ঢাকা, শুক্রবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৮ ৩:১১:১৬

ঢাবি উপাচার্যের কাছে ১৯ শিক্ষকের খোলা চিঠি

ঢাবি উপাচার্যের কাছে ১৯ শিক্ষকের খোলা চিঠি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিভিন্ন বিভাগের ১৯ জন শিক্ষক কোটা সংস্কারে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা চেয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের কাছে খোলা ঠিঠি দিয়েছেন। বুধবার এ খোলা চিঠি উপাচার্যের দপ্তরে নিয়ে আসেন শিক্ষকরা। এই শিক্ষকরা হলেন, এম এম আকাশ, গীতি আরা নাসরীন, ফাহমিদুল হক, মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, সামিনা লুৎফা, মোহাম্মদ আজম, মোশাহিদা সুলতানা, কাজী মারুফুল ইসলাম, রোবায়েত ফেরদৌস, সায়মা আহমেদ, মুনাসির কামাল, সাজ্জাদ এইচ সিদ্দিকী, রুশাদ ফরিদী, মো. সেলিম হোসেন, হুমায়ুন কবীর, আবদুর রাজ্জাক খান, সালমা চৌধুরী, দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন ও অতনু রাব্বানি। চিঠিতে তারা লিখেন, এই আন্দোলনের বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা আসার পর পরবর্তী পদক্ষেপ হওয়া উচিত সরকারি গেজেট প্রকাশ। কিন্তু তার আগেই আন্দোলনকারীদের ওপর নানা চাপ আসছে। ভয়ভীতি কাজ করছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে। কবি সুফিয়া কামাল হলে ভীতি সবচেয়ে বেশি। চিঠিতে বলা হয়, আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী তিন শিক্ষার্থীকে ডিবি পুলিশ তুলে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে এই অস্বস্তি বৃদ্ধি পেয়েছে, ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে চাপা উৎকণ্ঠা। সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে অনেক শিক্ষকই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা, সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট ঘিরে আইসিটি আইনে মামলা, ছাত্রনেতাদের ডিবি পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার ইত্যাদির মাধ্যমে ভীতির পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। তারা এই পরিবেশ দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান। এ সময় শিক্ষকরা তাদের চিঠিতে আবাসিক হলগুলো পরিচালনার বিষয়টি ছাত্রসংগঠনের কাছ থেকে শিক্ষক ও হলের প্রশাসনের আওতায় ফিরিয়ে আনার অনুরোধ করেন। ডাকসু নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ স্বাভাবিক ও সুষ্ঠু রাখার জন্য তারা বিভিন্ন সংগঠন ও নির্দলীয় শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি নিয়ে পরিবেশ পরিষদের মতো কমিটি গঠনের পরামর্শ দেন। শিক্ষকেরা চিঠিতে উপাচার্যের বাসভবনে হামলার নিন্দা জানান।বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার জন্য ওই হামলার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার জন্য অনুরোধ জানান। পাশাপাশি ৮ এপ্রিলের আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও পরে ক্যাম্পাসে বিপুল পরিমাণে বহিরাগতের অনুপ্রবেশ নিয়েও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এমএইচ/টিকে
আরও ২ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন

বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও নতুন করে আবারও দুইটি বেসরকারি বিশ্ববিদালয় অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এগুলো হলো| খুলনায় খান বাহাদুর আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহীতে আহছানিয়া মিশন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এবিষয় একটি আদেশ জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। এবিষয় জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের অতিরিক্ত সচিব মো. মহিউদ্দীন খান বলেন, নতুন করে দুইটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বর্তমানে বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৯টি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আরও আটটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।   অনুমোদন পাওয়া দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আছেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সভাপতি কাজী রফিকুল আলম। তিনি আহছানউল্লা ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অনুমোদন নিয়ে ঢাকায় সেটি পরিচালনা করছেন। ২৩টি শর্তে নতুন দুটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সরকার ছয় দফা সময় দিলেও এখন পর্যন্ত ৩৩টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে পারেনি। বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্নের পাশাপাশি সেগুলোর বিরুদ্ধে শিক্ষা বাণিজ্যেরও অভিযোগ রয়েছে। অনুমোদনের অপেক্ষায় ৮ বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা পড়া শতাধিক আবেদন থেকে আরও আটটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তৎপরতা শুরু করেছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং ‘বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনের আবেদন করেছেন। শামসুল আলম নামের একজন সিঙ্গাপুর প্রবাসী শাহ মখদুম বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ ‘রওশন এরশাদ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ’ স্থাপনের আবেদন করেছেন। জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি এইচ এম গোলাম রেজা সিঙ্গাপুর ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এবং সংসদ সদস্য শামসুল আলম ভূঁইয়া ‘অ্যাপোলা ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ প্রতিষ্ঠার অনুমোদন চেয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন। জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ ‘সাউথ রিজন ইউনিভার্সিটি’ এবং ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম মোশাররফ হুসাইন নামের একজন ‘ইন্টারন্যাশনাল স্টান্ডার্ড ইউনিভার্সিটি’ স্থাপনের অনুমোদন চেয়েছেন।  এছাড়া বাংলাদেশ বৌদ্ধকৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি এইচ এন ভেন ‘সঙ্ঘনায়ক শ্রদ্ধানন্দ মহাথেরো ইউনিভার্সিটি অব অতীশ দীপঙ্কর বাজরাগজনি’ স্থাপনের অনুমোদন চেয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।  টিআর/ এসএইচ/

ইবি শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পাশের শেখ পাড়া বাজারের মা মঙ্গিলের (মেস) থেকে সাইমুজ্জামান খান  সাঈম লাশ উদ্ধার করছে পুলিশ। সাঈম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে সাইমুজ্জামান খান সাঈম গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ওই মেসের সহপাঠীদের ভাষ্যমতে, নিচতলার একটি কক্ষে একাই থাকতেন সাঈম। গতকাল দুপুরে তার সঙ্গে কয়েকজনের শেষ কথা হয়। বিকেলে কক্ষটি ভিতর থেকে বন্ধ পাওয়া যায়। ঘুমিয়েছে ভেবে আর কেউ ডাকাডাকি করেননি। কিন্তু সন্ধ্যা পার হয়ে রাত হলেও দরজা বন্ধ দেখে সবার সন্দেহ হয়। রাতে দরজার নিচের ফাঁকা স্থান দিয়ে ঝুঁলে থাকা সাঈমের পা দেখে সবাই চিৎকার শুরু করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান ও শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন এসে দরজা ভেঙে সাঈমের লাশ উদ্ধার করেন। এ সময় তার বিছানার ওপর পড়ে থাকা ডায়েরিতে তিন পাতার চিরকুট লেখা পাওয়া যায়। সাঈম ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের আজিয়া গ্রামের আজম খানের ছেলে। প্রেমঘটিত কারণে সাঈম আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। কোনো শিক্ষার্থী যেন জীবনে এ রকম কাজ না করে। শৈলকুপা থানার ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, দরজা ভেঙে কক্ষের ভিতরে প্রবেশ করে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সুতরাং নিঃসন্দেহে বলা যায়, সাঈম আত্মহত্যা করেছে। লাশ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। টিআর/এসএইচ/

জাবিতে শিক্ষকদের হাতাহাতির ঘটনায় পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের দু’গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এঘটনার জেরে উভয় পক্ষ মঙ্গলবার সকাল থেকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করেছে। কর্মসূচির ফলে প্রশাসনিক ও একাডেমিক সকল কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এর আগে ভোর সাড়ে চারটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশমাইল এলাকায় পরিবহন ডিপোর সামনে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম এবং সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবিরের অনুসারী শিক্ষকদের মধ্যে এ হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপাচার্য ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট-১৯৭৩, স্ট্যাটিউট ও সিন্ডিকেট পরিচালনা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভোর চারটার দিকে শরীফ এনামুল কবিরের অনুসারী ৬জন শিক্ষক পরিবহন ডিপোর সামনে অবস্থান নেন। এসময় পরিবহন ডিপোর ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে অধ্যাপক ফারজানার অনুসারী শিক্ষকরা সেখানে উপস্থিত হয়ে তালা খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানায়। এসময় তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। শরীফ এনামুল কবিরপন্থী শিক্ষক অধ্যাপক মো. শাহেদুর রশিদ বলেন, ‘উপাচার্যের অবৈধ নিয়োগের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ ধর্মঘট পালন করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডিসহ উপাচার্যপন্থী প্রায় ২৫ জন শিক্ষক এসে আমাদের উপর ন্যাক্কারজনক হামলা চালায়। এতে ৬জন শিক্ষক লাঞ্ছিত হয়।’ এদিকে উপাচার্যপন্থি শিক্ষক ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের নবনিযুক্ত প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. আব্দুল্লাহ হেল কাফী বলেন, ‘আমরা পরিবহন ডিপোতে উপস্থিত হয়ে তাদের তালা খুলে দিতে বললে আমাদের দুজন শিক্ষকের ওপর তারা হামলা চালায়। পরে আমরা উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করি।’ পরে উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে উপাচার্যকে জানাতে আন্দোলনকারী প্রায় ১৫ জন শিক্ষক উপাচার্যের বাসভবনে দেখা করেন। এসময় উপাচার্য বলেন, ‘শিক্ষকদের মধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখনি কাউকে দোষী বলা ঠিক হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রভোস্টদের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তারা আমাকে প্রশাসনিক কোনো কার্যক্রমে সহযোগিতা না করে প্রশাসনের বিপক্ষে নানা রকম কার্যক্রম পরিচালনা করায় তাদের অব্যাহতি দিয়ে নতুন প্রভোস্ট সাময়িক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’ এদিকে দু’পক্ষের হাতাহাতির ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে আহবায়ক হিসেবে রয়েছেন-বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক হারুণ অর রশীদ খান। অন্য দুই সদস্যরা হলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার (টিচিং) মোহাম্মদ আলী। অন্যদিকে তদন্ত কমিটি প্রত্যাখ্যান করে আগামীকাল বেলা ১২টা পর্যন্ত দুই প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করা হবে বলে জানিয়েছেন দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ। অবরোধ শেষে কালো ব্যাজ ধারণ করে মানববন্ধন করবেন শরীফ এনামুল কবির পন্থী শিক্ষকরা। প্রসঙ্গত, গত ১১ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়টি আবাসিক হলে প্রভোস্ট পদে পরিবর্তন আনেন উপাচার্য ফারজানা ইসলাম। এক অফিস আদেশে নয়জন প্রভোস্টকে অব্যহতির ঘটনাকে নজিরবিহীন, অ্যাক্টবিরোধী ও শিষ্টাচার বহির্ভূত উল্লেখ করে ধর্মঘটের ডাক দেন শরীফ এনামুল কবিরের অনুসারী আওয়ামীপন্থি শিক্ষকরা। আর/টিকে

আজ থেকে শুরু হচ্ছে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম

ক্লাস শুরুর মধ্য দিয়ে আজ থেকে শুরু হচ্ছে দেশের ৩৭তম বিশ্ববিদ্যালয় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম। বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ অবস্থিত। ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসে ক্লাশ শুরুর মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০১০ সালে রবীন্দ্রজয়ন্তী অনুষ্ঠানে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। ঘোষণার পরই কুষ্টিয়া ও শাহজাদপুরবাসী তাদের এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। কুষ্টিয়াতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থাকায় আঞ্চলিক বিবেচনায় এই বিশ্ববিদ্যালয় শাহজাদপুরে স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। সরকারি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সদস্যগণ একাধিকবার শাহজাদপুরের বিভিন্ন জায়গা পরিদর্শন শেষে উপজেলার বুড়ি পোতাজিয়া মৌজায় রবীন্দ্রনাথের নিজস্ব গোচারণ ভূমিতে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য জায়গা নির্ধারন করেন। এই স্থান থেকে তিনশত একর ভূমি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। শাহজাদপুরের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্ত্রীর জাতীয় অনুষ্ঠানে ২০১৫ সালের ২৫ বৈশাখ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০১৬ সালের ২৬ জুলাই জাতীয় সংসদে ‘রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ’ আইন পাশ হয়। এরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি ১৫ জুন উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জনবল নিয়োগসহ সকল কাজকর্ম শুরু করেন। আটমাসের মধ্যে শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও অবকাঠামো নির্মাণের জায়গা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেন। রবীন্দ্র অধ্যায়ন, সাংষ্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন এবং অর্থনীতি এই তিনটি বিভাগে ১১৫জন ছাত্রছাত্রী ভর্তির জন্য আবেদন গ্রহন করার পর চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভর্তির লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২৪ ও ২৫ মার্চ মৌখিক পরীক্ষা শেষে গত ৫ এপ্রিল তিনটি বিভাগে ৯৭জন ছাত্রছাত্রী ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। নিজস্ব অবকাঠামো না থাকায় দ্রুত ক্লাশ শুরু করার লক্ষে স্থানীয় সাংসদ হাসিবুর রহমান স্বপনের প্রচেষ্টায় পৌরশহরের শাহজাদপুর মহিলা ডিগ্রী কলেজ, বঙ্গবন্ধু মহিলা ডিগ্রী কলেজ ও মওলানা সাইফুদ্দিন এহিয়া ডিগ্রী কলেজের তিনটি নবনির্মিত একাডেমিক ভবনে প্রশাসনিক কার্যালয় স্থাপন ও ক্লাশ শুরু করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। এই তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একাডেমিক ভবনসহ প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত বিনা ভাড়ায় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ব্যবহার করতে পারবে এই মর্মে চুক্তিও সম্পাদন করা হয়। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য্য বিশ্বজিৎ ঘোষ জানান, প্রাথমিকভাবে শিক্ষক নিয়োগসহ অনান্য কর্মচারি নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনটি বিভাগে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা হয়েছে। তিনটি কলেজে শিক্ষা কার্যক্রম চালু হবে। পর্যায়ক্রমে বিভাগের সংখ্যা বাড়বে। এজন্য তিনি শাহজাদপুরবাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন। এমজে/

‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন রাবির ১২ শিক্ষার্থী

স্নাতকে  ভালো ফলাফল করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কলা অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের ১২ শিক্ষার্থীকে ‘কলা অনুষদ ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়েছে। সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে  বিশ্ববিদ্যালয়ের  ডিনস কমপ্লেক্স ভবনের কনফারেন্স রুমে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের হাতে ক্রেস্ট ও সম্মাননী তুলে দেন উপাচার্য অধ্যাক এম আব্দুস সোবহান।পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক এফ এম এ এইচ তাকীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান আল আরিফ, ইরানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি বিভাগের অধ্যাপক রেজা সামী জাদে প্রমুখ।পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীরা হলেন, দর্শন বিভাগের সীমা খাতুন, ইতিহাস বিভাগের  সৈয়দ নাঈমুর রহমান সোহেল, ইংরেজি বিভাগের ইরতিফা হাসান, বাংলা বিভাগের মঞ্জু রাণী দাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের জান্নাতী কাওনাইন কেয়া, আরবি বিভাগের আবুল ফুতুহ, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের আশরাফুল ইসলাম, সঙ্গীত বিভাগের জয়শ্রী পাল,নাট্যকলা বিভাগের জিনত আরা গুলশানা মার্জিয়া, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের কবিতা আক্তার, সংস্কৃত বিভাগের নাজরীনা আক্তার ও উর্দু বিভাগের নূর মোহাম্মদ।এ সময় উপাচার্য এম আব্দুস সোবহান বলেন,‘আজ যে পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে তা এ সকল মেধাবী শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল করে তুলবে। তাদেরকে করে তুলবে নিরহংকারী। পাশাপাশি সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি করবে। কেননা শিক্ষার আসল কাজ বিনয়ী করে তোলা। এ বিনয় তার দেশ, সমাজ, পরিবার তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যাণে নিয়োজিত করবে। তোমরা হবে তোমাদের বিভাগের পরবর্তী শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরনা।’তিনি আরো বলেন, প্রতিবছর দেশে হাজার হাজার সার্টিফিকেটধারী বিদ্বান বের হচ্ছে কিন্তু প্রকৃত শিক্ষিত বিদ্বান বের হচ্ছে না, যারা কল্যানে নিয়োজিত হবে। দেশকে এগিয়ে নেবে। তাই আমি আশা প্রকাশ করছি আজকের মেধাবীরা দেশের জন্য কাজ করবেন।অনুষ্ঠানে কলা অনুষদের সকল বিভাগের সভাপতি ও শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ও গবেষনায় আগ্রহী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ  বছর থেকে এ পুরস্কারটি চালু করা হয়।আর

কোটা সংস্কার ইস্যু নিয়ে ঢাবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ   

কোটা সংস্কারকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সহসভাপতি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ছয় জন আহত হয়। সোমবার (১৬ এপ্রিল) বিকেল তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।   সহসভাপতি আরেফিন সিদ্দিক সুজনের অভিযোগ কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের অনুসারীদের হামলায় ছয় জন আহত হন। তবে, এটি গুজব বলে দাবি করেছেন সোহাগ।   আহতরা হলো ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের উপনাট্য ও বিতর্ক বিষয়ক সম্পাদক ইমরুল হাসান মিশু, সাবেক সদস্য মাহাবুব হোসেন খান, সূর্যসেন হল শাখার নাট্য ও বিতর্ক বিষয়ক সম্পাদক মেশকাত হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সহসম্পাদক ইমরান জমাদ্দার, এসএম হলের সহসভাপতি কামাল উদ্দিন ও এ এফ রহমান হলের কর্মী সাগর রহমান। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরী বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. আলাউদ্দিন জানিয়েছেন, ছাত্রলীগের পাঁচ জন নেতাকর্মী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ দুপুর তিনটার দিকে মধুর ক্যান্টিন থেকে বের হন। এই সময় কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আরেফিন সিদ্দিক সুজনের নেতৃত্বে ১৫/২০ জন নেতাকর্মী এসে সোহাগের কাছে ছাত্রলীগের সম্মেলনের বিষয়ে জানতে চান। এ বিষয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এবং এক অপরের ওপর হামলা চালায়। কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আরেফিন সিদ্দিক সুজনের ভাষ্য, কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিষয়ে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তিনি সোহাগের কাছে তা জানতে চেয়েছেন। এছাড়া সম্মেলনের বিষয়েও জানতে চান। তারপর সোহাগ ও তার অনুসারীরা ক্ষিপ্ত হন এবং হামলা করেন। কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘এটা গুজব। কেউ গুজবে কান দেবেন না। ছাত্রলীগের মধ্যে কোনও মারামারি হয়নি।’ এসি

আন্দোনলকারীদের নিয়ে প্রকাশিত সংবাদে ইত্তেফাকের দু:খ প্রকাশ

কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে সোমবার দৈনিক ইত্তেফাকে ‘কোটা আন্দোলনের সেই চার নেতার একজন শিবিরের সক্রিয় কর্মী’ শীর্ষক সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’। প্রকাশিত সংবাদটি ইতোমধ্যেই দৈনিক ইত্তেফাকের অনলাইন সংস্করণ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই সংবাদের ওপর কারো ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা দু:খ পেয়ে থাকলে দৈনিক ইত্তেফাক কর্তৃপক্ষ সেইজন্য দু:খ প্রকাশ করছে। এর আগে আজ সোমবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের প্লাটফর্ম সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ ইত্তেফাকের সংবাদকে ভুয়া বলে উল্লেখ করে। তারা এ সংবাদ প্রত্যাহারের দাবি জানায়। / এআর /  

‘নিরাপত্তা ঝুঁকিতে আন্দোলনকারীরা’

সরকারি চাকরিতে বিদ্যামান কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরতদের হত্যাসহ নানা ধরণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। এসব কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে আছেন বলে অভিযোগ করেছেন কোটা আন্দোলন দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্লাটফর্ম সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল্লাহ নূর, রাশেদ খান ও ফারুক হাসান। আজ সোমবার দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে ঢাকা মেডিকেলে হাসপাতালের সামনে থেকে তাদের একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে তাদের ডিবি কার্যালয় থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে তিনটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীতে তাৎক্ষণিক প্রক্রিয়ায় তারা এসব কথা বলেন। যদিও ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিষদের তিন নেতাকে তুলে নেওয়া হয় নি বরং নিরাপত্তার কারণে এবং কিছু তথ্য জানতে ডেকে আনা হয়েছিল। সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, মেধাবীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে এসে আমাদের হত্যার হুমকি পেতে হচ্ছে। আমাদেরকে চোখ বেঁধে ডিবি কার্যালয়ে তুলে নেওয়ায় আমরা নিরাপত্তা ঝুঁকিতে আছি। আমাকে যখন তুলে নেওয়া হয় তখন পৃথিবীতে ফিরে আসবো এমন কোনো আশা ছিল না। আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেছেন। তিনি বলেন, আমরা মেধাবীদের অধিকার আদায় করতে এসে নির্যাতনের শিকার হচ্ছি। আমরা কোন দেশে বাস করছি। রাশেদ আরও বলেন, আমার কি অন্যায় ছিলো যে কারণে আমার বাবা মাকে আজ পুলিশ আটক করছে। অশ্রাব্য ভাষায় গালি গালাজ করছে।  আমার বাবা আমাকে ফোন দিয়ে বলেন, তোর মতো সন্তানের জন্ম দেওয়ায় আজ আমার এ অবস্থা।  কি করেছিস তুই যে, আমাকে থানায় আসতে হলো। এসময় সংগঠনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, সংবাদ সম্মেলনের সময় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির পাশে হাকিম চত্বরে সাদা পোশাকে ৮-৯ ব্যক্তি মোটরসাইকেল নিয়ে অবস্থান করছিলেন। পরে সংবাদ সম্মেলন শেষে নুরুল্লাহ নূর, রাশেদ খান ও ফারুক হাসান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত তিন ছাত্রকে দেখতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে ডিবি তাদের তুলে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে ডিবির যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, ‘তাদের কিছু তথ্য সহযোগিতার জন্য আনা হয়েছিল। তারা চলে গেছে। আমাদের কাছে তথ্য ছিলো তাদেরকে অন্য মহল হামলা করতে পারে। যে কারণে তাদের নিরাপত্তার জন্য আমরা তুলে এনেছি। এছাড়া তাদের কিছু ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়েছে সেগুলোর বিষয়ে তাদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে। তাদের আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি।’ সবার কাছ থেকেই তথ্য নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। /এআর /        

আটক নয়, নিরাপত্তার স্বার্থে তুলে আনা হয় : ডিবি

কোটা সংস্কার আন্দোলনের তিন যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ, নুরু ও ফারুকে আটক করা হয়নি । তাদের নিরাপত্তা ও তদন্তের স্বার্থে নিয়ে আসা হয়েছিল বলে দাবি করেছে  গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আজ সোমবার দুপুর ১ টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গেটের সামনে থেকে তাদের তুলে  নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা। এরপর সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে তাদের ডিবি কার্যালয় থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেই তিন নেতার একজন ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান  এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তার সঙ্গে ছাড়া পাওয়া অপর দুই নেতা হচ্ছেন সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর ও যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমদ। এর আগে বেলা ১১ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন শেষ করে চানখাঁরপুলের দিকে যাওয়ার সময় তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ  করেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক হাসান আল মামুন। দুপুর পৌনে দুইটার দিকে তিনি ওই অভিযোগ করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে ডিবির যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, ‘তাদের কিছু তথ্য সহযোগিতার জন্য আনা হয়েছিল। তারা চলে গেছে। আমাদের কাছে তথ্য ছিলো তাদেরকে অন্য মহল হামলা করতে পারে। যে কারণে তাদের নিরাপত্তার জন্য আমরা তুলে এনেছি। এছাড়া তাদের কিছু ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়েছে সেগুলোর বিষয়ে তাদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে। তাদের আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি।’ সবার কাছ থেকেই তথ্য নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। / এআর /    

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি