ঢাকা, শুক্রবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৮ ১৬:৩৪:২৫

প্রিন্স চার্লসকে কমনওয়েলথের নেতা নির্বাচিত করার আহ্বান

প্রিন্স চার্লসকে কমনওয়েলথের নেতা নির্বাচিত করার আহ্বান

  ব্রিটেনের রানী এলিজাবেথ লন্ডনে কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের শীর্ষ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। ৫৩টি দেশের এই জোটের সম্মেলনে তিনি এই শেষবারের মত যোগ দিচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে। রানী এলিজাবেথ তার ভাষণে বলেন, কমনওয়েলথ যেভাবে বিকশিত হয়েছে তাতে তিনি সন্তুষ্ট এবং গর্ব অনুভব করেন। আগামীকাল শনিবার রানী তার ৯২তম জন্মদিন পালন করবেন এবং ইতোমধ্যেই কিছু কিছু দায়িত্ব তিনি রাজপরিবারের কনিষ্ঠ সদস্যদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। রানী এলিজাবেথ আশা করেন, তার বড় ছেলে প্রিন্স চার্লস তার পর এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, যার মধ্য দিয়ে কমনওয়েলথের স্থিতিশীলতা এবং ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। প্রিন্স চার্লসকে এই জোটের নেতা নির্বাচিত করার জন্য তিনি কমনওয়েলথ নেতাদের প্রতিও আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আন্তরিকভাবেই তিনি চান যে তার ছেলে একদিন এই দায়িত্ব পালন করবেন। কমনওয়েলথ প্রধানের নেতৃত্বের পদটি বংশানুক্রমিক নয় এবং তার মৃত্যুর পর প্রিন্স অফ ওয়েলস আপনা আপনি এই পদে আসীন হবেন না। আজ শুক্রবার এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। সম্মেলনে ৫৩টি সদস্য দেশের মধ্যে ৪৬টি দেশের সরকার প্রধান উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এই সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন। ব্রিটেনের রানী বলেন, আপনাদের জন্যে দায়িত্ব পালন করা আনন্দের ও সম্মানের বিষয়। অত্যন্ত গর্ব ও সন্তুষ্টির সঙ্গে আমি এই জোটের দায়িত্ব পালন করেছি। দু`দিনের এই সম্মেলনে যেসব বিষয়ে আলোচনা হবে তার মধ্যে রয়েছে দূষণের হাত থেকে সমুদ্রকে রক্ষা করা, সাইবার নিরাপত্তা এবং জোটের বিভিন্ন দেশের মধ্যে বাণিজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে বলেছেন, এই সম্মেলনে একবিংশ শতাব্দীর গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা হবে। তিনি বলেন, অনেক অসুবিধা আছে, সাফল্য আছে, বিতর্ক আছে, কিন্তু আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি যে এই কমনওয়েলথ অনেক ভালো কিছু করতে পারবে। এর আগে প্রিন্স চার্লস বলেন, আধুনিক কমনওয়েলথের বড় রকমের ভূমিকা পালনের অবকাশ রয়েছে। তিনি বলেন, আমি আশা করছি এই সম্মেলন আমাদের মধ্যে সম্পর্ককেই শুধু জোরালো করবে না বরং এর ফলে এর প্রত্যেকটি দেশের সব নাগরিকের কাছে এর প্রাসঙ্গিকতা তৈরি হবে। কিছু তথ্য * কমনওয়েলথ প্রায় ২৪০ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে। * প্রতি দু`বছর পর পর এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। * এবছর এটি লন্ডনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে কিন্তু এর আগের বৈঠকটি হয়েছিল মাল্টায়, ২০১৫ সালে। * সবশেষ এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ২০১৭ সালে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ ভানুয়াতুতে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড়ের কারণে দেশটি বিধ্বস্ত হওয়ার কারণে সেটি বাতিল করা হয়েছিল। * দু`দিনের বৈঠক শেষে এক ঘোষণায় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নেতারা তাদের সম্মতি প্রকাশ করেন। তথ্যসূত্র: বিবিসি। একে//এসএইচ/
সিরিয়া ইস্যুতে অস্ট্রেলিয়ার চ্যাঞ্চেলরের সঙ্গে পুতিনের ফোনালাপ

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং অস্ট্রেলিয়ার চ্যাঞ্চেলর সেবাস্তিন কার্জের মধ্যে সিরিয়া ইস্যু নিয়ে আলোচনায় একমত হয়েছে দুই পক্ষ। ক্রেমলিনের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এক বিবৃতিতে ক্রেমলিন জানিয়েছে, রাশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া দুই দেশই দেশটিতে মানবিক সহায়তা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছে। জাতিসংঘের উদ্যোগে পরিচালিত আলোচনায় দেশ দুটো একই সুরে কথা বলবে বলেও পরস্পরকে আশ্বস্ত করেছে সেবাস্তিন ও পুতিন। দুই নেতাই সিরিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিমান হামলার সমালোচনা করেছেন জানিয়ে ক্রেমলিন জানিয়েছে, ত্রিদেশীয় হামলায় সিরিয়ার পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। এদিকে রাশিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়ায় তেল-গ্যাস রপ্তানির ৫০ বছর পূর্তিতে ফের নতুন চুক্তির কথা জানিয়েছে ক্রেমলিন। উল্লেখ্য, গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্স সিরিয়ায় বিমান হামলা শুরু করে। দেশটি রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে, এমন অভিযোগ এনে হামলা চালায় এই ত্রয় শক্তি। আসাদ সরকারের রাসায়নিক অস্ত্র হামলায় দেশটির দোমায় অন্তত ৭৮ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। এরপরই দেশটিতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ত্রয়ী শক্তি। সূত্র: আনাদুলো নিউ এজেন্সি এমজে/  

একজনের মুখ বসানো হলো অন্যের মুখে

পৃথিবীতে প্রথমবারের মতো এক ব্যক্তির দু`বার মুখমন্ডল প্রতিস্থাপনের অপারেশন করা হয়েছে। অপারেশনের তিন মাসের মাথায় জেরোম হ্যামন নামের ওই ব্যক্তি বলছেন, তিনি এখন ভালো অনুভব করছেন। তেতাল্লিশ বছর বয়স্ক হ্যামনের মুখমন্ডল প্রথমবার প্রতিস্থাপন করা হয় ২০১০ সালে। দ্বিতীয়টি করা হয় গত বছর। প্রথম অপারেশন সফল হয়েছিল। কিন্তু ২০১৫ সালে ঠান্ডা লেগে তার সংক্রমণ হবার পর তাকে এন্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। তার প্রতিস্থাপিত মুখমন্ডল সেই এন্টিবায়োটিককে গ্রহণ করছিল না, এর ফলে দেখা দেয় জটিলতা। প্রথম লক্ষণ দেখা দেয় ২০১৬ সালে, আর গত বছর নভেম্বরে তার প্রতিস্থাপিত মুখে নেক্রোসিস দেখা দেয়। অর্থাৎ সেই মুখের টিস্যুগুলো মরে যেতে থাকে। ফলে তার সেই বসিয়ে দেওয়া মুখটিকে কেটে বাদ দিতে হয়। এর পর শুরু হয় তার মুখে নতুন করে বসানোর জন্য নতুন আরেকটি মুখের সন্ধান। কিন্তু এমন দাতা পাওয়া যাচ্ছিল না যার মুখমন্ডলকে জেরোমের শরীর `মেনে নেবে`। এই দু`মাস সময় জেরোমকে `মুখমন্ডল-বিহীন অবস্থায়` জর্জ পম্পিডু হাসপাতালে একটি কক্ষে থাকতে হয়। এ সময়টা তার কোন মুখ ছিল না। তিনি কিছু দেখতে পেতেন না, শুনতে পেতেন না বা কোন কথাও বলতে পারতেন না। এ অবস্থা চলেছে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত। সেই মাসেই একজন দাতা পাওয়া যায়, এবং দ্বিতীয় বারের মতো তার মুখমন্ডল প্রতিস্থাপন করা হয়। পর পর দু`বার মুখমন্ডল প্রতিস্থাপনের অপারেশন হয়েছে। পৃথিবীতে এমন একমাত্র ব্যক্তি হচ্ছেন এই জেরোম হ্যামন। এ অপারেশনের আগে বিশেষ চিকিৎসার মাধ্যমে তার রক্ত শোধন করা হয়। ফরাসী সংবাদ মাধ্যম তার নাম দিয়েছে `তিন মুখ বিশিষ্ট ব্যক্তি। এখন জেরোম হ্যামনের নতুন মুখটি মসৃণ কিন্তু নড়াচড়া করে না। তার মাথার খুলি, চামড়া, এবং চোখমুখ এখনো পুরোপুরি যথাযথ অবস্থানে আসে নি। তিনি এখনো হাসপাতালে। সেখান থেকেই এক সাক্ষাতকারে তিনি ফরাসী টিভিকে বলেন, তিনি আশাবাদী যে তিনি ভালোভাবেই সেরে উঠবেন। আমি আমার নতুন মুখকে মেনে না নিলে তা একটা ভয়াবহ ব্যাপার হতো। এটা আমার পরিচয়ের প্রশ্ন ।তবে যাই বলুন, আমার ভালো লাগছে, এটাই আমি। আমার বয়েস ৪৩। আমার মুখ দাতার বয়েস ছিলো ২২, তাই আমার বয়েসও এখন ২২। অপারেশনটি করেছেন যে ডাক্তার সেই অধ্যাপক লরাঁ লাঁতিয়েরি বলেন, এখন আমরা জানি যে দু দুবার মুখ প্রতিস্থাপন সম্ভব। এটা এখন আর কোন গবেষণার ব্যাপার নয়। তবে যার মুখে এই অপারেশন হয়েছে তার এই পুরো ব্যাপারটা সহ্য করার যে সাহস, তা সত্যি অসাধারণ, বলেন তিনি। উত্তর ফ্রান্সেই প্রথম মুখমন্ডল প্রতিস্থাপন অপারেশন হয়েছিল ২০০৫ সালে। এর পর বিশ্বের নানা দেশে প্রায় ৪০টি এমন অপারেশন হয়েছে। সূত্র: বিবিসি আর/টিকে

আর্মেনিয়ায় গণবিক্ষোভের মধ্যেই দায়িত্ব নিচ্ছেন সারগসিয়ান

হাজার হাজার জনতার বিক্ষোভের মধ্যেই আর্মেনীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিচ্ছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট সেরজে সারগসিয়ান। বিরোধীদলের নেতাকর্মীসহ হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর গণসমাবেশের মধ্যেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিচ্ছেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রী পদ গ্রহণের পর দেশটির বিভিন্ন শহরে আরও ব্যাপকহারে বিক্ষোভ করেন হাজার হাজার আর্মেনীয়। বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নিকোল পাশিয়ান বলেন, শান্তিপূর্ণ এ কর্মসূচি চলতে থাকবে। এদিকে গণবিক্ষোভের ঘটনাকে ভেলভেট বিপ্লব বলে আখ্যা দিয়ে ওই সাংসদ বলেন, সারগসিয়ান পদত্যাগ করার আগ পর্যন্ত বিক্ষোভ চলবে। এদিকে আর্মেনিয়ার রাজধানীতে গণজমায়েত করেছে বিক্ষুব্ধরা। তাদের দাবি, সারগসিয়ান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত দেশটির জন-জীবন বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে। তারা আরও বলেন, সারগসিয়ানের কোনো সমর্থন নেই, যাদেরকে তিনি শাসন করবেন। এদিকে বিরোধী দল থেকে দেশটিকে অচল করে দেওয়ার ডাক দেওয়া হয়েছে। পাশিয়ান নামের বিরোধী দলীয় এক সাংসদ বলেন, এরভানসহ দেশটির সব শহরকে অবরুদ্ধ করার ডাক দিচ্ছি। যতক্ষণ না পর্যন্ত সারগসিয়ান পদত্যাগ না করছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত সব শহর অচল থাকবে। এদিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভকারীরা অন্তঃবর্তীকালীন সরকারকে ঘেরাও করতে মন্ত্রণালয়ের দিকে এগুচ্ছেন। তবে বিক্ষোভকারীদের আটকতে সেখানে ব্যাপক সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জানা গেছে, ২০০৮ ও ২০১৩ সালে দেশটির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেনস সারগসিয়ান। তবে ২০১৫ সালে দেশটি সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শাসিত সরকার ব্যবস্থার দিকে যায়। তবে সারগসিয়ান প্রথমে প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব নিবেন না বলেও, হঠাৎ করে গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানান। সূত্র: বিবিসি এমজে/

গণতন্ত্র ইস্যুতে গৃযুদ্ধের দিকে ইউরোপ: ম্যাঁক্রো

গণতন্ত্র ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন গৃহযুদ্ধের দিকে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নভূক্ত দেশগুলোতে একদিকে গণতন্ত্র শক্তিশালী হচ্ছে, অন্যদিকে কর্তৃত্বপরায়ণ সরকার শক্তিশালী হচ্ছে। সরকারগুলোর বিপরীতমুখী অবস্থান ইউরোপকে অদূর ভবিষ্যতে গৃহযুদ্ধের দিকে নিয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। স্ট্রেসবার্গের ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য সব রাষ্ট্রকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপ কিভাবে জেগে উঠেছে তার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা কোনো ঘুমন্ত সমাজের অংশ হতে চাই না। ভোটারদের সংযুক্ত করে তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে তাদেরকে সম্পৃক্ত করতে হবে। উল্লেখ্য, গত বছর ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো ও তার দল লিবারেল পার্টি ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্লাটফরম ব্যবহার করে নিরঙ্কুশ জয় লাভ করেন। নির্বাচনে কট্টোর জাতীয়তাবাদী দল ন্যাশনাল ফ্রন্টের প্রার্থী ম্যারিন লি পেনকে পরাজিত করে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ম্যাক্রো আরও বলেন, ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে সরে দাঁড়ানোয় সংস্থাটির বাজেটে বড় ধরণের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। সে ঘাটতি মোকাবেলায় সব দেশগুলোকে এক থাকতে হবে। ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজেটে ফ্রান্স তাদের অবদান বাড়াবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি। সূত্র: বিবিসি এমজে/

‘রাশিয়া-পশ্চিমের সম্পর্ক স্নায়ুযুদ্ধের সময়ের চেয়েও খারাপ’

সিরিয়া ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মহলে আতঙ্ক ছড়িয়ে মুখোমুখি অবস্থানে দাড়িয়ে আছে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলো। আর তারই জের ধরে রাশিয়া এবং পশ্চিমা দেশগুলো এখন স্নায়ুযুদ্ধের সময়ের চেয়েও খারাপ পরিস্থিতিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। সোমবার বিবিসির বরাত দিয়ে রুশ সংবাদ মাধ্যম টাস এ সংবাদ প্রকাশ প্রকাশ করেছে। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লাভরভ বলেন, পরিস্থিতি এখন খুবই বিপদজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের চালানো হামলাকে আগ্রাসন বলে বর্ণনা করেন তিনি। সিরিয়ার দুমায় কথিত যে রাসায়নিক হামলার জবাবে পশ্চিমা দেশগুলোর ওই হামলা চালিয়েছে, তার পেছনে বাশার আসাদ সরকারের কোনও হাত থাকার কথা অস্বীকার করেন সের্গেই লাভরভ। রুশ পররাষ্ট্র বলেন, রাশিয়া এখন পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর যেটুকু আস্থা বা বিশ্বাস অবশিষ্ট ছিল, সেটাও হারিয়ে ফেলছে। তিনি বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো খুবই অদ্ভুত কিছু যুক্তির ভিত্তিতে চলছে, তারা আগে শাস্তি দেয়, তারপর প্রমাণ খোঁজার জন্য তদন্ত করে। তিনি বলেন, রুশ অর্থনীতি হয়তো নাজুক অবস্থার মধ্যে আছে। কিন্তু নতুন কোনও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও তা মোকাবেলা করার সক্ষমতা রাশিয়ার আছে। সূত্র: টাস একে// এআর

ম্যাক্রোঁর কারণেই সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার করেননি ট্রাম্প

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, সিরিয়া থেকে সেনা সরিয়ে না নেওয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বুঝিয়েছেন তিনি। সেখানে দীর্ঘ মেয়াদে সেনাবাহিনীর কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন। এর আগে, সিরিয়া থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প সেনা সরিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ঘোষণার মধ্যেই শনিবার যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্স যৌথভাবে সিরিয়ার সরকারি ভবনে হামলা চালায়। সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়ায় আসাদ বাহিনী রাসায়নিক হামলা চালিয়েছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই দেশটিতে একজোট হয়ে হামলা চালিয়েছে এসব দেশ। ম্যাক্রাঁ বলেন, সিরিয়ায় বিমান হামলা সীমিত রাখার বিষয়েও তিনি ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছেন। ম্যাক্রোঁ এবং ট্রাম্পের মধ্যে বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে বলে জানা গেছে। তারা সিরিয়ায় সামরিক অভিযান চালানোর আগে বেশ কয়েকবার নিজেদের মধ্যে আলোচনাও করেছেন এমনটা মিডিয়ায় বেশ কয়েকবার এসেছে। তবে ম্যাঁক্রোর দেওয়া বক্তব্যের পরেই হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারা স্যান্ডার্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার পরিকল্পনা পরিবর্তন করেনি। প্রেসিডেন্ট পরিস্কারভাবেই জানিয়েছেন, তিনি চান সিরিয়া থেকে যত দ্রুত সম্ভব মার্কিন সেনারা দেশে ফিরে আসুক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় সময় শুক্রবার হোয়াইট হাউস থেকে সিরিয়ায় সামরিক হামলার ঘোষণা দেন। ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, চারটি টর্নেডো বিমান হোমস থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত একটি সামরিক স্থাপনায় স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এটি একটি সাবেক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি। সিরিয়া সরকার একে রাসায়নিক অস্ত্র মজুদের গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে হামলাটি সফল হয়েছে। টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, ১০ দিন আগে ট্রাম্প এক ঘোষণায় বলেছিলেন যে, তিনি সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেবেন। কিন্তু আমরা তাকে বুঝিয়েছি যে, সেখানে দীর্ঘ মেয়াদে সেনা রাখা জরুরি। ওই হামলা সম্পর্কে রাশিয়ার এক ঊর্ধ্বতন সংসদ সদস্য বলেন, তিনদেশ একজোট হয়ে সিরিয়ায় হামলা চালানোর কারণে বৈশ্বিক রাসায়নিক অস্ত্র নিয়ে তদন্তকারীদের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে এবং এর ফলে ভালো কোনো ফলাফলও আসবে না বলে শনিবার মন্তব্য করেন তিনি। রুশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের ইন্টারন্যাশনাল কমিটির চেয়ারম্যান কোনসটানটিন কোসাচেভ ইন্টারফেক্সকে বলেন, সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের বিমান হামলা সার্বভৌমিক একটি দেশে ভিত্তিহীন হামলা। সিরিয়ার দৌমায় রাসায়নিক হামলার ঘটনা তদন্তে অর্গ্যানাইজেশন অব কেমিক্যাল ওয়েপুনস মিশন সম্প্রতি কাজ শুরু করেছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং ফ্রান্স সেখানে হামলা চালানোর কারণে তদন্ত কাজে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা শুরু হবে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে। তদন্ত কাজকে অন্যদিকে প্রভাবিত করার জন্যই তারা জোট হয়ে হামলা চালিয়েছে। সিরিয়ার টারটুসে রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি ঘাঁটিতেও বিমান হামলা চালানো হয়েছে। সিরীয় সরকারের বিরুদ্ধে রাসায়নিক হামলা চালানোর অভিযোগ এনে পাল্টা হামলা চালানো হয়। কিন্তু এ বিষয়টি এখনও পরিস্কার নয় যে দৌমায় রাসায়নিক হামলার জন্য কারা দায়ী। এই হামলার ঘটনা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে আসাদ বাহিনী।  তথ্যসূত্র: বিবিসি।  এসএইচ/

সিরিয়ায় হামলা : পার্লামেন্টে তোপের মুখে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

পার্লামেন্টের অনুমতি ছাড়াই সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সামরিক হামলায় অংশ নেওয়ায় তোপের মুখে পড়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্সের সঙ্গে সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্রাগার লক্ষ্য করে একযোগে চালানো হামলায় অংশ নেয় ব্রিটেন। দেশটির সেনাবাহিনীকে এ হামলায় অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ায় পার্লামেন্টের বিরোধী সদস্যদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েন তেরেসা।সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের হোমস থেকে ১৫ মাইল দূরে একটি সেনাঘাঁটিতে আরএএফ টর্নেডো জিআর৪ যুদ্ধবিমান মোতায়েনের কয়েক ঘণ্টা পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে একটি বিবৃতি দেন। হোমসের ওই অঞ্চলে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকারের রাসায়নিক অস্ত্রাগার রয়েছে বলে দাবি করেছে ব্রিটেন।বিবৃতিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিক কারণে সিরিয়া হামলায় অংশ নিয়েছে তার দেশ। ডাউনিং স্ট্রিটে রাত ২টার দিকে সামরিক উপদেষ্টা তেরেসা মে`কে হামলার ব্যাপারে হালনাগাদ তথ্য অবগত করেন। এসময় তেরেসা মে বলেন, তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে, তারা এই অভিযানে সফল হবেন।ডাউনিং স্ট্রিটের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তেরেসা মে ফরাসী প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। এসময় তারা সিরিয়া হামলায় সফল হয়েছেন বলে ঐক্যমতে পৌঁছেছেন।সিরিয়া হামলায় সফলতা দাবি করলেও দেশের ভেতরে বিরোধী দলীয় ব্যাপক সমালোচনার মুখে রয়েছেন তেরেসা। লেবার দলীয় নেতা জেরেমি করবিন অভিযোগ করে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে পার্লামেন্টের অনুমোদন নেওয়ার পরিবর্তে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুসরণ করেছেন।তিনি বলেন, ‘বোমা কখনো জীবন বাঁচাতে অথবা শান্তি বয়ে আনতে পারে না। পরবর্তীতে আরো উত্তেজনা ছড়িয়ে দিতে পারে এ ধরনের প্রশ্নবিদ্ধ পদক্ষেপ। তবে লেবার দলীয় অনেক সংসদ সদস্য মনে করেন এই হামলায় অংশ নেওয়াটা ছিল যৌক্তিক। কিন্তু তারা প্রশ্ন তুলে বলেছেন, কেন তেরেসা মে সোমবার পার্লামেন্টের অধিবেশন না বসা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেন না।লেবার পার্টির আরেক এমপি জন উডকক বলেছেন, এটা ঠিক যে সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট আসাদের রাসায়নিক অস্ত্রাগার ধ্বংস করার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য আমাদের মিত্রদের সঙ্গে অভিযানে যোগ দিয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’কে সংসদে অবশ্যই ব্যাখ্যা করতে হবে যে, কেন তিনি মনে করেন সিরীয় অভিযানে অংশ নেওয়ার জন্য পার্লামেন্টে ভোটাভুটির দরকার নেই।স্কটিশ ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা সার্জিওন সিরিয়া হামলায় অংশ নেওয়া ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোড় দৌড়ে অংশ নেওয়ার আগে আমাদের হাউস অব কমন্সের অনুমোদন নেওয়ার বিকল্প ছিল না।ব্রিটেনের গ্রিন পার্টির দুই নেতা ক্যারোলিন লুকাস ও জোনাথন বার্টলি বলেছেন, তেরেসা মে সংসদীয় গণতন্ত্রকে পদদলিত করেছেন। সোমবার পার্লামেন্টে ভোটাভুটি আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বলছে, সোমবার পার্লামেন্টের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন তেরেসা মে। এসময় এমপিদের প্রশ্নের জবাব দেবেন তিনি।সূত্র : গার্ডিয়ন।/ এআর /

জাতিসংঘে নিন্দা প্রস্তাব এনে ব্যর্থ রাশিয়া

সিরিয়ার দৌমায় সরকারি বাহিনীর সন্দেহভাজন রাসায়নিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের একযোগে চালানো বিমান হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আনা রাশিয়ার প্রস্তাব খারিজ হয়ে গেছে। শনিবার মস্কোর আনা এ নিন্দা প্রস্তাবের পক্ষে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে বলিভিয়া ও চীন ছাড়া আর কেউ ভোট দেয়নি বলে জানা গেছে। পেরু, কাজাখস্তান, ইথিওপিয়া ও একোয়াটোরিয়াল গিনি ভোটদানে বিরত ছিল; অপরদিকে তিন স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ আট সদস্য বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। দৌমায় সিরীয় বাহিনীর বিষাক্ত গ্যাস হামলার অভিযোগ ওঠার পর গত এক সপ্তাহে এ নিয়ে পাঁচবার নিরাপত্তা পরিষদ একত্রিত হলো। সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচি লক্ষ্য করে ইঙ্গ-মার্কিন-ফরাসী বাহিনীর ১০৫টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়া এদিন বৈঠক ডেকেছিল। শনিবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য তাদের সামরিক হামলাকে ‘বৈধ’ অ্যাখ্যা দিয়ে এর পক্ষে অবস্থান নেয়। জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি বলেন, সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচিকে পঙ্গু বানিয়ে দেওয়া গেছে বলে আত্মবিশ্বাসী আমরা। সিরিয়ার শাসন ব্যবস্থা যদি আমাদের ইচ্ছার পরীক্ষা নেওয়ার মতো বোকা হয়, তাহলে এই চাপ অব্যাহত রাখতেও প্রস্তুত আমরা।সিরিয়া নতুন করে বিষাক্ত গ্যাস হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র ফের হামলায় ‘প্রস্তুত’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচির লাগাম টানতে, সন্ত্রাসীদের নিশ্চিহ্ন করতে, সিরিয়াজুড়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর ও সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধান নিশ্চিতে ইঙ্গ-মার্কিন-ফরাসী জোট নিরাপত্তা পরিষদে নতুন একটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে বলে শনিবার জাতিসংঘে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত ফ্রাঙ্কো দেলাত্রে জানিয়েছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেস সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের অনুরোধ জানিয়েছেন। নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি সিরিয়ার জনগণের দুর্ভোগ বাড়ে এমন কোনো পদক্ষেপ না নিতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। স্থায়ী পাঁচ সদস্য রাষ্ট্রের ভিটো ছাড়াই কোনো প্রস্তাব পাসের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদের অন্তত নয়টি দেশের সমর্থন লাগে। এর আগে মঙ্গলবারও সিরিয়ায় রাসায়নিক হামলার ব্যাপারে তিনটি প্রস্তাব নিরাপত্তা পরিষদে খারিজ হয়ে গিয়েছিল। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটি রাশিয়া ভিটোতে অকার্যকর হয়, প্রয়োজনীয় ৯ ভোট পেতে ব্যর্থ হয় রাশিয়ার করা বাকি দুটি খসড়া। তথ্যসূত্র: রয়টার্স। এসএইচ/

সিরিয়ায় হামলার কোন বিকল্প ছিলনা: থেরেসা

সিরিয়ায় যে সমন্বিত হামলা চলানো হয়েছে সেটি `যথার্থ এবং বৈধ` হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। সিরিয়ায় হামলার বিকল্প ছিলনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমেরিকা, ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের এ যৌথ হামলা সফল হয়েছে। এ হামলার আগে রাশিয়ার সাথে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা হয়নি বলে জানান তিনি । তিনি বলেন, বেসামরিক মানুষের প্রাণ রক্ষার জন্য এ হামলার আগে বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সিরিয়ার ডুমা শহরে কথিত রাসায়নিক হামলার জবাবে রাজধানী দামেস্ক এবং হোমসের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চলানো হয়। তবে বিরোধী লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন মনে করেন এ হামলা `আইনগত-ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।` ডাউনিং স্ট্রিটে এক সংবাদ সম্মেলনে তেরেসা মে বলেন, সুনির্দিষ্ট জায়গায় সীমিত এ হামলার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষমতাকে কমিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, এ যৌথ হামলার মাধ্যমে পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হয়েছে যে রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কখনো সহ্য করবে না। তিনি বলেন, আগামী সোমবার তিনি পার্লামেন্ট বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দেবেন এবং সংসদ সদস্যদের প্রশ্ন করার সুযোগ থাকবে। এদিকে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে চারটি আরএএফ টর্নেডোজ যুদ্ধ বিমান থেকে মিসাইল হামলা চালানো হয়েছে। এমএইচ/টিকে

সিরিয়ায় হামলার পক্ষে যুক্তরাজ্যের মন্ত্রিসভা

সিরিয়ার হামলার পক্ষে ব্রিটিশ মন্ত্রিসভা মত দিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। তিনি জানান, সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্রের ভবিষ্যৎ ব্যবহার ঠেকাতে দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে তার সরকার একমত। এ বিষয়ে মিত্রদেশগুলোর যেকোনো পদক্ষেপে যুক্তরাজ্য ভূমিকা রাখবে বলেও জানান থেরেসা মে। গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে এ কথা জানান। যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স হামলার জন্য প্রস্তুত। তবে হামলার সম্ভাব্য কৌশল নির্ধারণ এবং সিরিয়ার পক্ষে রাশিয়া দাঁড়িয়ে গেলে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, এসব বিষয় বিচার-বিশ্লেষণ করতে একটু সময় লাগছে। সিরিয়া সরকারের পক্ষে আছে রাশিয়া, ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহ। তাই দেশটিতে পশ্চিমা মিত্রদের হামলা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিশেষজ্ঞরা। প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালেও সিরিয়ায় রাসায়নিক গ্যাস হামলার ঘটনা ঘটে। তখন মিত্রবাহিনীর সঙ্গে সিরিয়া হামলায় যোগ দিতে যুক্তরাজ্যের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন সংসদে প্রস্তাব তুলেছিলেন। এমপিদের ভোটে সেই প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়। ওই অভিজ্ঞতা থেকে থেরেসা মে এবার সংসদের অনুমোদন না চেয়েই হামলায় যোগ দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, সিরিয়ায় বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত দুমায় রাসায়নিক গ্যাস হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করছে পশ্চিমা মিত্র দেশগুলো। তারা এই হামলার জন্য সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ও তার সমর্থক রাশিয়াকে দায়ী করছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স। একে// এসএইচ/

নি:সঙ্গ মানুষদের সঙ্গ দেওয়ার আয়োজন হয়েছে যে শহরে    

নি:সঙ্গ জীবন অনেকের কাছে একটি বড় ব্যাধির মতো। পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে এ সমস্যা অনেক প্রকট। বিশেষ করে বৃদ্ধ বয়েসে নি:সঙ্গতা মানুষকে চূড়ান্ত অবসাদের দিকে ঠেলে দেয়। অ্যালকোহল, সিগারেট এবং মোটা হয়ে যাওয়ার মতোই নি:সঙ্গতাও খারাপ বিষয়। এ সমস্যা মোকাবেলার জন্য ব্রিটেনের একটি শহরে অভিনব এক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।    নি:সঙ্গ বৃদ্ধদের সঙ্গ দেওয়া এর মূল উদ্দেশ্য। ইংল্যান্ডের পশ্চিমে ফ্রোম নামের ছোট এক শহরে এটি চালু হয়েছে। এ শহরের একজন বৃদ্ধা সু। তিনি তাঁর বাড়িতে একা থাকেন এবং তিনি ঘরের বাইরে যেতে পারেন না। তিনি বলেন, আমাকে নানা ধরনের মানুষ দেখতে আসে। এটাই আমার দরকার। এটা আমাকে আত্মবিশ্বাস দেয়। আমি তখন ভাবতে পারি যে পৃথিবীতে ভালো কিছু আছে।    তিনি আরও বলেন, বৃদ্ধ হওয়ার সঙ্গে-সঙ্গে মানুষের জীবনও বদলে যায়। ছেলে-মেয়েরা বড় হয়ে চলে যায়। নি:সঙ্গ জীবন কেমন সেটা কেউ ব্যাখ্যা করতে পারবে বলে আমার মনে হয় না। একা থাকতে-থাকতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। স্থানীয় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একজন ডাক্তার এ কাজ শুরু করেন। সেখানে মানুষের নি:সঙ্গতা যেভাবে বেড়ে যাচ্ছিল তাতে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। চিকিৎসক হেলেন কিংস্টন বলেন, আপনি যদি বিচ্ছিন্ন হয়ে যান এবং কারও সঙ্গে আপনার যোগাযোগ না থাকে তখন আপনি নিজেকেও ঠিক রাখতে পারবেন না।   ২০১৩ সালে চিকিৎসক হেলেন চিন্তা করেন কীভাবে বৃদ্ধ মানুষদের নিঃসঙ্গতা দূর করা যায়। নিঃসঙ্গ মানুষদের চাহিদা নিরূপণ করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতো।  হেলথ সেন্টারে নি:সঙ্গ বৃদ্ধদের জন্য একটি কক্ষ রাখা হয়েছে। সেখানে সবাইকে একত্রিত করে প্রতিদিন নানা ধরনের কর্মকাণ্ড করানো হয়। এতে তাদের সময় কাটে এবং পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ে। শুধু তাই নয়। চিকিৎসক হেলেন বলছেন, তারা একটি একটি কমিউনিটি গড়ে তুলেছেন যেখানে প্রায় ৫০০ মানুষ আছে, যারা বৃদ্ধদের সময় দেন।    প্রত্যেকে প্রতি বছর ২০ জন বৃদ্ধের সঙ্গে কথা বলেন। অর্থাৎ সব মিলিয়ে ১০ হাজার বৃদ্ধকে পুরো বছরে সময় দেওয়া যায়। বৃদ্ধা সু বলছেন, একদিন আমকে ফোন করে বলা হলো একজন আমাকে দেখতে আসবে। আমার যে কী আনন্দ হয়েছিল বলে বোঝাতে পারবো না। এর পর থেকে কেউ না কেউ নিয়মিত বৃদ্ধা সু`র বাসায় আসতে থাকে এবং তাঁর খোঁজ-খবর নেয়। তখন থেকে সু শারীরিকভাবেও সুস্থ হয়ে উঠেন।   সূত্র: বিবিসি একে//এসি     

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি