ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ৪:৫৫:২৯

৩৭তম বিসিএস ভাইভায় যেসব প্রশ্ন বেশি বেশি আসছে

৩৭তম বিসিএস ভাইভায় যেসব প্রশ্ন বেশি বেশি আসছে

৩৭তম বিসিএসের ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষা গত ২৯ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। এ পরীক্ষায় ২০০ নম্বর বরাদ্দ রয়েছে। প্রিলিমিনারি এবং লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। আর এ পরীক্ষায় নানা ধরনের প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। কি ধরণের প্রশ্ন করা হয় এ নিয়ে রয়েছে ভাইভা পরীক্ষার্থীদের কৌতুহল। তাই এবারের ৩৭তম বিসিএসের ভাইবা দেওয়া কয়েকজন ক্যাডার প্রত্যাশীর সঙ্গে কথা হয়েছে একুশে টেলিভিশন অনলাইনের এ প্রতিবেদকের। তাদের যেসব বিষয় বেশি বেশি জিজ্ঞেস করা হয়েছে সেগুলো পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো- রংপুর থেকে আসা একজন শিক্ষার্থী যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করেছেন। তার প্রথম পছন্দের বিষয় ছিল পররাষ্ট্র ক্যাডার। তাকে ৩৭তম বিসিএস ভাইভায় যে সব প্রশ্ন করা হয় তার চম্বুক অংশ এখানে তুলে ধরা হলো- আপনার নিজের সম্পর্কে বলুন? বাংলাদেশ পররাষ্ট্র নীতি কি? বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার পররাষ্ট্র নীতি তুলে ধরুন? ভারতের সঙ্গে পানি চুক্তি নিয়ে যে সমস্যা দেখা দিয়েছে তা কিভাবে সমাধান করা সম্ভব? রোহিঙ্গাদের পরিচয় তুলে ধরুন? রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিকভাবে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে? সম্প্রতি যে ডিজিটাল মেলা আয়োজন করা হলো এ থেকে আমরা কিভাবে উপকৃত হবো? ডিজিটাল বাংলাদেশ বা তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কতটুকু অগ্রগতি লাভ করেছে? আপনার প্রথম পছন্দ ফরেন ক্যাডারের সঙ্গে আপনার বিভাগের সম্পর্ক কি কি? আপনি ফরেন ক্যাডারে কেন আসতে চান? নারীদের অগ্রগতি সাধনে বাংলাদেশের ভূমিকা কতটুকু? আপনার দ্বিতীয় পছন্দের বিষয় হচ্ছে পুলিশ, আপনি যদি পুলিশ হন তাহলে বাংলাদেশর দুর্নীতি কিভাবে দূর করবেন? ঝিনাইদহ থেকে আসা একজন শিক্ষার্থী যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করেছেন। তার প্রথম প্রছন্দের বিষয় ছিল পররাষ্ট্র ক্যাডার।প্রথমেই নাম এবং পরিবার সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়।সিরিয়া সমস্যার উৎপত্তি এবং সমাধানের উপায় বলুন?এ সমস্যা সমাধানে বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্টগুলোর কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে আপনি মনে করেন? বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত আবৃতি করুন? এছাড়াও তার বিভাগ কেন্দ্রীক বিভিন্ন প্রশ্ন কার হয়। গাজীপুর থেকে আসা একজন শিক্ষার্থী যিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগে পড়াশোনা করেছেন। তার প্রথম প্রছন্দের বিষয় ছিল পররাষ্ট্র ক্যাডার।তাকে প্রশ্ন করা হয়- Introduce yourself? What is the Rohingya crisis? Where are you from? Why Gazipur is selected as an industrial city, explain it? Which sector was Gazipur during liberation war? ৭ মার্চের ভাষণ সম্পর্কে আপনি কি জানেন? আপনি এ ভাষণকে কোন আন্তর্জাতিক ভাষণের সঙ্গে তুলনা করবেন? রোহিঙ্গা সমস্যার সঙ্গে চীন, ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্ক তুলে ধরুন? এবং এ সমস্যা সমাধানে তাদের ভূমিকা উল্লেখ করুন। হাতিরঝিলের ডিজাইনার কে ছিলেন? বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডিজাইনার কে? উত্তর কোরীয়া, চীন এবং জাপানের মধ্যকার বর্তমান সম্পর্ক তুলে ধরুন।উত্তর কোরিয়ার পারমানবিক কর্মসূচি সম্পর্কে আপনি কি জানেন? গোপালগঞ্জ থেকে আসা একজন শিক্ষার্থী যিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাইন্যান্স বিভাগে পড়াশোনা করেছেন।তার প্রথম প্রছন্দের বিষয় ছিল পররাষ্ট্র ক্যাডার। নিজের ও পরিবার সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য জানতে চাওয়া হয় তার কাছে।জার্মানিতে যে রাজনৈতিক সংকট চলছে এ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়।ডিজিটাল বাংলাদেশকে এক কথায় সংজ্ঞায়িত করুন। বাংলাদেশ যে ডিজিটাল হচ্ছে তার একটি উদাহরণ দিন।ধরুন, আপনাকে পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করল, কোন আইনে পুলিশ আপনাকে আটক করল? মৌখিক পরীক্ষায় ভালো করার জন্য আত্মবিশ্বাস নিয়ে মোকাবেলা করার কথা অনেক শিক্ষার্থীই বলেছেন।মৌখিক পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়া ক্যাডার প্রার্থীরা তাদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন এ প্রতিবেদকের কাছে।   এসএইচ/এআর
‘বিসিএস ভাইভায় চাপ নেবেন না, থাকুন প্রাণবন্ত’

৩৭তম বিসিএসের ভাইভা পরীক্ষা শুরু হয়েছে ২৯ নভেম্বর থেকে। বিসিএসে ভাইভা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিসিএস ভাইভার জন্য ২০০ নম্বর বরাদ্দ থাকে। এ অংশই অনেককে ক্যাডার হতে সাহায্য করে থাকে। লিখিত পরীক্ষায় একটু পিছিয়ে থাকলেও মৌখিক পরীক্ষায় ভালো করলে আপনি ক্যাডার হয়ে যেতে পারেন। তাই মৌখিক পরীক্ষায় ভালো করার জন্য ভালো প্রস্তুতি প্রয়োজন।  ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার  গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন ৩৬তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত বিশ্বজিত দেবনাথ। তার টিপস নিয়ে লিখেছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইন রিপোর্টার মাহমুদুল হাসান। ১) ভাইভা বোর্ডের প্রশ্নের উত্তরগুলো ইউনিক এবং এক্সক্লুসিভভাবে দেওয়ার চেষ্টা করুন। ২) ভাইভা বোর্ডে নিজের প্রতিভাকে শো করুন। যাতে করে পরীক্ষকরা আপনাকে ভালো নম্বর  দিতে উৎসাহিত হন। ৩) আপনি যদি নার্ভাস হোন, তাহলে দেশকে কিভাবে পরিচালনা করবেন। তাই ভাইভা বোর্ডে কখনই নার্ভাস হওয়া যাবে না। ৪) ভাইভা প্রস্তুতিতে সাবলিলভাবে উত্তর দেওয়ার বিষয়ে জোর দিন। ৫) রোজ যেকোনো বিষয়ের ওপর ইংরেজিতে পাঁচ থেকে ১০ মিনিট আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে প্রেজেন্টেশন দিন। ৬) সম্প্রতিক বিষয়ের সবকিছু না পড়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো পড়ুন এবং বলার চেষ্টা করুন। ৭) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করুন। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের ওপর যেসব সিনেমা আছে তা দেখার চেষ্টা করুন। ৮) কবিতাকে ভালোবাসুন। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ কবির বিখ্যাত কবিতাগুলো মুখস্ত করতে পারেন। ৯) ভাইভা বোর্ডে সাজিয়ে গুছিয়ে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করুন। এক্ষেত্রে বাসায় অন্যের কাছে ভাইভা দিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করতে পারেন। ১০) সবসময় হাসিখুশি ও রিলাক্স মুডে থাকার চেষ্টা করুন। কখনই মানসিক চাপ নেওয়া যাবে না। ১১) নিয়মিত ঘুমান এবং চেহারায় সজীবতা ও প্রাণবন্তভাব নিয়ে আসুন। ১২) ভাইভা বোর্ডে আপনি কি বললেন তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ন হচ্ছে আপনি কিভাবে উপস্থাপন করলেন। ১৩) ভাইভা বোর্ডের কিছু প্রশ্নের উত্তর আপনি নাও পারতে পারেন, এটাই স্বাভাবিক । তবে আপনি যা পারবেন সেখানে নিজেকে (You are the best) প্রমাণিত করুন। ১৪) মাথা থেকে নেগেটিভ চিন্তা বাদ দিয়ে, আপনি বিশ্বাস করতে শিখুন যে, আপনিও বিসিএস ক্যাডার হতে পারবেন। ১৫) আপনি যে বিষয়ে বা বিভাগে পড়েছেন সে তার প্রতি গুরুত্ব দিন। এসব পরামর্শ মাথায় রাখলে আর নিজেকে মেলে ধরতে পারলে আশা করি কাঙিক্ষত ফল করবেন। এসএইচ / এআর  

এলোপাতাড়ি নয়, রিভিশন দিন রুটিন মেনে

৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা একেবারে সন্নিকটে। এ মাসের ২৯ তারিখেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মহা গুরুত্বপূর্ণ এ পরীক্ষা। যারা ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষা দিবেন তাদের উচিত সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগানো। এবারের বিসিএস প্রিলিমিনারির পরীক্ষায় আবেদন করেছেন তিন লাখ ৪৬ হাজার ৫৩২ জন শিক্ষার্থী। এ সব পরীক্ষার্থীদের মধ্যে এগিয়ে থাকতে আপনি শেষ সময়ে কীভাবে পড়বেন এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন ৩৬তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত রিজু তামান্না। তার টিপস্ নিয়ে লিখেছেন একুশে টিভি অনলাইনের রিপোর্টার মো. মাহমুদুল হাসান । বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় যেহেতু প্রশ্ন ও উত্তর উভয়টিই দেওয়া থাকে সেজন্য সর্তকতার সাথে সঠিক বৃ্ত্তটি ভরাট করতে হবে। প্রিলির জন্য বাকী যে ক’দিন রয়েছে এ সময়ে পড়াশুনার কোনো বিকল্প নেই। শুধু পড়ে যেতে হবে। পরীক্ষায় আসা প্রশ্ন নিশ্চিত হয়ে দাগাতে হবে। কোনোভাবেই ভুল উত্তর দাগানো যাবে না। আর এ সময়ে আপনি চাইলে মডেল টেস্ট দিতে পারেন। এতে আপনি নিজেকে যাচাই করতে পারবেন। আপনি চাইলে প্রতিদিন একটি করে মডেল টেস্ট দেওয়ার পাশাপাশি নিম্নের পদ্ধতি অনুসরণ করে পড়তে পারেন। পদ্ধতিটি হলো- ১ম দিন - বাংলা এবং বাংলা ব্যাকরণ। ২য় দিন - ইংরেজি এবং ইংরেজি সাহিত্য। ৩য় দিন - সাধারণ জ্ঞান বিষয়ের বাংলাদেশ বিষয়াবলি। ৪র্থ দিন - সাধারণ জ্ঞান বিষয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি। ৫ম দিন - গণিত ও মানসিক দক্ষতা বিষয়টি অনুশীলন। ৬ষ্ঠ দিন - সাধারণ বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি। ৭ম দিন - ভূগোল পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা। ৮ম দিন - নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন। এভাবে বিষয়ভিত্তিক পড়ার পাশাপাশি আপনি যদি একটি করে মডেল টেস্ট দিতে পারেন, তাহলে আপনার দুর্বলতা দূর হবে এবং আত্মবিশ্বাসী হতে পারবেন।   এম/এমআর

৩৭তমের ভাইভায় যেসব বিষয় আসছে

প্রিলিমিনারি এবং রিটেন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার মাধ্যমে আপনি পেয়ে যেতে পারেন আপনার কাঙ্খিত পছন্দের ক্যাডার। ৩৭তম বিসিএসের ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষা গত ২৯ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। এতে বরাদ্দ ২০০ নম্বর। এ মৌখিক পরীক্ষায় নানা ধরনের প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। কি রকম প্রশ্ন করা হয় এ নিয়ে রয়েছে অনেকের কৌতুহল। তাই এবারের ৩৭তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়া কয়েকজন পরীক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয়েছে একুশে টেলিভিশন অনলাইনের এ প্রতিবেদকের সঙ্গে। তা পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো- নরসিংদী থেকে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মৌখিক পরীক্ষা দেওয়া ক্যাডার প্রার্থী জানান, তার প্রথম পছন্দ ছিল পুলিশ। তাকে প্রথমে তার জেলা কেন বিখ্যাত এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। এছাড়াও বীর শ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান এবং লেখক শামসুর রাহমান সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। পুলিশ প্রধানের উপাধি কি? এবং পুলিশের নারী ঊর্ধ্বতন প্রধান কর্মকর্তার নাম জানতে চাওয়া হয়।   কুমিল্লা থেকে আসা আরেকজন ক্যাডার প্রার্থী  জানান, তার প্রথম পছন্দ ছিল প্রশাসন। তিনি ‘ডিপার্টমেন্ট অ্যান্ড রিজিওনাল প্লানিং’ নিয়ে লেখা পড়া করেছেন। মোগল সাম্রাজ্যের প্রথম তিনজন শাসকের শাসনকাল এবং তাদের অবদান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় তাকে। এছাড়াও তার পরিবার সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। আপনার ভাই বোন কতজন? আপনার বোন এবং তার স্বামী সম্পর্কে বলুন। জামদানি শাড়ি এবং শীতল পাটি সম্পর্কে বলুন। কোন গাছ থেকে শীতল পাটি তৈরি করা হয়? কুমিল্লার  একজন বিখ্যাত ও একজন কুখ্যাত ব্যক্তির নাম বলুন।   বরিশাল থেকে আসা একজনের প্রথম প্রছন্দ ছিলও প্রশাসন। তিনি প্রাণিবিদ্যা বিভাগে পড়াশোনা করেছেন। তাকে বলা হয়, আপনার জেলার দুজন বিখ্যাত ব্যক্তির নাম বলুন। শের-ই-বাংলা একে ফজলুল হক সম্পর্কে  বলুন। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের প্রথম সাত দিন কি কি ঘটনা ঘটেছিল? বরিশালের চারণ কবি মুকন্দ দাস সম্পর্কে আপনি কি জানেন? এ রকম আরও বেশ কিছু প্রশ্ন করা হয়।   এসএইচ/

প্রিলির জন্য ৮ গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা আগামী ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এ পরীক্ষায় তিন লাখ ৪৬ হাজার ৫৩২ জন প্রার্থী আবেদন করেছে। আপনি যদি সফল হতে চান, আপনাকে অবশ্যই কৌশলী হতে হবে। এজন্য সামনের দিনগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। সহজে প্রস্তুতি নেওয়ার সুবিধার্থে আপনাদের জন্য আটটি পরামর্শ দিয়েছেন ৩৬তম বিসিএস তথ্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত কাজী শাম্মী। তার দেওয়া টিপস নিয়ে লিখেছেন ইটিভি অনলাইনের রিপোর্টার মো. মাহমুদুল হাসান। ১) পরীক্ষার জন্য নিজেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত করুন। কোনভাবেই অস্থির হওয়া যাবে না। ২) আপনি যেভাবে এতদিন পড়েছেন সে পদ্ধতি অনুযায়ী পড়া চালিয়ে যান। নতুন করে কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত নয়। ৩) শেষ সময়ে এসে বাসায় মডেল টেস্ট দিতে পারেন। এতে পরীক্ষার পদ্ধতি এবং সময় সম্পর্কে সচেতন হতে পারবেন। ৪) পূর্বে যা পড়েছেন তা ভালোভাবে রিভাইস দিন। এ সময় এসে নতুন করে কোনো বিষয় না পড়াই উত্তম। ৫) যে বিষয়গুলো কঠিন মনে হবে তা লিখে লিখে পড়ুন। এতে  কঠিন বিষয়গুলো আপনার জন্য সহজ হবে। ৬) পড়ার সময় শুধু প্রশ্ন এবং উত্তরটি পড়ুন এতে পরীক্ষার হলে একাধিক উত্তর থেকে সঠিক উত্তরটি বাছাই করা আপনার জন্য সহজ হবে। ৭) Do positive, speak positive and think positive then you will get a positive result.   ৮) পড়ার প্রতি মনোযোগ দেওয়ার পাশাপাশি নিজের স্বাস্থের প্রতিও যত্ন নিন।   এম/এসএইচ          

বিসিএস প্রিলির জন্য ১৫ গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা আগামী ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রিলিমিনারিতে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা স্বল্প সময়ে কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ১৫টি পরামর্শ দিয়েছেন ৩৬তম বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত বিশ্বজিত দেবনাথ। তার দেওয়া টিপস নিয়ে লিখছেন ইটিভি অনলাইনের রিপোর্টার মো. মাহমুদুল হাসান। ১) লেখাপড়ায় সর্বোচ্চ সময় দিন। ২) এ পর্যন্ত যে বিষয়গুলো পড়েছেন তা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রিভিশন দিন। ৩) যে টপিকগুলো পড়তে অনেক সময় নেয় অথবা কঠিন মনে হয় তা প্রয়োজনে বাদ দিয়ে পড়ুন। ৪) পড়ার সময় যে প্রশ্নটি কঠিন মনে হয় সে প্রশ্নের উত্তরটি খাতায় লিখে রাখুন। পরবর্তীতে উত্তরটি বারবার দেখুন। এতে পরীক্ষায় আসা একাধিক অপশন থেকে সঠিক উত্তরটি বাছাই করা আপনার জন্য সহজ হবে। ৫) শেষ মুহূর্তে বাংলা, ইংরেজি এবং বাংলাদেশ বিষয়াবলির ওপর বেশি করে সময় দিন। এগুলো থেকে বেশি মার্কস তোলা সম্ভব। ৬) অন্যরা যতটুকু জানে সে বিষয়ে চিন্তা না করে, আপনি কতটুকু জানেন এবং এ যুদ্ধে কিভাবে জয়ী হবেন সে উপায় খুঁজুন। ৭) পরীক্ষার হলে ভুল উত্তর দাগানো থেকে বিরত থাকুন। ৮) প্রশ্ন সহজ হলে সবার জন্যই সহজ হবে এবং কঠিন হলে সবার জন্যই কঠিন হবে। তাই এ নিয়ে ভাবার কিছু নেই। ৯) পরীক্ষার আগে বেশি মানসিক চাপ নেওয়া যাবে না, রিলাক্স মুডে থাকার চেষ্টা করুন। ১০) বিস্তারিত না পড়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো পড়ুন। ১১) আপনি এ যুদ্ধে জয়ী হবেন, এর ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন। ১২) সাম্প্রতিক বিষয়গুলোর ওপর এখন কম গুরুত্ব দিন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পড়া যেতে পারে। ১৩) গণিতের সূত্র, ইংরেজি গ্রামারের নিয়মগুলো এবং বাংলা ব্যাকরণের নিয়মগুলো বারবার দেখুন। ১৪) মানসিক দক্ষতা, গণিত, বিজ্ঞান, সাহিত্য ও কম্পিউটারের ক্ষেত্রে বিগত বিসিএস এবং পিএসসির বিভিন্ন পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলো বারবার পড়ুন। ১৫) সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকুন, যাতে করে মনোযোগ সহকারে পড়তে পারেন। এম/এসএইচ    

৩৭তম বিসিএস ভাইভায় যেসব প্রশ্ন ঘুরেফিরে আসছে

গত ২৯ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে ৩৭তম বিসিএসের ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষা। এ পরীক্ষার জন্য ২০০ নম্বর বরাদ্দ। তাই এ অংশে ভালো করলেই দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হয়ে যেতে পারে অনেকের। আগের পরীক্ষাগুলোতে এমনও দেখা গেছে অনেকে লিখিত পরীক্ষায় খুব কম নম্বর নিয়েও মৌখিক পরীক্ষায় ভালো করে ক্যাডার হয়েছেন। তাই ভাইবায় ভালো করা খুবই জরুরি। এবারের শুরু হওয়া এ মৌখিক পরীক্ষায় কেমন প্রশ্ন হচ্ছে? তা জানতে আগ্রহের কমতি নেই পরবরর্তী ভাইভা প্রার্থীদের। আগ্রহের বিষয়টি মাথায় রেখেই একুশে টেলিভিশন অনলাইন মুখোমুখি হয় ভাইভা দিয়ে আসা কয়েকজন প্রার্থীর সঙ্গে। তাদের সঙ্গে আলাপ করে যা জানা গেল, তা পর্যায়ক্রমে তুলে ধরা হলো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিরাজগঞ্জ থেকে আসা ভাইভা প্রার্থী একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, তিনি মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে লেখা-পড়া করেছেন। তার পছন্দের বিষয় ছিল পররাষ্ট্র ক্যাডার। এবার ভাইভাতে তাকে ২০টি প্রশ্ন করা হয়েছে। যার সবগুলোই ছিল ইংরেজিতে। তাকে প্রথম প্রশ্ন করা হয়, ‘ডোনান্ড ট্রাম্পের কাছে তুমি তোমার দেশকে কীভাবে উপস্থাপন করবে?’ দ্বিতীয় প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়, ‘আইসিটি বলতে তুমি কী বুঝ? আইসিটি সম্পর্কে তোমার ধারণা কী?’ তৃতীয় প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়, ‘তোমার আদর্শ ব্যক্তিত্ব কে? চতুর্থ প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়, ‘মধ্য প্রাচ্য সম্পর্কে তোমার ধারণা কী?’ মাদারীপুর থেকে আসা অপর প্রার্থী জানান, তার প্রথম পছন্দের বিষয় ছিল প্রশাসন। প্রথম প্রশ্নে তাকে বিসিক কী এবং তার কাজ কী জানতে চাওয়া হয়। দ্বিতীয় প্রশ্নে সব্যসাচী লেখক বলতে কী বুঝায়? তৃতীয় প্রশ্নে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কিছু বলুন? চতুর্থ প্রশ্নে তোমার এলাকার একজন আমলার নাম ও পরিচয় বল? রিকসা কী শব্দ? ডাইনোসের বলতে কী বুঝ? তোমার এলাকার তিন প্রশাসনিক কর্মকর্তার নাম বলুন? ঝিনাইদহের ভাইভা প্রার্থী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই প্রার্থী একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, আমি সমাজ কল্যাণের ছাত্র। থাকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে। আমার প্রথম পছন্দ প্রশাসন ক্যাডার। আমাকে বাংলা এবং ইংরেজি দুই ভাষাতেই প্রশ্ন করা হয়। প্রশ্নগুলো ঠিক এভাবে করা হয়, ঝিনাইদহের কালীপদ বসু সম্পর্কে বলুন? আইটির নেগেটিভ প্রভাব বলতে কী বুঝেন? সুশীল সমাজ ও সংস্কৃতি বলতে কী বুঝেন? আপনার উপজেলা পরিষদ কর্মকর্তার নাম বলুন? গ্রাম পর্যায় থেকে উপজেলা পর্যন্ত প্রশাসনিক স্তরবিন্যাস করুন? মানিকগঞ্জ থেকে আসা ভাইভা প্রার্থী। তিনি জানান, বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরি করেন। তার লেখা-পড়া ইংরেজিতে। প্রথম পছন্দ প্রশাসন। তাকে এভাবে প্রশ্ন করা হয়, এ পর্যন্ত আসার ক্ষেত্রে মায়ের ভূমিকা কী? সংবিধান এ পর্যন্ত কতবার সংশোধন করা হয়েছে? সংবিধানের কোন সংশোধনীটা সবচেয়ে যৌক্তিক মনে হয়েছে? আপনি ডিসি হলে রংপুর দাঙ্গায় আপনার করণীয় কী ছিল? প্রশাসন ও পুলিশের মধ্যে কেন প্রশাসনকে প্রথম পছন্দ করলেন? ক্যামেল রেটিং সম্পর্কে বলুন? সরকারি নোট কোনগুলো? সরকারি নোট আলাদা কেন থাকে? সুপারমুন বলতে কী বুঝেন? মানিকগঞ্জের অপর এক ভাইভা প্রার্থী। যার লেখা-পড়া ইংরেজি। প্রথম পছন্দ পুলিশ। তিনি জানান তাকে পর্যায়ে ক্রমে বাংলা ও ইংলিশ দুই ভাষাতেই ১৫টি প্রশ্ন করা হয়েছে। তাকে প্রশ্ন করা হয়, পুলিশ কেন প্রথম পছন্দ দিলেন? পুলিশের চাকরি করলে কী কী সেবা আপনাকে দিতে হবে? সিপিসি, সিআরপিসি ও পিআরবি কী? কতসালে প্রতিষ্ঠা হয়? এর কাজ কী? সাইবার ক্রাইম বলতে কী বুঝেন? মানি লন্ডারিং কী? পুলিশকে জনবান্ধব হতে কী করা দরকার? বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ সম্পর্কে কিছু বলুন? হলি আর্টিজান সম্পর্কে কী জানেন? ভাইভা দিতে আসা এসব প্রার্থীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, এবারের ভাইভাতে বেশ কিছু প্রশ্ন ঘুরে ফিরেই আসছে। সেগুলোর সঠিক উত্তর দিতে হতে নিজের নামের অর্থ, নামের সঙ্গে মিল আছে এমন বিখ্যাত ব্যক্তি এবং পরিবার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগ সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। নিজ জেলা ও উপজেলার বিখ্যাত ব্যক্তিদের সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিতে হবে। বিসিএস পরীক্ষায় যে সব বিষয় পছন্দক্রম দিয়েছেন সেগুলোর মধ্য থেকে প্রথম তিনটি বিষয় সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। দেশের বিখ্যাত ব্যক্তি, কবি এবং সাহিত্যিক প্রথমেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে বিস্তরিত জেনে নিতে হবে। সংবিধান সম্পর্কে জানা একান্ত জরুরি। এক্ষেত্রে সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী ও ধারাগুলো জেনে নিতে হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্পর্কে জানা একান্ত জরুরি। দেশের বাজেট, জিডিপি সম্পর্কে জানতে হবে। ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ তথা ১৯৭১ সাল পর্যন্ত আলোচিত বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে। এসএইচ/ এআর     

প্রশাসন ক্যাডার হলেন দুর্গম চরাঞ্চলের মোশারফ

কথায় আছে, মেধাকে চাপিয়ে রাখা যায় না। যে কোনোভাবে প্রকাশ পাবেই। পরিশ্রম মানুষকে সফলতার পথ দেখায়। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অনেকেরই উঠে আসার উদাহরণ রয়েছে সমাজে। তেমনি নরসিংদী সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়নের একটি প্রত্যন্ত গ্রাম বাখরনগর। এ গ্রামের ছেলে মো. মোশারফ হোসাইন। ৩৬তম বিসিএসের সব কটি ধাপ কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি। বাখরনগর গ্রামে নেই পর্যাপ্ত সুবিধা। মোশারফ হোসাইনই ওই গ্রামের প্রথম সন্তান হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া কৃতিত্ব অর্জন করেন। সবচেয়ে বড় বিষয় এই ইউনিয়ন থেকে ইতোপূর্বে বিসিএস ক্যাডারে সুযোগ পাননি কেউ। এমন একটি প্রত্যন্ত এলাকা থেকে তার সফলতা অনেককেই তাক লাগিয়ে দিয়েছে। মোশারফের বাবা গ্রামের সাধারণ একজন কৃষক। নরসিংদী সদর থেকে তার গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার করুণ দশা। নরসিংদী সদর থেকে তার বাড়িতে যেতে হয় নদী পথে। নদী পথে ট্রলারে চড়ে তার বাড়িতে পৌঁছাতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে। কৃষক বাবা মো. তাহের আলী ও গৃহিনী মা রেজিয়া বেগমের একমাত্র ছেলে মো. মোশারফ হোসাইন। মোশারফ আলোকবালী আ. মান্নান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং অধ্যাপক আব্দুল মজিদ কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সফলতার সাথে অনার্স (বিএসসি) এবং মাস্টার্স (এমএসসি) পাশ করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সাইন্স থেকে মাস্টার্স (MPS), মার্কেটিং বিভাগ থেকে এমবিএ (MBA) ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি ISIT থেকে কম্পিউটার সাইন্সে ডিপ্লোমা (DCSA) করেন। পরে বাংলাদেশ প্রকৌশ বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে ওয়াটার রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট এর ওপর মাস্টার্স (MSc) ড্রিগ্রি অজন করেন। এই সাফল্যের পিছনের গল্প জানতে চাওয়া হলে এক কথায় উত্তর দিলেন ‘পরিশ্রম’। তিনি বলেন, “পরিশ্রমের বিকল্প নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ থেকেই স্বপ্ন ছিল বিসিএস ক্যাডার হওয়ার। যার ফলে তখন থেকেই একটু একটু পড়াশোনা করতাম। সব কর্মব্যস্ততার মাঝেও দৈনিক পড়াশোনা চালিয়ে যেতাম।” ধীরে ধীরে বাজারের গতানুগতিক সব বইয়ের ওপর দখল সৃষ্টি করেন। তিনি মনে করেন বিসিএস এ সফলতার জন্য প্রধান বিষয় হলো ইচ্ছা এবং পরিশ্রম। এ দুটো জিনিস নিজের মধ্যে ধারন করতে পারলে সাফল্য ধরা দিবে। বিসিএস প্রত্যাশীদের জন্য পরামর্শ হিসেবে তিনি বলেন, প্রথমত প্রিলির জন্য অষ্টম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বোর্ড বইগুলো শেষ করা। তারপর বাজারের গতানুগতিক প্রকাশনীর এক সেট বইয়ের ওপর দখল সৃষ্টি করা। দ্বিতীয়ত, লিখিত পরীক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ হলো পত্রিকা এবং বই থেকে তথ্যগুলো নোট আকারে লিখে রাখা যা ভাইভাতেও সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। ভবিষ্যতে পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, প্রশাসন ক্যাডারে যোগদানের পর দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে চান এবং সরকারি সেবাকে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে চান। নিজ যোগ্যতা এবং কর্মদক্ষতার মাধ্যমে সর্বোচ্চ পদ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি পদে অধিষ্ঠিত হতে চান। ভবিষ্যতে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইডি অর্জন করতে চান।   এসএইচ/টিকে

৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ২৯ ডিসেম্বর

৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা আগামী ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। রোববার সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।পিএসসি জানিয়েছে এ বছর ৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নিতে তিন লাখ ৪৬ হাজার ৫৩২ জন প্রার্থী আবেদন করেছেন। এ প্রার্থীরাই প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নেবেন। পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসন ক্যাডারের ৩০০, পুলিশ ক্যাডারের ১০০টি পদসহ ৩৮তম বিসিএসে সাধারণ ক্যাডারে মোট ৫২০টি, কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারে ৫৪৯টি এবং শিক্ষা শিক্ষা ক্যাডারে ৯৫৫টি পদ থাকছে। ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষার আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া গত ১০ জুলাই শুরু হয়, শেষ হয় ১০ আগস্ট।৩৮তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার প্রতিটি খাতা দুজন পরীক্ষক মূল্যায়ন করবেন। তাদের নম্বরের ব্যবধান ২০ শতাংশের বেশি হলে তৃতীয় পরীক্ষকের কাছে খাতা পাঠানো হবে। এর ফলে পরীক্ষার্থীদের মেধা যথাযথভাবে মূল্যায়িত হবে বলে মনে করছে পিএসসি।এই বিসিএস থেকে বাংলাদেশ বিষয়াবলির ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় আলাদা করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে ৫০ নম্বরের প্রশ্ন রাখা হবে। কেউ চাইলে ইংরেজিতেও এই বিসিএস দিতে পারবেন। সাত বিভাগের পাশাপাশি এবার নতুন বিভাগ ময়মনসিংহেও পরীক্ষা নেওয়া হবে। এসএইচ/

প্রিলিতে উত্তীর্ণ হতে ১০টি বিষয়ের উপর জোর দিন

৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দিন খুবই নিকটে। এই পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বিসিএস প্রত্যাশীরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তাই পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নেওয়ার সুবিধার্থে ১০টি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দেওয়ার জন্য পরমর্শ দিয়েছেন ৩৬তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এস এম জামাল হোসেন। তার দেওয়া টিপস নিয়ে লিখছেন ইটিভি অনলাইনের রিপোর্টার মো. মাহমুদুল হাসান। ৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য যে দিনগুলো বাকি আছে সে দিনগুলো ভালোভাবে কাজে লাগান। যদি ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারেন তাহলে আপনার সফলতা আসবেই। কখনোই আত্মবিশ্বাস হরানো যাবে না। অনেক আগে থেকে যারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাদেরকে আমি এগিয়ে রাখব। তবে যারা কিছু দিন আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছেন তাদেরও হতাশ হওয়ার কিছু নেই। পড়তে থাকুন, কাজে আসবে। অন্যদিকে পরীক্ষার্থীদের একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে যে, প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য ২০০ নম্বরের মধ্যে শতকরা ৫৫ থেকে ৬০ নম্বর পেলেই প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সম্ভব। এবার আসা যাক প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য করণীয় ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ১) প্রিলিমিনারির পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্রিলিমিনারির সিলেবাসটি ভালোভবে আয়ত্ত করা। সিলেবাস অনুযায়ী আপনি যে বিষয়গুলোতে দক্ষ তা সবার আগে শেষ করবেন। যেহেতু আর অল্প সময় রয়েছে সে ক্ষেত্রে পূর্বে যা পড়েছেন তা ভালোভাবে রিভাইস দেওয়াই হচ্ছে বুদ্ধিমানের কাজ। ২) শেষ সময়ে এসে আত্মবিশ্বাস হারানো যাবে না। আত্মবিশ্বাসের সাথে এগিয়ে যান। আপনার সফলাতা আসবেই। এত পরীক্ষার্থী আবেদন করেছে তাদের মধ্যে আমি কীভাবে চান্স পাব- এরকম চিন্তা কখনোই মাথায় আনা যাবে না। ৩) বিসিএস ও পিএসসির অন্যান্য পরীক্ষায় আসা বিগত সালের প্রশ্নগুলো ভালোভাবে আয়ত্তে রাখতে হবে। তাহলে কোন কোন বিষয়গুলোর উপর আপনাকে জোর দিতে হবে তা খুব সহজেই বুঝতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে যে ১০টি বিষয় বিসিএস প্রিলিমিনারির জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে সে বিষয়গুলোর মধ্য থেকে যে কোনো ৪ টি বা ৫ টি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে। আর অন্যান্য বিষয়গুলোতে যদি গড় নম্বর পান তাহলে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা আপনাদের জন্য সহজ হবে। ৪) বাংলা সাহিত্যের জন্য বাংলাদেশের প্রধান প্রধান সাহিত্যকর্ম এবং তাদের জীবনী সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে। এ ক্ষেত্রে আপনি প্রথম সারির কবি-সহিত্যিকদের জীবনী, সাহিত্য কর্ম এবং তাদের বিখ্যাত উক্তি ভালোভাবে পড়ে নিলে ভালো করবেন। ৫) ইংরেজি বিষয়ে ভলো করতে হলে শব্দার্থ জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাক্যের অর্থ বুঝার মাধ্যমে আপনি সহজেই গ্রামারের সমস্যা সমাধান করতে পারবেন। ৬) ইংরেজি সাহিত্য অংশে ভালো নম্বর পেতে হলে ইংরেজি সাহিত্যের প্রথম সারির কবি-সাহিত্যিকদের নাম, আলোচিত গ্রন্থ, সাহিত্যে তাদের অবদান সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখতে হবে। বিখ্যাত সাহিত্যকর্মের চরিত্রগুলো সম্পর্কে জেনে নিলে ভালো হবে। ৭) গণিত বিষয়ে যদি আপনি ভালো করতে চান, তাহলে আপনাকে নিয়মিত অনুশীলন করতে হবে। যে যত বেশি অনুশীলন করবেন সে তত বেশি গণিতের ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকবেন। এছাড়াও বিসিএসের সিলেবাস অনুযায়ী অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির গণিতসহ উচ্চতর গণিত বইটি ভালোভাবে শেষ করতে পারলে ভালো করতে পারবেন। ৮) সাধারণ জ্ঞান অংশে বাংলাদেশ বিষয়ে ভালো করতে হলে ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত আলোচিত বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বই, উপন্যাস, কবিতা এবং যে সব বুদ্ধিজীবী, কবি ও সাহিত্যিক মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখেছেন তাদের সম্পর্কেও বিস্তারিত জানতে হবে। ৯) আন্তর্জাতিক বিষয়াবলরি জন্য বিভিন্ন সংস্থার সদরদপ্তর, আন্তর্জাতিক চুক্তি, জাতিসংঘ, বিভিন্ন সংস্থা, যুদ্ধ ও মানচিত্র সম্পর্কে ভালো ধারনা থাকলে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ভালো করা সম্ভব। সাম্প্রতিক বিষয়গুলোর জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কিত ও বহুল আলোচিত ইস্যুগুলোর বিষয়ে চোখ-কান খোলা রাখুন। সাধারণ জ্ঞান বিষয়ের জন্য নিয়মিত পত্রিকা পড়ার বিকল্প নেই। ১০) এ সময়ে শরীরের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। কোন ভাবেই অসুস্থ হওয়া চলবে না। এ সময়ে পরিমিত খাবার এবং ঘুম অত্যন্ত প্রয়োজন। সর্বপরি যারা ৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাদের সুস্বাস্থ্য কামনা করছি। সবার প্রতিই শুভকামনা।   এম/টিকে

বিসিএস রিয়েল ভাইভা:পর্ব-১

৩৭তম বিসিএস পরীক্ষার ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে গত ২৯ নভেম্বর থেকে। প্রথম পর্বে শুরু হওয়া সাধারণ ক্যাডারে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের এই মৌখিক পরীক্ষা চলবে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ৩৬তম বিসিএসে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী কাউছার হামিদ ভূঁইয়া। পিএসসির সদস্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবিরের বোর্ডের ভাইভাতে অংশ নিয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত। ভাইভার প্রস্তুতি নেওয়ার সুবিধার্থে ইটিভি অনলাইনের পাঠকদের জন্য তার ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ তুলে ধরা হলো। তার এই রিয়েল ভাইভার অনুলিখন করেছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইন রিপোর্টার মাহমুদুল হাসান।   প্রার্থী: স্যার আসতে পারি? বোর্ড চেয়ারম্যান: আসুন। প্রার্থী: আসসালামু আলাইকুম। বোর্ড চেয়ারম্যান: বসুন। প্রার্থী: ধন্যবাদ স্যার। বোর্ড চেয়ারম্যান: আপনার নাম কি? প্রার্থী: কাউছার হামিদ ভূঁইয়া। বোর্ড চেয়ারম্যান: আপনার জেলার নাম কি? প্রার্থী: চাঁদপুর বোর্ড চেয়ারম্যান: আপনাদের এমপির নাম কি? প্রার্থী: মেজর (অব:) রফিকুল ইসলাম (বীর উত্তম)। বোর্ড চেয়ারম্যান: উনাকে বীর উত্তম বলা হয় কেন? তিনি কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছিলেন? প্রার্থী: তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে ১নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য নেতৃত্ব ও অবদানের জন্য সরকার উনাকে বীর উত্তম খেতাব দেন। বোর্ড চেয়ারম্যান: আপনার এমপি-তো মুক্তিযুদ্ধের উপর অনেকগুলো বই লিখেছেন। এর মধ্য থেকে যে কোনো দু’টি বই এর নাম বলুন? প্রার্থী: ১) লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে        ২) বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা   বোর্ড চেয়ারম্যান: গত তিন দিন আগে আপনার এমপির একটি বই থেকে কোড করে একজন সংসদ সদস্য একটি বিতর্ক উপস্থাপন করেন। বলুন সেই বিতর্কটি কি ছিল? প্রার্থী: মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে। বোর্ড চেয়ারম্যান: সম্প্রতি কোনো বই পড়েছেন কি? প্রার্থী: জি স্যার। বোর্ড চেয়ারম্যান: নাম বলন? প্রার্থী: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লিখিত ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’ । বোর্ড চেয়ারম্যান: বইটির প্রকাশ সাল কত? প্রার্থী: স্যারি স্যার, আমি উত্তরটি স্মরণ করতে পারছি না।   দ্বিতীয় পরীক্ষক- Question: What is your first choice? Answer: BCS Administration. Question: Why did you choose it? Answer: Sir, As my discipline was public administration, so I was taught about policy implementation and formation governance issues, public finance and bureaucracy etc. The basic tusks of an administrator is to carry out policy implementation and governance issues. So I think my theoretical knowledge will help me to accelerate these tusks properly. For these reason I have chosen BCS Administration. Question: So tell me, what is policy and what is public policy? Answer: Policy is a set of decisions taken by any legitimate authority. Any individual can take a policy. But when policy is taken by government to solve any socio- economic, administrative or other problems, that is called public policy. For example: Education policy and health policy. Question: What is public security? Answer: Security of people’s lives and assets from external and internal threat is called public security.   তৃতীয় পরীক্ষক: প্রশ্ন: সামাজিক নিরাপত্তার কিছু উদাহরণ দিন? উত্তর: সামাজিক নিরাপত্তার জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক প্রচলিত কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা), বিধবা ভাতা এবং বয়স্ক ভাতা। এছাড়াও ভিজিএফ, ভিজিডি এবং প্রতিবন্ধি ভাতা। দ্বিতীয় পরীক্ষক Question: Who was the supreme leader of Bangladesh during the liberation war? Answer: Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman, the father of the nation. Question: Tell me the administrative hierarchy of Bangladesh. Answer: Secretary, Additional Secretary, Deputy Secretary, Joined Secretary, Senior Assistant and Assistant Secretary. Question: What is field Administration? Answer: Field administration is basically the implementing body of the government working at the field level. Question: What is the difference between central administration and field administration? Answer: Central administration assists government to formulate the policy. They are secretary, deputy secretary and joint secretary etc. Field administration carries out decisions of central administration. They are divisional commissioner, deputy commissioner, assistant commissioner.   তৃতীয় পরীক্ষক- প্রশ্ন: বর্তমানে দেশে কতটি সামাজিক নিরাপত্তা চালু রয়েছে? উত্তর: ১৪৫ টি। পরীক্ষক: আপনাকে ধন্যবাদ, আপনি আসুন। প্রার্থী: স্যার, আপনাদেরকেও অনেক ধন্যবাদ, আসসালামু আলাইকুম।   এম/টিকে

বিসিএস ভাইভায় যে ১০ টি বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

৩৭তম বিসিএস এর ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে ২৯ নভেম্বর থেকে। বিসিএস পরীক্ষায় ভাইভা খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ বিসিএস ভাইভার জন্য ২০০ নম্বর বরাদ্দ থাকে। এ অংশই অনেককে ক্যাডার হতে সাহায্য করে থাকে। লিখিত পরীক্ষায় অনেক কম নম্বর নিয়েও মৌখিক পরীক্ষায় ভালো করলে আপনি ক্যাডার হয়ে যেতে পারেন। তাই মৌখিক পরীক্ষায় ভালো করার জন্য ভালো প্রস্তুতি একান্ত প্রয়োজন। মৌখিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি সম্পর্কে বিসিএস ক্যাডার প্রত্যাশীদের ইটিভি অনলাইনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন ৩৬তম বিসিএস ট্যাক্স (সহকারী ট্যাক্স কমিশনার) ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত এস. এম. নজরুল ইসলাম। তার টিপস নিয়ে লিখেছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইন রিপোর্টার মাহমুদুল হাসান। শুধু কোনো পরীক্ষার ভাইভার জন্য নয়, যেকোনো ক্ষেত্রে সফল হতে হলে কথা বলার সময় যে তিনটি বিষয়ের প্রতি বেশি গুরুত্ব দিতে হবে তা হলো স্বচ্ছতা, স্পষ্টতা এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি। অন্যদিকে ভাইভা দেওয়ার সময় তিনটি বিষয়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে হলো- ১) অাত্মবিশ্বাস রাখতে হবে, কোনোভাবেই নার্ভাস হওয়া যাবে না; ২) ক্যাডারসুলভ আচরণ করতে হবে; ৩) দৃষ্টিভঙ্গি বুদ্ধিভিত্তিক এবং প্রাণবন্ত থাকতে হবে। এছাড়া নিম্নোক্ত ১০ টি বিষয়ে গুরুত্ব দিলে ভাইভাতে ভালো করা সম্ভব বলে আমি মনে করি। নিম্নে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো- ১) নিজ সম্পর্কে জানা নিজের নামের অর্থ, নামের সঙ্গে মিল আছে এমন বিখ্যাত ব্যক্তি এবং পরিবার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে। আপনার পছন্দের কবি, সাহিত্যিক, সাহিত্য, গান, খেলাধুলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে আপনার পছন্দের বিষয়গুলো সম্পর্কে আগে থেকেই ভালোভাবে প্রস্তুতি নিলে ভালো করা সম্ভব। ২) নিজ জেলা ও উপজেলা আপনার নিজ জেলা ও উপজেলার বিখ্যাত ব্যক্তিদের সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন। আপনার নিজ জেলায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বিখ্যাত মুক্তিযুদ্ধার নাম, মুক্তিযুদ্ধের সময় আপনার জেলা কত নম্বর সেক্টরে ছিল ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে হবে। এছাড়াও আপনার জেলার বিখ্যাত ব্যক্তি সম্পর্কেও জেনে নিতে হবে। আপনার জেলা ও উপজেলার বিখ্যাত নদী, বন্দর, বিখ্যাত স্থান। অপনার জেলার যদি কোনো কবি ও সাহিত্যিক থাকে তাদের সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। ৩) বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগ আপনার বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগ সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিখ্যাত শিক্ষক এবং কি জন্য তা বিখ্যাত এ সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় আপনার বিশ্ববিদ্যালয় ও হলের যদি কোনো অবদান থাকে সে সম্পর্কেও ধারণা নিতে হবে। আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভিসি এবং তিনি কোন বিভাগের সে সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে। ৪) নিজ ক্যাডার পছন্দক্রম বিসিএস পরীক্ষায় যে সব বিষয় পছন্দক্রম দিয়েছেন সেগুলোর মধ্য থেকে প্রথম তিনটি বিষয় সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। প্রতিটি ক্যাডারের দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং এ ক্যাডারের মাধ্যমে আপনি কিভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে চান এর যৌক্তিক ব্যাখ্যা তুলে ধারতে হবে। কোনো প্রকার অযৌক্তিক ও অপ্রাসঙ্গিক কথা বলা যাবে না। এ ক্ষেত্রে আপনি পূর্ব থেকে প্রস্তুতি নিতে পারলে ভালো করবেন। ৫) মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ তথা ১৯৭১ সাল পর্যন্ত আলোচিত বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে। মুক্তিযুদ্ধে যারা অসামান্য আবদান রেখেছেন তাদের সম্পর্কে বিস্তরিত জানতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বই, উপন্যাস, কবিতা এবং যে সব বুদ্ধিজীবী, কবি ও সাহিত্যিক মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখেছেন তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটক, উপন্যাস, গল্পগ্রন্থ এবং বিখ্যাত গান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে। আপনাকে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে যে মুক্তিযুদ্ধ আমাদের প্রাণের স্পন্দন, তাই এ বিষয়টিকে কোনো ভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। ৬) বাংলাদেশের অর্থনীতি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব যেহেতু আপনাকে দেওয়া হবে সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্পর্কে জানা আপনার জন্য একান্ত জরুরি। দেশের বাজেট, জিডিপি সম্পর্কে জানতে হবে। এক্ষেত্রে আপনাকে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধ সম্পর্কেও বিস্তরিত জানতে হবে। অন্যদিকে বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে কী কী অবদান রাখছেন সে সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গণে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে জানতে হবে। এছাড়াও ২০২১ সাল এবং ২০৪১ সালের রুপরেখা সম্পর্কে ধারণা রাখা খুবই জরুরি। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কতটা স্বয়ংসম্পূর্ণ তা জানতে হবে। ৭) সংবিধান ও মানচিত্র শুধু ভাইভা জন্য নয় একজন সু-নাগরিক হিসেবেও সংবিধান সম্পর্কে জানা একান্ত জরুরি। এক্ষেত্রে আপনাকে সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলো জেনে নিতে হবে। এছাড়াও আপনার পছন্দক্রমের সাথে মিল রেখেও সংবিধানের বিশেষ বিশেষ ধারাগুলো সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন। কোনো দেশের পরিচিতি এবং ইতিহাস সম্পর্কে জানতে হলে মানচিত্র জানা খুবই জরুরি। ৮) ভাষা হিসেবে ইংরেজি অনেক ক্ষেত্রে ভাইভায় ইংরেজিতে প্রশ্ন করা হয়। আর ইংরেজিতে প্রশ্ন করা হলে আপনাকে অবশ্যই ইংরেজিতে উত্তর দিতে হবে। তাই আগে থেকে যদি ইংরেজিতে কথা বলা শিখে নেন তাহলে ভাইভাতে ভালো করতে পারবেন। ৯) দেশের বিখ্যাত ব্যক্তি, কবি এবং সাহিত্যিক প্রথমেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর সহমান সম্পর্কে বিস্তরিত জেনে নিতে হবে। এছাড়াও বিখ্যাত কবি, সহিত্যিকদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, মাইকেল মুধুসূদন দত্ত, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মীর মোশাররফ হোসেন, প্রমথ চৌধুরী, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, জীবনানন্দ দাশ, রাজা রামমোহন রায়, সুকান্ত ভট্টাচার্য, সুফিয়া কামাল, হুমায়ূন আহমেদ, হুমায়ূন আজাদ, শামসুর রাহমান, নির্মলেন্দু গুণ, সেলিম আল দীন, সৈয়দ শামসুল হক, শওকত ওসমান, জহির রায়হান, জসীমউদ্দিন এবং সেলিনা হোসেন সম্পর্কেও জানতে হবে। এছাড়াও এসব সাহিত্যিকদের জীবনী, সাহিত্য কর্ম এবং তাদের বিখ্যাত উক্তি ভালোভবে পড়ে নিতে হবে। ১০) মনোযোগ দিয়ে শুনুন পরীক্ষকের প্রশ্ন মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। শুনার পর একটু সময় নিয়ে গুছিয়ে উত্তর দিতে হবে। উত্তর দেওয়ার সময় আপনার জানা বিষয় দিয়ে উত্তর দিবেন। এম/টিকে  

‘রিভিশন ও মডেল টেস্টে জোর দিন’

৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দরজায় কড়া নাড়ছে। দেশের প্রায় সাড়ে তিন লাখ চাকরি প্রার্থী অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে এ পরীক্ষায়। তাই এ পরীক্ষাকে সামনে রেখে প্রিলিমিনারিতে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন ৩৬তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত মোহাম্মদ গোলাম মহিউদ্দিন উজ্জল। একুশে টেলিভিশনের অনলাইনের পাঠকদের জন্য তার টিপস নিয়ে লিখেছেন একুশে টিভি অনলাইন রিপোর্টার মো. মাহমুদুল হাসান। বিসিএস প্রিলিমিনারির জন্য যারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাদের জন্য শেষের সময়টুকু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়টুকু যে ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারবেন তাদের জন্য এ পরীক্ষা সহজ হবে। পূর্বের পড়াগুলো ভালোভাবে রিভিশন দিতে হবে। প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে দুটি বিষয় রিভাইস দিতে হবে। রিভিশন এর মাধ্যমে পূর্বের পড়াগুলো ভালোভাবে ঝালাই করে নিতে হবে। বাসায় নিজেকে পরীক্ষা করার জন্য মডেল টেস্ট দিতে পারেন। এতে করে নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে এবং নিজের দুর্বলতা সম্পর্কে জানতে পারবেন।   এ সময়ে কখনোই আত্মবিশ্বাস হারানো যাবে না । আপনি সব সময় নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন । সাড়ে প্রায় তিন লাখ শিক্ষার্থী  বিসিএস প্রিলিমনারির জন্য আবেদন করেছে  আমি কি তাদের মধ্যে চান্স পাব? এ ধারণা কখনই মাথায় আনা যাবে না। নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে প্রস্তুতি নিতে থাকুন চান্স আপনার হবেই। একটা কথা মাথায় রাখতে হবে যে পূর্বে যারা চান্স পেয়েছে তারা আমাদের মতই মানুষ। সঙ্গে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। অনেকে বলছেন ৩৮তম প্রিলির জন্য খুব অল্প সময় রয়েছে। কিন্তু তা আমি মনে করি না। কারণ এখনও এক মাসের বেশি সময় রয়েছে। এই সময়টুকু যদি ভালোভাবে কাজে লাগানো যায়, তবে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ভালো করা সম্ভব। এ সময়টুকুতে যদি আপনারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রস্তুতি নিতে পারেন তাহলে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনেক সহজ হয়ে যাবে। বাংলা- ৩৫ বাংলা বিষয়ে সাহিত্য ও ব্যাকরণ এই দুটি অংশ বিভক্ত করে পড়তে পারেন। প্রাচীন ও মধ্যযুগ জন্য ৫ নম্বর থাকে। এখানে পড়া কম থাকে তাই একটু ভালো করে পড়লে এ অংশে ভালো করা সম্ভব। অন্যদিকে আধুনিক অংশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধান প্রধান সাহিত্যিকদের কর্ম এবং তাদের জীবনী সম্পর্কে জানতে হবে। এক্ষেত্রে প্রথম সারির কবি-সাহিত্যিকের সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে। বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদকের নাম ও কবি সাহিত্যিকদের উপাধি ও ছদ্মনাম ভালোভাবে আয়ত্ব করতে হবে। এ অংশ থেকে একাধিক প্রশ্ন আসে। আর ব্যাকরণ অংশের জন্য নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বইটি ভালোভাবে পড়তে হবে। এ অংশে ধ্বনি, বর্ণ, বানান, প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ, প্রতিশব্দ, পারিভাষিক শব্দ, বিপরীত শব্দ, পদ-প্রকরণ, সন্ধি ও সমাসের ব্যতিক্রম উদাহরণগুলো পড়তে হবে। এছাড়া বাংলা একাডেমি ও একুশে পদকের সাম্প্রতিক তথ্যসহ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উল্লেখযোগ্য সাহিত্য সম্পর্কে জানতে হবে। ইংরেজি- ৩৫ ইংরেজিতে ভালো করতে হলে বিগত বছরে বিসিএস ও পিএসসিতে আসা প্রশ্নগুলো পড়ে নিতে হবে। অন্যদিকে ইংরেজির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ইংরেজি শব্দার্থ জানা। আমি মনে করি যে যত বেশি শব্দার্থ জানবে তার জন্য ভালো করা ততো সম্ভব। প্রস্তুতি নেওয়ার সময় প্রয়োজনে লিখে লিখে প্রস্তুতি নিতে পারেন। তবে গ্রামারের নিয়মগুলো উদাহরণসহ আয়ত্ব করতে পারলে ভালো হবে।   ইংরেজি সাহিত্য অংশে ভালো নম্বর পাওয়ার মাধ্যমে নিজেকে এগিয়ে রাখতে পারেন। এখানে যেহেতু মুখস্ত করার অনেক বিষয় থাকে তাহলে মুখস্ত রাখতে পারলে এতে ভালো করতে পারবেন। ইংরেজি সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ কবি ও  সাহিত্যিকদের নাম, আলোচিত গ্রন্থ, সাহিত্যে তাদের অবদান সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখতে  হবে। গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা -(১৫+১৫): প্রথমে বিসিএসের সিলেবাস অনুযায়ী অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির গণিতসহ উচ্চতর গণিত বইটি ভালোভাবে শেষ করতে হবে। গণিত অনুশীলনের সময় ক্যালকুলেটর ব্যবহার না করা বুদ্ধিমানের কাজ। গণিতের জন্য সামন্তধারা, গুণোত্তরধারা, বিন্যাস-সমাবেশ, সম্ভাব্যতা, সেট, মান নির্ণয়, সূচক-লগারিদম ও জ্যামিতিক অংশগুলো ভালোভাবে আয়ত্ব করতে হবে। গণিতে ভালো করার মূলমন্ত্র হচ্ছে বেশি পরিমাণে অনুশীলন। যে যত বেশি অনুশীলন করবেন সে ততো বেশি এগিয়ে থাকবেন। তাই প্রতিদিন গণিত অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত রাখুন। মানসিক দক্ষতা অংশে ভালো করতে হলে বিগত সালের প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নগুলো ভালোভাবে পড়তে হবে। সাধারণ জ্ঞান- ৫০ সাধারণ জ্ঞান বিষযে দুটি অংশ রয়েছে। একটি হলো বাংলাদেশ বিষয়াবলি আর অন্যটি হলো- আন্তর্জাতিক বিষয়বলি। উভয় বিষয়েই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশের সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলো ভালোভাবে পড়ে নিতে হবে। এ অংশ থেকে তিন নম্বরের প্রশ্ন হয়ে থাকে। বাংলাদেশের কৃষি ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলোর সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। বাংলাদেশের অভ্যূদয়ের ইতিহাস থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহ সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা থাকতে হবে। বাংলাদেশের বিখ্যাত ব্যক্তিদের সম্পর্কেও জানা থাকতে হবে। বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, বিভিন্ন আন্দোলন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, প্রাচীন স্থাপত্যের ওপর বেশি জোর দিতে হবে। এছাড়াও বাংলা পত্রিকার প্রথম ও শেষ পাতা, সম্পাদকীয় ও মতামত, আন্তর্জাতিক, বাণিজ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক বিষয়গুলো পড়তে হবে। সাধারণ বিজ্ঞান, কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি- (১৫+১৫) সাধারণ বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে ভালো করতে হলে বিসিএসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় আসা প্রশ্নগুলো পড়ে নিতে হবে। এছাড়া নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বইটি ভালোভাবে পড়তে হবে। বাজারে প্রচলিত যে কোনো একটি বই অনুশীলন করতে পারেন। অন্য দিকে কম্পিউটার বিষেয়ে ভালো করতে হলে বাস্তব জ্ঞানের মাধ্যমে শিখতে পারলে খুব ভালো হয়। ভূগোল পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা - ১০ এ বিষয়ে ভালো করতে হলে বিগত সালের প্রশ্নগুলো আগে পড়ে নিতে হবে। মানচিত্র সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। বিশ্বের কোন দেশ কোথায় অবস্থিত সেটা জানা না থাকলে এ অংশে ভালো করা সম্ভব নয়। তাই বিশ্ব মানচিত্র সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। নবম-দশম শ্রেণির ভুগোল বইটি পড়ে নিলে ভালো হয়। এছাড়াও পড়ার সময় যে বিষয়টি কঠিন মনে হবে সে বিষয়টি মার্ক করে পড়লে সহজে আয়ত্বে আসবে। অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে কাজ করে এমন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে হবে। নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন- ১০ এ বিভাগের প্রশ্নের উত্তর শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে দেওয়া উচিত নয়। তা না হলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিগত সালের প্রশ্নগুলো পড়ে এ সম্পর্কে ধারণা নেওয়া যেতে পারে।   এসএইচ/

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি