ঢাকা, শুক্রবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৮ ১৬:৩৬:১৭

মার্কিন সিনেটের ফ্লোরে ১০ দিনের শিশু!

মার্কিন সিনেটের ফ্লোরে ১০ দিনের শিশু!

ইলিনয়ের সিনেটের ট্যামি ডাকওয়ার্থ ১০ দিন বয়সী শিশুকে কোলে নিয়ে মার্কিন সেনেটের একটি ভোটাভুটিতে অংশ নিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। ৫০-বছর বয়সী এই সেনেটর ওয়াশিংটন ডিসিতে নিজের কার্যালয়ে যখন ছিলেন, তখন তার প্রসব বেদনা ওঠেছিল। তখন তার কার্যালয়ের কাছের একটি হাসপাতালে তাকে নেওয়া হলে তিনি একটি কন্যা শিশুর জন্ম দেন। তার কোলে যখন নবজাতক, তখন মার্কিন সেনেটে নাসার প্রশাসক মনোনয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে ভোট হওয়ার কথা ছিল। তিনি এক টুইট বার্তায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন যে নবজাতক নিয়ে কিভাবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবেন? ‘আমাকে হয়তো সেনেটে ভোট দিতে হবে। তাই আমি নিশ্চিত করেছি যে মাইলির কাপড় সেনেট ফ্লোরের ড্রেস কোড ভঙ্গ করবে না। কারণ তার একটি জ্যাকেট আছে।’ নিয়ম রয়েছে, মার্কিন সেনেটের ফ্লোরে যেতে হলে ব্লেজার পড়তে হবে। অন্যদিকে, শিশুদের নিয়ে মার্কিন সেনেট সদস্যদের চেম্বারে আসা নিষিদ্ধ ছিল। তবে মাত্র একদিন আগেই এই নিয়মের পরিবর্তন করা হয়। বুধবার মার্কিন সেনেট শিশুদের চেম্বারে আসার অনুমতি দিয়ে নতুন নিয়ম পাশ করে। ইলিনয় থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট সেনেটর ট্যামি ডাকওয়ার্থ এই সুযোগ পেয়ে এক বিবৃতিতে সেনেটের সবাইর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আমি আমার সহকর্মীদের ধন্যবাদ জানাই, বিশেষ করে নীতি নির্ধারণী কমিটির নেতৃস্থানীয়দের। নতুন অভিভাবকদের যে অনেক সময় শিশুকে নিয়েও কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করতে হয়, সেটিকে তারা স্বীকৃতি দিয়েছেন। ভোটের পর সেনেটের অন্য সদস্যরা ট্যামি ডাকওয়ার্থের কাছে এসে তাকে শুভেচ্ছা জানান। সেনেটের নীতি নির্ধারণী কমিটির চেয়ারম্যান রয় ব্লান্ট বলেছেন, একজন বাবা বা মা হওয়া সহজ কাজ নয়। সেনেটের নিয়মনীতি দিয়ে সেই কাজ আরও কঠিন করার কোনও মানে হয় না। সেনেটর ট্যামি ডাকওয়ার্থ ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন, এ কথা লিখে তার সহকর্মীদের অনেকেই টুইট করেছেন। তথ্যসূত্র: বিবিসি। একে// এসএইচ/
শপথ নিলেন কিউবার নতুন প্রেসিডেন্ট

কিউবার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন মিগেল দিয়াস-কানেল। শপথ নেওয়ার পর দেওয়া বক্তব্যে কানেল বলেন, কিউবায় পুঁজিবাদের কোনো স্থান নেই। দেশটিতে পুঁজিবাদ ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্র হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, যারা দেশটিতে পুঁজিবাদ ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছে, তাঁদের এ দেশে কোনো স্থান নেই। বৃহস্পতিবার শপথ নেওয়ার পর উদ্বোধনী ভাষণে মিগেল বলেন, তিনি উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে কিউবা বিপ্লবের গুরুত্ব ধরে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে চান। একইসঙ্গে পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলেও তিনি হুশিয়ারি দেন। আর পরিবর্তন আনতে হলে, কেবল গণভোটের মাধ্যমেই করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ভাই ফিদেল ক্যাস্ত্রো অসুস্থ হয়ে পড়ার পর ২০০৮ সালে কিউবার ক্ষমতায় এসেছিলেন রাউল। নতুন প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস-কানেল তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী। গত পাঁচ বছর তিনি ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৯ সালের বিপ্লবে মার্কিন মদদপুষ্ট একনায়ক বাতিস্তাকে উৎখাতের পর ৬ দশক ধরে কিউবা সমাজতন্ত্রের অধীনে রয়েছে। রাহুল ক্যাস্ত্রো ১৯৭৬ পর্যন্ত দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। সংবিধানে প্রেসিডেন্টের হাতে একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়ায় ওই বছরই পদ বদলে বসেন রাষ্ট্রের শীর্ষপদে। যার পরিসমাপ্তি ঘটে ভাই রাহুল ক্যাস্ত্রোর হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের পর। গত এক দশক ধরে দেশ পরিচালনা করা ৮৬ বছর বয়সী রাহুল সম্প্রতি ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপরই সমাজতন্ত্রীপন্থী এই নেতাকে বেঁচে নেয় দেশটির সংসদ। ১৯৬০ সালে জন্ম নেওয়া মিগেল তরুণ বয়সেই যোগ দেন সান্তা ক্লারার ইয়াং কমিউনিস্ট লীগে। স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে তড়িৎ প্রকৌশল পড়ানোর সময় থেকে তার বিকাশ দৃশ্যমান হতে থাকে। ৩৩ বছর বয়সে তিনি ইয়াং কমিউনিস্ট লীগের দ্বিতীয় সম্পাদক নির্বাচিত হন। মিগেলের ‘মতাদর্শগত দৃঢ়তা’র প্রশংসা শোনা গেছে রাউলের কণ্ঠেও। তবে রাউল প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে গেলেও ২০২১ সালের পরবর্তী কংগ্রেস পর্যন্ত কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান থাকবেন বলে জানা গেছে। আর পর্দার আড়ালে থেকে তিনিই রাষ্ট্র পরিচালনা করবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র: রয়টার্সএমজে/

ডেনিয়েলকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রামের বিরুদ্ধে একের পর এক নারীর সঙ্গে যৌন  সম্পর্ক নিয়ে অভিযোগ  উঠেছে। তবে এই অভিযোগগুলো নিয়ে তেমন কথা তিনি বলেন নাই। এবার পর্ণ তারকা ডেনিয়েলের অভিযোগ নিয়ে কথা বললেন। ডেনিয়েল দাবি করেন, তাকে স্কাস করা এক ব্যক্তি হুমকি দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে। তিনি বলেন, তাকে এক ব্যক্তি এসে হুমকি দেন ট্রাম্পের হয়ে। সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকার ওই নারী অভিযোগ করে স্কাস করা এক ব্যক্তি তাকে হত্যার হুমকি দেন। এ ব্যাপারে ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইয়ে বলেন, এটা অসম্ভব। ডেনিয়েল অভিযোগ  করেন, ২০০৬ সালে ট্রাম্প তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ওই টেলিভশন প্রোগ্রামে ওই নারী আরও বলেন, ওই ব্যক্তি তাকে শাসায় এবং তিনি আমার বেবির দিকে বলেন, এটা একটি সুন্দর বালিকা। তার মায়ের কিছু হলে তা সত্যিই খারাপ। তথ্যসূত্র: বিবিসি। এসএইচ/

কিউবায় কাস্ত্রো পরিবারের বাইরে নতুন নেতৃত্ব কেমন হবে

কিউবার পার্লামেন্ট রাউল কাস্ত্রোর ঘনিষ্ট বা ডান হাত হিসেবে পরিচিত মিগুয়েল দিয়াজ কানেলকে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনীত করেছে। কয়েক যুগ পর এখন কমিউনিস্ট শাসিত কিউবায় কাস্ত্রো পরিবারের বাইরে নতুন নেতৃত্ব আসছে। কাস্ত্রো পরিবারের বাইরের নেতৃত্বের কিউবা কিভাবে এগুবে, তা নিয়ে এখন অনেক আলোচনা রয়েছে। ৮৬ বছর বয়সী রাউল কাস্ত্রো অবসরে যাচ্ছেন। তিনি ২০০৮ সালে তার ভাই ফিদেল কাস্ত্রোর স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। রাউল কাস্ত্রো প্রেসিডেন্ট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কিউবার সম্পর্ক গড়ে তা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি দেশের ভিতরেও বেশ কিছু সংস্কার কর্যক্রম শুরু করেছিলেন। এখন রাউল কাস্ত্রোর জায়গায় কিউবার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ কানেল মনোনীত হলেন দেশটির পার্লমেন্ট থেকে। কিউবায় বিপ্লবের সময়ের প্রজন্ম এখন তার হাতে নেতৃত্ব দিয়ে নিশ্চিন্ত হতে চাইছেন। বৃহস্পতিবার কিউবার পার্লামেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের ফল বা নতুন প্র্রেসিডেন্টের নাম ঘোষণা করবে। রাউল কাস্ত্রো প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়লেও কিউবার ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টিতে তাদের প্রভাব আগের মতই বহাল থাকবে। মিগুয়েল দিয়াজ কানেল কিউবার ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ২০১৩ সালে। তার আগে পর্যন্ত তিনি ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির রাজনীতিতে থাকলেও নিজেকে সেভাবে প্রকাশ করতেন না। তবে তিনি প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর খুবই কাছের মানুষ। ৫৭ বছর বয়স্ক মিগুয়েল দিয়াজ কানেল উদারপন্থী হিসেবেও পরিচিত। তার জন্ম ১৯৬০ সালে। এর এক বছর আগে কিউবায় ফিদেল কাস্ত্রো প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করেন। কিউবার নতুন নেতা মিগুয়েল দিয়াজ কাস্ত্রো ইলেকট্রিক্যাল ইনজিনিয়ারিং এ লেখাপড়া করেছেন। ২০ বছর আগে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির যুব সংগঠনের মাধ্যমে রাজনীতিতে এসেছিলেন। ১৯৫২ সালে ফুলগেন্সিও বাতিস্তা একটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট কার্লোস প্রিয়র সরকারকে উচ্ছেদ করেন। বাতিস্তার সরকারের নীতি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মতই, যা ছিল কাস্ত্রোর বিশ্বাসের পরিপন্থী। ফলে বাতিস্তা সরকারকে উৎখাতের জন্য তিনি একটি গোপন সংগঠন গড়ে তোলেন যার নাম `দ্য মুভমেন্ট`। এসময় কিউবা পরিণত হয়েছিল উচ্ছৃঙ্খল ধনীদের স্বর্গরাজ্যে। যৌন ব্যবসা, জুয়া এবং মাদক চোরাচালান চরম আকার ধারণ করেছিল। সশস্ত্র বিপ্লবের জন্য অস্ত্র সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ১৯৫৩-র জুলাই মাসে সান্টিয়াগোর কাছে মোনাকাডা সেনা ছাউনিতে একটি আক্রমণের পরিকল্পনা করেন কাস্ত্রো। আক্রমণটি ব্যর্থ হয় এবং বহু বিপ্লবী হয় নিহত হয় নয়তো ধরা পড়ে। বন্দিদের মধ্যে কাস্ত্রোও ছিলেন। ১৯৫৩ সালে তার বিচার শুরু হয়। বিচারের শুনানিগুলো কাস্ত্রো ব্যবহার করতেন সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের ঘটনাবলী ফাঁস করে দেওয়ার মঞ্চ হিসেবে। এসময় শুনানিগুলোতে বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার ছিল, ফলে কাস্ত্রোর জনপ্রিয়তা এসময় বেড়ে যায়। কাস্ত্রোকে অবশ্য ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে ১৯৫৫ সালের মে মাসে জেল থেকে ছাড়া পান ফিদেল কাস্ত্রো। জেলে থাকার সময়েই স্ত্রীকে তালাক দেন তিনি এবং মার্ক্সবাদে আরও ভালোভাবে জড়িয়ে পড়েন। ছাড়া পাওয়ার পর ফের গ্রেফতার এড়াতে মেক্সিকো পালিয়ে যান তিনি। সেখানে তার পরিচয় হয় আরেক তরুণ বিপ্লবী আরনেস্তো চে গুয়েভারার সঙ্গে। ১৯৫৬ সালের নভেম্বরে ১২ জন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ইঞ্জিন নৌকায় ৮১ জন সশস্ত্র সঙ্গীকে নিয়ে কিউবায় ফিরে আসেন ফিদেল কাস্ত্রো। তারা সিয়েরা মায়েস্ত্রা পাহাড়ে আশ্রয় নেন এবং এখান থেকে হাভানার সরকারের বিরুদ্ধে দু বছর ধরে গেরিলা আক্রমণ চালান। ১৯৫৯ সালের দোসরা জানুয়ারি বিদ্রোহীরা হাভানায় প্রবেশ করে। বাতিস্তা পালিয়ে যান। এসময় বাতিস্তার বহু সমর্থককে বিচারের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এসব বিচার কার্যক্রমকে অনেক বিদেশি পর্যবেক্ষকই `অনিরেপক্ষ` বলে মনে করেন। স্প্যানিশ ভাষী কিউবার এক কোটি দশ লাখের মতো মানুষ মূলত খৃস্টান। ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে কিউবায় যে বিপ্লব হয় ১৯৫৯ সালে। তখন পশ্চিমা দুনিয়ায় কিউবাই প্রথম কম্যুনিস্ট দেশ হিসেবে আত্নপ্রকাশ করেছিল। এরপর ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে কিউবায় একদলীয় শাসন থাকে। তিনি শারিরীক অসুস্থতার কারণে এক দশক আগে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছিলেন ছোট ভাই রাউল কাস্ত্রোর হাতে। এখন রাউল কাস্ত্রোও অবসরে গেলেন। কাস্ত্রো পরিবারের পরে নতুন নেতৃত্বে কিউবা কেমন হতে পারে? ক্যারিবীয় দেশটি নতুন নেতৃত্বে একদলীয় শাসন থেকে বেরিয়ে আসবে, এমনটা ভাবতে চান না বিশ্লেষকরা। তবে তারা মনে করেন, একদলীয় গণতন্ত্রের পথে হাটতে পারে। ফলে বড় ধরণের কোন পরিবর্তন আসবে না বলে বিশ্লেষকরা বলছেন। ফিদেল কাস্ত্রো এখন অতীত। আর রাউল কাস্ত্রো অবসরে গেলেন। এই পরিবারের বাইরে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে অনেকের শংকা আছে। তবে নতুন নেতৃত্বের ওপর রাউল কাস্ত্রোর প্রভাব যে থাকবে, সেই আলোচনাও রয়েছে। আর নতুন নেতৃত্বকে প্রথমে দেশটির অর্থনীতির দিকে নজর দিতে হবে। তথ্যসূত্র: বিবিসি। একে// এসএইচ/

গৃহকর্মীর সঙ্গে যৌনতা : ট্রাম্পের অবৈধ সন্তান নিয়ে বিতর্ক

নারীঘটিত কেলেঙ্কারির অভিযোগ কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। প্রথমে এক পর্ন অভিনেত্রী এবং পরে এক প্লেবয় মডেলের সঙ্গে যৌনতার অভিযোগ নিয়ে কম হইচই হয়নি। পর্ন অভিনেত্রী স্টর্মি ড্যানিয়েলস তো বলেই বসলেন অন্তরঙ্গ মুহূর্ত শেষ হওয়ার পর ট্রাম্প তাকে তার মেয়ে ইভাঙ্কার মতো স্মার্ট বলে মন্তব্য করতো। মুখোরোচক এসব অভিযোগে ঘরে-বাইরে চরম সমালোচনার মুখে পড়েন ট্রাম্প। অবস্থা এমন হয়েছে যে, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা দেয় মার্কিন প্রেসিডেন্টের। মার্কিন গণমাধ্যমের খবর স্বামীর এমন কেলঙ্কারির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মেলানিয়া রাগে দু:খে হোয়াইট ছেড়ে কিছুদিন হোটেলে অবস্থান করেন। এসব অভিযোগের পর এবার আরেক গল্প সামনে চলে এসেছে। এবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ আরও গুরুত্বর। তার অবৈধ সন্তান থাকার খবর চাউর হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সপ্তাহিক নিউইয়র্কার অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আশির দশকের শেষ দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর এক গৃহপরিচারিকার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে কন্যাসন্তানের বাবা হয়েছিলেন। ট্রাম্প টাওয়ারের এক দ্বাররক্ষী ঘটনাটি ন্যাশনাল এনকোয়ারার নামে এক সপ্তাহিকের কাছে প্রকাশ করলে পত্রিকার মালিকের হস্তক্ষেপে ছাপা আটকে যায়। সেই দ্বাররক্ষীর সঙ্গে ৩০ হাজার ডলার দিয়ে রফা হয় যে, এই ট্রাম্পের এই কুকর্ম নিয়ে তিনি মুখ খুলতে পারবেন না। এর আগে পর্নো তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার ও প্লেবয় মডেল ক্যারেন ম্যাকডুগালকে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার দিয়ে মুখ বন্ধের ব্যবস্থা করা হয়। প্রতিটি ঘটনা ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থিতা ঘোষণার পরের। সে কারণে অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচনের ফলাফল যাতে ট্রাম্পের বিপক্ষে না যায় সে জন্যই এসব কেলেঙ্কারি প্রকাশ পাওয়ার আগেই বাক্সবন্দী করে ফেলা হয়। স্টর্মি ও ক্যারেনের ঘটনায় ট্রাম্পকে সাহায্য করেন তাঁর দীর্ঘদিনের পুরোনো আইনজীবী মাইকেল কোহেন। নতুনটির ব্যাপারে সহায়তা করেছেন ন্যাশনাল এনকোয়ারার পত্রিকার মালিক ও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ডেভিড পেকার। ঘটনাটির সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। তবে সাজুদিন নামের দ্বাররক্ষীকে যে মোটা অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয়েছে মুখ বন্ধ রাখার জন্য, এনকোয়ারার সে কথা স্বীকার করেছে। তিনি সত্য কথা বলছেন কি না, তা প্রমাণের জন্য সাজুদিনকে ‘লাই ডিটেকটরে’ পরীক্ষা দিতে হয় বলে পত্রিকাটি জানিয়েছে। তিনি সে পরীক্ষায় পাস করেন। পত্রিকাটির একজন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট সিএনএনকে বলেন, কোনো কাহিনির জন্য অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নানাভাবে তা পরীক্ষা করা হয়। কাহিনির কোনো ভিত্তি না থাকলে ন্যাশনাল এনকোয়ারার মোটা অঙ্কের ‘ফি’ কিছুতেই দেয় না। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা কথিত পরিচারিকা ও তাঁর মেয়ের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। ন্যাশনাল এনকোয়ারার-এর মালিক ডেভিড পেকারের ক্ষেত্রে একটি বাড়তি জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে জানা গেছে। ট্রাম্পের জন্য ক্ষতিকর প্রতিবেদন ‘হত্যার’ যে নির্দেশ তিনি দিয়েছেন, তা শুধু ‘বন্ধু’ হিসেবে করেছেন; সে কথা মনে করার কোনো কারণ নেই। ভাবা হচ্ছে, তাঁর হাতে হয়তো এমন নথিপত্র রয়েছে, যা প্রকাশ পেলে ট্রাম্প বিপদে পড়তে পারেন। এই বিপদ এড়াতে ট্রাম্প হয়তো তাঁকে বিশেষ ব্যবসায়িক সুবিধার ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। নিউইয়র্কার জানিয়েছে, গত বছরের জুলাই মাসে পেকার এক ফরাসি ব্যবসায়ীকে নিয়ে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন। এই ঘটনার দুই মাস পর সেই ফরাসি ব্যবসায়ীকে নিয়ে তিনি সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর কোনোটাই সম্ভবত কাকতালীয় নয়। সূত্র : নিউইয়র্কার অনলাইন। / এআর /      

সিরিয়া ইস্যুতে সব পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জাতিসংঘের   

  সিরিয়া ইস্যুতে সংযম প্রদর্শন ও শান্ত থাকার জন্য সকল পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতারেস। সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র,  ফ্রান্স ও ব্রিটেনের হামলার পর পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষিতে তিনি এ আহ্বান জানান। সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে এমন কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, ‘এই বিপদজনক পরিস্থিতিতে সিরিয়ার সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এমন যেকোন কাজ থেকে বিরত থাকতে সকলের প্রতি আহবান জানান।’ এই হামলার কারণে গুতারেস তার পূর্ব নির্ধারিত সৌদি আরব সফর বিলম্বিত করেন। কেআই/টিকে

সিরিয়ায় হামলা কারায় মিত্রদের ধন্যবাদ জানালেন ট্রাম্প

সিরিয়ায় বিমান হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফ্রান্স ও ব্রিটেন অংশ নেওয়ায় দুই মিত্র দেশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে গত রাতের ওই হামলাকে পুরোপুরি সফল দাবি করেছেন তিনি। শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে দেওয়া এক টুইট বার্তায় মার্কিন এ প্রেসিডেন্ট বলেন, `গত রাতে হামলা পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে। বিচক্ষণতার জন্য ফ্রান্স ও ব্রিটেনকে ধন্যবাদ।সেই সাথে তাদের চমৎকার সেনাবাহিনীকেও ধন্যবাদ।` সিরিয়া হামলায় এর চেয়ে ভালো ফল হতে পারে না উল্লেখ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, মিশন সম্পন্ন। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে কোন ঠাসা করতে একযোগে সিরিয়ায় হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও ব্রিটেন। দেশটির বেসামরিক নাগরকিদের ওপর সরকারি বাহিনীর রাসায়নিক হামলার অভিযোগ এনে পশ্চিমা বিশ্বের হামলায় এখন পর্যন্ত শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র সিরীয় ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ছোঁড়ার দাবি করা হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অন্যতম মিত্র দেশ রাশিয়ার সেনাবাহিনী বলছে, পশ্চিমাদের ছোঁড়া ১০৩টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের ৭১টিই ভূপাতিত করেছে সিরিয়ায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। বার্তা সংস্থা এপি বলছে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, সিরিয়ায় পশ্চিমা মিত্রদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। কেআই/টিকে

বাঙালিদের নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন ট্রাম্প

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের বাঙালিদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে দেশটির ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সেক্রেটারি জন জে সুলিভান এক বিবৃতিতে এ শুভেচ্ছা জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের পক্ষ থেকে সব বাঙালিদের নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাই। এই গুরুত্বপূর্ণ দিনে বাংলাদেশ, ভারত এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশে যারা একত্রিত হচ্ছেন তাদের জানাই শ্রদ্ধা। মাতৃভাষায় যারা বাংলায় কথা বলেন পহেলা বৈশাখ তাদের সুন্দর শোভাযাত্রা, মেলা ও নৃত্যের মধ্য দিয়ে সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংষ্কৃতি উদযাপনের সুযোগ করে দেয়। নববর্ষের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, জাতি এবং সংস্কৃতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখায় বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটিকে ধন্যবাদ জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এছাড়া বাংলায় ‘শুভ নববর্ষ’ জানিয়ে শুভেচ্ছা বার্তা শেষ করা হয়।শনিবার বাংলা নতুন বছর শুরু হবে। দিনটি বাঙালি জাতির হাজার বছরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক-বাহক। মঙ্গল শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজনে দিনটি পালন করবে বাঙালিরা।   এসএ/    

সিরিয়া আক্রমণের বিষয়ে দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেবে যুক্তরাষ্ট্র

সিরিয়ায় রাসায়নিক হামলার বিষয়ে কি করা হবে সেই সিদ্ধান্ত ‘শীঘ্রই’ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিরিয়ার ডুমায় রাসায়নিক হামলার অভিযোগ ওঠার বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্র খুব্ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই বিষয়ে ফরাসি ও বৃটিশ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন ট্রাম্প। যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে ভবিষ্যতে আরও রাসায়নিক হামলা যেন না হয় তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে একমত প্রকাশ করেছেন। তবে বৃটিশ পরিবহন মন্ত্রী জো জনসন জানিয়েছেন, এখনই সামরিক অভিযান পরিচালনা করার বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। সিরিয়ার প্রধান সামরিক মিত্র রাশিয়া পশ্চিমাদের এই ধরনের কার্যক্রমের কঠোর সমালোচনা করেছে। জাতিসংঘে রাশিয়ার দূত ভাসিলি নেবেনজিয়া বলেছেন, তিনি রাশিয়া ও যুক্তরোষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের সম্ভাবনা নাকচ করে দিতে পারছেন না। গণমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, এ মুহুর্তে প্রধান কাজ যুদ্ধের সম্ভাবনা প্রতিহত করা। ব্রিটিশ সরকারও বৃহস্পতিবার মন্ত্রীসভার এক বৈঠকে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে ভবিষ্যতে যেন আবারও রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার না হয় সেলক্ষ্যে সিরিয়ায় কার্যক্রম পরিচালনা করা জরুরি। বৃহস্পতিবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ বলেছেন, ডুমায় সিরিয় সরকার যে রাসায়নিক হামলা করেছে তার প্রমাণ আছে তাঁর কাছে। ডুমায় আাক্রমণের পরদিন রোববার ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সিরিয়া সরকারের মিত্র হিসেবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর বিদ্রোহী অধ্যূষিত ডুমায় নৃশংসতার দায় বর্তায়। বুধবার তিনি এক টুইটে বলেছেন, মিসাইল আসছে, কিন্তু বৃহস্পতিবার আরেক টুইটে তিনি লিখেন যে আক্রমণ কবে করা হবে তা তিনি জানাননি। টুইটে তিনি বলেন, আক্রমণ শীঘ্রই হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। পরে হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমরা সিরিয়া বিষয়ে আজ একটি বৈঠক করছি। এবিষয়ে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেব। মানবাধিকার কর্মী আর চিকিৎসা সেবাদানকারীরা জানিয়েছে, সরকারি বাহিনীর রাসায়নিক হামলায় ডুমায় গত শনিবার অনেকে নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। রাসায়নিক হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে সিরিয় প্রেসিডেন্ট আসাদের সরকার। রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা (ওপিসিডব্লিউ) জানিয়েছে, রাসায়নিক হামলার প্রমাণ সংগ্রহ করতে ডুমায় প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে তারা। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া নমুনা থেকে ক্লোরিন ও নার্ভ এজেন্ট ব্যবহারের সত্যতা যাচাই করা গেছে। রাসায়নিক আক্রমণের অভিযোগ পশ্চিমাদের প্ররোচনামূলক আচরণ বলে দাবি করেছে রাশিয়া। রাশিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, সিরিয়ায় রুশ বাহিনীর ওপর মিসাইল হামলা করা হলে তা প্রতিহত করা হবে এবং পাল্টা আক্রমণও করা হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বুধবার আশা প্রকাশ করেন যে শীঘ্রই এই অস্থির অবস্থার উন্নতি হবে। সূত্র: বিবিসি একে/

সিরিয়া ইস্যুতে যৌথ হামলা চালাবে ফ্রান্স-যুক্তরাষ্ট্র

সিরিয়ার পূর্ব ঘৌতায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের নিহতের ঘটনায় রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার করেছে আসাদ ও রুশদের মিলিত বাহিনী। রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসার পরই যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জার্মানি দেশটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ইতোমধ্যে সংস্থাটিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিক্কি হ্যালি ঘোষণা করেছেন দেশটির ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু তাই নয়, রাসায়নিক অস্ত্র যারা ব্যবহার করছে, তাদের বিরুদ্ধে বিশ্বকে ব্যবস্থা নিতে হবে। এদিকে ব্রিটেনের সেলিসবাড়িতে সাবেক এক রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও তার কন্যাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স,কানাডা ও জার্মানিসহ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভূক্ত ২৫টি দেশ। এ ছাড়া ইউরোপীয় সংগঠন ন্যাটোও রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানিসহ বাকি দেশগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেয় রাশিয়া। এদিকে সিরিয়া ও রাশিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার ও পাল্টাপাল্টি কূটনীতিক বহিষ্কারের ঘটনায় বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলোর মাঝে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সিরিয়া ইস্যুতে একই সুরে কথা বলছে, জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্র। এরইমধ্যে সিরিয়ায় রাসায়নিক হামলার অভিযোগ এনে যেকোনো মুহূর্তে সিরীয় ভূখণ্ডে নতুন ধরনের স্মার্ট ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুধু তাই নয়, রাশিয়াকে লক্ষ্য করে ট্রাম্প বলেন, প্রস্তুত থেকো, আমরা যে কোন সময় সিরিয়ায় ক্ষেপনাস্ত্র হামলা শুরু করবো। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার চলমান সংকটের মধ্যে যোগ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সব সময়ের মিত্র ফ্রান্স। বৃহস্পতিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদ দেশটিতে রাসায়নিক হামলা চালিয়ে আসছে। তাই, দ্রুতই আমরা রাসায়নিক ক্ষেপনাস্ত্র হামলার জবাবা দিবো। এদিকে সিরিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপে সমর্থনের ব্যাপারে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মেরকেল বলেছেন, ‘তার দেশ আগে থেকেই দাবি করে আসছে যে, সিরিয়া রাসায়নিক অস্ত্রভাণ্ডার নির্মূল করেনি এবং এটাই সত্যি।’ এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা পদক্ষেপ বিরোধীরা বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রুদ্ধদ্বার জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে। ওই পক্ষে রয়েছে ইরান, রাশিয়া, সিরিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী বেশ কয়েকটি দেশ। ট্রাম্পের টুইটের জবাবে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, ‘স্মার্ট ক্ষেপণাস্ত্র সন্ত্রাসীদের দিকে ছুঁড়ে মারা উচিত, বৈধ (সিরিয়ার) সরকারের দিকে নয়; যে সরকার গত কয়েকবছর ধরে সিরীয় ভূখণ্ডে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়ছে।’ এ ছাড়া তিনি বলেন, আমরা টুইটার যুদ্ধে জড়াতে চাই না। তবে দেশটি বলছে, মিত্র বাশার আল আসাদের সমর্থনে যেকোনো ধরনের হামলা হলে দেশটি পিছু হবে না তারা। এর আগে গত বুধবার রাশিয়া সমর্থিত জোটের তীব্র সমালোচনা করে টুইট করেন ট্রাম্প । তিনি বলেন, যারা মানুষকে মারছে এবং এটি উপভোগ করছে; তাদের মতো গ্যাস প্রয়োগকারী দুষ্টদের দমন করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপে আশঙ্কা করা হচ্ছে, ফের কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে যাচ্ছে বিশ্ব। নাকি ইরাক যুদ্ধের মত, সিরিয়ায় হামলা চালিয়ে দেশটির লাখ লাখ নিরীহ মানুষকে হত্যা করবে যুক্তরাষ্ট্র। সূত্র: আল-জাজিরা, বিবিসি এমজে

সিরিয়ায় সামরিক অভিযানের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র   

সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাশিয়া এবং আমেরিকার মধ্যে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করার জন্য সিরিয়াকে কড়া জবাব দেওয়া হবে।    বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিমা নেতারা সিরিয়ায় সামরিক অভিযানের ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করছে। যুক্তরাষ্ট্র এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না আসলেও এই ঘটনায় রাশিয়া ও সিরিয়াকে তারা দায়ী মনে করে বলে জানিয়েছেন তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স।    বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে বৈঠকের কথা রয়েছে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের। মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মেও।    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সর্বশেষ এক টুইটে বলেছেন ‘রাশিয়া প্রস্তুত হও’- কারণ যে মিসাইল আসবে তা হবে ‘সুন্দর, নতুন এবং বুদ্ধিমান।’ তিনি আরও লিখেছেন, রাশিয়ার উচিত হয়নি ‘একটা গ্যাস-মারা জানোয়ারের সঙ্গে’ মিত্রতা করা। এর আগে লেবাননে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত টিভিতে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সিরিয়ার আমেরিকা ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়লে রাশিয়া তা গুলি করে নামাবে। এমনকী যেখান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হবে, সেসব জায়গাকেও টার্গেট করবে রাশিয়া। সিরিয়ার দুমায় গত শনিবার এক বোমা হামলায় বহু বেসামরিক লোকের মৃত্যুর এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাক-বিতন্ডা দিন দিন ভয়ানক চেহারা। রাশিয়া আহ্বান জানিয়েছে, যেন ওই আক্রমণকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সামরিক পদক্ষেপ না নেয়। জাতিসংঘে মস্কোর দূত ভাসিলি নেবেনজিয়া একথা বলে ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ার করে দেন, যে কোনো রকম সামরিক অভিযানের দায়দায়িত্ব তাকেই বহন করতে হবে। মস্কো ইতিমধ্যেই ওই আক্রমণ কারা চালিয়েছে তা বের করার লক্ষে একটি মার্কিন প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে। কিন্তু আমেরিকা এবং তাদের দুই পশ্চিমা মিত্র- ফ্রান্স এবং ব্রিটেন বলছে, সিরিয়ার সরকার দুমায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে এবং এর জন্য প্রেসিডেন্ট আসাদকে শাস্তি পেতেই হবে। সিরিয়ার সরকার এবং রাশিয়া বার বার বলছে, কোনও রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ দুমায় হয়নি। বরঞ্চ বিদ্রোহীরা নাটক সাজিয়ে আমেরিকাকে যুদ্ধে জড়াতে চাইছে। সিরিয়া রাসায়নিক অস্ত্র নিরোধে আন্তর্জাতিক সংস্থা ওপিসিডিব্লিউকে দুমায় তদন্ত করতে দিতেও রাজী হয়েছে সিরিয়া। কিন্তু সে ব্যাখ্যায় কান দিচ্ছে না আমেরিকা। সিরিয়াকে দায়ী করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এক প্রস্তাবে রাশিয়া ভেটো দেওয়ার পর, আমেরিকা এবং ফ্রান্স সামরিক হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ষ্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুমকিও দিচ্ছেন, খুব কম সময়ের মধ্যে তিনি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে, রাশিয়া হুমকি দিয়েছে আমেরিকা সিরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালে, তা গুলি করে নামানো হবে। লেবাননে রুশ রাষ্ট্রদূত অলেক্সান্দার জাসিপকিন বলেন, আমেরিকানরা যদি আঘাত করে তাহলে তাদের ক্ষেপনাস্ত্র গুলি করে নামানো হবে, এমনকী যেসব জায়গা থেকে ক্ষেপনাস্ত্র ছোঁড়া হবে, সেসব জায়গাগুলোকেও টার্গেট করা হবে। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট এবং রুশ সামরিক কম্যান্ডাররা সেই ঘোষনাই দিয়েছেন। বিশ্লেষকরা অবশ্য বলছেন, সিরিয়া নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে পুরোদস্তুর সংঘাতে জড়িয়ে পড়া নিয়ে এখনও কুন্ঠা রয়েছে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে। ব্রিটেন এখনও এ ব্যাপারে তাদের অবস্থান খুব ষ্পষ্ট করছে না। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে আরও প্রমান দেখতে চাইছেন। অন্যিদকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ বলেছেন যদি কোনো হামলার সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে তার টার্গেট হবে রাশিয়ার সরকারি রাসায়নিক অস্ত্রের গুদাম। দুরপাল্লার টমাহক ক্ষেপনাস্ত্রবাহী আমেরিকান একটি যুদ্ধ জাহাজ সিরিয়ার উপকুলের কাছাকাছি অবস্থান নিয়েছে। আমেরিকার সামরিক নীতি নির্ধারকরা ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের সঙ্গে সর্বক্ষণ যোগাযোগ রাখছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ল্যাটিন আমেরিকায় তার এক নির্ধারিত সফর বাতিল করেছেন। ওয়াশিংটন থেকে বিবিসির বারবারা প্লেট উশার বলছেন, ইঙ্গিত ষ্পষ্ট হচ্ছে যে শুধু কয়েকটি ক্ষেপনাস্ত্র ছোঁড়ার চেয়ে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের জন্য আমেরিকা প্রস্তুত হচ্ছে। ওদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডব্লিউ এইচ ও বলেছে সিরিয়ার দুমায় পাঁচশর মত মানুষের মধ্যে রাসায়নিক অস্ত্রে আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গ দেখা গেছে বলে তাদের কাছে খবর। ওই জায়গায় যাওয়ার অনুমতি দাবি করেছে ডব্লিউ এইচ ও। সূত্র: বিবিসি একে//এসি   

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি