি। নয়ে বুবলী ও দশম স্থানে সংগীতশিল্পী আতিফ আসলাম। প্রসঙ্গত, মার্কিন সার্চ জায়ান্ট গুগল প্রতিবছর তাদের সার্চ ইঞ্জিনে অনুসন্ধানকৃত বিষয়গুলোকে বছর শেষে ট্রেন্ডিং হিসেবে প্রকাশ করে। এ বছরে প্রকাশিত তালিকা থেকে পিপল তালিকায় দেখা গেছে এসব তথ্য। এসএ/  

সব ছেড়েও শাকিবকে হারাচ্ছেন অপু

‘একটা জীবনকে সুন্দরভাবে বাঁচতে হলে আরেকটা জীবনের ছোঁয়া লাগে। আমি মনে করেছিলাম তোমার ভালোবাসার স্পর্শে আমার জীবনটাকে সাজাবো।’- অপুকে এ কথাগুলো বলেছিলেন শাকিব খান। একথা বলেই সে অপুকে প্রথম প্রেমের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু ওই সময় শাকিবের এ রোমান্টিক ও আবেগী কথাগুলো শুনেও অপু তার প্রস্তাবে রাজি হয়নি। অপুর এই অনিহা দেখে শাকিব তখন বলেছিলেন- ‘পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ আছে যারা ভালোবাসে কিন্তু তাদের ভালোবাসা জয়ি হয় না। সৃষ্টিকর্তা আমাকে হয়তো তাদের দলে ফেলেছে। আগে যদি জানতাম তাহলে হয়তো ভালোবাসতাম না। আমি আমার জীবনের সব কিছু চাওয়ার আগেই পেয়েগেছি। না পাওয়ার কষ্ট যে কত বেশি কষ্টের আজ তা বুঝতে পারছি। আমার চাওয়ায় হয়তো ভুল ছিলো। আমার ভালোবাসায় হয়তো শক্তি নেই। তাই তোমাকে পেলাম না। তুমি হয়তো তোমাকে চাইতে বাধা দিয়েছো। কিন্তু আমার মানোষপটে যে তুমি আছো তা কিন্তু তুমি সরিয়ে দিতে পারবে না। তাকে তো ভালোবাসতে বাধা দিতে পারবে না। আমি না হয় তাকে নিয়েই থাকবো।’ এ কথা বলে শাকিব চলে যান। কিন্তু শাকিবের এই রোমান্টিক বক্তব্যের পর অপু আর নিজেকে সামলে রাখতে পারেননি। ছুঁটে এসে শাকিবকে বলেন, ‘যে চাওয়ায় এতো পবিত্রতা, যে ভালোবাসায় এতো শক্তি সে ভালোবাসা উপেক্ষা করার শক্তি যে আমার নেই।’ এ কথা বলেই শাকিবকে জড়িয়ে ধরেন অপু। ‘লাভ ম্যারেজ’ সিনেমার একটি দৃশ্যে অপুকে এমন কথা বলেছিলেন শাকিব। আর শাকিবকে এসব কথা বলেন অপু। যদিও এই রোমান্টিক কথাগুলো সিনেমার, তবে বাস্তবেও অপু-শাকিবের জীবনে এই একই ঘটনা ঘটেছিলো। একই কথা বলেছিলেন দুজন দুজনকে। সিনেমার প্রেম সেদিন বাস্তবে রূপ নেয় একই ঢং ও রঙে। এমনকি বাস্তব জীবনে অপু সিনেমাকেও হার মানিয়েছে। নিজের ধর্ম ত্যাগ করে শাকিবের সঙ্গে জুটি বাধেন তিনি। যখন তাদের প্রেম ও পরিনয় ঘটে ঠিক সেই সময়টাতে দুজনই সমান ভাবে জনপ্রিয়। ঢালিউডের সব দর্শকই তখন অপু-শাকিব জুটির রসায়নে মাতোয়ারা। শাকিব যেমন সুপারস্টার, ঠিক তার বিপরিতে অপুও শীর্ষ নায়িকাদের শীর্ষে। অপু ছাড়া শাকিবের কোন সিনেমাই হিট ছিলোনা তখন। অপরদিকে শাকিব ছাড়াও অপু অন্য কারও সঙ্গে সিনেমায় জুটি বাঁধেননি। সেই উজ্জ্বল ক্যারিয়ার থেকে দূরে সরে আসেন অপু। আর তা শাকিবের ক্যারিয়ারের কথা মাথায় রেখেই। ওই সময় অনেক ঘটনা ঘটে যায় দুই তারকার বাস্তব জীবনে। পর্দার আড়ালে থাকা সেইসব রহস্যময় ঘটনা হয়তো সাধারণ মানুষের অজানা কিন্তু একটি মেয়ে তার পারিবারিক সব বন্ধন ছিন্ন করে, উজ্জ্বল একটি ক্যারিয়ারকে ধ্বংস করে, ভালোবাসার মানুষের সব কথা মেনে নিয়ে ক্যারিয়ার থেকে দূরে সরে যান এই নায়িকা। এমনকি শাকিবের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক ও ঘনিষ্টতায় তিনবার তাকে গর্ভপাতও ঘটাতে হয়। অনেকটা বাধ্য হয়ে এটি করতে হয়েছে অপুকে। সব কিছু নিরবে এবং গোপনে মেনে নিয়েও স্ত্রীর স্বীকৃতি যখন পাচ্ছিলেন না তখনই সন্তানকে কোলে নিয়ে মিডিয়ার সামনে আসেন এই চিত্রনায়িকা। হঠাৎ করে মিডিয়ার সামনে আসেলেও এই উপস্থিতির পেছনে রয়েছে অনেক বছরের ত্যাগ ও যন্ত্রণা। যা সে বলতে পারেনি। কারণ অপু সব সময়ই চেয়েছিলো শাকিবের সঙ্গে সুখের সংসার করতে। এরপর সব ঘটনা সকলেই জানা আছে। কিন্তু এতো কিছুর পরেও টিকছে না শাকিব-অপুর সংসার। ক্যারিয়ারের এই অন্ধকার সময়ে এসে অপু যখন সংসার ও সন্তানের স্বীকৃতি নিয়ে শাকিবের একটু কাছে আসতে চাইছে ঠিক তখন ডিভোর্স নামের নোটিশ সব আশা চুরমার করে দিয়েছে। অপু তার ভাঙ্গা ঘরে একটু আশ্রয় চাইছে সন্তানের ভবিষৎ চিন্তা করে। মিডিয়ার হাজারও প্রশ্নের মুখে শাকিবের প্রতিক্ষায় রয়েছেন আলোচিত এই নায়িকা। সরাসরি মিডিয়ার সামনে কোন অভিযোগ করেননি শাকিবের বিরুদ্ধে। যদিও গণমাধ্যমে অনেক কথা প্রকাশ পেয়েছে। ইতিমধ্যে সংসার টেকাতে সহযোগিতা চাইছেন দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে। ‘দিলের টানে, ভালোবাসার পাওয়ারে’ একটা সময় ছিলো যখন অপুর ডাকে চলে আসতেন শাকিব। জীবনের এই কঠিন সময়ে অপুর ডাকে সাড়া কি দিবেন শাকিব খান? আর এই প্রশ্ন এখন দুই তারকার ভক্তকুলের। এসএ/  

মাহির ব্যস্ত সময়

সময়ের ব্যস্ত নায়িকা মাহিয়া মাহি। স্বামী-সংসার ও ক্যারিয়ার সমান তালে সামলে যাচ্ছেন এই চিত্রনায়িকা। ব্যস্ততা তার পিছু ছাড়ছে না কোন ভাবেই। বিয়ের পর কিছু দিন বিরতিতে থেকে আবারও পুরোদমে কাজ শুরু করেন মাহি। সেই থেকে এখনও শুটিং নিয়ে ব্যস্ত হালের এই নায়িকা। সবশেষ দীপংকর দীপনের পরিচালনায় মাহি অভিনিত ‘ঢাকা অ্যাটাক’ সিনেমা মুক্তির পর তা বক্স অফিসে সফল হয়। ওই সিনেমাতে সাংবাদিক চরিত্রে অভিনয় করেন মাহি। বর্তমানে তিনি পাবনায় ‘অবতার’ সিনেমার শুটিং নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। মাহি বলেন, ‘বর্তমানে পাবনায় আছি। এখানে ‘অবতার’ সিনেমার শুটিং এর কাজ করছি। ব্যস্ততা পিছু ছাড়ছে না আমার। তবে ভক্তদের জন্য সুখবর- আমার নতুন সিনেমা ‘জান্নাত’ মুক্তি পাচ্ছে। মুক্তি উপলক্ষে এ সিনেমার প্রচারণার পাশাপাশি আমি মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের নতুন আরেকটি সিনেমাতে কাজ শুরু করব। এ সিনেমাতেও আমার বিপরীতে অভিনয় করছেন সাইমন।’ মাহি আরও জানান, ‘বদিউল আলম খোকন ভাইয়ের ‘আমার মা আমার বেহেশত’ নামের একটি সিনেমায় কাজ শুরু করার কথা রয়েছে। ঢাকায় ফিরেও কাজ করতে হবে। মাহি ‘অবতার’ সিনেমাতে মেডিকেলের ছাত্রী হয়ে কাজ করছেন। আর ‘জান্নাত’ সিনেমার নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। এ সিনেমাতে মাহির বিপরীতে অভিনয় করেছেন সাইমন সাদিক। অল্পদিনের মধ্যেই সিনেমাটি সেন্সরে যাবে। এছাড়া মাহি অভিনীত ‘পলকে পলকে তোমাকে চাই’, ‘পবিত্র ভালোবাসা’, ‘মন দেবো মন নেবো’ নামের সিনেমাগুলোও মুক্তি পাবে। এদিকে মাহি চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে লন্ডনে যৌথ প্রযোজনার সিনেমা ‘তুই শুধু আমার’ এর কাজ করেছেন। এ সিনেমাতে প্রথমবার কলকাতার অভিনেতা সোহমের বিপরীতে অভিনয় করছেন তিনি। ‘তুই শুধু আমার’ সিনেমাটি প্রযোজনা করছে বাংলাদেশের অ্যাকশন-কাট এন্টারটেইনমেন্ট ও ভারতের এস কে মুভিজ। সিনেমাটি যৌথভাবে পরিচালনা করছেন ভারতের জয়দ্বীপ মুখার্জি এবং দেশীয় পরিচালক অনন্য মামুন।   এসএ/  

হাওর অঞ্চলের মানুষের সুখ দুঃখ নিয়ে টেলিছবি ‘দোতারা’   

ভাটির হাওরে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। রাত যত গভীর হয় বৃষ্টির বেগও ততো বাড়তে থাকে। জইনুদ্দিনের বাড়িটা কুতুবপুর গ্রামের শেষ প্রান্তে। তারপরেই বিশাল হাওর। বাউল শীতাব আলীর একমাত্র কন্যা ময়মুনা জইনুদ্দিনের বিবাহিতা স্ত্রী। সেই সূত্রে বাড়িটার মালিক এখন সে। কিন্তু সে কখনো নিজেকে ঘর জামাই মনে করে না। জইনুদ্দিনের চোখে ঘুম নেই। বৃষ্টি-বাদলার দিনে হাওরের উথাল পাতাল ঢেউ আর বাতাস যখন সহস্র নাগের মত ফুসে ওঠে, তখন জইনুদ্দিন আর ঘুমাতে পারে না। মাটির বেড়ায় ঝুলে থাকা তার সাধের দোতারাটা নিয়ে পা টিপে টিপে ঘর থেকে বের হয়ে বাহিরে এসে দাঁড়ায় জইনুদ্দিন। দোতারাটা গলায় ঝুলিয়ে নেয়। তারপর বারান্দায় রাখা একটি পিঁড়িতে বসে দোতারায় পরম মমতায় হাত বুলাতে থাকে। জইনুদ্দিন দোতারার সংগে বিড়বিড় করে কথা বলতে থাকে, ‘দোতারারে, ও দোতারা তুই কি আমার দুঃখ বুঝস? তোর জন্যই তো সব ছাড়লাম, মা, ভাই-বান্ধব সবাইকে ছাড়লাম...’ ভাটি অঞ্চলের মানুষের এমনই এক চমৎকার গল্প নিয়ে নতুন বছরের শুরুতে আসছে টেলিছবি ‘দোতারা’। হবিগঞ্জের বানিয়াচঙ্গের বিভিন্ন হাওর এলাকা ও মনোরম লোকশনে এর দৃশ্যে ধারণ করা হয়েছে। আর বাংলা মিডিয়া পরিবেশিত গীতিকার আব্দুল মুকিত প্রযোজিত ও সাংবাদিক সৈয়দ রাশিদুল হক রুজেন পরিচালিত মোস্তাক আহমেদের কাহিনী অবলম্বনে এর চিত্রনাট্য ও সংলাপ রচনা করেছেন পার্থ সারথী দাস। ‘দোতারা’য় বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সৈয়দ রুজেন, ইর্শা খন্দকার, ফোরকান মজুমদার, অধ্যাপিকা জলি পাল, আশিক, সুলতান, শাহানা, বাবুল আহমেদ, রুবেল, গোপাল সুত্রধর, সিমি, এসএম সুরুজ আলী, নয়না, তানসেন, কামলী, নির্ঝর প্রমুখ। সহকারী প্রযোজক সৈয়দ অলিউর রহমান খোকন, চিত্রগ্রহণে রিয়াজুল ইসলাম মুক্তি, রূপসজ্জায় ছিলেন শিপলু রাহাত।  টেলিছবিটি প্রচারের বিষয়ে আলোচনা চলছে। এটি যে কোনো একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে খুব শিগগিরই প্রচারিত হবে।        এসি/এসএইচ    

অপুকে সতর্ক করলেন শাকিব

‘অনেক সেলেব্রেটির জীবনে বিচ্ছেদ এসেছে। আর এজন্য জল ঘোলা করেনি কেউ। আমিও চাই না অপু এমন কিছু করুক। আর আমার ছেলে বড় হয়ে বাবা ও মা সম্পর্কে খারাপ কোনো কথা জানুক এটাও আমি চাই না।’-এ কথাগুলো শাকিবের। বর্তমান পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে- অপুকে আর চাইছেন না শাকিব। আর এটা অনেকটা পরিস্কার। তবে অপু চাইছেন সংসার, সন্তান ও স্বামী আগের মতই থাকুক। প্রয়োজনে সব ত্যাগ করতে রাজি তিনি। এজন্য দেশের প্রধানমন্ত্রীরও সহযোগীতা চেয়েছেন অপু। তার বক্তব্য, ‘শাকিবের জন্য পরিবার ছেড়েছি। ক্যারিয়ার থেকে দূরে সরে গেছি। প্রয়োজনে সব ত্যাগ করেতে প্রস্তুত আছি।’ যদিও ডিভোর্সের নোটিস পাঠানোর পর থেকে মিডিয়াতে বিভিন্ন বিষয় উঠে আসছে। তবে এর মধ্যে দেনমোহর, গর্ভপাত অন্যতম। আর এসব বিষয় নিয়ে বিব্রত শাকিব। শাকিব খান বলেছেন, আমি আর কোনো ঝামেলার মধ্যে নেই। আইনই সব দেখবে। যার সঙ্গে মতের মিল হয় না, তার সঙ্গে কখনো এক ছাদের নিচে বসবাস করা যায় না। অনেক কষ্ট সহ্য করে ৯ বছর সংসার করেছি। জয়ের (অপু-শাকিবের ছেলে) উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা ভেবেই সেপারেশনের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি। এসএ/

চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে ফিরছেন পপি

নতুন সিনেমার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নায়িকা সাদিকা পারভিন পপি। চলতি সপ্তাহে নতুন চলচ্চিত্র ‘টার্ন’-এ অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন এই নায়িকা। নতুন এ সিনেমাটিতে দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করবেন পপি। একটি স্বাভাবিক চরিত্র, অন্যটি প্রতিবন্ধী একটি মেয়ের চরিত্র। প্রতিবন্ধী কোনো মেয়ের চরিত্রে পপি এবারই প্রথম অভিনয় করতে যাচ্ছেন। সিনেমাটি পরিচালনা করবেন শহীদুল হক খান। নতুন চলচ্চিত্রে চুক্তিবদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গে পপি বলেন, গতানুগতিক অনেক গল্পের চলচ্চিত্রে কাজ করার জন্য প্রস্তাব আসে। কিন্তু সেসব চলচ্চিত্রে অভিনয় করার আগ্রহবোধই করি না। ভিন্ন ধরনের গল্প, চ্যালেঞ্জিং চরিত্রেই আমি সবসময় কাজ করে আসছি। ‘টার্ন‘ চলচ্চিত্রের গল্প যেমন অসাধারণ ঠিক তেমনি প্রতিবন্ধী যে মেয়ের চরিত্রে আমি অভিনয় করতে যাচ্ছি তা অনেক চ্যালেঞ্জিং। এই ধরনের চরিত্রে কাজ করার স্বপ্ন ছিল আমার। আমি সত্যিই নার্ভাস যথাযথভাবে কাজটি করতে পারবো কি না। এই চরিত্রে কাজ করার জন্যই এখন আমার সবধরনের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। পপি জানান, আসছে ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসেই তার নতুন এ চলচ্চিত্রের শুটিং শুরু হবে। তবে এতে তার সহশিল্পী হিসেবে কে কে থাকবেন তা এখনো চূড়ান্ত নয়। ‘টার্ন’ চলচ্চিত্রের গল্প লিখেছেন পরিচালক নিজেই। উল্লেখ্য, পপি ১৯৯৭ সালে মনতাজুর রহমান আকবরের কুলি সিনেমাতে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে চলচ্চিত্রে আবির্ভূত হন। এ পর্যন্ত তিনি মেঘের কোলে রোদ, কি যাদু করিলা, গঙ্গাযাত্রা সিনেমাতে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুস্কাররে ভূষিত হয়েছেন। পপি অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র জাহাঙ্গীর আলম সুমন পরিচালিত ‘সোনাবন্ধু’। মুক্তির অপেক্ষায় আছে তার অভিনীত ‘শর্টকাটে বড় লোক’, ‘জীবন যন্ত্রণা’ ও ‘দুই ভাইয়ের যুদ্ধ’। এসএ/    

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি