ঢাকা, সোমবার, ১৮ জুন, ২০১৮ ২৩:৩৪:৪০

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ  

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ  

সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে এক বাংলাদেশি-বংশোদ্ভূত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ।   নওরোজ আমিন নামে ২৬ বছরের এই বাংলাদেশি ২০১৬ সালে বাংলাদেশে যাওয়ার চেষ্টার সময় অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষ তাকে আটকে দেয়। তার লাগেজে তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহজনক জিনিসপত্র পাওয়া যায় বলে তখন পুলিশ অভিযোগ করেছিল। বার্তা সংস্থা এএফপি অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশকে উদ্ধৃত করে বলছে, যেসব জিনিসপত্র তার লাগেজে পাওয়া গিয়েছিল তাতে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে সন্ত্রাসবাদের প্রতি তার সমর্থন ছিল। পুলিশ অভিযোগ করছে, "নওরোজ আমিন বাংলাদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন এমন সব লোকজনের সঙ্গে দেখা করতে, যারা তার মত একই ধরণের আদর্শে বিশ্বাসী। এরপর তারা অস্ট্রেলিয়ার বাইরে সম্ভবত একটি সন্ত্রাসী হামলা চালানোর কথা ভাবছিলেন।" অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ এনেছে। এর মধ্যে একটি বিদেশি রাষ্ট্রের সীমানায় গিয়ে বৈরি কাজে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগও আছে। এসব অভিযোগে তার যাবজ্জীবন সাজা পর্যন্ত হতে পারে। নওরোজ আমিন ঠিক কোন দেশে এই সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্র করছিলেন, তা জানা যায়নি। অস্ট্রেলিয়ায় বেড়ে ওঠা লোকজনের মধ্যে সন্ত্রাসবাদী আদর্শের বিস্তার নিয়ে সম্প্রতি বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এরকম অনেকে ইসলামিক স্টেটে যোগ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে তাদের পক্ষে লড়াইও করেছে। ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ায় সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী আইনে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয় যাতে করে সন্দেহভাজন জিহাদির বিদেশ ভ্রমণ আটকে দেয়া যায়। কে এই নওরোজ আমিননওরোজ আমিন সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য এখনো জানা যায় নি। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি মর্নিং হেরাল্ড পত্রিকা জানাচ্ছে, তিনি অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক। সেখানকার ইঙ্গেলবার্নে তিনি বসবাস করেন। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারীতে তিনি বাংলাদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ২০১৭ সালের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) সাদিয়া আমিন নামে তিরিশ বছরের এক তরুণীকে গ্রেফতার করে। র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সাদিয়া আমিন একটি নিষিদ্ধ জঙ্গী গোষ্ঠী জামাতুল মুজাহেদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য এবং অস্ট্রেলিয়া নিবাসী নওরোজ আমিনের স্ত্রী। র‍্যাব আরও মনে করে, নওরোজ আমিনই আসলে সাদিয়াকে জঙ্গীবাদে দীক্ষা দেন। সূত্র: বিবিসি বাংলা এসি    
অনাগত সন্তানের মৃত্যুতে বল টেম্পারিংয়ের খেসারত

বল টেম্পারিং কাণ্ডে জেরবার অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার ডেভিড ওয়ার্নার যে শাস্তি পেয়েছেন তা হয়তো সবাই জানেন। তবে এই টেম্পারিংকাণ্ডে তাকে যে খেসারত দিতে হয়েছিল তাকি কেউ জানেন? হ্যা কেউ জানেন না হয়তো। তাকে এমন একটি খেসারত দিতে হয়েছিল যা শুনলে আতকে উঠবেন হয়তো। এতদিন বুকের ভেতরে সেই দুঃখটা চেপে ধরেছিলেন তিনি। জানা গেছে, দোষ স্বীকার করে গত মার্চে ওয়ার্নারের অশ্রুসিক্ত সংবাদ সম্মেলনের সপ্তাহ খানেক পরই গর্ভপাত ঘটেছে তাঁর জীবনসঙ্গী ক্যানডিস ওয়ার্নারের। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কেপটাউন টেস্টে বল টেম্পারিংয়ের জন্য অভিযুক্ত হন স্টিভেন স্মিথ, ক্যামেরন ব্যানক্রফট ও ওয়ার্নার। এই ঘটনায় তিন ক্রিকেটারকেই নিষিদ্ধ করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। ক্যানডিস জানিয়েছেন, সে সময় প্রবল মানসিক চাপ আর উড়োজাহাজে করে কষ্টসাধ্য ফ্লাইটের জন্যই এই গর্ভপাত। অস্ট্রেলিয়ার এক নারী সাময়িকীতে ক্যানডিস বলেছেন, ‘ডেভকে ডেকে জানাই রক্ত ঝরছে। আমরা জানতাম গর্ভপাত ঘটছে। একে অপরকে জড়িয়ে ধরে দুজনেই কেঁদেছি। এই গর্ভপাতটা আসলে একটি ভয়ংকর সফরের মর্মান্তিক সমাপ্তি। জনতার নানা অপমানজনক কথা সহ্য করার পরীক্ষা দিতে গিয়েই এই খেসারত গুনতে হয়েছে আমাদের। ওই মুহূর্ত থেকে আমরা সিদ্ধান্ত নিই, আর কখনো কোনো কিছুকে আমাদের জীবনে এভাবে প্রভাব ফেলতে দেব না।’ ক্যানডিস আরও বলেন, ‘আমরা খুব সুখে ছিলাম। জানতাম, আরেকজন খুদে ওয়ার্নার আসছে। বাচ্চাটা আমাদের কাছে কতটা আকাঙ্ক্ষিত ছিল, সেটা বোধ হয় দুজনের কেউই বুঝতে পারি না।’ ওয়ার্নারের দুই সন্তানের মধ্যে বড় জনের নাম আইভি। তার বয়স তিন বছর। অন্যদিকে ইন্ডির বয়স দুই বছর। ক্যানডিস জানিয়েছেন, কেপটাউনে যাওয়ার পর বুঝতে পারেন তিনি অন্তঃসত্ত্বা। বল টেম্পারিংয়ের ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে স্মিথ ও ব্যানক্রফটদের সঙ্গে ফিরতে চেয়েছিলেন ওয়ার্নার। কিন্তু তাঁদের দুজনকে আলাদা ফ্লাইটে দেশে পাঠানো হয়। আর ওয়ার্নার এবং তাঁর পরিবারকে পাঠানো হয় আরেকটি ফ্লাইটে, যেটা ছিল লম্বা সময়ব্যাপী এবং কষ্টকর। ক্যানডিস বলেন, ‘আমরা বেশ কষ্টকর এবং সবচেয়ে দীর্ঘ ফ্লাইটে এসেছি। কেউ জানত না আমি অন্তঃসত্ত্বা। ডেভ আমাকে নিরাপদ রাখতে সম্ভাব্য সব চেষ্টাই করেছে। ও ভয় পাচ্ছিল, এর চেয়ে বেশি চাপে পড়লে আমাদের অনাগত শিশুর বিপদ হবে। আমাদের নিশ্চিত করা হয়েছিল, বিমানবন্দর থেকে আমরা নির্বিঘ্নেই বেরিয়ে যেতে পারব। কিন্তু গণমাধ্যমকে দেখার পর ভীষণ ভেঙে পড়ি—বিশেষ করে ২৩ ঘণ্টা ফ্লাইটের পর। বিশ্ব তো জানত না, আমি তৃতীয় বাচ্চা বহন করছি।’ সূত্র: টাইম নিউজএমজে/

বাঁচার সাধ নেই ১০৪ বছর বয়সী বিজ্ঞানীর

দীর্ঘ জীবন লাভের আশায় মানুষ কত কিছুই না করে। স্বাস্থ্য সম্মত জীবন-যাপন থেকে শুরু করে অনেক কিছুই থাকে সে প্রচেষ্টার মধ্যে। কিন্তু মানুষ যদি বহু বছর বেঁচে থাকে, তাহলে নিজেই কি মৃত্যু কামনা করে? দীর্ঘ জীবন থেকেও অনেকে পরিত্রাণ পেতে চান? সে রকম একজন হচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানী ডেভিড গুডঅল। তার বয়স এখন এখন ১০৪ বছর। গুডঅল এখন আর বেঁচে থাকতে চান না। সেজন্য স্বেচ্ছামৃত্যু বেছে নিতে তিনি সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন। গুডঅলের বয়স ১০৪ বছর হলেও তিনি এখনো শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। কিন্তু তিনি মনে করছেন, এ বয়সে তার কোনো স্বাধীনতা নেই। অন্যের উপর তাকে নির্ভর করতে হয়। গত বছর জন্মদিনের পালনের সময় গুডঅল বলেন, " এ বয়স পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য আমি নিজেই অনুতপ্ত হচ্ছি। আমি ভালো নেই। আমি মারা যেতে চাই।" কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার একটি মাত্র রাজ্য ছাড়া অন্য কোথাও স্বেচ্ছামৃত্যুর বিধান নেই। এ বিষয়টিকে খুব বেদনাদায়ক বলে মনে করছেন ১০৪ বছর বয়সী গুডঅল। সেজন্য স্বেচ্ছামৃত্যুর জন্য তিনি সুইজারল্যান্ডের একটি ক্লিনিকে যাচ্ছেন। লন্ডনে জন্ম নেয়া গুডঅল অস্ট্রেলিয়ার পার্থে একটি ছোট অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন। ১৯৭৯ সালে তিনি পূর্ণকালীন কাজ থেকে অবসর নেন। কিন্তু এরপরও তিনি মাঠ পর্যায়ের গবেষণার সাথে ব্যাপকভাবে জড়িত ছিলেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার এডিথ কাওয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনা বেতনে গবেষণা করতেন। তার বয়স বেশি হয়ে যাবার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া এবং কাজ করার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে বলেছিল বাসায় বসে কাজ করার জন্য। গুডঅল ১০২ বছর বয়সে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ ধরনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। মামলার রায় তার পক্ষে আসে। গত ৭০ বছরে গুডঅল ১০০`র বেশি গবেষণা প্রবন্ধ লিখেছেন। বেশি বয়স হয়ে যাবার কারণে গুডঅলকে গাড়ি চালানো ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে।তিনি একসময় থিয়েটারের সাথেও জড়িত ছিলেন। কিন্তু বয়সের কারণে সেটিও তাকে ছাড়তে বাধ্য করা হয়। গুডঅলের স্বেচ্ছামৃত্যু বেছে নেওয়ার পেছনে আরেকটি কারণ আছে। গত বছর তিনি তার অ্যাপার্টমেন্টে পড়ে যান। এরপর দুইদিন পর্যন্ত তিনি নিখোঁজ ছিলেন। চিকিৎসকরা বলেছেন, এমন অবস্থায় তার সেবা দেওয়ার জন্য ২৪ঘণ্টা একজনকে থাকতে হবে নতুবা তাকে একটি নার্সিং কেয়ারে স্থানান্তর করতে হবে। কিন্তু তিনি সেটা চাননি। গুডঅলের সাথে তার পুরনো বন্ধুদের এখন আর দেখা হয়না। চলাচল সীমিত হয়ে গেছে তার।এমন অবস্থায় বেঁচে থাকার কোন অর্থ খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি। তার মৃত্যুর সময় ঘনিষ্ঠ আত্নীয়রা পাশে থাকবেন। সূত্র: বিবিসি বাংলা এমএইচ/টিকে

অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীকে `সুস্বাদু` বললেন ম্যাক্রঁ

ফরাসী প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁ অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে ইংরেজিতে কথা বলার সময় এক মজার ভুল করে বসেন। পরে ‘সেটি’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়েছে দাঁড়িয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে তার আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ দেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ বলেন, `আপনাকে এবং আপনার সুস্বাদু স্ত্রীকে ধন্যবাদ উষ্ণ আতিথেয়তা এবং নিখুঁত সফর আয়োজনের জন্য।` প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ ইংরেজি `ডেলিশাস` শব্দটি ব্যবহার করেন- যার অর্থ `সুস্বাদু` বা `উপাদেয়`। সাধারণত খাদ্যের ক্ষেত্রেই এ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। এমনিতে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁ খুবই চমৎকার ইংরেজি বলেন। কিন্তু ওই একটি মুহূর্তে তার ভাষার নৈপুণ্য তাকে ফাঁকি দিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক একটি গণমাধ্যমের দাবি। অনুষ্ঠানটি ক্যামেরার সামনেই হচ্ছিল। অস্ট্রেলিয়ান শ্রোতারা প্রথমে বুঝতে পারেননি যে, ম্যাক্রঁ কি সত্যিই তাদের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী লুসি হিউজ টার্নবুলকে `সুস্বাদু` বা `উপাদেয়` বললেন? কিন্তু পরে অনুষ্ঠানের রেকর্ডিং আবার বাজিয়ে দেখা গেল- আসলেই তিনি ‘সুস্বাদু’ বলেছেন। এরপর ম্যাক্রঁ আবার বলেন, `ধন্যবাদ লুসি, ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রী`। পরে তারা করমর্দন করেন। ম্যাক্রঁ অস্ট্রেলিয়ায় এই কূটনৈতিক সফরে জলবায়ুর পরিবর্তন এবং প্রতিরক্ষার মত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে সম্ভবত তার চেয়ে অনেক বেশি আলোচনা এবং হাসাহাসির জন্ম দিয়েছে তার একটি শব্দের প্রয়োগ। একজন লিখেছেন, `আমার মনে হলো এইমাত্র প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁকে শুনলাম লুসি টার্নবুলকে উপাদেয় বলতে`। জবাবে একজন মন্তব্য করেন- `এতে অন্যায় কিছু নেই, তাছাড়া তার ইতিহাস আছে বয়স্ক মহিলাদের পছন্দ করার ।` আরেক জন মন্তব্য করেন: ফরাসি ভাষায় দেলিসিও শব্দটি খাদ্যের ক্ষেত্রে ব্যবহার না করলে তার অর্থ `উপাদেয়` নয় বরং সঠিক অর্থ হলো `চমৎকার`। ফরাসি ভাষায় ডেলিশাসের সমতুল্য একটি শব্দ আছে `দেলিসিও`। এর অর্থ `সুস্বাদু বা উপাদেয় খাবার` যেমন হতে পারে, তেমনি খুবই `চমৎকার কোনো কিছু` অর্থেও ব্যবহৃত হতে পারে। তাই ম্যাক্রঁ হয়তো `সুস্বাদু বা উপাদেয় খাদ্য` অর্থে শব্দটি ব্যবহার করেন নি। ফরাসি প্রেসিডেন্টের ইংরেজি ভাষার ওপর দখল অত্যন্ত চমৎকার বলেই মানা হয়। এক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রে সফরের সময় তিনি মার্কিন কংগ্রেসে ইংরেজিতেই ভাষণ দেন। সে ভাষণ কংগ্রেস সদস্যদের কাছে এবং সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। তবে অস্ট্রেলিয়ায় ম্যাক্রঁর এই `ইংরেজির ভুল` অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার লোকেরা তেমন গায়ে মাখেন নি। প্রধানমন্ত্রী টার্নবুল হাসিমুখেই ম্যাক্রঁর সাথে হাত মেলান। অনুবাদের ভুলে রাজনৈতিক নেতাদের কথা ভিন্ন অর্থ নেবার দৃষ্টান্ত অবশ্য ইতিহাসে অনেক আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে মজার ঘটনাগুলোর একটি ঘটেছিল সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারকে নিয়ে। তিনি ১৯৭৭ সালে `কমিউনিস্ট পোল্যান্ডের প্রতি যৌন কামনা` প্রকাশ করেছিলেন - যা ঘটেছিল অনুবাদের ভুলেই। ওই সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সূত্র: বিবিসি আর/টিকে

অস্ট্রেলিয়ায় ময়ূর নিয়ে যে কারণে বিভক্ত নগরবাসী   

ময়ূর মূলত এশিয়া অঞ্চলের পাখি হলেও, এখন সে পাখিই সমস্যা হয়ে উঠেছে অস্ট্রেলিয়ার শহর ক্যানবেরায়। প্রায় দুই শতাব্দী আগে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকেরা অস্ট্রেলিয়ায় পোষা পাখি হিসেবে নিয়ে গিয়েছিল ময়ূর। এরপর পেখম মেলা সেই পাখির সৌন্দর্যে বিমোহিত হয় সবাই। কিন্তু এখন অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা শহরের বাসিন্দারা বিপাকেই আছেন এই সুদৃশ্য পাখিটিকে নিয়ে। শহরের মানুষ রীতিমত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছেন। বিভক্তির কারণ, শহরে এই পাখি মুক্ত ঘুরে বেড়াবে না কি ফাঁদ পেতে তাদের ধরে মেরে ফেলা হবে- সে নিয়ে!    সম্প্রতি ক্যানবেরা শহরে ময়ূরের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। শহরের সড়কে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা, যখন তখন ঢুকে পড়ছে লোকের বাড়িতে। শোনা যায়, কিছুদিন আগে স্থানীয় এক লোক তার বাড়ির বাথরুমে ঢুকে দেখে সেখানে দেয়ালে সাঁটানো আয়নায় নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে দেখে সেখানে একটি ময়ূর। এছাড়া পাখির ডাকে, বিশেষ করে তাদের ডিম পাড়ার মৌসুমে, অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে শহরের বাসিন্দারা। সেই সঙ্গে লোকেজনের শস্য ও সবজিও খেয়ে ফেলছে। তাছাড়া বড় সড়কগুলোতে দুর্ঘটনা এড়াতে শহরের গাড়ির চালকদের প্রায়ই মারাত্মক অসুবিধায় পড়তে হয়। শহরে অন্য পাখিদের থাকার ও ডিম পাড়ার জায়গাতেও ঢুকে পড়ছে ময়ূর। এসব কারণে নগর কর্তৃপক্ষ একটি আইন প্রস্তাব করেছে যেখানে বছরে অন্তত একবার একটি ফাঁদ পাতা কর্মসূচী নেওয়া হবে, যাতে ময়ূরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা যায়। আর প্রস্তাবিত এই আইনের পক্ষে সমর্থনের অভাব নেই। কিন্তু বাধ সেধেছে শহরের বাসিন্দাদের আরেকটি অংশ। তারা বলছেন, এই পাখিরাও এ শহরেরই বাসিন্দা, ফলে তাদের মেরে ফেলার এই সিদ্ধান্ত হবে নির্মম ও অমানবিক। অনেকে একে সৌভাগ্যের প্রতীক বলেও মনে করেন। অনেকে যুক্তি দিচ্ছেন, বাড়ির চারপাশে বা সৈকতে ঘুরে বেড়ানোর সময় পাশে পাশে ময়ূর হাঁটছে এটিই যেন তাদের চিরাচরিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এখন তার অন্যথা তারা চান না। ময়ূরের সংখ্যাধিক্য নিয়ে সমস্যার শুরু ২০০৩ সাল থেকে। তবে অস্ট্রেলিয়ার অন্য শহরে ময়ূরের সংখ্যা বৃদ্ধি সমস্যা সামলাতে কর্তৃপক্ষ আরও নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। যেমন ব্রিসবেনে কেউ ময়ূর পুষতে পারবেন না, এমন ধরণের আইন করতে যাচ্ছে। অন্যথায় প্রায় সাড়ে ছয় হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার জরিমানা গুনতে হবে। এখন ক্যানবেরা শহরবাসীদের প্রতিবাদে ময়ূরের ভাগ্য বদলায় কি-না সেটাই দেখার বিষয়।    সূত্র: বিবিসি একে//এসি    

সৈকতে এসে ১৫০ তিমি আটকা,৭৫ তিমির মৃত্যু

অস্ট্রেলিয়ার পার্থ শহর থেকে ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণে হেমেলিন উপসাগরের কাছাকাছি একটি সমুদ্র সৈকতে ১৫০টি তিমি আটকা পড়েছে। এর মধ্যে ৭৫টি তিমির প্রাণহানি হয়েছে। শুক্রবার ভোরে এক জেলে তিমিগুলো শনাক্ত করেন। এগুলো ছোট প্রজাতির তিমি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিবিসি জানিয়েছে, আটকে পড়া তিমিগুলোর মধ্যে প্রায় অর্ধেকের বেশি মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের কর্তৃপক্ষ।   তিমিগুলো নিরাপদে সরিয়ে দিতে বেশ কয়েকজন উদ্ধারকারী সমুদ্রতীরে অবস্থান নেন বলে অস্ট্রেলিয়ান সম্প্রচার কর্পোরেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনগণকে সতর্ক করে দিয়ে ওই এলাকা থেকে সবাইকে দূরে থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। জীববৈচিত্র্য বিভাগের কর্মকর্তা জেরেমি চিক বলেন, ‘আমরা তিমিগুলো সাগরের দিকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। তবে ঝড়ো হাওয়া এবং সম্ভবত আর্দ্র আবহাওয়ায় প্রাণীগুলোর জীবনীশক্তির ওপর প্রভাব ফেলবে। তিমিগুলো ঠিক কী কারণে হঠাৎ সমুদ্রতীরে এসে জড়ো হয়েছিল, বিশেষজ্ঞরা সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি। এর আগে ১৯৯৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের সৈকতে বড় আকৃতির প্রায় ৩২০টি তিমি সৈকতে এসে আটকা পড়েছিল। কেআই/এসি   

আসিয়ান সম্মেলনে চাপের মুখে সু চি

আসিয়ান সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অনুষ্ঠিত হয় এ সম্মেলন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দশ জাতির এই জোটের তিন দিনের সম্মেলনের সমাপনী দিনের একটি দীর্ঘ সময় এই সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সম্মেলনস্থলের বাইরে সু চির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন হাজার হাজার মানুষ। তবে আসিয়ান দেশগুলো রোহিঙ্গা সংকটে হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি চাপের মুখে রয়েছে। রাখাইন রাজ্যে সেনা নিপীড়নের মুখে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গার দেশ ছাড়ার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক প্রশ্নের মুখোমুখি এখন তিনি। অভিযানের বিষয়ে নিরব থাকায় বিশ্বজুড়ে বহু সম্মাননা বাতিল হয়েছে তার। মানবিক সংকট তৈরি করা রোহিঙ্গা ইস্যুটি অস্ট্রেলিয়া ও আসিয়ানের এবারের যৌথ সম্মেলনেরও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু বলে বিবেচিত হয়েছে। ১৯৬৭ সালে দশ জাতির এ জোট গঠিত হয়। এর সদস্য দেশগুলো হলো ব্রুনাই, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম। ১৯৭৪ সাল থেকে জোটটির আলোচনা সহযোগি হিসেবে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। শেষ দিনের সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল বলেন, ‘রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আমরা আজ একটি দীর্ঘ সময় আলোচনা করেছি। অং সান সু চি এই বিষয়ে দীর্ঘ সময় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন।’ রোহিঙ্গা সংকটকে ‘গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আলোচনা করেছি এবং এখন পর্যন্ত এটা বলা যায়, আমাদের বৈঠকে খুবই গঠনমূলকভাবে আলোচনা হয়েছে’ বলেন টার্নবুল। সংবাদ সম্মেলনে চলতি বছরে আসিয়ানের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়া সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সেইন লুং বলেন, চলমান পরিস্থিতি নিয়ে মিয়ানমারের প্রতিবেশিরা উদ্বিগ্ন। তবে তারা ফলাফলের জন্য কোনও জোর খাটাবে না। তিনি বলেন, আসিয়ানভুক্ত সব দেশের জন্যই এটা উদ্বেগের। তবে এখন পর্যন্ত আসিয়ান সেখানে হস্তক্ষেপ বা ফলাফলের জন্য জোর খাটাতে সক্ষম হয়নি। দশ জাতির জোট আসিয়ান ঐক্যমতের কূটনীতি ও পারস্পারিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিতে বিশ্বাসী। দুই নেতাই বলেন, সংকট উত্তরণে দীর্ঘ মেয়াদী সমাধান খুঁজতে সহায়তা অব্যাহত রাখবেন। এচাড়া বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষদের সহায়তায় মানবিক সহায়তায় অব্যাহত রাখার কথা জানান তারা। এএফপির খবরে বলা হয়, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেশত্যাগ আসিয়ান জোটে বিপুল অস্থিরতা তৈরি করেছে। জোটভূক্ত মালয়েশিয়া আগেই রাখাইনে সেনা নিপীড়নের অভিযোগের বিষয়ে আসিয়ানের নেতৃত্বে স্বাধীন তদন্ত দাবি করেছে। শনিবারও দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক এই ইস্যুতে সু চির ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। তিনি বলেন, এই সংকট আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। ইসলামিক স্টেটের মতো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো রোহিঙ্গাদের দলে টানতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তার দেশের কোনও নির্দিষ্ট গোয়েন্দা পদ্ধতি নেই যার সাহায্যে রাখাইনের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। তবে সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়ার উপায় নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, ‘আপনাকে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যেতে হবে।’ সম্মেলনস্থলের ভেতরে সংকট প্রশ্নে হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নাকচ হয়ে গেলেও বাইরে সু চির বিরুদ্ধে উত্তাল বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার নোবেল পুরস্কার কেড়ে নেওয়ার দাবি ধ্বনিত হয় সেই প্রতিবাদী বিক্ষোভ থেকে। এখনও অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছেন সু চি। সোমবার ক্যানবেরায় তার অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে। মঙ্গলবার সিডনির লোয়ে ইনস্টিটিউটে বক্তব্য রাখার কথা তার। শনিবার অস্ট্রেলিয়া পৌঁছে এখনও জনসম্মুখে কোনও কথা বলেন নি তিনি। তবে মঙ্গলবারের অনুষ্ঠানের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার কথা তার। এসি

অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম মানব উদ্বারকারী ড্রোন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন মানব বিধ্বংসী ড্রোনের ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হচ্ছেন, তখন ডুবতে যাওয়া ডুবুরিদের উদ্ধার করে আলোচনায় উঠে এসেছে অস্ট্রেলিয়ার মানব উদ্ধারকারী ড্রোন। গত বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রে ডুবতে যাওয়া দুই ডুবুরিকে উদ্ধার করে বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম মানব উদ্ধারকারী ড্রোনের জন্ম দিয়েছে দেশটির প্রযুক্তি বিভাগ। ড্রোন নিয়ন্ত্রণকারীর কাছে থাকা ডিভাইসের মাধ্যমে ওই দুই সার্ফারকে উদ্ধার করা হয়। ডুবুরিদের উদ্ধারে অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম এই ড্রোন মাঠে নামিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। এদিকে ওই ড্রোনের সক্ষমতা যাচাইয়ে ইতোমধ্যে কয়েক ডজন ড্রোন মাঠে নামিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জানা যায়, অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের নিকটবর্তী সমুদ্রে সার্ফিং করতে গিয়ে দুই তরুণ ডুবে যাচ্ছিল। ওই সময় দুই তরুণের সঙ্গে থাকা ডিভাইসের মাধ্যমে ড্রোন নিয়ন্ত্রণকারীদের কাছে একটি বার্তা যায়। একইসঙ্গে বার্তা পায় ড্রোনও। এরপরই উত্তাল সাগরে দুটি ড্রোন উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে তরুণদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে ড্রোনদ্বয়। মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই ড্রোনগুলো কুইন্সল্যান্ডের উত্তাল সাগর থেকে ওই দুই সার্ফারকে উদ্ধার করে। এদিকে উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা জেই শেরিডন জানায়, আমি এই ড্রোন পরিচালনায়, বিভিন্ন জায়গায় উড়াতে এবং এটিকে ডুব দেওয়াতে সক্ষম। তাছাড়া সংকেত পাওয়া মাত্র দুই-তিন মিনিটের মধ্যে এটি সার্ফারদের কাছে পৌছাতে সক্ষম। তাই সার্ফারদের নিরাপত্তায় ড্রোনটি খুব কাজে আসবে বলেও এএফপির সাংবাদিককে নিশ্চিত করেন তিনি। ড্রোনগুলি নিজে থেকেই সমুদ্রের অবস্থা বুঝতে পারবে। সেখানে ডুবতে যাওয়া মানুষদের শনাক্ত করতেও সক্ষম হবে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ড্রোনগুলির সঙ্গে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ড্রোনগুলিতে খুব উন্নতমানের ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে, যা সমুদ্রের মধ্যে থাকা প্রতিটি বস্তুকে নিজ থেকেই শনাক্ত করতে পারবে।

অস্ট্রেলিয়ায় সমকামীদের প্রথম বিয়ে

অস্ট্রেলিয়ায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন দুই সমকামী তরুণ। পৃথিবীতে সমকামীদের আনুষ্ঠানিক বিয়ের এটিই প্রথম নজির। অস্ট্রেলিয়ান অ্যাথলেট লুক সুলিভান (২৩) এবং ক্রেইগ বার্নস (২৯) আজ মঙ্গলবার মধ্যরাত হওয়ার সাথে সাথেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। অস্ট্রেলিয়ার সাউথ ওয়েলসে এ অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে বিবাহ শপথ নেন তারা। অস্ট্রেলিয়ার সংসদে গত মাসে সমকামী বিয়েকে বৈধতা দেওয়ার পর থেকেই কারা হচ্ছেন প্রথম আনুষ্ঠানিক সমকামী দম্পতি তা দেখতে মুখিয়ে ছিল অস্ট্রেলিয়াবাসী। সবকিছু ছাপিয়ে আজ তারা বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হন। সুলিভাব এবং বার্নসের প্রায় ৫০ জন আত্মীয় ও বন্ধুর উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয় এ বিয়ে। বিয়ের পর “উচ্ছ্বসিত” সুলিভান বার্তা সংস্থা বিবিসিকে বলেন, “আমার ইন্সটাগ্রামের মেসেজ ইনবক্স রীতিমত মেসেজে ভেসে যাচ্ছে। আমাদের প্রতি ভালবাসা এবং সমর্থন জানিয়ে অনেকেই মেসেজ দিচ্ছে। এদের বেশির ভাগকেই আমরা চিনি না। তাদের এমন ভালবাসায় আমরা সত্যিই আবেগাপ্লুত”। অস্ট্রেলিয়ার সামাজিক প্রেক্ষাপটের জন্যেও নিজেদের এ বিয়েকে বেশ ইতিবাচক এক পদক্ষেপ হিসেবেও মন্তব্য করেন সুলিভান। অন্যদিকে সুলিভান এবং ক্রেইগের বিয়ের প্রায় একই সময়ে মেলবোর্নে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন আরেক সমকামী দম্পতি ডায়ানা এবং ডেয়ান্নে রিবেইরো। নিজেদের বিয়েকে “স্বপ্ন” হিসেবে মন্তব্য করেন ডায়ানা রিবেইরো। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার আগে পৃথিবীর আরও ১৯টি দেশে সমকামী বিয়ে বৈধতা পেয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার একটি স্থানীয় ব্যাংক এএনজি এক বিবৃতিতে জানায়, সমকামীদের বিয়ের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় অর্থনীতিতে চলতি বছরে প্রায় ৫১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অবদান রাখতে পারে। সূত্র: বিবিসি এসএইচএস/টিকে  

৭৯ বছরের মধ্যে সব থেকে উষ্ণ দিন সিডনিতে

বিগত ৭৯ বছরের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে আজ রবিবার সব থেকে উষ্ণ দিন অনুভূত হয়। ১৯৩৯ এর পর আজকের ৪৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ১১৭ ফারেনহাইট তাপমাত্রাই সিডনির সব থেকে উষ্ণতম দিন। নিউ সাউথ ওয়েলসের ব্যুরো অব মিটিওরলজি সিডনির এ স্মরণকালের সবথেকে উষ্ণ তাপমাত্রার বিষয়টি নিশ্চিত করে। পশ্চিম সিডনির এলাকা পেনরিথে সব থেকে উত্তপ্ত আবহাওয়া বিরাজ করে। আজ রবিবার শহরের বাসিন্দাদের উদল শরীরে ঘর্মাক্ত অবস্থায় চলাচল করতে দেখা যায়। শহরে কোনো ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাবনা দমিয়ে রাখতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। শহরের চারদিকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত দমকল বাহিনী। উত্তপ্ত এ আবহাওয়ার কারণে ব্যহত হয় সিডনিতে চলমান অ্যাশেজ সিরিজ এবং টেনিস টুর্নামেন্ট। অজি’দের বিপক্ষে ব্যাট করতে গলদঘর্ম হতে হয় ইংরেজদের। অন্যদিকে চলমান সিডনি আন্তর্জাতিক টেনিস টুর্নামেন্টের আজকের খেলা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন ফ্রান্সের ক্রিশ্চিনা মেলাডেনোভিচ। এক টুইট বার্তায় ভক্তদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “খেলা যখন কোর্টে শুরু হয় তখন তাপমাত্রা ৪৩ হলেও কোর্টে তা ছিল ৫০ এর উপরে। আমি আমার ভক্তদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করছি। আমার ক্যারিয়ারে এটাই প্রথম যে আমি খেলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেই।” আবহাওয়াবীদেরা বলছেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে মাটি এবং সাগরের উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামীতে এর থেকেও উত্তপ্ত তাপমাত্রার আবহাওয়া দেখা যেতে পারেন বলে সতর্ক করেন তারা। সূত্র: বিবিসি এসএইচএস/টিকে

সাজাপ্রাপ্ত মাদক পাচারকারীর মিউজিক ভিডিও প্রকাশ

শ্যাপেল করবি নামে অস্ট্রেলিয়ান এক মাদক পাচারকারীর মিউজিক ভিডিও প্রকাশ হওয়াকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়। ইন্দোনেশিয়াতে মাদক পাচার করার দায়ে জেল হয় করবির। দশ বছর কারাভোগের পর তিন বছর প্যারোলে কাটান তিনি। কয়েক মাস আগে ফিরে আসেন অস্ট্রেলিয়াতে। কয়েকদিন আগে একটি গানের মিউজিক ভিডিওতে দেখা যায় করবিকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে এ ভিডিওটি প্রকাশের পরেই আলোচনার ঝড় ওঠে অস্ট্রেলিয়া জুড়ে। “পাম ট্রি” নামের এ গানের ভিডিওতে দেখা যায় শ্যাপেল করবিকে। সেখানে তাকে গাইতে দেখা যায়, “আমি কুইন্সল্যান্ডে আছি, এখানে রৌদ্রকরোজ্জল। আমার পেছনে অনেক পাম গাছ।” মিউজিক ভিডিও-টি তৈরি করতে “খুবই মজা হয়েছে” উল্লেখ করে ইন্সটাগ্রামে একটি পোস্টও করেন করবি। মূলত এর পরেই অস্ট্রেলিয়া সমাজ দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। কেউ কেউ এটিকে “সুপথে” ফিরে আসার সহায়ক হিসেবে উল্লেখ করে সাধুবাদ জানাচ্ছে। কেউ কেউ তাকে অস্ট্রেলিয়ার সত্যিকার ‘আইকন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। আবার অন্যদিকে কেউ কেউ এটিকেও “ধাপ্পাবাজি” মনে করছেন। উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে সাড়ে চার কেজি গাঁজা নিয়ে ধরা পড়েছিলেন শ্যাপেল করবি। সূত্র: বিবিসি এসএইচএস/টিকে

নববর্ষ উদযাপন করতে গিয়ে সিডনিতে দুর্ঘটনায় নিহত ৬

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে নববর্ষ উদযাপন করতে গিয়ে একটি সি-প্লেন দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ছয় জন। রোববার দুর্ঘটনায় পড়ে নৌবিমানটি সিডনি নদীতে পতিত হয়। সি-প্লেনটিতে করে ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে উপর থেকে সৌন্দর্য্য উপভোগের জন্য বের হয়েছিলেন। দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে পুলিশ এখনও কিছু জানে না। তারা নিহতদের পরিচয়ও শনাক্ত করতে পারেনি। অস্ট্রেলিয়ার কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারে নাই। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা সিডনির স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। বিমানটি পরিচালনা করছিল সিডনি সি-প্লেন কোম্পানি। শহরটির বড় পর্যটন সংস্থা এটি। এদের বিমানে অনেক বিখ্যাত তারকা সৌন্দর্য্য উপভোগ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন পপ তারকা এড শেরান, স্যাম স্মিথ, টেক মোঘল বিল গেটস, কৌতুক অভিনেতা জেরি সেইনফিল্ড ও অভিনেতা কিউবা গুডিং জুনিয়র। পুলিশ জানায়, সি-প্লেনটি সিডনির উত্তরে অবস্থিত একটি রেস্তোরাঁ থেকে আরোহীদের নিয়ে ফিরছিল। গন্তব্য ছিল শহরটির পূর্ব দিকে অবস্থিত রোজ বে। দুর্ঘটনার পর তা দ্রুত পানিতে তলিয়ে যায়। সিডনি হারবারের নববর্ষ উৎসবকে ঘিরে ৩১ ডিসেম্বর বছরের সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়। অনেকেই সি-প্লেন ও নৌকায় দূর থেকে উৎসব দেখতে পছন্দ করেন। রয়টার্স,এনবিসি নিউজ।   এসএইচ/

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি