ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭ ২১:১২:১৪

কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর জন্মদিন আজ

কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর জন্মদিন আজ

আজ ১৬ অক্টোবর কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র ৬১তম জন্মবার্ষিকী। কবির জন্মদিনে তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে একুশে টেলিভিশন অনলাইন’র পক্ষ থেকে গভীর ভালোবাসা। কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর তাঁর পিতার কর্মস্থল বরিশালের আমানতগঞ্জ রেডক্রস হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা ডাঃ শেখ ওয়ালীউল্লাহ এবং মাতা শিরিয়া বেগম। তাঁর মূল বাড়ি বাগেরহাট জেলার মংলা উপজেলার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রামে। উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া রুদ্রের শৈশবের অধিকাংশ সময় তাঁর কেটেছে নানাবাড়ি মিঠেখালি গ্রামে (বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত)। এখানকার পাঠশালাতেই তাঁর পড়াশুনা শুরু। ১৯৭২ সালে ঢাকায় এসে ওয়েস্ট এ্যান্ড হাইস্কুল ভর্তি হয়ে ১৯৭৪ সালে চার বিষয়ে লেটার মার্কসসহ এসএসসিতে বিজ্ঞান শাখায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন তিনি। এর পর ১৯৭৬ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। অতঃপর ১৯৮০ সালে সম্মানসহ বিএ এবং ১৯৮৩ সালে এমএ পাস করেন তিনি। আশির দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের ময়দানে তিনি ছিলেন অন্যতম। জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনে প্রধান উদ্যোগীদের তিনি ছিলেন একজন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই বিষ্ফোরক দিনগুলোতে রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন বিপ্লবের সহগামী এক মানুষ। কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ তার স্বল্পসময়ের জীবনে রচনা করেছেন সাতটি কাব্যগ্রন্থসহ গল্প, কাব্যনাট্য ও অর্ধ শতাধিক গান। তাঁরই কবিতার লাইন “জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে পুরনো শকুন” আজও অবিস্মরণীয়। এরকম অসংখ্য কবিতা রচনা করেছেন রুদ্র। রাজনীতির ভন্ডামী আর সমাজের বৈশাদৃশ্যের ছবি তিনি তাঁর কবিতায় তুলে এনেছেন নিপুন তুলির টানে। “সোনালি শিশির” তাঁর একমাত্র গল্পের বই। তাঁর ‘বিষ বিরিক্ষির বীজ’ নামক একটি নাট্যকাব্য রয়েছে। এছাড়া উপদ্রুত উপকূল (১৯৭৯), ফিরে পাই স্বর্ণগ্রাম ১৯৮২, মানুষের মানচিত্র (১৯৮৪), ছোবল (১৯৮৬), গল্প (১৯৮৭), দিয়েছিলে সকল আকাশ (১৯৮৮), মৌলিক মুখোশ (১৯৯০) কাব্যগ্রন্থগুলোও ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। আর তাঁর বিখ্যাত ‘ভালো আছি ভালো থেকো’ গানটি জন্য তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি প্রদত্ত ১৯৯৭ সালের শ্রেষ্ঠ গীতিকারের (মরনোত্তর) সম্মাননা লাভ করেন। রুদ্র আলোচিত নারীবাদী কবি-লেখিকা তসলিমা নাসরীনকে বিয়ে করেন ১৯৮১ সালে। ১৯৮৮-তে তাদের সাত বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটে। এর কিছুকাল পরে ঢাকার বাসভবনে কবির অকালপ্রয়ান ঘটে।   এসএ/এআর
যেখানে সেখানে

সেখানে আলো ছিল না বটে তবে অন্ধকারও ছিল না, ঘুঁটঘুটে ভাব ছিল চারিদিকে পোকা মাকড়ের শব্দ ছিল গাছ-গাছালির সবুজাভ রং অক্সিজেনে ভরা, নিঃশ্বাসের আকর্ষণে ঘেরা- অপেক্ষা শুধু কখন আলো কিম্বা উল্টো অভিপ্রায় নিয়ে সেখানে আসা।   শুদ্ধতার প্রতীক ছিল না সেখানে তবে অশুদ্ধ আচরণও রয়ে যায়নি। যে রংটা যার পছন্দ তার নির্লিপ্ত ছোঁয়া থেকে রং বদলে যায়। এ যেন নেশার মতো- দৃষ্টি প্রতিবন্ধী যেভাবে রঙের গন্ধ বোঝে সেভাবেই রং কথা বলে, মানুষ চেনে, প্রকৃতি নির্ভর সবুজ তাইতো পাতা বাহার হয়ে কখনো নিত্য ধারায়। হারানোর ভয় ছিল না সেখানে তবে সুরক্ষার দুর্গওতো ছিল না। যে পারে তার উদয়-অস্ত একাকার করে নিয়ে পথ খুঁজে নিত। আমার পথ তেমন ছিল না জানা। আমি অবশ্য জানতাম পথে নামলেই পথ বলে দেবে, কোন পথে এগোতে হবে। তাই সে পথের নাগাল খোঁজাই ছিল আমার সবিশেষ অভিপ্রায়।   সেখানে আমার অদেয় কিছু ছিল না না পাওয়াও কিছু ছিল না তারপর।   ১৭/০২/২০১৭        

বত্রিশ নম্বর থেকে বঙ্গোপসাগরে

কলের শ্রমিক, ক্ষেতের মজুর আর নিরন্ন মানুষের জীবন ছবিশব্দে ছন্দে রঙের তুলিতে আঁকিছ বারে বারে হে কবি,অরপিয়াসের সুরে বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষেরঘুম ভাঙ্গানিয়া পাখি।সকালের সুমিষ্ট আযানে আত্মনিবেদনেরপ্রত্যয়ে জেগে উঠা মুসলমান, শুনে তোমার জয় বাংলা ডাক-পদ্মা মেঘনা যমুনার কুলের সংগ্রামী জেলে, শুনে তোমার জয় বাংলা ডাক-রেলের শ্রমিক, রিকশাওয়ালা, ষোড়শি কুমারী, নববধূযুবক, কিশোর, ছাত্র-জনতা শুনে তোমার জয় বাংলা ডাক-যেন মৃত্যু আলিঙ্গনে জেগে উঠা বীর, খালি হাতে সম্মুখ সমরে।সেই পরন্ত বিকেলে,ডালিমের ডালে বসে দোয়েল গেয়েছিল গান,বাগানে ফোটে ছিল শত ফুল চৈত্রের খা খা দুপুর শেষে, সোনালি বিকেলে লক্ষ জনতারসমাবেশে তুমি দিলে ডাক, ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম,এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’অতঃপর ... ...সোনার তরী নয়, বলাকা নয়, নয় কোনো মহাশ্মশানজন্ম নিল এক মহাকাব্য স্বাধীনতা যার নাম।তারপর যা বলব ... ...নাই মোর ভাষা,পুত্রের লাশের পাশে নিহত পিতা।হে পিতা,তোমার ভাষা ছিল, গর্জে উঠা লোরকার শব্দের হাতিয়ারঅথচ জীবন দিতে হল তোমাকে শৃগালের হাতে।তোমার রক্তের ধারা গড়াতে গড়াতেবত্রিশ নম্বর থেকে গেল বঙ্গোপসাগরে।//এআর

অণুকাব্য

এক স্রোতস্বিনী বহেদিনক্ষণ কি বা রাত ভোর বাতাসেএকটা গান ভেসে ভেসে আসেঅদেখা ছবি, নীরবে সহেআর দণ্ডিত দ্বিধায়ফসলের বীজকোষ বেড়ে ওঠে একাযাচে সহজ সখ্যতা, অথবা মাগে আকাশএ তার কোন দায়? দুই আমি আছি আকাশেমেঘের মতো, কখনো সাদা কখনো কালোরং বদলায তবে আজন্ম ভাসমানআমি আছি সমুদ্রেবালুচর ছুঁয়ে যাই,তৃষ্ণার্ত চাতক আর মাটির তৃষ্ণা মিটাইস্থিরতা নেই, চিরকাল আবহমানতিন শ্রাবণের পূর্ণিমা রাতজোৎস্না আর বৃষ্টির প্রেম ডাকে বারবারচলো সবুজে রাখি একে অন্যের হাতডেকেছে রূপালী আলোর বাণনদী আর পাহাড়ে পাতালো মিতালীকী করে ফেরাবো এ আহ্বান? চার যাইযাচ্ছি কিন্তু..আর বলবো না, এবার কিন্তু যাবোইএভাবে বলতে বলতেই একদিন ঠিক চলে যাবোকখনো কাঁটাতার যদি প্রেমিকার সাদা ওড়না হয়অথবা জেলখানা হয় পদ্মফুলের আসনতবে ফিরবো একদিন অতিথি হয়েতোমাদের এ নগরীতে।এখনো সীমান্ত খোলা আছে আমারদু’চোখ সতেজ, সদ্য ঘাসে ঝরা শিশিরের মতোতাই যাচ্ছিযাই কিন্তুযেতে যেতে পিছু ফিরবো না আর। পাঁচচৈত্রের শেষ বিকেলআলো ছায়ার খেলার মাঝে বিন্দু বিন্দু অভিমান জমে অন্ধকারেই মৃত্যু হলো একটা গল্পেরপ্রতিদিন দ্বন্দ্ব কিংবা প্রেম আজ দ্রোহের রুপে মুরতি একতবু নি:শ্বাস যা বাকি আছে, নাম নিয়ে টানে এফোঁড় ওফোঁড়কি বেহায়া নি:শ্বাস!যে কেউ অনায়াসে গলা টিপে হত্যা করতে চাইবে সে বেহায়া নি:শ্বাস। ছয় তোমার আকাশ ঝুলছে হাওয়ায়শহরে অতিথি কাকডাকে ভোরে, সঙ্গীদেরআর ডালে ডালে ডানা ঝাপটায়.. সাত ঝড়ের সাথে বৃষ্টি নাকি বৃষ্টির সাথে ঝড়?বৈশাখী এলোকেশ, দ্বন্দ্ব;নাকি অসম অণুস্বর..? 

কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও

কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও।        তারি রথ নিত্যই উধাও    জাগাইছে অন্তরীক্ষে হৃদয়স্পন্দন, চক্রে-পিষ্ট আঁধারের বক্ষফাটা তারার ক্রন্দন।  ওগো বন্ধু,        সেই ধাবমান কাল জড়ায়ে ধরিল মোরে ফেলি তার জাল–         তুলে নিল দ্রুতরথে দুঃসাহসী ভ্রমণের পথে    তোমা হতে বহু দূরে।    মনে হয়, অজস্র মৃত্যুরে    পার হয়ে আসিলাম আজি নবপ্রভাতের শিখরচূড়ায়–    রথের চঞ্চল বেগ হাওয়ায় উড়ায়    আমার পুরানো নাম।     ফিরিবার পথ নাহি;    দূর হতে যদি দেখ চাহি     পারিবে না চিনিতে আমায়।        হে বন্ধু, বিদায়। কোনোদিন কর্মহীন পূর্ণ অবকাশে           বসন্তবাতাসে অতীতের তীর হতে যে রাত্রে বহিবে দীর্ঘশ্বাস,       ঝরা বকুলের কান্না ব্যথিবে আকাশ, সেই ক্ষণে খুঁজে দেখো– কিছু মোর পিছে রহিল সে       তোমার প্রাণের প্রান্তে; বিস্মৃতিপ্রদোষে            হয়তো দিবে সে জ্যোতি, হয়তো ধরিবে কভু নাম-হারা স্বপ্নের মুরতি।           তবু সে তো স্বপ্ন নয়,    সব-চেয়ে সত্য মোর, সেই মৃত্যুঞ্জয়,              সে আমার প্রেম।           তারে আমি রাখিয়া এলেম অপরিবর্তন অর্ঘ্য তোমার উদ্দেশে।    পরিবর্তনের স্রোতে আমি যাই ভেসে          কালের যাত্রায়।           হে বন্ধু, বিদায়।        তোমার হয় নি কোনো ক্ষতি। মর্তের মৃত্তিকা মোর, তাই দিয়ে অমৃতমুরতি         যদি সৃষ্টি করে থাক, তাহারি আরতি       হোক তব সন্ধ্যাবেলা,            পূজার সে খেলা ব্যাঘাত পাবে না মোর প্রত্যহের ম্লান স্পর্শ লেগে;          তৃষার্ত আবেগ-বেগে ভ্রষ্ট নাহি হবে তার কোনো ফুল নৈবেদ্যের থালে।          তোমার মানস-ভোজে সযত্নে সাজালে যে ভাবরসের পাত্র বাণীর তৃষায়,          তার সাথে দিব না মিশায়ে যা মোর ধূলির ধন, যা মোর চক্ষের জলে ভিজে।          আজো তুমি নিজে          হয়তো-বা করিবে রচন মোর স্মৃতিটুকু দিয়ে স্বপ্নাবিষ্ট তোমার বচন। ভার তার না রহিবে, না রহিবে দায়।          হে বন্ধু, বিদায়। ‍          মোর লাগি করিয়ো না শোক, আমার রয়েছে কর্ম, আমার রয়েছে বিশ্বলোক।          মোর পাত্র রিক্ত হয় নাই– শূন্যেরে করিব পূর্ণ, এই ব্রত বহিব সদাই। উৎকণ্ঠ আমার লাগি কেহ যদি প্রতীক্ষিয়া থাকে          সেই ধন্য করিবে আমাকে।          শুক্লপক্ষ হতে আনি          রজনীগন্ধার বৃন্তখানি              যে পারে সাজাতে          অর্ঘ্যথালা কৃষ্ণপক্ষ রাতে, যে আমারে দেখিবারে পায়              অসীম ক্ষমায়          ভালো মন্দ মিলায়ে সকলি, এবার পূজায় তারি আপনারে দিতে চাই বলি।          তোমারে যা দিয়েছিনু তার          পেয়েছ নিঃশেষ অধিকার।          হেথা মোর তিলে তিলে দান, করুণ মুহূর্তগুলি গণ্ডূষ ভরিয়া করে পান          হৃদয়-অঞ্জলি হতে মম।          ওগো তুমি নিরুপম,              হে ঐশ্বর্যবান, তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারি দান–          গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।             হে বন্ধু, বিদায়।

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি