ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭ ২:৩১:৩৪

একমঞ্চে ৫মার্কিন প্রেসিডেন্ট

হ্যারিকেনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য তহবিল

একমঞ্চে ৫মার্কিন প্রেসিডেন্ট

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পাঁচ প্রেসিডেন্ট স্থানীয় সময় শনিবার টেক্সাসে এক মঞ্চে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। তারা হলেন- বারাক ওবামা, জর্জ ডব্লিউ বুশ, বিল ক্লিনটন, জর্জ এইচ এইচ বুশ এবং জিমি কার্টার। এ বছর হ্যারিকেনে ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তার জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে কনসার্ট আয়োজনের লক্ষ্যে একত্রিত হলেন তিন ডেমোক্রেট ও দুই রিপাবলিকান সাবেক প্রেসিডেন্ট। হ্যারিকেন হার্ভের কারণে সৃষ্ট ভূমিধসে গত আগস্টে টেক্সাসে কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাঁচ প্রেসিডেন্ট মঞ্চে হাজির হওয়ার পর আসন গ্রহণ করার আগে জাতীয় সংগীত “প্রাউড টু বি এন আমেরিকান” পরিবেশন করেন লি গ্রিনউড ও লেডি গাগা। এ মিলনমেলায় যোগদান করেননি বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তাদের (পাঁচ প্রেসিডেন্ট) এই উদ্বোগকে “ওয়ান্ডারফুল” বলে প্রশংসা করেছেন এবং "গভীর কৃতজ্ঞতা" জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন।   সূত্র : বিবিসি   / এমআর / এআর        
কেনেডি হত্যার গোপন ফাইল প্রকাশ করা হবে: ট্রাম্প

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির হত্যার ফাইল প্রকাশ করার কথা জানিয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । প্রেসিডেন্ট এক টুইট বার্তায় বলেছেন, আরও কিছু তথ্য হাতে পাওয়ার পর তিনি এই ফাইলগুলো প্রকাশের অনুমতি দেবেন। আমেরিকার ন্যাশনাল আর্কাইভসের এই নথিপত্রগুলো ২৬শে অক্টোবর খোলার কথা রয়েছে। তবে এগুলোর গোপনীয়তা রক্ষার মেয়াদ আরও বাড়ানো হবে কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া প্রেসিডেন্টের রয়েছে। ১৯৬৩ সালের নভেম্বর মাসে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাসে গুপ্তঘাতকের গুলিতে প্রাণ হারান জন এফ কেনেডি। আমেরিকার ন্যাশানাল আর্কাইভস ইতিমধ্যেই তার হত্যা সংক্রান্ত বেশিরভাগ নথি জনগণের দেখার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে। শুধু শেষ কিছু ফাইল এখনও তালাবন্ধ অবস্থায় রয়েছে।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার টুইটে লিখেছেন, আরও কিছু তথ্য পাওয়ার পর, প্রেসিডেন্ট হিসাবে, আমি জন এফ কেনেডির মৃত্যু সংক্রান্ত ফাইলগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়ার অনুমতি দেব। ১৯৯২ সালে মার্কিন কংগ্রেস রায় দিয়েছিল সব জেএফকে নথি ২৫ বছরের মধ্যে উন্মুক্ত করে দিতে হবে। যদি না প্রেসিডেন্ট সিদ্ধান্ত নেন যে এসব নথি উন্মুক্ত করে দিলে তা জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করবে। জাতীয় আর্কাইভে ওই হত্যা সংক্রান্ত তিন হাজারের বেশি নথি আছে যা আগে কখনও প্রকাশ করা হয়নি। আর ৩০ হাজারের বেশি নথি আগে প্রকাশ করা হয়েছে তবে কাটছাঁট বা সম্পাদনা করে। এখনও গোপন রাখা নথিগুলো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেবেন নাকি সম্পাদনা করে প্রকাশ করবেন তা স্পষ্ট নয়।ওয়াশিংটন পোস্টের খবর অনুযায়ী কেনেডির হত্যা বিষয়ে যারা বিশেষজ্ঞ তারা মনে করেন না যে এখনও অপ্রকাশিত দলিলে বড়ধরনের বিস্ফোরক কোন তথ্য আছে। তবে ওই ফাইলগুলো প্রকাশ করা হলে কেনেডি হত্যার ঠিক আগে ১৯৬৩র সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে লি হার্ভি অসওয়াল্ড মেক্সিকো সিটিতে কী করছিলেন সে বিষয়ে হয়ত কিছুটা আলোকপাত হবে।গুলি করার দিন লি হার্ভি অসওয়াল্ডকে ডালাসে গ্রেপ্তার করা হয় এবং প্রেসিডেন্টকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়। অসওয়াল্ড হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং দাবি করেন ``তাকে ব্যবহার করা হয়েছে``। ঘটনার দুদিন পর পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন নাইটক্লাবের মালিক জ্যাক রুবির গুলিতে প্রাণ হারান অসওয়াল্ড এবং কেনেডি হত্যাকাণ্ড আমেরিকান ইতিহাসে সবচেয়ে মুখরোচক ও বিশাল এক ষড়যন্ত্র তত্ত্বে রূপ নেয়। ইউনিভার্সিটি অফ ভার্জিনিয়ার সেন্টার ফর পলিটিক্সের পরিচালক এবং কেনেডিকে নিয়ে একটি বইয়ের লেখক ল্যারি সাবাতো বার্তা সংস্থা এপিকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ সত্য জানতে চায়, অন্তত তাদের এটুকু জানার অধিকার আছে যে আমেরিকার সরকার এত বছর ধরে মানুষের কাছ থেকে কি তথ্য লুকিয়ে রেখেছে। সূত্র:বিবিসি / এম / এআর

কানাডার কুইবেকে সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিকাব নিষিদ্ধ

কানাডার কুইবেক প্রদেশে সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারীদের নিকাব পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কুইবেকে ধর্মীয় নিরপেক্ষতা আইনটি সমালোচনার মুখেই পাশ করেছে কুইবেক ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি। আইনটি পাশের মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারীদের বোরকা ও নিকাব পরা নিষিদ্ধ করে তাদের মুখ দেখানো বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। কুইবেক ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে `বিল সিক্সটি-টু` নামের এই আইনটি পাশ হয় ৬৬-৫১ ভোটের ব্যবধানে। ২০১৪ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা লিবারেলরা দু’বছর আগে এই বিলটি উত্থাপন করেছিল। বিলটি পাশ হওয়ার কারণে প্রদেশের আমলা, পুলিশ কর্মকর্তা, বাস চালক, ডাক্তার, মিডওয়াইভসহ সরকারি যে কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের মুখ অনাবৃত থাকবে। এছাড়া এ আইনের মাধ্যমে প্রদেশের যেসব শিশুকেন্দ্রে ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া হতো সেই সেবাও বন্ধ হয়ে যাবে। তবে `বিল সিক্সটি-টু` নামের এই আইনটিতে কোথাও মুসলিমদের বিশ্বাসের কথা উল্লেখ নেই। প্রদেশটির সরকার বলছে, মুখে কোনো ধরনের আবরণ থাকবেনা তার অর্থ এই নয় যে মুসলিমদের টার্গেট করে এমনটা করা হয়েছে। তবে এই আইনের প্রভাব মুসলিম নারীদের ওপরই সবচেয়ে বেশি পড়বে বলে মনে করছে সমালোচকরা। সরকারের মতে, যোগাযোগ ও নিরাপত্তা ইস্যুকে মাথায় রেখে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আর সমালোচকেরা বলছেন, এটি মুসলিম নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ। ২০১৬ সালের এক জরিপের তথ্য অনুযায়ী- কানাডার ৩ শতাংশ মুসলিম নারী চাদর পরে এবং ৩ শতাংশ নারী নিকাব পরে। আর/ডব্লিউএন

ভারত আমাদের বিশ্বস্ত সহযোগী: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রকে ভারতের ’বিশ্বস্ত সহযোগী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। স্থানীয় সময় বুধবার ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে টিলারসন এ মন্তব্য করেন। টিলারসন বলেন, ‘অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের এই সময়ে বিশ্বমঞ্চে ভারতের বিশ্বস্ত সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র।’ টিলারসন তার বক্তব্যে ভারত নীতির বিষয়ে কথা বলেন। এ সময় তিনি চীনের উত্থান, আচরণ ও তৎপরতাকে ‘নিয়মকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ’ বলে মন্তব্য করেন। টিলারসন বলেন, ‘বিকাশমান চীন খুবই কম দায়িত্বশীল আচরণ করেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক, নিয়মকেন্দ্রিক ব্যবস্থাকে তুচ্ছ করেছে, যেখানে ভারতের মতো দেশ এমন একটি কাঠামোতে কর্মতৎপরতা চালাচ্ছে যাতে অন্য জাতিগুলোর সার্বভৌমত্ব রক্ষা পাচ্ছে।’ দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের উসকানিমূলক আচরণ সরাসরি আন্তর্জাতিক আইন ও রীতির প্রতি চ্যালেঞ্জ বলেও জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।   সূত্র: জি নিউজ এমআর/এআর

আটকে গেল ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে আসার ক্ষেত্রে আট দেশের নাগরিকদেরকে  যে ভ্রমণ-নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন তা আদালত স্থগিত করেছে। গত মাসে ঘোষণা দেয়া এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল ইরান, লিবিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেন, সোমালিয়া এবং চাদের নাগরিকেরা।এছাড়াও, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ভেনেজুয়ালাও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল । কিন্তু আদালতের নির্দেশে ট্রাম্পের ওই ঘোষণা আপাতত বাতিল হয়ে গেছে, যেটি এই সপ্তাহেই কার্যকর হবার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই ডেরিক ওয়াটসন নামের এক বিচারপতি হাওয়াই অঙ্গরাজ্যে  ট্রাম্পের ওই আদেশকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।এই আদেশ জারি করার সময় এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইমিগ্রেশান ল বা অভিবাসী আইনের আওতায় প্রেসিডেন্ট এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। এই আদেশে বিচারক ওয়াটসন আরো বলেন, ১৫০ মিলিয়ন জাতীয়তার মধ্যে কেবল এই ছয়টি নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকেরা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হবে বলে যে কথা বলা হয়েছে তার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণাদি নেই। নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বব্যাপী একধরণের আলোচনা- পর্যালোচনার উপর ভিত্তি করে গত সেপ্টেম্বরে হোয়াইট হাউজ সর্বশেষ এই ভ্রমণ-নিষেধাজ্ঞাটি আরোপ করেছিল। সূত্র:বিবিসি এম/এআর

অভিশংসনের মুখে পড়তে পারেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিশংসনের মুখে পড়তে পারেন। সেটি আগামী বছরেই। তার দলের নেতারাই এ আশঙ্কা করছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধিতার কারণে কংগ্রেসের নিম্ন কক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের অনেক প্রতিষ্ঠিত রিপাবলিকান নেতাই পুনর্নির্বাচনে ধরাশায়ী হতে পারেন। রিপাবলিকানরা নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারেন নিম্নকক্ষের। এমন হলে ডেমোক্র্যাটদের প্রভাব বাড়বে এবং তারা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের দাবি উত্থাপন করবেন। তা ঠেকানো সম্ভব নাও হতে পারে রিপাবলিকানদের পক্ষে। মার্কিন প্রভাবশালী দৈনিক সিএনএন হোয়াইট হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তা, আইনপ্রণেতা, দাতা এবং রাজনৈতিক পরামর্শকদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। চলতি বছরের গ্রীষ্মকালের শেষদিকে স্পিকার পল রায়ানের সমর্থনে এক তহবিল সংগ্রহ অভিযানে ওয়েমিং রাজ্যের জ্যাকসন হোলে একদল দাতা জড়ো হয়েছিলেন। সেখানে বলা হয়, কংগ্রেসের হাউস ওভারসাইট কমিটির প্রধান হিসেবে রিপাবলিকান নেতা ইলিজা কামিংসসহ বেশ কয়েকজন যদি পুনর্নির্বাচিত হতে ব্যর্থ হন, তাহলে ডেমোক্র্যাটরাই এই প্রভাবশালী কমিটির নিয়ন্ত্রণ নেবেন। তখন দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে প্রবল বাধার মুখে পড়বেন রিপাবলিকানরা। দলীয় ব্যর্থতার মুখে নির্বাচনী প্রচারের সময় রাশিয়ার সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটরা অভিশংসনের লিখিত প্রস্তাব আনবেন। রিপাবলিকানদের পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের সঙ্গে আছেন অ্যালেক্স কোন্যান্ট। তিনি বলেন, ট্রাম্পের উচিত নিজের দল রক্ষায় মনোযোগী হওয়া। হাউসে তার দলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া। কিন্তু তারই এক সময়ের অন্যতম শীর্ষ উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন হাউসের রিপাবলিকান নেতারা যাতে পুনর্নির্বাচিত হতে না পারেন, তার জন্য মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। তিনি বিভিন্ন আসনে এসব রিপাবলিকান নেতার বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড় করাচ্ছেন। এটা একেবারেই ঝুঁকিপূর্ণ। অথচ গত আগস্টেই তর্কাতর্কির মুখে ব্যাননকে পদচ্যুত করেছিলেন ট্রাম্প।//এআর

ভেনেজুয়েলায় নির্বাচনে সমাজতান্ত্রিক দলের জয়

ভেনেজুয়েলায় বিতর্কিত নির্বাচনে সমাজতান্ত্রিক দল জয়লাভ করেছে। ভেনেজুয়েলার নির্বাচন কতৃপক্ষ জানিয়েছে, ২৩টি রাজ্য আসনের মধ্যে ১৭টিতে জয়ী হয়েছে সমাজতান্ত্রিক দল। রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো এ বিজয়কে সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজের নীতি ‘চাভিসমো’র জয় বলে অভিহিত করেছেন। ফলাফলের পর নিকোলাস মাদুরো বলেন, ‘চাভিসমো মরেনি, রাজপথেই আছে এবং জয়লাভ করেছে।’ এদিকে এ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনেছে বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন রাউন্ডটেবিল জোট। নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখান করেছে তারা। সেই সঙ্গে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন প্রচারণা পরিচালক জেরার্ডো ব্লিড। নির্বাচনের আগে জরিপে বলা হয়েছিল, বিরোধী দল ১৮ আসনের মধ্যে ১১টিতেই জয়লাভ করবে। এ বছর ভেনিজুয়েলা চরম খাদ্য সংকট, অর্থনৈতিক সংকট এবং রাজনৈতিক সহিংসতার সম্মুখীন হয়েছে। প্রতিবাদ করতে গিয়ে মারা গেছে ১০০ জনেরও বেশি মানুষ। বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলার কয়েকজন কর্মকর্তার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিষেধাজ্ঞাকে ‘অবৈধ, নিন্দনীয় এবং অভূতপূর্ব’ বলে অভিহিত করেন মাদুরো। নির্বাচনের ফলাফলের পর এটি স্পষ্ট যে এটি সরকারের জন্য একটি ব্যাপক বিজয়। ফলাফলের পর রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো তাৎক্ষনিকভাবে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে হাজির হন। তিনি বলেন ‘চ্যাভিসমো ফিরে এসেছে এবং জয়লাভ করেছে।’ নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়ার জন্য তিনি বিরোধীদলকে আহবান জানান। যদিও ততক্ষণে বিরোধীদল নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ফেলেছিল। বিরোধী দলের দাবি, সাম্প্রতিক জরিপে মাদুরোর সরকার মাত্র ২০শতাংশ সমর্থন পেয়েছে। ভোট গণনাতেও কারচুপি করা হয়েছে বলে বিরোধী সমর্থকদের দাবি। এদিকে ফলফল ঘোষণার পরপরই উল্লাসে ফেটে পড়ে মাদুরো সমর্থকরা। এই নির্বাচনের ফলাফল ভেনেজুয়েলার সীমান্তে পেড়িয়ে অন্য দেশগুলোতেও প্রভাব ফেলবে। ট্রাম্প প্রশাসন নি:সন্দেহে বিরোধীদলকে সমর্থন দিবে এবং নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ আনবে। কয়েক মাস ধরে রাস্তায় সহিংস বিক্ষোভের পর ভেনেজুয়েলায় যখন শান্তি ফিরে আসা শুরু করছিল ঠিক তখনই দেশটি আবারো দ্বন্দ্ব-সংঘাতের দিকে যাচ্ছে।   সূত্র: বিবিসি এমআর/এআর

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা চলবে: টিলারসন

উত্তর কোরিয়ার সমস্যা থেকে বের হতে  কূটনৈতিক আলোচনার পথে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী  রেক্স টিলারসন ৷ টিলারসন বলেন, উত্তর কোরিয়ার ছোড়া প্রথম বোমা ভূপাতিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁর দেশ কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাবে। সিএনএনের সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে স্থানীয় সময় রোববার টিলারসন এমন মন্তব্য করেন। যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র রাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়ার কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক মহড়া শুরুর একদিন আগে উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে নিজ দেশের অবস্থান জানালেন টিলারসন। উত্তর কোরিয়া আর আমেরিকার মধ্যে পরিস্থিতি যে ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে, তা জানিয়েছেন টিলারসন৷ একের পর এক পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করে নিজেদের শক্তির জানান দিচ্ছেন পিয়ংইয়ং৷ এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে উত্তর কোরিয়াকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দেন। অন্যদিকে, ট্রাম্পের এ বক্তব্যকে কুকুরের ঘেউ ঘেউয়ের সঙ্গে তুলনা করেন  উত্তর কোরিয়া। মর্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে চলমান এ উত্তেজনার মধ্যে  সিএনএনের টক শোতে টিলারসন জানান উত্তর কোরিয়ার সমস্যা সমাধানে কূটনীতিকে অগ্রাদিকার দেবে তাঁর দেশ । সূত্র : বিবিসি। এম/এআর  

ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ দাবানলে নিহত ৪০

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী দাবানলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকশ’ লোক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। স্যান ফ্রান্সিসকো শহরের উত্তর দিকে প্রায় ৩৩৪ মাইল বা ৮৬৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ সমস্যা সমাধানের লক্ষে সাতদিনেরও বেশি সময় ধরে দাবানলের ১৬টি প্রধান ধারার সঙ্গে ১০ হাজারেরও বেশি দমকল কর্মী এয়ার ট্যাঙ্কার ও হেলিকপ্টারের সহায়তা নিয়ে লড়াই করে যাচ্ছেন। এ ঘটনায় শনিবার আরো কয়েক হাজার স্থানীয় বাসিন্দা ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। কতৃপক্ষ এখন পর্যন্ত ৪০ জনের মৃত্যুর খবর  নিশ্চিত করেছেন । তবে এদের মধ্যে সোনোমা কাউন্টিতে মারা গেছেন ২২ জন। দাবানল কবলিত এলাকাগুলো থেকে প্রায় এক লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এরমধ্যে সান ফ্রান্সিসকোর ৫০ মাইল বা ৮০ কিলোমিটার উত্তরে সান্তা রোসা শহর থেকে তিন হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সান্তা রোজ শহর পরিদর্শন কালে ক্যারিফোরনিয়ার গভর্নর জেরি ব্রাউন বলেন,“এটা সত্যিকর অর্থে ক্যালিফোর্নিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় ধরনের শোকাবহ ঘ্টনা। এটি এমন একটি ভয়ানক ঘটনা যা কল্পনাকেও হার মানায়। ভয়াবহ এ দাবানলের ঘটনায় আগুনে পুড়ে এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৭০০ স্থাপনা ভস্মীভূত হয়েছে। বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান। এম/এআর  

শ্বেতাঙ্গদের নিয়ে মন্তব্য করায় ফেসবুকে নিষিদ্ধ মার্কিন র‌্যাপার

শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক মত প্রকাশ করায় আমেরিকার র‌্যাপার সঙ্গীতশিল্পী লিল বিকে এক মাসের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফেসবুক। লিল এর আগেও সোশ্যাল মিডিয়াতে বিতর্কিত মতামতের জন্য পরিচিত ছিলেন। ফেসবুক জানায়, `হেইট স্পিচ` বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারের ব্যাপারের ফেসবুকের যে নীতি আছে, তা অনুসরণ করেই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ফেসবুকের মতে, বিতর্কিত এই পোস্টগুলি ছিল আমেরিকার শ্বেতাঙ্গ মানুষ ও বন্দুকজনিত সহিংসতা (`গান ভায়োলেন্স`) নিয়ে। নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে লিল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার ভক্তরাও টুইটারে এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। রাজনৈতিক সংবাদ পরিবেশনকারী ওয়েবসাইট `দ্য হিল` লিলের নিষিদ্ধ পোস্টগুলির মধ্যে দুটি পোস্ট প্রকাশ করেছে। এর একটি হলো, ‘শ্বেতাঙ্গরাই একমাত্র নিজেদের বন্দুককে খুব ভালবাসে, এর ফলে বোঝাই যায় কারা সহিংস মানুষ। আমি ভয়ে থাকি না, তাই আমার বন্দুকও লাগে না।’ দ্বিতীয় পোস্টটি ছিল, ‘শ্বেতাঙ্গরা ভিতু বলেই বন্দুক নিয়ে এত সমস্যা। ওরা যদি বন্দুক নামিয়ে রাখত তাহলে আমরা সবাই নিশ্চিন্ত হতাম। কিন্তু না, ওরা সহিংস।’ ২০১৪ সালেও র‌্যাপার লিল বিকে নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। সূত্র:বিবিসি।   এম

ইসরাইল বিদ্বেষের অজুহাত দিয়ে ইউনেস্কো ছাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র

জাতিসংঘের সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো ইসরাইল বিরোধী অবস্থানে রয়েছে এমন অভিযোগ তুলে সংস্থাটি থেকে বের হয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়।  ইউনেস্কো বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিতায় যুক্ত করে। যেমন- সিরিয়ার পালমিরা ও যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, ইউনেস্কোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব প্রতিস্থাপন করতে প্যারিসে সংস্থাটির সদর দফতরে একটি পর্যবেক্ষক মিশন প্রতিষ্ঠা করা হবে। ইউনেস্কোর প্রধান ইরিনা বোকোভা বলেছেন, প্রতিনিধি প্রত্যাহারের বিষয়টি গভীর অনুতাপের। এটা জাতিসংঘ পরিবার এবং জোটের জন্য একটি বড় ক্ষতি। এর আগে ফিলিস্তিনকে পরিপূর্ণ সদস্য পদ দেওয়ার বিরোধীতা করে ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইউনেস্কোকে দেওয়া আর্থিক সহযোগিতা প্রত্যাহার করে।

১১ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠালো যুক্তরাষ্ট্র

অভিবাসন নীতিমালা অমান্য করে বসবাস ও অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শতাধিক অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এদের মধ্যে রয়েছে ১১ বাংলাদেশিও। গতকাল বুধবার ভোরে ১১ জনকে আটক করে অ্যারিজোনার দুর্গম ডিপোর্টেশন কেন্দ্র থেকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের বিশেষ বিমানে তুলে দেওয়া হয়। এই ১১ জনের মধ্যে ১০ জনই নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি। বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিরা হলেন সেলিম আহমেদ, মোজাম্মেল হক, করিম চৌধুরী, মুজিবুর রহমান, বাবলু শরিফ, মোহাম্মদ বাদল রনি, মোহাম্মদ ফরিদুল মওলা, মনিরুল ইসলাম, নাসরিন চৌধুরী, মোহাম্মদ আম্বিয়া ও খায়রুল আম্বিয়া। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত ব্যক্তিদের স্বজনদের অভিযোগ, বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃপক্ষ দ্রুত পাসপোর্ট দিয়ে মার্কিন অভিবাসন বিভাগকে সহযোগিতা করেছে। এ কারণে ভুক্তভোগী অভিবাসী ও তাদের পরিবার আইনের আশ্রয় নেওয়ার আগেই বিতাড়ন-প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাচ্ছে। ওই ১১ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তারের পর তাদের মুক্তির ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট ও কংগ্রেসে আবেদন করেছিলেন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রধান মাজেদা উদ্দিন। তিনি বলেন, সামাজিক ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে শুধুমাত্র গুরুতর অপরাধীদের ধরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে বলে দাবি করছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। অথচ এই ১১ বাংলাদেশির একজনও কোনো ধরনের অপরাধে লিপ্ত ছিলেন না। তাদের অপরাধ একটাই, আর তা হচ্ছে অভিবাসনের মর্যাদা পাননি। তারা সকলেই ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা দোকানের বিক্রেতা অথবা ট্যাক্সি চালিয়ে দিনাতিপাত করছিলেন। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, অভিবাসীদের তথ্য জানাতে গড়িমসি করায় বাংলাদেশের নাগরিকদের বি-১ ভিসা বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। চলতি বছরের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন বিভাগ এ-সংক্রান্ত হুঁশিয়ারিপত্র দূতাবাসে পাঠায়। এরপর থেকেই ভিসাপ্রক্রিয়া সচল রাখার স্বার্থে দূতাবাস দ্রুতগতিতে ট্রাভেলস ডকুমেন্ট ইমিগ্রেশন সার্ভিসের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করে। দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত আনডকুমেন্টেড বাংলাদেশিদের তথ্য দিতে দেরি হওয়ায় ঢাকা থেকে বাংলাদেশের অনেক নাগরিকের ভিসা আবেদন বাতিল হয়। ওই প্রক্রিয়া বন্ধ করতেই দূতাবাসকে দ্রুত তথ্য দিতে হয়। সাউথ এশিয়ান এডুকেশন স্কলারশিপ অ্যান্ড ট্রেনিং অর্গানাইজেশনের নির্বাহী মাজেদা উদ্দিন বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির শিকার হয়ে দুই নারীসহ ২৭ বাংলাদেশি ডিপোর্টেশনের পথে আছেন। তাঁরা এখন অ্যারিজোনার ফ্লোরেন্স কারেকশন সেন্টারে আছেন। নিউইয়র্ক, কানেটিকাট, নিউজার্সি ও অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্য থেকে তাঁদের আনডকুমেন্টেড হিসেবে আটক করে ইমিগ্রেশন সার্ভিস। আটক ব্যক্তিদের পরিবার যুক্তরাষ্ট্রেই এখন মানবেতর জীবন যাপন করছে। আটক হওয়া ব্যক্তির পরিবারের বরাত দিয়ে মাজেদা উদ্দিন বলেন, আটক ব্যক্তিদের হাতে ইংরেজিতে ‘লো আর হাই’ লেখা বিভিন্ন রঙের ব্যান্ড লাগানো আছে। গত চার মাসে বাংলাদেশ দূতাবাস ১৪ জনকে ট্রাভেল ডকুমেন্ট দিয়েছে। কোনো তদন্ত ছাড়াই দূতাবাস ট্রাভেল ডকুমেন্ট দিচ্ছে এবং দূতাবাস আটক ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। অথচ বাংলাদেশ দূতাবাস তদন্ত করে যাঁরা অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন, তাঁদের মুক্ত করার ব্যাপারে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে মার্কিন অভিবাসন বিভাগকে ট্রাভেল ডকুমেন্ট না দিলে তাঁরা আপাতত রক্ষা পেয়ে আইনের আশ্রয় নিয়ে বৈধ হওয়ার সুযোগ নিতে পারতেন। পাকিস্তান দূতাবাস দেশটির আটক ব্যক্তিদের ট্রাভেলস ডকুমেন্ট না দেওয়ায় তাঁরা বন্ড দিয়ে ফিরে এসে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকতে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে। মাজেদা উদ্দিন বলেন, দেড় মাস আগে চারজন ও গত তিন-চার মাসে মোট ১৪ বাংলাদেশিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বিতাড়িত হওয়া বাংলাদেশিরা অনেকেই দুই-তিন দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বাস করছেন। এখানে বিয়ে করেছেন, সন্তান হয়েছে। বিতাড়নের শিকার বাবলু শরিফের পরিবার গত মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করেছে। তারা ট্রাম্পের কাছে আবেদন জানিয়েছে, এভাবে যেন বিতাড়ন না করা হয়। এদিকে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে নতুন ৭০ দফা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ৯ সেপ্টেম্বর ৭০ দফা পরিকল্পনা কংগ্রেসে উপস্থাপন করা হয়। এ পরিকল্পনায় সীমান্তদেয়াল নির্মাণের কথাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যমান আইনে তিনটি পরিবর্তন রয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ আইনের শক্ত প্রয়োগ এবং বৈধ অভিবাসন-ব্যবস্থার সংস্কার। অবৈধ অভিবাসন বন্ধে বিচার বিভাগ, পররাষ্ট্র, লেবার ডিপার্টমেন্ট, হোমল্যান্ড সিকিউরিটিসহ প্রধান তিন অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে অবৈধ অভিবাসী-অধ্যুষিত নগরে দেওয়া আর্থিক অনুদান ও সহযোগিতা বন্ধ করার বিধান রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার শিথিল নীতি কঠোর করার কথা বলা হয়েছে। মা-বাবাহীন বহিরাগত শিশুদের প্রমাণ করতে হবে, তারা মা-বাবাহীন এবং দুঃসহ পরিস্থিতি থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে মানবিক সুরক্ষা চাইছে। ভ্রমণকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে মেয়াদ শেষে অতিরিক্ত সময় অবস্থান করলে তাঁদের কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে। ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে অবৈধ অভিবাসীদের আটক করার ক্ষমতা থাকবে। মাজেদা উদ্দিন জানান, ব্রুকলিনের কোনি আইল্যান্ডে রেস্তোরাঁয় কর্মরত অবস্থায় মোজাম্মেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় একই রেস্তোরাঁয় কাজ করা তার স্ত্রী বাধা দিয়ে ফেঁসে গেছেন; কারণ তিনিও অবৈধভাবে এদেশে বাস করছিলেন। এ দম্পতির তিনটি শিশু সন্তান রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “তাদের সবার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে। মা-বাবার অনুপস্থিতিতে এই শিশুদের কী হবে, সেটি তুলে ধরে মানবিক কারণে তাদের মুক্তি দিতে সিনেট ও কংগ্রেসে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি।” এ বছর দৈনিক গড়ে প্রায় ৪০০ অবৈধ অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে বলে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরের তথ্য; এ সংখ্যা গত বছরের চেয়ে তা ৪০ শতাংশ বেশি। সেপ্টেম্বরের শেষ চারদিনেও নিউ ইয়র্ক সিটি ও বিভিন্ন শহরে অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশসহ ৪২ দেশের ৪৮৯ অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এজেন্টরা। গত মাসের শেষ সপ্তাহের ওই অভিযানে গ্রেপ্তার ৪৮৯ জনের মধ্যে ৩১৭ জন গুরুতর অপরাধে জেল খেটেছে, ৬৮ জনের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের আদেশ রয়েছে, ১০৪ জন বহিষ্কারের পর ফের বেআইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকেছিলেন। এছাড়া ১৮ জন চিহ্নিত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য ছিল বলে জানিয়েছে ইমিগ্রেশন দপ্তর। এই গ্রেপ্তার অভিযান নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে ভীতি কাজ করছে। যদিও যারা কোনো অপরাধে জড়িত নন বা ছিলেন না, তাদের ভয়ের কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ধরনের অভিযানের প্রেক্ষাপটে সবাইকে পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যাদের পরিচয়পত্র নেই, তারা যেন এমন কিছু সঙ্গে রাখেন, যা দিয়ে গ্রেপ্তার এড়ানো যায়; বিশেষ করে যাদের অভিবাসী মর্যাদার ‘এডজাস্টমেন্ট’ অথবা অন্য কোনো কর্মসূচিতে আবেদন ঝুলে রয়েছে, তারা যেন এটর্নির পরামর্শ অনুযায়ী চলাচল করেন। এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনের নিউ ইয়র্ক ফিল্ড অফিসের পরিচালক থমাস আর ডেকার বলেন, জনগণের নিরাপত্তাকে আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি। সে কারণে সব ধরনের অপরাধীকে চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারে সর্বাত্মক অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ইমিগ্রেশনের ঐতিহ্য রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের, এজন্য আমরা সবাই গর্ববোধ করি। একইসঙ্গে আমরা আইনের শাসনের ক্ষেত্রেও শীর্ষে রয়েছি। তাই যারা যুক্তরাষ্ট্রে এসে অপরাধ করছে, সমাজ ও জীবনকে ঝুঁকিতে ঠেলে দিচ্ছে, তাদের রেহাই দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ডব্লিউএন

কোরীয় উপদ্বীপের আকাশে মার্কিন বোমারু বিমান

যুক্তরাষ্ট্র তার শক্তি প্রদর্শন করাতে কোরীয় উপদ্বীপের আকাশে উড়ালো দুটি বোমারু বিমান । এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার হুমকির জবাব কীভাবে দেয়া হবে তা নিয়ে শীর্ষ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার রাতে মার্কিন সেনাবাহিনীর দুটি বি-১বি বোমারু বিমান গুয়াম ঘাঁটি থেকে উড়ে যায়। উত্তর কোরিয়ার  একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ও পারমাণবিক পরীক্ষা এবং এর সূত্র ধরে ট্রাম্প ও কিম জং উনের লাগামহীন কথার লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হচ্ছে। এর প্রতিক্রিয়ায়  অংশ হিসেবে কোরীয় উপদ্বীপে মিত্রদের সঙ্গে যৌথ মহড়ার পরিমাণ বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। সেই ধারাবাহিকতাতেই গুয়ামের অ্যান্ডারসন বিমান ঘাঁটি থেকে কোরীয় উপদ্বীপের উদ্দেশ্যে মার্কিন বোমারু বিমানের উড়াল। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাঘাঁটির জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ আজ বুধবার এক বিবৃতিতে জানায়, মার্কিন বিমানবাহিনীর দুটি বি-১বি বোমারু বিমানের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার এফ-১৫কে নামের দুটি যুদ্ধবিমানও ছিল। উত্তর কোরিয়া কর্তৃক বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর থেকে মার্কিন-উত্তর কোরিয়া উত্তেজনার শুরু। তারপর উত্তর কোরিয়া জাপানের ওপর দিয়ে তাদের ষষ্ঠ পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়। ধারণা করা হচ্ছে উত্তর কোরিয়ার চালানো পরীক্ষাগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা। তারপর দুই দেশের নেতা ট্রাম্প ও কিম জংয়ের মধ্যে হুমকি ও পাল্টা হুমকির পর উত্তেজনা ক্রমেই  বাড়তে থাকে। হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতিতে জানায় -পিয়ংইয়ংয়ের হামলা ও হুমকির প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের রক্ষায় কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে তা নিয়ে মঙ্গলবার ট্রাম্প তার প্রশাসনের প্রতিরক্ষা বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন ।এ বৈঠকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জেমস ম্যাটিস ও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জেনারেলের চেয়ারম্যান জোসেফ ড্যানফোর্ড জাতীয় নিরাপত্তা দলের এই বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ব্রিফ করেন। সূত্র:রয়টার্স এম/এআর    

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি