ঢাকা, শুক্রবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৮ ৩:১২:৩৭

ঐক্যের ডাক দেওয়ায় লেখিকার জেল

ঐক্যের ডাক দেওয়ায় লেখিকার জেল

ঐক্যের ডাক দেওয়ায় সোমালিয়ার এক লেখিকাকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। দেশটিতে সম্প্রতি সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর ওই লেখিকা জাতীয় ঐক্যের ডাক দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ওই লেখিকার নাম নাসিমা আবওয়ান কুরানে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ইগাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মোগাদিসু থেকে একটি ফ্লাইটে করে ইগাল বিমানবন্দরে ভ্রমণকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, কবিতা লেখার মাধ্যমে ওই নারী কবি দেশবাসীকে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। পুলিশ তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজ করার অভিযোগ আনেন। তবে সরকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নাসিমা কুরানে সোমালিয়াকে রাষ্ট্রের পরিবর্তে অঞ্চল বলেছেন, যা সরকারকে অস্বীকার করার শামিল। আর এর মাধ্যমে কুরানে রাষ্ট্রদ্রোহ করেছে বলে অভিযোগ করেন রাষ্ট্রের কৌশলী। সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটরএমজে/
মালিতে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত শান্তিরক্ষী সেনা

আফ্রিকার দেশ মালিতে সন্ত্রাসীদের রকেট ও গাড়ি বোমা হামলায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২১ সেনা। তিমবুকতু বিমানবন্দর এলাকায়  মালির নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় জানায়, বিকেলে গতকাল মালি নগরীর উত্তরাঞ্চলের বাইরে শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। একই সময় ফ্রান্সের বারখান শিবিরেও‘একটি সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে।এই হামলায় এক জন নিহত ও ২১ জন আহত হয়েছে বলে জানান কর্মকর্তারা। মন্ত্রণালয় জানায়, এই ঘটনায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর এক সেনা নিহত হয়েছেন। এদিকে আহতদের মধ্যে পাঁচ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও জানায় দেশটির নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়। সূত্র: গার্ডিয়ান এমজে/

উইনি ম্যান্ডেলার শেষ বিদায়ে অশ্রুসিক্ত আফ্রিকানরা

বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের অবিসংবাদী নেতা ও দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার সাবেক স্ত্রী উইনি ম্যান্ডেলাকে শেষ বিদায় জানাতে হাজির হয়েছিলেন কয়েক হাজার আফ্রিকান। শনিবার দেশটির ওরলান্দো স্টেডিয়ামে উইনিকে শেষ বিদায় জানানো হয়। এসময় দক্ষিণ আফ্রিকার জনতা উইনিকে ‘মাদার অব দ্য নেশন’বলে উল্লেখ করেন। অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনৈতিককর্মী উইনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মানুষ আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন। তারা স্লোগান দেন, ‘কমরেড উইনি দীর্ঘজীবী হোন’, ‘লড়াই চলবে’, ‘জনগণের হাতে ক্ষমতা চাই’। আনন্দময় ও অশ্রুসজল শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে নাচ ও গান থেকে শুরু করে ছিল প্রার্থনা, শ্রদ্ধা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার নিপীড়নবিরোধী সংগ্রামের গান গাওয়া হয়। জাতীয় নেতাদের শোক প্রকাশ করে বক্তব্য দেওয়ার পর গোটা স্টেডিয়াম জুড়ে মরদেহ প্রদক্ষিণ করা হয়। এসময় জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়। আফ্রিকানরা ফুলেল ভালোবাসায় সিক্ত করেন উইনিকে।দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, মহাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, দেশের বিখ্যাত রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও সারাদেশের শুভাকাঙ্ক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন। উইনি ম্যান্ডেলা নিজেও সারাজীবন বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে গেছেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর গত ৩ এপ্রিল ৮১ বছর বয়সে মারা যান উইনি।২৭ বছর পর ম্যান্ডেলা যখন কারাগার থেকে মুক্তি পান তখন উইনির সঙ্গে হাতে হাত ধরা একটি ছবিই তখন বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ১৯৩৬ সালে ইস্টার্ন কেপ- এ জন্মগ্রহণ করেন উইনি। তখন তাকে ত্রানস্কেই নামে চিনত সবাই। নিজেকে সমাজকর্মী হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন উইনি। ১৯৫০ দশকে নেলসনের সঙ্গে দেখা হয়েছিল তার। দীর্ঘ ৩৮ বছর দাম্পত্য জীবন ছিল তাদের। তবে এরমধ্যে ত্রিশ বছরই নেলসন ম্যান্ডেলার কারাবাসের কারণে বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়েছে। ১৯৯৬ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়ে গেলেও নাম পাল্টাননি উইনি ম্যান্ডেলা। যোগাযোগও ছিল নেলসনের সঙ্গে।সূত্র: সিএনএন।/এআর /

যে শহরে সবই পাবেন

কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি। একদিকে যেমন দারিদ্র্য ও অনগ্রসরতা, অন্যদিকে তেমন গার্ডেন সিটির মতো আবাসিক এলাকায় কার পার্কের মাথায় সোলার প্যানেল বসানো। আবার রেস্টুরেন্টের ময়লা বেসমেন্টে নিয়ে গিয়ে আলাদা করা হয়৷ গার্ডেন সিটি একটি আদর্শ পরিবেশবান্ধব প্রকল্প– যেমন তার নকশা ও নির্মাণে, তেমনই তার আবর্জনা ফেলার ব্যবস্থায়৷ আবাসিক এলাকায় প্রতিদিন যে ময়লা ফেলা হয়, তার সবটা গিয়ে জমা হয় পাশের গার্ডেন সিটি শপিং সেন্টারে৷ গার্ডেন সিটি শপিং সেন্টারের ম্যানেজার এডউইন মুগাম্বি বললেন, এদেশে আমরা এখনও শিখছি। কাজেই আমাদের গ্রাহকরা সব কিছু মিশিয়ে ফেলেন। যে কারণে আমাদের হাতে করে সব কিছু আলাদা করতে হয়৷ কিন্তু আমরা গ্রাহকদের ক্রমাগত সচেতন করছি, বর্জ্য আলাদা করার শিক্ষা দিচ্ছি৷ কাজেই আমরা এক বছরের মধ্যে বর্জ্য আলাদা করার প্রাথমিক পর্যায়ে পৌঁছে যাব বলে আমাদের আশা৷ পার্কিং গ্যারেজের ছাদে প্রায় ৩ হাজার সোলার প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ সোলার ইনস্টলেশনটি আফ্রিকার বৃহত্তম সোলার ইনস্টলেশনগুলির মধ্যে পড়ে৷ এছাড়া সোলার প্যানেলের ছাদের নীচে রাখা গাড়িগুলোও গরম হয় না৷ আর একটা সুবিধেও আছে বলে জানালেন মুগাম্বি। তিনি অভিমত প্রকাশ করেন, সোলার প্যানেলের চাহিদা যতো বাড়বে, তাদের দামও ততো কমবে, যার ফলে আরও অনেক মানুষ সেগুলো কিনতে পারবেন ও প্রকৃতিদত্ত সূর্যালোক ব্যবহার করে নিজেদের বাড়িতে বিদ্যুৎ পেতে পারবেন৷ কেনিয়ায় বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল এখনও খুব কমই দেখা যায়৷ শপিং সেন্টারের কার পার্কের সোলার ইউনিটের টাকাও এসেছে শিল্পোন্নত দেশগুলির বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে৷ যে কারণে প্রকল্পের আর্থিক মুনাফা কেনিয়ায় থাকে না৷ ক্রসবাউন্ডারি সংস্থার ম্যানেজিং পার্টনার ম্যাট টিলিয়ার্ড বলেন, ‘আমাদের বিনিয়োগকারীরা সবাই অ্যামেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যে থাকেন৷ আমাদের সোলার ফান্ড ও অন্যান্য বিনিয়োগের জন্য পূর্ব আফ্রিকা থেকে পুঁজি সংগ্রহ করতে পারলে খুবই ভালো হতো। কিন্তু বাস্তব এই যে, আসল পুঁজি শিল্পোন্নত দেশগুলিতেই রয়েছে৷ কাজেই বাইরে থেকে পুঁজি আনা ভবিষ্যতেও আমাদের কাজের একটা বড় অঙ্গ থাকবে৷ আগামীতে গার্ডেন সিটি শপিং সেন্টারের কার পার্কের প্রতিটি সোলার পার্কিং স্পটে ইলেকট্রিক কার-এর জন্য চার্জিং স্টেশন থাকবে, আফ্রিকায় যা অভিনব বললেও কম বলা হয়৷ সূত্র: ডয়চে ভেলে একে//টিকে

কলঙ্কের বোঝা নিয়েই চলে গেলেন আফ্রিকার জাতির জননী

২৭ বছর পর জেল থেকে বেরোচ্ছেন নেলসন ম্যান্ডেলা। তার ঠিক পাশটিতে বিজয়িনীর হাসি নিয়ে মুষ্টিবদ্ধ হাত আকাশের দিকে ছুড়ে দিয়েছেন উইনি। ১৯৯০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি-র এই ফ্রেমটি ছাড়া বিশ শতকের অ্যালবাম সম্পূর্ণ হয় না। নেলসন মারা গিয়েছেন সাড়ে চার বছর আগেই। সোমবার চলে গেলেন উইনি ম্যান্ডেলা (৮১)। বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাধীনতা সংগ্রাম তার জনক ও জননীকে হারালো। আফ্রিকার জাতির জনক ও জননী— এই নামে বাস্তবিকই দেশবাসীর কাছে পরিচিত ছিলেন এই দুই নেতা। ম্যান্ডেলার সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ, ব্যক্তিগত দুর্নীতি এবং অপরাধের দায় উইনির সেই আসনকে কলঙ্কিত করেছিল পরবর্তী কালে। কিন্তু তাই বলে কৃষ্ণাঙ্গদের স্বাধীনতার লড়াইয়ে তার ঐতিহাসিক ভূমিকাটি অস্বীকৃত হয়নি। ২০১৬ সালে জুমা সরকার তাকে দেশের সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত করে। উইনি অতএব সেই নেত্রী, ইতিহাস এবং মানবচরিত্রের প্রায় সব রকম স্ববিরোধ, দোষগুণ, উত্থান ও পতনকে যিনি স্ব-শরীরে ধারণ করেছেন। বাবা নাম রেখেছিলেন, নমজামো উইনিফ্রেড মাদিকিজেলা। আফ্রিকার জনজাতীয় ভাষায় নমজামো মানে, যাকে জীবনভর পরীক্ষা দিতে হয়! উইনি সেটাই করেছেন আমৃত্যু। উইনির মা মারা গিয়েছিলেন আট বছর বয়সেই। বাবা ছিলেন শিক্ষক। উইনির ছোটবেলা কেটেছিল ইস্টার্ন কেপের পন্ডোল্যান্ড অঞ্চলে। ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিয়ে তিনি জোহানেসবার্গে চলে আসেন সমাজসেবা নিয়ে পড়াশোনা করতে। ভালো ছাত্রী, আমেরিকায় পড়তে যাওয়ার স্কলারশিপও পেয়েছিলেন। যাননি। উইনির সঙ্গে তখনই ধীরে ধীরে আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস, বর্ণবিদ্বেষ-বিরোধী আন্দোলনের কর্মীদের যোগাযোগ তৈরি হচ্ছে। নেলসন তখনই আন্দোলনের নেতৃপদে, বিবাহিত, তিন সন্তানের পিতা। প্রথম দর্শনেই প্রেম। প্রথম যেদিন আলাদা করে দেখা করলেন, সেদিনই বিয়ের প্রস্তাব দিলেন। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে নেলসন-উইনির বিয়ে হলো১৯৫৮ সালে। দুটি মেয়ে হয়। কিন্তু সংসার করা হয়নি বেশিদিন। কারণ ১৯৬৪ সালেই আজীবন কারাবাসের শাস্তি হয়ে গেল নেলসনের আর উইনির জন্য শুরু হলো এক কঠিন লড়াইয়ের পর্ব। নেলসন জেলে যাওয়ার দিনে উইনি শান্ত গলায় বলেছিলেন, ‘‘তবু ভালো! মৃত্যুদণ্ড দেয়নি!’’ এ রকম ঠাণ্ডা মাথা, জ্বালাময়ী বক্তৃতা দেওয়ার ক্ষমতা আর কট্টর লড়াকু মন— নেত্রী হয়ে ওঠার অনেক গুণ উইনির সহজাত। ম্যান্ডেলার বন্দিদশায় উইনিই হয়ে উঠলেন দলের মুখ। ১৯৬৯ সালে তাকে গ্রেফতার করে পাঠিয়ে দেওয়া হলো ঘুপচি সলিটারি সেল-এ। সঙ্গে মারধর, নির্যাতন। ১৭ মাস পরে মুক্তি। আবার গ্রেফতার ১৯৭৬-এ। এ বার একেবারে নির্জন দুর্গে নির্বাসন। পাঁচ মাস পরে মুক্তি। উইনি পরে লিখেছেন, পুলিশের নির্যাতনই তার নিজের নিষ্ঠুরতাকে উস্কে দিয়েছিল, বুনে দিয়েছিল ঘৃণা। সেই ঘৃণাই উইনিকে পরে বক্তৃতায় বলিয়ে নিয়েছিল, ‘‘দেশলাই আর নেকলেস দিয়েই আমরা স্বাধীনতা আনব!’’ নেকলেস মানে, গলায় জ্বলন্ত টায়ার পরিয়ে দেওয়া! এই হিংস্রতা উইনিকে কম নিন্দার মুখে ফেলেনি। ম্যান্ডেলা ইউনাইটেড ফুটবল ক্লাব নামে একটা সংগঠন করেছিলেন। যারা আপাতভাবে উইনির দেহরক্ষী, আসলে দলের মধ্যে চর খোঁজার বাহিনী। তাদের হাতেই চার যুবকের অপহরণ ও হত্যার (১৯৮৮) মামলায় উইনি দোষী সাব্যস্ত হন। পাঁচ বছরের কারাদণ্ড আপিলে কমে গিয়ে জরিমানায় দাঁড়ায়। কিন্তু ভাবমূর্তির ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গিয়েছিল। পাশাপাশি নেলসন আর উইনির সম্পর্কেরও অবনতি হচ্ছিল দ্রুত। এক দিকে উইনির নামে নানা দুর্নীতির অভিযোগ, অন্য দিকে এক তরুণ আইনজীবীর সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে চর্চা। ম্যান্ডেলা উইনিকে সরিয়ে দিলেন মন্ত্রিসভা থেকে, বিয়েও ভেঙে গেলো। কিন্তু সেই নেলসনই যখন মারা গেলেন, উইনিই শেষকৃত্যের আসরে যেন অঘোষিত ফার্স্ট লেডি! নেলসন আর উইনি, এমন এক আখ্যান যা ভেঙে গেলেও মুছে যায়নি। উইনির মৃত্যু এত দিনে সেই আখ্যানকে হয়তো অমর করলো। তথ্যসূত্র: আনন্দবাবাজার। এসএইচ/

বিলাসবহুল গাড়িতে চুরি করা পশু

উজবেকিস্তানের বুখারা গ্রামে গত কিছুদিন থেকেই চুরি যাচ্ছিল গরু-ছাগল, ভেড়াসহ নানা ধরণের গবাদিপশু। কোথা থেকে কিভাবে এসব পশু হঠাৎ হাওয়া হয়ে যাচ্ছে, কেউ ধরতে পারছিল না। আর চোরও ভীষণ সতর্ক। কখন চুরি যায়, আর সেগুলো কিভাবে গ্রামের বাইরে চলে যায়, কেউই ধরতে পারছিল না। অনেক অনুসন্ধানের পর জানা যায়, পুলিশের চোখ ফাঁকি দেবার জন্য চোরের দল চুরি যাওয়া পশু একটি ম্যালিবু শেভ্রলে গাড়িতে করে আনা নেওয়া করত। দামী গাড়ীটি গ্রামে ঢোকার বা বেরুনোর সময় কেউ সন্দেহ করেনি। আবার দামী গাড়ী বলে কেউ প্রশ্নও করেনি প্রায়ই কেন আসে এই গাড়ি, আর কার কাছে আসে। গত কয়েকদিন ধরে ম্যালিবু শেভ্রলে গাড়ির পেছনের জানালা দিয়ে মুখ বের করে থাকা একটি বাছুরের ছবি নিয়ে দেশটির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন সরগরম। অনেকে ক্যাপশন দিয়েছেন, "দামী গাড়ীতে চড়ে গরুটি অন্তত খুশী"। কেউ লিখেছেন, "ম্যালিবু গাড়িতে করে বিয়ের কনের মত এসেছে বাছুর"। জেনারেল মোটরসের এই অ্যামেরিকান ব্রান্ড ম্যালিবু শেভ্রলে উজবেকিস্তানে ভীষণ জনপ্রিয়। শেভ্রলের দাম এখন বিশ্বব্যাপী অনেক কমে গেলেও, ৩০ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি দামের, মালিবু শেভ্রলে এখনো বেশ দামী। আর উজবেকিস্তানের বাজারে এটি সবচেয়ে দামী গাড়ীর অন্যতম। পুলিশ বলছে, চুরি করা গবাদি পশু সীমান্তে বিক্রি করে দিত সংঘবদ্ধ চোরের দল। আর গাড়ীটিও চুরি করা গাড়ি। তবে গাড়ীর মালিকের সন্ধান এখনো পায়নি পুলিশ। এসএইচ/

কে ছিলেন উইনি ম্যান্ডেলা?  

দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা এবং সাবেক ফাস্টলেডি উইনি মাদিকিজেলা-ম্যান্ডেলা ৮১ বছর বয়সে মারা গেছেন। তিনি ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কালো প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার সাবেক স্ত্রী। বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের কারণে নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে তিনিও কারাবন্দী হন এবং প্রায় তিন দশক ধরে তারা ছিলেন বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের প্রতীক। যদিও পরবর্তীতে নানা আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতায় তার সে সুনাম অনেকটাই ক্ষুন্ন হয়েছে। তিনি ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার রাজনীতির অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তি। দেশটির বহু মানুষের কাছে তিনি ছিলেন `জাতির মাতা`। নেলসন ম্যান্ডেলা জেলে যাবার পর উইনি তার বর্ণবাদ বিরোধী লড়াই চালিয়ে যান। ১৯৩৬ সালে দেশটির তৎকালীন ট্রান্সকেই যা এখন ইস্টার্ন কেপ, তার জন্ম হয়। তিনি একজন প্রশিক্ষিত সমাজসেবী ছিলেন, এবং কাজ করতে গিয়েই ১৯৫০ সালে তার সঙ্গে নেলসন ম্যান্ডেলার পরিচয় হয়। নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে তার বিয়ে ৩৮ বছর টিকে ছিল। যদিও নেলসন ম্যান্ডেলার দীর্ঘ কারাজীবনের কারণে তাদের দাম্পত্যের বড় সময়টিই তার পরস্পরের থেকে দূরে ছিলেন। ১৯৯৬ সালে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। নেলসন ম্যান্ডেলা যখন জেলে যান, উইনি বর্ণবাদ বিরোধী লড়াই চালিয়ে যান। নেলসন ম্যান্ডেলার যেদিন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ হয়, সেদিন সমর্থকদের উদ্দেশ্যে উইনি বলেছিলেন, আমার এবং আমাদের কারোই কখনো আশা ছাড়া উচিত হবে না। আসলে আমি মনে করি এ আন্দোলন চলতেই থাকবে। যদিও পরে তিনি নানারকম স্ক্যান্ডাল ও বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। তার অনেক বক্তব্য নিয়েই বিতর্ক আছে। যেমন, নেকলেসিং নামে এক চর্চার তিনি প্রশংসা করেছিলেন বলে শোনা যায়, যে প্রথায় সন্দেহভাজন তথ্য পাচারকারীর গলায় জ্বলন্ত টায়ার ঝুলিয়ে দেওয়া হতো। এছাড়া আশির দশকে তিনি এএনসির অন্য সদস্যদের নিয়ে তিনি সোয়েতোর এক অংশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন বলেও শোনা যায়। ১৯৯১ সালে অপহরণের দায়ে তার সাজা হয় এবং ছয় বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। আপীলের পরে যদিও সে দণ্ড কমিয়ে তাকে জরিমানা করা হয়। ২০০৩ সালে ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত ঘটনায় প্রতারণার অভিযোগে তার সাজা হয়। কিন্তু এসবের পরেও তাকে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর ভাবা হয়। তিনি সব সময় গরিব কালো দক্ষিণ আফ্রিকানদের জন্য কথা বলেছেন। তিনি সবসময় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থেকে গেছেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এএনসির একজন সংসদ সদস্য ছিলেন। তথ্যসূত্র: বিবিসি।   আর/এসএইচ/

অকালেই মারা যেতে পারেন মুরসি: ব্রিটিশ সংসদ

মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসি অকালেই মরে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট। বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি মুরসিকে একটি জঘণ্য কারাগারে রেখেছেন, আর সেখানেই মানষিক নির্যাতনের মাধ্যমে তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও ব্রিটিশ সংসদের একটি কমিটি অভিযোগ করেন। গত বুধবার ব্রিটিশ সাংসাদ ও আইনজীবীদের একটি প্যানেলের প্রতিবেদনে বলা হয়, মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসিকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা না দেওয়ায় যে কোন সময় মৃত্যুর কাছে পরাজয় বরণ করতে পারেন দেশটিতে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুরসি। বিশেষ করে ডায়াবেটিস ও লিভার রোগের কোন চিকিৎসাসেবা প্রদান না করায় তার স্বাস্থ্য ক্রমশই খারাপ অবস্থার দিকে যাচ্ছে বলে মত দেন তারা। এদিকে মুরসির প্রতি যে অবিচার করা হচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মত দেন প্যানেলের সদস্যরা। শুধু তাই নয়, সিসিকে নির্যাতনের জন্য আবদেল ফাত্তাহ আল সিসিকে অভিযুক্ত করে ওই প্যানেল। ব্রিটিশ সাংসদদের প্যানেল এমন সময় এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে যখন স্বৈরশাসক সিসি আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনে দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। ২০১১ সালে প্রেসিডেন্ট সিসি দেশটির প্রথমবারের মতো নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনীত হন। তবে এক বছরের মাথায় তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিশরের জনগণ। ২০১৩ সালের প্রথমদিকে দেশটির ক্ষমতা দখল করে আবদেল ফাত্তাহ আল সিসিরি নেতৃত্বাধীন মিশরের সেনাবাহিনী। এরপর সিসিকে গ্রেফতার করে মিশরের নির্যাতন সেল খ্যাত টুরা প্রিজনে পাঠানো হয়। এর পর তিন মামলায় তাকে ৪৮ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। প্রেসিডেন্ট ভবনের বাইরে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার আদেশ দেওয়ায় তাকে ২০১৫ সালে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। এরপর ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে আরও ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। ২০১৭ সালে আদালত অবমাননার দায়ে তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। জানা যায়, টুরা প্রিজনে গত তিন বছর ধরে একটি কক্ষে একাই থাকেন মুরসি। ওই কক্ষে তার সঙ্গে কাউকে মিশতে দেওয়া হয় না। শুধু তাই নয়, তার শরীরে অবস্থা ক্রমশ খারাপের দিকে গেলেও তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে না। ব্রিটিশ সংসদের ওই প্যানেল আরও জানায়, তারা মুরসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চায়। তার শারীরিক অবস্থা কেমন আছে, তা দেখারও দাবি জানায় সংগঠনটি। সূত্র: আল-জাজিরাএমজে/

গায়ের রংয়ের ওপর নাগরিকত্ব দেয় যে দেশে

টনি হেজ ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বসবাস করছেন লাইবেরিয়াতে। সেখানেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন তিনি। বিয়ে করেছেন। সফল ব্যবসা গড়ে তুলেছেন। লাইবেরিয়াতে যখন যুদ্ধ সহিংসতা হয়েছে, সেদেশেরই অনেক নাগরিক তখন দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও, তিনি কোথাও যাননি। কিন্তু তারপরও হেজ সেদেশে একজন দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক। নাগরিক বলাও ঠিক নয়, কারণ এত বছরেও তিনি সেখানে নাগরিকত্ব পাননি। কারণ তার গায়ের রং কালো নয় এবং তার পিতৃপুরুষের দেশ লেবানন। পশ্চিম আফ্রিকায় রাষ্ট্র হিসেবে লাইবেরিয়া প্রতিষ্ঠা হয়েছিল আমেরিকাতে মুক্তি পাওয়া দাসদের জন্য। তারা যাতে আফ্রিকায় ফিরতে পারে। ঐতিহাসিক কারণেই তখন সেদেশের প্রথম সংবিধানে একটি ধারা জুড়ে দেওয়া হয়েছিল যে কোনো ব্যক্তি যদি আফ্রিকান বংশোদ্ভুত না হন, তাহলে তিনি লাইবেরিয়াতে নাগরিকত্ব পাবেন না। কয়েকশ বছর পর লাইবেরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট সাবেক ফুটবলার জর্জ উইয়াহ ওই বিধানকে ‘অযথা এবং বর্ণবাদী’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, লাইবেরিয়া সৃষ্টির যে মূল চেতনা এই বিধানে নষ্ট হচ্ছে। কারণ, তার কথা, লাইবেরিয়া তৈরি হয়েছিল মুক্ত মানুষের আশ্রয় হিসেবে, কিন্তু বর্ণের ভিত্তিতে বৈষম্য সেই চেতনার বিরোধী। তবে এই কথায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন অনেক লাইবেরিয়। ব্যবসায়ী রুফুস ওলাগবো বিবিসিকে বলেন, ‘সাদা মানুষরা আবারও আমাদের দাস বানিয়ে ছাড়বে।’ তার মতে, অন্য দেশ থেকে মানুষকে সম্পত্তির অধিকার দেওয়াটা হবে বিপজ্জনক। নতুন প্রেসিডেন্ট যাতে অন্য দেশের, অন্য বর্ণের মানুষদের নাগরিক অধিকার না দিতে পারেন সেই লক্ষ্যে একটি সংগঠন তৈরি হয়েছে সম্প্রতি। সংগঠনের নেতা ফুবি হেনরিস বলেন, ‘সৃষ্টির সময় প্রতিটি দেশের একটি ভিত্তি থাকে, সেটাকে নাড়া দিলে জাতি এবং দেশ ভেঙ্গে পড়বে’। প্রচুর খনিজ সম্পদ থাকা স্বত্বেও, মাথাপিছু গড় আয়ের বিবেচনায় বিশ্বের ২২৮টি দেশের তালিকায় লাইবেরিয়ার অবস্থান ২২৫। গত বছর লাইবেরিয়ার মাথাপিছু আয় ছিল বছরে ৯০০ মার্কিন ডলার যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের আয় ৫৯ হাজার ৫০০ ডলার। প্রেসিডেন্ট উইয়াহ যুক্তি দিচ্ছেন- লাইবেরিয়া ভঙ্গুর একটি দেশে পরিণত হয়েছে, একে টেনে তুলতে হবে। বছরের পর বছর ধরে গৃহযুদ্ধ এবং সম্প্রতি ইবোলা ভাইরাসে বিধ্বস্ত লাইবেরিয়ার জনগণের কাছে প্রেসিডেন্টর এই বক্তব্য আশার সঞ্চার করে। কিন্তু নাগরিকত্বের আইনসহ অন্য কিছু আইন পরিবর্তনের সম্ভাবনায় আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে সেই সঙ্গে। বিদেশিদের নিয়ে সন্দেহ লাইবেরিয়াতে নতুন কিছু নয়। সেখানকার লেবানিজ কম্যুনিটিও তাতে অভ্যস্ত। মনরোভিয়ায় তার বাড়িতে বসে হেজ বিবিসিকে বলেন, অনেক মানুষের ভয় বিদেশিরা এসে তাদের দেশ দখল করে নেবে। এই আশঙ্কা একেবারেই ভিত্তিহীন। ১৯৭০ এর দশকে লাইবেরিয়াতে লেবানিজদের সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার। এখন বড়জোর ৩০ হাজার। তবে এখনও সেদেশের বড় বড় কিছু হোটেলসহ অনেক ব্যবসার মালিক তারা। কেউই নাগরিকত্ব পাননি। ‘আমি আমার ১৫তম জন্মদিন পালন করি লাইবেরিয়াতে। এখানে আসার জন্য কখনই অনুশোচনা করিনি। আমি সবসময় আশা করেছি যে একদিন আইন পরিবর্তন হবে। আমি খুশি যে প্রেসিডেন্ট লাইবেরিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছেন।’ তথ্যসূত্র: বিবিসি। একে//এসএইচ/

মারা গেছে পৃথিবীর শেষ পুরুষ নর্দান সাদা গণ্ডার

মৃত্যু হল পৃথিবীর শেষ পুরুষ নর্দান সাদা গণ্ডারের। গতকাল সোমবার সুদান নামের এই গণ্ডারটি বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। প্রায় বিলুপ্ত হওয়া গন্ডারের দুইটি প্রজাতির মধ্যে একটি হচ্ছে নর্দান সাদা গন্ডার। এই প্রজাতির একমাত্র জীবিত পুরুষ গন্ডার ছিল সুদান। কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবির ওল পেজেটা কনজারভেটরিতে থাকত সুদান। সেখানকার চিকিৎসক দল আজ মঙ্গলবার সুদানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ঐ কনজারভেটরির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপি জানায়, ৪৫ বছর বয়সী সুদান বয়সের কারণেই মৃত্যুবরণ করে। গতকাল সোমবার সুদানের শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ হয় যে, সে আর উঠে দাড়াতে পারছিল না। সুদানের চামড়ায় কিছু ক্ষত হয়েছিল আর তার পিছনের ডান পায়ে সংক্রমণ হয়েছিল। সবশেষে সুদানের মাংসপেশী আর হাড় এতটাই নমনীয় হয়ে যায় যে, সে আর উঠে দাড়াতে পারছিল না। চিকিৎসকেরা বলছেন যে, “সম্ভাব্য সকল চেষ্টার পরেও সবাইকে কাঁদিয়ে সবার আদরের ‘সুদান’ শেষমেশ মারা যায়”। এই প্রজাতির শেষ পুরুষ প্রতিনিধি ‘সুদান’ রীতিমত তারকা খ্যাতিপ্রাপ্ত ছিলেন। প্রতি বছর সুদানকে এক নজর দেখতে কেনিয়ার ঐ অবজারভেটরিতে ভিড় জমাতেন দর্শনার্থীরা। গত বছর ডেটিং অ্যাপ টিন্ডার পরিচালিত এক জরিপে সুদানকে “পৃথিবীর সবথেকে যোগ্য ব্যাচেলর” হিসেবে মনোনয়ন করে টিন্ডার ব্যবহারকারীরা। ওল পেজেটা কনজারভেটরির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিচার্ড ভিগনে বলেন, “তার প্রজাতির এক মহান প্রতিনিধি ছিল সুদান। শুধু গণ্ডারই না বরং অন্যান্য বিলুপ্ত প্রায় প্রাণীর সংরক্ষণে সচেতনতা তৈরি ও বৃদ্ধিতে সুদানের ভূমিকার জন্য সবাই তাকে মনে রাখবে”। পোচারদের (বন্য প্রাণী শিকারকারী) হাত থেকে রক্ষার জন্য সুদানের দুই মেয়ে নাজীন এবং ফাতুসহ সুদানকে চেক প্রজাতন্ত্রের একটি চিড়িয়াখানায় রাখা হয়। ২০০৯ সালে সেখান থেকে তাদের কেনিয়ার এই পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করা হয়।     প্রজাতির সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য সুদানকে নারী সঙ্গীর সাথে রাখা হয়। তবে দুই জনের মধ্যে বেশ কয়েকবার মিলন হলেও নতুন কোন সদস্য জন্ম দিতে পারেনি সুদান। তবে নর্দান সাদা গণ্ডারের প্রজাতি টিকিয়ে রাখতে গবেষকেরা কৃত্তিম শুক্রাণুর সাহায্য নিচ্ছেন। আগে থেকে সংগ্রহ করে রাখা অন্য নর্দান সাদা গণ্ডারের শুক্রাণুর সাথে সুদানের দুই মেয়ের ডিম্বাশয়ের সাথে মিলিত করা হবে। কেনিয়ার এই পরিচর্যাকেন্দ্রের গবেষকদের দাবি যে, এটাই এখন এই প্রজাতির গণ্ডারকে বাঁচিয়ে রাখার একমাত্র উপায়। একসময় আফ্রিকা মহাদেশ জুড়ে প্রায় ২০ হাজার সাদা গন্ডার ছিল। চাঁদ, সুদান, উগান্ডা, কঙ্গো এবং কেন্দ্রীয় আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র এলাকাগুলোতে এ প্রজাতির গন্ডার বিচরণ করত। তবে গত শতক আগে এখানে মাত্র ১০০টি সাদা গণ্ডার অবশিষ্ট ছিল। আফ্রিকা মহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গত শতকে হওয়া বিভিন্ন যুদ্ধ আর গৃহযুদ্ধের কারণে এ প্রজাতির বিলুপ্তি হয়েছে বলে ধারণা প্রাণী বিশেষজ্ঞদের। পাশাপাশি গণ্ডারের শিং শিকারকারী অবৈধ পোচারদের কারণে সাউদার্ন সাদা গণ্ডার এবং কালো গণ্ডারের বিভিন্ন প্রজাতিও প্রায় বিলুপ্তির পথে। সূত্র: এপি/ইন্ডিয়া ট্যুডে //এস এইচ এস//টিকে

সিনাইয়ে সিসি বাহিনীর হামলায় নিহত ১৬

মিশরের সিনাইয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ১৬ দায়েস কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া দায়েস কর্মীদের পাল্টা হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর এক কর্মকর্তা ও এক সেনা নিহত হয়েছেন। গতকাল রোববার দেশটির সিনাইয়ে দায়েস বাহিনীর উপর হামলা চালায় সিসির সরকারি বাহিনী। আগামী ২৬ মার্চের মধ্যে সিনাই থেকে দায়েসদের উৎখাতে নিরাপত্তা বাহিনীকে টাইমলাইন বেঁধে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি। গত নভেম্বরে দেশটির সিনাই উপদ্বীপে একটি মসজিদে হামলা চালিয়ে ৩০০ জনেরও বেশি পূণ্যার্থীকে হত্যার পর সিসি দায়েস কর্মীদের উপর দোষ চাপান। তবে ওই হামলার দায় কেউ স্বীকার করেনি। এরপরই দায়েস গোষ্ঠীকে নির্মূলে নিরাপত্তা বাহিনীকে আদেশ দেন সিসি। এদিকে দায়েস গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে একটি রুশ বিমানকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ারও অভিযোগ আনা হয়েছে। ওই হামলায় বিমানে আরোহী ২২৪ যাত্রীর সবাই নিহত হন। সিরিয়া ও ইরাকে দায়েসদের পতনের পর তারা সিনাইয়ে আশ্রয় নিয়েছে। সূত্র: গালফ নিউজেএমজে/

নানগাওয়ার বিপক্ষে শক্তিশালী দল গঠন করছেন মুগাবে

দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা জিম্বাবুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে তার বর্তমান দল জানুপিএফ পার্টির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী দল গঠন করছেন বলে অভিযোগ করেছেন রবার্ট নানগাওয়া। সম্প্রতি জিম্বাবুয়ের গণমাধ্যমে এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই রবার্ট নানগাওয়া এ অভিযোগ করেন। এদিকে এ অভিযোগ প্রমাণিত হলে শিগগিরই মুগাবেসহ বাকিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন নানগাওয়া। এদিকে ক্ষমতাচ্যূত প্রেসিডেন্ট জানুপিএফ পার্টির সাবেক প্রধান মুগাবের এমন তৎপরতায় দলের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেকের ধারণা, নতুন করে গড়ে ওঠা নিউ প্যাট্রিয়টিক ফন্ট (এনপিএফ) নামের দলটিই আগামীতে জানুপিএফের বিরুদ্ধে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হবে। শুধু তাই নয়, এ দলটি জানুপিএফকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারে। এদিকে এনপিএফকে মুগাবের স্ত্রী গ্রেস মুগাবের দল জিফোরটির পরিবর্তিত রূপ বলে মনে করছেন জানুপিএফের নেতারা। এনপিএফের প্রধান হিসেবে সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও স্বাধীনতাযুদ্ধের অন্যতম নায়ক অ্যমব্রোস মুতিনহিরিকে এর প্রধান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া আগামী নির্বাচনে তাকে নানগাওয়ার প্রতিপক্ষ ঘোষণা করেছে দলটি। গত শুক্রবার মুতিনিহিরি জানুপিএফ পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছেন। একইসঙ্গে তিনি সংসদ থেকেও পদত্যাগ করেছেন। এদিকে পদত্যাগের পরপরই মুগাবের সঙ্গে দেখা করেন মুতিনিহিরি। এরপরই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, মুগাবের নির্দেশেই ওই নতুন দল গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া নানগাওয়ার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মুতিনিহিরিকে তিনিই মনোনীত করেছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। উল্লেখ্য, গত বছরের ২১ নভেম্বর সেনাবাহিনীর চাপের মুখে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ান মুগাবে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, স্ত্রী গ্রেস মুগাবেকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নানা আয়োজন করছিলেন মুগাবে। এরপরই তাকে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে হয়। সূত্র: সিনহুয়াএমজে/

সেই ১১০ কিশোরী উদ্ধারে সেনা মোতায়েন

নাইজেরিয়ায় অপহৃত ১১০ কিশোরী উদ্ধারে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মাঠে নামিয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ বুহারি। জঙ্গিগোষ্ঠী বোকো হারামের সদস্যরা গত সপ্তাহে একটি স্কুলে হামলা চালিয়ে ওই কিশোরীদের অপহরণ করে নিয়ে যায়। এদিকে এ ঘটনাকে জাতীয় দুর্যোগ আখ্যা দিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ বুহারি ওই কিশোরীদের পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। এদিকে ডাপাচির এলাকার ওই স্কুলের নিকটবর্তী চেকপোস্ট থেকে সেনাসদস্যদের প্রত্যাহারের এক মাসের মধ্যেই বোকোহারামের সদস্যরা এই ভয়ালযজ্ঞ চালায়। এতে ওই কিশোরীদের পরিবারসহ স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। জানা যায়, দুপাচির সরকারি বালিকা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজে গত সোমবার হামলা চালায় বোকোহারামের সদস্যরা। এতে বহু শিক্ষার্থী পালিয়ে আশেপাশের বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নেন। তবে ওই হামলার পর ১১০ কিশোরীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া ১১০ কিশোরী পরিবারেও ফিরে যায়নি। প্রথমদিকে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই কিশোরীরা অপহৃত হননি। বরং তারা কোথাও লুকিয়ে আছেন। তবে পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি বিবৃতিতে জানায়, সেখান থেকে অন্তত ১১০ কিশোরী অপহৃত হয়েছেন। সূত্র: বিবিসিএমজে/

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি