ঢাকা, রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৬:০৯:৪০

ফিলিস্তিনের শীর্ষ ব্যবসায়ী আটক সৌদি আরবে

ফিলিস্তিনের শীর্ষ ব্যবসায়ী আটক সৌদি আরবে

ফিলিস্তিনের শীর্ষ ব্যবসায়ী সাবিহ-আল মাসরিকে সৌদি আরবে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে তাকে সৌদি-আরবের রাজধানী গত এক সপ্তাহ ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তার পরিবার। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান জারা ইনভেস্টমেন্ট হোল্ডিং এর মালিক এবং আরব ব্যাংকের চেয়ারম্যান সাবিহ-আল মাসরির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তার জর্ডান ও সৌদি আরবের নাগরিকত্ব রয়েছে। তবে আরব নিউজের ওয়েবসাইটে জানানো হয়, মাসরির বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আনা হয়নি। মাশরি ফিলিস্তিনের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি মুনিব আল মাসিরির চাচাত ভাই।  ফিলিস্তিন সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ এর প্রতিষ্ঠাতা মাসরি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন্ কোম্পানি ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক অঙ্কের বিনিয়োগ রয়েছে। এদিকে মাসরির আটকের খবর জর্ডানকে সতর্ক বার্তা দিয়েছে সৌদি-আরব, এমনটিই জানিয়েছে রয়টার্স। শুধু তাই নয়, তার আটকের খবরে দেশটিতে হাজার হাজার কর্মী শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এমজে/ এআর
জাকির নায়েককে গ্রেফতারে ভারতের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান ইন্টারপোলের

পিস টিভির পরিচালক ও ইসলামী ব্যক্তিত্ব জাকির নায়েককে গ্রেফতারে ইন্টারপোল অস্বীকৃতি জানিয়েছে। একইসঙ্গে ইন্টারপোলের সব শাখা থেকে জাকির নায়েকের সব তথ্য মুছে ফেলার আদেশ দিয়েছে সংস্থাটি। ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার বিষয়ে যথেষ্ট দলিলাদি দিতে না পারায় ইন্টারপোল এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। শুধু তাই নয়, তার বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিশ জারিতেও সংস্থাটি অস্বীকৃতি জানিয়েছে।  জাকির নায়েক পিস টিভির মাধ্যমে ভারতে ধর্মীয় উস্কানি সৃষ্টি করছেন এমন অভিযোগ আনে ভারত সরকার। পরে ২০১৬ সালের নভেম্বরে তাঁর সংস্থা ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগ এনে সংস্থাটিকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় সরকার। শুধু তাই নয়, ওই সময়ে  তাঁর  বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ইউএপিএ ১২০ বি, ১৫৩ এ, ২৯৫ এ, ২৯৮ এবং ৫০৫(২) ধারায় মামলা করা হয়। এর আগে ২০১৬ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি চেষ্টার অভিযোগ এনে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ তাঁর বিরুদ্ধে রেড এলার্ট জারি করে । এরপরই গ্রেপ্তার এড়াতে ভারত ছেড়ে মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নেন তিনি। তবে গত মাসে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জাকির নায়েককে ভারতে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে । তবে ইন্টারপোলের এই সিদ্ধান্ত জাকির নায়েককে ভারতে ফেরানোর ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করবে বলে জানা গেছে। এদিকে ইন্টারপোলের কাছে নতুন করে প্রমাণাদি হাজির করতে চায় এনআইএ। গত শনিবার ইন্টারপোলের সিদ্ধান্ত জানার পরই সংস্থাটি এ সিদ্ধান্ত নেয়। এনআইএ জানায় চার্জশীটের অভাবে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে রেড এলার্ট জারি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে এবার চার্জশীটসহ ইন্টারপোলকে আবেদন জানানো হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটির ঊর্ধতন এক কর্মকর্তা। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া এমজে/ এআর    

জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর ঠেকাতে প্রস্তাব দিবে মিসর

জেরুজালেমের সংকটের ব্যাপারে কোনো একটি দেশের একক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আইনগত বৈধতা পাবে না, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এমন একটি প্রস্তাব তুলতে যাচ্ছে মিসর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিবাদে জাতিসংঘে এই প্রস্তাব তোলা হচ্ছে। কূটনীতিকরা মনে করছেন, নিরাপত্তা পরিষদের অধিকাংশ সদস্য এর সমর্থন করলেও যুক্তরাষ্ট্র বিরোধিতা করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে এমন দেশগুলো যেন জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তর না করে, সে বিষয়টিও প্রস্তাবে থাকছে। চলতি মাসের শুরুতে তেল আভিভ থেকে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে নেওয়ার মার্কিন সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানায় আরব বিশ্বের নেতারা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে পথে নেমে আসেন ফিলিস্তিনের মানুষ। জেরুজালেম ইস্যুতে ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘাতে গত শুক্রবার মারা গেছেন চারজন ফিলিস্তিনি। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সূত্র: বিবিসি একে// এআর

চীনে অগ্নিকাণ্ড থেকে বাঁচতে ‘টম ক্রুজ’

চীনে অগ্নিকাণ্ড থেকে বাঁচতে ২৩ তলা ভবনের এক বাসিন্দা টম ক্রুজ হয়ে গেছিলেন সাময়িক সময়ের জন্য। এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। জানা যায়, গত ১৩ ডিসেম্বর একটি ২৩ তলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ওই ভবনের উপরের তলায় আগুন লেগে যায়। আগুন থেকে বাঁচতে ওই তরুণ ভবনের বেলকুনি বেয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। তবে এত উুঁচু ভবন থেকে কোন ভাবেই নিচে নামা সম্ভব নয় জেনে, ওই তরুণ ঝুলে পড়েন বেলকুনির রড ধরে। পরে ‘মিশন ইম্পসিবল’ মুভির নায়ক টম ক্রুজেরে মতো করে নিচের তলার কাচের জানালা ভাঙ্গার চেষ্টা করেন তিনি। ওই সময় উপর থেকে তাঁর গায়ের উপর আগুনের হলকা পড়তে দেখা গেছে। তবে ওই তরুণ দমে যাননি । চেষ্টা চালিয়ে যান। তবে শত চেষ্টা করেও কাঁচের জানালা ভাঙ্গতে পারছিলেন না। অবশেষে ঘটনাটি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের জানালে তারা এসে ওই তলার কাচ ভেঙ্গে তাকে উদ্ধার করে। তবে ওই তরুণের কোন ক্ষতি হয়নি বলে জানা গেছে। নিচেও ভিডিওর লিঙ্ক: https://www.facebook.com/shanghaiist/videos/10156449915166030/ সূত্র: এনডিটিভি এমজে

রাহুলের দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে কর্মীদের কাণ্ডে বিরক্ত সোনিয়া

দীর্ঘ ১৯ বছর কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সোনিয়া গান্ধী। আজ শনিবার সেই দায়িত্ব হস্তান্তের সমাপনি ভাষণের এসে আবেগপ্রবণ হলেন তিনি। ছেলের হাতে দলের নেতৃত্ব তুলে দিলেন তিনি। বক্তব্য রাখতে গিয়ে এবার সেখানে মেজাজ হারালেন সোনিয়া গান্ধী। কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে রাহুল গান্ধীর অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত কংগ্রেস কর্মীদের উন্মাদনায় বার বার নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাধাপ্রাপ্ত হন সোনিয়া। যদিও, পরে খোদ রাহুল এসে তাকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন। জি নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। আকবর রোডে আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন রাহুল। সেখানে নিজের বিদায়ী ভাষণ দিতে মঞ্চে ওঠেন সোনিয়া। আর ঠিক সেই সময়ই অনুষ্ঠানে উপস্থিত কংগ্রেস কর্মীরা বাজি পটকা ও আবির নিয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন। তীব্র শব্দে নিজের বক্তব্য রাখতে বার বার বাধাপ্রাপ্ত হন সোনিয়া। অবশেষে কিছুটা বিরক্তির স্বরেই বলে ওঠেন, ``এত শব্দে আমি নিজের বক্তব্য রাখতে পারছি না।`` প্রায় ৫ মিনিট তিনি পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে থাকেন কিছু না বলেই। এরপরই পরিস্থিতি সামল দিতে উঠে আসেন রাহুল। উল্লেখ্য, প্রায় এক বছর ধরে অসুস্থ সোনিয়া গান্ধী। বিদেশে গিয়েও চিকিত্সা করিয়ে এসেছেন তিনি। কার্যত নিজের স্বাস্থ্যের কারণেই দলের সভানেত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন সোনিয়া। এসএইচ/

৭১’র নায়ক বঙ্গবন্ধু, খলনায়ক ভুট্টো

আজ ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। বাঙ্গালি জাতির গৌরবের দিন। বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাসের দিন আজ । সবচেয়ে বড় অর্জনের দিন আজ। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণের দিন। পাকিস্তানি শাসকদের শোষণ, নিপীড়ন, বঞ্চনা আর নির্যাতনের শেষদিন আজ। সারাদেশে মানুষ বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করছেন। অন্যদিকে সেই পাকিস্তানিরা কী করছে? কী ভাবছে তারা দিনটি নিয়ে? পাকিস্তানের বহুল প্রচারিত দৈনিক দ্য ডনের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তার চিত্র। দ্য ডন অবলম্বনে রিপোর্টটি তৈরি করেছেন একুশে টেলিভিশনের প্রতিবেদক মোহাম্মদ জুয়েল- ১৯৭০-’৭১ সালে কেবল ইয়াহিয়া খান একা কোনো রাজনৈতিক খেলা খেলেননি বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সবচেয়ে শক্তিশালী পত্রিকা দ্য ডন। সেই খেলায় নায়ক-খলনায়কের ভূমিকা পালন করেছে যথাক্রমে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও পশ্চিম পাকিস্তানের নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো। আর সেই খেলায় মারাত্মক গুটি চেলেছেন জুলফিকার আলী ভুট্টো। দ্য ব্রেক-আপ অব পাকিস্তান শিরোনামে লেখা ওই প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইয়াহিয়া খান দুটি কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন। একটি ৭০’র নির্বাচন অন্যটি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে চালানো গণহত্যা। আর এ দুই ঘটনায় আজকের বাংলাদেশে নামক রাষ্ট্রটির জন্ম দিয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১৯৬০ সালের পর থেকে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে কেবল পূর্ব পাকিস্তানেই নয়, পশ্চিম পাকিস্তানের বিভিন্ন রাজ্যেও আওয়াজ উঠতে থাকে। তবে কি কারণে কিংবা কারা এর পেছনে ইন্ধন দিয়েছিল সেই প্রশ্ন আজও অজানা। একইসঙ্গে সামরিক শাসনের অধীন পুঁজিবাদী দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকে বলা হচ্ছে, সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অসন্তোষ তৈরি হয়। সাধারণ মানুষ গণতন্ত্রের জন্য তখন থেকে সোচ্চার হতে থাকে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। আর এই অভ্যুত্থানের মাধ্যমেই আইয়ুব খান ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন।   পশ্চিম পাকিস্তানের বেলুচ ও পাখতুনখাওয়া প্রদেশে সর্বপ্রথম বিচ্ছিন্নতার পক্ষে রব উঠে। এই সুযোগে জেনারেল ভুট্টো পাকিস্তানের ছাত্র সমাজ, শ্রমিক শ্রেণী ও নব্য মধ্যম আায়ের মানুষদের আইয়ুব খানের বিপক্ষে উসকে দেয়। ভুট্টোর এই চেষ্টাকে পাকিস্তানের বুদ্ধিজীবীরা সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব হিসেবে দেখেছেন। ১৯৬৬ সালের পর থেকে ভুট্টো পশ্চিম পাকিস্তানে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রধান শক্তি হয়ে ওঠেন। তবে তিনিই সেই সামরিক সরকারের অন্যতম সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে। পূর্ব পাকিস্তানে মাওলানা ভাসানী প্রাদেশিক স্বায়ত্ত্বশাসনের জন্য রব তোলেন। পরবর্তীতে ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বায়ত্ত্বশাসন ও গণতন্ত্রের দাবিতে ছয় দফা দাবি উত্তোলন করেন। পরে জান্তা সরকার তিনিসহ পূর্ব পাকিস্তানের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে ১৯৬৮ সালে আগঢ়তলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। কিন্তু পরবর্তীতে সে মামলা থেকে শেখ মুজিব মুক্তি পান। আর শেখ মুজিবের সেই ছয় দফার মধ্য দিয়েই পূর্ব পাকিস্তানে বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদের উত্থান হয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। আর সেই ছয় দফার মধ্য দিয়েই সামরিক শাসক আইয়ুব খানের যুগের ইতি ঘটে। বলা বাহুল্য পূর্ব পাকিস্তানে যখন ধীরে ধীরে স্বাধীনতার পক্ষে আওয়াজ উঠছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখনও পর্যন্ত গণতান্ত্রিক অখণ্ড পাকিস্তানের জন্য লড়াই করেছেন। তবে পূর্ব পাকিস্তানের  অনেক বুদ্ধিজীবীর এই ধারণা ছিল যে, পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তানের ‘কলোনি’ হতে যাচ্ছে। তাই তারা স্বাধীনতার জন্য সোচ্চার হতে থাকেন। এমতাস্থায় জুলফিকার আলী ভুট্টোসহ আইয়ুব খান সরকারের ক্ষমতাচ্যুতদের পরামর্শে ইয়াহিয়া খান ১৯৭০ সালের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে সমগ্র পাকিস্তানে ৩৬০ আসনের মধ্য জনসংখ্যার গরিষ্ঠতার ভিত্তিতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ১৬২টি আসনে ভাগ করেন। অন্যদিকে পশ্চিম পাকিস্তানে আসন সংখ্যা থাকে ১৩৮টি। আইয়ুব খান সরকারের পতনের পর ইয়াহিয়া খানও সামরিক শাসন জারি করেন। তাঁর নির্বাচন আয়োজনের কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়, সামরিক সরকারের গোয়েন্দারা ইয়াহিয়া খানকে এই মর্মে আশ্বস্ত করে যে, পাকিস্তানের কোন দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। তাই মূল ক্ষমতা কখনোই সামরিক শাসকদের হাতছাড়া হবে না। এমতাবস্থায় বিশৃঙ্খল পাকিস্তানে আবারও সামরিক শাসকগণ ক্ষমতায় আসবেন বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জানানো হয়। একইসঙ্গে নির্বাচনের মাধ্যমে ওই দলগুলোর জনপ্রিয়তা যাচাই করাও ছিল আমলা ও সামরিক কর্তাদের একটি বড় সুযোগ। কিন্তু নির্বাচনের আগে পূর্ব পাকিস্তানে  মৌসুমি বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এতে দুই মাসের জন্য নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হয়। ডিসেম্বরের ৭ তারিখ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তবে ১৯৭০ সালের নভেম্বরে পূর্ব পাকিস্তানে এক ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। এতে দুই লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হন। এতে আবারও নির্বাচনের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। তবে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ সংকটে পাঞ্জাবি ও মুজাহির সামরিক-আমলা প্রশাসনের ব্যবহারে পূর্ব পাকিস্তানের নেতৃবৃন্দকে হতাশ করেছে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে পশ্চিম পাকিস্তানিদের প্রতি ঘৃণা আর ক্ষোভের বীজ পাতা মেলে উঠে। পাকিস্তানের গবেষকরা বলেন, ১৯৪৭ সালে দেশটি স্বাধীনতার পর থেকে নির্বাচন না দেওয়ার একমাত্র কারণ পাঞ্জাবি-মুজাহিরদের ক্ষমতা হারানোর ভয়। তবে তাদের ভয়-ই সত্য হয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ জয় লাভ করলে তাদের ভয় আরও বেড়ে যায়। ১৬২ আসনের ১৬০টিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জয় লাভ করলে সমগ্র পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় শেখ মুজিবুর রহমানের আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে পশ্চিম পাকিস্তানে ১৩৮ আসনের মধ্যে ৮১ আসনে ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি জয়লাভ করে। তিনি মূলত সিন্ধু ও পাঞ্জাব রাজ্যে জয় লাভ করেন। তবে ১৯৭০ সালের সবচেয়ে বড় বিপর্যয় আসে তখন, যখন কোন দলই অন্য শাখায় একটি আসনেও জয়লাভ করতে ব্যর্থ হয়। এই ভোটের মাধ্যমেই পাকিস্তানের আক্ষরিক বিচ্ছেদ ঘটে বলে দাবি করা হয় প্রতিবেদনে। এদিকে পাকিস্তানের বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পাকিস্তানের সামরিক শাসক ও আমলাদের ‘ইগু’র কারণেই ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের ভয়াল কালরাত্রি নেমে এসেছিল। পশ্চিম পাকিস্তানিরা যখন অপারেশন সার্চ লাইটের নামে বর্বরতা চালিয়েছিল, তখনই বুঝা গিয়েছিল যে সামরিক নেতৃত্ব পূর্ব পাকিস্তানিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিপক্ষে কতোটা ভয়াবহ হতে পারে। পূর্ব পাকিস্তানিদের হাতে পুরো পাকিস্তানের ক্ষমতা দেওয়াকে নিজেদের জন্য অপমান বলে মনে করেছিলেন ওইসব নেতা। নির্বাচনের ফলাফলের পর জেনারেল ভুট্টো পাকিস্তানের জন্য দুই জন প্রধানমন্ত্রী রাখার পক্ষে জোরালো প্রচারণা শুরু করেন। তবে ইয়াহিয়া খান ওই সময় ঢাকায় এসে শেখ মুজিবকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীত্ব গ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়ে প্রস্তুত হতে বলেন। কিন্তু ইয়াহিয়া খান পাকিস্তানে ফেরত যাওয়ার পরই জেনারেল ভুট্টোর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য লার্কানাতে যান তিনি। সেখানে ভুট্টো পুরো পাকিস্তানের কর্তৃত্ব মুজিবের হাতে তুলে না দিতে পরামর্শ দেন। ওই বৈঠকের পরই শেখ মুজিবের সঙ্গে দেখা করতে জেনারেল ভুট্টো পূর্ব পাকিস্তানে উড়ে আসেন। তাঁদের মধ্যে আলোচনা হলেও তা ব্যর্থ হয়। তবে পাকিস্তানের গবেষকরা বলছেন, ওই সময় ভুট্টোকে পাকিস্তানে ফেরত যাওয়ার জন্য অনেক সামরিক কর্মকর্তাই তাকে ফোন করেন। ওই সময় ভুট্টো ঘোষণা করেন, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা কখনো গ্রহণযোগ্য হবে না। শুধু তাই নয়, পশ্চিম পাকিস্তানে নির্বাচিত কোনো এমপি যদি ঢাকার দিকে পা বাড়ান, তাঁর পা গুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি। ১৯৭১ সালের মার্চের ৩ ডিসেম্বর ইয়াহিয়া খান ঢাকায় অ্যাসেম্বলি ডাকেন। তবে ওই অ্যাসেম্বলিতে কোন পাকিস্তানি সাংসদ উপস্থিত না হতে ভুট্টো ওই হুমকি দিয়েছিলেন যাতে অ্যাসেম্বলি সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়। এক সাংবাদিক বলেন, ভুট্টো শেখ মুজিবুর রহমানকে বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, ইডহার হাম, উডহার তুম ( এপার আমার আর ওপার তোমার)। তবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তা মানেন নি। তিনি পুরোপুরি স্বায়ত্ত্বশাসনের পক্ষে আরও জোরালো হন। অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীত্ব গ্রহণ করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এরই মধ্য দিয়ে জেনারেল ইয়াহিয়া ও ভুট্টো ঢাকায় অবস্থানকালে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালোরাতে জেনারেল টিক্কা খান অপারেশন সার্চলাইট শুরু করেন। পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশের গবেষকরা ২৫ মার্চের রাতের পর থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনেক ইতিহাস লিখেছেন। তবে সবাই বাংলাদেশে গণহত্যা, ধর্ষণের বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন।  বিশেষ করে পাকিস্তানের লেখকরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে ব্যাপকহারে গণহত্যা ও ধর্ষণ হয়েছে। আর এ ঘটনা ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। পাকিস্তান মর্নিং নিউজের সংবাদ দাতা ও লন্ডনের সানডে টাইমসের স্বাধীনতাকালীন প্রতিবেদক অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের লেখায় বিশ্ববাসীর কাছে সর্বপ্রথম গণহত্যার বিষয়টি সামনে আসে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ হ্যারিসন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাডিসন স্কয়ারে এক কনসার্ট আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমেরিকাসহ বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দেয় পূর্ব পাকিস্তানে গণহত্যার কথা। শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব কেন পূর্ব পাকিস্তান বিষয়ে চুপ আছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তৎকালীন সময় আমেরিকানদের কাছে মাও সেতুং এর চীনা আদর্শ একটি বড় ফ্যাক্টর ছিল। তাই পাকিস্তান তাদের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল। তবে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের দ্বারা অনেক নিরীহ বিহারি মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে।  এছাড়া হাজার হাজার বিহারী স্বাধীনতার পরপরই মুক্তি বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে ভারতে আশ্রয় নেন। নিরাপত্তার জন্য লাখ লাখ মানুষ দেশ ছেড়েছে বলে অভিযোগ করা হয় ওই প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তান ভারতে হামলা চালালে ভারতীয় বিমান বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে হামলা শুরু করে। এমতাবস্থায় গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৪ ও ১৫ ডিসেম্বর পূ্র্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে খবর যাচ্ছিল যে, পশ্চিম পাকিস্তানিরা যুদ্ধে জয়লাভ করতে যাচ্ছে। তবে এ সংবাদের একদিনের মাথায় জেনারেল নিয়াজি ভারতীয় বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। ওই সময় ভারতীয় বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন জগজিৎ সিং অরোরা। এরপরই পূর্ব পাকিস্তান বাংলাদেশে রূপান্তর হয়। এর মধ্যদিয়ে জিন্নাহর দ্বি জাতি তত্বের অবসান ঘটে।  / এআর /                                  

কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব নিলেন রাহুল

ভারতীয় কংগ্রেসের ৪৯ তম সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন সোনিয়াপুত্র রাহুল গান্ধী। আজ শনিবার দিল্লীর আকবর রোডের নিজ কার্যালয়ে তাঁর হাতে দলের সভাপতির ভার তুলে দেন বিদায়ী সভাপতি সোনিয়া গান্ধী। এর মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের ৬ষ্ঠ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন গান্ধী পরিবারে এই সদস্য।   এর আগে ১৯ বছর ধরে দলটির প্রধানের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন সোনিয়া গান্ধী। এদিকে রাহুলের হাতে দলের ভার তুলে দেওয়াকে, কংগ্রেস নেতারা বলছেন দলের জন্য এটি নতুন যাত্রা। এদিকে রাহুলকে সভাপতি ঘোষণা উপলক্ষ্যে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সকাল থেকেই ভিড় করে উৎসুক জনতা। বিশেষ করে দলের সব স্তরের নেতা-কর্মীরা আকবর রোড এলাকায় ঝড়ো হয়। দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে কংগ্রেস নেতারা মহা ধুমধামের মধ্য দিয়ে দিনটিকে পালন করছে। দিল্লীর সব রাস্তা ছেঁয়ে গেছে বিলবোর্ড আর পোস্টারে।

পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কায় জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্বেগ

উত্তর কোরিয়া  ইস্যূতে পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্থনিও গুতেরেস উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, যেকোনো ধরণের সামরিক হামলা ধ্বংসাত্মক ও অভাবনীয় পরিণতি ডেকে নিয়ে আসবে। শুক্রবার নিরাপত্তা কাউন্সিলে দেওয়া ভাষণে জাতিসংঘ প্রধান এ কথা বলেন। এসময় নিরাপত্তা পরিষদের সব সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় জাতিসংঘে নিযুক্ত উত্তর কোরিয়ার এক কূটনীতিকও তার দেশের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।   জাতিসংঘ দেওয়া ভাষণে গুতেরেস বলেন, উত্তর কোরিয়ার বর্তমান অবস্থান বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। আমি এই ধরণের পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ জানাচ্ছি। আমরা কল্পনাও করতে পারবো না, সামরিক যুদ্ধ বাঁধলে কি পরিমাণ ক্ষতি হতে পারে। এদিকে নিরাপত্তা পরিষদের সবাই যুদ্ধ এড়িয়ে চলার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁদের ধারণা উত্তেজনা মূলক বক্তৃতা আর যোগাযোগ ‘গ্যাপের’ কারণে উভয় পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। এসময় তিনি বলেন,  উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের সব মাধ্যমগুলোকে কাজে লাগানোর এটাই শেষ সময়। বিশেষ করে কূটনীতিক শক্তির সঙ্গে কূটনীতিক শক্তির, সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সামরিক বাহিনীর যোগাযোগ বাড়ানোর উপর জোর দেন তিনি। তবে এই অঞ্চলে উদ্বেগ-উৎকণ্টা কমানো সহজ হবে না বলেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এসময় গুতেরেস বলেন, ওই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে কূটনৈতিক সংযোগ-ই একমাত্র পথ । মনে রাখতে হবে আমরা সবকিছুই করতে পারি, তবে এর পরিণতির কথা চিন্তা করে আমাদের এগোতে হবে। গুতেরেস বলেন, ২০০৭ সাল থেকে ডেমোক্র্যাটিক পিপলস রিপাবলিকান অব কোরিয়া (ডিপিআরকে) পরমাণু অস্ত্র সমৃদ্ধকরণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যা বিশ্বের জন্য মারাত্মক হুমকি। ২০০৭ সালে সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের রিসোলেশন ২৩৭৫ অনুসারে ডিপিআরকে’র উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এসময় তিনি বলেন, আমি ডিপিআরকের (উত্তর কোরিয়া) নেতৃবৃন্দকে বলছি, নিরাপত্তা কাউন্সিলের নেওয়া যুক্তিসংগত নীতির প্রতি সম্মান দেখান । একইসঙ্গে কোরিয়ায় স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনতে আলোচনা শুরুর পথ খুলে দিন।  তবে শুক্রবারের সভায় উত্তর কোরিয়ার একজন কূটনীতিক দাবি করেন, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র সমৃদ্ধকরণ কেবল নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্যই তাঁরা ব্যবহার করবে। নিজের নিরাপত্তার জন্য পরমাণু অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত উত্তর কোরিয়ার কূটনীতিক জে সং নাম বলেন, “আমাদের পরমাণু অস্ত্রের জন্য কেউ যদি আমাদের দোষারোপ করে, তাহলে সবার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে হবে। সূত্র: জিনহুয়া এমজে/ এআর    

ইসরায়েলের সেনার গুলিতে চার ফিলিস্তিনি নিহত

জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বীকৃতির প্রতিবাদে গাজা ও পশ্চিম তীরে নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার জুমার নামাজের পর গাজায় বিক্ষোভকালে গুলিতে দুই ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৫০ জন আহত হয়েছেন। অপরদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে সংঘর্ষে দুই ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। গাজায় ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলনের দল হামাস গত সপ্তাহে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ইন্তিফাদার ডাকে সাড়া দিয়েই রাস্তায় রাস্তায় চলছে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ। পশ্চিম তীরে শুক্রবার বিক্ষোভ করেছে প্রায় আড়াই মানুষ। এদিকে, রামাল্লাহ, কালকিলিয়া, হেবরন, বেথেলহেমসহ আরও কয়েকটি স্থানেও একই রকম সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। গত ৬ ডিসেম্বরে ট্রাম্পের জেরুজালেমকে রাজধানীর ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের মধ্যে উত্তেজনা দানা বাধে। সূত্র: এবিসি নিউজ একে//  

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৩ মাত্রার ভূমিকম্প

ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভায় ৭ দশমিক ৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। জাভার একটি অংশে সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও ঘণ্টা দুয়েক পরে তা তুলে নেওয়া হয়। ভূমিকম্পে কিয়ামিস এলাকায় ৬২ বছরের এক ব্যক্তিসহ দুজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু ঘরবাড়ি। ভূমিকম্পের এপিসেন্টার দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় তাসিকমালয়া শহরের ৪৩ কিলোমিটার দূরে ছিলো বলে জানিয়েছে ভূমিকম্প ইন্দোনেশিয়ান মেটিয়রলজি এজেন্সি । ভূমিকম্পের কারণে পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে হোটেল ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও রাস্তায় বেরিয়ে পরে। ভৌগোলিকভাবে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্প বা সুনামি প্রায় আঘাত হানে। ২০০৪ সালে ইন্দোনেশিয়ায় ৯ দশমিক ৩ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প ও সুনামির আঘাতে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হন। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতেও ৫ দশমিক ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিলো। সূত্র : সিএনএন। একে// এআর

দল ছেড়ে রাজনৈতিক ইতি টানছেন সোনিয়া গান্ধী

১৯ বছর পর ছেলের হাতে দলের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে সন্ন্যাসে যাচ্ছেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। আগামীকাল শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে দলের সব ধরনের পদ ছাড়ছেন গান্ধী পরিবারের বধূ সোনিয়া গান্ধী। আর এরই মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি ইতি টানতে যাচ্ছেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম জি নিউজের একটি প্রতিবেদনে এমনটি জানানো হয়েছে। সংসদের শীতকালীন অধিবেশন শুরুর আগে সোনিয়া বলেন, “এবার আমি অবসর নেব। কয়েকবছর ধরে দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে রাহুলই।” উল্লেখ্য, আগামীকাল ভারতের প্রাচীনতম এই রাজনৈতিক দলের প্রধানের দায়িত্ব নিচ্ছেন রাহুল গান্ধী। গত সোমবার দলটির সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। পদ ছাড়ার একদিন আগে আজ শুক্রবার রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা এ নেত্রী। সোনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বের প্রশংসা করে কংগ্রেস নেতা বীরাপ্পা মইলি বলেন, ২০০৪ সালে যেভাবে সোনিয়া গান্ধী জোট গঠনের প্রক্রিয়া সামলিয়েছিলেন এবং ২০০৯ সালে ইউপিএ (ইউনাইটেড পিপলস অ্যালায়েন্স) সরকার গঠনে যে ভূমিকা নিয়েছিলেন এর জন্য তিনি আজীবন প্রশংসিত হবেন। ১৯৯৮ সালে কংগ্রেসের খারাপ সময় দলের হাল ধরেন সোনিয়া গান্ধী। তারই নেতৃত্বে ২০০৪ সালে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়। তখনই ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ আসে সোনিয়া গান্ধীর । কিন্তু বিজেপিসহ একাধিক দল অভিযোগ করে, তিনি বিদেশি, তাই তার ভারতে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কোন অধিকার নেই। সোনিয়া গান্ধী নিজে প্রধানমন্ত্রী না হয়ে তখন মনমোহন সিংহকে প্রধানমন্ত্রী পদে বসান। সোনিয়া গান্ধী ভারতের ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম। ভারতীয় বংশোদ্ভূত না হয়েও ভারতের রাজনীতিতে তার সফল পদচারণা রেখে গেছেন। শুধু তাই নয় নারী শক্তির প্রতীক হিসেবেও তার খ্যাতি সমাদৃত। ১৯৪৬ সালের ৯ ডিসেম্বর সোনিয়া গান্ধী ইতালিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর স্ত্রী। ১৯৯১ সালে স্বামী হত্যার পর কংগ্রেসের নেতাদের বারণ সত্ত্বেও দীর্ঘদিনের জন্য রাজনীতি থেকে বিদায় নেন তুমুল জনপ্রিয় ওই নেত্রী। পরে ১৯৯৭ সালে আবারও রাজনীতিতে যোগদান করেন তিনি। বছর না ঘুরতেই কংগ্রেসের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হন তিনি। বনে যান কংগ্রেস সভাপতি। ২০১০ সালে নির্বাচনে বিজয় লাভের পর আবারও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ আসে সোনিয়ার। তবে সমালোচকেরা তাকে বিদেশি বলে বিতর্কের জন্ম দেন। পরে নিজে প্রধানমন্ত্রী না হয়ে আবারও মনমোহন সিংকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেন তিনি। তবে ক্ষমতার কেন্দ্রে কার্যত থাকেন নিজে। তিনি কেবল দেশেই ক্ষমতাধর হয়ে উঠেননি, পাশাপাশি হয়ে উঠেছিলেন একজন আন্তর্জাতিক নেত্রীও।  ২০১০ সালে বিখ্যাত ম্যাগাজিন ফোর্বস সোনিয়া গান্ধীকে বিশ্বের ৯তম শক্তিশালী ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করেন। ইতালির ভেনেসে থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে একটি ঐতিহাসিকভাবে সিমব্রিয়ানভাষী গ্রাম লুসেনিয়াতে জন্মগ্রহণ করেন এ নেত্রী। ১৯৬৪  সালে তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে অধ্যয়ন করতে গিয়েছিলাম। ১৯৬৫ সালে গ্রিক রেস্তোরাঁতে (কেমব্রিজের  রেস্টুরেন্ট) রাজিব গান্ধীর সঙ্গে দেখা হয় । দেখা থেকে প্রেম । এরপর গান্ধী পরিবারের নবাব রাজীব গান্ধীকে বিয়ে করেন তিনি। ওই দম্পত্তির দুই সন্তানের একজন রাহুল গান্ধী (জন্মসাল ১৯৭০) এবং অপরজন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী (জন্মসাল ১৯৭২)। প্রভাবশালী নেহেরু পরিবারে থাকা সত্ত্বেও সোনিয়া ও রাজিব রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন না। সোনিয়া গান্ধী নিজে যেমন রাজনীতি পছন্দ করতেন না, তেমনি তার স্বামীকেও রাজনীতিতে জড়াতে দিতে চাইছিলেন না। তবে  ১৯৮০ সালের ২৩ জুন ছোট ভাই সঞ্জয় গান্ধী এক বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করলে ১৯৮২ সালে রাজনীতিতে আসেন রাজীব গান্ধী। স্বামী-স্ত্রীর সুখী দাম্পত্য জীবনের পাশাপাশি শাশুড়ির মৃত্যু দিয়ে রাজনীতিতে আসেন সোনিয়া গান্ধী । এছাড়া স্বামী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই রাজনীতি তাকে টানতে থাকে। তবে স্বামী আর শাশুড়ির হত্যাকাণ্ড মানতে পারেননি এ নেত্রী। একপ্রকার রাগ করেই রাজনীতি থেকে দূরে সরে যান তিনি। ১৯৯১ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর কংগ্রেস নেতারা তাকে প্রধানমন্ত্রী পদ গ্রহণ করার আমন্ত্রণ জানালেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। পরে পিও ভি নরসিংহ রাও নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে গান্ধী পরিবার ছাড়া কংগ্রেস যে অসহায় সে চিত্র উঠে আসে পরবর্তী বছরগুলোতে। এতে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস সুচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। একইসঙ্গে কংগ্রেসে বেজে উঠে ভাঙ্গনের সুর। দলের অন্যতম কান্ডারী রাজেশ পাইলট, নারায়ণ দত্ত তিওয়ারী, অর্জুন সিং, মমতা ব্যানার্জী, জি কে মোওরার, পি চিদম্বরম এবং জয়ন্তী নটরাজনের মতো অনেক ঊর্ধ্বতন নেতা পিও ভি নরসিংহ রাও এর বিরোধীতায় মাঠে নামে। এমন সময়ে কংগ্রেস যখন মৃতপ্রায় তখনই ১৯৯৭ সালে কলকাতায় পূর্ণাঙ্গ সেসনে কংগ্রেসের সদস্যপদ নেন সোনিয়া গান্ধী। পরে ১৯৯৮ সালে দলের কাণ্ডারি হয়ে উঠেন সোনিয়া গান্ধী। সোনিয়া গান্ধী তার নিজ দল এবং বিরোধীদল উভয়ের কাছেই একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছিলেন। শুধু তাই নয়, সব বাধাকে তুচ্ছ করে এগিয়ে যাবার যে উদ্যম তিনি দেখিয়েছেন কংগ্রেস সেই পথে আরও বহুদূর এগিয়ে যাবে বলে বিশ্বাস করে ভারতীয়রা। তবে কংগ্রেসের অনেক নেতাই বলছে, সোনিয়া গান্ধী দল থেকে অবসর গ্রহণ করলেও দলের দুর্দিনে তিনি পরামর্শ দিয়ে যাবেন।   এমজে/এসএইচ  

পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী ঘোষণা ওআইসির

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি প্রত্যাখ্যান করে এবার পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী ঘোষণা করেছে ওআইসি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের এক সপ্তাহের মাথায় ওআইসি নেতারা এ সিদ্ধান্ত নিলেন। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও এই পদক্ষেপে সমর্থন জানানোর জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের মর্যাদা দিয়ে পূর্বজেরুজালেমকে দেশটির রাজধানী স্বীকৃতির পক্ষেও মত দেন তারা। গতকাল তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ওআইসি সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ ওই ঘোষণা দেন। এক বিবৃতিতে ওআইসি নেতারা জানান, ৫৭ সদস্যের সংগঠনটি দুই রাষ্ট্রের সমঝোতার ভিত্তিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। একইসঙ্গে তারা জাতিসংঘকে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।ওই এলাকায় শান্তি ব্যঘাত ঘটলে কিংবা রক্তপাত হলে এরজন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে দায়ী করেন তারা। তাঁরা আরও জানান, আমরা বিশ্বাস করি যে, ট্রাম্পের অবৈধ সিদ্ধান্ত পবিত্র ভূমির মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে। তাঁর সিদ্ধান্ত অবৈধ এবং তা ব্যর্থ হবে। এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে মুসলিমদের মধ্যে ঐক্য আরও দৃঢ় হয়েছে। শুধু তাই নয়, ট্রাম্পের পথে যারা হাঁটবেন তাদের সঙ্গে সব ধরণের সম্পর্ক ছিন্ন করতেও প্রস্তুত দেশগুলো, এমনটাই জানিয়েছেন আল-জাজিরার প্রতিবেদক মারওয়ান বিশরা। সূত্র: আল-জাজিরা এমজে/ এআর      

ট্রাম্পের স্বীকৃতি প্রত্যাখান ওআইসিতে

জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বীকৃতি প্রত্যাখ্যান করেছেন ওআইসি নেতারা। আজ বুধবার ওআইসির বিশেষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংস্থাটির মহাসচিব ইউসুফ আল ওথাইমিন এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।  এসময় তিনি আরও বলেন, ওআইসি যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করছে। একইসঙ্গে এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি আমরা। যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক আইনের লংঘন। তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত সারা বিশ্বের মুসলিমদের অনুভূতির উপর আঘাত হেনেছে। এটা মুসলিমদের উস্কানির শামিল। এছাড়া ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা বাড়িয়ে তুলবে বলেও মন্তব্য করেন ওআইসির ওই নেতা।  ১৯৬৯ সালে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৫৭টি দেশ এ সংস্থার সদস্যপদ লাভ করেছে। ১৬০ কোটি মানুষ ওই দেশগুলোতে বসবাস করে বলে জানান ওই নেতা। সংগঠনটি নিজেদের মুসলিম বিশ্বের প্রতিনিধি মনে করে। এছাড়া আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার চেতনায় মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে সংগঠনটি। এদিকে সম্মেলনে যোগ দিয়ে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেন, ইসরায়েলের পক্ষাবলম্বনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে ফিলিস্তিন-ইসরায়েলের শান্তি আলোচনায় অযোগ্য করে তুলেছে। তার এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। এসময় তিনি বলেন, ‘আমরা আর কখনো শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় মানবো না। জেরুজালেম হবে ফিলিস্তিনের সবসময়ের রাজধানী।’ এদিকে আব্বাসের বক্তব্যকে মুসলিম বিশ্বের তরফ থেকে শক্ত বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র: আল-জাজিরা এমজে/ এআর

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি