ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ৪:৫৫:৩৬

কঙ্গোতে সেনা ঘাটিতে হামলায় শান্তিরক্ষী বাহিনীর ১৪ সদস্য নিহত

কঙ্গোতে সেনা ঘাটিতে হামলায় শান্তিরক্ষী বাহিনীর ১৪ সদস্য নিহত

ডেমোক্রেট রিপাবলিক অব কঙ্গোতে সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে ন্যাক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উত্তরাঞ্চলীয় কিভোর বেনি ঘাটিতে চালানো ওই হামলায় শান্তিরক্ষী বাহিনীর ১৪ সদস্য এবং দেশটির বিমান বাহিনীর ৫ সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৫৩ শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্য। খবর আলজাজিরার। ওই হামলাকে যুদ্ধাপরাধ উল্লেখ করে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস বলেছেন, আমি ওই হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের ওপর এভাবে হামলা চালানো মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। জাতিসংঘের ডেপুটি মুখপাত্র ফারহান হক জানান, হামলায় হতাহতরা মূলত তানিজানিয়ার নাগরিক। কঙ্গোর কর্তৃপক্ষকে  দ্রুত এই হামলার তদন্ত করে অপরাধীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। উত্তরাঞ্চলীয় কিভোর বেনি ঘাঁটিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ওই হামলা চালানো হয়েছিলো। এর আগেও ওই এলাকায় এডিএফের বিদ্রোহীরা বেশ কয়েকবার হামলা চালিয়েছে। জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, মিশনের শুরু ১৯৯৯ সাল থেকে এপর্যন্ত প্রায় ৩০০ শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছে।  সূত্র: আল জাজিরা একে// এআর
কেনিয়ায় প্রেসিডেন্টের শপথ ঘিরে সেনা মোতায়েন

কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে প্রেসিডেন্ট উহরু কেনিয়াট্টার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বিরোধীদলের আন্দোলন ঠেকাতে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।  এরইমধ্যে নির্বাচন বয়কট করা বিরোধীদলগুলোর জোট প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে। বিরোধীদলীয় প্রধান রাইলা ওডিংগা পুলিশের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে। বিরোধীদলের আন্দোলন ঠেকাতে পুলিশের পাশাপাশি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে কেনিয়াট্টার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ২০ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান অথবা পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, উগান্ডার প্রেসিডেন্ট যুহেরি মুসেভেনি এবং রুয়ান্ডা প্রেসিডেন্ট পল কাগমার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের আগস্টে কেনিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে সংবিধান অনুসারে ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি বলে সর্বোচ্চ আদালত রায় দেওয়ায়  নির্বাচনটি বাতিল হয়ে যায়। এরপর অক্টোবরে দ্বিতীয় দফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে বিরোধীদলগুলো ওই নির্বাচন বয়কট করে। অক্টোবরের নির্বাচনে কেনিয়াট্টা ৯৮ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তবে ওই নির্বাচনে মাত্র ৩৯ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে। সূত্র: বিবিসি এমজে/ এআর    

জিম্বাবুয়ের সেনা হস্তক্ষেপ বৈধ

ক্ষমতা গ্রহণের একদিনের মাথায় সেনাবাহিনীর অসাংবিধানিক হস্তক্ষেপকে বৈধতা পাইয়ে দিয়েছেন জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাওয়া। দেশটির আদালতের মাধ্যমে এ  বৈধতা পাইয়ে দেন তিনি, এমন অভিযোগ উঠেছে সবমহলে। গত শনিবার জিম্বাবুয়ের সর্বোচ্চ আদালত দেশটির সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে মুগাবের অপসারণকে বৈধতা দিয়েছে। এই রায়কে কেন্দ্র করে দেশটির বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় নতুন প্রশাসন হস্তক্ষেপ করছে বলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সেনাবাহিনীকে দায়মুক্তি পাইয়ে দেওয়ার চুক্তি ছিল নানগাওয়ার এমন অভিযোগ উঠেছে চারদিক থেকে। তবে আদালত বলছে, ‘সাবেক প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের ঘনিষ্ঠদের ক্ষমতা দখল ঠেকানোর জন্য জিম্বাবুয়ের প্রতিরক্ষা বাহিনী যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা সাংবিধানিক। উল্লেখ্য, জিম্বাবুয়েতে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিলে সাবেক প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবেকে গৃহবন্দি করে দেশটির সেনাবাহিনী। ওই সময় সেনাবাহিনীর তরফ থেকে বলা হয়, তাদের অভিযান মুগাবের বিরুদ্ধে নয়, বরং তাকে ঘিরে থাকা ‘অপরাধী চক্রকে’ পাকড়াও করার জন্য। কিন্তু পরে মুগাবেকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জেডবিসি জানায়, মুগাবের ঘনিষ্ঠদের ক্ষমতা দখল ঠেকাতে জিম্বাবুয়ের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিযানকে বৈধতা দিয়েছে আদালত। সূত্র:  এএফপি এমজে/এসএইচ

মালিতে হামলায় জাতিসংঘের ৪ শান্তিরক্ষী নিহত

মালিতে ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠির হামলায় এক মালিজ সৈন্যসহ কমপক্ষে চার জন নিহত হয়েছেন। নিহতের চার জনই জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে বাকি তিন জন কোন দেশের সৈন্য তা এখন পর্য্ন্ত জানা যায়নি। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। শান্তিরক্ষা মিশনের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, দুটি পৃথক হামলায় চার সৈন্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৫ জনেরও বেশি।উল্লেখ্য, ২০১৩ সাল থেকে সেখানে শান্তি ফিরিয়ে আনতে কাজ করে যাচ্ছে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের সদস্যরা। নাইজার সীমান্তে অবস্থিত দেশটির সেনাবাহিনী ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠিগুলোর সঙ্গে লড়াই চালিয়ে আসছিল।হামলার পরপরই জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল এক বিবৃতিতে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলে, শান্তিরক্ষা বাহিনীর ওপর হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল। আন্তর্জাতিক আইনে এ ধরণের হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হয় বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়। মালির মিনোসমা মিশনের প্রধান মোহাম্মদ সালেহ আনডিফ বলেন, সাধারণ নাগরিকদের রক্ষা ও সেখানে জরুরি ওষুধ সরবরাহে মিশনের সদস্যরা কাজ করে আসছিল। তবে শুক্রবার ভোরে দুটি পৃথক অভিযানে চার সৈন্য নিহত হয়েছেন। সূত্র: ফক্স নিউজ এমজে/এসএইচ  

মিসরে মসজিদে হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৫

মিসরের উত্তরাঞ্চলীয় সিনাই উপত্যকার একটি মসজিদে শুক্রবার জঙ্গিদের গুলি ও বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৫ জনে। আহত হয়েছেন শতাধিক মুসল্লি। কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি। জুমার নামাজের কিছু সময় পর এ হামলা চালানো হয়।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চারটি গাড়িতে এসে আল-আরিশের কাছে বির-আল আবেদ শহরের আল রাওদাহ মসজিদের মুসল্লিদের ওপর হামলে পড়ে জঙ্গিরা। এ সময় তারা গুলিবর্ষণ ও বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।তাৎক্ষণিকভাবে কেউ এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস এ হামলা চালিয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

নানগাওয়ার যাত্রা শুরু: জিম্বাবুইয়ানদের ভাগ্য কি বদলাবে?

জিম্বাবুয়ের রাজধানী হারারেতে কয়েক ঘণ্টা পরই এক সমাবেশে ভাষণের মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছেন ৭৩ বছর বয়সী এমারসন নানগাওয়া। সদ্য বিদায়ী প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের আমলে জিম্বাবুয়েতে লাগামহীন দুর্নীতি ও অনিয়ম হ্রাসে তার ভূমিকা হবে, সেটা শুনতে হাজারো মানুষ সমাবেশস্থলে পৌছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মুগাবের দীর্ঘ্ ৩৭ বছরের শাসনামলে জিম্বাবুয়ের নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ জমেছে। বিশেষ করে দারিদ্র্যতার হার সেখানে ৬০ শতাংশেরও উপরে উঠায় সেখানকার নাগরিকরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। হাজার হাজার শিক্ষার্থী বেকারত্বে ভোগছে । কর্মসংস্থান সৃষ্টি থমকে আছে। এমন অবস্থায় জিম্বাবুয়ের নাগরিকদের প্রধান চাওয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নানগাওয়া কি ভূমিকা রাখবে, তাই দেখার বিষয়। এছাড়া দীর্ঘ ৩৭ বছরে জিম্বাবুয়েতে একনায়কতন্ত্র পাকাপোক্তভাবে গেঁড়ে বসেছিল, যা নাগরিকদের অন্যতম ক্ষোভের কারণ। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধীদল ও সচেতন মহলে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করলেও মুগাবের দমননীতির কারণে তা এতদিন  আলোর মুখ দেখতে পারেনি। তবে সেনা হস্তক্ষেপের পর থেকে নড়েচড়ে বসেছে বিরোধীদলসহ গণতন্ত্রকামী সকল গোষ্ঠী। এদিকে গণতন্ত্র উদ্ধারে সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন নানগাওয়া। এদিকে নানগাওয়া মুগাবে নীতি থেকে সরে আসবে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।  নানগাওয়া ৫০ বছর ধরে মুগাবের আস্থাভাজন হয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। শুধু তাই নয়, নানগাওয়াকে মুগাবের ডান হাত বা কমরেড বলে সম্বোধন করে থাকেন জিম্বাবুইয়েনরা। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুগাবের কমরেড হয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন শক্তিধর এই নেতা। মুগাবের দমননীতিতে তার অকুণ্ঠ সমর্থন ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, বিক্ষোভ দমনে জনতার উপর অত্যাচার করারও হুকুম দিয়েছেন এই নানগাওয়া। নানগাওয়া ও মুগাবের আচরণ কাছাকাছি হলেও বেশ কয়েকটি কারণে আশার আলো দেখছেন জিম্বাবুইয়েনরা। নানগাওয়াকে তুলনামূলক তরুণ হিসেবে দেখছেন তারা। তার বয়স ৭০ নাকি ৭৫ তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বয়স যাই হোক মুগাবের মতো একগুয়ে স্বভাবের নন নানগাওয়া। তিনি জনতার কথা কিছুটা হলেও ভাবতে পারেন, এমন ধারণা রয়েছে তাদের মধ্যে। এদিকে লক্ষ অর্জনে তিনি কঠোর থাকতে পারেন, তার আচরণগুলি এমনই দাবি করছে। আগামী বছরে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে নানগাওয়া বিপুল ভোটে জয়লাভ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তার কঠোর দমননীতি-ই জিম্বাবুইয়েনদের চিন্তার কারণ। ইতোমধ্যে তিনি নিষ্ঠুর ও বর্বর হিসেবে পরিচয় লাভ করেছেন। ১৯৮৩-৮৪ সালে জিম্বাবুয়ের মাতাবিলিল্যান্ড গণহত্যার সময় তিনি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাবাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব পালন করছিলেন। এসময় জিম্বাবুয়ের ন্যাশনাল আর্মি কমপক্ষে ২০ হাজার বেসামরিক নাগরিক হত্যা করে। এরপরই কসাই নানগাওয়া হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি।   এছাড়া, ২০০৮ সালে নির্বাচনের পর বিরোধী দলের উপর নজিরবিহীন হামলার জন্য তাকে দায়ী করছে জিম্বাবুয়ের একটি মানবাধিকার সংগঠন। সংগঠনটির দাবি বর্তমান ক্ষমতাসীন দল জানু পিএফ পার্টি নির্বাচনে জয়ী হলে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে আন্দোলনে নামে বিরোধী দলগুলো। তখন আন্দোলন দমাতে সব ধরণের পন্থা অবলম্বন করেন এই শাসক। নানগাওয়ার অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য তার উপর বিশ্বাস রাখতে পারছে না সাধারণ নাগরিকরা। আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে হবে কি না, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। তবে অন্যদিকে বাস্তববাদী হিসেবে জানেন তারা। মুগাবে অপরিণামদর্শী হলেও তিনি তা নন, এমনটাই ধারণা তাদের। তবে আশার কথা হলো, তিনি ইতোমধ্যে দেশটির বিরোধীদলীয় প্রধান স্ভানজিরাই এর সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। মনে হচ্ছে, বর্তমান অবস্থা সামলে উঠতে বিরোধী দলগুলোকে সঙ্গে নিয়েই তিনি কাজ করবেন। অর্থনৈতিক সক্ষমতা আনতে নানগাওয়াকে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হবে। তবে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে মিয়ানমারের বর্তমান অচলাবস্থা। তবে ব্যাবসাখাতে নানগাওয়ার  সুনাম রয়েছে দাবি করে বিবিসির স্টেনলি কেওনডা দাবি করেন, নানগাওয়া উৎপাদনমুখী ফার্ম্গুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে অতীতে অনেক উদ্যোগ নিয়েছেন। ১৯৯৫-৯৬ সালে তিনি অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। গত বছর এক সাক্ষাতকারে নানগাওয়া বলেন, শান্তিপূর্ণ দেশগুলোতে বিনিয়োগ বেশি হয়। তাই আমরা শান্তিপূর্ণ দেশ গঠনে কাজ করবো। এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফেরার পরই নানগাওয়া ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁর প্রথম কাজ-ই হলো ‘কাজ, কাজ আর কাজ।’ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তিনি ব্যাপক অবদান রাখবেন বলেও জানান। এমজে/    

দায়মুক্তি পাচ্ছেন মুগাবে দম্পতি

জিম্বাবুয়ের সদ্য বিদায়ী প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে ও তাঁর স্ত্রী গ্রেস মুগাবে দায়মুক্তি পেতে যাচ্ছেন। পদত্যাগের পূর্বে প্রতিরক্ষাবাহিনীর সঙ্গে করা এক চুক্তির আওতায় তাকে দায়মুক্তি দিতে যাচ্ছে দেশটির বর্তমান প্রশাসন। তবে গ্রেস মুগাবের বিষয়ে সরাসরি  কিছু না বললেও, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সুত্র ‍জানিয়েছে গ্রেসও জিম্বাবুয়েতে বসবাস করতে পারবেন। বিভিন্ন রাজনীতিক ও নিরাপত্তাবাহিনীর বরাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, রবার্ট্ মুগাবের বয়সের কথা মাথায় রেখে তাকে দায়মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রতিরক্ষা বাহিনী। দায়মুক্তির আশ্বস্ত দেওয়ার পরই মুগাবে এই সিদ্ধান্ত নেন। উল্লেখ্য, গত বুধবার দীর্ঘ ৩৭ বছর ক্ষমতায় থাকার পর সেনা অভ্যুত্থানের মুখে রবার্ট্ মুগাবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। এর আগে পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানালে অভিশংন প্রক্রিয়া শুরু করে দেশটির পার্লামেন্ট। জিম্বাবুয়ের প্রধান বিরোধী দল মুভমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি (এমডিসি-টি) বলছে, সরকারি ঘোষণা ছাড়া মুগাবের বিষয়টি স্পষ্ট করা যাচ্ছে না। তবে বিষয়টি অনেক জটিল। সূত্র: বিবিসি এমজে/এমআর  

গণতন্ত্রের বিকাশ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে প্রথম কাজ: নানগাওয়া

সদ্য বিদায়ী প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের অবসানের পর দায়িত্ব নিতে যাওয়া নতুন প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাওয়া বলেছেন, গণতন্ত্রের বিকাশ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিই হবে তার প্রথম কাজ। গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দেশে ফিরে জিম্বাবুয়ের রাজধানী হারারেতে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে নানগাওয়া এ মন্তব্য করেন। এছাড়া অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়ায়  জিম্বাবুয়ের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান তিনি। দেশের পুনর্গঠনে জনগণের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, ‍‍‍আমরা জিম্বাবুয়েকে নতুনভাবে সাজাতে চাই, এতে আপনাদের সহযোগিতা দরকার। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি-ই হবে আমাদের প্রথম অর্জন। এর জন্য আমাদের দরকার-কাজ, কাজ আর কাজ। উল্লেখ্য, আগামী শুক্রবারই দেশটির নতুন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন এমারসন নানগাওয়া । নানগাগওয়া আরও বলেন, আমি আপনাদের সেবক হওয়ার অঙ্গীকার করছি। আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করবো। এখানে কেউই কারো চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নন। সব জিম্বাবুইয়ানদের একতাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মনে রাখবেন আমাদের পরিচয় একটাই- আমরা জিম্বাবুয়ের নাগরিক।  এসময় তিনি আরও বলেন, জিম্বাবুয়েতে আমরা শান্তি ফিরিয়ে আনতে চাই। দেশে বেকারত্বের হার স্মরণকালের ভয়াবহ অবস্থায় পৌছেছে দাবি করে তিনি বলেন, আমাদের প্রধান সমস্য বেকারত্ব। নাগরিকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিই হবে আমার প্রথম কাজ। এর আগে গত বুধবার দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দুই সপ্তাহের ফেরারি জীবন শেষে দেশে ফেরেন প্রবীণ এই রাজনীতিক। সূত্র: বিবিসি / এমজে / এআর          

সেই নানগাওয়া-ই জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট

যাকে ভাইস-প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন জিম্বাবুয়ের সদ্য বিদায়ী প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে, সেই এমারসন নানগাওয়া-ই তার উত্তরসূরী হতে যাচ্ছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী শুক্রবারই প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন জিম্বাবুয়ের স্বাধীনতার আরেক মহানায়ক এমারসন নানগাওয়া। এ উপলক্ষে বুধবার তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। ভাইস-প্রেসিডেন্টের পদ থেকে বহিস্কারের পর নানগাওয়া দক্ষিণ কোরিয়ায় আশ্রয় নেন। দক্ষিণ কোরিয়া থাকাকালে চীনসহ বিদেশি মিত্রদের সঙ্গে তার ফোনালাপ হয়েছে বলেও একটি সূত্র দাবি করেন। জিম্বাবুয়ের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশ এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়েছে। জিম্বাবুয়ের ব্রডকাস্টিং করপোরেশন বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে। নানগাওয়ার বহিস্কারাদেশের পরই সেনাবাহিনীসহ মুগাবের নিজ দল, বিরোধী দল ও জনসাধারণের তোপের মুখে পড়েন মুগাবে। এর পরই সেনাবাহিনীর তরফ থেকে ক্ষমতা ছাড়তে তাকে ক্রমাগত চাপ দেওয়া হয়। কিন্তু ক্ষমতায় ঠিকে থাকতে অনঢ় এই প্রবীণ নেতা শেষে অভিশংসনের চেয়ে পদত্যাগকেই বেঁছে নিলেন। অবশেষে মঙ্গলবার ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ৯৩ বছর বয়সী এই নেতা। ক্ষমতাসীন দল জানু পিএফ পার্টির তরফ থেকে জানানো হয়েছে আগামী নির্বাচনের আগ পর্য্ন্ত নানগাওয়া-ই প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন। জানু পিএফ এর এক মুখপাত্র দাবি করেন, বর্তমান সংসদের বাকি সময় দায়িত্ব পালন করবেন ৭১ বছর বয়সী নানগাওয়া। এদিকে এক বিবৃতিতে জিম্বাবুয়েকে পুনর্গঠিত করতে তার নাগরিকদের এক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ক্রুকুডাইল খ্যাত নানগাওয়া। সূত্র: বিবিসি এমজে/এসএইচ          

একজন টাইপিস্ট থেকে ফার্স্ট লেডি হয়ে উঠার গল্প

পদত্যাগ করেছেন জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে। জনরোষ আর বিক্ষোভের মুখে অবশেষে পদত্যাগই করতে হয়েছে ৩৭ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রবীণ এই নেতাকে। তবে পদত্যাগের পরও তার প্রতি সম্মান দেখাবে জিম্বাবুয়ের সামরিক বাহিনীসহ সাধারণ নাগরিকরা, এমনই ঘোষণা দিয়েছে তারা। তবে রুখে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন গ্রেস মুগাবেকে। কেই এই গ্রেস মুগাবে ? কিভাবে একজন টাইপিস্ট থেকে ফার্স্ট লেডি হয়ে উঠলেন তিনি ? কেনই বা তাঁর বিরুদ্ধে জনতার এই রোষ আসুন জেনে নিই- ৫২ বছর বয়সী গ্রেস মুগাবের ক্ষমতা লিপ্সাই জিম্বাবুয়ের সামরিক অভ্যুত্থানের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ১৯৯৬ সালে প্রেসিডেন্ট মুগাবেকে বিয়ের পর থেকেই ক্ষমতায় আসার লিপ্সা পেয়ে বসে। শুধু তাই নয়, মুগাবের পরবর্তী উত্তরসূরি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে দলের মধ্যে শুরু করেন ষড়যন্ত্র। মুগাবের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেন সাবেক উপ-রাষ্ট্রপতি নানগাওয়াকে। শুধু তাই নয়, নানগাওয়ার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য ক্রমাগত মুগাবেকে চাপ দিতে থাকেন। অতঃপর উপ-রাষ্ট্রপতি পদ থেকে তাকে বহিস্কার করান। ১৯৮৬ সালে মুগাবের সঙ্গে প্রেম শুরু করার পূর্বে গ্রেস স্টেট হাউজে একজন টাইপিস্টের কাজ করতেন। ১৯৯২ সালে মুগাবের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর ১৯৯৬ সালে মুগাবেকে বিয়ে করেন তিনি। মুগাবে ও গ্রেস দম্পতির তিন সন্তান রয়েছে। ক্ষমতার কেন্দ্রে আসতে লুলোপ এই নারী ৯৬ সালে মুগাবেকে বিয়ে করার পূর্বে তাঁর সাবেক স্বামীকে তালাক দেন। শুরু থেকেই বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য সবমহলে সমালোচিত তিনি। এরপর ২০১৪ সালে মুগাবেকে বস করে ক্ষমতাসীন জানু পি-এফ পার্টির মহিলা শাখার প্রধান বনে যান। এরপর থেকে শুরু হয় তার অত্যাচার । ২০১৫ সালে জনপ্রিয় এক মডেলকে নিগ্রহ করে সমালোচনায় আসেন তিনি।   বিলাসবহুল শপিংয়ের জন্য কুখ্যাত এই নারী ২০১৬ সালে ইউনিভার্সিটি অব জিম্বাবুয়ে থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে, তিনি এই ডিগ্রি লাভ করেন বলে সর মহলে অভিযোগ উঠে। এদিকে আগামী ডিসেম্বরে তার ভাইস-প্রেসিডেন্ট হওয়ার কথা ছিল । তবে মুগাবের পদত্যাগের পর তাঁর কি দশা হয়, তাই দেখার বিষয় এখন। / এআর /

মুগাবের পদত্যাগ

পদত্যাগ করেছেন জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকারের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এএফপি এ কথা জানিয়েছে। এক সপ্তাহ আগে জিম্বাবুয়ের সেনাবাহিনী দেশটি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। গৃহবন্দী করে দেশটির ৩৭ বছরের শাসক মুগাবেকে। বিবিসির খবরে বলা হয়, ৯৩ বছর বয়সী মুগাবের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্পিকার জ্যাকব মুডেন্ডা। মুগাবেকে অভিশংসনের জন্য যখন পার্লামেন্টে যৌথ অধিবেশনে বিতর্ক চলছিল, তখনই তার পদত্যাগের ঘোষণা এল। এর আগে তিনি পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। এর আগে প্রেসিডেন্ট পদ ছেড়ে দেওয়ার জন্য মুগাবের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে দেশটির ক্ষমতাসীন দল জানু-পিএফের প্রধানের পদ থেকে তাকে বরখাস্ত করা হয়। প্রেসিডেন্ট পদ ছেড়ে দেওয়ার জন্য তাকে রোববার পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। ওই সময়ের মধ্য পদ না ছাড়ায় অভিশংসনের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। জিম্বাবুয়ের চলমান সংকটের শুরু সপ্তাহ দু-এক আগে। যখন প্রেসিডেন্ট মুগাবে তার ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়াকে বরখাস্ত করেন। বলা হয়, মুগাবে তার স্ত্রী গ্রেসকে দেশটির ক্ষমতায় বসাতেই বরখাস্ত করেন নানগাগওয়াকে। নানগাগওয়া দেশটির সেনাবাহিনীর মধ্যে জনপ্রিয়। তাকে বরখাস্ত করার এক সপ্তাহের মধ্যেই দেশটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় সেনাবাহিনী। বরখাস্ত হওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকায় পালিয়ে যাওয়া নানগাগওয়াও ফেরেন জিম্বাবুয়েতে। এখন সেই নানগাগওয়াকেই দেশটির পরবর্তী নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এসএইচ/

নাইজেরিয়ায় মসজিদে বোমা হামলা, নিহত ৫০

নাইজেরিয়ার মুবি শহরের একটি মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৫০ জন নিহত হয়েছেন। হামলার সময় মসজিদটিতে মুসল্লিরা নামাজরত অবস্থায় ছিল। মঙ্গলবার ভোরে দেশটির আদামাওয়া অঙ্গরাজ্যের মুবি শহরের উনগুয়ার শুয়া এলাকার মদিনা মসজিদে নামাজের সময় এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে এখনও কোনো দল বা গোষ্ঠি এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, বোকো হারাম হামলাটি চালিয়ে থাকতে পারে। এ অঞ্চলটিতে প্রায়ই এ ধরণের হামলা চালায় জঙ্গি গোষ্ঠী বোকো হারাম। আদামাওয়া অঙ্গরাজ্যের পুলিশ বাহিনীর মুখপাত্র অথমান আবু বকর বলেন, এখন পর্যন্ত এ হামলায় ৫০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অনেকেই আহত হয়েছেন। আহতদের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, হামলাকারীরা মুসল্লিদের সঙ্গে মসজিদে প্রবেশ করে। এ হামলায় বোকো হারামের চিহ্ন ছিল। উল্লেখ্য, ২০০৯ সাল থেকে বোকো হারামের হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় ২৬ লাখ মানুষ।   সূত্র: বিবিসি। আর/টিকে

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি