ঢাকা, শুক্রবার, ২২ জুন, ২০১৮ ১৭:৩৪:১৭

অর্থাভাবে থমকে আছে শারমিনের পড়াশোনা

অর্থাভাবে থমকে আছে শারমিনের পড়াশোনা

শারমিন আক্তার মিম। জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ আর এইচএসসিতে জিপিএ-৪.২৫ অর্জন করেন। এর মধ্যে জেএসসি’তে বৃত্তিও পান তিনি। তবে এত ভালো ফলাফলের পরেও থমকে আছে শারমিনের উচ্চ শিক্ষা। দেশের স্বনামধন্য একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েও অর্থাভাবে পড়াশুনা বন্ধ রাখতে হচ্ছে শারমিনের।
২২৯ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সুপারিশ শৃঙ্খলা পরিষদের

শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এবং এর অধিভুক্ত সাতটি কলেজের ২২৯ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা পরিষদের এক সভায় এ সুপারিশ করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় এসব শিক্ষার্থীর বহিষ্কারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শৃঙ্খলাবিরোধী কাজে জড়িত থাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে একাধিক তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া অধিভুক্ত সাত কলেজের দুই শতাধিক শিক্ষার্থীকে শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে ‘পরীক্ষায় নকল’ করার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে। উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, ‘শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ করায় এবং পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করায় বিশালসংখ্যক শিক্ষার্থী বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে শৃঙ্খলা পরিষদ।’ শৃঙ্খলা পরিষদের সদস্যসচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘সুপারিশকৃত শাস্তির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’  টিআর/ এআর

রোভার স্কাউট গ্রুপকে সংবর্ধনা দিল ঢাকা কলেজ

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০১৮ এ দেশের শ্রেষ্ঠ রোভার স্কাউট গ্রুপ ও ২০১৭ সালে শ্রেষ্ঠ রোভার পুরস্কার পেয়েছে ঢাকা কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপ। শ্রেষ্ঠ রোভার হয়েছেন মো. আল মামুন। স্কাউট গ্রুপ ও সেরা রোভারকে সংবর্ধনা দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার ঢাকা কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপ আয়োজিত জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০১৭ ও ২০১৮ পুরস্কারপ্রাপ্ত শ্রেষ্ঠ রোভার এবং শ্রেষ্ঠ রোভার স্কাউট গ্রুপের সংবর্ধনা ও স্কাউট ওন-২০১৮ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে কলেজের পক্ষ থেকে এ সংবর্ধনার ক্রেস্ট তুলে দেন বাংলাদেশ স্কাউটস’র সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ। ঢাকা কলেজেরর অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মোয়াজ্জম হোসেন মোল্লাহ্’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হবে। ২০৩০ সালে এসডিজি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৪১ সালে উন্নত আয়ের দেশে পরিণত হবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন পৃথিবীর কোন শক্তি ঠেকাতে পারবে না। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু ঘাতকদের কারণে তিনি তা বাস্তবায়ন করে যেতে পারেননি। বর্তমান সরকার বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। এ সরকার ২০৭১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে রেখেছে। এর মধ্যেই বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তিশালী দেশে পরিণত হবে। তার জন্য দেশের শিক্ষক সমাজ থেকে শুরু করে সকল স্তরের মানুষকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। এসময় সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ প্রফেসর মোয়াজ্জম হোসেন মোল্লাহ্ বলেন, ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা ইতোপূর্বে দেশ ও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ভবিষ্যতে রোভার স্কাউটের সদস্যরা নিজেদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ার পাশাপাশি দেশ ও জাতি গঠনে ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা প্রত্যাশা রাখি। ঢাকা কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপ আয়োজিত সংবর্ধনা, বার্ষিক স্কাউট ওন এবং ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি ছিলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন। এসময় অন্যান্যের মাঝে আরো অন্য বিসিএস সাধারণ শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার, ঢাকা কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর নেহাল আহমেদ, ঢাকা কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপের সম্পাদক প্রফেসর শামিম আরা বেগমসহ বাংলাদেশ স্কাউটরসের জাতীয় নেতৃবৃন্দ, কলেজের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানগণ, সাবেক সিনিয়র রোভারমেটগণ। / এআর /

দ্বৈত ভর্তি: বিপাকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ হাজার শিক্ষার্থী

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী ‘অন্যায়ভাবে’ দ্বৈত ভর্তির ফলে নিবন্ধনপত্র না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন। সম্প্রতি সফটওয়্যার ব্যবহার করে দুই বিভাগে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করার পর কর্তৃপক্ষ তাদের বিশেষ বিবেচনায় জরিমানা নিয়ে নিবন্ধনপত্র দিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জরিমানার পরিমাণ অস্বাভাবিক রকমের বেশি। এটা দেওয়ার মত সামর্থ্য নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক-পূর্ব-শিক্ষা বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত ডিন মো. নাসির উদ্দিন বলেন, প্রথমবার ভর্তির পর যারা পরীক্ষায় অংশ নেননি তারা ৮ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা ও একটা ভর্তি বাতিলের ফি জমা দিলে নিবন্ধন পাচ্ছেন। আর ভর্তির পর যারা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন তাদের জরিমানা ১০ হাজার ৭০০ টাকা; সঙ্গে ভর্তি বাতিলের ফি। সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গাজীপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনে বেশ কিছু শিক্ষার্থীকে সমস্যা সমাধানের আশায় ভিড় জমাতে দেখা গেছে। মো. আব্দুল্লাহ আল মাউন নামে একজন শিক্ষার্থী বলেন, ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে তিনি রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজে গণিত (সম্মান) বিভাগে ভর্তি হন। পরের বছর ভর্তি হন সরকারি ঈশ্বরদী কলেজে  রসায়ন বিভাগে। “আমি গণিত পড়তে চাই না। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে রসায়ন বিভাগের নিবন্ধনপত্র দিচ্ছে না। তারা প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যাদের একবার নিবন্ধনপত্র দেওয়া হয়েছে তাদের দ্বিতীয়বার আর দেবে না। তবে জরিমানা দিলে নিবন্ধনপত্র দেবে।” এই নিয়ম আগে ছিল না বলে তার দাবি। মো. মেহেদী হাসান নামে এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি গত বছর কুমিল্লার নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজ বিবিএস এবং এ বছর লাঙ্গলকোট হাসান মেমোরিয়াল কলেজে ব্যবস্থাপনা বিভাগে ভর্তি হয়ে এই বিপদে পড়েছেন। জুবায়ের আহমেদ নামে আরেক শিক্ষার্থী জানান, তিনি প্রথমে সিলেটের কানাইঘাট কলেজে বাংলায় এবং পরে দক্ষিণ সুরমা কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভতি হয়ে এই বিপদে পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় হঠাৎ করে এই নিয়ম চালু করায় তাদের এখন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অধ্যক্ষের প্রত্যয়ন ও সুপারিশ নিয়ে গেলেও সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। এ বিষয়ে ডিন নাসির উদ্দিন বলেন, “দ্বৈত ভর্তি কখনও গ্রহণযোগ্য নয়। এটা একটা অন্যায়। ভর্তির বিজ্ঞপ্তিতে তাদের নিরুৎসাহিত করা হয়। কিছু শিক্ষার্থী ইতঃপূর্বে দ্বৈত ভর্তি হয়ে সুকৌশলে পার পেয়ে গেছে। “বর্তমানে সফটওয়্যারে পরীক্ষিত হওয়ায় তা ধরা পড়ছে। এটা বন্ধ করতে ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা পাঁচ হাজারের মত।” এছাড়া জরিমানা মওকুফের সুযোগ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “যারা দরিদ্র তাদের আবেদন পেলে জরিমানা মওকুফ করে সমস্যা সমাধান করা হচ্ছে। “তারা যদি অধ্যক্ষের মাধ্যমে সুপারিশসহ ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেন্টারে আবেদন নিয়ে আসেন তাহলে বিষয়টির সুরাহা হবে। কারও কোনো হয়রানি বা ভোগান্তির কারণ নেই। টিআর/  

‘পেছন থেকে ওড়নায় টান দিয়ে গায়ে হাত দেয় অটোচালক’

‘সন্ধ্যার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চারুকলা এলাকা থেকে একা হলে ফিরছিলাম আমি। এ সময় পেছন দিক থেকে এসে আমার ওড়না ধরে টান দেয় অটোচালক। সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে ওই লম্পট চালক আমার গায়ে হাত দেয়।’শনিবার ছুটিতে ফাঁকা ক্যাম্পাসে ‘রীতা পরিবহন’নামে একটি অটোরিকশার চালকের হাতে এভাবে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন রাবির আবাসিক হলের (রাবি) এক শিক্ষার্থী।বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেদা জিয়া হলের পাশে সড়কে শনিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। পরদিন রোববার বিকালে ওই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।যৌন হয়রানির শিকার ওই ছাত্রী জানান, শনিবার সন্ধ্যার দিকে চারুকলা এলাকা থেকে একা আবাসিক হলে ফিরছিলেন তিনি। খালেদা জিয়া হলের পাশের রাস্তা দিয়ে আসার সময় পেছন দিক দিয়ে আসা একটি অটোচালক হঠাৎ তার ওড়না ধরে টান দেয়। হতচকিত হয়ে তিনি (ছাত্রী) সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে অটোচালক তার গায়ে হাত দেয়।এ সময় তিনি চিৎকার করলে অটোচালক দ্রুত সেখান থেকে সটকে পড়ে। অটোর পেছনে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নিবন্ধিত নম্বর প্লেটযুক্ত থাকলেও দ্রুত গতিতে চলে যাওয়ায় ওই ছাত্রী নম্বর দেখতে পাননি। তবে অটোর পেছনে ‘রীতা পরিবহন’লেখা ছিল বলে লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন তিনি।এ বিষয়ে রাবির উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা গণমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি পুলিশ এবং সিটি কর্পোরেশনকে জানানো হয়েছে। দ্রুত ওই অটোচালককে সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য বলা হয়েছে।/ এআর /

সিকৃবি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা   

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সিকৃবি) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার বিকেলে জরুরি এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিকৃবি রেজিস্ট্রার বদরুল ইসলাম শোয়েব জানান, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ সভার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে।   সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে ছাত্রদের এবং আগামীকাল শুক্রবার সকাল ৯টার মধ্যে ছাত্রীদের হল ত্যাগ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে স্থগিত করা হয়েছে পূর্বনির্ধারিত বিভিন্ন ক্লাস ও পরীক্ষা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, সিকৃবিতে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল চলছে। এ কোন্দলকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করছে। তাই যেকোনো ধরেনের খারাপ পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য  এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমএইচ/এসি   

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি পতাকা উত্তোলন নিষিদ্ধ!   

আসন্ন রাশিয়া বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে বরিশায় বিশ্বিবিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সব ধরনের বিদেশি পতাকা উত্তেলন নিষিদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। আজ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার মর্যাদা সমুন্নত রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল মাহমুদ রুমি স্বাক্ষরিত সেই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে যত্রতত্রভাবে ভিনদেশি বিভিন্ন পতাকা উত্তোলন করেছে। যা পতাকা আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিনদেশি কোন ধরনের পতাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তোলন না করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এরপরও কেউ ভিনদেশি পতাকা উত্তোলন করলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এসি        

ক্যাম্পাসে আড্ডামুখর ইফতার  

উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা কলেজ। অন্য সময় জাতীয় আর আন্তর্জাতিক ইস্যুতে যেই ক্যাম্পাসগুলো সদাব্যস্ত থাকে মিছিল আর স্লোগানে, রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে অনেকটা ‘পান থেকে চুন খসলেই’ পরস্পরের ওপর হামলার ঘটনা নৈমিত্তিক, সেই  সবুজ ক্যাম্পাসে রমজান আসলে তৈরি হয় স্বর্গীয় শান্তি ও উৎসবের আমেজ। সোমবার কলেজ মাঠে কোমল ঘাসের সবুজ গালিচায় এমনি ভ্রাতৃত্বের দৃশ্য দেখা মেলে। কলেজের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্সের শতাধিক তরুণের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার পরিণত হয় প্রাণের মিলনমেলা। দেখে মনে হয়েছিল পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে এক অকৃত্রিম দৃশ্য। ইফতারে শুধু মুসলিম শিক্ষার্থী নয় অংশ নেই হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীও। মুসলিম বন্ধুদের ইফতারের এই প্রিয় মুহূর্তে শরিক হয়ে অসাম্প্রদায়িকতার অনুপম দৃষ্টান্তও উপহার দিয়ে থাকে। সোমবার বিকালে সূর্যটা পশ্চিম আকাশে হেলে পড়লে শুরু হয় ইফতারির প্রস্তুতি। ঢাকা কলেজের বিভিন্ন হল বের হয়ে এসে একসঙ্গে আসরের নামাজ পড়ে ঢাকা কলেজে মসজিদে। নামাজ শেষ করে কিছু শিক্ষার্থী বাহির থেকে ইফতারি কিনে আনে। ইফতারির মধ্যে থাকে আলুর চপ, পিয়াজু, ডিমের চপ, জুস, বেগুনি, জিলাপি, খেজুর, বুন্দিয়া, বড়া এবং নানা রকম ফল-ফলাদি। এছাড়া মাগরিবের নামাজের পর রাতের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। আগে থেকেই সবাই ইফতারিরর মেনু তৈরি করে রাখেছিলো আজকের ইফতারিতে কি খাবে তারা। ইফতারি তৈরির ব্যাপারটায় বেশ আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হয়। ঢাকা কলেজে শিক্ষার্থী সবুজ বলেন, ক্যাম্পাসে ইফতার করায় আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক আগের থেকে আরও গাঢ় হচ্ছে। আমরা রোজা থেকে যে আত্মশুদ্ধি লাভ করছি তার একটি হচ্ছে শত্রু-মিত্রু বিভেদ দূর করে এক হয়ে দেশের পক্ষে কাজ করা। ঢাকা কলেজে শিক্ষার্থী জহির বলেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একত্রে ইফতার করতে না পারার দুঃখ অনেকটাই ঘুচে যায় বন্ধুদের সঙ্গে ইফতার করে। এখানে অনেক আন্দন আছে। বাপ্পি নামের আর এক শিক্ষার্থী বলেন, রমজানে তাদের ক্লাস চলে। তাই তাদের বাড়িতে যাওয়া হয়নি। তারা এ ইফাতারিকে তাদের বাড়িতে বসে ইফতার করার সঙ্গে তুলনা করতে নারাজ। তবে এ চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে ইফতার করাটা তাদের শিক্ষাজীবনের নতুন একটি জায়গায় দ্বার করিয়েছে।  টিআর/ এসএইচ/      

আমাকে বিশ্বজিতের মতো হত্যা করতে চেয়েছিল

সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা সংস্কারের জন্য ধারাবাহিক আন্দোলন করে আসছিলো শিক্ষার্থীরা। আন্দোনলকারীদের দাবি মেনে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন। কিন্তু দেড় মাস অতিবাহিত হলেও প্রজ্ঞাপন না হওয়ায় হতাশা বেড়েছে শিক্ষার্থীদের মাঝে। সৃষ্টি হয়েছে চাপ ক্ষোভের। এছাড়া আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ায় নিরাপত্তা শঙ্কায় রয়েছেন আন্দোনলকারী শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্লাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক এপিএম সোহেল। তিনি একুশে টিভি অনলাইনকে সেই নৃশংস হামলার বর্ননা দিয়েছেন। বলেছেন, পুরান ঢাকায় বিশ্বজিতকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছিল তাকেও সেভাবে খুন করে চেয়েছিল হামলাকারীরা। তার সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন একুশে টিভি অনলাইন প্রতিবেদক তবিবুর রহমান। হামলার শিকার সোহেল বলেন, আমি শুরু থেকেই জবিতে কোটা আন্দোলন সংগঠিত করে আসছি। যে েকারণে অনেকেই আমাকে মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল।  সর্বশেষ ২৪ মে পরীক্ষা দিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বাসায় ফেরার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে আমার ওপর হামলা চালায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি তরিকুল গ্রুপের ১০ থেকে ১২ জন কর্মী। তারা আমার ওপর অতর্কিত হমলা চালায়। এরমধ্যে আমি চারজনকে চিনতে পেরেছি। হামলার নেতৃত্বে ছিলেন শাহরুখ আলম শোভন। তিনি ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ‘বাকি তিনজন হলেন- মিরাজ, মাহফুজ ও বাবু। এরা সবাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের। প্রত্যেকেই একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের কর্মী। তার আমাকে বিশ্বজিতের হত্যা করতে হামলা করেছিলো। সিসি ক্যামেরা অন দেখে আমাকে আহত করে তারা পালিয়ে যায়।  সোহেল বলেন, তারা শুধুমাত্র হামলা করে ক্ষান্ত হননি। ‘কোটা আন্দোলনের সময় আমাদের কিছু লাইভ ভিডিও ছিল, সেখান থেকে আমার ভিডিওর কিছু অংশ কেটে তার সঙ্গে আমারই কিছু বান্ধবীর ছবি জুড়ে দিয়ে অশ্লীল ভিডিও বানিয়ে ইন্টারনেটে ছেড়ে দিয়েছে। এভাবে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমার বান্ধবীরাও মিডিয়ার সামনে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। যারা এই ধরণের অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানাচ্ছি আমি।  সোহেল  আরও  জানান, হামলা হয়েছে প্রকাশ্যে এবং তার ভিডিও ফুটেজও  রয়েছে। তাহলে তাদেরকে (হামলাকারী) কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, আমি তাদের দৃষ্টন্তমুলক শাস্তির দাবি জানাই। সোহেল আক্ষেপ করে বলেন, কোটা আন্দোলন তো আমি নিজের জন্য করি নি। এখানে তো সবাই ছিলো। কেন তারা আমাকে মারলো? আমার মা আমার ভাই অন্যের বাড়িতে কাজ করে। আমরা খুব কষ্ট হচ্ছে আমার পরিবারেও মধ্যে আমি শুধু পড়াশুনা করি। আমার মায়ের স্বপ্ন আমি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ালেখা শেষ করে ভালো চাকরি নিয়ে সংসারের হাল ধরবো। আমার বাবা মারা গেছেন অনেক আগে । আমি পরিবার থেকে টাকা নিতে পারি না। একটা নিউশন করে পড়ালেখার খরচ যোগাই। হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক  শাস্তির দাবি। বর্তমানে ঢামেকে চিকিৎসাধীন সোহেলে শারীরিক অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আজ একটু ভাল আছি, গত দুইদিন শরীরে প্রচণ্ড ব্যাথা ছিল। আজ ব্যাথা একটু কম। আমাকে হাসপাতালের ১০১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হচ্ছে। গত বুধবার বিকালে তাকে ক্যাম্পাসের মূল ফটকের বাইরে থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়।  পরে সোহেলকে উদ্ধার করে পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ার আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করে শিক্ষার্থীরা। সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০১ নম্বর ওয়ার্ডে এনে ভর্তি করা হয়। সোহেলের নাকের নিচের অংশের বাইরের দিকে আটটি ও ভেতরের দিকে দুইটিসহ মোট দশটি সেলাই পড়েছে। এছাড়া তার পিঠ জুড়ে এবং পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।  টিআর/ এআর    

ঢাবির নতুন প্রোভিসি অধ্যাপক সামাদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি (প্রশাসন) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এই নিয়োগ দিয়েছেন।আজ রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতির অনুমোদন করা ফাইল মন্ত্রণালয়ে এসেছে। এখন এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য ছিল।শূন্য হওয়ার আগে এই পদে ছিলেন বর্তমান ভিসি অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান। গত বছর তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) পদটি শূন্য ছিল।কবি মুহাম্মদ সামাদ ঢাবি সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য। অধ্যাপক সামাদ এর আগে ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেসের (২০১২- ২০১৬) উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।/ এআর /

দুই দফা দাবিতে জাবি উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও

দুই দফা দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও করে রেখেছে আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের একাংশ। দীর্ঘ ৯ মাস সিন্ডিকেট সভা না হওয়ায় নতুন শিক্ষক নিয়োগ বন্ধের দাবি এবং অবিলম্বে সিন্ডিকেট সভার দাবিতে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়। রোববার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে এ ঘেরাও কর্মসূচি শুরু হয়েছে, চলবে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। উপাচার্য অবিলম্বে দাবিগুলো বাস্তবায়ন না করলে বিশ্ববিদ্যালয়ে কঠোর আন্দোলন ঘোষণা করা হবে বলে হুশিয়ারি দেন উপাচার্যবিরোধী সংগঠনটির সম্পাদক ও মুখপাত্র সহযোগী অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের ব্যানারে উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও করে রাখেন তারা। কার্যালয় ঘেরাও থাকার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ফারজানা ইসলাম নিজ কার্যালয়ে আসেননি। এমনকি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেননি। একে//

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি