ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৮ ৫:১২:০৯

মিশরে সেনা অভিযানে নিহত ৫২

মিশরে সেনা অভিযানে নিহত ৫২

মিশরের সিনাই উপদ্বীপে সেনা বাহিনীর হামলায় অন্তত ৫২ যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। দীর্ঘদিন ধরেই সশস্ত্র জঙ্গিদের বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী। গত রোববার দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী এক বিবৃতিতে এই কথা জানান। গত কয়েকদিনের অভিযানে তাদের মৃত্যু হয় বলে জানিয়ে সেনারা বলেন, গোলাগুলিতে ৫২ জন জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে। উত্তর সিনাই ও দ্বীপটির কেন্দ্রীয় অঞ্চলে এ অভিযান চালায় দেশটির সেনাবাহিনী। ২০১৩ সালের পর থেকে দেশটিতে জঙ্গি হামলা বেড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সেনারা। তাদের দাবি মুরসিকে উৎখাতের পর দেশটি জঙ্গি হামলার সংখ্যাও বেড়েছে। সূত্র:আলজাজিরাএমজে
আদালতেই সুরাহা চান বিরোধী জোটের প্রধান

নগরের ফলাফলে এগিয়ে ছিলেন বিরোধী দলের প্রধান চ্যামিশা। কয়েকটি নগরীর ফলাফল ঘোষণার পরই নিজের বিজয়ও ঘোষণা করেছিলেন তিনি। তবে নির্বাচনের ফলাফল যতই ঘোষণা হতে থাকে, ততই পিছিয়ে যান চ্যামিশা। আর ধীরে ধীরে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে চলে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী রবার্ট নানগাওয়া। এদিকে ফলাফর ঘোষণায়ও নাটকীয়তা দেখা দিয়েছিল। নির্বাচনের একদিন পর্যন্ত ফল ঘোষণা স্থগিত রাখে নির্বাচন কমিশন। আর ওই সময়ের মধ্যেই নির্বাচনে মেকানিজম হয়েছে বলে অভিযোগ করেন চ্যামিশা। সেনা সমর্থনের নানগাওয়াকে জেতাতেই নির্বাচন কমিশন ফল ঘোষণা স্থগিত করেছিল বলে জানান তিনি। একইসঙ্গে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামলাতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে শলাপরামর্শ করেছে নির্বাচন কমিশন। এসব অভিযোগে বিরোধী জোট এমডিসি জিম্বাবুয়ের সাংবিধানিক আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। তাদের অভিযোগ নানগাওয়াকে জেতাতে কারচুপি করেছে নির্বাচন কমিশন। জানুপিএফ পার্টির নেতা রবার্ট নানগাওয়া যাতে ক্ষমতায় বসতে না পারে সেজন্যই আই আবেদন বলে জানা গেছে। এদিকে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ানোর ফলে, নানগাওয়ার দায়িত্বগ্রহণ অনেকটাই আদালতের আদেশের উপর ঝুলে গেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এর আগে গত ১লা আগস্ট ভোট ডাকাতির নানা অভিযোগসহ জিম্বাবুয়েতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করে দেশটির নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, জানু পিএফ পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। অন্যদিকে ডেমোক্রেটিক চেঞ্জ ফল মুভমেন্টও দারুণ পারফরমেন্স করে, তবে তাদের বিরোধী দল হিসেবেই সন্তুষ্ঠ থাকতে হয়। নির্বাচনী আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে থাকে। সে হিসেবে নানগাওয়া-ই দেশটির পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার কথা। এদিকে ফল ঘোষণার আগে বিরোধীদলের প্রধান ও প্রেসিডেন্ট প্রার্থী নিজের বিজয় ঘোষণা করেন। এর আগে ফল ঘোষণায় দেরি করার জন্য নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এক হাত নেন চ্যামিশা। নির্বাচনে অনিয়ম ও ভোট ডাকাতি হয়েছে বলেও অভিযোগ আনেন চ্যামিশা। শুধু তাই নয়, নগরের আসনগুলোর ফল ঘোষণার পরই রাস্তায় নেমে পড়ে লাল টি শার্ট পড়া বিরোধীরা। এসময় তাদের হঠাতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে লাগাতার আন্দোলনে জায় বিরোধী দলীয় জোট। পুলিশও শক্তি প্রয়োগ করে। এতে পুশিশসহ বেশ কয়েকজন নিহত হন। এ ঘটনার রেশ ধরে জাতিসংঘসহ পশ্চিমাবিশ্ব সহিংসতা পরিহারের দাবি জানায়। পরবর্তীতে বিরোধী দলীয় জোট রাজপথ ছেড়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সূত্র: বিবিসি, আল-জাজিরাএমজে/              

ফল প্রত্যাখ্যান, আদালতে যাচ্ছেন চ্যামিশা

জিম্বাবুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে বিহীন নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করেছে বিরোধী দল মুভমেন্ট ফর ডেমোক্রেটিক চেঞ্জ। দলটির প্রধান নেলসন চ্যামিশা নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, আদালতেই এর ফায়সালা হবে। নিজের জয় দাবি করে তিনি বলেন, নির্বাচনের ফল কেড়ে নিয়েছে জানু পিএফ পার্টি। চ্যামিশা বলেন, আমরা নির্বাচনে জয়ী হয়েছি, তাই সরকার গঠন করতে আমরা প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু আমাদের ফল কেড়ে নেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দেশটির নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ করেন। নির্বাচনে ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে নানগাওয়া বিজয়ী হয়েছেন বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এদিকে কেবল নির্বাচন নিয়েই নয়, রবার্ট মুগাবের বন্দি দশা নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি। মুগাবেকে গণমানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি । এসময় তিনি বলেন, আমরা এই ভুয়া ফল প্রত্যাখ্যান করছি। শিগগিরই এই ফল নিয়ে আদালতে যাচ্ছি আমরা। আশা করছি, আদালতে আমরা ন্যায় বিচার পাবো। এমজে/

জিম্বাবুয়েতে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ৩, জাতিসংঘের উদ্বেগ

জিম্বাবুয়েতে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় সেনাবাহিনীর গুলিতে তিনজন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী। জানা গেছে, রাজধানী হারারেতে সরকার বিরোধী বিক্ষোভে সেনাবাহিনী গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই ৩ জন নিহত হন। আহত হন অন্তত ডজন খানেকেরও বেশি মানুষ। এরই মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে সহায়তা করতে হারারের কেন্দ্রস্থলে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের গুলির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিরোধী জোট এমডিসি। পুলিশে ও সেনাবাহিনীর যৌথ হামলাকে রবার্ট মুগাবের সময়কার ‘অন্ধকার দিন’র সঙ্গে তুলনা করেছেন তারা। গতকাল দেশটির জাতীয় নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরই ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। নির্বাচনে সেনা সমর্থিত জানুপিএফ পার্টিকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তবে দেশটির নগরগুলোতে ব্যাপক ব্যাবধানে হারে জানু পিএফ পার্টি। নির্বাচনে কারচুপি, ভোট ডাকাতি ও সেনা হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনে বিরোধী দল মুভমেন্ট ফর ডেমোক্রেটিক চেঞ্জ গতকাল থেকেই আন্দোলন শুরু করে। এদিকে সব আসনের ফল এখনও পর্যন্ত ঘোষণা না করা হলেও, বর্তমান প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাওয়া ও তার দল জানুপিএফ পার্টি-ই যে ক্ষমতার মসনদে বসতে যাচ্ছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এর আগে নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করে বার্তা দিয়েছিলেন বিরোধীদলের প্রধান প্রার্থী চ্যামিশা। এদিকে জিম্বাবুয়েতে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ ও ব্রিটেন। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্থোনিও গুতেরেস জিম্বাবুয়ের সব দলকে সহিংসতা পরিহারের নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হারিয়েট বাডিন বলেন, জিম্বাবুয়েতে সহিংসতার ঘটনায় ব্রিটেন মারাত্মকভাবে উদ্বিগ্ন। এদিকে হারারেতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর এক বিবৃতিতে দেশটির সেনাবাহিনীকে বলপ্রয়োগ বন্ধে আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সেনাবাহিনীর বল প্রয়োগের বিয়ষটি খতিয়ে দেখতে সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন। এমজে/

জিম্বাবুয়ের নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের জয়

ভোট ডাকাতির নানা অভিযোগসহ জিম্বাবুয়েতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনে ক্ষমাতসীন দল জানু-পি-এফ পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বলে আজ মঙ্গলবার ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, জানু পিএফ পার্টি ১০৯ আসনে জয় লাভ করে। অন্যদিকে বিরোধীদল মুভমেন্ট ফর ডেমোক্রেটিক চেঞ্জ ৪১ আসনে জয় পায়। এখনো ৫৮ আসনের ফল ঘোষণা করা হয়নি বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এদিকে গ্রামের আসনে প্রায় সবকটিতেই জয়লাভ করেছে জানুপিএফ পার্টি। তবে শহরের আসনগুলোতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক চেঞ্জ। এদিকে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশটিতে ২১০ আসনের বিপরীতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এদিকে সরকার গঠন করে সংবিধান পরিবর্তন করতে হলে জানু পিএফ পার্টিকে আরও ৩০ আসনে জয়লাভ করতে হবে। এদিকে নির্বাচনী আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার কথা রয়েছে। সে হিসেবে নানগাওয়া-ই দেশটির পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার কথা। এদিকে ফল ঘোষণার আগে বিরোধীদলের প্রধান ও প্রেসিডেন্ট প্রার্থী নিজের বিজয় ঘোষণা করেন। এর আগে ফল ঘোষণায় দেরি করার জন্য নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এক হাত নেন চ্যামিশা। নির্বাচনে অনিয়ম ও ভোট ডাকাতি হয়েছে বলেও অভিযোগ আনেন চ্যামিশা। শুধু তাই নয়, নগরের আসনগুলোর ফল ঘোষণার পরই রাস্তায় নেমে পড়ে লাল টি শার্ট পড়া বিরোধীরা। এসময় তাদের হঠাতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। সূত্র: রয়টার্সএমজে/

নিজের দলকে ভোট দিবেন না রবার্ট মুগাবে

জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজ দল জানু-পিএফ পার্টিকে বর্জন করেছেন দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে। নিজ দলের প্রার্থীর চেয়ে বিরোধী দলের প্রার্থী নেলসন চামিসাকে বেশি নির্ভরযোগ্য মনে করছেন তিনি। রোববার হারারেতে সাংবাদিকদের মুগাবে আরও বলেন, চামিসা নির্বাচনে জয় পেলে তিনি তার সঙ্গে দেখা করতে চান। ১৯৮০ সালে স্বাধীনতা লাভের পর জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ করেন রবার্ট মুগাবে। চার দশক ধরে ক্ষমতায় থাকার পর গত বছরের নভেম্বরে এক সেনা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। জিম্বাবুয়ের ক্ষমতাসীন দল জানু-পিএফ এর দলীয় প্রধানের পদ থেকেও প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবেকে বরখাস্ত করা হয়। মুগাবের স্থলাভিষিক্ত হন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসন এমনানগাগওয়া। এর দুই সপ্তাহ আগে ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ থেকে তাকে বরখাস্ত করেছিলেন মুগাবে। এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন ক্ষমতাসীন জানু-পিএফ পার্টির নেতা এমারসন এমনানগাগওয়া ও মুভমেন্ট অব ডেমোক্র্যাটিক চেঞ্জ (এমডিসি) নেতা নেলসন চামিসা। রোববার হঠাৎ করে হারারের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেন মুগাবে। সেসময় তিনি তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য নিজ দল জানু-এফ পার্টিকে দায়ী করেন। জানান, এ দলকে তিনি ভোট দেবেন না। মুগাবে বলেন, আমি ক্ষমতায় থাকা দলটিকে ভোট দিতে পারি না, তাদের জন্যই আমার আজ এই হাল। চামিসা সম্পর্কে মুগাবে বলেন, তার সমাবেশ দেখে বুঝেছি তিনি ভালো করছেন। তিনি জিতলে তার সঙ্গে দেখা করতে চাই। যেই জিতুক আমি তাকে ভালোভাবে শুভকামনা জানাব। রায় মেনে নিব। তথ্যসূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। এসএইচ/

মুগাবের অভিশাপ!

‘আমার এই ঘর ভাঙ্গিয়াছে যেবা, আমি বাঁধি তার ঘর। আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই, যে মোরে করেছে পর’। কাজী নজরুলের বিখ্যাত সেই অমর পঙক্তি কয়জনই বা তাদের জীবনে প্রয়োগ করতে পারে। না পারেননি রবার্ট মুগাবেও। তাইতো উত্তরসূরিকে দিয়েছেন অভিশাপ। বলছেন, নির্বাচনে কোনোভাবেই যেন জয় না পায় মুগাবে। আজ সোমবার দেশটিতে একই সঙ্গে অনুষ্টিত হতে যাচ্ছে জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন। এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাওয়া ও বিরোধী দলীয় নেতা নেলসন চ্যামিসার মধ্যে। এক প্যাগোডা থেকে দেওয়া বক্তব্যে মুগাবে (৯৪) বলেন, আমি বলবো নির্বাচনে আমার জানু পিএফ পার্টি হেরে যাবে। ক্ষমতা থেকে উৎখাত হওয়ার এই প্রথম কোনো উন্মুক্ত জায়গায় ভ্রমণে গিয়েছিলেন মুগাবে। এসময় তিনি বলেন, আগামীকালের নির্বাচনে সেনাবাহিনীর পতন হবে, জনগণের জয় হবে। জনগণের জয়ে দেশের সংবিধান সমুন্নত হবে। মুগাবেদের পতন ঘটবে। এসময় মুগাবে বলেন, আমি তাদের কখনোই ভোট দিবো না, যারা আমাকে কষ্ট দিয়েছে। শুধু তাই নয়, বিরোধীদল এমডিসিকেও ভোট দেওয়ার ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছেন ৯৪ বছর বয়সী এ রাজনীতিক। আর নানগাওয়ার পরাজয় চাওয়াটাতো অভিশাপ-ই ধরা হচ্ছে। সূত্র: বিবিসিএমজে/

নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন দলের সমালোচনায় মুগাবে

নির্বাচনের মাত্র একদিন আগে জিম্বাবুয়ের ক্ষমতাসীন দলের সমালোচনায় মুখর হলেন দেশটির সদ্য ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে। গত বছরের নভেম্বরে এক অভ্যুত্থানে তার ক্ষমতা হারানোর পর দেশটিতে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হতে যাচ্ছে সাধারণ নির্বাচন। এই নির্বাচনে যেন সেনা মদদপুষ্ট ক্ষমতাসীন দল জয় না পায় সেই আশাবাদ জানিয়েছেন মুগাবে। আজ রবিবার রাজধানীতে হারারাতে নিজের ব্যক্তিগত বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ৩৭ বছর জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট থাকা রবার্ট মুগাবে। তিনি বলেন, তার সরকারের সময় সামরিক বাহিণীর সাথে যে জোটবদ্ধ দল ছিল (বর্তমান ক্ষমতাসীন দল) সেটি যেন নির্বাচনে হেরে যায়। এসময় তিনি বর্তমান প্রেসিডেন্ট এমারসন নাংগাগোয়া’র সরকারকে ‘অসাংবিধানিক’ এবং ‘অস্ত্র শাসিত সরকার’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “আমি আশা করি আগামীকালের নির্বাচনের মাধ্যমে সামরিক সরকারকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি দেশে সাংবিধানিক সরকার ফিরে আসবে”। “কালকের দিনটা এমন দিন হোক যেদিন দেশের জনগণ এমন এক অভিজ্ঞতাকে ‘না’ বলবে যেখানে অস্ত্র দিয়ে জনগণের মনোনীত ব্যক্তিকে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়”-বলেন মুগাবে। দেশটিতে এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এমারসন নাংগাগোয়া এবং ৪০ বছর বয়সী আইনজীবী নেলসন চামিসা। চামিসা নির্বাচিত হলে তিনি হবেন দেশটির সর্বকনিষ্ঠ রাষ্ট্রনায়ক। তবে ধারণা করা হচ্ছে, সেনাবাহিনীর সমর্থন থাকায় দেশটির সাবেক গোয়েন্দা প্রধান এবং এক সময়ে মুগাবে’র সহযোগী এমারসনই প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হবেন। সূত্রঃ রয়টার্স //এস এইচ এস//    

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে মালিতে

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে আফ্রিকার দেশ মালিতে। ২০১৩ সালের শেষ নির্বাচনের পর বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর কর্মকান্ড বৃদ্ধি পাওয়ার মাঝেই চলছে এবারের নির্বাচন। স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। আজ রবিবার শুরু হওয়া এই নির্বাচনে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত আছেন প্রায় ৮০ লক্ষ মালিয়ান নাগরিক। ভোট গ্রহণের জন্য খোলা হয়েছে ২৩ হাজার ভোট গ্রহণ কেন্দ্র। আর নির্বাচনে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে মোতায়েন করা হয়েছে ৩০ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তা রক্ষী। রাজধানী বামাকো’র এক ভোটার আল-জাজিরা’কে বলেন, “আমার কাছে আমার ভোটিং কার্ড আছে। আমি ভোট দিতে যাচ্ছি; আমাদের দেশের জন্য আর আমার প্রিয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর জন্য”। এর আগে জাতিসংঘের এক রেডিও’তে মালিয়ানদের ভোটাধিকার প্রয়োগের আহবান জানান দেশটিতে নিযুক্ত জাতিসংঘ মিশনের প্রধান মাহামাত সালেহ আনাদিফ। তিনি বলেন, “প্রিয় মালিয়ানবাসী, আগের সমস্যার সাথে নতুন করে সমস্যা আনবেন না। শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য আজকের দিনটা ব্যবহার করুন এবং ফলাফল যাই হোক তার প্রতি সম্মান রাখুন”। ভোট গ্রহণের পরবর্তী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ফলাফল ঘোষণার কথা জানিয়েছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। আর আগামী শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে ভোটের ফলাফল। কোন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী যদি নূন্যতম ৫০ শতাংশ ভোট না পায় তাহলে দ্বিতীয় রাউন্ডে ভোট গ্রহণ করা হবে। আগামী ১২ আগস্ট দ্বিতীয় রাউন্ডের এই ভোট গ্রহণ করা হবে। এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম বউবাকার কেইতা। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সুমালিয়া সিজে। ধারণা করা হচ্ছে, সুমালিয়া সিজে’ই প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হবেন। আর এমনটা হলে দেশটিতে রচিত হবে নতুন ইতিহাস। মালির ইতিহাসে প্রেসিডেন্ট পদে থেকে নির্বাচন করে হেরেছেন কোন প্রার্থী এমন রেকর্ড আগে নেই। তবে বর্তমান প্রেসিডেন্টের শাসনামলে সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় হেরে যেতে পারেন ইব্রাহিম কেইতা। সূত্রঃ আল জাজিরা //এস এইচ এস//  

যে গ্রামে মৃতের সৎকার করে নারীরা

ক্যামেরুনের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর বেল্লো, এক সময় এটি ছিল একটি প্রসিদ্ধ বাণিজ্যিক কেন্দ্র, ছিল পারিবারের মতো একটি কমিউনিটি। যার নাম `কম`। একসময় এখানে ছিল সৌহার্দ্য, আনন্দবেষ্টিত একটি পরিবেশ। তবে সেই চিত্র বদলে গেছে। এখন সবখানেই শুধু মৃত্যুর গন্ধ। নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে শতাধিক পরিবার। কাউকে আবার আশ্রয় নিতে হয়েছে দূরের কোনও শহরে। এই পরিস্থিতির পেছনে দায়ি স্থানীয় আম্বাজোনিয়া ফ্রিডম ফাইটারস দল। ইংরেজি ভাষাভাষি ক্যামেরুনের এই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়টি গত কয়েক বছর ধরে একটি আলাদা রাষ্ট্র গঠনের দাবি জানিয়েছে। গ্রামের বেশিরভাগ তরুণ ভিড়ছে এই অস্ত্রধারীদের দলে। এখন বেল্লো গ্রামের প্রতিটি কোনায় এই সেনা সদস্যদের বিচরণ করতে দেখা যায়। যার পরিণতি হয় বেশ ভয়াবহ। শহরটিতে এখন যুদ্ধ-সহিংসতা এই শহরে যেন নিত্যদিনের ব্যাপার। তবে যুদ্ধের কারণে নৃশংসতা চলতি বছর সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। বেল্লোতে এই সেনারাই সম্ভবত একটি ভিডিও ধারণ করেছিল। সেটি স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে পাওয়া যায় যিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। শহরের বিভিন্ন অংশ প্রায়শই অজ্ঞাত মরদেহ পাওয়া যায় একদম জ্বলন্ত অবস্থায়। নোয়াম ফুটুঙ্গা, ৬০ বছর বয়সী ৫ সন্তানের মা বেলোতে তার পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি ছেড়ে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন রাজধানী ইয়ন্দোতে। যেদিন তার প্রিয় সন্তানকে তার সামনে গুলি করে হত্যা করে সেনারা। তারপর পরই তিনি ঘরছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যাই। তাকে বাঁচানো যায়নি। এরপর থেকে বেল্লোর নারীরা বিভিন্ন ঘটনায় আহতদের সাহায্য করে থাকে। কারণ পুরুষরা প্রতিনিয়ত প্রাণ হারানোর আতঙ্কে থাকে। এমন অবস্থায় মেয়েরাই এখন ছেলেদের ভূমিকা পালন করছে। একসময় মরা মানুষের গন্ধে পুরো শহর গুমোট হয়ে উঠেছিল। পরে আমরা নারীরাই মাটি খুঁড়ে তাদের কবর দিয়েছে। আমাদের সম্প্রদায়ে মেয়েদের এমন কাজ করার নিয়ম ছিল না। কিন্তু উপায় না পেয়ে আমাদেরই পুরুষদের এসব দায়িত্ব কাঁধে নিতে হয়েছে।’ পাশের জিনেকেজা গ্রামের চিত্র প্রায়ই একই রকম। এখানে নারীদের প্রিয়জন হারানোর শোকে বিলাপ করতে দেখা যায়। এখানকার নারীরাও গ্রামের বিভিন্ন ধারে পরে থাকা লাশগুলোকে খুঁজে বের করে সৎকারের ব্যবস্থা করে। এমন অনেক লাশই পাশে বয়ে যাওয়া নদীতে জোয়ারে তোড়ে ভেসে আসে। সেগুলোকে কবর দেওয়ার ব্যবস্থা করেন এই নারীরাই। অথচ কম সম্প্রদায়ে মৃতদের সৎকারে নারীদের সম্পৃক্ততার কোনও নিয়ম নেই। এইসব কাজের দায়িত্ব শুধুমাত্র পুরুষের। সম্প্রদায়ের প্রিন্স মনে করেন এই কারণে এই অঞ্চলে সামনে আরে অশুভ দিন ঘনিয়ে আসবে। ‘সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য অনুযায়ী একজন নারীর এমন কাজ করার কোনও সুযোগই নেই। যখন নিয়ম ভাঙ্গা হয় তখন আমাদের ওপর দিয়ে অনেক দুর্যোগ বয়ে যায়। তবে এজন্য নারীদের দোষারোপ করারও কোনও উপায় নেই। কারণ যা হচ্ছে, এতে কারো কোনও হাত নেই।’ ক্যামেরুনের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের এই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য ও প্রথা রক্ষার ব্যাপারে বেশ সচেতন। তবে সম্প্রতি এই অ্যাম্বাজোনিয়া সেনাদের কারণে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় বদলে গেছে দৃশ্যপট। সূত্র: বিবিসি একে//

দ.আফ্রিকায় বন্দুকধারীদের হামলা ১১ ট্যাক্সি চালক নিহত

দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্দুকধারীদের ১১ জন বাস ট্যাক্সি চালক নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও চার জন। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে দেশটির উপকূলীয় প্রদেশে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, নিহত এবং আহত ব্যক্তিরা গটিং প্রদেশ থেকে জোহানেসবার্গে ফিরে আসছিলেন। এর আগে উপকূলীয় কুয়া-জুলু-নাটাল এলাকায় নিজেদের আরেক সাবেক সহকর্মীর শেষকৃত্য অনুষ্ঠান শেষে ফিরছিলেন তারা। এসময় কোলেনসো এবং উইনেন শহরের মাঝামাঝি একটি জায়গায় নিহতদের বহনকারী গাড়িতে হামলা চালায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা। এই হামলার সঠিক কারণ এখনও জানা না গেলেও, পুলিশের ধারণা ট্যাক্সি ব্যবসার বিরোধী কোন পক্ষ থেকে এই হামলা করা হয়। সাড়ে পাঁচ কোটি মানুষের  দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় ট্যাক্সি বাস সার্ভিস বেশ জনপ্রিয়। আর তাই এই নিয়ে দলাদলি এবং ব্যবসায়িক শত্রুতায় প্রায়ই হামলা-পালটা হামলার ঘটনা ঘটে দেশটিতে। পুলিশের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জে নাইকার জানান, “এটা একটা অ্যাম্বুস হামলা ছিল। ১১ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং গুরুতর আহত হন ৪ জন। আহতদেরকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে”। তিনি আরও বলেন, “এই অঞ্চলে প্রায়ই ট্যাক্সি নিয়ে বিরোধের জেরে এমন হামলা হয়। তবে আমরা তদন্ত করে দেখছি যে, এই ঘটনার পেছনে প্রকৃত দায়ী কারা”। গত সপ্তাহেও পৃথক দুই ঘটনায় তিন ট্যাক্সি চালক নিহত হয় দক্ষিণ আফ্রিকায়। এরমধ্যে দুই জন পুলিশি নিরাপত্তায় থাকা অবস্থায় নিহত হন। তারও আগে গত মে মাসে এক সপ্তাহেই বিভিন্ন গ্রুপে ১০ জন বাস ট্যাক্সি চালক নিহত হয়েছিলেন। সূত্রঃ বিবিসি //এস এইচ এস//  

বাংলাদেশে যে কারণে আম খেতে চেয়েও পাননি ম্যান্ডেলা

দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার শততম জন্মবার্ষিকী পালিত হচ্ছে আজ বুধবার ১৮ জুলাই, যে দিনটি নেলসন ম্যান্ডেলা দিবস বলে ঘোষণা করেছে জাতিসংঘ। নোবেল পুরস্কার বিজয়ী নেলসন ম্যান্ডেলা বাংলাদেশে এসেছিলেন ১৯৯৭ সালের ২৫ মার্চ। তখন তিনি আম খেতে চেয়েছিলেন কিন্তু পাননি। কিন্তু কেন? বাংলাদেশের স্বাধীনতার রজত জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাকেসহ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাত আর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট সুলেমান ডেমিরেল। সেটাই ছিল বাংলাদেশে তার প্রথম এবং শেষ সফর। ফিলিস্তিন আর তুরস্কের দুই নেতার সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলা বাংলাদেশে আসেন ১৯৯৭ সালের ২৫ মার্চ সকালে। তিনদিনের সেই সংক্ষিপ্ত সফরে তিনি ছিলেন ঢাকায় তখনকার হোটেল শেরাটনে, যা এখন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল নাম নিয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জমির তখন ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব। ম্যান্ডেলার সঙ্গে তার হোটেল কক্ষে দেখা করতে গিয়েছিলেন  জমির। তিনি বলছেন, নেলসন ম্যান্ডেলা জানতেন যে, আমি আসছি। তার কক্ষে প্রবেশের পর তিনি উঠে দাঁড়িয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরেন। এর আগে বিদেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার মুক্তির পক্ষে আমি অনেক কথা বলেছিলাম। সেগুলো স্মরণ করে তিনি আমাকে একজন বন্ধু বলে সম্বোধন করেন। তিনি আমাকে তার একটি ছবি উপহার দেন, যেখানে লেখা ছিল, `মোহাম্মদ জমির, বেস্ট উইশেস টু আ ডিপেন্ডেবল ফ্রেন্ড।` হোটেল কক্ষে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার অনেক বিষয় নিয়ে মোহাম্মদ জমিরের সঙ্গে নেলসন ম্যান্ডেলার কথা হয়। জমির বলছেন, আলাপে তিনি অনেক গুরুত্ব দিলেন। তার একটি হচ্ছে দারিদ্র বিমোচন। তিনি বললেন, দরিদ্র যারা আছে, তারা শুধু আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে ভুগছে না, তাদের শিক্ষা আর স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে সাহায্য করতে হবে। আরো বললেন, যারা নিপীড়িত, তাদের সহযোগিতা দিতে হবে, যাতে তারা ঘুরে দাড়াতে পারে। রাষ্ট্রদূত হিসাবে কিভাবে ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করা যায়, তা নিয়েও মোহাম্মদ জমিরকে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন নেলসন ম্যান্ডেলা। ১৯৭১ সালের পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম নিয়ে কিছু করা হচ্ছে কি-না, সেসব জানতে চেয়েছিলেন  ম্যান্ডেলা। ২৬ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিখা চিরন্তন ও স্বাধীনতার স্তম্ভের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন  ম্যান্ডেলা। তার আগে অপর দুই নেতার সঙ্গে সাভারে স্মৃতিসৌধে পুষ্প অপর্ণ করেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকান মানুষের সংগ্রামের বর্ণনা তুলে ধরে বাংলাদেশ ও তাদের রাজনৈতিক, বাণিজ্য আর সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির কথা তুলে ধরেন। হাজার হাজার মানুষের সেই সমাবেশে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা আর অধিকার আদায়ের সংগ্রামে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষের অনেক মিল রয়েছে। আজ আমরা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি, বাংলাদেশের মানুষকেও একসময় এরকম সমস্যার মোকাবেলা করতে হয়েছে। একটি দূরের দেশ হওয়ার সত্ত্বেও দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষের মুক্তি সংগ্রামে আপনারা যে সমর্থন দিয়েছেন, সেজন্য আপনাদের প্রতি আমি তাদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই।’ নেলসন ম্যান্ডেলাকে নিয়ে গান বেধেছিলেন বাংলাদেশের গায়ক ফকির আলমগীর। ফকির আলমগীর বলেন, সেই গানের কথা জানতে পেরে তার সঙ্গে নিজে থেকেই দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন  ম্যান্ডেলা। সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ফোন পেয়ে তার সঙ্গে দেখা করে সেই গান শুনিয়েছিলেন আলমগীর। ফকির আলমগীর বলছেন, ‘তখনকার প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন আমাকে টেলিফোন করে হোটেল শেরাটনে আসতে বলেন। আমার স্ত্রীকেও নিয়ে আসতে বলেছিলেন। কারণ বঙ্গভবনে যাওয়ার আগে (প্রেসিডেন্টের নিমন্ত্রণে) নিজের হোটেল কক্ষে নেলসন ম্যান্ডেলা আমার সঙ্গে দেখা করবে।’ ‘তখন দ্রুত ছুটে গেলাম শেরাটনে। অনেকেই দেখা করবে বলে লবিতে অপেক্ষা করছে। কিন্তু আমাকে সরাসরি তার রুমে নিয়ে যাওয়া হল। তিনি তখন বঙ্গভবনে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন। তিনি আমাকে নিয়ে নিচে নেমে এলেন। এবং নেমেই তিনি আমাকে বললেন, গানটা গাও। আমি যখন গানটা ধরেছি, তিনি আমার সঙ্গে আফ্রিকান ধরণে নাচতে শুরু করলেন, সেটা এখনো আমার চোখে লেগে আছে।’ এসব গানের কথা আগেই তাকে জানানো হয়েছিল বলে ফকির আলমগীর জানান। এরপর তার গাড়ি বহরের সঙ্গেই বঙ্গভবনে যান ফকির আলমগীর। সেখানে ঢুকে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অতিথি কক্ষে যাওয়ার আগে তার দিকে হাত নেড়ে বিদায় জানান নেলসন ম্যান্ডেলা। যদিও খাবারের ক্ষেত্রে পরিমিত ছিলেন  ম্যান্ডেলা। তবে কূটনৈতিক কর্মকর্তা মোহাম্মেদ জমিরের সঙ্গে অনেক আলাপের মধ্যে আমের প্রসঙ্গও তুলেছিলেন। ‘আলাপচারিতার মধ্যে আমাকে একটি প্রশ্ন করলেন যে, আমি শুনেছি আপনি আমের কথা বলেছিলেন এক জায়গায়। তো কই, আম কই? আমি বললাম, এখন তো মার্চ মাস, এখন আম হবে না। আপনি যদি মে মাসে কি জুন মাসে আসেন, তাহলে আম খাওয়াতে পারি। তখন উনি খুব হাসলেন। আবার বললেন, তাহলে এ মাসে আর আম পাওয়া যাবে না?’ ২৭ মার্চ  ম্যান্ডেলা দক্ষিণ আফ্রিকান এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে আবার ফিরে যান। এরপরে আর তার বাংলাদেশে আসা হয়নি। নেলসন ম্যান্ডেলা দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন ১৯৯৪ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে তার মৃত্যুতে বাংলাদেশেও তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়েছিল, যাকে সবসময়েই বাংলাদেশের একজন অকৃত্রিম বন্ধু বলে সম্বোধন করা হয়েছে। সূত্র: বিবিসি একে//

ইথিওপিয়ায় ইরিত্রিয়ান প্রেসিডেন্টের ঐতিহাসিক সফর

ঐতিহাসিক সফরে বর্তমানে ইথিওপিয়া অবস্থান করছেন ইরিত্রিয়ার প্রেসিডেন্ট ইসায়িস আফেরকি। প্রায় দুই দশকের সংঘাত ভুলে শান্তি স্থাপনে আলোচনার জন্য গতকাল শনিবার ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবা’য় পৌঁছান ইসায়িস। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ইসায়িস বলি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ইথিওপিয়ার প্রেসিডেন্ট আবি আহমেদ। লাল গালিচায় থাকে ইথিওপিয়ার সংস্কৃতি অনুযায়ী সম্মান জানানো হয়। সেসময় হাস্যোজ্বল মুখে একে অপরেরকে জড়িয়ে ধরে আলিঙ্গন করেন এই দুই নেতা। ইসায়িসের আগমনের ঠিক পাঁচদিন আগে ইরিত্রিয়া সফরে গিয়েছিলেন ইথিওপিয়ান প্রেসিডেন্ট। সেখান দুই দেশের মধ্যে শান্তি স্থাপনে প্রাথমিক আলোচনা হয় তাদের মধ্যে। আবি আহমেদের আমন্ত্রণে বর্তমানে ইথিওপিয়া সফরে এলেন ইসায়িস আফেরকি। গতকাল ইথিওপিয়ায় আবি আহমেদের সাথে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন ইসায়িস। সেখানে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আমরা দুই দেশের মানুষ নেই। আমরা এক। আমরা এভাবেই একত্রে সামনে এগিয়ে যাব”। ইরিত্রিয়া একসময় ইথিওপিয়া’র অংশ ছিল। ইথিওপিয়ার লোহিত সাগর প্বার্শবর্তী উপকূল অংশই পরবর্তীতে ইরিত্রিয়া রাষ্ট্র হিসেবে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ১৯৯৩ সালের এই ঘটনার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সংঘাতময় বৈরি সম্পর্ক বিরাজ করছিল। গত সপ্তাহের সোমবার ইরিত্রিয়া ভ্রমণকালে দেশটির সাথে যুদ্ধ শেষ করে শান্তি স্থাপনের এক চুক্তি স্বাক্ষর করেন ইথিওপিয়ার প্রেসিডেন্ট আবি আহমেদ। এর আগ পর্যন্ত দুই দেশের সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। সূত্র: ডন //এসএইচএস// এসএইচ/    

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি