ঢাকা, শুক্রবার, ২২ জুন, ২০১৮ ১৭:৩৪:২০

বিসিএসসহ সব নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন মুদ্রণ করবে পিএসসি

বিসিএসসহ সব নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন মুদ্রণ করবে পিএসসি

প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে এখন থেকে বিসিএসসহ সব সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার (পিএসএসসির অধীনে) প্রশ্ন নিজেরাই প্রণয়ন ও মুদ্রণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ কর্মকমিশন (পিএসসি)। ৩৯তম স্বাস্থ্য ক্যাডারে বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা নিজেদের মুদ্রণ করা প্রশ্নে আয়োজন করা হবে বলে পিএসসি জানিয়েছে।পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক এ বিষয়ে বলেন, বিসিএস ও অন্যান্য সব পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পিএসসি ভবন থেকে প্রণয়ন ও মুদ্রণ করা হবে। পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে আরও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, ৩৯তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা আগামী ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা আয়োজনে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ৩৮তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা ৮ আগস্ট শুরু হবে। ৮ থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত আবশ্যিক বিষয়ের পরীক্ষা হবে। এছাড়া সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ঐচ্ছিক বিষয়ের পরীক্ষা হবে।পিএসসি চেয়ারম্যান বলেন, একটি নির্ধারিত কক্ষে বসে পিএসসির প্রশ্ন প্রণয়নকারী মডারেটররা একাধিক প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করবেন। এরপর লটারির মাধ্যমে একটি সেট নির্বাচন করা হবে। সেই প্রশ্ন সেটটি পিএসসির নিজস্ব প্রিন্টারে ছাপা হবে। এরপর সেটি পরীক্ষা কেন্দ্রে পাঠানো হবে। লটারির মাধ্যমে প্রশ্ন নির্বাচন থেকে প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে না যাওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত রুমটি বন্ধ রাখা হবে। পুরো স্থানটি সিসিটিভি দিয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হবে।জানা গেছে, চলতি বছর ৪ হাজার সরকারি নার্স নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। এ বছর শুরুর দিকে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও পরীক্ষার আগেই প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠে। পরদিন লিখিত পরীক্ষা বাতিল করে পিএসসি। / এআর /
প্রিলি থেকেই কোটার শতভাগ বাস্তবায়ন চায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা

এবার বিসিএসসহ সরকারি সব ধরণের চাকরির নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বরাদ্দ অংশের শতভাগ বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’। সংগঠনের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চলমান সব ধরণের নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত রাখাসহ সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কোটার শূন্য পদ সংরক্ষণ করে বিশেষ নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করার দাবি জানানো হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু মিলনায়তনে আয়োজিত শুক্রবার রাতে এক আলোচনা সভায় সংগঠনের নেতারা এই দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখার আহবান জানিয়ে ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ আয়োজিত ‘বৈষম্য দূরীকরণে কোটা ব্যবস্থা’শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে নেতৃারা মুক্তিযোদ্ধা কোটা সঠিক বাস্তবায়নে একটি কমিশন গঠনসহ ৯ দফা দাবি তুলে ধরেন।  সংগঠনের সভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও দপ্তর সম্পাদক আহমাদ রাসেলের পরিচালনায় ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান শাহীনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারা বেগম।  নেতারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক প্রশাসন গড়ার স্বার্থে যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখতে হবে, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও দেশের অতীত গৌরব ধারণে এর অন্য কোনো বিকল্প নেই। বক্তারা বলেন, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা হত্যার পর থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র হয়েছে। পরবর্তীতে ২০০১ সালের পর মুক্তিযোদ্ধা কোটা আবারো ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়। এভাবে মুক্তিযুদ্ধের পর ২৯ বছর কোটায় কোন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের চাকুরি হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের সময় এবং পরবর্তী ২৯ বছর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবার রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে নিস্পেষিত হয়েছে। এ ছাড়া এই ৩০ শতাংশ কোটা তাদের আত্মমর্যাদা ও সম্মানের সাথে জড়িত। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানের দিকে তাকিয়ে হলেও এই কোটা বহাল রাখা জরুরি। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা একটি অসাম্প্রদায়িক জঙ্গিমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় প্রশাসন স্বাধীনতা বিরোধীমুক্ত করতেও সরকারের প্রতি আহবান জানান। নেতৃবৃন্দ বলেন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য সরকারি কোটা থাকলেও এই কোটায় যোগ্যতার দোহাই দিয়ে ইচ্ছাপূর্বক তাদের মৌখিক পরীক্ষা থেকে বাদ দিয়ে দেয়। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান প্রিলিমিনারী, লিখিত, মনস্তাত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তার আর কি যোগ্যতার প্রমান দিতে হবে? মৌখিক পরীক্ষা কখনোই যোগ্যতা যাচাইয়ের একমাত্র মানদন্ড হতে পারে না। বলা হয়, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পাওয়া যায় না। অথচ এখনো হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বেকারত্ব নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা বলেন, কোটা বাতিলের সময় এখনও আসে নাই, এখনও মুক্তিযোদ্ধাদের হাজার হাজার সন্তান চাকরি পাননি, অনেক বেকার রয়েছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাব, কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত পুর্নবিবেচনা করবেন। সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য অধ্যাপক আনোয়ারা বেগম বলেন, পশ্চাতপদ জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূল স্রোতে সম্পৃক্ত করতে জাতির পিতা কোটা ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। কোটা কখনো বৈষম্য সৃষ্টি করে না, বরং বৈষম্য দূরীকরণে কোটা ব্যবস্থা বহাল রাখতে হবে। আর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের নিয়োগ দিলে দেশ মেধাহীন হবে না। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদেও চাকুরি দিলে মেধাবী প্রশাসন গড়ে তোলার পাশাপাশি একটি দেশ প্রেমিক প্রশাসনও গড়া সম্ভব।  মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বহাল না করা হলে ৭১-এর পরাজিত শক্তি ডুগডুগি বাজাবে। কারণ তারা দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান-অপদস্থ করতে চেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণার ফলে তারা আজ উল্লাসে মেতে উঠেছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান শাহীন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ৯ দফা দাবি তুলে ধরেন, দাবিগুলো হলো- ১) জাতির পিতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তিকারীদের শাস্তি দিতে হবে। ২) বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা সুরক্ষা আইন করতে হবে। ৩) ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রেখে তা বাস্তবায়নে কমিশন গঠন তরে প্রিলিমিনারী থেকে কোটা শতভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে। ৪) মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চলমান সকল নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত রাখাসহ সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কোটার শূন্য পদ সংরক্ষণ করে বিশেষ নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করতে হবে। ৫) ১৯৭২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় শূন্য পদগুলোতে চলতি বছরেই নিয়োগ দিতে হবে। ৬) বীর মুক্তিযোদ্ধারা ছিলেন প্রবাসী সরকারের প্রথম সেনাবাহিনী এ কারণে তাদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে পেনশন, বোনাস, রেশনসহ ওই মন্ত্রণালয়ের সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। ৭) রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে স্বাধীনতাবিরোধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করাসহ স্বাধীনতাবিরোধীদের উত্তরসূরীদের সকল চাকুরিতে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে এবং স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করতে হবে। ৮) ঢাবি ভিসির বাসভবনে হামলাসহ দেশব্যাপী নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী স্বঘোষিত রাজাকারদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে এবং সকলের জন্য চাকুরিতে প্রবেশের বয়সসীমা তুলে দিতে হবে। বক্তব্য রাখেন আয়োজক সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য শহীদ সংসদ সদস্য নূরুল হক হাওলাদারের কন্যা জোবায়দা হক অজন্তা, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম ব্রিগেডের আহবায়ক হাসান মাহমুদ রনি, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের সহ-সভাপতি আকবর হোসেন মিঠু, ওমর ফারুক সাগর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল-আমীন মৃদুল, প্রকৌশলী এনামুল হক, প্রচার সম্পাদক সাদেকুল নিয়োগী পন্নী, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মো. আল মামুন, আয়োজক সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য কামরুল ইসলাম রাসেল, জোবায়ের আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি আব্দুল্লাহ সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ সরকার প্রমুখ। আরকে// এআর

৪০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি সেপ্টেম্বরে

আগামী সেপ্টেম্বরেই হচ্ছে  ৪০ তম বিসিএস পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এমন পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ কর্ম কমিশন (পিএসসি)। আজ বুধবার পিএসসি’র চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক এমন তথ্য জানিয়েছেন। পিএসসি’র চেয়ারম্যান বলেন, সেপ্টেম্বরে ৪০তম বিসিএস পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে। নভেম্বরের মধ্যে আবেদন কার্যক্রম শেষ করা হবে। পরবর্তী তিন বা চার মাসের মধ্যে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার আয়োজন করা হবে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ৪০তম বিসিএসের জন্য প্রথম শ্রেণিতে বিভিন্ন ক্যাডারে প্রায় ২ হাজার জনকে নিয়োগের জন্য চাহিদা পেয়েছি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ চাহিদা প্রদান করা হয়েছে। এ তালিকায় বিসিএসে প্রশাসন, পুলিশ, পররাষ্ট্র, আনসার, কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারে (সরকারি সাধারণ কলেজ ও সরকারি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ) প্রায় ২ হাজার পদ রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ তালিকা চূড়ান্ত করা হয়নি। মোহাম্মদ সাদিক বলেন, ৩৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত প্রকাশের কাজ করছি। ঈদের আগে তা প্রকাশ করা হতে পারে। ৩৮তম ও ৩৯তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার দিন ধার্য করা হয়েছে। ৩ আগস্ট ৩৯তম বিসিএসের পরীক্ষা নেব ও ৮ আগস্ট ৩৮তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরু হবে। ৮ থেকে ১৩ আগস্ট এই বিসিএসের আবশ্যিক বিষয়ের পরীক্ষা হবে। এছাড়া সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ঐচ্ছিক বিষয়ের পরীক্ষা হবে।  টিআর/ এআর

ঈদের আগেই ৩৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে ৩৭তম বিসিএস পরীক্ষার  চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে। বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের (পিএসসি)চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক আজ গণমাধ্যমে কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ফল প্রকাশের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আশা করছি আসন্ন ঈদের আগে ৩৭তম বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে। ফল প্রকাশের জন্য কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে, বর্তমানে সেসব প্রক্রিয়া চলছে। আগামী সপ্তাহে এ ফল প্রকাশ করা হতে পারে। যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে ঈদের ছুটির পরপরই প্রকাশ করা হবে। পিএসসির চেয়ারম্যান বলেন, সম্প্রতি ‘৩৮তম ও ৩৯তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার দিন ধার্য করা হয়েছে। ৩ আগস্ট ৩৯তম বিসিএসের পরীক্ষা ও ৮ আগস্ট ৩৮তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরু হবে। ৮-১৩ আগস্ট এই বিসিএসের আবশ্যিক বিষয়ের পরীক্ষা হবে। এছাড়া সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ঐচ্ছিক বিষয়ের পরীক্ষা হবে। তথ্যমতে, ৩৯তম স্বাস্থ্য ক্যাডারের বিশেষ বিসিএসে মোট ৩৯ হাজার ৯৫৪ প্রার্থী আবেদন করেছেন। বিশেষ বিসিএসে ৪ হাজার ৫৪২ জন সহকারী সার্জন আর ২৫০ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন নেয়া হবে। সব মিলে প্রায় পাঁচ হাজার চিকিৎসক নেয়া হবে এই বিসিএসে। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিশেষ বিসিএসের প্রিলিমিনারিতে এক কথায় লিখিত পরীক্ষা হবে। এতে ২০০ নম্বরের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। এ ছাড়া ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা হবে।   মেডিকেল সায়েন্স বা ডেন্টাল সায়েন্স বিষয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। এছাড়া বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ বিষয়াবলি ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে ২০ নম্বর করে এবং মানসিক দক্ষতা ও গাণিতিক যুক্তিতে ১০ নম্বর করে মোট ২০০ নম্বরের দুই ঘণ্টার লিখিত পরীক্ষা হবে। প্রতি প্রশ্নের সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর, তবে প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য কাটা হবে শূন্য দশমিক ৫০ নম্বর। লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর পিএসসি নির্ধারণ করবে। মৌখিক পরীক্ষার পাস নম্বর ধরা হয়েছে ৫০। লিখিত পরীক্ষা শুধু ঢাকায় হবে। অন্যদিকে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে পিএসসি। এতে ১৬ হাজার ২৮৬ জন উত্তীর্ণ হন। তারা এখন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেবেন।   গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর ৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা হওয়ার প্রায় দুই মাসের মধ্যে এ ফল প্রকাশ করা হয়। বিসিএসের আবেদনের ক্ষেত্রে ৩৮তম বিসিএসে রেকর্ড সৃষ্টি হয়। এতে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৪৬৮ জন প্রার্থী আবেদন করেন। এর আগে ৩৭তম বিসিএসে অংশ নেন ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪৭৬ জন পরীক্ষার্থী।   জানা গেছে, ৩৮তম বিসিএসের মাধ্যমে জনপ্রশাসনে ২ হাজার ২৪ জন ক্যাডার কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে। তার মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারের ৩০০, পুলিশ ক্যাডারের ১০০টি পদসহ ৩৮তম বিসিএসে সাধারণ ক্যাডারে মোট ৫২০টি, কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারে ৫৪৯টি এবং শিক্ষা ক্যাডারে ৯৫৫টি পদ রয়েছে।  টিআর/ এআর

৩৯তম বিসিএসের প্রিলি শুধু ঢাকা কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে

৩৯তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার আগামী ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। শুধু ঢাকা কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে। বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে পিএসসি।  ওই দিন বিকেলে ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এর আগে, পিএসসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক জানান, ৩৮তম ও ৩৯তম বিসিএসের পরীক্ষার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা ৩ আগস্ট ৩৯তম বিসিএসের পরীক্ষা নেব ও ৮ আগস্ট ৩৮তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরু হবে। তিনি জানান, ৮ থেকে ১৩ আগস্ট ৩৮ তম বিসিএসের কম্পোলসারি বিষয়ের পরীক্ষা হবে। এ ছাড়া সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ঐচ্ছিক বিষয়ের পরীক্ষা হবে। তিনি জানান, ৩৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের জন্য কাজ করছে পিএসসি। তবে কবে এই ফল প্রকাশ করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি তিনি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ৩৯তম বিসিএসে ৪ হাজার ৫৪২ জন সহকারী সার্জন আর ২৫০ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন নেওয়া হবে। সব মিলে প্রায় পাঁচ হাজার চিকিৎসক নেওয়া হবে এই বিসিএসে। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের প্রিলিমিনারিতে এমসিকিউ পদ্ধতিতে পরীক্ষা হবে। এতে ২০০ নম্বরের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। এই বিসিএসে লিখিত পরীক্ষা হবে না। এ ছাড়া ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা হবে। মেডিকেল সায়েন্স বা ডেন্টাল সায়েন্স বিষয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। এ ছাড়া বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ বিষয়াবলি ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে ২০ নম্বর করে এবং মানসিক দক্ষতা ও গাণিতিক যুক্তিতে ১০ নম্বর করে মোট ২০০ নম্বরের দুই ঘণ্টার লিখিত পরীক্ষা হবে। প্রতি প্রশ্নের সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর দেওয়া হবে। তবে প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য কাটা হবে শূন্য দশমিক ৫০ নম্বর। লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর পিএসসি নির্ধারণ করবে। মৌখিক পরীক্ষার পাস নম্বর ধরা হয়েছে ৫০। লিখিত পরীক্ষা শুধু ঢাকায় হবে। এসএইচ/

৩৯তম বিশেষ বিসিএসের পরীক্ষা জুলাইয়ে

চলতি বছরের জুলাই মাসের মধ্যে স্বাস্থ্য ক্যাডারের ৩৯তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা আয়োজন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে । পিএসসির জরুরি সিন্ডিকেট সভায় ৩৮ ও ৩৯ তম বিসিএস পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা হবে।’ মঙ্গলবার পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি’র) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক এই তথ্য নিশ্চিত করেন।  পিএসসি’র চেয়ারম্যান  ড. মোহাম্মদ সাদিক গণমাধ্যমকে  বলেন,  একসঙ্গে অনেকগুলো কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে এর মধ্যে ৩৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের কাজ, ৪ হাজার নার্স নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১০ হাজার প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার কাজ করা হচ্ছে। এ কারণে ৩৮তম ও ৩৯তম বিসিএস পরীক্ষার সময় এখনও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। আগামি এক সপ্তাহের মধ্যে এসব পরীক্ষার সময় ঘোষণা করা হবে। পিএসসি সূত্রে গেছে, চিকিৎসক নিয়োগের জন্য ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের আবেদন শেষ হয় গত ৩০ এপ্রিল। গত ১০ এপ্রিল এই বিসিএসের আবেদন কার্যক্রম শুরু হয়। এতে প্রায় ৪০ হাজার চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেন। ৩৯তম বিসিএসে ৪ হাজার ৫৪২ সহকারী সার্জন আর ২৫০ সহকারী ডেন্টাল সার্জন নিয়োগ দেওয়া হবে। সব মিলে প্রায় পাঁচ হাজার চিকিৎসক নেওয়া হবে এই বিসিএসে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ৩৯তম বিশেষ বিসিএসে এমসিকিউ ধরনের লিখিত পরীক্ষা হবে। এতে ২০০ নম্বরের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। এছাড়া ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা হবে। মেডিকেল সায়েন্স বা ডেন্টাল সায়েন্স বিষয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। এছাড়া বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ বিষয়াবলি ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে ২০ নম্বর করে এবং মানসিক দক্ষতা ও গাণিতিক যুক্তিতে ১০ নম্বর করে মোট ২০০ নম্বরের দুই ঘণ্টার এমসিকিউ ধরনের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রতিটি এমসিকিউ প্রশ্নের সঠিক উত্তরের জন্য এক নম্বর। তবে প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য কাটা হবে শূন্য দশমিক ৫০ নম্বর। লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর পিএসসি নির্ধারণ করবে। মৌখিক পরীক্ষার পাস নম্বর ধরা হয়েছে ৫০। লিখিত পরীক্ষা শুধু ঢাকায় হবে। এ দিকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে পিএসসি। এতে ১৬ হাজার ২৮৬ জন ৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হন। তারা এখন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেবেন। সূত্র আরও জানায়, ৩৮তম বিসিএসের মাধ্যমে জনপ্রশাসনে ২ হাজার ২৪ জন ক্যাডার কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে। প্রশাসন ক্যাডারে ৩০০, পুলিশ ক্যাডারের ১০০টি পদসহ ৩৮তম বিসিএসে সাধারণ ক্যাডারে মোট ৫২০টি, কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারে ৫৪৯টি এবং শিক্ষা ক্যাডারে ৯৫৫টি পদ রয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে ৩৭তম বিসিএসে অংশ নেন ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪৭৬ পরীক্ষার্থী। ৩৮তম বিসিএসে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৪৬৮ প্রার্থী আবেদন করেন।  কেআই/ টিকে

যে কারণে চাকরি প্রার্থীদের প্রথম লক্ষ্য বিসিএস

দেশে চার লাখের বেশি উচ্চশিক্ষিত তরুণ তরুণী এখন বেকার। কাঙ্খিত কর্মসংস্থান হিসেবে এদের প্রায় সবাই চায় সরকারি চাকরি। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিয়ে সবাই চাকরির বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হচ্ছে। যেখানে মোটামুটি সবার প্রথম পছন্দ বিসিএস এবং সরকারি চাকরি। সর্বশেষ ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষায় মাত্র ২ হাজার ২৪টি পদের বিপরীতে পরীক্ষা দিয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার চাকরি প্রার্থী। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক, প্রায় চার লাখ আবেদন পড়ে ওই বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য। সাধারণ শিক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, সমাজ, রাষ্ট্র বিজ্ঞানের মতো বিষয়ে পাশ করা ছাড়াও এখন বিবিএ, আইবিএ, বুয়েট থেকে বেরিয়েও অনেকে সরকারি কর্মকমিশনের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। বিসিএস তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকতে অনেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা জীবনের শুরু থেকেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র কাদের মন্ডল প্রথম বর্ষ শেষ করেই বিসিএস প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের মতো সামাজিক বিজ্ঞান বা কলা অনুষদে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিসিএসই পারফেক্ট এবং যুগোপযোগী। বিবিএ ছাত্রদের জন্য বেসরকারি ব্যাংক এবং কর্পোরেট অনেক চাকরির সুযোগ আছে কিন্তু আমাদের সেটা নেই। বিসিএস পরীক্ষায় ভাল করলে তদবির ছাড়াও চাকরি হয় বলে শিক্ষার্থীরা মনে করছেন। সরকারি চাকুরির সুযোগ সুবিধা এবং নিরাপত্তা এখন অনেক বেশি বলেই সবার বিশ্বাস। নতুন যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে তাদেরও লক্ষ্য জীবনের লক্ষ্য- বিসিএস দিয়ে সরকারি চাকরি করা। প্রথম বর্ষের ছাত্রী তানজিব ইসলাম বলেন, বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কিন্তু ততটা নিরাপত্তা নেই। যেকোনো সময় চাকরি থাকতেও পারে, নাও থাকতে পারে। এজন্য আমাদের ফার্স্ট টার্গেটই হলো বিসিএস। আরেক ছাত্র তোফায়েল হক বলেন, সরকারি চাকরিতে একটা সম্মান আছে। আবার বিয়ের ক্ষেত্রেও দেখা যায় সরকারি চাকরি থাকলে বেশি গুরুত্ব পায়। কিছুদিন আগেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের শিক্ষার্থীরা খুব একটা বিসিএস দিত না। কিন্ত এখন অনেকেই ঝুঁকছে সরকারি চাকরির দিকে। বুয়েট এমনকি আইবিএ`র শিক্ষার্থীরাও এখন সরকারি চাকরির জন্য বিসিএস পরীক্ষা দিচ্ছে এবং সরকারি চাকরিতে যোগ দিচ্ছে। বাণিজ্য অনুষদের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র জাকারিয়া বলেন, আমি একজন উদ্যোক্তা হবো। এজন্য বিনিয়োগ দরকার। কিন্তু সেটা হয়তো আমি সময়মতো পাব না। ব্যবসার পরিবেশও একটা ব্যাপার। এসব কারণে অনেকেই উদ্যোক্তা হতে চায় না। বিসিএসের দিকে মুভ করে। মার্কেটিং বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র শোয়েব বলেন, আমাদের অনেক বড় ভাইরা বিভিন্ন জায়গায় চাকরি বাকরি করছে। তারা প্রায়ই বলেন যে, প্রাইভেটে এসে কী করবি! এরচেয়ে সরকারিতে চেষ্টা কর, একবার হয়ে গেলে লাইফ সেটেল। বোঝা যাচ্ছে, বাংলাদেশে সিভিল সার্ভিসের চাকুরি এখন বেশ লোভনীয়। প্রতিযোগিতাও বেড়ে গেছে মারাত্মক। এখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও সরকারি চাকরির পেছনে ছুটছে। ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ`র ছাত্র জাহিদ হাসান বলেন, সবাইতো আর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পায় না। বাধ্য হয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে হচ্ছে। এখানে পড়েও অনেকে চেষ্টা করে বিসিএস দিয়ে সরকারি চাকরি করার। এখনতো সরকারি চাকরিতে সুযোগ সুবিধা অনেক বেশি। এজন্যই সবাই প্রথম চেষ্টা করে বিসিএস দিতে। বাংলাদেশে বাস্তবতা হলো উচ্চশিক্ষিত বেকার প্রতিনিয়ত বাড়ছে। কর্মসংস্থানের যে চিত্র তাতে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে মাত্র চার শতাংশের সরকারি চাকুরির সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ বড় অংশেরই কর্মসংস্থান হতে হবে বেসরকারি ব্যক্তিমালিকানা খাতে। বেশিরভাগেরই যে সরকারি চাকরি হবে না এটা নিশ্চিত। গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, তিনটা জিনিস কাজ করে। একটা হলো প্রারম্ভিক বেতন আগে যেটা ভাল ছিল না এখন সেটা খুব ভাল। এখন শুরুতেই ৪০ হাজার টাকার ওপরে বেতন দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে তাদের আরও অনেক রকম সুবিধা থাকে। বাইরে থাকলে বাড়ী ভাড়াটাড়া সব থাকে। তৃতীয়ত তাদের একটা ক্ষমতা থাকে। আর শেষ যেটা বলবো, ব্যক্তিখাতে গত দু`তিন বছর ধরে শিক্ষিত যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান খুব কমে গেছে। বিবিএ, এমবিএ করা বুয়েট বা আইবিএর শিক্ষার্থীদের নানা সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তারা সরকারি চাকরিতে আগ্রহী কেন এ প্রশ্নে মনসুরের বিশ্লেষণ হলো বেসরকারি খাতে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেকে আসছেন লোভে পড়ে। ‘তারা কাস্টমস ক্যাডার পছন্দ করে বা ইনকাম ট্যাক্স ক্যাডার পছন্দ করে। এটা শুধু লোভের জন্য, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। এটা দুঃখজনক। তাদের বিকল্প সুযোগ ছিল। একজন অসৎ অফিসার যতো অর্থ আয় করবে কোনও চাকরিতেই তার চাইতে বেশি বেতন দিতে পারবে না। কাস্টমসে একজন অসৎ অফিসার চাইলে বছরে কোটি টাকা আয় করতে পারবে। কোনও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বছরে এক কোটি টাকা দিতে পারবে না। চাকরিপ্রার্থীদের অনেকের সঙ্গেই কথা হলো যারা চারবার পাঁচবার বিসিএস পরীক্ষা দিয়েছেন। তারা বলছেন, দুর্নীতি বা অনিয়মই সবার লক্ষ্য নয়। তরুণ প্রজন্ম চায় দেশের জন্য, মানুষের জন্য কিছু করতে। আর সেটা করা যায় সরকারি চাকরিতে ঢুকেই। এদিকে সম্প্রতি কোটা সংস্কারের আন্দোলনের পর সরকারি চাকরিতে সব রকম কোটা বিলোপের ঘোষণা এসেছে। শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, এটি কার্যকর হলে ভবিষ্যতে বিসিএসের জন্য আগ্রহ, সেই সঙ্গে প্রতিযোগিতাও আরও অনেক বাড়বে। সূত্র: বিবিসি। একে/  

পিএসসির হেল্প লাইন চালু

৩৯তম বিশেষ বিসিএসের জন্য চারটি হেল্প লাইন নম্বর চালু করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। আজ রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে পিএসসি। সরকারি মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান টেলিটকের এই চারটি নম্বর হচ্ছে: ০১৫৫৫৫৫৫১৪৯-৫২। প্রার্থীরা আবেদন করতে গিয়ে কোনো সমস্যায় পড়লে এসব নম্বরে কথা বলে তার সমাধান করতে পারবেন। ৩৯তম বিসিএসের আবেদন নেওয়া শুরু হয় ১০ এপ্রিল মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে। আবেদন করার শেষ তারিখ ৩০ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। এই বিশেষ বিসিএসের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২১ থেকে ৩২ বছর বয়সী প্রার্থীরা অংশ নিতে পারবেন। প্রার্থীদের অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। সাধারণ পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফি ৭০০ টাকা। তবে ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক, প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীরা ১০০ টাকা ফি দিয়ে আবেদন করতে পারবেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ৩৯তম বিসিএসে চার হাজার ৫৪২ জন সহকারী সার্জন আর ২৫০ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন নেওয়া হবে। সব মিলে প্রায় পাঁচ হাজার চিকিৎসক নেওয়া হবে এই বিসিএসে। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।   এসএইচ/

বিসিএসে পিছিয়ে পড়ছেন নারীরা

দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা এগিয়ে গেলেও সবচেয়ে মর্যাদার চাকরি বিসিএসে পিছিয়ে পড়ছে তারা। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম-কমিশন (পিএসসি) রোববার সংসদের বৈঠকে ২০১৭ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।সর্বশেষ পাঁচটি বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল পর্যালোচনায় এ চিত্র পাওয়া গেছে। সংসদের বৈঠকে প্রতিবেদনটি জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পক্ষে উত্থাপন করেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক। এর আগে বিকেল ৫টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিসিএসের চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া পুরুষ ও নারী প্রার্থীদের হার বিশ্নেষণে দেখা গেছে, ৩২তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষায় ৪৪ দশমিক ৯০ শতাংশ (৭৫২ জন) পুরুষ উত্তীর্ণ হয়েছেন। কিন্তু নারীদের উত্তীর্ণ হওয়ার হার ৫৫ দশমিক ১ শতাংশ (৯২৩ জন)।পর্যায়ক্রমে ৩৩তম বিসিএসে পুরুষদের উত্তীর্ণের হার ৬১ দশমিক ৭৪ শতাংশ (৫ হাজার ২৫২ জন) ও নারী উত্তীর্ণের হার ৩৮ দশমিক ২৬ শতাংশ (৩ হাজার ২৫৫ জন)।৩৪তম বিসিএসের ফল বিশ্নেষণে দেখা যায়, এতে পুরুষ উত্তীর্ণের হার ৬৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ (এক হাজার ৪০১ জন), নারী উত্তীর্ণের হার ৩৫ দশমিক ৬২ শতাংশ (৭৭৫ জন)।৩৫তম বিসিএসে এই হার পুরুষ ৭২ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ (এক হাজার ৫৭২ জন), নারী ২৭ দশমিক ৯২ শতাংশ (৬০৯ জন)। ৩৬তম বিসিএসে এই হার পুরুষ ৭৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ (এক হাজার ৭১৪ জন) ও নারী ২৬ দশমিক ২২ শতাংশ (৬০৯ জন)।এদিকে গত বছর চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হওয়া ৩৬তম বিসিএস পরীক্ষায় মোট যোগ্য পরীক্ষার্থী ছিলেন দুই লাখ ১১ হাজার ২৮২ জন। এর মধ্যে পুরুষ উত্তীর্ণ ছিলেন এক লাখ ৪১ হাজার ২৭০ জন (৬৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ), নারী ৭০ হাজার ৬ জন (৩৩ দশমিক ১৩ শতাংশ) ও তৃতীয় লিঙ্গের ছিলেন ৬ জন (শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ)। প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সংখ্যার দিক থেকে সব চেয়ে বেশি নারী প্রার্থী চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয় ৩৩তম বিসিএসে ৩ হাজার ২৫৫ জন; আর সবচেয়ে কম উত্তীর্ণ হয় ৩৬তম বিসিএসে ৬০৯ জন। গত বছর (২০১৭ সালে) চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা ৩৬তম বিসিএস পরীক্ষা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এতে মোট যোগ্য পরীক্ষার্থী ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ২৮২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ছিল ১ লাখ ৪১ হাজার ২৭০ জন (৬৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ), নারী ৭০ হাজার ৬ জন (৩৩ দশমিক ১৩ শতাংশ) ও তৃতীয় লিঙ্গ ৬ জন (০.০০৩ শতাংশ)। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে প্রিলিমিনারি টেস্টে এক লাখ ৯ হাজার ২ জন (৭৯ দশমিক ৭০ শতাংশ) ‍পুরুষ ও দুই হাজার ৭৭৭ জন (২০ দশমিক ৩০ শতাংশ) নারী উত্তীর্ণ হয়। লিখিত পরীক্ষায় চার হাজার ৭৮০জন (৭৯ দশমিক ৮০ শতাংশ) পুরুষ ও এক হাজার ২১০জন (২০.২০শতাংশ) নারী উত্তীর্ণ হয়। এরপর মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে  নিয়োগের সুপারিশপ্রাপ্তদের (চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ) মধ্যে এক হাজার ৭১৪ জন (৭৩.৭৮ শতাংশ) ছিলেন পুরুষ এবং ৬০৯ জন (২৬ দশমিক ২২ শতাংশ) ছিলেন নারী/এআর /

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি