ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৮ ২৩:৫৫:৫৭

৩৬তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) সহকারী সার্জনদের যোগদান ৩ সেপ্টেম্বর     

৩৬তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) সহকারী সার্জনদের যোগদান ৩ সেপ্টেম্বর     

৩৬তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের সহকারী সার্জনদের ৩ সেপ্টেম্বর যোগদানের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বিসিএস ক্যাডারের ১৮০জনকে ওইদিন সকালে যোগদানের এই নির্দেশ দেওয়া হয়। যুগ্ম সচিব মইনউদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত মঙ্গলবার এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়। আদেশে বলা হয়, ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের বিপরীতে অবস্থিত বিএমএ ভবনের বিএমএ অডিটোরিয়ামে ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় যোগদানপত্র দাখিল করতে হবে।   প্রসঙ্গত, ৩৬তম বিসিএস পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রায় ৩৭ মাস পর গত ৩১ জুলাই ওই নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) যে সুপারিশ করেছিল, সেখান থেকে ১২১ জন প্রার্থী চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে বাদ পড়েছেন। পিএসসি সূত্র জানায়, গত বছরের ১৭ অক্টোবর ২ হাজার ৩২৩ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে পিএসসি। কিন্তু আজ প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে দেখা যাচ্ছে, ২ হাজার ২০২ জন প্রার্থীকে নিয়োগের সুপারিশ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ফলে এতে ১২১ জন প্রার্থী চূড়ান্ত নিয়োগ থেকে বাদ পড়েছেন। এর আগে স্বাস্থ্য সহকারী সার্জন পদে ১৮৭ জনকে সুপারিশ করেছিল পিএসসি। এছাড়াও প্রশাসন ক্যাডারে ২৯২টি, পুলিশ ক্যাডারে ১১৭টি, কর ক্যাডারে ৪২টি, পররাষ্ট্র ২০, নিরীক্ষা ও হিসাব ১৫, কৃষি ৩২২, মৎস্য ৪৮, পশুসম্পদ ৪৩-সহ ২ হাজার ৩২৩ জন প্রার্থীকে সুপারিশ করা হয়। ৩৬তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় ২০১৫ সালের ৩১ মে। দুই লাখের বেশি পরীক্ষার্থী এতে অংশ নেন। পরের বছরের সেপ্টেম্বরে লিখিত পরীক্ষা হয়। মৌখিক পরীক্ষা শেষ হয় ২০১৭ সালের জুনে। এসি     
৩৭ তম বিসিএস: মুক্তিযোদ্ধা কোটাধারীদের সনদ যাচাইয়ের নির্দেশ

৩৭তম বিসিএস পরীক্ষায় চূড়ান্ত ফলাফলে মুক্তিযোদ্ধা কোটার প্রার্থীদের সনদ যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সনদ ও রেকর্ডপত্র জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নবনিয়োগ অধিশাখায় পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আজ রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে বলা হয়েছে, আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সনদ ও রেকর্ডপত্র আবশ্যিকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নবনিয়োগ অধিশাখায় ডাকযোগে অথবা সরাসরি পাঠানো যাবে।এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।  সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ৩৭তম বিসিএসে বিভিন্ন ক্যাডারে ১ হাজার ৩১৪ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে গত ১২ জুন চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারে ৩০০ জন, পুলিশ ক্যাডারে ১০০ জন, পররাষ্ট্র ক্যাডারে ২০ জন, তথ্য ক্যাডারে ১৪ জন, কৃষি ক্যাডারে ৫০ জন, মৎস্য ক্যাডারে ৭৯ জন, প্রাণিসম্পদ ক্যাডারে ৪৭ জন ও সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে ২১০ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়।/ এআর /

৩৯তম বিসিএসে ১৩৯ জনের প্রার্থিতা বাতিল

৩৯তম বিসিএস বিশেষ পরীক্ষায় আবেদনকারী ১৩৯ জনের প্রার্থিতা বাতিল করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। বিএসসি ইন হেলথ/মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল) ডিগ্রি বিডিএস ডিগ্রির সমমানের না হওয়ায় তাদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।   মঙ্গলবার পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) আ. ই. ম. নেছার উদ্দিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে তাদের প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়টি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের ২০ মে’র পত্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএসসি ইন হেলথ/মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল) ডিগ্রি বিডিএস ডিগ্রির সমমানের নয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষাতে বিএসসি ইন হেলথ/মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল) ডিগ্রিধারী আবেদনকারীরা সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদের জন্য যোগ্য নন। এ কারণে ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের শর্ত এবং বিএমডিসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএসসি ইন হেলথ বা মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল) ডিগ্রিধারী ১৩৯ জনের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রেজিস্ট্রেশন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আগামী ৩ অগাস্টের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না। তাই তাদের পরীক্ষার হলে না যেতে অনুরোধ করেছে পিএসসি। প্রসঙ্গত, স্বাস্থ্য ক্যাডারে চার হাজার ৭৯২ জন চিকিৎসক নিয়োগ দিতে গত ৮ এপ্রিল ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কমিশন। এই বিসিএসে অংশ নিতে ১০ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৯ হাজার ৯৫৪ জন চাকরিপ্রার্থী অনলাইনে আবেদন করেন। ৩৯তম বিসিএসের মাধ্যমে ৪ হাজার ৫৪২ জন সহকারী সার্জন এবং ২৫০ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন নিয়োগ দেওয়া হবে বলে পিএসসি জানিয়েছে। একে//

৩৯ তম বিসিএসের আসনবিন্যাস

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) ৩৯তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার আসনবিন্যাস প্রকাশ করেছে। পিএসসির ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই আসন বিন্যাস দেওয়া হয়েছে।   বিশেষ এই বিসিএসে শুধু চিকিৎসক নেওয়া হবে। ৩৯তম বিশেষ বিসিএসে ২০০ নম্বরের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। এছাড়া ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা হবে। পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩ আগস্ট শুক্রবার ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বেলা ৩টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত রাজধানীর ২৫টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা হবে। পরীক্ষার্থীরা ঘড়ি, মোবাইল, ব্যাগ, ক্যালকুলেটরসহ কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে হলে আসতে পারবেন না। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তা হবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পিএসসি সূত্র জানায়, ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের আবেদন কার্যক্রম শুরু হয় গত ১০ এপ্রিল, শেষ হয় ৩০ এপ্রিল। এতে মোট ৩৯ হাজার ৯৫৪ জন প্রার্থী আবেদন করেছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ৩৯তম বিসিএসে ৪ হাজার ৫৪২ জন সহকারী সার্জন আর ২৫০ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন নেওয়া হবে। সব মিলে প্রায় পাঁচ হাজার চিকিৎসক নেওয়া হবে। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ৩৯তম বিশেষ বিসিএসে ২০০ নম্বরের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। এ ছাড়া ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা হবে। মেডিকেল সায়েন্স বা ডেন্টাল সায়েন্স বিষয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। এছাড়া বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ বিষয়াবলি ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে ২০ নম্বর করে এবং মানসিক দক্ষতা ও গাণিতিক যুক্তিতে ১০ নম্বর করে মোট ২০০ নম্বরের দুই ঘণ্টার এমসিকিউ ধরনের লিখিত পরীক্ষা হবে। প্রতি প্রশ্নের সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর দেওয়া হবে। তবে প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য কাটা হবে শূন্য দশমিক ৫০ নম্বর। লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর পিএসসি নির্ধারণ করবে। মৌখিক পরীক্ষার পাস নম্বর ধরা হয়েছে ৫০। / এআর /

‘বিসিএসে সফল হতে পড়াশোনার পাশাপাশি তথ্যের সঙ্গে থাকতে হবে’

হাসিবুর রহমান এমিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম ব্যাচের অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি ৩৭তম বিসিএস পরীক্ষায় প্রশাসন ক্যাডারে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন। তিনি বিসিএস পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে একুশে টেলিভিশন অনলাইনের কাছে বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, জীবনে কখনোই হতাশ হওয়া যাবে না। নিজে আত্মবিশ্বাসী হয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি আরও বলেন, নিয়মিত পড়াশোনা করার পাশাপাশি। তথ্যের সঙ্গে থাকতে হবে যেন কোনো বিশেষ তথ্য বাদ না যায়। সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা বাড়াতে হবে।সর্বপ্রথম সিলেবাস ধরে প্রস্তুতি নিতে হবে। গনিত, মানসিক দক্ষতা, বিজ্ঞান, এ প্রচুর নম্বর পাওয়া সম্ভব। তাই গণিত, মানসিক দক্ষতা ও বিজ্ঞানে কৌশলগতভাবে এগোতে হবে। ইংরেজি ও বাংলা ব্যাকরণেও অনেক ভালো করা সম্ভব যদি সিলেবাস অনুযায়ী টপিক ধরে পড়েন। সঠিকভাবে প্রশ্ন নির্বাচন করতে হবে।তাছাড়া বিগত সালের প্রশ্নগুলো অনুশীলন করলে প্রশ্ন প্যাটার্ন বুঝে নিজেকে বিসিএস পরীক্ষার জন্য এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। এছাড়া তথ্যবহুল ও সুন্দর উপস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীতেও ভালো নম্বর পাওয়া সম্ভব। আর ভাইভার জন্য দরকার স্মার্টনেস, প্রচুর পড়াশোনা এবং আত্মবিশ্বাস। সঠিকভাবে প্রশ্ন নির্বাচন করতে হবে। পরীক্ষার হলে সময় আগে থেকেই ভাগ করে নিতে হবে। সুন্দরভাবে পরীক্ষার খাতায় উত্তর লিখতে পারলে বিসিএস নিয়ে এতো চিন্তার কিছু থাকবে না। তাছাড়া অন্যদের থেকে নিজেকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য নিয়মিত পত্রিকা পড়তে হবে ও পিএসসির ওয়েবসাইটে চোখ রাখতে হবে। বিসিএসকেই জীবনের সব ভাবা ঠিক হবে না। বিসিএসে ব্যর্থ হলেও থেমে না থেকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। হতে পারে আরও বড় কিছু অপেক্ষা করছে। এসএইচ/

‘বিসিএসে সফল হওয়ার চাই নিষ্ঠা-একাগ্রতা’

হাসিবুর রহমান এমিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম ব্যাচের অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি ৩৭তম বিসিএস পরীক্ষায় প্রশাসন ক্যাডারে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন। মানিকগঞ্জের কাকুরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মো. রওশন আহমেদ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক। মাতা মোছা. আন্নী আহমেদ গৃহিণী। বিসিএসের মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় দ্বিতীয় হওয়ার পেছনের কথা তুলে ধরা হলো একুশে টেলিভিশন অনলাইনে। তিনি খাবাশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পান। তারপর খাবাশপুর প্রভা উচ্চবিদ্যালয় থেকেও ৮ম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পান। একই স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পান। এই ধারা অব্যাহত রেখে দেবেন্দ্র কলেজ এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পান। তিনি জগন্নাথ বিদ্যালয়ের অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকে সিজিপিএ-৩.৯৬ ও স্নাতকোত্তরে সিজিপিএ-৩.৭৬ পেয়েছেন। তিনি পরিবার, শিক্ষক-শিক্ষিতা ও বন্ধুবান্ধবদের অনুপ্রেরণায় বিসিএস পরীক্ষার ভালো করতে পেরেছেন বলে জানান। তিনি বিভিন্ন বই, সাহিত্যের বই পড়তেন। তিনি নিয়মিত টক শো, নিউজ দেখতেন। বিভিন্ন সভা সেমিনার, সিম্পোজিয়ামে যেতেন। এছাড়া প্রচুর দেশি-বিদেশের খবর রাখতেন, সিলেবাস এবং সিলেবাসের বাইরের প্রয়োজনীয় এবং অপ্রয়োজনীয় অনেক কিছু পড়ে নিজেকে বিসিএস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করেছেন বলে জানান। তাছাড়া সিনেমা দেখতেন, গান শুনতেন নিয়মিত মঞ্চনাটক দেখতে শিল্পকলা একাডেমিতে যেতেন যা প্রস্তুতিতে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি জানান। তিনি বিসিএস নিয়ে ভাবনা শুরু করেন অনার্সের পর থেকে।মাস্টার্স করার সময় থেকেই মূলত প্রস্তুতি শুরু করেন। তিনি আলাদাভাবে বিসিএস পড়ার জন্য খুব বেশি সময় পেতেন না। মাইক্রোবায়োলজির মতো বিষয়ে পড়ে অন্য দিকে মনোযোগ দেওয়া কষ্টকর। তার রেজাল্ট বরাবরই ভালো ছিল, তাই একাডেমিক পড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। তাছাড়া আইসিডিডিআরবিতে থিসিস করার কারণে সময় পেতেন না। এর ফাকে ফাকে পড়ে নিতেন। তবে তার ছোটবেলা থেকেই নানা ধরনের বই, ম্যাগাজিন পড়ার অভ্যাস ছিল। তার জীবনাচরণই হয়তো তাকে সবচেয়ে বেশি প্রস্তুত করেছেন বিসিএস এর জন্য। তবে তিনি নিয়মিত পড়াশোনা করতেন। তার প্রশাসন ক্যাডারে যাওয়ার পেছনে জবির ভূমিকাও রয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, এটা একটা অসাধারণ প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে বিভাগের শিক্ষকগণের ভূমিকা, অনুপ্রেরণা অসাধারণ। আলাদা করে বললে, বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শামীমা বেগম ম্যাডামের কথা বলা যায়। তিনি আরও মনে করেন, বিসিএসে সফলতার জন্য সবচেয়ে বেশি দরকার ধৈর্যশীল হওয়া। এছাড়া নিষ্ঠা, একাগ্রতা এবং বড় হওয়ার স্বপ্ন খুবই জরুরি। এসএইচ/

বিসিএসসহ সব নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন মুদ্রণ করবে পিএসসি

প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে এখন থেকে বিসিএসসহ সব সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার (পিএসএসসির অধীনে) প্রশ্ন নিজেরাই প্রণয়ন ও মুদ্রণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ কর্মকমিশন (পিএসসি)। ৩৯তম স্বাস্থ্য ক্যাডারে বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা নিজেদের মুদ্রণ করা প্রশ্নে আয়োজন করা হবে বলে পিএসসি জানিয়েছে।পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক এ বিষয়ে বলেন, বিসিএস ও অন্যান্য সব পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পিএসসি ভবন থেকে প্রণয়ন ও মুদ্রণ করা হবে। পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে আরও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, ৩৯তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা আগামী ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা আয়োজনে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ৩৮তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা ৮ আগস্ট শুরু হবে। ৮ থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত আবশ্যিক বিষয়ের পরীক্ষা হবে। এছাড়া সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ঐচ্ছিক বিষয়ের পরীক্ষা হবে।পিএসসি চেয়ারম্যান বলেন, একটি নির্ধারিত কক্ষে বসে পিএসসির প্রশ্ন প্রণয়নকারী মডারেটররা একাধিক প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করবেন। এরপর লটারির মাধ্যমে একটি সেট নির্বাচন করা হবে। সেই প্রশ্ন সেটটি পিএসসির নিজস্ব প্রিন্টারে ছাপা হবে। এরপর সেটি পরীক্ষা কেন্দ্রে পাঠানো হবে। লটারির মাধ্যমে প্রশ্ন নির্বাচন থেকে প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে না যাওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত রুমটি বন্ধ রাখা হবে। পুরো স্থানটি সিসিটিভি দিয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হবে।জানা গেছে, চলতি বছর ৪ হাজার সরকারি নার্স নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। এ বছর শুরুর দিকে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও পরীক্ষার আগেই প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠে। পরদিন লিখিত পরীক্ষা বাতিল করে পিএসসি। / এআর /

প্রিলি থেকেই কোটার শতভাগ বাস্তবায়ন চায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা

এবার বিসিএসসহ সরকারি সব ধরণের চাকরির নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বরাদ্দ অংশের শতভাগ বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’। সংগঠনের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চলমান সব ধরণের নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত রাখাসহ সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কোটার শূন্য পদ সংরক্ষণ করে বিশেষ নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করার দাবি জানানো হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু মিলনায়তনে আয়োজিত শুক্রবার রাতে এক আলোচনা সভায় সংগঠনের নেতারা এই দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখার আহবান জানিয়ে ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ আয়োজিত ‘বৈষম্য দূরীকরণে কোটা ব্যবস্থা’শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে নেতৃারা মুক্তিযোদ্ধা কোটা সঠিক বাস্তবায়নে একটি কমিশন গঠনসহ ৯ দফা দাবি তুলে ধরেন।  সংগঠনের সভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও দপ্তর সম্পাদক আহমাদ রাসেলের পরিচালনায় ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান শাহীনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারা বেগম।  নেতারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক প্রশাসন গড়ার স্বার্থে যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখতে হবে, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও দেশের অতীত গৌরব ধারণে এর অন্য কোনো বিকল্প নেই। বক্তারা বলেন, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা হত্যার পর থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র হয়েছে। পরবর্তীতে ২০০১ সালের পর মুক্তিযোদ্ধা কোটা আবারো ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়। এভাবে মুক্তিযুদ্ধের পর ২৯ বছর কোটায় কোন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের চাকুরি হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের সময় এবং পরবর্তী ২৯ বছর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবার রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে নিস্পেষিত হয়েছে। এ ছাড়া এই ৩০ শতাংশ কোটা তাদের আত্মমর্যাদা ও সম্মানের সাথে জড়িত। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানের দিকে তাকিয়ে হলেও এই কোটা বহাল রাখা জরুরি। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা একটি অসাম্প্রদায়িক জঙ্গিমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় প্রশাসন স্বাধীনতা বিরোধীমুক্ত করতেও সরকারের প্রতি আহবান জানান। নেতৃবৃন্দ বলেন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য সরকারি কোটা থাকলেও এই কোটায় যোগ্যতার দোহাই দিয়ে ইচ্ছাপূর্বক তাদের মৌখিক পরীক্ষা থেকে বাদ দিয়ে দেয়। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান প্রিলিমিনারী, লিখিত, মনস্তাত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তার আর কি যোগ্যতার প্রমান দিতে হবে? মৌখিক পরীক্ষা কখনোই যোগ্যতা যাচাইয়ের একমাত্র মানদন্ড হতে পারে না। বলা হয়, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পাওয়া যায় না। অথচ এখনো হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বেকারত্ব নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা বলেন, কোটা বাতিলের সময় এখনও আসে নাই, এখনও মুক্তিযোদ্ধাদের হাজার হাজার সন্তান চাকরি পাননি, অনেক বেকার রয়েছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাব, কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত পুর্নবিবেচনা করবেন। সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য অধ্যাপক আনোয়ারা বেগম বলেন, পশ্চাতপদ জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূল স্রোতে সম্পৃক্ত করতে জাতির পিতা কোটা ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। কোটা কখনো বৈষম্য সৃষ্টি করে না, বরং বৈষম্য দূরীকরণে কোটা ব্যবস্থা বহাল রাখতে হবে। আর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের নিয়োগ দিলে দেশ মেধাহীন হবে না। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদেও চাকুরি দিলে মেধাবী প্রশাসন গড়ে তোলার পাশাপাশি একটি দেশ প্রেমিক প্রশাসনও গড়া সম্ভব।  মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বহাল না করা হলে ৭১-এর পরাজিত শক্তি ডুগডুগি বাজাবে। কারণ তারা দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান-অপদস্থ করতে চেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণার ফলে তারা আজ উল্লাসে মেতে উঠেছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান শাহীন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ৯ দফা দাবি তুলে ধরেন, দাবিগুলো হলো- ১) জাতির পিতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তিকারীদের শাস্তি দিতে হবে। ২) বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা সুরক্ষা আইন করতে হবে। ৩) ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রেখে তা বাস্তবায়নে কমিশন গঠন তরে প্রিলিমিনারী থেকে কোটা শতভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে। ৪) মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চলমান সকল নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত রাখাসহ সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কোটার শূন্য পদ সংরক্ষণ করে বিশেষ নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করতে হবে। ৫) ১৯৭২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় শূন্য পদগুলোতে চলতি বছরেই নিয়োগ দিতে হবে। ৬) বীর মুক্তিযোদ্ধারা ছিলেন প্রবাসী সরকারের প্রথম সেনাবাহিনী এ কারণে তাদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে পেনশন, বোনাস, রেশনসহ ওই মন্ত্রণালয়ের সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। ৭) রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে স্বাধীনতাবিরোধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করাসহ স্বাধীনতাবিরোধীদের উত্তরসূরীদের সকল চাকুরিতে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে এবং স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করতে হবে। ৮) ঢাবি ভিসির বাসভবনে হামলাসহ দেশব্যাপী নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী স্বঘোষিত রাজাকারদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে এবং সকলের জন্য চাকুরিতে প্রবেশের বয়সসীমা তুলে দিতে হবে। বক্তব্য রাখেন আয়োজক সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য শহীদ সংসদ সদস্য নূরুল হক হাওলাদারের কন্যা জোবায়দা হক অজন্তা, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম ব্রিগেডের আহবায়ক হাসান মাহমুদ রনি, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের সহ-সভাপতি আকবর হোসেন মিঠু, ওমর ফারুক সাগর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল-আমীন মৃদুল, প্রকৌশলী এনামুল হক, প্রচার সম্পাদক সাদেকুল নিয়োগী পন্নী, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মো. আল মামুন, আয়োজক সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য কামরুল ইসলাম রাসেল, জোবায়ের আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি আব্দুল্লাহ সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ সরকার প্রমুখ। আরকে// এআর

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি