ঢাকা, বুধবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৮ ১৪:৫০:৩৬

মায়াবী জীবন

মায়াবী জীবন

জীবন সুন্দর! তবুও জীবন থেকে পালাতে চেষ্টা করিছায়া-রোদে ঘুরিবৃষ্টি-রোদে ঘুরিকত পথ চলি, ধূলি-ধূসরে ঘুরিবর্ষা এলে, বৃষ্টির ফোঁটা পড়ে দেহেবৃষ্টিভেজা দেহে স্বপ্নের জাল বুনিমনে কৃষ্ণচুড়া ফুঁটে থাকে থরে থরেমনে মনে ভাবি জীবনের মূল্য কী?ছুটে যাই বনেবন্য ফুল ফুঁটে থাকে ডালে ডালেছুটে যাই নদীর কিনারেনদীর জল মনের ভেতর করে খলখল।কাক ডাকে ভোরে, নিসর্গের ছোঁয়া পড়ে শরীরেডাকে পাখি, দৃষ্টিনন্দনে ভরে যায় আঁখিজীবন হয়ে উঠে মধুময়মনের প্লাজায় ভেসে ওঠে শ্রাবণ সন্ধ্যারাতের গভীরে অশ্রুসিক্ত স্মৃতিস্মৃতি উঁকি মারে অনির্বিঘ্ন বিশ্রামের ফাঁকে ফাঁকেপবিত্র আত্মায় সবুজ ঘাস চোখ মেলে তাকায়নির্দোষ মনের কিনারা ডুবে থাকে শ্যামলিমায়,রানীহাঁস দিঘীর পথেচষে বেড়ায় খালে-বিলেএকটু দূরেই বুনোহাঁস পাখনা মেলেই ফুটফুটে সাদা।দিঘীর পাড়ের ঠাসবুনোটগাছগাছালি উঁকি মারে জ্যোৎস্না আলোয়,চিরকাল বেশ এভাবেই চলে জীবনজীবন সুন্দর! বুকের মধ্যটায় অচেনা জীবন,ফাঁকে ফাঁকে অজস্র স্মৃতি লুকোচুরি খেলেঅস্পষ্ট স্মৃতিগুলো জীবন থেকে বেরিয়ে যাবার পথ খুঁজেপালাবো কোথায়? জীবন অতি মায়াময়।   এসএইচ/  
শেখ হাসিনাকে নিয়ে লেখা ‘পিস অ্যান্ড হারমোনি’র প্রকাশ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে দেশের খ্যাতিমান কবি সাহিত্যিকদের  লেখা নির্বাচিত একাত্তরটি  কবিতা সংবলিত  ইংরেজিতে অনুদিত বই ‘পিস অ্যান্ড হারমোনি’ প্রকাশিত হয়েছে। এই গ্রন্থে কবিতাগুলো বাংলা ও ইংরেজিতে পাশাপাশি প্রকাশ করা হয়েছে। এর ফলে পাঠকরা দুই ভাষায় পড়তে পারবে। বাংলায় বইটির নামকরণ করা হয়েছে ‘শান্তি ও সহাবস্থান’। বইটির কবিতাগুলো ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন লেখক আনিস মুহম্মদ এবং সম্পাদনা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক আহমেদ রেজা।  ঢাকার বাংলা মটরের ‘গল্পকার প্রকাশনী ’ বইটি প্রকাশ করেছে। এবারের অমর একুশের বইমেলায় বইটি প্রকাশিত পায়। বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে লেখা কবিতার সংখ্যা অসংখ্য। গত আড়াই দশকে এদেশের কবিরা প্রচুর কবিতা লিখেছেন শেখ হাসিনাকে নিয়ে। সেই সব কবিতা থেকে বাছাই করে অনুবাদক ও সম্পাদক একাত্তরটি কবিতা নিয়ে এই বইটি প্রকাশ করেছেন। কবিতাগুলোতে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্ম জীবন,আন্দোলন, সংগ্রাম, দেশ পরিচালনার চিত্র, বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের সদস্যদের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টে হত্যার প্রতিবাদ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মযজ্ঞ, তার সংস্কৃতি চেতনা, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তার গৃহীত নীতি, আদর্শকে নিয়ে দেশ পরিচালনাসহ নানা বিষয় এসব কবিতায় স্থান পেয়েছে। বইটিতে যে সব কবিদের কবিতা পত্রস্থ হয়েছে তারা হলেন, কবীর চৌধুরী, সৈয়দ শামসুল হক, বোরহান উদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, তোফাজ্জল হোসেন, বেলাল চৌধুরী, আনোয়ারা সৈয়দ হক, কাজী আবু জাফর সিদ্দিকী, রফিক আজাদ, রবিউল হুসাইন, মহাদেব সাহা, হাবীবুল্লাহ সিরাজী, নির্মলেন্দু গুণ, অসীম সাহা, জাহিদুল হক, মুহম্মদ নূরুল হুদা,আখতার হুসেন, কাজী রোজী, শিহাব সরকার, হালিম আজাদ, নাসির আহমেদ, কামাল চৌধুরী, ইয়াফেস ওসমান, নূহ উল আলম লেনিন, আজিজুর রহমান আজিজ, দুলাল সরকার, মোহাম্মদ সাদিক, মুহম্মদ সামাদ, খালেদ বিন জয়েন উদ্দিন, বুলবুল মহলানবিশ, দিলারা হাফিজ, মিনার মনসুর, খালেদ হোসাইন, সালাউদ্দিন বাদল, শাহজাদী আঞ্জুমান আরা, শ্যামসুন্দর শিকদার, আমীরুল ইসলাম, তারিক সুজাত, আসলাম সানীসহ ৭১ জন বরেণ্য  কবির কবিতা এতে স্থান পায়।  বইটির ‘ভূমিকা’য় সম্পাদক অধ্যাপক আহমেদ রেজা ও অনুবাদক আনিস মুহম্মদ যৌথভাবে লিখেছেন ‘এ দেশের বিশিষ্ট প্রায় সব কবি কবিতা লিখেছেন তাদের প্রিয় নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিাকে নিয়ে। কবিদের ভাবনা, আকাংখা, স্মৃতি, স্বপ্ন, কল্পনা ও পরিকল্পনায় উঠে এসেছে তাদের প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা প্রতি অপরিমেয় ভালোবাসা। শেখ হাসিনার গুণাবলী, শোক ও দুঃখ, আনন্দ আর অভিযাত্রা মূর্ত হয়েছে এই কাব্যগ্রন্থে সংকলিত একাত্তরটি কবিতায়। দুটি বিষয়কে স্মরণে রেখে  কবিতাপ্রেমী এই মহান ব্যাক্তিকে নিয়ে লেখা একাত্তরটি অনুপম কবিতা একত্রে প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছি। পাশাপাশি সারাবিশ্বে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ধারনা প্রসারের যে অনন্য নজির তিনি স্থাপন করেছেন, সে বিবেচনা থেকে এই গ্রন্থের নাম ‘শান্তি ও সহাবস্থান’ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদন নিয়ে বইটি প্রকাশ করা হয়। বইয়ের ২০৭ পৃষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে এ সম্পর্কিত দেওয়া অনুমোদনপত্রটি যুক্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অফিসের কর্মকর্তা ওয়াহিদা মুসাররত অনীতার (পরিচালক-৭) স্বাক্ষরিত অনুমোদন পত্রটি বইটির অনুবাদক ও সম্পাদককে অনুলিপি প্রদান করা হয়। বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন শিল্পী মাসুক হেলাল। কেআই/এসএইচ/

একুশের তথ্যভাণ্ডার

পাচার করে পাচারকারী পালালো দূর দেশে, পুলিশ-রাজা সুযোগ বুঝে ধরলো তাকে শেষে। ক্রাইম ঘটিয়ে ক্রিমিনাল তুই যেখানেই যাস ভাই, `একুশের চোখ`- এর নজর থেকে মিলবে না রেহাই।   টেকনোলোজি ফার্স্ট হয়েছে, রিমোট টিপে ঘরেই বসে- জানতে পারবে কোন গ্রহ উঠেছে কোন মহাকাশে।   বিজনেস যদি করতে চাও, তাও করতে পারো- `ই-কমার্স` হেল্প করবে, চিন্তা এখন ছাড়ো। ঘরেই বসে ` আউট সোর্সিং` কেমন করে হয়! টেকনোলোজির কাছে এসব ইম্পসিবল নয়।   সরল সঠিক পুণ্য পথে গড়তে জীবন বিধান, জিজ্ঞাসাতেই পাবে ধর্মের সঠিক সমাধান।   ইন্টারেস্টিং ক্রিকেট ম্যাচে সাকিব মারে ছয়, পল্টু মিয়া খাটেই বসে বলে ` বাংলা জয়`। `লাইফস্টাইল` দেখে খোলো জীবনের নতুন ফাইল, `ইটিভি ভ্রমণ` দেখে ঘুরে আসো পৃথিবীর শত মাইল।   `এন্টারটেইনমেন্ট` দেখো সুযোগে, অবসরে শুনো গান, `ইটিভি স্বাস্থ্য` দেখে গড়ে তুলো জীবনের প্রাণ। পাহাড়-চূড়ায়, কুটির ঘরে তোমার বসবাস তবুও একুশে টিভি পুরায় তোমার মনের আশ।   লেখক : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী। / এআর /

দাউদ হায়দারের চারটি কবিতা

দাউদ হায়দার ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পাবনায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৪ সালে নির্বাসিত হন তিনি। বর্তমানে জার্মানিতে বসবাস করছেন। তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে জন্মই আমার আজন্ম পাপ, সম্পন্ন মানুষ নই, যে দেশে সবাই অন্ধ প্রভৃতি।   মিছিলে তোমার মুখ মিছিলে তোমার মুখ ছিলো সেদিনের রক্তগঙ্গা রাজপথে গ্রামকে গ্রাম উজাড় করে অবশেষে এইখানে এসে কোন মতে বাঁধলে কঠিন বুক পরম সাহসে; হৃদয়ে আশা দোলে; যেন সব সম্রাজ্ঞী স্বপন অথবা বিধাতার স্বর্গীয় শান্তি খোঁজো রাত্রিদিন এই দারুণ মিছিলে। কখন যে পাপময় বাতাস বয়ে গেল গাছের ডালে; একটু চোখ তুলে দেখলেও না তুমি– বরং বললে; “এখানে নিবিড় ভালবাসা আছে অথচ কি যেন নেই— হায় আমার বাংলা আমার জন্মভুমি!” —বলে সেই যে হারিয়ে গেলে ফিরে তাকালেও না আর– জানিনা একি অপার মমতা যে হৃদয়ে তোমার!   একদিন কেউ কাউকে চিনবে না সবই চলে যায় সবই চলে যাবে একদিন তবু কেউ কারও মুখ দেখবো না সঠিক অস্পষ্ট ভালবাসা বরং থেকে যাবে ইতস্ততঃ আজীবন ইচ্ছেগুলো ভেসে যাবে বাতাসে নীলিমায় চোখে চোখে চোখ রাখলে কেউ কাউকে চিনবো না ভুল করে পাশাপাশি হেঁটে গেলে কেউ কাউকে দেখবো না – একদিন শরীরে শরীরে মিশে যাবো একদিন জীবন সংগ্রাম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবো একদিন মিছিল থেকে চলে যাবো মরণ ভবনে একদিন ডেকে ডেকে চলে যাবে অলীক ঠিকানায় একদিন নির্ভুল নিয়মে দাঁড়াবো মুখোমুখী একদিন আমি তুমি চলে যাবো কালের আঙিনায় একদিন তবু কেউ কাউকে চিনবো না!      আমার পিতাকে মুমূর্ষু পিতার সংসারে আমি এক নির্বোধ বালক যেন। আমাকে দিয়ে কিছুই হবে না কোনো কালেই; জানেন তিনিই শুধু। যার কোলে-পিঠে মানুষ আজীবন; তিনি এই পৃথিবী-লোক ছেড়ে এখন কোথায় যে ছিটকে পড়ে আছেন তা বলতেও পারিনা সহসা ৷ অথচ বাড়িতে তাকে নিয়ে আমাদের ভাবনার অন্ত নেই। এদিকে গতায়ু হবেন যিনি আজকাল কিংবা মাসাধিকাল পরে; আপাতত তাকে নিয়ে কেউ-ই ঘামায় না মাথা। বুড়োটে শরীর তার ভীষণ উত্তেজিত হাতের তুড়িতে একদা নিমেষে উধাও হতো সব। তিনি আজ বিছানায় একা একা শুয়ে ভাবেন আল্লার আরশ। মুমূর্ষু পিতার সংসারে আমিই বড় ছেলে। সব দায়িত্ব আমাকে কাঁধে তুলে দিয়ে ধুঁকে ধুঁকে মরে পালাতে চান যিনি তাকেই বাঁচাতে চাই আপ্রাণ চেষ্টায়; আমার পিতাকে।          তুমিই আমার প্রেমিকা তুমিই আমার প্রেমিকা। যেহেতু তুমিই আমাকে প্রথম ভালবাসা শেখালে কি করে ভালবাসতে হয়। একদিন দেখলাম; একজন বিদেশী যুবা তোমাকে ক্যামোন জোর করে টেনে নিচ্ছে— তুমি নিরুপায়! হয়তো তোমার বিশ্বাস ছিল তোমার ভালবাসার প্রতিদানে আমি তোমাকে উদ্ধার করবো। আমি তাই করেছি আমি তোমার জন্যে মুক্তিযুদ্ধে গেছি মর্টার ধরেছি, দাঁত দিয়ে গ্রেনেডের ক্লিপ ছিঁড়েছি— দ্যাখো, তার সঠিক ফলাফল পাওয়া গেছে একটি চরম যুদ্ধে। অতএব এসো, এখন জ্বলজ্বলে দিনের আলোয় পুনর্মিলন হোক আমাদের– যেহেতু আমি তোমার আশৈশব প্রেমিক— তোমার ভালবাসা আমার শরীরে!

মহাদেব সাহার ত্রয়ী ভলোবাসা

১. ভালোবাসা ভালোবাসা তুমি এমনি সুদূর স্বপ্নের চে’ও দূরে, সুনীল সাগরে তোমাকে পাবে না আকাশে ক্লান্ত উড়ে! ভালোবাসা তুমি এমনি উধাও এমনি কি অগোচর তোমার ঠিকানা মানচিত্রের উড়ন্ত ডাকঘর সেও কি জানে না? এমনি নিখোঁজ এমনি নিরুদ্দেশ পাবে না তোমাকে মেধা ও মনন কিংবা অভিনিবেশ? তুমি কি তাহলে অদৃশ্য এতো এতোই লোকোত্তর, সব প্রশ্নের সম্মুখে তুমি স্থবির এবং জড়? ভালোবাসা তবে এমনি সুদূর এমনি অলীক তুমি এমনি স্বপ্ন? ছোওনি কি কভু বাস্তবতার ভূমি? তাই বা কীভাবে ভালোবাসা আমি দেখেছি পরস্পর ধুলো ও মাটিতে বেঁধেছো তোমার নশ্বরতার ঘর! ভালোবাসা, বলো, দেখিনি তোমাকে সলজ্জ চঞ্চল, মুগ্ধ মেঘের মতোই কখনো কারো তৃষ্ণার জল।   ২. ভালোবাসা মরে গেছে গত গ্রীষ্মকালে ভালোবাসা মরে গেছে গত গ্রীষ্মকালে উদ্যত বাহুর চাপে, ধুলোমাটি কাদা লেগে গায়ে শীতেতাপে ঝরে গেছে তার বর্ণ, মেধা স্পর্শ করে আশি এই প্রেমহীন নারীর শরীর মৃত চুল, উত্তাপবিহীন কিছু বয়সের ধুলো, নীলাঞ্জনশোভিত নারীর মুখ ফিকে থির পলকবিহীন দুই চোখ খেয়ে গেছে পৌষের দুই বুড়ো কাক তাহাকেই ধরে আছি, বেঁধে আছি অসহায় স্তব্ধ আলিঙ্গনে; বহু বছরের এই রোদবৃষ্টিজলে, ঝড়ে, কুয়াশায় নষ্ট হয়ে গেছে প্রেম, মুখের গড়ন তার, দেহের বাঁধন অজন্তা মূর্তি লাস্য, শিল্পের মতন সেই গূঢ় সম্ভাষণ তার কতোখানি বাকি আছে? অবশিষ্ট আছে? তাহারা কি থাকে কেউ অনাদরে উপেক্ষায় সারাদিনে একবেলা জলঢালা মৌন কেয়ারিতে অজ্ঞাত নফর, তাহারা কি থাকে? স্পর্শহীন, পরিচর্যহীন একাকী নিঃসঙ্গ আর কতোকাল দগ্ধ হবে প্রেম।   ৩. ভালোবাসা, আমি তোমার জন্য ভালোবাসা আমি তোমাকে নিয়েই সবচেয়ে বেশি বিব্রত আজ তেমাকে নিয়েই এমন আহত এতো অপরাধী, এতো অসহায়! তোমাকে নিয়েই পালিয়ে বেড়াই তোমাকে নিয়েই ব্যাকুল ফেরারী। ভালোবাসা তুমি ফুল হলে তার ফুলদানি পেতে অভাব ছিলো না, মেঘ হলে তুমি সুদূর নীলিমা তোমাকে দিতাম উড়ে বেড়াবার; জল হলে তুমি সমুদ্র ছিলো তোমারই জন্য অসীম পাত্র- প্রসাধনী হলে তোমাকে রাখার ছিলো উজ্জ্বল অশেষ শো-কেস, এমনকি তুমি শিশির হলেও বক্ষে রাখার তৃণ ছিলো, আর সবুজ পাতাও তোমার জন্য হয়তোবা হতো স্মৃতির রুমাল। ভালোবাসা তুমি পাখি হতে যদি তোমাকে রাখার ভাবনা কি ছিলো এই নীলকাশ তোমারই জন্য অনায়াসে হতো অনুপম খাঁচা! কিন্তু তুমি তো ফুল নও কোনো মেঘ নও কোনো দূর আকাশের, ভালোবাসা তুমি টিপ নও কোনো তোমাকে কারো বা কপালে পরাবো; ঘর সাজাবার মেহগনি হলে ভালোবাসা তুমি কথা তো ছিলো না তুমি তো জানোই ভালোবাসা তুমি চেয়েছো মাত্র উষ্ণ হৃদয়! খোঁপায় তোমাকে পরালেই যদি ভালোবাসা তুমি ফুটতে বকুল, কারো চোখে যদি রাখলেই তুমি হতে ভালোবাসা স্নিগ্ধ গোধূলি- তাহলে আমার তোমাকে নিয়ে কি বলো ভালোবাসা এমন দৈন্য, আমি তো জানিই তোমার জন্য পাইনি যা সে তো একটি হৃদয় সামান্যতম সিক্ত কোমল, স্পর্শকাতর অনুভূতিশীল!   [মহাদেব সাহা ১৯৪৪ সালে সিরাজগঞ্জ জেলার ধানঘড়া গ্রামে পৈতৃক বাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম গদাধর সাহা এবং মাতা বিরাজমোহিনী। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৯৩ টি। বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদান রাখার কারণে তিনি ১৯৮৩ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ২০০১ সালে একুশে পদক লাভ করেন।]   /ডিডি/টিকে

জন্মদিনে রেজাউদ্দিন স্টালিনের তিনটি কবিতা

কবি ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব রেজাউদ্দিন স্টালিনের আজ (২২ নভেম্বর) ৫৫তম জন্মদিন। এ উপলক্ষে ম্যাজিক লণ্ঠন, বাংলাদেশ সাহিত্য পরিষদ ও পারফর্মিং আর্ট সেন্টার রাজধানীর সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্র পরিবাগে মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। রেজাউদ্দিন স্টালিনের কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ৪১টি। কবিতার অ্যালবাম পাঁচটি। তার কবিতা বিশ্বের বেশ ক’টি গুরুত্বপূর্ণ ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, মধুসূদন পুরস্কার, দার্জিলিং নাট্যচক্র পুরস্কার, সিটি আনন্দ আলো পুরস্কারসহ বহু সম্মাননা ও পুরস্কার পেয়েছেন। এক. বিচ্ছেদের বর্ণমালা আমাদের দেখা আর কখনো হবে না কোনোদিন এমনকি কণ্ঠস্বর টেলিফোনে হবে না মুদ্রিত স্মৃতির পাখিরা এসে বলে যাবে সুরঞ্জনা শোনো : কাল সারারাত জেগে বিচ্ছেদের বেদনা লিখেছি ফিরিয়ে নিয়েছি মুখ পরস্পর ক্ষোভে ও ঘৃণায়, কে জানতো মুহূর্তের মরীচিকা কেড়ে নেবে আলো বুকের ভেতর থেকে জেগে ওঠা একখণ্ড ভূমি দখল করবে এসে নগরের নিকৃষ্ট মাতাল পৃথিবীর দীর্ঘতম সেতুর উপরে উভয়ের দেখা হবে, কথা ছিলো নক্ষত্রের বিশাল টাওয়ারে শিশিরের শিহরণে, স্বপ্নগর্ভ আকাশের নিচে জোছনার টার্মিনালে অন্তহীন অপেক্ষা করবো   মাইক্রোওয়েভ থেকে আমাদের ধ্বনিপুঞ্জগুলি শুনবে পৃথিবীবাসী, আমরা থাকবো বহুদূরে আরণ্যক স্তব্ধতায়, ফরেস্ট বাঙলোর কোনো রুমে কথা ছিলো বাঙলোর সংলগ্ন সড়কে যদি হর্ন দেয় মার্সিডিজ বেঞ্জ, আমরা ছুটবো ভিন্নগ্রহে আমাদের সব ইচ্ছা স্বপ্নসাধ মুহূর্তের ভুলে ভেঙে গেছে, যার ফলে মর্মন্তুদ বিচ্ছেদের নদী সৃষ্টি হলো আজ দেখো জীবনের প্রতিপার্শ্বব্যেপে এখন কী করে বলো সহ্য করি এতোটা নির্মম   আমাদের দেখা আর কখনো হবে না কোনোদিন এমনকি কবিতারা টেলিফোনে হবে না মুদ্রিত নীরব নায়িকা এসে বলে যাবে, শোনাও তো দেখি নিদ্রাহীন লাল চোখে লিখেছো যে, কষ্টের কবিতা   দুই. সহমরণ সহমরণের তৃষ্ণা ও রাত্রি অপরিসীম সমুদ্রের চিতায় স্বেচ্ছায় উঠেছে আকাশ ঢেউঅগ্নি ঝলসে দিচ্ছে তার দেহ আগুন আর অনন্তের এমন অলৌকিক ভূবিজ্ঞানে নেই কলম্বাসের পরে এই দৃশ্য আর কেউ দেখেছিলো কি না সেই কথা রহস্যজনিত ও হাওয়া সৈকতের স্নিগ্ধ চোখে ঘুম কে তাকে তুলবে সাম্পানে মৎস্যযাত্রায় লবণের লোভ থেকে মুক্ত হওয়া ভার ঝিনুক-নুড়ির গান অনেক প্রাচীন সেই কবে বিগল জাহাজে ডারউইন এসেছিলো পূর্বপুরুষ অন্ত্যজ শামুকের খোঁজে আর কেউ এসেছিল নাকি ভাস্কোদাগামার সাথে রক্ত পুঁজ সিফিলিস আরো কতো মারি এসে জোয়ার জরিপ করে গেছে   ও চাঁদ রাত্রির একান্ত প্রজাতি সাগরকন্যার পাণিপ্রার্থী হও না হলে শুনতে হবে ভ্যাম্পায়ার ভাটার ভর্ৎসনা নীল ও অলড্রিন ভেঙে দেবে তোমার পৌরুষ আকাশের সাথে উঠে এসো সমুদ্রচিতায় আত্মদানের এ সুযোগ অভূতপূর্ব এর চেয়ে চিরন্তন মৃত্যু আর হতেই পারে না   তিন. জানাতেই হবে প্রার্থনা মঙ্গলের প্রভু এ জীবন মুক্ত করো মরীচিকা থেকে সুন্দরের আরাধনা ক্লান্তি থেকে ত্রাণ করো মানব রচিত বিধানের ব্যত্যয় ঘটিয়ে হৃদয়কে বিচ্ছিন্ন করো জাগতিক থেকে স্বনির্বাচিত করো সংমুদ্ধ সময়ে //ডিডি//

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি