ঢাকা, শুক্রবার, ২২ জুন, ২০১৮ ১৭:২৯:৩৮

বিশেষ কারুকাজের কারচুপি আর অ্যামব্রয়ডারি পোশাক নকশা কুটিরে

ঈদ লাইফস্টাইল পর্ব-৪

বিশেষ কারুকাজের কারচুপি আর অ্যামব্রয়ডারি পোশাক নকশা কুটিরে

আর কদিন পরেই আসছে ঈদ উল ফিতর। ঈদে অন্তত নতুন পোশাক নিয়ে আগ্রহ থাকে সবার মাঝেই। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে ঈদ কেনাকাটাও যেন এক ধরনের উৎসব। আর সেই উৎসবের শেষ মুহুর্তের কেনাকাটায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে পারে নকশা কুটির। বিশেষ নকশার কারুকাজ সম্বলিত কারচুপি আর অ্যামব্রয়ডারি করা পোশাকের পসরা বসেছে নকশা কুটিরে।
নান্দনিক নৈসর্গিক

অফিস শেষে তড়িঘড়ি বইমেলা চত্বরে ঢুকেই নিয়াজের চোখদুটো খুঁজছিল অনন্যাকে। বাচ্চাদেরকে মায়ের কাছে রেখে দুপুরের দিকেই চলে এসেছে অনন্যা। কথা ছিল অফিস শেষে বইমেলায় ঠিক উপস্থিত হয়ে যাবে নিয়াজ। অবশেষে দেখা মিললো অনন্যার। এক মুহুর্তে চোখ মন সবকিছুর মধ্য দিয়ে শীতল একটা ভাব বয়ে গেলো। আকাশের মতো নীল একটা শাড়ি পরেছে অনন্যা। কি সুন্দর একটা মেয়ে। অনন্যাকে চোখে দেখেও শান্তি। তবে নিয়াজের জন্য আরও কিছু চমক অপেক্ষা করছিল । হুট করেই চোখ আটকে গেল অনন্যার শাড়িতে। আঁচল জুড়ে গোটা গোটা অক্ষরে কবিতা লেখা। ইদানিং এটা অনেক ট্রেন্ডি। নিজের প্রিয় কবি জীবনানন্দ, রবি ঠাকুর কিংবা রুদ্রের কবিতা ছাপা শাড়ি পরেন অনেকেই। কিন্তু অনন্যার শাড়ির কবিতাটা তো অন্যকারো নয় স্বয়ং নিয়াজের লেখা কবিতা। কোথায় পেলো এই শাড়ি অনন্যা? মুগ্ধ নিয়াজের যেন তর সইছেনা, কোথা থেকে পেল এই শাড়ি অনন্যা? নিয়াজের মনের ভাব বুঝতে পেরে নিজে থেকেই অনন্যা জানালো ‘নৈসর্গিক’ এর কথা। অনলাইন মার্কেট প্লেস ‘নৈসর্গিক’। যারা প্রিয়জনের কবিতাটা দিয়ে দিলে বানিয়ে দিবে আপনার পছন্দমত শাড়ি, কাপড় কিংবা যেকোন কিছু। পুরো বইমেলা জুড়ে সুন্দর একটা আবহ বিরাজ করছিল সেদিন। এমন অনেক কবি আছেন যাদের কবিতার বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের সময় সেই কবিতা পরা শাড়ি পরেই বন্দি হয়েছেন ক্যামেরায়। এভাবেই নতুনত্ব ও শিল্পের যাদুকরী ছোঁয়ায় দিকে দিকে নাম ছড়িয়ে পড়ে নৈসর্গিকের। মাত্র অল্পদিনেই ব্যতিক্রমধর্মী এই শাড়ি কাব্য প্রজেক্টের জন্য চারিদিকে বেশ নামডাক হয়ে যায় ‘নৈসর্গিকের’। অনলাইনে এই যাত্রা শুরু করার সময়টা কিন্তু এত সহজ ছিল না। এই সুন্দর ধারণা ও শিল্পের পেছনে যার অবদান সব থেকে বেশি তিনি হলেন কাজী শবনম। নৈসর্গিক এর প্রতিষ্ঠাতা ও একজন শিল্পী। নারায়ণগঞ্জের মেয়ে, যার মাথায় সর্বপ্রথম এরকম অনন্য একটি আইডিয়া আসে। বরাবর এমন সুন্দর সুন্দর ফ্যাশন আইডিয়া নিয়ে নিজের পোশাক তৈরি করতেন। আর এভাবেই বন্ধু মহলে পরিচিতি পেতে থাকেন শবনম। এভাবেই একদিন মনে হয়, সবাই যখন সুন্দর বলছে, তাহলে শুরু করা যাক না নিজের একটা বুটিক। তাই প্রাথমিকভাবে শুরু করা হলো অনলাইনে। শাড়িকাব্য প্রজেক্টের পর আর থেমে থাকতে হয়নি শবনমকে। সবার অনুরোধে নৈসর্গিক এর পেইজে যোগ হয়েছে নিত্যনতুন ডিজাইনের কামিজ, শাড়ি, চুড়ি, গয়না, এমনকি বিদেশি নামকরা ব্রান্ডের কসমেটিক্স ও। দেশের গন্ডি পেরিয়ে নৈসর্গিক এর পণ্য পৌঁছে যাচ্ছে অন্যান্য দেশে। আর নৈসর্গিকের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো নিজের মন মতো ডিজাইন, রং দিয়েও আপনি তৈরি করে নিতে পারেন আপনার পছন্দের পোশাক। এছাড়া বাহারী সব ডিজাইনের ইউনিক গয়নাও পাচ্ছেন সুলভ মূল্যে। নৈসর্গিক নিয়ে শবনম বলেন, “কখনো পুরোদস্তুর ব্যবসা করব তাও ক্রিয়েটিভ কিছু নিয়ে তা কখনো ভাবিনি, শাড়ি কাব্য’র ধারনা হুট করেই মাথায় এসেছিল কিন্তু কখনো কল্পনাও করিনি এতো সাড়া পাবো। বইমেলার পর আস্তে আস্তে অন্যান্য আরও অনেক শাড়ি ডিজাইন করা শুরু করলাম। বইমেলায় কবি বন্ধুদের কবিতা নিয়ে অনেক অনেক শাড়ী করলাম। মিডিয়ায়ও পরিচিতি পেলো নৈসর্গিক। এখন নৈসর্গিক একটা ব্র্যান্ডের নাম।“ নৈসর্গিককে ঘিরে আরো জানা অজানা সব কথা জানালেন শবনম। তিনি বিশ্বাস করেন একজন মানুষ স্বাবলম্বি হওয়ার পথে সৎ পথে উপার্জন করার বিকল্প নেই। আর আমাদের সমাজে একজন মেয়ে হিসেবে উদ্যোক্তা হওয়া বোধ হয় সবচেয়ে কঠিন। তাই এর আগে কখনো ভাবেননি নিজের মন মতো একটি ব্যবসা হবে কোনদিন। যেখানে নিজের মনের খোরাক মিটে। তাই এর আগে শবনম সাংবাদিকতা করেছেন, বিভিন্ন কর্পোরেট হাউজ আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এডমিন হিসেবেও দ্বায়িত্ব পালন করেছেন অনেকদিন। বেশ কিছুদিন ছিলেন দেশের বাইরেও। কিন্তু তার মন মত যেন হচ্ছিল না কোন কিছুই। দেশে ফিরে এসেই শুরু করলেন তার স্বপ্নের এই যাত্রা। মাঝে মাঝে যখন হতাশা আর দুঃখ ভর করে জীবনে তখন নৈসর্গিক বেঁচে থাকাকে প্রানবন্ত করে। নতুন শাড়ি কাপড়গুলোর গন্ধ, রং, কারখানায় বোনার সময়টা, মেশিনের শব্দ সবকিছু মিলিয়ে একটি নতুন দিনের স্বপ্ন দেখেন নৈসর্গিকের প্রতিষ্ঠাতা। ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে কথা বললে শবনম জানান তার মনের ইচ্ছে। “ঈদের পর আমাদের দেশের ঐতিহ্যবাহী রিকশা পেইন্ট দিয়ে বড় পরিসরে কাজ করার ইচ্ছেও আছে। আর চোখ বন্ধ করলে ভাবি, অদূর ভবিষ্যতে সবার ভালবাসা পেলে একটি নান্দনিক শোরুম হবে নৈসর্গিকের…। এছাড়া সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া নারীদের জন্য কিছু করার প্রয়াসেই নৈসর্গিকের পথচলা। এই পথচলা যেন সহজ ও সুন্দর হয় সেজন্য সবার শুভকামনা চেয়েছেন শবনম। এভাবে একদিন ঘরে ঘরে স্বাবলম্বি মেয়েরা হাল ধরবে দেশের অর্থনীতির। এগিয়ে যাবে সবাই দৃঢ় পদক্ষেপে এই স্বপ্ন নিয়ে ছোট ছোট পায়ে পথ চলা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম নৈসর্গিকের। এসএইচ/

অসময়ে বুড়িয়ে যাওয়া এড়াতে মেনে চলুন ৫ নিয়ম

একাধিক স্টাডি অনুসারে, পরিবেশ দূষণ সরাসরি প্রভাব পরছে ত্বকের ওপর। সেই সঙ্গে স্ট্রেসের মাত্রা বাড়ার কারণে অসময়ে ত্বকও যাচ্ছে বুড়িয়ে। আর ত্বক বুড়িয়ে যাওয়া মানে বলিরেখা প্রকাশ পাওয়া। ফলে সৌন্দর্য কমতে সময় লাগে না। এমনটা যে কারও সঙ্গেই ঘটতে পারে। কিন্তু আপনি যদি চান, তাহলে বয়স বাড়লেও আপনার ত্বক কিন্তু থাকবে সুন্দর এবং তুলতুলে। আসলে এমন কিছু সহজ নিয়ম রয়েছে, যে নিয়মগুলো মানলে ত্বকের সৌন্দর্য বাড়তে একেবারেই সময় লাগবে না। তাহলে চলুন জেনে নিই ৩০-এর পরেও ত্বককে উজ্জ্বল এবং প্রণবন্ত রাখতে কী কী করতে হবে- যতটা সম্ভব চিনি কম খান একাধিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়ে গেছে, দেহের ভেতরে চিনির মাত্রা বাড়তে থাকলে গ্লাইকেশন নামে একটা ঘটনা ঘটে থাকে। এই সময় চিনি, ত্বকের ভেতরে পানির মাত্রা কমাতে শুরু করে। ফলে স্কিনের আদ্রতা হারিয়ে যায়। আর এমনটা হলে বলিরেখা প্রকাশ পেতেও সময় লাগে না। সেই সঙ্গে ত্বক বুড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। তাই আজীবন যদি ত্বককে সুন্দর রাখতে চান, তাহলে চিনি খাওয়ার পরিমাণ কমাতে হবে। তাহলেই দেখবেন উপকার মিলতে শুরু করেছে। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে ত্বক তখনই বুড়িয়ে যায়, যখন স্কিন নিজের আদ্রতা হারাতে থাকে। এই কারণেই তো ত্বককে সুন্দর রাখতে বেশি মাত্রায় পানি খাওযার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। আসলে দেহের ভেতরে পানির ঘাটতি দূর হলে ত্বকের আদ্রতাও বজায় থাকে। ফলে স্কিনের ইলাস্ট্রিসিটির এত মাত্রায় উন্নতি ঘটে যে সৌন্দর্য তো কমেই না। উল্টে বয়সের কোনও ছাপই পারে না ত্বকের ওপর। তাই তো দিনে কম করে ৩-৪ লিটার পানি খেতে ভুলবেন না যেন! অ্যান্টিঅক্সিডেন্টর ঘাটতি যেন না হয় ত্বকের ভেতরে টক্সিক বা বিষাক্ত উপাদানের মাত্রা বাড়তে শুরু করলে ত্বক বুড়িয়ে যেতে শুরু করে। তাই এমনটা যাতে আপনার ত্বকের সঙ্গে না ঘটে, তা সুনিশ্চিত করতে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। তাই যে যে খাবারে এই দুই উপাদান রয়েছে, তা বেশি করে খেলে ত্বকের গভীরে জমতে থাকা টক্সিক উপাদানেরা বেরিয়ে যেতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ত্বকের সৌন্দর্য কমার আশঙ্কা যায় কমে। প্রসঙ্গত, যে যে খাবারে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা বেশি থাকে, সেগুলি হল- জাম, ডার্ক চকোলেট, বিনস, রাজমা, কিশমিশ, টমাটো, ব্রকলি, কাজু বাদাম প্রভৃতি। প্রোটিনের ঘাটতি একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, দেহের ভিতরে প্রোটিনের মাত্রা কমতে থাকলে ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে থাকে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই শরীরে স্ট্রেসের মাত্রা এতটা বেড়ে যায় যে তার সরাসরি প্রভাবে পরে ত্বকের ওপর। আসলে স্ট্রেস লেভেল বাড়লে মস্তিষ্কে কর্টিজল নামক একটি হরমোনের ক্ষরণ বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যার প্রভাবে ত্বক বুড়িয়ে যেতে থাকে। এই কারণেই তো ত্বককে সুন্দর রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া পরামর্শ দিয়ে থাকেন ডার্মাটোলজিস্টরা। ঘুমের ঘাটতি মানেই ত্বকের মৃত্যু আসলে ঘুমনোর সময় আমাদের দেহের ভেতরে থাকা চিকিৎসকেরা সারা দিন ধরে শরীর এবং ত্বকের ভেতরে সৃষ্টি হওয়া ক্ষতদের চিকিৎসা করা শুরু করে। ফলে একদিকে যেমন দেহের ভাঙন রোধ হয়, তেমনি অসময়ে ত্বকের সৌন্দর্য কমে যাওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়। তাই তো ত্বককে সুস্থ রাখতে কম করে ৮ ঘন্টা ঘুমতেই হবে। আর যদি এমনটা করতে না পারেন, তাহলে সৌন্দর্য তো কমবেই, সেই সঙ্গে ব্লাড প্রেসার, হার্টের রোগসহ নানাবিধ জটিল অসুখ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা যাবে বেড়ে। সূত্র: বোল্ডস্কাই একে//টিকে

ঘামের দাগ থেকে মুক্তির ৫ উপায়   

গরমকালের সব চাইতে যন্ত্রণাদায়ক জিনিসটি হলো ঘেমে যাওয়া। বিশেষ করে যাদের অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে তাদের জন্য এটি মূর্তিমান যন্ত্রণা। সবাই ঘামে। পোশাকে ঘামের দাগও পড়ে। কাপড়ে ঘাম লেগে শুকিয়ে গেলে ঘেমে যাওয়া অংশে এক ধরণের সাদাটে দাগ পড়ে থাকে, যা সহজে দূর করা যায় না। বাধ্য হয়ে অনেকে কাপড়টি পরাই ছেড়ে দেন। কিন্তু কাপড়ে ঘামের দাগ থেকে মুক্তির উপায়ও রয়েছে। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক উপায়গুলো।    শার্টের নিচে ‘আন্ডারশার্টস’ ব্যবহার    শার্টের নিচে ‘আন্ডারশার্টস’ বা হাতাওয়ালা পাতলা গেঞ্জি পরার সুবিধা হল, ঘাম শুষে নেয়। ফলে উপরে পরা শার্ট বা পোশাকে ঘামে ভিজে না। দাগও পড়ে না। পোশাকের রং ধূসর, নীল ও উজ্জ্বল রংয়ের তুলনায় গাঢ় রংয়ের পোশাকে দাগ কম বোঝা যায়। তাই বাইরে যাওয়ার সময় এমন রংয়ের পোশাক নির্বাচন করুন যাতে দাগ বোঝা না যায়।      বাতাস চলাচল যোগ্য কাপড় সুতি, লিনেন, ভয়েল ইত্যাদি তন্তুতে বাতাস ভালোভাবে চলাচল করে। অন্যান্য সিন্থেটিক তন্তু বাতাস চলাচলে বাধা দেয়। তাই এসব তন্তু ব্যবহার করা আরামদায়ক নয়।    ঘামরোধক ব্যবহার ‘ডিওডোরেন্ট’ নয়, ব্যবহার করুন ‘অ্যান্টিপার্সপিরান্ট’। কারণ এটা ত্বকের উপরিভাগে ঘাম পৌঁছাতে বাধা দেয় এবং ঘাম থেকে দূর্গন্ধ তৈরির ব্যাক্টেরিয়া নির্মূল করে। এজন্য দামি সুগন্ধি ব্যবহার না করলেও চলে। ভালো মতো কাপড় পরিষ্কার করা নিয়মিত কাপড় ধুয়ে পরিষ্কার রাখুন। ভালোভাবে পরিষ্কার করতে এতে সিকি কাপ ব্লিচ ব্যবহার করতে পারেন। তবে মনে রাখবেন ব্লিচ কেবল সাদা কাপড়ে ব্যবহার করতে হবে। রঙিন কাপড়ে ব্যবহার করলে তা রং নষ্ট করে ফেলতে পারে। একে//এসি     

ভুলেও ফেসওয়াশ জেল নয়, ঘরোয়া ৬ পদ্ধতি ব্যবহার করুন  

অনেক মহিলাই রাতে শুতে যাওয়ার আগে ফেসওয়াশ জেল দিয়ে মুখ ধুয়ে থাকেন। কিন্তু আপনাদের কি জানা আছে ত্বকের ভাল হবে ভেবে যেসব ফেসওয়াশ জেল ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তার বেশিরভাগের ভেতরেই রয়েছে এমন কিছু উপাদান, যা ত্বকের উপকারে তো লাগেই না, উল্টো স্কিনের এত মাত্রায় ক্ষতি করে দেয় যে সৌন্দর্য তো কমেই, সেই সঙ্গে নানাবিধ ত্বকের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। তাই ত্বককে যদি বাঁচাতে চান, তাহলে আজ থেকেই বাজার চলতি ফেসওয়াশ জেল ব্যবহার করা বন্ধু করুন।     কিন্তু সারা দিন বাড়ির বাইরে থাকার কারণে পরিবেশ দূষণ এবং ধুলো-বালির কারণে ত্বকের ভেতরে ক্ষতিকর উপাদানের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। তাই তো দিনের শেষে মুখ না ধুলে ত্বকের তো মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যায়! তাহলে কী করবেন? উপায় আছে! তাই এমন কতগুলি ঘরোয়া টোটকা সম্পর্কে আলোচনা করা হল, যাদেরকে কাজে লাগিয়ে ত্বকের ভেতরে জমে থাকা ময়লাকে ধুয়ে ফেলা যেমন সম্ভব হবে, তেমনি স্কিনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে চোখে পরার মতো। এক্ষেত্রে যে যে উপাদানগুলোকে কাজে লাগিয়ে ত্বক পরিষ্কার করা যেতে পারে, সেগুলি হল- দুধ মিশরীয় রানী ক্লিওপেট্রার মতো যদি সুন্দরি হয়ে উঠতে চান, তাহলে ত্বকের পরিচর্যায় দুধকে কাজে লাগাতে ভুলবেন না যেন! আসলে দুধের ভেতরে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড, একদিকে যেমন ত্বকের ভেতরে লুকিয়ে থাকা ক্ষতিকর উপাদানদের টেনে বের করে দেয়, তেমনি স্কিনের উপরে জমে থাকা মৃত কোষের স্তরকেও সরিয়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকবাবেই ত্বক উজ্জ্বল এবং সুন্দর হয়ে উঠতে সময় লাগে না। শুধু তাই নয়, ত্বকের ভেতরে হারিয়ে যাওয়া আদ্রতা ফিরিয়ে আনতেও দুধ কিন্তু বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এখন প্রশ্ন হল, ত্বকের পরিচর্যায় কীভাবে কাজে লাগাতে হবে দুধকে? এক্ষেত্রে হাতের তালুতে অল্প পরিমাণে দুধ নিয়ে তা মুখে লাগিয়ে ভাল করে মাসাজ করতে হবে। এইভাবে প্রতিদিন যদি ত্বকের পরিচর্যা করতে পারেন, তাহলে দেখবেন আপনার ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেতে সময় লাগবে না। ওটসমিল ত্বককে পরিষ্কার রাখতে বাস্তবিকই ওটসের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে এই খাবারটির ভেতরে থাকা একাধিক উপকারি উপাদান একদিকে যেমন ত্বকের ভেতরে পুষ্টির ঘাটতি দূর করে, তেমনি ত্বকের উপরিঅংশে জমে থাকা মৃত কোষদের আবরণকে সরিয়ে ফেলতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়। ফলে ত্বকের বয়স তো কমেই, সেই সঙ্গে স্কিন পরিষ্কার এবং উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। এক্ষেত্রে পরিমাণ মতো ওটস নিয়ে ভাল করে গুঁড়ো করে নিতে হবে। তারপর তাতে অলিভ অয়েল বা পানি মিশিয়ে বানিয়ে নিতে হবে একটা পেস্ট। এই পেস্টটি মুখে লাগিয়ে কিছু সময় থাকার পর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে মুখটা। মধু এই প্রাকৃতিক উপাদানটির ভেতরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপাটিজ এবং আরও কিছু উপকারি উপাদান, যা নানাবিধ ত্বকের রোগের প্রকোপ তো কমাই, সেই সঙ্গে ত্বকের ভেতরে আদ্রতার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে স্কিন টোনের উন্নতি ঘটাতে এবং ত্বকের বয়স কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো ত্বক পরিষ্কার করতে নিয়মিত মধুকে কাজে লগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে আধা চামচ মধুর সঙ্গে অল্প পরিমাণ পানি মিশিয়ে তা মুখে লাগিয়ে ভাল করে মাসজ করতে হবে। ১০ মিনিট পর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে মুখটা। লেবু আপনার ত্বক কি খুব অয়েলি? তাহলে ত্বকের পরিচর্যায় লেবুকে কাজে লাগাতে ভুলবেন না যেন! হঠাৎ লেবু কেনও তাই ভাবছেন তো? আসলে ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে এই ফলটির ভেতরে থাকা নানাবিধ উপকারি উপাদান একদিকে যেমন ত্বক পরিষ্কার করে, তেমনি পুড়ে কালো হয়ে যাওয়া ত্বককে ফর্সাও করে তোলে। ফলে সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেতে সময় লাগে না। তাই অল্প দিনেই যদি অপরূপ সুন্দরি হয়ে উঠতে চান, তাহলে পরিমাণ মতো লেবুর রসে অল্প করে দুধ বা দই মিশিয়ে সেটি মুখে লাগান। তাহলেই দেখবেন কেল্লা ফতে! শসা: ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে শসার ভূমিকাকে কোনও ভাবেই উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। তবে এটা কি জানা আছে ত্বককে ভিতর থেকে পরিষ্কার করতেও এই সবজি নানাভাবে সাহায্য করে থাকে। এক্ষেত্রে নিয়মিত দিনের শেষে শসার রস দিয়ে মুখে ধুতে হবে। তাহলেই দেখবেন ত্বক তো পরিষ্কার হবেই, সেই সঙ্গে স্কিনের উজ্জ্বলতাও বৃদ্ধি পাবে চোখে পরার মতো। চিনি একেবারে ঠিক শুনেছেন! ত্বকের ভিতরে এবং বাইরে জমে থাকা ময়লাদের বের করে আনতে বাস্তবিকই চিনির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। শুধু তাই নয়, ত্বকের উপরিভাগে জমতে থাকা মৃত কোষের স্তরকে সরিয়ে ফেলার মধ্যে দিয়ে স্কিনের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও চিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এক্ষেত্রে অল্প পরিমাণে চিনি নিয়ে তার সঙ্গে পানি বা তেল মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ভাল করে মাসাজ করতে হবে। তবে বেশি জোরে মাসাজ করবেন না যেন! না হলে কিন্তু ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। সূত্র: বোল্ডস্কাই একে//এসি  

ক্লোরিনযুক্ত পানি থেকে চুলকে রক্ষা করবেন যেভাবে

প্রচণ্ড গরম। এ সময় পানির কাছাকাছি যতই থাকা যায় ততই তৃপ্তি লাগে। দেখা যায়, অনেকেই গরমের দিনে ঘন ঘন গোসল করে থাকেন। আবার যাদের সুইমিং পুল রয়েছে, তারাও অধিকাংশ সময় সাঁতার কাটিয়ে সময় পার করেন। কিন্তু যারা সুইমিং পুলে গোসল করেন তারা কি জানে তাদের চুলের কতটা ক্ষতি হচ্ছে। কেননা, সুইমিং পুলের পানি ক্লোরিনযুক্ত। এই ক্লোরিন চুলকে রুক্ষ করে দেয় এবং পরে আস্তে অস্তে সব চুল উঠতে শুরু করে। কিন্তু তাই বলে কি সুইমিং পুলে গোসল করা বন্ধ! অবশ্যই না, ক্লোরিনযুক্ত পানি থেকে চুলকে রক্ষা করতে বেশ কিছু টিপস রয়েছে। এগুলো মেনে চলতে পারলেই চুলকে রক্ষা করা সম্ভব। টিপসগুলো দেওয়া হলো-   ১) সুইমিং পুলে নামার আগেই বাথরুম থেকে আগে চুলকে ভাল ভাবে ভিজিয়ে নিন। চুল পুরোপুরি ভিজে গেলে এরপর সুইমিং পুলে নামুন। এতে ক্লোরিনযুক্ত পানি খুব বেশি চুলে ঢুকতে পারবে না। ক্ষতি কম হবে। ২) চুলে ঠিকঠাক কন্ডিশনার ব্যবহার করা খুবই জরুরি। ঝরনার পানিতে চুল ভিজিয়ে নেওয়ার পর একটা ভাল কন্ডিশনার লাগিয়ে নিন। এতে চুলের উপর একটা আস্তরণ তৈরি হবে। এতে ক্লোরিন চুলে ঢুকতে বাধা পাবে। কন্ডিশনার না থাকলে নারকেল তেলও লাগাতে পারেন। ৩) সুইমিং পুল থেকে উঠে চুল ধুয়ে ফেলুন। ব্যবহার করুন সালফেট যুক্ত শ্যাম্পু। আর তারপর চুলে আর্দ্রতা ফেরাতে কন্ডিশনার লাগিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সুইমিং পুল থেকে উঠার পর অনেকেই শরীর মুছে ফেলেন। তারা আর বাথরুমে গোসল করতে যান না। এই ভুলটা কখনই করবেন না। সুইমিং থেকে উঠা মাত্রই চুল ধুয়ে ফেলবেন। দেরি করলে ক্ষতি হবে। ৪) সম্ভব হয় চেষ্টা করুন হেয়ার মাস্ক লাগিয়ে সুইমিং পুলে নামতে। চুলে পানি না লাগলে অনেকটা সমস্যাই দূর হয়ে যাবে। সূত্র : আনন্দবাজার। কেএনইউ/ এমজে

ঘিয়ের ৫ উপকারিতা

ঘিয়ের যে কত উপকারিতা, সেটা অনেকেই জানেন না। ঘি যতটা খাবারের স্বাদ বাড়ায়, ততটাই উপকারী ত্বক এবং চুলের জন্য। ভাবছেন চুল কিংবা ত্বকের উপকারিতার জন্য ঘি কিভাবে কাজে লাগে? তাহলে জেনে নিন- ঠোঁটকে নরম এবং গোলাপি রাখে শীতকালে সবারই অল্পবিস্তর ঠোঁট ফাটে। আর ঠোঁট ফাটলে আমরা বিভিন্ন কোম্পানির লিপ বাম ব্যবহার করি। কিন্তু জানেন কি, ঠোঁটকে আরো নরম এবং গোলাপি রাখতে ঘিয়ের জুড়ি মেলা ভার। অল্প একটু ঘি নিয়ে ঠোঁটে লাগিয়ে হালকা হাতে ঘষুন। তারপর ম্যাজিক দেখুন। চুলের সৌন্দর্য বাড়ায় ঠোঁটের মতো চুলের সৌন্দর্য বাড়াতেও ঘি দারুণ উপকারী। চুলকে আরও চকচকে এবং নরম রাখে ঘি। এক চামচ নারকেল তেলের সঙ্গে ২ চামচ ঘি নিয়ে চুল এবং স্কাল্পে ভালো করে লাগান। ৩০ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চোখের নিচের কালি দূর করে চোখের নিচের কালি দূর করতে কি-না করেছেন। তাহলে এবার এক ফোঁটা ঘি নিয়ে চোখের চারপাশে ম্যাসেজ করুন। সারারাত রেখে সকালে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। মাথায় রক্ত চলাচল ভালো হয় প্রত্যেকদিন স্কাল্পে ঘি ম্যাসেজ করলে মাথায় রক্ত চলাচল ভালো হয় এবং চুল বাড়তে সাহায্য করে। ত্বকের জন্য উপযোগী ত্বকের জন্যও দারুণ উপযোগী ঘি। দু`চামচ ঘি হালকা গরম করে ভালো করে তাতে অল্প পানি মেশান। তারপর সেই মিশ্রণ সারা গায়ে এবং মুখে মাখুন। ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। সূত্র: জিনিউজ একে//

গরমে চামড়ার জুতার যত্ন নেবেন যেভাবে   

রাস্তার ধুলাবালি, কাদা, পানি ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে চামড়ার জুতা নষ্ট হয়ে যায়। কারণ চামড়ার জুতা অন্য জুতার তুলনায় ভিন্ন। তাই এটি রক্ষণাবেক্ষণেও বাড়তি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। গরমের দিনগুলোতে চামড়ার জুতা ভালো রাখার মূলমন্ত্র হল সরাসরি সূর্যের আলো এবং পানি থেকে দূরে রাখা। কারণ চামড়ার জুতার সবচেয়ে বড় শত্রু পানি আর সূর্যের আলো। তাই গ্রীষ্মে চামড়ার জুতার কীভাবে যত্ন নিবেন জেনে নিন তার সহজ কিছু টিপস সূর্যর আলো    সরাসরি সূর্যের আলো ও তাপ পড়লে চামড়ার জুতার রং নষ্ট হয়ে যায় খুব দ্রুতই। এছাড়াও শুকিয়ে গিয়ে ভাঁজ পড়ে যায়। তাই চামড়ার জুতা রাখতে হবে অন্ধকার এবং আর্দ্র স্থানে। আর সেখানে থাকতে হবে আলো-বাতাস চলাচলের সুযোগ। পানি পানিতে ভেজানো থেকে বাঁচাতে হবে শখের জুতা জোড়া। বিশেষ করে সেসব জুতা হাতে তৈরি করা। কারণ চামড়ার জুতার বড় শত্রু পানি। মুজা জুতার ভেতরে মুজা রাখলে বাজে দুর্গন্ধ তৈরি হয়। সেইসঙ্গে কমে যায় জুতার আয়ু। ব্যাগ কখনও প্লাস্টিক কিংবা পলিব্যাগে জুতা রাখবেন না। কারণ চামড়ার জুতায় বাতাস লাগার ব্যবস্থা না থাকলে অল্প সময়ের মধ্যে নষ্ট হয়ে যায়। তাই রাখতে হবে কাপড়ের ব্যাগে। পরিষ্কার জুতা নিয়মিত পরিষ্কার করে কালি ও ক্রিম দিয়ে পালিশ করা উচিত। পরিষ্কার করতে হবে নরম কাপড় দিয়ে। পরিধাণ একই জুতা প্রতিদিন পরলে তা ভালোভাবে শুকানোর সুযোগ পায় না। এর ফলে দ্রুত ছিঁড়ে যায়। তাই দুই জোড়া জুতা সংগ্রহে রেখে একদিন বিরতি দিয়ে পরতে হবে। জুতার আলনা জুতা প্যাকেটে না রেখে খোলা জায়গায় জুতার আলনায় রাখা ভালো। এর ফলে জুতার ভেতরের ঘাম দ্রুত শুকাবে। একে/এসি    

৫টি ঘরোয়া পদ্ধতিতে রাঙ্গিয়ে নিন নিজের চুল

অনেকের কাছেই নারীদের সৌন্দর্য্য প্রকাশ পায় তাদের চুলে। লম্বা কালো দীর্ঘ কেশরাশির পাশাপাশি অনেকের কাছেই এখন ভাললাগার বিষয় হল রঙ্গিন চুল। তবে যারা বাজারের ক্ষতিকর কেমিক্যাল যুক্ত চুলের রঙ বা ডাই নিয়ে চিন্তিত তারা নিজেরাই ঘরে বসে বানিয়ে নিতে পারেন নানান রঙের ডাই। এমনই ৫টি ঘরোয়া পদ্ধতির জেনে নিন এখান থেকে। ১) আয়রন এবং এন্টিঅক্সিডেন্ট আয়রন এবং এন্টিঅক্সিডেন্ট জাতীয় উপাদান আছে এমন খাবার দিয়ে সহজেই চুলের জন্য রঙ তৈরি করতে পারেন। আয়রনের জন্য নিতে পারেন বীটরুট বা বীট পালং আর এন্টিঅক্সিডেন্টের যোগান দেবে গাজর। এ দুইটি খাবারকে নিয়ে ব্লেন্ড করে জুস তৈরি করুন। জুস করতে না চাইলে ঘন পেস্টের মতও করে নিতে পারেন। এরপর জুস বা পেস্টটিকে আপনার চুলের সাথে মেখে নিন। এর জন ব্রাশের সাহায্য নিতে পারেন। মাখিয়ে নেওয়ার পর ৩০ মিনিট পেস্টটিকে আপনার চুলে রাখুন। এরপর এটিকে হ্যান্ড ড্রায়ার অথবা সূর্যের আলোতে ৩০ মিনিটে শুকিয়ে নিন। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে চুলে ধুয়ে ফেলুন। শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন। রঙ রক্ষাকারী শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন। এতে করে রঙ অনেকদিন চুলে থাকবে। ২) চা ও কফি চা অথবা কফি থেকেও খুব সুন্দর ‘ডার্ক’ ধাচের রঙ তৈরি করা যায়। আর এই রঙ চুলে লাগিয়ে বেশ সুন্দর লুকও পাওয়া যায়। চায়ের কাপে এক টেবিল চামচ চা অথবা কফি নিয়ে সেটিকে ২০মিনিট যাবত পানিতে গরম করুন। পানির পরিমাণ যখন তিন ভাগের এক ভাগ হয়ে যাবে তখন তাপ থেকে সরিয়ে এটিকে ঠান্ডা হতে দিন। তারপর এটিকে ফিল্টার করে চা বা কফি পাতিকে আলাদা করে নিন। চুলে ভাল করে শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহারের পর চা বা কফির মিশ্রণটিকে চুলে মাখিয়ে নিন। কয়েক সপ্তাহ প্রতিদিন অন্তত দুই বার করে এভাবে চুলে মিশ্রণ করে মাখিয়ে নিন। দারুণ শেডের এই রঙ অনেকদিন আপনার চুলে থাকবে। ৩) মেহেদী চুলের রঙ করায় অনেকদিন থেকেই মেহেদী ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই মেহেদী ব্যবহার করে আপনিও সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক রঙ মাখিয়ে নিতে পারবেন আপনার চুলে। মেহেদী যে শুধু চুল রঙ্গিন করে তাই নয় বরং মেহেদী একটি প্রাকৃতিক কন্ডিশনার। চুলের গোড়া মজবুত করতেও এর কার্যকর ভূমিকা রয়েছে। এছাড়াও মেহেদীর রঙ চুলে এক মাসের মত লম্বা সময় পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এক কাপ সমান পানিতে আধা কাপ সমান মেহেদী পাতা নিন। পাতা পিষিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। একটি ব্রাশ দিয়ে চুলের সর্বত্র এটিকে মাখিয়ে নিন। দুই ঘন্টা রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তারপর কন্ডিশনার দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ৪) জাফরান জাফরান দিয়েও খুব সুন্দর রঙ বানিয়ে নিতে পারেন চুলের জন্য। দুই কাপ পরিমাণ পানিতে এক টেবিল চামচ জাফরান নিন। তারপর এটিকে ২০ মিনিট যাবত ফুটিয়ে নিন। এরপর মিশ্রণটিকে চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত মাখিয়ে নিন। এক থেকে দুই ঘন্টা পর্যন্ত মিশ্রণটিকে রেখে দিন। তারপর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। দেখুন খুব সুন্দর রঙ্গিন হয়েছে চুলটি। ৫) আখরোট আখরোটের বাইরের আবরণটি ফেলে দেওয়ার অভ্যাস থাকলেও এখন থেকে তা পরিহার করুন। খালি আবরণ দিয়ে চুলের জন্য রঙ তৈরি করা যায়। প্রথমে আখরোটের আবরণকে গুঁড়ো করে নিন। পানিতে মিশিয়ে তারপর এটিকে দেড় থেকে দুই মিনিট যাবত ফুটিয়ে নিন। মিশ্রণটি ঠান্ডা হয়ে আসলে চুলের আগা-গোড়ায় ভালমত মাখিয়ে নিন। এক ঘন্টা যাবত এটিকে চুলে রেখে ধুয়ে ফেলুন। হাল্কা বাদামী রঙে রেঙ্গে উঠবে চুল। সূত্রঃ টাইমস অব ইন্ডিয়া //এস এইচ এস//  

গ্রীষ্মে হিজাবে ঢাকা চুলের যত্ন

পর্দা ও ফ্যাশন দু দিক রক্ষা করে হিজাব পরা নারীদের সংখ্যা বর্তমানে কম নয়। অফিস করা, সন্তানদের স্কুল-কলেজে আনা নেওয়া সহ নানা কারণে ঘরের বাইরে অনেক নারী দীর্ঘ সময় র্স্কাফ দিয়ে মাথা ঢেকে রাখেন। কিন্তু সঠিকভাবে যত্ন না নিয়ে লম্বা সময় হিজাব পরে থাকা নারীদের চুলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।এমনিতেই গরমের এই সময়ে ঘেমে চুলের গোড়া চিটচিটে হয়ে থাকে। এতে খুশকি, চুল রুক্ষ হওয়া, পড়ে যাওয়াসহ নানা সমস্যায় নারীরা কম-বেশি ভোগেন। হিজাব পরা নারীদের এই সমস্যা আরো বেশি। তাই গ্রীষ্মের তাপদাহের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে হিজাবে ঢাকা চুল রক্ষায় প্রয়োজন বাড়তি যতœ।  মিউনি`স ব্রাইডালের রূপ বিশেষজ্ঞ তানজিনা শারমিন মিউনি বলেন, গ্রীষ্মকালে দীর্ঘ সময় হিজাব পরার কারণে মাথার ত্বক ঘেমে চুলের গোড়ায় ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস সৃষ্টি হতে পারে। এতে মাথার ত্বক চিটচিটে এবং চুলকানির সৃষ্টি হয়। এসব সমস্যা সমাধানে সবচেয়ে বেশি জরুরি চুল পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। এজন্য গরমের সময় প্রয়োজনে প্রতিদিন চুলে শ্যাম্পু করতে হবে।ক্ষতিকর কেমিক্যাল কম আছে এমন কোনো শ্যাম্পুদিয়ে চুল পরিষ্কার করতে হবে। মাথার ত্বক ও চুলের পুষ্টির জন্য শ্যাস্পু করার আগে চুলে হালকা গরম তেল ম্যাসাজ করা ভালো বলেন মিউনি। এছাড়া অনেকে গোসলের পর চুল পুরোপুরি না শুকিয়েই হিজাব বেঁধে ফেলেন এবং দীর্ঘ সময় এ অবস্থাতেই থাকেন।ফলে খুশকির সমস্যা দেখা দেয়। তাই কখনোই চুল না শুকিয়ে হিজাব পরা উচিত নয়। সবসময় চুল বাতাসে পুরোপুরিভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। এক্ষেত্রে একান্ত প্রয়োজন না হলে হেয়ার ড্রায়ারেরব্যবহার এড়ানো ভালো।কলেজ পড়া অবস্থায় থেকে হিজাব পড়তেন বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান পড়–য়া শিক্ষার্থী সোনিয়া আক্তার। তিনি বলেন, নিত্য প্রয়োজনেই বাহিরে বের হতে। আর ঢাকার রাস্তায় ধুলাবালিতে পরিপূর্ণ। বিশেষ করে গ্রীষ্মের এ সময়টা। মাথায় হিজাব দিয়ে ঢেকে রাখলে রাস্তার ধুলাবালি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। হিজাব পরিহিত নারীদের চুল খুব শক্ত করে বাধা যাবে না। এতে চুল গোড়া থেকে উঠে আসে। হার্ড রাবার ব্যান্ডওচুলের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত ববি পিন/ ক্লিপ যাতে ব্যবহার করা না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। এছাড়া মাথার ত্বকে ও চুলে অক্সিজেন প্রবেশের সুবিধার্থে গরমের সময় নরম সুতি কাপড়েরর স্কার্ফ ব্যবহার করা ভালো।  চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় সপ্তাহে একদিন একটি পাকা কলা, একটি ডিম এবং তিন টেবিল চামচ টক দই একসঙ্গে মিশিয়ে পুরো চুলে লাগিয়ে দু ঘন্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলতে হবে। এতে চুল নরম, সিল্কি ওগোড়া শক্ত হয়।চুলের খুসকি দূর করতে মেহেদির সঙ্গে পেঁপে ও লেবুর রসের মিশ্রণ উপকারী। কলা, মধু, লেবুর রস ও দুধের মিশ্রন রুক্ষচুলকে সজীব করে। পেঁপে, ডিম, মধু, পাকা কলা, চায়ের লিকার চুলের কন্ডিশনারের কাজ করে। ##

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি